Sunday, July 23, 2017

দেশী ছোট মাছের চাষাবাদ ও সংরক্ষণ

  • Share The Gag
  • দেশী ছোট মাছের চাষাবাদ ও সংরক্ষণ



    যেসব মাছ পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় ৫-২৫ সে.মিআকারের হয় সাধারণত সেগুলোকে ছোট মাছ বলা হয। ইংরেজিতে ছোট মাছ নামে পরিচিত। প্রাচীনকাল হতে মলাপুঁটিচেলাচান্দাচাপিলামেনিবাইমখলিশাটেংরাফলিপাবদাশিংমাগুর ইত্যাদি ছোট মাছ এ দেশের মানুষের বিশেষ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর খাদ্য তালিকার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে। বিভিন্ন প্রজাতির এসব ছোট মাছে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থসহ খাদ্য ও পুষ্টিমান অনেক বেশি। পরিবেশের পরিবর্তনআবাসস্থালেরর সংকোচন পুকুর জলাশয় সম্পূর্ণ সেচ করে সব মাছ ধরে ফেলা ও মনুষ্যসৃষ্ট নানাবিধ কারণে এসব প্রজাতির মাছ আজ বিলুপ্তির পথে। দেশের সামগ্রিক মৎস্য উৎপাদন ও প্রাচুর্য্যতায় ছোট মাছের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। বাস্তবতার নিরিখে তাই আজ দেশীয় ছোট মাছ সংরক্ষণ ও চাষ সম্প্রসারণ অত্যাবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে।



    ছোট মাছের গুরুত্ব





    • ছোট মাছে প্রচুর পরিমাণ আমিষ এবং অত্যাবশ্যকীয় এমাইনো এসিড বিদ্যমান।




    • অনেক ক্ষেত্রে বড় মাছের তুলনায় ছোট মাছের পুষ্টিমান বেশি। ছোট মাছে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়ামফসফরাসলৌহ ও আয়োডিনের মত খনিজ পদার্থ আছে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে।




    • মলা-পুঁটি মাছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ আছে যা রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে।




    • গর্ভবতী মহিলা ও দুগ্ধদানকারী মায়েদের রক্তশূন্যতা থেকে রক্ষায় ছোট মাছ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।




    • প্রাকৃতিক জনজ পরিবেশে এরা বংশ বিস্তার করে। ফলে প্রতি বছর আলাদা করে পোনা মজুদ করতে হয় না।




    • সব ধরণের জলাশয়ে এদের চাষ করা যায় এবং চাষে সময়ও কম লাগে।




    • ছোট মাছ ওজনের অনুপাতে সংখ্যায় বেশি হয় বলে পরিবারের সদস্যদের মাঝে বন্টনের সুবিধা হয়।





    চাষ প্রযুক্ত



    মলাচেলা ও পুঁটির চাষঃ



    এ মাছ চাষের বৈশিষ্ট্য,





    • একক ও মিশ্র উভয় পদ্ধতিতে চাষ করা হয়।




    • প্রাকৃতিকভাবে বছরে ২-৩ বার প্রজনন করে থাকে।




    • সহজ ব্যবস্থাপনায় চাষ করা যায়।




    • যে কোন ছোট জলাশয়ে চাষ করা যায়।





    পুকুর নির্বাচন





    • জলাশয়টি বন্যামুক্ত হতে হবে।




    • পানির গভীরতা ১-.৫ মিটার হলে ভালো হয়।




    • জলাশায়ে আলো বাতাসের ব্যবস্থা থাকতে হবে।





    প্রস্তুতিপোনা মজুদখাদ্য ও সার প্রয়োগ





    • পুকুরের পাড় মেরামত করে শতাংশ প্রতি ১ কেজি চুন ও ৪-৫ কেজি গোবর প্রয়োগ করতে হবে।




    • সার প্রয়োগের ৩-৪ দিন পর প্রাকৃতিক খাদ্য জন্মালে ছোট মাছ ছাড়তে হবে।




    • একক চাষের ক্ষেত্রে শতাংশ প্রতি ৪০০-৫০০টি মলা/ঢেলা/পুঁটি চাষ করা যায়।




    • মাছ ছাড়ার পরদিন হতে মাছের দেহ ওজনের শতকরা ৫-১০হিসাবে চালের কুঁড়াগমের ভূষি ও সরিষার খৈল সম্পূরক খাবার হিসেবে দেয়া যেতে পারে।




    • প্রাকৃতিক খাবার তৈরির জন্য ৭দিন অন্তর অন্তর শতাংশ প্রতি ৫-৬ কেজি গোবর অথবা ২-৩ কেজি হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা দিলে ভাল ফল পাওয়া যায়।





    রুইজাতীয় মাছের সাথে মলা-পুঁটির মিশ্র চাষ



    পুকুর/মৌসুমী জলাশয় নির্বাচন:





    • দো-আঁশ ও এটেল দো-আঁশ মাটির পুকুর ভালো।




    • পুকুর/জলাশয় বন্যামুক্ত এবং মাঝারী আকারের হলে ভালো হয়।




    • পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পড়ে এমন পুকুর নির্বাচন করা উচিত।




