Showing posts with label আই পি এম. Show all posts
Showing posts with label আই পি এম. Show all posts

Wednesday, March 29, 2017

ভুট্টার জাবপোকা বা এফিড দমনে করণীয়

  • Share The Gag
  • ভুট্টার জাবপোকা বা এফিড

    পিপিলিকার উপস্থিতি এ পোকার উপস্থিতিকে অনেক ক্ষেত্রে জানান দেয় । এ পোকা গাছের পাতার ও কান্ডের রস খেয়ে ফেলে এবং এক ধরনের মিষ্টি রস নিঃসরণ করে।এর আক্রমন বেশি হলে শুটি মোল্ড ছক্রাকের আক্রমন ঘটে এবং গাছ মরে যায় ।

    এর প্রতিকার হল:

    ১. অল্প আক্রমনের ক্ষেত্রে হাত দিয়ে পিশে পোকা মেরে ফেলা

    ২. আক্রান্ত পাতা অপসারণ করা।

    ৩. পরভোজী পোকা যেমন : লেডিবার্ডবিটল লালন।

    ৪. ডিটারজেন্ট পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা

    ৫. প্রতি গাছে ৫০ টির বেশি পোকার আক্রমণ হলে এডমেয়ার ০.৫ মি.লি. / লি. হারে পানিতে মিশিয়ে শেষ বিকেলে স্প্রে করা।
    পরবর্তীতে যা যা করবেন না:

    ১. বিলম্বে ভুট্টা বপন করবেন না

    পরবর্তীতে যা যা করবেন:

    ১. আগাম ভুট্টা বপন করুন
    ২. উন্নত জাতের ভুট্টা বপন করুন ।

    Saturday, March 18, 2017

    কাঁঠালের মুচি পঁচা রোগ

  • Share The Gag
  • কাঁঠালের মুচি পঁচা রোগ

    লক্ষণ : প্রথমে ফলের/ মুচির গায়ে বাতামী দাগ হয় তার পর আস্তে আস্তে কালচে হয়ে পঁচে যায় । পঁচা অংশে অনেক সময় ছত্রাকের সাদা মাইসেলিয়াম দেখা যায় ।

    প্রতিকার :
    ১. আক্রান্ত মুচি ও ফল সংগ্রহ করে পুড়ে ফেলা বা মাটি পুতে ফেলা
    ২. ফল বেশি ঘন থাকলে পাতলা করে দেয়া
    ৩. মেনকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক ২.৫ গ্রাম / লি. হারে পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা।

    কৃষকের আচরণগত পরিবর্তন যোগাযোগ (এফবিসিসি)

    পরবর্তীতে যা যা করবেন না

    ১. স্প্রে করার পর ১৫ দিনের মধ্যে সেই ফল খাবেন না বা বিক্রি করবেন না

    পরবর্তীতে যা যা করবেন

    ১. ফল সংগ্রহ করা শেষ হবার পর প্রতিটি গাছের ফলের বোটা, মরা ডাল বা রোগ বা পোকা আক্রান্ত পাতা ও ডাল অপসারণ করে অনুমোদিত একটি ছত্রাক নাশক ও একটি কীটনাশক স্প্রে করে দিন
    ২. বাগান/ গাছ সর্বদা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন

    Sunday, October 30, 2016

    কীটনাশক ছাড়াই বেগুন চাষ

  • Share The Gag
  • যখন কৃষকেরা ফসল উৎপাদনে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করছেন ঠিক তখনই কীটনাশক ছাড়া বেগুন উৎপাদন করছেন ঝিনাইদহের হরিনাকুণ্ডু উপজেলার পার্বতীপুর গ্রামের কৃষকেরা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে তারা আইপিএম (ফেরোমনট্রাপ) পদ্ধতি ব্যবহার করে ভালো ফল পাচ্ছেন বলে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

