Showing posts with label কৃষি প্রতিষ্ঠান. Show all posts
Showing posts with label কৃষি প্রতিষ্ঠান. Show all posts

Friday, July 21, 2017

লোকসানে ধুঁকছে জয়পুরহাটের পোল্ট্রি শিল্প

  • Share The Gag
  • লোকসানে ধুঁকছে জয়পুরহাটের পোল্ট্রি শিল্প

    কখনও আশাতীত লাভ আবার কখনও পুঁজি হারানোর দশা। এভাবেই চলছে জয়পুরহাটের প্রায় ১০ হাজার মুরগির খামার।

    এ অস্থিতিশীলতার কারণে এ শিল্পে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানে থাকা অর্ধলক্ষাধিক মানুষের জীবিকায় রয়েছে অনিশ্চয়তা।

    এ শিল্পকে নানা সমস্যার কথা উল্লেখ করে এ থেকে উত্তরণের পথ খুঁজছেন এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

    জামালগঞ্জ সরকারি হাঁস-মুরগি খামারকে কেন্দ্র করে এ জেলায় পোল্ট্রি জোন গড়ে ওঠার পর দীর্ঘ সময়ের মধ্যে নানা প্রতিকূল অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়েছে এ শিল্পকে।

    জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় জানায়, সত্তর/আশির দশক থেকে জয়পুরহাটে পোল্ট্রি শিল্পের জয়যাত্রা শুরু হয়; আর এর বিপ্লব ঘটে নব্বইয়ের দশকে। বর্তমানে জেলায় আড়াই হাজার নিবন্ধিত খামারসহ ছোট-বড় প্রায় ১০ হাজার মুরগি খামার রয়েছে। আকার-আয়তন ভেদে এই খামারগুলোতে দুই হাজার থেকে শুরু করে ৮০ হাজার পর্যন্ত মুরগি রয়েছে। খামারগুলোতে বছরে সোনালী জাতের মুরগি ৪ ব্যাচ, ব্রয়লার-৬/৭ ব্যাচ এবং খাবার ও বাচ্চা ফোটানোর ডিমের জন্য হাইব্রিড লেয়ার জাতের মুরগি সারা বছর পালন করা হয়। এ জাতের মুরগি বছরে ৩০০টিরও বেশি ডিম দেয়। আবার ডিম দেওয়ার ক্ষমতা শেষ হলে সেগুলো মাংসের জন্য বিক্রি করা যায়।

    প্রাণিসম্পদ কার্যালয় আরও জানায়, জেলায় প্রতি মাসে খামারগুলো থেকে গড়ে এক কোটিরও বেশি ডিম ও ১০ হাজার মেট্রিক টন মাংস উৎপাদিত হয়। এতে জেলার ১০ লাখ মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণ করার পরও প্রতিদিন ট্রাক ও পিক-আপ মিলে ১৫/২০ গাড়ি মুরগি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

    পোল্ট্রি খামারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুরগির বাচ্চার চাহিদা পূরণ করতে জয়পুরহাটে বাচ্চা উৎপাদনের জন্য সরকারি একটি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৩৯টি হ্যাচারি স্থাপন করা হয়েছে। এসব হ্যাচারিতে প্রতি সে একদিন বয়সের প্রায় চল্লিশ লাখ মুরগির বাচ্চা উৎপাদন করা হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এসব হ্যাচারি থেকে এক দিনের তিন কোটি ২০ লাখ বাচ্চা উৎপাদন করা হয়েছে বলে প্রাণিসম্পদ কার্যালয় জানায়।

    জয়পুরহাট পূরবী এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লি.- এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুল হক, পল্লী ফিড ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী মঞ্জুর হোসেন জাহাঙ্গীরসহ মুরগি খাদ্য প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলায় বহু সংখ্যক পোল্ট্রি খামার গড়ে ওঠার কারণে এখানে বর্তমানে মুরগি খাদ্য কারখানা গড়ে উঠেছে ১১টি, যেখান থেকে প্রতি মাসে গড়ে ১৪ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য উৎপাদন করা হয়ে থাকে। উৎপাদিত এসব খাদ্য দিয়ে জেলার চাহিদা মিটিয়েও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করে প্রতিমাসে আসে প্রায় তিন কোটি টাকা।

    জয়পুরহাটের ভারপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রুস্তম আলী ও জামালগঞ্জ সরকারি পোল্ট্রি ফার্মের সহকারী পরিচালক হুমায়ন কবীর জানান, এখানে পোল্ট্রি শিল্প প্রসার লাভের কারণগুলোর মধ্যে জামালগঞ্জ সরকারি পোল্ট্রি খামার স্থাপিত হওয়ার পর থেকে জয়পুরহাট ও পার্শ্ববর্তী জেলা নিয়ে পোল্ট্রি জোন গড়ে ওঠা, শুরুর দিকে আশাতীত লাভের জন্য বেকার যুবকসহ ব্যাবসায়ীদের পোল্ট্রি ব্যবসার প্রতি আগ্রহ, ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং এলাকায় খড়া-বন্যা না থাকা উল্লেখযোগ্য।

    পদ্মা ফিড অ্যান্ড চিকস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ারুল হক আনু, শেফালী পোল্ট্রি ফার্ম প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম আলম, ক্ষেতলাল উপজেলার বটতলী বাজারের মোল্লা পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারির মালিক হাইকুল ইসলামসহ পোল্ট্রি শিল্পে সংশ্লিষ্টদের অনেকে জানান, সারা দেশে ব্যাপক পরিচিত সোনালী জাতের মুরগির জন্মস্থান জয়পুরহাটে, এর নামকরণ করেন জামালগঞ্জ সরকারি হাঁস মুরগি খামারের সাবেক সহকারী পরিচালক শাহ জামাল এবং এ জাতের মুরগির প্রথম উৎপাদনকারী পদ্মা ফিড অ্যান্ড চিকস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ারুল হক আনু।

    পদ্মা পোল্ট্রি ফিড অ্যান্ড চিকস প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক রাশেদুজ্জামান রাশেদ ও টিআরবি এগ্রো ইন্ডাস্ট্রির স্বত্বাধিকারী কবীর আকবর তাজ চৌধূরী বলেন, ২০০৬ থেকে ২০০৮ সালের দিকে বার্ড ফ্লুর সংক্রমণের পর নিবন্ধিত খামার মালিকরা সরকারি সহায়তা লাভ করলেও সাহায্য-সহযোগিতা না পাওয়ায় অনিবন্ধিত খামারীদের অনেকেই দেউলিয়া হয়েছেন।

    এছাড়া হরতাল-অবরোধসহ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সহস্রাধিক মুরগি খামারী, হ্যাচারি মালিক, খাদ্য কারখানা মালিকসহ পোর্ট্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মালিকরা প্রায় একশ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছেন বলে তাদের দাবি।

    এছাড়া কখনও আশাতীত লাভ আবার কখনও ব্যাপক লোকসানে পড়েছেন পোল্ট্রি শিল্পে জড়িতরা। নানা সমস্যার কারণে এই শিল্পে এমন অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে বলে তারা মনে করেন।

    পোল্ট্রি শিল্পে তারা আটটি সমস্যা চিহ্নিত করেছেন।

    এগুলো হলো:১.কাঁচামালের শতকরা ৮০ ভাগ আমদানি নির্ভর হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেমি হওয়ার কারণে আমাদের দেশে উৎপাদিত মুরগি রপ্তানি সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি আমাদের দেশের বড় বড় হোটেলগুলোও বিদেশে উৎপাদিত মুরগি আমদানি করছে। রপ্তানি না হওয়ার কারণে দেশের মধ্যেই মুরগি ও ডিমের বাজার সীমিত রয়েছে।

    ২.উন্নত দেশে একটি শেড থেকে অন্যটির দূরত্ব কমপক্ষে এক কিলোমিটার। আমাদের দেশে দূষিত পরিবেশে গাদাগাদি করে মুরগির শেড স্থাপন করা হয়ে থাকে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি খামারগুলোতে রোগ-বালাইয়ের প্রকোপ দেখা যায়।

    ৩.ভোক্তাদের চাহিদার সঙ্গে উৎপাদানের সামঞ্জস্য না থাকায় কোনো সময় ভালো লাভ হলেই এরপর থেকে পুরাতন খামারীদের বেশি করে মুরগি পালনের পাশাপাশি নতুন নতুন খামারীরাও ঝুঁকে পড়ে এই পেশায়। ফলে স্বাভাবিক কারণে বাজার দর নিম্নমুখী হয়।

    ৪.বর্তমানে দেশি-বিদেশি অগণিত কোম্পানি মুরগির খাদ্য, রোগ প্রতিরোধক ওষুধ ও ভিটামিন বাজারজাত করছে, যাদের মান নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ বা মনিটরিং ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। নিম্নমানের খাদ্য, ওষুধ ও ভিটামিন খাওয়ানোর ফলে রোগ-ব্যাধি মুক্ত না হয়ে বরং মৃত্যু হার বৃদ্ধি পায় বা নির্ধরিত সময়ের মধ্যে সঠিক ওজন প্রাপ্ত হয় না।

    ৫.খাদ্য, রোগ প্রতিরোধক ওষুধ ও ভিটামিনের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে দিন দিন খামারীদের লাভের অঙ্ক জটিল হয়ে পড়ছে। দুই বছর আগের মূল্যের চেয়ে বর্তমানে মুরগির খাদ্য, রোগ প্রতিরোধক ওষুধ ও ভিটামিনের মূল্য প্রায় দ্বিগুণ হলেও মুরগি ও ডিমের বাজার দরে ওঠানামা লেগেই আছে।

    ৬.প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশেষ করে অতিবৃষ্টিসহ বন্যায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হলে স্বাভাবিক কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে এখানকার মুরগি ও ডিম সরবরাহ বন্ধ ব্যাহত হয়। সম্প্রতি কয়েকটি জেলায় বন্যার ফলে পরিবহন ব্যাহত হওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাংসের মুরগি ও ডিম সরবরাহ কমে গেছে।

    ৭.মৌসুমি ফসল ও ক্রয় ক্ষমতার উপর মুরগি ও ডিমের বাজার ওঠানাম করে। বর্তমানে চালের বাজার মূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতাও হ্রাস পেয়েছে। ফলে স্থানীয় বাজারগুলোতে মাংসের মুরগি ও ডিমের বাড়তি চাপে ঘটেছে দরপতন।

    ৮.মধ্যস্বত্বভোগী ফরিয়া বা দালালদের দৌরাত্ব্যের কারণে পাইকারি ও খুচরা বাজার মূল্যের বিস্তর পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। স্বল্প পূঁজি বিনিয়োগ করে তাদের ভালো মুনাফা হলেও ব্যাংক থেকে চড়া সুদে বেশি পূঁজি বিনিয়োগ করেও লোকসান গুণতে হয় অনেক সময়।

    এসব তথ্য জানিয়ে তারা বলেন, একদিনের বাচ্চা খামারগুলোতে এনে মাংসের জন্য উৎপাদন করতে ৫৫ থেকে ৬০ দিনে সোনালী জাতের মুরগির ওজন আসে ৬/৭শ গ্রাম। মাংশের জন্য প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা খরচ হলেও খামারীরা ২/৪ টাকা কমবেশি পাচ্ছেন, সেখানে খুচরা বাজার মূল্য কেজি প্রতি ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। সোনালী জাতের মুরগি উৎপাদনে প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা খরচ হলেও খামারীরা লোকসান দিয়ে পাচ্ছেন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, আর খুচরা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়।

    জয়পুরহাট শহরের সাহেব বাজারের মফিজুল ইসলাম, কালাই পৌর শহরের তানভীর হোসেন, পাঁচবিবি পৌর শহরের আব্দুল হাকিমসহ খুচরা মুরগি ও ডিম ব্যবসায়ীরা জানান, তারা ফরিয়াদের কাছ থেকে মুরগি নিয়ে কেজি প্রতি ৪/৫ টাকা লাভে বিক্রি করেন।

    এদিকে, বর্তমানে মুরগির বাচ্চা, খাদ্য, ওষুধসহ বিভিন্ন উপকরণ বাকিতে বেচা-কেনা হওয়ার নানা কূফলও তুলে ধরেন সংশ্লিষ্টরা।

    তারা বলেন, শুধু একটি মুরগির শেড থাকলেই ওইসব খামারীকে বাকিতে সবকিছু সরবরাহ করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের পর মুরগি সুস্থ হওয়াসহ বাজার মূল্য স্বাভাবিক থাকলে মূল্য ফেরতের সম্ভাবনা থাকলেও নানা কারণে দরপতন ঘটলে হ্যাচারি মালিক, খাদ্য ব্যবসায়ীদের খাতায় বকেয়ার পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি দেনাদার খামারীদের তালিকাও দীর্ঘ হয়ে পড়ে। এসব কারণে গত পাঁচ বছরে ১১টি খাদ্য কারখানা, ৩৯টি হ্যাচারিসহ খাদ্য ও ওষুধ ব্যবসায়ীদের হিসাবের খাতায় একশ কোটি টাকারও বেশি বকেয়া রয়েছে বলেও জানান তারা।

    জামালগঞ্জ এলাকার আবু ছায়েম, ছানোয়ার হোসেনসহ মাঝারী ধরনের অনেক খামারী জানান, প্রতিমাসে তারা নিজস্ব শেডে প্রতিপালন করেন দুই থেকে চার হাজার মুরগি। গেল দুবছর আগেও মুরগি প্রতিপালন করে মাসে তাদের আয় হতো ১০/১৫ হাজার টাকা। কিন্তু গত ২ মাসে তাদের লোকসান হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা।

    জামালগঞ্জের পার্শ্ববর্তী পাহাড়পুরের সততা পোল্ট্রি ফার্মের খামারি মিল্টন হোসেন ১২ হাজার মুরগি দুই মাস প্রতিপালনের পর প্রায় তিন লাখ টাকা ও একই এলাকার আনোয়ার হোসেন মিথুনের চার হাজার মুরগিতে দেড় লাখ টাকা লোকসান হয়েছে বলে জানান।

    সদরের পুরানাপৈলের খামারি আবু সাঈদ, রবিউল ইসলাম বাবু বলেন, চাহিদা ও মূল্য না থাকার পাশাপাশি খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রলে তদারকি না থাকার কারণেও তাদের লোকসান হচ্ছে।

