Showing posts with label ছাঁদে বাগান. Show all posts
Showing posts with label ছাঁদে বাগান. Show all posts

Monday, July 24, 2017

কবুতর পালনের আধুনিক কলাকৌশল

  • Share The Gag
  • কবুতর পালনের আধুনিক কলাকৌশল



    গৃহপালিত বা পোষা পাখিদের মধ্যে কবুতর অন্যতম। সুপ্রাচীনকাল থেকে সুস্বাদু মাংস, সংবাদ প্রেরণ ও শখের জন্য কবুতর পালন করা হচ্ছে। ইদানিং অনেক লোক কবুতর পালনকে ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গিতে গ্রহণ করেছেন।

    কবুতর পালনের গুরুত্ব ঃ কবুতর অত্যন্ত নিরীহ ও শান্ত প্রাণী এবং সহজে পোষ মানে। আমাদের দেশের জলবায়ু ও বিস্তীর্ণ শস্যক্ষেত কবুতর পালনের উপযোগী। কবুতর পালনের গুরুত্ব ক্রমান্বয়ে তুলে ধরা হলো-


    1. এক জোড়া কবুতর ১২ মাসে ১৩ জোড়া পর্যন্ত বাচ্চা দেয়

    2.  কবুতরের মাংস সুস্বাদু ও বলকারক বলে সদ্য রোগমুক্ত ও প্রসব পরবর্তী ব্যক্তির জন্য উপকারী

    3. কোন মহৎ কাজের শুরুতে ‘শান্তির প্রতিক’ কবুতর ছেড়ে দেয়া হয়

    4. প্রজনন, শরীরবৃত্তিয় ও অন্যান্য অনেক বৈজ্ঞানিক গবেষণা কর্মে কবুতর ব্যবহার করা হয়

    5. স্বল্পখরচ উৎকৃষ্ট মানের মাংস ও আয়ের উৎসরূপে কবুতর পালন লাভজনক উদ্যোগ; কবুতর পালন কার্যক্রম ক্রমেই জনপ্রিয়তা লাভ করছে

    6. বেকার যুবক এবং দুস্থ মহিলাদের কর্মসংস্থানের উপায়

    7. কবুতরের রোগবালাই কম ক্স এরা পোকা মাকড় ধ্বংস করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে ক্স কবুতর পালন আনন্দদায়ক।



    কবুতরের জাত ঃ বাংলাদেশে কবুতরের প্রায় ২০টি বিভিন্ন জাত রয়েছে। উল্লেখযোগ্য জাতগুলো হচ্ছে- গিরিবাজ, রোলার লোটন, জালালি, গোলা ও সিরাজি। বিদেশি জাতগুলো হলো- কিং, ফ্যানটেল (ময়ূরপঙ্খি), জাকোবিন, মুকী, টিপলার, ফ্রিলব্যাক ও গ্যালাতী রোলার। উল্লেখ্য যে, কবুতর পালনে প্রাপ্যতা অনুযায়ী যেকোন জাত ব্যবহার করা যায়। সপ্তাহকাল একত্রে রাখলে এদের মধ্যে ভাব ও মিলন হয় এবং একত্রে জোড় বাঁধে। একটি স্ত্রী কবুতর প্রতিবার দু‘টি করে ডিম দেয়। কবুতরের ডিম ফুটে ছানা বের হতে ১৭-১৮ দিন সময় লাগে। কবুতর সাধারণত ১৬-২০ বছর বেঁচে থাকে।

    কবুতরের বাসস্থান ঃ মুক্ত জীবন-যাপনকারী আপোষা কবুতর পুরনো দালানকোঠা, মসজিদ, মন্দির, গির্জা, দরগাহ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফাঁক ফোকরে বা সিলিং- এ বাসা করে। পোষা কবুতরের জন্য ঘরের বারান্দায় বা কার্নিশে টিন বা কাঠের বাক্স অথবা মাটির হাঁড়ি বেঁধে রেখে কবুতর পালনের ব্যবস্থা করা যায়। ৮-১০ জোড়া কবুতর পালনের জন্য বারান্দার কোনায়, বহু স্তরবিশিষ্ট মাটির খোপ তৈরি করা যায়।

    কবুতরের বাসস্থান নির্বাচনের বিবেচ্য বিষয় ঃ


    •  উঁচু, সমতল ও শুস্ক জায়গা

    • খোঁপ ঘরের উঁচু স্থানে স্থাপন করতে হবে। যাতে শিয়াল, কুকুর, বেজি, ইঁদুর, ইত্যাদির হাত থেকে কবুতরকে নিরাপদ রাখা যায়

    • ঘর/খোঁপ সহজে পরিষ্কার ও জীবানুমুক্ত করার সুবিধা সম্পন্ন স্থানে স্থাপন করতে হবে

    • ঘরে যাতে পর্যান্ত সূর্যালোক পবেশ ও বায়ু চলাচল করার সুযোগ পায়

    • একজোড়া কবুতরের জন্য খোঁপের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা হবে যথাক্রমে ৪৫, ৩০ ও ৩০ সে.মি. (১৮, ১২, ও ১২ ইঞ্চি)।



    কবুতরের খাদ্য ঃ কবুতরের সুষম খাবারে শর্করা, চর্বি, আমিষ, খনিজ ও বিভিন্ন ভিটামিন উপাদান থাকা প্রয়োজন। এরূপ মিশ্রিত সুষম খাদ্যে ১৫-১৬ % ক্রুড প্রোটিন থাকবে। প্রতি কেজি খাদ্যে বিপাকীয় শক্তি ২৫০০-২৬০০ ক্যালোরি থাকা বাঞ্চনীয়। তাছাড়া বিশুদ্ধ পানি যথেষ্ট পরিমাণে সরবরাহ করতে হবে। সাধারণত একটি কবুতর দৈনিক তার দেহের ওজনের দশ ভাগের একভাগ পরিমান খাবার খায়। এ হিসাবে বিভিন্ন বয়সে কতবুতর দৈনিক ২০-৯০ গ্রাম খাবার খায়।
    কবুতর সাধারণত ধান, গম, মশারি, খেসারি, মটর, ভূট্টা, সরিষা, বিভিন্ন কলাই ইত্যাদি দানা শস্য খেয়ে থাকে। মাঠপর্যায়ে কবুতর ছাড়ার আগে প্রতিদিন গম, কলাই ও সরিষার মিশ্রণের খাবার তৈরি করে দৈনিক ২০ গ্রাম হারে খাওয়ালে উৎপাদন ভালো হয়।
    কবুতর ছানার দ্রুতবৃদ্ধি, হাড় শক্ত ও পুষ্টি প্রাপ্তির জন্য এবং পূর্ণবয়স্ক কবুতরের ও ডিমের খোসাশক্ত হওয়ার জন্য ঝিনুকের খোসা, চূন, চুনাপাথর, শক্ত কাঠ কয়লা চূর্ণ, হাড়ের গুঁড়া, লবণ এসব একত্রে মিশিয়ে গ্রিট মিকচার তৈরি করে খাওয়ানো প্রয়োজন। এছাড়া প্রতিদিন কিছু কাঁচা শাকসবজি কবুতরকে খেতে দিতে হবে।

    সারণি ঃ কবুতরের জন্য বিভিন্ন দানাদার খাদ্য মিশ্রণ ঃ
    ক্রমিক নং ।খাদ্য উপাদান । মিশ্রণের শতকরা হার (%)
    ০১.               ভূট্টা ভাঙ্গা              ৩৫ গ্রাম
    ০২.              গম ভাঙ্গা                ২০ গ্রাম
    ০৩.              সরিষা দানা             ১৫ গ্রাম
    ০৪.               ছোলা ভাঙ্গা            ২০ গ্রাম
    ০৫.               সয়াবিন মিল          ০৫ গ্রাম
    ০৬.               চালের কূঁড়া           ০৪.৫ গ্রাম
    ০৭.                লবণ                       ০.৫ গ্রাম
    মোট =                    ১০০.০০ গ্রাম

    কবুতরের রোগ ব্যবস্থাপনা ঃ আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খামার ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অধিকাংশ রোগই খাবার ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পৃক্ত। স্বাস্থ্যসম্মত খামার ব্যবস্থাপনার মৌলিক বিষয়গুলো হচ্ছে-


    •  সঠিকভাবে সেড তৈরি করতে হবে ক্স কবুতর উঠানোর পূর্বে সব যন্ত্রপাতি জীবানুমুক্ত করতে হবে

    • রোগমুক্ত খামার থেকে সুস্থ সবল কবুতর সংগ্রহ করতে হবে ক্স জীবানুমুক্ত খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হবে

    • খামারে অযাচিত মানুষের যাতায়ত নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, শেড ও খোঁপ নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে

    • অসুস্থ কবুতর তড়িৎ আলাদা করে ফেলতে হবে।



    কবুতরের কয়েকটি রোগ ও তার প্রতিকার ঃ


































    ক্র: নং রোগের নামরোগের লক্ষণরোগের প্রতিকার
    ০১

     
     বসন্তপালকহীন স্থানে ফোস্কা দেখা যায়। চোখের পাতা ও চোখ ফুলে যায়। খাওয়ার অসুবিধা হয়। শরীর দুর্বল হয়ে যায়। না খেয়ে অবশেষে কবুতর মারা যায়। এ রোগ দেখা দিলে আক্রান্ত স্থান ডেটল দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। অথবা পটাশ দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে। Renamycin Powder ১ গ্রাম সামান্য গরম ভাতের সাথে মিশিয়ে ২০-২৫ টি কবুতরকে খাওয়ানো যায়। Renamycin oinment আক্রান্ত স্থানে লাগলে ক্ষত দ্রুত শুকিয়ে যায় ৪ সপ্তাহ বয়সে পিজিয়ন পক্স ভ্যাকসিন বুকের বা পায়ের পালক তুলে ছিদ্রযুক্ত সূচের সাহায্যে এ টিকা দিতে হয়।
    ২. কলেরাসবুজ বা হলুদ ডায়রিয়া দেখা দেয়, শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, শ্বাসকষ্ট, অরুচি, পানি পিপাসা বৃদ্ধি পায়। ট্যারামাইসিন ক্যাপসুল, কসুমিন প্লাস ক্যাপসুলের ভেতরের ঔষধ ৮ ভাগ করে দিনে ৩ বার পর পর ২-৩ দিন খাওয়াতে হবে। রেনাকুইন বা সুলটিক্স যে কোন একটি মুখে ব্যবহার করতে হবে।
    ৩.রক্ত আমাশয় বা ককসি ডিওসিসরক্ত মিশ্রিত মল, ক্ষুদামন্দা, পালক ফ্যাকাসে দেখায়, পালক ঝুলে পড়ে।  ইএসবি-৩ অথবা এমবাজিন ১ লিটার পানিতে ২-৫ গ্রাম মিশিয়ে পর পর ৩ দিন খাওয়াতে হবে।
    ৪.রানীক্ষেত/ নিউক্যাসলসবুজ ডায়রিয়া বা টুথ পিকের মতো পায়খানা, হা করে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করে। পাখা ও পায়ে প্যারালাইসিস দেখা দেয়। মাথা ঘোরাসহ মাথায় কাঁপনি দেখা দেয়।  সিপ্রোফ্লক্স/ সিপ্রো-১০/ রেনাফক্স ইত্যাদির যেকোন একটি ব্যবহার করতে হবে। রানীক্ষেত রোগের ভ্যাকসিন কবুতরের রানের মাংসে ১ মিলি করে প্রয়োগ করতে হবে প্রতি ৪ মাস অন্তর অন্তর।

    জীবাণু সার

  • Share The Gag
  • জীবাণু সার 

    জীবাণু সার সাধারণত উপকারী অণুজীব দিয়ে প্রস্তুত করা হয় যা বীজের উপর, শিকড় অথবা মাটিতে প্রয়োগ করলে তাদের জৈবিক কার্যকলাপ দ্বারা পুষ্টির প্রাপ্যতা বাড়ায়।

    তারা মাটিতে ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র উদ্ভিদের বৃদ্ধি ঘটায়  এবং মাটির স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

     

    জীবাণু সারের উপকারিতা :

    ১. মাটি সমৃদ্ধিকরণ করতে সাহায্য করে।

    ২. বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন আবদ্ধ করে।

    ৩. মাটি বৈশিষ্ট্য উন্নত করে এবং মাটির উর্বরতা ধরে রাখে।

    ৪. উর্বরতা স্থায়ীকরণের উপযুক্ত জীবাণু প্রতিরোধক হিসাবে বা জৈব আবর্জনার পচন ঘটিয়ে বা হরমোনের সাহায্যে উদ্ভিদের বৃদ্ধি উদ্দীপিত করে।

    ৫. দীর্ঘদিন মাটির উর্বরতা বজায় থাকে।

    ৬. এরা পরিবেশের বন্ধু সাথে পরিবেশের কোনো ক্ষতি করেনা।

    ৭. পুষ্টি উপাদেয় দ্রবনীয়তা বা শোষণের জন্য তা গ্রহণ যোগ্যতা বাড়ে ও সহজলভ্য হয়।

    ৮. কম দামে পাওয়া যায় ফলে চাষের খরচও কমে।

    ৯. অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের যোগান হ্রাসে সাহায্য করে।

     

    জীবাণু সারের প্রকারভেদ 

    ১. নাইট্রোজেনের জন্য 


    • শিম্বগোত্রীয় ফসলের জন্য রাইজোবিয়াম।

    • অশিম্বগোত্রীয় ফসলের জন্য আজোসপিরিল্লাম এবং আজোতোব্যাক্টর।

    • আখের জন্য শুধুমাত্র এসিটোব্যাক্টর।

    • নীচু জমির ধানের জন্য নীল সবুজ শ্যাওলা এবং অ্যাজোলা।

    • ঝাউ এবং আলনাস গাছের জন্য ফ্র্যাংকিয়া।



    রাইজোবিয়াম 

    রাইজোবিয়াম মাটির বসবাসকারী একটি ব্যাকটেরিয়া। এরা বায়ুমণ্ডলের মুক্ত নাইট্রোজেনকে আবদ্ধ করে।

    তারা শিম্বগোত্রীয় এবং অশিম্বগোত্রীয় মিথোজীবী সংস্থা গঠন করে যেমন, পারসপোনিয়া।

    শিকড়ের শাখাপ্রশাখা দিয়ে মূল শিকড়ের মধ্যে রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে। তারা শিকড় থেকে একপ্রকার উদ্দীপক রস নিঃসৃত করতে কর্মক্ষম।

    এই রঞ্জক পদার্থ গুলি ব্যাকটেরিয়ায় অক্সিজেন সরবরাহ করে নাইট্রোজেনে পরিণত হয় এবং গুটি তৈরী করে।

    এই গুটির ভেতর রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া বসবাস করে ও নাইট্রোজেনকে নাইট্রোজেনাস আবদ্ধ গুটিতে পরিণত করে।

    ব্যাকটেরিয়া বা গাছ কেউই আলাদা ভাবে নাইট্রোজেন আবদ্ধ করতে পারেনা।

    এই গুটি তৈরীকারী ব্যাকটেরিয়া দুইটি জাতের - যেমন রাইজোবিয়াম ও ব্রাডিরাইজোবিয়াম এবং দ্রুত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত রাইজোবিয়াকে রাইজোবিয়াম বলে।

     

    টেবিল : বিভিন্ন ফসলের জন্য উপযুক্ত রাইজোবিয়াম স্পিসিস 




































    রাইজোবিয়াম স্পিসিসশস্য
    আর. লীগুমিনোসেরামমটর (পাইসাম), খেসারী, ভিসিয়া, মুসুর (লেন্স)
    আর. ট্রিফলিবারসীম (ট্রিফলিয়াম)
    আর. ফাসিওলিকিডনী বিন (ফাঁসিওলাস)
    আর. লুপিনিলুপিনাস, অর্নিথোপাস্
    আর. জেপোনিকামসয়াবিন (গ্লাইসিন)
    আর মেলিলোটিমেলিলোটাস, লুসার্ন (মেডিকাগো), মেথি গাছ (ট্রাইগোনেল্লা)
    রাইজোবিয়াম স্পিসিসবরবটি, ক্লাস্টার বিন, মুগ বিন, কলাই, অড়হর,

    চীনাবাদাম, মথবিন, ধৈঞ্চা, তিসি, গ্লাইরিসিডিয়া,

    বাবলা ইত্যাদি



    রাইজোবিয়াম টিকাকরণ পদ্ধতি : 


    রাইজোবিয়ামের টিকা করণের দ্বারা বীজ শোধন করা সবচেয়ে উপযুক্ত পদ্ধতি। সংযুক্তির জন্য একপ্রকার আঠা ব্যবহার করা হয়।

    এক হেক্টর জমিতে শিম্ব গোত্রীয় ফসলের  বীজ চাষের জন্য ৯০০ গ্রাম এই ব্যাক্টেরিয়া মিশ্রিত মাটি প্রয়োজন হয়।

    ১০ শতাংশ গুড়ের সংমিশ্রন সাধারণত বীজের উপর আঠা হিসাবে ব্যবহার করা হয়। প্রথমে এই গুড়ের মিশ্রণ বীজের উপর ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

    ফলে বীজের উপর একটি পাতলা স্তরের সৃষ্টি হয়। স্তরের গুড় মিশ্রিত ফাইবারের ঘনত্ব যথোপযুক্ত হলে ব্যাকটেরিয়ার টিকাকরণের জন্য বীজের উপর তা ছিটিয়ে দিতে হবে এবং

    ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। পরে টিকাকৃত বীজগুলি একটি পলিথিনের উপর বিছিয়ে একরাত্রির জন্য ছায়ায় শুকিয়ে নিতে হবে ।

     

    অ্যাজোটোব্যক্টর :

    অ্যাজোটোব্যক্টর ব্যাকটেরিয়া পরভোজী ও মুক্তভাবে বসবাসকারী। এটি ক্ষারীয় কিংবা নিরপেক্ষ মাটিতে থাকে।

    ভারতবর্ষের সমস্ত আবাদি জমিতে অ্যাজোটোব্যক্টর কোরাক্কমের উপস্থিতি সাধারণ ভাবে লক্ষণীয়। পরিবেশের মুক্ত নাইট্রোজেন আবদ্ধ করা ছাড়াও

    এটি বিভিন্ন ধরণের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রক হরমোন যেমন অক্সিন, জিব্বারেলিন এবং বিভিন্ন ভিটামিন প্রভৃতির সমন্বয় সাধন করে।

    অ্যাজোটোব্যক্টর ব্যাকটেরিয়া কিছু প্রজাতির মধ্যে কিছু কিছু ছত্রাকের উপর ছত্রাকনাশক কার্যকারিতা লক্ষ্য করা যায়।

    ধান, ভুট্টা, তুলা, আখ, যব, সবজি ও বিভিন্ন বাগিচা ফসলের উপর অ্যাজোটোব্যক্টরের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

    অনাবাদি জমিতে এই ব্যাকটেরিয়াটির উপস্থিতি প্রায় নেই বললেই চলে। কিন্তু মাটিতে জৈব সারের উপস্থিতি ব্যাক্টেরিয়াটির গুণন ক্ষমতা ও

    নাইট্রোজেন অবদ্ধিকরণ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।

    মাঠে পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে পেঁয়াজ, বেগুন, টমেটো অথবা বাঁধাকপি প্রভৃতি শস্যের বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক অঞ্চলে চাষ করার সময় যদি

    এই ব্যাক্টেরিয়ার দ্বারা বীজ অথবা চারা গাছের টিকাকরণ করানো যায় তাহলে সুফল পাওয়া যায়।

    অ্যাজোটোব্যক্টরের টিকাকরণ দ্বারা সাধারণ জমিতে নাইট্রোজেন সারের পরিমান ১০-২০ শতাংশ হ্রাস করানো যায়।

     

    অ্যাজোসপাইরিলাম :

    এরা মুক্ত অমিথোজীবী ব্যাকটেরিয়া (গুটি তৈরী করতে পারে না কিন্তু শিকড়ে বসবাসকারী জীবাণুর সাথে একটি সংযুক্তি করে।

    অ্যাজোসপাইরিলাম প্রজাতির বিশেষত যেমন ভুট্টা, জোয়ার, আখ ইত্যাদি C4 উদ্ভিদ অনেক উদ্ভিদের সাথে একটি সংযুক্তি প্রতিষ্ঠা করে।

    এরা অন্যান্য জীবাণুর সাথে খুব সহজেই সংযুক্ত হতে পারে। উচ্চ প্রজাতির গাছের সাথেও একটা সংযুক্তি স্থাপন গাছের সাথে করতে পারে।

    এটা শিকড় দিয়ে ঢোকে বা শিকড়ে বসবাস করে, কিন্তু কোনো গুটি দেখতে পাওয়া যায়না। এই ব্যাকটেরিয়াটি প্রতি হেক্টরে ২০ থেকে ৪০ কেজি নাইট্রোজেন আবদ্ধ করতে পারে।

    এই ব্যাক্টেরিয়াটি গাছের দৈহিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং নিম্নলিখিত প্রজাতিগুলি ২৫-৩০ শতাংশ নাইট্রোজেন সারের সঞ্চয় করে।

     

    অ্যাসিটোব্যক্টর :

    অ্যাসিটোব্যক্টর ডিয়াজোট্রফিকস একটি সদ্য আবিষ্কৃত নাইট্রোজেন ফিক্সিং ব্যাকটেরিয়া যা আখের সাথে সম্পর্ক যুক্ত।

    আখের পাতা, কুঁড়ি এবং কাণ্ডের নমুনার পরীক্ষার মাধ্যমে এটিকে আলাদা করে দেখা হয়েছে।