    পার্বত্যপুর গ্রামের বেগুন চাষী আয়ুব হোসেন জানান, এ পদ্ধতি সম্পর্কে যখন আমাকে প্রথম জানানো হয় তখন পদ্ধতি সম্পর্কে যেন কাল্পনিক একটা ঘটনা বলে মনে হয়েছিল। আমরা দুই ভাই পার্বতীপুরের এই মাঠে একএকর জমিতে বেগুন চাষ করেছি। প্রথম দিকে আইপিএম পদ্ধতি ব্যবহার করার পরও বেগুন নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে গোপনে কীটনাশক স্প্রে করতাম। কিন্তু বেগুনের দাম যখন কমে গেল কীটনাশক স্প্রে করা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। এখন দেখি ভালো বেগুন পাওয়া যাচ্ছে। আমরা সবজিতে প্রতিদিনেই কীটনাশক স্প্রে করে অভ্যস্ত। তাই এ পদ্ধতি প্রথমে মেনে নিতে পারছিলাম না।

    একই গ্রামের বেগুন চাষী ইব্রাহীম, সোলাইমান, ইউনুছ আলি জানান, তারা এ পদ্ধতি ব্যবহার করে ভালো ফলন পাচ্ছেন। তাদের কীটনাশক ছাড়াই এ  পদ্ধতিতে চাষ করা দেখে অনেকেই করলা, লাউ ও শসা চাষে এ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।

    স্কুল শিক্ষক আমিনুল ইসলাম জানান, আমরা যে কীটনাশক ছাড়াই সবজি বা ভেজাল মুক্ত পণ্য খেতে চাই। তা এ বেগুন চাষের দৃশ্য দেখলেই বোঝা যাচ্ছে। কারণ তারা বেগুন বাজারে নিয়ে গেলে দাম একটু বেশি হলেও আগে আগেই বিক্রি হয়। প্রতিটি কৃষকেরই উচিত এ পদ্ধতি ব্যবহার করা এবং পোকার আক্রমণ অতিরিক্ত হলে সেই ক্ষেত্রে কৃষি অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তাছাড়া যারা বেগুন বা সবজি চাষ করেন প্রতিদিনই ক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে করেন। আর এ পদ্ধতি ব্যবহার করে কৃষকরা যে লাভবান হচ্ছেন এটা কৃষকদের জন্য সুখবর।

    এ বিষয়ে হরিনাকুণ্ডু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিশংকর জানান, এটাকে সেক্স ফেরোমন লেয়ার পদ্ধতি বলা হয়। ওই বক্সের মধ্যে পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী পোকার গন্ধ দেয়া থাকে। দূর হতে পুরুষ পোকা আকৃষ্ট হয়ে ওই বক্সের মধ্যে চলে আসে এবং বক্সের মধ্যে রাখা সাবান পানিতে পড়ে পোকা মারা যায়। যদি কোনো মাঠের সবজি চাষীরা একত্রিত হয়ে সকলেই এ পদ্ধতি ব্যবহার করে তাহলে শতকরা ৭৫/৮০ ভাগ পোকা দমন করা সম্ভব।