    • পানির গভিরতা ১-.৫ মিটার হল ভালো।





    পুকুর প্রস্তুতি





    • পাড় মেরামত ও আগাছা পরিস্কার করতে হবে।




    • রাক্ষুসে ও ক্ষতিকর প্রাণী অপসারণ করতে হবে।




    • শতাংশে ১ কেজি করে চুন প্রয়োগ করতে হবে।




    • চুন প্রয়োগের ৭-৮ দিন পর শতাংশ প্রতি ৫-৭ কেজি গোবর ১০০ গ্রাম ইউরিয়া ও ৫০ গ্রাম টিএসপি সার দিতে হবে।





    পোনা মজুদখাদ্য ও সার প্রয়োগ





    • শতাংশ প্রতি ১০-১৫ সে.মিআকারের ৩০-৩২টি রুইজাতীয় পোনা এবং ৫-৬ সে.মিআকারের ৬০টি মলা ও ৬০টি পুঁটি মাছ মজুদ করা যায়।




    • মাছের পোনা মজুদের পরদিন থেকে পোনার দেহের ওজনের শতকরা ৫-১০ ভাগ হারে সম্পূরক খাবার হিসেবে খৈলকুড়াভূষি দেয়া যেতে পারে।




    • গ্রাস কার্পের জন্য কলাপাতাবাধা কপির পাতানেপিয়ার বা অন্যান্য নরম ঘাস দেয়া যেতে পারে।




    • মলা-পুঁটি মাছের জন্য বাড়তি খাবার দরকার নাই।




    • প্রাকৃতিক খাবার জন্মানোর জন্য পোনা ছাড়ার ১০ দিন পর শতাংশ প্রতি ৪-৬ কেজি গোবর১০০ গ্রাম ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে।





    মাছ আহরণ





    • পোনা মজুদের ২ মাস পর হতে ১৫ দিন পর পর বেড় জাল দিয়ে মলা-পুঁটি মাছ আংশিক আহরণ করতে হবে।




    • ৭৫০-৮০০ গ্রাম থেকে কেজি ওজনের কাতলা ও সিলভার কার্প মাছ আহরণ করে সমসংখ্যক ১০-১২ সে.মিআকারের পোনা পুনরায় মজুদ করতে হবে।




    • বছর শেষে চূড়ান্ত আহরণ করা যেতে পারে।





    পাবদা মাছের চাষ



    পুকুর নির্বাচন





    • এ মাছ চাষের জন্য ৭-৮ মাস পানি থাকে এ রকম ১৫-২০ শতাংশের পুকুর/জলাশয় নির্বাচন করা যায়।




    • পুকুরটি বন্যামুক্ত এবং পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা থাকতে হবে।





    পুকুর প্রস্তুতিপোনা মজুদখাদ্য ও সার প্রয়োগ





    • পুকুরের পাড় মেরামত জলজ আগাছা পরিস্কার করার পর শতাংশে ১ কেজি হারে চুন প্রয়োগ করতে হবে।




    • চুন প্রয়োগের ৩ দিন পর প্রতি শতাংশে ৭-৮ কেজি গোবর প্রয়োগ করতে হবে।




    • শতাংশ প্রতি ৩-৪ গ্রাম ওজনের সুস্থ্য সবল ২০০-২৫০টি পোনা মজুদ করা যাবে।




    • সম্পূরক খাদ্য হিসেবে দেহ ওজনের ৫-১০ ভাগ হারে ২৫-৩০আমিষ সমৃদ্ধ খাবার প্রতিদিন ২ বার প্রয়োগ করতে হবে।




    • প্রাকৃতিক খাবার উৎপাদনের জন্য ১০ দিন অন্তর শতাংশ প্রতি ৪ কেজি গোবর সার প্রয়োগ করা যেতে পারে।





    মাছ আহরণ ও উৎপাদন





    • -৮ মাসের মধ্যে ৩০-৩৫ গ্রাম ওজনের হলে মাছ আহরণ করা যাবে।




    • আধা-নিবিড় পদ্ধতিতে একক চাষে শতাংশে ১৫-১৬ কেজি মাছ উৎপাদন করা যায়।





    ধানক্ষেতে ছোট মাছ চাষ



    সাধারণ দুই পদ্ধতিতে ধান ক্ষেতে মাছ করা যায়ঃ



    যুগপৎ পদ্ধতি। পর্যায়ক্রমে পদ্ধতি।



    ধান ও মাছ একই জমিতে একসঙ্গে চাষ করাকে যুগপৎ পদ্ধতি বলে।



    জমি নির্ধারণ





    • এটেল বা দো-আঁশ মাটির জমি সবচেয়ে ভাল।




    • জমি বন্যামুক্ত হতে হবে।




    • জমিতে অন্ততঃ ৩ মাস কমপক্ষে ২০-৩০ সে.মিপানি থাকতে হবে।




    • জমি অপেক্ষাকৃত সমতল হলে ভাল হয়।





    জমি প্রস্তুতি



    জমি ভালভাবে চাষ দেয়ার পর মই দিয়ে সমান করে নিতে হবে যেন সর্বত্রই গভীরতা সমান থাকে।