    এটি অম্লিক এবং লবণাক্ত এবং সুক্রোজ পছন্দকারী ব্যাকটেরিয়া, যা প্রতি হেক্টরে ২০০ কেজি পর্যন্ত নাইট্রোজেন আবদ্ধ রাখতে পারে।

    জমিতে টিকা দেওয়ার পর আখের ফলন বৃদ্ধি পায়। অ্যাসিটোব্যক্টর প্রয়োগ করার পর অক্সিন এবং এন্টিবায়োটিক জাতীয় পদার্থের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

     

    নীলাভ সবুজ শৈবাল :

    নীলাভ সবুজ শৈবালের কয়েকটি প্রজাতি বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন আবদ্ধ করতে পারে।

    অ্যানাবিনা ও নষ্টক নামে দুইটি প্রজাতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    নীলাভ সবুজ শৈবাল প্রতি হেক্টরে প্রায় ১৫-৪৫ কেজি নাইট্রোজেন আবদ্ধ করতে পারে।

    নীলাভ সবুজ শৈবালের ভালো বৃদ্ধির জন্য জমিতে ২ থেকে ১০ সেমি জল সবসময় প্রয়োজন।

    ২৫-৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতে এটি বৃদ্ধি পেতে পারে।

    উজ্জ্বল সূর্যালোক বৃদ্ধির হার বাড়ে কিন্তু বৃষ্টিপাত এবং মেঘলা আকাশ বৃদ্ধির হার কমায়।

    মাটির পিএইচ এর মান যদি ৭ থেকে ৮ এর মধ্যে হয় এবং মাটিতে বেশি পরিমাণে জৈব পদার্থ থাকলে এই শ্যাওলার বৃদ্ধি ভালো হয়।

    ২ মি X ২ মি X ০.২৫ মি আকারের লোহার ট্রে তে নীল সবুজ শৈবালের টিকা মিশ্রিত করা হয়।

    এই ট্রে গুলো পলিথিনের চাদর মোড়া থাকে।

    প্রতিটি ট্রে তে ২০ কেজি মাটি এবং ৪০০ গ্রাম সুপারফসফেট দিয়ে ভরে নিতে হবে।

    ট্রে তে নীল সবুজ শৈবাল টিকা থাকে এবং এটা জলে ডোবানো থাকে।

    ট্রে তে সাধারণত ৫ - ১০ সেমি জল সব সময় জমিয়ে রাখতে হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে, একটি পুরু শ্যাওলার গাদ তৈরী হবে।

    এই পর্যায়ে, জল বের করে দিয়ে মাটি শুকিয়ে দিতে হবে।

    শুকনো নীল সবুজ শৈবালগুলি উঠিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে এবং চাষের জমিতে ব্যবহার করা হয়।

    জমিতে ধান রোপনের পর নীল সবুজ শৈবাল টিকা জমিতে প্রয়োগ করা হয়।

    প্রতি হেক্টর জমিতে ১০ কেজি / টিকার প্রয়োজন হয়।

    বেশি পরিমানে নাইট্রোজেন স্থায়ীকরণের জন্য, খামারসার ৩-৪ টন/ হেক্টর এবং সুপারফসফেট ২০০ কেজি / হেক্টর প্রয়োগ করা দরকার।

     

    অ্যাজোলা :

    অ্যাজোলা পরিষ্কার জলের মুক্ত ভাসমান একধরণের ফার্ন। ভারতের প্রচলিত প্রজাতি হলো অ্যাজোলা পিনাটা। অ্যাজোলা ফার্নের পাতার ভাগের মধ্যে অবস্থিত নীল সবুজ শৈবালের আনাবেইনা প্রজাতি নাইট্রোজেন আবদ্ধ করে।

    অ্যাজোলার একটি পুরু স্তর প্রতি হেক্টর জমিতে ৩০ - ৪০ কেজি নাইট্রোজেন সরবরাহ করতে সক্ষম। নীল - সবুজ শ্যাওলাগুলি কম তাপমাত্রা সহ্য করতে পারেনা।

    ২০ - ৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় অ্যাজোলার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে। বর্ষাকালের যখন তখন বৃষ্টি ও মেঘাছন্ন আবহাওয়াতে এই শ্যাওলার বৃদ্ধি ভালো হয়।

    অ্যাজোলা চাষের জন্য মাটির পিএইচ ৫.৫ - ৭ হওয়া জরুরি।অ্যাজোলা নার্সারি গাছের ছায়াতে হওয়া বাঞ্ছনীয়। ৪ মি x ২ মি এর ছোট খন্ডে ৩০-৪০ সেমি উচ্চতার আল দিয়ে চারিধার ঘিরে নার্সারি প্রস্তুত করা হয়।

    প্লট থেকে জল বেরিয়ে যাওয়া আটকাতে বাঁধ গুলি প্লাস্টিক - পলিথিন দিয়ে ঘিরে দিতে হবে। প্লটটির মধ্যে জল দ্বারা পরিপূর্ণ রাখতে হয় এবং প্রতি বর্গমিটার ০.১ - ০.৫ কেজি অ্যাজোলা প্রয়োগ করতে হবে।

    পাতা খাওয়া শুককীট এবং অন্যান্য পোকা দমনের জন্য কার্বোফুরণ দানা ১.২ গ্রাম/মিটার২ মাত্রাতে প্রয়োগ করতে হবে।

    অ্যাজোলা সবুজ সার হিসাবে এবং দ্বিতীয় ফসল হিসাবে চাষের জমিতে প্রয়োগ করা হয়।

    রোপনের ২-৩ সপ্তাহ আগে প্লাবিত জমিতে অ্যাজোলা সবুজ সার হিসাবে ফসল বৃদ্ধির জন্য চাষ করা হয়।

    পরে, জল নিষ্কাশিত করে ভালো ভাবে চাষ দিয়ে অ্যাজোলা মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়।

    দ্বিতীয় ফসল হিসাবে, চারা রোপনের ১ সপ্তাহ পর প্রতি হেক্টর জমিতে ১০০০ - ৫০০০ কেজি অ্যাজোলা প্রয়োগ করলে ভালো হয়।

    যখন অ্যাজোলার একটি পুরু চাদর তৈরী হবে তখন পা দিয়ে মাড়িয়ে মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে।

    আবার জমিতে অ্যাজোলা দেখা দিলে তা একই ভাবে পা দিয়ে মাড়িয়ে মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে।

    অ্যাজোলার ভালো বৃদ্ধির জন্য জমিতে ৫-১০ সেমি জল দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় সুপারফসফেট ২৫-৫০ কেজি/হেক্টর প্রয়োগ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

     

    ফ্রাঙ্কিয়া :

    ফ্রাঙ্কিয়া একধরণের অ্যাকটিনোমাইসিটিস। এরাও বায়ুমণ্ডলের মুক্ত নাইট্রোজেন আবদ্ধ করতে পারে।

    মিথোজীবি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এরা কয়েকটি অশিম্বগোত্রীয় গাছের শিকড়ে গুটি বা অর্বুদ তৈরী করতে পারে।

    যেমন - ঝাউ বা অ্যালনাস। পতিত জমিতে ঝাউ চাষ করে জমির উর্বরতা শক্তি বাড়ানো যায়।

    কৃষি বনায়ন পদ্ধতিতে নাইট্রোজেনের অভাব রয়েছে এমন জমিতে ঝাউগাছ লাগানো যথেষ্ট উপকারী।

    ফ্রাঙ্কিয়ার শিকড়ে গুটি তৈরির শুরুতে একটি ছোট ফোলা ভাব দেখা যায় যা শেকড়ের আগায় পরে খাঁজ তৈরী করে এবং থোকা থোকা গুটি আকৃতির সৃষ্টি হয়।

    এই অ্যাকটিনোমাইসেটিসের টিকাকরণের ফলে ঝাউ ও অ্যালনাস গাছের বৃদ্ধি, গুটি তৈরী, গুটির নাইট্রোজেন উৎসেচকের কার্যকারিতা ও গুটির শুষ্ক ওজন বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়।

     

    ২. ফসফরাসের জন্য :

    ফসফরাস দ্রবীভূতকারী ছত্রাক : এসপারজিলাস, পেনিসিলিয়াম

    ফসফরাস দ্রবীভূতকারী ব্যাকটেরিয়া : ব্যাসিলাস, সিউডোমোনাস

    ফসফরাস শোষণকারী : ভেসিকুলার আরবাসকুলার মাইকোরাইজা (ভি এ এম)

    বহিঃ মাইকোরাইজা : পিসোলিথাস, রাইজোপোগন

    আন্তঃ মাইকোরাইজা: গ্লোমাস, গিগাসপোরা

     

    ফসফরাস ধারণকারী অণুজীব (পি এস এম) :

    নাইট্রোজেনের পরের প্রাথমিক খাদ্যমৌল হিসাবে ফসফরাস অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ণ। বাইরের থেকে প্রয়োগ করা ফসফরাসের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ গাছের দ্বারা উদ্ধৃত করা যায়।

    বাকি অংশ মাটিতে আবদ্ধ হয়। এই আবদ্ধ ফসফরাস কখনোই সহজলভ্য নয়। এই আবদ্ধ ফসফরাসকে কতগুলি পরভোজী জীবাণু দ্রবীভূত করে এবং জৈব অ্যাসিড ও

    উৎসেচক তৈরী করে ফলে দ্রবণীয় ফসফরাস উদ্ভিদ দ্বারা সহজে গৃহীত হয়। এই ধরণের অণুজীবগুলিকে ফসফরাস দ্ৰবীভূতকারী অণুজীব বলা হয়।

    যেমন ব্যাসিলাস, অ্যাসপারজিলাস, পেনিসিলিয়াম এবং ট্রাইকোডারমা প্রভৃতি। যখন রক ফসফেটের উপর এই অণুবীজ গুলি বিক্রিয়া ঘটায়, তখন দ্রবণীয় ফসফরাস ও

    সাইট্রেটে পরিণত হয়। এই অনুজীবগুলি জৈব আবর্জনায় অবস্থিত জৈব ফসফেট যৌগগুলির ধাতব পরিণতিতে সাহায্য করে।

    কম্পোস্ট তৈরির সময় থার্মোফিলিক ধাপের পর এই সব অণুজীবের ব্যবহার কম্পোস্ট প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।

    নিরপেক্ষ ও ক্ষারীয় মাটিতে এই ব্যাকটেরিয়ার ব্যবহার ও অম্লিক মাটিতে ছত্রাকের ব্যবহার করে বাইরে থেকে প্রয়োগ করা ফসফরাসের গ্রহণ ক্ষমতা উন্নতি ঘটানো যায় এবং

    ফসফরাস আবদ্ধিকরণ ও বোধ করা যায়।

     

    ভ্যাসিক্যুলার আরবাসকুলার মাইকোরাইজা :

    ছত্রাক ও গাছের শিকড়ের মধ্যে যে পারস্পরিক সংযুক্তি দেখা যায় তা মাইকোরাইজা নামে পরিচিত। একে যে কোনো একটি বাস্তুতন্ত্রে এই মাইকোরাইজার সংহতিগুলি সমস্ত গাছের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়।

    বিভিন্ন প্রকার ডালজাতীয় ও ঘাস জাতীয় পরিবারের গাছের ক্ষেত্রে এবং ভিএএম এর উপনিবেশন অত্যন্ত সমর্থন যোগ্য।

    ভিএএম ফসফরাস, জিঙ্ক এবং সালফারের বদল ঘটাতে সাহায্য করে। এছাড়াও তামা, পটাশিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, লোহা ও ম্যাগনেসিয়াম প্রভৃতি উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদানের মাটি থেকে শেকড়ে পরিবহন ঘটায়।

    এরা গাছের শেকড়ে প্রবেশ করে এবং শেকড় ও আন্তঃকোষের সাথে ছত্রাকের একটি বাধ্যতামূলক আন্তঃসংহতি স্থাপিত হয়।

    এরপর একটি থলি তৈরী হয় যেখানে উদ্ভিদ খাদ্য উপাদানগুলি জমা হয় এবং একটি অর্বাসকুলার তৈরী করে সমস্ত পুষ্টি উপাদান গুলি ফানেলের দ্বারা শিকড়ে প্রবেশ করে।

    ভিএএম ছত্রাকের হাইফি গুলি অদ্রবণীয় সহজলভ্য নয় এমন ফসফরাসকে দ্রবীভূত করতে পারেনা, অধিকন্তু এই অদ্রবণীয় ফসফরাসের  নিজেদের প্রয়োজনে আত্তিকরণ ঘটায়।

    এমনকি এই উপাদানগুলির বিভিন্ন ধরণের বদল ঘটিয়ে আশ্রয়দাতার শিকড়ে সরবরাহ করে। ভিএএম ছত্রাক শিকড় দ্বারা গাছের জলশোষণ ক্ষমতার বৃদ্ধি ঘটায়।

    দুই ধরণের মাইকোরাইজা দেখা যায় : বহিঃ মাইকোরাইজা ও আন্তঃ মাইকোরাইজা।

    বহিঃ বা আন্তঃ মাইকোরাইজার ক্ষেত্রে ছত্রাকের হাইফিগুলি শিকড়ের এপিডারমিস ও কর্টেস কোষের মধ্যে বাইরের দিকে বিস্তৃত হয়। উদ্ভিদ এক্ট মাইকোরাইজার  দ্বারা সংক্রামিত হয়।

    এন্ডো বা অন্তঃ মাইকোরাইজার তিনটি উপবিভাগ দেখা যায়। এগুলির মধ্যে ভিএএম কৃষি ক্ষেত্রে সব থেকে প্রচলিত একটি নাম।

    এরা শিকড়ের কর্টেস অঞ্চলে একটি অভ্যন্তরীণ জালক তৈরী করে যা পরে মাটিতে বিস্তার লাভ করে এবং জল ও পুষ্টি উপাদান শোষণে সাহায্য করে।

    এই ভিএএম মাইকোরাইজা একবীজপত্রী, বাৎসরিক বা বহুবর্ষজীবি প্রভৃতি গাছের সাথে সংহতি স্থাপন করতে পারে।

    খাদ্যশস্য ও ডালজাতীয় শস্যের পর্যায়ক্রমে খামারজাত সারের প্রয়োগ দ্বারা ভিএএম এর কর্ম ক্ষমতা তরান্বিত করা যায়।

    আবার রাসায়নিক ছত্রাকনাশকের ব্যবহারে ভিএএম এর স্থায়িত্ব হ্রাস করে।

    জৈব সার দ্বারা বীজের টিকাকরণ :

    জৈব সার দ্বারা বীজের টিকাকরণের সাথে সাথে উপযুক্ত পরিবেশে বিভিন্ন শস্যের মূলেও টিকাকরণ করা যায়। মাটিতেও সরাসরি জৈব সার প্রয়োগ করা যেতে পারে। জৈব সারের প্রয়োগ পদ্ধতিগুলি নিম্নে বলা হল -

    বীজের টিকাকরণ :

    এটি অতি প্রচলিত পদ্ধতি। গুড়ের ১০ শতাংশ দ্রবণে জৈব সার মিশিয়ে বীজের টিকাকরণ করা হয়।

    মিশ্রিত কাথ বীজের উপর ছড়িয়ে একটি সিমেন্টের মেঝেতে বিছিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নেওয়া হয় এবং দেখতে হবে বীজের গায়ে চারিদিকে যেন একটি পাতলা আস্তরণ থাকে।

    এরপর এই বীজগুলি ছায়ায় সারারাত্রি ধরে শুকিয়ে নিয়ে ব্যবহার করতে হবে। সাধারণত এক হেক্টর জমিতে ডাল শস্য বীজের জন্য ৭৫০ গ্রাম জৈব সারের প্রয়োজন।

    শেকড় ও চারা গাছের টিকা ব্যবস্থাপনা :

    চারা রোপনের পূর্বে, চারা গাছের শেকড় ৩০ মিনিট ধরে বায়োফার্টিলাইজার দ্রবণে ডুবিয়ে তারপরে রোপণ করতে হবে।

    একএকর জমিতে চারা রোপনের জন্য ২ - ২.৫ কেজি বায়োফার্টিলাইজারের প্রয়োজন হয়।

    প্রথমে একটি বালতিতে প্রয়োজন মতো জল নিয়ে বায়োফার্টিলাইজার ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে।

    এরপর চারা গাছের শেকড়গুলি এই মিশ্রিত জলে ডুবিয়ে টিকাকরণ করে নিতে হবে। এরপরেই মূল জমিতে চারা রোপন করতে হবে।

    টমেটো, ধান, পেঁয়াজ এবং বিভিন্ন ধরণের শীতকালীন সবজির (ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি প্রভৃতি) চাষ এই পদ্ধতিতে করলে সুফল পাওয়া যায়।

     

    মাটিতে প্রয়োগ :

    সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো শস্যের নির্দিষ্ট স্থানে জীবাণু সার প্রয়োগের প্রয়োজন হলে এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।

    সাধারণত বিভিন্ন প্রকার ফল, আখ এবং অন্যান্য শস্যের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার হয়।

    ফলের গাছ রোপনের সময় ২০ গ্রাম জীবাণু সার কম্পোস্টের সাথে মিশিয়ে গাছের চারিদিকে রিং বরাবর মাটিতে প্রয়োগ করতে হবে।

    গাছের পূর্ণাঙ্গ প্রাপ্তি ঘটলে আমরা আরো কিছু পরিমাণ জীবাণু সার গাছের রিং বরাবর প্রয়োগ করতে পারি।

    জীবাণু সার সরাসরি মাটিতে প্রয়োগ করলে পরিমানে ৪ - ২০ গুন বেশি প্রয়োজন হয়।

    জীবাণু সার প্রয়োগের পূর্বে তা ভালোভাবে বিয়োজিত পরিমান মতো খামার সারের সাথে মিশিয়ে ২৪ ঘন্টা রেখে পুষ্টিসাধন করে নিতে হয়।

    খামার সার জীবাণু সারের বাহক ও খাদ্য হিসাবে কাজ করে।

     

    স্বটিকাকরণ বা কন্দের টিকাকরণ :

    এই পদ্ধতির দ্বারা অ্যাজোটোব্যক্টরের টিকাকরণ সহজে করা যায়। প্রথমে একটি ড্রামে করে ৫০ লিটার জল নিয়ে ৪ - ৫ কেজি জীবাণু সার ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে।

    এক একর জমিতে চারা রোপনের জন্য প্রয়োজনীয় চারা এই মিশ্রিত দ্রবণে ডুবিয়ে নিতে হবে।

    ঠিক এই ভাবে, আলু রোপনের পূর্বে উক্ত মিশ্রণে তা ডুবিয়ে নিয়ে ছায়ায় শুকনো করে জমিতে রোপন করতে হবে।

    Friday, July 21, 2017

    ভোলার চরফ্যাসনে স্কুলছাদে দৃষ্টিনন্দন বাগান

  • Share The Gag
  • চরফ্যাসনে স্কুলছাদে দৃষ্টিনন্দন বাগান

    বিদ্যালয়ের ছাদে সারি সারি ড্রাম আর মাটির টবে বেড়ে উঠা গাছের ডালে ঝাঁকে ঝাঁকে ঝুলে থাকা নানান প্রজাতির ফল, ফুল আর সবজি দর্শনার্থীদের মনোরঞ্জন করছে।

    বিদ্যালয়ের ছাদজুড়ে ফুল আর ফলের শোভিত বাগান দেখতে ভীর করছে উৎসাহী মানুষ। বিশেষ করে নিজেদের হাতে গড়া বিদ্যালয়ের বাগানে কমলা মালটা আঙ্গুরের মতো ফল দেখে শিশুরাও সীমাহীন আনন্দে ভাসছে।

    ভোলার প্রত্যন্তগ্রামে ছাদবাগানের এই অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে চরফ্যাসনের মাঝের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। উপজেলা সদর থেকে ৩৫ কিমি: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তেতুলিয়া পাড়ের গ্রাম মাঝের চর। এই গ্রামের মধ্যাঞ্চলে মাঝের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থান। বিদ্যালয়ের আছে দু’টি দ্বিতল ভবন। একটি ভবনের ছাদে ফল,ফুল আর ওষুধি বৃক্ষের বাগান এবং অপর ভবনের ছাদে সবজি বাগান।

    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাকি খানম জানান, গত বছরের জুন-জুলাই মাসে ছাদবাগান সৃজন শুরু করা হয়। শিক্ষকদের উদ্যোগে বিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট কাউন্সিল সদস্যরা ‘সবুজ প্রকল্প’ নামে এই বাগান সৃজন করেছে। বর্তমানে বাগানের গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে আম, ছাবেদা, কাগজি লেবু, কমলা, মালটা, আমড়া, কামরাঙ্গা, জলপাই, পেয়ারা, আঙ্গুর এবং লিচু ফল। সবজি বাগানে ক্ষেত মরিচ, বোম্বাই মরিচ, বেগুণ আর পেপে চাষ করা হয়েছে।

    এছাড়াও চার জাতের গোলাপসহ ৩০ প্রজাতির ফুল এবং ১০ প্রজাতির ওষুধি গাছ আছে এই বাগানে। এই ছাদবাগান সৃজনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬১ হাজার টাকা।



    বিদ্যালয়ের ছাদে দৃষ্টিনন্দন এই বাগানের উদ্যোক্তা বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, শুরুতে নিজেদের অর্থে বাগান সৃজন করা হয়। পরবর্তীতে বাগান পরিদর্শনে এসে স্থানীয় নজরুল নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রুহুল আমীন হাওলাদার, চর কলমী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাউছার আহমদ, উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালাম, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার খালিদ হোসেন, ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর মোমিন হোসেন, স্থানীয় মেম্বার রিয়াদ বিশ্বাস, যুবলীগ নেতা আকতার হোসেন বাবুল, এসএমসির সভাপতি ও সদস্যগণসহ স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বাগান সৃজনের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেছেন। সকলের উৎসাহ আর অনুপ্রেরণায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চলতি বর্ষা মৌসুমে সৃজিত বাগান সম্প্রসারণের কাজ হাতে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাকি খানম।