    সাতকানিয়ায় সবজি ফলছে কীটনাশক ছাড়াই

  • Share The Gag
  • মাঠজুড়ে সবজি। টমেটো, লাউ ও শিমে ভরপুর জমি। চািষরা ব্যস্ত সবজি তোলায়। এ চিত্র সাতকানিয়ার বাজালিয়া ও ছাদাহা ইউনিয়নের। দুটি এলাকার জন্য এ দৃশ্য নতুন নয়। হামেশাই এখানে নানা সবজির আবাদ হয়। কিন্তু এবার ভিন্ন—বিষমুক্ত সবজির চাষ করছেন এখানকার চাষিরা।
    সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজির আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে বাজালিয়া ও ছদাহা ইউনিয়নের বুড়ির দোকান, শিশুতল, দক্ষিণ ছদাহা, খোদ্দ কেঁওচিয়া, বিল্লিয়াপাড়া, হোসেনপাড়া ও বাইতুশ শরফপাড়া এলাকার ৩০ হেক্টর জমিতে সেক্স ফেরোমন ফাঁদের মাধ্যমে কীটনাশক ছাড়াই সবজির আবাদ করা হয়েছে।
    ছদাহা ইউনিয়নের শিশুতল ও বাজালিয়া ইউনিয়নের বুড়ির দোকান এলাকায় দেখা গেছে, টমেটো ও শিমখেতের মাঝে মাঝে বাঁশের খুঁটি দিয়ে প্লাস্টিকের পাত্র ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এসব পাত্রের তলায় অল্প পরিমাণ পানিতে মরে আছে কীটপতঙ্গ।
    চাষিরা জানান, পোকার আক্রমণ থেকে বাঁচতে প্রতিবছর সবজিখেতে কীটনাশক ছিটানো হতো। কৃষি বিভাগের লোকজন ঘরে ঘরে এসে অধিক ফলনের উৎসাহ ও ক্ষতির ব্যাপারে অভয় দেওয়ার পর সেক্স ফেরোমন ফাঁদে সবজি উৎপাদনে আগ্রহী হয়েছেন।
    শিশুতল এলাকার সবজিচাষি আবুল হোসেন বলেন, ‘চলতি বছর সাত কানি (এক একর সমান আড়াই কানি) জমিতে টমেটো চাষ করেছি। টমেটোখেতে কোনো ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করিনি। শুধু সেক্স ফেরোমন ফাঁদ বসানো হয়েছে। ওই ফাঁদে পড়ে প্রতিদিন ক্ষতিকর পোকা মারা যাচ্ছে। ফলে কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হচ্ছে না।’
    দক্ষিণ ছদাহা এলাকার চাষি আবুল হাশেম বলেন, প্রতি কানি টমেটো চাষে প্রায় এক লাখ টাকার কাছাকাছি খরচ পড়ে। তবে এ বছর ওই খরচ অনেক কম পড়বে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, পোকার আক্রমণ থেকে সবজি বাঁচাতে প্রতি কানিতে ১০ হাজার টাকার মতো কীটনাশক ব্যবহার করতে হতো। কিন্তু এ বছর কীটনাশক ব্যবহার না করায় ওই খরচটা বেঁচে গেল। সে হিসাবে লাভের পরিমাণ বাড়বে।
    উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আয়ুব আলী প্রথম আলোকে বলেন, বিষমুক্ত সবজিখেতগুলো প্রতিদিনই পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে শিম ও লাউ চাষিরা বাজারে বিক্রি শুরু করেছেন। টমেটো পরিপক্ব হচ্ছে। ১৫-২০ দিনের মধ্যে চাষিরা বিষমুক্ত টমেটো তুলতে পারবেন।
    তিনি জানান, সেক্স ফেরোমন পুরুষ পোকা আকর্ষণের সুগন্ধি। এটির গন্ধ বাতাসে ছড়ালে পুরুষ পোকা এসে পাত্রে পড়ে। এরপর মারা যায়। পুরুষ পোকা মারা গেলে বংশবৃদ্ধি কমতে থাকে।
    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খাজানুর রহমান বলেন, প্রথম দিকে উপজেলার কোনো চাষি বিষমুক্ত সবজি চাষে আগ্রহী ছিলেন না। অভয় ও বিভিন্নভাবে উৎসাহ দেওয়ায় কিছু চাষি পরীক্ষামূলকভাবে ৩০ হেক্টর জমিতে বিষমুক্ত টমেটো, লাউ ও শিমের চাষ করেছেন। চাষিরা কীটনাশক ছাড়াই ফেরোমন ফাঁদের মাধ্যমে ভালো সবজি উৎপাদন করতে পারলে ভবিষ্যতে উপজেলার প্রতিটি গ্রামে বিষমুক্ত সবজি চাষের বিপ্লব ঘটে যাবে।

