Showing posts with label কৃষি বিষয়ক সংবাদ. Show all posts
Showing posts with label কৃষি বিষয়ক সংবাদ. Show all posts

Sunday, July 23, 2017

মরিচ চাষে চরবাসীর ভাগ্য বদল

  • Share The Gag
  • মরিচ আবাদ করে ভাগ্য বদলে গেছে যমুনা চরের অভাবী মানুষগুলোর। ‘মরিচের ব্যাংক’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে যমুনার চর। এই সময় যমুনার বুকে জেগে উঠে বিশাল চর। এসব চরে ধানের পাশাপাশি আবাদ হচ্ছে মরিচ। বর্তমানে যমুনার চরে ধুম পড়ে মরিচ আবাদের। চরের অনেক কৃষকের নিজস্ব কোন জমি নেই। জেগে উঠা চরের ফাঁকা জমি কাজে লাগিয়ে মরিচ চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে চরের অভাবী মানুষেরা।

    এখানে ব্যাপক মরিচ উৎপাদিত হওয়ায় সপ্তাহে তিন দিন বিশাল মরিচের হাট বসছে কাজিপুরের সোনামুখী, চালিতাডাঙ্গা, মাইজবাড়ী, কাজীপুর সদর, মাইজবাড়ী, শুভগাছা, খাসরাজবাড়ী, নাটুয়ারপাড়া, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, চরগিরিশ ও মনসুরনগর ইউনিয়নের চরাঞ্চলে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপারীরা আসেন এখানে মরিচ কিনতে। প্রতি হাটে লাখ লাখ টাকার মরিচ বেচা-কেনা হয় যমুনার চরে।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ক্ষেত থেকে মরিচ তোলা ও মরিচ ক্ষেত পরিচর্যার কাজে। অনুকূল আবহাওয়া থাকায় এবার মরিচের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকরা। ইতোমধ্যে জেলার বাজারগুলোতে উঠতে শুরু করেছে নতুন মরিচ। শ্রম মজুরি বেড়ে যাওয়ায় এবার মরিচ চাষে উৎপাদন খরচও বেড়েছে। তারপরও বাজারে মরিচের ভালো দাম পাওয়ায় খুশি এ অঞ্চলের কৃষকরা। ভালো দাম পাওয়ায় মরিচ চাষিরা এবার বেশ লাভবান হবেন বলে আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকরা।

    ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজার দর গত মৌসুমের চেয়ে এই মৌসুমে বেড়ে গেছে। এবার যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জ জেলায় প্রায় ১শ কোটি টাকার কাচা ও শুকনা মরিচ কেনা-বেচা হবে। যা দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে।

    সিরাজগঞ্জের কাজীপুর, বেলকুচি ও চৌহালী উপজেলার যমুনা নদীর চর ঘুরে দেখা গেছে- মরিচ তোলা, পরিচর্যা আর শুকানোর কাজে ব্যস্ত কৃষক-কৃষানী।

    কাজীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মামুনুর রহমান জানান, চরাঞ্চলে কৃষকরা এবার মরিচ চাষে ভাগ্যের পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন। চলতি মৌসুমে ১৪শ ১০ হেক্টর জমিতে ৯ হাজার ৮১৫ জন কৃষক মরিচের আবাদ করেছেন। মোট ২ হাজার ৩শ ৯৭ মেট্রিক টন মরিচ উৎপাদন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও জানান, ফলন ভালো হওয়ায় প্রতি হেক্টরে ১.৬ মে. টন মরিচ উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে করে কৃষকরা বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।

    কাজীপুর উপজেলার দুর্গম নাটুয়াপাড়া চর থেকে মরিচ নিয়ে হাটে আসা লোকমান হোসেন জানান, এবার চরের ৮ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ১২-১৪ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা থেকে টোপা মরিচ তুলেছেন ৩০-৩২ মণ।

    ব্যবসায়ী জামাল হোসেন বলেন, এবার মরিচের আবাদ ভালো হয়েছে। ঝড় বৃষ্টি না হওয়ায় মরিচের ক্ষেত নষ্ট হয়নি। মরিচ বিক্রি করে তিনি এবার জমি কিনবেন।

    কাজীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বকুল সরকার জানান, কাজীপুর চরাঞ্চলের উৎপাদিত লাল মরিচই বগুড়ার লাল মরিচ নামে দেশের নামিদামি কোম্পানিগুলো সংগ্রহ করে তা বাজারজাত করে আসছে।

    কাওয়াখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন ঠান্ডু বলেন, চরের অনেকরই কৃষি জমি নেই। চরের ফাঁকা জমি কাজে লাগিয়ে মরিচ চাষ করে তারা স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

    সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা বলেন, যমুনা চরের মরিচ দেশের চাহিদা মেটাচ্ছে। আগামীতে এর পরিধি আরো বাড়বে। যা দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে।

