Showing posts with label মুরগি. Show all posts
Showing posts with label মুরগি. Show all posts

Monday, July 24, 2017

মুরগির জটিল রোগ নির্ণয়ে দেশি পদ্ধতি

  • Share The Gag
  • মুরগির জটিল রোগ নির্ণয়ে দেশি পদ্ধতি


     


    মুরগি পালন লাভজনক হলেও বিভিন্ন প্রকার রোগ এ লাভের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিবছর বিভিন্ন রোগের কারণে ক্ষতি হয় কোটি কোটি টাকা। তাছাড়াও রোগ নিরাময়, রোগ নির্ণয় করতে বিদেশ থেকে বিভিন্ন ঔষধ আনতে হয়। মুরগির রোগ সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারলে তা নিরাময় করা সহজ হয়। কিন্তু এ রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রতিবছর বিদেশ থেকে আনা হয় বিভিন্ন কিট, যা অনেক ব্যয়বহুল। এসব দিক চিন্তা করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের প্যাথলজি বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক এমদাদুল হক চৌধুরী উদ্ভাবন করেছেন মুরগির দুটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ সালমোনেলোসিস ও মাইকোপস্নাজমসিস নির্ণয়ের দেশি প্রযুক্তির কিট। এগুলো ব্যবহার করে খুব কম সময়ে সহজে ও অতি অল্প খরচে নিভর্ুলভাবে রোগ দুটি নির্ণয় করা সম্ভব।

    সালমোনেলোসিস মুরগির ব্যাকটেরিয়াজনিত একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ। এ রোগে মুরগির মৃতু্যর হার বেশি এবং মুরগির ডিম ও মাংস উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যায়। ফলে খামারিরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। সালমোনেলা গোত্রভুক্ত বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া দ্বারা বাংলাদেশে মূলত মুরগির হোয়াইট ব্যাসিলারি ডাইরিয়া বা পুলুরাম রোগ, ফাউল টাইফয়েড নামক রোগ হয়ে থাকে। প্রচলিত পদ্ধতিতে এ রোগ নির্ণয়ের জন্য র্যাপিডএগেস্নাটিনেশন টেস্ট ব্যবহার করা হয়। কিন্তু দেখা গেছে, এটেস্টে অনেক সময় ভুল ফলাফল পাওয়া যায়। তাছাড়া এ পরীক্ষাটি তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল। নানা সমস্যার কথা মাথায় রেখেই বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগ অতি সহজে স্বল্প খরচে এবং নিভর্ুলভাবে রোগ সনাক্তকরণের জন্য "BUA Path S-antigen kit" উদ্ভাবন করেছে। উদ্ভাবিত কিটটি ব্যবহার করে মাত্র ত্রিশ সেকেন্ডের মধ্যে সালমোনেলুসিস রোগটি নির্ভুলভাবে সনাক্ত করা যাবে।

    মাইকোপস্নাজমসিস মুরগির আরেকটি মাইকোপস্নাজমাজনিত মারাত্মক সংক্রামক রোগ। এ রোগেও খামারিরা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাইকোপস্নাজমা গোত্রভুক্ত চার ধরনের প্রজাতি দ্বারা মুরগি, তিতির ও অন্যান্য পাখির এ রোগ দেখা দেয়। প্রচলিত পদ্ধতিতে এ রোগ নির্ণয়ের জন্য র্যাপিডএগেস্নাটিশন টেস্ট ব্যবহার করা হয়, যা আমদানি নির্ভর এবং তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল ও সময় সাপেক্ষ। এ কথা চিন্তা করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগ স্বল্প খরচে এবং নিভর্ুলভাবে রোগ সনাক্তকরণের জন্য "BAU Path Mg-antigen kit" উদ্ভাবন করেছে। উদ্ভাবিত কিটটি ব্যবহার করে মাত্র ত্রিশ সেকেন্ডের মধ্যে মাইকোপেস্নাজমসিস রোগটি নিভর্ুলভাবে সনাক্ত করা সম্ভব।

    "BUA Path S-antigen kit" ও "BAU Path Mg-antigen kit"এর সংরক্ষণ ও ব্যবহার প্রণালীর স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত সালমোনিলা ও মাইকোপস্নাজমা হতে প্রস্তুতকৃত এন্টিজেনটি ৪০ সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়। পরীক্ষাটি সম্পন্নের জন্য অতিরিক্ত হিসেবে গস্নাস সস্নাইড, ড্রপার, সন্দেহযুক্ত মুরগির রক্তরস প্রয়োজন হয়। সস্নাইডের উপর বিশ মাইক্রোলিটার এন্টিজেন ("BAU Path Mg-antigen kit") এবং সমপরিমাণ রক্তরস মেশানোর ত্রিশ সেকেন্ডের মধ্যে খালি চোখে সুস্পষ্ট দানার উপস্থিতি দেখে রোগটি উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায়। এখানে উলেস্নখ্য যে, রক্তরস ও এন্টিজেন মেশানোর এক মিনিটের অধিকাল অপেক্ষা করলে ভুল ফলাফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কেবলমাত্র এক মিনিটের মধ্যে সৃষ্ট দানা রোগটির উপস্থিতি নিশ্চিত করে।

    বর্তমানে বাজারে প্রচলিত কিটগুলো আমদানি নির্ভর ব্যয়বহুল এবং এই কিটগুলোর ব্যবহার কালে গাঢ় নীল রঙয়ের দ্রবণের মধ্যে অস্পষ্ট নীল দানা সৃষ্টি হয় বলে রোগ সনাক্তকরণে জটিলতার সৃষ্টি হয়। অথচ উদ্ভাবিত কিটটি ব্যবহার করলে সস্নাইডে গোলাপী রঙয়ের দ্রবণের মধ্যে সুস্পষ্ট লালদানা সৃষ্টি হয় যা সহজেই খালি চোখে দেখা যায়।

    বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগ উদ্ভাবিত "BUA Path S-antigen kit" ও "BAU Path Mg-antigen kit" কিট দুটি মাঠ পর্যায়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা গেলে একদিকে রোগটি স্বল্প খরচে দ্রুততার সাথে সনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে, অপরদিকে খামারিরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে।

    Saturday, July 22, 2017

    ময়ূর প্রতিপালন সম্ভাবনাময় একটি নতুন ক্ষেত্র

  • Share The Gag
  • ময়ূর প্রতিপালন পোল্ট্রি শিল্পের ন্যায় সম্ভাবনাময় একটি নতুন ক্ষেত্র



    আদিমকাল থেকে মানুষ নিজেদের খাদ্য তালিকায় পাখির ডিম ও মাংসের সংযোজন করে আসছে। রসনা তৃপ্তির পাশাপাশি সৌন্দর্য্য পিয়াসী মানুষ নানা জাতের পাখিও সেই আদিকাল থেকে পালন করে থাকে। পাখি পালনের সাথে সাথে মানুষ অর্থনৈতিক দিক থেকেও উপকৃত হতে থাকে।

    ময়ূর

    মানুষ নিজেদের খাদ্য চাহিদা, শখ ও মনোরঞ্জনের জন্য পাখিকে নিজ আয়ত্বে রাখার প্রয়াস অব্যাহত রেখেছে। এরই ধারাবহিকতায় অনেক পাখিই মানুষের পোষ মেনেছে।

    পালক বিশিষ্ট দ্বিপদ প্রাণিকে পাখি বলা হয়। অন্যভাবে বলা যায়, পাখি হচ্ছে ওড়ার ক্ষমতাসম্পন্ন ডানাওয়ালা মেরুদন্ডী প্রাণি যাদের পরিবেশের সাথে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রয়েছে। পোল্ট্রি যোগসূত্র স্থাপন করতে হবে।

    পোল্ট্রি হচ্ছে মূলতঃ ঐ সমস্ত পাখি যারা মানুষের তত্বাবধানে থেকে ডিম পাড়ে ও বাচ্চা উৎপাদন করে এবং অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা প্রদান করে। হাঁস, মুরগি, কবুতর, তিতির, কোয়েল এবং টার্কির মত ময়ূরও পোল্ট্রি শিল্পের অন্তর্ভুক্ত। পোল্ট্রি বিজ্ঞান এসব বিষয়ে ব্যাপক গবেষণা অব্যাহত রেখেছে। তাই পোল্ট্রি শিল্প আজও এতো লাভজনক ও আকর্ষণীয়। পোল্ট্রি ছাড়া অন্যান্য পাখি নিয়েও দেশে-বিদেশে গবেষণা চলছে যা অরনিথলজি হিসাবে পরিচিত। এর মাধ্যমে নতুন নতুন পাখি পোল্ট্রি হিসাবে স্বীকৃতি পাবার প্রভূত সম্ভাবনা রয়েছে।

    পোল্ট্রি শিল্পে ময়ূর

    বর্তমানে লেয়ার, ব্রয়লার ও হাঁসের খামার সকলের নিকট পরিচিত। পোল্ট্রি বলতে অনেকেই শুধু মুরগিকে বোঝেন, আসলে কিন্তু তা ঠিক নয়। বাণিজ্যিক না হলেও পারিবারিক বা শখের বশে আমাদের দেশে কবুতর, তিতির, রাজহাঁস, মাসকোভী হাঁস ও কোয়েল পালিত হয়ে থাকে। কিন্তু ময়ূর একটি লাভজনক পেশা হওয়া স্বত্বেও আমাদের দেশে এ পাখিটিকে চিড়িয়াখানা ছাড়া অন্য কোথাও পালন করতে দেয়া যায় না। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ময়ূর বাণিজ্যিকভাবে পালন করা লাভজনক এবং গ্রামে-গঞ্জেও পালন করা যেতে পারে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে, বাড়বে আয়- রোজগারের পথ এবং উন্নতি হবে দেশ ও দশের।

    ময়ূরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব

    বাংলাদেশে সুন্দরতম পাখি ছিল ভারতীয় ও বর্মী ময়ূর। এ প্রজাতি দু’টি বর্তমানে দেশে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ময়ূর যেমন সুন্দর পাখি তেমনি এদের অপূর্ব সুন্দর পেখম সকলকে বিমোহিত ও আকৃষ্ট করে। ময়ূরের মাংস বেশ সুস্বাদু ও স্বাস্থকর। যেহেতু এদের মাংস বাজারে বিক্রি হয় না সেহেতু তা পাওয়া গেলেও বাজারে মূল্য হবে অত্যধিক। রসনা তৃপ্তির জন্য এদের মাংসের চাহিদা আছে দেশে। এই প্রেক্ষাপটে কবুতর, মুরগি, কোয়েল ও হাঁসসহ অন্য যে কোনো পোল্ট্রির ন্যায় ময়ূর পালনও অবশ্যই লাভজনক।
    ময়ূরের পালক সবার কাছেই অত্যন্ত সমাদৃত। যারা কোনোদিন ময়ূর দেখেনি তারাও এদের পালকের খুব ভক্ত। মৎস্য শিকারীরা সেই যুগ যুগ ধরে আগে থেকে মাছ ধরার ছিপের সাথ ময়ূরের পালক ব্যবহার করে থাকেন। দেশে-বিদেশে ময়ূরের পালকের যথেষ্ট জনপ্রিয়তা রয়েছে।

    দেশে ময়ূরের বর্তমান অবস্থান

    ময়ূরের পালকের প্রচুর জনপ্রিয়তা থাকার জন্য দেশের বহু অভিজাত দোকানে এদের পালক বিক্রি করা হয়ে থাকে। কিন্তু তাই বলে মনে করা যাবে না যে দেশে ময়ূরের সংখ্যা রয়েছে যথেষ্ট।

    দেশে বিদ্যমান চিড়িয়াখানাগুলো ছাড়া আসলে ময়ূর দেশের অন্য কোথাও সাধারণত দেখা যায় না। শোনা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন বনে কদাচিৎ বর্মী ময়ূরের দেখা মিলে। এমনও এক সময় ছিল যখন ময়ূর ঢাকা জেলার শালবন থেকে ময়মনসিংহ, ভারতের মেঘালয় ও আমাদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিচরণ করতো। বাংলাদেশে এ মূল্যবান পাখিটি বিলুপ্ত হয়ে গেলেও ভারতে যথেষ্ট সংখ্যক ময়ূর পাওয়া যায়। ময়ূর ভারতের জাতীয় পাখি এবং ভারতীয় হিন্দুরা ময়ূরকে কার্তিকের বাহন হিসাবে পূজা করে।
    বাংলাদেশের আবহাওয়া ময়ূর লালন-পালনের উপযোগী। কিন্তু বর্তমানে তা শুধুমাত্র চিড়িয়াখানা ও বিত্তবানদের পাখি হিসাবে পরিচিতি লাভ করছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এ পাখিটি গ্রামের হত-দরিদ্র মানুষ থেকে অনেক পরিবারই স্বাচ্ছন্দ্যে লালন-পালন করতে পারেন।

    ময়ূরের বৈশিষ্ট্য

    এদের দেহে উজ্জ্বল সবুজ ও নীলাভ পালক থাকে। মাথা, ঘাড়, গলা এবং ডানার পালক কিছুটা নীলাভ। ডানার বাকি অংশ লালচে। পা লালচে। ময়ূরীর পেখম নেই কিন্তু ময়ূরের রয়েছে অপূর্ব আকর্ষণীয় পেখম। ময়ূরের সবুজ পেখমের পালকে অনেকগুলি বড় চৌকাকৃতি ফোঁটা থাকে যা খুবই আকর্ষণীয়। পেখমগুলি লেজের পালক নয়-ওগুলি লেজের গোড়ার উপরের পালক যা অতিমাত্রায় লম্বা। ময়ূরের চূড় আছে। ময়ূর পিঠের উপর পেখম তুলে ডানা ঝুলিয়ে নেচে নেচে ময়ূরীকে আকর্ষণ করে যা নয়ন মনোহর ও অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক।

    ময়ূর

    ময়ূরের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য

    ময়ূর দলবদ্ধভাবে বনে-জঙ্গলে বিচরণ করে। ৫-৬টি ময়ূরীর সাথে এক এলাকায় ১টি ময়ূর থাকে। এরা মাটিতে চলাফেরা করলেও বেশিরভাগ সময় বড় গাছের ডালে থাকে। শস্যদানা, কীটপতঙ্গ, সাপ, ব্যাঙ প্রভৃতি এদের প্রিয় খাদ্য। মাটিতে সামান্য গর্ত করে ৩ থেকে ৫টি ডিম পাড়ে। ডিমগুলি ধুসরাভ। ডিম থেকে বাচ্চা ফুটতে ২৭-৩০ দিন সময় লাগে। এদের গড় আয়ু প্রায় ৩৫ বছর। ময়ূরের যৌবনপ্রাপ্তি ঘটে সাধারণত ৩-৪ বছরে

    আবদ্ধ অবস্থায় লালন-পালন

    আবদ্ধ অবস্থায় লালন-পালনের ক্ষেত্রে এদেরকে নিয়মিত গম, ধান, সবজি, বীজ ইত্যাদি খেতে দিতে হয়। পেঁপে, তরমুজসহ অন্যান্য পাকা ফলও এদের প্রিয় খাদ্য।

    দৈনিক খাদ্য তালিকা (মাথাপিছু)



    সেই সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হবে।

    ময়ূর পালনে করণীয়

    প্রকৃতির সুন্দরতম পাখিটিকে রক্ষা করার দায়িত্ব সকলের। বর্তমানে বনভূমির সঙ্কোচন ও প্রাকৃতিক পরিবেশে ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে অন্যান্য প্রাণিকূলের ন্যায় ময়ূরের স্বাভাবিক সংখ্যাও সীমিত হয়ে এসেছে। এমতাবস্থায় এদেরকে রক্ষার জন্য সর্বাত্নক প্রচেষ্টা গ্রহণ করা আবশ্যক।

