Showing posts with label গরু মোটাতাজাকরন. Show all posts
Showing posts with label গরু মোটাতাজাকরন. Show all posts

Monday, July 17, 2017

যে কারণে অস্ট্রেলিয়ায় গরুকে চকলেট খাওয়ানো হয়

  • Share The Gag
  • যে কারণে অস্ট্রেলিয়ায় গরুকে চকলেট খাওয়ানো হয়

    একটি খামারে গরুর মাংসের স্বাদ বাড়াতে গরুকে খাওয়ানো হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে চকলেট, ক্যান্ডি ও কুকিস। পরিমাণ কম নয়, নিয়মিত প্রায় ২ কেজি করে এগুলো খাওয়ানো হয়। আর এমন কাজ করছে অস্ট্রেলিয়ার একটি খামার।

    এসব খাবারে গরুর খাদ্যে মিষ্টতার ব্যবহারে নাকি গরুর মাংস আরও সুস্বাদু হয় বলে দাবি ফার্ম মালিকের। অস্ট্রেলিয়ায় ফার্মটির মালিক স্কট ডি ব্রুইনে।

    তিনি বলেন, তার খামারে গরুদের খাবার হিসাবে দেওয়া হয় চকলেট, ক্যান্ডি এবং কুকিস। গরুর জন্য এমন খাবারের প্রশংসা করছেন খাদ্য রসিকরা। মেলবোর্ন ও অ্যাডিলেডের মাঝে প্রায় ৩ হাজার একরজুড়ে রয়েছে এই ফার্ম। বিশালাকার এ ফার্মে গবাদি পশুগুলো বেশ আরামেই থাকে।

    খামারটি থেকে উৎপন্ন ওয়াগু বিফের সুনাম বিশ্বের নানা প্রান্তে। ময়ূরা স্টেশন নামে ওই প্রতিষ্ঠানটির দাবি, মিষ্টিযোগে বিফের স্বাদ নাকি আরো খুলেছে। ১৮৪৫ সালে থেকে এই ফার্ম চলছে। তবে গরুর খাদ্যে চকলেট দেওয়া হচ্ছে ১৯৯৬ সাল থেকে।

    খামারে রোজ প্রতিটি গরুকে প্রায় দুই কেজি করে খাবার দেওয়া হয়। এর মধ্যে সিংহভাগ থাকে চকলেট, কুকিস এবং ক্যান্ডি।

    তথ্যসূত্র- ইন্টারনেট

     

    Sunday, May 14, 2017

    হরমোনের ব্যবহার ছাড়া গরু মোটাতাজাকরণ

  • Share The Gag
  • গ্রোথ হরমোনের ব্যবহার ছাড়া গরু মোটাতাজাকরণ

    কোনোভাবেই ইনজেকশন বা কোনো গ্রোথ হরমোন ব্যবহার করে গবাদিপশু মোটাতাজাকরণের উদ্যোগ নেওয়া যাবে না। এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার ছাড়াও স্বাভাবিক ও জৈব পদ্ধতিতেই গরু মোটাতাজাকরণ সম্ভব। এজন্য দরকার শুধু কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলা। কোনো গ্রোথ হরমোন ব্যবহার ছাড়াই যেভাবে গবাদিপশুর বেশি মাংস নিশ্চিত করা যায়,

    সে সম্পর্কে কিছু পদ্ধতি স্বল্প পরিসরে আলোকপাত করা হল: অধিক মাংস উৎপাদনের জন্য ২ থেকে ৩ বছর বয়সের শীর্ণকায় গরুকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় খাদ্য সরবরাহ করে হৃষ্টপুষ্ট গরুতে রূপান্তরিত করাকে গরু মোটাতাজাকরণ বলে।

    এটির গুরুত্ব হচ্ছে- দারিদ্রতা হ্রাসকরণ, অল্প সময়ে কম পুঁজিতে অধিক মুনাফা অর্জন, অল্প সময়ের মধ্যে লাভসহ মূলধন ফেরত পাওয়া, প্রাণীজ আমিষের ঘাটতি পূরণ, স্বল্পমেয়াদি প্রযুক্তি হওয়ার কারণে পশু মৃত্যুর হার কম, কৃষিকার্য হতে উৎপাদিত উপজাত পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে সহজেই মাংস উৎপাদন করা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে আয় বৃদ্ধি করা প্রভৃতি।

    মোটাতাজাকরণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান পদ্ধতি:মোটাতাজাকরণের সঠিক সময়: বয়সের উপর ভিত্তি করে সাধারণত ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে গরু মোটাতাজাকরণ করা যায়। অনেক সময় ৫ থেকে ৬ মাসও সময় লাগতে পারে। গরু মোটাতাজাকরণের জন্য সুবিধাজনক সময় হচ্ছে বর্ষা এবং শরৎকাল যখন প্রচুর পরিমাণ কাঁচাঘাস পাওয়া যায়। চাহিদার উপর ভিত্তি করে কোরবানী ঈদের ৫ থেকে ৬ মাস পূর্ব থেকে গরুকে উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা দিয়ে মোটাতাজাকরণ লাভজনক।

    স্থান নির্বাচন: গরু রাখার স্থান নির্বাচনে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে: ১. শুষ্ক ও উঁচু জায়গা হতে হবে, যাতে খামার প্রাঙ্গণে পানি না জমে থাকে ২. খোলামেলা ও প্রচুর আলো বাতাসের সুযোগ থাকতে হবে। ৩.খামারে কাঁচামাল সরবরাহ ও উৎপাদিত দ্রব্যাদি বাজারজাতকরণের জন্য যোগাযোগ সুবিধা থাকতে হবে ৪. পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকতে হবে; ৫. সুষ্ঠু পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকতে হবে।