    কেঁচোতে ভাগ্য বদল কৃষকের

  • Share The Gag
  • ল্যাপকিন মারাক, বয়স ৪৮। শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের বাবেলাকোনা গ্রামে তৈরি করেছেন কেঁচো দিয়ে জৈব সার তৈরির কারখানা। এতে ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে তার। দিন দিন বাড়ছে সারের চাহিদা। বাড়ছে কারখানার পরিধি। বাড়ছে উৎপাদন। বদলে যাচ্ছে তার সংসারের অবকাঠামো।ক’বছর আগেও কর্মসংস্থানের অভাবে ল্যাপকিন মারাক ছিল সহায় সম্পদহীন। ১৯৯২ সালে বিয়ে করে আসেন বাবেলাকোনায় শ্বশুর বাড়ি। বিয়ের পর অভাবের তাড়নায় বিক্রি করেছিলেন স্ত্রীর ভিটেমাটি। থাকেন অন্যের বাড়িতে। নুন আনতে পানতা ফুরাতো তার সংসারে। এদিকে সংসারে আসে নতুন অতিথি। স্ত্রী ও আর চার সন্তানের ভরণ পোষণে ক্রমাগত নিষ্পেষিত হতেন তিনি। পাহাড়ের পরিত্যক্ত জমিতে জুম চাষ করে টিকে থাকার প্রচেষ্টা যেন বার বার মুখ থুবড়ে পড়েছিল। জীবন মানে যে যন্ত্রণা তা যেন তার ভাগ্যেই ভর করেছিল।

    ২০১৪ সালের শেষের দিকে তার দুঃসময় যেন চরমে। এ সময় তার এক প্রতিবেশির কাছে সংবাদ পান একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে জৈব সার তৈরির ট্রেনিং দেয়া হবে। সেখানে তিনি অংশ নেন। প্রশিক্ষণ হয় তিনদিনের। পরে ওই সংস্থার মাধ্যমে ট্রেনিং শেষে চীন থেকে আমদানিকৃত ৭৫ টাকায় ২৫টি কেঁচো কিনেন তিনি। এখান থেকেই শুরু হয় তার জৈব সার তৈরি।ঐকান্তিক প্রচেষ্টা আর তার স্ত্রীর সহযোগিতায় মাত্র দু’বছরেই স্বপ্ন দেখা শুরু করেন তারা।

    বাড়ছে কেঁচোর সংখ্যা। এখন তার কারখানায় রয়েছে প্রায় ৪৫ লাখ কেঁচো। ওই সার ব্যবহার হচ্ছে শাক সবজি আর ইরিবোরো চাষাবাদে। ফলন ভাল হওয়ায় বাড়ছে বিক্রি। আলোচিত হয়ে ওঠছে তার জৈব সার কারখানা।অনেকেই বলেন, ল্যাপকিন জৈব সার। কেঁচো দিয়ে জৈব সার তৈরি করে ল্যাপকিনের এখন মাসিক আয় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। তবে আর্থিক সহায়তা পেলে কারখানার পরিধি আরো বাড়াতে পারবেন বলে জানান তিনি।এলাকার কৃষকরা জানান, বাজারের জৈব সারের চেয়ে গুণগত মানের দিক থেকে এ সার অনেক ভাল।

    চাষাবাদের এ সারের ফলন অনেক বেশি। যারা একবার এ সার ব্যবহার করছে তারা কখনো অন্য সার ব্যবহার করবে না।এখন ল্যাপকিনের নিজের ভিটা হয়েছে। তার ঘরে সোলারের বাতিও জ্বলে।উপজেলা কৃষি সুপারভাইজার সাইফুল ইসলাম বলেন, এখানে যে সার উৎপাদন হচ্ছে তা বাজারের সারের তুলনায় অনেক ভাল। তাই স্থানীয় কৃষকেরা এ সার ব্যবহার করছেন।

    কচু চাষে ভাগ্য বদল কৃষকের

  • Share The Gag

  • ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের আদর্শ কৃষক জিয়াউল ইসলাম ও ফারুক হাওলাদার এ বছর কচু চাষ করে লাভবান হয়েছেন। তারা দুজনই সৌদি আরব প্রবাসী ছিল। একই স্থানে থেকে জিয়াউল ফারুক সৌদি আরবে ক্ষেতে খামারে কৃষি কাজ করত। দেশে ফেরার পর নিজ জমিতে ধান-পাটের পাশিপাশি পটোল, শসা, কচু চাষ করে লাভের মুখ দেখেছেন।


    এ বছর বেশি জমিতে কচু চাষ করে বেশ সাফল্য পেয়েছেন। কচু বিক্রি করে ভালো দামও পাচ্ছেন। কৃষক জিয়াউল জানান, এবারও ১ বিঘা জমিতে ৫ হাজার কচুর চারা রোপণ করি। প্রতিটি কচু পূর্ণাঙ্গ হওয়া পর্যন্ত তার প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। কচু পোকায় ধরে না এবং শুকনো মৌসুমেও পানিতে ক্ষতি হয় না বলে তিনি জানান। প্রতিটি কচু পূর্ণাঙ্গ হতে ৭ থেকে ৮ মাস সময় লাগে। এর পর শুরু হয় কচু বিক্রির পালা। সদরপুর উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলা ভাঙ্গা, চরভদ্রাসন, শিবচর ও জয়পাড়া, নারিশাসহ বিভিন্ন হাট বাজারে পাইকারদের মাধ্যমে কচু সরবরাহ করে থাকেন। শুরুতে প্রতিটি কচু বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকারও বেশি। বর্তমানে বিভিন্ন জাতের কচু হাটবাজারে সরবরাহ থাকায় দাম অনেকটা কম পাওয়া যাচ্ছে।


    কৃষক জিয়াউল জানান, ১ বিঘা জমিতে কয়েক হাজার কচুর চারা রোপণ করে প্রতিটি কচু গড়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকা বিক্রি হওয়ায় ৩ লক্ষাধিক টাকা লাভ করেছেন। অপর কৃষক ফারুক জানান, অর্ধবিঘা জমিতে ২ হাজার ৫০০ কচুর চারা রোপণ করে এখন পর্যন্ত দেড় লক্ষাধিক টাকা লাভ করেছেন। এ বছর কচু চাষ করে ভালো লাভ হওয়ার কারণে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে কচুর চাষাবাদ করবেন বলে জানান জিয়াউল ও ফারুক হাওলাদার। স্থানীয় অনেক কৃষকই বলেছেন, অন্যান্য ফসলের তুলনায় দাম বেশি ও ঝুঁকি কম থাকার কারণে এ অঞ্চলে দিনকে দিন কচুর আবাদ বাড়ছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে এ অঞ্চলে কৃষকরা আরও বেশি জমিতে কচুর আবাদ করতে পারবেন।



    মাটি খুঁড়ে ১৫ লাখ টাকার হিরে পেলেন কৃষক!

