বর্ষার মৌসুমে গো-খাদ্য সংরক্ষণ
বাংলাদেশে গো-খাদ্যের খুব অভাব রয়েছে। দেশে চারণ ভূমির পরিমাণ অত্যন্ত কম থাকার ফলে চারণ ভূমিতে গবাদিপশু চরে যৎসামান্য পরিমাণে কাঁচা ঘাস খেতে পারে। কৃষক ভাইয়েরা ফসলা জমিতে ঘাস চাষ করে গরুকে খাওয়াতে তেমন একটা আগ্রহ প্রকাশ করেন না।
আবার বাংলাদেশে গম ও ডাল জাতীয় ফসলের উৎপাদন মোটেও আশানুরূপ নয়। ফলে ভূষি উৎপাদন চাহিদার তুলনায় অনেক কম হয়। এ কারণে বাজারে ভূষির দাম সবসময় অত্যধিক থাকে। তবে আঁশ জাতীয় খাদ্য যেমন খড় ও দেশী ঘাস সে তুলনায় বেশি পরিমাণে উৎপাদিত হলেও কৃষক ভাইয়েরা সে সবের সংরক্ষণ পদ্ধতির বিষয়ে তেমন ওয়াকিবহাল নন। ফলে এ জাতীয় খাদ্যের উদ্বৃত্ত অংশ পচে নষ্ট হয়ে যায়।দেশে প্রতি বছর বন্যাতেও প্রচুর পরিমাণে গো-খাদ্য বিভিন্নভাবে বিনষ্ট হয়।ধান কাটার সময় কিছু এলাকার কৃষক ভাইয়েরা ধান গাছের ৬-৮ ইঞ্চি উপরে না কেটে প্রায় ১-১১২ ফুট উপর থেকে কেটে নেয়। ফলে খড়ের উৎপাদন স্বভাবতই কম হয়। তাই ভিজা খড় ও কাঁচা ঘাস সংগ্রহ ও সংরক্ষণ পদ্ধতির উপর কৃষক ভাইদের সম্যক জ্ঞান থাকা একান্ত প্রয়োজন।
বর্ষাকালে কাঁচা ও ভিজা খড় সংরক্ষণ পদ্ধতি:
আমাদের দেশে গরুর প্রধান খাদ্য হল খড়। বর্ষাকালে ইরি-বোরো ও আউশ ধানের খড় বেশির ভাগ ভিজে পচে নষ্ট হয়ে যায়। এ পচনশীল খড় বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সংরক্ষণ করা হলে দেশে গো-খাদ্যের চাহিদা অনেকটা পূরণ হতে পারে। ইউরিয়া সহযোগে খড় প্রক্রিয়াজাতকরণের পদ্ধতি নিম্নে বর্ণিত হলো।
উপকরণঃ
প্রতি ১০০ কেজি খড়ের জন্য ১.৫-২.০০ কেজি ইউরিয়া সার এবং আচ্ছাদন দেয়ার জন্য পলিথিন পেপার।
প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতি:
প্রথমে পানি জমে না এমন একটি উঁচু ও সমতল স্থান বাছাই করতে হবে।
বাছাইকৃত উঁচু জায়গাটি পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।
এরপর পলিথিনের উপরে খড় বিছাতে হবে এবং
৮-১০ ইঞ্চি করে খড়ের স্তর করে তার উপর পরিমাণ মত ইউরিয়া ছিটাতে হবে।
খড়ের স্তর করার সময় পা দিয়ে খুব চেপে চেপে খড় রাখতে হবে যাতে খড়ের গাদায় বাতাস না থাকে।
খড়ের গাদা তৈরি শেষ হয়ে গেলে পলিথিন দিয়ে এমনভাবে ঢেকে দিতে হবে যাতে বাহির থেকে বাতাস এবং পানি প্রবেশ না করতে পারে।
প্রক্রিয়াজাত খড় খাওয়ানোর নিয়ম:
৭-১০ দিন পর গাদা থেকে খড় বের করার পর কিছুক্ষণ ছায়াযুক্ত স্থানে রেখে তারপর খাওয়াতে হবে। এর ফলে গাদায় উৎপাদিত এমোনিয়া গ্যাস বের হয়ে যায়। এ খড়ের সাথে শতকরা ৪০ ভাগ হারে সাধারণ শুকনা খড় মিশিয়ে খাওয়ালে এমোনিয়াজনিত কোনো বিষক্রিয়া হবার সম্ভাবনা থাকে না।
লক্ষণীয় বিষয়সমূহ:
এই খড়ের গাদা প্রয়োজনে ১ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায় এবং প্রয়োজনের সময় গরুকে খাওয়ানো যায়। ভিজা খড় সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যদি খড়ে বেশি পানি থাকে তবে কিছুক্ষণ উঁচু জায়গায় রাখলে পানি কমে যাবে অথবা এই খড়ের সাথে স্তরে স্তরে শুকনা খড় মিশানো উচিত। খড়ের গাদা ঢাকার জন্য ছেঁড়া বা ফাটা পলিথিন ব্যবহার করা যাবে না। গাদা এমনভাবে ঢেকে রাখতে হবে যাতে এর ভিতর বাতাস বা পানি প্রবেশ করতে না পারে।
বর্ষাকালে কাঁচা ঘাস সংরক্ষণ পদ্ধতি:
আমাদের দেশে বর্ষাকালে দূর্বা, বাকসা, আরাইল, সেচি, দল, শস্য ক্ষেতের আগাছা ইত্যাদি জাতীয় কাঁচা ঘাস প্রচুর পাওয়া যায় অথবা জমিতে চাষ করা নেপিয়ার, পারা, ভুট্টা, সরগম, ওট ইত্যাদি খুব সহজেই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সাইলেজ করে ১ বছর পর্যন্ত পশুকে খাওয়ানো যেতে পারে।
১০০ ঘনফুট একটি মাটির গর্তে ২.৫-৩.০ মেট্রিক টন ঘাস সংরক্ষণ করা যায়।
উপকরণ:
১০০ কেজি কাঁচা ঘাসের জন্য ৩-৪ কেজি চিটা গুড়, চিটা গুড়ের সমপরিমাণ পানি, শুকনা খড় ও পলিথিন কভার।
সাইলেজ প্রস্তুতের পদ্ধতি:
প্রথমে পানি জমে না এমন একটি উঁচু স্থান নিবার্চন করতে হবে।
সেখানে এমনভাবে একটি গর্ত খুঁড়তে হবে যাতে গর্তের নীচের অংশ পাতিলের তলার মত অথবা ইংরেজি বর্ণমালার ইউ এর আকৃতি হয় যাতে সেখানে কোনো কৌণিক অংশ না থাকে।
এরপর গর্তের মাটিতে পুরু করে শুকনা খড় বিছিয়ে দিতে হবে।
এবার গর্তে পরতে পরতে সবুজ ঘাস ও শুকনা খড় বিছিয়ে দিতে হবে ( প্রতি পরতে ৩০০ কেজি সবুজ ঘাস ও ১৫ কেজি শুকনো খড় থাকবে)।
প্রতি পরতে পরিমাণ মতা চিটাগুড় পানিতে গুলে ঘাসের উপর ছিটিয়ে দিতে হবে (৯-১২ কেজি চিটা গুড় ও ৮-১০ কেজি পানি)।
মাঝে মাঝে ঘাসের স্তরের উপর পা দিয়ে চাপ দিতে হবে যাতে ভিতরে বাতাস না থাকতে পারে।
ঘাসে পানির পরিমাণ বেশি হলে স্তরের মাঝে শুকনা খড় দিতে হবে। ফলে খড় অতিরিক্ত পানি শুষে নেবে।
এই ভাবে স্তরে স্তরে ঘাস সাজিয়ে মাটির উপরে কোমর সমান উঁচু করতে হবে।
সবশেষে শুকনা খড় দিয়ে পুরু করে আস্তরণ দ্বারা পলিথিন দিয়ে ভালোভাবে ঘাসের গাদা ঢেকে দিতে হবে।
লক্ষণীয় বিষয়:
এই ঘাসের গাদা ১ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। কিছু দিন পর ঘাসের রং বিবর্ণ হলেও তা খাওয়ানোর উপযোগী থাকে। চিটাগুড় পাতলা হলে পরিমাণ বাড়িয়ে পানি কম করে মেশাতে হবে।
ভুট্টার গাছ সংরক্ষণ ও আপদকালীন খাদ্য সরবরাহ:
বর্ষাকালে ভুট্টা সংগ্রহ করার পর ভুট্টার গাছ শুকিয়ে দা দিয়ে ছোট ছোট টুকরা করে বস্তায় বেঁধে রেখে দিলে বর্ষা বা বন্যার সময় আপদকালে গরুকে খাওয়ানো যায়। ভুট্টা গাছের টুকরা পানিতে ভিজিয়ে চিটাগুড় দিয়ে মাখিয়ে দিলে গরু খায়।
শুকনো খড় সংরক্ষণ:
শুকনো খড়ের সতূপে খড়ের গুণগত মান ভালো আছে কিনা তা মাঝে মধ্যে সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে হয়। কারণ, সতূপ (পালা) তৈরির সময় কোনো ত্রুটি থাকলে বর্ষাকালে সতূপের ভিতর পানি ঢুকে খড় পচে যেতে পারে। ঐ পচা খড় গরুকে খাওয়ালে বিষক্রিয়া বা ডায়রিয়া হতে পারে।
ভূষি ও কুড়া সংরক্ষণ:
বর্ষাকালে ভূষি ও চাউলের কুড়ার বস্তার মুখ খুব ভালো করে বেঁধে ঘরের মাচার উপরে রাখতে হবে। দানাদার খাদ্যের বস্তা কখনও মাটিতে রাখা যাবে না। অবশ্যই মাচার উপর শুষ্ক স্থানে রাখতে হবে। তা না হলে এতে ছত্রাক জন্মাবে। এ জাতীয় খাদ্য খেলে গবাদিপশু বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকে।