    আইল নির্মাণগর্ত ও নালা খনন





    • প্রয়োজনমত পানি ধরে রাখার জন্য ৩০-৪৫ সে.মিউঁচুশক্ত ও প্রশস্থ আইল বাঁধতে হবে।




    • ধানক্ষেতে মাছের আশ্রয়স্থল হিসেবে নালঅ এবং গর্ত বা মিনি পুকুর অবশ্যই থাকতে হবে। জমির অপেক্ষাকৃত ঢালু অংশে শতকরা ৪-৬ ভাগ এলাকায় ০.৭৫-.০ মিটার গভীর করে গর্ত করতে হবে।





    পোনা মজুদ ও খাদ্য সরবরাহ





    • ধানের চারা রোপনের ১৫-২০ দিনের মধ্যে চারা ভালভাবে মাটিতে লেগে গেলে জমিতে ১২-১৫ সে.মিপানি ঢুকিয়ে পোনা ছাড়া যাবে।




    • কমন কার্প/মিরর কার্প এবং থাই-সরপুঁটির সাথে মলার মিশ্রচাষ অথবা মলা-পুঁটি মিশ্রচাষ করা যেতে পারে।




    • মিশ্রচাষে প্রতি শতাংশে মলা ৫০-৬০টিকমন/মিরর কার্প ৬-৮টি এবং থাই সরপুঁটি ১০-১২টি ছাড়া যায়।




    • ধানের সাথে মাছ চাষে বাহির থেকে খাবার দেয়ার প্রয়োজন হয়না। তবে বেশি উৎপাদন পাওয়ার জন্য মাছের ওজনের শতকরা ২-৩ ভাগ সরিষার খৈল ও চালের কুড়া প্রতিদিন গর্তে বা নালায় প্রয়োগ করতে হবে।





    মাছ আহরণ





    • ধান কাটার পর পানি কমিয়ে ক্ষেত থেকে মাছ ধরতে হবে।




    • প্রতি শতাংশে মলা ০.৫০ কেজি এবং কার্প ২.০ কেজি এবং মলা পুঁটি চাষ করলে প্রতি শতাংশে ০.৬ কেজি মলা-পুঁটি পাওয়া যেতে পারে।





    ছোট মাছ সংরক্ষণ কৌশল



    পুকুর





    • ছোট মাছকে অবাঞ্জিত মাছ হিসেবে গণ্য না করে সেগুলোকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ ও চাষের আওতায় আনতে হবে। জলজ পরিবেশের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ছোট মাছের বংশ বিস্তারের সুযোগ সৃষ্টি করে এর উৎপাদন বাড়ান।




    • স্থানীয়ভাবে প্রাপ্য দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছ পুকুরে মজুদ ও সংরক্ষণ করা।




    • ছোট মাছের বংশ বৃদ্ধির জন্য পুকুরে নিয়োজিত মাত্রায় কিছু জলজ আগাছা রাখা।




    • জলাশয় বা পুকুর সম্পূর্ণ সেচে সকল মাছ আহরণ না করা।




    • ছোট মাছের প্রজনন মৌসুম (জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়সম্পর্কে সংষ্লিষ্ট জনগণকে সচেতন করা এবং সে সময় পুকুর ছোট ফাঁসের জাল টানা থেকে বিরত থাকা।




    • ধানক্ষেতে ছোট প্রজাতির মাছ চাষের ব্যবস্থা করা।





    প্রাকৃতিক জলাশয়ে





    • বিলহাওর ও বাওড়ে অভয়াশ্রম স্থাপন করা।




    • ছোট মাছের প্রধান প্রজনন মৌসুম বৈশাখ থেকে আষাঢ় মাসএ সময় প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছ ধরা বন্ধ রাখা।




    • জলাশয়ের পানি সেচে মাছ না ধরা।




    • ছোট মাছের গুরুত্ব ও এর সংরক্ষণ সম্পর্কে জলাশয়ের আশেপাশের জনগণকে সচেতন করা এবং সংরক্ষণ কাজে সম্পৃক্ত করা।




    • মৌসুমী জলাভূমিগুলোর কিছু অংশ খনন করে প্রজননক্ষম মাছ সংরক্ষণ করাযাতে তারা বর্ষা মৌসুমেডিম পাড়তে পারে।