  • Share The Gag
  • নয়া দিল্লী, ২৩ জুলাই- আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে চাষবাস করাই খুব কষ্টের হয়ে যাচ্ছিল সুরেশের। দিন দিন খারাপ হচ্ছিল পরিবারের আর্থিক অবস্থাও। সংসার চালানোটোই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল তার কাছে। বাধ্য হয়ে ছোট্ট কৃষিজমির দায়িত্ব ছেলেকে দিয়ে হিরের খনির এক টুকরো জায়গা লিজ নিয়ে ভাগ্যপরীক্ষা শুরু করেন সুরেশ।

    অতঃপর দিনের বেলা অন্যের জমিতে কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। আর রাতে কোদাল নিয়ে মাটি খুঁড়ে হিরের সন্ধান চালাতে থাকেন তিনি। এ ভাবেই চলছিল বেশ কিছু দিন। অবশেষে মাটি খুঁড়ে ভাগ্যবদল হলো কৃষক সুরেশ যাদবের। নাটকীয় ভাবে মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে হিরে পেয়ে লাখপতি বনে গেলেন তিনি। মাটির নীচ থেকে পাওয়া সেই হিরের বাজার মূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা।

    মধ্যপ্রদেশের বুন্দেলখণ্ডের পান্নায় ঘটনাটি ঘটে। গত সপ্তাহেই নুড়ি পাথরের মাপের হিরেটি খুঁজে পান ওই কৃষক।

    সুরেশ ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’কে বলেন, ‘বর্ষার সময়েই নাকি হিরে পাওয়ার সম্ভাবনা সব চাইতে বেশি। তবু সবার কপাল খোলে না। কিন্তু ভাগ্য আমার প্রতি সুপ্রসন্ন।’ যদিও প্রথমটায় সেই পাথরের টুকরোটি হিরে কি না তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন তিনি। পাথরের টুকরোটিকে নিয়ে যান বিশেষজ্ঞদের কাছে। পরীক্ষার পর বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত হন যে ওটি হিরেই। যার আনুমানিক মূল্য ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা। হাড়-ভাঙা খাটুনির পর ৫ দশমিক ৮২ ক্যারেটের হিরেটি বদলে দিতে চলেছে সুরেশ ও তার পরিবারের ভবিষ্যৎ।

    বুন্দেলখণ্ডের মাইনিং অফিসার সন্তোষ সিংহ জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞরা এই হিরেটির কোয়ালিটি খুব ভাল বলেই মনে করছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এটিকে নিলামে তোলা হবে। এর আগে ২০১৫ সালে ওই এলাকাতেই অনন্ত সিংহ যাদব নামে এক ব্যক্তি ১২ দশমিক ৯৩ ক্যারেটের হিরে পেয়েছিলেন।

    শুধুই সুরেশ যাদব নন, মাত্র ২৫০ টাকার বিনিময়ে আপনিও আপনার ভাগ্য পরীক্ষা করে নিতে পারেন। ঘুরে যেতে পারে আপনার ভাগ্যের চাকাও। ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’ জানাচ্ছে, জেলা প্রশাসনের কাছে ২৫০ টাকা জমা দিলেই বুন্দেলখণ্ডের পান্নায় ৮ মিটার বাই ৮ মিটার জায়গা খোঁড়ার লিজ পাওয়া যায়। এই এলাকাতেই রয়েছে হিরের খনি। তাই খোঁড়াখুঁড়ি করলে পাওয়াও যায় হিরে। যেমনটা পেয়েছেন বছর চল্লিশের সুরেশ যাদব।

    Friday, July 21, 2017

    ভোলার চরফ্যাসনে স্কুলছাদে দৃষ্টিনন্দন বাগান

  • Share The Gag
  • চরফ্যাসনে স্কুলছাদে দৃষ্টিনন্দন বাগান

    বিদ্যালয়ের ছাদে সারি সারি ড্রাম আর মাটির টবে বেড়ে উঠা গাছের ডালে ঝাঁকে ঝাঁকে ঝুলে থাকা নানান প্রজাতির ফল, ফুল আর সবজি দর্শনার্থীদের মনোরঞ্জন করছে।

    বিদ্যালয়ের ছাদজুড়ে ফুল আর ফলের শোভিত বাগান দেখতে ভীর করছে উৎসাহী মানুষ। বিশেষ করে নিজেদের হাতে গড়া বিদ্যালয়ের বাগানে কমলা মালটা আঙ্গুরের মতো ফল দেখে শিশুরাও সীমাহীন আনন্দে ভাসছে।

