Showing posts with label তেল ফসল চাষ. Show all posts
Showing posts with label তেল ফসল চাষ. Show all posts

Friday, October 7, 2016

সয়াবিন চাষ

  • Share The Gag
  • বাংলাদেশে সয়াবীন একটি সম্ভাবনাময় ফসল। আমিষ ও ভোজ্য তেল উৎপাদনে সয়াবীন এখন অনেক দেশেই একটি প্রধান ফসল।




    পুষ্টি উপাদান/মূল্য ও ভেষজগুণঃ প্রোটিন বিদ্যমান। অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড থাকে বিধায় হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্ত চাপ রোগীদের জন্য বিশেষ উপকারী।




    ব্যবহারঃ সয়াবিন ডাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া পিয়াজু, বড়া, দুধ, চাপাতি, পরটা, পাউরুটি, বিস্কুট, পিঠাসহ আরও অনেক খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে পোল্ট্রি শিল্পে সয়াবিন ব্যবহৃত হচ্ছে।




    উপযুক্ত জমি ও মাটিঃ দো-আঁশ, বেলে-দো-আঁশ ও এঁটেল দো-আঁশ মাটি সয়াবিন চাষের উপযোগী।




    জাত পরিচিতিঃ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সয়াবিনের ৩টি জাত উদ্ভাবন করেছেন। জাতগুলোর বৈশিষ্ট্য নিম্নে উল্লেখ করা হলো।




    সোহাগ (পিবি-১): সংগৃহীত জার্মপ্লাজম থেকে বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৯৯১ সালে সরকার কর্তৃক জাতটির  অনুমোদন দেয়া হয়।ফুলের রং বেগুনী। বীজের রং উজ্জ্বল হলদে। বীজ সংরক্ষণ ক্ষমতা ভালো। ১০০ বীজের ওজন ১১-১২ গ্রাম। এজাতটি পাতার হলদে মোজাইক রোগ সহনশীল। জীবনকাল রবি মৌসুমে ১০০-১১০ দিন এবং খরিপ মৌসুমে ৮০-৯০ দিন। হেক্টর প্রতি ফলন ১.৫-২.০ টন।




    বাংলাদেশ সয়াবিন-৪ (জি-২): ১৯৯৪ সালে জাতটির অনুমোদন দেয়া হয়। এ জাতের বীজের আকার ছোট।  ১০০ বীজের ওজন ৫-৭ গ্রাম। বীজের রং হলদে। জাতটি পাতার হলদে মোজাইক রোগ সহনশীল। জাতটির জীবনকাল ৯০-১২০ দিন। হেক্টর প্রতি  ফলন ১.৮-২.০ টন।




    বারি সয়াবিন-৫: ২০০২ সালে জাতটির অনুমোদন দেয়া হয়। এজাতটি সব মৌসুমেই চাষ করা যায়।  এ জাতের প্রতিটি গাছে ফলের সংখ্যা ২৫-৩২ টি। শুটিতে বীজের সংখ্যা ২-৩  টি। বীজের আকার সোহাগের চেয়ে সামান্য ছোট এবং বাংলাদেশ সয়াবিন-৪ এর  বীজের চেয়ে বড়। বীজের রং ক্রীম এবং শত বীজের ওজন ৯-১৪ গ্রাম। জীবনকাল ৯০- ১০০ দিন। হেক্টর প্রতি ফলন ১.৬-২.০ টন।




    বারি সয়াবীন-৬: জাতটি বাংলাদেশের সব জায়গায় রবি ও খরিফ-২ মৌসুমে চাষ উপযোগী। রবি মৌসুমে মধ্য ডিসেম্ভর থেকে মধ্য জানুয়ারি এবং খরিফ-২ মৌসুমে জুলাই মাসে বপনের উপযুক্ত সময়। জাতটি বপন থেকে পরিপক্ক হতে ১০০-১১০ দিন সময় লাগে। জাতে ২০-২১% তেল এবং ৪২-৪৪% প্রোটিন থাকে। জাতটিতে মোজাইক ভাইরাসের আক্রমণ কম হয়। জাতটির হেক্টর প্রতি ফলন ১.৮০-২.২০ টন।




    বীজ বপনঃ বাংলাদেশে রবি এবং খরিপ উভয় মৌসুমেই সয়াবিনের চাষ করা যায়। তবে পৌষ মাসে (মধ্য ডিসেম্বর থেকে মধ্য জানুয়ারী) বপন করা ভাল। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে শ্রাবণ মাস থেকে মধ্য  ভাদ্র মাস পর্যন্ত বপন করা যায়।




    বীজের হারঃ সোহাগ- ৮০ কেজি/হেঃ। জি-২ - ৪০-৪৫ কেজি/হেঃ।




    বপন পদ্ধতিঃ সয়াবিন সারি করে বপন করা ভালো। তবে ছিটিয়েও বুনা যায়। সারিতে বপন করলে সারি  থেকে সারির দূরত্ব রবি মৌসুমে ৩০ সে.মি. এবং খরিপ মৌসুমে ৪০ সে.মি. দিতে  হবে। গাছ থেকে গাছের দূরত্ব হবে ৫-৬ সে.মি.। বীজ বপনের গভীরতা হবে ৩-৪ সে.মি.।




    সার ব্যবস্থাপনাঃ




    হেক্টর প্রতি সারের পরিমাণ নিম্নরূপঃ


























    সারের নাম

    প্রতি হেক্টরে (কেজি)

    ইউরিয়া

    ৫০-৬০ কেজি

    টিএসপি

    ১৫০-১৫ কেজি

    এমওপি

    ১০০-১২০ কেজি

    জিপসাম

    ৮০-১১৫ কেজি




    শেষ চাষের সময় সবটুকু সার জমিতে প্রয়োগ করে মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।




    অণুজীব সার প্রয়োগঃ ছায়াযুক্ত স্থানে এক কেজি বীজের মধ্যে ৬৫-৭৫ গ্রাম অণুজীব সার মিশিয়ে ভালোভাবে নাড়াচাড়া করে বীজ সাথে সাথে বপন করতে হবে। সাধারণত এই সার ব্যবহার করলে ইউরিয়া সার ব্যবহারের প্রয়োজন হয়না।




    সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনাঃ রবি মৌসুমে বীজ বপনের ২৫-৩০ দিনের মধ্যে (ফুল আসার সময়)। প্রথম সেচ  এবং দ্বিতীয় সেচ বীজ বপনের ৫৫-৬০ দিনের মধ্যে (শুটি গঠনের সময়) দিতে   হবে। খরিপ মৌসুমে সেচের প্রয়োজন হয়না তবে প্রয়োজনে সম্পূরক সেচ দেয়া যেতে পারে। চারা গজানোর ২০-২৫ দিন পর আগাছা দমন করতে হবে।




    রোগবালাই ব্যবস্থাপনাঃ




    পোকার নামঃ  বিছা পোকা


    সয়াবিনের একটি মারাত্মক পোকা। ছোট অবস্থায় এরা দলবদ্ধভাবে থাকে। কীড়া বা বিছা হলুদ রংয়ের এবং গায়ে কাঁটা থাকে। এরা সাধারণত গাছের পাতায় আক্রমণ করে। এ পোকার কীড়া দলবদ্ধভাবে থেকে পাতার  সবুজ অংশ খেয়ে পাতাকে পাতলা সাদা পর্দার মতো করে ফেলে।




    ব্যবস্থাপনাঃ পোকা দেখার সংগে সংগে গাছ থেকে পোকাসহ পাতা সংগ্রহ করে পোকা মেরে ফেলতে হবে। সেচ নালায় কেরোসিন মিশ্রিত পানি থাকলে কীড়া পানিতে পড়ে মারা যায়। প্রতি লিটার পানিতে ডায়াজিনন-৬০ ইসি ২ মিলি হারে মিশিয়ে বিকালে জমি করতে হবে।




    রোগের নামঃ হলুদ মোজাইক ভাইরাস


    সয়াবিনের সবুজ পত্র ফলকের উপরিভাগে উজ্জ্বল সোনালী বা হলুদ রংয়ের চক্রাকার দাগের উপস্থিতি দেখা যায়। তখন হলদে পাতাযুক্ত আক্রান্ত গাছ সাধারণত খাটো এবং বামনাকৃতি হয়ে থাকে। মেঘলা আবহাওয়ায় এ রোগটি বৃদ্ধি পায়। জাব পোকার মাধ্যমে বিস্তার ঘটে।




    ব্যবস্থাপনাঃ বালাই সহনশীল জাত যেমন বাংলাদেশ সয়াবিন-৪এর আবাদ করা। আক্রান্ত গাছ বাছাই করে (রগিং) তুলে মাটির নিচে পুঁতে রাখা। রোগমুক্ত বীজ বপন। ২ মিলি হারে মিশিয়ে জমিতে ভালোভাবে সেপ্র করতে হবে।




    রোগের নামঃ কান্ড পঁচা রোগ


    এ রোগ সাধারণত স্কেলেরোশিয়াম রলফসি/ফিউজারিয়াম/রাইজোকটনিয়া নামক ছত্রাকের সাহায্যে রোগ ছড়ায়। আক্রান্ত গাছের কান্ড এবং মূলে কালো দাগ পড়ে। পরবর্তীতে চারা বা গাছ ধীরে ধীরে শুকিয়ে যায় এবং অবশেষে মারা যায়। ছত্রাকের সাহায্যে বিসত্মার।




    ব্যবস্থাপনাঃ বীজ বপনের পূর্বে ভিটাভেক্স-২০০ দিয়ে (২.৫ গ্রাম/কেজি) বীজ শোধন করে বীজ বপন করতে হবে। গভীরভাবে জমি চাষ করতে হবে। জমি হতে ফসলের পরিত্যক্ত আঁশ, আগাছা, আবর্জনা পরিষ্কার করে রোগের উৎস নষ্ট করতে হবে।




    ফসল তোলাঃ সয়াবীন বীজ বোনা থেকে ফসল কাটা পর্যন্ত ৯০-১২০ দিন সময় লাগে। ফসল পরিপক্ক হলে শুটিসহ গাছ হলদে হয়ে আসে এবং পাতা ঝড়ে পড়তে শুরু করে। এ সময় গাছ কেটে ফসল সংগ্রহ করতে হয়।

    Wednesday, May 11, 2016

    তিসি চাষ

  • Share The Gag
  • তিসি চাষ

    ফসলের নাম-তিসি (Linseed)

    উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম: Linum Utitatissimum Linn.

    পরিবার: Linaceae.
    ১.  পুষ্টিমূল্য/উপাদান : প্রোটিন, তেল, কার্বোহাইড্রেট, ছাই, আঁশ বিদ্যমান।
    ৩.  ব্যবহার : যন্ত্রপাতির জন্য গ্রিজ ও সাবান তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
    ৪.  উপযুক্ত জমি মাটি : এঁটেল মাটি তিসি চাষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী। পলি দো-আঁশ ও এঁটেল দো-আঁশ মাটিতেও এর চাষ করা যায়।
    ৫.  জাত পরিচিতি : নীলা (লিন-১)

    জাতটি বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়েছে এবং ১৯৮৮ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত হয়। জাতটির বৈশিষ্ট্য হলো-বীজ ছোট ও চেপ্টা। ফল ১০০০ বীজের ওজন ৩.০-৩.৫ গ্রাম। ফুলের রং নীল। বীজ হাতে ধরলে পিচ্ছিল অনুভূত হয়। বীজে তেলের রিমাণ শতকরা ৩৮ ভাগ। হেক্টর প্রতি ফলন ৮৫০-৯৫০ কেজি।
    ৬. বীজ বপন : কার্তিক মাস (মধ্য অক্টোবর হতে বীজ ছিটিয়ে বপন করতে হয়। তবে সারিতে বপন করলে সারি থেকে সারির দূরত্ব হবে ৩০ সে.মি.।
    ৭. বীজের হার :     ৭-৮ কেজি/হেক্টর।
    ৮. সারব্যবস্থাপনা : সাধারণত তিসি বিনা সারে চাষ করা হয়। তবে ভালো ফলন পেতে হলে নিম্নরূপ হারে সার প্রয়োগ করতে হবে।
    সার               হেক্টর প্রতি সারের পরিমাণ (কেজি)
    ইউরিয়া          ৭০-৮০
    টিএসপি           ১১০-১৩০
    এমওপি           ৪০-৫০
    ইউরিয়া সার অর্ধেক ও বাকি অন্যসব সার শেষ চাষের সময় জমিতে মিশিয়ে দিতে হবে। বাকি অর্ধেক ইউরিয়া বীজ বপনের ২৫-৩০ দিন পর প্রয়োগ করতে হবে।
    ৯.  সেচ আগাছা ব্যবস্থাপনা : প্রয়োজনে ১-২ বার সেচ দিতে হবে। আর জমিতে আগাছা থাকলে সময়মতো আগাছা দমন করতে হবে।