    যশোরের নাভারণে সয়াবিন থেকে দুধ উৎপাদন হচ্ছে

  • Share The Gag
  • যশোরের নাভারণে সয়াবিন থেকে দুধ উৎপাদন হচ্ছে

    সয়াবিন থেকে তেল হয় সবাই জানি, কিন্তু সয়াবিন থেকে যে  দুধ হয় এই ধারণা একেবারেই নতুন। অবিশাস্য হলেও সত্যি যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারণ সয়াফুড প্রসেসিং সেন্টারে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সয়াবিন থেকে দুধ তৈরি শুরু হয়েছে। বেসরকারি সংস্থা জাপান বাংলাদেশ কালচারাল এক্সচেঞ্জ অ্যাসোসিয়েশনের (জেবিসিইএ) উদ্যোগে এই দুধ তৈরি করা হচ্ছে। এই সংস্থাটির একমাত্র কার্যালয়ই এটি। সয়াদুধ নামে এই দুধের  বাণিজ্যিক উৎপাদন খুব শিগগিরই  শুরু হবে বলে সংস্থা সূত্রে জানা গেছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্স এবং জাপানের কাজাওয়া এডুকেশন ইনস্টিটিউশন অব নিউট্রিশন ও জাপান মিনিস্ট্রিয়াল ফুড সেফটির সূত্র উদ্ধৃত করে জেবিসিইএ জানায়, সয়াদুধে গরুর দুধের চেয়ে আমিষের পরিমাণ ১২ গুণ বেশি। এতে লেসিথিন নামে এক প্রকার উপাদান আছে যা স্মরণ শক্তি বাড়াতে কাজ করে। প্রতি ১০০ গ্রাম সয়াবিনে পুষ্টি উপাদানের মধ্যে আছে ৪৩ দশমিক ২ গ্রাম আমিষ। এই আমিষ আটটি অ্যামানো অ্যাসিড সম্পন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীজ আমিষের সমমানের। এ ছাড়া আছে শরীরে শক্তি উৎপাদনকারী চর্বি, দাঁত ও হাড় গঠন এবং হাড়ের ক্ষয় প্রতিরোধকারী ক্যালসিয়াম, রক্তশূন্যতা, ও শরীরের দুর্বলতা প্রতিরোধকারী লৌহ, রাতকানা ও চক্ষুরোগ প্রতিরোধক ভিটামিন ‘এ’, হজমশক্তি বৃদ্ধিকারক ভিটামিন ‘বি’। 

    টেক্সাস উইমেনস ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অব হেলথ সায়েন্সেস হাইটন সেন্টারের ডাক্তার জন র‌্যাডেলিফ ইন্টারনেট স্বাস্থ্যবর্তায় বলেছেন, যারা নিরামিষভোগী বা গরুর দুধে যাদের অ্যালার্জি আছে তারা সয়াদুধ খেতে পারেন। এর স্বাদ ভালো। হাড় গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘ডি’ এই দুধে পাওয়া যায়।

    জেবিসিইএ জানায়, বাংলাদেশের ৭০ ভাগ মানুষ গরিব হওয়ায় তারা পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাদ্য কিনে খেতে পারে না। এতে তারা পুষ্টিহীনতায় ভোগে। বিশেষ করে শিশুরা বেশি পুষ্টিহীনতায় আক্রান্ত হয়। পাঁচ-সাত বছর বয়সের নিচের ৬৭ শতাংশ শিশু অপুষ্টিতে ভোগে। এ ছাড়াও কিশোর-কিশোরী, গর্ভবতী ও স্তন্যদায়ী মা ও গরিব শ্রেণীর মানুষ পুষ্টিহীনতায় ভোগে। গর্ভবতী মায়ের অপুষ্টিজনিত কারণে রুগ্ন দুর্বল ও বিকলাঙ্গ শিশু জন্ম গ্রহণ করে। মানুষকে এ অবস্থা থেকে মুক্ত করতে জেবিসিইএ জাপান পোস্টের অর্থায়নে ২০০৩ সালে শার্শা উপজেলার নাভারণে সয়াবিন থেকে দুধ তৈরি শুরু করে।

    সংস্থার চিফ প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সনৎ কুমার ভাস্কর জানান, উন্নত প্রযুক্তির অভাবে এতদিন স্থানীয় প্রযুক্তি শিল-পাটায় বেটে দুধ তৈরি করা হচ্ছিল। কিন্তু এ পদ্ধতি শ্রমসাধ্য বলে কেউ এ দুধ তৈরিতে আগ্রহী হচ্ছিল না। ভারত থেকে সংস্থার উদ্যোগে সয়া মিল্ক মেশিন আমদানি করা হয়েছে। এর দাম ছয় লাখ টাকা। এই মেশিনে ঘন্টায় ৩৪ লিটার দুধ উৎপাদন করা হচ্ছে।

    তিনি জানান, ৩৪ লিটার দুধ তৈরিতে সয়াবিন লাগে চার কেজি। প্রতি কেজি সয়াবিনের দাম সর্বোচ্চ ৮০ টাকা হিসেবে চার কেজি সয়াবিনের দাম ৩২০ টাকা। তাদের মেশিনে উৎপাদিত সয়াদুধ নিজেদের দোকান থেকেই ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। যেখানে গরুর দুধের কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা। অবশ্য যশোর শহরের বারান্দীপাড়াস্থ ঢাকা রোডের একটি দোকানে এই সংস্থারই কাচা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে সাড়ে তিনশ’ থেকে চারশ’ টাকা কেজি দরে।

    জেবিসিইএ’র কান্ট্রি ম্যানেজার মনিরুজ্জামান টিটু জানান, মাস খানেকের মধ্যে নতুন সয়াবিন উঠবে। ওই সময়

