Showing posts with label ছাগল. Show all posts
Showing posts with label ছাগল. Show all posts

Friday, July 14, 2017

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন - আদর্শ খামার পদ্ধতি

  • Share The Gag
  • ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন -আদর্শ খামার পদ্ধতি

    ভূমিকাঃ এদেশে প্রাপ্ত প্রায় ২০ মিলিয়ন ছাগলের প্রায় ৯৩ ভাগ পালন করে ক্ষুদ্র এবং মাঝারী ধরণের খামারীরা। বাংলাদেশে প্রাপ্ত ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মাংস যেমন সুস্বাদু চামড়া তেমনি আন্তর্জাতিকভাবে উন্নতমানের বলে স্বীকৃত। তাছাড়া ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের বাচ্চা উৎপাদন ক্ষমতা অধিক এবং তারা দেশীয় জলবায়ুতে বিশেষভাবে উৎপাদন উপযোগী। এসব গুনাবলী থাকা সত্ত্বেও ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের বাণিজ্যিক উৎপাদন এদেশে এখনো চোখে পরার মত প্রসার লাভ করেনি। এর অন্যতম কারণ ইন্টেনসিভ বা সেমি-ইন্টেনসিভ পদ্ধতিতে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালনের ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব। সরকারী - বেসরকারি ভাবে প্রশিক্ষণের ব্যাবস্থা থাকা সত্ত্বেও আমাদের অনিহা । সার্বিক কৃষির উপরে আমাদের বিরূপ মনোভাব বা অবহেলা ।

    যে ভাবে একটি আদর্শ ছাগল খামার শুরু করবেন -----
    ঘর নির্মাণ ------ ছাগল সাধারণত: পরিষ্কার, শুষ্ক, দুর্গন্ধমুক্ত, উষ্ণ, পর্যাপ্ত আলো ও বায়ূ চলাচলকারী পরিবেশ পছন্দ করে। গোবরযুক্ত, স্যাঁত স্যাঁতে, বদ্ধ, অন্ধকার ও গন্ধময় পরিবেশে ছাগলের বিভিন্ন রোগবালাই যেমন: নিউমোনিয়া, একথাইমা, চর্মরোগ, ডায়রিয়া ইত্যাদি বিভিন্ন জাতীয় সংক্রামক ও পরজীবীয় রোগ হতে পারে। সেই সাথে ওজন বৃদ্ধির হার, দুধের পরিমাণ এবং প্রজনন দক্ষতা কমে যায়।
    ঘর নির্মাণের স্থান ----- পূর্ব পশ্চিমে লম্বালম্বী, দক্ষিণ দিক খোলাস্থানে ঘর নির্মাণ করা উচিৎ। খামারের তিন দিকে ঘেরা পরিবেশ, বিশেষ করে উত্তর দিকে গাছপালা লাগাতে হবে। ছাগল খামারে স্থান নির্বাচনে অবশ্যই অপেক্ষাকৃত উঁচু এবং উত্তম পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রতিটি পূর্ণ বয়স্ক ছাগলের জন্য গড়ে ৮-১০ বর্গ ফুট জায়গা প্রয়োজন। প্রতিটি বাড়ন্ত বাচ্চার জন্য গড়ে ৫ বর্গফুট জায়গা প্রয়োজন। ছাগলের ঘর ছন, গোল পাতা, খড়, টিন বা ইটের তৈরী হতে পারে। তবে যে ধরণের ঘরই হউক না কেন, ঘরের ভিতর বাঁশ বা কাঠের মাচা তৈরী করে তার উপর ছাগল রাখতে হবে। মাচার উচ্চতা ৪/৫ ফুট এবং মাচা থেকে ছাদের উচ্চতা ৬-৮ ফুট হতে হবে। মল মুত্র পড়ার সুবিধার্থে বাঁশের চটা বা কাঠকে ২ ইঞ্চি ফাঁকা রাখতে হবে। মাচার নিচ থেকে সহজে মল মুত্র সরানোর জন্য ঘরের মেঝে মাঝ বরাবর উঁচু করে দুই পার্শ্বে ঢালু রাখতে হবে। মেঝে মাটির হলে সেখানে পর্যাপ্ত বালি মাটি দিতে হবে। ছাগলের ঘরের দেয়াল, মাচার নিচের অংশ ফাঁকা রাখতে হবে এবং মাচার উপরের অংশ এম.এম. ফ্ল্যাক্সিবল নেট দিতে হবে। বৃষ্টি যেন সরাসরি না ঢুকে সে জন্য ছাগলের ঘরের চালা ৩/৪ ফুট ঝুলিয়ে দেয়া প্রয়োজন। শীতকালে রাতের বেলায় মাচার উপরের দেয়ালকে চট দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। মাচার উপর ৪/৫ ইঞ্চি পুরু খড়ের বেডিং বিছিয়ে দিতে হবে। বিভিন্ন বয়সের এবং বিভিন্ন ধরণের ছাগলকে ভিন্ন ভিন্ন ঘরে রাখা উচিৎ। পাঁঠাকে সব সময় ছাগী থেকে পৃথক করে রাখা উচিৎ। দুগ্ধবতী, গর্ভবতী ও শুষ্ক ছাগীকে একসাথে রাখা যেতে পারে। তবে তাদের পৃ্থক খাওয়ানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। শীতকালে বাচ্চাকে রাতের বেলা মায়ের সাথে ব্রুডিং পেনে রাখতে হবে। ব্রুডিং পেন একটি খাঁচা বিশেষ যা কাঠের বা বাঁশের তৈরী হতে পারে। এর চারপার্শ্বে চটের ব্যবস্থা দিয়ে ঢাকা থাকে।

    খাদ্য ব্যবস্থাপনা ----- ছাগলের খাদ্য ব্যবস্থাপনাই খামারের অন্যতম প্রধান বিষয়। ইন্টেনসিভ এবং সেমি-ইন্টেনসিভ পদ্ধতিতে ছাগলের খাদ্যের পরিমাণ ও গুনগত মান নির্ভর করে, চারণ ভূমিতে প্রাপ্ত ঘাসের পরিমাণ ও গুনগত মানের উপর।

    ছাগলের বাচ্চাকে কলষ্ট্রাম (শাল দুধ) খাওয়ানো ---- সাধারণত ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের বাচ্চার ওজন ০.৮-১.৫ কেজি (গড়ে ১.০০ কেজি) ওজন হয়। বাচ্চা জন্মের পরপরই পরিস্কার করে আধা ঘন্টার মধ্যেই মায়ের শাল দুধ খেতে দিতে হবে। ছাগলের বাচ্চার প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১৫০ থেকে ২০০ গ্রাম শাল দুধ খাওয়ানো প্রয়োজন। এই পরিমাণ দুধ দিনে ৮-১০ বারে খাওয়াতে হবে। শাল দুধ বাচ্চার শরীরে এন্টিবডি তৈরী করে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করে। দুই বা ততোধিক বাচ্চা হলে প্রত্যেকেই যেন শাল দুধ পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল ছানা সাধারণত ২-৩ মাসের মধ্যে দুধ ছাড়ে। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের দুধ উৎপাদন কম হওয়ায় ২-৩ ছানা বিশিষ্ট মা ছাগীর দুধ কখনো কখনো বাচ্চার প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে পারেনা। এক্ষেত্রে ছানাকে পরিমাণমত ৩৭-৩৮ সেঃ তাপমাত্রায় অন্য ছাগলের দুধ বা মিল্ক রিপ্রেসার খাওয়ানো উচিত। ছাগলের বাচ্চার দানাদার খদ্যের মিশ্রণ কম আঁশ, উচ্চ প্রোটিন, উচ্চ বিপাকীয় শক্তি সম্পন্ন হতে হয়।
    ছাগলের বাচ্চাকে দানাদার খাদ্য খাওয়ানো ------ ছাগল ছানা প্রথমে মায়ের সাথেই দানাদার খাবার খেতে অভ্যস্থ হয়। ছাগলের বাচচাকে জন্মের প্রথমে সপ্তাহ থেকে ঘাসের সাথে পরিচিত করে তুলতে হবে। সাধারণত শুরুতে মায়ের সাথেই বাচ্চা ঘাস খেতে শিখে। অভ্যস্থ করলে সাধারণত দুই সপ্তাহ থেকেই বাচচা অল্প অল্প ঘাস খায়। এ সময়ে বাচ্চাকে কচি ঘাস যেমন: দুর্বা, স্পেনডিডা, রোজী, পিকাটুলাম, সেন্টোসোমা, এন্ড্রোপোগন প্রভৃতি ঘাস খাওয়ানো যেতে পারে। তাছাড়া, ইপিল ইপিল, কাঁঠাল পাতা, ধইনচা ইত্যাদি পাতা খাওয়ানো যেতে পারে।

    বাড়ন্ত ছাগলের খাদ্য ব্যবস্থাপনা ----- ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের ৩-১২ মাস সময়কালকে মূল বাড়ন্ত সময় বলা যায়। এ সময়ে যেসব ছাগল প্রজনন বা মাংস উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হবে তাদের খাদ্য পুষ্টি চাহিদা যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে। দুধ ছাড়ানোর পর থেকে পাঁচ মাস পর্যন্ত সময়ে ছাগলের পুষ্টি সরবরাহ অত্যন্ত নাজুক পর্যায়ে থাকে। এ সময়ে একদিকে ছাগল দুধ থেকে প্রাপ্ত প্রোটিন ও বিপাকীয় শক্তি থেকে যেমন বঞ্চিত হয়, তেমনি মাইক্রোবিয়াল ফার্মেন্টেশন থেকে প্রাপ্ত পুষ্টি সরবরাহও কম থাকে। এজন্য এ সময়ে পর্যাপ্ত প্রোটিন সমৃদ্ধ দানাদার ও আঁশ জাতীয় খাদ্য দিতে হবে। ঘাসের পরিমাণ ও গুনগত মান বেশি হলে দানাদার খাদ্যের পরিমাণ কমবে এবং পরিমাণ ও গুনগত মান কম হলে উপরোক্ত পরিমাণ দানাদার খাদ্যেই চলবে।

    ব্লাক বেঙ্গল বাড়ন্ত ছাগলের জন্য একটি আদর্শ খাদ্য তালিকা নিচে দেয়া হলো ----
    ছাগলের ওজন (কেজি)---দানাদার খাদ্য দৈনিক সরবরাহ (গ্রাম)--ঘাস সরবরাহ(কেজি)
    ৪------------------------------------১০০------------------------------------০.৪
    ৬------------------------------------১৫০------------------------------------০.৬
    ৮-----------------------------------২০০-------------------------------------০.৮
    ১০----------------------------------২৫০-------------------------------------১.৫
    ১২----------------------------------৩০০-------------------------------------২.০
    ১৪----------------------------------৩৫০-------------------------------------২.৫
    ১৬----------------------------------৩৫০-------------------------------------৩.০
    ১৮ কেজি বা তার উপরে--------৩৫০-------------------------------------৩.৫

    প্রজননক্ষম পাঁঠার খাদ্য ব্যবস্থাপনা --- পাঁঠার খাদ্য ব্যবস্থাপনা বাড়ন্ত ছাগলের মতই। তবে প্রজননে সহায়তার জন্য প্রতিটি পাঁঠাকে দৈনিক ১০ গ্রাম ভিজানো ছোলা দেয়া প্রয়োজন। একটি পাঁঠা ১০ মাস থেকে ৩ বছর পর্যন্ত প্রজননক্ষম থাকে। কোনভাবেই পাঁঠাকে বেশি চর্বি জমতে দেয়া উচিত নয়। ২৮-৩০ কেজি ওজনের পাঁঠার জন্য দৈনিক ৪০০ গ্রাম পরিমাণ দানাদার খাবার দেয়া প্রয়োজন।
    দুগ্ধবতী ও গর্ভবতী ছাগলের খাদ্য ব্যবস্থথাক ---- দুগ্ধবতী ছাগল তার ওজনের ৫-৬ শতাংশ হারে শুষ্ক পদার্থ খেয়ে থাকে। একটি তিন বছর বয়স্ক ২য় বার বাচ্চা দেয়া ছাগীর গড় ওজন ৩০ কেজি হারে দৈনিক ১.৫-১.৮ কেজি শুষ্ক পদার্থ খেয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ১ বা ১.৫ কেজি পরিমাণ শুষ্ক পদার্থ ঘাস থেকে (৩-৫ কেজি কাঁচা ঘাস) বাকি ০.৫-০.৮ কেজি শুষ্ক পদার্থ দানাদার খাদ্য থেকে দেয়া উচিত। যেহেতু ছাগী বাচ্চা দেয়ার ১.৫- ২.০ মাসের মধ্যে গর্ভবতী হয় সেজন্য প্রায় একই পরিমাণের খাবার গর্ভাবস্থায়ও ছাগলকে দিতে হবে।