    গরু নির্বাচন: উন্নত দেশের মাংসের গরুর বিশেষ জাত রয়েছে। বিদেশি গরুর জন্য উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। তাই দেশীয় গরু মোটাতাজাকরণ অলাভজনক। ২ থেকে ২.৫ বছরের গরুর শারীরিক বৃদ্ধি ও গঠন মোটাতাজাকরণের জন্য বেশি ভাল। এঁড়ে বাছুরের দৈহিক বৃদ্ধির হার বকনা বাছুরের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। তবে বাছুরের বুক চওড়া ও ভরাট, পেট চ্যাপ্টা ও বুকের সাথে সমান্তরাল, মাথা ছোট ও কপাল প্রশস্ত, চোখ উজ্জ্বল ও ভেজা ভেজা, পা খাটো প্রকৃতির ও হাড়ের জোড়াগুলো স্ফীত, পাজর প্রশস্ত ও বিস্তৃত, শিরদাড়া সোজা হতে হবে।

    গরুর খাদ্যের ধরণ: খাদ্যে মোট খরচের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ভাগ ব্যয় হয়। তাই স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত খাদ্য দ্বারা খরচ কমানো সম্ভব। এজন্য গরু মোটাতাজাকরণের একটি সুষম খাদ্য তালিকা নিচে দেওয়া হল:

    ক) শুকনো খড়: দুই বছরের গরুর জন্য দৈহিক ওজনের শতকরা ৩ ভাগ এবং এর অধিক বয়সের গরুর জন্য শতকরা ২ ভাগ শুকনো খড় ২ থেকে ৩ ইঞ্চি করে কেটে একরাত লালীগুড়/চিটাগুড় মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে প্রতিদিন সরবরাহ করতে হবে। পানি: চিটাগুড় = ২০ : ১।

    খ) কাঁচাঘাস: প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ কেজি তাজা ঘাস বা শস্যজাতীয় তাজা উদ্ভিদের উপজাত দ্রব্য যেমন- নেপিয়ার, পারা, জার্মান, দেশজ মাটি কালাই, খেসারি, দুর্বা ইত্যাদি সরবরাহ করতে হবে।

    গ) দানাদার খাদ্য: প্রতিদিন কমপক্ষে ১ থেকে ২ কেজি দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। নিচে ১০০ কেজি দানাদার খাদ্যে তালিকা দেওয়া হল:১. গম ভাঙা/গমের ভূসি-৪০ কেজি; ২. চালের কুঁড়া-২৩.৫ কেজি; ৩. খেসারি বা যেকোনো ডালের ভূসি-১৫ কেজি: ৪. তিলের খৈল/সরিষার খৈল-২০ কেজি; লবণ-১.৫ কেজি। তাছাড়াও বিভিন্ন রকমের ইউরিয়া মোলাসেস ব্লক ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি হচ্ছে ৩৯ ভাগ চিটাগুড়, ২০ ভাগ গমের ভূসি, ২০ ভাগ ধানের কুঁড়া, ১০ ভাগ ইউরিয়া, ৬ ভাগ চুন ও ৫ ভাগ লবণের মিশ্রণ।

    রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা:

    ক. প্রতিদিন নিয়মিতভাবে পশুর গা ধোয়াতে হবে;

    খ. গো-শালা ও পার্শ্ববর্তী স্থান সর্বদা পরিস্কার রাখতে হবে:

    গ. নিয়মিতভাবে গরুকে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে;

    ঘ. বাসস্থান সর্বদা পরিস্কার রাখতে হবে।

    ঙ. স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পরিমিত পরিমাণে পানি ও সুষম খাদ্য প্রদান করতে হবে।

    চ. রোগাক্রান্ত পশুকে অবশ্যই পৃথক করে রাখতে হবে।

    ছ. খাবার পাত্র পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

    জ. খামারের সার্বিক জৈব নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে।

    ঝ. পশু জটিল রোগে আক্রান্ত হলে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

    বাজারজাতকরণ: মোটাতাজাকরণ গরু লাভজনকভাবে সঠিক সময়ে ভাল মূল্যে বাজারজাতকরণের ব্যবস্থাগ্রহণ হচ্ছে আরেকটি উল্লেখ্যযোগ্য বিষয়। বাংলাদেশে মাংসের জন্য বিক্রয়যোগ্য গবাদিপশুর বাজারমূল্যেও মৌসুমভিত্তিক হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। কাজেই একজন প্রতিপালককে গরু মোটাতাজাকরণের জন্য অবশ্যই গরুর ক্রয়মূল্য যখন কম থাকে তখন গরু ক্রয় করে বিক্রয়মূল্যের উর্ধ্বগতির সময়ে বিক্রয়ের ব্যবস্থা নিতে হবে। সাধারণত কোরবানীর ঈদের সময়ে গরুর মূল্য অত্যাধিক থাকে এবং এর পরের মাসেই বাজার দর হ্রাস পায়। তাই এখন গরু মোটাতাজাকরণের উপযুক্ত সময় এবং কোরবানীর সময় তা বিক্রি করে দেওয়া ভাল।

    Friday, April 22, 2016

    গরু মোটাতাজা করে ভাগ্য বদল

  • Share The Gag
  • বগুড়ায় ঈদুল আযহা সামনে রেখে গরু ব্যবসায়ী ও খামারিরা গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তাদের একটাই লক্ষ্য, অল্প সময়ে গরু মোটাতাজা করে বেশি আয় করা।

