Showing posts with label বিপণন ব্যবস্থা না থাকায় পাম গাছ এখন গলার কাঁটা. Show all posts
Showing posts with label বিপণন ব্যবস্থা না থাকায় পাম গাছ এখন গলার কাঁটা. Show all posts

Friday, March 4, 2016

বিপণন ব্যবস্থা না থাকায় পাম গাছ এখন গলার কাঁটা

  • Share The Gag
  • যশোরের কেশবপুর উপজেলার শত শত যুবক ভাগ্য বদলাতে পাম চাষ করে। সেই পাম গাছ এখন তাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    এসব পাম গাছে ফল এসেছে। কিন্তু বিপণন ব্যবস্থা ও তেল উত্পাদনের মেশিন না থাকায় গাছ থেকে পাম ফল পাড়ছেন না কৃষকরা।

    গাছেই নষ্ট হচ্ছে ফল। আবার অনেক কৃষক হতাশ হয়ে লোকসান এড়াতে গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    ইতিমধ্যে গাছের পরিচর্যা ছেড়ে দিয়ে অনেক কৃষক পাম গাছ কেটেও ফেলেছেন। কেউ কেউ সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন পাম গাছগুলো কেটে ফেলবেন না রেখে দেবেন। এদিকে, উপজেলা কৃষি অফিসও পাম চাষীর সঠিক কোন তথ্য এখনও দিতে পারেনি।


    জানা গেছে, গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কৃষি বিভাগের পরামর্শে এ উপজেলার শত শত কৃষক ও যুবক ভাগ্য বদলাতে ১৫০ থেকে ৩২০ টাকা মূল্যের চারা কিনে ঘরের আঙ্গিনায় পাম গাছ রোপণ করে পরিচর্যা শুরু করে।

    আবার অনেক কৃষক বাণিজ্যিকভাবে পাম চাষাবাদ শুরু  করে। এর মধ্যে ভালুকঘর, বাঁশবাড়িয়া, তেঘরী, ভাণ্ডারখোলা, ফতেপুর, খোপদই, টিটাবাজিতপুর, সুফলাকাটি, পাঁজিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করে।

    চারা রোপণের পর সঠিক পরিচর্যা করায় চার বছর যেতে না যেতেই ফল আসা শুরু করে। কিন্তু  দেশে পাম ফলের বিপণন ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় এবং ফল থেকে তেল বের করার মেশিন না থাকায় কৃষক পাম ফল নিয়ে বিপাকে পড়েন।

    ফলে চাষীরা লাভের আশা ছেড়ে দিয়ে পাম গাছের পরিচর্যাও বন্ধ করে দেয়। এমতাবস্থায় গাছ থেকে ফল সংগ্রহ না করায় তা গাছেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।


    ভালুকঘর গ্রামের টুকুল জানান, একটি পাম গাছ থেকে একটি পরিবারের সারা বছরের তেল উত্পাদন করা সম্ভব। পাম গাছের চারা বিক্রি করতে আসা ব্যক্তিদের এমন আশার বাণী শুনে তিনি ২০০৮ সালে ১৮ শতক জমিতে ২৪টি পাম গাছ রোপণ করেন।

    এ পর্যন্ত অর্ধ লাখ টাকা ব্যয় করে চারাগুলোর পরিচর্যা, সার, কীটনাশক ও পানি দিয়ে বড় করেছেন। ফল আসা শুরু করলে এগ্রো লিমিটেড নামের একটি এনজিও ভালো মূল্যে তার কাছ থেকে ফল ক্রয় করবেন বলে জানান।

    কিন্তু ওই কোম্পানিও এখন লাপাত্তা। ফল বিক্রি করতে না পারায় গত ৪ বছর ধরে তার জমির গাছের ফল কাদিতেই নষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কয়েক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে তারা পাম গাছ কেটে ফেলতে বলেছেন।


    টুকুল কারো কাছ থেকে ভালো কোন পরামর্শ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন। ফলে তিনি গাছ কেটে ফেলবেন কি না তা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। শুধু টুকুল নয় তার গ্রামের হাফেজ শহিদুল ইসলাম, এরশাদ আলী, মনিরুজ্জামান, বাঁশবাড়িয়া গ্রামের শফিকুল ইসলামও পাম গাছের চাষ করে বিপাকে পড়েছেন।

    এগ্রো লিমিটেডের পরিচালক হাবিবুর রহমান তাদের বুঝিয়ে ছিল মালয়েশিয়ায় পাম চাষ করে মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটেছে। এখানে পাম চাষ করেও ভাগ্যের উন্নয়ন সম্ভব। গতকাল রবিবার লিটনের পাম বাগান পরিদর্শন কালে দেখা গেছে, প্রতিটি গাছে ফল ধরেছে। কিন্তু ফল সংগ্রহ না করায় তা গাছেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।


    এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার দাস গাছগুলো না কাটার পরামর্শ দিয়ে বলেন, পাম চাষ আমাদের দেশে নতুন হওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। তবে কৃষি বিভাগ পাম চাষের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

    সূত্রঃইত্তেফাক