    ছাগলের দানাদার খাদ্যের সাধারণ মিশ্রণ নিন্মরুপ-----
    গম/ভূট্টা ভাঙ্গা/চাল----------------------------------------------------১২.০০%
    গমের ভূষি/আটা কুড়া------------------------------------------------৪৭.০০%
    খেসারী/মাসকালাই/অন্য ডালের ভূষি------------------------------১৬.০০%
    সয়াবিন খৈল----------------------------------------------------------২০.০০%
    শুটকি মাছের গুড়া-----------------------------------------------------১.৫০%
    ডাই-ক্যালসিয়াম ফসফেট-------------------------------------------২.০০%
    লবণ---------------------------------------------------------------------১.০০%
    ভিটামিন মিনারেল প্রিমিক্স -------------------------------------------০.৫০%




    মোট ------------------------------------------------------------------১০০.০০%

    ছাগলের চরানো -------- ঘাস সরবরাহের জন্য নেপিয়ার, স্পেনডিডা, পিকাটুলুম, রোজী, পারা, জার্মান ইত্যাদির চাষ করা যেতে পারে। মাঠের চারপার্শ্বে ইপিল ইপিল গাছ লাগানো যেতে পারে। তাছাড়া বর্ষাকালে চারণ ভূমিতে ঘাসের সাথে মাসকালাই ছিটিয়ে দিলেও ঘাসের খাদ্যমান অনেক বেড়ে যায়। শীতকালে অনেক সময় পর্যাপ্ত ঘাস পাওয়া যায় না। এজন্য এ সময়ে ছাগলকে ইউএমএস (ইউরিয়া ৩%, মোলাসেস ১৫%, খড় ৮২%)-এর সাথে এ্যালজির পানি খাওয়ানো যেতে পারে।

    প্রজনন ব্যবস্থাপনা ------- একটা পাঁঠা সাধারণত: ৩/৪ মাস বয়সে যৌবন প্রাপ্ত হয় কিন্তু আট/নয় মাস বয়সের পূর্বে পাল দেবার জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়। কোন পাঁঠার শারীরিক দুর্বলতা, পঙ্গুত্ব বা কোন যৌন অসুখ ,সমস্ত পালকে নষ্ট করে দিতে পারে। তাই সেদিকে অবশ্যই মনোযোগী হতে হবে। দশটি ছাগীর জন্য একটা পাঁঠাই যথেষ্ট। ছাগী যখন প্রমবারে (৫-৬ মাস বয়সে) গরম (Heat) হয় তখন তাকে পাল না দেওয়াই ভাল। এক্ষেত্রে এক/দুইটি হিট বাদ দিয়ে মোটামুটি ১১-১২ কেজি ওজনের সময় পাল দেয়া উচিত। ছাগীর হিটে আসার লক্ষণগুলো হচ্ছে- মিউকাস নিঃসরণ, ডাকাডাকি করবে, অন্য ছাগীর উপর উঠা ইত্যাদি। ছাগী হিটে আসার ১২-৩৬ ঘন্টার মধ্যে পাল দেওয়া উচিত। অর্থাৎ সকালে হিটে আসলে বিকেলে এবং বিকেলে হিটে আসলে পরদিন সকালে পাল দিতে হবে।

    স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ------- ছাগলের খামারে রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এজন্য নিয়মিত পিপিআর টিকা, কৃমিনাশক ইত্যাদির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হয়। ছাগলের সবচেয়ে মারাত্ক রোগ পি.পি.আর এবং গোটপক্সের ভেক্সিন জন্মের ৩ মাস পরে দিতে হয়। বছরে দুবার বর্ষার আগে (এপ্রিল-মে) কৃমিনাশক এবং বর্ষার শেষে (অক্টোবর-নভেম্বর) কৃমিনাশক যেমন: নেমাফেক্স, রেলনেক্স অথবা ফেনাজল ইত্যাদি খাওয়ানো যেতে পারে। তাছাড়া যকৃত কৃমির জন্য ফেসিনেক্স, ডোভাইন, ইত্যাদি ব্যবহার করা প্রয়োজন। কোন ছাগলের চর্মরোগ দেখা দিলে তা ফার্ম থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। যে কোন নূতন ছাগল খামারে প্রবেশ করানোর আগে কমপক্ষে এক সপ্তাহ অন্যস্থানে রেখে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। খামারের সকল ছাগলকে ১৫-৩০ দিন পর পর ০.৫% মেলাথায়ন দ্রবণে ডিপিং করানো (চুবানো) উচিত। তাছাড়া ম্যাসটাইটিসসহ অন্যান্য সংক্রমক রোগের জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া বাঞ্ছনীয়।

    বাচ্চার ব্যবস্থাপনা ------ * বাচ্চা বয়সে ডায়রিয়া, বাচ্চা মৃত্যুর অন্যতম কারণ। এজন্য বাচ্চাকে সব সময় পরিচ্ছন্ন জায়গায় এবং পরিমান মত দুধ খাওয়াতে হবে। ফিডার ও অন্যান্য খাদ্য পাত্র সবসময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
    * জন্মের পর পর বাচ্চাকে পরিস্কার করে নাভি থেকে ৩-৪ সেঃ মিঃ নিচে কেটে দিতে হবে।
    * যে বাচ্চার মায়ের দুধের পরিমাণ কম তাদেরকে বোতলে অন্য ছাগলের দুধ/বিকল্প দুধ (মিল্ক রিপেসার) খাওয়াতে হবে।
    * শীতের সময়ে বাচ্চাকে মায়ের সাথে ব্রুডিং পেনে রেখে ২৫-২৮ সেঃ তাপমাত্রায় রাখতে হবে।
    * বাচ্চা যেন অতিরিক্ত দুধ না খায় তা লক্ষ্য রাখতে হবে।
    * যেসব পাঁঠা বাচ্চা প্রজনন কাজে ব্যবহৃত হবে না তাদেরকে ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে খাসি করাতে হবে।

    ছাগলের টিকা প্রদান কর্মসূচি



    কৃমিনাশক ঔষধ প্রয়োগঃ

    সকল ছাগলকে নির্ধারিত মাত্রায় বছরে দুইবার কৃমিনাশক ঔষধ প্রদান করতে হবে। কৃমিনাশক কর্মসূচি অনুসরণের জন্য পশু চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। খাদ্য ব্যবস্থাপনাঃ ছাগলকে রাস্তার ধার, পুকুর পাড়, জমির আইল, পতিত জমি বা পাহাড়ের ঢালে বেঁধে বা ছেড়ে ৮-৯ ঘন্টা ঘাস খাওয়াতে পারলে খুব উপকার হবে। এ ধরনের সুযোগ না থাকলে প্রতি ২০ কেজি ওজনের ছাগলের জন্য দৈনিক ০.৫-১ কেজি পরিমাণ কাঠাঁল, ইপিল ইপিল, ঝিকা, বাবলা পাতা অথবা এদের মিশ্রণ দেয়া যেতে পারে। প্রতিটি ছাগলকে দৈনিক ২৫০-৩০০ গ্রাম ঘরে প্রস্তুতকৃত দানাদার খাদ্য দেয়া যেতে পারে। ১০ কেজি দানাদার খাদ্য মিশ্রণে যেসব উপাদান থাকা প্রয়োজন তা হচ্ছেঃ চাল ভাঙ্গা ৪ কেজি, ঢেঁকি ছাঁটা চালের কুড়া ৫ কেজি, খেসারি বা অন্য কোনো ডালের ভূষি ৫০০ গ্রাম, ঝিনুকের গুড়া ২০০ গ্রাম এবং লবণ ৩০০ গ্রাম। ইউরিয়া দ্বারা প্রক্রিয়াজাত খড় ও সাইলেজ খাওয়ালে ভাল হয়। কারণ প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে আমিষের পরিমাণ বেশি থাকে এবং পরিপাকও ভালোভাবে হয়। জন্মের পর থেকেই ছাগল ছানাকে আঁশ জাতীয় খাদ্য যেমন কাঁচা ঘাস ইত্যাদিতে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। দানাদার খাদ্য খাওয়ানোর পর ছাগলকে পর্যাপ্ত পরিমাণ পরিষ্কার পানি খেতে দিতে হবে। বাড়ন্ত ছাগলকে দৈনিক প্রায় ১ লিটারের মতো পানি পান করা উচিত। কাঁচাঘাস কম বা এর অভাব ঘটলে ছাগলকে ইউরিয়া-চিটাগুড় মেশানো খড় নিম্নোক্ত প্রণালীতে বানিয়ে খাওয়াতে হবে। উপকরণঃ ২-৩ ইঞ্চি মাপের কাটা খড় ১ কেজি, চিটাগুড় ২২০ গ্রাম, ইউরিয়া ৩০ গ্রাম ও পানি ৬০০ গ্রাম। এবারে পানিতে ইউরিয়া গুলে তাতে চিটাগুড় দিয়ে খড়ের সাথে মিশিয়ে সরাসরি ছাগলকে দিতে হবে। খাসীর ক্ষেত্রে তিন-চার মাস বয়সে দুধ ছাড়ানোর পর নিয়মিত সঠিকভাবে এই প্রক্রিয়াজাত খাদ্য খাওয়ালে দৈনিক ৬০ গ্রাম করে দৈহিক ওজন বাড়ে ও এক বছরের মধ্যে ১৮-২২ কেজি ওজন প্রাপ্ত হয়ে থাকে। খাসীকে দৈহিক ওজনের উপর ভিত্তি করে মোট ওজনের ৭% পর্যন্ত পাতা বা ঘাস জাতীয় খাদ্য দানাদার খাদ্যের মিশ্রণ (চাল ভাঙ্গা ৪০%, কুড়া ৫০%, ডালের ভূষি ৫৫, লবণ ৩% এবং ঝিনুকের গুড়া ২%) ১০০ গ্রাম থেকে সর্বোচ্চ ৩০০ গ্রাম ও ভাতের মাড় ৪০০ গ্রাম পর্যন্ত খেতে দেয়া যেতে পারে। খাসীর ওজন ২০ কেজির বেশি হয়ে গেলে এদের দেহে চর্বির পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই এ সময়েই এদেরকে বাজারজাত করা উচিত। ছাগল খামারের খাদ্য খরচ মোট খরচের ৬০-৭০% হওয়া আবশ্যক। বাণিজ্যিক খামারের লাভ-লোকসান তাই খাদ্য ব্যবস্থাপনার উপর নির্ভরশীল। নিম্নে বাণিজ্যিকভাবে পালিত ছাগলের দানাদার খাদ্যের সাধারণ মিশ্রণ প্রদত্ত হলঃ ছাগলের বাচ্চার বয়স অনুযায়ী খাদ্য সরবরাহের পরিমাণ

    এ রোগটি প্রোটোজোয়া দ্বারা হয়ে থাকে। ছাগল মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হলে

    নিমড়বলিখিত সাধারণ লক্ষণসমূহ দেখা যায়-

    ১। শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।


    ২। চামড়ার লোম খাড়া দেখায়।


    ৩। খাদ্য গ্রহণ ও জাবরকাটা বন্ধ হয়ে যায়।


    ৪। ঝিমাতে থাকে ও মাটিতে শুয়ে পড়ে।


    ৫। চোখের পানি ও মুখ দিয়ে লালা নির্গত হয়।


    ছাগল ভাইরাস রোগে আক্রান্ত হলে এদের মৃত্যু হতে পারে। ভাইরাস রোগের 
    আক্রান্ত পশুর চিকিৎসা করে সুফল পাওয়া যায় না। ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত
    রোগেও ছাগলের মৃত্যু হয়ে থাকে। তবে এ ক্ষেত্রে চিকিৎসা করে অনেক ক্ষেত্রেই
    সুস্থ করে তোলা যায়। ছাগলের রোগ প্রতিরোধের জন্য ছাগল


    খামারে নিম্নলিখিত পদক্ষেপসমূহ অনুসরণ করতে হবে-


    ১। ছাগলের ঘর ও এর চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা।


    ২। ছাগলকে সময়মতো টিকা দেয়াও কৃমিনাশক ঔষধ খাওয়ানো।


    ৩। ছাগলকে তাজা খাদ্য খেতে দেয়া।


    ৪। ছাগলকে সুষম খাদ্য ও পানি সরবরাহ করা।


    ৫। ছাগলের ঘরের মেঝে শুষ্ক রাখার ব্যবস্থা করা।


    ৬। ছাগলের বিষ্ঠা খামার থেকে দূরে সংরক্ষণ করা।


    ছাগলের খামারে রোগ দেখা দিলে পশুচিকিৎসকের সাথে পরামর্শ 
    করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে-


    ১। অসুস্থ ছাগলকে আলাদা করে পর্যবেক্ষণ করা ও চিকিৎসা দেওয়া।


    ২। প্রয়োজনে ছাগলের মলমূত্র পরীক্ষার ব্যবস্থা করা।


    ৩। মৃত ছাগলকে মাটির নিচে চাপা দেওয়া।

    দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে ছাগল পালনের মাধ্যমে
    স্বাবলম্বী হতে পারে। ছাগল ভূমিহীন কৃষক ও দুস্থ নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের
    একটি উল্লেখযোগ্য উপায়। বিশেষ করে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল দেশের দরিদ্র
    জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য মোচনে ভূমিকা রাখতে পারে। লিখেছেন- কৃষিবিদ
    মোঃ নিয়ামুল কবীর


    দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ছাগলের গুরুত্ব অপরিসীম। জাতীয় অর্থনীতিতে
    ছাগলের গুরুত্ব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী স্বল্প পুঁজি
    বিনিয়োগ করে ছাগল পালনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারে। ছাগল ভূমিহীন কৃষক
    ও দুস্থ নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের একটি উল্লেখযোগ্য উপায়। ছাগলের মাংস
    উন্নতমানের প্রাণিজ আমিষের উৎস। ছাগলের দুধ সহজে হজম হয়। আদিকাল
    থেকে গ্রামবাংলার নারীরা বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে ছাগল পালন করে আসছেন।
    তাই বলা যায়, ছাগল বিশেষ করে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর
    দারিদ্র্য মোচনে ভূমিকা রাখতে পারে। ছাগল পালনের তেমন কোনো কারিগরি
    দক্ষতার প্রয়োজন হয় না। ছোট প্রাণী, দাম কমÑ তাই প্রাথমিকভাবে স্বল্প পুঁজি
    বিনিয়োগ করা যায়। ছাগলের রোগবালাই তুলনামূলক কম। ১২ মাসে দু’বার
    বাচ্চা পাওয়া যায়। প্রতিবারে ১-৪টি বাচ্চা দেয়। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের রোগপ্রতিরোধ
    ক্ষমতা বেশি। চামড়া খুবই মূল্যবান, যা বিদেশে রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা
    অর্জন করা সম্ভব। ছাগল লালন-পালন ও চিকিৎসা খরচ অন্যান্য পশুর তুলনায়
    অনেক কম।

    ছাগলের জাত পরিচিতি

    পৃথিবীতে বিভিন্ন জাতের ছাগল রয়েছে। বাংলাদেশে ব্ল্যাক বেঙ্গল, যমুনাপারি,
    বারবারি জাতের ছাগল দেখা যায়। তবে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বাংলাদেশের আবহাওয়ায়
    বেশি উপযোগী। এদেশে কালো রঙের যে ছাগল পাওয়া যায় সেটি ব্ল্যাক বেঙ্গল
    বা বাংলার কালো ছাগল নামে পরিচিত। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল শুধু কালো রঙের হয়
    না। কালো রঙ ছাড়াও সাদা ও ধূসর বর্ণের হয়ে থাকে। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের
    মাংসের চাহিদা রয়েছে সারা বিশ্বে।

    ব্ল্যাক বেঙ্গল-দেশি জাতের ছাগলের বৈশিষ্ট্য

    আকারে ছোট কিন্তু মোটাসোটা ও একসঙ্গে দুই থেকে চারটি বাচ্চা দেয়। গায়ের
    লোম ছোট ও মসৃণ।

    পাঁঠার ওজন ২০ থেকে ৩০ কেজি। ছাগীর ওজন ১৫ থেকে ২৫ কেজি। খাসির
    ওজন ২০ থেকে ৩৫ কেজি।

    ছাগীর শিং ছোট (৫ থেকে ৬ সেন্টিমিটার) এবং সরু ও ঊর্ধ্বমুখী। কিছু কিছু
    পাঁঠা ও ছাগীর দাঁড়ি থাকে।

    কিন্তু পাঁঠার শিং তুলনামূলকভাবে বড় (১১ থেকে ১২ সেন্টিমিটার) মোটা এবং
    পেছনের দিকে বাঁকানো।

    ছাগলের বাসস্থান

    ছাগল পালনের জন্য খুব উন্নতমানের বাসস্থানের প্রয়োজন হয় না। বাসস্থানের জন্য
    সাধারণ ব্যবস্থাই যথেষ্ট। ছাগল সাধারণত শুষ্ক আবহাওয়া, পরিষ্কার, দুর্গন্ধমুক্ত, উষ্ণ
    ও প্রচুর আলো-বাতাস চলাচলকারী পরিবেশে থাকতে পছন্দ করে। ভিজা স্যাঁতসেঁতে,
    গোবরযুক্ত, দুর্গন্ধময়, বদ্ধ ও অন্ধকার পরিবেশ ছাগলের রোগবালাইয়ের উৎস
    হিসেবে কাজ করে। নিউমোনিয়া, চর্মরোগ, ডায়রিয়া ইত্যাদি সংক্রামক ও পরজীবী
    রোগ হতে পারে। ফলে ছাগলের ওজন বৃদ্ধির হার, দুধের পরিমাণ এবং প্রজনন
    ক্ষমতা কমে যায়। আমাদের দেশে গ্রামেগঞ্জে সাধারণত পারিবারিক পর্যায়ে ছাগল
    পালন করা হয়ে থাকে, যার জন্য আলাদা বাসস্থানের বন্দোবস্ত করা হয় না।
    গোয়ালঘরের এক কোণে বা ঘরের বারান্দায়, রান্নাঘরের এক কোণে এমনকি নিজের
    শোয়ারঘরে রাতে ছাগল থাকার ব্যবস্থা করে থাকেন অনেকে। যাদের আর্থিক সামর্থ্য
    আছে তারা ছাগলের জন্য আলাদা ঘর তৈরি করে থাকেন। এসব ঘর নির্দিষ্ট কোনো
    মাপে তৈরি করা হয় না। ছাগী, পাঁঠা, বাচ্চা একই ঘরে রাখা হয়। ছাগলের খামারের
    জন্য আলাদা ঘর তোলার সময় বিবেচনা করতে হয়Ñ

    ঘরের আয়তন বা মাপ

    একটি ছাগলের জন্য কমপক্ষে চারদিকে ১.৫ মিটার বর্গাকার জায়গা প্রয়োজন
    (১.৫ মিটারÍ১.৫ মিটার)। দোচালা বা চারচালা ঘর হলে দেয়াল কমপক্ষে ২ থেকে
    ২.৫ মিটার উচ্চতা হতে হবে। পর্যাপ্ত আলো-বাতাস যাতে ঘরে প্রবেশ করতে পারে
    সে ব্যবস্থা রাখতে হবে।

    ছাগলের খাদ্য ব্যবস্থাপনা

    ছাগল প্রায় সব ধরনের লতাপাতা খেতে পছন্দ করে। সব সময় একই ধরনের খাবার
    খেতে পছন্দ করে না। অন্য পশুর ফেলে দেয়া বা নোংরা করা খাবার ছাগল পছন্দ
    করে না। ছাগল মাঠে অতি ক্ষুদ্র ঘাসের মধ্যেও চরে খেতে পারে। কাঁঠালপাতা,
    কলাপাতা, ইপিল-ইপিলপাতা, পেয়ারাপাতা, বরইপাতা ছাগলের প্রিয় খাদ্য। ছাগলকে
    প্রাকৃতিক খাবারের পাশাপাশি তৈরিকৃত সুষম-দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হয়।

    ছাগলের বাচ্চাকে খাসিকরণ

    ছাগলের বাচ্চার বয়স ২ থেকে ৪ সপ্তাহ অর্থাৎ ১৪ থেকে ২৮ দিন বয়সের মধ্যেই
    খাসি করানোর উপযুক্ত সময়। উপযুক্ত সময়ে ছাগলের বাচ্চাকে খাসিকরণ করা
    হলে তুলনামূলক দাম বেশি পাওয়া যায়। বাজারে খাসির চাহিদা বেশি। লগ্নিকৃত অর্থ
    লাভসহ সহজে উঠে আসে। পারিবারিক সচ্ছলতা আনায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। খাসির মাংস পাঁঠার চেয়ে উৎকৃষ্ট। খাসিকরণে তেমন কোনো খরচ হয় না।

    ছাগীকে পাল দেয়ার নিয়ম ও সময়

    ছাগী গরম হওয়ার ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাল দিতে হয়। সকালে গরম
    হলে বিকালের মধ্যে পাল দিতে হবে। বিকালে গরম হলে পরদিন সকালের মধ্যে
    পাল দিতে হবে। সম্ভব হলে ১২ ঘণ্টা ও ২৪ ঘণ্টা সময়ের মাথায় দু’বার পাল দিতে
    হবে। পাল দেয়ার ৫ মাসের (১৪০ থেকে ১৫০ দিন) মধ্যে ছাগী সাধারণত বাচ্চা
    দেয়।

    ছাগলের দাঁত দেখে বয়স নির্ণয়

    অস্থায়ী-দুধের দাঁত সবগুলো থাকলে ছাগলের বয়স ১২ মাসের নিচে। মাঝের
    এক জোড়া স্থায়ী দাঁত উঠলে ছাগলের বয়স ১২ থেকে ১৫ মাস। দুই জোড়া
    স্থায়ী দাঁত উঠলে ছাগলের বয়স ১৬ থেকে ২৪ মাস। তিন জোড়া স্থায়ী দাঁত
    উঠলে ছাগলের বয়স ২৫ থেকে ৩৬ মাস। চার জোড়া স্থায়ী দাঁত উঠলে ছাগলের
    বয়স ৩৭ মাস থেকে ঊর্ধেŸ হবে।

    ছাগলের পরিচর্যা

    প্রতিদিন দুপুরে ছাগলকে প্রয়োজনমতো টাটকা ও পরিষ্কার পানি পান করাতে হবে।
    ছোবড়া জাতীয় খাবার যেমনÑ ঘাস, লতাপাতা, শুঁটিজাতীয় গাছ দিতে হয়। ছাগলকে
    প্রতি বছর নিয়মিত দুই থেকে তিনবার কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়াতে হবে। ছাগলকে
    নিয়মিত সংক্রামক রোগের প্রতিষেধক টিকা দিতে হবে।

    পচা বা দুর্গন্ধযুক্ত বা নোংরা খাবার না দেয়া। বাসস্থান উঁচু, শুকনা ও পরিষ্কার-
    পরিচ্ছন্ন জায়গায় তৈরি করতে হবে। নিয়মিত বাসস্থানের মেঝের মলমূত্র পরিষ্কার
    করা এবং মেঝেতে চুন ছড়িয়ে দিয়ে জীবাণু সংক্রমণ কমাতে হবে। মাঝে মাঝে
    পরিষ্কার পানি দিয়ে ছাগলের শরীর পরিষ্কার বা গোসল করিয়ে দেয়া।

    বাংলাদেশে ছাগলের রোগ-ব্যাধি

    ছাগলের বিভিন্ন ধরনের রোগ-ব্যাধি হয়ে থাকে। তবে গবাদিপশু অপেক্ষা ছাগলের রোগ-ব্যাধি কম হয়ে থাকে। বাংলাদেশে ছাগলের বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়ে থাকে। এর মধ্যে কৃমি, উকুন, নিউমোনিয়া, পাতলা পায়খানা, আমাশয়, পেট ফাঁপা, মূত্রনালিতে পাথর, পিপিআর, গোটপক্স, চর্মরোগ (মেইজ), ছাগলের ক্ষুরা রোগ, চোখ ওঠা বা কনজাংটিভাইটিস এবং একথাইমা রোগ অন্যতম। নিম্নে ছাগলের পিপিআর ও গোটপক্স রোগের লক্ষণ ও তার প্রতিকার প্রদত্ত হলোÑ

    পিপিআর রোগের লক্ষণগুলো

    এটি ভাইরাসঘটিত একটি রোগ, ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশে প্রথম দেখা যায়। হঠাৎ
    ছাগলের শরীরের তাপ বেড়ে যায় (১০৪ ডিগ্রি থেকে ১০৫ ডিগ্রি) ও ক্ষুধামন্দা
    দেখা যায় এবং কাশতে থাকে। মুখের লালা ঝিল্লিতে রক্ত জমে লাল দেখা যায় এবং
    নাক দিয়ে সর্দি ও পানি ঝরে। নাকের ছিদ্রের পর্দায় ঘা দেখা যায় ও চোখে পিচুটি
    হয়, অনেক সময় চোখের পাতা বন্ধ হয়ে যায়। রোগ শুরুর ৫ থেকে ১০ দিনের
    মধ্যেই ছাগল মারা যায়।

    প্রতিরোধ : আক্রান্ত ছাগলকে বের করবেন না। ছাগল সুস্থ অবস্থায় টিকা দিয়ে
    এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়। ছয় মাস বয়সের ছাগলকে ১সিসি টিকা চামড়ার
    নিচে প্রয়োগ করতে হবে।

    গোটপক্স রোগের লক্ষণগুলো

    মুখের চারপাশে, মুখগহ্বরে, কানে, গলদেশে, দুধের বাঁটে এবং পায়ুপথে ব
    সন্তের গুটি দেখা যায়। দেহের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, কিছু খায় না, জাবর কাটে
    না এবং ছাগলের পাতলা পায়খানা হয়।

    প্রতিরোধ : এই রোগ হলে অন্যান্য সুস্থ ছাগলকে এন্টিপক্সসিরাম ইনজেকশন ও
    টিকা সহজলভ্য হলে টিকা দিতে হবে। আক্রান্ত