    দুই মাস খাদ্য খাওয়ানোর পর মুরগির ওজন ৭০০ থেকে ৭৫০ গ্রাম হওয়ার কথা থাকলেও মুরগির ওজন মিলছে ৬০০ থেকে ৬৫০ গ্রাম।

    ফলে গত মাসে দুই হাজার মুরগি বিক্রি করে আবু সাঈদের লোকসান হয়েছে ৭০ হাজার টাকা।

    শহরের দেবীপুর এলাকার নাসিমা পোল্ট্রি খামারের মালিক ফিরোজ হোসেন বলেন, আগে মুরগি কেনার জন্য খামারিদের কাছে ব্যবসায়ীরা ঘুরত। এখন বাকিতে মুরগি বিক্রি করার জন্যও ব্যবসায়ীদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

    আক্কেলপুর উপজেলার পূর্ব রুকিন্দিপুর গ্রামের খামারি শাহাদৎ হোসেন বলেন,তার খামারে সাড়ে পাঁচ হাজার সোনালী জাতের মুরগি রয়েছে। যেভাবে বাজার পড়ে গেছে তাতে এ অবস্থা থাকলে তাকে বিপুল অংকের টাকা লোকসান গুণতে হবে।

    জয়পুরহাট পদ্মা ফিডস অ্যান্ড চিকস্ লিমিটেডের পরিচালক রাশেদুজ্জামান, জয়পুরহাট বিসিক শিল্প নগরীর কিষাণ হ্যাচারির ব্যবস্থাপক তৌহিদুল ইসলামসহ হ্যাচারি ও পোল্ট্রি ব্যবসায়ীরা জানান, এখন বাচ্চা ফোটানোর জন্য প্রতিটি লেয়ার ডিমের উৎপাদন খরচ ৭/৮ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে পাঁচ টাকায়, প্রতিটি মুরগি বাচ্চার উৎপাদন খরচ ১৪/১৫ টাকা হলেও হ্যাচারি মালিকরা ৭/৮ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

    কারণ হিসেবে তারা বলেন, একদিনের মুরগির বাচ্চা উৎপাদন করেন তারা। এ বাচ্চাগুলো তো গুদামজাত করা যায় না। যেদিন উৎপাদন হয় সেদিনই পোল্ট্রি খামার মালিকদের কাছে বিক্রি করতে হয়। কিন্তু চাহিদা না থাকায় বিপুল সংখ্যক একদিনের উৎপাদিত বাচ্চা নিয়ে তাদের মতো মহাবিপাকে পড়েছেন অনেক হ্যাচারি মালিক। এতে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচও উঠছে না বলে জানান তারা।

    জয়পুরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ-সতাপতি ও কিষাণ পোল্ট্রি হ্যাচারি অ্যান্ড ফিড লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী জিয়াউল হক জিয়া বলেন, মুরগি খামার, হ্যাচারি ও ফিডমিলসহ এ শিল্পে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা।

    জয়পুরহাট বিসিক শিল্পনগরীর কিষাণ হ্যাচারির পরিচালক আখতারুজ্জামান বলেন, জেলায় ছোট বড় পোল্ট্রি খামার, হ্যাচারি, মুরগির খাদ্য কারখানা, ওষুধ-খাদ্য ও উপকরণ দোকানসহ জেলায় প্রায় ১২ হাজার পোল্ট্রি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা না থাকায় অস্থিরতার যাঁতাকলে পড়েছে দেশের সবচেয়ে বড় জয়পুরহাটের পোল্ট্রি শিল্প। এ অবস্থায় পোল্ট্রি শিল্পের অব্যাহত লোকসানের কারণে পুঁজি হারাতে বসেছেন জেলার হ্যাচারি মালিক ও পোল্ট্রি খামারীরা।

    পোর্ট্রি শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা বলেন, আর্থিক সম্ভাবনাময় এ শিল্প রক্ষা করতে এখানে মুরগির মাংস প্রসেসিং প্লান্টসহ হিমাগার প্রয়োজন। এ ছাড়া শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারি ভর্তুকিসহ রপ্তানির জন্য সরকারের পদক্ষেপ আশু প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

    জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুস সালম সোনার বলেন, কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও এসব খামারকে ঘিরে জয়পুরহাটসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে কর্মসংস্থান হয়েছে সরাসরি প্রায় পঞ্চাশ হাজার আর পরোক্ষভাবে লক্ষাধিক বেকার যুবক-যুবতীর। তাই জয়পুরহাটে পোর্ট্রি শিল্পের প্রসার লাভ করছে।

    দেশি মাছ

  • Share The Gag
  • দেশি মাছ



     

     

     

    বাংলাদেশের মাছের তালিকা












    তেলোটাকি, বাংলাদেশের একটি সংরক্ষিত মাছ



    বাংলাদেশের সীমানার ভেতরে চার শত প্রজাতির অধিক মাছ পাওয়া যায়। মাছের দিক দিয়ে বাংলাদেশ খুব সমৃদ্ধ। মাছ উৎপাদনেও বাংলাদেশ সামনের কাতারে অবস্থান করছে। মাছে ভাতে বাঙ্গালী তাই নদী মাতৃক বাংলাদেশের চিরাচরিত প্রবাদ। প্রায় চার শতের অধিক নদী, অসংখ্য খাল, বিল, হাওর, বাওর, ডোবা, নালার বাংলাদেশে পাওয়া যায় নানা রং ও স্বাদের মাছ। আকার আকৃতিতে ও এরা যেমন বিচিত্র, নামগুলোও তেমনি নান্দনিক। বৌরাণী, গুলশা, তপসে, চিতল, কাকিলা, কই, শিং, পাবদা আরও কত কি!

    বাংলাদেশে ২৬০ প্রজাতির স্বাদুপানির (মোহনাজলসহ) এবং ৪৭৫ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়াও ১২-এর অধিক প্রজাতির চাষকৃত বিদেশী মাছ চাষের জলাশয়ে এবং ৭০-এর অধিক জাতের বিদেশী বাহারী মাছ এ্যাকুয়ারিয়ামে পাওয়া যায়। আইইউসিএন (২০০৩) এর তথ্যানুসারে বাংলাদেশে স্বাদুপানির ৫৪ প্রজাতির মাছ হুমকির সম্মুখীন। এর মধ্যে ১২ প্রজাতির মাছ ভয়ঙ্কর বিপদাপন্ন এবং ২৮ প্রজাতির মাছ বিপদাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত।

    মৎস্য অধিদপ্তর (২০০৯) এর তথ্যানুসারে বাংলাদেশে জনপ্রতি বাৎসারিক মাছ গ্রহণের পরিমাণ ১৭.২৩ কেজি, মাছের বাৎসরিক চাহিদা ২৫.৯০ লক্ষ মেট্রিক টন, জনপ্রতি মাছের বাৎসরিক চাহিদা ১৮ কেজি, প্রলিজ আমিষ সরবরাহে অবদান ৫৮ শতাংশ। বাংলাদেশে মাছের মোট উৎপাদন ২৫ লক্ষ ৬৩ হাজার ২৯৬ মেট্রিক টন। যার মধ্যে অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয় (আহরিত) থেকে আসে ১০,৬০,১৮১ মেট্রিক টন, অভ্যন্তরীণ বদ্ধ জলাশয় (চাষকৃত) থেকে আসে ১০,০৫,৫৪২ মেট্রিক টন এবং সমুদ্র থেকে আসে ৪,৯৭,৫৭৩ মেট্রিক টন।





     

     

     

     

     

     




    বাংলাদেশের সংরক্ষিত মাছ



    বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের রক্ষিত বন্যপ্রাণীর তালিকার তফসিল ১ অনুযায়ী ২৫টি প্রজাতি এবং তফসিল ২ অনুযায়ী ২৭টি প্রজাতির, মোট ৫২ প্রজাতির মাছকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ আইন অনুসারে এই ৫২ প্রজাতির মাছ শিকার, বিক্রয় ও বিপণন বাংলাদেশের আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।

    বাংলাদেশের স্বাদুপানির মাছ



    বাংলাদেশে স্বাদু পানির মৎস্য প্রজাতিসমূহের বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা শুরু হয় ১৮২২ সালে। ২০০৫ সালে এ. কে. আতাউর রহমান বাংলাদেশের স্বাদুপানির মাছকে ৫৫টি পরিবারের অধীনে ১৫৪ গণের ২৬৫টি প্রজাতিকে তালিকাভুক্ত করেছিলেন যার ভেতরে কয়েক প্রজাতির সামুদ্রিক মাছও ছিলো। সর্বশেষ বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ-এর ২৩ নং খণ্ডে ১৭টি বর্গের অধীন ৬১টি পরিবারের ২৫১টি প্রজাতিকে স্বাদুপানির মাছ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।





     

     

     

     

     