    থেকে সয়াদুধের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা হবে। গরুর দুধের দাম কেজি প্রতি ৫০ টাকা হওয়ায় অপেক্ষাকৃত কম দামের সয়াদুধের প্রতি মানুষের দারুণ আগ্রহ রয়েছে। ইতোমধ্যে ব্যাপকহারে মানুষ এ দুধের চাহিদার কথা জানিয়েছেন। বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবার আগে দুধ মান সম্পন্ন করার জন্য সংস্থার সাতজন কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন ঢাকার হা্‌ই-কিউ সয়াফুড ইন্ডাস্ট্রির স্বত্বাধিকারী মনিরুল ইসলাম। তিনি সয়া দুধ তৈরি, এর পুষ্টি গুণ ও চাহিদা সম্পর্কে  বলেন, সঠিক ভাবে দুধ তৈরি করে মানুষের কাছে পৌছাতে পারলে দেশের গরিব জনসাধারণ অপুষ্টির অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে।

    প্রাথমিকভাবে এই সংস্থাটি গবেষনার জন্য দুধ তৈরির কাজ করছে। এ আশপাশের বেশ কয়েকটি স্কুলের বাচ্চাদেরকে বিনামূল্যে সয়াবিন থেকে তৈরি বিভিন্ন ধরনের খাবার যেমন সয়াবিন ডাল থেকে খিচুড়ি, সয়াদুধ, দোনাট, পাপড় ইত্যাদি খাবার পরিবেশন করেছে। শার্শা ও ঝিকরগাছা উপজেলার ৭৫ জন চাষী তাদের কাছ থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে সয়াবিন চাষ করছেন। আর এতে অধিক লাভবান হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন সয়াবিন চাষীরা। চাষীদেরকে চাষে ঊদ্বুদ্ধ করতে সয়াবিন বীজ ও প্রয়োজনীয় কীটনাশক সরবরাহ এবং চাষ প্রণালীর ব্যাপারে সাহায্য করছে সংস্থাটি। আবার তারাই চাষীদের কাছ থেকে মণপ্রতি

    এক হাজার আটশত টাকা করে দর দিয়ে সয়াবিন ক্রয় করছেন।

    গরুর দুধের মতো সয়াদুধ দিয়েও সৌখিন সব ধরণের খাদ্য তৈরি করা যায়। স্থানীয় পদ্ধতিতে এই দুধ তৈরিকরে তা দিয়ে দই বানিয়েছেন ঝিকরগাছা উপজেলার লাউজানী গ্রামের ডা. সাইদুল ইসলাম। তিনি জানান, গরম্নর দুধের দই বানানোর নিয়মেই সয়াদুধ দিয়ে দই বানিয়েছেন। স্বাদে ও বর্ণে কোনো পার্থক্য নেই।

    ঝিকরগাছা উপজেলার শ্রীরামপুর আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুর রাজ্জাক বানিয়েছেন সন্দেশ। তিনি জানান, গরুর দুধের সন্দেশ ও সয়া সন্দেশের মধ্যে কোনো তফাৎ নেই

    কাঠলিচু বা আঁশফল চাষ

  • Share The Gag
  • ঘাস চাষেই কোটিপতি গফুর শেখ

  • Share The Gag
  • দারিদ্র্যের কাছে পরাজয় না মেনে অক্লান্ত পরিশ্রম করে অনেকের কাছেই আদর্শ হয়ে উঠেছেন নেপিয়ার জাতের ঘাস চাষ করা আবদুল গফুর শেখ। তার বাড়ি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ি ইউনিয়নের সুলতানপুর বাড়াইপাড়া গ্রামে। নেপিয়ার ঘাস চাষ করে এখন তিনি হয়েছেন প্রায় কোটি টাকার মালিক।

    গফুরের পরিবার বলছে, বাবার কাছে থেকে আড়াই বিঘা জমি পেয়েছিলেন তিনি। সেই জমিতে ফসল ফলিয়ে তার সাত সদস্যের সংসার ঠিকমতো চলত না। এরই মধ্যে ২০০৩ সালে দ্বিতীয় ছেলে ফারুককে বিদেশে পাঠাতে গিয়ে জমি বিক্রি করে দালালের হাতে টাকা তুলে দেন গফুর। পরে দালাল তার টাকা আত্মসাৎ করে। ছেলের বিদেশ যাওয়া হলো না আর। জমি হারিয়ে অভাবের সংসারে নেমে আসে আরো দুর্বিষহ অবস্থা। প্রতিদিন দিনমজুরি করে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা আয় করতেন গফুর, কিন্তু তাতে তার সংসার চলত না। তাই কখনো কখনো খেয়ে না খেয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হতো তাদের।