    সূত্রঃ প্রথম আলো

    পলিথিনের শব্দে পালিয়ে যায় ইঁদুর

  • Share The Gag
  • সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় উপদ্রব। সারা রাত ধরে আমনের খেতে গাছের গোড়া কাটে ইঁদুরগুলো। এদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েন কৃষকেরা। কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিলেন না তাঁরা।

    নিজেদের অসহায়ত্বের কথা এভাবেই তুলে ধরেন নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার আমনচাষিরা। উপজেলায় এবার আমন মৌসুমের শুরুতে প্রচণ্ড খরা আর অনাবৃষ্টি দেখা দেয়। এ অবস্থায় সেচযন্ত্র ব্যবহার করে আমনের চারা রোপণ করেন কৃষকেরা। পরে বেশ বৃষ্টি হয়। লকলক করে বেড়ে ওঠে আমনের খেত। আশ্বস্ত হতে না–হতেই শুরু হয় ইঁদুরের উপদ্রব।


    কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পোকা দমনের কীটনাশক ব্যবহার করেও ইঁদুর তাড়ানো যাচ্ছিল না। সন্ধ্যার পর আমনের খেতে ইঁদুর এসে গাছের গোড়া কেটে দেয়। পরদিন সেই আমনের গাছ গবাদিপশুকে খাওয়ানো ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। এমন অবস্থায় কৃষি বিভাগের দ্বারস্থ হন তাঁরা। কৃষি বিভাগের পরামর্শে পলিথিনের ঝান্ডা তৈরি করে পুঁতে দেন পুরো খেতে। বাতাসে সেই পলিথিন পতপত করে শব্দ করে। এ শব্দে ইঁদুর মনে করে কেউ আসছে, তাই ভয়ে পালিয়ে যায়। এখন আর ইঁদুর ধান কাটছে না।

    উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের বাকডোকরা গ্রামের কৃষক মোজাক্কের বলেন, ‘নদী এলাকার জমিতে ইঁদুরের উপদ্রব সবচেয়ে বেশি হয়। আমনখেতে ইঁদুরের উপদ্রব থেকে বাঁচতে পলিথিনের ঝান্ডা উড়িয়ে উপকার পেয়েছি।’

    উপজেলার কামারপুকুর, কাশিরাম বেলপুকুর, খাতামধুপুর, বাঙালিপুর, বোতলাগাড়ী ইউনিয়ন ও সৈয়দপুর পৌর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় শতাধিক একর জমিতে ইঁদুরের উপদ্রব দেখা দিয়েছে।

    সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হোমায়রা মণ্ডল বলেন, এ বছর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে প্রায় ৮ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আবাদ হয়েছে আরও বেশি জমিতে। খেতের পোকামাকড় ও ইঁদুরের উপদ্রব থেকে ফসল রক্ষার জন্য মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

    মাজরা পোকার আক্রমণে ফলন কমছে

  • Share The Gag
  • চলছে আমন ধানের মৌসুম। ধানের এ বাড়ন্ত সময়ে পোকা দমনে উদ্যোগী না হলে ফলন বহুলাংশে হ্রাস পায়। আমন ধানে যতো ধরনের পোকার আক্রমণ হয়, তার মধ্যে হলুদ মাজরা পোকা সবচেয়ে ক্ষতিকর।

    হলুদ মাজরা পোকার অভিযোজন ক্ষমতা বেশি হওয়ায় আমন মৌসুমে বৃষ্টি বেশি হলেও পানিতে অনায়েসে বেঁচে থাকতে পারে। এ পোকা যে গাছে আক্রমণ করে সেই গাছের শীষ সম্পূর্ণভাবে চিটা হয়। পোকা দমন করা খুবই কষ্টসাধ্য। এর ফলে ফলন কমে যায় শতকরা ৮০ ভাগ পর্যন্ত। অনেক সময় ফলন নেমে আসতে পারে শূন্যের কোটায়।

    এই পোকা সম্পর্কে বাংলানিউজের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) কীটতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান।