    জানা গেছে, চরফ্যাসন উপজেলায় বিদ্যালয় ছাদে বাগান সৃজনের এটা প্রথম দৃষ্টান্ত। বাগানের গাছে গাছে ফুল আর ফলের সমারোহ দেখতে প্রতিদিন অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে আসছেন। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও বাগানটি পরিদর্শনে আসছেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালাম, সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার খালিদ হোসেন, ইউআর সি ইন্সট্রাক্টর মমিন হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ বাগানটি পরিদর্শন করেছেন।

    উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালাম বলেছেন, বিদ্যালয় ছাদে বাগান একটি প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয় প্রচেষ্টা। বাগানটি পরিদর্শন করে আমি নিজেও অভিভূত হয়েছি। উপজেলার সকল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বাগানটি পরিদর্শনের জন্য বলা হয়েছে। যাতে উপজেলার সব বিদ্যালয়ে এই ধারনা ছড়িয়ে দেয়া যায়।

     

    Saturday, July 15, 2017

    কৃষি প্রযুক্তিতে পথ প্রদর্শক বাংলাদেশ

  • Share The Gag
  • কৃষক যে ফসল ফলান, তা যদি তিনি সময়মত বিত্রিক্র করতে না পারেন, তা হলে তাদের বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়। বাজারজাত সমস্যার কারণে কোনো এলাকায় বাম্পার ফলনে দাম পড়ে যায়। আবার অন্য এলাকায় ভোক্তাদের তা চড়া দামে ত্রক্রয় করতে হয়। তা যেন না হয়, সে জন্য মোবাইল, ফেসবুক ও ওয়েবসাইটে   জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ই-কৃষি। ডিজিটাল কৃষির বদৌলতে উৎপাদন যেমন বাড়ছে, তেমনি কৃষকের মাঠের ফসল সরাসরি চলে আসছে রাজধানীর বড় বড় দোকানগুলোতে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম থেকে মুক্তি মিলছে ভোক্তা ও কৃষকের।



    গোটা বিশ্ব তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির জোয়ারে ভাসছে। উন্নত দেশগুলো প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। কৃষি প্রধান বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্বের সাথে, সময়ের সাথে তালমিলিয়ে। কৃষকের দোর গোড়ায় পৌছে যাচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তির সেবা। মোবাইল ফোন, রেডিও, টিভি, কম্পিউটার, ইন্টারনেট, সিনেমা সবই কৃষক তথ্য সেবার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    বরগুনার আমতলীতে কৃষকদের জন্য সরকারিভাবে কমিউনিটি রেডিও চালু হয়েছে। বেসরকারি ১৩ রেডিও কৃষি তথ্য সেবা দিচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রথম বাংলাদেশে কৃষি গবেষণায় ব্যবহার করা হচ্ছে অক্টো-কপ্টল্টার। গবেষকরা জানিয়েছেন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই ড্রোন, কৃষকদের ক্ষেত ও ফসল সম্পর্কে দ্রুত নির্ভুল তথ্য দেবে। মোবাইল ফোন কলের মাধ্যমে সঙ্গে সঙ্গে সমস্যা সমাধানের সেবা পাচ্ছেন দেশের প্রত্যন্ত এলাকার কৃষক। সরাসরি ১৬১২৩ এবং ৬৭৬৭ নম্বরের মাধ্যমে সমাধান মিলছে। ১৬১২৩ নম্বরে ফোন দিলে খামারবাড়ির কৃষি তথ্য সার্ভিসের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে তথ্য সেবা পাচ্ছেন কৃষক। আর ৬৭৬৭ নম্বরের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে তথ্য জানতে পারেন বা কৃষি কর্মকর্তাকে মাঠে ডেকে নিতে পারেন কৃষক। মোবাইলে কৃষি সেবা আরো সহজ করতে দেশের ১৪ হাজার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে মোবাইল কোম্পানি বাংলালিংক সিম প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কৃষি তথ্যের প্রচলন প্রকল্পের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সঠিক কৃষি তথ্য সহজলভ্য করার জন্য ১৫০ গ্রামে একটি করে কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। আরও ৯০ গ্রামে একটি করে কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলছে। তৈরী করা হয়েছে কৃষকের ডাটাবেউজ। এ ডাটাবেইজের তালিকা ধরে ধরে কৃষকের উপকরণ, ১০ টাকায় ব্যাংক হিসেব খোলা ও কৃষি ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। কৃষি কল সেন্টারের মাধ্যমেও কৃষকদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি তথ্য সার্ভিস ও প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের উদ্যোগে কৃষি কল সেন্টার সেবা দিচ্ছে।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কৃষি তথ্যের প্রচলন প্রকল্পের পরিচালক ড. রাধেশ্যাম সরকার বলেন, দেশজুড়ে বিনামূল্যে মোবাইলে কল করে সেবা নিতে পারছেন কৃষক। তৃণমূল পর্যায়ে ২৪৫টি কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। চালু করা হয়েছে কৃষি ও কমিউনিটি রেডিও। প্রতিনিয়ত তৈরি করা হয়েছে মোবাইল অ্যাপস। দেশের ১৫টি চিনিকলের সব আখ চাষী এখন এসএমএস এর মাধ্যমে আগাম বিপনন তথ্য পাচ্ছেন। ফলে আখচাষীদের দীর্ঘ দিনের বিড়ম্বনার অবসান হয়েছে। কৃষকদের আধুনিক কৃষিকাজে যুক্ত করার জন্য ১০ জেলায় এআইসিটি ল্যাব (কৃষি তথ্য যোগাযোগ কেন্দ্র) স্থাপিত drone-in-Agriculture_Bangladeshহয়েছে। এআইসিটি সদস্যরা বিনা মূল্যে ল্যাব থেকে

    এআইসিটি প্রশিক্ষণ নিতে পারছেন। প্রত্যেক এআইসিটি ল্যাবে এআইসিটি উপকরণ- ডেস্কটপ কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মাল্কিল্টমিডিয়া প্রজেক্টর, ইন্টারনেট মডেম, প্রিন্টার, জেনারেটর ইত্যাদি বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মহাপরিচালক এবং এটুআই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কবীর বিন আনোয়ার বলেন, কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার সহজ করায় চিনিকলগুলোকে মৌসুমের মাঝখানে আখের অপেক্ষায় আর বসে থাকতে হচ্ছে না, এগুলো আরো দক্ষভাবে পরিচালিত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, কৃষকদের আয় ও জীবনযাত্রার মান বেড়েছে এবং তাদের ক্ষমতায়ন হয়েছে বলেও তিনি জানান। ইতিমধ্যে অন্যান্য কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রেও মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে পাইকারি বাজারদর জানবার প্রদ্ধতি সরকার চালু করেছে। এর সুবিধা বেশ কিছু কৃষক এবং ব্যবসায়ী নিতেও শুরু করেছেন, তবে ভবিষ্যতে এর আওতা আরো সম্প্রসারিত হবে।

    খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন বজায় রাখতে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপকূলীয় এলাকায় কৃষি গবেষণায় ব্যবহার হচ্ছে ড্রোন (মানুষবিহীন উড়ো যান)। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বপ্রথম বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগে ড্রোন ব্যবহার করে কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে গবেষণার কাজ চলছে। বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট, নেদারল্যান্ডসের টুয়েন্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে দেশের কৃষি গবেষণায় আধুনিক, উন্নত এবং কার্যকর প্রযুক্তি মানুষবিহীন এ যান ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে কৃষক জমিতে পরিমিত সার প্রয়োগ এবং রোগ-পোকামাকড়ের আক্রমণ দমন করার বার্তা বা তথ্য সংগ্রহের জন্য এই যানটি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে সফলভাবে এর ব্যবহার শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম গবেষণা কেন্দ্রের গবেষক ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ শেখ হেমায়েত হোসেন বলেন, ইনফরমেশন অন ফিঙ্গার টাচ নামে তথ্য সার্ভিসের সদর দপ্তরে একটি কিয়স্ক (বুথ) স্থাপন করা হয়েছে। টাচ স্ক্রীনের মাধ্যমে সহজেই এ বুথ থেকে কৃষিবিষয়ক তথ্য নেয়া যাচ্ছে। কৃষকের জানালা নামে একটি সেবা রয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের। এটি হচ্ছে মাঠ ফসলের বিভিন্ন সমস্যার ধারণকৃত ছবির তথ্য ভাণ্ডার যা ব্যবহার করে সমস্যা নির্ণয় এবং একই সাথে সমস্যার পরিবেশ বান্ধব সমাধান করবে এটি। যে কোন কম্পিউটার বা স্মার্ট ফোনে এটি ব্যবহার করা যায়।

    আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি যত দ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছানোর জন্য ইউএনডিপি ও ড্যানিশ সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৃষি তথ্য সার্ভিস, কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র বা এআইসিসি চালু করেছে। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সব জাত, চাষাবাদ প্রত্রিক্রয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাচ্ছে। এছাড়া এই অ্যাপসের মাধ্যমে বারি উদ্ভাবিত ফসলের উন্নত প্রযুক্তি, বিশেষ করে রোগবালাই, পোকা মাকড় ও সার ব্যবস্থাপনাসহ যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। মোবাইলে ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে এ অ্যাপসের মাধ্যমে কৃষকরা পাচ্ছেন সব তথ্য। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের রয়েছে রাইজ নলেজ ব্যাংক নামে ইন্টারনেট ভিত্তিক একটি তথ্য সেবা। এর মাধ্যমে কৃষকরা ধানের সঠিক জাত, রোপণের কৌশল, সার ব্যবস্থাপনা তথ্য জানতে পারছেন। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল জলবায়ু তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন উপাত্তের উপর ভিত্তি করে সেবাটি তৈরি করা হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করেছে ফসল পঞ্জিকা। বাংলাদেশে এখন সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে প্রায় তিন হাজারের বেশি টেলিসেন্টার রয়েছে। এসব তথ্যকেন্দ্র থেকে কৃষি তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। অনেক কৃষক তথ্যকেন্দ্রের কর্মীকে মাঠে নিয়ে যান। তার ক্ষেতের রোগাক্রান্ত ফসল বা পাতার ছবি তুলে ই-মেইল করেন। এরপর ছবিটি বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সেবা পাচ্ছেন।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, কৃষি কল সেন্টার ১২৩ নম্বরে মোবাইল ফোন থেকে ফিদ্ধ এসএমএস এবং সরাসরি কল করে কৃষিবিষয়ক যেকোনো সমস্যার সমাধান কৃষক পেতে পারেন। এ ছাড়া ভ্রাম্যমান সিনেমা ভ্যানের মাধ্যমে ভিডিও প্রদর্শন করে কৃষকদের সচেতন করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র প্রর্দশনের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে খুব সহজেই কৃষকদের মাঝে প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এ ধারণা নিয়ে কৃষি তথ্য সার্ভিস বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ কৌশল, উদ্বুদ্ধকরণ নাটিকা বা গান প্রচার করছে। কৃষি তথ্য সার্ভিস বাংলা ভাষায় কৃষি তথ্যসমৃদ্ধ ওয়েবসাইট তৈরি করেছে। দেশে এ পর্যন্ত ১৪টি কমিউনিট রেডিও লাইসেন্স পেয়েছে। একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান কৃষি তথ্য সার্ভিস কর্তৃক পরিচালিত বরগুনার আমতলীতে স্থাপিত হয়েছে কমিউনিটি রেডিও ‘আমার রেডিও আমাদেরও কথা বলে’।

    ‘কৃষি সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট’ মাটি পরীক্ষার জন্য তৈরি করেছে ‘সারের প্রয়োগমাত্রা নিরুপণের সফটওয়্যার’। মাটিতে কি কি উপাদান আছে তা মাটি পরীক্ষা করে বের করে, এই সফটওয়্যারে বসিয়ে, সেইসাথে জমির পরিমাণটুকু বসিয়ে দিলেই কৃষক বা কৃষিবিদ জেনে যাবেন, তার জমিতে কি পরিমাণ সার লাগবে। তথ্য প্রযুক্তির এই সুফলটিও মাঠ পর্যায়ে অনেক কৃষক এখন গ্রহণ করছে। ফলে সারের পিছনে কৃষকদের ব্যয় কমে এসেছে, কৃষকের উৎপাদন ভালো হয়েছে এবং মাটির গুণাগুণ উন্নীত হয়েছে। দেড় লাখ সয়েল স্যাম্পল বিশ্লেষণের পর ম্যাপিং করে মাটির উর্বরতার ঘাটতি বিশ্লেষণ করে ডিজিটাল ডাটাবেজ থেকে এসকিউএল সার্ভারের মাধ্যমে সার প্রয়োগ সংক্রান্ত রিয়েল টাইম ডাটা সেবা দেয়া হচ্ছে। ক্যাটালিস্টদের সহযোগিতায় ২০০৯ সালে ৩০ উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া তথ্যসেবাটি এটুআই-এর হাত ধরে ২০১৪ সাল থেকে পৌঁছে গেছে প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

    বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. রফিকুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, কৃষকদের কাছাকাছি তথ্য সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য নানামুখী কর্মপরিকল্পনা চলছে। কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইমেলের মাধ্যমে প্রশ্ন পাঠালে পরদিনই উত্তর পাওয়া যায়। স্মার্ট ফোনের অ্যাপসে গিয়ে প্রশ্ন লিখলে সাথে সাথে উত্তর দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। কৃষকরা এটা নিজে না পারলে কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা নিয়ে করতে পারবেন।

     

     








    • gutia urea

      গুটি ইউরিয়া যন্ত্র


      বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ফার্ম মেশিনারী এন্ড পোষ্ট হারেভষ্ট টেকনোলজি (এফএমপিএইচটি) বিভাগ একটি হস্তচালিত গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ যন্ত্র উদ্ভাবন করেছে যার মাধ্যমে একজন শ্রমিক প্রতি ঘন্টায় একবিঘা জমিতে গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ করতে পারে। প্রচলিত পদ্ধতিতে একজন শ্রমিক সারাদিনে দক্ষতাভেদে ২০-৩০ শতাংশ জমিতে গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ করতে পারে। সুতরাং প্রচলিত পদ্�..







    • Mashroom_chash



      মাশরুমের চাষ
      মাশরুম একটি পুষ্টিকর সবজি। সাধারণত: সবজির মতো মাশরুম মাটিতে জন্মায় না। এটি নিম্নশ্রেণীর ছত্রাক জাতীয় পরজীবী উদ্ভিদ। জীবন ধারনের জন্য এরা জৈবিক বস্তু (Organic mattor) থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করে। আশির দশকের শুরুতে এদেশে পরীক্ষামূলকভাবে মাশরুম চাষ শুরু হয়। সে সময় সাভারে অবস্থিত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আওতাধীন ২টি কালচার সেন্টারে �..







    • kresi_jontropoti (1)

      কেসিএম পাওয়ার টিলার

      বর্তমানে দেশের অধিকাংশ জমি (শুকনো বা কাদা) পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ করা হয়। প্রচলিত পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি তৈরি করতে ৫-৬টি চাষের প্রয়োজন হয়। KGF(কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন), CASEED এবং MAWTS-এর যৌথ উদ্যোগে উদ্ভাবিত কেসিএম পাওয়ার টিলার দিয়ে সেখানে ২/৩টি চাষ যথেষ্ট।এই যন্ত্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শুকনো জমিতে অর্থাৎ যে জমির উপর দিয়ে হেঁটে যেতে পায়ে কাদা লাগে না, এমন জমিতে গভ..







    • compost

      কম্পোস্ট

      আপনি জানেন কি?



      • বর্তমানে জমিতে অধিক উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রচুর পরিমানে রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয়।





      • তবে ব্যাপকহারে এ রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে জমিতে এর বিরূপ প্রভাব ও পড়ে ।





      • সাথে সাথে জমিতে জৈব পদার্থ ও উপকারী অনুজীবের পরিমান হ্রাস পেতে থা..









    • vermi-compost

      কেচোঁ কম্পোস্ট (ভার্মি কম্পোস্ট)

      কেচোঁ মানুষের একটি অন্যতম উপকারী প্রাকৃতিক ক্ষুদ্র প্রাণী। এ প্রাণী যে মাটি চাষাবাদের কাজে উপকারে আসে তা আমরা গুরুত্ব দিয়ে চিন্তা করিনি। প্রধানত কেচোঁ উপরের মাটি নিচে এবং নিচের মাটি উপরে তুলে থাকে। এসব কাজের সাথেই কেচোঁর সারও তৈরি হয়। কেচোঁর দ্বারা জৈব সার তৈরির জন্য এ সাথে তরকারির খোসা, গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা ও নাড়িভুড়ি, পাতাসহ পচা আবর্জন







    • pori1234




      পরিবর্তিত জলবায়ুতে বারো মাসের কৃষি
      বৈশাখ:
      ১/এ মাসে খরা হতে পারে এবং বোরো ধানের জন্য খুবই নাজুক সময়। নাবি বোরো ধানের থোড় আসার সময় যাতে খরার জন্য পানির অভাব না হয় তার জন্য আগে থেকেই সেচের ব্যবস্থা রাখা।
      ২/ ধান গাছে এসময়ে ফুল আসে এবং বাদামী গাছ ফড়িং এর ব্যাপক আক্রমন হয়। যার ফলে ধান চিটা হয়ে যায়।







    • Drum seeder



      ড্রাম সিডারের বিবরণ : এটি প্লাস্টিকের তৈরি ছয়টি ড্রাম বিশিষ্ট বীজ বপন যন্ত্র। ড্রামগুলো ২.৩ মিটার লম্বা লোহার দণ্ডে পরপর সাজানো থাকে। লোহার দণ্ডের দুই প্রান্তে প্লাস্টিকের তৈরি দু’টি চাকা এবং যন্ত্রটি টানার জন্য একটি হাতল যুক্ত থাকে। প্রতিটি ড্রামের দৈর্ঘ্য ২৫ সেন্টিমিটার এবং ব্যাস ৫৫ সেন্টিমিটার এবং এর দুই প্রান্তে ২০ সেন্টিমিটার দূরত্বে







     

    বনসাই চাষ ও যত্ন

  • Share The Gag
  • বনসাই চাষ ও যত্ন



    বনসাই একটি জীবন্ত শিল্প।একটি শক্ত কান্ড বিশিষ্ট গাছ কে একটি ছোট পটে রেখে বছরের পরবছর একে বাঁচিয়ে রাখার শিল্পকেই বনসাই বলে।প্রাণের স্পন্দন আর শিল্পকর্মের নান্দনিকতা এক সুতোয় প্রকাশ পায় বলেই বনসাই জীবন্ত শিল্পকর্ম হিসেবে পরিচিত। নগরে ইটের স্থাপনার মধ্যে এক টুকরো সবুজের উপস্থিতি এবং স্বল্প পরিসরে সহজ যত্ন-আত্তিতে বনসাই সংগ্রহ করা যায় বলেই বৃক্ষপ্রিয় মানুষের কাছে বনসাইয়ের কদর যেন একটু বেশিই।

    বহু বছর আগে চীন দেশে এই শিল্পের সূচনা হলেও পরবর্তী আজকাল শৌখিন সংগ্রহের পাশাপাশি ঘর সাজাতে এবং অন্যান্য ইন্টেরিয়র ডিজাইনের কাজে বনসাই ব্যবহার করা হয়। মূল গাছের সব বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে, অগভীর ছোট পাত্রে বৃক্ষজাতীয় গাছের ক্ষুদ্র সংস্করণ গড়ে তোলার কাজকেই বনসাইশিল্প বলা হয়। ক্ষুদ্র এই সংস্করণটিই বনসাই হিসেবে পরিচিত।

    গাছ নির্বাচন[সম্পাদনা]







    ম্যাপল গাছের বনসাই




    যে সকল গাছের বৃদ্ধি ধীরে ধীরে হয়। গাছের কান্ড মোটা হয়। বছরে একবার পাতা ঝরে। গাছের বয়স হলে গাছের ছাল মোটা হয়। গাছের ঝুরি নামে এমন গাছ, শিকড় কেটে দিলে ঝুরি গাছের শিকড়ের কাজ করে। গাছ অনেকদিন সতেজ থাকে এবং গাছের বয়স অনুযায়ী বেঁচে থাকে। যেখানে বা যেদেশে বনসাই করা হবে সে স্থানের আবহাওয়া উপযোগী হতে হয়।





    অনেক বড় একটি পাকুড় গাছ




    বাংলাদেশে বনসাই করা যেতে পারে এমন গাছগুলো হল:


    • বট * বকুল * শিমুল * পাকুড় * তেতুল * শিবীষ * বাবলা * পলাশ * বিলিতি বেল * ছাতিম * হিজল * জাম *নিম * বেলি * গাব * শেফালী * পেয়ারা * হেওরা * ডালিম * তমাল * জাম্বুরা * কমলা * তুলসী * বহেরা * বরই * কামিনী * মেহেদী * কড়ই * অর্জুন * জারুল * জুনিপার * নরশিংধ * করমচা * লুকলুকি * কৃষ্ণচূড়া * কদবেল * দেবদারু * সাইকেশ * হরিতকি * কামরাঙা * আমলকি * নীলজবা * লালজবা * অশ্বথ বট * নুডা বট * পাকুর বট * কাঠলি বট * রঙ্গন ছোট * রঙ্গন বড় * নিম সুন্দরী * লাল গোলাপ * খই বাবলা * কনকচাঁপা * গোলাপজাম * পাথরকুচি * সাদা নয়নতারা * স্টার কুইন * বাগান বিলাস * হেলিকুনিয়া * লাল টাইমফুল * গোলাপিটা ফুল * ক্যাকটাস গোল * ক্যাকটাস লম্বা * পান বিলাস * লালা পাতাবাহার * লাল জামরুল * চায়না বাঁশ * সন্ধ্যা মালতী হলুদ * যজ্ঞ ডুমুর * আলমন্ডা