    জানা গেছে, ঈদুল আযহার সামনে বগুড়ার বিভিন্ন স্থানে পশু কেনাবেচার জন্য হাট বসানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সে সব হাটে সবচেয়ে বড় বড় পশু বিক্রি করবেন খামারিরা। সে জন্য তারা গরু-ছাগল ও ভেড়া মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
    বেশি মুনাফা লাভের আশায় গরিব বেকার শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা অল্পমূল্যে এঁড়ে বাছুর কিনে ২ থেকে ৩ বছর লালনপালন করে করে। এরপর গরু মোটাতাজাকরণ ও শরীরে গোশত বাড়ানোর জন্য খামারি ও ব্যবসায়ীরা অধিক পুষ্টিকর খাবার ভূষি, সবুজ ঘাস, খড়, খৈলসহ নিয়মিত ঔষধ ও চিকিৎসা করছে।

    শিবগঞ্জের মোকামতলা চকপাড়া গ্রামের আকবর আলী মন্ডলের ছেলে শাহজাহান আলী মন্ডল ভোলা জানান, গত ১০ বছর আগে বেকার জীবনে স্ত্রী মাহফুজা বেগমের সহযোগিতা ও উৎসাহে শুরু করেন ডেইরি ফার্ম। তার খামারে রয়েছে উন্নতজাতের বিদেশী এঁড়ে (ষাঁড়) গরু বিদেশি ৩টি, ৫টি গাভী ও ২৮টি ছাগল। এতে ভোলা’র সংসারে ফিরে এসেছে সুদিন । তার একটি গরুর দাম ৪ লাখ টাকা চাওয়া হলে দাম বলা হয়েছে ২ লাখ ৫০হাজার টাকা। আর গরুটি দেখতে অনেকে তার বাড়িতে ভিড় জামাচ্ছেন। গরুটি ৩ বছর লালনপালন করতে ব্যয় হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। তবুও ভালো দাম পেলে এক থেকে দেড় লাখ টাকা লাভ হবে।

    খামারি মোঃ মাসুদ রানা জানান, গরু মোটাতাজাকরণে প্রতি মাসে খাদ্যের পাশাপাশি খামারকে রোগবালাই থেকে মুক্ত রাখতে নিয়মিত চিকিৎসা করতে হয়। এছাড়া গরুর ওজন বাড়ানোর জন্য নিয়মিত উন্নতমানের খাবার দিতে হয়।

    Sunday, February 21, 2016

    গরু মোটাতাজা করন ও ওজন বের করার নিয়ম

  • Share The Gag
  • গরু মোটাতাজাকরন প্রক্রিয়ায় ধারাবহিকভাবে যে সকল বিষয়গুলো সম্পন্ন করতে হব তা নিম্নরুপ।

    ০১. পশু নির্বাচন, ০২. কৃমিমুক্তকরন ও টিকা প্রদান , ০৩. পুষ্টি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং ০৪. বাজারজাতকরন।

    ০১. পশু নির্বাচন : মোটাতাজাকরণ  কর্মসূচীর জন্য গরু ক্রয়ের সময় প্রধান দুটি বিবেচ্য বিষয় হলো বয়স ও শারীরিক গঠন।

    ক. বয়স নির্ধারন: মোটতাজা করার জন্য সাধারনত ২ থেকে ৫ বছরের গরু ক্রয় করা যেতে পারে, তবে ৩ বছরের গরু হলে ভাল।
    খ.
    শারীরিক গঠন : মোটাতাজাকরণে ব্যবহৃত গরুর দৈহিক গঠন একটি গুরুত্বপূর্ণ
    বিষয়। এজন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মনে রেখে গরু নির্বাচন করা জরুরী।

    •    দেহ হবে বর্গাকার ।
    •    গায়ের চামড়া হবে ঢিলা ( দুই আঙ্গুল দিয়ে ধরে টান দিয়ে দেখতে হবে)।
    •    শরীরের হাড়গুলো আনুপাতিকহারে মোটা, মাথাটা চওড়া, ঘাড় চওড়া এবং খাটো।
    •    পাগুলো খাটো এবং সোজাসুজিভাবে শরীরের সাথে যুক্ত।
    •    পিছনের অংশ ও পিঠ চওড়া এবং লোম খাটে ও মিলানো ।
    •    গরু অপুষ্ট ও দূর্বল কিন্তু রোগা নয়।


    ০২.  কৃমিমুক্তকরন  : পশু ডাক্তারের নির্দেশনা মত কৃমির ঔষধ ব্যবহার করতে হবে। গরু সংগ্রহের পর পরই পালের সব গরুকে একসাথে কৃমিমুক্ত করা উচিত। তবে প্রতি ৭৫ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১ টি করে এনডেক্স বা এন্টিওয়ার্ম টাবলেট ব্যবহার  করা যেতে পারে।

    ০৩. টিকা প্রদান : পূর্ব থেকে টিকা না দেওয়া থাকলে খামারে আনার পরপরই সবগুলো গরুকে তড়কা, বাদলা এবং ক্ষুরা রোগের টিকা দিতে হবে। এ ব্যপারে নিকটস্থ পশু হাসপাতলে যোগাযোগ করতে হবে।

    ০৪. ঘর তৈরী ও আবসন ব্যবস্থাপনাঃ  আমদের দেশের অধিকাংশ খামারী ২/৩ টি পশু মোটাতাজা করে থাকে, যার জন্য সাধারনত আধুনিক সেড করার প্রয়োজন পড়েনা। তবে যে ধরনের ঘরেই গরু রাখা হোক ঘরের মধ্যে পর্যন্ত আলো ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ঘরের মল- মূত্র ও অন্যান্য আবর্জনা যাতে সহজেই পরিস্কার করা যায় সে দিকে খেয়াল রেখে ঘরে তৈরী করতে হবে।