    ১০. পোকা মাকড় ব্যবস্থাপনা : পোকামাকড়ের আক্রমণ উল্লেখযোগ্য নহে।

    ১১. রোগ ব্যবস্থাপনা:
    রোগের নাম: পাতা ঝলসানো রোগ

    ভূমিকা: অলটারনেরিয়া লিনি নামক একপ্রকার ছত্রাকের সাহায্যে এ রোগ ছড়ায়। এটি একটি বীজবাহিত রোগ।

    ক্ষতির নমুনা : প্রথমে পাতার উপর ঘন বাদামী বর্ণের অসম আকৃতির দাগ পড়ে। রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেলে পাতা শুকিয়ে যায়।

    অনুকূল পরিবেশ :আর্দ্র আবহাওয়া

    বিস্তার: বাতাসের সাহায্যে এ রোগ বিস্তার লাভ করে।

    ব্যবস্থাপনা:

    ক) বীজ শোধন : বীজ বপনের পূর্বে প্রতি কেজি বীজে ২.৫ গ্রাম ভিটাভেক্স-২০০ দিয়ে বীজ শোধন করতে হবে।
    খ) আগাছা দমনসহ ফসলের পরিচর্যার মাধ্যমে রোগের প্রাদুর্ভাব কমানো যায়।
    গ) গাছে এ রোগের লক্ষণ দেখা দেয়া মাত্র প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম রোভরাল-৫০ ডব্লিউপি মিশিয়ে ১০ দিন পরপর ৩ বার স্প্রে করতে হবে।
    ১২.  ফসল তোলা : তিসি ফাল্গুন-চৈত্র মাসে পাকে। পাকলে গাছ এবং ফল সোনালী বা কিছুটা তামাটে রং ধারণ করে। ফল ভালভাবে পাকার পরই গাছ কাটা বা উপড়ানো উচিৎ। ফসল কেটে বা উপড়িয়ে নেয়ার পর গাছগুলো ছোট ছোট আঁটি বেঁধে বাড়ির আঙ্গিনায় স্তুপ করে রাখা যায়। জীবনকাল ১০০-১১৫ দিন।

    [paypal_donation_button]

    সূর্যমুখী চাষ বিস্তারিত

  • Share The Gag




  • পুষ্টিমূল্য ও ভেষজগুণঃ সূর্যমুখীর বীজে ৪০-৪৫% লিনোলিক এসিড রয়েছে, তাছাড়া এতেলে ক্ষতিকারক ইরোসিক এসিড নেই। হৃদরোগীদের জন্য সূর্যমুখীর তেল খুবই উপকারী।




    ব্যবহারঃ সূর্যমুখীর খৈল গরু ও মহিষের উৎকৃষ্টমানের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বীজ ছাড়ানোর পর মাথাগুলো গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। গাছ ও পুষ্পস্তবক জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হয়।




    উপযুক্ত জমি ও মাটিঃ সূর্যমুখী সাধারণত সব মাটিতেই জন্মে। তবে দো-আঁশ মাটি সবচেয়ে বেশী উপযোগী।




    জাত পরিচিতিঃ এ পর্যন্ত বারি কর্তৃক ২টি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। যথা (১) কিরণী (ডিএস-১) এবং বারি সুর্যমুখী-২।




    কিরণীঃ ১৯৯২ সালে জাতটির অনুমোদন দেয়া হয়। বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতটি উদ্ভাবন করা হয়। জাতটির কান্ডের ব্যাস ১.৫-২.০ সে.মি.। পরিপক্ক পুষ্পমঞ্জুরী বা শাখার ব্যাস ১২-১৫ সে.মি.। প্রতি মাথায় বীজের সংখ্যা ৪০০-৬০০। বীজের রং কালো। ১০০০ বীজের ওজন ৬৮-৭২ গ্রাম। বীজে তেলের পরিমাণ শতকরা ৪২-৪৪ ভাগ। জাতটি মোটামুটি অলটারনারিয়া রোগ সহনশীল। জীবনকাল ৯০-১১০ দিন। হেক্টর প্রতি ফলন ১.৬ হতে ১.৮ টন।




    বারি সূর্যমুখী-২: গাছের কান্ডের ব্যাস ২.০-২.৪ সে.মি.। পরিপক্ক পুষ্পমঞ্জুরী বা শাখার ব্যাস ১৫-১৮ সে.মি.। বীজের রং কালো। ১০০০ বীজের ওজন ৬৫-৭০ গ্রাম। প্রতি মাথায় বীজের সংখ্যা ৪৫০-৬৫০। তেলের পরিমাণ শতকরা ৪২-৪৪ ভাগ। জীবনকাল রবি মৌসুমে ৯৫-১০০ দিন এবং খরিফ মৌসুমে ৯০-৯৫ দিন। হেক্টর প্রতি ফলন রবি মৌসুমে ২.০ হতে ২.৩ টন এবং খরিপ মৌসুমে ১.৫ হতে ১.৮ টন।




    বোনার সময়ঃ সূর্যমুখী সারা বছর চাষ করা যায়। তবে অগ্রহায়ন মাসে চাষ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। দেশের উত্তর ও পশ্চিম অঞ্চলে তাপমাত্রা ১৫ সেন্টিগ্রেড এর নিচে হলে ১০-১২ দিন পরে বীজ বপন করা উচিত। খরিফ-১ মৌসুমে জৈষ্ঠ্য (মধ্য এপ্রিল থেকে মধ্য মে) মাসেও এর চাষ করা যায়।




    বপন পদ্ধতি ও বীজের হারঃ  সূর্যমুখী বীজ সারিতে বুনতে হয়। সারি থেকে সারির দূরত্ব ৫০ সেন্টিমিটার এবং গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ২৫ সেন্টিমিটার। এভাবে বুনলে প্রতি হেক্টরে (২৪৭ শতকে) ৮-১০ কেজি বীজ লাগে। বারি সূর্যমূখী-২ এর জন্য হেক্টর প্রতি ১২-১৫ কেজি বীজের দরকার হয়।




