Showing posts with label তরমুজ চাষ. Show all posts
Showing posts with label তরমুজ চাষ. Show all posts

Saturday, July 15, 2017

ছাদে ধান চাষ ও হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ

  • Share The Gag
  • বাড়ির ছাদে ধান চাষ

     

    যশোর শহরের বকচরের বিহারী ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের নিজের দুই তলা বাড়ির ছাদে ধান চাষ করে তৈরি করলেন ভিন্ন রকম নজির!জনাব রফিকুল ইসলাম বোরো বিআর-২৮ জাতের ধানের চারা লাগান নিজের বাড়ির ছাদের রেলিং দিয়ে করা কৃত্রিম জমিতে। রফিকুলের লাগানো সেই ধানের চারা বড় হয়ে এখন সেখানে ফসল এসেছে। সম্পূর্ণ ছাদ এখন ধানে ছেয়ে গেছে। রফিকুল নিজের বাড়ির ছাদে মোট ৩ শতাংশ জমিতে ধানের চারা রোপণ করেছিলেন।

    রফিকুল ইসলামের বাড়িটি মোট দুই তলার, রফিকুল নিজে থাকেন পরিবার নিয়ে দ্বিতীয় তলায়। নিচ তলা ভাড়া দেয়া আছে একটি কারখানাকে। রফিকুল নিজে একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসার পাশাপাশি রফিকুলের বাগান করার শখ। এর আগে তিনি তাঁর ছাদে লাগিয়েছিলেন ফলের গাছ তবে সে সব গাছ ফলন ভালো দেয়নি। যে কারণে তিনি সেসব কেটে ফেলেন। তবে রফিকুল ইসলাম দমে যাননি তিনি সিদ্ধান্ত নেন আবার তিনি এখানে চাষ করবেন তবে এবার অন্য কোন ফসল। তিনি ধান চাষের সিদ্ধান্ত নেন।

    রফিকুল ইসলাম তাঁর ছাদে চারপাশে উঁচু রেলিং তৈরি করেন এবং সেখানে নিচে প্লাস্টীক দিয়ে আবার প্লাস্টারিং করেন ২ ইঞ্চি পুরু করে। ফলে ঐ অংশে মাটি দেয়াতে বাড়ির কোন ক্ষতি হবেনা বলেই ধরা যায়। পরে তিনি সেখানে মাটি ফেলে তাতে সাঁর হিসেবে ঘরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন আবর্জনা  ব্যবহার করেন।

    bben130930_386_firozpaddy_01c

    রফিকুল ইসলাম আশা করছেন তাঁর ছাদের ৩ শতক ধান ক্ষেত থেকে তিনি ২ মনের মত ধান পাবেন। রফিকুল ইসলাম বলেন ধানের পরিমাণ হিসেবে বিবেচনা করছেন না তিনি। তিনি একে শৌখিনতা এবং ভালোলাগার বিষয় হিসেবে বিবেচনা করছেন।

    আমাদের দেশে রয়েছে ভূমি সংকট দিন দিন গ্রামের চাষের জমি নষ্ট করে তৈরি করা হচ্ছে বাসের জন্য বাসস্থান। নগরায়ন দ্রুত বাড়ছে ফলে এক সময় এভাবে চলতে থাকলে আমরা খাদ্য সংকটে পড়ব। বিষয়টির কথা মাথায় রেখে যার যার নিজ নিজ অবস্থান থেকে কিছুটা হলেও সবজি কিংবা ফসল চাষের পরিকল্পনা নিলে সেটা পরিবেশ বিপর্যয় এবং খাদ্য সংকটের মোকাবেলায় বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।

     

    হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে তরমুজ চাষঃ 



    watermelonমাটিবিহীন বা হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে তরমুজের আবাদ করে সফলতা পেয়েছেন পটুয়াখালী আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণাকেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মাটি ছাড়াই পাইপে সংরক্ষিত পানিতে প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান তরল আকারে প্রয়োগ করে এ পদ্ধতিতে পরিচ্ছন্ন পরিবেশে সারা বছর তরমুজ উৎপাদন করা সম্ভব। এ ছাড়া শহরে বাড়ির আঙিনায় কিংবা ছাদে যোগ হতে পারে নতুন মাত্রার এ প্রযুক্তি।
    পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক ঘেঁষে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পটুয়াখালী আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণাকেন্দ্র। সরেজমিন দেখা যায়, কেন্দ্রের এক কোণে পরীক্ষামূলকভাবে হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে তরমুজের আবাদ করা হয়েছে। ২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থের এই বাগান দেখতে ভিড় করছেন লোকজন। প্লাস্টিকের পাইপে ছিদ্র করে ১৪০টি তরমুজের চারা রোপণ করার পর এখন স্বাভাবিক নিয়মে ফলন এসে গাছে ঝুলে বড় হচ্ছে তরমুজ।
    খুব আগ্রহ নিয়ে বাগানটি দেখছিলেন এলাকার কৃষক ছোবাহান আকন। তিনি বলেন, ‘বাড়ির আঙিনায় কীভাবে এ রকম একটি তরমুজের বাগান করব, তা দেখছি। এখানকার কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় পরামর্শসহ সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন।’
    কেন্দ্রের ল্যাব সহকারী মো. বেল্লাল বলেন, এ বছর আগস্ট মাসে স্থানীয় বাজার থেকে হাইব্রিড তরমুজের বীজ কিনে চারা করা হয়। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাগানের প্লাস্টিকের পাইপের ছিদ্রে চারা রোপণ করা হয়। অক্টোবরের মাঝামাঝি ফল আসতে থাকে। তিনি বলেন, চারা রোপণের পর প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান, যেমন পটাশিয়াম হাইড্রোজেন ফসফেট, পটাশিয়াম নাইট্রেট, ক্যালসিয়াম নাইট্রেট, ম্যাগনেশিয়াম সালফেট, ইডিটিএ আয়রন, ম্যাংগানিজ সালফেট, বরিক অ্যাসিড, কপার সালফেট, অ্যামোনিয়াম মলিবডেট ও জিংক সালফেট বিশুদ্ধ পানিতে মিশিয়ে ওই পাইপে নিয়মিত সরবরাহ করে ফসল উৎপাদন করা হয়।
    মো. বেল্লাল বলেন, তরমুজের জীবনকাল আড়াই মাস। পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা তাঁদের এই বাগান থেকে তরমুজ উৎপাদন ডিসেম্বরের মাঝামাঝি শেষ হবে। জানুয়ারি মাসে আবার নতুন করে আরও বড় বাগান করার পরিকল্পনা রয়েছে। খরচ সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রথমে খরচ একটু বেশি হয়। কারণ, প্লাস্টিকের পাইপ কিনে তা ছিদ্র করে চারা রোপণ করতে হয়। এরপর থেকে খরচ কমে যায়। এই বাগানে তাঁদের ৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতিমধ্যে ১০০টি তরমুজ বাগান থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিটি তরমুজের ওজন ১ কেজি থেকে ২ কেজি হবে। সুস্বাদু এ তরমুজ যদি ১০০ টাকা কেজি হয়, তাহলে ১০০টি তরমুজ কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা দাম হবে। এ ছাড়া এখনো গাছে ৩০টির মতো তরমুজ বড় হচ্ছে।
    কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার বলেন, হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে এর আগে টমেটো, মরিচ, করলা ও মিষ্টি মরিচের আবাদ করে ব্যাপক সাফল্যে আসে। তবে তরমুজে সাফল্য এই প্রথম। এ পদ্ধতিতে আবাদি জমির প্রয়োজন হয় না, অনাবাদি জমিও চাষের আওতায় আনা যায়। আলাদাভাবে সার ও সেচের প্রয়োজন নেই, মাটিবাহিত কিংবা কৃমিজনিত কোনো রোগ হয় না। তা ছাড়া নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চাষ হয়, বিধায় কীটপতঙ্গের আক্রমণ কম। ফলে কীটনাশক ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় না।

    Saturday, April 16, 2016

    তরমুজ চাষ

  • Share The Gag
  • বংশ বিস্তার
    তরমুজের বংশবিস্তার সাধারণত বীজ দ্বারাই করা হয়ে থাকে।