    Tuesday, May 23, 2017

    সুস্থ ছাগলের বৈশিষ্ট্য

  • Share The Gag
  • সুস্থ ছাগলের নাড়ীর স্পন্দন প্রতি মিনিটে ৭০-৯০ বার, শ্বাস-প্রশ্বাস প্রতি মিনিটে ২৫-৪০ বার এবং তাপমাত্রা ৩৯.৫ সেঃ হওয়া উচিত। সুস্থ ছাগল দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে, মাথা সবসময় উঁচু থাকে, নাসারন্ধ থাকবে পরিষ্কার, চামড়া নরম, পশম মসৃন ও চকচকে দেখাবে এবং পায়ু অঞ্চল থাকবে পরিচ্ছন্ন।
    ছাগল সুস্থ রাখতে যেসব ব্যবস্থাদি গ্রহণ করা আবশ্যক সেগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ

    কর্মসূচি অনুযায়ী টিকা প্রদান


    ভাইরাসজনিত রোগ যেমন পিপিআর, গোটপক্স, ক্ষুরারোগ ইত্যাদি এবং ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ যেমন এনথ্রাক্স, ব্রুসেলোসিস ইত্যাদি খুবই মারাত্মক বলে এগুলোর বিরুদ্ধে যথারীতি টিকা প্রদান করতে হবে। যেসব ছাগীকে পূর্বে পিপিআর, গোটপক্স, একথাইমা, ব্রুসেলোসিস ইত্যাদি টিকা দেয়া হয়নি তাদেরকে গর্ভের ৫ম মাসে উক্ত ভ্যাকসিনগুলি দিতে হবে। বাচ্চার বয়স যখন ৫ মাস তখন তাকে পিপিআর ভ্যাকসিন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন দিতে হবে।

    ছাগলের টিকা প্রদান কর্মসূচি

    কৃমিনাশক ঔষধ প্রয়োগ
    সকল ছাগলকে নির্ধারিত মাত্রায় বছরে দুইবার কৃমিনাশক ঔষধ প্রদান করতে হবে। কৃমিনাশক কর্মসূচি অনুসরণের জন্য পশু চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

    Sunday, May 14, 2017

    ছাগল ও ভেড়ার পিপিয়ার

  • Share The Gag
  • ​পি পি আর 

    ইহা ভাইরাসজনিক একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ। সকল বয়সের ছাগল-ভেড়া এ রোগে আক্রান্ত হয় এবং আমাদের দেশে ছাগলের এ রোগ যথেষ্ট হয়ে থাকে। 

    লক্ষণঃ 
    আক্রান্ত ছাগলের অবসাদ, ক্ষুদামন্দা হয়। শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। মুখে ক্ষত হয় এবং নাক দিয়ে প্রচুর শ্লেম্মা বের হয়। শ্বাস-প্রশ্বাস কষ্টকর ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়। তীব্র ডায়েরিয়া দেখা দেয় এবং মৃত্যু ঘটে। 

    করণীয়ঃ 

    অসুস্থ পশুকে দ্রুত সুস্থ পশুকে আলাদা করতে হবে। বাসস্থান পরিস্কার রাখতে হবে। ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ার এ রোগের কোন সফল চিকিৎসা নেই। সুস্থ পশুকে নিয়মিত টিকা দিয়ে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়। 

    চিকিৎসাঃ 

    প্রকৃত চিকিৎসা না থাকলেও সহায়ক চিকিৎসা হিসাবে এন্টিবায়োটিক, এন্টিহিস্টামিনিক এবং প্রয়োজনে স্যালাইন ব্যবহার করে ফল পাওয়া যেতে পারে।

    Wednesday, July 20, 2016

    ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন

  • Share The Gag
  • এদেশে প্রাপ্ত প্রায় ২০ মিলিয়ন ছাগলের প্রায় ৯৩ ভাগ পালন করে ক্ষুদ্র এবং মাঝারী ধরণের খামারীরা। বাংলাদেশে প্রাপ্ত ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মাংস যেমন সুস্বাদু চামড়া তেমনি আন্তর্জাতিকভাবে উন্নতমানের বলে স্বীকৃত। তাছাড়া ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের বাচ্চা উৎপাদন ক্ষমতা অধিক এবং তারা দেশীয় জলবায়ুতে বিশেষভাবে উৎপাদন উপযোগী। এসব গুনাবলী থাকা সত্ত্বেও ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের বাণিজ্যিক উৎপাদন এদেশে এখনো প্রসার লাভ করেনি। এর অন্যতম কারণ ইন্টেনসিভ বা সেমি-ইন্টেনসিভ পদ্ধতিতে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালনের ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব।




    ঘরঃ ছাগল সাধারণত: পরিষ্কার, শুষ্ক, দুর্গন্ধমুক্ত, উষ্ণ, পর্যাপ্ত আলো ও বায়ূ চলাচলকারী পরিবেশ পছন্দ করে। গোবরযুক্ত, স্যাঁত স্যাঁতে, বদ্ধ, অন্ধকার ও পুতিগন্ধময় পরিবেশে ছাগলের রোগবালাই যেমন: নিউমোনিয়া, একথাইমা, চর্মরোগ, ডায়রিয়া ইত্যাদি বিভিন্ন জাতীয় সংক্রামক ও পরজীবীয় রোগ হতে পারে। সেই সাথে ওজন বৃদ্ধির হার, দুধের পরিমাণ এবং প্রজনন দক্ষতা কমে যায়।




    ঘর নির্মাণের স্থানঃ পূর্ব পশ্চিমে লম্বালম্বী, দক্ষিণ দিক খোলাস্থানে ঘর নির্মাণ করা উচিৎ। খামারের তিন দিকে ঘেরা পরিবেশ বিশেষ করে উত্তর দিকে গাছপালা লাগাতে হবে। ছাগল খামারে স্থান নির্বাচনে অবশ্যই অপেক্ষাকৃত উঁচু এবং উত্তম পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রতিটি পূর্ণ বয়স্ক ছাগলের জন্য গড়ে ৮-১০ বর্গ ফুট জায়গা প্রয়োজন। প্রতিটি বাড়ন-বাচ্চার জন্য গড়ে ৫ বর্গফুট জায়গা প্রয়োজন। ছাগলের ঘর ছন, গোল পাতা, খড়, টিন বা ইটের তৈরী হতে পারে। তবে যে ধরণের ঘরই হউক না কেন ঘরের ভিতর বাঁশ বা কাঠের মাচা তৈরী করে তার উপর ছাগল রাখতে হবে। মাচার উচ্চতা ১.৫ মিটার (৫ ফুট) এবং মাচা থেকে ছাদের উচ্চতা ১.৮-২.৪ মিটার (৬-৮ ফুট) হবে। গোবর ও প্রগ্রাব পড়ার সুবিধার্থে বাঁশের চটা বা কাঠকে ১ সেঃ মিঃ (২.৫৪ ইঞ্চি) ফাঁকা রাখতে হবে। মাচার নিচ থেকে সহজে গোবর ও প্রগ্রাব সরানোর জন্য ঘরের মেঝে মাঝ বরাবর উঁচু করে দুই পার্শ্বে ঢালু (২%) রাখতে হবে। মেঝে মাটির হলে সেখানে পর্যাপ্ত বালি মাটি দিতে হবে। ছাগলের ঘরের দেয়াল, মাচার নিচের অংশ ফাঁকা এবং মাচার উপরের অংশ এম.এম. ফ্ল্যাক্সিবল নেট হতে পারে। বৃষ্টি যেন সরাসরি না ঢুকে সে জন্য ছাগলের ঘরের চালা ১-১.৫ মিঃ (৩.২৮-৩.৭৭ ফুট) ঝুলিয়ে দেয়া প্রয়োজন। শীতকালে রাতের বেলায় মাচার উপর দেয়ালকে চট দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। শীতের সময় মাচার উপর ১০-১২ সেঃ মিঃ (৪-৫ ইঞ্চি) পুরু খড়ের বেডিং বিছিয়ে দিতে হবে। বিভিনড়ব বয়সের এবং বিভিনড়ব ধরণের ছাগলকে ভিনড়ব ভিনড়ব ঘরে রাখা উচিৎ। পাঁঠাকে সব সময় ছাগী থেকে পৃক করে রাখা উচিৎ। দুগ্ধবতী, গর্ভবতী ও শুষ্ক ছাগীকে একসাথে রাখা যেতে পারে। তবে তাদের পৃক খাওয়ানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। শীতকালে বাচ্চাকে রাতের বেলা মায়ের সাথে ব্রম্নডিং পেনে রাখতে হবে। ব্রম্নডিং পেন একটি খাঁচা বিশেষ যা কাঠের বা বাঁশের তৈরী হতে পারে। এর চারপার্শ্বে চটের ব্যবস্থা দিয়ে ঢাকা থাকে।




    খাদ্য ব্যবস্থাপনাঃ ছাগলের খাদ্য ব্যবস্থাপনাই খামারের অন্যতম প্রধান বিষয়। ইন্টেনসিভ এবং সেমি-ইন্টেনসিভ পদ্ধতিতে ছাগলের খাদ্যের পরিমাণ ও গুনগত মান নির্ভর করে চারণ ভূমিতে প্রাপ্ত ঘাসের পরিমাণ ও গুনগত মানের উপর।



    • ছাগলের বাচ্চাকে কলষ্ট্রাম (শাল দুধ) খাওয়ানোঃ সাধারণত ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের বাচ্চার ওজন ০.৮-১.৫ কেজি (গড়ে ১.০০ কেজি) ওজন হয়। বাচ্চা জন্মের পরপরই পরিস্কার করে আধা ঘন্টার মধ্যেই মায়ের শাল দুধ খেতে দিতে হবে। ছাগলের বাচ্চার প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১৫০ থেকে ২০০ গ্রাম শাল দুধ খাওয়ানো প্রয়োজন। এই পরিমাণ দুধ দিনে ৮-১০ বারে খাওয়াতে হবে। শাল দুধ বাচ্চার শরীরে এন্টিবডি তৈরী কওে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করে। দুই বা ততোধিক বাচ্চা হলে প্রত্যেকেই যেন শাল দুধ পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল ছানা সাধারণত ২-৩ মাসের মধ্যে দুধ ছাড়ে। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের দুধ উৎপাদন কম হওয়ায় ২-৩ ছানা বিশিষ্ট মা ছাগীর দুধ কখনো কখনো বাচ্চার প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে পারেনা। এক্ষেত্রে ছানাকে পরিমাণমত ৩৭-৩৮ সেঃ তাপমাত্রায় অন্য ছাগলের দুধ বা মিল্ক রিপ্রেসার খাওয়ানো উচিত। ছাগলের বাচ্চার দানাদার খাদ্য মিশ্রণ কম আঁশ, উচ্চ প্রোটিন, উচ্চ বিপাকীয় শক্তি সম্পন্ন হতে হয়।

    • ছাগলের বাচ্চাকে দানাদার খাদ্য খাওয়ানোঃ ছাগল ছানা প্রথমে মায়ের সাথেই দানাদার খাবার খেতে অভ্যস্থ হয়। ছাগলের বাচচাকে জন্মের প্রথমে সপ্তাহ থেকে ঘাসের সাথে পরিচিত করে তুলতে হবে। সাধারণত শুরুতে মায়ের সাথেই বাচ্চা ঘাস খেতে শিখে। অভ্যস্থ করলে সাধারণত দুই সপ্তাহ থেকেই বাচচা অল্প অল্প ঘাস খায়। এ সময়ে বাচ্চাকে কচি ঘাস যেমন: দুর্বা, স্পেনডিডা, রোজী, পিকাটুলাম, সেন্টোসোমা, এন্ড্রোপোগন প্রভৃতি ঘাস খাওয়ানো যেতে পারে। তাছাড়া, ইপিল ইপিল, কাঁঠাল পাতা, ধইনচা ইত্যাদি পাতা খাওয়ানো যেতে পারে।



    বাড়ন্ত ছাগলের খাদ্য ব্যবস্থাপনাঃ ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের ৩-১২ মাস সময়কালকে মূল বাড়ন্ত সময় বলা যায়। এ সময়ে যেসব ছাগল প্রজনন বা মাংস উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হবে তাদের খাদ্য পুষ্টি চাহিদা যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে। দুধ ছাড়ানোর পর থেকে পাঁচ মাস পর্যন- সময়ে ছাগলের পুষ্টি সরবরাহ অত্যন্ত নাজুক পর্যায়ে থাকে। এ সময়ে একদিকে ছাগল দুধ থেকে প্রাপ্ত প্রোটিন ও বিপাকীয় শক্তি থেকে যেমন বঞ্চিত হয় তেমনি মাইক্রোবিয়াল ফার্মেন্টেশন থেকে প্রাপ্ত পুষ্টি সরবরাহও কম থাকে। এজন্য এ সময়ে পর্যাপ্ত প্রোটিন সমৃদ্ধ দানাদার ও আঁশ জাতীয় খাদ্য দিতে হবে। ঘাসের পরিমাণ ও গুনগত মান বেশি হলে দানাদার খাদ্যের পরিমাণ কমবে এবং পরিমাণ ও গুনগত মান কম হলে উপরোক্ত পরিমাণ দানাদার খাদ্যেই চলবে।





















































    ছাগলের ওজন (কেজি)

    দানাদার খাদ্য দৈনিক সরবরাহ (গ্রাম)

    ঘাস সরবরাহ/চরানো (কেজি)