    সার ব্যবস্থাপনাঃ ভালো ফলনের জন্য সূর্যমুখীতে নিম্নরূপ সার ব্যবহার করতে হবে।






































    সারের নাম

    সারের পরিমাণ/হেক্টর

    ইউরিয়া

    ১৮০-২০০ কেজি

    টিএসপি

    ১৫০-২০০ কেজি

    এমওপি

    ১২০-১৫০ কেজি

    জিপসাম

    ১২০-১৭০ কেজি

    জিংক সালফেট

    ৮-১০ কেজি

    বরিক এসিড

    ১০-১২ কেজি

    ম্যাগনেসিয়াম সালফেট

    ৮০-১০০ কেজি




    * রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নওগাঁ ও রাজশাহী এলাকার জন্য প্রযোজ্য




    সার প্রয়োগ পদ্ধতিঃ অর্ধেক ইউরিয়া এবং বাকি সব সার শেষ চাষের সময় জমিতে ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। বাকি অর্ধেক ইউরিয়া ২ ভাগ করে প্রথম ভাগ চারা গজানোর ২০-২৫ দিন এবং দ্বিতীয় ভাগ ৪০-৪৫ দিন পর (ফুল ফোটার পূর্বে) প্রয়োগ করতে হবে।




    পোকামাকড় ব্যবস্থাপনাঃ




    পোকার নামঃ বিছা পোকা ছোট অবস্থায় এরা দলবদ্ধভাবে থাকে। কীড়া বা বিছা হলুদ রংয়ের এবং গায়ে কাঁটা থাকে। এরা সাধারণত গাছের পাতায় আক্রমণ করে। এ পোকার কীড়া দলবদ্ধভাবে থেকে পাতার সবুজ অংশ খেয়ে পাতাকে পাতলা সাদা পর্দার মতো করে ফেলে।




    ব্যবস্থাপনাঃ সহ পোকা দেখার সংগে সংগে গাছ থেকে পোকাসহ পাতা সংগ্রহ করে পোকা মেরে ফেলতে হবে। সেচ নালায় কেরোসিন মিশ্রিত পানি থাকলে কীড়া পানিতে পড়ে মারা যায়। আক্রমণ বেশি হলে নাইট্রো (সাইপরমেথ্রিন+ ক্লোরোপাইরিপস) ২০ ইসি ২ মিলিলিটার প্রতি লিটার পানিতে আক্রান্ত ক্ষতে ১০ দিন পর পর ২ বার ছিটিয়ে পোকা দমন করা যায়।




    রোগের নামঃ পাতা ঝলসানো রোগ




    ক্ষতির নমুনাঃ অলটারনেরিয়াহেলিয়ানথী নামক ছত্রাকের সাহায্যে এ রোগ ছড়ায়। আক্রমণের শুরুতে পাতায় ধুসর বা গাঢ় বাদামী বর্ণের অসম আকৃতির দাগ পড়ে। এ দাগগুলো একত্রে মিলিত হয়ে বড় দাগের সৃষ্টি করে এবং অবশেষে পুরো পাতা ঝলসে যায়। বীজ এবং বায়ুর সাহায্যে বিসত্মার লাভ করে।




    ব্যবস্থাপনাঃ রোগসহনশীল জাতের আবাদ করা (যেমন-কিরণী)। প্রতি লিটার পানির সাথে ২ গ্রাম রোভরাল-৫০ ডব্লিউ পি মিশিয়ে ১০ দিন পর পর ৩ বার সেপ্র করা বা ফসল কাটার পর পরিত্যক্ত কান্ড, মূল ও পাতা পুড়িয়ে ফেলা।




    অন্যান্য করণীয়ঃ




    বীজ শোধনঃ মাটি ও বীজ থেকে সুষ্ট বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের জন্য বীজ শোধন খুব দরকারি। ভিটাভেক্স-২০০ ছত্রাকনাশক দিয়ে বীজ শোধন করা যায়। প্রতি কেজি সূর্যমুখী বীজের জন্য মাত্র ৩ (তিন) গ্রাম ভিটাভেক্স-২০০ প্রয়োজন। এটি বড় প্লাস্টিকের ঢাকনা দেয়া পাত্রে সূর্যমুখীর বীজ নিয়ে পরিমাণমতো ঔষধ মিশিয়ে পাত্রের মুখ বন্ধ করে ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে ১ দিন রেখে দেয়ার পর বীজ জমিতে বপন করতে হবে।




    গাছ পাতলাকরণঃ অতিরিক্ত গাছ থাকলে চারা গজানোর ১৫-২০ দিন পর প্রতি হিলে/গোছায় ১টি করে সুস্থ সবল গাছ রেখে বাকি গাছহুলো উঠয়ে ফেলতে হবে।




    সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনাঃ সূর্যমুখী ফসলের ফলন বেশী পেতে হলে কয়েকবার সেচ দেয়া প্রয়োজন। প্রথম সেচ বীজ বপনের ৩০ দিন পর (গাছে ফুল আসার আগে), দ্বিতীয় সেচ বীজ বপনের ৫০ দিন পর (পুষ্পস্তবক তৈরির সময়) এবং তৃতীয় সেচ বীজ বপনের ৭০ দিন পর (বীজ পুষ্ট হবার আগে) সেচ দেয়া দরকার।সূর্যমুখীর জমি সর্বদা আগাছামুক্ত রাখতে হবে। জমিতে আগাছা দেখা দিলে সেটি তুলে ফেলতে হবে।




    ফসল তোলাঃ ৯০-১১০ দিনের মধ্যে ফসল তোলা যায়।




    বীজ সংরক্ষণঃ সূর্যমুখীর বীজ পরের মৌসুমে লাগানোর জন্য বীজ সংরক্ষণ করতে হয়। বীজ সংরক্ষণের আগে অপরিপক্ক ও ভাঙ্গা বীজ বেছে ফেলতে হবে। মোটা পলিথিন ব্যাগে বা কেরোসিন টিন বা টিনের ড্রামে বীজ সংরক্ষণ করা ভালো। ভেতরে পলিথিন দিয়ে চটের বসত্মায় ভালোভাবে শুকানো বীজ প্রতি ৩০ কেজির জন্য ২৫০ গ্রাম ক্যালসিয়াম ক্লোরাইডসহ সংরক্ষণ করলে ৭-৮ মাস পরেও বীজের শতকরা ৮০ ভাগ অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা বজায় থাকে। বর্ষাকালে এক থেকে দু’বার বীজ পুনরায় রোদে শুকিয়ে নেয়া ভালো।




    Saturday, April 30, 2016

    পটুয়াখালীতে জনপ্রিয় হচ্ছে সূর্যমুখীর চাষ

  • Share The Gag
  • পটুয়াখালীতে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সূর্যমুখীর চাষ। সরিষা ও তিলের চেয়ে লাভজনক হওয়ায় সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবদেহের জন্য এ তেল বেশ উপকারী।

    পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় মাঠের পর মাঠ জুড়ে চাষ করা হয়েছে সূর্যমুখী। অনুকূল আবহাওয়া ও যথাযথ পরিচর্যায় ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে কৃষকের ক্ষেত। সবুজ পাতার মাঝে হলুদ রঙের বাহারি দৃশ্যে জুড়িয়ে যায় চোখ। মাথা নিচু করে হাল্কা বাতাসে দোল খায় প্রতিটি ফুল।

    এসব ফুল থেকে তৈরি হয় স্বাস্থ্যকর তেল। চিনা বাদাম, সরিষা ও তিলের বিপরীতে মাত্র ৩ মাসেই সূর্যমুখীর ফলন পায় চাষিরা। আর এ কারণে সূর্যমুখী চাষে আগ্রহ বাড়ছে তাদের।

    কোলেস্টেরল মুক্ত হওয়ায় সূর্যমুখী তেল স্বাস্থ্যসম্মত বলে মনে করেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কৃষি অনুষদ ডিন প্রফেসর মো. হামিদুর রহমান।

    পটুয়াখালীর মাটি সূর্যমুখী চাষের জন্য বেশ উপযোগী বলে জানালেন পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম মাতুব্বর।

    কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এ বছর জেলায় ৫শ' ৩০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে।

    Tuesday, April 5, 2016

    লক্ষ্মীপুরে বাম্পার ফলনেও মুখে হাসি নেই সয়াবিন কৃষকদের

  • Share The Gag
  •  





    লক্ষ্মীপুরে বাম্পার ফলনেও মুখে হাসি নেই সয়াবিন কৃষকদের


    দেশের মোট উৎপাদিত  সিংহভাগ সয়াবিন লক্ষ্মীপুর জেলায়  হলেও প্রক্রিয়াজাতকরণ  ব্যাবস্থা না থাকায় দাম পাচ্ছে না কৃষকরা। ৫৩ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ করা হয় সয়াবিন, উৎপাদিত সয়াবিনের পরিমাণ প্রায় এক লাখ টন, যার বাজার মূল্য প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। অর্থকরি এ ফসলের প্রক্রিয়াজতকরণ কারখানা যদি লক্ষ্মীপুর জেলায় করা যেত তাহলে কৃষকরা যেমন পেত ফসলের ন্যায্য মূল্য, তেমনিভাবে এ পণ্যকে ঘিরে এ জেলায় কর্মসংস্থানের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতো।দেশের পুষ্টি চাহিদার মেটাতে কার্যকর এ কৃষি পণ্যর উৎপাদন ধরে রাখতে প্রয়োজনে সরকারিভাবে প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা করা। যাতে কৃষকরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত না হয়।



    চলতি রবি মৌসুমে ফসলের মাঠগুলোতে আগাছা পরিচর্চার কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন লক্ষ্মীপুর জেলার  কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গত বছরের তুলনায় এবার  সয়াবিনের বাম্পার ফলন হবে এমনই প্রত্যাশা করছে এ জেলার কৃষকেরা। লক্ষ্মীপুরে সয়াবিন চাষ করে জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের রাজধানী, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায় রফতানি করা হয়ে থাকে।

    সরেজমিনে কমলনগর উপজেলার  চরাকাদিরা গ্রামের সয়াবিনের ক্ষেতগুলো ঘুরে দেখা যায়,  মাঠ জুড়ে সবুজ আবরনে ঘিরে রয়েছে সয়াবিনের ক্ষেত।  অসংখ্য গাছে সয়াবিনের ফুল ও সয়াবিন আসতে শুরু করেছে।  আর পোকা-মাকড় থেকে রক্ষা পেতে  কিটণাশক ব্যবহার করছে কৃষকরা। অধিকাংশ কৃষক জানায়, খরচের তুলনায় অধিক লাভবান হওয়ায় দিন দিন তারা সয়াবিন আবাদে আগ্রহী হয়ে পড়েছে।

    চরমনার কৃষক আব্দুল আলিম বলেন, এ বছর ৩০ হাজার টাকা খরচ করে সয়াবিনের আবাদ করেছি। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে গত বছরের চেয়েও এবার ভালো ফসল হবে। তবে এখানে সয়াবিন প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা থাকলে আমরা আরও বেশি লাভবান হতাম।

    কৃষক সিরাজ মিয়া জানান,  এবার প্রায় ৩ কানি জমিতে ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে সয়াবিন চাষ করেছেন তিনি। ভালো ফলনের আশায় তাই পরিবারের লোকজন নিয়ে তিনি সয়াবিন ক্ষেতের আগাছা দমন কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, গত বছরের তুলনায় এবার সয়াবিনের ৩ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় ৮ হাজার ২৫০ হেক্টর, রায়পুর ৭ হাজার ৭শ, রামগতি ১৮ হাজার ৬শ ও কমলনগর ১৮ হাজার ৯০ হেক্টর জমিসহ এ জেলায় মোট ৫২হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে সয়াবিনের আবাদ হয়ে থাকে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৫ হাজার ৯শ ৫০ টন।যার বাজার মূল্য প্রায় ৪০০(চারশ) কোটি টাকা। প্রতি একর সয়াবিন উৎপাদনে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। যার বিক্রয় মূল্য ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। এ ফসল জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় রফতানি করা হয়।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের  উপ-পরিচালক মো. গোলাম মোস্তফা জানান, জেলায় প্রায় ৫৩ হাজার হেক্টর  জমিতে সয়াবিনের আবাদ হয়েছে। এ সয়াবিন থেকে পুষ্টিকর খাবার সয়াদুধ, সয়ানাগের ও সয়াতপুসহ বিভিন্ন খাদ্য তৈরি হয়।

    কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা গ্রামের কৃষক আব্দুল হানান জানান, প্রতি কেজি সয়াবিনের দাম ৪০-৪৪ টাকা। কিন্তু আমরা যখন ফসল ঘরে তুলি তখন সয়াবিনের দাম পাই মাত্র ২০-২৫ টাকা। শুধুমাত্র সংরক্ষণ ব্যবস্থা  না থাকার কারণে আমরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হই।


     

    Thursday, February 11, 2016

    সুর্যমুখী চাষ

  • Share The Gag
  • ফসলের নাম :সূর্যমুখী(Sunflower)

    উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম : Hellianthus annus.
    ১.  পুষ্টিমূল্য/উপাদান : বীজে লিনোলিক এসিড বিদ্যমান। উন্নতমানের তৈল থাকে।
    ২.  ভেষজগুণ : হৃদরোগীদের জন্য সূর্যমুখীর তেল খুবই উপকারী।
    ৩.  ব্যবহার :সূর্যমুখীর খৈল গরু ও মহিষের উৎকৃষ্টমানের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বীজ ছাড়ানোর পর মাথাগুলো গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। গাছ ও পুষ্পস্তবক জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
    ৪.  উপযুক্ত জমি ও মাটি : সূর্যমুখী সাধারণত সব মাটিতেই জন্মে। তবে দো-আঁশ মাটি সবচেয়ে বেশী উপযোগী।
    ৫.  জাত পরিচিতি : এ পর্যন্ত বারি কর্তৃক ২টি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। যথা (১) কিরণী (ডিএস-১) এবং বারি সুর্যমুখী-২।

    কিরণী:১৯৯২ সালে জাতটির অনুমোদন দেয়া হয়। বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতটি উদ্ভাবন করা হয়। জাতটির কান্ডের ব্যাস ১.৫-২.০ সে.মি.। পরিপক্ক পুষ্পমঞ্জুরী বা শাখার ব্যাস ১২-১৫ সে.মি.। প্রতি মাথায় বীজের সংখ্যা ৪০০-৬০০। বীজের রং কালো। ১০০০ বীজের ওজন ৬৮-৭২ গ্রাম। বীজে তেলের পরিমাণ শতকরা ৪২-৪৪ ভাগ। জাতটি মোটামুটি অলটারনারিয়া বৱাইট রোগ সহনশীল। জীবনকাল ৯০-১১০ দিন। হেক্টর প্রতি ফলন ১.৬ হতে ১.৮ টন।
    বারি সূর্যমুখী-২ : গাছের কান্ডের ব্যাস ২.০-২.৪ সে.মি.। পরিপক্ক পুষ্পমঞ্জুরী বা শাখার ব্যাস ১৫-১৮ সে.মি.। বীজের রং কালো। ১০০০ বীজের ওজন ৬৫-৭০ গ্রাম। প্রতি মাথায় বীজের সংখ্যা ৪৫০-৬৫০। তেলের পরিমাণ শতকরা ৪২-৪৪ ভাগ। জীবনকাল রবি মৌসুমে ৯৫-১০০ দিন এবং খরিফ মৌসুমে ৯০-৯৫ দিন।  হেক্টর প্রতি ফলন রবি মৌসুমে ২.০ হতে ২.৩ টন এবং খরিপ মৌসুমে ১.৫ হতে ১.৮ টন।
    ৬.  বীজের হার : ৮-১০ কেজি/হেক্টর।
    ৭.  বপন সময় ও বপন পদ্ধতি : সূর্যমুখী সারা বছর চাষ করা যায়। তবে অগ্রহায়ন মাসে (মধ্য  থেকে চাষ করলে এর ভালো ফলন পাওয়া যায়। খরিপ-১ মৌসুমে অর্থাৎ জ্যৈষ্ঠে (মধ্য এপ্রিল থেকে মধ্য মে) মাসেও এর চাষ করা যায়। সূর্যমুখী বীজ সারিতে বুনতে হয়। সারি থেকে সারির দূরত্ব ৫০ সে.মি. এবং গাছ থেকে গাছের  দূরত্ব ২৫ সে.মি.।
    ৮.  সার ব্যবস্থাপনা :ভালো ফলনের জন্য সূর্যমুখীতে নিম্নরূপ সার ব্যবহার করতে হবে।

    সারের নাম            সারের পরিমাণ/হেক্টর
    ইউরিয়া                ১৮০-২০০ কেজি
    টিএসপি                 ১৫০-২০০ কেজি
    এমওপি                  ১২০-১৫০ কেজি
    জিপসাম                 ১২০-১৭০ কেজি
    জিংক সালফেট          ৮-১০ কেজি
    বরিক এসিড            ১০-১২ কেজি
    ম্যাগনেসিয়াম সালফেট  ৮০-১০০ কেজি
    * রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নওগাঁ ও রাজশাহী এলাকার জন্য প্রযোজ্য
    সার প্রয়োগ পদ্ধতি :অর্ধেক ইউরিয়া এবং বাকি সব সার শেষ চাষের সময় জমিতে ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। বাকি অর্ধেক ইউরিয়া ২ ভাগ করে প্রথম ভাগ চারা গজানোর ২০-২৫ দিন এবং দ্বিতীয় ভাগ ৪০-৪৫ দিন পর (ফুল ফোটার পূর্বে) প্রয়োগ করতে হবে।
    ৯.  সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনা :সূর্যমুখী ফসলের ফলন বেশী পেতে হলে কয়েকবার সেচ দেয়া প্রয়োজন। প্রথম সেচ বীজ বপনের ৩০ দিন পর (গাছে ফুল আসার আগে), দ্বিতীয় সেচ বীজ বপনের ৫০ দিন পর (পুষ্পস্তবক তৈরির সময়) এবং তৃতীয় সেচ বীজ বপনের ৭০ দিন পর (বীজ পুষ্ট হবার আগে) সেচ দেয়া দরকার।সূর্যমুখীর জমি সর্বদা আগাছামুক্ত রাখতে হবে। জমিতে আগাছা দেখা দিলে উহা তুলে ফেলতে হবে।
    ১০.  পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা :

    পোকার নাম : বিছা পোকা

    ভূমিকা : ছোট অবস্থায় এরা দলবদ্ধভাবে থাকে।
    পোকা চেনার উপায় : কীড়া বা বিছা হলুদ রংয়ের এবং গায়ে কাঁটা থাকে।
    ক্ষতির নমুনা : এরা সাধারণত গাছের পাতায় আক্রমণ করে। এ পোকার কীড়া দলবদ্ধভাবে থেকে পাতার সবুজ অংশ খেয়ে পাতাকে পাতলা সাদা পর্দার মতো করে ফেলে।
    অনুকূল পরিবেশ :উষ্ণ আবহাওয়া।
    ব্যবস্থাপনা : mn পোকা দেখার সংগে সংগে গাছ থেকে পোকাসহ পাতা সংগ্রহ করে পোকা মেরে ফেলতে হবে। সেচ নালায় কেরোসিন মিশ্রিত পানি থাকলে কীড়া পানিতে পড়ে মারা যায়।