    ধানের হলুদ মাজরা পোকা আক্রমণের লক্ষণ সম্পর্কে তিনি জানান,

    শীষ বের হওয়ার আগে: ধানের গোছার মাঝখানের ডিক পাতা হলুদ হয়ে যায়। পোকাটি লার্ভা অবস্থায় কাণ্ডের ভেতরের অংশ খেতে শুরু করে। একপর্যায়ে যখন ডিক পাতা গোড়া থেকে বিছিন্ন হয়ে গেলে পাতাটি মরে যায়। এই মরা ডিগ পাতাটি টান দিলে সহজেই উঠে আসে। যাকে ডেড হার্ট বলে।

    শীষ বের হওয়ার পরে: শীষ আসা অবস্থায় আক্রমণ হলে ধানের শীষগুলো সাদা হয়ে যায়। এ পোকার আক্রমণে শীষের দানাগুলোতে পুষ্টি সরবরাহ হয় না। ফলে শীষের সব দানা চিটায় পরিণত হয়। জুলাই (আষাঢ়) থেকে অক্টোবর (আশ্বিন) মাস পর্যন্ত আমন ধানে মাজরা পোকার আক্রমণ বেশি হয়।

    বিরতিহীন ধান চাষ এ পোকার বংশ বাড়াতে উল্ল্যেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া বন্য ধান গাছ ও অন্যান্য ধান জাতীয় আগাছাও বিকল্প পোষক হিসেবে কাজ করে। মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া সার প্রয়োগে এ পোকার প্রার্দুভাব ব্যাপক আকার ধারণ করে। জলি আমনে এ পোকার ছয়বার পর্যন্ত বংশ বিস্তার করে।

    এ পোকার আক্রমণে দমন ব্যবস্থা সম্পকে তিনি বলেন, জমিতে শতকরা ১০-১৫ ভাগ মরা ডিগ অথবা শতকরা পাঁচ শতাংশ সাদা শীষ দেখা দিলে অতি দ্রুত কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে। অনুমোদিত কার্যকরী কীটনাশকের মধ্যে রয়েছে ফুরাডান ৫জি, ফিপরোনিল ৩জি। যা প্রতি হেক্টরে ১০ কেজি দিতে হবে।

    এছাড়া প্রতি হেক্টরে পাঁচ কেজি থায়ামেথোক্সাম ও ক্লোরানট্রানিলি (০.৬ জি) প্রয়োগ করেও এ পোকা দমন করা যায়। প্রাকৃতিকভাবে ঘাসফড়িং হলুদ মাজরা পোকার ডিম খেয়ে থাকে। এছাড়া পরজীবী ট্রাইকোগ্রামা হলুদ মাজরা পোকার ডিম থেকে পুষ্টি নিয়ে থাকে। ফলে ওইসব ডিম থেকে লার্ভা জন্মাতে পারে না।

    আলোর ফাঁদ ব্যবহার করে পূর্ণবয়স্ক পোকা দমন করা যায়। এরা গাদা করে ডিম পাড়ে। তাই ডিমের গাদা সংগ্রহ করে এদের ভালোভাবে দমন করা সম্ভব। হলুদ মাজরা পোকা থেকে প্রতিরোধের উপায় প্রসঙ্গে ড. মিজানুর রহমান জানান, বীজতলায় চারা গাছের পাতার আগার দিকে স্ত্রী পোকা ডিম পাড়ে। তাই রোপা ধান খেতে চারা গাছ রোপণ করার আগেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। বীজ তলায় চারা গাছের পাতার আগা কাঁচি দিয়ে ছাটলে ডিমগুলো আর মূল মাঠে যেতে পারে না। এভাবে প্রায় ৫০ ভাগ হলুদ মাজরা পোকার ডিম ধ্বংস করা যায়।