    ১০০

    ০.৪


    ১৫০

    ০.৬


    ২০০

    ০.৮

    ১০

    ২৫০

    ১.৫

    ১২

    ৩০০

    ২.০

    ১৪

    ৩৫০

    ২.৫

    ১৬

    ৩৫০

    ৩.০

    >১৮

    ৩৫০

    ৩.৫




    প্রজননক্ষম পাঁঠার খাদ্য ব্যবস্থাপনাঃ পাঁঠার খাদ্য ব্যবস্থাপনা বাড়ন্ত ছাগলের মতই। তবে প্রজননে সহায়তার জন্য প্রতিটি পাঁঠাকে দৈনিক ১০ গ্রাম ভিজানো ছোলা দেয়া প্রয়োজন। একটি পাঁঠা ১০ মাস থেকে ৩ বছর পর্যন্ত প্রজননক্ষম থাকে। কোনভাবেই পাঁঠাতে বেশি চর্বি জমতে দেয়া উচিত নয়। ২৮-৩০ কেজি ওজনের পাঁঠার জন্য দৈনিক ৪০০ গ্রাম পরিমাণ দানাদার খাবার দেয়া প্রয়োজন।




    দুগ্ধবতী ও গর্ভবতী ছাগলের খাদ্য ব্যবস্থাপনাঃ দুগ্ধবতী ছাগল তার ওজনের ৫-৬ শতাংশ হারে শুষ্ক পদার্থ খেয়ে থাকে। একটি তিন বছর বয়স্ক ২য় বার বাচ্চা দেয়া ছাগীর গড় ওজন ৩০ কেজি হারে দৈনিক ১.৫-১.৮ কেজি শুষ্ক পদার্থ খেয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ১-১.৫ কেজি পরিমাণ শুষ্ক পদার্থ ঘাস থেকে (৩-৫ কেজি কাঁচা ঘাস) বাকি ০.৫-০.৮ কেজি শুষ্ক পদার্থ দানাদার খাদ্য থেকে দেয়া উচিত। যেহেতু ছাগী বাচ্চা দেয়ার ১.৫- ২.০ মাসের মধ্যে গর্ভবতী হয় সেজন্য প্রায় একই পরিমাণের খাবার গর্ভাবস্থায়ও ছাগলকে দিতে হবে।




    সারণী-২: ছাগলের দানাদার খাদ্যের সাধারণ মিশ্রণ (%)












































    গম/ভূট্টা ভাঙ্গা/চাল

    ১২.০০

    গমের ভূষি/আটা কুড়া

    ৪৭.০০

    খেসারী/মাসকালাই/অন্য ডালের ভূষি

    ১৬.০০

    সয়াবিন খৈল

    ২০.০০

    শুটকি মাছের গুড়া

    ১.৫০

    ডাই-ক্যালসিয়াম ফসফেট

    ২.০০

    লবণ

    ১.০০

    ভিটামিন মিনারেল প্রিমিক্স

    ০.৫০

    মোট

    ১০০.০০




    ছাগলের চরানোঃ ঘাস সরবরাহের জন্য নেপিয়ার, স্পেনডিডা, পিকাটুলুম, রোজী, পারা, জার্মান ইত্যাদির চাষ করা যেতে পারে। মাঠের চারপার্শ্বে ইপিল ইপিল গাছ লাগানো যেতে পারে। তাছাড়া বর্ষাকালে চারণ ভূমিতে ঘাসের সাথে মাসকালাই ছিটিয়ে দিলেও ঘাসের খাদ্যমান অনেক বেড়ে যায়। শীতকালে অনেক সময় পর্যাপ্ত ঘাস পাওয়া যায় না। এজন্য এ সময়ে ছাগলকে ইউএমএস (ইউরিয়া ৩%, মোলাসেস ১৫%, খড় ৮২%)-এর সাথে এ্যালজির পানি খাওয়ানো যেতে পারে।




    প্রজনন ব্যবস্থাপনাঃ একটা পাঁঠা সাধারণত: ৩/৪ মাস বয়সে যৌবন প্রাপ্ত হয় কিন্তু আট/নয় মাস বয়সের পূর্বে পাল দেবার জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়। কোন পাঁঠার শারীরিক দুর্বলতা, পঙ্গুত্ব বা কোন যৌন অসুখ সমস্ত পালকে নষ্ট করে দিতে পারে। তাই সেদিকে অবশ্যই মনোযোগী হতে হবে। দশটি ছাগীর জন্য একটা পাঁঠাই যথেষ্ট। ছাগী যখন প্রমবারে (৫-৬ মাস বয়সে) গরম (Heat) হয় তখন তাকে পাল না দেওয়াই ভাল। এক্ষেত্রে এক/দুইটি হিট বাদ দিয়ে মোটামুটি ১১-১২ কেজি ওজনের সময় পাল দেয়া উচিত। ছাগীর হিটে আসার লক্ষণগুলো হচ্ছে- মিউকাস নিঃসরণ, ডাকাডাকি করবে, অন্য ছাগীর উপর উঠা ইত্যাদি। ছাগী হিটে আসার ১২-৩৬ ঘন্টার মধ্যে পাল দেওয়া উচিত। অর্থাৎ সকালে হিটে আসলে বিকেলে এবং বিকেলে হিটে আসলে পরদিন সকালে পাল দিতে হবে।




    স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাঃ ছাগলের খামারে রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এজন্য নিয়মিত পিপিআর টিকা, কৃমিনাশক ইত্যাদির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হয়। ছাগলের সবচেয়ে মারাত্ক রোগ পি.পি.আর এবং গোটপক্সের ভেক্সিন জন্মের ৩ মাস পরে দিতে হয়। বছরে দুবার বর্ষার প্রারম্ভে (এপ্রিল-মে) কৃমিনাশক এবং বর্ষার শেষে (অক্টোবর-নভেম্বর) ব্রডসেপ্রকট্রাম ক্রিমিনাশক যেমন: নেমাফেক্স, রেলনেক্স ইত্যাদি খাওয়ানো যেতে পারে। তাছাড়া যকৃত কৃমির জন্য ফেসিনেক্স, ডোভাইন ইত্যাদি ব্যবহার করা প্রয়োজন। কোন ছাগলের চর্মরোগ দেখা দিলে তা ফার্ম থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। যে কোন নূতন ছাগল খামারে প্রবেশ করানোর আগে কমপক্ষে এক সপ্তাহ অন্যস্থানে রেখে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। খামারের সকল ছাগলকে ১৫-৩০ দিন পর পর ০.৫% মেলাথায়ন দ্রবণে ডিপিং করানো (চুবানো) উচিত। তাছাড়া ম্যাসটাইটিসসহ অন্যান্য সংক্রমক রোগের জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া বাঞ্ছনীয়।







    • বাচ্চা বয়সে ডায়রিয়া বাচচা মৃত্যুর অন্যতম কারণ। এজন্য বাচ্চাকে সব সময় পরিচ্ছন্ন জায়গায় এবং পরিমান মত দুধ খাওয়াতে হবে। ফিডার ও অন্যান্য খাদ্য পাত্র সবসময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

    • জন্মের পর পর বাচ্চাকে পরিস্কার করে নাভি থেকে ৩-৪ সেঃ মিঃ নিচে কেটে দিতে হবে।

    • যে বাচ্চার মায়ের দুধের পরিমাণ কম তাদেরকে বোতলে অন্য ছাগলের দুধ/বিকল্প দুধ (মিল্ক রিপেসার) খাওয়াতে হবে।

    • শীতের সময়ে বাচ্চাকে মায়ের সাথে ব্রুডিং পেনে রেখে ২৫-২৮ সেঃ তাপমাত্রায় রাখতে হবে।

    • বাচ্চা যেন অতিরিক্ত দুধ না খায় তা লক্ষ্য রাখতে হবে।

    • যেসব পাঁঠা বাচ্চা প্রজনন কাজে ব্যবহৃত হবে না তাদেরকে ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে খাসি করাতে হবে।

    Saturday, February 13, 2016

    ছাগলের বসন্ত রোগের টিকা

  • Share The Gag



  • ভূমিকাঃ গোটপক্স বা ছাগলের বসন্ত একটি মারাত্বক সংক্রামক রোগ। এ রোগে সব বয়সের ছাগলই আক্রান্ত হয়ে থাকে। বাচ্চার ক্ষেত্রে সাধারনতঃ এ রোগটি মারাত্মক প্রকৃতির হয়ে থাকে এবং মৃত্যুর হার প্রায় ১০০ ভাগ, অন্যদিকে বড় ছাগলের ক্ষেত্রে মৃদু প্রকৃতির হয়ে থাকে যাতে মৃত্যুর হার প্রায় ৫০ ভাগ। মৃত্যুহার ছাড়া এ রোগে আক্রান্ত ওয়ার পরে নিরাময় হলেও পশুর শারীরিক বৃদ্ধির হার হ্রাস পায়। ত্বকের তীব্র ক্ষতির কারনে চামড়ার মূল্য কমে যায়। আর্থিক ক্ষতির দিক বিবেচনা করে এই রোগ প্রতিরোধ করার জন্য বাংলাদেশ পশুসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট মাঠ পর্যায়ের রোগ সৃষ্টিকারী ক্ষমতা সম্পন্ন বসন্ত রোগের ভাইরাসকে, রোগ সৃষ্টিকারী ক্ষমতাকে হ্রাস করে নতুন একটি কার্যকর ছাগলের বসন্ত রোগের টিকা উদ্ভাবন করেছে।

    রোগের লক্ষণঃ


    • ছাগলের দেহে উচ্চ তাপমাত্রা দেখা দেয় (১০৫ -১০৬ ফারেনহাইট)।

    • দেহের পশমহীন স্থানে যেমন, চোখের চারপাশে, কান, নাক, সামনের এবং পিছনের পায়ের ভিতরের দিক, লেজের নীচে, পায়ূভাগে, ওলানে এবং বাঁটে বসমেত্মর গুটি ওঠে।

    • তীব্র-প্রকৃতির রোগে শরীরের অন্যন্য স্থানেও বসমেত্মর গুটি ওঠে।

    • লসিকা গ্রন্থি (লিম্ফনোড) ফুলে যায়।

    • নাক দিয়ে তরল ক্ষরণ হতে হতে নাসারন্ধ্রে ঘা হয়ে যায়।


    টিকার জন্য কাংখিত ভাইরাস (Candidate Virus) তৈরীঃ

    দেশীয় ছাগল বসমেত্মর ভাইরাসকে কাংখিত টিকা ভাইরাস (Candidate Vaccine Virus) হিসেবে অভিযোজিত করা হয়েছে। রোগ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ভাইরাসকে ভিরো-সেলের (African Green Monkey Kidney Cell Line) ভিতর দিয়ে ৪৫ বার চালনার (Passage) ফলেই ভাইরাসটি রোগ সৃষ্টির ক্ষমতা হারিয়েছে। পরীক্ষয় দেখা গেছে, রোগ সৃষ্টির ক্ষমতা হারানো ভাইরাসটি ছাগলের দেহে রোগ তো করেই না বরং ভাইরাসটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরীতে সহায়তা করে। টিকাটি ছাগলের বসন্ত রোগ প্রতিরোধে শতকরা ১০০ ভাগ কার্যকর।

    টিকা প্রদান ও সংরক্ষণঃ


    • একত্রে রাখা সমস্ত ছাগলকে একসাথে টিকা প্রদান করতে হবে।

    • বাচ্চার বয়স ৫ মাস হলে তাদেরকে অবশ্যই টিকা দিতে হবে।

    • কোন নতুন পশু আসলে বা ক্রয় করলে অন্তত ১৫ দিন পর্যবেক্ষণে (Quarantine observation) রেখে তারপর টিকা দিতে হবে।

    • টিকাটি -২০ সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হবে।


    বিশেষ সর্তকতাঃ


    • অসুস্থতা বা পুষ্টিহীনতায় আক্রান্ত অবসহায় ছাগলকে বসন্তর টিকা না দেয়াই উত্তম। কারণ এতে টিকাকৃত ছাগলে প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি হবে না।

    • পিপিআর রোগ থেকে সদ্য নিরাময় হওয়া ছাগলকে টিকা না দেয়াই উত্তম। ছাগল বসন্তকে প্রতিরোধ করতে না পারলে বাণিজ্যিক ফার্মগুলিতে ছাগল পালন কোন অবস্থাতেই লাভজনক হয়ে উঠবে না।


    উপসংহারঃ ছাগলের বসন্ত যেহেতু বাণিজ্যিকভাবে মূল্যবান উপাদান চামড়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করে সেহেতু বসন্ত  আক্রমণের পূর্বেই দেশীয় এই ভ্যাকসিন ব্যবহার করা অত্যাবশ্যক। কারণ আমাদের দেশীয় ভাইরাসের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ করেই এই টিকাটির উন্নয়ন ঘটানো হয়েছে।







    তথ্য:


    তথ্য আপা প্রকল্প


    উন্নত গুনাগুনসম্পন্ন ছাগল নির্বাচন কৌশল

  • Share The Gag



  • ভূমিকাঃ লাভজনক ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের খামার স্থাপনে উৎপাদন বৈশিষ্ট্য উন্নত গুনাগুনসম্পন্ন ছাগী ও পাঁঠা সংগ্রহ একটি মূল দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত। মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন বয়সী ছাগী ও পাঁঠা নির্বাচন সফলভাবে পালনের জন্য প্রযুক্তিগত তথ্যাদি সরবরাহ অত্যাবশ্যক।