    প্রতি লিটার পানিতে ডায়াজিনন-৬০ ইসি ২ মিলি হারে মিশিয়ে বিকালে জমিতে স্প্রে করতে হবে।
    ১১.  রোগ ব্যবস্থাপনা :

    রোগের নাম :পাতা ঝলসানো রোগ
    ক্ষতির নমুনা : অলটারনেরিয়াহেলিয়ানথী নামক ছত্রাকের সাহায্যে এ রোগ ছড়ায়। আক্রমণের শুরুতে পাতায় ধুসর বা গাঢ় বাদামী বর্ণের অসম আকৃতির দাগ পড়ে। এ দাগগুলো একত্রে মিলিত হয়ে বড় দাগের সৃষ্টি করে এবং অবশেষে পুরো পাতা ঝলসে যায়।

    বিস্তার : বীজ এবং বায়ুর সাহায্যে বিস্তার লাভ করে।
    ব্যবস্থাপনা : কিরণী জাতের চাষ করা
    প্রতি লিটার পানির সাথে ২ গ্রাম রোভরাল-৫০ ডব্লিউ পি মিশিয়ে ১০ দিন পর পর ৩ বার সেপ্র করা বা ফসল কাটার পর পরিত্যক্ত কান্ড, মূল ও পাতা পুড়িয়ে ফেলা।
    ১২.  ফসল তোলা : ৯০-১১০ দিনের মধ্যে ফসল তোলা যায়।

    পামওয়েল চাষ

  • Share The Gag
  • পামওয়েল বৃক্ষ
    পাম ওয়েল গাছ একটি বর্ষজীবি উদ্ভিদ। রোপণের ৩-৪ বছরের মধ্যে ফলন শুরু হয়। একটানা ৬০-৭০ বছর ফল দিয়ে থাকে। বছওে ৮-১০টি কাঁদি আহরণ করা যায়। একটি কাঁদিও ওজন ৪০-৮০ কেজি পর্যন্ত হয়। ঝড় জলোচ্ছাসে এই গাছ সহজে ক্ষতি হয় না। অন্যান্য গাছ থেকে ১০ গুণ বেশি অক্সিজেন দেয়।

    কেন পামওয়েল চাষ করবো ঃ
    ১) (এক একরে) পামওয়েল চাষে ঘওে বসেই মাসে লক্ষ টাকা আয় করা সম্ভব। প্রতি গাছে মাসে ১,০০০/=টাকা আয় হয়।
    ২) একটি পরিবারের সারা বছরের তেলের চাহিদা পূরনের জন্য দুটি গাছই যথেষ্ট।
    ৩) একবার বিনিয়োগে ৬০-৭০ বছর আয়।
    ৪) কোটি কোটি টাকার তেল আমদানী বাঁচবে।
    ৫) দূষণমুক্ত পরিবেশ, অর্থনৈতিক মুক্তি, বেকারত্বেও অবসান হয়।

    পাম ওয়েল ফল
    পাম ওয়েল চাষ পদ্ধতি ক্ষেত্র :
    বাংলাদেশের সকল জেলাউ পামওয়েল চাষের উপযোগী। পাম চাষে বাংলাদেশ অচিরেই আরও সমৃদ্ধ হবে। দেশের সর্বত্র বিশেষ কওে অনাবাদী ও খালী জমিতে, রাস্তার পাশে, স্কুল, কলেজ মাদ্রাসা, উপসনালয়ের খালি জায়গায়, সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের খালি জায়গায়, বনভূমিতে পাম ওয়েল চারা রোপন করা যায়। ২০ ফুট দূরত্বে ২ফুট x  ২ফুট x ২ফুট গর্ত কওে মাটির সঙ্গে
    ১) গোবর সার ৫-৭ কেজি
    ২) টি.এস.পি ১০০ গ্রাম
    ৩) এমওপি ৫০ গ্রাম মিশিয়ে চারা রোপণ করতে হয়।

    পাম ওয়েল ফল ও তেল সংগ্রহ
    পামওয়েল ফল থেকে হাতে ও মেশিনে তেল সংগ্রহ করা যায়। ফলগুলো পানিতে সিদ্ধ কওে চিপন দিলে তেল বের হয়। টঙ্গী মাজুখানে ইতিমধ্যে মিল স্থাপন হযেছে। ভবিস্যতে সমগ্র দেশেই ক্ষুদ্র ও বৃহৎ স্থাপন করা হবে।

    সাবধানতা ঃ
    ১) অসাধু চারা বিক্রেতার চারা ক্রয় করলে  ভূমি, অর্থ ও সময় নষ্ট হবে।
    ২) সফল গবেষকের চারা নিশ্চিত হয়ে জেনে শুনে বুঝে ক্রয় করুন।

    সেবা সমূহ ঃ
    ১) টাঙ্গাইলের গবেষনালব্ধ উন্নতজাতের পামওয়েণ চারা।
    ২) পরিচর্ষা পদ্ধতি।
    ৩) বানিজ্যিক ভিত্তিতে প্রজেক্ট তৈরী।
    ৪) উপযুক্ত মূল্যে ফল ক্রয়।
    ৫) ক্ষুদ্র ও বৃহৎ শিল্প স্থাপনে পরামর্শ

    বাদাম চাষ

  • Share The Gag
  • চরাঞ্চলের বাদাম চাষ




    চরাঞ্চলের জমিতে বাদাম চাষের জন্য খুবই উপযোগী। প্রতি বছরই বাদাম চাষ করার সুযোগ রয়েছে। ভালো ফলন হলে একর প্রতি ২২-২৪ মন বাদাম উৎপাদন করা সম্ভাব। প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, পুজি ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা। কারণ, তেলজাতীয় ফসলের মধ্যে চীনা বাদাম একটি গুরুত্বপূর্ন। গুনাগুন দিক থেকে চীনাবাদাম সরিষার তেলের পাশাপাশি। বাদাম অধিক লাভের অর্থকড়ি ফসল। এ দেশের আবহাওয়া ও মাটি চীনাবাদাম চাষের জন্য বেশ উপযোগী।