    বন্যপ্রাণি রক্ষার জন্য দেশে বেশ কয়েকটি “বনকে” ময়ূর প্রতিপালনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য চিহ্নিত করা যেতে পারে। এজন্য পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে ময়ূর সংগ্রহ করে তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো যায়। এছাড়াও সরকারী-বেসরকারী উদ্যোগে স্বতন্ত্রভাবে ময়ূর পালনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট গ্রাম/ইউনিয়ন/থানা এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসাবে ময়ূর পালনে আগ্রহী মানুষকে উদ্যোগী করে প্রশিক্ষিত করে তোলা যেতে পারে।

    দেশে ময়ূর পালন, রক্ষণাবেক্ষণ, বাজারজাতকরণ, ময়ূরকেন্দ্রিক কুটির শিল্প স্থাপন ইত্যাদি বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়, ভোকেশনাল ইনসটিটিউটসমূহে প্রশিক্ষণের সুযোগ-সবিধা সহজেই সৃষ্টি করা যেতে পারে। এ ব্যাপারে সরকারী পৃষ্টপোষকতা থাকলে এ শিল্পেরও উজ্জ্বল ভবিষ্যত রয়েছে।

    পোল্ট্রি শিল্পের ক্ষেত্রে উদীয়মান দেশ হিসাবে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সুনাম অর্জন করেছ। বিশ্বের প্রতিযোগিতামূলক মুক্ত বাজারে নতুন নতুন পণ্য সৃষ্টি, বিপণন ও বাজার চালুর সম্ভাবনাময় খাতকে উন্মোচিত করার সময় এসেছে। তাই এই শিল্পের প্রসার ও উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলো।

    তিতির পাখি পালন ব্রয়লার মুরগির চেয়েও লাভজনক

  • Share The Gag
  • তিতির পাখি পালন ব্রয়লার মুরগির চেয়েও লাভজনক



    ভূমিকা


    পোল্ট্রির মোট ১১টি প্রজাতির মধ্যে একটি হলো তিতিরযার ইংরেজী নাম Guinea fowl। শোভাবর্ধনকারী পাখি (Ornamental bird) হলেও সুস্বাদু মাংস এবং ডিমের জন্য শত শত বৎসর যাবত তিতির পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পালিত হয়ে আসছে। আফ্রিকা মহাদেশে উৎপত্তি এ পাখিটি আগে বাংলাদেশের প্রধানত রাজশাহীরংপুরচুয়াডাঙ্গানওগাঁনরসিংদীভৈরবকিশোরগঞ্জগাজীপুরটাঙ্গাইল অঞ্চলে বিশেষ ভাবে চোখে পড়ত। স্থানীয় জনগণ এই পাখিকে চীনা মুরগী নামে ডাকত এবং গ্রামীণ পরিবেশে হাঁস-মুরগীর সাথে পালন করত। বর্তমানে সৌখিন ব্যক্তিরা এদেরকে পালন করে থাকেলেও বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে তিতির পালন ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে।




    বাহ্যিক বৈচিত্র্যতার ভিত্তিতে তিতির পাখির শ্রেনীবিন্যাস




    পালকের রং-এর ভিত্তিতে এ পাখিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।




    পার্ল ভ্যারাইট-এই ধরণের তিতির পাখি সাধারণত ধুসর পালকের অধিকারী। পালকে নিয়মিত ভাবে ফোটা ফোটা সাদা দাগ থাকে। দেখতে খুব আকর্ষনীয় হওয়ায় পালকগুলো সৌন্দর্য বর্ধনের উপকরণ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।




    লেভেনডার ভ্যারাইটি -পালকের বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে পার্ল ভ্যারাইটির সাথে মিল রয়েছে। ভিন্নতা শুধুমাত্র পালকের রং হালকাধুসর বর্ণের এবং তাতে নিয়মিতভাবে সাদা ফোটা ফোটা দাগ রয়েছে।




    সাদা ভ্যারাইটি -নামকরণ থেকে বুঝা যায় এটির পালক সাদা এবং এর পালকে কোন দাগ থাকে না। এই ভ্যারাইটির পাখির চামড়া পার্ল ভ্যারাইটির তুলনায় হালকা রং এর হয়।




    তিতিরের উৎপাদন বৈশিষ্ট্যাবলী






























    প্রতি বছর ডিম উৎপাদন

    ডিমের ওজন

    ডিমের ফার্টিলিটি

    হ্যাচাবিলিটি

    ডিমের ওজন(দৈহিক ওজনের)

    দৈহিক ওজন

    প্রাপ্ত বয়স্ক হয়

    ডিম থেকে বাচ্চা ফোটার সময়

    এক দিন বয়সের বাচ্চার ওজন

    ১০০-১২০ টি

    ৩৫-৪৫

    গ্রাম

    ৭৫-৮০%

    ৭৫-৮০%

    .%

    .-.৭ কেজি

    -৭ মাস

    ২৭-২৮ দিন

    ২১-২৭ গ্রাম




    তিতির ব্যবস্থাপনা




    (ব্রুডিং-মুরগির বাচ্চার তুলনায় তিতিরের বাচ্চা ঠান্ডায় অধিক সংবেদনশীল। সেজন্য প্রথম সপ্তাহে উচ্চ ব্রুডিং তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়। প্রথম থেকে তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত ব্রুডিং তাপমাত্রা ৩৭º সেএবং চতুর্থ থেকে পঞ্চম সপ্তাহ পর্যন্ত ৩৬º সে.-এ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।




    (বাসস্থান ব্যবস্থা-এদেরকে মুক্ত অবস্থায় (Free range), আধা-মুক্ত (Semi-intensive) এবং বন্ধ (Battery cages & deep litter) অবস্থায় পালন করা যায়। বয়স ভেদে প্রতিটি তিতিরের জন্য জায়গার পরিমাণ নিম্নরূপঃ






















    বয়স

    -৪ সপ্তাহ

    -৮ সপ্তাহ

    -১৩ সপ্তাহ

    পূর্ণ বয়স্ক

    জায়গা

    .৫ বর্গফুট

    .৭৫ বর্গফুট

    .০ বর্গফুট

    -.৫ বর্গফুট




    (খাদ্য এবং পানি-বাড়ন্ত তিতিরের সাপ্তাহিক খাদ্য এবং পানি গ্রহণের পরিমাণ নিচে তালিকা আকারে দেয়া হলো।






























































    খাদ্য ও পানি গ্রহণ

    বয়স সপ্তাহ










    ১০

    ১১

    ১২

    ১৩

    ১৪

    খাদ্য(গ্রাম)

    ৫৫

    ১৩০

    ২১০

    ২৭৫

    ৩৪০

    ৩৯৫

    ৪৬০

    ৪৯৫

    ৫৪০

    ৫৮৫

    ৬১০

    ৬৩০

    ৬৩৫

    ৬৪০

    পানি(মি:লি)

    ৭৫

    ১৮০

    ২৯০

    ৩৮০

    ৪৬০

    ৫৩০

    ৬২০

    ৬৭০

    ৭৩০

    ৭৮০

    ৮১০

    ৮৩৫

    ৮৪৫

    ৮৫০




    (খাদ্য প্রস্তুতকরণ






































































    খাদ্য উৎপাদন (%)

    বয়স (সপ্তাহ)

    স্টার্টার (-)

    গ্রোয়ার (-২০)

    ২১-পরবর্তী সময়

    গমচূর্ণ

    ৩০.০০

    ৩০.০০

    ৩০.০০

    ভূট্টা চূর্ণ

    ১৮.০০

    ২৪.০০

    ১৮.০০

    চাউলের কুঁড়া

    ১৪.০০

    ১৯.০০

    ১৫.০০

    তিলের খৈল

    ০৯.০০

    ০৭.০০

    ০৮.০০

    ফিস মিল

    ১৮.০০

    ১০.০০

    ১৫.০০

    নারিকেলের খৈল

    ১১.০০

    ০৮.০০

    ১১.০০

    ঝিনুক চূর্ণ

    ০১.০০

    ০১.০০

    ০৪.০০

    সাধারণ লবণ

    ০০.৬০

    ০০.৬০

    ০০.৬০

    ভিটামিন-মিনের‌্যালস

    ০০.৪০

    ০০.৪০

    ০০.৪০




    উৎকর্ষতার বৈশিষ্ট্য




    দৈহিক ওজনখাদ্য গ্রহণ এবং খাদ্য রূপান্তর দক্ষতার (F.C.R) ভিত্তিতে তিতিরের উৎকর্ষতার বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপঃ


     





















































    প্যারামিটার

    বয়স (সপ্তাহ)

    -

    -

    -১১

    ১২

    ১৩

    -১১

    -১২

    -১৩

    দৈহিক ওজন(গ্রাম)

    ৩৮০

    ৫৯০

    ৪০০

    ১১০

    ১০০

    ১৩৭০

    ১৪৮০

    ১৫৮০

    খাদ্য গ্রহণ(গ্রাম)

    ৬৭০

    ১৬৯০

    ১৭৩৫

    ৬৩০

    ৬৩৫

    ৪০৯৫

    ৪৭২৫

    ৫৩৬০

    খাদ্য রূপান্তর দক্ষতা

    .৭৬

    .৮৬

    .৩৪

    .৭৩

    .৩৫

    .৯৯

    .১৯

    .৩৯


     

    বিঃ দ্রঃ খাদ্যে শক্তি মাত্রা ৩০০০ কিলো ক্যালরি বিপাকীয় শক্তি কেজি এবং সহনীয় তাপমাত্রা ২০ºসে.




    বাংলাদেশে বিদ্যমান তিতির পাখির সাধারণ বৈশিষ্ট্য




    বাংলাদেশে যে তিতির পাখি পাওয়া যায় সেটি পার্ল ধরণের। এর সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলোঃরং ধুসর বর্ণের এবং পালকের উপর নিয়মিত ভাবে ফোটা ফোটা সাদা দাগ থাকেডিমের রং হালকা বাদামি থেকে ঘন বাদামি রং এর হয় ও ডিম এর গায়ে ছোট ছোট দাগ দেখা যায়ডিম সাধারণত লাঠিম বা কনিকেল আকৃতির হয়ডিমের ওজন ৩৮-৪৪ গ্রাম এর মধ্যে হয়ে থাকে,পুরুষ পাখির মাথার হেলমেট বা মুকুট একটু বেশী উঁচু স্ত্রী পাখির তুলনায়পায়ের রং একটু কালচে ধরণেরএকটি পূর্নাঙ্গ স্ত্রী পাখির ওজন ১৩০০-১৫০০ গ্রাম ও পুরুষ পাখির ওজন ১৬০০-১৭০০ গ্রাম হয়ে থাকেএ পাখির ডিম প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম উভয় পদ্ধতিতে ফোটানো যায়ডিম ফুটতে ২৭-২৮ দিন সময় লাগে।




    অন্যান্য পোল্ট্রি প্রজাতির তুলনায় তিতির পাখি পালনের সুবিধা সমুহ




    তিতির পাখির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্যান্য পাখির তুলনায় বেশি।সংক্রামক বা পরজীবীঘটিত রোগ কোনটাই সহজে আক্রান্ত করতে পারেনা। মাইকোটক্সিন ও আফলাটক্সিনের প্রতি অধিক সহনশীল।এদেও খাদ্য খরচ তুলনামূলকভাবে কম। একটি পূর্ণবয়স্ক তিতির দৈনিক ১১৮-১২০ গ্রাম খাবার খায়। কচি ঘাসপোকামাকড়সবজি এদের প্রিয় খাদ্য। গ্রামীণ পরিবেশে এসবের অভাব নেই। সম্পূরক খাদ্যের পরিমান কম লাগে। এদের জন্য ভাল মানের ঘর লাগে না এবং খুব বেশী সরঞ্জামের প্রয়োজন হয় না। ডিমের খোসা অত্যন্ত শক্তপ্রায় ০.৪৮-.৫০ মি.মি পুরু। বাজারে পরিবহন অথবা ডিম ফোটানোর ক্ষেত্রে ভেঙ্গে যাবার সম্ভাবনা কম থাকে। আলাদা কোন ভ্যাকসিন বা ঔষধ লাগে না। শারীরিক বৃদ্ধিও হার বেশ ভালো এবং মাংস অনেক সুস্বাদু ও পুষ্ঠিকর।ডিমের আকৃতি তুলনামূলক ছোট বলে বাচ্চারা এটি খেতে পছন্দ করে। তিতির পাখির ডিম ও মাংস খাদ্য হিসাবে ব্যবহারের জন্য কোন ধর্মীয় বাধা নেই।একটি দেশী মুরগী যেখানে বৎসরে ৫০-৬০ টি ডিম দেয়সেক্ষেত্রে একটি তিতির পাখি ১০০-১২০ টি ডিম দেয়। প্রতিকূল পরিবেশের সাথে এরা নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে।




    বাংলাদেশে তিতির পাখি পালনের সম্ভাবনা




    সাধারণ পর্যবেক্ষণ থেকে বলা যায় এ পাখির সংখ্যা ক্রমশঃ কমে যাচ্ছে। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে জীববৈচিত্র্যের বিবেচনায় অদূর ভবিষ্যতে এ প্রজাতির পাখি বাংলাদেশে হুমকির সম্মুক্ষীন হতে পারে। পোল্ট্রি ফার্মে কৃত্রিম উপায়ে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানো সম্ভব (হ্যাচাবিলিটির ৬৫%)। কৃত্রিম উপায়ে বাচ্চার লালন পালন এবং পরবর্তীতে বাড়ন্ত বাচ্চা সম্পূর্ন আবদ্ধ ঘরে তা পালন করা যায়। বাচ্চা বয়সে ব্রয়লার স্টারটার খাদ্য খাওয়ানো যায়। তিতির পাখির আমিষের চাহিদা বেশি বলে সিনথেটিক এমাইনো এসিড ও পরবর্তীতে বাড়ন্ত বয়সে লেয়ার খাদ্য খাওয়ানো যায়। বিভিন্ন দেশের গবেষণা থেকে দেখা গেছে তিতির পাখি সাধারণত ৬-৭ মাস বয়সে ডিম পাড়া শুরু করে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পোল্ট্রি ফার্মে তিতির পাখি ২০ সপ্তাহ বয়সে ডিম দেয়। বাংলাদেশের আবহাওয়া তিতির পাখির জন্য উপযুক্ত বলে সম্ভবত আগে ডিম পাড়া শুরু করে। বাংলাদেশে বিদ্যমান পার্লজাতীয় তিতির পাখি প্রায় সারাবছর বিরতি দিয়ে ডিম পাড়ে। তবে বসন্তকালে ডিম পাড়ার হার বেশি। বাংলাদেশে গ্রামীণ পরিবেশে দেশী হাঁস মুরগীর সাথে তিতির পাখি পালনের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।




