Showing posts with label কৃষি স্বাস্থ্য. Show all posts
Showing posts with label কৃষি স্বাস্থ্য. Show all posts

Thursday, May 4, 2017

পাকা পেঁপের গুনাগুন ও উপকারিতা

  • Share The Gag
  • পেঁপের গুনাগুন ও উপকারিতা:

    বাংলাদেশের এমন কোন জায়গা পাওয়া যাবে না যেখানে পেঁপে পাওয়া যায় না। পেঁপে একটি সবজি বা ফল আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী । কাঁচা অবস্থায় পেঁপে সবজি আর পাকা অবস্থায় ফল। এই জন্য পেঁপেকে ফলের রাজা বলা হয়। পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণ মিনারেল, অ্যানটিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন রয়েছে যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। শুধু তাই নয়, পেঁপেকে ভিটামিনের স্টোর বলা হয়।

    যাদের পেটে গোলমাল দেখা দেয়, তারা পেঁপে খেতে পারেন। অন্যান্য ফলের তুলনায় পেঁপেতে ক্যারোটিন অনেক বেশি থাকে। আর ক্যালরির পরিমাণ বেশ কম থাকায়, যারা মেদ সমস্যায় ভুগছেন তারা পেঁপে খেতে পারেন অনায়াসে। শুধু ওজন হ্রাস নয় সাথে পেঁপের রয়েছে আরও নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা। এই ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ ও সি আছে। যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের জন্য মিষ্টি খাওয়া হারাম। কিন্তু আমাদের দেশের অত্যন্ত সহজলভ্য একটি ফল পেঁপে, যা মিষ্টি হলেও ডায়াবেটিস রোগীরা খেতে পারেন। চোখের সমস্যা বা সর্দিকাশির সমস্যা থাকলে পেঁপে খেতে পারেন, কাজে দেবে। যারা হজমের সমস্যায় ভোগেন তারা পেঁপে খেলে উপকার পাবেন। এই ফলে কোনো ক্ষতিকর উপাদান নেই। পেঁপেতে আছে পটাশিয়াম। তাই এই ফল রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি হাইপারটেনশন কমায় অনেকখানি। শরীরে থাকা বিভিন্ন ক্ষতিকর কোলেস্টরলের মাত্রা কমিয়ে দেয় পেঁপে।

    তাই নিয়মিত পেঁপে খেলে হৃদযন্ত্রের নানা সমস্যা যেমন হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। যাদের কানে ঘন ঘন ইনফেকশন হয় তারা পেঁপে খেয়ে দেখতে পারেন, উপকার পাবেন। পেঁপে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ফল, তাই ত্বকের লাবণ্য ও উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে। এছাড়া পেঁপে আরো নানা গুণের অধিকারী। জেনে নিন প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কেন পেঁপে রাখবেন।

    ১। ব্রণ ও কালো দাগ তুলতে

    পাকা পেঁপে কালো দাগ দূর করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। পাকা এক টুকরো পেঁপে নিয়ে আক্রান্ত স্থানে ভালো করে ঘষে দিন। আধা ঘণ্টা রাখুন, তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। সপ্তাহে ৩/৪ বার এভাবে করতে থাকেন। পেঁপেতে থাকা প্যাপিন মরা কোষ দূর করে ত্বকের রঙ উজ্জ্বল করে তোলে।

    ২। হজমশক্তি বাড়াতে

    হজমের গোলমাল একটি ব্যাপক সমস্যা। হজমশক্তি কমে গেলে অম্বল হয়ে যায়, মুখে চোকা ঢেকুর ওঠে, পেট ব্যথা শুরু হয়। কখনো চিনচিনে ব্যথা, কখনো ভয়ঙ্কর ব্যথা হয়। কখনো কোষ্ঠ পরিষ্কার হয় না আর কখনো পেট খারাপ হয়। শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, শরীরে অবসাদ দেখা দেয়। পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে এনজাইম আছে যা খাবার হজমে সহায়তা করে থাকে। এছাড়াও প্রচুর পানি ও দ্রবণীয় ফাইবার আছে। যার ফলে হজমের সমস্যায় যে সকল মানুষ ভুগে থাকেন তাঁরা নিয়মিত পাকা বা কাঁচা পেঁপে খেতে পারেন। এক্ষেত্রে পেঁপে খুব উপকারি।

    ৩। রক্ত আমাশয়

    রক্ত আমাশয় দেহের অনেক বড় সমস্যা। প্রত্যেহ সকালে কাঁচা পেঁপের আঠা ৫/৭ ফোঁটা ৫/৬ টি বাতাসার সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে। ২/৩ দিন খাওয়ার পর রক্তপড়া কমতে থাকবে।

    ৪। ক্রিমি

    যে কোনো প্রকারের ক্রিমি হলে, পেঁপের আঠা ১৫ ফোঁটা ও মধু ১চা চামচ একসঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে। এরপর আধা ঘন্টা পরে উঞ্চ পানি আধ কাপ খেয়ে তারপরে ১ চামচ বাখারি (শসা-ক্ষীরার মতো এর স্বাদ) চুনের পানি খেতে হয়। এভাবে ২ দিন খেলে ক্রিমির উপদ্রব কমে যাবে। ক্রিমি বিনাশের ক্ষেত্রে পেঁপে এটি ফলপ্রদ ওষুধ।

    ৫। আমাশয়

    আমাশয় ও পেটে যন্ত্রনা থাকলে কাঁচা পেঁপের আঠা ৩০ ফোঁটা ও ১ চামচ চুনের পানি মিশিয়ে তাতে একটু দুধ দিয়ে খেতে হবে। একবার খেলেই পেটের যন্ত্রনা কমে যাবে এবং আমাশয় কমে যাবে । আমাশয় থেকে মুক্তি পাওয়ার অদ্ভুত শক্তি আছে কাঁচা পেঁপের আঠায়।

    ৬। যকৃত বৃদ্ধিতে

    এই অবস্থা হলে ৩০ ফোঁটা পেঁপের আঠাতে এক চামচ চিনি মিশিয়ে এক কাপ পানিতে ভালো করে নেড়ে মিশ্রণটি সারাদিনে ৩বার খেতে হবে। ৪/৫ দিনের পর থেকে যকৃতের বৃদ্ধিটা কমতে থাকবে, তবে ৫/৬ দিন খাওয়ার পর সপ্তাহে ২ দিন খাওয়াই ভালো। এভাবে ১ মাস খেলে ভাল ফল পাওয়া যাবে।

    ৭। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

    পেঁপেতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি ও ই। এই ভিটামিন গুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে। এছাড়া পেঁপেতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ যা চোখের জন্য উপকারী।

    ৮। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে

    চিনির পরিমাণ কম থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পেঁপে একটি আর্দশ ফল। যাদের ডায়াবেটিস নেই তাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পেঁপে রাখা উচিত। পেঁপে ডায়াবেটিস হওয়া প্রতিরোধ করে।

    ৯। হাড়ের ব্যথা রোধে

    পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং কপার রয়েছে, নিয়মিত পেঁপে খাওয়ার ফলে শরীরে ক্যালসিয়াম তৈরি হয় যা হাড় মজবুত করে ব্যথা হ্রাস করে।

    ১০। স্ট্রেস হ্রাস করতে

    সারাদিন ক্লান্তি এক নিমিষে দূর করে দিতে পারে এক প্লেট পেঁপে। এতে থাকা ভিটামিন সি স্ট্রেস হ্রাস করে। University of Alabama এর মতে প্রতিদিন ২০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি আমাদের খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত যা স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।

    ১১। ক্যান্সার প্রতিরোধক

    কাঁচা পেঁপে শরীরের জন্য খুব উপকারী। এতে রয়েছে প্রোটিওলাইটিক এনজাইম। এই উপাদানটি প্রটিন হজম করতে সাহায্য করে । ক্যান্সার নিরাময়েও ভূমিকা রাখে, এই জন্য পেঁপে রান্নার পরিবর্তে কাঁচা খাওয়াটাই উত্তম। পেঁপেতে আরও রয়েছে প্রচুর পরিমাণের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফ্ল্যাভোনোক্সিড যা দেহে ক্যান্সারের কোষ তৈরিতে বাঁধা দেয়। Harvard School of Public Health’s Department এক গবেষণায় দেখা গেছে যে পেঁপের বিটা কেরোটিন উপাদান কোলন ক্যান্সার, প্রোসটেট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

    ১২। শরীর শুকিয়ে গেলে

    কোনো কারণ নেই অযথা শরীর শুকিয়ে যাচ্ছে, এমন অবস্থায় মুখোমুখি অনেককেই হতে দেখা যায়। বিশেষ করে অল্পবয়সীদের ক্ষেত্রে এ উপসর্গের প্রকোপ বেশি। শরীরে অবসাদজনিত ক্লান্তি, একটা মনমরা ভাব, পড়াশোনা বা কাজকর্মে অনীহা প্রভৃতি উপসর্গ এর সাথেই আসে। প্রায়ই এর সাথে জড়িয়ে থাকে কোষ্ঠকাঠিন্য। এক্ষেত্রে পেঁপে খুবই ফলপ্রসূ। কাঁচা বা পাকা যে অবস্থায়ই হোক। সকালে ও বিকেলে প্রতিদিন কয়েক টুকরো করে খেতে হবে। অন্তত এক মাস নিয়মিত খেতে হবে।

    ১৩। উচ্চরক্তচাপ কমাতে

    কাঁচা পেঁপে আমাদের দেহের সঠিক রক্ত সরবরাহে কাজ করে। আমাদের দেহে জমা থাকা সোডিয়াম দূর করতে সহায়তা করে যা হৃদপিণ্ডের রোগের জন্য দায়ী। বেশিভাগ চল্লিশ-পঁয়তাল্লিশ বছরের পর থেকে মানুষের রক্তচাপসংক্রান্ত সমস্যা দেখা দেয়। হয়তো রক্তচাপ বাড়ে নয়তো কমে। রক্তচাপ বাড়লে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। হঠাৎ পড়ে গেলে শরীরের কোন অংশ অকেজো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, শরীরে অসাড়তা দেখা যায়। উচ্চরক্তচাপ আক্রান্তরা কাঁচা বা পাঁকা পেঁপে ব্যবহার করতে পারেন। দুটোই উপকারী। তবে খাবেন কয়েক টুকরো এবং নিয়মিত। কয়েক মাস খেয়ে যেতে হবে। আশা করা যাই নিয়মিত পেঁপে খেলে উচ্চ রক্ত চাপের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। এমনকি এতে করে হৃদপিণ্ড জনিত যে কোনো সমস্যার সমাধান হয়।

    ১৪। ফাইলেরিয়া রোগ হলে

    ফাইলেরিয়া মশাবাহিত রোগ। ফাইলেরিয়ার বিভিন্ন উপসর্গ নিরাময়ে পেঁপে গাছকে ব্যবহার করা যায়। কয়েকটি পেঁপে পাতা সংগ্রহ করে সেগুলোকে গরম পানিতে ভালো করে ফুটিয়ে নিতে হবে। এবার পাতাগুলোকে গরম অবস্থায় সেঁকে নিয়ে নিয়মিত কয়েক দিন সেঁক দিলে ফাইলেরিয়ার উপসর্গ অনেকটা কমে যাবে।