    জমি তৈরি
    প্রয়োজনমতো চাষ ও মই দিয়ে জমি তৈরি করতে হবে। জমি তৈরির পরম মাদা প্রস্তুত করতে হবে। মাদাতে সার প্রয়োগ করে চারা লাগানো উচিত।

    বীজ বপন সময়/উৎপাদন মৌসুম
    বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত আবহাওয়া তরমুজ চাষের উপযোগী। বীজ বোনার জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম পক্ষ সর্বোত্তম। আগাম ফসল পেতে হলে জানুয়ারি মাসে বীজ বুনে শীতের হাত থেকে কচি চারা রক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। এর জন্য পলি টানেল ব্যবহার করা যায়।

    বপন/রোপণ পদ্ধতি
    সাধারণত মাদায় সরাসরি বীজ বপন পদ্ধতি প্রচলিত থাকলেও চারা তৈরি করে মাদাতে চারা রোপণ করাই উত্তম।

    বীজ বপন
    সাধারণত প্রতি মাদায় ৪-৫টি বীজ বপন করা হয়। বপনের ৮-১০ দিন আগে মাদা তৈরি করে মাটিতে সার মিশাতে হয়। দু মিটার দূরে দূরে সারি করে প্রতি সারিতে দু মিটার অন্তর মাদা করতে হয়। প্রতি মাদা ৫০ সেমি. প্রশস্ত ও ৩০ সেমি. গভীর হওয়া বাঞ্চনীয়। চারা গজানোর পর প্রতি মাদায় দুটি করে চারা রেখে বাকিগুলো তুলে ফেলতে হবে।

    চারা রোপণ
    বীজ বপণের চেয়ে তরমুজ চাষের জন্য চারা রোপণ করা উত্তম। এতে বীজের অপচয় কম হয়। চারা তৈরির জন্য ছোট ছোট পলিথিনের ব্যাগে বালি ও পচা গোবর সার ভর্তি করে প্রতি ব্যাগে একটি করে বীজ বপন করা হয়। ৩০-৩৫ দিন বয়সের ৫-৬ পাতাবিশিষ্ট একটি চারা মাদায় রোপণ করা হয়।

    বীজের পরিমাণ
    প্রতি হেক্টরে ৮৫০-১ হাজার গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়।

    সার প্রয়োগ
    তরমুজের জমিতে নিম্নোক্ত হারে সার প্রয়োগ করা যেতে পারে-

    সার                    মোট পরিমাণ     মাদা তৈরি      পরবর্তী পরিচর্যা
    (হেক্টর প্রতি)      কালে দেয়      হিসাবে মাদায় দেয়

    ১ম কিস্তি                                  ২য় কিস্তি                  ৩য় কিস্তি                ৪র্থ কিস্তি
    (চারা রোপণের ১০-১৫ দিন পর)  (প্রথম ফুল ফোটার সময়) (ফল ধারণের সময়) (ফল ধারণের ১৫-২০ দিন পর)

    গোবর/কম্পোস্ট   ২০ টন    সব    -    -    -    -
    ইউরিয়া      ২৮০ কেজি     -    ১০০ কেজি    ৬০ কেজি    ৬০ কেজি    ৬০ কেজি
    টিএসপি     ১০০ কেজি      সব    -    -    -    -
    এমপি      ৩২০ কেজি     -    ৮০ কেজি    ৮০ কেজি    ৮০ কেজি    ৮০ কেজি

    বীজের অঙ্কুরোদগম
    শীতকালে খুব ঠাণ্ডা থাকলে বীজ ১২ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে গোবরের মাদার ভেতরে কিংবা মাটির পাত্রে রক্ষিত বালির ভেতরে রেখে দিলে ২-৩ দিনের মধ্যে বীজ অঙ্কুরিত হয়। বীজের অঙ্কুর দেখা দিলেই বীজ তলায় অথবা মাদায় স্থানান্তর করা ভালো।

    অন্তর্বর্তীকালীন পরিচর্যা
    শুকনো মৌসুমে সেচ দেয়া খুব প্রয়োজন। গাছের গোড়ায় যাতে পানি জমে না থাকে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। প্রতিটি গাছে ৩-৪টির বেশি ফল রাখতে নেই। গাছের শাখার মাঝামাঝি গিটে যে ফল হয় সেটি রাখতে হয়। চারটি শাখায় চারটি ফলই যথেষ্ট। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে ৩০টি পাতার জন্য মাত্র একটি ফল রাখা উচিত।