    বাউফল উপজেলার কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বাউফল উপজেলার বেশির ভাগ জমি তিন ফসলী। ফসলের ঘনত্ব শতকরা ৯.৮০। এ জমিতে শুঙ্ক মৌসুমে এসব জমিতে বাদাম চাষের জন্য উপযোগী। বাউফলে ২০০৯-১০ সালের বাদাম উৎপাদনে অর্জন হয়েছে, গ্রীস্ম ৩শ ৫০ হেক্টর, তার মধ্যে উফসী ২৫০ হেক্টর ও স্থানীয় ১০ হেক্টর। উৎপাদন হয়েছে ৫শ মে: টন। এর মধ্যে উফসী ৩৭৫ মে: টর এবং স্থানীয় ১২৫ মে: টন। চরহাদি এলাকার বাদাম চাষী মতি মাতব্বর জানান, গত ১০ বছর ধরে বাদাম চাষ করে আসছে। প্রতি বছর গড়ে ৩০ মন বাদাম উৎপাদন করে। এই বছর ৫০ শতাংশ জমিতে বাদাম চাষ করেছেন। উৎপাদনের টার্গেট হচ্ছে ৩০ মন। যার বর্তমান বাজার মূল্য হচ্ছে ৬০ হাজার  টাকার। সার ওষুধ তেমন প্রয়োজন হয় না। পটুয়াখালী জেলার পার্শবর্তী এলাকা ভোলায় বেশি বাদাম চাষ হয়। সেখান থেকে অত্র এলাকার কৃষকরা বাদাম চাষে উদ্ধুদ্ধ হয়। মতি মাতব্বর বাদাম চাষ দেখে এলাকার জয়নাল শিকদার, লেদু প্যাদা এ বছর বাদাম চাষ করেন।




    সম্ভাবনাময় বাদাম বিশ্লেষনাত্ত্বক:




    তেলজাতীয় ফসলের মধ্যে চীনাবাদাম একটি গুরুত্বপূর্ণ। চীনাবাদাম এ অঞ্চলে অধিক উৎপন্ন হলেও চীনাবাদাম ভেজে সরাসরি খাওয়া হয়। গুনাগুন দিক থেকে চীনাবাদাম সরিসার তেলের চেয়ে নিচুমানের নয়। চীনাবাদামের জন্য বেশ হালকা বেলে মাটি প্রয়োজন। বেলে দোআশ মাটিতে চীনাবাদাম ভালো জম্মে। চীনা বাদাম গাছ বৃদ্ধি পাওয়ার সময় মাঝারি বৃষ্টিপাত প্রচৃর সূর্যকিরন ও তুলনামূলক ভাবে অধিক তাপমাত্রা বিশেষ ভাবে উপযোগী। চীনাবাদাম ভাল হলে প্রতি একরে ২২-২৪ মন বাদাম উৎপন্ন হতে পারে। তবে বাংলাদেশে চীনাবাদামের গড় উৎপাদন মাত্র একরে ১২.৫ মন। চীনাবাদামে ৪৮-৫০ ভাগ তেল এবং ২৪-২৫ভাগ আমিষ থাকে। চীনাবাদাম হতে তেল প্রস্তুত করা হলেও পূথিবীর বিভিন্ন দেশে এর বড়ো অংশ সরাসরি খাওয়া হয়। অগ্রহায়ন মাসে বাদাম লাগানো হয়। ৫ মাস পর বৈশাখ মাসে তার ফলন পাওয়া যায়।




    কৃষি সম্প্রসারন বিভাগ প্রকাশিত কৃষি কথা থেকে জানা যায়, রোগ ও তার প্রতিকার: টিক্কা বা পাতার রোগ লক্ষন হচ্ছে, সার কোছপারা এ্যারাচিডি কোলা নামক ছত্রাকের আক্রমনে পাতার সৃষ্ট দাগগুলো লালচে বাদামি বা কালো রঙের হয় এবং সারকোছপোরা পারসোনেটা নামক ছত্রাকের আক্রমনে পাতায় ছোট ছোট  গোলাকার ধৃসর বাদামি হতে কালো রঙের দাগ সৃষ্টি হয় এবং দাগগুলো একত্রিত হয়ে বড় হয়। উভয়ে ছত্রাকের ক্ষেত্রে ই গাছের বৃদ্ধির বৃদ্ধির সঙ্গে দাগের সংখ্যা বেড়ে যায়, পাতা ঝলছে যায় ফলে গাছ ফ্যাকাসে দেখায় এবং ফলন কমে যায়। এ রোগের প্রতিকার হচ্ছে,১. রোগ প্রতিরোধী জাত ব্যবহার করতে হবে। যেমন ঝিংগা বাদাম, বারি বাদাম-৭ ও বারি বাদাম ৮, ২.সুষম সার ব্যবহার ও সময়মতো সেচ প্রয়োগ করতে হবে। ৩. রোগের প্রাথমিক অবস্থা ভ্যাবিস্টিন প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম হারে মিশিয়ে ১২ দিন পরপর তিন বার স্প্রে করতে হবে।


    বাউফল উপজেলা উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা থেকে জানা যায়, ভোজ্যতেল নিত্যকার খাদ্য সামগ্রীর একটি অবিচ্ছেদ্য উপকরন হচ্ছে বাদাম। স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য অতীব প্রয়োজনীয়। বাদাম থেকে তেল নিষ্কাশন করে এ শারীরিক চাহিদা মিটান হয়। আরো জানা যায়, দেশের পুষ্টির ঘাটতি পূরন করতে হলে তেলবীজ বাদাম উৎপাদন বাড়াতে হবে। ভোজ্য তেলে পুষ্টির পরিমানে উপর শারীরিক সুস্থতা অনেকাংশে। দেশে বর্তমানে ১৪ লাখ একর জমিতে তেলবীজ উৎপাদিত হয়। মাত্র ১৪ লাখ ৭৫ হাজার টন এবং তেলবীজ থেকে মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টন তেল উৎপাদিত হয়। কিন্তু দেশে বার্ষিক ভোজ্য তেলের প্রচুর চাহিদা পূরনে শুধুমাত্র আমদানি উপর নির্ভর করলে চলবে না, দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে হবে। কৃষকের একটু সচেতন ভাবে কাজ করতে হবে, যা মাটির গুনাগুন বিশ্লেষন পূর্বক শস্য বিন্যাস ভিত্তিক সুষম মাত্রায় সার সুপারিশের জন্য এলাকায় মাটির নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার মাধ্যমে সম্ভাবনাময় বীজশস্য মধ্যে বাদাম রোপন করা। অভিজ্ঞমহলের অভিমত হচ্ছে, তেলবীজ উৎপাদনের জন্য বাদাম চাষে কৃষকের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থ করা। উন্নত বীজ বিতরন করা।


    সাইফুল ইসলাম জলিল। সাংবাদিক।  বাউফল-পটুয়াখালী