ছাদে লেবুজাতীয় ফলের চাষ পদ্ধতি
অত্যন্ত সাধারণ একটি টক ফল লেবু । সারা দেশে সমানভাবে সমাদৃত এই ফলটি । যে কোন খাবারের অনুষ্ঠানে লেবু ছাড়া যেন চলেই না । বাংলাদেশের প্রায় সব জেলাতেই কম-বেশী লেবুর চাষ হয়ে থাকে । লেবুতে প্রচুর ভিটামিন সি আছে । বাড়ির ছাদে দু/একটা লেবু গাছ থাকলে সারাবছর লেবুর চাহিদা মিটানো যায় । সেই সাথে পরিবারের ভিটামিন সি এর অভাব দূর করা যায় ।
লেবুর জাতঃ
লেবুর উন্নত জাতের মধ্যে এফটিআইপি বাউ কাগজী লেবু - ১, এফটিআইপি বাউ লেবু -২, (সেন্টেড এলাচী) এবং এফটিআইপি বাউ লেবু -৩ (সেমি সীডলেস) অন্যতম । সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে সারাবছরই এসব গাছ থেকে ফলন পাওয়া সম্ভব ।
চাষ পদ্ধতিঃ
ছাদে লেবুর চারা লাগানোর জন্য ২০ ইঞ্চি কালার ড্রাম বা টব সংগ্রহ করতে হবে । ড্রামের তলায় ৩-৫ টি ছিদ্র করে নিতে হবে । যাতে গাছের গোড়ায় পানি জমে না থাকে । টব বা ড্রামের তলার ছিদ্রগুলো ইটের ছোট ছোট টুকরা দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে । এবার ২ ভাগ বেলে দোআঁশ মাটি, ১ ভাগ গোবর, ৩০-৪০ গ্রাম টি,এস,পি সার, ৩০-৪০ গ্রাম পটাশ সার, ১০-১৫ গ্রাম পাথর চুন এবং ২০০ গ্রাম হারের গুড়া বা ১ কেজি কাঠের ছাই দিয়ে ড্রাম বা টব ভরে পানিতে ভিজিয়ে রেখে দিতে হবে ১০-১২ দিন । অতঃপর মাটি কিছুটা খুচিয়ে দিয়ে আবার ৪-৫ দিন এভাবেই রেখে দিতে হবে । যখন মাটি ঝুরঝুরে হবে তখন একটি সবল সুস্থ কলমের চারা উক্ত টবে রোপন করতে হবে । চারা রোপনের সময় খেয়াল রাখতে হবে গাছের গোড়া যেন মাটি থেকে আলাদা না হয়ে যায় । চারা গাছটিকে সোজা করে লাগাতে হবে । সেই সাথে গাছের গোড়ায় মাটি কিছুটা উচু করে দিতে হবে এবং মাটি হাত দিয়ে চেপে চেপে দিতে হবে । যাতে গাছের গোড়া দিয়ে বেশী পানি না ঢুকতে পারে । একটি সোজা কাঠি দিয়ে গাছটিকে বেধে দিতে হবে । চারা লাগানোর পর লক্ষ্য রাখতে হবে যেন গাছের গোড়ায় পানি জমে না থাকে । মাটি শুকিয়ে গেলে অল্প পরিমানে পানি দিতে হবে । লেবু জাতীয় কোন গাছে কখনই বেশী পরিমানে পানি দিয়ে স্যাঁত স্যাঁতে অবস্থায় রাখা যাবে না ।
অন্যান্য পরিচর্যাঃ
গাছ লাগানোর ৪/৫ মাস পর থেকে নিয়মিত ২০-২৫ দিন অন্তর অন্তর সরিষার খৈল পচা পানি প্রয়োগ করতে হবে । এ কাজের উপরই ছাদের গাছের ফলন অনেকাংশে নির্ভর করছে । সরিষার খৈল ১০ দিন পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে । তারপর সেই পচা খৈলের পানি পাতলা করে গাছের গোড়ায় দিতে হবে । ২ বছর পর টবের আংশিক মাটি পরিবর্তন করে দিতে হবে । ২ ইঞ্চি প্রস্থে এবং ৬ ইঞ্চি গভীরে শিকরসহ মাটি ফেলে দিয়ে নতুন সার মিশ্রিত মাটি দিয়ে তা ভরে দিতে হবে । ১০-১৫ দিন অন্তর অন্তর টব বা ড্রামের মাটি কিছুটা খুঁচিয়ে দিতে হবে ।
ডাল-পালা ছাটাইঃ
লেবু কিংবা লেবু জাতীয় গাছে প্রায়ই কিছু কিছু ডাল মরতে দেখা যায় । এইসব মরা ডালগুলো কেটে দিতে হবে । তা ছাড়াও ছাদের লেবু গাছকে অধিক ডালপালাযুক্ত সুন্দর ভাবে তৈরী করতে হলে চারা লাগানোর পর থেকে কিছুদিন ডাল কেটে দিতে হবে । পরবর্তীতে শুধু মরা ডাল কাটলেই চলবে ।
ত্বকের যত্নে লেবুর রয়েছে কিছু বিশেষ ব্যবহার। নিয়মিত যত্নে আপনার চেহারায় ফিরে আসবে লাবন্য। লেবু খুব সহজে পাওয়া যায় বলে এটার সাহায্যে কাজ করা যায় খুব সহজেই।
নিচে লেবুর কিছু ব্যবহার দেয়া হলোঃ