    সূত্রঃ বাংলা নিউজ ২৪

    Wednesday, July 20, 2016

    সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থা

  • Share The Gag
  • সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থা



    আইপিএম বা সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা বলতে পরিবেশকে দুষণমুক্ত রেখে প্রয়োজনে এক বা একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ফসলের ক্ষতিকারক পোকা ও রোগ বালাইকে অর্থনৈতিক ক্ষতি সীমার নিচে রাখাকে বুঝায়, যাতে করে পরিবেশ দূষিত না হয়। উপকারী পোকামাকড় সংরক্ষণ, বালাই সহনশীল জাত ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ব্যবহার এবং সর্বশেষ ব্যবস্থা হিসেবে বালাই নাশকের সময়োচিত ও যুক্তি সঙ্গত ব্যবহারকে নিশ্চিত করে।

    উপকারিতা


    • আই পি এম গ্রহনের ফলে উপকারী পোকা মাকড়, মাছ, ব্যাঙ, পশু, পাখি ও গুই সাপ প্রভৃতি সংরক্ষণ করা যায়।

    • বালাইনাশকের যুক্তি সঙ্গত ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, যথেচ্ছ ব্যবহার না হওয়ায় উৎপাদন খরচ কমে।

    • বালাইনাশকের পরবর্তী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রোধ করা সম্ভব হয়। এতে করে বালাইনাশক জনিত দুর্ঘটনা সহজেই এড়ানো যায়।

    • ক্ষতিকারক পোকা-মাকড় বালাইনাশক সহনশীলতা অর্জন করার সুযোগ পায় না।

    • বালাই- এর পুনরাবৃত্তি ঘটার সম্ভাবনা কম।

    • সর্বোপরি পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং দুষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।



    উপাদান সমূহ

    আইপিএম এর পাঁচটি উপাদান।

    উপকারী পোকামাকড় ও প্রাণী সংরক্ষণ


    • জৈবিক দমনে ব্যাঙ, চিল, পেঁচা, গুইসাপ, মাকড়সা, লেডী বার্ড বিটল, ক্যারাবিড বিটল, বোলতা, মিরিড বাগ, ওয়াটার বাগ, ড্যামসেল ফড়িং প্রভৃতি উপকারী পোকামাকড় ও অন্যান্য প্রাণী ক্ষতিকারক পোকা দমনে যথেষ্ট সাহায্য করে।

    • উপকারী পোকামাকড়ের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য :




    • ধান ক্ষেতের আইলে শিম ও শসা জাতীয় ফসল আবাদ করা।

    • জমিতে পরিমিত পরিমাণ পানি রাখা।

    • ফসল কাটার অন্তত: ৪/৫ ঘন্টা পর জমিতে লাঙল দেওয়া।

    • ফসল কাটার পর আইলে কিছু খরকুটা বিছিয়ে দেওয়া।

    • জমিতে বাঁশের বুষ্টার স্থাপনের মাধ্যমে বোলতা প্রতিপালন করা।

    • বালাইনাশকের এলোপাতাড়ি ব্যবহার পরিহার করা।



    বালাই সহনশীল জাতের চাষাবাদ

    ক্ষতিকারক পোকামাকড় ও রোগের আক্রমণ অনেকাংশে রোধ করতে পারে। যেমন-


    • বি আর ২৬: সাদা-পিঠ গাছ ফড়িং ও ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধশীল এবং পাতাপোড়া রোগ, বাদামি গাছ ফড়িং সবুজ পাতা ফড়িং আক্রমণে মধ্যম প্রতিরোধশীল।

    • বাদামী গাছ ফড়িং ও সবুজ পাত ফড়িং আক্রমণে মধ্যম প্রতিরোধশীল ।

    • ব্রি ধান ২৭: সাদা পিঠ গাছ ফড়িং এর আক্রমণে প্রতিরোধশীল।

    • টুংরো, ব্লাস্ট, পাতাপোড়া রোগ এবং বাদামি গাছ ফড়িং ও পামরী পোকার আক্রমণে মধ্যম প্রতিরোধশীল।

    • ব্রি ধান ৩১: বাদামি গাছ ফড়িং পোকার আক্রমণে প্রতিরোধশীল এবং পাতা পোড়া ও টুংরো রোগে মধ্যম প্রতিরোধশীল ।