    ভোলার প্রত্যন্তগ্রামে ছাদবাগানের এই অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে চরফ্যাসনের মাঝের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। উপজেলা সদর থেকে ৩৫ কিমি: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তেতুলিয়া পাড়ের গ্রাম মাঝের চর। এই গ্রামের মধ্যাঞ্চলে মাঝের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থান। বিদ্যালয়ের আছে দু’টি দ্বিতল ভবন। একটি ভবনের ছাদে ফল,ফুল আর ওষুধি বৃক্ষের বাগান এবং অপর ভবনের ছাদে সবজি বাগান।

    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাকি খানম জানান, গত বছরের জুন-জুলাই মাসে ছাদবাগান সৃজন শুরু করা হয়। শিক্ষকদের উদ্যোগে বিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট কাউন্সিল সদস্যরা ‘সবুজ প্রকল্প’ নামে এই বাগান সৃজন করেছে। বর্তমানে বাগানের গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে আম, ছাবেদা, কাগজি লেবু, কমলা, মালটা, আমড়া, কামরাঙ্গা, জলপাই, পেয়ারা, আঙ্গুর এবং লিচু ফল। সবজি বাগানে ক্ষেত মরিচ, বোম্বাই মরিচ, বেগুণ আর পেপে চাষ করা হয়েছে।

    এছাড়াও চার জাতের গোলাপসহ ৩০ প্রজাতির ফুল এবং ১০ প্রজাতির ওষুধি গাছ আছে এই বাগানে। এই ছাদবাগান সৃজনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬১ হাজার টাকা।



    বিদ্যালয়ের ছাদে দৃষ্টিনন্দন এই বাগানের উদ্যোক্তা বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, শুরুতে নিজেদের অর্থে বাগান সৃজন করা হয়। পরবর্তীতে বাগান পরিদর্শনে এসে স্থানীয় নজরুল নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রুহুল আমীন হাওলাদার, চর কলমী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাউছার আহমদ, উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালাম, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার খালিদ হোসেন, ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর মোমিন হোসেন, স্থানীয় মেম্বার রিয়াদ বিশ্বাস, যুবলীগ নেতা আকতার হোসেন বাবুল, এসএমসির সভাপতি ও সদস্যগণসহ স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বাগান সৃজনের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেছেন। সকলের উৎসাহ আর অনুপ্রেরণায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চলতি বর্ষা মৌসুমে সৃজিত বাগান সম্প্রসারণের কাজ হাতে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাকি খানম।

    জানা গেছে, চরফ্যাসন উপজেলায় বিদ্যালয় ছাদে বাগান সৃজনের এটা প্রথম দৃষ্টান্ত। বাগানের গাছে গাছে ফুল আর ফলের সমারোহ দেখতে প্রতিদিন অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে আসছেন। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও বাগানটি পরিদর্শনে আসছেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালাম, সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার খালিদ হোসেন, ইউআর সি ইন্সট্রাক্টর মমিন হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ বাগানটি পরিদর্শন করেছেন।

    উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালাম বলেছেন, বিদ্যালয় ছাদে বাগান একটি প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয় প্রচেষ্টা। বাগানটি পরিদর্শন করে আমি নিজেও অভিভূত হয়েছি। উপজেলার সকল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বাগানটি পরিদর্শনের জন্য বলা হয়েছে। যাতে উপজেলার সব বিদ্যালয়ে এই ধারনা ছড়িয়ে দেয়া যায়।

     

    লোকসানে ধুঁকছে জয়পুরহাটের পোল্ট্রি শিল্প

  • Share The Gag
  • লোকসানে ধুঁকছে জয়পুরহাটের পোল্ট্রি শিল্প

    কখনও আশাতীত লাভ আবার কখনও পুঁজি হারানোর দশা। এভাবেই চলছে জয়পুরহাটের প্রায় ১০ হাজার মুরগির খামার।

    এ অস্থিতিশীলতার কারণে এ শিল্পে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানে থাকা অর্ধলক্ষাধিক মানুষের জীবিকায় রয়েছে অনিশ্চয়তা।

    এ শিল্পকে নানা সমস্যার কথা উল্লেখ করে এ থেকে উত্তরণের পথ খুঁজছেন এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

    জামালগঞ্জ সরকারি হাঁস-মুরগি খামারকে কেন্দ্র করে এ জেলায় পোল্ট্রি জোন গড়ে ওঠার পর দীর্ঘ সময়ের মধ্যে নানা প্রতিকূল অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়েছে এ শিল্পকে।

    জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় জানায়, সত্তর/আশির দশক থেকে জয়পুরহাটে পোল্ট্রি শিল্পের জয়যাত্রা শুরু হয়; আর এর বিপ্লব ঘটে নব্বইয়ের দশকে। বর্তমানে জেলায় আড়াই হাজার নিবন্ধিত খামারসহ ছোট-বড় প্রায় ১০ হাজার মুরগি খামার রয়েছে। আকার-আয়তন ভেদে এই খামারগুলোতে দুই হাজার থেকে শুরু করে ৮০ হাজার পর্যন্ত মুরগি রয়েছে। খামারগুলোতে বছরে সোনালী জাতের মুরগি ৪ ব্যাচ, ব্রয়লার-৬/৭ ব্যাচ এবং খাবার ও বাচ্চা ফোটানোর ডিমের জন্য হাইব্রিড লেয়ার জাতের মুরগি সারা বছর পালন করা হয়। এ জাতের মুরগি বছরে ৩০০টিরও বেশি ডিম দেয়। আবার ডিম দেওয়ার ক্ষমতা শেষ হলে সেগুলো মাংসের জন্য বিক্রি করা যায়।