    নিজেই তৈরি করুন বনসাই:

    যে গাছটির বনসাই তৈরি করবেন, সেটার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ভালোভাবে জেনে নিন। নির্বাচিত গাছের বীজ থেকে চারা তৈরি করে নিতে পারেন অথবা নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করে তা থেকে বনসাই তৈরি করতে পারেন। বনসাইয়ের মাটি তৈরির ক্ষেত্রে দো-আঁশ বা পলিমাটির সঙ্গে পরিমিত জৈব সার ব্যবহার করুন।

    পানি নিষ্কাশন ও গাছের বৃদ্ধি রোধে বিশেষভাবে তৈরি টবেই বনসাইয়ের চারা রোপণ করতে হবে। এই টবের নিচের দিকে পানি নিষ্কাশনের এবং কিনারা বরাবর দুই বা ততোধিক ছিদ্র থাকে, যা তার পেঁচিয়ে গাছের বৃদ্ধি কমিয়ে রাখে।

    কিছুদিন বৃদ্ধির পর গাছটির জন্য উপযুক্ত আকৃতি নির্ধারণ করে ডালপালায় তার পেঁচিয়ে রাখার পাশাপাশি নিয়মিত অবাঞ্ছিত ডাল-পাতা ছাঁটাই করতে থাকুন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সৃষ্টি হবে আপনার বনসাইটি। ঢাকার পাশাপাশি রাজশাহীতেও বনসাইয়ের প্রসার ব্যাপক

    মাটি তৈরি



    বনসাই চাষের জন্য দো-আঁশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী। এছাড়া এতে কম্পোস্ট সার ,ইটের গুড়ো, বালি, পাথর এর গুড়ো,পোড়ামাটির গুড়ো,ছাই ইত্যাদি মেশানো উচিৎ। সম্ভব হলে এতে কেঁচো সার, গোবর সার ইত্যাদি মেশানো উচিৎ। মাটি এমন ভাবে তৈরি করতে হবে যাতে পানি নিষ্কাশন ভাল হয়।

    চারা সংগ্রহ







    কাটিং হতে গৃহীত চারা




    বনসাই এর জন্য চারা গাছ যে কোন স্থান থেকে সংগ্রহ করা যায়। বীজ থেকেও চারা সংগ্রহ করা যায়, আবার কলমের চারাও সংগ্রহ করা যায়। কলমের মধ্যে কাটিং,লেয়ারিং,এয়ার লেয়ারিং ইত্যাদি উপায়ে চারা সংগ্রহ করা যায়। নার্সারি থেকে চারা লাগানো যায়। আবার, বট, পাকুড়, অশ্বত্থ গাছের চারা পুরাতন দেয়াল,পুরাতন ইটের স্তুপ থেকেও সংগ্রহ করা যায়।

    পট বা টব







    বনসাই এর পাত্র




    বনসাই এর জন্য তেমন বড় পাত্র লাগে না। অপেক্ষাকৃত অনেক ছোট পাত্রে বনসাই চাষ করা হয়। বনসাই এর টব বা পটের নিচে পানি নিষ্কাশন এর জন্য ছোট ছিদ্র থাকতে হয়।

     

    একটু আন্তরিকতাপূর্ণ দেখভাল আপনার বনসাইটিকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। এ ক্ষেত্রে খুব বেশি ঝামেলার দরকার হয় না। আপনাদের জন্য বনসাইয়ের পরিচর্যার নিয়ম সমূহ জানানো হল:

    ১.  গাছকে নিয়মিত খাবার দিন। যেমন, কালো মাটি, বালু বা ইটের চূর্ণ, সরিষা বা নীলের খোসা ইত্যাদি।

    ২. বনসাই অতিরিক্ত পানিবদ্ধতা এবং রোদ— কোনোটাই সহ্য করতে পারে না। তাই এ বিষয়ে খেয়াল রাখুন।

    ৩. বনসাই ধুলা-ময়লামুক্ত রাখতে পানি দিয়ে পাতা ও ডাল মুছে দিন।

    ৪. টবের মাটিতে পোকামাকড় কিংবা ছত্রাকের প্রাদুর্ভাব হলে সঠিক মাত্রায় ওষুধ প্রয়োগ করুন।

    ৫. এমন স্থানে রাখুন, যেখানে আলো-বাতাস চলাচল করে কিন্তু লোকজনের যাওয়া-আসা কম।

    ৬. নির্ধারিত আকৃতি ঠিক রাখতে নির্ধারিত ডালপালা বাদে ছাঁটাই করুন।

    ৭. বেশি ব্যস্ত থাকলে সঠিক মাত্রায় তরল বা স্পেস সার প্রয়োগ করতে পারেন।

    ৮. অবশ্যই প্রতি এক বছর অন্তর টবের মাটি পরিবর্তন করুন।

    ৯. গাছের ছাঁটাইসহ অন্যান্য কাজে বনসাই পরিচর্যার জন্য নির্ধারিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করুন।

    আপনার বনসাইটি কোনো কারণে বনসাইটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলে, যেখান থেকে কিনেছেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।ব্যক্তিগতভাবে বনসাই সংগ্রহ করেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলুন।খেয়াল রাখবেনকখনোই শুধু দামের ভিত্তিতে বনসাইয়ের ভালো-মন্দ নির্বাচন করবেন না।

    বনসাই ক্রয়কালে খেয়াল রাখুন—

    #বনসাইটির রুট বেইস ভালো কি না?

    #প্রাকৃতিকভাবেই গাছটি সৌন্দর্য প্রকাশ করছে কি না।

    #গাছের বাকলে বয়সের ছাপ স্পষ্ট কি না। ভালো

    #বনসাইয়ের মূল কাণ্ড মসৃণ ও দাগমুক্ত হয়।

    #বনসাইটি আদি বৃক্ষের বৈশিষ্ট্য বহন করে কি না।

    শিল্পকর্মের সঙ্গে আপনার সম্পৃক্ততা নিরেট গৃহসজ্জার বস্তু থাকে না, এটি আপনারই একটি অংশ হয়ে ওঠে। সবুজের উপস্থিতি আপনাকে শত ব্যস্ততার মধ্যেও প্রশান্ত রাখে এবং আরও উদ্যমী করে তোলে। একটি প্রাণের উপস্থিতিই অন্য একটি প্রাণের উৎসাহ জোগায়। এই বনসাই হতে পারে আপনার সেই প্রাণের উৎস।

    শখের পেশা বনসাই





    তারিন তাসমী
    মানুষের শখ বিচিত্র। বিচিত্র শখের পেশা। তবে শখের পেশায় সাফল্যের সম্ভাবনা বেশি। মানুষ সাধারণত প্রকৃতির সান্নিধ্য পছন্দ করে। কারণ প্রকৃতি মনকে প্রশান্ত করে। কিন্তু শহুরে যান্ত্রিক জীবনে প্রকৃতির ছোঁয়া দুর্লভ। তাই শহুরে মানুষকে প্রকৃতির ছোঁয়া দিতে বনসাই হতে পারে একটি বিকল্প। সে কারণেই ড্রয়িংরুম, অফিস রুমসহ বিভিন্ন শো প্লেসে বনসাই নাগরিক জীবনকে দিচ্ছে প্রকৃতির ছোঁয়া। বর্তমানে বনসাই একটি শিল্প, এ শিল্পের সাথে জাড়িয়ে আপনিও আপনার পেশাকে বদলে নিতে পারেন। একটি হতে পারে আপনার শখের পেশা।

    বনসাই কি
    বনসাইয়ের ইতিহাস বহু পুরনো। ধারণা করা হয় প্রায় ২০০০ বছর পূর্বে চীনে এর শুরু। পরবর্তী সময়ে জাপানে বনসাই বিস্তৃতি লাভ করে। বনসাই শব্দটি জাপানি। বন শব্দের অর্থ ছোট পাত্র এবং সাই শব্দের অর্থ গাছ। অর্থাৎ বনসাই মানে দাঁড়াচ্ছে, ছোট পাত্রে গাছ। বনসাই মূলত ছোট পাত্রে বিশেষ পদ্ধতিতে গাছ লাগানোকে বলা হয়।

    কীভাবে চাষ করবেন
    সাধারণত বনসাইয়ের চারা বা গাছ নির্বাচন করা জরুরি। কারণ সঠিকভাবে গাছ নির্বাচন না করলে বনসাই বেশি দিন টিকে থাকে না। বনসাইয়ের জন্য ফলদ ও বনজ গাছ নির্বাচন করতে পারেন। বনসাই তৈরির জন্য উপযুক্ত প্রজাতির গাছ হলোÑ বট, পাকুর, হিজল, অশ্বথ, ডুমুর, ডালিম, কদম, বাগানবিলাস, বোতল ব্রাশ, নিম, জামরুল, তেঁতুল, করমচা ও কৃষ্ণচূড়া ইত্যাদি। আর টবের মধ্যে দোআঁশ মাটির সাথে জৈবসার মিশিয়ে বনসাইয়ের মাটি তৈরি করা হয়। টবের পানি নিষ্কাশনের ছিদ্রের ওপর ইটের কুচির পরিবর্তে এক টুকরা তারের জালি রেখে তা কিছু কাঁকর দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। রোদ নেই কিন্তু আলো-বাতাস আছে এমন জায়গায় রাখতে হবে।

    উপকরণ
    বনসাই গাছের জন্য প্রাথমিকভাবে যে জিনিসটি দরকার তা হলো পট। পট না হলে চারা কোথায় তৈরি বা গাছ কোথায় রাখবেন। বনসাইয়ের জন্য ঢাকায় ভালো পট না পেলেও রাজশাহীতে পাওয়া যায় এবং খুব মজবুতও। এরপর বনসাইয়ের ডাল কাটার জন্য সিকেচার, পাতা কাটার জন্য কাঁচি, ডালের গোড়া সরানোর জন্য কনকেক এবং তার কাটার জন্য ওয়্যার টাকার প্রয়োজন বলে জানান জাতীয় উদ্যান ও বলধা বাগানের ফরেস্ট অফিসার মজিবুর রহমান।

    স্থান নির্বাচন
    বনসাই চাষ করতে চাইলে স্থান নির্বাচনের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ আলো-বাতাসের অভাবে গাছ মারা যেতে পারে। আবার রোদ আছে এমন জায়গায় বনসাই চাষ করা যাবে না। আলো-বাতাস আছে এমন স্থান নির্বাচন করাই বাঞ্ছনীয়। যেসব স্থানে বনসাই তৈরি করতে পারেন-ফ্ল্যাটের বারান্দায়, বাসার ছাদে অথবা পর্যাপ্ত পরিমাণে আলো-বাতাস ঢোকে এমন ঘরে। এক একটি বনসাই ১৪-১৮ ইঞ্চির মধ্যে রাখাই ভালো।

    বনসাই তৈরির ধাপ
    বনসাই তৈরির জন্য কা-, শেকড়, শাখা-প্রশাখা ও পাতা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করাই যথেষ্ট নয়। টবের ছোট গাছে প্রকৃতির কোলে বেড়ে ওঠা বয়োবৃদ্ধ গাছের সুঠাম ভঙ্গিমায় আনার চেষ্টা করতে হবে বলে জানান বলধা বাগানের ফরেস্ট অফিসার মজিবুর রহমান।
    তিনি আরো বলেন, বনসাইকে যে মডেলের রূপ দেয়া হবে তা স্থির করে শাখা বাছাই করা দরকার। জোড়া পাতার কক্ষ থেকে কা-ের দুই পাশের দুটি শাখা গজায়। বাছাই পদ্ধতি অনুসারে এর একটি রাখতে হবে।

    শাখা ছাঁটাই
    বনসাইয়ের বয়স ৩-৪ বছর হলে তখন প্রুনিংয়ের প্রয়োজন হয়। বাছাই করা মোটা শাখাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাটতে হবে।
    তার বাঁধা
    কা- বা শাখাকে সুন্দর, ভঙ্গিমায় আনতে যেসব কৃত্রিম উপায় অবলম্বন করা হয় তার বাঁধা তাদের মধ্যে অন্যতম। সরল শাখায় তার জড়িয়ে আঁকাবাঁকা রূপ দেয়া যায়।

    উপার্জন
    বাংলাদেশে একটা সময় বনসাই দুর্লভ ছিল। বর্তমানে অনেকেই বনসাই করছেন। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে কাজ করতে মানুষ ভালোবাসে। শখের নেশা থেকে পেশা হিসেবে ক্যারিয়ারের জন্য অল্প বিনিয়োগ করে ভালো আয় করতে পারেন বনসাই তৈরি করে। এ পেশায় বাড়িতে বসে ৫০০০ থেকে ৮০০০ টাকা বিনিয়োগ করে মাসে ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। বনসাইয়ের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারেন, কারণ এরাই মূলত আপনার ক্রেতা। যেমন হাসপাতাল, ব্যাংক, রেস্তোরাঁ, বহুজাতিক কোম্পানি, শপিং কমপ্লেক্স সাজানোর জন্য বনসাই প্রয়োজন হয়।

    ভালো করতে হলে
    বনসাই একটি সৃষ্টিশীল কাজ। এর মাধ্যমে আনন্দ পাওয়া যায়। বনসাই করতে হলে শ্রম দিতে হবে। এর সাথে সব সময় লেগে থাকতে হবে। বনসাই যেমন কঠিন আবার তেমনি সহজ। প্রশিক্ষণ ছাড়া বনসাই করা সম্ভব নয়। এর সম্পর্কে ভালো ধারণা না থাকলে সফলতা পাওয়া কঠিন। তরুণ-তরুণীদের বর্তমানে বনসাইয়ের প্রতি বেশ ঝোঁক রয়েছে। তারা প্রশিক্ষণ নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করলে সফলতা পাবে নিশ্চিত।
    প্রশিক্ষণ পেতে যোগাযোগ করতে পারেন, রেডিয়েন্ট ইনস্টিটিউট অব ডিজাইন কিংবা জাতীয় উদ্যান ও বলধা বাগান কর্তৃপক্ষের সাথে।

    বনসাই তৈরির কিছু বিশেষ কলা-কৌশল রয়েছে। যেমন প্রুনিং, লিফট্রিমিং, ওয়াইরিং, ক্লাম্পিং, গ্রাফিটং, ডিফলিয়েশন প্রভৃতি। বনসাই তৈরির জন্য পট বা ‘ট্রে’ নির্বাচনও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পট গোলাকার, ডিম্বাকার, বর্গাকার ইত্যাদি বিভিন্ন আকারের হয়। চীনে কাঠের পাত্র বা রৌপ্য নির্মিত পাত্রে বনসাই তৈরির ঐতিহ্য রয়েছে।

    ছাদে ধান চাষ ও হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ

  • Share The Gag
  • বাড়ির ছাদে ধান চাষ

     

    যশোর শহরের বকচরের বিহারী ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের নিজের দুই তলা বাড়ির ছাদে ধান চাষ করে তৈরি করলেন ভিন্ন রকম নজির!জনাব রফিকুল ইসলাম বোরো বিআর-২৮ জাতের ধানের চারা লাগান নিজের বাড়ির ছাদের রেলিং দিয়ে করা কৃত্রিম জমিতে। রফিকুলের লাগানো সেই ধানের চারা বড় হয়ে এখন সেখানে ফসল এসেছে। সম্পূর্ণ ছাদ এখন ধানে ছেয়ে গেছে। রফিকুল নিজের বাড়ির ছাদে মোট ৩ শতাংশ জমিতে ধানের চারা রোপণ করেছিলেন।

    রফিকুল ইসলামের বাড়িটি মোট দুই তলার, রফিকুল নিজে থাকেন পরিবার নিয়ে দ্বিতীয় তলায়। নিচ তলা ভাড়া দেয়া আছে একটি কারখানাকে। রফিকুল নিজে একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসার পাশাপাশি রফিকুলের বাগান করার শখ। এর আগে তিনি তাঁর ছাদে লাগিয়েছিলেন ফলের গাছ তবে সে সব গাছ ফলন ভালো দেয়নি। যে কারণে তিনি সেসব কেটে ফেলেন। তবে রফিকুল ইসলাম দমে যাননি তিনি সিদ্ধান্ত নেন আবার তিনি এখানে চাষ করবেন তবে এবার অন্য কোন ফসল। তিনি ধান চাষের সিদ্ধান্ত নেন।

    রফিকুল ইসলাম তাঁর ছাদে চারপাশে উঁচু রেলিং তৈরি করেন এবং সেখানে নিচে প্লাস্টীক দিয়ে আবার প্লাস্টারিং করেন ২ ইঞ্চি পুরু করে। ফলে ঐ অংশে মাটি দেয়াতে বাড়ির কোন ক্ষতি হবেনা বলেই ধরা যায়। পরে তিনি সেখানে মাটি ফেলে তাতে সাঁর হিসেবে ঘরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন আবর্জনা  ব্যবহার করেন।

    bben130930_386_firozpaddy_01c

    রফিকুল ইসলাম আশা করছেন তাঁর ছাদের ৩ শতক ধান ক্ষেত থেকে তিনি ২ মনের মত ধান পাবেন। রফিকুল ইসলাম বলেন ধানের পরিমাণ হিসেবে বিবেচনা করছেন না তিনি। তিনি একে শৌখিনতা এবং ভালোলাগার বিষয় হিসেবে বিবেচনা করছেন।

    আমাদের দেশে রয়েছে ভূমি সংকট দিন দিন গ্রামের চাষের জমি নষ্ট করে তৈরি করা হচ্ছে বাসের জন্য বাসস্থান। নগরায়ন দ্রুত বাড়ছে ফলে এক সময় এভাবে চলতে থাকলে আমরা খাদ্য সংকটে পড়ব। বিষয়টির কথা মাথায় রেখে যার যার নিজ নিজ অবস্থান থেকে কিছুটা হলেও সবজি কিংবা ফসল চাষের পরিকল্পনা নিলে সেটা পরিবেশ বিপর্যয় এবং খাদ্য সংকটের মোকাবেলায় বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।

     

    হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে তরমুজ চাষঃ 



    watermelonমাটিবিহীন বা হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে তরমুজের আবাদ করে সফলতা পেয়েছেন পটুয়াখালী আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণাকেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মাটি ছাড়াই পাইপে সংরক্ষিত পানিতে প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান তরল আকারে প্রয়োগ করে এ পদ্ধতিতে পরিচ্ছন্ন পরিবেশে সারা বছর তরমুজ উৎপাদন করা সম্ভব। এ ছাড়া শহরে বাড়ির আঙিনায় কিংবা ছাদে যোগ হতে পারে নতুন মাত্রার এ প্রযুক্তি।
    পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক ঘেঁষে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পটুয়াখালী আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণাকেন্দ্র। সরেজমিন দেখা যায়, কেন্দ্রের এক কোণে পরীক্ষামূলকভাবে হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে তরমুজের আবাদ করা হয়েছে। ২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থের এই বাগান দেখতে ভিড় করছেন লোকজন। প্লাস্টিকের পাইপে ছিদ্র করে ১৪০টি তরমুজের চারা রোপণ করার পর এখন স্বাভাবিক নিয়মে ফলন এসে গাছে ঝুলে বড় হচ্ছে তরমুজ।
    খুব আগ্রহ নিয়ে বাগানটি দেখছিলেন এলাকার কৃষক ছোবাহান আকন। তিনি বলেন, ‘বাড়ির আঙিনায় কীভাবে এ রকম একটি তরমুজের বাগান করব, তা দেখছি। এখানকার কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় পরামর্শসহ সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন।’
    কেন্দ্রের ল্যাব সহকারী মো. বেল্লাল বলেন, এ বছর আগস্ট মাসে স্থানীয় বাজার থেকে হাইব্রিড তরমুজের বীজ কিনে চারা করা হয়। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাগানের প্লাস্টিকের পাইপের ছিদ্রে চারা রোপণ করা হয়। অক্টোবরের মাঝামাঝি ফল আসতে থাকে। তিনি বলেন, চারা রোপণের পর প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান, যেমন পটাশিয়াম হাইড্রোজেন ফসফেট, পটাশিয়াম নাইট্রেট, ক্যালসিয়াম নাইট্রেট, ম্যাগনেশিয়াম সালফেট, ইডিটিএ আয়রন, ম্যাংগানিজ সালফেট, বরিক অ্যাসিড, কপার সালফেট, অ্যামোনিয়াম মলিবডেট ও জিংক সালফেট বিশুদ্ধ পানিতে মিশিয়ে ওই পাইপে নিয়মিত সরবরাহ করে ফসল উৎপাদন করা হয়।
    মো. বেল্লাল বলেন, তরমুজের জীবনকাল আড়াই মাস। পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা তাঁদের এই বাগান থেকে তরমুজ উৎপাদন ডিসেম্বরের মাঝামাঝি শেষ হবে। জানুয়ারি মাসে আবার নতুন করে আরও বড় বাগান করার পরিকল্পনা রয়েছে। খরচ সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রথমে খরচ একটু বেশি হয়। কারণ, প্লাস্টিকের পাইপ কিনে তা ছিদ্র করে চারা রোপণ করতে হয়। এরপর থেকে খরচ কমে যায়। এই বাগানে তাঁদের ৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতিমধ্যে ১০০টি তরমুজ বাগান থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিটি তরমুজের ওজন ১ কেজি থেকে ২ কেজি হবে। সুস্বাদু এ তরমুজ যদি ১০০ টাকা কেজি হয়, তাহলে ১০০টি তরমুজ কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা দাম হবে। এ ছাড়া এখনো গাছে ৩০টির মতো তরমুজ বড় হচ্ছে।
    কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার বলেন, হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে এর আগে টমেটো, মরিচ, করলা ও মিষ্টি মরিচের আবাদ করে ব্যাপক সাফল্যে আসে। তবে তরমুজে সাফল্য এই প্রথম। এ পদ্ধতিতে আবাদি জমির প্রয়োজন হয় না, অনাবাদি জমিও চাষের আওতায় আনা যায়। আলাদাভাবে সার ও সেচের প্রয়োজন নেই, মাটিবাহিত কিংবা কৃমিজনিত কোনো রোগ হয় না। তা ছাড়া নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চাষ হয়, বিধায় কীটপতঙ্গের আক্রমণ কম। ফলে কীটনাশক ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় না।

