রংপুরে মহামারি আকারে ধানে ব্লাস্ট, কৃষি কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল
শষ্য ভান্ডার খ্যাত রংপুরে বোরো ধান ক্ষেতে নেক ব্লাস্ট রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। মাঠের পর মাঠ ধান ক্ষেতের পাতা পুড়ে যাচ্ছে। ধান গাছের গোড়ায় পচন ধরে শীষ মরে যাচ্ছে। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী কীটনাশক দিয়েও কাজ হচ্ছে না। ফলে চলতি মৌসুমে ধানের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। এ অবস্থায় কৃষি বিভাগ রংপুরের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করেছে।
কৃষি বিভাগের মতে, এবার জেলায় ১ লাখ ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করেন কৃষকরা। প্রয়োজনীয় সার কীটনাশক ব্যবহারের পর ফলনও ভালোই হওয়ার আশা করছিলেন কৃষকরা। কিন্তু গত ১৫ দিন ধরে হঠাৎ করে বোরো ধান ক্ষেতে কার্ন্টে পোকা , ন্যাদা পোকার আক্রমণ শুরু হয়। এরপর হঠাৎ করেই ধানের পাতা পুড়ে যাচ্ছে। ফলে ধানের শীষ গজানোর পরেও গাছের নিচে পচন ধরায় গাছ মরে যাচ্ছে। শীষ মরে যাচ্ছে। ফলে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। রংপুর সদর উপজেলাসহ কাউনিয়া মিঠাপুকুর, পীরগজ্ঞ, বদরগজ্ঞ ও গঙ্গাচড়া উপজেলার শতকরা ৩০ থেকে ৪০ ভাগ ধানক্ষেত নেক ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। কৃষকরা বলছেন, এক জমিতে নেক ব্লাস্ট রোগ থাকলেও রাতারাতি পাশের ক্ষেতটিও আক্রান্ত হয়ে পড়ছে।
সরেজমিন মঙ্গলবার রংপুর নগরীর বড়বাড়ি, দেওডোবাসহ আশপাশের এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ধান না পাকলেও আগাম ধান কেটে ফেলছেন কৃষকরা। অনেকে আবার ধান গাছ কেটে রাস্তায় ফেলে রাখছেন। কৃষক আবেদ আলী ও সালাম মিয়া জানান, তারা দুজনে মিলে চার বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। প্রয়োজনীয় সার কীটনাশক দিয়েছেন জমিতে। কিন্তু গত ১৫ দিন ধরে হঠাৎ করে ধান গাছের পাতা পুড়ে যাচ্ছে। গাছের গোড়ায় পচন ধরছে। বেশির ভাগ শীষে ধান নেই। ফলে উপায় না দেখে কাঁচা ধান কেটে ফেলছেন।
তারা জানান, যেখানে এক বিঘা জমিতে ৪০ থেকে ৫০ মন ধান পাবার কথা সেখানে ১০ মন ধান পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ আছে।
বড়বাড়ি এলাকার কৃষক সালেহা বেগম জানান, তার ক্ষেতের ধান পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে। চড়া সুদে ঋণ নিয়েছেন। এখন সেই ঋণ কিভাবে শোধ করবেন আর সন্তানদের লেখাপড়ার খরচই বা কিভাবে জোগাড় করবেন?
দেওডোবা এলাকার ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ধান ক্ষেতের পাতা জ্বলে গেছে। গোড়ায় পচন ধরেছে। শীষ আছে কিন্তু ধানের পরিমাণ খুবই কম। ওই গ্রামের বৃদ্ধা মনোয়ারা বেগম জানান, চার বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। কিন্তু সব জমির ধান কাটলেও পাঁচ মন ধান পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না।
বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ধান ক্ষেতে প্রথমে কারেন্ট পোকা এরপর লেদা পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। এরপর ধান গাছ আপনাআপনি পুড়ে যাচ্ছে। এর কারণ কী তা বুঝতে পারছেন না।
তারা অভিযোগ করেন, কৃষি বিভাগের লোকজন সময় মতো ব্যবস্থাপত্র দিলে তারা হয়তো ধানক্ষেত রক্ষা করতে পারতেন।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক স ম আশরাফ আলী জানান, এপ্রিল মাসের শেষের দিকে টানা ৯ দিন বৃষ্টি হওয়ায় ধান গাছে দেওয়া কীটনাশক পানিতে ধুয়ে যাওয়ায় ক্ষেতগুলোতে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ধানক্ষেত রক্ষায় প্রয়োজনীয় কীটনাশকসহ পরামর্শদানের জন্য গ্রামে গ্রামে প্রচারপত্র বিলি ও মাইকিং করা হচ্ছে।
সোর্স- বাংলা ট্রিবিউন।
Showing posts with label রংপুরে মহামারি আকারে ধানে ব্লাস্ট. Show all posts
Showing posts with label রংপুরে মহামারি আকারে ধানে ব্লাস্ট. Show all posts
Sunday, May 7, 2017
Subscribe to:
Posts (Atom)