এ সমস্ত কারণে গবাদিপশুকে খাদ্য প্রদানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সজাগ হতে হবে।গবাদিপশুর উৎপাদন ও দৈহিক ওজন বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য যথারীতি সরবরাহ অত্যন্ত জরুরি। এছাড়াও গর্ভবতী গাভীর জন্য পুষ্টিকর খাদ্য প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখা প্রয়োজন যে সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান গবাদিপশু সহজে বিশেষ করে পুষ্টিহীনতা, পেটের পীড়া ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হয় না।এজন্য স্বাস্থ্যসম্মতভাবে গো-খাদ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ অতীব গুরুত্বপূর্ণ।
Showing posts with label ফসল সংরক্ষণ. Show all posts
Showing posts with label ফসল সংরক্ষণ. Show all posts
Sunday, April 9, 2017
Wednesday, April 20, 2016
কৃত্রিম মিলনে ফলন বাড়ান
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 1:45 AM
কুমড়ো এমন একটা সব্জি, যেটা ভারতের প্রায় সমস্ত রাজ্যে চাষ হয়। গরমেই চাষ হয় বেশি। ছায়ায় থাকতে পারে বলে অন্য ফসলের সঙ্গেও চাষ করা যায় কুমড়ো। হুগলি ও বর্ধমান জেলার আলুচাষিরা যেমন আলুর সঙ্গে কুমড়ো চাষ করেন। আসলে আলুর জমি কুমড়ো চাষের জন্য তৈরি হয়েই থাকে। কার্তিক-অগ্রহায়ন বা পৌষ মাসে আলু লাগানোর কিছু দিন পর সবে যখন গাছ বেরোচ্ছে, আলুর ভুঁড়োতে কুমড়োর বীজ লাগিয়ে দিতে হবে। এক-একটা আলুর ভুঁড়োতে ৩-৪টে কুমড়ো বীজ লাগাতে হবে। আলুগাছের বাড়বাড়ন্তের সময় কুমড়ো গাছ মোটামুটি সুপ্ত অবস্থায় থাকে। কুমড়ো গাছ তার শাখাপ্রশাখা নিয়ে ছড়িয়ে পড়ে না বলে মাটির ভিতরে আলুর কোনও ক্ষতি হয় না। আলু তোলা হয়ে গেলে কুমড়ো গাছের চারদিককার মাটি কুপিয়ে ঝুরঝুরে করে দিতে হবে এবং সব্জির বীজতলার মতো উঁচু করে গোলাকারে মাটি তুলে দিতে হবে। এবার বাড়বে কুমড়ো গাছ।
বাগানে আলাদা ভাবেও বছরভরই কুমড়ো চাষ করা যায়। এক একর জমি চাষ করার জন্য দুই থেকে আড়াই কেজি বীজের দরকার হয়। জমি তৈরি করার পর আড়াই মিটার অন্তর সারি করে প্রতি সারিতে এক থেকে দেড় মিটার অন্তর মাদা বানাতে হবে। এরপর এক-একটি মাদায় চার-পাঁচটা করে বীজ দুই থেকে আড়াই সেমি গভীরে পুঁতে দিতে হবে।
আলুর জমিতে কুমড়ো চাষ করলে আলাদা করে আর সার দেওয়ার দরকার হয় না। কিন্তু আলাদা ভাবে চাষ করলে প্রতি মাদায় এক ঝুড়ি করে গোবর সার ঢেলে দেওয়া ভাল। সেচের জন্য জমিটাকে প্রস্থে ১০/১২ হাত অন্তর ছোট করে আল দিতে হবে। এতে জলের অপচয় হবে না। ১৫/২০ দিন পরপর রস দেখে সেচ দিন।
কুমড়োর একই গাছে পুরুষ ও স্ত্রী ফুল ফুটতে থাকে। ইতর পরাগসংযোগের জন্য উভয় ফুলেরই প্রয়োজন আছে। এমনিতে মৌমাছি ও অন্যান্য কীটপতঙ্গেরা ইতর পরাগসংযোগ ঘটায়। তবে প্রকৃতির খেয়ালের উপর নির্ভর করে থাকলে সব ফুলে পরাগসংযোগ না-ও হতে পারে। তাই কৃত্রিম ভাবে নিজেরাই পরাগ সংযোগে সাহায্য করে ফলন বাড়ানো যায়। এর জন্য পুরুষ ফুলের পরাগ রেণু পরাগধানী থেকে কখন ফেটে বেরিয়ে আসে বা কতক্ষণ সজীব থাকে সেটা জানতে হবে। একই সঙ্গে স্ত্রী ফুলের গর্ভমুণ্ড কতক্ষণ রসসিক্ত থাকে, তা-ও জানতে হবে।
সাধারণত পুরুষ ফুলের পরাগরেণু সকাল সাড়ে ৫টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত সজীব থাকে। আর স্ত্রী ফুলের গর্ভমুণ্ড সকাল ৬টা থেকে দেড়-দু’ঘণ্টা রসসিক্ত থাকে। ঠিক সময় বুঝে পুরুষ ফুল সংগ্রহ করে পাঁপড়িগুলি ছিঁড়ে ফেলতে হবে। এরপর পরাগধানীটাকে নিয়ে গিয়ে আলতো ভাবে স্ত্রী ফুলের গর্ভমুণ্ডে ঝেড়ে দিতে হবে। একটি পুরুষ ফুল দিয়ে ৯-১০টি স্ত্রী ফুলের পরাগসংযোগ ঘটানো যেতে পারে।
কুমড়ো চাষে রোগপোকা দমনের জন্য তেমন ব্যবস্থা নিতে হয় না। আগাছা দমনেরও প্রয়োজন হয় না। ঠিক সময়েই ফসল উঠে আসে। নিজেরা পরাগসংযোগে সাহায্য করলে অতিরিক্ত ফলনে ভাল লাভও হয়।
বাগানে আলাদা ভাবেও বছরভরই কুমড়ো চাষ করা যায়। এক একর জমি চাষ করার জন্য দুই থেকে আড়াই কেজি বীজের দরকার হয়। জমি তৈরি করার পর আড়াই মিটার অন্তর সারি করে প্রতি সারিতে এক থেকে দেড় মিটার অন্তর মাদা বানাতে হবে। এরপর এক-একটি মাদায় চার-পাঁচটা করে বীজ দুই থেকে আড়াই সেমি গভীরে পুঁতে দিতে হবে।
আলুর জমিতে কুমড়ো চাষ করলে আলাদা করে আর সার দেওয়ার দরকার হয় না। কিন্তু আলাদা ভাবে চাষ করলে প্রতি মাদায় এক ঝুড়ি করে গোবর সার ঢেলে দেওয়া ভাল। সেচের জন্য জমিটাকে প্রস্থে ১০/১২ হাত অন্তর ছোট করে আল দিতে হবে। এতে জলের অপচয় হবে না। ১৫/২০ দিন পরপর রস দেখে সেচ দিন।
কুমড়োর একই গাছে পুরুষ ও স্ত্রী ফুল ফুটতে থাকে। ইতর পরাগসংযোগের জন্য উভয় ফুলেরই প্রয়োজন আছে। এমনিতে মৌমাছি ও অন্যান্য কীটপতঙ্গেরা ইতর পরাগসংযোগ ঘটায়। তবে প্রকৃতির খেয়ালের উপর নির্ভর করে থাকলে সব ফুলে পরাগসংযোগ না-ও হতে পারে। তাই কৃত্রিম ভাবে নিজেরাই পরাগ সংযোগে সাহায্য করে ফলন বাড়ানো যায়। এর জন্য পুরুষ ফুলের পরাগ রেণু পরাগধানী থেকে কখন ফেটে বেরিয়ে আসে বা কতক্ষণ সজীব থাকে সেটা জানতে হবে। একই সঙ্গে স্ত্রী ফুলের গর্ভমুণ্ড কতক্ষণ রসসিক্ত থাকে, তা-ও জানতে হবে।
সাধারণত পুরুষ ফুলের পরাগরেণু সকাল সাড়ে ৫টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত সজীব থাকে। আর স্ত্রী ফুলের গর্ভমুণ্ড সকাল ৬টা থেকে দেড়-দু’ঘণ্টা রসসিক্ত থাকে। ঠিক সময় বুঝে পুরুষ ফুল সংগ্রহ করে পাঁপড়িগুলি ছিঁড়ে ফেলতে হবে। এরপর পরাগধানীটাকে নিয়ে গিয়ে আলতো ভাবে স্ত্রী ফুলের গর্ভমুণ্ডে ঝেড়ে দিতে হবে। একটি পুরুষ ফুল দিয়ে ৯-১০টি স্ত্রী ফুলের পরাগসংযোগ ঘটানো যেতে পারে।
কুমড়ো চাষে রোগপোকা দমনের জন্য তেমন ব্যবস্থা নিতে হয় না। আগাছা দমনেরও প্রয়োজন হয় না। ঠিক সময়েই ফসল উঠে আসে। নিজেরা পরাগসংযোগে সাহায্য করলে অতিরিক্ত ফলনে ভাল লাভও হয়।
Friday, April 15, 2016
এইবার একই জমিতে চার ফসল!