    তিতির পালনে প্রতিবন্ধকতা




    বাংলাদেশ তিতির পাখি হ্রাস পাওয়ার পেছনে নানা কারণ লক্ষ্য করা যায়। পোল্ট্রির প্রজাতি হিসেবে হাঁস-মুরগি বা কোয়েল কবুতরের চেয়ে তাদের রয়েছে কিছু স্বতন্ত্র বংশগত বৈশিষ্ট্য,যার কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে ভালোভাবে খাপ খাইয়ে চলতে পারে না। যেমন অল্প বয়সে অধিক বাচ্চা মৃত্যুর হার। বলা হয়ে থাকে তিতির পাখি আদর্শ মানয়। প্রাকৃতিকভাবে উমে আসা মা তিতির পাখির পেটের নিচে তা দিয়ে ডিম ফোটানোর ক্ষেত্রে একদিকে যেমন ডিমে তা দেয়ার সময় তারা খুব যত্নশীল নয়অন্যদিকে পেটের নীচে দেয়া ৮-১০টি ডিমের মধ্যে প্রথম ১-২টি ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হওয়ার সাথে সাথে তিতির অবশিষ্ট ডিম ফেলে চলে যায়। সেগুলি থেকে আর বেশি বাচ্চা ফোটে না। সাধারণত তিতির পাখি একটু বোকা প্রকৃতির। স্বভাবগতভাবে এরা ঝোপঝাড়জঙ্গল পছন্দ হওয়ায় ছোট বাচ্চা নিয়ে সেখানে ঘুরে বেড়ানোর সময় প্রায়শই শিয়ালকুকুরচিল বা বাজ পাখি সহ নানা ধরণের শিকারীর কবলে পড়ে বাচ্চা মারা যায়। মা তিতির বাচ্চাদের রক্ষা করতে পারে না। বাচ্চা ফুটে বের হওয়ার সাথে সাথে Leg paralysis বা পা খোঁড়া হয়ে যাওয়া রোগের প্রবণতা প্রায়শই পরিলক্ষিত হয়। ডিপ লিটার পদ্ধতিতে বাচ্চা পালনে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে বাচ্চাগুলো লিটারের নোংরা খায়। ফলে পরিপাকতন্ত্রের নানান সমস্যা দেখা দেয়।বাচ্চাদের খাদ্য তালিকায় প্রচুর আমিষ বিশেষ করে লাইসিন এবং সালফারযুক্ত এমাইনো এসিডের প্রয়োজন হয় যা সবসময় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না।খাঁচা পদ্ধতিতে (Battery/Cage)পালনের সময় এরা উড়াউড়ি করে। ফলে এদের হেলমেট ও পা-এ ক্ষতের সৃষ্টি হয়।




    তিতির পালনে সমস্যা সমাধানের উপায়




    মেঝেতে তিতির পালনের সময় পাটের বস্তা ব্যবহার করতে হবে।খাঁচার তুলনায় মেঝেতে পালন বেশি লাভজনক ও সুবিধাজনক। তিতিরের ডিম দেশীয় মুরগির সাহায্যে ফুটানো যায়।আমিষের চাহিদা পূরণের জন্য খাদ্যে অতিরিক্ত আমিষ সরবরাহ করতে হবে। খাদ্যের সাথে নিয়মিত ভিটামিন এবং মিনের‌্যালস্ দিতে হবে।




    রোগলক্ষণউপসর্গ ও চিকিৎসা




    তিতিরের বিভিন্ন রোগএদের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয় নিচে বর্ণিত হলো।

































    বালাইরোগ

    লক্ষণসমূহ

    চিকিৎসা

    উকুন/ফ্লি

    -দুর্বলতাদৈহিক ওজন কমে যাওয়াডিম উৎপাদন হ্রাস পায়ডিম অনুর্বর (Infertile)হয়মাথা ও ঘাড়ের চারপাশে উকুনফ্লি দেখা যায়।

    -এসিটালিক (Actellic)

    তরল বা পাউডার

    -কারবাডাস্ট (Karbadust)

    গোলকৃমি

    -ডিম উৎপাদন হ্রাস পায়।

    -পানির মত পাতলা পায়খানা হয়,ক্ষুধামন্দ্যা দেখা যায়।

    -রুজিন (Ruzine)

    -এসকারেক্স (Ascarex)

    রক্তআমাশয় (coccidiosis)

    -রক্তমিশ্রিত পাতলা পায়খানা।

    -ওজন হ্রাস পায়পালক অনুজ্জ্বল হয়।

    -এমিডিওস্ট্যাট (Amidiostat)

    -এমপ্রোলিয়াম-(Amprulium)

    ট্রাইকোমোনিয়াসিস

    -বাচ্চার ওজন হ্রাস পায়ঝুঁটি (wattle)কালো হয়মুখ থেকে লালা ঝরে।

    -এমিডিওস্ট্যাট (Amidostat)




    বাজারজাতকরণ ও উপকারিতা




    তিতির ৭-৮ মাস বয়সে বাজারজাতকরণের উপযোগী হয়। এদের মাংস খুবই সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর। বিলাসবহুল হোটেলরেস্তোরা এবং বড় বড় ভোজসভায় এদের মাংসের যথেষ্ট সমাদর আছে। এদের নরম পালক শীতকালীন পোষাক ও বিছানা প্রস্তুতের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটা একটি রপ্তানিযোগ্য পণ্য হিসেবে গণ্য হতে পারে। শুধু তাই নয় এটি পালন করে দারিদ্র্য বিমোচনপুষ্টি চাহিদা পূরণ ও জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন হবে।




    উপসংহারঃ




    তিতির পালন বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। তাই এ ব্যাপারে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। তিতির পাখি পালনের গুরুত্ব ও উপকারিতা সম্পর্কে কৃষকদের উদ্ধুদ্ধ করতে হবে। সেটি সম্ভব হলে বাংলাদেশের মত জনবহুল দেশে তিতির পাখি দেশী হাঁস মুরগীর সম্পূরক হিসাবে পালন করে মাংস ও ডিমের চাহিদা কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব। অন্যদিকে জীববৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রে এটি তাৎপর্যপূর্ণ ভুমিকা রাখতে সক্ষম হবে। বিজ্ঞানভিত্তিক তিতির পালন করে দারিদ্র্য বিমোচনপুষ্টির চাহিদা পূরণ ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। এর ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।





    মেটে তিতির,Francolinus pondicerianus


    মেটে তিতির (Francolinus pondicerianus) (ইংরেজি: Grey Francolin) বা ধূসর তিতির Phasianidae (ফ্যাজিয়ানিডি) গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত Francolinus (ফ্র্যাঙ্কোলিনাস) গণের এক প্রজাতির বুনো তিতির। মেটে তিতিরের বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ পুদুচেরির খুদে মুরগী (ইতালিয়ান francolino = খুদে মুরগী; pondicerianus = পুদুচেরি)।



    প্রজাতি: মেটে তিতির দ্বিপদ নাম: Francolinus pondicerianus বৈশ্বিক অবস্থা: ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশে অবস্থা: অপ্রতুল-তথ্য প্রাচুর্য ও গতিবিধি: বিরলতম, প্রাক্তন আবাসিক যে বিভাগে দেখা যায়: ঢাকা মন্তব্য: আরেক নাম ধূসর তিতির। মেটে তিতির (Francolinus pondicerianus) (ইংরেজি: Grey Francolin) বা ধূসর তিতির Phasianidae (ফ্যাজিয়ানিডি) গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত Francolinus (ফ্র্যাঙ্কোলিনাস) গণের এক প্রজাতির বুনো তিতির। মেটে তিতিরের বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ পুদুচেরির খুদে



    চিনা তিতি,Francolinus pintadeanus


    চিনা তিতির (বৈজ্ঞানিক নাম: Francolinus pintadeanus) (ইংরেজি: Chinese Francolin) Phasianidae (ফ্যাসিয়ানিডি) গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত Francolinus (ফ্র্যাঙ্কোলিনাস) গণের এক প্রজাতির বুনো তিতির। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জুড়ে এদের বিস্তৃতি। সারা পৃথিবীতে এক বিশাল এলাকা জুড়ে এদের আবাস, প্রায় ২০ লাখ ৭০ হাজার বর্গ .



    প্রজাতি: চিনা তিতি দ্বিপদ নাম: Francolinus pintadeanus বৈশ্বিক অবস্থা: ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশে অবস্থা: অনিশ্চিত ও অনুমান নির্ভর প্রাচুর্য ও গতিবিধি: অনিশ্চিত ও অনুমান নির্ভর যে বিভাগে দেখা যায়: অনিশ্চিত ও অনুমান নির্ভর মন্তব্য: ভারতের মণিপুর রাজ্যে মূল বিচরণক্ষেত্র। কেবলমাত্র একটি তালিকায় বাংলাদেশের পাখি বলে উল্লিখিত চিনা তিতির (বৈজ্ঞানিক নাম: Francolinus pintadeanus) (ইংরেজি: Chinese Francolin) Phasianidae (ফ্যাসিয়ানিডি) গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত




    জলার তিতির, (Francolinus gularis)


    জলার তিতির (Francolinus gularis) (ইংরেজি: Swamp Francolin) ফ্যাজিয়ানিডি(Phasianidae) গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত ফ্র্যাঙ্কোলিনাস (Francolinus) গণের এক প্রজাতির বড় তিতির। এরা দক্ষিণ এশিয়ার কোন নজির নেই। ভারতের তেরাইয়ের তৃণভূমিতে জলার তিতিরের প্রাচুর্য নেপালে এদের সংখ্যা সম্পর্কে পূর্বেকার ধারণা বদলে দিয়েছে।



    প্রজাতি: জলার তিতির দ্বিপদ নাম: Francolinus gularis বৈশ্বিক অবস্থা: সংকটাপন্ন বাংলাদেশে অবস্থা: মহাবিপন্ন প্রাচুর্য ও গতিবিধি: বিরলতম, প্রাক্তন আবাসিক যে বিভাগে দেখা যায়: ঢাকা, খুলনা, সুন্দরবন, সিলেট মন্তব্য: বাদা তিতির নামেও পরিচিত। জলার তিতির (Francolinus gularis) (ইংরেজি: Swamp Francolin) ফ্যাজিয়ানিডি(Phasianidae) গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত ফ্র্যাঙ্কোলিনাস (Francolinus) গণের এক প্রজাতির বড় তিতির। এরা দক্ষিণ এশিয়ার কোন নজির নেই। ভারতের তেরাইয়ের তৃণভূমিতে জলার




    কালো তিতির (Francolinus francolinus), শেখ ফরিদ


    কালো তিতির, Francolinus francolinus, শেখ ফরিদ



    বৈশ্বিক অবস্থা:   ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশে অবস্থাঃ মহাবিপন্ন প্রাচুর্য ও গতিবিধিঃ বিরল, আবাসিক যে বিভাগে দেখা যায়ঃ ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর, সিলেট মন্তব্যঃ স্থানীয় নাম শেখ ফরিদ।   কালো তিতির (বৈজ্ঞানিক নাম: Francolinus francolinus), শেখ ফরিদ বা কালা তিতির ফ্যাজিয়ানিডি (Phasianidae) গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত ফ্র্যাঙ্কোলিনাস (Francolinus) গণের এক প্রজাতির বুনো তিতির। কালো তিতিরের বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ ছোট মুরগী (ইতালিয়ান francolino= ক্ষুদে




    Friday, July 21, 2017

    লোকসানে ধুঁকছে জয়পুরহাটের পোল্ট্রি শিল্প

  • Share The Gag
  • লোকসানে ধুঁকছে জয়পুরহাটের পোল্ট্রি শিল্প

    কখনও আশাতীত লাভ আবার কখনও পুঁজি হারানোর দশা। এভাবেই চলছে জয়পুরহাটের প্রায় ১০ হাজার মুরগির খামার।

    এ অস্থিতিশীলতার কারণে এ শিল্পে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানে থাকা অর্ধলক্ষাধিক মানুষের জীবিকায় রয়েছে অনিশ্চয়তা।

    এ শিল্পকে নানা সমস্যার কথা উল্লেখ করে এ থেকে উত্তরণের পথ খুঁজছেন এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

    জামালগঞ্জ সরকারি হাঁস-মুরগি খামারকে কেন্দ্র করে এ জেলায় পোল্ট্রি জোন গড়ে ওঠার পর দীর্ঘ সময়ের মধ্যে নানা প্রতিকূল অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়েছে এ শিল্পকে।

    জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় জানায়, সত্তর/আশির দশক থেকে জয়পুরহাটে পোল্ট্রি শিল্পের জয়যাত্রা শুরু হয়; আর এর বিপ্লব ঘটে নব্বইয়ের দশকে। বর্তমানে জেলায় আড়াই হাজার নিবন্ধিত খামারসহ ছোট-বড় প্রায় ১০ হাজার মুরগি খামার রয়েছে। আকার-আয়তন ভেদে এই খামারগুলোতে দুই হাজার থেকে শুরু করে ৮০ হাজার পর্যন্ত মুরগি রয়েছে। খামারগুলোতে বছরে সোনালী জাতের মুরগি ৪ ব্যাচ, ব্রয়লার-৬/৭ ব্যাচ এবং খাবার ও বাচ্চা ফোটানোর ডিমের জন্য হাইব্রিড লেয়ার জাতের মুরগি সারা বছর পালন করা হয়। এ জাতের মুরগি বছরে ৩০০টিরও বেশি ডিম দেয়। আবার ডিম দেওয়ার ক্ষমতা শেষ হলে সেগুলো মাংসের জন্য বিক্রি করা যায়।

    প্রাণিসম্পদ কার্যালয় আরও জানায়, জেলায় প্রতি মাসে খামারগুলো থেকে গড়ে এক কোটিরও বেশি ডিম ও ১০ হাজার মেট্রিক টন মাংস উৎপাদিত হয়। এতে জেলার ১০ লাখ মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণ করার পরও প্রতিদিন ট্রাক ও পিক-আপ মিলে ১৫/২০ গাড়ি মুরগি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

    পোল্ট্রি খামারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুরগির বাচ্চার চাহিদা পূরণ করতে জয়পুরহাটে বাচ্চা উৎপাদনের জন্য সরকারি একটি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৩৯টি হ্যাচারি স্থাপন করা হয়েছে। এসব হ্যাচারিতে প্রতি সে একদিন বয়সের প্রায় চল্লিশ লাখ মুরগির বাচ্চা উৎপাদন করা হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এসব হ্যাচারি থেকে এক দিনের তিন কোটি ২০ লাখ বাচ্চা উৎপাদন করা হয়েছে বলে প্রাণিসম্পদ কার্যালয় জানায়।

    জয়পুরহাট পূরবী এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লি.- এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুল হক, পল্লী ফিড ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী মঞ্জুর হোসেন জাহাঙ্গীরসহ মুরগি খাদ্য প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলায় বহু সংখ্যক পোল্ট্রি খামার গড়ে ওঠার কারণে এখানে বর্তমানে মুরগি খাদ্য কারখানা গড়ে উঠেছে ১১টি, যেখান থেকে প্রতি মাসে গড়ে ১৪ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য উৎপাদন করা হয়ে থাকে। উৎপাদিত এসব খাদ্য দিয়ে জেলার চাহিদা মিটিয়েও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করে প্রতিমাসে আসে প্রায় তিন কোটি টাকা।

    জয়পুরহাটের ভারপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রুস্তম আলী ও জামালগঞ্জ সরকারি পোল্ট্রি ফার্মের সহকারী পরিচালক হুমায়ন কবীর জানান, এখানে পোল্ট্রি শিল্প প্রসার লাভের কারণগুলোর মধ্যে জামালগঞ্জ সরকারি পোল্ট্রি খামার স্থাপিত হওয়ার পর থেকে জয়পুরহাট ও পার্শ্ববর্তী জেলা নিয়ে পোল্ট্রি জোন গড়ে ওঠা, শুরুর দিকে আশাতীত লাভের জন্য বেকার যুবকসহ ব্যাবসায়ীদের পোল্ট্রি ব্যবসার প্রতি আগ্রহ, ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং এলাকায় খড়া-বন্যা না থাকা উল্লেখযোগ্য।