    ২০০৪ সালের প্রথম দিকে পলাশবাড়ীর শিল্পী হোটেলের মালিক দুলু মিয়ার কাছ থেকে এই নেপিয়ার জাতের ঘাসের বহুমুখী ব্যবহারের কথা শুনে আবদুল গফুর উদ্বুদ্ধ হন এ ঘাস চাষে। এরপর তিনি নেপিয়ার ঘাসের চারা সংগ্রহ করেন। প্রথমে তা নিজের বাড়ির পাঁচ শতক জায়গায় লাগান। একমাস পরপর তিন বছর পর্যন্ত কাটা যায় এই ঘাস। এর আগে পাবলিক সমিতি থেকে ৭ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে একটি ছোট গাভী কেনেন তিনি। গাভীটি একটি বাছুরও দেয়। পরে সেই ঘাস বড় হলে গাভীকে খাওয়ানো শুরু করেন। ফলে গাভীর দুধ বাড়তে থাকে। আবার ঘাসও বিক্রি করে টাকা পান। হাতে বেশ টাকা আসতে শুরু করে তার।

    ধীরে ধীরে ঘাসের জমির পরিমাণ বাড়াতে থাকেন। তিনি সতের বিঘা জমিতে নেপিয়ার ঘাস চাষ করছেন। এরমধ্যে আটবিঘা নিজের, নয় বিঘা বন্ধক নেয়া। একবিঘা জমিতে উৎপাদন খরচ পড়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা। প্রতিমাসে খরচ বাদে ঘাস বিক্রি করে তার এখন মাসিক আয় ৯০ হাজার টাকা। গফুরের পরিবার আরো জানায়, খরের ঘরের বদলে বর্তমানে ২০ শতক জমিতে এখন ১০৫ হাত লম্বা আধাপাকা ঘর রয়েছে তার। এই ঘরেরই তিনটি কক্ষ, আবার গরুর খামার। বর্তমানে তার খামারে ফ্রিজিয়ান জাতের ১৬টি গাভী আছে। এসব গাভী দৈনিক ১২০ কেজি করে দুধ দিচ্ছে। ঘাসের জমিতে পানি সেচের জন্য দুইটি শ্যালোচালিত মেশিন আছে। এছাড়া ৫০টি হাঁস-মুরগি, পাঁচটি ছাগল রয়েছে তার।

    বাড়িতে বিদ্যুৎ ছাড়াও রয়েছে একটি সৌর বিদ্যুৎ, দু’টি মোটরসাইকেল ও তিনটি ভ্যান। কর্মচারী রয়েছে তিনজন, তাদের প্রতিজনের মাসিক বেতন ৯ হাজার টাকা। তারা প্রতিদিন জমি থেকে ঘাস কেটে পলাশবাড়ী, ঢোলভাঙ্গা, ধাপেরহাট, মাঠেরহাট ও গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে।

    আবদুল গফুর বলেন, আমার স্বপ্ন ব্যাপকহারে এই ঘাস চাষ করে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত লাভ করা। যাতে আরো অনেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে এ নেপিয়ার ঘাস চাষ করে তাদের ভাগ্য বদলাতে পারে।

    বাণিজ্যিকভিত্তিতে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি চাষের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়নে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য ২০১৪ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কারে ভূষিত হন আবদুল গফুর। ওই সালের ১৩ই ডিসেম্বর ঢাকাস্থ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে একটি সনদপত্র ও একটি রৌপ্যপদক পুরস্কার হিসেবে গ্রহণ করেন তিনি।

    গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আবদুল লতিফ বলেন, জেলায় একমাত্র আবদুল গফুরই বাণিজ্যিকভাবে ঘাস চাষ করছেন। তাকে দেখে এই গ্রামের আরো অনেকেই এই ঘাস চাষ করছেন। এজন্য প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে তাকে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া তার সাফল্য চিত্র ভিডিওতে ধারণ করে বিভিন্ন সেমিনারে প্রদর্শন করে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়।

    নেপিয়ার ঘাসের বীজ পাওয়া যায় কৃষি ষ্টোর - 01971625252

    মরিচ চাষে চরবাসীর ভাগ্য বদল

  • Share The Gag
  • মরিচ আবাদ করে ভাগ্য বদলে গেছে যমুনা চরের অভাবী মানুষগুলোর। ‘মরিচের ব্যাংক’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে যমুনার চর। এই সময় যমুনার বুকে জেগে উঠে বিশাল চর। এসব চরে ধানের পাশাপাশি আবাদ হচ্ছে মরিচ। বর্তমানে যমুনার চরে ধুম পড়ে মরিচ আবাদের। চরের অনেক কৃষকের নিজস্ব কোন জমি নেই। জেগে উঠা চরের ফাঁকা জমি কাজে লাগিয়ে মরিচ চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে চরের অভাবী মানুষেরা।