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 2:35 AM
ভোলার দৌলতখান উপজেলার ১৫ জন কৃষক এক জমিতে বছরে চার ফসল উৎপাদন করে ব্যাপক সাফল্য পাওয়ায় অন্য কৃষকদের মাঝে তা ব্যাপক আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের তত্ত্বাবধানে চার ফসলভিত্তিক ফসল বিন্যাস উদ্ভাবন কর্মসূচির আওতায় এ কার্যক্রম চলছে।
বর্তমানে ভোলাসহ দেশের ১৫ টি জেলা এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
দৌলতখান উপজেলার কৃষক মো. আলাউদ্দিন, মো. হারুন, আনোয়ার হোসেন, শাহজাহান সরকার, মো. চুন্নু মিয়া জানান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানীদের পরামর্শে এক জমিতে বছরে চার ফসল আউশ, আমন,সরিষা ও মুগ চাষ করে তারা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন।
বর্তমানে ভোলাসহ দেশের ১৫ টি জেলা এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
দৌলতখান উপজেলার কৃষক মো. আলাউদ্দিন, মো. হারুন, আনোয়ার হোসেন, শাহজাহান সরকার, মো. চুন্নু মিয়া জানান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানীদের পরামর্শে এক জমিতে বছরে চার ফসল আউশ, আমন,সরিষা ও মুগ চাষ করে তারা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন।
গাইবান্ধায় বোরোর বাম্পার ফলনের আশা
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 2:31 AM
বোরো চারা রোপণের পর এবার এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে। পাশাপাশি অন্য বছরের তুলনায় তেমন লোডশেডিং না থাকায় সেচের পানির অভাব ছিল না। এছাড়া তেল, সারসহ সব কৃষি উপকরণ সহজলভ্য হওয়ায় গাইবান্ধায় চলতি বছর বোরোর বাম্পার ফলন আশা করছে কৃষি বিভাগ। তবে ধানের দাম নিয়ে কৃষকের চোখেমুখে রয়েছে শঙ্কা।
দখিণা বাতাসের ধাক্কায় ফসলের মাঠ জুড়ে এখন সবুজের ঢেউ। ধান ক্ষেতগুলোতে হৃষ্টপুষ্ট ধানের গোছার পেট চিরে মৌ মাথায় নিয়ে উঁকি দিচ্ছে একেকটি ধানের শীষ। চাষিরা বলছেন, সময়মতো তেল-সার বা পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে ভাল ফলন হয়, ফসলের মাঠ জুড়ে সবুজের এমন হাসি তারই উদাহরণ।
ফলন ভালো হলেও ধানের ন্যায্য দাম নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।
ভাল উৎপাদনের জন্য সব নিয়ামকের উপস্থিতির ফলে এবার বোরোতে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনার কথা জানালেন গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) শওকত ওসমান।
গাইবান্ধা জেলায় এবার ১ লাখ ২৭ হাজার ১শ’ ২৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে।
কালবৈশাখী ঝড় বা প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে এবার ষোলআনা ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। তবে কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফসলের উৎপাদন খরচের সাথে মিল রেখে ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা হলে হয়তো কৃষকরা এবার লাভের মুখ দেখবেন।
দখিণা বাতাসের ধাক্কায় ফসলের মাঠ জুড়ে এখন সবুজের ঢেউ। ধান ক্ষেতগুলোতে হৃষ্টপুষ্ট ধানের গোছার পেট চিরে মৌ মাথায় নিয়ে উঁকি দিচ্ছে একেকটি ধানের শীষ। চাষিরা বলছেন, সময়মতো তেল-সার বা পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে ভাল ফলন হয়, ফসলের মাঠ জুড়ে সবুজের এমন হাসি তারই উদাহরণ।
ফলন ভালো হলেও ধানের ন্যায্য দাম নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।
ভাল উৎপাদনের জন্য সব নিয়ামকের উপস্থিতির ফলে এবার বোরোতে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনার কথা জানালেন গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) শওকত ওসমান।
গাইবান্ধা জেলায় এবার ১ লাখ ২৭ হাজার ১শ’ ২৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে।
কালবৈশাখী ঝড় বা প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে এবার ষোলআনা ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। তবে কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফসলের উৎপাদন খরচের সাথে মিল রেখে ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা হলে হয়তো কৃষকরা এবার লাভের মুখ দেখবেন।
Thursday, March 3, 2016
শেরপুরে এক জমিতে বছরে চার ফসল
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 11:43 AM
শেরপুর শহরের পশ্চিম শেরী এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম। বাড়ির পাশের দেড় একর জমিতে এক বছরে পর্যায়ক্রমে তিনি চারটি ফসলের আবাদ করতে পেরে দারুন খুশি। আউশ মৌসুমে চাষ করেছিলেন বিআর-৪৮ ধান। ১১০ দিনেই সেই ফসল ঘরে তুলেছিলেন একর প্রতি ৪৫ মণ করে। আউশ কেটে আমনে চাষ করেছিলেন বিআর-৬২ ধান। ১০০ দিনেই আমন ফসল কেটে ঘরে তুলেছিলেন। একর প্রতি ফলন মিলেছিল ৫৫ মণ করে। আমন কেটে রবি মৌসুমের শুরুতেই সেই জমিতে রোপণ করেছিলেন বারি-১৪ মরিষা।
মাত্র ৮২ দিনেই সেই সরিষা ঘরে তুলে এবার বোরো রোপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। মাত্র সাড়ে চার হাজার টাকা সরিষা আবাদে খরচ হয়েছে। দেড় একরে সরিষার উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২৫ মণ। বাজারে বর্তমানে এক হাজার ৬০০ টাকা মণ দরে সরিষা বিক্রি হচ্ছে। সরিষার এমন লাভ পেয়ে তিনি দারুণ খুশি। এবার সরিষার লাভের টাকাতেই সেই জমিতে তিনি বিআর-২৮ ধান রোপণ করবেন। আগে থেকেই বীজতলা তৈরি করে রেখেছেন। এখন কেবল সরিষা তোলা জমিতে বোরো রোপণ করবেন। ১৪০-১৪৫ দিনেই বিআর-২৮ ধানের ফলন আসে।
বাংলাদেশ কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (বারি) শেরপুর সরজমিন গবেষণা বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় কৃষক রফিকুল ইসলামের জমিতে এভাবে এক জমিতে পর্যায়ক্রমে চারটি ফসল ফলানো সম্ভব হয়েছে। তাছাড়া সবগুলো ফসল উচ্চ ফলনশীল জাতের হওয়ায় এসব ফসলের ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। এলাকার কৃষকরা একই জমিতে বছরে চার ফসল আবাদ হওয়ায় বিষয়টি দেখে বেশ আশাবাদী হয়ে ওঠেছেন।
কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রথমে বিষয়টি আমার বিশ্বাস হতে চায়নি। কিন্তু নিজের জমিতে বছরে চার ফসল করে এখন মনে হচ্ছে, এটা অসম্ভব কিছু না। এতে উৎপাদন খরচ যেমন কম হয়েছে, তেমনি ফলনও ভালো হয়েছে।” পাশের জমির কৃষক মাহবুব আলী বলেন, “রফিকুলের ক্ষেতের অবস্থা আমি সবসময় দেখেছি। দেখলাম আবাদের অবস্থা খুব ভালো। আগেতো কেবল বোরো আর আমন ধানই করতাম। এবার চিন্তা করছি, চলতি বোরো মৌসুম থেকে আমার দুই একর জমিতেও বছরে চার ফসল কীভাবে করা যায়, সেই ব্যবস্থা নেব।”
আজ শনিবার শহরের পশ্চিম শেরী এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলামের চার ফসলভিত্তিক শস্য আবাদের সরিষা ক্ষেত পরিদর্শনে আসেন বারি গাজীপুরের বিভাগীয় প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহবুবুর রহমান খান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সরেজমিন গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. কামরুল হাসান, উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শহীদুজ্জামান, ড. এম আব্বাস আলী, জামালপুর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. নারায়ণ চন্দ্র বসাক, শেরপুর সরজমিন গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামসুর রহমান প্রমুখ। তাঁরাও এ সরিষা ক্ষেত দেখে ভুয়শী প্রশংসা করেন। এ উপলক্ষে ওই সরিষা ক্ষেতের পাশে আয়োজিত মাঠ দিবসে সদর উপজেলার শতাধিক কৃষক উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বারি গাজীপুরের বিভাগীয় প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহবুবুর রহমান খান বলেন, “ফসল নিবিড়তা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিকরণে চার ফসলভিত্তিক শস্য বিন্যাস উদ্ভাবন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সারা দেশের ১৫টি জেলায় এখন সরজমিন গবেষণা কার্যক্রম চলছে। গবেষণার ফলাফল এখন পর্যন্ত খুব ভালো। আশা করি আগামী বছর থেকে এক জমিতে চার ফসল আবাদের এ কর্মসূচি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।”
বারি শেরপুরের সরজমিন গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামসুর রহমান বলেন, “আমরা শেরপুরে যেভাবে চার ফসলের শস্য বিন্যাস করে আবাদ করেছি তাতে বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে ৩৩৫ দিনেই চারটি ফসল কৃষক ঘরে তুলতে পেরেছে। বিষয়টি খুবই আশা জাগানিয়া। এতে শস্যের নিবিড়তা ও উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে কৃষকদের আয়ও বেড়েছে। এর ফলে উৎপাদন নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব হবে।”
সূত্র: কালের কন্ঠ
মাত্র ৮২ দিনেই সেই সরিষা ঘরে তুলে এবার বোরো রোপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। মাত্র সাড়ে চার হাজার টাকা সরিষা আবাদে খরচ হয়েছে। দেড় একরে সরিষার উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২৫ মণ। বাজারে বর্তমানে এক হাজার ৬০০ টাকা মণ দরে সরিষা বিক্রি হচ্ছে। সরিষার এমন লাভ পেয়ে তিনি দারুণ খুশি। এবার সরিষার লাভের টাকাতেই সেই জমিতে তিনি বিআর-২৮ ধান রোপণ করবেন। আগে থেকেই বীজতলা তৈরি করে রেখেছেন। এখন কেবল সরিষা তোলা জমিতে বোরো রোপণ করবেন। ১৪০-১৪৫ দিনেই বিআর-২৮ ধানের ফলন আসে।
বাংলাদেশ কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (বারি) শেরপুর সরজমিন গবেষণা বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় কৃষক রফিকুল ইসলামের জমিতে এভাবে এক জমিতে পর্যায়ক্রমে চারটি ফসল ফলানো সম্ভব হয়েছে। তাছাড়া সবগুলো ফসল উচ্চ ফলনশীল জাতের হওয়ায় এসব ফসলের ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। এলাকার কৃষকরা একই জমিতে বছরে চার ফসল আবাদ হওয়ায় বিষয়টি দেখে বেশ আশাবাদী হয়ে ওঠেছেন।
কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রথমে বিষয়টি আমার বিশ্বাস হতে চায়নি। কিন্তু নিজের জমিতে বছরে চার ফসল করে এখন মনে হচ্ছে, এটা অসম্ভব কিছু না। এতে উৎপাদন খরচ যেমন কম হয়েছে, তেমনি ফলনও ভালো হয়েছে।” পাশের জমির কৃষক মাহবুব আলী বলেন, “রফিকুলের ক্ষেতের অবস্থা আমি সবসময় দেখেছি। দেখলাম আবাদের অবস্থা খুব ভালো। আগেতো কেবল বোরো আর আমন ধানই করতাম। এবার চিন্তা করছি, চলতি বোরো মৌসুম থেকে আমার দুই একর জমিতেও বছরে চার ফসল কীভাবে করা যায়, সেই ব্যবস্থা নেব।”
আজ শনিবার শহরের পশ্চিম শেরী এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলামের চার ফসলভিত্তিক শস্য আবাদের সরিষা ক্ষেত পরিদর্শনে আসেন বারি গাজীপুরের বিভাগীয় প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহবুবুর রহমান খান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সরেজমিন গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. কামরুল হাসান, উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শহীদুজ্জামান, ড. এম আব্বাস আলী, জামালপুর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. নারায়ণ চন্দ্র বসাক, শেরপুর সরজমিন গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামসুর রহমান প্রমুখ। তাঁরাও এ সরিষা ক্ষেত দেখে ভুয়শী প্রশংসা করেন। এ উপলক্ষে ওই সরিষা ক্ষেতের পাশে আয়োজিত মাঠ দিবসে সদর উপজেলার শতাধিক কৃষক উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বারি গাজীপুরের বিভাগীয় প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহবুবুর রহমান খান বলেন, “ফসল নিবিড়তা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিকরণে চার ফসলভিত্তিক শস্য বিন্যাস উদ্ভাবন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সারা দেশের ১৫টি জেলায় এখন সরজমিন গবেষণা কার্যক্রম চলছে। গবেষণার ফলাফল এখন পর্যন্ত খুব ভালো। আশা করি আগামী বছর থেকে এক জমিতে চার ফসল আবাদের এ কর্মসূচি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।”