    পদ্মা ফিড অ্যান্ড চিকস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ারুল হক আনু, শেফালী পোল্ট্রি ফার্ম প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম আলম, ক্ষেতলাল উপজেলার বটতলী বাজারের মোল্লা পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারির মালিক হাইকুল ইসলামসহ পোল্ট্রি শিল্পে সংশ্লিষ্টদের অনেকে জানান, সারা দেশে ব্যাপক পরিচিত সোনালী জাতের মুরগির জন্মস্থান জয়পুরহাটে, এর নামকরণ করেন জামালগঞ্জ সরকারি হাঁস মুরগি খামারের সাবেক সহকারী পরিচালক শাহ জামাল এবং এ জাতের মুরগির প্রথম উৎপাদনকারী পদ্মা ফিড অ্যান্ড চিকস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ারুল হক আনু।

    পদ্মা পোল্ট্রি ফিড অ্যান্ড চিকস প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক রাশেদুজ্জামান রাশেদ ও টিআরবি এগ্রো ইন্ডাস্ট্রির স্বত্বাধিকারী কবীর আকবর তাজ চৌধূরী বলেন, ২০০৬ থেকে ২০০৮ সালের দিকে বার্ড ফ্লুর সংক্রমণের পর নিবন্ধিত খামার মালিকরা সরকারি সহায়তা লাভ করলেও সাহায্য-সহযোগিতা না পাওয়ায় অনিবন্ধিত খামারীদের অনেকেই দেউলিয়া হয়েছেন।

    এছাড়া হরতাল-অবরোধসহ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সহস্রাধিক মুরগি খামারী, হ্যাচারি মালিক, খাদ্য কারখানা মালিকসহ পোর্ট্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মালিকরা প্রায় একশ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছেন বলে তাদের দাবি।

    এছাড়া কখনও আশাতীত লাভ আবার কখনও ব্যাপক লোকসানে পড়েছেন পোল্ট্রি শিল্পে জড়িতরা। নানা সমস্যার কারণে এই শিল্পে এমন অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে বলে তারা মনে করেন।

    পোল্ট্রি শিল্পে তারা আটটি সমস্যা চিহ্নিত করেছেন।

    এগুলো হলো:১.কাঁচামালের শতকরা ৮০ ভাগ আমদানি নির্ভর হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেমি হওয়ার কারণে আমাদের দেশে উৎপাদিত মুরগি রপ্তানি সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি আমাদের দেশের বড় বড় হোটেলগুলোও বিদেশে উৎপাদিত মুরগি আমদানি করছে। রপ্তানি না হওয়ার কারণে দেশের মধ্যেই মুরগি ও ডিমের বাজার সীমিত রয়েছে।

    ২.উন্নত দেশে একটি শেড থেকে অন্যটির দূরত্ব কমপক্ষে এক কিলোমিটার। আমাদের দেশে দূষিত পরিবেশে গাদাগাদি করে মুরগির শেড স্থাপন করা হয়ে থাকে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি খামারগুলোতে রোগ-বালাইয়ের প্রকোপ দেখা যায়।

    ৩.ভোক্তাদের চাহিদার সঙ্গে উৎপাদানের সামঞ্জস্য না থাকায় কোনো সময় ভালো লাভ হলেই এরপর থেকে পুরাতন খামারীদের বেশি করে মুরগি পালনের পাশাপাশি নতুন নতুন খামারীরাও ঝুঁকে পড়ে এই পেশায়। ফলে স্বাভাবিক কারণে বাজার দর নিম্নমুখী হয়।

    ৪.বর্তমানে দেশি-বিদেশি অগণিত কোম্পানি মুরগির খাদ্য, রোগ প্রতিরোধক ওষুধ ও ভিটামিন বাজারজাত করছে, যাদের মান নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ বা মনিটরিং ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। নিম্নমানের খাদ্য, ওষুধ ও ভিটামিন খাওয়ানোর ফলে রোগ-ব্যাধি মুক্ত না হয়ে বরং মৃত্যু হার বৃদ্ধি পায় বা নির্ধরিত সময়ের মধ্যে সঠিক ওজন প্রাপ্ত হয় না।

    ৫.খাদ্য, রোগ প্রতিরোধক ওষুধ ও ভিটামিনের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে দিন দিন খামারীদের লাভের অঙ্ক জটিল হয়ে পড়ছে। দুই বছর আগের মূল্যের চেয়ে বর্তমানে মুরগির খাদ্য, রোগ প্রতিরোধক ওষুধ ও ভিটামিনের মূল্য প্রায় দ্বিগুণ হলেও মুরগি ও ডিমের বাজার দরে ওঠানামা লেগেই আছে।

    ৬.প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশেষ করে অতিবৃষ্টিসহ বন্যায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হলে স্বাভাবিক কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে এখানকার মুরগি ও ডিম সরবরাহ বন্ধ ব্যাহত হয়। সম্প্রতি কয়েকটি জেলায় বন্যার ফলে পরিবহন ব্যাহত হওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাংসের মুরগি ও ডিম সরবরাহ কমে গেছে।

    ৭.মৌসুমি ফসল ও ক্রয় ক্ষমতার উপর মুরগি ও ডিমের বাজার ওঠানাম করে। বর্তমানে চালের বাজার মূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতাও হ্রাস পেয়েছে। ফলে স্থানীয় বাজারগুলোতে মাংসের মুরগি ও ডিমের বাড়তি চাপে ঘটেছে দরপতন।

    ৮.মধ্যস্বত্বভোগী ফরিয়া বা দালালদের দৌরাত্ব্যের কারণে পাইকারি ও খুচরা বাজার মূল্যের বিস্তর পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। স্বল্প পূঁজি বিনিয়োগ করে তাদের ভালো মুনাফা হলেও ব্যাংক থেকে চড়া সুদে বেশি পূঁজি বিনিয়োগ করেও লোকসান গুণতে হয় অনেক সময়।

    এসব তথ্য জানিয়ে তারা বলেন, একদিনের বাচ্চা খামারগুলোতে এনে মাংসের জন্য উৎপাদন করতে ৫৫ থেকে ৬০ দিনে সোনালী জাতের মুরগির ওজন আসে ৬/৭শ গ্রাম। মাংশের জন্য প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা খরচ হলেও খামারীরা ২/৪ টাকা কমবেশি পাচ্ছেন, সেখানে খুচরা বাজার মূল্য কেজি প্রতি ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। সোনালী জাতের মুরগি উৎপাদনে প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা খরচ হলেও খামারীরা লোকসান দিয়ে পাচ্ছেন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, আর খুচরা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়।

    জয়পুরহাট শহরের সাহেব বাজারের মফিজুল ইসলাম, কালাই পৌর শহরের তানভীর হোসেন, পাঁচবিবি পৌর শহরের আব্দুল হাকিমসহ খুচরা মুরগি ও ডিম ব্যবসায়ীরা জানান, তারা ফরিয়াদের কাছ থেকে মুরগি নিয়ে কেজি প্রতি ৪/৫ টাকা লাভে বিক্রি করেন।

    এদিকে, বর্তমানে মুরগির বাচ্চা, খাদ্য, ওষুধসহ বিভিন্ন উপকরণ বাকিতে বেচা-কেনা হওয়ার নানা কূফলও তুলে ধরেন সংশ্লিষ্টরা।

    তারা বলেন, শুধু একটি মুরগির শেড থাকলেই ওইসব খামারীকে বাকিতে সবকিছু সরবরাহ করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের পর মুরগি সুস্থ হওয়াসহ বাজার মূল্য স্বাভাবিক থাকলে মূল্য ফেরতের সম্ভাবনা থাকলেও নানা কারণে দরপতন ঘটলে হ্যাচারি মালিক, খাদ্য ব্যবসায়ীদের খাতায় বকেয়ার পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি দেনাদার খামারীদের তালিকাও দীর্ঘ হয়ে পড়ে। এসব কারণে গত পাঁচ বছরে ১১টি খাদ্য কারখানা, ৩৯টি হ্যাচারিসহ খাদ্য ও ওষুধ ব্যবসায়ীদের হিসাবের খাতায় একশ কোটি টাকারও বেশি বকেয়া রয়েছে বলেও জানান তারা।

    জামালগঞ্জ এলাকার আবু ছায়েম, ছানোয়ার হোসেনসহ মাঝারী ধরনের অনেক খামারী জানান, প্রতিমাসে তারা নিজস্ব শেডে প্রতিপালন করেন দুই থেকে চার হাজার মুরগি। গেল দুবছর আগেও মুরগি প্রতিপালন করে মাসে তাদের আয় হতো ১০/১৫ হাজার টাকা। কিন্তু গত ২ মাসে তাদের লোকসান হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা।

    জামালগঞ্জের পার্শ্ববর্তী পাহাড়পুরের সততা পোল্ট্রি ফার্মের খামারি মিল্টন হোসেন ১২ হাজার মুরগি দুই মাস প্রতিপালনের পর প্রায় তিন লাখ টাকা ও একই এলাকার আনোয়ার হোসেন মিথুনের চার হাজার মুরগিতে দেড় লাখ টাকা লোকসান হয়েছে বলে জানান।

    সদরের পুরানাপৈলের খামারি আবু সাঈদ, রবিউল ইসলাম বাবু বলেন, চাহিদা ও মূল্য না থাকার পাশাপাশি খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রলে তদারকি না থাকার কারণেও তাদের লোকসান হচ্ছে।

    দুই মাস খাদ্য খাওয়ানোর পর মুরগির ওজন ৭০০ থেকে ৭৫০ গ্রাম হওয়ার কথা থাকলেও মুরগির ওজন মিলছে ৬০০ থেকে ৬৫০ গ্রাম।

    ফলে গত মাসে দুই হাজার মুরগি বিক্রি করে আবু সাঈদের লোকসান হয়েছে ৭০ হাজার টাকা।

    শহরের দেবীপুর এলাকার নাসিমা পোল্ট্রি খামারের মালিক ফিরোজ হোসেন বলেন, আগে মুরগি কেনার জন্য খামারিদের কাছে ব্যবসায়ীরা ঘুরত। এখন বাকিতে মুরগি বিক্রি করার জন্যও ব্যবসায়ীদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

    আক্কেলপুর উপজেলার পূর্ব রুকিন্দিপুর গ্রামের খামারি শাহাদৎ হোসেন বলেন,তার খামারে সাড়ে পাঁচ হাজার সোনালী জাতের মুরগি রয়েছে। যেভাবে বাজার পড়ে গেছে তাতে এ অবস্থা থাকলে তাকে বিপুল অংকের টাকা লোকসান গুণতে হবে।

    জয়পুরহাট পদ্মা ফিডস অ্যান্ড চিকস্ লিমিটেডের পরিচালক রাশেদুজ্জামান, জয়পুরহাট বিসিক শিল্প নগরীর কিষাণ হ্যাচারির ব্যবস্থাপক তৌহিদুল ইসলামসহ হ্যাচারি ও পোল্ট্রি ব্যবসায়ীরা জানান, এখন বাচ্চা ফোটানোর জন্য প্রতিটি লেয়ার ডিমের উৎপাদন খরচ ৭/৮ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে পাঁচ টাকায়, প্রতিটি মুরগি বাচ্চার উৎপাদন খরচ ১৪/১৫ টাকা হলেও হ্যাচারি মালিকরা ৭/৮ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

    কারণ হিসেবে তারা বলেন, একদিনের মুরগির বাচ্চা উৎপাদন করেন তারা। এ বাচ্চাগুলো তো গুদামজাত করা যায় না। যেদিন উৎপাদন হয় সেদিনই পোল্ট্রি খামার মালিকদের কাছে বিক্রি করতে হয়। কিন্তু চাহিদা না থাকায় বিপুল সংখ্যক একদিনের উৎপাদিত বাচ্চা নিয়ে তাদের মতো মহাবিপাকে পড়েছেন অনেক হ্যাচারি মালিক। এতে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচও উঠছে না বলে জানান তারা।

    জয়পুরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ-সতাপতি ও কিষাণ পোল্ট্রি হ্যাচারি অ্যান্ড ফিড লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী জিয়াউল হক জিয়া বলেন, মুরগি খামার, হ্যাচারি ও ফিডমিলসহ এ শিল্পে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা।

    জয়পুরহাট বিসিক শিল্পনগরীর কিষাণ হ্যাচারির পরিচালক আখতারুজ্জামান বলেন, জেলায় ছোট বড় পোল্ট্রি খামার, হ্যাচারি, মুরগির খাদ্য কারখানা, ওষুধ-খাদ্য ও উপকরণ দোকানসহ জেলায় প্রায় ১২ হাজার পোল্ট্রি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা না থাকায় অস্থিরতার যাঁতাকলে পড়েছে দেশের সবচেয়ে বড় জয়পুরহাটের পোল্ট্রি শিল্প। এ অবস্থায় পোল্ট্রি শিল্পের অব্যাহত লোকসানের কারণে পুঁজি হারাতে বসেছেন জেলার হ্যাচারি মালিক ও পোল্ট্রি খামারীরা।

    পোর্ট্রি শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা বলেন, আর্থিক সম্ভাবনাময় এ শিল্প রক্ষা করতে এখানে মুরগির মাংস প্রসেসিং প্লান্টসহ হিমাগার প্রয়োজন। এ ছাড়া শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারি ভর্তুকিসহ রপ্তানির জন্য সরকারের পদক্ষেপ আশু প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

    জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুস সালম সোনার বলেন, কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও এসব খামারকে ঘিরে জয়পুরহাটসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে কর্মসংস্থান হয়েছে সরাসরি প্রায় পঞ্চাশ হাজার আর পরোক্ষভাবে লক্ষাধিক বেকার যুবক-যুবতীর। তাই জয়পুরহাটে পোর্ট্রি শিল্পের প্রসার লাভ করছে।

    ছোট দেশি মুরগির দাম প্রতি পিসে বেড়েছে ৫০ টাকা

  • Share The Gag
  • ছোট দেশি মুরগির দাম প্রতি পিসে বেড়েছে ৫০ টাকা

    রাজধানীর নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারগুলোতে গরু ও খাসির মাংসের দাম এখনও সাধারণ ক্রেতার সামর্থ্যের বাইরে। রোজার আগে সিটি কর্পোরেশন থেকে দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও তা মানেননি রাজধানীর মাংস ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে কয়েক দফায় দাম বাড়ানোও হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দামও প্রায় প্রতি সপ্তাহেই বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে দেশি মুরগির দাম।

    গত সপ্তাহে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল ছোট সাইজের প্রতিটি দেশি মুরগি। আজ শুক্রবারের বাজারে সেই দাম বাড়িয়ে ৪৫০ টাকা রাখা হচ্ছে। এছাড়া তেল ও রসুনসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম আরেক দফা বেড়েছে। তবে পাইকারি বাজারে প্রায় সব ধরনের চালের দাম ১-২ টাকা হারে কমেছে। আর সবজির বাজার ও মাছের বাজার অনেকটা স্থিতিশীল আছে।
    আজ রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে ছোট দেশি মুরগির দাম ৫০ টাকা বেড়ে প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা দরে। এছাড়া ব্রয়লার মুরগি আগের দাম অর্থাৎ ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লেয়ার মুরগি ২২০ টাকা এবং পাকিস্তানি লাল মুরগি ২০ টাকা বেড়ে ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আজকের বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫০০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