    ০৫. পুষ্টি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনাঃ গরু মোটতাজাকরনে দুই ধরনের খাদ্যের সমন্বয়ে রশদ (রেশন) তৈরী করা হ হয়।



    •     আঁশ জাতীয়ঃ শুধু খড়, ইউ এম, সবুজ ঘাস ইত্যাদি । তবে এই প্রক্রিয়ায় খামারীদেরকে শুধু খড়ে পরিবর্তে ইউ এম এস খাওয়াতে হবে।



    •    দানারারঃ খৈল, ভূষি, চাষের কুড়া , খুদ, শুটকি মাছ, ঝিনুকের গুড়া, লবন ইত্যাদি। খাওয়ানের পরিমানঃ গরুকে তার ইচ্ছা অনুযায়ী, অর্থাৎ গরু যে পরিমান খেতে পারে সে পরিমান ইউ এম এস সরবারাহ করতে হব।



    • কোন খামারী সবুজ ঘাস খাওয়াতে চাইলে প্রতি ১০০ কেজি কাঁচা  ঘাসের সাথে ৩ কেজি চিটাগুড়ে মিশিয়ে তা গরুতে খাওয়াতে পারেন। এক্ষেত্রে কাঁচা ঘাসেও গরুকে পর্যাপ্ত পরিমানে সরবরাহ করতে হবে।



    খ . দানাদর মিশ্রণঃ খামারীদের সবিধার জন্য নীচের সারনীতে একটি দানাদার মিশ্রণ তৈরীর বিভিন্ন উপাদান পরিমান সহ উল্লেখ  করা হল। নিম্নের ছক অনুযায়ী অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী খামারীগণ বিভিন্ন পরিমান মিশ্রণ তৈরী করে নিতে পারবেন।



    • খাওয়ানের পরিমানঃ গরুকে তার দেহের ওজন অনুপাতে দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। পাশের দানাদার মিশ্রণটি গরুর ওজনের শতকরা ০.৮-১ ভাগ পরিমান সরবরাহ করলেই চলবে।



    •    খাওয়ানোর সময়ঃ দানাদার মিশ্রণটি এবারের না খাইয়ে ভাগে ভাগ করে সকালে এবং বিকালে খাওয়াতে হবে।



    •    পানিঃ গরুকে পর্যান্ত পরিমানে পরিস্কার খামার পানি সরবরাহ করতে হবে।



    •  ০৬. দৈহিক ওজন নির্ণয়ঃ মোটাতাজাকরন প্রক্রিয়ায় গরুকে দৈহিক ওজন নির্ণয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কেননা গরুর খাদ্য সরবরাহ,ঔষধ সরবরাহ ইত্যাদি কাজগুলো করতে হয় দৈহিক ওজনের ভিত্তিতে।

    গরুর ওজন নির্নয়ের জন্য গরুকে সমান্তরাল জায়গায় দাড় করাতে হবে এবং ছবির নির্দেশিকা মোতাবেক ফিতা দ্বারা দৈর্ঘ্য ও
    বুকের বেড়ের মাপ নিতে হবে। এই মাপ নীচের সূত্রে বসালে গরুর ওজন পাওয়া যাবে।

    দৈর্ঘ্য × বুকের বেড় (ফুট) × বুকের বেড় (ফুট)
    ....................................... = ওজন (কিলোগ্রাম)  ৬.৬০

    উপসাংহারঃ উপরে বর্নিত পদ্বতি অনুযায়ী পালন করলে ৯০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যেই গরু মোটাতাজাকরন করে বাজারজাত করা সম্ভব

    Saturday, February 13, 2016

    গবাদী পশু প্রাণির জাত পরিচিতি

  • Share The Gag



  • জাতঃ ইহা একটি বিশেষ গোষ্ঠি, যাহার সদস্য সদস্যাবৃন্দ একই চারিত্রিক বৈশিষ্টের অধিকারী এবং ঐ চারিত্রিক বৈশিষ্টগুলি বংশ পরম্পরায় সমভাবে বিদ্যমান।

    গবাদি পশুর জাতকে সাধারণতঃ ৩টি উপায়ে বিভক্ত করা যায়। যথাঃ


    • উৎপত্তি ও আকার অনুসারে

    • ব্যবহার বা কাজ দ্বারা

    • জাতির মৌলিক্ত বা বিশুদ্ধতার পরিমান দ্বারা


    কাজ বা ব্যবহার অনুযায়ী জাত বিভাগঃ


    • দুধাল জাতঃ জার্সি, হলেষ্টিন ফ্রিজিয়ান, গোয়েনারসি, শাহীওয়াল ইত্যাদি

    • মাংশাল জাতঃ হারফোর্ড, এবার্ডিন, এ্যাংগাস, শর্টহর্ন ইত্যাদি

    • শ্রমশীল জাতঃ ধান্নী, এ্যাংগোলা ইত্যাদি

    • বিবিধঃ সিন্ধি, হারিয়ানা, থারপারকার


    মৌলিকত্ব বা বিশুদ্ধতার পরিমিতি অনুসারে জাত বিভাগঃ


    • মৌলিক বা বিশুদ্ধ জাতঃ এই জাতভূক্ত গাভীকে অবশ্যই ইহার পূর্ব পুরুষদের সমস্ত শাখার মাধ্যমে সেই জাতির অধদি পুরুষদের সংগে সম্পর্ক রাখতে হবে। যেমন-শাহীওয়াল, জার্সি ইত্যাদি।