    ১৫। অনিয়মিত মাসিক পরিএাণ করতে

    পেঁপে খাওয়ার ফলে আপনার অনিয়মিত মাসিক নিয়মিত হয়ে যাবে। সুতরাং যাদের মাসিকের সমস্যা আছে, তারা নিয়মিত পেঁপে খেতে পারেন।

    ১৬। শ্বাস- প্রশ্বাসের আরোগ্য

    শ্বাস- প্রশ্বাসের আরোগ্য ক্ষেত্রে পেঁপের ভূমিকা অনেক। নিয়মিত পেঁপে খাওয়ার ফলে শ্বাস- প্রশ্বাসের সমস্যা কমে যায়।

    ১৭। কোলেস্টেরল হ্রাস করে

    পেঁপেতে রয়েছে ফাইবার, ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে যা ধমনীতে কোলেস্টেরল জমতে বাঁধা প্রদান করে। ধমনীতে চর্বি জমার কারণে হার্ট অ্যাটাকের মত ঘটনাও ঘটতে পারে। সাথে কাঁচা পেঁপে খেলে মেদ কমে, এতে কোনো খারাপ কোলস্টেরল, চর্বি বা ফ্যাট নেই। মোটা মানুষ দুশিন্তা মুক্ত হয়ে খেতে পারেন।

    এছাড়াও পেঁপের রয়েছে আরও কিছু পুষ্টিগুণঃ

    ১। কাঁচা পেঁপে কোষ্ঠকাঠিন্যের মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। কাঁচা পেঁপে এবং কাঁচা পেঁপের বীচির মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি অ্যামোবিক এবং অ্যান্টি প্যারাসিটিক উপাদান যা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম। এছাড়াও হজমের সমস্যা, বুক জ্বালাপোড়া, গ্যাসের সমস্যা, পেটে ব্যথা ইত্যাদি সমস্যা সমাধানেও কাঁচা পেঁপের জুড়ি নেই।

    ২। পেঁপেতে থাকে প্রচুর পরিমাণ পেপসিন। এই পেপসিন হজমে সাহায্য করে। কাঁচা পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে পেপেইন নামক হজমকারী দ্রব্য থাকে। অজীর্ণ,কৃমি সংক্রমণ, আলসার, ত্বকে ঘা, কিডনি ও ক্যান্সার নিরাময়ে কাজ করে। পাকা পেঁপে ফল ও কাঁচা পেপে সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। পেঁপে কাঁচা কী পাকা, দুটোতেই পুষ্টি গুণে ভরপুর।

    ৩।ত্বকের যত্নে পেঁপে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ফল, তাই ত্বকের লাবণ্য ও উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে। প্রতিদিন পাকা পেপের সাথে মধু ও টকদই মিশিয়ে লাগালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।

    ৪। ব্রণের সমস্যা প্রায় সবারই থাকে। এসব ব্রণের কারণে মুখে আনেক ধরনের দাগ তৈরি হয়। এই বাজে দাগগুলো নিরাময় করতে পারে সুমিষ্ট এই ফলটি। মুখের অন্যান্য যেকোনো দাগ যেমন মেছতা, ফুস্কুরির দাগও খুব সহজেই দূর করে দিতে পারে।মুখের বিভিন্ন দাগ দূর করার পাশাপাশি পেঁপে ফলটি মুখের উজ্জ্বলতাও ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে।

    ৫। অপথ্যালমোলজি আর্কাইভস প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রতিদিন তিনবার পেপে খেলে চোখের বয়সজনিত ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। বয়স্কদের মধ্যে দৃষ্টি ক্ষতি প্রাথমিক কারণ, প্রতিদিনের খাবারে তলনামূলক ভাবে কম পুস্টি গ্রহণ করা।
    পেঁপে আপনার চোখের জন্য ভাল এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন এ, সি, ও ই এর উপস্থিতির কারণে।

    ৬। যেসব মায়ের সদ্য বাচ্চা হয়েছে কাঁচা পেঁপের তরকারি নিয়মিত খেলে তাদের স্তনের দুধ বাড়বে।

    ৭। ওষুধ হিসেবে কাঁচা পেঁপের গুণ পাকা পেঁপের চেয়ে বেশি। পেপটিন বা পেঁপের আঠার গুণ অনেক।

    ৮। প্রতিদিন দুপুরে ভাত খাওয়ার পর এবং রাতে ভাত বা রুটি খাওয়ার পর এক টুকরা কাঁচা পেঁপে ভালো করে চিবিয়ে খেয়ে এক গ্লাস পানি খেলে সকালে পেট পরিষ্কার হয়।

    ৯। কাঁচা পেঁপে বা পেঁপে গাছের আঠা পেটের অসুখ, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রভৃতি রোগের জন্য বিশেষ উপকারী।

    ১০। পেঁপের তরকারি নিয়মিত খেলে পেটের পীড়া বা উদরাময়ে উপকার হয়।

    ১১। অনেকের খেতে অরুচি থাকে, খাবার দেখলেই পালাই তাদের জন্য পেঁপে খুবই উপকারি।

    ১২। মাঝে মাঝে অনেকেরই পেট ফাপা দেখা দেই। পেট ফাপা দূর করতে পেপের সাথে লবণ ও গোলমরিচ মিশিয়ে খেলে পেট ফাপা দূর হবে।

    ১৩। অনেকের মাথাই উকুন হয় যা খুবই বিরক্তিকর। সব সময় মাথা চুলকানোর প্রয়োজন হয়। তাছাড়া মাথার থেকে অনেক রক্ত খেয়ে নেই, যা মাথার জন্য অপকারি হয়ে থাকে। উকুন দূরীকরণে পেঁপে অনেক উপকার। পেঁপের আঠা মাথাই নিয়মিত লাগালে উকুন দূর হয়। সাথে সাথে চুলকে সুস্থ ও ভাল রাখতে সাহায্য করে।

    ১৪। আমাদের অনেকেরই দাদ এর সমস্যা হয়ে থাকে তাদের জন্য পেঁপে একটি ভাল ঔষধ। পেঁপের রস দাদে দিলে দাদ ভাল হয়।

    চলুন জেনে নেই রূপচর্চায় পেঁপে কি কি উপকার করে:

    * পেঁপেতে আছে ভিটামিন এ এবং এক ধরনের প্রোটিন যা ত্বকের মৃতকোষ দূর করতে সাহায্য করে।
    * কাঁচা পেপে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে পুরো মুখে নিয়মিত লাগালে ব্রণের সমস্যা কমবে এবং ব্রণের দাগ চলে যাবে।
    * পেঁপে বাটা পায়ের ফাটা দূর করে পাকে মসৃণ করতে সাহায্য করে। পেঁপের খোসা মুখের ত্বকে, হাতে কিংবা পায়ে লাগিয়ে রাখতে হবে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক উজ্জ্বল হয়ে ওঠবে।
    * মুখের ত্বকে নিয়মিত পেঁপের রস লাগালে ত্বকে বয়সের ছাপ দূর হবে।
    * পেঁপে বাটা ও মধু এক সাথে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রাখতে হবে। ত্বকের শুষ্কতা চলে যাবে ও ত্বক কোমল হবে।
    * চুল শ্যাম্পু করার আগে চুলে পেঁপে বাটা বা পেপের রস লাগালে খুশকি সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

    Sunday, March 19, 2017

    পেয়ারার সাদা মাছি পোকা

  • Share The Gag
  • পেয়ারার সাদা মাছি পোকা

    লক্ষণ : এরা পাতার রস চুষে খায় ফলে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। পাতায় অসংখ্য সাদা বা হলদেটে দাগ হয় । সাদা তুলার মত বস্তু ও সাদা পাখাযুক্ত মাছি দেখা যায় ।

    প্রতিকার :
    ১. সাদা আঠাযুক্ত বোর্ড স্থাপন বা আলোর ফাঁদ ব্যবহার করা।
    ২. আক্রান্ত পাতা তুলে ধ্বংস করা।
    ৩. 50 গ্রাম সাবানের গুড়া 10 লিটার পানিতে গুলে পাতার নিচে সপ্তাহে 2/3 বার ভাল করে স্প্রে করা। সাথে 5 কৌটা গুল (তামাক গুড়া) পানিতে মিশিয়ে দিলে ফল ভাল পাওয়া যায়।
    ৪. সর্বশেষ ব্যবস্থা হিসাবে অনুমোদিত বালাইনাশক ব্যবহার করা। যেমন এডমায়ার 0.5 মিলি বা 0.25 মিলি ইমিটাফ বা 2 মিলি টাফগর/রগব/সানগর প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা।

     

    ঔষধের জন্য যোগাযোগ করুন- কৃষি ষ্টোর- ০১৯৭১৬২৫২৫২।

    Saturday, March 18, 2017

    কাঁঠালের মুচি পঁচা রোগ

  • Share The Gag
  • কাঁঠালের মুচি পঁচা রোগ

    লক্ষণ : প্রথমে ফলের/ মুচির গায়ে বাতামী দাগ হয় তার পর আস্তে আস্তে কালচে হয়ে পঁচে যায় । পঁচা অংশে অনেক সময় ছত্রাকের সাদা মাইসেলিয়াম দেখা যায় ।

    প্রতিকার :
    ১. আক্রান্ত মুচি ও ফল সংগ্রহ করে পুড়ে ফেলা বা মাটি পুতে ফেলা
    ২. ফল বেশি ঘন থাকলে পাতলা করে দেয়া
    ৩. মেনকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক ২.৫ গ্রাম / লি. হারে পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা।

    কৃষকের আচরণগত পরিবর্তন যোগাযোগ (এফবিসিসি)

    পরবর্তীতে যা যা করবেন না

    ১. স্প্রে করার পর ১৫ দিনের মধ্যে সেই ফল খাবেন না বা বিক্রি করবেন না

    পরবর্তীতে যা যা করবেন

    ১. ফল সংগ্রহ করা শেষ হবার পর প্রতিটি গাছের ফলের বোটা, মরা ডাল বা রোগ বা পোকা আক্রান্ত পাতা ও ডাল অপসারণ করে অনুমোদিত একটি ছত্রাক নাশক ও একটি কীটনাশক স্প্রে করে দিন
    ২. বাগান/ গাছ সর্বদা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন

    ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতা পোড়া রোগ

  • Share The Gag
  • লক্ষণ:
    এটি ঝলসানো রোগ নামেও পরিচিত। শিশির, সেচের পানি, বৃষ্টি, বন্যা এবং ঝড়ো হাওয়ার মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। ব্যাকটেরিয়া কোষগুলো একত্রে মিলিত হয়ে ভোরের দিকে হলদে পুঁতির দানার মত গুটিকা সৃষ্টি করে এবং এগুলো শুকিয়ে শক্ত হয়ে পাতার গায়ে লেগে থাকে। পরবর্তীকালে পাতার গায়ে লেগে থাকা জলকণা গুটিকাগুলোকে গলিয়ে ফেলে এ রোগের জীবাণু অনায়াসে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগের ফলে গাছের বিভিন্ন বয়সে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন লক্ষণ (ক্রিসেক, পাতা পোড়া ও ফ্যাকাশে হলুদ) দেখা দেয়। বীজতলা থেকে চারা তোলার সময় যদি শিকড় ছিড়ে যায় তখন রোপণের সময় ব্যাকটেরিয়া সে ক্ষতের মধ্য দিয়ে গাছের ভিতরে প্রবেশ করে। এছাড়া কচি পাতার ক্ষত স্থান দিয়েও প্রবেশ করতে পারে। আক্রান্ত গাছের নিচের পাতা প্রথমে নুয়ে পড়ে এবং শুকিয়ে মারা যায়। এভাবে গোছার সকল পাতাই মরে যেতে পারে। এ অবস্থাকে ক্রিসেক বা নেতিয়ে পড়া রোগ বলা হয়। চারা বা প্রাথমিক কুশি বের হওয়ার সময় গাছের পাতা বা পুরো গাছটি ঢলে পড়ে। মাঝে মাঝে আক্রমণ প্রবণ জাতের ধানে পাতাগুলো ফ্যাকাশে হলদে রঙের হয়। গাছের বয়স্ক পাতাগুলো স্বাভাবিক সবুজ থাকে, কিন্ত কচি পাতাগুলো সমানভাবে ফ্যাকাশে হলদে হয়ে আস্তে আস্তে শুকিয়ে মারা যায়। পাতা পোড়া রোগের লক্ষণের ক্ষেত্রে প্রথমে পাতার কিনারা অথবা মাঝে নীলাভ সবুজ রঙের জলছাপের মত রেখা দেখা যায়। দাগগুলো পাতার এক প্রান্ত, উভয় প্রান্ত বা ক্ষত পাতার যে কোন জায়গা থেকে শুরু হয়ে আস্তে আস্তে সমস্ত পাতাটি ঝলসে বা পুড়ে খড়ের মত হয়ে শুকিয়ে যায়। আক্রমণ প্রবণ জাতের ধানে দাগগুলো পাতার খোলের নিচ পর্যন্ত যেতে পারে। এক সময়ে সম্পূর্ণ পাতাটি ঝলসে যায় বা পুড়ে খড়ের মত হয়ে শুকিয়ে যায়। রোগ সমস্ত জমিতে ছড়িয়ে পড়লে পুড়ে গেছে বলে মনে হয়।

    ব্যবস্থাপনা:
    • ক্রিসেক আক্রান্ত গাছ তুলে ফেলে পার্শ্ববর্তী গাছ থেকে কুশি এনে লাগিয়ে দেয়া।
    • আক্রান্ত ক্ষেতের পানি বের করে দিয়ে জমি ভেদে ৭-১০ দিন শুকানো।
    • আক্রান্ত ক্ষেতে নাইট্রোজেন সার প্রয়োগ না করা।
    • আক্রান্ত ক্ষেতে বিঘা প্রতি ৫ কেজি পটাশ সার প্রয়োগ করে মাটিতে ভালভাবে মিশিয়ে দিলে এ রোগের তীব্রতা কমে।

    পরবর্তীতে যা যা করবেন না



    ১. আক্রান্ত ক্ষেত থেকে বীজ সংগ্রহ করবেন না

    ২. ঝড়ের পরপরই জমিতে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করবেন না।

    পরবর্তীতে যা যা করবেন



    পরবর্তীতে যা যা করবেন



    ১. এ রোগ প্রতিরোধের জন্য বিআর২৬ (শ্রাবণী), ব্রিধান২৭, ব্রিধান৩২, ব্রিধান৩৩, ব্রিধান৩৭, ব্রিধান৩৮, ব্রিধান ৪০, ব্রিধান৪১, ব্রিধান ৪২, ব্রিধান৪৪ ও ব্রিধান৪৬ ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন জাতের ধান চাষ করুন।

    ২. সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করুন ।
    ৩. ফসল কাটার পর আক্রান্ত জমি ও তার আসে-পাশের জমির নাড়া পুড়িয়ে দিন।

    Friday, March 17, 2017

    লিচুর রোগ ও তার প্রতিকার

  • Share The Gag
  • ১। রোগের নাম: পাতার দাগ (Leaf spot)

    রোগের কারণঃ Pestalotia sp. নামক ছত্রাক

    রোগের বিস্তার:

    গ্রীষ্মকালে রোগের তীব্রতা বাড়ে। আক্রান্ত পাতা থেকে জীবানু বিস্তার লাভ করে।

    রোগের লক্ষণ:

    ১. প্রথমে পাতার উপর ছোট বাদামী রঙের দাগ পড়ে।
    ২. দাগগুলো ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে এবং বড় দাগের সৃষ্টি করে।
    ৩. বয়স্ক পাতায় আক্রমণ বেশী দেখা যায়।

    দমন ব্যবস্থাপনা

    ১. গাছের মরা ডালপালা ছাঁটাই করে ফেলতে হবে।
    ২. পরিচছন্ন চাষাবাদ পদ্ধতি মেনে চলতে হবে।
    ৩. টিল্ট ২৫০ ইসি প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি হারে মিশিয়ে ১০ দিন পর পর স্প্রে করতে হবে।

    ২। রোগের নাম: অ্যানথ্র্রাকনোজ (Anthracnose)

    রোগের কারণঃ Colletotrichum gloeosporioides নামক ছত্রাক

    রোগের বিস্তার:

    আর্দ্র ও গরম আবহাওয়ায় রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়।

    রোগের লক্ষণ:

    ১. সংগ্রহোত্তর লিচুর একটি প্রধান সমস্যা।
    ২. রোগের আক্রমণে ফল-এর উপর বাদামী দাগের সৃষ্টি হয় যাতে ফলের বাজার দর কমে যায়।
    ৩. বেশী আক্রান্ত ফল নষ্ট হয়ে খাওয়ার অনুপযুক্ত হয়ে যায়।

    দমন ব্যবস্থাপনা

    ১. ১০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় গুদামজাত করতে হবে।
    ২. ফল সংগ্রহ, প্যাকেজিং, পরিবহন ও বাজার জাত করার সময় আক্রান্ত ফল বেছে বাদ দিতে হবে।
    ৩. ফল গাছে থাকা অবস্থায় টিল্ট ২৫০ ইসি প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি হারে মিশিয়ে ১০ দিন পর পর স্প্রে করতে হবে।

    ৩। রোগের নাম: ডাউনি মিলডিউ (Downy mildew)

    রোগের কারণঃ Peronophythora litchii নামক ছত্রাক

    রোগের বিস্তার:

    আর্দ্র আবহাওয়া রোগের আক্রমণের জন্য অনুকুল অবস্থার সৃষ্টি করে।

    রোগের লক্ষণ:

    ১. রোগের জীবাণুু মুুকুলে, কচি ফলে এবং নতুন ডগায় সাদা পাউডারের আবরণ সৃষ্টি করে।
    ২. দৃশ্যমান সাদা পাউডার প্রকৃৃতপক্ষে ছত্রাকজালিকা এবং বীজঅণুর সমষ্টি।
    ৩. জীবাণু মুকুল থেকে অতিরিক্ত খাদ্যরস শোষণ করার ফলে আক্রান্ত মুুুকুল শুকিয়ে যায়।
    ৪. ফলের উপর পানি ভেজা দাগ দেখা যায়।

    দমন ব্যবস্থাপনা:

    ১. পানি স্প্রে করেও রোগের প্রকোপ কমানো সম্ভব।
    ২. মুুকুলে সাদা পাউডারের আবরণ দেখা দিলেই গন্ধকযুক্ত ছত্রাকনাশক (থিওভিট/কুমুুলাস/রনোাভিট) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ১০ দিন পর পর ২ বার স্প্রে করতে হবে।

    ৪। রোগের নাম: ফল ঝরা রোগ (Fruit dropping)

    রোগের কারণঃ ছত্রাক ও শারীরবৃত্তীয়

    রোগের বিস্তার:

    ১. ফল ঝরা লিচুর সাধারণ সমস্যা।
    ২. আবহাওয়া শুষ্ক হলে বা গাছে হরমোনের অভাব থাকলে ফল ঝরে পড়তে পারে।

    রোগের লক্ষণ:

    গুটি অবস্থায় ফল ঝরে পড়ে। ফল বাদামী থেকে কাল রং ধারণ করে।

    দমন ব্যবস্থাপনা:

    ১. শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করলে সেচের ব্যবস্থা করতে হবে।
    ২. ফল মটর দানা এবং মার্বেল আকার অবস্থায় প্লানোফিক্স অথবা মিরাকুলান ৪.৫ লিটার পানিতে ২ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
    ৩. গুটি বাধার পর জিংক সালফেট প্রতি লিটার পানিতে ১০ গ্রাম হারে মিশিয়ে গাছে স্প্রে করতে হবে ।
    ৪. রোগ ও পোকার আক্রমণ প্রতিহত করতে হবে।

    ৫। রোগের নাম: ফল ফেটে যাওয়া (Fruit cracking)

    রোগের কারণ: শারীরবৃত্তীয়

    রোগের বিস্তার:

    ১. দীর্ঘ খরার পর হঠাৎ বৃষ্টি, শুষ্ক ও গরম হাওয়া, রোগ ও পোকার আক্রমণ বেশী হয়।
    ২. মাটিতে ক্যালসিয়ামের অভাব হলে ।
    ৩. আগাম জাতে এ সমস্যা বেশী হয়।

    রোগের লক্ষণ:

    ১. দীর্ঘ সময় খরা চলতে থাকলে ফলের বাহিরের খোসা শক্ত হয়ে যায়।
    ২. এরপর হঠাৎ বৃষ্টি হলে ফলের বৃদ্ধি শুরু হয়।
    ৩. বাহিরের খোসা শক্ত থাকায় ফলের ভিতরের অংশের সাথে সুষমভাবে বাড়তে পারে না তাই খোসা ফেটে যায়।

    দমন ব্যবস্থাপনা:

    ১. মাটিতে জৈব সার প্র্রয়োগ এবং খরা মৌসুমে নিয়মিত সেচ প্রদান করতে হবে।
    ২. প্রতি বছর প্রতি গাছের গোড়ায় ক্যালসিয়াম সার (ডলোচুন – ৫০ গ্রাম) প্রয়োগ করতে হবে।
    ৩. গুটি বাধার পর পরই প্লানোফিক্স বা মিরাকুলান ৪.৫ লিটার পানিতে ২ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
    ৪. বোরিক এসিড প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে গাছে স্প্রে ও ফল ফেটে যাওয়া রোধ করা যায়।

    ৬। রোগের নাম: ফল শুকিয়ে যাওয়া (Fruit drying)

    রোগের কারণ: শারীরবৃত্তীয় ও প্রখর রোদ।

    রোগের বিস্তার:

    অতিরিক্ত রোদ, শুষ্ক ও গরম হাওয়ায় রোগ বেশী হয়।

    রোগের লক্ষণ:

    ১. এক নাগাড়ে লিচুর এক পাশে রোদ লাগলে লিচুর ত্বক শুকিয়ে যায়।

    দমন ব্যবস্থাপনা:

    ১. গাছের গোড়ায় সপ্তাহে ২ বার পানি প্রয়োগ করতে হবে।

    ২. বিকাল বেলায় গাছে পানি স্প্রে করতে হবে।

     

    ড. কে, এম, খালেকুজ্জামান ।।
    উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব)
    মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই
    শিবগঞ্জ, বগুড়া।

    Tuesday, November 1, 2016

    বাসক পাতার উপকারিতা

  • Share The Gag
  • বাসক পাতা







    বাসক কথাটি অর্থ সুগন্ধকারক। এটি গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। লোকের মুখে ঘুরে ঘুরে বাসকের নাম পরিণত হয়েছিল ‘বসায়।’ বাসকের অনেক গুণ। বাসকের ছাল, পাতা, রস সবই উপকারী। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বাসক পাতাকে নানা রোগ সারাতে ব্যবহার করা হয়। সর্দি-কাশির মহা ওষুধ বাসক, একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ উদ্ভিদ। গাছটি লম্বায় ১-১৫ মিটার (৩-৫ ফুট) পর্যন্ত হয়। কচি অবস্থায় গাছের গোড়া সবুজ হলেও পরিণত অবস্থায় হাল্কা বেগুনি রঙের মতো দেখায়। পাতাগুলি লম্বায় ৫-১২ সেন্টিমিটারের মতো হয়। ফুল সাদা রঙের এবং গুচ্ছাকারে ফোটে। ফলগুলি ক্যাপসুলের মতো দেখতে।

    বাসকের তাজা অথবা শুকনো পাতা ওষুধের কাজে লাগে। বাসকের পাতায় ‘ভাসিসিন’ নামীর ক্ষারীয় পদার্থ এবং তেল থাকে। শ্বাসনালীর লালাগ্রন্থিকে সক্রিয় করে বলে বাসক শ্লেষ্মানাশক হিসেবে প্রসিদ্ধ। বাসক পাতার নির্যাস, রস বা সিরাপ শ্লেষ্মা তরল করে নির্গমে সুবিধা করে দেয় বলে সর্দি, কাশি এবং শ্বাসনালীর প্রদাহমূলক ব্যাধিতে বিশেষ উপকারী। তবে অধিক মাত্রায় খেলে বমি হয়, অন্তত বমির ভাব বা নসিয়া হয়, অস্বস্তি হয়।

    উপকারিতা



    • ১. বাসক পাতার রস ১-২ চামচ হাফ থেকে এক চামচ মধু-সহ খেলে শিশুর সদির্কাশি উপকার পাওয়া যায়।

    • ২. বাসক পাতার রস স্নানের আধ ঘণ্টা আগে মাথায় কয়েক দিন মাখলে উকুন মরে যায়। আমবাত ও ব্রণশোথে (ফোঁড়ার প্রাথমিক অবস্থা) বাসক পাতা বেঁটে প্রলেপ দিলে ফোলা ও ব্যথা কমে যায়।

    • ৩. যদি বুকে কফ জমে থাকে এবং তার জন্য শ্বাসকষ্ট হয় বা কাশি হয় তা হলে বাসক পাতার রস ১-২ চামচ এবং কন্টিকারী রস ১-২ চামচ, ১ চামচ মধুসহ খেলে কফ সহজে বেরিয়ে আসে।

    • ৪. প্রস্রাবে জ্বালা-যন্ত্রণা থাকলে বাসকের ফুল বেঁটে ২-৩ চামচ ও মিছরি ১-২ চামচ সরবত করে খেলে এই রোগে উপকার পাওয়া যায়।

    • ৫. জ্বর হলে বা অল্প জ্বর থাকলে বাসকের মূল ৫-১০ গ্রাম ধুয়ে থেঁতো করে ১০০ মিলিলিটার জলে ফোটাতে হবে।
    • ৬. ২৫ মিলিলিটার থাকতে নামিয়ে তা ছেঁকে নিয়ে দিনে ২ বার করে খেলে জ্বর এবং কাশি দুই-ই চলে যায়।

    • ৭. বাসকের কচি পাতা ১০-১২টি ও এক টুকরো হলুদ এক সঙ্গে বেঁটে দাদ বা চুলকানিতে লাগালে কয়েক দিনের মধ্যে তা সেরে যায়।

    • ৮. বাসক পাতা বা ফুলের রস ১-২ চামচ মধু বা চিনি ১ চামচ-সহ প্রতি দিন খেলে জন্ডিস রেগে উপকার পাওয়া যায়।

    • ৯. পাইরিয়া বা দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়লে বাসক পাতা ২০টি থেঁতো করে ২ কাপ জলে সিদ্ধ করে ১ কাপ থাকতে নামিয়ে ঈষদুষ্ণ অবস্থায় কুলকুচি করলে এই রোগে উপকার পাওয়া যায়।

    • ১o. যাঁদের হাঁপানির টান আছে তাঁরা বাসক পাতা শুকনো করে, ওই পাতা বিড়ি বা চুরুটের মতো পাকিয়ে, তার সাহায্যে ধূমপান করলে শ্বাসকষ্ট প্রশমিত হয়।

    • ১১. যাঁদের গায়ে ঘামের গন্ধ হয় তাঁরা বাসক পাতার রস গায়ে লাগালে দুর্গন্ধ দূর হবে।

    • ১২. বাসক পাতার রস ও শঙ্খচূর্ণ মিশিয়ে নিয়মিত ব্যবহার করলে রঙ ফরসা হবে।

    • ১৩. এক কলসি জলে তিন-চারটি বাসক পাতা ফেলে তিন-চার ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখার পর সেই জল বিশুদ্ধ হয়ে যায়। এর পর ব্যবহার করতে পারেন।

    • ১৪. পাতার রস নিয়মিত খেলে খিঁচুনি রোগ দূর হয়ে যায়।




    সবুজ শাক-সবজি খান, চিরসবুজ থাকুন

  • Share The Gag
  • সুস্থ, সুন্দর আর স্লিম অর্থাৎ চিরসবুজ থাকতে কে না চায়? সবুজ সবজি, শাক-পাতা খেয়ে খুব সহজেই তারুণ্য ধরে রাখা সম্ভব৷ সবজিতে রয়েছে ভিটামিন সি, ই, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, বিটা-ক্যারোটিন, অ্যান্টি -অক্সিডেন্টসহ নানা উপাদান৷

    পালং শাক

    পালং শাকের উপকারিতার কথা বলার অপেক্ষা রাখে না৷ ২০১৪ সালে সুইডিশ গবেষকদের করা এক তথ্য থেকে জানা গেছে যে, পালং শাক তাড়াতাড়ি পেট ভরায় এবং ওজন কমাতে সহায়তা করে৷ এর আঁশ, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম – যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও, উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে পেশিকে শক্ত করে রক্তের ঘনত্ব কমাতেও সহায়তা করে৷ শাক সেদ্ধ, স্যুপ বা স্মুদি বানিয়ে খাওয়া যায়৷ সঙ্গে রসুন, লেবু বা আদা দিলে স্বাদ ও বাড়ে, উপকারও হয় বেশি৷

    সবুজ ক্যাপসিকাম মানেই ভিটামিন সি

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ফাস্টফুড এবং আধুনিক জীবনযাত্রাই নানা অসুখের কারণ৷ ক্যাপসিকামে রয়েছে ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম ইত্যাদি৷ কাঁচা ক্যাপসিকাম শুধু ডায়বেটিস বা অবসাদই দূর করে না, ওজন কমাতেও ভূমিকা রাখে৷ মুরগির বুকের মাংস সেদ্ধ করে ছোট করে কেটে এবং একইভাবে ক্যাপসিকাম কেটে, পুদিনা পাতা, লেবুর রস মিশিয়ে দুপুরে খেয়ে ফেলুন৷ ভিটামিন, মিনারেল ও আঁশযুক্ত কচকচে এই সালাদ খেলে পেট ভরবে, রাখবে চিরসবুজও৷

    শসা

    গ্রীষ্মকালে শরীরকে ঠান্ডা করতে শসার জুড়ি নেই, কারণ শসার মধ্যে রয়েছে শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ পানি৷ তাই পুষ্টিবিদরা গরমকালে বেশি করে শসা খেতে বলেন৷ শসায় খুবই কম ক্যালোরি থাকে, প্রচুর পানিযুক্ত শসা শুধু শরীরকেই হালকা-পাতলা রাখে না, শসার মাস্ক বা স্লাইস করা শসা ত্বককে করে স্নিগ্ধ আর সুন্দর৷ শসা নানাভাবে খওয়া যায়৷ প্রচণ্ড গরমে শসার কুচি ঠান্ডা পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে তা পান করলে শরীর জুড়িয়ে যায়৷

    ব্রকোলি

    সবুজ ফুলকপি বা সবুজ রং-এর ফুলের মতো দেখতে এই সবজিভাজি খেতে খুবই মজা এবং সহজে পেটও ভরে যায়৷ ব্রকোলির মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা ক্যনসারের টিউমার দমন করে৷ এই তথ্য দিয়েছেন জার্মানির হাইডেলব্যার্গ বিশ্ববিদ্যালয় ক্লিনিকের গবেষক ইনগ্রিড হ্যার৷ শুধু তাই নয়, ব্রকোলি হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমায়৷ এছাড়া ডায়বেটিস রোগীদের জন্যও দারুণ উপকারি ব্রকোলি৷

    পুদিনা পাতার গুণ

    ভেষজ উদ্ভিদ পুদিনা পাতার গুণের কথা কাউকে আর আলাদা করে বলার প্রয়োজন নেই৷ হাজারো বছর ধরে এই পাতা ব্যবহার হয়ে আসছে গ্যাসট্রিক, পেটের সমস্যা বা ত্বকের নানা সমস্যায়৷ নারীদের সৌন্দর্যচর্চায় পুদিনার পাতা খুবই পরিচিত৷ পুদিনা পাতার রস, চা, চাটনি ইউরোপেও আজকাল বেশ জনপ্রিয়৷ সবুজ ঔষধি পুদিনা পাতা খেয়ে শরীর ও ত্বককে সবুজ রাখুন৷ তেমন যত্ন ছাড়াই পুদিনা গাছ বাগান, টব বা পানিতে হয়৷

    বরবটি

    সবুজ বরবটিতে রয়েছে প্রচুর আঁশ, প্রোটিন, আয়রন, ক্যালশিয়াম ও শর্করা – মানে প্রচুর পুষ্টি গুণ৷ এই কারণে ডায়বেটিস রোগীদের জন্যও বরবটি বেশ উপকারি৷ বরবটি নানাভাবে খাওয়া যায়৷ জলপাইয়ের তেলে সামান্য ভেজে খেতে দারুণ লাগে এই সবজি৷ তাছাড়া পুষ্টিগুণ সম্পন্ন সবুজ সবজির মধ্যে বরবটি একটি, যা অল্প খেলেই পেট ভরে যায় ৷ অর্থাৎ বাড়তি মেদ হবার কোনো সুযোগ নেই বলে ফিট ও সুন্দর থাকা যায় সহজেই ।