    মুদি বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের দামেই স্থিতিশীল রয়েছে অধিকাংশ মুদি পণ্যের দাম। আজকের বাজারে কেজি প্রতি ছোলা ৮৫ টাকা; দেশি মুগ ডাল ১৩০ টাকা; ভারতীয় মুগ ডাল ১২০ টাকা; মাসকলাই ১৩৫ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১২৫ টাকা; ভারতীয় মসুর ডাল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দারুচিনি ৩৬০ টাকা; জিরা ৪৫০ টাকা; শুকনা মরিচ ২০০ টাকা; লবঙ্গ ১৫০০ টাকা; এলাচ ১৬০০ টাকা; চীনের আদা ১২০ টাকা এবং ক্যারালা আদা ১৪০ টাকা; হলুদ ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

    তবে ভোজ্য তেলের ব্র্যান্ড ভেদে ৫ লিটারের বোতল ২০-৩০ টাকা বেড়ে ৫৩০-৫৪০ টাকা; প্রতি লিটারে ১-২ টাকা বেড়ে ১০৭ টাকা থেকে ১০৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বাজার দর পর্যালোচনা করে দামের কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে, টিসিবির মূল্য তালিকায় ব্র্যান্ড ভেদে ৫ লিটারের বোতল ৫১০ টাকা থেকে ৫৩০ টাকা। প্রতি লিটার ভোজ্য তেল ১০২-১০৭ টাকা।

    চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের চালের দাম ১-২ টাকা পর্যন্ত কমেছে। মোটা স্বর্ণা চাল ২ টাকা কমে প্রতি কেজি ৪৪ টাকা, পারিজা চাল ৪৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মিনিকেট (ভালো মানের) ২ টাকা কমে ৫৪ টাকা, মিনিকেট (সাধারণ) ৫২ টাকা, বিআর২৮ ৪৮ টাকা, সাধারণ মানের নাজিরশাইল ৫০ টাকা, উন্নত মানের নাজিরশাইল ৫২ টাকা, পাইজাম চাল ৪৮ টাকা, বাসমতি ৫৩ টাকা, কাটারিভোগ ৭২-৭৩ টাকা এবং পোলাও চাল (পুরাতন) ১০০ টাকা, (নতুন) ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

    নিত্য প্রয়োজনীয় কাঁচা পণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি বেগুন ৬০-৮০ টাকা; শশা ৫০ টাকা; চাল কুমড়া ৫০ টাকা; কচুর লতি ৬০ টাকা; পটল ৫০ টাকা; ঢেঁড়স ৫০ টাকা; ঝিঙ্গা ৬০ টাকা; চিচিঙ্গা ৫০ টাকা; করলা ৫০ টাকা; কাকরোল ৫০ টাকা; পেঁপে ৪০-৫০ টাকা; কচুরমুখী ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    প্রতিটি ফুলকপি ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা এবং লেবু হালি প্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা; পালং শাক আঁটি প্রতি ১৫ টাকা; লালশাক ১৫ টাকা; পুঁইশাক ২০ টাকা এবং লাউশাক ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    এছাড়া আজকের বাজারে কেজিপ্রতি দেশি পেঁয়াজ ৩০ টাকা; ভারতীয় পেঁয়াজ ২৮ টাকা; দেশি রসুন ১১০ টাকা; ভারতীয় রসুন ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। হাইব্রিড টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা; দেশি টমেটো ৯০ দরে। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম ৮০ টাকা; আলু ২৪ টাকা।

    মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০-৩৫০ টাকা, সরপুঁটি ৩৫০-৪৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ২০০-২৫০ টাকা, চাষের কৈ ২৫০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১৫০-২৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, মাগুর ৬০০-৮০০ টাকা, প্রকার ভেদে চিংড়ি ৪০০-৮০০ টাকা, প্রতিটি ইলিশ ৮০০-১৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে; প্রতি কেজি ইলিশের দাম রাখা হচ্ছে ১৬০০ টাকা।

    রংপুরে ১০ বছরে পোলট্রি শিল্প ১০ গুণ

  • Share The Gag
  • রংপুরে ১০ বছরে পোলট্রি শিল্প ১০ গুণ

    রংপুর বিভাগে পোলট্রি শিল্পের গত ১০ বছরে প্রসার হয়েছে ১০ গুণের বেশি। এ অঞ্চলের বর্তমান বাজারে যে পরিমাণ ডিম, মুরগি, বাচ্চা ও ফিডের প্রয়োজন তার প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ জোগান হচ্ছে এখান থেকে। এ শিল্পে বিভাগে প্রায় এক লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। সেই সঙ্গে ৪০০ কোটি টাকার ওপর বিনিয়োগ হয়েছে। তবে চলতি বাজেটে পোলট্রি শিল্পের ওপর ১০ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণ করায় এ শিল্পের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন খামারিরা।

    রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বিভাগে মুরগির খামার রয়েছে ৬ হাজার ১৩৯টি। এর মধ্যে লেয়ার ২ হাজার ৩৭৯টি এবং ব্রয়লার ৩ হাজার ৭৬০টি। একটি মাঝারি মানের মুরগির খামার করতে কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার প্রয়োজন হয়। রক্ষণাবেক্ষণ করতে কমপক্ষে ১৫ জন জনবল কাজ করে। সে হিসাবে এ শিল্পে বিনিয়োগ হয়েছে ৪০০ কোটি টাকার ওপর। কর্মসংস্থান হয়েছে এক লাখ মানুষের।

    এ বিভাগে মোট মুরগির সংখ্যা ২ কোটি ৮৮ লাখ ১ হাজার ৭৭৯টি এবং হাঁসের সংখ্যা ৫৫ লাখ ৫৬ হাজার ৩৪২টি। আমিষের চাহিদা পূরণ ও স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে একজন মানুষের বছরে ১০৪টি ডিম খাওয়া প্রয়োজন। বিভাগে ডিমের চাহিদা রয়েছে ১৬২ কোটি পিস। গত অর্থবছরে ডিম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৪৩ কোটি পিস। সেখানে উৎপাদন হয়েছে ১৪০ কোটি পিস। ১০ বছর আগে এর উৎপাদন ছিল ১০ ভাগের এক ভাগ। এসব বিষয় জানিয়েছেন রংপুর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।

    অপরদিকে এ বিভাগের ১ কোটি ৫৫ লাখ মানুষের মাংসের চাহিদা রয়েছে ৬ লাখ ৭২ হাজার টন। প্রতিদিন একজন মানুষের মাংসের চাহিদা ১২০ গ্রাম সেখানে পাওয়া যাচ্ছে ১১০ গ্রাম। বছরে এ অঞ্চলে মাংস উৎপাদন হচ্ছে ৬ লাখ ২ হাজার টন। এর মধ্যে মুরগির মাংস খায় বছরে গড়ে মাত্র ৩ দশমিক ৬৫ কেজি। একজন মানুষের প্রতিদিন দুধের চাহিদা প্রতিদিন ২৫০ গ্রাম। সেই হিসাবে বছরে দুধের চাহিদা ১৪ লাখ টন। গত অর্থবছরে রংপুরে দুধ উৎপাদন হয়েছে ৮ লাখ টন। দেখা গেছে, গত কয়েক বছরে এ শিল্প এই অঞ্চলে অর্থনীতির চালিকাশক্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছে।

    খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৭, ২০০৯ এবং ২০১১ সালে বার্ড ফ্লুর ভয়াবহ সংক্রমণে রংপুরে এ শিল্পের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খামার বন্ধ হয়ে গেলেও এ শিল্পের অগ্রগতি থেমে থাকেনি। বেসরকারি পর্যায়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি মানের উদ্যোক্তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এ শিল্পে বিপ্লব ঘটেছে। পোলট্রি শিল্পকে কেন্দ্র করে পরিচালনা, পরিচর্যা, বাজারজাতকরণ এবং খাদ্য উৎপাদন কার্যক্রমের সুবাদে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে এ অঞ্চলে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারে ব্যবসা পরচিালনা করে হাজার হাজার উদ্যোক্তা স্বাবলম্বী হয়েছেন।

    কিন্তু চলতি অর্থবছরের বাজেটে পোলট্রি শিল্পে ১০ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণ করায় এ শিল্প অগ্রসরে পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই পোলট্রি মুরগির মাংসের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। সব চেয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে প্যাকেটজাত পোলট্রি ফিডের। মাছ, গরুর মাংস, খাসির মাংসের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধির পর মধ্যবিত্তের খাবার হিসেবে স্থান করে নিয়েছিল পোলট্রি মুরগির মাংস। ভ্যাট নির্ধারণ ও দাম বৃদ্ধির ফলে প্যাকেটজাত পোলট্রি ফিডের দাম বেড়েছে। নিম্ন ও মধ্য আয়ের সাধারণ মানুষ, যারা মাংসের স্বাদ পেতে পোলট্রিনির্ভর হয়ে পড়েছিল এখন অনেকেই মুরগির মাংসের স্বাদ নিতে ভুলে যাবে। ঝুঁকিতে পড়বে পোলট্রি শিল্প। এর বিপরীতে যেসব সাধারণ মানুষ পোলট্রির ওপর নির্ভর করত তাদের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে বিকল্প উৎসের খোঁজ করতে হবে।

    রংপুর প্রাণিসম্পদ অফিসের উপপরিচালক মীর ফারুক হোসেন জানান, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও গত ১০ বছরে পোলট্রি শিল্প এ অঞ্চলে ১০ গুণ বেড়েছে। এ শিল্পের বিকাশের ধারাকে অব্যাহত রাখতে পোলট্রি খাদ্য থেকে শুরু করে এ শিল্পের ওপর নির্ভর সব ধরনের পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা উচিত।

    রংপুর পোলট্রি শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আকবর হোসেন জানান, সরকার অযৌক্তিকভাবে বাজেটে এ শিল্পের ওপর ১০ শতাংশ ভ্যাট চাপিয়ে দিয়েছে। এতে উদীয়মান শিল্পটি হোঁচট খাচ্ছে। তিনি সরকারের প্রতি এই ভ্যাট প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

    দেশি মুরগি বনাম ফার্মের মুরগি

  • Share The Gag
  • দেশি মুরগি বনাম ফার্মের মুরগি







    ১. আকারে ছোট। যত্রতত্র ঘুরে বেড়ায়।


    তবে সন্ধ্যা হলেই দলবল নিয়ে নিজ আস্তানায় ফিরে আসে।


    ২. প্রায় সর্বভূক। এদের চাল দিলে চাল খাবে, গম দিলে গম। ভাতেও ‘না’ নেই, নুডলসেও নেই।


    ৩. অল্পস্বল্প উড়তে পারে। ফলে পাখির সঙ্গে ইগো ক্ল্যাশ করে। নিজেকে কখনো কখনো পাখি মনে করলেও বেশি ওড়ার সাধ্য না থাকায় নিজ ঘরকেই আপন মনে করে।


    ৪. ডিমের আকার ছোট। তবে একটা ডিম পাড়লেই সেটা নিয়ে ভয়ানক হইচই করতে পারে। তারা ডিম পাড়া মাত্র তা রাষ্ট্র হয়ে যায়।


    ৫. দুর্বল লেগপিস। কিন্তু খেতে সুস্বাদু।


    ৬. ওজনে কম হওয়ার পরও মার্কেট ভ্যালু আছে ঐতিহ্য ও গুণগত মাংসের কারণে।


     


    ১. ফার্মের মুরগি আকারে বড়। খুব বেশি ঘোরাঘুরি করতে পারে না। আলসে-টাইপ। দলবলসহ থাকলেও একে অন্যকে চেনে না প্রায়। কারও সঙ্গেই তেমন কোনো যোগাযোগ নেই। আপনারে নিয়া ব্যস্ত থাকিতে এসেছেন তারা অবনী ’পরে।


    ২. দেশি-বিদেশি পোলট্রি ফুড ছাড়া ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ ও ডিনার হয় না। চাল-গম এরা খেতে পছন্দ করে না। খেলে দামিটা খাবে, না হলে খাবে না।


    ৩. ওড়াউড়ির মধ্যে নেই। এরা ডাইরেক্ট স্থান ত্যাগ করে। পোলট্রি ফার্ম থেকে সরাসরি মার্কেটে। যে দলে জন্ম, সেই দল ত্যাগ করে বাজারের দলে যেতে এদের বিন্দু পরিমাণ কষ্ট হয় না।


    ৪. ডিমের আকার বড়। বাজারে এদের ডিম জনপ্রিয়। তবে ডিম পাড়লেও এরা তা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে না। এদের ধারণা, যেকোনো দানই লজ্জার ঘটনা। ফলে ডিম পাড়লে এরা ঝিম মেরে বসে থাকে।


    ৫. সবল লেগপিস। সবাই এদের লেগের ভক্ত। এরা নিজেরাও তা জানে। তাই সব সময় নিজেদের লেগ অন্যদের জন্য বাড়িয়ে রাখে।


    ৬. ওজনে বেশি হওয়ায় বাজারে কাটতি ভালো। এদের কোনো ঐতিহ্য নেই, তবে এরাই ভবিষ্যৎ।


    পুনশ্চ: এ ছাড়া বাজারে কক নামক পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মুরগির চাহিদা আছে। এরা দেশি ও ফার্মের মুরগির মাঝামাঝিতে একটা অবস্থান বজায় রেখে নিজেদের বাজারমূল্য বাড়িয়ে চলেছে।




    ডিম বৃত্তান্ত (১): দেশি বনাম ফার্মের ডিম




    eggs

     

     

     

     

    ফার্মের ডিম খাবার অভ্যস আমাদের বেশিকাল আগের নয়। আমাদের বয়স্কদের অনেকে এখনও বেশি দাম দিয়ে দেশি মুরগীর ডিম খেতে পছন্দ করে। মনে রাখতে হবে অজ্ঞতা হেতু বেশি অর্থ খরচ করা মানে বেশি পুষ্টি নয়। অনেকে বলে থাকেন দেশি মুরগির ডিমে বেশি পুষ্টি  থাকে। কিন্তু কথাটি মোটেই সত্য নয়। একটি দেশি মুরগীর ডিমের সাথে ফার্মের ডিমের ওজন, দাম ও পুষ্টিমান তুলনা করুন। একটি দেশি ও ফার্মের মুরগীর ডিমের ওজন যথাক্রমে ৩৫-৪০ ও ৫৫-৬০ গ্রাম। দেশি ডিমের ওজন কম হওয়ায় পুষ্টিমানও অনেক কম হবে। সুতরাং এবার সিদ্ধান্ত নিন বেশি টাকা খরচ করে দেশি মুরগীর ডিম না কম টাকায় ফার্মের ডিম ক্রয় করবেন। মনে রাখবেন ডিমের পুষ্টিমান বিচারে দামের সঙ্গে এর একক ওজন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।

    তবে একটি বিষয় এখানে উল্লেখ্য যে, পোলট্রির খাদ্য তালিকায় কেরোটিন বা ভিটামিন- এ’ এর অভাব হলে ফার্মের ডিমের কুসুম বেশি হলুদ হয় না। কিন্তু দেশি মুরগীর ডিমের কুসুম বেশি হলুদ হয়। আমাদের মনে রাখতে হবে শুধু ভিটামিন-এ দ্বারা একটি ডিমের মোট পুষ্টিমান হিসাব করা হয় না। আমরা মূলত আমিষের জন্যই ডিম খেয়ে থাকি, কিন্তু সাথে চর্বি , ভিটামিন ও খনিজদ্রব্য পেয়ে থাকি। তাছাড়া ফলমূল, তরি-তরকারী ও শাকসবজি থেকে আমরা প্রতিদিন ভিটামিন-এ পেয়ে থাকি।



    Wednesday, July 19, 2017

    দেশি ডিম কেন খাবেন? এবং ডিমের ৭টি বিস্ময়কর উপকারিতা

  • Share The Gag

  • দেশি মুরগির ডিম








    ভালো ভাবে বিবেচনা করলে বোঝা যাবে যে দেশি মুরগির ডিম আর ফার্মের মুরগির ডিম এর মাঝে তেমন পুষ্টি গত কোন পার্থক্য নেই , তবে সামান্য কিছু পার্থক্য থাকতে পারে । আমাদের দেশে সাধারণত দেশি মুরগী ছেড়ে দেয়া অবস্তায় পালন করা হয় , এজন্য এরা বাহিরে থেকে নানা রকম পোকা – মাকড় ,গাছের কচি পাতা ,কেঁচো,ইত্যাদি খায় এর জন্য দেশি মুরগীর ডিম পুষ্টি হয় । আবার অন্য দিকে ফার্মের মুরগীকে মাঝে মাঝে নানা রকম ভিটামিন খাবারের সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়, সে সব খাবারে থাকে নানা রকম খনিজ পদাথ – শামুকের গুড়া ,খৈল,লবণ ,শুটকি মাছের গুড়া, ভুষি ,গম, ভুট্টা আরও অনেক কিছুর সং মিশ্রণের ফলে যে খাবের হয় তা ফার্মের মুরগিকে দেয়া হয় যার কারণে ফার্মের মুরগীর ডিমও পুষ্টিকর হয় । আবার দেশী মুরগীর তুলনায় ফার্মের মুরগীর ডিম আকারে বেশী বড় হয় , এ সব দিক বিবেচনা করলে ফার্মের মুরগীর ডিমেই বেশি পুষ্টি থাকে ।


    দেশি ডিম কেন খাবেন?