    • উন্নীত জাত (গ্রেড): কোন নির্দ্দিষ্ট জাতের ষাঁড়ের সাথে অনুন্নত গাভীর মধ্যে ধারাবাহিক প্রজননের ফলে সৃষ্ট উন্নত জাত। যেমন-শাহীওয়াল, জার্সি ইত্যাদি।

    • দো-আঁশলাঃ দুই মৌলিক জাতের গাভী ও ষাঁড়ের মিলনে বা প্রজননে সৃষ্ট নূতন জাত। যেমন-সিন্ধি শাহীওয়াল দো-আঁশলাঃ

    • গোত্র বিহীনঃ সাদৃস্য বিহীন। যেমন-দেশী গাভী।


    জার্সি:

    উৎপত্তি : জার্সি, ওয়েনসি এ্যাল্ডার্লি ও সার্ক চ্যানেল দ্বীপ সমূহ জার্সি গাভীর উৎপত্তিস্থান।

    সাধারন বৈশিষ্ট্য: বিদেশী দুধাল গাভীর মধ্যে জার্সির আকার সবচেয়ে ক্ষুদ্রাকার। গাভীর ওজন ৪০০-৪৫০ কেজি এবং ষাঁড়েন ওজন ৬০০-৮৫০ কেজি। ওলান বেশ বড়। মাথা ও ঘাড় বেশ মানানসই । শিরদাঁড়া সোজা এবং চুট বিহীন। শরীর মেদহীন। গায়ের রং লাল বা মেহগিনি রং বিশিষ্ট। জিহবা ও লেজ কালো। সদ্য প্রসূত বাচ্চা দৃর্বল ও ছোট হয়। তাই বাচ্চা পালন কষ্টসাধ্য। সদ্য প্রসূত বাচ্চার ওজন ২২-৩৩ কেজি। জার্সি গাভী অপেক্ষাকৃত অল্প সময়ে বয়প্রাপ্তত হয় এবং অনেক বয়স পর্যন্ত দূগ্ধ প্রদানে সক্ষম।

    উপকারিতাঃ দূগ্ধ উৎপাদন ও তার মান প্রশংসনীয়। বাৎসরিক দুগ্ধ উৎপাদন ২৭৫০-৪০০০ লিটার। দুধে চর্বির পরিমান  শতকরা ৫ ভাগ।

    হলেস্টিন ফ্রিজিয়ানঃ

    উৎপত্তি: হল্যান্ডের ফ্রিজিয়ান ফ্রিজিল্যান্ড প্রদেশ।

    সাধারন বৈশিষ্টঃ দুধাল জাতের মধ্যে হলেষ্টিন ফ্রিজিয়ান এর আকার সর্ব বৃহৎ। গাভীর গড় ওজন ৬৭৫ কেজি এবং ষাঁড়ের ওজন ১০০০ কেজি। শরীরের মধ্য ও পিছন ভাগ ভারী ও ওলান বেশ বড়। পিছনের পা বেশ সোজা। গাভীগুলি বেশ শান্ত কিন্তু ষাঁড়গুলি প্রায় বদ মেজাজী। গায়ের  রং কালো-সাদায় চিত্রা এবং যে কোন প্রকারের প্রাধান্য থাকতে পারে। জন্মের সময়  বাচ্চার গড় ওজন ৪৫ কেজি। হলেস্টিন ফ্রিজিয়নের বয়োপ্রাপ্তি দেরীতে ঘটে।

    উপকারিতাঃ বাৎসরিক  দুগ্ধ উৎপাদন ক্ষমতা ৪৫০০-৯০০০ কেজি। চর্বির পরিমান শতকরা ৩.৫ ভাগ। দূগ্ধবতী গাভীর মধ্যে সর্বাপেক্ষা বেশী ও মাংশ উৎপাদনকারী জাত।

    শাহীওয়ালঃ

    উৎপত্তিঃ পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মন্টগোমারী জেলা।

    সাধারন বৈশিষ্টঃ শাহীওয়াল গাভী আকারে কিছুটা বড়। গাভীর ওজন ৪৫০-৫৫০ কেজি এবং ষাঁড়ের ওজন ৬০০-১০০০ কেজি। জন্মকালে বাছুরের ওজন ২২-২৮ কেজি। মাথা প্রশস্ত ও শিং ছোট কিন্তু মোটা। চূট ও গলকম্বল বেশ বড়। ওলান বড় এবং ঝুলন্ত। গায়ের রং সাধারনতঃ হালকা লাল বা হালকা হলুদ। কোন কোন গাভীর শরীরের বিভিন্ন অংশে সাদা রং দেখা যায়। বলদ ও ষাঁড় ধীর ও অলস।

    উপকারিতাঃ শাহীওয়াল এই উপমহাদেশের দুধাল গাভী রূপে সুপরিচিত। বাৎসরিক দুধ উৎপাদন ৩০০০-৪০০০ লিটার। চর্বি পরিমান ৪.৫%।

    হারিয়ানাঃ

    উৎপত্তিঃ ভারতের রটক, হীসার, গরগাঁও ও দিলস্নী।

    সাধারন বৈশিষ্টঃ হারিয়ানা দেখলেই মনে হয় অত্যন্ত পরিশ্রমী ও শক্তিশালী। গাভীর ওজন ৪০০ - ৫০০ কেজি এবং ষাঁড়ের ওজন ৬০০ - ১১০০ কেজি। জন্মকালে বাছুরের ওজন ২২ - ২৫ কেজি। মাথা বেশ লম্বা এবং অপেক্ষাকৃত সরু। শিং লম্বা, চিকন ও বাঁকানো। দেহের রং সাদাটে বা হালকা ধূসর।