১) মুখের শ্রী বৃদ্ধি করার জন্য এক টুকরো লেবুর রসের সাথে দুই চামচ দুধ মিশিয়ে তুলার সাহায্যে মুখে প্রলেপ লাগান। ১৫ – ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলু্ন।
২) মুখের ব্রন এবং ব্রনের দাগ স রানোর জন্য লেবুর রস ত্বকে মাখা একান্ত দ রকার। তৈলাক্ত ত্বকে ব্রনের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। লেবু কিংবা গাজরের রস অল্প একটু চিনির সাথে মিশিয়ে খেলে এর হাত থেকে সহজেই রেহাই পাওয়া যায়।
৩) আধা চা চামচ লেবুর রস, এক চা চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে মুখে ও গলায় লাগান। ১৫ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি আপনার ত্বকে আদ্রতা আনবে। মেক আপ করার আগে মুখে এই রূপটানটি লাগালে মুখ উজ্জল হবে।
৪) মুখের বলিরেখার দাগ আপনার সাজ নষ্ট করে দেয়। ১০ গ্রাম লেবুর রস এবং ১০ গ্রাম টমেটোর রস একত্রে মিশিয়ে বলিরেখার উপর লাগিয়ে ৫ মিনিট পর রেখে ধুয়ে নিন। বলিরেখা থাকবে না।
৫) পাকা কলা, লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে ২০ – ২৫ মিনিট লাগিয়ে রাখলে উপকার পাওয়া যায়। আবার লেবুর রসের সঙ্গে দুধ ও চন্দনের গুড়া দিয়ে পেস্ট করে পোড়া জায়গায় ম্যাসেজ করলে উপকার পাওয়া যায়।
৬) লেবুর রস ও শসার রস সমপরিমাণে মিশিয়ে নিন। ব্যাস তৈরী হয়ে গেল অ্যান্টিজেন্ট লোশন। এটি ত্বকে লাগিয়ে দেখুন। কয়েকদিনের মধ্যেই ত্বকের তেলতেলে ভাব কমে যাবে।
৭) হাতের কনুই, হাঁটু, পায়ের গোড়ালি এসব জায়গায় বেশি ময়লা জমে। এ নিয়ে অনেকের ই দুঃশ্চিন্তার শেষ নেই। আধা টুকরো লেবু নিয়ে এই জায়গাগুলোতে ভাল করে ঘষে নিলে ময়লা উঠে গিয়ে ঝকঝকে হয়ে উঠবে।
Showing posts with label লেবু. Show all posts
Showing posts with label লেবু. Show all posts
Sunday, July 2, 2017
Tuesday, May 9, 2017
লেবু খান ওজন কমান
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 4:11 PM
লেবু খান ওজন কমান
লেবুর রস জীবাণুনাশক, সংক্রমণ দমনকারী, হজমে সাহায্য করে, চর্বিকে দূরে রাখে। লেবু যে শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করতে সাহায্য করে, সে কথা বহু আগে থেকে প্রমাণিত। লেবুতে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি। মূত্রের উৎপাদনের মাধ্যমে সহজে শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের হতে সাহায্য করে। লেবুর নিরাময় ক্ষমতা নিশ্চিত, যা অনেক গবেষণাও দেখা গেছে। লেবু অন্ত্র বা পেট পরিষ্কার করে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলোকে ধ্বংস করে।
শরীরের ওজন কমাতে চাইলে প্রথমেই শরীরের ভেতরে জমে থাকা দূষিত পদার্থ বের করতে হবে, যাতে বাড়তি ওজন সহজে কমতে পারে। তবে লেবু চিকিৎসা শুরুর এক সপ্তাহ আগে থেকেই খাবারের পরিমাণ একটু কমিয়ে দিন। তারপর দুই থেকে তিন সপ্তাহ প্রতিদিন কয়েক গ্লাস পানির সঙ্গে এক গ্লাস তাজা লেবুর রস মিশিয়ে খাবেন। নিয়ম করে প্রতিদিন খেতে হবে।
ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে একটি অরগ্যানিক লেবু রস মিশিয়ে পান করুন। সারা দিনে কমপক্ষে দশ গ্লাস পানি পান করবেন। আর প্রথম গ্লাস ছাড়া অন্যান্যবার এক গ্লাস পানিতে আধখানা তাজা লেবুর রস দেবেন। অবশ্যই আগে থেকে করে রাখা রস খাবেন না। অন্তত দুই সপ্তাহ এভাবে লেবু পানি পান করুন। প্রথম গ্লাসে মধু দিতে পারেন, মধুতে ভিটামিন ও মিনারেল থাকার কারণে তা সাধারণ চিনির মতো ওজন না বাড়িয়ে বরং কমান।