    Friday, July 14, 2017

    টবে পুদিনা পাতার চাষ, ব্রোকলি , ঢেঁড়শ , লেটুস , ধনেপাতার , সবজি , জামরুল চাষ

  • Share The Gag
  • টবে পুদিনা পাতার চাষ, ব্রোকলি , ঢেঁড়শ , লেটুস , ধনেপাতার , সবজি , জামরুল চাষ

     

    হঠাৎ করে কিনে শাড়ি-জামা পরা যায়, গাছ লাগানো যায় না। লাগানোর অন্তত দু-তিন সপ্তাহ আগে থেকে ভাবতে হয়, সে অনুযায়ী গর্ত করে গর্তে সার-মাটি ভরে রাখতে হয়। ছাদে বাগান এখন অনেকেই করছেন। তথ্য মতে, ঢাকায় প্রায় দেড় হাজার ছাদ বাগান রয়েছে। সেসব বাগানে নানা রকম ফল, ফুল ও বাহারি গাছ শোভা পাচ্ছে। তবে ছাদে লাগানোর জন্য ফুল ও বাহারি গাছের চেয়ে ফল ও সবজি লাগানো ভালো। বাজার থেকে যেসব ফল কিনছেন তা নানা রকম ক্ষতিকর রাসায়নিক দিয়ে পাকানো, যে সবজি কিনছেন তাতে পোকা মারার বিষ দেয়া। তাই ওতে স্বাস্খ্যঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। তাছাড়া ফল ও সবজি গাছ থেকে তোলার পরই তার ভিটামিন কমতে থাকে। তাই বিষমুক্ত টাটকা ফল ও সবজি পেতে হলে নিজের আঙিনাতেই একটা ছোট্ট বাগান গড়ে তুলতে হবে। বাড়িতে কোথাও ফাঁকা জায়গা না থাকলে খোলা ছাদটাকে এ কাজে ব্যবহার করতে পারেন। তাই ঝটপট পরিকল্পনা করে ফেলুন, এবার ছাদে কী কী গাছ লাগাবেন। ছাদে ভালো হয় এমন ফলের মধ্যে নানা জাতের জামরুল, করমচা, পেয়ারা, কাগজী লেবু, আম্রপালি আম, বারি আম ৪, ডালিম, কামরাঙ্গা, হাইব্রিড জলপাই, বাউকুল ও আপেল কুল, স্ট্রবেরি ইত্যাদি অন্যতম। এ বছর না হয় এ ১০টি ফল দিয়েই শুরু করুন আপনার ছাদে ফলবাগানের যাত্রা। শুরুটা হোক নানা জাতের রূপবতী জামরুল দিয়ে।
    জামরুলের আদি বাসভূমি আন্দামান-নিকোবর হলেও এখন আমাদের দেশী ফলে পরিণত হয়েছে। কাঁচাপাকা সব অবস্খাতেই জামরুল খাওয়া যায়। মৌসুমে জামরুল গাছে কয়েক দফায় জামরুল ধরে। ফলের গড়ন অনেকটা নাশপাতির মতো, সাদা মোমের মতো। তবে আজকাল লাল, সবুজ নানা রঙের জামরুলের জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। দেশী ছোট জাতের পানসে জামরুলের পাশাপাশি এখন দেশে এসেছে মিষ্টি ও বড় বড় জাতের জামরুল।
    সম্প্রতি দেশে এসেছে নতুন কিছু জামরুলের জাত। যেগুলো আকারে বড়, স্বাদেও মিষ্টি। থাইল্যান্ড থেকে এসব জাতের জামরুল এসেছে বলে একে সবাই বলছে থাই জামরুল।

    জাত বাছাই দেশী জামরুল:
    ফল আকারে ছোট, স্বাদে পানসে। তবে ফল ঝরে কম। দেশী জাতের জামরুলের বেশ কয়েক রঙের জামরুল দেখা যায়। লাল, গোলাপি, গোলাপি সবুজ ইত্যাদি রঙে দেশী জামরুলের কয়েকটি রকম আছে। গাছ বড় হওয়ায় ছাদে না লাগানোই ভালো।

    থাই জামরুল:
    থাই ভাষায় ছেম ফু পা, ফিলিপাইনে টামবিস, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় জামবু এয়ার নামের জামরুল বাংলাদেশে এসে হয়েছে থাই জামরুল। এ দেশে এখন কয়েক জাতের থাই জামরুল দেখা যাচ্ছে। এক জাতের থাই জামরুলের রঙ মোমের মতো সাদা, কিন্ত মুখের কাছে গোলাপি আভা। অন্য এক জাতের থাই জামরুলের রঙ সবুজাভ সাদা, অন্যটির রঙ দুধের মতো সাদা। আবার আরেক জাত আছে যেটার ফলের ওপর সাদা লম্বালম্বিভাবে গোলাপি আঁচড় আছে। আবার বড় লাল ফলও রয়েছে থাই জামরুলের। আছে ছোট থেকে বড় বিভিন্ন আকার। লাল রঙের থাই জামরুলের আকার তুলনামূলকভাবে ছোট। তবে সব জাতের সেরা বড় আকারে সাদা রঙের মিষ্টি থাই জামরুল। দশটিতে কেজি হয়। স্বাদে বেশ রসাল, নরম। গ্রীষ্মের প্রথম থেকে ফল ধরতে শুরু কর্ বর্ষাতেও ফল ধরে। বছরে দু-তিন দফায় ফল ধরে। তবে বর্ষার জামরুলের স্বাদ কম হয়। ফল গাছে বেশি পাকলে স্বাদ কমে যায়, চেহারা নষ্ট হয়ে যায় ও পচতে শুরু করে। বেশি বৃষ্টিতেও থাই জামরুলের ক্ষতি হয়।

    রোজ অ্যাপেল:
    থাই জামরুলের মধ্যে ‘রোজ আপেল’ সেরা। বছরে দু’বার ফল ধরে। ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে একবার, এপ্রিল-মে মাসে আরেকবার। ফল আকারে খুব বড়। পাঁচ-ছ’টা জামরুলে এক কেজি হয়। ভেতরে পুরোটাই শাঁস। অত্যধিক মিষ্টি, শাঁসে চিনি বা সুগারের পরিমাণ প্রায় ২৫%। রঙ টকটকে লাল। অন্য জামরুল যেমন পাকার পর পরই গাছ থেকে ঝরে পড়ে, এটা তেমন নয়।

    আপেল জামরুল (বারি জামরুল ১):
    বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত এ জাতটির গাছে নিয়মিত প্রতি বছর ফল ধরে। এ জাতের পাকা ফল দেখতে আকর্ষণীয়। ফলের রঙ মেরুণ বলে অনেকে একে আপেল জামরুল নামেও ডাকেন। খেতে সুস্বাদু, মধ্যম রসালো। ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে ফুল আসে এবং এপ্রিল-মে মাসে ফল পাকে। ফল বড়, প্রতিটি ফলের ওজন ৩৫ গ্রাম। এ জাতটি ছাদে ড্রামে লাগানোর জন্য বাছাই করতে পারেন।

    চাষ পদ্ধতি:
    আধুনিক জাতের জামরুলের গাছ হয় ঝোঁপালো ও খাটো। তাই এসব জাতের গাছ ছাদে হাফ ড্রামে লাগানো যেতে পারে। তবে বাড়ির আঙিনায় জায়গা থাকলে টব বা ড্রামের চেয়ে মাটিতে লাগানো ভালো। হাফ ড্রামে মে মাসের মধ্যেই দোঁয়াশ মাটি অর্ধেক ও অর্ধেক গোবর বা জৈব সার মিশিয়ে ভরতে হবে। সাথে প্রতিটি হাফ ড্রামে ১ কেজি কাঠের ছাই ও ৫০০ গ্রাম হাঁড়ের গুঁড়া, ২৫০ গ্রাম টিএসপি, ১৫০ গ্রাম এমওপি এবং ৫০ গ্রাম বোরণ সার মিশিয়ে দেবেন। তবে ড্রামের ওপরের কানা থেকে অন্তত দু ইঞ্চি খালি রেখে সারমাটি ভরবেন।
    মাটিতে লাগানো গাছ বাড়ে বেশি। একাধিক কলম লাগালে একটি কলম থেকে অন্য কলমর দূরত্ব দিতে হবে ৩-৪ মিটার। তবে বাগান করতে চাইলে সব দিকে সমান দূরত্ব দিয়ে কলম লাগাতে হবে। জুন-জুলাই মাস কলম রোপণের মোক্ষম সময়। নির্দিষ্ট জায়গায় সব দিকে আধা মিটার মাপ দিয়ে গর্ত করতে হবে। গর্তের মাটির সাথে মিশাতে হবে গর্ত প্রতি ১৫ কেজি গোবর সার, ১ কেজি কাঠের ছাই ও ৫০০ গ্রাম হাঁড়ের গুঁড়া। গর্তের মাঝখানে কলম লাগিয়ে গোড়ার মাটি চেপে দিতে হবে। কাঠি পুঁতে ঠেস দিতে হবে। লাগানোর পর হালকা সেচ ও শুকানোর সময় সেচ দিতে হবে। ছোট গাছে ও ফলবান গাছে প্রতি বর্ষার আগে রাসায়নিক সার দিলে উপকার পাওয়া যায়। ফলবান প্রতিটি গাছে বছরে ১০ কেজি গোবর সারের সাথে ৫০০ গ্রাম সরিষার খৈল, ১ কেজি ইউরিয়া, ৫০০ গ্রাম এমওপি ও ৫০০ গ্রাম টিএসপি সার গোড়া থেকে একটু দূরে চার দিকের মাটি নিড়িয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। এসব ঝামেলা মনে হলে ছাদ বাগানে ড্রামের গাছে গাছ প্রতি ৪-৮টি ট্যাবলেট সার গাছের গোড়ার মাটিতে পুঁতে দিয়ে বছর ভর উপকার পেতে পারেন।
    টবে পুদিনা পাতার চাষ
    ঘরের ভেতর পুদিনা পাতার চাষ

    ছাদে বাগান : প্রারম্ভে করনীয়

    বর্তমানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বাড়ির ছাদে বাগান করা বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অধিকাংশ বাড়ির ছাদের দিকে তাকালেই বিভিন্ন ধরনের বাগান দেখা যায়। অবশ্য রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরের ছাদে যেসব বাগান দেখা যায় তার অধিকাংশই অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। পরিকল্পিতভাবে উদ্যোগ নেয়া হলে বাড়ির ছাদে যেকোন গাছ, এমনকি শাকসবজিও ফলানো সম্ভব। আঙুর, বেদানা, ডালিম, আমড়া, পেয়ারা ইত্যাদি নান ধরনের মৌসুমী ফল ছাড়াও কলমি শাক, কলা, ডাঁটা, লাউ ইত্যাদি অনায়াসে উৎপাদন করা যায়। কোন গাছের জন্য কি ধরনের মাটি উপযোগী তা নিশ্চিত হয়ে ছাদে বাগান করলে ভাল হয়। এ ছাড়া বেশি রোদ বা গরম সহ্য করতে পারে এমন গাছই ছাদে বপন করা উত্তম। ছাদে বাগান করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে নিয়মিত পানি সেচ দেয়া। কারণ, বাগানের গাছগুলো যেহেতু সাধারণ মাটির সংস্পর্শ হতে দূরে থাকে তাই নিয়মিত পানি সেচ না দিলে গাছগুলো যেকোন সময় মারা যেতে পারে। সাধারণত দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটিতে গাছ ভাল জন্মে। ছাদে বাগান করতে হলে এ ধরনের মাটি ব্যবহার করলে ভাল হয়।

    শখ করে আমাদের দেশে ছাদে বাগান করার প্রথা শুরু হলেও এখন রীতিমত অর্থনৈতিক খাত হিসেবে চিহ্নিত। অনেকেই আছে যারা বাড়ির ছাদে বাগান করে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে।

    ছাদে বাগান করতে হলে প্রতিদিন সকাল-বিকাল গাছে পানি দিতে হবে। গাছের গোড়ায় যাতে পানি না জমে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া মাটির ধরণ জেনে বাগান করলে ছাদে যেকোন ধরনের গাছই জন্মানো সম্ভব। ৪-৫ কাঠা জমির উপর বাড়ির ছাদে পরিকল্পিতভাবে বাগান করলে পরিবারের চাহিদা পূরণ করেও বছরে বিক্রি কর যায় ৪০-৫০ হাজার টাকা।

    ইচ্ছে করলেই শহরবাসী ফলের বাগান বা সবজি বাগান করতে জমি পান না। তাই বিকল্প উপায় বের করে আবাদি জমি নষ্ট না করে ছাদকে কাজে লাগিয়ে বাগান করা যায়। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বিকল্প আয়ের উৎস হতে পারে এই ছাদে বাগান যা পরিবারকে করবে স্বচ্ছল।
    ছাদে বাগান: বিস্তারিত তথ্য

    বিশাল বাংলার জমিন যেমন বিস্তৃত, তেমনি লাখোকোটি দালান ঘরের ছাদও অবারিত বিস্তৃত। যদিও বাংলার জমিন এখনো যথোপোযুক্তভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। সেখানে ছাদের কথা তো আরও পরে আসে। কিন্তু এ দেশের কিছু আগ্রহী ব্যক্তিবর্গ আছেন যারা ব্যক্তিগত আগ্রহ আর উদ্যোগে ছাদে বাগান করেন শখের বসে। বিনিয়োগের যেমন হিসাব থাকে না, তেমনি প্রাপ্তির হিসেবেও তেমনভাবে করা হয় না শখের ছাদের বাগানে। অথচ সামান্য আন্তরিকতা আর সুষ্ঠ পরিকল্পনার মাধ্যমে এ প্রতিশ্রুতিশীল দিকটাকে অনেকদূর নিয়ে যেতে পারি। ছাদে বাগান করে ছাদের সৌন্দর্য যেমন বাড়ে, তার সাথে জায়গাটুকু ব্যবহার করে পরিবারের ফুল, শাকসবজি ও ফলের চাহিদা যথাযথভাবে মেটানো যায়। শুধু কি তাই পরিকল্পিতভাবে ছাদে বাগান করে বাড়তি আয়ও করা যায়। সর্বোপরি ছাদের বাগানে পরিবারের অবসরপ্রাপ্ত আগ্রহী লোকগুলো দারুণভাবে সময় কাটাতে পারেন। সময়ের সদ্ব্যবহার করতে পারেন।

    বাগান পদ্ধতি ছাদে বাগান দু'ভাগে করা যায়। যেমন কাঠ বা লোহার ফ্রেমে এঁটে বেড তৈরি করে এবং অন্যটি হলো টব, ড্রাম, পট কনটেইনার এসব ব্যবহার করে। প্রথম ক্ষেত্রে পুরো ছাদ বা ছাদের অংশবিশেষ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কার্নিশের পার্শ্বে বা আলাদা ফ্রেম করে সুন্দরভাবে ডিজাইন করে সেটিং করা যায়। এ ক্ষেত্রে জল ছাদের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। জল ছাদ না থাকলে আলাকাতরার প্রলেপ দিয়ে তার ওপর মোটা পলিথিন বিছিয়ে তার ওপর মাটি দিতে হবে। মনে রাখতে হবে মাটির পুরুত্ব যত বেশি হবে। অন্তত দু'ফুট পুরু মাটির স্তর থাকতে হবে। তবে যত বেশি তত ভালো। অতিরিক্ত পানি, সার পাবার সুষ্ঠু পথ রাখতে হবে। পরবর্তীতে প্রয়েঅজনীয় পরিমাণ রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হবে। ফ্রেম তৈরির ক্ষেত্রে কাঠ, লোহা, স্টিল, মোটা রবার এসব ব্যবহার করা যায়। তবে যা কিছু দিয়ে বা যে ভাবেই বেড তৈরি হোক না কেন ৩/৪ বছর পর পুরো বেড ভেঙ্গে নতুন করে তৈরি করতে হবে। এতে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। ছাদে বাগানের জন্য শুরুতেই যদি মাটিকে ফরমালডিহাইড দিয়ে (প্রতি লিটার পানির সাথে ১০০ মিলিলিটার ফরমালডিহাইড) শোধন করে নেয়া যায় মাটি শোধনের কৌশল হলে প্রয়োজন অনুযায়ী মাটি নিয়ে বর্ণিত মাত্রায় ফরমালডিহাইড মিশ্রিত পানি মাটিতে ছিটিয়ে দিয়ে পুরো মাটিকে মোটা পলিথিন দিয়ে ৩/৪ দিন ঢেকে রাখতে হবে। পরে পলিথিন উঠিয়ে সূর্যের আলোর তাপে খুলে রাখতে হবে পরবর্তী ৩/৪ দিন পর্যন্ত। ফরমালিনের গন্ধ শেষ হয়ে গেলেই মাটি ব্যবহারের উপযোগী হবে। দ্বিতীয় পদ্ধতির মধ্যে আছে ড্রাম, বালতি, টব, কনটেইনার এসবের যেকোন একটি বা দুটি নির্বাচন করার পর পাত্রের তলায় কিছু পরিমাণ খোয়া (ইট পাথরের কণা) দিতে হবে। ইটের খোয়া পানি নিষ্কাশন এবং অতিরিক্ত পানি বের করে দেয়া এবং পাত্রের ভেতরে বাতাস চলাচলের সহায়তা করে। এ ক্ষেত্রেও অর্ধেক মাটি এবং অর্দেক পঁচা জৈব সারের মিশ্রণ হতে হবে। মনে রাখতে হবে, শাক-সবজি, ফুলের জন্য ছোট খাট টব বা পাত্র হলেও চলে। কিন্তু ফলের ক্ষেত্রে পাত্র/ড্রাম যত বড় হয় তত ভালো। কেননা আমাদের বুঝতে হবে ফল গাছের শেকড় প্রকৃতিতভাবে বেশ গভীরে যায়। কিন্তু ড্রাম/টব/পাত্রের সীমিত জায়গার অভাবে যথাযথভাবে বিস্তৃতি লাভ করতে পারে না। সে জন্য ছাদের বাগানে টব/ড্রামের আকার যত বড় হয় তত ভালো হয়। টবে/ড্রামে গাছে/ জাত নির্বাচনের পর য়ৌক্তিকভাবে সাজাতে হবে। যেমন বড় গাছ পূর্ব ও দক্ষিন পাশে না দিয়ে পশ্চিম ও উত্তর পাশে দিতে হবে। এতে আলো বাতাস রোদ ভালোভাবে পাবে। তাছাড়া ছোট বড় জাতের মিশ্রণ করে সেটিং করলে গাছের গাত্র বৃদ্ধিসহ বাড় বাড়তি ভালো হয়। আরেকটি জরুরি কথা হলো ছাদে বাগাপন করার ক্সেত্রে ফল চাষাবাদে কলমের এবং হাইব্রিড জাতের ব্যবহার বেশি ফলদায়ক।

    তৃতীয় আরেকটি পদ্ধতি অনেকেই অনুসরণ করে। সুন্দরভাবে বাঁশ/পিলার রড দিয়ে জাংলো বা মাচা বানিয়ে পব/প্লাস্টিকের পাত্রে ফুল, বাহারী গাছ গাছালী, অর্কিড আবাদ করে থাকেন। এক্ষেত্রে ঝুলন্ত টব/পাত্র মাঝখানে না ঝুলিয়ে পাশে ডিজাইন করে সেটিং করলে জায়গার সদ্ব্যবহার করা যায়, দেখতেও সুন্দর লাগে।