    বাংলাদেশের মাছ
























































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































    বাংলা নামঅবস্থাসাধারণ ইংরেজি নামবৈজ্ঞানিক নামছবি
    আইড়/আরটামিম/আড়স্থানীয়Long-whiskered catfishSperata aorSperata aor known as Aar Fish in Bengali.jpg
    Alongএলংস্থানীয়Bengal BarbMegarasbora elanga
    Angrot/Kharsaএংরটস্থানীয়AngrotLabeo angra
    জেব্রা আঞ্জুস্থানীয়ZebrafishDanio rerioZebrafisch.jpg
    NOORআরওয়ারিস্থানীয়Menoda catfishHemibagrus menoda
    NRMOবাগাইর/বাঘাইরস্থানীয়Dwarf goonchBagarius bagariusBagarius yarrelli.jpg
    Bai-laবাইলাস্থানীয়Awaous guamensis
    Baimবাইমস্থানীয়Zig-zag eel/Tire track eelMastacembelus armatus
    Boitkaবইটকাস্থানীয়Labeo pangusia
    Bhetkiভেটকীস্থানীয়BarramundiLates calcarifer
    Balichuraবালিচুরাস্থানীয়Balitora minnowPsilorhynchus balitora
    BalichuraবালিচুরাendemicRainbow minnowPsilorhynchus gracilis
    Bamushবামুশস্থানীয়Bengal eelOphisternon bengalense
    Bane-haraবানেহারাস্থানীয়Indian mottled eelAnguilla bengalensis bengalensisAnguilla bengalensis bengalensis.jpg
    বাঁশপাতা/দেবারিস্থানীয়Sind danioDevario devario
    Bansh-pata/Batiবাঁশপাতা/বাটাস্থানীয়Broad-mouthed mullet/Large-scaled mulletParamugil parmatus
    Baraliবারালি / বোরালিস্থানীয়Barred barilBarilius barilaBarilius barila Fish Borali in Bengali.jpg
    Baril/Joiyaবারিল/জইয়াস্থানীয়Hamilton's barilaBarilius bendelisis
    Bata/Bangnaবাটা/বাংনাস্থানীয়RebaLabeo ariza
    Bataবাটাস্থানীয়B a t aLabeo bata
    Batasiবাতাসিস্থানীয়Indian potasiNeotropius atherinoides
    Bechiবেচিস্থানীয়Whitespot/Blue panchaxAplocheilus panchax
    Beleবেলেস্থানীয়Scribbled gobyAwaous grammepomus
    Bhadi putiভাদি পুঁটিস্থানীয়Pool barbPuntius sophore
    Bhanganভাঙন/ভাঙ্গনস্থানীয়Boga labeoLabeo boga
    Bholভোলস্থানীয়Trout barbRaiamas bola
    Kuli/Bhut beleকুলি/ভূত বেলেস্থানীয়Dusky sleeperEleotris fusca
    Bilchuriবিলচুরিস্থানীয়Mottled loachAcanthocobitis botia
    Boalবোয়ালস্থানীয়WallagoWallago attuWallago attu 1.jpg
    Borguniবোরগুনিস্থানীয়Jarbua teraponTerapon jarbua
    Bou/Raniবৌমাছ/রানিস্থানীয়Bengal loachBotia dario
    Bou machবৌমাছ/রানিquestionableHora loachBotia dayi
    Murariমুরারিস্থানীয়CarpletAspidoparia morar
    Magor/Shingমাগুর/শিঙি মাছস্থানীয়Indian torrent catfishAmblyceps mangois
    Gong Tengraগং টেংরাস্থানীয়Gagata gagata
    Magor/Shingমাগুর/শিঙি মাছস্থানীয়Gagata youssoufi
    Chondon Ilishচন্দনা/চন্দন ইলিশস্থানীয়Toli shadTenualosa toli
    Chapilaচাপিলাস্থানীয়Ganges River Gizzard ShadGonialosa manmina
    Chapilaচাপিলাস্থানীয়Indian River ShadGudusia chapra
    Chebliচেবলিস্থানীয়Giant DanioDevario aequipinnatus
    Chekaচেকাস্থানীয়Squarehead CatfishChaca chaca
    ChelaচেলাquestionableSilver razorbelly minnowSalmostoma acinaces
    Chep chela/Laubuchaচেপ চেলা/লাউবুচাস্থানীয়Indian Glass BarbChela laubuca
    Chewaচেওয়াস্থানীয়Pseudapocryptes elongatus
    Chitolচিতল/ চেতলস্থানীয়Clown KnifefishChitala chitalaChitala chitala Thomas.jpg
    Foli/Chitolফলিস্থানীয়Bronze featherbackNotopterus notopterus
    Chunaচুনোস্থানীয়Honey gouramiTrichogaster chunaColisasota male.jpg
    Chunobeleচুনোবেলেস্থানীয়Gobiopterus chuno
    Common carpকমন কার্পintroducedCommon carpCyprinus carpio carpioCommon carp.jpg
    Dahukডাহুকস্থানীয়Boddart's goggle-eyed gobyBoleophthalmus boddarti
    Dahukডাহুকস্থানীয়Walking gobyScartelaos histophorus
    Dari (fish)ডারিস্থানীয়Schistura scaturigina
    Darkinaদারকিনাস্থানীয়Flying barbEsomus danricus
    Darkinaদারকিনাস্থানীয়Slender rasboraRasbora daniconiusRasboraDanicorniusBeavan.png
    Darkinaদারকিনাস্থানীয়Gangetic scissortail rasboraRasbora rasbora
    Dhal magorঢাল মাগুরস্থানীয়Glyptothorax telchitta
    Ek thoutaএক থৌতাquestionableWrestling halfbeakDermogenys pusilla
    Gechuaগেছুয়াস্থানীয়Channa gachuaChanna gachua after munro 1955.jpg
    Gechuaগেছুয়াস্থানীয়Walking snakeheadChanna orientalis
    Gaglaগাগলাস্থানীয়Gagora catfishArius gagora
    Gong magorগং মাগুরস্থানীয়Gray eel-catfishPlotosus canius
    Gong tengraগাঙ টেংরাস্থানীয়Gagata cenia
    Gong tengraগাঙ টেংরাস্থানীয়Gogangra viridescens
    Gong tengraগাঙ টেংরাস্থানীয়Nangra nangra
    Kabashi Tengraগুলসা/গুলসা-টেংরা/কাবাশি টেংরাস্থানীয়Gangetic mystusMystus cavasius
    Ghor poi-yaঘর পোয়াস্থানীয়Sucker headGarra gotyla gotyla
    Ghoniaঘনিয়াস্থানীয়Boggut labeoLabeo boggut
    Ghor poaঘর পোয়াintroducedGarra annandalei
    Ghora chelaঘোড়া চেলাস্থানীয়Securicula gora
    Ghora machঘোড়া মাছস্থানীয়Labeo dyocheilus
    Gilipuntiগিলি পুঁটিস্থানীয়Golden barbPuntius gelius
    Gobi (fish)বেলেস্থানীয়Apocryptes bato
    Goti poaগোটি পোয়াস্থানীয়Largescale archerfishToxotes chatareus
    Gozarগজারস্থানীয়Great snakeheadChanna maruliusGozar.jpg
    Grass carpগ্রাস কার্পintroducedGrass carpCtenopharyngodon idellaGrass-Carp1web.jpg
    Gura tengraগুরা টেঙ্গরাস্থানীয়Chandramara chandramara
    Gutumগুতুমস্থানীয়Annandale loachLepidocephalichthys annandalei
    Gutumগুতুমস্থানীয়Guntea loachLepidocephalichthys gunteaLepidocephalichthysGuntea.png
    Hatchetfishস্থানীয়Chela cachius
    IlishElish ইলিশস্থানীয়Hilsa shadTenualosa ilishaIlish.JPG
    Jayaজয়াস্থানীয়JayaAspidoparia jaya
    Kechhkiকাচকিস্থানীয়Ganges river spratCorica soborna
    Kechhkiকাচকিস্থানীয়Yellowtail mulletSicamugil cascasia
    Kajuliকাজুলিস্থানীয়Gangetic ailiaAilia coila
    Kajuliকাজুলিস্থানীয়Jamuna ailiaAiliichthys punctata
    Kakilaকাকিলাস্থানীয়Freshwater garfishXenentodon cancilaXenentodon cancila.jpg
    Kalibausকালিবাউস/ কালবোশস্থানীয়Orange-fin labeoLabeo calbasuLabeoCalbasuDay.jpg
    Kachon puntiকাচোন পুঁটিস্থানীয়Rosy barbPuntius conchoniusRosy barb.jpg
    Kani pabdaকানি পাবদাস্থানীয়Butter catfishOmpok bimaculatusOmpok bimaculatus Day.jpg
    Kani tengraকানি টেংরাস্থানীয়Glyptothorax cavia
    Kani tengraকানি টেংরাস্থানীয়Painted catfishPseudolaguvia ribeiroi
    Kani tengraকানি টেংরাস্থানীয়Pseudolaguvia shawi
    Karati hangarকরাতি হাঙরস্থানীয়Knifetooth sawfishAnoxypristis cuspidata
    Kathal pataকাঁঠাল পাতাস্থানীয়Pan soleBrachirus pan
    Katolকাতলাস্থানীয়CatlaCatla catlaCatla catla.JPG
    Keti (fish)কেটিস্থানীয়Osteobrama cotio cotio
    Khailshaখৌলশা/ খলশেস্থানীয়Banded gouramiColisa fasciata
    Goroy গরইস্থানীয়Banded gouramiColisa fasciata
    Khaksaখাকসাস্থানীয়Barilius barna
    Kharuখারুস্থানীয়Rice-paddy eelPisodonophis boro
    Khorsulaখোরসুলাস্থানীয়CorsulaRhinomugil corsula
    Climbing Perchকৈস্থানীয়Climbing perchAnabas testudineusAnabas testudineus.png
    Koirkaকৈরকাস্থানীয়Schistura corica
    Koitorকোইটুরস্থানীয়Coitor croakerJohnius coitor
    Koksaককসাস্থানীয়Barilius shacra
    Kosuatiকোসুয়াটিস্থানীয়Oreichthys cosuatis
    Kuchiaকুঁচে, কুচিয়া, কুইচ্চাস্থানীয়Swamp eelMonopterus cuchia
    Kuli (fish)কুলিস্থানীয়Duckbill sleeperButis butis
    Kumirer khilকুমিরের খিলস্থানীয়Deocata pipefishMicrophis deocata
    Kursha (fish)কুরসাস্থানীয়KalabansSinilabeo dero
    Kuta kantiকুটি কানটিস্থানীয়Conta catfishErethistes pusillus
    Kutakantiকুটি কানটিস্থানীয়
    Lal kholishaলাল খোলিশা/ খলশেস্থানীয়Dwarf gouramiColisa lalia
    Lomba chandaলম্বা চাঁদাস্থানীয়Elongate glass-perchletChanda nama
    Modhu pabdaমধু পাবদাস্থানীয়Pabdah catfishOmpok pabda
    MagurমাগুরintroducedAfrican catfish / North African catfishClarias gariepinusClarias batrachus.jpg
    Minor carpস্থানীয়Crossocheilus latius
    Mola puntiমলা পুঁটিস্থানীয়Glass-barbPuntius guganio
    Molaমলাস্থানীয়Mola CarpletAmblypharyngodon microlepis
    Mrigolমৃগেলস্থানীয়MrigalCirrhinus cirrhosus
    Muri bachaমুরি বাচাস্থানীয়Eutropiichthys murius
    Muribachaমুরিবাচাস্থানীয়Garua BachchaClupisoma garua
    Nandilনানডিলস্থানীয়Labeo nandina
    Napte koiনাপতে কইস্থানীয়BadisBadis badis
    Neftaniনেফটেনিস্থানীয়Frail gouramiCtenops nobilis
    NiloticaনিলোটিকাintroducedNile tilapiaOreochromis niloticus niloticus
    Nur Purনদয়স্থানীয়Gangetic leaffishNandus nandus
    Nuna baillaনুনা বেলেস্থানীয়Brachygobius nunus
    Nuna-tengraনুনা টেংরাস্থানীয়Long whiskers catfishMystus gulio
    Olive danioস্থানীয়Danio dangila
    Pabda catfishপাবদাস্থানীয়Pabo catfishOmpok pabo
    Pangaপাঙ্গাস্থানীয়Java loachPangio oblonga
    Pangasপাঙ্গাস / পাঙাশস্থানীয়Yellowtail catfishPangasius pangasiusPla sawai89.jpg
    Pankal baimপনকাল বাইম / পাঁকাল বামস্থানীয়Barred spiny eelMacrognathus pancalus
    Pathar chataপাথর চাটাস্থানীয়Barilius tileo
    Phasa (fish)ফাশা/ ফ্যাঁসাquestionableGangetic hairfin anchovySetipinna phasa
    Phopa chandaফোপা চান্দা/ ফোঁপা চাঁদাস্থানীয়Himalayan glassy perchletPseudambassis baculis
    Phutani puntiফুটনি পুঁটিস্থানীয়Spottedsail barbPuntius phutunio
    Poa (fish)পোয়াস্থানীয়Pama croakerOtolithoides pama
    Potkaপটকাস্থানীয়Green pufferfishTetraodon fluviatilis
    Pug-headed mud skipperবেলেস্থানীয়Giant mudskipperPeriophthalmodon schlosseri
    Puiyaপুয়াস্থানীয়Burmese loachLepidocephalichthys berdmorei
    Punti (fish)পুঁটিস্থানীয়Swamp barbPuntius chola
    Punti (fish)পুঁটিস্থানীয়Puntio barbPuntius puntio
    Putitor mohashoulমহাশোলস্থানীয়Golden mahseerTor putitoraMahasher.JPG
    Mohashoulমহাশোলস্থানীয়Tor Tor
    Rajputiরাজ পুঁটিintroducedJava barbBarbonymus gonionotus
    Ranga chandaরাঙ্গা চান্দা / রাঙা চাঁদাস্থানীয়Indian glassy fishParambassis ranga
    Rata bouraরাটা বউরাস্থানীয়Purple spaghetti-eelMoringua raitaborua
    Rita (fish)রিটাস্থানীয়RitaRita rita
    River catfishস্থানীয়Eutropiichthys vacha
    Rotten filthy fish sticksস্থানীয়Eutropiichthys vacha
    Ruiরুইস্থানীয়RuhiLabeo rohitaLabeo rohita.JPG
    Sapla pataশাপলা পাটাস্থানীয়Pale-edged stingrayDasyatis zugei
    Savon khorkaশভন খোরকাস্থানীয়Schistura savona
    Shada ghoniaসাদা ঘনিয়াস্থানীয়Kuria labeoLabeo gonius
    Shankhachiiশানকাচিস্থানীয়Banded eagle rayAetomylaeus nichofii
    Shillong (fish)শিলঙ্গস্থানীয়Silond catfishSilonia silondia
    Shingiশিঙ্গঘি / শিঙিস্থানীয়Stinging catfishHeteropneustes fossilis
    Shoulশৌল / শোলস্থানীয়Snakehead murrelChanna striata
    Shorpuntiসরপুঁটিস্থানীয়Olive barbPuntius saranaPuntius sarana.jpg
    Silver carpসিলভার কার্পintroducedSilver carpHypophthalmichthys molitrixHypophthalmichthys molitrix adult.jpg
    Snake eelকুইচাস্থানীয়Longfin snake-eelPisodonophis cancrivorus
    Striped dwarf catfishস্থানীয়Mystus tengara
    SongkorSea
    SuncushশুনকুশquestionableDwarf whiprayHimantura walga
    Taki (fish)টাকিস্থানীয়Spotted snakeheadChanna punctata
    Tapseতপসে/ তপস্বীস্থানীয়Mango Fish / CichlidSarotherodon melanotheron heudelotii
    Tara baimতারা বাইমস্থানীয়Lesser spiny eelMacrognathus aculeatus
    Tengraটেংরাস্থানীয়Batasio batasio, Mystus tengara
    Tepaট্যাঁপাস্থানীয়Ocellated pufferfishTetraodon cutcutia
    Teri puntiটেরা পুঁনটিস্থানীয়Onespot barbPuntius terio
    Tiasholটিয়াশোলস্থানীয়Barca snakeheadChanna barca
    Tilapiaতেলাপিয়াintroducedMozambique tilapiaOreochromis mossambicusFresh tilapia.jpg
    Tit puntiস্থানীয়Ticto barbPuntius ticto
    Titariটাটারিস্থানীয়River stone carpPsilorhynchus sucatio
    Topse Machস্থানীয়Topse mach
    Tor mahseerমহাশিরস্থানীয়Tor mahseerTor tor
    Utiiউটিস্থানীয়ChaguniChagunius chagunio


    হারিয়ে যাচ্ছে দেশি প্রজাতির মাছ

    .


    দেশি প্রজাতির বিভিন্ন মাছ (ছবি- সংগৃহীত)

    জলবায়ুর পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অসচেতনতা, অবাধে লবণ পানি তুলে বাগদা চিংড়ি চাষ, ফসলের ক্ষেতে কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের যথেচ্ছ ব্যবহার এবং মিঠাপানির অভাবে মৎস্য খনি হিসেবে পরিচিত দক্ষিণাঞ্চলে দেশি প্রজাতির মাছ হারিয়ে যেতে বসেছে। মিঠাপানির সুস্বাদু মাছ এখন আর তেমন মিলছে না। দেশি মাছের বদলে এখন বাজারে জায়গা দখল করেছে চাষ করা পাঙ্গাস, তেলাপিয়া, ক্রস ও কার্প জাতীয় মাছ।


    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষি ও চাষাবাদ ব্যবস্থা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে উজাড় হয়ে যাচ্ছে দেশি প্রজাতির কৈ, মাগুর, শিং, পাবদা, টেংরা, পুঁটি, ডারকা, মলা, ঢেলা, চেলা, শাল চোপরা, শৌল, বোয়াল, আইড়, ভ্যাদা, বুড়াল, বাইম, খলিসা, ফলি, চিংড়ি, মালান্দা, খরকাটি, গজার, শবেদা, চেং, টাকি, চিতল, গতা, পোয়া, বালিয়া, উপর চকুয়া, কাকিলাসহ প্রায় আড়াইশ প্রজাতির মিঠা পানির মাছ। গ্রামে একসময় পৌষ-মাঘ মাসে পুকুর, খাল, ডোবা, ঘেরের পানি কমতে থাকলে দেশি মাছ ধরার ধুম পড়তো। অথচ এখন অনেক গ্রামেই দেশি প্রজাতির মাছ নেই বললেই চলে। শীতকালের বাইরে বর্ষাকালে ধানের জমিতে কইয়া জাল, বড়শি ও চাই পেতে মাছ ধরার রীতিও হারিয়ে গেছে অনেক এলাকা থেকে। যারা একসময় পুকুর, খাল-বিল, ডোবা, নালায় মাছ ধরে পরিবারের চাহিদা পূরণ করতেন, তাদের অনেকেই এখন বাজার থেকে মাছ কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছেন।


    মৎস্য অধিদফতর সূত্রও বলছে, দুই দশক আগে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে প্রায় আড়াইশ প্রজাতির মিঠাপানির মাছ পাওয়া যেত। এখন এগুলো বিলুপ্তির পথে।


    রাজধানীর শান্তিনগর বাজারের মাছ ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘১৫-১৬ বছর আগেও মাছ কিনে খাওয়ার তেমন রেওয়াজ ছিল না আমার এলাকায়। কেনার মধ্যে শুধু ইলিশ মাছ কেনার কথাই মনে পড়ে। মাছের প্রয়োজন হলে সবাই বাড়ির সামনে খালে বা নদীতে চলে যেত। খালে, পুকুরে তখন এত মাছ ছিল যে, কেউ খালি হাতে নেমেও হাতিয়ে মাছ ধরতে পারতো।’


    এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৎস্য খামারি সালাউদ্দিন মুফতি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘বাড়িতে দু’টি পুকুর আছে। জন্মের পর থেকেই এই পুকুর দু’টি দেখছি। ২০ বছর আগেও পুকুর থেকে সারাবছর বাড়ির সবাই মাছ ধরত। শীতের মৌসুমে পুকুর ‘আউড়ান’ (অনেক মানুষ একসঙ্গে পুকুরে নেমে পানি ঘোলা করা, যেন ঘোলা পানি খেয়ে মাছ দুর্বল হয়ে ওপরে ভেসে উঠে এবং সহজে সেগুলো ধরা যায়) হতো। এরপর জাল, ডালা, খুচন নিয়ে মাছ ধরতে নেমে যেত ছোট-বড় সবাই। কেউ কেউ হাতিয়ে মাছ ধরত। শোল, গজার, টাকি, চিংড়ি, শিং, কই, টেংরা, পাবদা, ফলিসহ বিভিন্ন জাতের মাছ ধরা পড়ত। তবে এখন ওই দুই পুকুরে চেলা, পুঁটি, বেলে ছাড়া কোনও মাছ নেই।’


    পিরোজপুরের নাজিরপুরের কলার দোয়ানিয়া গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আসলাম মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘স্থানীয় কলার দোয়ানিয়া বাজারেও হাটের দিন দেশি প্রজাতির অনেক মাছ উঠত। এখন আর সেসব মাছ ওঠে না। বাজার ভরা থাকে চাষের পাঙ্গাস আর তেলাপিয়ায়। মাঝে-মধ্যে সিজনে জাটকাও ওঠে।’ দেশি মাছ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি ইরি ধান ও অন্যান্য সবজিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারকে দায়ী করেন।


    সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে যোগাযোগ করে জানা গেছে, দেশি প্রজাতির মাছ হারিয়ে যাচ্ছে ১৪টি কারণে। এই কারণগুলো হলো- জলবায়ুর প্রভাব, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, কারেন্ট জালের অবৈধ ব্যবহার, ফসলি জমিতে অপরিকল্পিত কীটনাশক ব্যবহার, জলাশয় দূষণ, নদ-নদীর নব্যতা হ্রাস, উজানে বাঁধ নির্মাণ, নদী সংশ্লিষ্ট খাল-বিলের গভীরতা কমে যাওয়া, ডোবা ও জলাশয় ভরাট করা, মা মাছের আবাসস্থলের অভাব, ডিম ছাড়ার আগেই মা মাছ ধরে ফেলা, ডোবা-নালা পুকুর ছেঁকে মাছ ধরা, বিদেশি রাক্ষুসে মাছের চাষ করা ও মাছের প্রজননে ব্যাঘাত ঘটানো।


    চলতি বছরের মার্চ মাসে নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হাওর এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে উঠেছিল। সংশ্লিষ্ট জেলার মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, ধান পঁচে হাওরের পানিতে অ্যামোনিয়া গ্যাস তৈরি হয়ে অক্সিজেন কমে যাওয়ার কারণেই মাছ মরে গেছে। তবে হাওর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উদ্ভিদ পঁচে অ্যামোনিয়া তৈরি হয় না। অন্য কোনও কারণ আছে। সেগুলোকে খুঁজে বের করতে খুব দ্রুত বৈজ্ঞানিক গবেষণা করতে হবে বলা হলেও তা এখনও করা হয়নি। গবেষণার পরিকল্পনাও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নেই।


    এ প্রসঙ্গে মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক সৈয়দ আরিফ আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। কেন্দ্রীয়ভাবে আমরা বিষয়টি গভীরভাবে মনিটর করছি। বিভিন্ন কারণেই দেশি প্রজাতির মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। যে মাছগুলো হারিয়ে যাচ্ছে বলে বলা হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে অনেক প্রজাতির মাছ রক্ষা করতে গবেষণা চলছে। পাবদা, টেংরা, বোয়াল, আইড় মাছের চাষ হচ্ছে। পাঙ্গাসের চাষ হচ্ছে আগে থেকেই। কৈ মাছেরও চাষ হচ্ছে। আরও গবেষণা হবে। দেশি প্রজাতির মাছ রক্ষায় মৎস্য অধিদফতর প্রতিবছরই মৎস্য মেলার আয়োজন করে। একই কর্মসূচি জেলা, উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’


    মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, কয়েক দশক আগেও এ অঞ্চলে আড়াইশ প্রজাতির মিঠাপানির মাছ ছিল। মনুষ্যসৃষ্ট বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতায় এসব মাছের অনেক প্রজাতি এখন আর চোখে পড়ে না। বর্ষা মৌসুমে নদী, খাল, বিল থেকে কারেন্ট জাল দিয়ে ব্যাপক হারে ডিমওয়ালা মাছ ধরার কারণে দেশি মিঠা পানির মাছের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাচ্ছে।


    পিরোজপুরের কয়েকজন প্রবীণ জানান, একসময় এলাকার বলেশ্বর, সন্ধ্যা ও পায়রা নদীতে ২ কেজি ওজনের ইলিশ পাওয়া যেত। পাওয়া যেত ৫ থেকে ৬ কেজি ওজনের বোয়াল ও আইড় মাছ। এমন কোনও মাছ ছিল না যা এ অঞ্চলের বিলে পাওয়া যেত না। এলাকার নলামারা বিলে তারা জাল দিয়ে ১২ কেজি ওজনের কালবাউশ মাছ ধরেছেন। বেলে, ডগরা, কাজলি, ভাঙ্গান, ভোলা প্রভৃতি মাছ তারা খাওয়ার অযোগ্য মনে করে ধরার পর ফেলে দিতেন। এখন আর সেদিন নেই বলে জানান তারা।


    দেশি প্রজাতির মাছের হারিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য অনুষদের অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিভিন্ন কারণেই দেশি প্রজাতির মাছ হারিয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রকৃতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে মানুষের সচেতনতার অভাবও রয়েছে। হারিয়ে যাওয়া দেশি মাছ রক্ষায় এখন ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে; যেভাবে এখন পাবদা, টেংরা, বোয়াল, আইড়, পাঙ্গাস ও কৈ মাছের চাষ হচ্ছে।’


    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বর্তমান সরকারের যথাযথ উদ্যোগে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬৮ হাজার ৩০৫ মেট্রিক টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রফতানির মাধ্যমে ৪ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা আয় হয়েছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে দেশে মাছের উৎপাদন ছিল ২৭ লাখ ৪১ হাজার মেট্রিক টন। মৎস্যবান্ধব সরকারের উন্নয়নমুখী উদ্যোগ ও সেবার কারণেই মৎস্য উৎপাদনের পরিমাণ ব্যাপক হারে বেড়েছে।’




    Monday, July 17, 2017

    কুমিরের প্রাকৃতিক প্রজনন ও সংরক্ষণ এবং কুমিরের খামার

  • Share The Gag
  • কুমিরের প্রাকৃতিক প্রজনন ও সংরক্ষণ



    কুমির সরীসৃপজাতীয় প্রাণী। ইউরোপ ছাড়া পৃথিবীর সব মহাদেশেই প্রায় ১৭.৫ কোটি বছর পূর্বে ডাইনোসরের সমকালীন কুমিরের উদ্ভব ঘটলেও ডাইনোসরের বিলুপ্তির পর অদ্যবিধি এরা প্রথিবীর বিভিন্ন ভৌগলিক পরিবেশে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে আসছে। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩০টির মতো কুমিরের খামার আছে। খামার গুলো মেক্সিকো উপসাগরের পাড়ে লুসিয়ানা ও ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত। একবিংশ শতাব্দীর প্রথমদিকে যুক্তরাষ্টের দক্ষিণাঞ্চলে বিপুল হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকলে কুমিরের সংখ্যা হ্রাস পেতে থাকে এবং ১৯৭৩ সালে কুমিরকে বিপদাপন্ন প্রজাতির তালিকাভুক্ত করা হয়। অতঃপর ১৯৭৮ সাল থেকে ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের ফলে কুমিরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং বর্তমানে এটি আর বিপদাপন্ন প্রজাতি নয়। উল্লেখ্য, কুমিরের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমে যাওয়ার কারণে ১৯৬০ সাল থেকেই এ সংরক্ষণের দিকে বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হতে থাকে।

    কুমিরের প্রজাতিসমূহ

    বর্তমানে সারা পৃথিবীতে কুমিরের  ৩ টি গোত্রে  ২৫ টি প্রজাতি রয়েছে। বাংলাদেশের সুন্দরবন এলাকায় এক ধরনের কুমিরের প্রাচুর্য্য রয়েছে যার বৈজ্ঞানিক নাম  Crocodyuls porosus  Schneider । আঞ্চলিক ভাষায় একে লুনা পানির কুমির বলা হয়। এ জাতীয় কুমিরের দেহে প্রায় ১৫ ফুট লম্বা হয়। তাছাড়া পদ্মা এবং যমুনা নদীর তিস্তা-নগরবাড়ি ও সারধা-গোদাগারি অঞ্চলে এক ধরনের কুমির পাওয়া যায় যার বৈজ্ঞানিক নাম  Gavialis gangeticus  Gmelin । আঞ্চলিক ভাষায় একে ঘড়িয়াল/বাইশাল/ঘোট কুমির বলা হয়।  IUCN  এর রেড এ দু-প্রজাতির কুমিরকে মারাত্মকভাবে বিপন্ন প্রজাতি হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।





    কুমিরের প্রাকৃতিক প্রজনন ও সংরক্ষণ




    কুমিরের প্রাকৃতিক প্রজনন ও সংরক্ষণ

     

    পটভূমি

    কুমির সরীসৃপজাতীয় প্রাণী। ইউরোপ ছাড়া পৃথিবীর সব মহাদেশেই প্রায় ১৭.৫ কোটি বছর পূর্বে ডাইনোসরের সমকালীন কুমিরের উদ্ভব ঘটলেও ডাইনোসরের বিলুপ্তির পর অদ্যবিধি এরা প্রথিবীর বিভিন্ন ভৌগলিক পরিবেশে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে আসছে। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩০টির মতো কুমিরের খামার আছে। খামার গুলো মেক্সিকো উপসাগরের পাড়ে লুসিয়ানা ও ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত। একবিংশ শতাব্দীর প্রথমদিকে যুক্তরাষ্টের দক্ষিণাঞ্চলে বিপুল হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকলে কুমিরের সংখ্যা হ্রাস পেতে থাকে এবং ১৯৭৩ সালে কুমিরকে বিপদাপন্ন প্রজাতির তালিকাভুক্ত করা হয়। অতঃপর ১৯৭৮ সাল থেকে ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের ফলে কুমিরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং বর্তমানে এটি আর বিপদাপন্ন প্রজাতি নয়। উল্লেখ্য, কুমিরের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমে যাওয়ার কারণে ১৯৬০ সাল থেকেই এ সংরক্ষণের দিকে বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হতে থাকে।

    কুমিরের প্রজাতিসমূহ

    বর্তমানে সারা পৃথিবীতে কুমিরের  ৩ টি গোত্রে  ২৫ টি প্রজাতি রয়েছে। বাংলাদেশের সুন্দরবন এলাকায় এক ধরনের কুমিরের প্রাচুর্য্য রয়েছে যার বৈজ্ঞানিক নাম  Crocodyuls porosus  Schneider । আঞ্চলিক ভাষায় একে লুনা পানির কুমির বলা হয়। এ জাতীয় কুমিরের দেহে প্রায় ১৫ ফুট লম্বা হয়। তাছাড়া পদ্মা এবং যমুনা নদীর তিস্তা-নগরবাড়ি ও সারধা-গোদাগারি অঞ্চলে এক ধরনের কুমির পাওয়া যায় যার বৈজ্ঞানিক নাম  Gavialis gangeticus  Gmelin । আঞ্চলিক ভাষায় একে ঘড়িয়াল/বাইশাল/ঘোট কুমির বলা হয়।  IUCN  এর রেড এ দু-প্রজাতির কুমিরকে মারাত্মকভাবে বিপন্ন প্রজাতি হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

     

     

    lona%20panir%20crocodile

    লুনা পানির কুমির

    gatial-goat%20crocodile

    ঘড়িয়াল/ঘোট কুমির

     

    প্রাকৃতিক প্রজনন  

    কার্তিক থেকে পৌষ মাসে কুমির ডাঙ্গায় এসে ৩০-৩৫ টি ডিম ছাড়ে। ডিম ছাড়ার জন্য স্ত্রী কুমির বালিতে ৪৫-৬০ সে.মি.গভীর গর্ত করে বাসা বাঁধে এবং এরা গর্তের ভিতর ডিম ছেড়ে বালি দিয়ে ডেকে রাখে। কুমির দুটি সারি করে ডিম দেয় এবং বালি দ্বারা প্রতিটি সারি আলাদা রাখে । স্ত্রী কুমির নিকটবর্তী জায়গা থেকে বাসা পাহারা দেয়। ডিম ছাড়ার ১১-১৪ সপ্তাহের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বেরিয়েই কিচ-কিচ শব্দ করতে শুরু করে। শব্দ শুনে স্ত্রী কুমির বাসার কাছে এসে বাসা ভেঙে বাচ্চাদের বের করে আনে এবং সঙ্গে করে পানিতে নিয়ে যায়। কখনও কখনও স্ত্রী কুমির মুখে ধরে বাচ্চাদের বাসা হতে পানিতে নিয়ে যায়। নবজাত কুমিরের প্রথম ৫/৬ বছর অত্যন্ত দ্রুত দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে এবং ক্রমান্বয়ে এই বৃদ্ধির হার তা  হ্রাস পেতে থাকে।

    নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে প্রজনন

    কুমিরের বয়স প্রায় ৬ বছর হলে পরিণিত বয়সে উপনীত হয়। পরিণত বয়সের কুমিরগুলোকে পাকা চৌবাচ্চা বা পুকুরে রাখা হয়। এ সময় এদেরকে মাছের পরিবর্তে ভিটামিনযুক্ত জীবজন্তু ও মাংস খাওয়ানো হয়। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে যে, শুধু মাছ খাদ্য হিসাবে প্রয়োগ করলে কুমিরের প্রজনন সফলতা অপেক্ষাকৃত কম হয়ে থাকে। কুমির ছত্রাকমুক্ত পুরাতন ঘাস বা খড়ের গাদার ভিতর বাসা তৈরি করে ডিম দিতে ও পচ্ছন্দ করে। সেজন্য পুকুর বা চৌবাচ্চার পাড়ে কপার সালফেট মিশ্রিত ঘাস বা খড় রেখে দিলে স্ত্রী কুমির সেখানে ডিম দেয়। পরবর্তীতে ডিম কাঠের বাক্সে সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মাটির গর্তে ডিমের উপরের অংশ চিহ্নিত করে রেখে দেয়া হয়। এসময় গর্তের তাপমাত্রা থার্মোমিটার দিয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। যদি কেন কারণে ডিমের উপরের অংশ নীচে চলে যায় তাহলে ডিম নষ্ট হয়ে যায়।

    কৃত্রিম পদ্ধতিতে ডিম পরিস্ফুটন

    আজকাল কুমিরের ডিম ফুটানোর জন্য কৃত্রিম ইনকিউবেটর (২৮-৩০ডিগ্রী সে.তাপমাত্রা) ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ধরণের ইনকিউবেটরের ভেতরে আর্দ্র বাতাস প্রবাহের ব্যবস্থা থাকে। ডিম ফোটার তাপমাত্রার ওপর বাচ্চার লিঙ্গ নির্ধারিত হয়। যদি ৩৪.৫ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রায় ডিম ফোটে তবে সব পুরুষ এবং ২৭ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রায় ডিম ফুটলে সব স্ত্রী জাতের বাচ্চা উৎপন্ন হয়।

     

    বাচ্চা লালন ও চাষ কৌশল

    প্রাথমিক অবস্থায় কুমিরের বাচ্চা পাকা চৌবাচ্চায় প্রতি বর্গফুটে একটি করে মজুদ করা হয়। দৈহিক বৃদ্ধির সাথে সাথে এদের ঘনত্ব কমাতে  হয়। এ সময় খাদ্য হিসাবে মাছ বা জীবজন্তুর  মাংস সরবরাহ করতে হয়। তাপমাত্রা এবং খাদ্যের গুণগতমান এদের দৈহিক বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণ করে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে এদের দৈহিক বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়। তিন বছরের ভিতর এরা ১.৫-২.০ মিটার লম্বা হয়ে থাকে এবং আহরণের উপযোগী হয়। কুমিরের বয়স তিন বছরের বেশি হলে খাদ্য রূপান্তরের হার কমে যায়। ফলে এদের পালন লাভজনক হয় না।

     

    খাদ্য ও খাদ্য গ্রহণের  আচরণ

    কুমির খুব শক্তিশালী  সাঁতারু ও মাংসাশী প্রাণী। এরা লেজ দিয়ে সাঁতার কাটে এবং শিকারকে কাবু করে। এদের সারা দেহে পানির নীচে এবং চোখ ওপরে রেখে শিকারের জন্য অপেক্ষা করে। পানির নীচ দিয়ে ১৫-২০ ফুট কাছে এসে শিকারকে লেজ দিয়ে এক বা একাধিকবার আঘাতের মাধ্যমে কাবু করে এবং কামড় দিয়ে ধরে গভীর পানিতে নিয়ে যায়। এরা ছোট শিকারকে আস্ত গিলে ফেলে এবং শিকার বড় হলে ছিঁড়ে টুকরো করে গিলে খায়। কুমিরের বাচ্চা কীট ও অমেরুদন্ডী প্রাণী খাদ্য  হিসাবে গ্রহণ করে। পদ্মা ও যমুনায় বাসরত ঘড়িয়াল বা মেছো কুমির শুধু মাছ খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে থাকে।

     

    সুন্দরবনে কুমিরের চাষ সম্ভাবনা ও সংরক্ষণের সুপারিশ

    সুন্দরবনে অঞ্চলে কুমিরের খামর স্থাপন করার মত যতেষ্ট উপযুক্ততা রয়েছে বিধায় সরকার ইতিমধ্যে এ অঞ্চলে কুমিরের খামার স্থাপনের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছে। খামারে কুমিরের উৎপাদন বাড়ানো একটি লাভজনক খাত হিসাবে বিবেচিত হতে পারে। বাসস্থানের উন্নয়নের মাধ্যমে এসব অঞ্চলে কুমিরের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য নিম্নলিখিত বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা প্রয়োজন:

    1. সুন্দরবন অঞ্চলে তারের জালের বেড়া দিয়ে কৃত্রিম পরিবেশ সৃষ্টি করে আধুনিক খামার স্থাপনসহ চাষ পদ্ধতি ও কৃত্রিম প্রজনন কৌশল উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

    2. যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার ফলে কুয়াকাটাসহ বেশ কিছু স্থানে পর্যটন শিল্প গড়ে উঠায় এ সমস্ত অঞ্চলে কুমিরের খামার স্থাপনের মাধ্যমে পর্যটন শিল্প আকর্ষণীয় ক্ষেত্র হিসেবে পরিগণিত হতে পারে। এতে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণসহ জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব হবে।

    3. সুন্দরবনের ভেতর অনেক নদী আছে যেগুলোর দু’পাশে তারের জালের বেড়া দিয়ে কুমির চাষ শুরু করা যেতে পারে। এ ধরণের প্রাকৃতিক পরিবেশে কুমিরের চাষ সহজ হবে।

    4. প্রাকৃতিক পরিবেশে কুমিরের জীববৈচিত্র্য দারুনভাবে কমে যাওয়ায় এ প্রজাতিকে সংরক্ষণের প্রয়োজনে খুব দ্রুত এর বাসস্থানের উন্নয়নসহ প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র সংরক্ষণ ব্যবস্থাসহ এর চাষ কৌশল উন্নয়ন বাঞ্ছনীয়। এ জন্য উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার পাশাপাশি সরকারী পৃষ্টপোষকতা বিশেষ প্রয়োজন।


     

     

     

    পরিবেশ ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের দিক থেকে বাংলাদেশে কুমিরের প্রজনন ও চাষের উজ্জ্বল সম্ভবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে কুমিরের বাণিজ্যিক চাষ করা হয়। অষ্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক উন্নত দেশে কুমির অপ্রচলিত খাদ্য হিসেবে ব্যবহূত হয়ে আসছে। ঐ সকল দেশে পর্যটন শিল্প হিসেবে কুমিরের খামার স্থাপন করা হয়েছে। তাছাড়া কুমিরের চামড়া অনেক অভিজাত সামগ্রী তৈরিতে ব্যাপকভাবে সমাদৃত। বাংলাদেশের সুন্দরবন এলাকায় কুমিরের আধুনিক খামার স্থাপনের সম্ভবনা বিদ্যমান। খামার স্থাপন ও প্রাকৃতিক পরিবেশে সংরক্ষণের মাধ্যমে কুমিরের উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায় এবং উপকূলীয় অঞ্চলে পর্যটন শিল্প গড়ে তোলা যায়। প্রাকৃতিক পরিবেশে কুমিরের  প্রজাতিসমূহের বিলুপ্তি রোধকল্পে এর আবাসস্থলের উন্নয়ন ও প্রজনন ক্ষেত্র সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরী। তাছাড়া কুমিরের কৃত্রিম প্রজনন-কৌশল ও চাষ-পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্য দেশের বিভিন্ন পরিবেশগত অঞ্চলে আধুনিক সুবিধা সম্বলিত কয়েকটি গবেষণাগার স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরী। এ সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে কুমিরের উৎপদন বৃদ্ধিসহ এ থেকে প্রক্রিয়াজাতকৃত পণ্য রপ্তনী কওে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যাবে। এ বিষয়ে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে আশু পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।


     

     

    কুমিরের খামার
    কুমির আর বানরের গল্পটি আপনারা তো সবাই জানেন, ঐ যে এক দেশে এক নদীর ধারে জাম গাছে থাকতো এক বানর আর তার বন্ধু ছিলো এক কুমির। কিন্তু কুমির ছিলো ভয়ানক পাজি, সে চাইতো যেভাবে হোক বানরের কলিজা খাবে। কিন্তু সে শেষ পর্যন্ত আর বানরের কলিজা খেতে পারে না। কেনো? কারণ বানর বুদ্ধি করে বেঁচে যায় সে যাত্রায়। এই গল্প নাহয় আরেকদিন করা যাবে, তারচেয়ে চলেন আজ আমরা এক কুমিরের খামারে ঘুরে আসি। কোথায় সেই খামার? সে কিন্তু আমাদের দেশেই। সেখানে যত্ন করে লালন পালন করে বড়ো করা হয় কুমির। মানে এক কথায় কুমির চাষ করা হয় সে খামারে। বেশি কথা বলে তো কাজ নেই চলো তবে সেই খামারে ঘুরে আসি।

     

     
    কুমিরের খামারের খোঁজেঃ
    এই খামার কিন্তু ঢাকা থেকে খুব কাছেই আছে। আপনাকে প্রথমে যে কাজটি করতে হবে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী যেকোনো গাড়িতে চড়ে বসতে হবে। আর নামতে হবে গিয়ে ভালুকাতে। এখানেই রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড নামের এই কুমিরের খামারটি অবস্থিত। ভালুকা বাসস্ট্যান্ডে নেমে আপনাদের আরো ২০ কিলোমিটার পশ্চিমে যেতে হবে। জায়গাটির নাম উথরা বাজার। বাস কিংবা টেম্পুতেই উথরা বাজার পৌঁছাতে হবে। এরপর সেখান থেকে ভ্যানে চেপে আরো দেড় কিঃমিঃ পশ্চিমে গেলেই পাবে হাতিবেড় গ্রাম। একেবারে বইয়ের মত সে গ্রামটি। দিনের বেলাতেই ঝিঁঝিঁ ডাকে, আর রয়েছে পাখির মিষ্টি মধুর কলতান। এই ছায়াঘেরা, শান্ত, সুশিল গ্রামেই আছে কুমিরের খামারটি।







    খামারের প্রতিষ্ঠাঃ
    খামারটির প্রতিষ্ঠাতা মুস্তাক আহমেদ। তিনি এটি প্রতিষ্ঠা করেন ২০০৪ সালের ডিসেম্বর মাসে। পনের একর জায়গা জুড়ে এই কুমিরের খামারটি গড়ে তোলা হয়েছে। যেখানে ছয় একরের মধ্যে খামার বিস্তৃত হয়েছে। প্রায় ৫কোটি টাকা বিনিয়োগ করে খামারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাংলাদেশে কুমির ধরে চাষ করার কোন আইন নেই। তাই তিনি মালয়েশিয়ার জংশন ক্রোকোডাইল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কুমির কেনেন। দেড় কোটি টাকা ব্যায়ে মোট ৭৫টি কুমির কিনে আনা হয় সেসময়। এই খামারে মোট পুকুর আছে ৩২টি। যেগুলোর গভীরতা ৫ থেকে ৬ ফুট। এখানে ছোট-বড় মিলে বর্তমানে মোট কুমিরের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজারের উপরে। বাংলাদেশের আবহাওয়া কুমির চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এই খামারে ক্রোকোডাইল স্পোরোসাস নামের একটি প্রজাতি আছে। এটি লোনা পানির কুমির হলেও স্বচ্ছ পানিতে বেঁচে থাকে।


    কি খায় কুমির?
    এই যে এতগুলো কুমির, এরা কি খায়? এদের কোনো আলাদা খাবার নেই, আপনি যা খান এরাও তাই খায়। বাচ্চা কুমিরগুলো মুরগি আর গরুর মাংসের কিমা খায়। আর মা-বাবা কুমিরগুলো খায় মুরগীর মাংস, গরুর মাংস ও মাছ। তবে বড় কুমিরগুলোকে সপ্তাহে একদিন খাবার দিলেই হয়। আর বাচ্চা কুমিরগুলোকে প্রত্যেকদিন খাবার দেয়া হয়। এদের খাবার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় তাদের মোট ওজনের উপর। অর্থাৎ মোট ওজনের শতকরা ২০ ভাগ খাদ্য দেয়া হয় তাদেরকে।


    বড় বড় ডিমঃ
    একেকটি কুমির প্রাপ্তবয়স্ক হতে সময় নেয় ১২ বছর। প্রাপ্তবয়স্ক হবার পর তারা হাঁস-মুরগীর মতো ডিম দেয়। তবে এদের ডিমের আকৃতি রাজ হাঁসের মতো বড়। এদের ডিম দেবার সময় হলো বর্ষাকাল। সাধারণত বিশ থেকে আশিটি ডিম দেয় একেকটি কুমির। ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ৮০ থেকে ৮৬ দিনেই ডিম থেকে ক্ষুদে ক্ষুদে কুমির ছানারা ফুটে বের হয়। বলতেই পারেন, এই তাপমাত্রা কিভাবে নিয়ন্ত্রন করা হয়? এখানে ইনকিউবেটরে কুমিরের বাচ্চা ফোটানো হয়। ডিম ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষুদে বাচ্চাদের সংগ্রহ করে আরেকটি ইনকিউবেটরে রাখা হয়। কারণ বাচ্চাগুলোর নাভি থেকে কুসুম ছাড়তে সময় লাগে ৭২ ঘন্টা। এরপর শিশু কুমিরদেরকে নার্সারিতে নিয়ে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখা হয়। জন্মের পর একটি কুমির প্রায় ১২ ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে। প্রায় দুই বছর বয়স হবার পর বাচ্চা কুমিরগুলোকে আকারভেদে পুকুরে স্থানান্তর করা হয়।


    মারামারি রোগঃ
    একেকটি কুমির প্রায় একশ বছর বাঁচে। এর মাঝে এদের রোগ হয় এবং রোগ হয়ে মারাও যায় কুমির। কুমিরদের একটা রোগ হলো মারামারি রোগ। শুনেছেন এই রোগের নাম? আসলে এটা কোনো রোগ নয়। কোনো কোনো সময় দুটি কুমির মারামারি করে আহত হয় এবং এর ফলে যে ক্ষত হয় তা থেকে মরে যেতে পারে। আর প্রাকৃতির নিয়মে অর্থাৎ বয়স হয়ে গেলে তো মারা যায়ই। এরা খুবই হিংস্র স্বভাবের হয়। কে আপন কে পর এটা বোঝার বোধও তাদের নেই। যারা তাদের এত যত্ন-আত্তি করে, সুযোগ পেলে এই নির্বোধগুলো তাদেরকেও আক্রমণ করে বসে। তবে এরা কিন্তু সুযোগ পেলেই নির্ভাবনায় ঘুমায়। শীতকাল হচ্ছে এদের ঘুমানোর মৌসুম। এ সময় এরা জলে থাকে না, পাড়ে উঠে আসে।