    উপকারিতা: হারিয়ানা দুধ উৎপাদন ও লাংগল বা গাড়ী টানার জন্য উপযোগী। বাৎসরিক দুধ উৎপাদন ১৫০০ লিটার। দুধে চর্বির পরিমান ৫%। বকনা সাধারণত: ৩ - ৪ বৎসরের পূর্বে গাভী হয় না।

    লাল সিন্ধি



    উৎপত্তি: পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের করাচী, লাসবেলা ও হায়দারাবাদ।

    প্রাপ্তি স্থান: পাকিস্তানের সর্বত্রই পাওয়া যায়। পৃথিবীর  অনেক দেশে যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ভারত, সিংহল, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ড।

    সাধারণ বৈশিষ্ট: গায়ের রং লাল বলে নাম লাল সিন্ধি। গাভীর ওজন ৩৫০ - ৪০০ কেজি ও ষাড়ের ওজন ৪২৫ - ৫০০ কেজি। কপাল প্রশস্ত ও উন্নত, কানের আকার মাঝারী, নীচের দিকে ঝুলানো, ওলান বেশ বড়। শিং খাটো ও মোটা। ঘাড় খাটো ও মোটা। নাভী বড় ও ঝুলানো, বুক প্রশস্ত। গায়ের রং সাধারণত: গাঢ় লাল, কিন্তু কালচে হলুদ থেকে গাঢ় মেটে রং এর হতে পারে। এই জাতের গাভী ৩৫০ দিন দুধ দেয়। দৈনিক উৎপাদন প্রায় ৮-১০লিটার। জন্মকালে বাচ্চার ওজন ২১ - ২৪ কেজি।

    উপকারীতা: বাৎসরিক গড় দূগ্ধ উৎপাদন প্রায় ২০০০  লিটার। দুধে চর্বির পরিমান ৫% এর উপরে। এই জাত আমাদের দেশী আবহাওয়ায় মোটামুটি অভিযোজিত। বলদ বা ষাঁড় দ্বারা গাড়ীটানা ও হালচাষ ভাল ভাবে করা যায়। বকনা তিন বছর বয়সেই গাভী হয়ে থাকে।

    লাল চাঁটগেঁয়ে সিন্ধি

    উৎপত্তি: বাংলাদেশের চট্রগ্রাম ও পার্বত্য চট্রগাম।

    সাধারণ বৈশিষ্ট : দেহের আকার ছোট। গায়ের রং হাল্কা লাল। শিং ছোট, পাতলা ও ভিতরের দিকে আংশিক বাঁকানো। গলকম্ব ও মাথা ছোট। কান খাড়া। গাভীর ওজন ২৫০ - ৩০০ কেজি এবং ষাঁড় ৩৫০ - ৪০০ কেজি। ওলান বেশ সুঠাম, বাঁট অপেক্ষাকৃত ছোট। লাল চাঁটগেঁয়ে সিন্ধি বাংলাদেশের একমাত্র বিশুদ্ধ জাত হিসাবে পরিচিত।

    ছাগলের জাত

    গৃহপালিত পশুর মধ্যে ছাগল অত্যন্ত পরিচিত প্রাণী । এদের স্বাভাবিক জীবনকাল ৮-১০ বৎসর । পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রায় ৩১৩ জাতের ছাগল  পাওয়া যায় । ছাগল জাত ভেদে ১-৬ টি পর্যন্ত বাচচা প্রসব করে থাকে । আকৃতি ও আচরনে অন্যান্য পশুর মত এদের মধ্যেও ভিন্নতা লক্ষণীয় । ছাগলের দুধ, মাংস, লোম ও চামড়ার অর্থকরী সম্পদ। ছাগল পালন করতে হলে ছাগলের বিভিন্ন জাত সমর্পকে জানা প্রয়োজন । পৃথিবীতে বিভিন্ন জাতের ছাগল রয়েছে তার মধ্যে (১) ব্ল্যাক বেংগল (২) যমুনাপারি (৩) বীটল ইত্যাদি পাওয়া যায়।

    ১। ব্ল্যাক বেংগলঃ


    এ জাতের ছাগল বাংলাদেশর সর্বত্রই পাওয়া যায় এবং এটাই দেশের একমাত্র ছাগলের জাত। উলে­খ্য যে, বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পশ্চিম বাংলা, আসাম ও অন্যান্য রাজ্যেও এই জাতের ছাগল পাওয়া যায়। গায়ের রং অধিকাংশ ক্ষেত্রে কালো। তবে সাদা-কালো, খয়েরী-সাদা ইত্যাদিও হতে পারে। এরা সাধারনত: আকারে ছোট হয়। তবে মাঝে মাধ্যে এ জাতের বড় ছাগলও দেখা যায়। আমাদের দেশে এদের গড় ওজন যথাক্রমে ৯ থেকে ১৩ কেজি। পূর্ণ বয়স্ক বড় আকারের ছাগল এবং ছাগীর গড়  ওজন যথাক্রমে ৩২ ও ২০ কেজি । ঘাড় এবং পেছনের অংশ উচ্চতায় প্রায় সমান। বুক প্রশস্ত। পা গুলো ছোট ছোট। ছাগ এবং ছাগীর ছোট ছোট সরু এবং উর্দ্ধমুখী শিং আছে। কিন্তু পাঁঠার শিং তুলনামূলক ভাবে বড়, মোটা এবং পিছনের দিকে বাঁকানো। কানের আকার ছোট বা মাঝারী, চোখা এবং শরীরের সাথে সমান্তরাল এবং উর্দ্ধমুখী। গায়ের লোম ছোট ও মসৃন। এরা এক সংগে একাধিক বাচ্চা প্রসব করে। দ্রুত প্রজননশীলতা, সুস্বাদু মাংশ এবং উচ্চমান সম্পন্ন চামড়ার জন্য ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পৃথিবী বিখ্যাত।