    এখানে ব্যাপক মরিচ উৎপাদিত হওয়ায় সপ্তাহে তিন দিন বিশাল মরিচের হাট বসছে কাজিপুরের সোনামুখী, চালিতাডাঙ্গা, মাইজবাড়ী, কাজীপুর সদর, মাইজবাড়ী, শুভগাছা, খাসরাজবাড়ী, নাটুয়ারপাড়া, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, চরগিরিশ ও মনসুরনগর ইউনিয়নের চরাঞ্চলে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপারীরা আসেন এখানে মরিচ কিনতে। প্রতি হাটে লাখ লাখ টাকার মরিচ বেচা-কেনা হয় যমুনার চরে।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ক্ষেত থেকে মরিচ তোলা ও মরিচ ক্ষেত পরিচর্যার কাজে। অনুকূল আবহাওয়া থাকায় এবার মরিচের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকরা। ইতোমধ্যে জেলার বাজারগুলোতে উঠতে শুরু করেছে নতুন মরিচ। শ্রম মজুরি বেড়ে যাওয়ায় এবার মরিচ চাষে উৎপাদন খরচও বেড়েছে। তারপরও বাজারে মরিচের ভালো দাম পাওয়ায় খুশি এ অঞ্চলের কৃষকরা। ভালো দাম পাওয়ায় মরিচ চাষিরা এবার বেশ লাভবান হবেন বলে আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকরা।

    ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজার দর গত মৌসুমের চেয়ে এই মৌসুমে বেড়ে গেছে। এবার যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জ জেলায় প্রায় ১শ কোটি টাকার কাচা ও শুকনা মরিচ কেনা-বেচা হবে। যা দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে।

    সিরাজগঞ্জের কাজীপুর, বেলকুচি ও চৌহালী উপজেলার যমুনা নদীর চর ঘুরে দেখা গেছে- মরিচ তোলা, পরিচর্যা আর শুকানোর কাজে ব্যস্ত কৃষক-কৃষানী।

    কাজীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মামুনুর রহমান জানান, চরাঞ্চলে কৃষকরা এবার মরিচ চাষে ভাগ্যের পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন। চলতি মৌসুমে ১৪শ ১০ হেক্টর জমিতে ৯ হাজার ৮১৫ জন কৃষক মরিচের আবাদ করেছেন। মোট ২ হাজার ৩শ ৯৭ মেট্রিক টন মরিচ উৎপাদন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও জানান, ফলন ভালো হওয়ায় প্রতি হেক্টরে ১.৬ মে. টন মরিচ উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে করে কৃষকরা বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।

    কাজীপুর উপজেলার দুর্গম নাটুয়াপাড়া চর থেকে মরিচ নিয়ে হাটে আসা লোকমান হোসেন জানান, এবার চরের ৮ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ১২-১৪ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা থেকে টোপা মরিচ তুলেছেন ৩০-৩২ মণ।

    ব্যবসায়ী জামাল হোসেন বলেন, এবার মরিচের আবাদ ভালো হয়েছে। ঝড় বৃষ্টি না হওয়ায় মরিচের ক্ষেত নষ্ট হয়নি। মরিচ বিক্রি করে তিনি এবার জমি কিনবেন।

    কাজীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বকুল সরকার জানান, কাজীপুর চরাঞ্চলের উৎপাদিত লাল মরিচই বগুড়ার লাল মরিচ নামে দেশের নামিদামি কোম্পানিগুলো সংগ্রহ করে তা বাজারজাত করে আসছে।

    কাওয়াখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন ঠান্ডু বলেন, চরের অনেকরই কৃষি জমি নেই। চরের ফাঁকা জমি কাজে লাগিয়ে মরিচ চাষ করে তারা স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

    সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা বলেন, যমুনা চরের মরিচ দেশের চাহিদা মেটাচ্ছে। আগামীতে এর পরিধি আরো বাড়বে। যা দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে।

    কেঁচোতে ভাগ্য বদল কৃষকের

  • Share The Gag
  • ল্যাপকিন মারাক, বয়স ৪৮। শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের বাবেলাকোনা গ্রামে তৈরি করেছেন কেঁচো দিয়ে জৈব সার তৈরির কারখানা। এতে ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে তার। দিন দিন বাড়ছে সারের চাহিদা। বাড়ছে কারখানার পরিধি। বাড়ছে উৎপাদন। বদলে যাচ্ছে তার সংসারের অবকাঠামো।ক’বছর আগেও কর্মসংস্থানের অভাবে ল্যাপকিন মারাক ছিল সহায় সম্পদহীন। ১৯৯২ সালে বিয়ে করে আসেন বাবেলাকোনায় শ্বশুর বাড়ি। বিয়ের পর অভাবের তাড়নায় বিক্রি করেছিলেন স্ত্রীর ভিটেমাটি। থাকেন অন্যের বাড়িতে। নুন আনতে পানতা ফুরাতো তার সংসারে। এদিকে সংসারে আসে নতুন অতিথি। স্ত্রী ও আর চার সন্তানের ভরণ পোষণে ক্রমাগত নিষ্পেষিত হতেন তিনি। পাহাড়ের পরিত্যক্ত জমিতে জুম চাষ করে টিকে থাকার প্রচেষ্টা যেন বার বার মুখ থুবড়ে পড়েছিল। জীবন মানে যে যন্ত্রণা তা যেন তার ভাগ্যেই ভর করেছিল।