    প্রযুক্তির বৈশিষ্ট্য/সংক্ষিপ্ত বিবরণঃ বাংলাদেশে বর্তমানে বাণিজ্যিক ছাগল প্রজনন খামার না থাকায় মাঠ পর্যায় হতে ছাগল সংগ্রহ করতে হবে। মাঠ পর্যায়ে ব্যাক বেঙ্গল ছাগল, বাচ্চা ও দুধ উৎপাদন ক্ষমতার ভিন্নতা বিদ্যমান। উক্ত ভিন্নতা বংশ অথবা/এবং পরিবেশগত কারণ বা স্বতন্ত্র উৎপাদন দক্ষতার জন্য হতে পারে। সে প্রেক্ষাপটে ব্যাক বেঙ্গল ছাগল খামার প্রতিষ্ঠার জন্য বংশ বিবরণের ভিত্তিতে বাছাই ও নিজস্ব উৎপাদন/পূনরুৎপাদন বৈশিষ্ট্যাবলীর ভিত্তিতে বাছাই বিবেচনায় রেখে ছাগল নির্বাচন করা যেতে পারে।

    বংশ বিবরণের ভিত্তিতে বাছাইঃ মাঠ পর্যায়ে বংশ বিবরণ পাওয়া দুরূহ। কারণ খামারীরা ছাগলের বংশ বিবরণ লিখিত আকারে সংরক্ষণ করেন না। তবে তাঁদেও সাথে আলোচনা করে একটি ছাগী বা পাঁঠার বংশের উৎপাদন ও পূনরুৎপাদন দক্ষতা সম্বন্ধে ধারনা নেয়া যেতে পারে। ছাগীর মা/দাদী/নানীর প্রতিবারে বাচ্চার সংখ্যা, দৈনিক দুধ উৎপাদন, বয়োপ্রাপ্তির বয়স, বাচ্চার জন্মের ওজন ইত্যাদি সংগ্রহ করা সম্ভব। পাঁঠা নির্বাচনের ক্ষেত্রে পাঁঠার মা/দাদী/নানীর তথ্যাবলীর উপর নির্ভর করা যেতে পারে। একটি উন্নত ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগী/পাঁঠার বংশীয় গুনাগুন নিমড়বরূপ হওয়া প্রয়োজন।

    নিজস্ব উৎপাদন/পূনরুৎপাদন বৈশিষ্ট্যাবলীর ভিত্তিতে বাছাইঃ এ ক্ষেত্রে দু’টি বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন। ছাগী ও পাঁঠার উৎপাদন এবং পূনরুৎপাদন বৈশিষ্ট্যাবলী এবং এদের দৈহিক বৈশিষ্ট্যাবলী। পাঁঠা নির্বাচনের ক্ষেত্রে উৎপাদন এবং পূনরুৎপাদন বৈশিষ্ট্যাবলী তার মা/দাদী/নানীর গুনাগুনের উপর নির্ভর করবে। তবে পাঁঠার দৈহিক বৈশিষ্ট্যাবলীর বিবেচনায় নির্বাচন করা যেতে পারে। ছাগী নির্বাচনে উৎপাদন ও পূনরুৎপাদন বৈশিষ্ট্যাবলী নিমণরূপ হবে।

    সারণী-১ ছাগীর উৎপাদন/পূনরুৎপাদন বৈশিষ্ট্যাবলী





























    ঘন ঘন বাচ্চা দেওয়ার ক্ষমতা

    বছরে কমপক্ষে ২ বার এবং প্রতিবার কমপক্ষে ২টি বাচ্চা

    ন্যূনতম দৈনিক দুধ উৎপাদন

    ৬০০ মি.লি

    প্রতিটি বাচ্চার জন্ম ওজন

    >১ কেজি

    বয়োঃপ্রাপ্তির বয়স

    ৪.৫ - ৫ মাস

    বয়োঃপ্রাপ্তির ওজন

    >১০ কেজি

    দুগ্ধ প্রদানকাল

    ৩ মাস

    ছাগী নির্বাচনঃ লাভজনক ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল খামার প্রতিষ্ঠার জন্য সারণী-১ এ উলেখিত জাতের ছাগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দৈহিক যে সমস্ত গুনাবলী বিবেচনা প্রয়োজন তা নিমণরূপ। বিভিন্ন বয়সে দৈহিক বৈশিষ্ট্যের তারতম্য হয়। সে কারণে একটি ছাগীর ৬-১২ মাস, ১২-২৪ মাস এবং ২৪ মাসের উর্দ্ধে বয়সের দৈহিক বৈশিষ্ট্যাবলী ভিন্নভাবে তুলে ধরা হল।

    উন্নত গুনাগুন সম্বলিত একটি ছাগীর নিমড়বলিখিত বৈশিষ্ট্যাবলী থাকা প্রয়োজনঃ


    • মাথা : চওড়া ও ছোট হবে

    • দৈহিক গঠন : শরীর কৌনিক এবং অপ্রয়োজনীয় পেশীমুক্ত হবে

    • বুক ও পেট : বুকের ও পেটের বেড় গভীর হবে

    • পাজরের হাড় : পাজরের হাড় চওড়া এবং দুইটি হাড়ের মাঝখানে কমপক্ষে এক আঙ্গুল ফাঁকা জায়গা থাকবে

    • ওলান : ওলানের দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকবে। বাঁটগুলো হবে আঙ্গুলের মত একই আকারের এবং

    • সমান-রালভাবে সাজানো। দুধের শিরা উল্লেখযোগ্যভাবে দেখা যাবে

    • বাহ্যিক অবয়ব : আকর্ষণীয় চেহারা, ছাগী সুলভ আকৃতি, সামঞ্জস্যপূর্ণ ও নিখুঁত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ


    পাঁঠা নির্বাচনঃ লাভজনক ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল খামার প্রতিষ্ঠার জন্য উল্লেখিত জাতের পাঁঠা নির্বাচনের ক্ষেত্রে দৈহিক যে সমস্ত গুনাবলী বিবেচনাপ্রয়োজন তা নিমণরূপ। বিভিন্ন বয়সে দৈহিক বৈশিষ্ট্যের তারতম্য হয়।

    উন্নত গুনাগুন সম্বলিত একটি পাঁঠার নিমণলিখিত বৈশিষ্ট্যাবলী থাকা প্রয়োজনঃ


    • চোখ : পরিষ্কার, বড় ও তীক্ষ্ণ দৃষ্টি সম্পন্ন হবে

    • ঘাড় : খাটো ও মোটা থাকবে

    • বুক : গভীর ও প্রশস্ত হবে

    • পিঠ : প্রশস্ত হবে

    • লয়েন : প্রশস্ত ও পুরু এবং রাম্প এর উপরিভাগ সমতল ও লম্বা থাকবে

    • পা : সোজা, খাটো এবং মোটা হবে। বিশেষ করে পিছনের পাদ্বয় সুঠাম ও শক্তিশালী হবে এবং একটি হতে অন্যটি বেশ পৃথক থাকবে

    • অন্ডকোষ : শরীরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ঝুলানো থাকবে

    • বয়স : অধিক বয়স্ক (২ বছর বয়সের বেশী) পাঁঠা নির্বাচন করা যাবে না


    ব্যবহারের সম্ভাবনাঃ সব ঋতুতে এবং সমগ্র বাংলাদেশে ব্যবহার উপযোগী।

    প্রযুক্তি ব্যবহারের সতকর্তা/বিশেষ পরামর্শঃ শুধুমাত্র উপরোলেখিত বৈশিষ্ট্যাবলীর উপর ভিত্তি করে ছাগী এবং পাঁঠা নির্বাচন করলে একটি খামার লাভবান হবে না। বরং উন্নত ছাগল নির্বাচনসহ খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং সর্বোপরি সুষ্ঠু খামার ব্যবস্থাপনা করা হলে লাভজনক খামার প্রতিষ্ঠা সম্ভব।







    তথ্য:


    তথ্য আপা প্রকল্প


    ষ্টল ফিডিং পদ্ধতিতে ছাগল পালন

  • Share The Gag



  • বাংলাদেশে ছাগল পালনের ক্ষেত্রে সাধারণত ছাগলকে ছেড়ে বা মাঠে বেঁধে খাওয়ানো হয়। গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত বিজ্ঞানভিত্তিক বাসস্থান, খাদ্য ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা অনুসারে ছাগল পালনের প্যাকেজ প্রযুক্তিকে স্টল ফিডিং পদ্ধতি বলা হয়।


    স্টল ফিডিং পদ্ধতির করণীয়ঃ


    ছাগল নির্বাচনঃ এ পদ্ধতিতে ছাগল খামার করার উদ্দেশ্যে ৬-১৫ মাস বয়সী স্বাভাবিক ও রোগমুক্ত ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের পাঁঠা/ছাগী সংগ্রহ করতে হবে। পাঁঠার বয়স ৫-৭ মাস হতে পারে।


    ছাগলের ঘরঃ স্টল ফিডিং পদ্ধতিতে প্রতিটি বয়স্ক ছাগলের জন্য প্রায় ১০ বর্গফুট ঘরের জায়গা প্রয়োজন। ঘরটি বাঁশ, কাঠ বা ইটের তৈরী হতে পারে। শীতের রাতে ঘরের বেড়া চট দিয়ে ঢেকে দিতে হবে এবং মেঝেতে খড় বিছিয়ে দিতে হবে।


    ছাগলকে ঘরে থাকতে অভ্যস্ত করানোঃ ছাগল সংগ্রহের সাথে সাথেই সম্পূর্ণ আবদ্ধ অবস্থায় রাখা উচিত নয়। প্রথমে ছাগলকে দিনে ৬-৮ ঘন্টা চরিয়ে বাকী সময় আবদ্ধ অবস্থায় রেখে পর্যাপ্ত খাদ্য (ঘাস ও দানাদার খাদ্য) সরবরাহ করতে হবে। এভাবে ১-২ সপ্তাহের মধ্যে চরানোর সময় পর্যায়ক্রমে কমিয়ে সম্পূর্ণ আবদ্ধ অবস্থায় রাখতে হবে। তবে বাচ্চা বয়স থেকে আবদ্ধ অবস্থায় রাখলে এ ধরনের অভ্যস্ততার প্রয়োজন নেই।


    বাচ্চার পরিচর্যাঃ জন্মের পরপরই বাচ্চাকে পরিষ্কার করে শাল দুধ খাওয়াতে হবে। এক মাস পর্যন্ত বাচ্চাকে দিনে ১০-১২ বার দুধ খাওয়াতে হবে। বাচ্চার চাহিদার তুলনায় কম দুধ থাকলে প্রয়োজনে অন্য ছাগী থেকে দুধ খাওয়াতে হবে। তাছাড়া দুধ না পাওয়া গেলে বাচ্চাকে মিল্ক রিপেৱসার খাওয়াতে হবে। দুধ খাওয়ানোর আগে ফিডার, নিপলসহ আনুসাংগিক জিনিসপত্র পানিতে ফুটিয়ে জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে। ১-১.৫ কেজি ওজনের একটি ছাগল ছানার দৈনিক ২৫০-৩৫০ গ্রাম দুধ প্রয়োজন। ওজন বৃদ্ধিও সাথে সাথে দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে হবে। বাচ্চার বয়স ৬০-৯০ দিন হলে দুধ ছেড়ে দেবে। সাধারণত ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগীকে প্রয়োজনমত খাওয়ালে বাচ্চার প্রয়োজনীয় দুধ পাওয়া যায়। বাচ্চার ১ মাস বয়স থেকেই ধীরে ধীরে কাঁচা ঘাস এবং দানাদার খাদ্যে অভ্যস্ত করতে হবে।


    স্টল ফিডিং পদ্ধতিতে ছাগলকে খাওয়ানোঃ ছাগল সাধারণতঃ তার ওজনের ৪-৫% হারে খেয়ে থাকে। এর মধ্যে ৬০-৮০% আঁশ জাতীয় খাবার (ঘাস, লতা, পাতা, খড় ইত্যাদি) এবং ২০-৪০% দানাদার খাবার (কুড়া, ভূষি, চাল, ডাল ইত্যাদি) দিতে হবে। একটি বাড়ন্ত- খাসীকে দৈনিক ১-১.৫ কেজি কাঁচা ঘাস এবং ২০০-২৫০ গ্রাম দানাদার খাবার (সারণী-১) দিতে হবে। দুই থেকে তিন বাচ্চা বিশিষ্ট ২৫ কেজি ওজনের ছাগীর দৈনিক প্রায় ১.৫-২.৫ কেজি কাঁচা ঘাস এবং ৩৫০-৪৫০ গ্রাম দানাদার খাদ্য প্রয়োজন হয়। একটি প্রাপ্ত বয়স্ক পাঁঠার দৈনিক ১.৫-২.৫ কেজি কাঁচা ঘাস এবং ২০০-৩০০ গ্রাম দানাদার খাদ্য প্রয়োজন।


    সারণী-১: ছাগলের দানাদার খাদ্যের সাধারণ মিশ্রন (%)