    প্রাণিসম্পদ কার্যালয় আরও জানায়, জেলায় প্রতি মাসে খামারগুলো থেকে গড়ে এক কোটিরও বেশি ডিম ও ১০ হাজার মেট্রিক টন মাংস উৎপাদিত হয়। এতে জেলার ১০ লাখ মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণ করার পরও প্রতিদিন ট্রাক ও পিক-আপ মিলে ১৫/২০ গাড়ি মুরগি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

    পোল্ট্রি খামারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুরগির বাচ্চার চাহিদা পূরণ করতে জয়পুরহাটে বাচ্চা উৎপাদনের জন্য সরকারি একটি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৩৯টি হ্যাচারি স্থাপন করা হয়েছে। এসব হ্যাচারিতে প্রতি সে একদিন বয়সের প্রায় চল্লিশ লাখ মুরগির বাচ্চা উৎপাদন করা হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এসব হ্যাচারি থেকে এক দিনের তিন কোটি ২০ লাখ বাচ্চা উৎপাদন করা হয়েছে বলে প্রাণিসম্পদ কার্যালয় জানায়।

    জয়পুরহাট পূরবী এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লি.- এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুল হক, পল্লী ফিড ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী মঞ্জুর হোসেন জাহাঙ্গীরসহ মুরগি খাদ্য প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলায় বহু সংখ্যক পোল্ট্রি খামার গড়ে ওঠার কারণে এখানে বর্তমানে মুরগি খাদ্য কারখানা গড়ে উঠেছে ১১টি, যেখান থেকে প্রতি মাসে গড়ে ১৪ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য উৎপাদন করা হয়ে থাকে। উৎপাদিত এসব খাদ্য দিয়ে জেলার চাহিদা মিটিয়েও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করে প্রতিমাসে আসে প্রায় তিন কোটি টাকা।

    জয়পুরহাটের ভারপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রুস্তম আলী ও জামালগঞ্জ সরকারি পোল্ট্রি ফার্মের সহকারী পরিচালক হুমায়ন কবীর জানান, এখানে পোল্ট্রি শিল্প প্রসার লাভের কারণগুলোর মধ্যে জামালগঞ্জ সরকারি পোল্ট্রি খামার স্থাপিত হওয়ার পর থেকে জয়পুরহাট ও পার্শ্ববর্তী জেলা নিয়ে পোল্ট্রি জোন গড়ে ওঠা, শুরুর দিকে আশাতীত লাভের জন্য বেকার যুবকসহ ব্যাবসায়ীদের পোল্ট্রি ব্যবসার প্রতি আগ্রহ, ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং এলাকায় খড়া-বন্যা না থাকা উল্লেখযোগ্য।

    পদ্মা ফিড অ্যান্ড চিকস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ারুল হক আনু, শেফালী পোল্ট্রি ফার্ম প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম আলম, ক্ষেতলাল উপজেলার বটতলী বাজারের মোল্লা পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারির মালিক হাইকুল ইসলামসহ পোল্ট্রি শিল্পে সংশ্লিষ্টদের অনেকে জানান, সারা দেশে ব্যাপক পরিচিত সোনালী জাতের মুরগির জন্মস্থান জয়পুরহাটে, এর নামকরণ করেন জামালগঞ্জ সরকারি হাঁস মুরগি খামারের সাবেক সহকারী পরিচালক শাহ জামাল এবং এ জাতের মুরগির প্রথম উৎপাদনকারী পদ্মা ফিড অ্যান্ড চিকস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ারুল হক আনু।

    পদ্মা পোল্ট্রি ফিড অ্যান্ড চিকস প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক রাশেদুজ্জামান রাশেদ ও টিআরবি এগ্রো ইন্ডাস্ট্রির স্বত্বাধিকারী কবীর আকবর তাজ চৌধূরী বলেন, ২০০৬ থেকে ২০০৮ সালের দিকে বার্ড ফ্লুর সংক্রমণের পর নিবন্ধিত খামার মালিকরা সরকারি সহায়তা লাভ করলেও সাহায্য-সহযোগিতা না পাওয়ায় অনিবন্ধিত খামারীদের অনেকেই দেউলিয়া হয়েছেন।

    এছাড়া হরতাল-অবরোধসহ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সহস্রাধিক মুরগি খামারী, হ্যাচারি মালিক, খাদ্য কারখানা মালিকসহ পোর্ট্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মালিকরা প্রায় একশ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছেন বলে তাদের দাবি।

    এছাড়া কখনও আশাতীত লাভ আবার কখনও ব্যাপক লোকসানে পড়েছেন পোল্ট্রি শিল্পে জড়িতরা। নানা সমস্যার কারণে এই শিল্পে এমন অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে বলে তারা মনে করেন।

    পোল্ট্রি শিল্পে তারা আটটি সমস্যা চিহ্নিত করেছেন।

    এগুলো হলো:১.কাঁচামালের শতকরা ৮০ ভাগ আমদানি নির্ভর হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেমি হওয়ার কারণে আমাদের দেশে উৎপাদিত মুরগি রপ্তানি সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি আমাদের দেশের বড় বড় হোটেলগুলোও বিদেশে উৎপাদিত মুরগি আমদানি করছে। রপ্তানি না হওয়ার কারণে দেশের মধ্যেই মুরগি ও ডিমের বাজার সীমিত রয়েছে।