বারি শেরপুরের সরজমিন গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামসুর রহমান বলেন, “আমরা শেরপুরে যেভাবে চার ফসলের শস্য বিন্যাস করে আবাদ করেছি তাতে বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে ৩৩৫ দিনেই চারটি ফসল কৃষক ঘরে তুলতে পেরেছে। বিষয়টি খুবই আশা জাগানিয়া। এতে শস্যের নিবিড়তা ও উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে কৃষকদের আয়ও বেড়েছে। এর ফলে উৎপাদন নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব হবে।”
সূত্র: কালের কন্ঠ
Friday, February 26, 2016
আলু সংরক্ষণ পদ্ধতি
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 7:48 AM
হিমাগারে (Cold Storage) আলু সংরক্ষণ
বীজ আলু অবশ্যই হিমাগারে রাখতে হবে। হিমকক্ষে নেয়ার আগে বীজ আলু ২৪-৪৮ ঘন্টা ১৫-১৮ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রায় প্রিকুলিং চেম্বারে রাখতে হবে। এরপর হিমকক্ষে নিয়ে র্যাকের উপর বস্তা সারি করে রেখে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমিয়ে ২.৮-৩.৫ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়। এ সময় আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৮৫-৯০% বজায় রাখতে হবে। সংরক্ষণের সময় ২/৩ বার বস্তা উল্টিয়ে দিলে আলু ভাল থাকে এবং অঙ্কুরিত হয় না। হিমকক্ষে অন্ততঃ সপ্তাহে একবার মুক্তবাতাস দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
কৃষক পর্যায়ে (Farmer’s House) আলু সংরক্ষণ
আলু সংরক্ষণের জন্য হিমাগার সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান। তবে কয়েকটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখলে ঘরেই ৫-৬ মাস ভালভাবে আলু সংরক্ষণ করা যায়। এ বিষয়গুলো হলো, মেঘলা বা বৃষ্টির দিনে আলু তোলা ঠিক না। সকালের সময়ে আলু উঠানো ভাল। আলু সম্পূর্ণভাবে পরিপক্ক হলে তুলতে হয়। আলু উঠানোর ৭-১০ দিন আগে গাছের গোড়া কেটে ফেলা দরকার। আলু তোলার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন কোদাল বা লাঙ্গলের আঘাতে আলু কেটে না যায়। আলু তোলা শেষ হলে তা পরিবহণের সময় চটের বস্তা ব্যবহার করা ভাল। সাধারণত বস্তায় আলু ভরার সময় প্লাস্টিকের ঝুড়ি বা গামলা ব্যবহার করা উত্তম। আলু সংগ্রহ শেষে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাড়িতে নেয়া দরকার। যদি কোন কারণে ক্ষেতে আলু রাখতে হয় তা হলে ছায়াযুক্ত জায়গায় রেখে পাতলা কাপড়/খড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। বাড়িতে এর আলু পরিস্কার, শুকনো ছায়াযুক্ত জায়গায় রাখতে হয়। আলু সংগ্রহ করা সম্পূর্ণ শেষ হলে ১-৭ দিন পরিষ্কার ঠান্ডা জায়গায় আলু বিছিয়ে রেখে পাতলা কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখে কিউরিং করা দরকার। এতে করে আলুর গায়ের ক্ষত সেরে যাবে ও পোকার আক্রমণ থেকে সংগৃহীত আলু রক্ষা পাবে। এ প্রক্রিয়াকে আলু কিউরিং বলে।
সংরক্ষণের আগে কাটা, ফাটা, সবুজ, রোগাক্রান্ত আলু বাছাই করতে হয়। সংগ্রহের ৭-১০ দিনের ভেতর আলু পরিষ্কার করে আকার অনুযায়ী (বড়, মাঝারি, ছোট) গ্রেডিং করতে হবে। বাছাই করা আলু ঠান্ডা ও বাতাসযুক্ত ঘরে সংরক্ষণ করতে হয়। সংরক্ষিত আলু ১০-১৫ সে.মি উঁচু করে মেঝেতে বিছিয়ে রাখতে হবে। এ ছাড়া বাঁশের তৈরি মাচায়, ঘরের তাকে বা চৌকির নিচেও আলু বিছিয়ে রাখা যায়। সংরক্ষিত আলু ১০-১৫ দিন পর নিয়মিত বাছাই করা দরকার। রোগাক্রান্ত, পোকা লাগা ও পচা আলু দেখা মাত্র ফেলে দিতে হবে। আলুতে সুতলি পোকা দেখা গেলে সাথে সাথে বাছাই করে অনেক দূরে গর্ত করে পুঁতে ফেলা দরকার।
কলা সংরক্ষণ
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 7:44 AM
কলার সংগ্রহোত্তর প্রতিটি ধাপের কাজই ছায়াযুক্ত স্থানে করতে হবে। কাঁদি থেকে ফানা আলাদা করার সময় যাতে আঘাতপ্রাপ্ত না হয় সেজন্য কাঁদির নীচে কলার পাতা বা অন্য কিছু বিছিয়ে দিতে হবে। ফানাগুলো পরিষ্কার পানিতে অথবা ১০ পিপিএম ক্লোরিনযুক্ত পানিতে ডুবিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। সংগ্রহোত্তর সময়ে কলার ফানায় যাতে পচন না ধরে সেজন্য পরিষ্কার ও বাছাইকরণের পর ছত্রাকনাশক ওষুধ বেনমিল অথবা থায়াবেনডাজল মিশ্রিত পানিতে কলা পাঁচ মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হবে অথবা কলার গাছে স্প্রে করতে হবে। সংরক্ষণের সময় পলিথিন ব্যাগে ঢুকিয়ে ভিতরের বাতাস বের করে মুখ শক্ত করে বেঁধে দিতে হবে। পলিথিনের মধ্যে পটাশিয়াম পার ম্যাংগানেট ব্যবহার করলে আরো বেশিদিন রাখা যায়। ৮৫ থেকে ৯০% আর্দ্রতায় এবং ১৩ থেকে ১৪ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রায় ২ থেকে ৩ সপ্তাহ সংরক্ষণ করা যায়।
Saturday, February 13, 2016
সবুজ ঘাস সংরক্ষণ
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 11:21 PM
ভূমিকাঃ বাংলাদেশে বৃষ্টির মৌসুমে কোন কোন এলাকায় প্রচুর পরিমানে ঘাস পাওয়া যায়। যেমনঃ দূর্বা, আরাইল, সেচি, দশ, শষ্য খেতের আগাছা ইত্যাদি। বৃষ্টির মৌসুমে গো-সম্পদের স্বাস্থ্যের যথেষ্ট উন্নতিও হয়। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে ঘাসের অভাবে স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। তাই এ সময়ে উৎপাদিত অধিক পরিমান ঘাসকে সংরক্ষন করে রাখার জন্য বাংলাদেশ পশুসম্পদ গবেষণা ইনষ্টিটিউট দেশীয় পদ্ধতিতে সবুজ ঘাসে সংরক্ষণে পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে। এ পদ্ধতিতে গর্তের মর্ধ্যে ঘাস সংরক্ষণ করা হয়।
সংরক্ষণ পদ্ধতিঃ
- প্রথমে শুষ্ক ও উঁচু যায়গা যেখানে পানি জমেনা এরকম স্থনে একটি গর্ত তৈরী করতে হবে।
- গর্তের গভীরতা ৩ ফুট, প্রস্থের তলায় ৩ ফুট, মাঝে ৮ ফুট ও উপরে ১০ ফুট হবে। দৈর্ঘের মাপ নির্ভর করবে ঘাসের পরিমাণের উপর। গর্তটির তলা পাতিলের মত সমভাবে বক্র থাকলে ঘাস চাপানো সহজ হবে।
- ১০০ সিএফটি একটি মাটির গর্তে ২.৫০ থেকে ৩.০০টন সবুজ ঘাস সংরক্ষণ করা যায়।
- সবুজ ঘাসের শতকরা ৩-৪ ভাগ চিটাগুড় মেপে একটি চাড়িতে নিতে হবে।