নিয়মিত যে পরিমাণ খাবার খেয়ে থাকেন, লেবুর চিকিৎসা চলাকালীন সেই খাবারের পরিমাণ কমিয়ে অর্ধেক করুন। এসময় মাছ, মাংস, মিষ্টি বা চর্বি জাতীয় খাবার কম খাবেন। সবজির স্যুপ করে খেতে পারেন, স্যুপের মধ্যেও লেবুর রস দিতে পারেন। ১০০ গ্রাম লেবুতে থাকে ১৭০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, যা আমাদের নার্ভ, হৃদযন্ত্র এবং পেশি শক্ত করতে সাহায্য করে? অন্যান্য সময়ের তুলনায় এখন হাঁটাহাঁটি একটু বেশি করবেন।
তিন সপ্তাহ পার হয়ে যাওয়ার পর দেখবেন ওজন কমেছে, শরীরটা অনেক হালকা লাগছে। আস্তে আস্তে আবার খাওয়া-দাওয়া করতে পারেন। তবে তিন সপ্তাহ লেবু চিকিৎসার কথা একেবারে ভুলে যাবেন না, সবকিছুই সচেতনভাবে খাবেন। ফ্যাট জাতীয় খাবারের পর কুসুম গরম পানিতে ছোট একটি লেবুর রস মিশিয়ে পান করবেন। এতে বাড়তি ফ্যাটটুকু কেটে নেবে লেবুর রস। তাছাড়া ১০০ গ্রাম লেবুর রস সারা দিনের অর্ধেক ভিটামিন সি-এর অভাব পূরণ করতে পারে।
লেবুর রস জীবাণুনাশক, সংক্রমণ দমনকারী, হজমে সাহায্য করে, চর্বিকে দূরে রাখে। লেবু যে শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করতে সাহায্য করে, সে কথা বহু আগে থেকে প্রমাণিত। লেবুতে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি। মূত্রের উৎপাদনের মাধ্যমে সহজে শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের হতে সাহায্য করে। লেবুর নিরাময় ক্ষমতা নিশ্চিত, যা অনেক গবেষণাও দেখা গেছে। লেবু অন্ত্র বা পেট পরিষ্কার করে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলোকে ধ্বংস করে।
শরীরের ওজন কমাতে চাইলে প্রথমেই শরীরের ভেতরে জমে থাকা দূষিত পদার্থ বের করতে হবে, যাতে বাড়তি ওজন সহজে কমতে পারে। তবে লেবু চিকিৎসা শুরুর এক সপ্তাহ আগে থেকেই খাবারের পরিমাণ একটু কমিয়ে দিন। তারপর দুই থেকে তিন সপ্তাহ প্রতিদিন কয়েক গ্লাস পানির সঙ্গে এক গ্লাস তাজা লেবুর রস মিশিয়ে খাবেন। নিয়ম করে প্রতিদিন খেতে হবে।
ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে একটি অরগ্যানিক লেবু রস মিশিয়ে পান করুন। সারা দিনে কমপক্ষে দশ গ্লাস পানি পান করবেন। আর প্রথম গ্লাস ছাড়া অন্যান্যবার এক গ্লাস পানিতে আধখানা তাজা লেবুর রস দেবেন। অবশ্যই আগে থেকে করে রাখা রস খাবেন না। অন্তত দুই সপ্তাহ এভাবে লেবু পানি পান করুন। প্রথম গ্লাসে মধু দিতে পারেন, মধুতে ভিটামিন ও মিনারেল থাকার কারণে তা সাধারণ চিনির মতো ওজন না বাড়িয়ে বরং কমান।
নিয়মিত যে পরিমাণ খাবার খেয়ে থাকেন, লেবুর চিকিৎসা চলাকালীন সেই খাবারের পরিমাণ কমিয়ে অর্ধেক করুন। এসময় মাছ, মাংস, মিষ্টি বা চর্বি জাতীয় খাবার কম খাবেন। সবজির স্যুপ করে খেতে পারেন, স্যুপের মধ্যেও লেবুর রস দিতে পারেন। ১০০ গ্রাম লেবুতে থাকে ১৭০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, যা আমাদের নার্ভ, হৃদযন্ত্র এবং পেশি শক্ত করতে সাহায্য করে? অন্যান্য সময়ের তুলনায় এখন হাঁটাহাঁটি একটু বেশি করবেন।
তিন সপ্তাহ পার হয়ে যাওয়ার পর দেখবেন ওজন কমেছে, শরীরটা অনেক হালকা লাগছে। আস্তে আস্তে আবার খাওয়া-দাওয়া করতে পারেন। তবে তিন সপ্তাহ লেবু চিকিৎসার কথা একেবারে ভুলে যাবেন না, সবকিছুই সচেতনভাবে খাবেন। ফ্যাট জাতীয় খাবারের পর কুসুম গরম পানিতে ছোট একটি লেবুর রস মিশিয়ে পান করবেন। এতে বাড়তি ফ্যাটটুকু কেটে নেবে লেবুর রস। তাছাড়া ১০০ গ্রাম লেবুর রস সারা দিনের অর্ধেক ভিটামিন সি-এর অভাব পূরণ করতে পারে।
Subscribe to:
Comments (Atom)