    খাদ্য উপাদান                                          শতকরা হার (%)

    চাল/গম/ভুট্টা ভাঙ্গা                                      ১২.০০

    গমের ভূষি/আটা/কুঁড়া                                 ৪৭.০০

    খেসারী/মাসকালাই/অন্য ডালের ভূষি               ১৬.০০

    সয়াবিন/তিল/নারিকেল/সরিষা/খৈল                 ২০.০০

    শুটকি মাছের গুড়া                                      ১.৫০

    ডাই-ক্যালসিয়াম ফসফেট                             ২.০০

    লবণ                                                       ১.০০

    ভিটামিন মিনারেল প্রিমিক্স                           ০.৫০

    বিপাকীয় শক্তি (মেগাজুল/কেজি)                    ১০.০০

    বিপাকীয় প্রোটিন (গ্রাম/কেজি)                      ৬২.০০


    ছাগলের জন্য ঘাস চাষঃ ঘাস সরবরাহের জন্য বিভিন্ন জাতের দেশী ঘাস খাওয়ানো যায়। ইপিল ইপিল, কাঁঠাল পাতা, খেসারী, মাসকালাই, দুর্বা, বাকসা ইত্যাদি দেশী ঘাসগুলো বেশ পুষ্টিকর। এছাড়া উচ্চ ফলনশীল নেপিয়ার, স্পেনডিডা, এন্ড্রোপোগন, পিকাটুলুম ইত্যাদি ঘাস আবাদ করা যেতে পারে।


    ছাগলকে খড় খাওয়ানোঃ ঘাস না পাওয়া গেলে খড়কে ১.৫-২.০ ইঞ্চি (আঙুলের দুই কর) পরিমানে কেটে নিমেড়ব বর্ণিত পদ্ধতিতে পক্রিয়াজাত করে খাওয়ানো যেতে পারে। এজন্য ১ কেজি খড়ের সাথে ২০০ গ্রাম চিটাগুড়, ৩০ গ্রাম ইউরিয়া ৬০০ গ্রাম পানির সাথে মিশিয়ে ইউএমএস তৈরী করে খাওয়ানো যেতে পারে। এর সাথে এ্যালজি উৎপাদন করে দৈনিক ১-১.৫ লিটার পরিমানে খাওয়াতে হবে। একটি ছাগল দৈনিক ১.০-২.০ লিটার পানি খায়। এজন্য পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হবে।


    পাঁঠার ব্যবস্থাপনাঃ যেসব পাঁঠা বাচ্চা প্রজনন কাজে ব্যবহার করা হবে না তাদেরকে জন্মের ২-৪ সপ্তাহের মধ্যে খাসী করানো উচিত। পাঁঠাকে যখন প্রজনন কাজে ব্যবহার করা হয় না তখন তাকে পর্যাপ্ত পরিমানে শুধু ঘাস খাওয়ালেই চলে। তবে প্রজনন কাজে ব্যবহারের সময় ওজন ভেদে ঘাসের সাথে ২০০-৫০০ গ্রাম পরিমান দানাদার খাবার দিতে হবে। পাঁঠাকে প্রজননক্ষম রাখার জন্য প্রতিদিন পাঁঠাকে ১০ গ্রাম পরিমাণ গাঁজানো ছোলা দেয়া উচিত। পাঁঠাকে কখনই চর্বিযুক্ত হতে দেয়া যাবে না।


    ছাগলের স্বাস্থ্য ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনাঃ সব ছাগলকে বছরে দু’বার (বর্ষার শুরু এবং শীতের শুরুতে) কৃমিনাশক খাওয়াতে হবে। ছাগলের মারাত্মক রোগ, যেমনঃ পিপিআর, গোটপক্স হলে অতি দ্রুত নিকটস্থ পশুহাসপাতালে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া ছাগলে তড়কা, হেমোরেজিক সেপ্টিসেমিয়া, এন্টারোটক্সিমিয়া, বিভিনড়ব কারণে পাতলা পায়খানা এবং নিউমোনিয়া হতে পারে। সঠিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসার মাধ্যমে এ সকল রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে সুস্থ ছাগলের জন্য একথাইমা রোগের ভ্যাকসিন জন্মের ৩য় দিন ১ম ডোজ এবং ২য় ডোজ জন্মের ১৫-২০ দিন পর দিতে হবে, পিপিআর রোগের ভ্যাকসিন ৪ মাস বয়সে এবং গোট পক্সের ভ্যাকসিন ৫ মাস বয়সে দিতে হবে।


    জৈব নিরাপত্তাঃ খামারে কোন নতুন ছাগল আনতে হলে অবশ্যই রোগমুক্ত ছাগল সংগ্রহ করতে হবে এবং ১৫ দিন খামার থেকে দূরে অন্যত্র রেখে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কোন রোগ দেখা না দিলে ১৫ দিন পর পিপিআর ভ্যাকসিন দিয়ে ছাগল খামারে রাখা যাবে। অসুস্থ ছাগল পালের অন্য ছাগল থেকে দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে।


    ছাগলের প্রজনন ব্যবস্থাপনাঃ ছাগলের ঘর নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। সকল ছাগলকে বছরে ৫-৬ বার ০.৫% ম্যালাথায়ন দ্রবণে চুবিয়ে চর্মরোগ মুক্ত রাখতে হবে। পাঁঠী ১২-১৩ কেজি ওজন (৭-৮ মাস বয়স) হলে তাকে পাল দেয়া যেতে পারে। পাঁঠী বা ছাগী গরম হওয়ার ১২-১৪ ঘন্টা পর পাল দিতে হয়। অর্থাৎ সকালে গরম হলে বিকেলে এবং বিকেলে হলে পরদিন সকালে পাল দিতে হবে। পাল দেয়ার ১৪২-১৫৮ দিনের মধ্যে সাধারণত বাচ্চা দেয়। পাল দেয়ার জন্য নির্বাচিত পাঁঠা সবসময় নিঃরোগ, ভাল বংশের ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের হতে হবে। ‘‘ইনব্রিডিং’’ এড়ানোর জন্য ছাগীর বাবা বা দাদা বা ছেলে বা নাতীকে দিয়ে প্রজনন করানো যাবে না।


    ছাগলের বাজারজাতকরণঃ সুষ্ঠু খাদ্য ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনায় ১২-১৫ মাসের মধ্যে খাসি ২০-২২ কেজি ওজনের হয়। এসময় খাসী বিক্রি করা যেতে পারে। অথবা খাসির মাংস প্রক্রিয়াজাত করেও বিক্রি করা যেতে পারে।








    তথ্য:


    তথ্য আপা প্রকল্প


    গবাদী পশু প্রাণির জাত পরিচিতি

  • Share The Gag



  • জাতঃ ইহা একটি বিশেষ গোষ্ঠি, যাহার সদস্য সদস্যাবৃন্দ একই চারিত্রিক বৈশিষ্টের অধিকারী এবং ঐ চারিত্রিক বৈশিষ্টগুলি বংশ পরম্পরায় সমভাবে বিদ্যমান।

    গবাদি পশুর জাতকে সাধারণতঃ ৩টি উপায়ে বিভক্ত করা যায়। যথাঃ


    • উৎপত্তি ও আকার অনুসারে

    • ব্যবহার বা কাজ দ্বারা

    • জাতির মৌলিক্ত বা বিশুদ্ধতার পরিমান দ্বারা


    কাজ বা ব্যবহার অনুযায়ী জাত বিভাগঃ


    • দুধাল জাতঃ জার্সি, হলেষ্টিন ফ্রিজিয়ান, গোয়েনারসি, শাহীওয়াল ইত্যাদি

    • মাংশাল জাতঃ হারফোর্ড, এবার্ডিন, এ্যাংগাস, শর্টহর্ন ইত্যাদি

    • শ্রমশীল জাতঃ ধান্নী, এ্যাংগোলা ইত্যাদি

    • বিবিধঃ সিন্ধি, হারিয়ানা, থারপারকার


    মৌলিকত্ব বা বিশুদ্ধতার পরিমিতি অনুসারে জাত বিভাগঃ


    • মৌলিক বা বিশুদ্ধ জাতঃ এই জাতভূক্ত গাভীকে অবশ্যই ইহার পূর্ব পুরুষদের সমস্ত শাখার মাধ্যমে সেই জাতির অধদি পুরুষদের সংগে সম্পর্ক রাখতে হবে। যেমন-শাহীওয়াল, জার্সি ইত্যাদি।

    • উন্নীত জাত (গ্রেড): কোন নির্দ্দিষ্ট জাতের ষাঁড়ের সাথে অনুন্নত গাভীর মধ্যে ধারাবাহিক প্রজননের ফলে সৃষ্ট উন্নত জাত। যেমন-শাহীওয়াল, জার্সি ইত্যাদি।

    • দো-আঁশলাঃ দুই মৌলিক জাতের গাভী ও ষাঁড়ের মিলনে বা প্রজননে সৃষ্ট নূতন জাত। যেমন-সিন্ধি শাহীওয়াল দো-আঁশলাঃ

    • গোত্র বিহীনঃ সাদৃস্য বিহীন। যেমন-দেশী গাভী।


    জার্সি:

    উৎপত্তি : জার্সি, ওয়েনসি এ্যাল্ডার্লি ও সার্ক চ্যানেল দ্বীপ সমূহ জার্সি গাভীর উৎপত্তিস্থান।

    সাধারন বৈশিষ্ট্য: বিদেশী দুধাল গাভীর মধ্যে জার্সির আকার সবচেয়ে ক্ষুদ্রাকার। গাভীর ওজন ৪০০-৪৫০ কেজি এবং ষাঁড়েন ওজন ৬০০-৮৫০ কেজি। ওলান বেশ বড়। মাথা ও ঘাড় বেশ মানানসই । শিরদাঁড়া সোজা এবং চুট বিহীন। শরীর মেদহীন। গায়ের রং লাল বা মেহগিনি রং বিশিষ্ট। জিহবা ও লেজ কালো। সদ্য প্রসূত বাচ্চা দৃর্বল ও ছোট হয়। তাই বাচ্চা পালন কষ্টসাধ্য। সদ্য প্রসূত বাচ্চার ওজন ২২-৩৩ কেজি। জার্সি গাভী অপেক্ষাকৃত অল্প সময়ে বয়প্রাপ্তত হয় এবং অনেক বয়স পর্যন্ত দূগ্ধ প্রদানে সক্ষম।

    উপকারিতাঃ দূগ্ধ উৎপাদন ও তার মান প্রশংসনীয়। বাৎসরিক দুগ্ধ উৎপাদন ২৭৫০-৪০০০ লিটার। দুধে চর্বির পরিমান  শতকরা ৫ ভাগ।

    হলেস্টিন ফ্রিজিয়ানঃ

    উৎপত্তি: হল্যান্ডের ফ্রিজিয়ান ফ্রিজিল্যান্ড প্রদেশ।

    সাধারন বৈশিষ্টঃ দুধাল জাতের মধ্যে হলেষ্টিন ফ্রিজিয়ান এর আকার সর্ব বৃহৎ। গাভীর গড় ওজন ৬৭৫ কেজি এবং ষাঁড়ের ওজন ১০০০ কেজি। শরীরের মধ্য ও পিছন ভাগ ভারী ও ওলান বেশ বড়। পিছনের পা বেশ সোজা। গাভীগুলি বেশ শান্ত কিন্তু ষাঁড়গুলি প্রায় বদ মেজাজী। গায়ের  রং কালো-সাদায় চিত্রা এবং যে কোন প্রকারের প্রাধান্য থাকতে পারে। জন্মের সময়  বাচ্চার গড় ওজন ৪৫ কেজি। হলেস্টিন ফ্রিজিয়নের বয়োপ্রাপ্তি দেরীতে ঘটে।

    উপকারিতাঃ বাৎসরিক  দুগ্ধ উৎপাদন ক্ষমতা ৪৫০০-৯০০০ কেজি। চর্বির পরিমান শতকরা ৩.৫ ভাগ। দূগ্ধবতী গাভীর মধ্যে সর্বাপেক্ষা বেশী ও মাংশ উৎপাদনকারী জাত।

    শাহীওয়ালঃ

    উৎপত্তিঃ পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মন্টগোমারী জেলা।

    সাধারন বৈশিষ্টঃ শাহীওয়াল গাভী আকারে কিছুটা বড়। গাভীর ওজন ৪৫০-৫৫০ কেজি এবং ষাঁড়ের ওজন ৬০০-১০০০ কেজি। জন্মকালে বাছুরের ওজন ২২-২৮ কেজি। মাথা প্রশস্ত ও শিং ছোট কিন্তু মোটা। চূট ও গলকম্বল বেশ বড়। ওলান বড় এবং ঝুলন্ত। গায়ের রং সাধারনতঃ হালকা লাল বা হালকা হলুদ। কোন কোন গাভীর শরীরের বিভিন্ন অংশে সাদা রং দেখা যায়। বলদ ও ষাঁড় ধীর ও অলস।

    উপকারিতাঃ শাহীওয়াল এই উপমহাদেশের দুধাল গাভী রূপে সুপরিচিত। বাৎসরিক দুধ উৎপাদন ৩০০০-৪০০০ লিটার। চর্বি পরিমান ৪.৫%।