- তারপর ঘন চিটাগুড়ের মধ্যে ১:১ অথবা ৪:৩ পরিমান পানি মিশালে এটি ঘাসের উপর ছিটানো উপযোগী হবে। ঝরনা বা হাত দ্বারা ছিটিয়ে এ মিশ্রণ ঘাসে সমভাবে মিশানো যাবে।
- গর্তের তলায় পলিথিন দিলে আগে বিছিয়ে নিতে হবে। পলিথিন না দিলে পুরু করে খড় বিছাতে হবে। এরপর দু’পার্শ্বে পলিথিন না দিলে ঘাস সাজানোর সাথে সাথে খড়ের আস্তরণ দিতে হবে।
- এরপর পরতে পরতে সবুজ ঘাস এবং শুকানো খড় দিতে হবে। প্রতি পরতে ৩০০ কেজি সবুজ ঘাস এবং১৫ কেজি শুকানো খড় দিতে হবে।
- ৩০০ কেজি ঘাসের পরতে পূর্বের হিসেবে ৯ থেকে ১২ কেজি চিটাগুড় ও ৮ থেকে ১০ কেজি পানির মিশ্রণ ঝরনা বা হাত দিয়ে সমভাবে ছিটায়ে দিতে হবে।খড়ের মধ্যে কোন চিটাগুড় দিতে হবে না ।
- এভাবে পরতে পরতে ঘাস ও খড় সাজাতে হবে এবং ভালভাবে পাড়িয়ে ভিতরের বাতাস যথাসম্ভব বের করে দিতে হতে।
- এভাবে গর্ত ভর্তি করে মাটি উপরে ৪-৫ ফুট পর্যন্তঘাস সাজাতে হবে। ঘাস সাজানো শেষ হলে খড় দ্বারা পুরু করে আস্তরণ দিয়ে সুন্দর করে মাটি দিতে হবে। সম্পূর্ণ ঘাস একদিনেই সাজানো যায়। তবে বৃষ্টি না থাকলে প্রতিদিন কিছু কিছু করেও কয়েকদিন ব্যাপপী সাইলেজ তৈরী করা যায়।
সাবধানতাঃ
- নীচু জায়গায় গর্ত করা যাবে না। তাতে পানি জমে ঘাস নষ্ট হয়ে থেতে পারে।
- উপরের পলিথিন সুন্দর ভাবে এটে দিতে হবে যাতে কোন পানি ঘাসের ভিতরে প্রবেশ না করে।
- চিটাগুড় পাতলা হলে পরিমান বাড়িয়ে পানি কম করে মিশাতে হবে। বেশী পাতলা হলে ঘাস হতে চইয়ে নীচে চলে যাবে। এমনভাবে দ্রবন তৈরী করতে হবে যাতে আঠার মত ঘাসের গায়ে লেগে থাবে।
- ঘাস এবং খড় এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে ফাকা জায়গাগুলো যথাসম্ভাব বন্ধ হয়ে যায়।
- গর্তের কোনাগুলো এবং পাশা সমূহ পা দিয়ে পাড়িয়ে ঘাস সাজাতে হবে যাতে ফাকা বন্ধ হয়ে যায়।
খাদ্য গ্রহণঃ এভাবে সংরক্ষিত ঘাস প্রতি ১০০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১০ কেজি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। উক্ত বর্ণিত পদ্ধতিতে বর্ষা মৌসুমের প্রাপ্ত ঘাস সংরক্ষণ করলে শুষ্ক মৌসুমে গো-খাদ্যের অভাবে কিছুটা হলেও সমাধান হবে। ঘাস সংরক্ষণের এ প্রযুক্তিটি ব্যবহারে দেশের গো-খাদ্যর অভাব কিছুটা হলেও সমাধান হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
তথ্য:
তথ্য আপা প্রকল্প
আমের মুকুল ঝরার প্রতিকার
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 10:07 AM
আম বাংলাদেশের প্রধান চাষযোগ্য অর্থকরী ফলগুলোর মধ্যে অন্যতম। বৈচিত্রপূর্ণ ব্যবহার, পুষ্টিমান এবং স্বাদ-গন্ধে আম একটি অতুলনীয় ফল। আম চাষাবাদে বিভিন্ন সমস্যা দেখা যায়। তারমধ্যে বিভিন্ন রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ রয়েছে। সঠিক সময়ে রোগ ও পোকামাকড় দমন করতে ব্যর্থ হলে আমের ফলন মারাত্মকভাবে হরাস পেতে পারে। এই সমস্ত রোগ ও পোকামাকড় দমনের জন্য সঠিক বালাইনাশক/ছত্রাকনাশক নির্বাচন করে নির্দিষ্ট মাত্রায় বা ডোজে সঠিক সময়ে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা দরকার।
আম গাছে ফুল আসার ১৫ দিন আগে পর্যাপ্ত সেচ দিতে হবে। টিএসপি ও এমপি সার দিতে হবে দুই-তিন বছর বয়সের গাছে ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম, চার-পাঁচ বছর বয়সের গাছে ৩০০ থেকে ৩৫০ গ্রাম, ছয়-সাত বছর বয়সের গাছে ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম, আট-নয় বছর বয়সের গাছে ৫০০ থেকে ৮০০ গ্রাম এবং ১০ বছরের ঊর্ধ্বে ৮৫০ থেকে এক হাজার ২০০ গ্রাম প্রতি গাছে। ফুল ফোটার সময় মেঘলা ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া থাকলে পুষ্পমঞ্জরিতে পাউডারি মিলডিউ ও অ্যানত্রাকনোজ রোগের আক্রমণ হতে পারে। এতে গাছের পাতা, কচি ডগা, মুকুল ও কচি আমে কালো দাগ পড়ে।
প্রতিকার হচ্ছে মুকুল আসার ১০ দিনের মধ্যে একবার প্রতি লিটার পানির সঙ্গে ১ মিলিলিটার রিপকর্ড বা সিমবুস ১০ ইসি এবং ০.৫ মিলিলিটার টিল্ট ২৫০ ইসি একসাথে মিশিয়ে আমের মুকুল, পাতা, কাণ্ডে স্প্রে করতে হবে। আমগাছে মুকুল আসার সময় হপার পোকা কচি অংশের রস চুষে খায়। ফলে মুকুল শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে ঝরে পড়ে। এ ছাড়া রস চোষার সময় পোকা আঠালো পদার্থ নিঃসৃত করে। এতে ফুলে পরাগরেণু আটকে পরাগায়নে বিঘ্ন ঘটে। এ পোকা দমনের জন্য রিপকর্ড বা সিমবুস ও টিল্ট আগের নিয়মে স্প্রে করতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ পূর্ণাঙ্গ ফুল এবং বর্ধিষ্ণু ভ্রুণের পুষ্টিহীনতা দূর করার জন্য মুকুল ধরার ১৫ দিন আগে উপরিউক্ত নিয়মে সার প্রয়োগ করতে হবে। একই ডালে অনেক ফল ধরলে পুষ্টির জন্য ফলগুলো প্রতিযোগিতা করে বলে ফল ঝরে যায়। অতিরিক্ত ফল পাতলা করে দিতে হবে। হরমোন ও রাসায়নিক পদার্থ স্প্রে করলেও আমের মুকুল ও কচি আম ঝরে পড়া থেকে রক্ষা করা যায়। যেমন- আমের মুকুল গুটি বাঁধার দুই সপ্তাহ পর ২০ পিপিএম মাত্রায় ২৪-ডি স্প্রে করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। আমের গুটি মসুর দানার মত বড় হলে ১০ লিটার পানিতে দুই থেকে তিন মিলিলিটার প্লানোফিক্স স্প্রে করলে ফল ঝরা বন্ধ হয়।
কৃষিবিদ ফরহাদ আহাম্মেদ
লেখক:কৃষি প্রাবন্ধিক ও কলেজ শিক্ষক
আমের ভালো ফলন পেতে যা করণীয়
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 9:59 AM
আমকে বলা হয় ফলের রাজা। রাজা হলেও বেড়ে ওঠার সময় অন্যান্য ফলের মতো তাকেও নানা সমস্যার মোকাবিলা করতে হয়। এসব সমস্যার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণই প্রধান। সঠিক সময়ে রোগ ও পোকামাকড় দমন করতে ব্যর্থ হলে আমের ফলন অনেক কমে যায়। তবে এসব রোগ ও পোকামাকড় দমনের জন্য সঠিক বালাইনাশক বা ছত্রাকনাশক সঠিক মাত্রায়, সঠিক সময়ে, সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে ব্যবহার করলে আমের ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়। আমের ভালো ফলন পাওয়ার জন্য পরিচর্যা শুরু করতে হবে আমবাগানে মুকুল বের হওয়ার আগেই। গাছে মুকুল আসার পরও সমানতালে যত্ন নিতে হবে। আমের ভালো ফলন পেতে করণীয় পদক্ষেপগুলো কৃষক ভাইদের