    • ব্রি ধান ৩৫: বাদামি গাছ ফড়িং প্রতিরোধশীল এবং টুংরো রোগ মধ্যম প্রতিরোধশীল ।



    আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির ব্যবহার

    সুস্থ বীজ, সঠিক দূরত্বে রোপন, সবল চারা, সুষম সার, আগাছা মুক্ত জমি, সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা, সারিতে রোপণ ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি গ্রহনে অধিক ফলন পাওয়া যায়।

     

    যান্ত্রিক দমন পদ্ধতি


    • হাত জালের সাহায্যে পোকা ধরে মারা।

    • আলোর ফাঁদে পোকা ধরা।

    • আক্রান্ত পাতার আগা কেটে দেওয়া।

    • পাখি বসার জন্য ডাল পুঁতা।

    • হাত দিয়ে পোকার ডিম সংগ্রহ করে ধংশ করা।

    • এসব পদ্ধতি ব্যবহারে বালাইকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।



    রাসায়নিক দমন ব্যবস্থা


    • নিয়মিতভাবে অপকারী ও উপকারী পোকামাকড়ের উপস্থিতি জরিপ করা।

    • সর্বশেষ ব্যবস্থা হিসেবে কেবল আক্রান্ত জমিতে সঠিক বালাইনাশক, সঠিক সময়, সঠিক মাত্রায় ও সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করা।



    প্রথম ৪টি উপাদানের সাহায্যে ও যদি ক্ষতিকারক পোকা- মাকড় ও রোগের আক্রমণ দমিয়ে রাখা সম্ভব না হয়, কেবল তখনই সর্বশেষ ব্যবস্থা হিসেবে বালাইনাশক ব্যবহার করা র্অথাৎ পোকার সংখ্যা অর্থনৈতিক দ্বারপ্রান্তে (ইটিএল) পৌঁছে গেলে তখনই বালাইনাশক সঠিকভাবে ব্যবহার করা দরকার।

     

    Tuesday, April 26, 2016

    জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বিকল্প উপায়ে পোকা দমন

  • Share The Gag
  • দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে কৃষকের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কৃষিক্ষেতে বিকল্প উপায়ে পোকা দমন। দির্ঘদিন থেকে কীটনাশক ব্যবহার করে কৃষিক্ষেতে পোকা দমন করলেও সম্প্রতি বরেন্দ্র বহুমুখি প্রকল্প ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ এর উদ্যেগে কৃষকদের কীটনাশক ছাড়াই বিকল্প উপায়ে কৃষিক্ষেতে পোকা দমন শুরু হয়েছে।

    উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বোরো ক্ষেতে গাছের ডাল, বাশের কঞ্চি স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে পাখিরা বসে ফসলের ক্ষতিকারক পোকা ধরে ধরে খাচ্ছে।

    কৃষকেরা জানায়, জমিতে গাছের ডাল ও বাশের কঞ্চি স্থাপন করা হলে সেখানে নিয়মিত পাখি বসে এবং ফসলের ক্ষতিকারক পোকা ধরে খায়। এতে করে ফসল পোকার হাত থেকে রক্ষা পায়। এ কারন্ইে ফসলে আর কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়না ।
    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হামিম আশরাফ জানান, কৃষিক্ষেতে কীটনাশক ব্যবহার করে পোকা দমন করলে জমিতে থাকা ব্যাটটেরিয়া ও পোকামাড়ক ধ্বংস হয়ে যায়। এতে করে জমির উর্বরা শক্তি ও কমে যায়। অপরদিকে বিষাক্তযুক্ত ফসল মানবদেহের ক্ষতি করে । কিন্তু বিকল্প উপায়ে জমির ক্ষেতে পার্চিং করলে সেখানে পাখিরা বসে ফসলের ক্ষতিকারক পোকা খেয়ে ফেলে এতে ফসল পোকার হাত থেকে রক্ষা পায় । পক্ষান্তরে জমির উর্বরা শক্তি ধরে রাখে । এ কারনে কৃষকদেরকে বিকল্প উপায়ে পোকাদমনে উদ্বূদ্ধ করা হয়েছে।