    ২.উন্নত দেশে একটি শেড থেকে অন্যটির দূরত্ব কমপক্ষে এক কিলোমিটার। আমাদের দেশে দূষিত পরিবেশে গাদাগাদি করে মুরগির শেড স্থাপন করা হয়ে থাকে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি খামারগুলোতে রোগ-বালাইয়ের প্রকোপ দেখা যায়।

    ৩.ভোক্তাদের চাহিদার সঙ্গে উৎপাদানের সামঞ্জস্য না থাকায় কোনো সময় ভালো লাভ হলেই এরপর থেকে পুরাতন খামারীদের বেশি করে মুরগি পালনের পাশাপাশি নতুন নতুন খামারীরাও ঝুঁকে পড়ে এই পেশায়। ফলে স্বাভাবিক কারণে বাজার দর নিম্নমুখী হয়।

    ৪.বর্তমানে দেশি-বিদেশি অগণিত কোম্পানি মুরগির খাদ্য, রোগ প্রতিরোধক ওষুধ ও ভিটামিন বাজারজাত করছে, যাদের মান নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ বা মনিটরিং ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। নিম্নমানের খাদ্য, ওষুধ ও ভিটামিন খাওয়ানোর ফলে রোগ-ব্যাধি মুক্ত না হয়ে বরং মৃত্যু হার বৃদ্ধি পায় বা নির্ধরিত সময়ের মধ্যে সঠিক ওজন প্রাপ্ত হয় না।

    ৫.খাদ্য, রোগ প্রতিরোধক ওষুধ ও ভিটামিনের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে দিন দিন খামারীদের লাভের অঙ্ক জটিল হয়ে পড়ছে। দুই বছর আগের মূল্যের চেয়ে বর্তমানে মুরগির খাদ্য, রোগ প্রতিরোধক ওষুধ ও ভিটামিনের মূল্য প্রায় দ্বিগুণ হলেও মুরগি ও ডিমের বাজার দরে ওঠানামা লেগেই আছে।

    ৬.প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশেষ করে অতিবৃষ্টিসহ বন্যায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হলে স্বাভাবিক কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে এখানকার মুরগি ও ডিম সরবরাহ বন্ধ ব্যাহত হয়। সম্প্রতি কয়েকটি জেলায় বন্যার ফলে পরিবহন ব্যাহত হওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাংসের মুরগি ও ডিম সরবরাহ কমে গেছে।

    ৭.মৌসুমি ফসল ও ক্রয় ক্ষমতার উপর মুরগি ও ডিমের বাজার ওঠানাম করে। বর্তমানে চালের বাজার মূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতাও হ্রাস পেয়েছে। ফলে স্থানীয় বাজারগুলোতে মাংসের মুরগি ও ডিমের বাড়তি চাপে ঘটেছে দরপতন।

    ৮.মধ্যস্বত্বভোগী ফরিয়া বা দালালদের দৌরাত্ব্যের কারণে পাইকারি ও খুচরা বাজার মূল্যের বিস্তর পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। স্বল্প পূঁজি বিনিয়োগ করে তাদের ভালো মুনাফা হলেও ব্যাংক থেকে চড়া সুদে বেশি পূঁজি বিনিয়োগ করেও লোকসান গুণতে হয় অনেক সময়।

    এসব তথ্য জানিয়ে তারা বলেন, একদিনের বাচ্চা খামারগুলোতে এনে মাংসের জন্য উৎপাদন করতে ৫৫ থেকে ৬০ দিনে সোনালী জাতের মুরগির ওজন আসে ৬/৭শ গ্রাম। মাংশের জন্য প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা খরচ হলেও খামারীরা ২/৪ টাকা কমবেশি পাচ্ছেন, সেখানে খুচরা বাজার মূল্য কেজি প্রতি ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। সোনালী জাতের মুরগি উৎপাদনে প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা খরচ হলেও খামারীরা লোকসান দিয়ে পাচ্ছেন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, আর খুচরা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়।

    জয়পুরহাট শহরের সাহেব বাজারের মফিজুল ইসলাম, কালাই পৌর শহরের তানভীর হোসেন, পাঁচবিবি পৌর শহরের আব্দুল হাকিমসহ খুচরা মুরগি ও ডিম ব্যবসায়ীরা জানান, তারা ফরিয়াদের কাছ থেকে মুরগি নিয়ে কেজি প্রতি ৪/৫ টাকা লাভে বিক্রি করেন।

    এদিকে, বর্তমানে মুরগির বাচ্চা, খাদ্য, ওষুধসহ বিভিন্ন উপকরণ বাকিতে বেচা-কেনা হওয়ার নানা কূফলও তুলে ধরেন সংশ্লিষ্টরা।

    তারা বলেন, শুধু একটি মুরগির শেড থাকলেই ওইসব খামারীকে বাকিতে সবকিছু সরবরাহ করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের পর মুরগি সুস্থ হওয়াসহ বাজার মূল্য স্বাভাবিক থাকলে মূল্য ফেরতের সম্ভাবনা থাকলেও নানা কারণে দরপতন ঘটলে হ্যাচারি মালিক, খাদ্য ব্যবসায়ীদের খাতায় বকেয়ার পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি দেনাদার খামারীদের তালিকাও দীর্ঘ হয়ে পড়ে। এসব কারণে গত পাঁচ বছরে ১১টি খাদ্য কারখানা, ৩৯টি হ্যাচারিসহ খাদ্য ও ওষুধ ব্যবসায়ীদের হিসাবের খাতায় একশ কোটি টাকারও বেশি বকেয়া রয়েছে বলেও জানান তারা।