    সালাদ পাতা

    বিভিন্ন সবুজ সালাদ বা লেটুস পাতায় রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা তারুণ্য ধরে রাখতে সহায়ক৷ সবজিতে থাকা ভিটামিন সি এবং ই সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে আপনাকে রক্ষা করতে সহায়তা করে থাকে৷ তাছাড়া শাক বা সালাদ পাতা খাবার সাজানোর জন্যও ব্যবহার করা যায়, যা দেখতে সুন্দর তো লাগেই, খাবারে রুচিও বাড়ায়৷তবে শাক-সবজির ক্ষেত্রে সবচেয়ে যেটা জরুরি হলো, একে হতে হবে একদম টাটকা৷ তা না হলে স্বাদে এবং গুণে হেরফের হবেই৷

    Sunday, October 30, 2016

    কীটনাশক ছাড়াই বেগুন চাষ

  • Share The Gag
  • যখন কৃষকেরা ফসল উৎপাদনে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করছেন ঠিক তখনই কীটনাশক ছাড়া বেগুন উৎপাদন করছেন ঝিনাইদহের হরিনাকুণ্ডু উপজেলার পার্বতীপুর গ্রামের কৃষকেরা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে তারা আইপিএম (ফেরোমনট্রাপ) পদ্ধতি ব্যবহার করে ভালো ফল পাচ্ছেন বলে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

    পার্বত্যপুর গ্রামের বেগুন চাষী আয়ুব হোসেন জানান, এ পদ্ধতি সম্পর্কে যখন আমাকে প্রথম জানানো হয় তখন পদ্ধতি সম্পর্কে যেন কাল্পনিক একটা ঘটনা বলে মনে হয়েছিল। আমরা দুই ভাই পার্বতীপুরের এই মাঠে একএকর জমিতে বেগুন চাষ করেছি। প্রথম দিকে আইপিএম পদ্ধতি ব্যবহার করার পরও বেগুন নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে গোপনে কীটনাশক স্প্রে করতাম। কিন্তু বেগুনের দাম যখন কমে গেল কীটনাশক স্প্রে করা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। এখন দেখি ভালো বেগুন পাওয়া যাচ্ছে। আমরা সবজিতে প্রতিদিনেই কীটনাশক স্প্রে করে অভ্যস্ত। তাই এ পদ্ধতি প্রথমে মেনে নিতে পারছিলাম না।

    একই গ্রামের বেগুন চাষী ইব্রাহীম, সোলাইমান, ইউনুছ আলি জানান, তারা এ পদ্ধতি ব্যবহার করে ভালো ফলন পাচ্ছেন। তাদের কীটনাশক ছাড়াই এ  পদ্ধতিতে চাষ করা দেখে অনেকেই করলা, লাউ ও শসা চাষে এ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।

    স্কুল শিক্ষক আমিনুল ইসলাম জানান, আমরা যে কীটনাশক ছাড়াই সবজি বা ভেজাল মুক্ত পণ্য খেতে চাই। তা এ বেগুন চাষের দৃশ্য দেখলেই বোঝা যাচ্ছে। কারণ তারা বেগুন বাজারে নিয়ে গেলে দাম একটু বেশি হলেও আগে আগেই বিক্রি হয়। প্রতিটি কৃষকেরই উচিত এ পদ্ধতি ব্যবহার করা এবং পোকার আক্রমণ অতিরিক্ত হলে সেই ক্ষেত্রে কৃষি অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তাছাড়া যারা বেগুন বা সবজি চাষ করেন প্রতিদিনই ক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে করেন। আর এ পদ্ধতি ব্যবহার করে কৃষকরা যে লাভবান হচ্ছেন এটা কৃষকদের জন্য সুখবর।

    এ বিষয়ে হরিনাকুণ্ডু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিশংকর জানান, এটাকে সেক্স ফেরোমন লেয়ার পদ্ধতি বলা হয়। ওই বক্সের মধ্যে পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী পোকার গন্ধ দেয়া থাকে। দূর হতে পুরুষ পোকা আকৃষ্ট হয়ে ওই বক্সের মধ্যে চলে আসে এবং বক্সের মধ্যে রাখা সাবান পানিতে পড়ে পোকা মারা যায়। যদি কোনো মাঠের সবজি চাষীরা একত্রিত হয়ে সকলেই এ পদ্ধতি ব্যবহার করে তাহলে শতকরা ৭৫/৮০ ভাগ পোকা দমন করা সম্ভব।

    Saturday, May 14, 2016

    জেনে নিন পাটশাকের গুনাগুণ

  • Share The Gag
  • পাটশাকের চচ্চরি কিংবা ডাল দিয়ে পাটশাক খেতে ভালোবাসেন না, এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। বাজারে এখন প্রচুর পাটশাক পাওয়া যাচ্ছে। পাটশাকে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, লিপিড ও ফলিক এসিড পাওয়া যায়। অন্যান্য শাকের তুলনায় পাটশাকে ক্যারোটিন বেশি থাকে। চলুন, জেনে নিই পাটশাকের পুষ্টিগুণ-

    পটাশিয়াম টিউমার ও ক্যান্সারের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। পাটশাকে বিদ্যমান ক্যারোটিন মুখের ঘা দূর করে।


    পাটশাক খাবার তাড়াতাড়ি হজম হতে সহায়তা করে এবং খাবারে রুচি বাড়ায়। নিয়মিত পাটশাক খেলে শরীরে বাতের ব্যথা হয় না।

    রক্ত পরিষ্কারক হিসেবে পাটশাক কাজ করে। ম্যাগনেসিয়াম ডায়বেটিক ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে, অনিদ্রা দূর করে, মানসিক চাপ দূর করে শরীর সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

    পাটশাকে বিদ্যমান ফলিক অ্যাসিড ত্বক ও চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে।

    খেতে সুস্বাদু আবার সহজলভ্যও। তাই খাবার পাতে প্রতিদিন পাট শাক রাখুন। সুস্থ স্বাভাবিক ও সুন্দর থাকুন।

    Wednesday, May 4, 2016

    কিভাবে বুঝবেন আমে বিষ !!

  • Share The Gag
  • ফলে মেশানো স্বাস্থের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর কেমিক্যালকে অনেকে ‘বিষ’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। গ্রীষ্মকালীন ফল, বিশেষ করে রাসায়নিকমুক্ত আম পেতে ফলের বোঁটা শুষ্ক কি না, তা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বোঁটা শুষ্ক হলে বুঝতে হবে, এতে রাসায়নিক মিশ্রিত রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বিষাক্ত ফলের কারণে রাজশাহী অঞ্চলে অনেক শিশুর মৃত্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক ম্যাংগো রিসার্চ সেন্টারের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, “যখন আপনি আম অথবা এ ধরনের গ্রীষ্মকালীন ফলের বোঁটা শুষ্ক দেখবেন, নিশ্চিত হবেন এতে রাসায়নিক মেশানো হয়েছে। মারাত্মক ক্ষতিকর ক্যালসিয়াম কার্বাইডের পাশাপাশি ইথাফোন গ্রীষ্মকালীন ফলে ব্যবহার করা হয়ে থাকে ফল রাতারাতি পাকানো ও আকর্ষণীয় রঙের জন্য এবং ফরমালিন ব্যবহার করা হয় ফল সংরক্ষণের জন্য।”

    ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমে মিশ্রিত কার্বাইডের মতো রাসায়নিক মানব স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং এতে মৃত্যু ঝুঁকি রয়েছে। এই রাসায়নিক শরীরে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে।”

    দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আম নগদ অর্থ আয়কারী প্রধান মৌসুমি ফল এবং এই সুস্বাদু ফলের জন্য বিখ্যাত রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অর্থনীতিতে আমের প্রাধান্য রয়েছে।

    ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা বাসস জানায়, মাত্র ১০০ গ্রাম ক্যালসিয়াম কার্বাইড প্রায় ১০০ কেজি আম পাকাতে পারে। এই রাসায়নিক ক্যানসার, কিডনি ও লিভার সমস্যায় মানুষের মৃত্যু ঘটাতে পারে।

    লোভী ব্যবসায়ী ও জড়িত অন্যরা আম ও লিচুতে দুই পর্যায়ে অবাধে বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশাচ্ছে। অসময়ের ফলে সাধারণত রাসায়নিক মিশ্রিত থাকে।

    রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দিন বলেন, ব্যবসায়ীরা তিনটি পর্যায়ে রাসায়নিক মেশাচ্ছে। অতি লাভের জন্য ফল পাকানো ও সংরক্ষণের জন্য রাসায়নিক মেশানো বন্ধ করতে আরো প্রচার কার্যক্রমের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি।

    ড. আলীম উদ্দিন রাসায়নিক ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনগণের পাশাপাশি আম উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের সচেতনতা তৈরির প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

    [paypal_donation_button]

    Saturday, April 30, 2016

    নিয়মিত আঙু্র খেলে আর অন্ধ হওয়ার ভয় থাকবে না

  • Share The Gag
  • আঙুর ফল টক। গল্প কথায় আঙুরের এমন বদনাম শোনা গেলেও, আসলে আঙুর ফল টক নয়, বরং তাঁর গুণ কিছু বেশি মিষ্টি। ছোট্ট এই ফলটিকে প্রতিদিনের মেনুতে রাখলে পাওয়া যাবে একটি বড় উপকার। আঙুর খেলে থাকবে না আর অন্ধ হওয়ার ভয়। নতুন একটি সমীক্ষায় দেখা দেখা গেছে যে, আঙুরে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে। আর এই অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হেলদি সেলগুলোর ডিএনএর নষ্ট হয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে। চোখের রেটিনা এমন একটি অংশ যার পুরোটাই কোষ দিয়ে তৈরি। এই অংশের কোষগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলেই অন্ধত্ব সৃষ্টি হয়। আঙুর যখন এই কোষগুলোকে রক্ষা করে তখন অনেকটাই কমে যায় অন্ধত্বের প্রবণতা। শুধু এখানেই শেষ নয় আঙুরের গুণ। যত বেশি আঙুর খাবেন তত কমবে মোটা হওয়ার চিন্তা। আঙুর শরীরে মেদ জমতে দেয় না।

    Tuesday, April 26, 2016

    শেকৃবিতে ক্যান্সার ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধী উদ্ভিদ

  • Share The Gag
  • ক্যান্সার ও ডায়াবেটিসের মতো রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়ে প্রাকৃতিক চিকিৎসা পদ্ধতি দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। কেমো থেরাপির মতো ব্যয়বহুল ও যন্ত্রণাময় চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে নানা বিরূপ প্রতিক্রিয়ার বিপরীতে ক্রমেই বাড়ছে প্রাকৃতিক খাদ্য ও উদ্ভিদের ভেষজ গুণের গ্রহণযোগ্যতা। এ বিষয়ে মনোযোগ দিচ্ছেন গবেষকরাও। তেমনই কিছু ভেষজ গুণসমৃদ্ধ উদ্ভিদ রয়েছে ঢাকার শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিভিন্ন দেশ থেকে এই উদ্ভিদ সংগ্রহ করে তার গুণাগুণ নিয়ে গবেষণা করছেন এখানকার গবেষকরা। পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে ইতোমধ্যেই জানা গেছে শেকৃবিতে থাকা রুকোলা (Rucola) এমনই একটি উদ্ভিদ, যা ডায়াবেটিস এমনকি ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