    উপজেলা বরেন্দ্র কর্মকর্তা ও বরেন্দ্র বহুমুখি প্রকল্পের সহকারি প্রকৌশলী আজমল হোসেন জানান, বরেন্দ্র সেচ প্রকল্পের আওতায় বোরো চাষীদেরকে বিকল্প উপায়ে পোকা দমন করতে উদ্ভুব্দ করতে প্রথমে বরেন্দ্র প্রকল্পের উদ্যেগে প্রতিটি বোরো ক্ষেতে পার্চিং করা হয়েছে। পার্চিং এর সুবিধা কৃষকেরা বুঝতে পেরে এখন তারা নিজেরাই পার্চিং শুরু করেছেন। তিনি বলেন, বরেন্দ্র বহুমুখী প্রকল্প শুধু জমিতে সেচই দেয়না কৃষকদেরকে ভালো ফসল উৎপাদনের জন্য উদ্ভুব্ধ করায় এবং জমিতে সেচ দেয়ার পাশাপাশি উপজেলার ৯টি গ্রামে প্রায় ২হাজার পরিবারকে বিশুদ্ধ সরবরাহ করছে। এতে শুস্ক মৌসুমে যখন পানির তিব্র সংকট থাকে তখন ওই আশপাশের জনসাধারনের একমাত্র ভরসা হয়ে দাড়ায় বরেন্দ্র বহুমুখী প্রকল্পের সরবরাহকৃত বিশুদ্ধ খাবার পানি।

    Wednesday, February 17, 2016

    সেক্স ফেরোমোন

  • Share The Gag
  • ফেরোমোন বা এক্টোহরমোন হল এমন এক ধরণের রাসায়নিক আকর্ষক পদার্থ যা কীটপতঙ্গের দেহ থেকে বাইরের পরিবেশে নির্গত হয় এবং তা ঐ কীটপতঙ্গের নিজস্ব প্রজাতির পোকাকে আকৃষ্ট করে। আর যে ফেরোমোন প্রজননের উদ্দেশ্যে তার বিপরীত লিঙ্গের পোকাকে কাছে টানে তাকে সেক্স ফেরোমোন বলে। অধিকাংশ লেপিডোপটেরা বর্গের স্ত্রী পোকা এই ফেরোমোন নিঃসরণ করে। যেমন-ডাই মিথ্যাইল ডিক্যাল ২,৬ ডাইলরিক এসিড।

    পোকা সেক্স হরমোন দিনের বেলায় কোন নির্দিষ্ট সময়ে নিঃসরণ করে থাকে। এই বিশেষ সময় সনাক্ত করে পোকা থেকে সেক্স ফেরোমোন আহরণ করে পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করে তার গঠন জেনে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়। বিভিন্ন ফসলের পোকা ধরার জন্য ফাঁদে সেক্স ফেরোমোন ব্যবহার করা হয়। ফাঁদ দিয়ে পূর্ণবয়স্ক পুরুষ পোকা ধরা হয়। অল্প পরিমাণে পোকা ফাঁদে পড়লে পোকার আক্রমণের সময় ও তীব্রতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যাবেনা।

    একটি ফসলে ধরা পড়া পোকা দেখে অন্য ফসলে কি পরিমাণে পোকা আসবে তার পূর্বাভাস দেয়া যায় না। এমনকি যদি ফসল দু’টি পাশাপাশি ক্ষেতেও থাকে। সেক্স ফেরোমোন ব্যবহৃত ফাঁদ খুবই কার্যকরী ব্যবস্থা হিসাবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। বর্তমানে বেগুনের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা ও কুমড়ার মাছি পোকা দমনে সেক্স ফেরোমোন ফাঁদ ব্যবহৃত হচ্ছে যা কিনা কার্যকরীভাবে পোকা নিয়ন্ত্রণ করছে এবং একই সাথে পরিবেশ বান্ধব।