    ২। যমুনাপারীঃ

    যমুনাপারি ভারতের সবচাইতে বড় এবং রাজকীয় ছাগলের জাত হিসাবে পরিচিত। বাংলাদেশেও এ জাতের ছাগল রয়েছে। এদের শরীর বিরাটাকার। গায়ের রং সাদা ও হলদেটে ধরনের হয়ে থাকে। এদের নাক রোমাদের নাকের মত টিকালো কান দুটো লম্বা, ঝোলানো ও ভাঁজ করা। পা বেশ লম্বা । যমুনাপারী ছাগলের পেছনের পায়ের পিছন দিকে লম্বা লম্বা  লোম থাকে। মাংস ও দুধের জন্য এ জাতের ছাগল পৃথিবীতে বিখ্যাত। বীজ হিসাবে এ জাতের ছাগলের পাঁঠা ভারত থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করা হয়। বাংলাদেশেও যমুনাপারি ছাগলের  জনপ্রিয়তা  রয়েছে ।

    ৩। বীটলঃ

    এ জাতের ছাগলের আদি বাস পাকিস্তান ও ভারতের পাঞ্জাবে। এদের মুখ ও নাকের গড়ন যমুনাপারি ছাগলের মত ।

    মুরগীর জাত



    বিভিন্ন মোরগ-মুরগীর বৈশিষ্ট

    মোরগ-মুরগীকে সাধারণত: দুই শ্রেণীতে ভাগ করা যেতে পারে। যেমন: হাল্কা (Light) জাত ও ভারী (Heavy) জাত।



































    শ্রেণী

    বংশ

    সাধারণ বৈশিষ্ট

    আমেরিকা

    রোড আইল্যান্ড রেড (আর.আর.আই), নিউহ্যাম্পশেয়ার, পাইমাউথ ইত্যাদি।

    পা লোমহীন, চামড়া হলদে, কানের লতি লাল, মাঝারী আকারের শরীর, মাংশ ও ডিম উভয়ের জন্যই ভাল।

    ভূমধ্যসাগরীয়

    হোয়াইট লেগ হর্ন, ব্যাক মিনারকা, এনকোনা ইত্যাদি। যেমন: ফাইওমি (পাকিস্তানী)

    পা লোমহীন, চামড়া হলুদ বা সাদা, কানের লতি সাদা, শরীরের আকার ছোট, খুব বেশী ডিম দেয়, কুঁচে লাগে না।

    বিলাতী

    সাসেক্স, অষ্টারলর্প, অরপিংটন ইত্যাদি

    লোমহীন পা, সাদা চামড়া, কানের লতি লাল, মাঝারী আকারের শরীর, মাংশ ও ডিম উভয়ের জন্যই ভাল।

    এশীয়

    ব্রাহামা, কোচিন, ল্যাংশায়ার ইত্যাদি

    লোমযুক্ত পা, চামড়া হলদে, কানের লতি লাল, আকাওে বড়, মাংশের জন্য ভাল, ঘন ঘন কুঁচে হয়।

    বাংলাদেশী

    আসিল, চাঁটগাঁয়ে বা মালয়ী

    পা লোমহীন, চামড়া হলদে, কানের লতি লালচে, আকারে বেশ বড় ও লম্বা, মাংশের জন্য ভাল। মোরগ লড়াইয়ের জন্য প্রসিদ্ধ।








    তথ্য:


    তথ্য আপা প্রকল্প


    গরু মোটাতাজাকরণ প্রযুক্তি

  • Share The Gag
  • বাংলাদেশে গরুর মাংস খুব জনপ্রিয় এবং চাহিদাও প্রচুর। তাছাড়া মুসলমাদের ধমীয় উৎসব কুরবানীর সময় অনেক গরু জবাই করা হয়। সূতরাং “ গরু মোটাতাজাকরন” পদ্ধতি বাংলাদেশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ন এবং একটি লাভজনক ব্যবসা।

    গরু মোটাতাজাকরন প্রক্রিয়ায় ধারাবহিকভাবে যে সকল বিষয়গুলো সম্পন্ন করতে হব তা নিম্নরুপ।

    ০১. পশু নির্বাচন, ০২. কৃমিমুক্তকরন ও টিকা প্রদান , ০৩. পুষ্টি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং ০৪. বাজারজাতকরন।

    ০১. পশু নির্বাচন : মোটাতাজাকরণ  কর্মসূচীর জন্য গরু ক্রয়ের সময় প্রধান দুটি বিবেচ্য বিষয় হলো বয়স ও শারীরিক গঠন।

     

    ক. বয়স নির্ধারন: মোটতাজা করার জন্য সাধারনত ২ থেকে ৫ বছরের গরু ক্রয় করা যেতে পারে, তবে ৩ বছরের গরু হলে ভাল।

    খ. শারীরিক গঠন : মোটাতাজাকরণে ব্যবহৃত গরুর দৈহিক গঠন একটি গুরুত্বপূর্ণ
    বিষয়। এজন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মনে রেখে গরু নির্বাচন করা জরুরী।