    গবেষকরা বলছেন, বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে নিয়মিত প্রচুর পরিমাণে সবুজ রুকোলা গ্রহণের মাধ্যমে ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, হৃদরোগ ও রক্তনালী সংক্রান্ত রোগের বিরুদ্ধে আমাদের দেহে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

    রুকোলার গুণাগুণ

    এর সবুজ পাতায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সহায়ক রাসায়নিক উপাদান, যেমন-সালফিউরাফ্যান, থায়োসায়ানেটস, আইসো-থায়োসায়ানেটস, ইনডলস ও আলফা-লিপোইক অ্যাসিড। এরা সম্মিলিতভাবে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার যেমন-প্রোস্টেট, ব্রেস্ট, সারভিক্যাল, কোলন ও ওভারিয়ান ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কাজ করে। ‘হিস্টোন ডিঅ্যাসিটাইলেজ’ নামক এনজাইমের কার্যকারিতা ব্যাহত করার মাধ্যমে ক্যান্সার কোষ বৃদ্ধিতে বাধা দেয় এই সালফিউরাফ্যান।

    অস্ট্রেলিয়ান ‘রুরাল ইন্ডাস্ট্রিজ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলাপমেন্ট কর্পোরেশন (আরআইআরডিসি)’ এর মতে, সবুজ রুকোলা পাতার ক্যান্সার প্রতিরোধ ক্ষমতা সরিষা পরিবারের অন্যান্য শাক-সবজি থেকে অনেক বেশি। রুকোলার সবুজ পাতা যেহেতু সরাসরি পিজা এবং সালাদে ব্যাবহৃত হয়, সেহেতু সবুজ পাতায় থাকা ক্লোরোফিল, হেটারোসাইক্লিক অ্যামাইনস (যা সাধারণত উচ্চ তাপমাত্রায় তেলে ভাজলে বা ঝলসালে নিঃসৃত হয়) এর কার্সেনোজেনিক প্রভাব থেকে রক্ষা করে।

    আমেরিকার ‘ন্যাশনাল নিউট্রিয়েন্ট ডেটাবেস (স্ট্যান্ডার্ডরেফারেন্স)’ অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম সবুজ রুকোলা পাতাতে শক্তি রয়েছে মাত্র ২৫ কিলো ক্যালরি; কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে ফলিক অ্যাসিড (৯৭ মাইক্রোগ্রাম), ভিটামিন-এ (২৩৭৩ আইইউ), ভিটামিন-সি (১৫ মিলিগ্রাম), ভিটামিন-কে (১০৮.৬ মাইক্রোগ্রাম) এবং ভিটামিন-বি-কমপ্লেক্স।

    গ্রহণযোগ্য মাত্রায় রয়েছে ফ্লাভোনল নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বক, ফুসফুস এবং মুখ-গহ্বরের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কাজ করে। রুকোলা পাতাতে প্রচুর পরিমাণে কপার ও আয়রন জাতীয় খনিজ উপাদানও রয়েছে। রয়েছে স্বল্প পরিমাণে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও ফসফরাস।

    রুকোলাতে বিদ্যমান আলফা-লিপোইকঅ্যাসিড রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে। এ ছাড়াও নিয়মিত রুকোলা পাতা গ্রহণ করলে হৃদপিণ্ড এবং রক্ত নালীর রোগের ঝুঁকি কমে।

    উৎপাদন ও ব্যবহার

    রুকোলা একটি শীত পছন্দকারী উদ্ভিদ। শীতকালে দ্রুত পাতার বৃদ্ধি ঘটে। কিন্তু বসন্তকালে গরম আবহাওয়ায় ঊর্ধ্বমুখী ফুলের স্টক তৈরি করে এবং বীজ ধারণ করে। এ উদ্ভিদটি প্রায় ২০-১০০ সেমি পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে।

    বীজ বপনের একমাস পরেই পাতা সংগ্রহ করা যায়। রুকোলার পাতা রসালো, লম্বাটে ও খাঁজযুক্ত। শিকড় ছাড়া এ উদ্ভিদের সব অংশই, যেমন-পাতা, ফুল, অপরিপক্ক পড ও বীজখাবার উপযোগী।

    তবে পাতাই খাদ্য হিসেবে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। রুকোলার সবুজ সতেজ পাতা সরাসরি কাঁচা সালাদ হিসেবে টমেটো, জলপাই ও পনিরের সাথে, পিজা তৈরির পর পরিবেশনের সময় পিজা টপিং হিসেবে, পাস্তার সাথে এবং মাছ ও মাংস দিয়ে তৈরি বিভিন্ন সুস্বাদু খাবারে ব্যাপকভাবে সমাদৃত। এ ছাড়াও এর বীজ থেকে ভোজ্য তেল উৎপাদন করা যায়। কখনো কখনো এটা শাক হিসাবে পালং শাকের মতোই রান্না করা হয়।

    বংশপরিচয়

    পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এটি ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত, যেমন- ইতালিতে ‘রুকোলা’, আমেরিকাতে ‘আ রুগুলা’, জার্মানিতে ‘সালাট্রুকা’, স্পেনে ‘ইরুকা’ এবং ফ্রান্সে ‘রকেট’। রুকোলার উৎপত্তি স্থান হচ্ছে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল। ইতালিতে রুকোলা রোমান কাল থেকে চাষ করা হচ্ছে, তাই ধারণা করা হয় যে ইতালিই এর উৎপত্তি স্থান। এ অঞ্চল থেকে পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশ ও মহাদেশে এটি বিস্তার লাভ করে।

    বর্তমানে এটি বাণিজ্যিকভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ (ইতালি, ফ্রান্স,পর্তুগাল ও চেকপ্রজাতন্ত্র), মিশর, তুরস্ক ও আমেরিকাতে (ইন্ডিয়ানা এবং মিডওয়েস্ট) চাষ হচ্ছে।

    রুকোলা হচ্ছে সরিষা পরিবারের (Brassicaceae) একাটি বর্ষজীবি, দুর্বলকাণ্ড ও সবুজ পাতাবিশিষ্ট উদ্ভিদ, যার বৈজ্ঞানিক নাম Eruca sativa এই প্রজাতির দেহগত ক্রোমোসোম সংখ্যা ২n = ২২ এবং বীজই হচ্ছে বংশ বিস্তারের একমাত্র মাধ্যম।

    বাংলাদেশে রুকোলা চাষের সম্ভাবনা

    আমাদের দেশে এ পর্যন্ত কোথাও রুকোলা চাষের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে ২০১৪ সালে বাংলাদেশে প্রথম ইতালি থেকে বীজ সংগ্রহ করে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগে এই উপকারী উদ্ভিদটি নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছে।

    গবেষণার প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, এটি বাংলাদেশের আবহাওয়ায় সারা বছর জন্মানোর উপযোগী। তবে পাতার বৃদ্ধি ও উৎপাদন শীতকালে সবচেয়ে বেশি হয়। কিন্তু পাতার মতো সারা বছর বীজ উৎপাদন করা যায় না, শুধুমাত্র শীতের শেষে-বসন্তের শুরুতে এ উদ্ভিদটি ফুল ও বীজ উৎপাদন করে। বাংলাদেশে রুকোলা চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

    যেহেতু সারা বছর রুকোলার পাতা উৎপাদন সম্ভব, তাই গ্রামে বাড়ির আঙিনায় সামান্য একটু জায়গায় এবং শহরে ৪-৫টি টবে বাসার ছাদে কিংবা ঝুল-বারান্দায় জন্মিয়ে সারা বছর সতেজ পাতা পাওয়া সম্ভব।

    লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগ, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

    Friday, April 22, 2016

    কাঁচা আমের স্বাস্থ্য উপকারিতা

  • Share The Gag
  • আম মৌসুমি ফল। এটা শুধু গ্রীষ্ম কালেই পাওয়া যায়। কাচা আম দিয়ে অনেক কিছু তৈরি করা যায় এছাড়াও কাচা আম, মরিচ, লবণ ও কাসুন্দি দিয়ে মেখে খাওয়ার মজাই আলাদা। কাঁচা আম খেতে কিছুটা টক হলেও পাকা আম খেতে সরস ও মিষ্টি। অনেকের দাবি আমকে জাতীয় ফল করা হোক, কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না, আম জাতীয় ফল না হলেও আম গাছ কিন্তু ঠিকই বাংলাদেশের জাতীয় গাছের মর্যাদা পেয়েছে।

    ১। দিয়ে কাঁচা আম খেলে শরীরের অতিরিক্ত ক্ষতিকর পানি থেকে দেহকে রক্ষা করে এবং শরীরের তৃষ্ণা মিটায়। উপরন্তু, এটা খুব উচ্চ তাপমাত্রার নেতিবাচক প্রভাব থেকে আমাদের রক্ষা করে।

    ২। গ্রীষ্মকালে কাঁচা আমের জুস অত্যধিক ঘাম এর কারনে সোডিয়াম ক্লোরাইড এবং লোহার অত্যধিক ক্ষতি রোধ করে।

    ৩। শুকনো আম পাউডারকে বলা হয় ‘আমচুর’। এটি স্কার্ভি চিকিত্সায় অত্যন্ত উপকারী (ভিটামিন সি এর অভাব)।

    ৪। কাঁচা আম পেক্টিন (pectin) একটি সমৃদ্ধশালী উৎস, মধু এবং লবণ দিয়ে মিশিয়ে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগের চিকিত্সা অত্যন্ত উপকারী। এটি গ্রীষ্মকালীন ডায়রিয়া, আমাশয়, পাইলস, দীর্ঘস্থায়ী এঁড়ে, বদহজম এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোগের জন্য ওষুধ হিসেবে খুব কার্যকর হিসাবে বিবেচনা করা হয় ।

    ৫। কাঁচা আম এর উচ্চ ভিটামিন সি রক্তনালীসমূহের স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করে এবং নতুন রক্ত কোষ গঠনে সাহায্য করে। এটা, যক্ষা, রস্বল্পতা, কলেরা এবং অতিসার রোগের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

    ৬। কাঁচা আমের সঙ্গে চিনি, জিরা এবং চিম্টি লবণ, মিশিয়ে সেদ্ধ করে জুস করে খেলে ঘামাচি রোধ করতে সাহায্য করে, এবং গ্রীষ্মকালে স্ট্রোকের ঝুকি হতে রক্ষা করে।

    ৭। এটা যকৃতের রোগ চিকিত্সায় সাহায্য করে ও পিত্ত অ্যাসিড কমায় এবং ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হতে লিভারকে রক্ষা করে।
    এটা পিত্ত অ্যাসিড লুকাইয়া বৃদ্ধি ও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ আঁত পরিষ্কার হিসেবে যকৃতের রোগ চিকিত্সায় সাহায্য করে.