    পরাগায়ন
    সকালবেলা স্ত্রী ও পুরুষ ফুল ফোটার সাথে সাথে স্ত্রী ফুলকে পুরুষ  ফুল দিয়ে পরাগায়িত করে দিলে ফলন ভালো হয়।

    পোকামাকড় ও রোগবালাই পাতার বিটল পোকা প্রথম দিকে পোকাগুলোর সংখ্যা যখন কম থাকে তখন পোকা ডিম ও বাচ্চা ধরে নষ্ট করে ফেলতে হবে। পোকার সংখ্যা বেশি হলে রিপকর্ড/সুমিথিয়ন/ম্যালাথিয়ন ৫৭ ইসি ১ মিলি/লিটার মাত্রায় সপ্তাহান্তে স্প্রে করতে হবে।

    জাব পোকা
    এ পোকা গাছের কচি কাণ্ড, ডগা ও পাতার রস শুষে খেয়ে ক্ষতি করে। এ পোকা দমনের জন্য সুমিথিয়ন/ম্যালাথিয়ন ৫৭ ইসি ২ মিলি/লিটার মাত্রায় স্প্রে করতে হবে।

    মাজরা পোকা
    স্ত্রী পোকা ফলের খোসার নিচে ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে কীড়াগুলো বের হয়ে ফল খেয়ে নষ্ট করে ফেলে এবং ফলগুলো সাধারণত পচে যায়। এপোকা দমনের জন্য রিপকর্ড/সুমিথিয়ন/ম্যালাথিয়ন ৫৭ ইসি ১ মিলি/লিটার মাত্রায় স্প্রে করতে হবে।

    কাণ্ড পচা রোগ
    এ রোগের আক্রমণে তরমুজ গাছের গোড়ার কাছের কাণ্ড পচে গাছ মরে যায়। প্রতি কারের জন্য ২.৫ গ্রাম ডাইথেন এম-৪৫ প্রতি ১ লিটার পানেতে মিশিয়ে ১০-১৫ দিন পর পর গাছে স্প্রে করতে হবে।

    ফিউজেরিয়াম উইল্ট রোগ
    এ রোগের আক্রমণে গাছ ঢলে পড়ে মারা যায়। নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা করা হলে এ রোগের প্রকোপ কম থাকে। রোগাক্রান্ত গাছ তুলে পুড়িয়ে ফেরতে হবে।

    ফসল সংগ্রহ
    জাত ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে তরমুজ পাকে। সাধারণত ফল পাকতে বীজ বোনার পর থেকে ৮০-১১০ দিন সময় লাগে। তরমুজের ফল পাকার সঠিক সময় নির্নয় করা একটু কঠিন। কারণ অধিকাংশ ফলে পাকার সময় কোনো বাহ্যিক লক্ষণ দেখা যায় না। তবে নীচের লক্ষণগুলো দেখে তরমুজ পাকা কি না তা অনেকটা  অনুমান করা যায়।


    •  ফলের বোঁটার সঙ্গে যে আকর্শি থাকে তা শুকিয়ে বাদামি রং হয়।

    • খোসার উপরে সূক্ষ লোমগুলো মরে পড়ে গিয়ে তরমুজের খোসা চকচকে হয়।

    •  তরমুজের যে অংশটি মাটির ওপর লেগে থাকে তা সবুজ থেকে উজ্জল হলুদ রংঙের হয়ে ওঠে।

    • তরমুজের শাঁস লাল টকটকে হয়।

    • আঙ্গুল দিয়ে টোকা দিলে যদি ড্যাব ড্যাব শব্দ হয় তবে বুঝতে হবে যে ফল পরিপক্কতা লাভ করেছে। অপরিপক্ব ফলের বেলায় শব্দ হবে অনেকটা ধাতবীয়।



    ফলন
    সযত্নে চাষ করলে ভালো জাতের তরমুজ থেকে প্রতি হেক্টরে ৫০-৬০ টন ফলন পাওয়া যায়।