    •    দেহ হবে বর্গাকার ।
    •    গায়ের চামড়া হবে ঢিলা ( দুই আঙ্গুল দিয়ে ধরে টান দিয়ে দেখতে হবে)।
    •    শরীরের হাড়গুলো আনুপাতিকহারে মোটা, মাথাটা চওড়া, ঘাড় চওড়া এবং খাটো।
    •    পাগুলো খাটো এবং সোজাসুজিভাবে শরীরের সাথে যুক্ত।
    •    পিছনের অংশ ও পিঠ চওড়া এবং লোম খাটে ও মিলানো ।
    •    গরু অপুষ্ট ও দূর্বল কিন্তু রোগা নয়।

    ০২. কৃমিমুক্তকরন  : পশু ডাক্তারের নির্দেশনা মত কৃমির ঔষধ ব্যবহার করতে হবে।
    গরু সংগ্রহের পর পরই পালের সব গরুকে একসাথে কৃমিমুক্ত করা উচিত। তবে প্রতি
    ৭৫ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১ টি করে এনডেক্স বা এন্টিওয়ার্ম টাবলেট
    ব্যবহার  করা যেতে পারে।

    ০৩. টিকা প্রদান : পূর্ব থেকে টিকা না দেওয়া
    থাকলে খামারে আনার পরপরই সবগুলো গরুকে তড়কা, বাদলা এবং ক্ষুরা রোগের টিকা
    দিতে হবে। এ ব্যপারে নিকটস্থ পশু হাসপাতলে যোগাযোগ করতে হবে।

     

    ০৪. ঘর তৈরী ও আবসন ব্যবস্থাপনাঃ  আমদের দেশের অধিকাংশ খামারী ২/৩ টি পশু
    মোটাতাজা করে থাকে, যার জন্য সাধারনত আধুনিক সেড করার প্রয়োজন পড়েনা। তবে
    যে ধরনের ঘরেই গরু রাখা হোক ঘরের মধ্যে পর্যন্ত আলো ও বায়ু চলাচলের
    ব্যবস্থা থাকতে হবে। ঘরের মল- মূত্র ও অন্যান্য আবর্জনা যাতে সহজেই
    পরিস্কার করা যায় সে দিকে খেয়াল রেখে ঘরে তৈরী করতে হবে।
    ০৫. পুষ্টি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনাঃ গরু মোটতাজাকরনে দুই ধরনের খাদ্যের সমন্বয়ে রশদ (রেশন) তৈরী করা হ হয়।

    •   আঁশ জাতীয়ঃ শুধু খড়, ইউ এম, সবুজ ঘাস ইত্যাদি । তবে এই প্রক্রিয়ায় খামারীদেরকে শুধু খড়ে পরিবর্তে ইউ এম এস খাওয়াতে হবে।

    •   দানারারঃ খৈল, ভূষি, চাষের কুড়া , খুদ, শুটকি মাছ, ঝিনুকের গুড়া, লবন ইত্যাদি।
    খাওয়ানের পরিমানঃ গরুকে তার ইচ্ছা অনুযায়ী, অর্থাৎ গরু যে পরিমান খেতে পারে সে পরিমান ইউ এম এস সরবারাহ করতে হব।

    •   কোন খামারী সবুজ ঘাস খাওয়াতে চাইলে প্রতি ১০০ কেজি কাঁচা  ঘাসের সাথে ৩
    কেজি চিটাগুড়ে মিশিয়ে তা গরুতে খাওয়াতে পারেন। এক্ষেত্রে কাঁচা ঘাসেও
    গরুকে পর্যাপ্ত পরিমানে সরবরাহ করতে হবে।

    খ . দানাদর মিশ্রণঃ খামারীদের সবিধার জন্য নীচের সারনীতে একটি দানাদার মিশ্রণ তৈরীর বিভিন্ন
    উপাদান পরিমান সহ উল্লেখ  করা হল। নিম্নের ছক অনুযায়ী অথবা প্রয়োজন
    অনুযায়ী খামারীগণ বিভিন্ন পরিমান মিশ্রণ তৈরী করে নিতে পারবেন।

    •  খাওয়ানের পরিমানঃ গরুকে তার দেহের ওজন অনুপাতে দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে
    হবে। পাশের দানাদার মিশ্রণটি গরুর ওজনের শতকরা ০.৮-১ ভাগ পরিমান সরবরাহ
    করলেই চলবে।
    •    খাওয়ানোর সময়ঃ দানাদার মিশ্রণটি এবারের না খাইয়ে ভাগে ভাগ করে সকালে এবং বিকালে খাওয়াতে হবে।
    •    পানিঃ গরুকে পর্যান্ত পরিমানে পরিস্কার খামার পানি সরবরাহ করতে হবে।

    ০৬. দৈহিক ওজন নির্ণয়ঃ মোটাতাজাকরন প্রক্রিয়ায় গরুকে দৈহিক ওজন নির্ণয়
    গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কেননা গরুর খাদ্য সরবরাহ,ঔষধ সরবরাহ ইত্যাদি কাজগুলো
    করতে হয় দৈহিক ওজনের ভিত্তিতে।

    গরুর ওজন নির্নয়ের জন্য গরুকে সমান্তরাল
    জায়গায় দাড় করাতে হবে এবং ছবির নির্দেশিকা মোতাবেক ফিতা দ্বারা দৈর্ঘ্য ও
    বুকের বেড়ের মাপ নিতে হবে। এই মাপ নীচের সূত্রে বসালে গরুর ওজন পাওয়া যাবে।

    দৈর্ঘ্য × বুকের বেড় (ফুট) × বুকের বেড় (ফুট)
    ....................................... = ওজন (কিলোগ্রাম)  ৬.৬০

    উপসাংহারঃ উপরে বর্নিত পদ্বতি অনুযায়ী পালন করলে ৯০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যেই গরু মোটাতাজাকরন করে বাজারজাত করা সম্ভব।