উপকারার্থে তুলে ধরা হলো—
আমের আনথ্রাকনোজ : পাতায়, কাণ্ডে, মুকুলে ও ফলে এই রোগ দেখা যায়। পাতায় অনিয়মিত দাগ দেখা যায় যেগুলো পরে বাদামি থেকে কালো হয়ে বড় বড় দাগের সৃষ্টি করে এবং পাতা ঝরে যায়। মুকুল কালো হয়ে যায় ও গুটিগুলো পড়ে যায় এবং পাকা আমে স্পষ্ট দাগ দেখা যায় যা পরবর্তী সময়ে বড় হয়ে আমে পচন ধরায়। এ রোগের প্রতিকার হচ্ছে- মুকুল আসার আগে টিল্ট ২৫০ ইসি- ০.৫ মিলিলিটার/লিটার বা ডায়থান এম ৪৫-২ গ্রাম/লিটার স্প্রে করতে হবে এবং বোরডোয়াক্স মিশ্রণের ১% দ্রবণ ১০-১২ দিন পর পর ৩-৪ বার স্প্রে করতে হবে।
বোঁটা পচা রোগ : এটি আমের অন্যতম মারাত্মক রোগ। প্রথমে বোঁটার দিকে পচন ধরে পরে পুরো ফলটি পচে গিয়ে কালো বর্ণ ধারণ করে। গাছে থাকা অবস্থায় জীবাণুটি মুক্ত অবস্থায় থাকে পরে আম সংগ্রহের পরে উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতায় রাখা হলে আক্রান্ত আমের রং বাদামি হয়ে যায়, যা আর খাওয়ার উপযোগী থাকে না। এ রোগের প্রতিকার হচ্ছে প্রায় ২-৩ সে.মি. বোঁটা রেখে আম সংগ্রহ করতে হবে এবং ডায়থান এম ৪৫ অথবা বেভিসটিন (০.২%) স্প্রে করতে হবে।
আমের অঙ্গ বিকৃতি বা ম্যালফরমেশন : এ রোগ সাধারণত মুকুলে হয়। তবে ডালের আগায়ও হতে পারে। আক্রান্ত মুকুল কালো হয়ে যায় এবং মুকুলগুলো একীভূত হয়ে জটলার সৃষ্টি করে। এ রোগের প্রতিকার হচ্ছে- আম ধরার ৮০ থেকে ৯০ দিন আগে ন্যাপথেলিক এসিটিক এসিড স্প্রে করতে হবে ও আক্রান্ত স্থানে কার্বোন্ডাজিম (১ গ্রাম/ লিটার পানি) স্প্রে করতে হবে।
পাউডারি মিলডিউ : পাউডারি মিলডিউ রোগের আক্রমণ প্রধানত আমের মুকুল ও কচি আমে প্রকাশ পায়। প্রথমে আমের মুকুলের শীর্ষ প্রান্তে সাদা বা ধূসর বর্ণের পাউডারের আবরণ দেখা যায়। কচি পাতাতেও রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এই পাউডার হচ্ছে ছত্রাক ও তার বীজকণার সমষ্টি। হালকা বৃষ্টি, মেঘলা বা কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশ এ রোগের জীবাণুর ব্যাপক উত্পাদনে সহায়তা করে। অনুকূল আবহাওয়ায় এই পাউডার সম্পূর্ণ মুকুলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত মুকুলের সব ফুল নষ্ট হয়ে যায়। এ অবস্থায় শুধু মুকুলের দণ্ডটি দাঁড়িয়ে থাকে। আক্রমণ মারাত্মক হলে গাছে কোনো ফল ধরে না। তাছাড়া বেশি আক্রান্ত কচি আম ঝরে পড়ে। এ অবস্থায় রোগের লক্ষণ দেখা দিলেই সালফার বা গন্ধকযুক্ত যে কোনো ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে।
হপার পোকা দমন : হপার পোকা অন্ধকার বা বেশি ছায়াযুক্ত স্থান পছন্দ করে। তাই নিয়মিতভাবে গাছের ডালপালা ছাঁটাই করতে হবে, যাতে গাছের মধ্যে আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে। আমের মুকুল যখন ৩ থেকে ৪ সেন্টিমিটার লম্বা হয় তখন একবার এবং আম যখন মটর দানার মতো আকার ধারণ করে তখন আরেকবার প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি লিটার হারে সাইপারমেথ্রিন (রিপকর্ড বা সিমবুস বা ফেনম বা এরিভো) ১০ ইসি মিশিয়ে পুরো গাছে স্প্রে করতে হবে। আমের হপার পোকার কারণে যেহেতু সুটিমোল্ড বা ঝুল রোগের আক্রমণ ঘটে তাই রোগ দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে সালফার জাতীয় ছত্রাকনাশক হপার পোকা দমনের জন্য ব্যবহার করা কীটনাশকের সঙ্গে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
পরগাছা উদ্ভিদ : পরগাছা উদ্ভিদের বীজ আম গাছের ডালে অঙ্কুরিত হয়ে বাড়তে থাকে। পরগাছা ডাল থেকে প্রয়োজনীয় পানি, খাদ্যরস, খনিজ পদার্থ ইত্যাদি শোষণ করে বেঁচে থাকে। পরগাছার শিকড় থাকে না, তারা শিকড়ের মতো এক প্রকার হস্টোরিয়া তৈরি করে। হস্টোরিয়া গাছের ডালে প্রবেশ করে ডাল থেকে খাদ্য গ্রহণ করে। আক্রান্ত ডালের প্রায় সব খাবার পরগাছা খেয়ে ফেলে। ফলে আক্রান্ত ডাল দুর্বল হয়ে পড়ে। আক্রমণ বেশি হলে আম ডালের অস্তিত্ব থাকে না বরং পরগাছা প্রভাব বিস্তার করে বাড়তে থাকে। লরানথাস জাতীয় পরগাছার পাতা দেখতে কিছুটা আমপাতার মতোই। তাই ভালোভাবে লক্ষ্য না করলে দূর থেকে পরগাছার উপস্থিতি বোঝা যায় না। পরগাছার প্রতিকার পেতে আক্রান্ত ডাল পরগাছার গোড়াসহ কেটে ফেলতে হবে। কাটা স্থানে রোগের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য বোর্দো পেস্টের প্রলেপ দিতে হবে। পরগাছায় ফুল-ফল আসার আগেই পরগাছা ছাঁটাই করা উচিত।
উপকারার্থে তুলে ধরা হলো—
আমের আনথ্রাকনোজ : পাতায়, কাণ্ডে, মুকুলে ও ফলে এই রোগ দেখা যায়। পাতায় অনিয়মিত দাগ দেখা যায় যেগুলো পরে বাদামি থেকে কালো হয়ে বড় বড় দাগের সৃষ্টি করে এবং পাতা ঝরে যায়। মুকুল কালো হয়ে যায় ও গুটিগুলো পড়ে যায় এবং পাকা আমে স্পষ্ট দাগ দেখা যায় যা পরবর্তী সময়ে বড় হয়ে আমে পচন ধরায়। এ রোগের প্রতিকার হচ্ছে- মুকুল আসার আগে টিল্ট ২৫০ ইসি- ০.৫ মিলিলিটার/লিটার বা ডায়থান এম ৪৫-২ গ্রাম/লিটার স্প্রে করতে হবে এবং বোরডোয়াক্স মিশ্রণের ১% দ্রবণ ১০-১২ দিন পর পর ৩-৪ বার স্প্রে করতে হবে।
বোঁটা পচা রোগ : এটি আমের অন্যতম মারাত্মক রোগ। প্রথমে বোঁটার দিকে পচন ধরে পরে পুরো ফলটি পচে গিয়ে কালো বর্ণ ধারণ করে। গাছে থাকা অবস্থায় জীবাণুটি মুক্ত অবস্থায় থাকে পরে আম সংগ্রহের পরে উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতায় রাখা হলে আক্রান্ত আমের রং বাদামি হয়ে যায়, যা আর খাওয়ার উপযোগী থাকে না। এ রোগের প্রতিকার হচ্ছে প্রায় ২-৩ সে.মি. বোঁটা রেখে আম সংগ্রহ করতে হবে এবং ডায়থান এম ৪৫ অথবা বেভিসটিন (০.২%) স্প্রে করতে হবে।
আমের অঙ্গ বিকৃতি বা ম্যালফরমেশন : এ রোগ সাধারণত মুকুলে হয়। তবে ডালের আগায়ও হতে পারে। আক্রান্ত মুকুল কালো হয়ে যায় এবং মুকুলগুলো একীভূত হয়ে জটলার সৃষ্টি করে। এ রোগের প্রতিকার হচ্ছে- আম ধরার ৮০ থেকে ৯০ দিন আগে ন্যাপথেলিক এসিটিক এসিড স্প্রে করতে হবে ও আক্রান্ত স্থানে কার্বোন্ডাজিম (১ গ্রাম/ লিটার পানি) স্প্রে করতে হবে।