    কেন এই খামার?
    অনেক কথাই তো বলা হলো। কিন্তু মাছ, মুরগী, গরু-ছাগলের খামার করা ছেড়ে কুমিরের খামারটি কেন করা হল তা তো বলা হল না। শোন তবে, এই খামারটি করা হয়েছে সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে। কুমিরের চামড়া কিন্তু অনেক দামি। এই চামড়া দিয়ে ব্যাগ, জুতাসহ অনেক দামি জিনিস তৈরি করা হয় এবং বিদেশে রপ্তানী করা হয়। এছাড়া কুমিরের মাংস, হাঁড়, দাঁত সবকিছুই দামী। এক কথায় কুমিরের কোন কিছুই ফেলনা নয়। কুমিরকে বলা হয় গোল্ড আয়রন অর্থাৎ ‘সোনালী লোহা’। সেজন্যই যদি কুমির চাষ করা যায় তাহলে তো এটি অবশ্যই অনেক লাভজনক ব্যবসা।


    কুমির ধরার কসরৎঃ
    একটা বিষয়, যদি কুমির নিয়ে ব্যবসা করতে হয় তবে তো একে ধরতে হবে! কুমির তো খুবই হিংস্র প্রাণী, নিশ্চয়ই একে ধরতে অনেক হ্যাপা সামলাতে হয়! কিন্তু না, ভয় নেই। খুব মজার কৌশল আছে একে ধরার। প্রথমে দড়ির ফাঁস তৈরি করা হয়। এর পর কুমিরের মুখ সোজা করে উপর থেকে এই ফাঁস ফেলা হয়। দঁড়ি তার মুখে আটকে গেলে গিট্টু লেগে যায়। তখন একটা চটের বস্তা তার চোখের উপর ফেললে সে আর কিছুই দেখে না। কুমিরের একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা কোনো কিছু না দেখতে পেলে আর বাগড়া দেয় না। লক্ষী ছানার মতো চুপটি করে থাকে। আর তখন তাদেরকে সহজেই ধরে খাঁচাবন্দী করে নেয়া যায়।

    কুমির সেই খামার দেখার জন্য নিশ্চয়ই এখনই চলে যেতে হচ্ছে সেখানে? তাহলে তো একবার সময় করে ঘুরে আসো সেখান থেকে। তবে একটা বিষয় বলা হয়নি। এই খামারে ঢোকার জন্য তোমাকে কিন্তু একটা টিকিট কাটতে হবে। টিকিটের মূল্য ২৫০ টাকা।

    Saturday, July 15, 2017

    ধান ও গম কাটা মেশিন

  • Share The Gag
  • ধান ও গম কাটা মেশিন

    কৃষি প্রধান বাংলাদেশে খাদ্যশস্যের মধ্যে ধান ও গম অন্যতম। দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটানোর জন্য একদিকে যেমন উৎপাদন বাড়ানো দরকার তেমনি দরকার উৎপাদন খরচ কমানোর। আমাদের দেশে ফসল উৎপাদন ও আহরণের ক্ষেত্রে এখনো সনাতন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ধান অতিরিক্ত শুকিয়ে ৪-৫% জমিতেই ঝরে পড়ছে।এ ধান ও গম কাটার সময়, খরচ ও শ্রম বাঁচিয়ে উৎপাদন খরচ কমাতে ধান ও গম কাটার যন্ত্র ব্যবহার করা যেতে পারে।

    ব্যবহারের নিয়মাবলী : ইঞ্জিন চালু করার পূর্বে ফুয়েল ট্যাংক ডিজেল দ্বারা পূর্ণ করতে হবে। ইঞ্জিনে সঠিক গ্রেডের এবং প্রয়োজনীয় পরিমাণ লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করতে হবে। বোল্ট ও চেইন টেনশন সঠিক রাখতে হবে। নাট, বোল্ট, ফিটিংস্ ইত্যাদি চেক করতে হবে। এরপর ইঞ্জিন টেনশন পুলির সহায়তায় ট্রান্সমিশন সিস্টেম হতে বিচ্ছিন্ন করে ইঞ্জিন চালু করতে হবে। ইঞ্জিন চালুর পর কাটার ব্লেড, চেইন লাগ, স্টার হুইল ইত্যাদি সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা লক্ষ্য রাখতে হবে। ধান বা গম কর্তন আরম্ভ করার পূর্বে লক্ষ্য রাখতে হবে যদি জমির আইল ৬ ইঞ্চির বেশি উঁচু হয় তবে অবশ্যই জমির চারদিকে ফসল ১ ফুট পরিমাণ কাঁচির সাহায্যে পূর্বেই কর্তন করে নিতে হবে, এতে শস্য সঠিকভাবে ডান দিকে পড়বে।

     

    সংরক্ষণ পদ্ধতি : ব্যবহারের পর যন্ত্রটি থেকে ঘাস, খড়, মাটি সম্পূর্ণরূপে পরিস্কার করতে হবে। ফুয়েল ট্যাংক হতে সম্পূর্ণ ফুয়েল বের করে পরিস্কার করতে হবে। কোনো অংশ ঢিলা হলে তা ঠিক করে নিতে হবে। যন্ত্রটির ঘূর্ণায়মান অংশগুলোতে এবং চেইনে মাঝে মাঝে মবিল দিতে হবে। মৌসুম শেষে ভালভাবে পরিস্কার করে শুষ্ক ও উপরে শেড যুক্ত স্থানে রাখতে হবে। কাটিং ব্লেড এবং চেইনে লুব্রিকেটিং অয়েল বা গ্রিজ দিয়ে রাখতে হবে ।

    যন্ত্রের সুবিধা : যন্ত্রটি ঘণ্টায় ৬৫ থেকে ৭৫ শতাংশ জমির ফসল কাটতে পারে। এক ঘণ্টায় মাত্র আধা লিটার ডিজেল খরচ হয়। যন্ত্রটি চালাতে মাত্র একজন লোকের প্রয়োজন হয়। যন্ত্রটির ওজন কম তাই প্রয়োজনে রশি, বাঁশের সাহায্যে এক জমি থেকে অন্য জমিতে নেয়া যায় এবং পরিবহনের সময় জমির কোনো ক্ষতি হয় না। এর চাকা বিশেষভাবে তৈরির ফলে অল্প পরিমাণ কাদা ও পানি থাকলে জমিতে ব্যবহার করা যায়। যন্ত্রটির সকল পার্টস দেশর সর্বত্র পাওয়া যায় এবং সহজেই স্থানীয় ওয়ার্কশপে মেরামত যোগ্য । ধান ও গম কাটার যন্ত্র সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগে।

     

    বাংলাদেশে এই মেশিন এ সি আই মোটরস বিপণন করে থাকে।

     

    Wednesday, July 12, 2017

    এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন

  • Share The Gag
  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী-২০১৭ পালিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আমনুরা সংলগ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে এই কর্মসূচী পালিত হয়।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এবিএম রাশেদুল হাসান একটি মেহগনী গাছের চারা রোপনের মাধ্যমে কর্মসূচীর শুভ উদ্বোধন করেন।

    এ সময় উপাচার্য পরিবেশ বিপর্যয় রক্ষায় সকলকে গাছ লাগানোর প্রতি যত্নবান হওয়ার আহবান জানান।

    কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ট্রেজারার শাহরিয়ার কবির, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মকবুল হোসেন, প্রভোস্ট ড.সাহেব আলীসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ।

    Monday, July 3, 2017

    পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পোকার চাষ!

  • Share The Gag
  • পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পোকার চাষ!



    নিত্য নতুন খাবার আবিষ্কার হচ্ছে, কিন্তু সেসব খাবারে প্রকৃত পুষ্টি পাচ্ছে না মানুষ। তাই বিজ্ঞানীরা বলছেন, খুব শিগগিরই ইউরোপে পোকা চাষের ফার্ম চালু হবে। পোকা ছাড়া কোনোভাবেই পুষ্টির চাহিদা পূরণ হওয়া সম্ভব নয়। কারণ, শুককীট বা ল্যাদা পোকায় প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন আছে, যা মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটাবে।

    জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্যানুসারে ২০০০ সালে মাংস বা প্রোটিনের চাহিদা যা ছিল, তা থেকে ২০৩০ সাল নাগাদ প্রায় ৭২ ভাগ বেড়ে যাবে। আর তখন প্রোটিনের চাহিদা পূরণে হিমসিম খেতে হবে মানুষকে। বর্তমানে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে বিভিন্ন প্রাণীর মাংস খাই আমরা। কিন্তু তথন এমন পরিস্তিতি সৃষ্টি হবে যে প্রাণীর মাংসেও পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে পারবে না। তাই বাধ্য হয়েই পোকা মাকড়ের উপর নির্ভরশীল হবে মানুষ।

    ২০১৩ সালেও জাতিসংঘ থেকে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনেও টেকশই পুষ্টি চাহিদা পূরণের জন্য পোকা চাষের প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘাস ফড়িং, পিঁপড়া ও অন্যান্য পোকামাকড় চাষ করে পুষ্টি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। তবে পোকা চাষের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার। যেসব পোকামাকড় পরিবেশের ক্ষতি করে না সেগুলো চাষ করতে হবে। আর এদিকে অন্যান্য প্রোটিনের উৎস যেমন মাছ ও মাংসও সচল রাখতে হবে।

    গত বছরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নও এক প্রতিবেদনে ক্রমবর্ধমান পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে পোকা চাষের ব্যাপারে উৎসাহিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘পুষ্টির চাহিদা পূরণের জন্য পোকা খাওয়ার বিষয়টি এলিয়েন কালচার মনে হলেও এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার প্রায় ২ মিলিয়ন মানুষের প্রধান প্রোটিনের উৎস এই পোকামাকড়। এই পোকামাকড়গুলোর মধ্যে শুঁয়োপোকা, উইপোকা, ঘাস ফড়িং, ঝিঁঝিঁ, অরুচিকর বাগ এবং অন্যান্য পোকামাকড় খুব জনপ্রিয়। কিন্তু এসব পোকামাকড় সেখানে কোনো ফার্মে চাষ হয় না। ওইসব অঞ্চলের মানুষ প্রাকৃতিকভাবে পোকা সংগ্রহ করে খায়।’

    ইউরোপে এখন যে পোকামাকড়ের ব্যবহার হয় না তা কিন্তু নয়। তবে মানুষের খাবার হিসেবে ব্যবহার হয় কমই। সাধারণত বাসার পোষা প্রাণীর জন্য তারা এসব পোকা কেনেন এবং সেগুলোকে পোষেন। তবে যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে তাতে এবার মানুষের খাবারের জন্য পোকার চাষ শুরু হবে। এবং এটি মাছ ও মাংসের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার হবে। তার মধ্যে শুককীট, বা উড়ন্ত পোকা খুবই উপযুক্ত বিকল্প হিসেবে মনে করছেন গবেষকরা।



    ইতিমধ্যেই ইউরোপিয়ান কমিশন ‘প্রোটইনসেক্ট’ নামের এক প্রজেক্ট চালু করেছে। এই প্রজেক্টের কাজ হলো কোন কোন প্রাণী বা পোকা মানুষের পুষ্টির জন্য বেশি উপযোগী ও পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে না, তা গবেষণা করে বের করা।

    ‘প্রোটইনসেক্ট’ ও ‘মিনেভরা কমিউনিকেশন ইউকে’ এক সাথে কাজ করছে। মিনেভরা কমিউনিকেশনের এক মুখপাত্র বলেন, ‘ইউরোপের নীতিমালায় কোন পোকামাকড় খাওয়া বা পালন করার ব্যাপারে আইন আছে। তবে সম্প্রতি পোকা চাষের যে কথা উঠেছে তাকে আমরা খুবই উদ্বিঘ্ন। কারণ আবার সব নীতিমালা পরিবর্তন করতে হবে। কোন কোন পোকা ফার্মে চাষ করা যাবে আর কোনগুলো যাবে না তা নির্ধারণ করতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি।’

    তবে পোকা চাষের ব্যাপারে সবচেয়ে যে বিষয় নিয়ে সবাই সবচেয়ে উদ্বিগ্ন তা হলো- মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি। কারণ, এখনও অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, কিছু পোকা আছে যেগুলো মানুষের খাওয়া ‍উচিত নয়। সেগুলো মানুষের পাকস্থলী হজম করতে পারবে না, বা স্বাস্থ্যের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

    তবে ইউরোপীয় খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ (ইএফএসএ) এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে। তারা বলছেন, অন্যান্য প্রাণীর মাংস যেভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হয়, ঠিক সেভাবেই পোকা প্রক্রিয়াজাত করা হবে। সুতরাং এখানে ক্ষতির কোনো সম্ভাবনা নেই। আর মানুষের পুষ্টির চাহিদাও পূরণ হবে।

    তাই ইউরোপিয়ান কমিশন তাদের ‘প্রোটইনসেক্ট’ প্রোজেক্টের ডাটা-গুলি আবার যাচাইবাছাই করছে। ডাটা-গুলির উপর নির্ভর করবে কত তাড়াতাড়ি আবার পোকার ফার্ম চালু করা যায়। যদি তারা মনে করেন, পোকা চাষ করা সম্ভব- তাহলে খুব শিগগিরই পোকা চাষের ফার্ম চালু করা হবে।

    ঢাকায় ছাদের ওপর গরু পালন

  • Share The Gag
  • ঢাকায় ছাদের ওপর গরু পালন





    পুরান ঢাকার লালবাগের সরু অলিগলি পেরিয়ে খুঁজে নিতে হল বাড়িটি।



    ডুরি আঙ্গুল লেনের চারতলা বড় এই বাড়িটি দেখে বোঝার উপায় নেই এই বাড়ির ছাদেই রয়েছে একটি গরুর খামার।

     



     

     

     

     

     

     

     

     

     

     

    সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠেই এলো সেপের ছাদটিতে রয়েছে ফুলের গাছ আর গরু। খামারের মালিক হাজি হাবিবুর রহমান ও তার ভাই-বোন সবায়এই খামারের সাথে যুক্ত।

    এই ছাদে দাড়িয়ে কথা বলছিলাম মি. রহমানের বোন তাহমিনা আক্তারের সাথে। তিনি বলছিলেন ১০- ১২ বছর আগে এই খামার করার চিন্তাটা আসে।

    মি. রহমান সেবার ঈদে একটি গরু কিনে আনেন। কিন্তু কোরবানীর জন্য যথেষ্ট বয়স না হওয়ায় তিনি গরুটি রেখে দেন। এরপর নিয়ে আসেন আরেকটি গরু। আর এভাবেই শুরু।

    ছোট দুটি গরু নিয়ে বাসার ছাদে পালতে শুরু করেন, এখন ঐ খামারে সব সময় ১৫ থেকে ২০ টা গরু থাকছে।

    গরু গুলো বড় হলে তাদের মধ্যে কয়েকটি বিক্রি করছেন। আর বাকি গুলো থেকে দুধ বিক্রি করছেন। প্রতিদিন গরু গুলো থেকে প্রায় ৪০ লিটার দুধ পাচ্ছেন এই খামারিরা।

    বর্তমানে খামারটিতে রয়েছে আটটি অস্ট্রেলিয়ান গরু। আর চারটি নেপালি গরু। বাকি ছয়টি এবছর কোরবানির ঈদের জন্য বিক্রি করা হয়েছে।



     

     

     

     

     

     

     

     

     

     

     

    শীতের দিনে একবার। সাবান, শ্যাম্পু দিয়ে পরিষ্কার করেন তাদের।

    ছাদের ওপরে টিনের ছাউনি দেয়া আর সামনে বাঁশ দিয়ে ঘিরে তৈরি করা হয়েছে গরুর থাকার জায়গা। ভিতরে চলছে ফ্যান।

    গরু পালন করতে সাধারণত বড় জায়গার প্রয়োজন হয়। ছাদের ওপর সীমিত এই জায়গায় গরুর জন্য কতটা স্বস্তি দায়ক? প্রশ্ন করলে মি. রহমান বলছিলেন " তাদের আরাম আয়েশের জন্য সব ব্যবস্থা আছে। কোন কষ্ট হয় না তাদের"।

    যেখানে রাজধানী ঢাকায় স্থান স্বল্পতার জন্য নানা সমস্যার কথা প্রায় সময় শোনা যায়, সেখানে ছাদের ওপর এই খামার তৈরি করে এই খামারের মালিকের যেমন লাভবান হচ্ছেন তেমনি একই সাথে প্রতিবেশীরা এখান থেকে ভেজাল মুক্ত টাটকা গরু দুধ কিনতে পারছেন।

    তাই তারাও স্বাগত জানাচ্ছেন অভিনব এই উদ্যোগকে।

     

     

     

     

     

     

     

     

     

     

    Tuesday, May 9, 2017

    ভূমিহীনদের পথের দিশা তিস্তাচরের মিষ্টি কুমড়া

  • Share The Gag
  • ভূমিহীনদের পথের দিশা তিস্তাচরের মিষ্টি কুমড়া

    দৃষ্টিভঙ্গিটা ছিল কিছুই না হওয়ার চেয়ে অন্তত কিছু হোক। গবেষণার ভিত্তিতে কৃষি উৎপাদন ও ভূমিহীন কৃষকদের জীবনমানের উন্নয়নকে সামনে রেখে কাজ শুরু। আর শুরুর বছরেই অনাবাদি ও পড়ে থাকা বালুচরে পিট পদ্ধতিতে মিষ্টি কুমড়া চাষে মেলে সফলতা। এরপর কেবল সামনের দিকে এগিয়ে চলার গল্প।

    চাষির সংখ্যা বেড়ে শত শত থেকে এখন হাজার হাজারে দাঁড়িয়েছে। মিষ্টি কুমড়ায় ভূমিহীন এসব চাষির সংসারে ফিরেছে স্বচ্ছলতা। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন এর উদ্যোগ ও সহায়তায় বালুচরে মিষ্টি কুমড়া চাষের এ সফলতার দৃষ্টান্ত এখন সারা দেশজুড়ে। ২০০৫ সালে গাইবান্ধা জেলার চরাঞ্চলের ১১টি স্থানে ১৭৭ জন চাষিকে নিয়ে সবজি ফলানোর এ সংগ্রাম শুরু করে প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন। এর পরের কয়েক বছরের মধ্যেই রংপুর জেলার তিস্তা নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে মিষ্টি কুমড়া চাষে বিপ্লব ঘটে গেছে।

    রংপুরের কাউনিয়া ও গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা নদীর জেগে ওঠা বালুচরে উত্তোলনের অপেক্ষায় পড়ে থাকা সারি সারি মিষ্টি কুমড়ার নান্দনিক শোভায় মুগ্ধ কৃষক, থমকে দাঁড়ায় পথিকও। চরাঞ্চলে উৎপাদিত কুমড়া এ অঞ্চলের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে।

    সরেজমিনে গঙ্গাচড়া উপজেলার চর মর্নেয়া, শংকরদহ, ধামুর, কোলকোন্দ, শিঙ্গীমারী ও নোহালী চর এলাকায় দেখা যায়, আবাদকৃত মিষ্টি কুমড়া উত্তোলনে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন কৃষকরা। চর শিঙ্গিমারীর চাষি ইলিয়াছ মিয়া, মতিয়ার মিয়া, হরিকান্ত বর্মণ, আরতী রানী, ঝুমু রানী ও বিলকিস বেগম জানান, তারা গত তিন বছর ধরে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করছেন।

    কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের রাজিব গ্রামের দিনেশ চন্দ্র, শফিকুল, তালুক সাহবাজ গ্রামের আব্দুল খালেক ও হরিচরণ শর্মা গ্রামের শফিকুল ইসলাম জানান, তাদের বাপ-দাদার আমলে কখনো এসব বালুচরে কোনো ফসলের চাষ হয়নি। এবার এলাকার চাষিরা প্রত্যেকে ২০০ থেকে ২৫০টি গাদায় (পিট) কুমড়া চাষ করেছেন। তারা জানান, নভেম্বর মাসে একটি করে গাদায় দুই থেকে তিনটি চারা রোপণ করা হয়। এতে তাদের খরচ হয়েছে পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা। ইতিমধ্যে প্রত্যেক চাষির কুমড়া বিক্রয় হয়েছে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকায়। জমিতে আরো যে পরিমাণ কুমড়া রয়েছে তা ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করা যাবে।

    উদ্ভাবিত কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে দারিদ্র্য নিরসনে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ও প্রাকটিক্যাল অ্যাকশন চলতি বছর গঙ্গাচড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়নের প্রায় ১৯০ হেক্টর এবং কাউনিয়া উপজেলার প্রায় ৭৩ হেক্টর বালুচরে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেছে। উৎপাদিত কুমড়া বর্তমানে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি হচ্ছে।

    কাউনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুর রহমান ও গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চলতি মৌসুমে তিস্তার বালুচরে অল্প খরচে অধিক ফলন ও দাম পেয়ে চাষিরা কুমড়া চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

    প্রাকটিক্যাল অ্যাকশন, বাংলাদেশের এক্সট্রিম প্রোভার্টি প্রোগ্রাম হেড এ জেড এম নজমুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত চরাঞ্চলের তিন হাজার ২৭৩ জন চাষি এক হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে ৩৩ হাজার মেট্রিকটন কুমড়া উৎপাদন করেন। যার স্থানীয় বাজার মূল্য ২২ কোটি টাকা। এ সফলতার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ২০০৯ সালে সরকার ও ডিএফআইডি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচটি জেলায় ইইপি সিঁড়ি প্রকল্পের মাধ্যমে মিষ্টি কুমড়া চাষ সম্প্রসারণে সহায়তা করে।

    ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রাকটিক্যাল অ্যাকশন, বাংলাদেশের এ উদ্যোগের সফলতা তুলে ধরে তিনি জানান, 'পাথওয়েজ ফ্রম প্রোভার্টি' প্রকল্পের মাধ্যমে ১৯ হাজার ২৫ হেক্টর বালুচর চাষের আওতায় আনা হয়। ওই বছরগুলোতে ১২ হাজার ৮৫৭ জন ভূমিহীন দরিদ্র চাষি প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিকটন মিষ্টি কুমড়া উৎপাদন করেন। যার বাজার মূল্য ৩৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

    নজমুল ইসলাম বলেন, 'মিষ্টি কুমড়া উৎপাদনের এ প্রযুক্তি ভূমিহীনদের মধ্যে আশার আলো হিসেবে ধরা দিয়েছে। শুধু প্রকল্পের চাষিরাই নন, এর বাইরের চাষিরাও এ প্রযুক্তি অনুসরণ ও গ্রহণ করে উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি সাফল্য পাচ্ছেন। ' ভূমিহীনরা যেন তাদের কষ্টের ফসলের ন্যায্য দাম পান, তাও নিশ্চিত করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'দেশের বাজারে তৃণমূল চাষিদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। এ কারণে আমরা দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন বাজারের সঙ্গে তাদের সংযোগ করে দিচ্ছি। বর্তমানে একাধিক দেশে এসব মিষ্টি কুমড়া রপ্তানি হচ্ছে। '

    দেশের নদীভাঙন কবলিত হতদরিদ্র মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক সময়ের পতিত বালুচরে মিষ্টি কুমড়া চাষের এ প্রযুক্তির সফলতা এখন প্রমাণিত। তিস্তাসহ দেশের ৩০ থেকে ৪০টি নদীভাঙন এলাকায় লক্ষাধিক পরিবার সব কিছু হারিয়ে বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধের ওপর বসবাস করে। বিশাল এ জনগোষ্ঠীকে যদি এ প্রযুক্তির আওতায় আনা যায়, তবে কৃষি উৎপাদনসহ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিপ্লব ঘটবে।

    Wednesday, February 1, 2017

    দুই বছরেও চালু হয়নি নেত্রকোনা কৃষি আবহাওয়া অফিস

  • Share The Gag
  • হস্তান্তর হওয়ার দুই বছরেও চালু হয়নি নেত্রকোনা কৃষি আবহাওয়া অফিস। সদর উপজেলার কাইলাটি ইউনিয়নে বনুয়াপাড়া গ্রামে মনোরম পরিবেশে আড়াই একর জমিতে নির্মিত হয়েছে আবহাওয়া কার্যালয়টি।

    জেলার দশ উপজেলার মধ্যে কেন্দুয়া-আটপাড়া-মদন-খালিয়াজুরী ও কলমাকান্দা উপজেলা হাওরাঞ্চল। এই চার উপজেলাসহ বাকি সবকটি উপজেলাতে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, আবহাওয়া তথ্য আদান-প্রদান করতে নেত্রকোনা কৃষি আবহাওয়া কার্যালয়টি নির্মিত হয়েছে। কার্যালয়ের মূল ফটক ধরে ভিতরে ঢুকে হাতের ডান পাশে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে রয়েছে একটি দ্বিতল ভবন। এর ছাদে স্থাপন করা হয়েছে বাতাস পরিমাপক, বাতাসের দিক নিয়ন্ত্রক এবং সানশাইন রেকর্ডারসহ তিনটি যন্ত্র। আর বাম পাশে দ্বিতল ভবনে যৌথ শয়নালয়।

    এছাড়াও একতলা বিশিষ্ট গার্ডশেড, পাম্প হাউজ ও একটি ইকুইপমেন্ট এরিয়া আছে। যার ভিতরে ট্রান্সমিটার, বৃষ্টি পরিমাপক যন্ত্র, সোলার রেডিওশন, বড় আকারের কয়েকটি থার্মোমিটার এবং একটি অটোমেটিক ওয়েদার স্টেশন রয়েছে বলে  সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    কৃষি আবহাওয়া কার্যালয়ের পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহসিন উদ্দিন জাগো নিউজকে জানান, অফিসে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি প্রায় সবকিছুই আছে। নেই শুধু প্রয়োজনীয় লোকবল। নিয়মানুযায়ী আবহাওয়া কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে বিভিন্ন পদে ১১ জন স্টাফ থাকার কথা রয়েছে। ১১ জনের মধ্যে রয়েছে মাত্র তিন জন। এখানে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো এখনো শূন্য। এছাড়াও নেই কেয়ারটেকার ও  গেটম্যান।

    Netrokona

    নেত্রকোনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন দেওয়ান জাগো নিউজকে জানান,বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের বাস্তবায়নাধীন ‘আপগ্রেডেশন অব অ্যাগ্রো ম্যাটেউরোজিক্যাল সার্ভিস (রিভাইসড)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তিন কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হয়েছে নেত্রকোনা কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার।

    ২০১১ সালের ১৬ জুন শুরু হয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদকাল ছিল ১৫ জুন ২০১২ পর্যন্ত। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আজাদ রহমান অ্যান্ড আনিসুর রহমান শাহীন ( জেভি) ও  মেসার্স সাঈফ খান বিপ্লব নির্মাণ কাজ  শেষে ২০১৪ সালের ৬ জুন গণপূর্ত অধিদফতরে তা হস্তান্তর করেন।

    হস্তান্তরের দুই বছর পরেও আবহাওয়া কার্যালয়টি চালু না হওয়ায় কৃষি ক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। আবহাওয়া কার্যালয়টি চালু না হওয়াতে নেত্রকোনার চারটি উপজেলার হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যায় ক্ষতি হয় বছরের একমাত্র বোরো ফসল।

    Friday, November 4, 2016

    দশ বছরে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

  • Share The Gag
  • টিলা ঘেরা সবুজ পরিবেশের উপর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি )। মাত্র ৫০ একর জায়গা নিয়ে সিলেট সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ থেকে ২০০৬ সালের ২ নভেম্বর দেশের চতুর্থ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। আসছে বুধবার নয় পেরিয়ে দশ বছরে পদার্পণ করছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। উত্তর পূর্বাঞ্চলের সামগ্রিক কৃষি ব্যবস্থাকে উন্নত করতে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একটি সম্ভাবনার নাম। সিলেটের লালচে মাটির গুণগতমান দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে ভিন্নতর। আবার বৃহত্তর সিলেটে রয়েছে হাজার হাজার একর অনাবাদি উঁচু-নিচু পাহাড়ী  অসমতল ভূমি। আছে হাওর নামের বিস্তীর্ণ জলাশয়। অপার সম্ভাবনাময় এসব প্রাকৃতিক সম্পদসমূহকে গবেষণার মাধ্যমে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার জন্য ইতোমধ্যে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি অনুষদ সাফল্যের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এর একাডেমিক কার্যক্রম দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে।

    এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এগ্রোনমি এন্ড হাওর এগ্রিকালচার  এবং কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স নামে বিশেষ দুটি বিভাগ রয়েছে যা অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। একমাত্র সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েই বায়োটেকনোলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং নামে পূর্ণাঙ্গ অনুষদ রয়েছে।এখন পর্যন্ত  সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদ এবং মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদ থেকে গ্র্যাজুয়েট হিসেবে ৫টি করে ১০টি ব্যাচ বের হয়েছে। এদিকে ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সায়েন্স অনুষদ থেকে ইতোমধ্যে ১৭টি ব্যাচ বেরিয়ে গেছে। সম্প্রতি কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ থেকে বেরোলো আরো তিনটি ব্যাচ। এরা সবাই এখন স্ব স্ব ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করে আছে এবং বাংলাদেশের কৃষির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সদ্য ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সায়েন্স অনুষদের ইন্টার্নি ডাক্তার আকাশ খাসনবিস বলেন-“ভাবতে ভালই লাগছে এখন থেকে আমি একজন ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্স গ্র্যাজুয়েট হতে যাচ্ছি। আমার একাডেমিক জ্ঞানটুকু এবার মাঠে কাজে লাগাবো।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধুর সম্পর্কের কারণেই আমরা সফল হয়েছি। আরো খুশি হচ্ছি যে, এখন থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্স গ্র্যাজুয়েটদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান ভেটেরিনারি মেডিক্যাল এসোসিয়েশন তাদের দেশে প্রাকটিস করার জন্য স্টেট সার্টিফিকেট পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ দিবে বলে জানিয়েছে।” ছোটবড় টিলা পরিবেষ্টিত ৫০ একর আয়তনের মনোরম সিকৃবি ক্যাম্পাস। সবুজে ঘেরা, ছোট ছোট টিলা ক্যাম্পাসের পরিবেশকে আরো মোহনীয় করে তুলেছে। “আয়তনে ছোট হলেও এর রূপ-সৌন্দর্য্য আমাদের হৃদয়ে আলাদা একটা টান ও ভালবাসা জন্মায়।”- ক্যাম্পাস সম্পর্কে নিজের অনুভূতি এভাবেই ব্যক্ত করেন কৃষি অনুষদের ছাত্রী নাহিদা আক্তার। তিনি আরো বলেন, “এখানকার বিভিন্ন সংগঠনে যোগ দিয়ে নিজের আত্মবিশ্বাস আরো বেড়ে গেছে। বিশেষ করে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো মননশীল চিন্তা করতে সাহায্য করছে।” বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে আর আড্ডা হবে না সেটা কি হয়! কেউ কেউ আবার ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে দেয় আড্ডা। এর মধ্যে ফুচকা চত্বর, জালাল মামার চায়ের দোকান, ট্যাংকির তলা, কাঁঠাল তলা, ক্যাফেটেরিয়া, ইকোপার্ক ইত্যাদি বেশ জনপ্রিয়। গবেষণা: বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার পর থেকেই সিকৃবি ক্যাম্পাসে গবেষণা হচ্ছে। বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত গবেষণা  হল- গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ। টমেটো বা শিম এখন আর শুধুমাত্র শীতকালে চাষ হবে না।

    সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত¡ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোঃ শহীদুল ইসলাম একজন প্রথিতযশা কৃষি বিজ্ঞানী। সম্প্রতি তার তত্ত্ববধানে শিমের নতুন দুটি জাত অনুমোদন পেয়েছে। প্রোটিন সমৃদ্ধ এই জাতগুলোর তিনি নাম দিয়েছেন  সিকৃবি শিম-১ ও সিকৃবি শিম-২। শিক্ষক হিসেবে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পূর্বে তিনি ১৯৯২ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে কৃষি বিজ্ঞানী হিসেবে গবেষণা করেছেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৬ সালে পিএইচডি সম্পন্ন করার সময় তিনি লক্ষ্য করেন যে, শিম টমেটোসহ কয়েকটি জনপ্রিয় সবজি শুধুমাত্র শীতকালে উৎপাদিত হয়। তখনি তিনি ভাবলেন এই সবজিগুলো যদি গ্রীষ্মকালসহ সারাবছর পাওয়া যেত তাহলে খুব ভালো হতো। সেই থেকেই তিনি  গ্রীষ্মকালীন শিম ও টমেটো নিয়ে গবেষণার কাজ শুরু করেন। তার সহায়তায় ইপসা শিম-১ সহ আরো কয়েকটি জাত উদ্ভাবিত হয়। ২০১১ সালে তাঁর তত্ত্বাবধানে বারি শিম-৭ নামে একটি গ্রীষ্মকালীন শিমের জাত তিনি উদ্ভাবন করেন। সিলেট এসে তিনি লক্ষ্য করেন এই অঞ্চলে শিম-টমেটোর বেশ কদর রয়েছে।

    তিনি সিলেটের গ্রামে গ্রামে গিয়ে গ্রীষ্মকালীন শিম লাগানোর জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করেন। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তিনি গ্রীষ্মকালীন শিম-টমেটোর পরীক্ষামূলক চাষাবাদ শুরু করেন। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল হিসেবে সারা বাংলাদেশে সিকৃবি শিম-১ ও সিকৃবি শিম-২ জাত দুটি আলোর মুখ দেখলো। এই জাত সিলেট অঞ্চলে বছরব্যাপী ধরে প্রোটিনের চাহিদা মেটাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের আরেক বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মোঃ আবুল কাশেম। হাওর এলাকার ধানের ফলন বৃদ্ধির জন্য তিনি গবেষণা করছেন। তাছাড়া হাওর এলাকায় সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাঠ ফসল, মাছ, গবাদিপশু-পাখির উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। কৃষিতত্ত্ব ও হাওর কৃষি বিভাগের অধ্যাপক ড. মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস গবেষণা করছেন সরিষা ফসল নিয়ে। বিস্তৃর্ণ হাওর এলাকায় কিভাবে উন্নত জাতের সরিষার চাষ করে প্রচলিত ফসল ধারার উন্নয়ন করা যায় সে উদ্দেশ্যে তিনি গবেষণা কার্যক্রম চালাচ্ছেন। একই বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোঃ নজরুল ইসলাম গবেষণা করছেন আগাছা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ধানের ফলন বৃদ্ধি নিয়ে। এই গবেষণা সফল হলে বাংলাদেশে ধানের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। সিলেট অঞ্চলে শীতকালীন ফসল চাষের জন্য পানির স্বল্পতা রয়েছে। কোথাও কোথাও অবশ্য স্বল্প পরিসওে বোরো ধানের চাষ করা হচ্ছে।

    কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদের সেচ বিজ্ঞানী ড. সানজিদা পারভীন রিতু তাই ভিন্নধর্মী একটি গবেষণা চালাচ্ছেন। সিলেটের উঁচু জমিতে এমনিতেই সেচ প্রয়োগের সুযোগ তেমন নেই। সেচ সুবিধার অভাবে হেক্টরের পর হেক্টর জমি অনাবাদি থেকে যাচ্ছে। ড. সানজিদা ভূট্টা ফসলে সেচ বিষয়ে তাঁর গবেষণা শুরু করেছেন। এই গবেষণায় সফল হলে সিলেট অঞ্চলের “ক্রপ রোটেশন” পরিবর্তন হতে পারে। কম পানি দিয়েও বছরে ৩টি ফসল চাষ করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    বায়োটেকনোলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মেহেদী হাসান খান অল্প খরচে মাছ দিয়ে কিভাবে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার তৈরি করা যায় তা নিয়ে গবেষণা করছেন। এর পাশাপাশি সিলেটের জলাবদ্ধ এলাকায় ভাসমান বেড তৈরি করে প্রাণীর খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে তিনি গবেষণা করে যাচ্ছেন। বিপন্ন মাছ সংরক্ষণ নিয়ে গবেষণা করেন মৎস্যবীদ ফিসারিজ বায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইকবাল। বর্তমানে তিনি হাওর ও নদী অঞ্চলের বিলুপ্ত প্রজাতির আইড় মাছের প্রজনন নিয়ে গবেষণা করছেন। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের অর্থায়নে সিলেটের জকিগঞ্জের আমেরিকান ফিস ফার্ম লিমিটেডের সাথে যৌথভাবে তিনি এই গবেষণা কাজ সম্পন্ন করছেন। মাৎস্য-বিজ্ঞান অনুষদের পাশেই ছোট ছোট রিসার্চ পুকুর বানানো হয়েছে। এছাড়াও সারা ক্যাম্পাসের পুকুরগুলোকে গবেষণার আওতায় আনা হয়েছে। আইড় মাছ ছাড়াও ক্যাম্পাসে ফ্রেশ ওয়াটারে চিংড়ি চাষ এবং তাপ দিয়ে মনোসেক্স তেলাপিয়ার লিঙ্গপরিবর্তন নিয়েও কাজ হয়েছে। মাৎস্য-বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী গোলাম রাব্বানী বলেন- “মাছ নিয়ে পড়াশুনা আমার কাছে এখন খুব অবাক লাগছে। এখানে ভর্তি না হলে জানতামই না কাটাওয়ালা এই প্রাণীটির ভেতর এতো রহস্য লুকিয়ে আছে।”

    গবেষণা মাঠ অধিগ্রহণ সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিঃক্যাম্পাস হিসেবে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে ফেঞ্চুগঞ্জ-তামাবিল বাইপাস সড়ক সংলগ্ন খাদিম নগর এলাকায় ১২.৩ একর জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছে। গত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সিলেট জেলা প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জায়গাটি বুঝিয়ে দেন। মাত্র ৫০ একর জমি নিয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যাত্রা করেছিল যার বেশির ভাগ টিলা ও জঙ্গলবেষ্টিত। উক্ত গবেষণা মাঠ প্রাপ্তির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কাজের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এত প্রাপ্তির মাঝেও কিছু না পাওয়ার কথা রয়ে গেছে যেমন, ব্যবহারিক ক্লাসের জন্য অধিগ্রহণকৃত  জায়গাটিতে এখনো পুরোদমে কাজ  শুরু করতে পারেননি গবেষকবৃন্দ। ফলে শিক্ষার্থীরা হাতে কলমে শিক্ষালাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সিলেট শহরে যাতায়াতের জন্য বাস নিয়েও ভোগান্তির শেষ নেই। প্রায় চারহাজার শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র ৩টি বাস। বাঁদুড় ঝোলা হয়ে যাতায়াত করতে হয়। ফলে যারা সিলেট শহর থেকে ক্যাম্পাসে আসেন তারা পড়েন চরম বিপাকে। ডাইনিং এর খাবার নিয়েও রয়েছে অনেক অভিযোগ। নেই ভালো খেলার মাঠ, অডিটরিয়ামটাও ছোট। সবকিছু ছাপিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবী হয়ে উঠেছে- গবেষণার জন্য মাঠ। তবে এতো সংকটের ভেতর নতুন করে সম্ভাবনা জাগিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়ন কর্মকান্ড। পুরো ক্যাম্পাসকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে নতুন নতুন অবকাঠামোয়।

    উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন কর্মকান্ড হচ্ছে ভূমি ব্যবস্থাপনা ও খেলার মাঠ উন্নয়ন, নতুন ছাত্র ও ছাত্রী হল, উপাচার্য বাসভবন, অধ্যাপক-কর্মকর্তা কোয়ার্টার, শিক্ষক-কর্মকর্তা ডরমেটরি, কর্মচারী ডরমেটরি, অতিথি ভবন, নতুন আরেকটি ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সায়েন্স ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, ভেটেরিনারি ক্লিনিক, অস্থায়ী খামার বাড়ি, অস্থায়ী মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র এবং নতুন রাস্তা নির্মাণ। এছাড়া অসম্পূর্ণ ছাত্রহল এবং ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রটিও নির্মাণাধীন বয়েছে। দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদ ভবনের কাজ। শেষ হওয়ার পথে কেন্দ্রীয় শহিদমিনার ও কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ভবন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী অর্থাৎ ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: গোলাম শাহি আলম দেখালেন আশার স্বপ্ন-“মাত্র কয়েক বছরে ছয়টি অনুষদকে সাথে নিয়ে সিকৃবি ঈর্ষণীয় সাফল্যের পথে হাঁটছে। সিকৃবির হাত ধরেই সিলেট তথা সমগ্র বাংলাদেশে কৃষিতে বিপ্লব আসবে যার কর্ণধার হবে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তৈরি হওয়া যোগ্য কৃষিবিদ।” স্কুলে ভর্তি হবার পর বাবা-মা তাদের সন্তানদের মাথায় শুধু ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ভূত চাপিয়ে দেন। কিন্তু  কৃষিও একটি মহান পেশা। শুধুমাত্র কৃষিবিদদের গবেষণা ও পরিশ্রমের ফলে কৃষক আজ টনকে টন ধান, পুকুর ভরা মাছ ঘরে তুলছে, মাংস ও ডিমের মাধ্যমে আমিষের চাহিদা মেটাচ্ছে। যার সুফল হিসেবে বর্তমান সরকারের আমলে ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে ডিম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। দেশের চাহিদা মিটিয়েও বছরে ২-৩ লাখ টন চাল রপ্তানির সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের দিক থেকে পোশাক এবং জনশক্তির পর এখন মাছ ও শাক-সবজির অবস্থান। উত্তর পূর্বাঞ্চলের তথা দেশের সামগ্রিক কৃষির এই উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একটি আশার প্রতিশ্রুতি। ছায়া-সুনিবিড়, সবুজ টিলায় ঘেরা ছোট্ট সুন্দর ক্যাম্পাসের এক দশক পূর্তিতে তাই ক্যাম্পাসের সকলের মনে রঙ লেগেছে।

    লেখক: কর্মকর্তা, জনসংযোগ ও প্রকাশনা দফতর, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।