    হারিয়ানাঃ

    উৎপত্তিঃ ভারতের রটক, হীসার, গরগাঁও ও দিলস্নী।

    সাধারন বৈশিষ্টঃ হারিয়ানা দেখলেই মনে হয় অত্যন্ত পরিশ্রমী ও শক্তিশালী। গাভীর ওজন ৪০০ - ৫০০ কেজি এবং ষাঁড়ের ওজন ৬০০ - ১১০০ কেজি। জন্মকালে বাছুরের ওজন ২২ - ২৫ কেজি। মাথা বেশ লম্বা এবং অপেক্ষাকৃত সরু। শিং লম্বা, চিকন ও বাঁকানো। দেহের রং সাদাটে বা হালকা ধূসর।

    উপকারিতা: হারিয়ানা দুধ উৎপাদন ও লাংগল বা গাড়ী টানার জন্য উপযোগী। বাৎসরিক দুধ উৎপাদন ১৫০০ লিটার। দুধে চর্বির পরিমান ৫%। বকনা সাধারণত: ৩ - ৪ বৎসরের পূর্বে গাভী হয় না।

    লাল সিন্ধি



    উৎপত্তি: পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের করাচী, লাসবেলা ও হায়দারাবাদ।

    প্রাপ্তি স্থান: পাকিস্তানের সর্বত্রই পাওয়া যায়। পৃথিবীর  অনেক দেশে যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ভারত, সিংহল, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ড।

    সাধারণ বৈশিষ্ট: গায়ের রং লাল বলে নাম লাল সিন্ধি। গাভীর ওজন ৩৫০ - ৪০০ কেজি ও ষাড়ের ওজন ৪২৫ - ৫০০ কেজি। কপাল প্রশস্ত ও উন্নত, কানের আকার মাঝারী, নীচের দিকে ঝুলানো, ওলান বেশ বড়। শিং খাটো ও মোটা। ঘাড় খাটো ও মোটা। নাভী বড় ও ঝুলানো, বুক প্রশস্ত। গায়ের রং সাধারণত: গাঢ় লাল, কিন্তু কালচে হলুদ থেকে গাঢ় মেটে রং এর হতে পারে। এই জাতের গাভী ৩৫০ দিন দুধ দেয়। দৈনিক উৎপাদন প্রায় ৮-১০লিটার। জন্মকালে বাচ্চার ওজন ২১ - ২৪ কেজি।

    উপকারীতা: বাৎসরিক গড় দূগ্ধ উৎপাদন প্রায় ২০০০  লিটার। দুধে চর্বির পরিমান ৫% এর উপরে। এই জাত আমাদের দেশী আবহাওয়ায় মোটামুটি অভিযোজিত। বলদ বা ষাঁড় দ্বারা গাড়ীটানা ও হালচাষ ভাল ভাবে করা যায়। বকনা তিন বছর বয়সেই গাভী হয়ে থাকে।

    লাল চাঁটগেঁয়ে সিন্ধি

    উৎপত্তি: বাংলাদেশের চট্রগ্রাম ও পার্বত্য চট্রগাম।

    সাধারণ বৈশিষ্ট : দেহের আকার ছোট। গায়ের রং হাল্কা লাল। শিং ছোট, পাতলা ও ভিতরের দিকে আংশিক বাঁকানো। গলকম্ব ও মাথা ছোট। কান খাড়া। গাভীর ওজন ২৫০ - ৩০০ কেজি এবং ষাঁড় ৩৫০ - ৪০০ কেজি। ওলান বেশ সুঠাম, বাঁট অপেক্ষাকৃত ছোট। লাল চাঁটগেঁয়ে সিন্ধি বাংলাদেশের একমাত্র বিশুদ্ধ জাত হিসাবে পরিচিত।

    ছাগলের জাত

    গৃহপালিত পশুর মধ্যে ছাগল অত্যন্ত পরিচিত প্রাণী । এদের স্বাভাবিক জীবনকাল ৮-১০ বৎসর । পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রায় ৩১৩ জাতের ছাগল  পাওয়া যায় । ছাগল জাত ভেদে ১-৬ টি পর্যন্ত বাচচা প্রসব করে থাকে । আকৃতি ও আচরনে অন্যান্য পশুর মত এদের মধ্যেও ভিন্নতা লক্ষণীয় । ছাগলের দুধ, মাংস, লোম ও চামড়ার অর্থকরী সম্পদ। ছাগল পালন করতে হলে ছাগলের বিভিন্ন জাত সমর্পকে জানা প্রয়োজন । পৃথিবীতে বিভিন্ন জাতের ছাগল রয়েছে তার মধ্যে (১) ব্ল্যাক বেংগল (২) যমুনাপারি (৩) বীটল ইত্যাদি পাওয়া যায়।

    ১। ব্ল্যাক বেংগলঃ


    এ জাতের ছাগল বাংলাদেশর সর্বত্রই পাওয়া যায় এবং এটাই দেশের একমাত্র ছাগলের জাত। উলে­খ্য যে, বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পশ্চিম বাংলা, আসাম ও অন্যান্য রাজ্যেও এই জাতের ছাগল পাওয়া যায়। গায়ের রং অধিকাংশ ক্ষেত্রে কালো। তবে সাদা-কালো, খয়েরী-সাদা ইত্যাদিও হতে পারে। এরা সাধারনত: আকারে ছোট হয়। তবে মাঝে মাধ্যে এ জাতের বড় ছাগলও দেখা যায়। আমাদের দেশে এদের গড় ওজন যথাক্রমে ৯ থেকে ১৩ কেজি। পূর্ণ বয়স্ক বড় আকারের ছাগল এবং ছাগীর গড়  ওজন যথাক্রমে ৩২ ও ২০ কেজি । ঘাড় এবং পেছনের অংশ উচ্চতায় প্রায় সমান। বুক প্রশস্ত। পা গুলো ছোট ছোট। ছাগ এবং ছাগীর ছোট ছোট সরু এবং উর্দ্ধমুখী শিং আছে। কিন্তু পাঁঠার শিং তুলনামূলক ভাবে বড়, মোটা এবং পিছনের দিকে বাঁকানো। কানের আকার ছোট বা মাঝারী, চোখা এবং শরীরের সাথে সমান্তরাল এবং উর্দ্ধমুখী। গায়ের লোম ছোট ও মসৃন। এরা এক সংগে একাধিক বাচ্চা প্রসব করে। দ্রুত প্রজননশীলতা, সুস্বাদু মাংশ এবং উচ্চমান সম্পন্ন চামড়ার জন্য ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পৃথিবী বিখ্যাত।

    ২। যমুনাপারীঃ

    যমুনাপারি ভারতের সবচাইতে বড় এবং রাজকীয় ছাগলের জাত হিসাবে পরিচিত। বাংলাদেশেও এ জাতের ছাগল রয়েছে। এদের শরীর বিরাটাকার। গায়ের রং সাদা ও হলদেটে ধরনের হয়ে থাকে। এদের নাক রোমাদের নাকের মত টিকালো কান দুটো লম্বা, ঝোলানো ও ভাঁজ করা। পা বেশ লম্বা । যমুনাপারী ছাগলের পেছনের পায়ের পিছন দিকে লম্বা লম্বা  লোম থাকে। মাংস ও দুধের জন্য এ জাতের ছাগল পৃথিবীতে বিখ্যাত। বীজ হিসাবে এ জাতের ছাগলের পাঁঠা ভারত থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করা হয়। বাংলাদেশেও যমুনাপারি ছাগলের  জনপ্রিয়তা  রয়েছে ।

    ৩। বীটলঃ

    এ জাতের ছাগলের আদি বাস পাকিস্তান ও ভারতের পাঞ্জাবে। এদের মুখ ও নাকের গড়ন যমুনাপারি ছাগলের মত ।

    মুরগীর জাত



    বিভিন্ন মোরগ-মুরগীর বৈশিষ্ট

    মোরগ-মুরগীকে সাধারণত: দুই শ্রেণীতে ভাগ করা যেতে পারে। যেমন: হাল্কা (Light) জাত ও ভারী (Heavy) জাত।



































    শ্রেণী

    বংশ

    সাধারণ বৈশিষ্ট

    আমেরিকা

    রোড আইল্যান্ড রেড (আর.আর.আই), নিউহ্যাম্পশেয়ার, পাইমাউথ ইত্যাদি।

    পা লোমহীন, চামড়া হলদে, কানের লতি লাল, মাঝারী আকারের শরীর, মাংশ ও ডিম উভয়ের জন্যই ভাল।

    ভূমধ্যসাগরীয়

    হোয়াইট লেগ হর্ন, ব্যাক মিনারকা, এনকোনা ইত্যাদি। যেমন: ফাইওমি (পাকিস্তানী)

    পা লোমহীন, চামড়া হলুদ বা সাদা, কানের লতি সাদা, শরীরের আকার ছোট, খুব বেশী ডিম দেয়, কুঁচে লাগে না।

    বিলাতী

    সাসেক্স, অষ্টারলর্প, অরপিংটন ইত্যাদি

    লোমহীন পা, সাদা চামড়া, কানের লতি লাল, মাঝারী আকারের শরীর, মাংশ ও ডিম উভয়ের জন্যই ভাল।

    এশীয়

    ব্রাহামা, কোচিন, ল্যাংশায়ার ইত্যাদি

    লোমযুক্ত পা, চামড়া হলদে, কানের লতি লাল, আকাওে বড়, মাংশের জন্য ভাল, ঘন ঘন কুঁচে হয়।

    বাংলাদেশী

    আসিল, চাঁটগাঁয়ে বা মালয়ী

    পা লোমহীন, চামড়া হলদে, কানের লতি লালচে, আকারে বেশ বড় ও লম্বা, মাংশের জন্য ভাল। মোরগ লড়াইয়ের জন্য প্রসিদ্ধ।








    তথ্য:


    তথ্য আপা প্রকল্প


    Thursday, February 11, 2016

    দেশি (ব্ল্যাক বেঙ্গল) ছাগল খামার

  • Share The Gag
  • মাথা : চওড়া ও ছোট হবে
    দৈহিক গঠন : শরীর কৌনিক এবং অপ্রয়োজনীয় পেশীমুক্ত হবে
    বুক ও পেট : বুকের ও পেটের বেড় গভীর হবে
    পাজরের হাড় : পাজরের হাড় চওড়া এবং দুইটি হাড়ের মাঝখানে কমপক্ষে এক আঙ্গুল ফাঁকা জায়গা থাকবে
    ওলান : ওলানের দৈর্ঘ্য এবং প্রস' সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকবে। বাঁটগুলো হবে আঙ্গুলের মত একই আকারের এবং
    সমান-রালভাবে সাজানো। দুধের শিরা উলেৱখযোগ্যভাবে দেখা যাবে
    বাহ্যিক অবয়ব:  আকর্ষণীয় চেহারা, ছাগী সুলভ আকৃতি, সামঞ্জস্যপূর্ণ ও নিখুঁত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ

    পাঁঠা নির্বাচন
    লাভজনক বৱ্যাক বেঙ্গল ছাগল খামার প্রতিষ্ঠার জন্য উলেৱখিত জাতের পাঁঠা নির্বাচনের ক্ষেত্রে দৈহিক যে সমস- গুনাবলী বিবেচনাপ্রয়োজন তা নিমড়বরূপ। বিভিনড়ব বয়সে দৈহিক বৈশিষ্ট্যের তারতম্য হয়।

    উনড়বত গুনাগুন সম্বলিত একটি পাঁঠার নিমড়বলিখিত বৈশিষ্ট্যাবলী থাকা প্রয়োজন
    চোখ : পরিষ্কার, বড় ও তীক্ষ্ণ দৃষ্টি সম্পনড়ব হবে
    ঘাড় : খাটো ও মোটা থাকবে
    বুক : গভীর ও প্রশস- হবে
    পিঠ : প্রশস- হবে

    লয়েন : প্রশস- ও পুরু এবং রাম্প এর উপরিভাগ সমতল ও লম্বা থাকবে

    পা : সোজা, খাটো এবং মোটা হবে। বিশেষ করে পিছনের পাদ্বয় সুঠাম ও শক্তিশালী হবে এবং একটি হতে অন্যটি বেশ পৃথক থাকবে

    অন্ডকোষ : শরীরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ঝুলানো থাকবে
    বয়স : অধিক বয়স্ক (২ বছর বয়সের বেশী) পাঁঠা নির্বাচন করা যাবে না

    ব্যবহারের সম্ভাবনা
    সব ঋতুতে এবং সমগ্র বাংলাদেশে ব্যবহার উপযোগী।
    প্রযুক্তি ব্যবহারের সতকর্তা/বিশেষ পরামর্শ
    শুধুমাত্র উপরোলেখিত বৈশিষ্ট্যাবলীর উপর ভিত্তি করে ছাগী এবং পাঁঠা নির্বাচন করলে একটি খামার লাভবান হবে না। বরং
    উনড়বত ছাগল নির্বাচনসহ খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং সর্বোপরি সুষ্ঠু খামার ব্যবস্থাপনা করা হলে লাভজনক খামার প্রতিষ্ঠা সম্ভব।