    তবে ফার্মের ডিমের তুলনায় দেশি মুুরগীর ডিম অধিক পুষ্টি সম্পন্ন হয়ে থাকে। দেশি মুরগীর ডিমের বিশেষ বৈশিষ্ট হলো এটি প্রাকৃতিক ভাবে উৎপাদিত, যাতে ক্ষতিকর কোন চর্বি থাকে না।

    এ কথা হলফ করে বলা যায় যে, ডিম খাওয়ার কথা উঠলে আমাদের দেশের অধিকাংশ লোকজন মুরগির ডিম-ই বেছে  নেবেন। বিশেষ করে হাঁসের ডিমের সঙ্গে যদি তুলনা করা যায় তাহলে মুরগির ডিম-ই বেশি পছন্দ। এর কারণ, প্রচলিত ধারণা হচ্ছে মুরগির ডিমে বেশি পুষ্টি থাকে।

    আজকাল অনেকেই ডিম খান না। কেউ ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ে, কেউ আবার রক্তে চর্বির পরিমান কম রাখতে, কেউ আবার হৃদরোগকে ভয় পেয়ে। কিন্তু আসলেই কি ডিম এগুলো বাড়ায়? বরং চিকিৎসকেরা আজকাল বলেন উল্টো কথা। তারা বলেন , সকালে নাস্তায় একটি ডিম মাসে প্রায় ৩ পাউন্ড পর্যন্ত ওজন কমাতে পারে।

    সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক কিংবা দুপুর-রাতের খাবারে ডিমের একটা মেন্যু ঘুরেফিরে আসেই। আর ব্যাচেলরদের জীবনে সহজে রান্নার সহজ মেন্যু হিসেবে ডিম তো প্রায় ‘জাতীয় খাদ্য’ই বটে!

    ডিমের কুসুম ভিটামিন-এ ও ভিটামিন-বি-এর খুবই ভালো উত্স। ভিটামিন-এ ত্বকের জন্য ভালো। ভিটামিন-বি শরীরে শক্তি জোগায়, মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং মাংসপেশির গঠনে সহায়ক। এ ছাড়া গর্ভধারণের জন্যও ডিমের কুসুম খাওয়া উপকারী। ডিমের কুসুমে থাকা স্যাচুরেটেড ফ্যাট শরীরে প্রয়োজনীয় হরমোনের উত্পাদন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে এবং শরীরে ভিটামিন ও মিনারেল ধারণ করার ক্ষমতা বাড়ায়।


     

     

     

    ডিমের ৭টি বিস্ময়কর উপকারিতা:


    সবারই পছন্দের খাবার হল ডিম। সকালের নাস্তায় ডিম ছাড়া যেন নাস্তাই করা হয় না। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ডিম খেতে ভালবাসেন না এমন মানুষ খুব কমই আছে। ডিম সেদ্ধ, ডিম পোঁচ, অথবা ডিম দিয়ে যে কোন রান্না খুবই জনপ্রিয় বিশ্বজুড়ে।

    আপনি হয়তো জানেন যে ডিম আমাদের দেহের জন্য অনেক বেশি উপকারী, কিন্তু কীভাবে আপনার উপকার করে এই ডিম? জেনে নিই উপকারিতা গুলো সম্পর্কে।

    মস্তিষ্কের জন্য উপকারিঃ

    ডিমে আছে প্রচুর পরিমানে কলিন যা নিউরোট্র্রান্সমিটার হিসেবে কাজ করে আমাদের দেহকে সুস্থ রাখে। ডিম আমাদের মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে থাকে। তাছাড়া ডিমের কুসুমে আছে ফলেট উপাদান যা আমাদের মস্তিষ্কের ভিতরে স্নায়ু কোষের রক্ষণাবেক্ষণ করে।

    দেহের হাড় মজবুত করেঃ

    ডিমে আছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ডি যা আমাদের দেহের ক্যালসিয়ামের অভাব পূরণ করে থাকে এবং ডিমে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের উপস্থিতি অস্টিওপরোসিস বন্ধ রাখে এবং দেহের হাড় মজবুত হতে সাহায্য করে।

    দেহের ওজন নিয়ন্ত্রন করেঃ

    আমাদের দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে ডিমের উপকারিতা অনেক। যারা পেশির ওজন বৃদ্ধি করতে চান তাদের জন্য প্রোটিন সমৃদ্ধ ডিম উপযুক্ত। গবেষণায় দেখা গেছে যে ডিম আমাদের দেহে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগাকে কমিয়ে দিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে।

    নখ ও চুলের স্বাস্থ্য উন্নত করঃ

    ডিমে আছে সালফার সমৃদ্ধ অ্যামিনো অ্যাসিড যা আমাদের হাতের নখের স্বাস্থ্যই শুধু উন্নত করেনা আমাদের চুলের স্বাস্থ্য মজবুত করে ও আকর্ষণীয় করে তুলে। ডিমের অন্যান্য খনিজ পদার্থ সেলেনিয়াম, আয়রন ও জিঙ্ক দেহের নখ ও চুলের স্বাস্থ্য রক্ষার্থে সহযোগীতা করে।

    দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করেঃ

    ডিমের অবস্থিত লুটিন ও যেক্সানথিন এই দুটি ক্যারটিনয়েড আমাদের চোখের সুস্থ দৃষ্টি নির্ধারণে সাহায্য করে। ডিমের এই উপাদান গুলো আমাদের চোখের ছানি, মেকুলার পতন ও সূর্যের বেগুনী রশ্মি থেকে আমাদের চোখকে রক্ষা করে।

    স্তনের ক্যানসার রোধ করেঃ

    গবেষণার পরামর্শ অনুযায়ী বলা হয়েছে যে প্রতি সপ্তাহে ৬ টি করে ডিম খেলে স্তনে ক্যানসার হওয়ার সম্ভবনা ৪০% কমে যায়।

    ডিম সহজেই হজম হয়ঃ

    ডিম খুব দ্রুত হজম হয়ে যায় আমাদের দেহে। ডিম আপনি যেভাবেই খান না কেন এটি আমাদের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

    দেশি জাতের ব্রয়লার মুরগি উদ্ভাবন

  • Share The Gag
  • দেশি জাতের ব্রয়লার মুরগি উদ্ভাবন





















    পোলট্রি শিল্পের মুমূর্ষু অবস্থায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণায় নতুন আলোর সন্ধান দিয়েছেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা দেশে এই প্রথম দেশি আবহাওয়া উপযোগী দেশীয় জার্মপ্লাজম ব্যবহার করে ব্রয়লার মুরগির উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছেন। নতুন এ জাতটি অতিসত্বর বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যাবে, এতে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ  বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে বলে আশা করছেন পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আশরাফ আলী।

    পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের গবেষকরা বাউ-ব্রো হোয়াইট ও বাউ-ব্রো কালার নামে ব্রয়লারের দুটি উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছেন। বাংলাদেশে প্রথম দেশি মুরগির স্বাদ পাওয়া যাবে ব্রয়লার এই জাতের মুরগিতে।তিনি আরও বলেন, বিদেশি আবহাওয়া উপযোগী ব্রয়লার এ দেশে এনে বাজারজাত করায় সাম্প্রতিক সময়ে নতুন নতুন রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পোলট্রি খাত। তার গবেষণার ফল পোলট্রি শিল্পে ব্যবহারের মাধ্যমে এ সমস্যার উত্তরণ সম্ভব।

     



    অধ্যাপক ড. মোঃ আশরাফ আলী বলেন, বর্তমানে তার গবেষণায় প্রাপ্ত ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা ৬ সপ্তাহে ওজন হচ্ছে ১১০০ গ্রাম। বাচ্চার ওজন আরও ২০০ গ্রাম বৃদ্ধি করা গেলেই নতুন জাতটি বাজারজাতের জন্য পাঠানো হবে।গবেষকরা আরও জানান, ব্রয়লারের বাচ্চা উৎপাদনে আমাদের নিজস্ব কোনো প্যারেন্ট স্টক না থাকায় বাইরের দেশ থেকে প্যারেন্ট স্টক আমদানিতে প্রতি বছর ব্যয় হয় প্রায় ৯০ কোটি টাকা। দেশীয় মুরগির জার্মপ্লাজম ও প্রচলিত উন্নত জাতের সিনথেটিক ব্রয়লারের সমন্বয়ে উদ্ভাবিত নতুন ব্রয়লার দুটি দেশে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করলে আমদানি খরচ সাশ্রয় হবে।

    এছাড়াও নতুন জাতগুলোর রোগবালাই ও মৃত্যুহার কম হওয়ায় দেশীয় লালন-পালন ব্যবস্থাপনায় কম খরচে বিদেশে সিনথেটিক ব্রয়লারের মতোই উৎপাদন পাওয়া সম্ভব।বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) এসপিজিআর প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পরিচালিত ‘দেশে প্রাপ্ত মুরগির জার্মপ্লাজম ব্যবহার করে ব্রয়লারের প্যারেন্ট স্টক উদ্ভাবন’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে চার বছর গবেষণা শেষে বাউ-ব্রো হোয়াইট ও বাউ-ব্রো কালার নামে ব্রয়লারের জাত দুটি উদ্ভাবনে সফলতা পান গবেষকরা।অপরদিকে মৃত্যু হার কম, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি এবং লালন-পালন ব্যবস্থাপনা প্রচলিত ব্রয়লারের চেয়ে সহজ ও সাশ্রয়ী। ফলে উৎপাদনে লাভজনক।উপযোগী করে তৈরি হওয়ায় দেশীয় আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সমস্যা হয়। ফলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের মধ্যে বিশেষ লালন-পালন ব্যবস্থাপনায় ওইসব প্যারেন্ট স্টককে লালন-পালন করায় উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায়। ফলে বাচ্চার দাম তুলনামূলক বেশি।

    অপরদিকে ওইসব স্টকের রোগবালাই বেশি এবং বাইরে থেকে আনার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন নতুন নতুন রোগের জীবাণু দেশে বহন করে নিয়ে আসে। যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জ (বার্ড ফ্লু)।অন্যদিকে বাজারে প্রচলিত ওইসব ব্রয়লারের মাংস অত্যধিক নরম ও দেশীয় মুরগির মতো সুস্বাদু না হওয়ায় অনেকে পছন্দ করেন না। এসব বিষয় বিবেচনা করে আমাদের নিজস্ব ব্রয়লারের প্যারেন্ট স্টক তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে চার বছর দেশীয় মুরগির জার্মপ্লাজম ও প্রচলিত উন্নত জাতের সিনথেটিক ব্রয়লারের মোরগ-মুরগি থেকে ক্রমান্বয়ে গুণগত বাছাই ও প্রজননের মাধ্যমে নতুন দুটি ব্রয়লারের প্যারেন্ট স্টক অর্থাৎ জাত উদ্ভাবনে সফল হয়েছি। যার উৎপাদন ক্ষমতা দেশের বাইরে থেকে আমদানিকৃত অন্যান্য উন্নতমানের ব্রয়লার প্যারেন্টের সমকক্ষ।তিনি আরও বলেন, ‘মজার বিষয় হলো উদ্ভাবিত প্যারেন্ট স্টকগুলো দেশে প্রচলিত মুরগির ঘরেই লালন-পালন করে কাক্সিক্ষত উৎপাদন পাওয়া যাবে। কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ঘরের প্রয়োজন নেই। সেইসঙ্গে প্রয়োজন নেই কোনো ব্যয়বহুল টিকাদান কর্মসূচির।

    অন্যদিকে প্রচলিত ব্রয়লারের মতোই আমাদের উদ্ভাবিত ব্রয়লার ৫ সপ্তাহে দেড় কেজি ওজনের হয়ে থাকে। তবে নতুন ব্রয়লারগুলোর মৃত্যু হার কম, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও ড্রেসিং (জীবন্ত ওজন থেকে মাংসের শতাংশ) শতাংশ বেশি প্রচলিত ব্রয়লার থেকে।’গবেষণার সহযোগী গবেষক ড. বজলুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘আমাদের দেশে অধিকাংশ ভোক্তাই বাজারে গিয়ে রঙিন মুরগি অর্থাৎ দেশি মুরগি খুঁজে থাকেন। এ বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা দুই ধরনের মাংস উৎপাদনকারী (ব্রয়লার) মুরগির জাত উদ্ভাবন করেছি।

    দেশীয় মুরগি ও বাজারে প্রচলিত উন্নতমানের সিনথেটিক ব্রয়লারের সঙ্গে মিল রেখেই জাত দুটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। বাউ-ব্রো কালার মুরগির মাংস অনেকটা দেশি মুরগির মতো শক্ত প্রকৃতির এবং স্বাদের। অন্যদিকে বাউ-ব্রো হোয়াইটেরও মাংস প্রচলিত ব্রয়লারের মাংস থেকে তুলনামূলক শক্ত এবং সুস্বাদু। তবে নতুন উদ্ভাবিত ব্রয়লার ও প্রচলিত ব্রয়লারের মাংসের পুষ্টিমানের কোনো পার্থক্য নেই। বর্তমানে ব্রয়লারের জাত দুটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত। বাজারে প্রচলিত ব্রয়লারের বাচ্চার চেয়ে কম দামে উদ্ভাবিত ব্রয়লারের বাচ্চা খামারিদের হাতে পৌঁছে দেয়া সম্ভব।’ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পশুপালন অনুষদে ‘দেশীয় জার্মপ্লাজম ব্যবহার করে ব্রয়লার মুরগির উন্নত জাত উদ্ভাবন’ শীর্ষক সেমিনারে ওইসব কথা বলেন পোলট্রি বিশেষজ্ঞরা।