পাউডারি মিলডিউ : পাউডারি মিলডিউ রোগের আক্রমণ প্রধানত আমের মুকুল ও কচি আমে প্রকাশ পায়। প্রথমে আমের মুকুলের শীর্ষ প্রান্তে সাদা বা ধূসর বর্ণের পাউডারের আবরণ দেখা যায়। কচি পাতাতেও রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এই পাউডার হচ্ছে ছত্রাক ও তার বীজকণার সমষ্টি। হালকা বৃষ্টি, মেঘলা বা কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশ এ রোগের জীবাণুর ব্যাপক উত্পাদনে সহায়তা করে। অনুকূল আবহাওয়ায় এই পাউডার সম্পূর্ণ মুকুলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত মুকুলের সব ফুল নষ্ট হয়ে যায়। এ অবস্থায় শুধু মুকুলের দণ্ডটি দাঁড়িয়ে থাকে। আক্রমণ মারাত্মক হলে গাছে কোনো ফল ধরে না। তাছাড়া বেশি আক্রান্ত কচি আম ঝরে পড়ে। এ অবস্থায় রোগের লক্ষণ দেখা দিলেই সালফার বা গন্ধকযুক্ত যে কোনো ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে।
হপার পোকা দমন : হপার পোকা অন্ধকার বা বেশি ছায়াযুক্ত স্থান পছন্দ করে। তাই নিয়মিতভাবে গাছের ডালপালা ছাঁটাই করতে হবে, যাতে গাছের মধ্যে আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে। আমের মুকুল যখন ৩ থেকে ৪ সেন্টিমিটার লম্বা হয় তখন একবার এবং আম যখন মটর দানার মতো আকার ধারণ করে তখন আরেকবার প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি লিটার হারে সাইপারমেথ্রিন (রিপকর্ড বা সিমবুস বা ফেনম বা এরিভো) ১০ ইসি মিশিয়ে পুরো গাছে স্প্রে করতে হবে। আমের হপার পোকার কারণে যেহেতু সুটিমোল্ড বা ঝুল রোগের আক্রমণ ঘটে তাই রোগ দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে সালফার জাতীয় ছত্রাকনাশক হপার পোকা দমনের জন্য ব্যবহার করা কীটনাশকের সঙ্গে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
পরগাছা উদ্ভিদ : পরগাছা উদ্ভিদের বীজ আম গাছের ডালে অঙ্কুরিত হয়ে বাড়তে থাকে। পরগাছা ডাল থেকে প্রয়োজনীয় পানি, খাদ্যরস, খনিজ পদার্থ ইত্যাদি শোষণ করে বেঁচে থাকে। পরগাছার শিকড় থাকে না, তারা শিকড়ের মতো এক প্রকার হস্টোরিয়া তৈরি করে। হস্টোরিয়া গাছের ডালে প্রবেশ করে ডাল থেকে খাদ্য গ্রহণ করে। আক্রান্ত ডালের প্রায় সব খাবার পরগাছা খেয়ে ফেলে। ফলে আক্রান্ত ডাল দুর্বল হয়ে পড়ে। আক্রমণ বেশি হলে আম ডালের অস্তিত্ব থাকে না বরং পরগাছা প্রভাব বিস্তার করে বাড়তে থাকে। লরানথাস জাতীয় পরগাছার পাতা দেখতে কিছুটা আমপাতার মতোই। তাই ভালোভাবে লক্ষ্য না করলে দূর থেকে পরগাছার উপস্থিতি বোঝা যায় না। পরগাছার প্রতিকার পেতে আক্রান্ত ডাল পরগাছার গোড়াসহ কেটে ফেলতে হবে। কাটা স্থানে রোগের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য বোর্দো পেস্টের প্রলেপ দিতে হবে। পরগাছায় ফুল-ফল আসার আগেই পরগাছা ছাঁটাই করা উচিত।
Friday, February 12, 2016
আধুনিক পদ্ধতিতে পোকা এবং ইদুরমুক্ত ধান সংরক্ষণ
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 2:09 AM
মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে অন্ন বা খাদ্যের চাহিদা অন্যতম। তাই খাদ্য অপচয় রোধে সঠিকভাবে ব্যবহার এবং সংরক্ষন খুবই প্রয়োজন। বাসা-বাড়িতে খাদ্য সংরক্ষণের অন্যতম শত্রু হচ্ছে ইদুর।ইদুরকে পরিবারের সদস্য ও বলা যায়। কেননা ইদুর মানুষের সাথে বাসা বাড়িতে থেকে আমরা যা খায় ইদুরও তা খাচ্ছে। তারপরও ইদুর আমাদের ক্ষতি করে বিধায় তাদের দমন এর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। আমাদের কৃষকেরা অনেক কষ্ট করে মাঠের ধান বাড়িতে আনার পর থেকেই ইদুর অনেক ধান নষ্ট করে ফেলে। ইদুর দমনের জন্য অনেকে ফাঁদ বা বিষ ব্যবহার করে।
কিন্তু এসব পদ্ধতি নিরাপদ নয়। তাহলে আমরা কিভাবে ধান সংরক্ষণ করতে পারি? হ্যাঁ, আমরা সহজ পদ্ধতির মাধ্যমে ধান ইদুর ও পোকামুক্তভাবে ধান সংরক্ষণ করতে পারি। পার্বত্য চট্টগ্রামে এনজিও সংস্থাগুলোর প্রকল্পের আওতাভুক্ত কাযক্রমের মধ্যে “ধান ব্যাংক ব্যবস্থাপনা” একটি বৈজ্ঞানিক সম্মত আধুনিক পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে ধান সংরক্ষণের জন্য মাচার উপরে তক্তা বা বাশের বেড়া দিয়ে ধান সংরক্ষণ করা হয়।
মাচার নিচের খুটিগুলোতে মাটি থেকে দেড় থেকে দুই ফুট উপরে টিনের প্লেন সীট য়ুক্ত করা হয় যাতে ইদুর উপরে উঠতে না পারে। উপরেও ঢাকনা হিসেবে টিনের প্লেন সীট ব্যবহার করা হয়। পোকা মুক্ত রাখার জন্য ধানের সাথে আধা শুকনা নিমপাতা, বিষকাটালী ব্যবহার করা হয়। শুধু পোকা ও ইদুরমুক্ত নয়, সকলের জন্য খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আপদকালীন বা দুযোগের সময় ধান বিতরণ করা হয় এবং পরবতী মৌসুমে পরিশোধ করা হয়। অনেকটা ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাব পরিচালনা করার মত। পোকা ও ইদুরমুক্ত ধান সংরক্ষন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত কল্পে এটি একটি ভালো পদ্ধতি।
লেখক- লিটন চাকমা
কিন্তু এসব পদ্ধতি নিরাপদ নয়। তাহলে আমরা কিভাবে ধান সংরক্ষণ করতে পারি? হ্যাঁ, আমরা সহজ পদ্ধতির মাধ্যমে ধান ইদুর ও পোকামুক্তভাবে ধান সংরক্ষণ করতে পারি। পার্বত্য চট্টগ্রামে এনজিও সংস্থাগুলোর প্রকল্পের আওতাভুক্ত কাযক্রমের মধ্যে “ধান ব্যাংক ব্যবস্থাপনা” একটি বৈজ্ঞানিক সম্মত আধুনিক পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে ধান সংরক্ষণের জন্য মাচার উপরে তক্তা বা বাশের বেড়া দিয়ে ধান সংরক্ষণ করা হয়।
মাচার নিচের খুটিগুলোতে মাটি থেকে দেড় থেকে দুই ফুট উপরে টিনের প্লেন সীট য়ুক্ত করা হয় যাতে ইদুর উপরে উঠতে না পারে। উপরেও ঢাকনা হিসেবে টিনের প্লেন সীট ব্যবহার করা হয়। পোকা মুক্ত রাখার জন্য ধানের সাথে আধা শুকনা নিমপাতা, বিষকাটালী ব্যবহার করা হয়। শুধু পোকা ও ইদুরমুক্ত নয়, সকলের জন্য খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আপদকালীন বা দুযোগের সময় ধান বিতরণ করা হয় এবং পরবতী মৌসুমে পরিশোধ করা হয়। অনেকটা ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাব পরিচালনা করার মত। পোকা ও ইদুরমুক্ত ধান সংরক্ষন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত কল্পে এটি একটি ভালো পদ্ধতি।
লেখক- লিটন চাকমা
Subscribe to:
Posts (Atom)