    ২০১৪ সালের শেষের দিকে তার দুঃসময় যেন চরমে। এ সময় তার এক প্রতিবেশির কাছে সংবাদ পান একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে জৈব সার তৈরির ট্রেনিং দেয়া হবে। সেখানে তিনি অংশ নেন। প্রশিক্ষণ হয় তিনদিনের। পরে ওই সংস্থার মাধ্যমে ট্রেনিং শেষে চীন থেকে আমদানিকৃত ৭৫ টাকায় ২৫টি কেঁচো কিনেন তিনি। এখান থেকেই শুরু হয় তার জৈব সার তৈরি।ঐকান্তিক প্রচেষ্টা আর তার স্ত্রীর সহযোগিতায় মাত্র দু’বছরেই স্বপ্ন দেখা শুরু করেন তারা।

    বাড়ছে কেঁচোর সংখ্যা। এখন তার কারখানায় রয়েছে প্রায় ৪৫ লাখ কেঁচো। ওই সার ব্যবহার হচ্ছে শাক সবজি আর ইরিবোরো চাষাবাদে। ফলন ভাল হওয়ায় বাড়ছে বিক্রি। আলোচিত হয়ে ওঠছে তার জৈব সার কারখানা।অনেকেই বলেন, ল্যাপকিন জৈব সার। কেঁচো দিয়ে জৈব সার তৈরি করে ল্যাপকিনের এখন মাসিক আয় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। তবে আর্থিক সহায়তা পেলে কারখানার পরিধি আরো বাড়াতে পারবেন বলে জানান তিনি।এলাকার কৃষকরা জানান, বাজারের জৈব সারের চেয়ে গুণগত মানের দিক থেকে এ সার অনেক ভাল।

    চাষাবাদের এ সারের ফলন অনেক বেশি। যারা একবার এ সার ব্যবহার করছে তারা কখনো অন্য সার ব্যবহার করবে না।এখন ল্যাপকিনের নিজের ভিটা হয়েছে। তার ঘরে সোলারের বাতিও জ্বলে।উপজেলা কৃষি সুপারভাইজার সাইফুল ইসলাম বলেন, এখানে যে সার উৎপাদন হচ্ছে তা বাজারের সারের তুলনায় অনেক ভাল। তাই স্থানীয় কৃষকেরা এ সার ব্যবহার করছেন।

    কচু চাষে ভাগ্য বদল কৃষকের

  • Share The Gag

  • ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের আদর্শ কৃষক জিয়াউল ইসলাম ও ফারুক হাওলাদার এ বছর কচু চাষ করে লাভবান হয়েছেন। তারা দুজনই সৌদি আরব প্রবাসী ছিল। একই স্থানে থেকে জিয়াউল ফারুক সৌদি আরবে ক্ষেতে খামারে কৃষি কাজ করত। দেশে ফেরার পর নিজ জমিতে ধান-পাটের পাশিপাশি পটোল, শসা, কচু চাষ করে লাভের মুখ দেখেছেন।


    এ বছর বেশি জমিতে কচু চাষ করে বেশ সাফল্য পেয়েছেন। কচু বিক্রি করে ভালো দামও পাচ্ছেন। কৃষক জিয়াউল জানান, এবারও ১ বিঘা জমিতে ৫ হাজার কচুর চারা রোপণ করি। প্রতিটি কচু পূর্ণাঙ্গ হওয়া পর্যন্ত তার প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। কচু পোকায় ধরে না এবং শুকনো মৌসুমেও পানিতে ক্ষতি হয় না বলে তিনি জানান। প্রতিটি কচু পূর্ণাঙ্গ হতে ৭ থেকে ৮ মাস সময় লাগে। এর পর শুরু হয় কচু বিক্রির পালা। সদরপুর উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলা ভাঙ্গা, চরভদ্রাসন, শিবচর ও জয়পাড়া, নারিশাসহ বিভিন্ন হাট বাজারে পাইকারদের মাধ্যমে কচু সরবরাহ করে থাকেন। শুরুতে প্রতিটি কচু বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকারও বেশি। বর্তমানে বিভিন্ন জাতের কচু হাটবাজারে সরবরাহ থাকায় দাম অনেকটা কম পাওয়া যাচ্ছে।


    কৃষক জিয়াউল জানান, ১ বিঘা জমিতে কয়েক হাজার কচুর চারা রোপণ করে প্রতিটি কচু গড়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকা বিক্রি হওয়ায় ৩ লক্ষাধিক টাকা লাভ করেছেন। অপর কৃষক ফারুক জানান, অর্ধবিঘা জমিতে ২ হাজার ৫০০ কচুর চারা রোপণ করে এখন পর্যন্ত দেড় লক্ষাধিক টাকা লাভ করেছেন। এ বছর কচু চাষ করে ভালো লাভ হওয়ার কারণে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে কচুর চাষাবাদ করবেন বলে জানান জিয়াউল ও ফারুক হাওলাদার। স্থানীয় অনেক কৃষকই বলেছেন, অন্যান্য ফসলের তুলনায় দাম বেশি ও ঝুঁকি কম থাকার কারণে এ অঞ্চলে দিনকে দিন কচুর আবাদ বাড়ছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে এ অঞ্চলে কৃষকরা আরও বেশি জমিতে কচুর আবাদ করতে পারবেন।