    দেশীয় জাতের ব্রয়লার উদ্ভাবনে এটিই প্রথম গবেষণা বলে দাবি করেছেন গবেষকরা। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) অর্থায়নে পরিচালিত দেশে প্রথমবারের মতো দেশীয় জার্মপ্লাজম ব্যবহার করে ব্রয়লারের উন্নত জাত উদ্ভাবন প্রকল্পের প্রধান গবেষক ও পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আশরাফ আলীর নেতৃত্বে একটি গবেষণা টিম কাজ করছেন। এ টিমে আরও গবেষণা করছেন প্রকল্পের সহযোগী গবেষক ও সহযোগী অধ্যাপক ড. বজলুর রহমান মোল্লা এবং পিএইচডি ফেলো গোলাম আজম। বর্তমান সময়ে মানুষের আমিষের চাহিদার বিশাল অংশ পূরণ করে আসছে ব্রয়লারের মাংস। সহজলভ্য ও অন্য প্রাণিজ মাংসের তুলনায় দামে সস্তা হওয়ায় সব পেশার মানুষ ব্রয়লারের মাংস খেতে পাচ্ছেন। কিন্তু ব্রয়লার শিল্পে বাচ্চা থেকে শুরু করে খাবার পর্যন্ত, সবই আমদানিনির্ভর হওয়ায় দিন দিন এর উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে।












    দেশি মুরগি নিয়ে গবেষণা ও "হাজল” পদ্ধতিতে দেশি মুরগির উৎপাদন

  • Share The Gag






  • দেশি মুরগি নিয়ে গবেষণা:




    untitled-14 copy_29147 (1)নওগাঁ জেলার ১১টি উপজেলা চষে বেড়িয়েছেন তিনি বছরের পর বছর। প্রত্যন্ত পল্লীর আনাচে-কানাচে চলছিল তার অনুসন্ধান। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে তিনি পেয়ে যান তার কাক্সিক্ষত মোরগটি এক আদিবাসীর বাড়িতে। এর প্রায় ১ মাস পর নওগাঁ শহরের পৌর মুরগি বাজারে বাজার করতে গিয়ে পেয়ে গেলেন আরও একটি মুরগি। নওগাঁ শহরের পার নওগাঁর মুরাদ আলী তার ছোট্ট খামারে গবেষণা শুরু করেন সেই মোরগ-মুরগি দুটি নিয়ে।

    মুরাদ আলী জানান, মার্চে আমার সংগৃহীত মুরগিটি ডিম দিতে শুরু করে। মুরগিটি ১৩টি ডিম দেয়ার পর তার সঙ্গী মোরগটি হঠাৎ মারা যায়। আমার উদ্দেশ্য ছিল আমাদের দেশি জাতের প্রাচীন প্রজাতির উন্নত মোরগ-মুরগি সংগ্রহ করে মোরগ-মুরগির একটি উৎপাদনশীল জাত সৃষ্টি করা। সে লক্ষ্যেই আমি কাজ শুরু করি। কেননা ডিম ও বাচ্চা উৎপাদনে আমাদের দেশি জাতের মুরগি লাভজনক নয়। ফলে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছিল মানুষ। আজ হারিয়ে যেতে বসেছে দেশি মোরগ-মুরগি। তবে ওই ১৩টি ডিম নিয়ে পড়লাম মহাবিপাকে। মুরগিটি উম ধরছে না। আবার ডিমও দিচ্ছে। ডিমে তা দেবে কে? মাত্র ১৩টি ডিম কোনো ইনকিউবেটর মালিক ফুটিয়ে দিতে রাজি হচ্ছিলেন না। অবশেষে আনিসুর রহমান তার ইনকিউবেটরে ডিম ফুটিয়ে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করলেন।

    গত মার্চ মাসের ১৮ তারিখে ১৩টি ডিম থেকেই মিশমিশে কালো রঙের ১৩টি বাচ্চা ফুটল। এর মধ্যে ৫টি মোরগ ও ৮টি মুরগি। জন্মের কিছুদিন পর একটি মোরগ মারা যায়। বাচ্চাগুলোর খাঁচার ভেতরেই শারীরিক বিকাশ হতে থাকে। ৭৫ দিন বয়সে বাচ্চাগুলোর শারীরিক বিকাশ লক্ষণীয় পর্যায়ে পৌঁছে। নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ৯০ দিনের মাথায় দেখা গেল বাচ্চাগুলোর দ্রুত শারীরিক পরিবর্তন ও প্রজননক্ষম মোরগ-মুরগির ন্যায় দেহাবয়ব লাভ করেছে। ১১৫ দিনের মাথায় আমার সহযোগী আলি হাসান খাঁচায় খাবার দিতে গিয়ে দেখেন খাঁচার ভেতরে ডিম। ১২৫ দিনের মাথায় ৮টি মুরগিই ডিম দিতে শুরু করেছে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে। বর্তমানে মোরগগুলোর ওজন ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম আর মুরগিগুলোর ওজন ৬৫০ থেকে ৭০০ গ্রাম। প্রতিদিন খাবার গ্রহণের মাত্রও কম, মাত্র ৪৫ গ্রাম। বিদেশি উন্নত প্রজাতির মুরগিগুলো সাড়ে ৫ মাসে যেখানে ডিম দিতে শুরু করে সেখানে এ মুরগিগুলো ডিম দিতে শুরু করেছে মাত্র ৩ মাস ২৫ দিনে। দেশি মুরগি ১৩-১৫টি ডিম দেয়ার পর উম ধরে। কিন্তু এ মুরগিগুলোর সে লক্ষণ নেই। আর উন্মুক্ত স্থান প্রয়োজন হবে না দেশি মুরগি পালনের জন্য। এখন থেকে খাঁচায় বা খামারে পালন করা সম্ভব। ডিমের ওজন ২৭ থেকে ২৮ গ্রাম। তবে মুরগির বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে ডিমের ওজন বাড়ছে।

    প্রতিবেশী মানিক জানান, মুরাদের ওই গবেষণা ছিল মূলত দেশি জাতের মুরগি বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা। আমার মনে হয় তিনি তা করতে পারবেন। তার গবেষণায় সেই সফলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ওই মহল্লার হাসান জামান সিদ্দিক বলেন, মুরাদের ওই খামারটি আমি দেখেছি। আমি আনন্দিত তার ধৈর্যের সফলতা দেখে। এবার মুরগিগুলোর ডিম থেকে যে বাচ্চা উৎপাদিত হবে তার মান আরও উন্নত হবে। এ ছাড়াও মোরগ-মুরগিগুলো দেখতেও ভালো লাগে।

    খামারের মুরগির মাঝে দেশি মুরগির ঝগড়াটে স্বভাব আমি দেখেছি। আমি জেদ ধরে মুরাদের কাছ থেকে একটি ডিম নিয়েছিলাম। ডিমটি ভেজে খেয়ে মনে হয়েছে একবারেই সেই দেশি মুগির ডিমের স্বাদ। প্রতিবেশী কামরুজ্জামান কামাল জানান, মুরাদ আলী অনেক দিন থেকেই তার চেষ্টার কথা বলছিলেন। অবশেষে তার সফলতা এখন ছড়িয়ে দেয়ার সময়ের অপেক্ষা মাত্র। আশা করছি তার এই সফলতার মাধ্যমে আমরা দেশি প্রজাতির মোরগ-মুরগি রক্ষা করতে পারব। নওগাঁ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এসএম মাহবুবুর রহমান বলেন, মুরাদ আলীর সংগৃহীত মুরগি থেকে যে পরিমাণ নিরবচ্ছিন্নভাবে ডিম পাওয়া যাচ্ছে তা অত্যন্ত আশাপ্রদ। মুরগিগুলোর খাবার গ্রহণও কম। আমি মনে করি আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলে যদি এ প্রজাতির দেশি মুরগি ছড়িয়ে দিতে পারি তা হলে গ্রামের মানুষ আর্থিকভাবে লাভবান হবে এবং আমিষের চাহিদা পূরণ হবে। বিষয়টি আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তদের জানাব।

    দেশি মোরগের ক্রসজাত বন্য মোরগ:


    মুরগি গৃহপালিত পাখিদের মধ্যে অন্যতম। এর মাংস ও ডিম প্রোটিনের অন্যতম উৎস। এরা ১০-১২ ফুটের বেশি উড়তে পারেনা। একবারে ১২-২০ টি ডিম পাড়ে ও তা দিয়ে বাচ্চা ফুটায়। ২০০৩ সালের হিসাবে সারা পৃথিবীতে ২৪ বিলিয়ন তথা ২৪০০ কোটি মুরগি ছিলো। অন্য সব পাখির চাইতে মুরগির সংখ্যা বেশি।এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার মতে বন্য মুরগিকে পোষ মানিয়ে গৃহপালিত করার কাজটা প্রথম হয়েছিল ভারতীয় উপমহাদেশে। তবে শুরুতে তা করা হয়েছিলো খাদ্যের জন্য না, বরং মোরগ লড়াই এর জন্য। ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে মুরগিপালন ছড়িয়ে পড়েছে পশ্চিম এশিয়ার পারস্য রাজ্য লিভিয়াতে। খ্রিস্টপূর্ব ৫ম শতকে গ্রিসে সেখান থেকে মুরগি আমদানি করা হয়। মিশরে মুরগিপালন শুরু হয় সেখানকার ১৮শ রাজবংশের সময়কালে, আর ৩য় তুতমোসের সময়ের ইতিহাস অনুসারে এই প্রথা এসেছিলো সিরিয়া ও ব্যাবিলন হয়ে।

    লামায় বন্য মোরগের শংকরায়নে দেশি মোরগ বাজারজাত করে লাভবান হচ্ছেন স্থানীয়রা। মূলত: প্রাচীনকাল থেকে বন মোরগ পোষ মানিয়ে পালন করে আসছে মানুষ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই উপজেলা বন্য মোরগের সাথে গৃহপালিত মুরগীর ক্রস করে উৎপাদিত মোরগ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে অনেকে। বিগত দিন থেকে স্থানীয়রা পাহাড়ী বন্য মোরগের সাথে দেশি মুরগীর প্রজনন ঘটিয়ে এ জাতের মোরগ পালন করে তা বাজারজাত করে লাভবান হয়ে আসছে। বন্য মোরগের সাথে ক্রসে জম্মানো রাতা মোরগগুলো সাধারণত: দেশি রাতার চেয়ে রাগি ও চটপটে হয়। দেখতে একেবারে বন্য মোরগের মতই, চাকু দিয়ে মোরগের নকগুলোকে তীক্ষè দারালো করা হয়। ক্রসজাত হাইব্রিড প্রজাতি এসব মোরগ; লড়াইয়ের জন্য খুবই পারদর্শী। ফলে বিভিন্ন জেলার-শহরের লোকজন এসে এসব মোরগ কিনে নেয়। স্থানীয় জন প্রতিনিধি ও খামারীরা জানান, বন্য মোরগের শংকরায়নে এই জাতের মোরগ পালন; এলাকায় আয়বর্ধক সংস্থান হয়েছে। এই এলাকার বিভিন্ন গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে এই প্রজাতির মোরগ পালন করছেন স্থানীয়রা। লড়াইয়ের উপযুক্ত এসব ছোট জাতের রাতা অনেকটা বন মোরগের সাদৃশ্য হলেও মৌলিক বৈশিষ্টগত তফাৎ রয়েছে।

    ৪ নং ওয়ার্ড রাজবাড়ির বাসিন্দা পালিত বড়ুয়া, ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন, বিলছড়ির মিটু বড়ুয়া, মোহাম্মদ হোসাইন, নিরাপদ বড়ুয়া, মেরাখোলার বাসিন্দা মিস্টি ধন বড়ুয়া ও জাফর বৈদ্য জানান, এই পক্রিয়ায় তারা আর্থিক লাভবান হচ্ছে। অভিজ্ঞদের মতে; বন্য মোরগ সাধারণত মানুষ দেখলে উড়াল দেয়, খোলা-মেলা জায়গায় থাকেনা। কিন্তু ক্রসে জম্মানো মোরগ দেখতে বন্য মোরগেরমতো হলেও ভাবভঙ্গি দেশি মোরগের মত, তবে বেশি রাগি। উপজেলায় সম্ভাবনাময় এই পাখি সম্পদের সাথে জড়িতদেরকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এর সঠিক পরিচর্যা সম্পর্কে জ্ঞানদান করা দরকার।

     


    হাজল” পদ্ধতিতে দেশি মুরগির উৎপাদন:




    দেশি মুরগি পালন সহজ করতে ছোট্ট একটি প্রযুক্তি নিয়ে কথা বলব আজ। প্রযুক্তিটির নাম হাজল। হাজল উৎপাদন করার নিয়ম হচ্ছে কাদা, খড় একসঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে। উপরের মুখ ১৬ ইঞ্চি, নিচের মুখ ১০ ইঞ্চি, উচ্চতা ৯ ইঞ্চি। হাজলের উপর মুখে ২টি পাত্র থাকবে। একটিতে পানি ও অন্যটিতে খাবার থাকবে। হাজল তৈরির পর কুঁচে মুরগি নির্বাচন করার সময় মনে রাখতে হবে সমান আকারে ডিম নির্বাচন ও ৫-৭ দিনের ডিম নির্বাচন করতে হবে। হাজলের নিচে ছাই ৩ ইঞ্চি দিতে হবে। ছাইয়ের ভিতরে একটি ন্যাপথোলিন চার ভাগের এক ভাগ দিতে হবে কারন ছাইয়ের মধ্য কোন পোকা মাকর না হতে পারে এবং নরম খড় দিতে হবে পরিমাণ মত। কুঁচে মুরগির ওজন অনুযায়ী ডিম অর্ধেক দিতে হবে। মুরগির ওজন ১ কেজি হলে ৫শ গ্রাম ডিম দিতে হবে (ডিমের পরিমাণ মুরগির ওজনের অর্ধেক)। প্রতিদিন হাজলের পাত্রে পরিষ্কার পানি ও খাবার দিতে হবে। কুঁচে মুরগির জন্য খাবার ও পানির পাত্র থাকায় খাদ্যের সন্ধানে মুরগিকে বাহিরে যেতে হয়না। তাই মুরগির ওজন কমেনা এতে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে ডিমে তা দেয়ায় ডিম ফোটার হার বেশী। হাজলে বসা মুরগীটি তাঁ দেয়ার সময় খাদ্যের সন্ধানে ১০/১৫ মিনিট সাজলের বাইরে থাকায় তাঁ দেয়া ডিম ঠান্ডা হওয়ার কারনে আশানুরুপ বাচ্চা ফোটে না বা দীর্ঘদিন একই যায়গায় অবস্থান করায় খাদ্য ও পানির অভাবে মুরগী দুর্বল হয়। এ নতুন পদ্ধতির সাজলটিতে খাদ্যের জন্য স্থান থাকায় পরিমান মতো খাদ্য গ্রহনের ফলে ডিম, বাচ্চা ও মা মুরগী ভাল থাকে।