    যেভাবে করবেন মাটি তো নেই, বিশেষ করে ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরে যাঁরা বাস করেন, তাঁদের। কিন্তু গাছ তো দরকার। তাই শেষ ভরসা বাড়ির ছাদ। সেখানেই ফুল, সেখানেই ফল। পৃথিবীর অনেক দেশে এখন ছাদে বাগান করা সে দেশের সিটি করপোরেশনের বাধ্যতামূলক আইন। শহরের ইট-পাথর যেন সবুজের স্পর্শ পায়, আমাদের দেশে সেসবের বালাই নেই। ব্যক্তি উদ্যোগে দুই-একটা ছাদ বাগান হয়েছে। কিন্তু নির্মল পরিবেশের জন্য যা খুবই কম। ছাদে বাগান আর মাটিতে বাগান এক বিষয় নয়, আবার কাজটি যে কঠিন, তাও নয়। জানা দরকার, ছাদের উপযোগী গাছ কোনগুলো। গাছের প্রজাতির ওপর নির্ভর করে ওই গাছটি ছাদ-বাগানের জন্য তা হাফ ড্রাম, টব নাকি চৌবাচ্চা কাঠামো করে লাগানো হবে এবং এসব গাছের জন্য পরিচর্যার ধরন কী হবে, তা আগেই ঠিক করে নিতে হবে। খোলামেলা ছাদ থাকলেই হলো। স্থায়ী বাগান করার জন্য ছাদে সিমেন্টের স্থায়ী টব তৈরি করে নেওয়া যেতে পারে। গরুর নান্দার মতো বাজারে সিমেন্টের টব কিনতে পাওয়া যায়। সবচেয়ে উত্তম হয় লোহার হাফ ব্যারেল হলে। ব্যারেলের দুই পাশে হাতল থাকতে হবে। এর সুবিধা হচ্ছে টবটি এক স্থান থেকে আরেক স্থানে সরানো যাবে। টবের নিচে ছিদ্র থাকা জরুরি। কয়েকটি ভাঙা চাড়ি ছিদ্রের মুখে দিয়ে মাটি ভরতে হবে। তিন ভাগ মাটি, দুই ভাগ গোবর সার আর এক ভাগ পাতা পচা সার দিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে টব পূর্ণ করুন। বর্ষার আগে আগে টবে চারা কলম লাগাতে হবে। এই টবে ফুল, ফল, সবজির চাষ করা যেতে পারে। ফুলের মধ্যে গোলাপ, গাঁদা, দোলনচাঁপা, ডালিয়া, চন্দ্রমলি্লকা, ইউফোরবিয়াসহ মৌসুমি সব ফুলেরই চাষ করা সম্ভব। ছাদ বাগানে সবজিও ফলতে পারে। বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মরিচ, শসা, লাউ, কুমড়া, ঢেঁড়স, বরবটি, সিম, ক্যাপসিকাম, লেটুসপাতা, পুদিনাপাতা, ধনেপাতাসহ প্রায় সব ধরনের সবজি টবে ফলানো সম্ভব। ফলের মধ্যে আম, জাম, লিচু, শরিফা, সফেদা, কামরাঙ্গা, বাতাবিলেবু, জলপাই, কদবেল, ডালিম, পেয়ারা, কমলা, মালটা, কুল ছাদ বাগানকে আকর্ষণীয়, অনন্য করে তুলতে পারে। আজকাল অনেকেই ছাদ বাগান করার জন্য এগিয়ে আসছেন। তবে ছাদে ফল গাছ লাগানোর প্রবণতা বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে। ছোট একটি টবে ফল ধরলে যেমন দেখতে সুন্দর লাগে, তেমনি ছাদে প্রচুর পরিমাণ রোদ লাগে বলে ফলও ভালো হয়।

    ছাদে কি কি গাছ লাগাবেন : ছাদে বাগান করার সময় লক্ষ রাখতে হবে যেন গাছটি বড় আকারের না হয়। অর্থাৎ ছোট আকারের গাছ লাগাতে হবে এবং ছোট আকারের গাছে যেন বেশি ফল ধরে সে জন্য হাইব্রিড জাতের ফলদ গাছ লাগানো যেতে পারে। আম্রপালি ও মলি্লকা জাতের আম, পেয়ারা, আপেল কুল, জলপাই, করমচা, শরিফা, আতা, আমড়া, লেবু, ডালিম, পেঁপে, এমনকি কলা গাছও লাগানো যাবে। ছাদ বাগানের প্রথম শর্ত হচ্ছে, গাছ বাছাই। জেনে, বুঝে, বিশ্বস্ত নার্সারি, বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে গাছ সংগ্রহ করতে হবে। বেঁটে প্রজাতির অতিদ্রুত বর্ধনশীল ও ফল প্রদানকারী গাছই ছাদ বাগানের জন্য উত্তম। বীজের চারা নয়, কলমের চারা লাগালে অতিদ্রুত ফল পাওয়া যায়। আজকাল বিভিন্ন ফলের গুটি কলম, চোখ কলম ও জোড় কলম পাওয়া যাচ্ছে। ছাদ বাগানের জন্য এসব কলমের চারা সংগ্রহ করতে পারলে ভালো হয়। টবে আমের মধ্যে আম্রপালি, আলফানসো, বেঁটে প্রজাতির বারোমেসে, লতা, ফিলিপাইনের সুপার সুইট, রাঙ্গু আই চাষ করা যেতে পারে। লেবুর মধ্যে কাগজিলেবু, কমলা, মালটা, নারকেলি লেবু, কামকোয়াট, ইরানিলেবু, বাতাবিলেবু (অ্যাসেম্বল) টবে খুবই ভালো হয়। এ ছাড়া কলমের জলপাই, থাইল্যান্ডের মিষ্টি জলপাই, কলমের শরিফা, কলমের কদবেল, ডালিম, স্ট্রবেরি, বাউকুল, আপেলকুল, নারিকেলকুল, লিচু, থাইল্যান্ডের লাল জামরুল, গ্রিন ড্রপ জামরুল, আপেল জামরুল, আঙ্গুর পেয়ারা, থাই পেয়ারা, ফলসা, খুদে জাম, আঁশফল, জোড় কলমের কামরাঙা, এমনকি ক্যারালা ড্রফ প্রজাতির নারিকেলের চাষ করা যেতে পারে। সঠিক মানের চারা হলে এক বছরের মধ্যেই ফল আসে। আজকাল বিদেশ থেকে উন্নত মানের কিছু চারা কলম দেশে আসছে। ছাদ বাগানের সাধ পূরণ করার জন্য এসব সংগ্রহ করে লাগাতে পারেন। বাহারি পাতার জামরুল, পেয়ারা, সফেদা গাছও বিভিন্ন নার্সারিতে এখন কিনতে পাওয়া যাচ্ছে। ছাদে এসব গাছ লাগানো হলে ছাদ বাগানের সৌন্দার্য বৃদ্ধি পায়।

    টব : দরকারমতো সহজেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরানো যায়। ছাদে টবে গাছ লাগানো অনেকেই পছন্দ করেন। টবে সার-মাটি দেওয়া খুব সহজ। আজকাল অনেকেই পোড়ামাটি এবং প্লাস্টিকের টব ব্যবহার করেন। আবার টবের গায়ে রং দিয়ে সৌন্দর্য বাড়ানো যায়। টবে গাছ লাগানোর সময় মনে রাখতে হবে যেন ওই গাছ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টবের অল্প মাটিতে ওই গাছের খাদ্যপুষ্টি থাকে।

    হাফ ড্রাম : বড় আকারের ড্রামের মাঝামাঝি কেটে দুই টুকরো করে বড় দুটি টব তৈরি করা যায়। বড় জাতের এবং ফলের গাছের জন্য হাফ ড্রাম ভালো। এগুলো সরাসরি ছাদের ওপর না বসিয়ে কয়েকটি টুকরো ইটের ওপর বসানো দরকার। অনেকে মনে করেন, ছাদের ওপর হাফ ড্রাম রাখলে ছাদের ক্ষতি হয়। এ ধারণা সঠিক নয়।

    চৌবাচ্চা : ছাদে এক থেকে দেড় ফুট উঁচু এবং তিন থেকে চারটি পিলারের ওপর পানির ট্যাঙ্ক বা চৌবাচ্চা আকারের রিং স্লাব বসিয়ে ইটের টুকরো এবং সিমেন্টের ঢালাই দিয়ে স্থায়ী চৌবাচ্চা তৈরি করা যায়। এই ধরনের চৌবাচ্চায় মাছ এবং জলজ উদ্ভিদ চাষ করে ছাদের পরিবেশ সুন্দর রাখা যায় সহজেই।

    স্থায়ী বেড পদ্ধতি : ছাদের কোনো অংশে স্থায়ী বাগান করতে চাইলে সুবিধামতো আকারের স্থায়ী বেড তৈরি করা যায়। তবে চার ফুট দৈর্ঘ্য, চার ফুট প্রস্থ এবং দুই ফুট উচ্চতার বেড তৈরি করা ভালো। এ ধরনের বেড তৈরি করতে নিচে পুরু পলিথিন দিয়ে ঢালাই করলে ছাদ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

    টবের টিপস : ফুল কিংবা ফল গাছ যাই হোক না কেন, টব ব্যবহার করার সময় লক্ষ রাখতে হবে, গাছের আকার কত বড় হবে। সেই মতো টবের আকার নির্ধারণ করা দরকার। পানি গড়িয়ে যাওয়ার জন্য টবের নিচে ছিদ্র থাকতে হবে। ছিদ্রের ওপর নারকেলের ছোবড়া বা ইটের টুকরো দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। টবে ব্যবহারের আগে টবে ব্যবহার করা ছোবড়া বা ইটের টুকরো ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। গরম পানিতে ধুয়ে নিতে পারলে ভালো। যে গাছের চারা লাগানো হবে তা সাধারণ পানিতে ধুয়ে নিতে হবে। এর ফলে রোগের সংক্রমণ অনেক কমে যায়। চারা কেনার সময় অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের চারা সংগ্রহ করা দরকার। গাছ বড় হলে প্রয়োজনে বড় টবে সাবধানে চারা স্থানান্তর করে নেওয়া যায়। তবে টব ভেঙে চারা গাছ বের করা যাবে না। মনে রাখতে হবে, চারা গাছটি যেন কোনোভাবেই আঘাত না পায়।

    টবের সার-মাটি : টবের গাছের খাদ্যপুষ্টি চাহিদা মেটানোর জন্য মাটিতে দরকারি সার মেশাতে হবে। মাটি, গোবর সার, কম্পোস্ট, পচা পাতা, পরিমাণমতো রাসায়নিক সার মেশাতে হবে। শুকনো দূর্বা ঘাস টবের মাটির মাঝামাঝি দিয়ে তার ওপরে মাটি দিয়ে চারা গাছ লাগানো ভালো।

    গাছ বা চারা নির্বাচন ছাদে বাগান যতটা না বাণিজ্যিক তার চেয়ে বেশি নান্দনিক এবং শখের। উদ্দেশ্য যাই থাক জাত নির্বাচনে সতর্ক সচেতন হওয়া জরুরি। মনে রাখতে হবে সাধারণ জমিতে যে ভাবে চাষ বাস করা যায় ছাদে সে ভাবে করা যায় না। গাছ সাধারণভাবে তাদের বাড় বাড়তির জন্য তেমন জায়গা পায়না। সেজন্য অতিরিক্ত যত্ম সেবা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষভাবে সর্তক থাকতে হবে। মনে রাখা দরকার ছাদের বাগানে কখনো ঝোপ/ঝাড়/বাঁশ টাইপের কোন বড় গাছ/জাত লাগানো যাবে না। এতে হিতের বীপরিত হয়ে যাবে। লেবু, পেয়ারা, আম, জামরুল, ডালিম, আমড়া, লিচু, কামরাঙ্গা, জলপাই, করমচা এসব ফল বেশী উপযোগী। ফলের ক্ষেত্রে হাইব্রিড বা দেশীয় যে কোন জাত থাকনা কেন কেন কলমের চারা ব্যবহার করা বেশি ভালো। এতে নানন্দিকতা ভালোভাবে রক্ষা পায়, কম জায়গা খরচ হয়। ফুল এবং সবজির ক্ষেত্রে জাতের কোন বালাই নেই। কেননা ফুল এবং সবজি কখনো বেশি জায়গা নেয় না। আমাদের দেশের প্রচলিত জাতের ফুল, শাকসবজির সবটাই সহজে উৎপাদন করা সম্ভব। বাড়ির বারান্দায় মালতি লতা, দোপাটি, হাসনাহেনা। উঠোনে লাউয়ের মাচা, ঘি কাঞ্চন মরিচ। একটু দূরেই ডালিম, প্রবীণ আম বৃক্ষ। এসব স্মৃতি হয়ে গেছে। স্মৃতি হয়ে গেছে দলিজ ঘরের বারান্দার বাগান, নিকানো উঠোন। কংক্রিটের দেয়াল, বহুতল ভবন ওইসব স্মৃতি গিলে খেয়েছে। নগর সভ্যতায় হারিয়ে যাচ্ছে মাটি। হারিয়ে যাচ্ছে সবুজ। তারপরও অনেকে বাগান করার স্বপ্ন দেখেন। জানালায় ঝুলিয়ে দেন মানিপ্লান্টের লতা। তবে স্বপ্ন থাকলে, ইচ্ছা থাকলে কংক্রিটের দালানকোঠার মধ্যেও বাগান করা সম্ভব। ফিরিয়ে আনা সম্ভব শৈশবের স্মৃতিঘেরা সেই হারানো লতা, ফুলের খশবু। ছাদে বাগান করে ফুল, ফল, সবজির সব স্বাদই পূরণ করা সম্ভব। এর জন্য প্রথম প্রয়োজন ইচ্ছাশক্তি আর বাগানের প্রতি প্রেম।

    যত্ম সেবা যেহেতু সীমিত আকারে সীমিত জায়গায় উৎপাদন করা হয় সেজন্য অতিরিক্ত যত্ম সেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং বিভিন্ন পরিচর্যায় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। কেননা সার কমবেশি হলে, গাছের সাথে লেগে গেলে গাছ মরে যাবে, পরিমাণ মতো না হলে অপুষ্টিতে ভুগবে।
    টবের ক্ষেত্রে ছোট গাছ বড় হলে পট/টব বদল, ডিপটিং (পুরানো টবকে আলতো করে মাটিতে শুইয়ে গড়াগড়ি দিলে গাছটি টব থেকে বেড়িয়ে আসবে। পরে অতিরিক্ত মূল কেটে মাটি বদলিয়ে সার প্রয়োগসহ নতুনভাবে গাছ বসানো) করতে হবে সময়মতো। বছরে অন্তত একবার পুরাতন মাটি বদলিয়ে নতুন মাটি জৈব সারসহ দিতে হবে। ইদানিং বাজারে টবের মাটি কিনতে পাওয়া যায়। মানসম্মত মাটি কিনে টবে/পটে/ড্রামে ভরতে হবে।
    খুব সাবধানতার সাথে টব/পটে/ড্রামে/চারা/কলম/বীজ লাগাতে হবে। ঠিক মাঝখানে পরিমাণ মতো মাটির নিচে রোপন করতে হবে। চারা বা কলমের সাথে লাগানো মাটির বল যেন না ভাঙ্গে সেদিকে নজর রাখতে হবে। চারা বা কলমের ক্ষেত্রে বীজতলা/নার্সারিতে যতটুকু নিচে বা মাটির সমানে ছিল ততটুকু সমানে ছাদে লাগাতে হবে। বীজতলার থেকে বেশি বা কম গভীরে লাগালে গাছের বাড়বাড়তিতে সমস্যা হবে। মাঠে ফলমুল সবজি চাষের চেয়ে ছাদে সবজি চাষের অনেক পার্থক্যের একটা গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা। চাদের বাগানে প্রতিদিন পরিষ্কার কার্যক্রম অনুসরণ করতে হবে। সেজন্য পুরাতন রোগাক্রান্ত, বয়স্ক ডালপালা, পাতা সাবধানতার সাথে কেটে নির্দিষ্ট স্থানে জমা করতে হবে। এতে গাছপালা রোগমুক্ত থাকবে ফলনে সুবিধা হবে। ফুল এবং সবজিতে প্রয়োজন মাফিক সার প্রয়োগ করতে হবে। কিন্তু ফলের ক্ষেত্রে অন্তত দু'বার একবার বর্ষার আগে একবার বর্ষার পরে সাবধানে পরিমাণমত সার দিতে হবে। সার প্রয়োগের সময় মাটির আর্দ্রতা দেখে নিতে হবে। কেননা বেশি আর্দ্র বা কম আর্দ্র কোন টাইপের সার প্রয়োগের জন্য উপযুক্ত নয়। বিশেষ ক্ষেত্রে কিছু কিছু সার পানিতে মিশিয়ে গাছ ছিটিয়ে দিতে হবে। গুঁটি সারও এ ক্ষেত্রে বিশেষ উপযোগী।
    আমাদের দেশের আবহাওয়ায় কোন ফলে পোকা বা রোগের আক্রমণ অহরহ ঘটে থাকে। সেক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। প্রতি ২/৩ বার যদি চাদের বাগান পরিদর্শন করা যায় তাহলে বালাই আক্রমণ যেমন কম হবে তেমনি ফসলও পাওয়া যাবে অনেক। সুতরাং লাভ বেশি হবে। যদি হঠাৎ বেশি মারাত্মক আক্রান্ত হয়ে যায় তখন উপযুক্ত বালাইনাশক সঠিক সময়ে ব্যবহার করতে হবে। আলোচ্য নিবন্ধে ছাদের কথা বলা হয়েছে কিন্তু অন্যান্য পদ্ধতি অনুসরন করে স্থানকালপাত্র অনুযায়ী ঘরের ভেতরে, সিঁড়ি, ব্যালকনি, বারান্দা, কার্নিশ এসব জায়গায় ও অনায়াসে গাছ লাগানো যায়।

    সেচ নিস্কাশন ছাদে/টবে সেচ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা মাটির আর্দ্রতার জন্য সহজেই গাছপারা নেতিয়ে যাবে তেমনি অতি পানি বা পানির আর্দ্রতার জন্যও গাছ নেতিয়ে পড়ে মরে যেতে পারে। তাই অবশ্যই ছাদের বাগানে প্রতিনিয়ত সেচের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। ছাদের বাগানে সেচের জন্য ক্সিকিলার অর্থাৎ ঝাঁঝরি দিয়ে সেচ দেয়া ভালো। তাছাড়া প্লাস্টিকের চিকণ পাইপ দিয়েও পানি সরবরাহ বা দেয়া যায়। এক্ষেত্রে ডেলিভারি পাইপের মাথায় চাপ দিয়ে ধরলে পানি হালকাভাবে ছিটিয়ে পরে সুতরাং ইচ্ছে করলে ঐ পদ্ধতিও অনুসরণ করা যায়। জীবনের প্রয়োজনে মানুষ অনেক নতুন তথ্য প্রযুক্তি আবিষ্কার করে। শখের বিলাশী ঘটনাও সময়ের ব্যবধানে আবশ্যকীয় হয়ে যায় এবং সর্বজনবিদিত উপকারি ও জনপ্রিয় হয়ে যায়। ছাদের বাগানও তেমন। সময়ের প্রয়োজনে জীবনের প্রয়োজনে সবাই এক চিলতে জায়গাও খালি রাখতে চায় না। প্রতি ইঞ্চি জায়গাকে যৌক্তিকভাবে ব্যবহার করতে চায়। দিন বদলের পরিক্রমায় অদূর ভবিষ্যতে হয়তো ছাদের বাগান একটি আবশ্যকীয় প্রযুক্তি পদ্ধতি হয়ে স্থান পাবে। সবচেয়ে বড় কথা ছাদে বাগানকে একটি অতিরিক্ত লাভ হিসেবে পরিগণিত করা যায়।

    তাই আমাদের যার যার সুযোগ আচে সে সুযোগকে যৌক্তিকভাবে কার্যকর ভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে আমাদের বহুমুখী লাভ হবে। আসুন আমরা সবাই এ সুযোগের আওতায় সর্বোচ্চ লাভ ঘরে তুলি, কৃষিকে সমৃদ্ধ করি দেশেকে সমৃদ্ধ করি।

    ছাদে বাগানের কিছু জরুরি টিপস
    ১) লম্বা গাছকে ছোট গাছকে সামনে রাখতে হবে।
    ২) টবে বা ফ্রেমে খৈল দেয়া যাবে না, এতে পিঁপড়ার উপদ্রব বাড়তে পারে।
    ৩) বাজার থেকে কেনা প্যাকেটজাত কম্পোস্ট সার ব্যবহার করলে ভালো।
    ৪) বছরে একবার নতুন মাটি দিয়ে পুরাণ মাটি বদলিয়ে দিতে হবে। এটি অক্টোবর মাসে করলে ভালো।
    ৫) ছাদে বাগানের জন্য মিশ্র সার, গুঁটি ইউরিয়া, খৈল, হাড়ের গুঁড়া (পচিয়ে) ব্যবহার করা ভালো।
    ৬) বাজারে স্টিল লোহার ফ্রেম পাওয়া যায়। এগুলো দিয়ে অনায়সে ছাদে বাগান করা যায়।
    ৭) অবস্থা বুঝে গাছের গোড়ায় চুনের পানি সপ্তাহে ১ বার ব্যবহার করা যায়।

    পুদিনা পাতা

    পুদিনা পাতা এক ধরনের সুগন্ধি গাছ। এই গাছের পাতা তরি-তরকারির সাথে সুগন্ধি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে বেশি ব্যবহার করা হয় নানা ধরনের বড়া তৈরির কাজে। বিশেষ করে রমজানের এই মাসে বাড়ি কিংবা ইফতারের দোকানগুলোতে ব্যাপকভাবে পুদিনা পাতা ব্যবহার হয়ে থাকে। এছাড়াও বোরহানী, সালাদ এমনকি ফুড ডেকোরেশন এর কাজেও ব্যবহার করা হয় এই পাতা। চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট, পাঁচতারা হোটেলেও রয়েছে পুদিনা পাতার নানা ব্যবহার। যারা রমজান মাসে পুদিনা পাতা পেতে চান তাদের এখনই বাড়ির ছাদে, বেলকনিতে অথবা বারান্দার গ্রীলে চাষ করতে পারেন এই পুদিনা পাতার গাছ।

    চাষ কৌশল:
    যে সব তেলের কন্টেইনার ফেলে দেয়া হয়, সেগুলো সংরক্ষণ করে খুব সহজেই চাষ করা যায় পুদিনা পাতার গাছ। এজন্য কন্টেইনারে শুকনো গোবর বা ফেলে দেয়া চা-পাতার সাথে দো-আঁশ মাটি ভালভাবে মেশাতে হবে। সেক্ষেত্রে গোবর ২কেজি, দো-আঁশ মাটি ৪ কেজি হারে মেশালে ফলাফল ভাল পাওয়া যাবে। ওই মিশ্রন থেকে প্রতিটি টব বা কন্টেইনারে ৩ থেকে ৪কেজি মিশ্রন স্থাপন করে পুদিনা পাতার গাছ লাগাতে হবে। অনেক নার্সারিতে পুদিনা পাতার গাছ পাওয়া যায়। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, এই গাছের একটি পুরানো ডাল শিকড়সহ কেটে টবে বা কন্টেইনারে রোপন করলেই কিছুদিনের মধ্যে ওই পাত্র পুদিনা পাতার গাছে ভরে যায়। তাই প্রথমদিকে ২/৩টি গাছ সংগ্রহ করলে আর কখনও চারার জন্য অন্য জায়গায় যেতে হয় না। কন্টেইনারে বা টবে লাগানো গাছগুলো প্রয়োজনে তার দিয়ে বেঁধে বারান্দায় ঝুলিয়ে রাখা যায় অথবা ছাদেও এর চাষ করা যায়। যারা শহরে থাকেন তারা ছাদে, বরান্দায় এবং বেলকনিতে এর চাষ করতে পারেন।