    ৮। কাঁচা আমে পাকা আমের তুলনায় অধিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি আছে। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার এবং কার্ডিওভাসকুলার রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে শরীরকে রক্ষা করে।

    ৯। এটা মর্নিং সিকনেস চিকিত্সার সহায়ক।

    ১০। কাঁচা আম ভিটামিন সি এর সমৃদ্ধ উৎস এবং এটি মনোবল উন্নত করে ও রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে।

    ১১। একটি ক্ষারীয় খাদ্য হিসাবে অম্লতা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

     

    -সূত্র: হেলথ বেনিফিট।

    সম্পাদনা: তাহমিনা শাম্মী।

     

    Wednesday, April 20, 2016

    পুষ্টিগুণে ভরা অড়বড়ই

  • Share The Gag
  • টক স্বাদের পাকা অড়বড়ই ঝাল-লবণ দিয়ে মাখিয়ে খেতে পছন্দ করেন অনেকেই। এছাড়া এই ফলটি দিয়ে আচার, জুস, জেলি, চাটনি ইত্যাদিও তৈরি করা হয়। অড়বড়ইয়ের রস ভিনেগার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। গাছের কচিপাতা ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে শাক হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয়।

    অড়বড়ইয়ের রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণও। প্রতি ১০০ গ্রাম অড়বড়ইয়ে রয়েছে : জলীয় অংশ ৯১.৯ গ্রাম, আমিষ ০.১৫৫ গ্রাম, চর্বি ০.৫২ গ্রাম, খাদ্যআঁশ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫.৪ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১৭.৯ মিলিগ্রাম, আয়রন ৩.২৫ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ০.০১৯ মিলিগ্রাম, থায়ামিন ০.০২৫ মিলিগ্রাম, রিবোফ্লেভিন ০.০১৩ মিলিগ্রাম, নিয়াসিন ০.২৯২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ৪.৬ মিলিগ্রাম। অড়বড়ইতে কোনো ক্যালরি নেই। তাই বিনা দ্বিধায় খেতে পারেন এই চমত্কার ফলটি।

    অড়বড়ইয়ের রয়েছে অনেক ঔষধি গুণও। লিভারের অসুখের টনিক বানানো হয় এর বীজ দিয়ে। পেটের অসুখ ও কৃমিনাশক হিসেবে এর বীজ ব্যবহার করা হয়। অকাল বার্ধক্য রোধে ও ত্বকের রোগ প্রতিরোধে অড়বড়ইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অড়বড়ইয়ের রস চুলের গোড়ায় লাগালে চুল মজবুত হয় ও খুশকি দূর হয়। মৌসুমি জ্বর প্রতিরোধে ও মুখের রুচি ফিরিয়ে আনতে ফলটি সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

    Friday, April 15, 2016

    গরমে খাদ্য তালিকায় ‘সজনে ডাটা’

  • Share The Gag
  • তাপদাহে শরীর থেকে পানিসহ নানা উপাদান বের হয়ে যায়। তাই খাদ্য তালিকায় রাখতে হয় এমন খাদ্য যেন, শরীর থেকে যা বের হয়ে যায় সঙ্গে সঙ্গে তা পূরণ করতে পারে। এক্ষেত্রেও সজনে ডাটা রাখছে অন্যতম বড় ভূমিকা।
    পুষ্টি সমৃদ্ধ এই সবজি প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় থাকলে মুক্তি মিলবে নানা রোগের হাত থেকে। সবুজ পাতা আর ডাটায় এখন লকলক করছে সজনে গাছগুলো। নানা গুণে সমৃদ্ধ এই সজনে ডাটা বৈশাখের অন্যতম প্রধান সবজি।

    বাড়ির আঙিনা, মাঠে ঘাটে অথবা জমিতে এখন সব জায়গাতেই এই দেখা মিলবে চিরচেনা সজনে গাছের।

    গরমের সবজি হিসেবে খ্যাতি পাওয়া সজনে গাছের শুধু ডাটা নয়, পাতাও সবজি হিসেবে খাওয়ার রীতি রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, এই সজনে পাতায় রয়েছে নানা উপাদান। ভেষজ গুণের জন্য এই সজনে ডাটার গুণ বলে শেষ করা যাবে না।
    সরিষা, আলু ও ডাল দিয়ে সজনের ডাটার ঝোল অথবা আলু আর সজনের ডাটার ঝোলের কথা মনে আসলেই জিহ্বায় রস চলে আসে।

    শুধু কি তাই! সজনে ডাটা ও বড়ির ঝোল, সজনে ডাটা ও রুই মাছের ঝোল, সজনে ডাটা ও চিংড়ি ঝোল, সজনে আর কুমড়ো বড়ি, সজনে ও লাউ’র নিরামিষ, আলু-বেগুনসহ সজনের ডাটা, আম আলু সজনে ডাটার ঝোলতোও কম নয়।

    এতগুলো খাবারের সঙ্গে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এই সজনে সত্যি অসাধারণ। খেতেও যেমন সুস্বাদু, ‍পুষ্টিতেও তেমন সমৃদ্ধ। সবমিলিয়ে সজনে ডাটাকে গ্রীষ্মকালীন সবজির রাজা বলা যেতেই পারে।
    দেশে সজনে চাষের বিকাশ ঘটাতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অধীনে ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদন মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প কাজ করে যাচ্ছে।

    এ প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মো. মাসুদ মেহেদী বাংলানিউজকে বলেন, পুষ্টিকর এ সবজিকে ‘মিরাক্কেল ট্রি’ বলা হয়ে থাকে। ব্যাপকহারে এ সবজির বিস্তৃতি ঘটাতে একটি কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৫০ জাতের সজনে অবমুক্ত আছে।

    এই সজনের বহুমুখী ব্যবহারও রয়েছে। যেমন ফুল। সজনের ফুল বসন্তকালে খাওয়া ভালো। কারণ, এটি বসন্ত প্রতিষেধক। এছাড়া সর্দি কাশি, যকৃতের কার্যকারীতায়, কৃমি প্রতিরোধ, শক্তি বৃদ্ধিতে কাজ করে।

    আর ডাটা বা ফলে রয়েছে প্রচুর এমাইনো এসিড। যা বাতের রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। বহুগুণের অধিকারী এই সবজি ইচ্ছে করলে যে কেউ বাড়ির আঙিনায় চাষ করতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পুষ্টিগুণের কারণেই এই সবজির চাষ করা উচিত।

    সোর্স- বাংলা নিউজ

    Friday, March 4, 2016

    রাতে অক্সিজেন দেয় যে গাছ

  • Share The Gag
  • আমরা সবাই জানি গাছ দিনে অক্সিজেন দেয়, আর রাতে কার্বন ডাই-অক্সাইড। কিন্তু এমন একটি গাছ আছে যা রাতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিবর্তে অক্সিজেন দেয়। এই গাছ কিন্তু আমাদের চারপাশেই দেখতে পাই। অথচ এর এই গুণ সম্পর্কে আমরা মোটেও ওয়াকিবহাল নই। শুধু তাই নয়, গাছটি আবার রোগ নিরাময়ের কাজেও লাগে।

    এখন জানতেই হয় কী সেই গাছ যার এত গুণ? বিশেষ করে রাতে অক্সিজেন দেয়?

    এর নাম স্নেক প্ল্যান্ট। আবার অনেকে ‘শাশুড়ির জিভ’ও বলেন। পাতার আকৃতির জন্যই এ ধরনের নাম গাছটির। এক ধরনের বাহারি গাছ। ঘর সাজানোর কাজে আমরা হামেশাই ব্যবহার করে থাকি। সৌন্দর্য বাড়াতে বেডরুমেও অনেকে এদের রাখেন। খুব অল্প আলোতেও এবং কম পানিতেও এরা জীবিত থাকে। এই গাছ যদি ঘরে রাখা যায়, তা হলে ঘরে অক্সিজেনের ঘাটতি হবে না। নাসার বিজ্ঞানীরা একটি সমীক্ষা করে দেখেছেন যে ঘরের ভিতর এই গাছ রাখা হয় নাইট্রোডেন ডাই অক্সাই এবং ফর্ম্যালডিহাইডের মতো ক্ষতিকারক গ্যাসকে শোষণ করে ঘরকে দূষণমুক্ত রাখে।

    Sunday, February 28, 2016

    পুষ্টিগুণে ও স্বাস্থ্যসুরক্ষায় বরই সেরা

  • Share The Gag
  • বাজারে এখন পাওয়া যাচ্ছে হরেক রকম স্বাদের এবং আকারের বরই। টক মিষ্টি স্বাদের বরই কার না পছন্দ। বসন্তের এই উচাটন দুপুরে লবণ মরিচের গুড়া দিয়ে বরই ভর্তা অনেকের মন টানে। অবসরে বরইয়ের আচার সঙ্গ দেয় মনকাড়া আস্বাদনে। ফলটি খেতেই শুধু অতুলনীয় নয় পুষ্টিগুণেও সেরা।


    প্রতি ১০০ গ্রাম খাবার উপযোগী বরইয়ে রয়েছে খাদ্যশক্তি ৭৯ কিলোক্যালরি, শর্করা ২০.২৩ গ্রাম, চর্বি ০.২ গ্রাম, আমিষ ১.২ গ্রাম, জলীয় অংশ ৭৭.৮৬ গ্রাম, ভিটামিন এ ৪০ আইইউ, থায়ামিন ০.০২ মিলিগ্রাম, রিবোফ্লাভিন ০.০৪ মিলিগ্রাম, নিয়াসিন ০.৯ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি৬ ০.০৮১ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ৬৯ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ২১ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.৪৮ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১০ মিলিগ্রাম, ম্যাংগানিজ ০.০৮৪ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২৩ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ২৫০ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ৩ মিলিগ্রাম, জিংক ০.০৫ মিলিগ্রাম।


    পুষ্টিগুণ ছাড়াও বরইয়ের রয়েছে অনেক রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা।নিচে কয়েকটি কথা দেখে নিতে পারেন এক নজড়ে।


    ১. বরইয়ে থাকা খাদ্যশক্তি শরীরের দুর্বলতা কাটিয়ে তুলতে সহায়তা করে।

    ২. এতে উপস্থিত পর্যাপ্ত পরিমান ভিটামিন এ চোখের যত্নে দারুণ ভাবে কাজ করে। দৃষ্টিশক্তি শক্তিশালী করতে এর জুড়ি নেই।

    ৩. রক্তশুন্যতা দূর করতেও বরই বেশ কার্যকরী।

    ৪. হাড়ের গঠনে বরইয়ে থাকা ক্যালসিয়াম সাহায্য করে।

    ৫. বরইয়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। ভিটামিন সি ইনফেকশনজনিত রোগ যেমন টনসিলাইটিস, ঠোঁটের কোণে ঘা, জিহ্বাতে ঘা, ঠোঁটের চামড়া উঠে যাওয়া ইত্যাদি দূর করে।