    উন্নত পদ্ধতিতে হাজলে মুরগি উৎপাদন সময় কাল থাকবে ২০ দিন। বাচ্চা আলাদাকরণের উপায় হচ্ছে শীতকালে মা মুরগি হতে বাচ্চা আলাদা করতে হবে ০-১৫ দিন পর এবং গরমকালে ০-১০ দিন পর। আলাদকরণের সময় মা মুরগিকে অনেক দূরে রাখতে হবে। যাতে বাচ্চা মায়ের ডাক শুনতে না পায়। পরে বাচ্চা গুলোকে বাঁশের ঝুড়ির ভিতরে আবদ্ধ রাখতে হবে। এ সময় বাচ্চাকে ব্রয়লারের খাবার দিতে হবে। খাবার তৈরির নিয়ম হচ্ছে আটা পরিমাণ মত, চালের চিকন গুঁড়া পরিমাণ মত, এক চিমটি লবণ এবং পানি মিশিয়ে খাবার তৈরি করতে হবে। মা মুরগি হতে বাচ্চা আলাদা করলে ১৫ থেকে ১ মাসের মধ্যে মুরগি পুনরায় ডিম দিবে। অথচ প্রচলিত পদ্ধতিতে দেশী মুরগির ডিম ফোটার ৮০-৮৫ দিন পর পূনরায় ডিমে আসে। এ পদ্ধতি অনুসরণ করলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, ডিম বেশি পাওয়া যাবে, বাচ্চা বেশি পাওয়া যাবে। বাচ্চা ফুটার পর যে কাজগুলো করতে হবে বাচ্চাকে ৩-৫ দিন পর ১ চোখে ১ ফোটা করে বিসিআরডিভি টিকা দিতে হবে।

    তাই দেশী মুরগি পালনে উন্নত হাজল ব্যবহার এবং বাচ্চা আলাদা করন পদ্ধতি ব্যবহার করলে দেশী মুরগি থেকে বছরে যেখানে প্রচলিত পদ্ধতিতে মাত্র ৩ বার ডিম পাওয়া যেত সেখানে এই পদ্ধতিতে ৬-৭ বার ডিম পাওয়া সম্ভব। প্রযুক্তিটি দেশি মুরগির ডিম ও মাংসের যোগান বাড়াতে অসামান্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম পাশাপাশি কৃষকের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়নেও অর্থবহ ভূমিকা রাখবে।














    মায়ের হাতের দেশি মুরগি ও গরুর মাংসে মোস্তাফিজের ঈদ




    মায়ের হাতের দেশি মুরগি ও গরুর মাংসে মোস্তাফিজের ঈদ


    পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনটি পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশিদের সঙ্গে উদযাপন করেছেন জাতীয় দলের পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার তারালি ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামে বাড়ির পাশে নবনির্মিত ঈদগাহে সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের নামাজ পড়েছেন ‘কাটার মাস্টার’।




    বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে হাসিমুখে মোস্তাফিজ হাজির হন ঈদগাহে। নামাজ শেষে তিনি কোলাকুলি করেন সবার সঙ্গে। বিনিময় করেন কুশল। সেখানে মোস্তাফিজ বলেন, ‘ক্রিকেট নিয়ে ব্যস্ততার কারণে গ্রামের বাড়িতে আসার সুযোগ সব সময় হয়ে ওঠে না। আর ঈদের নামাজ পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে উদযাপন করা খুবই আনন্দের।’

    দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে সবাইকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান বিস্ময় বোলার মোস্তাফিজ। তার বাবা আবুল কাসেম জানান, ‘ওর মায়ের হাতে রান্না দেশি মুরগি আর গরুর মাংস খুব পছন্দ করে মোস্তাফিজ।’

    প্রসঙ্গত, গেল কিছুদিন ক্রিকেট নিয়ে বেশ ব্যস্ত ছিলেন মোস্তাফিজ। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) খেলে ভারত থেকে দেশে ফেরার পর তিনি উড়ে যান আয়ারল্যান্ডে। ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলতে। এরপর খেলছেন আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। তবে সেখানে 'দ্য ফিজ' খ্যাত মোস্তাফিজ প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেননি।










    Tuesday, July 18, 2017

    আধুনিক পদ্ধতিতে বছরে দুই শতাধিক ডিম দেবে দেশি জাতের মুরগি

  • Share The Gag
  • আধুনিক পদ্ধতিতে বছরে দুই শতাধিক ডিম দেবে দেশি জাতের মুরগি



     

    আধুনিক পদ্ধতিতে লালন পালন করে দেশি জাতের মুরগির কাছ থেকে বছরে দুই শতাধিক ডিম পাওয়া যাবে। এই নতুন দেশি জাতের মুরগির উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট। 

    আজ রোববার সকালে খুলনার ডুমুরিয়ায় দেশি মুরগি সংরক্ষণ  ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দেশে প্রথমবারের মতো নারীদের মধ্যে মুরগি প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ।

    ডুমুরিয়া উপজেলা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. তালুকদার নুরুন্নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন  প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অজয় কুমার রায়, খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার সুভাষ চন্দ্র সাহা প্রমুখ।

    এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ডুমুরিয়া উপজেলার  ৫০টি  পরিবারের গৃহিণীদের চারটি করে নতুন দেশি জাতের মুরগি প্রদান করা হয়।

    দেশি জাতের এই মুরগি লালন-পালন করে অস্বচ্ছল পরিবারের সদস্যরা পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে পারবে। বাংলাদেশে এই প্রথম ডুমুরিয়া উপজেলা থেকে এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হলো।

    দেশী মুরগি পালন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন ও খামারীদের মাঝে মুরগি বিতরণ:



    ডুমুরিয়া, খুলনায় আধুনিক পদ্ধতিতে “দেশী মুরগি পালন শীর্ষক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন ও খামারীদের মাঝে মুরগি বিতরণ’’ বিষয়ক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব নারায়ন চন্দ্র চন্দ, এমপি, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয় জনাব অজয় কুমার রায় এবং খুলনা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের প্রতিনিধি অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, খুলনা বিভাগ।উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মহোদয় ড. তালুকদার নুরুন্নাহার ।

    “দেশী মুরগি সংরক্ষণ ও উন্নয়ণ” শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মিসেস শাকিলা ফারুক তাঁর স্বাগত বক্তব্যে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিসহ উপস্থিত সকল স্তরের বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, খামারী এবং ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন যে- উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশী মুরগি পালন করে দেশের মুরগি ও ডিমের চাহিদা মিটিয়ে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থিক উন্নতিকল্পে ডুমুরিয়া, খুলনা-সহ দেশের ৬ টি জেলায় উক্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

    উক্ত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মহোদয় তাঁর বক্তব্যে বলেন দেশী মুরগির চাহিদা অতি প্রাচীনকাল থেকেই ছিল বর্তমানেও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। অনেক মানুষের কাছে বাণিজ্যিকভাবে পালিত ব্রয়লার মাংসের তুলনায় দেশী মুরগি অধিক গ্রহণযোগ্য যার ফলে বাজারে ক্রেতা সাধারণ অধিক মূল্যে দেশী মুরগি ক্রয় করতে ইচ্ছুক। বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার, তাই দেশের সাধারণ মানুষের উন্নয়নে এবং জনসাধারণের পুষ্টির যোগান দেওয়ার জন্য এই গবেষণা প্রকল্পটি হাতে নিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী মহোদয় তার বক্তব্যে বলেন চলমান প্রকল্পটির পরিকল্পিত কার্যক্রমগোলো সফলভাবে সম্পাদন করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সুষ্ঠুভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

    সভার সভাপতি ও বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট এর মহাপরিচালক ড. তালুকদার নুরুন্নাহার মহোদয় তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, আমাদের নিজস্ব মুরগির জাতগুলো বিলীন হওয়ার পথে। এই মূল্যবান জেনেটিক রিসোর্সগুলো সংরক্ষণ এবং এর উন্নয়নের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশী মুরগি পালন বিষয়ক আলোচনায় তিনি ৪টি বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেন; যেমন- মুরগির জাত, ডিম উৎপাদন, ডিমের ওজন ও প্রথম ডিম পাড়ার বয়স। তিনি বলেন যে দেশী মুরগি উন্নয়নের জন্য উক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো অত্যন্ত গুরুত্বসহ বিবেচনায় আনতে হবে। ফলে সামগ্রিকভাবে উৎপাদন বেড়ে যাবে এবং এভাবে দেশের ডিম ও মাংসের চাহিদা মেটানো সম্ভব। পরিশেষে, সভাপতি মহোদয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, বিজ্ঞানী, বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, খামারী এবং ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

     

    এবার দেশি মুরগির স্বাদ পাওয়া যাবে ব্রয়লার (গোশত উৎপাদনকারী) মুরগিতে



    বার দেশি মুরগির স্বাদ পাওয়া যাবে ব্রয়লার (গোশত উৎপাদনকারী) মুরগিতে। শুধু তাই নয়, ব্রয়লারের গোশত হবে দেশি মুরগির মতো শক্ত ও সুস্বাদু। এ ছাড়া বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্রয়লার উৎপাদনেও কমবে খরচ, বাড়বে উৎপাদন। এমন গুণাগুণ নিয়ে ‘বাউ-ব্রো-হোয়াইট’ ও ‘বাউ-ব্রো-কালার’ নামে উন্নত জাতের ব্রয়লারের দুটি জাত উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের এক দল গবেষক। ব্রয়লারের বাচ্চা উৎপাদনে আমাদের নিজস্ব কোনো প্যারেন্ট স্টক না থাকায় বাইরের দেশ থেকে তা আমদানিতে প্রতিবছর ব্যয় হয় প্রায় ৯০ কোটি টাকা। দেশি মুরগির জার্মপ্লাজম ও প্রচলিত উন্নত জাতের সিনথেটিক ব্রয়লারের সমন্বয়ে উদ্ভাবিত নতুন ব্রয়লার দুটি দেশে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করলে ওই আমদানি খরচ সাশ্রয় হবে। এ ছাড়া নতুন জাতগুলোর রোগবালাই ও মৃত্যুহার কম হওয়ায় দেশি লালনপালন ব্যববস্থাপনায় কম খরচে বিদেশে সিনথেটিক ব্রয়লারের মতোই উৎপাদন পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন উদ্ভাবক অধ্যাপক ড. আশরাফ আলী ও ড. বজলুর রহমান মোল্লা।

    বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) এসপিজিআর প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পরিচালিত ‘দেশে প্রাপ্ত মুরগির জার্মপ্লাজম ব্যবহার করে ব্রয়লারের প্যারেন্ট স্টক উদ্ভাবন’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে চার বছর গবেষণা শেষে ‘বাউ-ব্রো-হোয়াইট’ ও ‘বাউ-ব্রো-কালার’ নামে ব্রয়লারের জাত দুটি উদ্ভাবনে সাফল্য পান গবেষকরা। নতুন উদ্ভাবিত জাতগুলোর এক দিনের বাচ্চার ওজন, খাদ্য রূপান্তর দক্ষতা, ৩৫ দিনে ওজন (১.৫ কেজি) বাজারে প্রচলিত ব্রয়লারের মতোই। অন্যদিকে মৃত্যুর হার কম, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি এবং লালনপালন ব্যবস্থাপনা প্রচলিত ব্রয়লারের চেয়ে সহজ ও সাশ্রয়ী। এ গবেষণাকাজে সহযোগিতা করেন পিএইচডি শিক্ষার্থী গোলাম আজম।

    উদ্ভাবিত ব্রয়লার সম্পর্কে গবেষণার প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. আশরাফ আলী বলেন, ‘আমাদের দেশে বাণিজ্যিক হ্যাচারিগুলো ব্রয়লার উৎপাদনের জন্য প্রতিবছর কোটি কোটি বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে ব্রয়লারের প্যারেন্ট স্টক বাইরের দেশ থেকে আমদানি করে বাচ্চা উৎপাদন করে। অন্যদিকে বাইরে থেকে আমদানি করা প্যারেন্ট ব্রয়লার শীতপ্রধান দেশের উপযোগী করে তৈরি হওয়ায় এ দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সমস্যা হয়। ফলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ওই সব প্যারেন্ট স্টক লালনপালন করায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। ফলে বাচ্চার দাম তুলনামূলক বেশি পড়ে। অন্যদিকে ওই সব স্টক দেশের বাইরে থেকে আনার ফলে বিভিন্ন রোগের জীবাণু দেশে ছড়িয়ে পড়ে, যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা (বার্ড ফ্লু)। এ ছাড়া বাজারে প্রচলিত ওই সব ব্রয়লারের গোশত অত্যধিক নরম ও দেশি মুরগির মতো সুস্বাদু না হওয়ায় অনেকে পছন্দ করে না। এসব বিষয় মাথায় রেখে আমাদের নিজস্ব ব্রয়লারের প্যারেন্ট স্টক তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে চার বছর দেশি মুরগির জার্মপ্লাজম ও প্রচলিত উন্নত জাতের সিনথেটিক ব্রয়লারের মোরগ-মুরগি থেকে ক্রমে গুণগত বাছাই ও প্রজননের মাধ্যমে নতুন দুটি ব্রয়লারের প্যারেন্ট স্টক অর্থাৎ জাত উদ্ভাবনে সফল হয়েছি। যার উৎপাদন ক্ষমতা আমদানি করা অন্যান্য উন্নত মানের ব্রয়লার প্যারেন্টের সমকক্ষ। মজার ব্যাপার হলো, উদ্ভাবিত প্যারেন্ট স্টকগুলো দেশে প্রচলিত মুরগির ঘরেই লালনপালন করে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন পাওয়া যাবে। কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের প্রয়োজন হবে না। প্রয়োজন নেই কোনো ব্যয়বহুল টিকাদান কর্মসূচির। অন্যদিকে প্রচলিত ব্রয়লারের মতোই আমাদের উদ্ভাবিত ব্রয়লার পাঁচ সপ্তাহে দেড় কেজি ওজনের হয়ে থাকে।’

    গবেষণার সহযোগী গবেষক ড. বজলুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘আমাদের দেশে বেশির ভাগ ভোক্তাই বাজারে গিয়ে রঙিন মুরগি অর্থাৎ দেশি মুরগি খোঁজে। বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা দুই ধরনের গোশতউৎপাদনকারী (ব্রয়লার) মুরগির জাত উদ্ভাবন করেছি। দেশি মুরগি ও বাজারে প্রচলিত উন্নত মানের সিনথেটিক ব্রয়লারের সঙ্গে মিল রেখেই জাত দুটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। বাউ-ব্রো-কালার মুরগির গোশত অনেকটা দেশি মুরগির মতো স্বাদ ও শক্ত প্রকৃতির। অন্যদিকে বাউ-ব্রো-হোয়াইটেরও গোশত প্রচলিত ব্রয়লারের গোশত থেকে তুলনামূলক শক্ত ও সুস্বাদু। তবে নতুন উদ্ভাবিত ব্রয়লার ও প্রচলিত ব্রয়লারের গোশত পুষ্টিমানের কোনো পার্থক্য নেই। বর্তমানে ব্রয়লারের জাত দুটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত।’ বাজারে প্রচলিত ব্রয়লারের বাচ্চার চেয়ে কম দামে উদ্ভাবিত ব্রয়লারের বাচ্চা খামারিদের হাতে শিগগিরই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

    ড. বজলুর রহমান জানান, বর্তমানে জাত দুটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির লক্ষ্যে জেনেটিক্সের মলিকুলার পর্যায়ে কিছু কাজ করা হচ্ছে। মূলত উদ্ভাবিত জাতগুলোর বৈশিষ্ট্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম অটুট থাকবে কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তবে অর্থায়নের অভাবে কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। দেশের খ্যাতনামা খামারি ও হ্যাচারি মালিকরা যদি আমাদের গবেষণায় অর্থায়নে এগিয়ে আসেন, তাহলে উদ্ভাবিত ব্রয়লার জাতগুলোর মাধ্যমে দেশের আমদানিনির্ভর ব্রয়লার শিল্পকে রপ্তানি শিল্পে রূপান্তর করা সম্ভব।