    অন্যান্য ব্যবস্থাপনা:
    পুদিনা গাছের তেমন কোন যত্নের দরকার হয় না। তবে ২/৩ দিন পরপর সামান্য পানি দিতে হয়। এই গাছে সূর্যের আলোর তেমন প্রয়োজন হয় না তাই ডেকোরেশন প্লান্ট হিসেবে ঘরের মধ্যেও টবে লাগানো যেতে পারে। সেক্ষেত্রে মাঝে মাঝে টবগুলো বাইরে এনে গাছের গোড়ার মাটিগুলো আলগা করে দিতে হবে। লাগানো পাত্রের নীচে ২/৩টি ছোট ছিদ্র করে দিতে হবে যাতে করে বাড়তি পানি পড়ে যায় এবং অক্সিজেনের ঘাটতি পুরণ হয়। এ ছাড়াও ছাদের কোন এক স্থানে পলিথিন বিছিয়ে তার চারপাশে ইট অথবা বেড়া দিয়ে তারমধ্যে গোবর বা চা-পাতা মিশ্রিত মাটি দিয়েও পুদিনা পাতার চাষ করা যায়। বাণিজ্যিকভাবে চাষ করেও এই পাতা থেকে প্রচুর অর্থ উপার্জন করা সম্ভব।
    এগ্রোবাংলা ডটকম
    বানিজ্যিকভাবে পুদিনাপাতার চাষ

    বাংলা, হিন্দি, উর্দু, মারাঠি, তেলেগু, তামিল সব ভাষাতেই এর এক নাম পুদিনা। এটা সুগন্ধিগাছগুলোর মধ্যে অন্যতম। ছড়ার মধ্যেও বাজার থেকে পুদিনাপাতা কেনার ফরমায়েশ পাওয়া যায় ‘পুদিনা আনিও, পান আনিও’। খাদ্যকে সুরেচক করতে পুদিনাপাতার কোনো জুড়ি নেই। শহরাঞ্চলে দিন দিন এর চাহিদা বাড়ছে। সুদূর অতীত থেকে এ দেশে পুদিনাপাতার চাষ হয়ে আসছে। কিন্তু সেটা বিজ্ঞানভিত্তিক চাষ নয়, কোনোভাবে বাড়ির আঙিনায় দু-চারটা গাছ লাগিয়ে পারিবারিকভাবে ব্যবহার করা। আজকাল বাজারে আঁটি আঁটি পুদিনাপাতা সারা বছর বিক্রি হচ্ছে। তাই পুদিনাকে শুধু বাড়ির আঙিনায় আটকে রাখা ঠিক হবে না। চাইলে অন্য ফসলের মতো বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে লাভবান হওয়া যাবে। বিদেশেও পুদিনাপাতার চাহিদা আছে। রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়েরও সুযোগ হতে পারে। পুদিনাপাতার ওপর ভিত্তি করে স্খাপিত হতে পারে পিপারমেন্ট অয়েল উৎপাদন শিল্প।

    গাছ পরিচিতি : পুদিনা একটি সাধারণ আগাছা ধরনের গাছ। কাণ্ড ও পাতা বেশ নরম। কাণ্ডের রঙ বেগুনি, পাতার রঙ সবুজ। পাতা ডিম্বাকার, পাতার কিনারা খাঁজকাটা। পাতা কিছুটা রোমশ ও মিন্টের তীব্র গìধযুক্ত। গাছের নিচের অংশ থেকে অনেক ধাবক বের হয়। পুদিনাপাতার গাছ লেবিয়েটিসি পরিবারের মেন্থা গনের অন্তর্গত। এ গনের তিনটি প্রজাতি রয়েছে। এর মধ্যে গপষয়ভথ থড়ংপষঢ়মঢ় এ দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশে ভালো জন্মে। জাপানি জাত চাষের জন্য ভালো।

    ব্যবহার : পুদিনাপাতার গাছ থেকে পিপারমেন্ট তেল তৈরি হয়। তেল বেশ মূল্যবান। বিভিন্ন প্রসাধনসামগ্রী বিশেষ করে টুথপেস্ট, মিন্ট চকোলেট ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়। ভারতে প্রতি বছর প্রায় ১০ টন পিপারমেন্ট তেলের শিল্প চাহিদা রয়েছে বলে জানা যায়। এই পরিমাণ তেল উৎপাদনের জন্য ১০ হাজার একর জমিতে পুদিনা উৎপাদন করতে হয়। কিন্তু উৎপাদন অনেক কম হওয়ায় প্রতি বছর প্রায় কোটি টাকার পিপারমেন্ট অয়েল তাদের বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আমাদের দেশও তার ব্যতিক্রম নয়। এ দেশের বাজারে মূলত কাঁচা পুদিনাপাতার চাহিদাই বেশি। প্রতি বছর আমাদের দেশে প্রায় ১৮ হাজার মেট্রিক টন কাঁচা পুদিনাপাতার চাহিদা রয়েছে।

    পুদিনা এ দেশে চাষ হয় মূলত চাটনি, সালাদ আর বোরহানি বানানোর জন্য। এর যে আরো অনেক ব্যবহার আছে সেটাই হয়তো আমরা জানি না। কাঁচা পুদিনাপাতার সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় চাটনি ও সালাদে। ইদানীং বিভিন্ন পার্টিতে টক দইয়ের বোরহানি তৈরির জন্য পুদিনা পাতার ব্যবহার বেড়েছে। এ ছাড়া মাছ, গোশত, সস, স্যুপ, চা, তামাক, শরবত ইত্যাদি সুগìিধ করতে পুদিনাপাতা ব্যবহার করা হয়। ইউরোপের দেশগুলোতে ভেড়ার গোশতের রোস্ট ও মিন্ট জেলি তৈরি করতে পুদিনাপাতা ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন দেশে পুদিনার বেশি ব্যবহার তেল তৈরিতে। গাছে যখন ফল আসে তখনই পাতায় তেলের মাত্রা বাড়ে। ওই সময় গাছ তুলে পাতন প্রক্রিয়ায় তেল নিষ্কাশন করা হয়। গাছের নিচের পাতা হলদে হওয়া শুরু করলেই কাটিং নিয়ে তেল নিষ্কাশন করা হয়। মৌসুমে একই গাছ থেকে দু’বার কাটিং সংগ্রহ করা যায়। কাটিংগুলোকে ছোট ছোট আঁটি বেঁধে ঝুলিয়ে শুকানো হয়। কাঁচা পাতার চেয়ে শুকনো পাতা থেকে তেল নিষ্কাশন সহজ ও সস্তা।

    চাষাবাদ : কাটিং বা তেউড় লাগিয়ে চারা তৈরি করা হয়। পুরনো ক্ষেত থেকে কাটিং নিয়ে হাপরে বসিয়ে চারা তৈরি করে নিতে হবে। কাটিংয়ের দৈর্ঘ্য হবে ১০ সেন্টিমিটার। জমিতে চারা রোপণের সপ্তাহখানেক আগে চারা তৈরি করতে হবে। প্রতি হেক্টর জমি চাষের সময় মাটির সাথে ১০ থেকে ১৫ টন গোবর বা জৈবসার মিশিয়ে দিতে হয়। জমি ভালোভাবে চাষ দিয়ে মাটি ঝুরঝুরা করার পর চারা রোপণের আগে ৪৫-৫০ সেন্টিমিটার চওড়া করে বেড তৈরি করতে হয়। বেডের উচ্চতা হবে ১৫-২০ সেন্টিমিটার। প্রতি বেডের মাঝে নালা থাকবে। বেডের দৈর্ঘ্য জমির আয়তন অনুসারে কম-বেশি হতে পারে। তবে বাণিজ্যিকভাবে চাষের জন্য বেডের আকার একটু অন্য রকম হবে। এ ক্ষেত্রে বেড ১ মিটার চওড়া ও ৪৫ মিটার লম্বা হবে। এ পরিমাণ জমির জন্য গোবর বা কম্পোস্ট সার লাগবে ২০ ঝুড়ি (২০০ কেজি), হাড়ের গুঁড়া ৫ কেজি, টিএসপি সার ১-১.৫ কেজি, কাঠের ছাই ৫ কেজি অথবা এমওপি সার ১ কেজি। এসব সার বেড তৈরির সময় বেডের মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। বর্ষার আগে ও পরে চারা রোপণের নিয়ম। সে অনুযায়ী জুন অথবা অক্টোবর-নভেম্বর মাসে পুদিনার চারা রোপণ করা যেতে পারে। বেডে ৩০ সেন্টিমিটার পরপর চারা রোপণ করা যেতে পারে। চারা রোপণের পর সেচ দিতে হবে। প্রতি দুই মাস পরপর প্রতি বর্গমিটারে ২০ গ্রাম করে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে। গাছ লম্বা হতে শুরু করলে ১০ সেন্টিমিটার মাপের কাটিং বা ডাল কেটে ১০-১৫টি ডাল একটি আঁটিতে বেঁধে বাজারে বিক্রির জন্য পাঠাতে হবে। প্রতি দু’বার কাটার পর একই নিয়মে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া সার দেয়ার পর সেচ দিতে হবে। বাণিজ্যিক জমিতে চারা রোপণের ১০-১২ সপ্তাহ পর থেকে প্রতি মাসে একবার করে প্রতি বর্গমিটারে ২০ গ্রাম করে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করে যেতে হবে।
    টবে বাহারী ফুলের চাষ

    পৃথিবীতে ফুলের মতো সুন্দর আর পবিত্র কোনো কিছু নেই। কিন্তু সেই সুন্দরকে কাছে রেখে উপভোগ করার সৌভাগ্য কয়জনের হয়? বিশেষ করে আমরা যারা শহরে থাকি তাদের তো ফুলগাছ লাগানোর জমিই নেই। বিল্ডিংয়ের ছাদ, বারান্দা, না হয় সিঁড়িঘরটাই ভরসা। সেখানে তো আর মাটি নেই। মাটি ছাড়া ফুলগাছ কেমন করে হবে? তাই পোড়ামাটির টবে কাঁচা মাটি রেখে তার ভেতর দুই-চারটা ফুলগাছ লাগিয়ে সে আনন্দ পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু মুশকিল হলো, সব ফুলের গাছ আবার টবে ভালো হয় না। বিশেষ করে বৃক্ষজাতীয় দীর্ঘজীবী ফুলগুলো টবে বেশি না লাগানোই ভালো। বিভিন্ন মৌসুমি ফুল টবের জন্য সবচেয়ে ভালো। তবে যে ফুলগাছই লাগানো হোক না কেন সেগুলো যেন রোদ পায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। একটু হিসাব করে পরিকল্পনামতো টবে ফুলগাছ লাগালে সারা বছরই কিছু না কিছু ফুলের দেখা পাবেন।

    টবে কী কী ফুলগাছ লাগাবেন গ্রীষ্ক্নকালে টবের জন্য বেছে নিতে পারেন গন্ধরাজ, রজনীগন্ধা, সুর্যমুখী, জিনিয়া, পিটুনিয়া, সিলোসিয়া বা মোরগঝুঁটি, দোপাটি, ক্যালিয়েন্ড্রা বা মণিকুন্তলা, ব্রানফেলসিয়া বা বিচিত্রা ইত্যাদি। বর্ষার ফুল হিসেবে টবের জন্য ভালো হবে হাইড্রেঞ্জিয়া, বেলি, জুঁই, চাঁপা, পত্রলেখা বা মুসেন্ডা, তুষারমোতি বা পোর্টল্যান্ডিয়া, দোপাটি, জিনিয়া, সুর্যমুখী (ছোট), স্থলপদ্ম, মালতীলতা প্রভৃতি। শীতকালে টবে লাগাতে পারেন গাঁদা, গোলাপ, ন্যাস্টারশিয়াম, প্যানজি, পিটুনিয়া, ভারবেনা, ক্যামেলিয়া, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, কারনেশন, স্যালভিয়া, গোলাপ, জারবেরা, এজালিয়া ইত্যাদি। সারা বছর ফোটে এমন ফুলের মধ্যে রয়েছে কাঞ্চন (সাদা), জবা, কামিনী, করবী, অলকানন্দা বা অ্যালামন্ডা, জয়তী বা জ্যাট্রোফা, হাজারপুটিয়া, নয়নতারা, সন্ধ্যামালতী বা সন্ধ্যামণি ইত্যাদি। কয়েক বছর বাঁচা স্থায়ী স্বভাবের গাছগুলো হলো বেলি, জুঁই, বাগানবিলাস বা বোগেনভিলা, গোলাপ, জবা, করবী, গন্ধরাজ, কাঞ্চন, কুন্দ, চাঁপা, মুসেন্ডা, কামিনী, অ্যালামন্ডা, স্থলপদ্ম, পোর্টল্যান্ডিয়া, ব্রানফেলসিয়া, ক্যামেলিয়া, টগর, শিউলি, পয়েনসেটিয়া। ছাদবাগানের জন্য এসব গাছ ভালো। সেখানকার জন্য এই বর্ষাতেই এসব গাছের চারা জোগাড় করে লাগিয়ে ফেলতে পারেন। তবে কোনো পুষ্কপ প্রদর্শনীর উদ্দেশ্যে গাছ করার জন্য প্রদর্শনীর নির্ধারিত দিনের সঙ্গে নির্বাচিত গাছের প্রয়োজনীয় সময়ের হিসাব করে নিতে হবে। এ প্রসঙ্গে আর একটি কথা, বাগানের মাটিতে লাগানো গাছের ফুল ফোটার সময় টবের গাছের চেয়ে ১০-১২ দিন বেশি লাগবে।
    তবে যাঁরা মাত্র কয়েকটা গাছ লাগিয়ে এবারই টবে গাছ লাগানোর হাতেখড়ি দিতে চান তাঁদের বলব, সহজে মরে না এবং একটু কম যত্ন নিলেও ফুল ফোটে, এমন সব গাছ লাগাতে। এ রকম ফুলের গাছগুলো বেশ পরিচিত, সহজে পাওয়া যায়। এর মধ্যে নয়নতারা, সন্ধ্যামণি, দোলনচাঁপা, কলাবতী, অ্যালামন্ডা, গাঁদা, বেলি, নাইটকুইন, হাসনাহেনা, রঙ্গন, মুসেন্ডা, কুঞ্জলতা, পর্টুলেকা বা টাইমফুল প্রভৃতি লাগানোর জন্য পছন্দ করতে পারেন। লাগাতে পারেন ফুল দেওয়া বিভিন্ন ক্যাকটাস (যেমন−ইউফরবিয়া), এগুলো সহজে মরে না।

    টবে ফুলগাছ লাগাবেন কী করে প্রথমে গাছের সঙ্গে মানানসই সাইজের টব সংগ্রহ করতে হবে। তবে ছোট গাছের জন্য বড় টব হলে ক্ষতি নেই, কিন্তু বড় গাছের জন্য ছোট টব চলবে না।
    প্রতি টবের জন্য দোআঁশ মাটির সঙ্গে তিন ভাগের এক ভাগ পরিমাণ জৈব সার বা পচা গোবর মিশিয়ে মাটি তৈরি করতে হবে। এর সঙ্গে একমুঠো হাড়ের গুঁড়ো, দুই চা-চামচ চুন, দু মুঠো ছাই মেশাতে পারলে ভালো হয়। এতে টবের মাটি দীর্ঘদিন উর্বর থাকবে।

    মৌসুমি ফুলের ক্ষেত্রে মাসখানেক বয়সের ফুলের চারা টবে রোপণ করা উচিত। অন্য চারার বেলায় অল্পবয়সী ভালো ও তরতাজা, গাট্টাগোট্টা দেখে চারা বা কলম লাগানো ভালো। চারা লাগানোর পর আস্তে আস্তে চাপ দিয়ে গোড়ার মাটি শক্ত করে দিতে হবে। লাগানোর পর গোড়ায় পানি দিতে হবে।
    গাছকে খাড়া রাখার জন্য অবলম্বনের প্রয়োজন হয়। গাছের চারা অবস্থা থেকেই এ ব্যবস্থা করতে হয়। এ কাজে বাঁশের কঞ্চি বা স্টিক ব্যবহার করা যেতে পারে।
    সদ্য লাগানো ফুলের চারা কয়েক দিন ছায়ায় রেখে সহনশীল করে নিতে হয়। এ অবস্থায় সকালে ও বিকেলে রোদ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
    টবে গাছের গোড়ার মাটি একেবারে গুঁড়ো না করে চাকা চাকা করে খুঁচে দেওয়া ভালো। এ ক্ষেত্রে মাটি খোঁচানোর গভীরতা হবে ৩-১০ সেন্টিমিটার বা ১ থেকে ৪ ইঞ্চি। এ কাজটি প্রতি ১০ দিনে একবার করে করতে হবে।

    কুঁড়ি আসার লক্ষণ প্রকাশ পেলে ৫০ গ্রাম টিএসপি (কালো সার), ১০০ গ্রাম ইউরিয়া (সাদা সার) ও ২৫ গ্রাম এমওপি (লাল সার) একসঙ্গে মিশিয়ে প্রতি গাছে এক চা-চামচ করে ১০ দিন অন্তর দিতে হবে। তবে এক মৌসুমে এই রাসায়নিক সার তিনবারের বেশি দেওয়ার দরকার নেই। তবে রাসায়নিক সার ব্যবহারের সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন সার কোনোক্রমেই শিকড়ের ওপর না পড়ে। ট্যাবলেট সার দিলে এসব সার দেওয়ার আর দরকার নেই।
    বেশি দিন ধরে ফুল ফোটাতে চাইলে গাছে কখনো ফুল শুকাতে দিতে নেই। ফুল শুকানো শুরু হলেই ফুল কেটে দিতে হয়। এতে ভালো ফুল পাওয়া যায়। গাঁদা, অ্যাস্টার, চন্দ্রমল্লিকা প্রভৃতি গাছ থেকে বেশি ফুল বেশি দিন ধরে পেতে চাইলে প্রথম দিকে আসা কিছু কুঁড়ি চিমটি দিয়ে ছেঁটে দিতে হবে।

    বে ব্রোকলি চাষ
    টবে ব্রোকলি বা সবুজ ফুলকপি চাষ

    ব্রোকলি

    ব্রোকলি। একটা উৎকৃষ্ট সবজি, তবে মাঠ থেকে তোলার পর তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায় বলে টবে চাষ করতে পারলে ভাল হয়। ব্রোকলিতে ভিটামিন সি, ক্যারোটিন ও ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেশি আছে। এছাড়া অন্যান্য খাদ্য উপাদান রয়েছে অল্প পরিমাণে।

    জাত:
    আমাদের দেশে এল সেন্ট্রো, ডি সিক্কো, প্রিমিয়াম ক্রস, গ্রীন কমেট ইত্যাদি জাতের ব্রোকলি পাওয়া যায়।

    সময়: আশ্বিন-অগ্রহায়ণ (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর) চাষের সময়।

    বীজ থেকে চারা তৈরি:
    বীজ থেকে চারা তৈরি করে মূল টবে লাগাতে হবে। বীজ গজাতে সময় লাগে ৩/৪ দিনে। ৮/৯ দিন বয়সের চারা তুলে অল্প দূরত্বে আরেকটি বীজতলার টবে লাগাতে পারলে শক্তিশালী চারা পাওয়া যাবে।

    সার ও মাটি:
    গোবর, টিএসপি ও খৈল দিয়ে সার-মাটি তৈরি করতে হবে। মনে রাখতে হবে মাটি সব সময় নরম তুলতুলে থাকলে গাছ তাড়াতাড়ি বাড়ে।

    চারা রোপণ:
    ৩/৪ সপ্তাহের সুস্থ চারা সার-মাটি ভরা টবে লাগতে হবে। চারা লাগাতে হবে

    বিকাল বেলাতে। চারা লাগানোর পর গোড়ায় মাটি খুব হালকা করে চেপে দিতে হবে। কেননা জোরে চাপ দিলে নরম শিকড় ছিঁড়ে যেতে পারে।

    পরিচর্যা:
    ব্রোকলির চারা লাগানোর প্রথম ৩/৪ দিন চারাকে ছায়া দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে
    এবং চারা না লেগে যাওয়া পর্যন্ত সকাল-বিকাল পানি দিতে হবে। চারা লেগে গেলে মাঝে মাঝে মাটি একটু খুঁচিয়ে দিতে হবে এবং ২/১ দিন পর পর সেচ দিতে হবে। গাছ একটু বড় হলে ১৫ দিন পরপর তরল সার বা পাতার সার দিলে ভাল হয়। পরে গোড়ার মাটি চারদিক থেকে তুলে দিতে হবে এবং টবের কিনার বরাবর সেচ দিতে হবে।

    ক্ষতিকর পোকা: শুঁয়া পোকা ও জাব পোকা ব্রোকলির ক্ষতি করে।

    প্রতিকার:
    জাব পোকা বেশি হলে রিডেন ও শুঁয়া পোকা বেশি হলে মার্শাল ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে সহকারি উপ-কৃষি কর্মকতার পরামর্শ অনুযায়ী। যদি শুঁয়া পোকা এবং জাব পোকা একসাথে আক্রমণ করে তাহলে নাইট্রো ওষুধ স্প্রে করা যেতে পারে।