    ৬. বরইয়ে উপস্থিত অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উচ্চ মাত্রার ক্ষমতা সম্পন্ন। এই উপাদান ক্যানসার কোষ, টিউমার কোষ ও লিউকেমিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে।

    ৭. যকৃতের নানা রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে বরই। এই ফল যকৃতের কাজ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।

    ৮. বরই অত্যন্ত চমৎকার একটি রক্ত বিশুদ্ধকারক। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বরই খুবই উপকারী ফল। ডায়রিয়া, ক্রমাগত মোটা হয়ে যাওয়া, রক্তশূন্যতা, ব্রঙ্কাইটিস ইত্যাদি রোগ খুব দ্রুত সারিয়ে তোলে এই ফল।

    ৯. হজম শক্তি বৃদ্ধি ও খাবারে রুচি বাড়িয়ে তোলাসহ এ ফল মৌসুমি জ্বর, সর্দি-কাশিও প্রতিরোধ করে।



    সূত্র: ইত্তেফাক

    লাউয়ের বিস্ময়কর স্বাস্থ্য উপকারিতা

  • Share The Gag
  • লাউ আমাদের দেশের একটি জনপ্রিয় তরকারি। লাউ একই সঙ্গে সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর একটি সবজি। ঝোল, লাবড়া, নিরামিষ, ভাজি কিংবা সালাদ হিসেবেও খাওয়া যায় এই তরকারি।

    প্রতি ১০০ গ্রাম লাউয়ে আছে, কার্বোহাইড্রেট- ২.৫ গ্রাম, প্রোটিন- ০.২ গ্রাম, ফ্যাট- ০.৬ গ্রাম, ভিটামিন-সি- ৬ গ্রাম, ক্যালসিয়াম- ২০ মি.গ্রা.,ফসফরাস- ১০ মি.গ্রা.,পটাশিয়াম- ৮৭ মি.গ্রা., নিকোটিনিক অ্যাসিড- ০.২ মি.গ্রা.। এছাড়াও লাউয়ে রয়েছে খনিজ লবন, ভিটামিন বি-১, বি-২, আয়রন।

    ওজন কমাতে



    আপনি যদি ওজন কমানোর কথা ভেবে থাকেন তাহলে খাবার তালিকায় লাউ রাখুন। লাউ একটি কম ক্যালোরি সম্পন্ন ডায়েট। লাউয়ের ৯৬% হলো পানি। লাউয়ে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার থাকে এবং খুবই কম ক্যালোরি থাকে যা ওজন কমাতে অত্যন্ত সহায়ক। তাই ওজন কমানোর চিন্তা করছেন যারা তাঁরা বেশি করে লাউ খান। তাহলে শরীরে কম ক্যালোরি যুক্ত হবে এবং পেটও ভরবে।

    হজমে সাহায্য করে


    লাউয়ে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় এবং অদ্রবনীয় ফাইবার আছে। দ্রবণীয় ফাইবার খাবার সহজে হজম করতে সাহায্য করে এবং হজম সংক্রান্ত সকল সমস্যা সমাধানে সহায়তা করে। এছাড়াও নিয়মিত লাউ খেলে অ্যাসিডিটি ও কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যার সমাধান করে। অদ্রবণীয় ফাইবার পাইলসের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

    শরীর ঠান্ডা করে


    যেহেতু লাউ এর মূল উপাদান হলো পানি তাই লাউ খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে। যারা নিয়মিত সূর্যের আলোতে কাজ করে অথবা দীর্ঘক্ষন ধরে রোদে কাজ করার পর লাউ তরকারী খেলে শরীর বেশ ঠান্ডা হয় এবং শরীরের ভেতরের অস্বস্তি লাগা কমে। গরমের কারণে আমাদের শরীর থেকে যে পানি বের হয়ে যায় লাউ সেটার অনেকটাই পূরণ করে ফেলে। ফলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমে যায়।

    ত্বক ভালো করে


    লাউয়ে আছে প্রাকৃতিক প্রোটিন ও ভিটামিন। তাই নিয়মিত লাউ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে ত্বক ভেতর থেকে ভালো হয়। এছাড়াও যাদের ত্বক তৈলাক্ত তাদের ত্বকের তৈলাক্ততার সমস্যা অনেকটাই কমে যায় লাউ খেলে। এছাড়াও লাউ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে পেট পরিষ্কার রাখে। ফলে মুখে ব্রণ ওঠার প্রবণতাও কমে যায় অনেকটাই।

    পানিশূন্যতা দূর করে



    জ্বর, ডায়রিয়া ও অন্যান্য বড় ধরণের অসুখে শরীরে পানির অভাব দেখা দেয়। প্রচুর পরিমাণে পানি বের হয়ে যায় বলে পানি শূন্যতার সৃষ্টি হয় এবং তা কিডনির উপর প্রভাব ফেলে। তাই এ ধরণের অসুখের সময় প্রচুর পরিমাণে লাউ খেলে শরীরের পানিশূন্যতা দূর হয়ে যায় এবং শরীর সতেজ থাকে।

    প্রসাবের জ্বালা পোড়া কমায়


    লাউয়ে প্রচুর পরিমাণে পানি আছে। তাই যাদের প্রসাবে জ্বালা পোড়ার সমস্যা আছে কিংবা প্রসাব হলদে হয় তাদের নিয়মিত লাউ খাওয়া উচিত। নিয়মিত লাউ খেলে এধরণের সমস্যা থেকে নিস্তার পাওয়া যাবে।

     

    ব্রণ থেকে বাঁচাবে ত্রিফলা

  • Share The Gag
  • ত্রিফলা বাজারে শুষ্ক ফলের মতো অবস্থায় পাওয়া যায়। অনেক কোম্পানি এটিকে নানা ভাবে প্রক্রিয়াজাত করেন ও বিক্রি করেন।

    তবে সবচেয়ে নিরাপদ হল যদি শুষ্ক ফল এর মত অবস্থায় ত্রিফলা ব্যববার করেন। ত্রিফলা হল ৩ টি ফলের মিশ্রন।
    এতে থাকে আমলকি, হরিতকি, বিভিতকি। ব্রণের সমস্যা দূর করতে এটি নিয়মিত খেতে পারেন।

    যেভাবে খাবেন:
    ত্রিফলার মিশ্রণের একটি অংশ (যাতে অন্তত ১ টি হরিতকি, ১ টি বিভিতকি ও ২ টি আমলকি থাকে) গুড়া করে রাতে পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে এবং সকালে খালি পেটে রসটুকু ছেঁকে খেয়ে নিতে হবে। খাওয়ার পর অন্তত ১০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে নাস্তা করার জন্য।

    ব্রণ দূর করার আরো একটি উপায়:
    ব্রণের দাগ ও ব্রণের উপর লবঙ্গ বেটে ৩০ মিনিট লাগিয়ে রাখবেন। ১ দিন পর পর টানা ১ মাস এভাবে লাগালে দাগ কমে যাবে। লবঙ্গে ঝাঁঝ থাকে বলে লাগানোর প্রথম ৫-৭ মিনিট ত্বক জ্বলবে, কিন্তু এতে ঘাবড়ে যাবেন না। কিছুক্ষণ পর জ্বলা ঠিক হয়ে যাবে। প্রতিবারই এমন হবে। লবঙ্গ বাটার সময় এতে একটু পানি মিশিয়ে নিবেন।

    সূত্রঃ ভোরের কাগজ

    লবঙ্গের বিস্ময়কর ১১ গুণ

  • Share The Gag
  • লবঙ্গ একটি মশলা হিসেবে প্রায় সব রান্নায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে। মূলত রান্নার স্বাদ বৃদ্ধির জন্য লবঙ্গ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আপনি জানেন কি রান্নায় ব্যবহার ছাড়াও এই লবঙ্গের আছে নানা স্বাস্থ্যগুণ? অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, প্রোটিন, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, জিঙ্ক, ভিটামিন এ, ভিটামিন কে, ভিটামিন সি এবং ভিটামিন বি সমৃদ্ধ একটি মশলা লবঙ্গ। দেখে নিন বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দূর করতে এর ব্যবহার।

    ১। বদহজম দূর করতে লবঙ্গ খুব ভালো কাজ করে। এনজাইম বৃদ্ধি করে পেটের গ্যাস, বমি বমি ভাব, পেট ব্যথা কমিয়ে দেয়। লবঙ্গের গুঁড়ো মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে গ্যাসের সমস্যা দূর হয়ে যায়।

    ২। হঠাৎ শুরু হওয়া দাঁতের ব্যথার ঘরোয়া চিকিৎসা এই লবঙ্গ। লবঙ্গের তেল এক টুকরো তুলোতে লাগিয়ে ব্যথার দাঁতের উপর রেখে দিন। এটি দাঁতের ব্যথা দূর করে ইনফেকশন হওয়া থেকে দাঁতকে রক্ষা করবে।

    ৩। উচ্চ ডায়াবেটিস রোগিদের জন্য লবঙ্গ অনেক উপকারি। এটি শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রেখে শরীরের রক্ত থেকে কোষের মধ্যে বাড়তি চিনি পরিবহন করতে সাহায্য করে, নিয়মিত লবঙ্গ খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।

    ৪। গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গে ইউজিনল এবং ইউজিনল ডেরিভাটিভস যা হাড়ে ঘনত্ব এবং মিনারেল বৃদ্ধি করে থাকে। নারীরা এবং বয়স্ক মানুষদের নিয়মিত লবঙ্গ খেলে হাড়ের সমস্যা অনেকটা কমে যায়।

    ৫। পেশীর প্রদাহ এবং বাতের ব্যথা দূর করতেও লবঙ্গের জুড়ি নেই। বাতের ব্যথার স্থানে লবঙ্গের তেল ম্যাসাজ করুন। দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যে ব্যথা কমে গেছে।

    ৬। এক গ্লাস দুধে লবঙ্গের গুঁড়ো এবং লবণ মিশিয়ে পান করুন। এটি মাথা ব্যথা দ্রুত দূর করে দিবে।

    ৭। অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ লবঙ্গ লিভার আক্রান্ত হতে পারে এমন উপাদানসমূহ ধ্বংস করে থাকে। ফলে নিয়মিত লবঙ্গ খেলে লিভার সুস্থ থাকে। এছাড়া লবঙ্গ ব্রেস্ট ক্যান্সার, ওভারিয়ান ক্যান্সার প্রতিরোধ করে থাকে।

    ৮। তুলসি, পুদিনা, এলাচ ও লবঙ্গ মেশানো পানির শরবত মানসিক চাপ দূর করতে সহায়তা করে।

    ৯। লবঙ্গ ব্রণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। ব্রণের দাগ দূর করতেও লবঙ্গের পেস্ট খুব কার্যকর।

    ১০। লবঙ্গ শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদানগুলো সরিয়ে রক্তকে পরিশোধন করতে ভূমিকা রাখে।

    ১১। লবঙ্গের তেলের জীবাণুনাশক গুণ রয়েছে। এটি ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করতে খুবি কার্যকর।