    ফসল সংগ্রহ:
    ব্রোকলির চারা রোপণের পর ৩ থেকে সাড়ে ৩ মাসের মধ্যে সবজিটি খাবার উপযোগী হয়। ব্রোকলির কাণ্ডের শাঁস খুব নরম হয় বলে সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। ফুল ২/৩ সপ্তাহ হলে খাওয়ার উপযোগী হয়। ফসল সংগ্রহের সময় প্রথমে উপরের ফুলটি কেটে নিয়ে গাছটি বাড়তে দিলে নিচের পাতার গোড়া থেকে আবার ফুল বের হবে যা পরবর্তীতে সময়মত সংগ্রহ করা যাবে।

    টবে ঢেঁড়শ চাষ

    ঢেঁড়শ

    শাকসবজি উৎপাদনের জন্য জমি বা বাগানই শ্রেষ্ঠ জায়গা। তবে যারা শহরে বাস করে তাদেরও শাকসবজি উৎপাদনের রয়েছে প্রচুর সুযোগ-সুবিধা। শহরের বাসা-বাড়ির ছাদে বা বারান্দায় বড় বড় টবে, মাটির চাঁড়িতে, ড্রামে কিংবা একমুখ খোলা কাঠের বাক্সে সারমাটি ভরে অনায়াসেই ঢেঁড়শ চাষ করা যায়।

    ঢেঁড়শে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে, তাছাড়া ভিটামিন -এ সহ অন্যান্য উপাদানও কিছু কিছু রয়েছে। বাংলাদেশে যে কোন সময় ঢেঁড়শ লাগানো যায়।

    টবের মাটি:
    গাছের বৃদ্ধি এবং ঢেঁড়শের ভাল ফলনের জন্য মাটি অবশ্যই উর্বর, হালকা এবং ঝুরঝুরে হতে হবে। পানি শুকিয়ে গেলে টবের মাটিতে যেন ফেটে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। টবের মাটি ঝুরঝুরা রাখতে হলে সমপরিমাণে দো-আঁশ মাটি ও জৈব সার একসাথে ভালভাবে মেশাতে হবে। এঁটেল মাটিতে জৈব সারের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে। সাধারণভাবে প্রতি টবের মাটিতে চা চামচের চার চামচ টিএসপি সার ও ৫ থেকে ৬ দিন আগে ভেজানো ১১৬ গ্রাম পরিমাণ সরিষার খৈল মেশানো যেতে পারে।

    জাত:
    ঢেঁড়শের নানা জাত রয়েছে। এর মধ্যে পুশা শাওনী, কাবুলী ডোয়ার্ফ, লক্ষৌ ডোয়ার্ফ, লং গ্রীন, লং হোয়াইট, পেন্টাগ্রীণ-এসব বিদেশী জাত জনপ্রিয়।

    সময়:
    গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত অর্থাৎ বছরের সব সময়ই ঢেঁড়শ গাছ লাগানো যায়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শীতের শেষভাগ থেকে বৈশাখ পর্যন্ত ঢেঁড়শ লাগানো যায়। এরপরও লাগানো যায় তবে নাবী ফসলে মোজাইক রোগ হয় বলে ফলন ভাল হয় না।

    বীজ বপন:
    ঢেঁড়শের চারা রোপণকালীণ সময় আঘাত সহ্য করতে পারে না বলে সরাসরি মূল টবে বুনতে হবে। ঢেঁড়শের জন্য মাঝারী ধরণের টব হলেই চলবে। প্রতি টবে ২ থেকে ৩টি বীজ বুনে দিতে হয়। চারা গজানোর পর একটি সবল চারা রেখে বাকিগুলো ফেলে দিতে হয়। খোসা শক্ত বলে ঢেঁড়শের বীজ দেরীতে গজায়। তাই বুনার আগে ২৮ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।

    পরিচর্যা:
    ঢেঁড়শ গাছ পানি সহ্য করতে পারে না। গাছের গোড়ায় দাঁড়ানো পানি তাড়াতাড়ি সরিয়ে দিতে হবে। প্রত্যেকটা টবে পানি যাতে না বেধে থাকে তার ব্যবস্থা করতে হবে।

    গাছ ১০ থেকে ১২ সেঃ মিঃ বড় হলে টবের কিনার ঘেঁসে ১ চা চামচ ইউরিয়া ও ১ চা-চামচ মিউরেট অব পটাশ মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।

    রোগবালাই:
    শুঁয়া পোকা কচি কাণ্ড ছিদ্র করে গাছের ক্ষতি করে। ভাইরাস (মোজাইক) রোগ ঢেঁড়শে প্রায়ই দেখা যায়। এ রোগে পাতা হলদে হয়ে কুঁচকে যায়। রোগাক্রান্ত গাছ তুলে মাটিতে পুঁতে দিতে হয়। শুঁয়া পোকার আক্রমণ থেকে ঢেঁড়শ গাছকে বাঁচাতে হলে প্রতি লিটার পানিতে ১ মিঃ লিঃ ডায়াজিনন-৮০, নুভাক্রণ-৪০, একালাক্স-২৫ এর যে কোনটি অথবা ১ লিটার পানিতে ১ মিলি লিটার সিমবুশ-১০ মিশিয়ে সপ্রে করতে হবে।

    ফসল সংগ্রহ:
    বীজ বপনের দু'মাস পরেই ফল পাওয়া যায়। কচি অবস্থায় ঢেঁড়শ তুলতে হয়। দেরি হলে ফল শক্ত হয়ে যায় ও সেটা খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে যায়। ঘন ঘন ঢেঁড়শ তুললে গাছে বেশি পরিমাণে ঢেঁড়শ আসে।

    টবে লেটুস চাষ

    লেটুস

    শাকসবজি উৎপাদনের জন্য জমি বা বাগানই একমাত্র স্থান নয়। শহরেও শাকসবজি উৎপাদনের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। শাকসবজি উৎপাদনের জন্য একান্ত ই যদি একখণ্ড জমি না থাকে তাহলে বাসা-বাড়ির ছাদে বা বারান্দায় বড় বড় টবে, মাটির চাঁড়িতে, ড্রামে কিংবা একমুখ খোলা কাঠের বাক্সে সারমাটি ভরে অনায়াসেই শাকসবজি চাষ করা যায়।

    লেটুস পুষ্টিকর সালাদ জাতীয় সবজি, লেটুসে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, বি ও সি আছে। কাজেই সুষম খাদ্যের জন্য এটা বেশ প্রয়োজনীয়।

    টবের মাটি: গাছের বৃদ্ধি এবং সবজি জাতীয় ফলনের জন্য মাটি অবশ্যই উর্বর, হালকা এবং ঝুরঝুরে হতে হবে। পানি শুকিয়ে গেলে টবের মাটিতে যেন ফেটে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। টবের মাটি ঝুরঝুরা রাখতে হলে সমপরিমাণে দো-আঁশ মাটি ও জৈব সার একসাথে ভালভাবে মেশাতে হবে। এঁটেল মাটিতে জৈব সারের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে। সাধারণভাবে প্রতি টবের মাটিতে চা চামচের চার চামচ টিএসপি সার ও ৫/৬ দিন আগে ভেজানো ১১৬ গ্রাম পরিমাণ সরিষার খৈল মেশানো যেতে পারে।

    সময়: ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি থেকে অগ্রহায়ণের মাঝামাঝি পর্যন- অর্থাৎ সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বীজ থেকে চারা তৈরি করে টবে লাগাতে হবে।

    বীজ বা চারা: গামলা টবে বীজ বুনলে ৩ থেকে ৪ দিনে চারা গজায়। চারার ৪/৫টি পাতা গজালে টবে লাগাতে হয়। লেটুসের জন্য খুব বড় টবের প্রয়োজন হয় না।

    চারা রোপণ: পরন্ত বিকেলে চারা লাগাতে হয়। চারা রোপণের সময় চারার গোড়ার মাটি খুবই হালকাভাবে চেপে দিতে হয় যাতে চারার নরম শিকড় চাপে ছিঁড়ে না যায়। চারা লাগানোর পর ৩ থেকে ৪ দিন ঢাকনী দিয়ে চারাকে রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষা করতে হবে এবং সকাল-বিকাল চারার গোড়ায় পানি দিতে হবে। প্রয়োজনে সেচ দিতে হবে এবং মাঝে মাঝে চারার গোড়ার মাটি হালকাভাবে আলগা করে দিতে হবে।বিভিন্ন নার্সারি থেকে ১০ টাকার পলিব্যাগে একটি চারা অথবা ৩০০ টাকায় এক হাজার বীজ কিনতে পারবেন।

    রোগবালাই: গোড়া পচা, আগা পোড়া দেখা দিলে গাছ তুলে ফেলতে হবে। জাব পোকা লেটুসের খুব ক্ষতি করে। কীটনাশক স্প্রে করতে হবে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী। কীটনাশক ছিঁটানোর ৭ দিনের মধ্যে লেটুস খাওয়া যাবে না। লেটুসের পাতায় কখনো কখনো ‘ছাতা’ রোগ দেখা দিতে পারে। এ রোগ দেখা দিলে গাছের পাতা নুইয়ে পড়ে এবং পাতার অগ্রভাগ পুড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত গাছ অবশ্যই ধ্বংস করে ফেলতে হবে। তবে বীজ ও মাটি শোধন করে এ রোগ থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।

    পরিচর্যা: টবে চারা লাগানোর পরপরই অনেক সময় দেখা যায় চড়াই শালিক, বাবুই ইত্যাদি ছোট ছোট পাখি চারার কচি পাতা এবং ডগা খেয়ে ফেলে, অনেক ক্ষেত্রে চারা উপড়ে ফেলে। সেক্ষেত্রে দু'চারটা ছিদ্রবিশিষ্ট পাতলা পলিথিন কাগজ বা লোহার নেট দিয়ে আলতোভাবে টবেটি ঢেকে রাখতে হবে। তাছাড়া শুকনো পাতা বা রোগাক্রান্ত অংশ ছেঁটে ফেলতে হবে।

    ফসল সংগ্রহ: চারা লাগনোর এক মাসের মধ্যেই লেটুস পাতা খাওয়ার উপযোগী হয়।

    টবে ধনেপাতার চাষ

    ধনেপাতা

    শীতকাল-হল নানা রকম সবজিসহ সালাদ-শস্য চাষের মৌসুম। শীতকালীন সালাদ-শস্যের মধ্যে ধনেপাতা অন্যতম। এর ইংরেজী নাম Parsley। বিভিন্ন তরকারি, চটপটি সুস্বাদু করতে ধনেপাতার ব্যবহার অনেক আগে থেকেই বহুল প্রচলিত। যারা শহরে থাকেন তাদের জন্য সুসংবাদ হল শীতকালীন সালাদ-শস্য ধনেপাতা চাষ করতে পারেন টবে করে বাসার ছাদে অথবা বারান্দায়।

    ধনেপাত: ধনেপাতার খাদ্যমান অনেক বেশি। এতে ক্যালসিয়াম, লৌহ ও ক্যারোটিন থাকে প্রচুর পরিমাণে। টবে ধনেপাতার চাষ করার সুবিধে হচ্ছে, মৌসুমে কয়েকবার খেয়ে আবার চাষ করা যায়।

    চাষের সময়: আশ্বিন থেকে পৌষ (সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর)

    বীজ বপন: ধনের বীজ ২৪ ঘন্টা ন্যাকড়ায় জড়িয়ে ভিজিয়ে রাখলে তাড়াতাড়ি গজাবে। ধনের জন্য চওড়া মুখ বিশিষ্ট টব নির্বাচন করতে হবে। ৩ থেকে ৪ সেন্টিমিটার গভীরে বীজ বুনে আবার মাটি দিয়ে ঢেকে সেচ দিতে হবে। মাটি ভেজা থাকলে জল দেওয়ার দরকার নেই।

    পরবর্তী পরিচর্যা: মাটিতে রস না থাকলে ২/১ দিন পর পর পানি সেচ দিতে হবে। পাখি যাতে পাতা না খায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বীজ বোনার পর পিঁপড়া যাতে খেয়ে ফেলতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পিঁপড়া লাগলে পাইরিফস বা পাইরিবান অথবা সেভিন ডাস্ট ছিটিয়ে পিঁপড়া দমন করতে হবে।

    পাতা তোলা: গাছ খুব ঘন হলে তা তুলে পাতলা করে দিতে হবে। গাছ বেশি বড় হওয়ার আগে তুলে খেতে হবে।
    ধনে উৎপাদন প্রযুক্তি

    ধনিয়ার চাষ সব রকমের মাটিতে করা যায়। তবে বেলে দোঁআশ থেকে এঁটেল দোঁআশ মাটি ধনিয়া চাষের জন্য উপযোগী। ধনে আবাদের জন্য পানি নিষ্কাশনের সুবিধা থাকতে হবে।
    বপনের সময় : সেপ্টেম্বর মাস।

    জমি তৈরি : মাটিও জমির প্রকার ভেদে ৪-৬টি চাষ ও মই দিতে হয়।

    বীজ বপন : বীজ বোনার আগে পানিতে ২৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। বীজ ছিটিয়ে বুনলে হেক্টর প্রতি দ্বিগুণ বীজ ব্যবহার করতে হবে। ধনে অন্য কোনো ফসলের সঙ্গে মিশ্র ফসল হিসেবে সারি পদ্ধতিতে বপনের জন্য ৪-৫ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়।

    সারের পরিমাণ ও প্রয়োগ পদ্ধতি : ধনে চাষের জন্য মাঝারি উর্বর মাটিতে হেক্টর প্রতি ১৫০-৩০০ কেজি ইউরিয়া, ১০০-২০০ কেজি টিএসপি, ৮০-১০০ কেজি এমপি এবং ৭-১০ টন গোবর সার প্রয়োগ করা প্রয়োজন। জমি তৈরির সময় অর্ধেক গোবর, সমুদয় টিএসপি ও অর্ধেক এমপি সার প্রয়োগ করতে হবে। বাকি অর্ধেক গোবর চারা রোপণের এক সপ্তাহ আগে মাদায় দিয়ে মিশিয়ে রাখতে হবে। এরপর চারা রোপণ করে সেচ দিতে হয়। ইউরিয়া এবং বাকি অর্ধেক এমপি সার ৩ কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। চারা লাগানোর ৮৮-১০ দিন পর প্রথম কিস্তিতে এবং চারা লাগানোর ৩০-৩৫ দিন পর বাকি সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

    অন্তর্বর্তীকালীন পরিচর্যা : পাতা ফসলের ক্ষেত্রে চারা গজানোর ১০-১৫ দিন পর প্রতি সারিতে ৫ সেন্টিমিটার পর পর একটি চারা রেখে অন্যগুলো তুলতে হবে। বীজ ফসলের ক্ষেত্রে প্রতি ১০ সেন্টিমিটার পর পর একটি চারা রাখতে হবে। নিড়ানি দিয়ে আগাছা পরিষ্কার এবং মাটি ঝুরঝুরে করে দিতে হবে। প্রতিবার সেচের পর পর জমির ‘জো’ আসা মাত্র মাটির চটা ভেঙে দিলে গাছের শিকড় প্রচুর পরিমাণে আলো বাতাস পাবে, ফলে গাছের বৃদ্ধি সহজ ত্বরান্বিত হবে। ধনে গাছে জমির পানি জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। তাই জমাকৃত অতিরিক্ত সেচের পানি বা বৃষ্টির পানি ২-১ ঘণ্টা মধ্যেই নিকাশের ব্যবস্থা করতে হবে।

    সবজি চাষ করুন টবে

    সবজি চাষ করুন টবে

    শাক-সবজি আমাদের শরীরের ভিটামিন ও খনিজ পর্দাথের উৎস। সুতরাং শাক-সবজি যত টাটকা খাওয়া যায় ততই ভাল। স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য শহরের বাসিন্দারা টাটকা সবজির জন্য মূলত বাজারের উপর নির্ভরশীল। অথচ অল্প পরিশ্রমেই বাড়ির ছাদে, বারান্দায়, কার্ণিশে, বড়-মাঝারি-ছোট বিভিন্ন আকারের টবে পছন্দ মাফিক শাক-সবজির আবাদ করতে পারে। টবে আবাদযোগ্য শাক-সবজি হল টমেটো, বেগুন, মরিচ, শশা, ঝিঙ্গা, মিষ্টি কুমড়া, মটরশুটি, কলমি শুটি, কলমি শাক, লাউ, পুঁই শাক, পেঁপে, পুদিনা পাতা, ধনে পাতা, থানকুঁনি, লেটুস, ব্রোকলি ইত্যাদি।

    টবের বীজতলার মাটি:
    শাক-সবজির বীজতলার জন্য মাটি হতে হবে ঝুরঝুরে, হালকা এবং পানি ধরে রাখার ক্ষমতাসম্পন্ন। মাটি চালনি দিয়ে চেলে জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে। দুই ভাগ বেলে দো-আঁশ মাটির সঙ্গে দুই ভাগ জৈব সার মিলিয়ে নিয়ে বীজতলার মাটি তৈরি করে নিতে হয়। মাটি যদি এঁটেল হয় তাহলে বীজের অঙ্কুরোদগমের সুবিধার জন্য একভাগ বালি মিশিয়ে হালকা করে নিতে হবে। মাটিকে শোধন করে জীবাণুমুক্ত করে নিয়ে চারাকে রোগবালাই থেকে রক্ষা করা সহজ। সাধারণত এক লিটার ফরমালডিহাইড শতকরা ৪০ ভাগ ৪০ লিটার পানিতে মিশিয়ে এই দ্রবণের ২৫ লিটার প্রতি ঘন মিটার মাটিতে কয়েক কিস্তিতে ভিজিয়ে দিতে হয়। এরপর দু'দিন চটের কাপড় দিয়ে মাটি ঢেকে রেখে পরে চট উঠিয়ে দিলে মাটি জীবাণুমুক্ত হয়ে যাবে।

    বীজ বপন ও সেচ:
    আগের নিয়মে মাটি হালকা ঝুরঝুরে করে টবের উপরের ভাগ সমতল করতে হবে। খুব হালকাভাবে বীজ ছড়িয়ে দিতে হবে টবের ভেতর। এরপর জৈব সার দিয়ে বীজগুলোকে ঢেকে দিতে হবে। পানি দিতে হবে নিয়মিত ছোট ছোট ছিদ্রযুক্ত ঝাজরি দিয়ে। লক্ষ্য রাখতে হবে, পানির ঝাপটায় যাতে বীজের উপর জৈব সারের আবরণ সরে না যায়। যে সব বীজ আকারে ছোট সেগুলোর ক্ষেত্রে উপর দিয়ে পানি দিলে বীজগুলো পানির ধাক্কায় একস্থানে অঙ্কুরোদগমে ব্যঘাত ঘটতে পারে। তাই সব টবের উপর দিয়ে পানি না দিয়ে তলা দিয়ে সেচের ব্যবস্থা করা উচিত।

    পরিচর্যা:
    অনেক সময় শাক-সবজির চারা, বিভিন্ন প্রকার পাখি, পিঁপড়া, মাকড়সা ইত্যাদি নষ্ট করে ফেলতে পারে। তার জন্য হেপ্টোক্লোর ৪০ পরিমাণ মত দিয়ে যাবতীয় পিঁপড়া ও মাকড়সার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা করা যায়। তবে পাখির হাত থেকে ফসল বাঁচাতে হলে টবের উপর তারের বা নাইলনের জাল দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় টবের মাটিতে বীজ বপনের আগে বিভিন্ন প্রকার আগাছা জন্মাতে পারে। আগাছাগুলো নিড়ানি দিয়ে খুঁচিয়ে তুলে ফেলে দিতে হবে। টবে চারা জন্মালে চারার গোড়ায় যেন আঘাত না লাগে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে, শাক-সবজি টবগুলোতে অবশ্যই আলো-বাতাস পায় এমন জায়গায় রাখা দরকার। তবে অতিরিক্ত ঝড়-বৃষ্টি-রোদ-তাপ থেকে রক্ষা করার জন্য সাময়িকভাবে টব নিরাপদ স্থানে সরানো যেতে পারে।

    সবজি সংগ্রহ:
    সবজি সময় মত সংগ্রহ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সবজি বেশিদিন গাছে না রেখে বেশি পোক্ত না করে নরম থাকতেই তুলে খাওয়া ভাল। এতে করে একদিকে যেমন নরম খাওয়া যায় অন্যদিক গাছে আরও বেশি সবজি আসে। সবজি গাছ থেকে ছিঁড়ে সংগ্রহ করা যাবে না। আস্তে করে কেটে সংগ্রহ করতে হবে। তাহলে সবজি গাছের কোন ক্ষতি হবে না।

    টবে সবজি আবাদের সুবিধা:
    টবে সবজি আবাদের বিশেষ কয়েকটি সুবিধা রয়েছে। যেমন- প্রাকৃতিক দূযোর্গ, প্রচণ্ড গরম, অতিরিক্ত বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, ঝড়-ঝঞ্ঝা ইত্যাদির কবল থেকে টবের সবজিকে রক্ষা করা যায় স্থানান-র করে। পশু-পাখির উপদ্রব থেকে বাঁচানো যায় জাল দিয়ে ঘিরে রেখে। সংসারের অব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের পাত্র ও সরঞ্জামাদি ব্যবহার করে খরচ কমিয়ে আনা যায়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত বীজ, সার, কীটনাশক ইত্যাদি অপব্যয় হয় না। নিজেরা তৈরি করে জৈব সার ব্যবহার করা যায় সবজিতে। ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য এগুলো সাজিয়ে রাখা যায় ঘরের বিভিন্ন জায়গায়।