    জামালগঞ্জ এলাকার আবু ছায়েম, ছানোয়ার হোসেনসহ মাঝারী ধরনের অনেক খামারী জানান, প্রতিমাসে তারা নিজস্ব শেডে প্রতিপালন করেন দুই থেকে চার হাজার মুরগি। গেল দুবছর আগেও মুরগি প্রতিপালন করে মাসে তাদের আয় হতো ১০/১৫ হাজার টাকা। কিন্তু গত ২ মাসে তাদের লোকসান হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা।

    জামালগঞ্জের পার্শ্ববর্তী পাহাড়পুরের সততা পোল্ট্রি ফার্মের খামারি মিল্টন হোসেন ১২ হাজার মুরগি দুই মাস প্রতিপালনের পর প্রায় তিন লাখ টাকা ও একই এলাকার আনোয়ার হোসেন মিথুনের চার হাজার মুরগিতে দেড় লাখ টাকা লোকসান হয়েছে বলে জানান।

    সদরের পুরানাপৈলের খামারি আবু সাঈদ, রবিউল ইসলাম বাবু বলেন, চাহিদা ও মূল্য না থাকার পাশাপাশি খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রলে তদারকি না থাকার কারণেও তাদের লোকসান হচ্ছে।

    দুই মাস খাদ্য খাওয়ানোর পর মুরগির ওজন ৭০০ থেকে ৭৫০ গ্রাম হওয়ার কথা থাকলেও মুরগির ওজন মিলছে ৬০০ থেকে ৬৫০ গ্রাম।

    ফলে গত মাসে দুই হাজার মুরগি বিক্রি করে আবু সাঈদের লোকসান হয়েছে ৭০ হাজার টাকা।

    শহরের দেবীপুর এলাকার নাসিমা পোল্ট্রি খামারের মালিক ফিরোজ হোসেন বলেন, আগে মুরগি কেনার জন্য খামারিদের কাছে ব্যবসায়ীরা ঘুরত। এখন বাকিতে মুরগি বিক্রি করার জন্যও ব্যবসায়ীদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

    আক্কেলপুর উপজেলার পূর্ব রুকিন্দিপুর গ্রামের খামারি শাহাদৎ হোসেন বলেন,তার খামারে সাড়ে পাঁচ হাজার সোনালী জাতের মুরগি রয়েছে। যেভাবে বাজার পড়ে গেছে তাতে এ অবস্থা থাকলে তাকে বিপুল অংকের টাকা লোকসান গুণতে হবে।

    জয়পুরহাট পদ্মা ফিডস অ্যান্ড চিকস্ লিমিটেডের পরিচালক রাশেদুজ্জামান, জয়পুরহাট বিসিক শিল্প নগরীর কিষাণ হ্যাচারির ব্যবস্থাপক তৌহিদুল ইসলামসহ হ্যাচারি ও পোল্ট্রি ব্যবসায়ীরা জানান, এখন বাচ্চা ফোটানোর জন্য প্রতিটি লেয়ার ডিমের উৎপাদন খরচ ৭/৮ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে পাঁচ টাকায়, প্রতিটি মুরগি বাচ্চার উৎপাদন খরচ ১৪/১৫ টাকা হলেও হ্যাচারি মালিকরা ৭/৮ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

    কারণ হিসেবে তারা বলেন, একদিনের মুরগির বাচ্চা উৎপাদন করেন তারা। এ বাচ্চাগুলো তো গুদামজাত করা যায় না। যেদিন উৎপাদন হয় সেদিনই পোল্ট্রি খামার মালিকদের কাছে বিক্রি করতে হয়। কিন্তু চাহিদা না থাকায় বিপুল সংখ্যক একদিনের উৎপাদিত বাচ্চা নিয়ে তাদের মতো মহাবিপাকে পড়েছেন অনেক হ্যাচারি মালিক। এতে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচও উঠছে না বলে জানান তারা।

    জয়পুরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ-সতাপতি ও কিষাণ পোল্ট্রি হ্যাচারি অ্যান্ড ফিড লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী জিয়াউল হক জিয়া বলেন, মুরগি খামার, হ্যাচারি ও ফিডমিলসহ এ শিল্পে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা।

    জয়পুরহাট বিসিক শিল্পনগরীর কিষাণ হ্যাচারির পরিচালক আখতারুজ্জামান বলেন, জেলায় ছোট বড় পোল্ট্রি খামার, হ্যাচারি, মুরগির খাদ্য কারখানা, ওষুধ-খাদ্য ও উপকরণ দোকানসহ জেলায় প্রায় ১২ হাজার পোল্ট্রি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা না থাকায় অস্থিরতার যাঁতাকলে পড়েছে দেশের সবচেয়ে বড় জয়পুরহাটের পোল্ট্রি শিল্প। এ অবস্থায় পোল্ট্রি শিল্পের অব্যাহত লোকসানের কারণে পুঁজি হারাতে বসেছেন জেলার হ্যাচারি মালিক ও পোল্ট্রি খামারীরা।

    পোর্ট্রি শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা বলেন, আর্থিক সম্ভাবনাময় এ শিল্প রক্ষা করতে এখানে মুরগির মাংস প্রসেসিং প্লান্টসহ হিমাগার প্রয়োজন। এ ছাড়া শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারি ভর্তুকিসহ রপ্তানির জন্য সরকারের পদক্ষেপ আশু প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

    জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুস সালম সোনার বলেন, কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও এসব খামারকে ঘিরে জয়পুরহাটসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে কর্মসংস্থান হয়েছে সরাসরি প্রায় পঞ্চাশ হাজার আর পরোক্ষভাবে লক্ষাধিক বেকার যুবক-যুবতীর। তাই জয়পুরহাটে পোর্ট্রি শিল্পের প্রসার লাভ করছে।

    ছোট দেশি মুরগির দাম প্রতি পিসে বেড়েছে ৫০ টাকা

  • Share The Gag
  • ছোট দেশি মুরগির দাম প্রতি পিসে বেড়েছে ৫০ টাকা

    রাজধানীর নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারগুলোতে গরু ও খাসির মাংসের দাম এখনও সাধারণ ক্রেতার সামর্থ্যের বাইরে। রোজার আগে সিটি কর্পোরেশন থেকে দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও তা মানেননি রাজধানীর মাংস ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে কয়েক দফায় দাম বাড়ানোও হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দামও প্রায় প্রতি সপ্তাহেই বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে দেশি মুরগির দাম।

    গত সপ্তাহে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল ছোট সাইজের প্রতিটি দেশি মুরগি। আজ শুক্রবারের বাজারে সেই দাম বাড়িয়ে ৪৫০ টাকা রাখা হচ্ছে। এছাড়া তেল ও রসুনসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম আরেক দফা বেড়েছে। তবে পাইকারি বাজারে প্রায় সব ধরনের চালের দাম ১-২ টাকা হারে কমেছে। আর সবজির বাজার ও মাছের বাজার অনেকটা স্থিতিশীল আছে।
    আজ রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে ছোট দেশি মুরগির দাম ৫০ টাকা বেড়ে প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা দরে। এছাড়া ব্রয়লার মুরগি আগের দাম অর্থাৎ ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লেয়ার মুরগি ২২০ টাকা এবং পাকিস্তানি লাল মুরগি ২০ টাকা বেড়ে ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আজকের বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫০০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

    মুদি বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের দামেই স্থিতিশীল রয়েছে অধিকাংশ মুদি পণ্যের দাম। আজকের বাজারে কেজি প্রতি ছোলা ৮৫ টাকা; দেশি মুগ ডাল ১৩০ টাকা; ভারতীয় মুগ ডাল ১২০ টাকা; মাসকলাই ১৩৫ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১২৫ টাকা; ভারতীয় মসুর ডাল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দারুচিনি ৩৬০ টাকা; জিরা ৪৫০ টাকা; শুকনা মরিচ ২০০ টাকা; লবঙ্গ ১৫০০ টাকা; এলাচ ১৬০০ টাকা; চীনের আদা ১২০ টাকা এবং ক্যারালা আদা ১৪০ টাকা; হলুদ ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

    তবে ভোজ্য তেলের ব্র্যান্ড ভেদে ৫ লিটারের বোতল ২০-৩০ টাকা বেড়ে ৫৩০-৫৪০ টাকা; প্রতি লিটারে ১-২ টাকা বেড়ে ১০৭ টাকা থেকে ১০৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বাজার দর পর্যালোচনা করে দামের কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে, টিসিবির মূল্য তালিকায় ব্র্যান্ড ভেদে ৫ লিটারের বোতল ৫১০ টাকা থেকে ৫৩০ টাকা। প্রতি লিটার ভোজ্য তেল ১০২-১০৭ টাকা।

    চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের চালের দাম ১-২ টাকা পর্যন্ত কমেছে। মোটা স্বর্ণা চাল ২ টাকা কমে প্রতি কেজি ৪৪ টাকা, পারিজা চাল ৪৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মিনিকেট (ভালো মানের) ২ টাকা কমে ৫৪ টাকা, মিনিকেট (সাধারণ) ৫২ টাকা, বিআর২৮ ৪৮ টাকা, সাধারণ মানের নাজিরশাইল ৫০ টাকা, উন্নত মানের নাজিরশাইল ৫২ টাকা, পাইজাম চাল ৪৮ টাকা, বাসমতি ৫৩ টাকা, কাটারিভোগ ৭২-৭৩ টাকা এবং পোলাও চাল (পুরাতন) ১০০ টাকা, (নতুন) ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

    নিত্য প্রয়োজনীয় কাঁচা পণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি বেগুন ৬০-৮০ টাকা; শশা ৫০ টাকা; চাল কুমড়া ৫০ টাকা; কচুর লতি ৬০ টাকা; পটল ৫০ টাকা; ঢেঁড়স ৫০ টাকা; ঝিঙ্গা ৬০ টাকা; চিচিঙ্গা ৫০ টাকা; করলা ৫০ টাকা; কাকরোল ৫০ টাকা; পেঁপে ৪০-৫০ টাকা; কচুরমুখী ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    প্রতিটি ফুলকপি ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা এবং লেবু হালি প্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা; পালং শাক আঁটি প্রতি ১৫ টাকা; লালশাক ১৫ টাকা; পুঁইশাক ২০ টাকা এবং লাউশাক ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    এছাড়া আজকের বাজারে কেজিপ্রতি দেশি পেঁয়াজ ৩০ টাকা; ভারতীয় পেঁয়াজ ২৮ টাকা; দেশি রসুন ১১০ টাকা; ভারতীয় রসুন ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। হাইব্রিড টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা; দেশি টমেটো ৯০ দরে। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম ৮০ টাকা; আলু ২৪ টাকা।

    মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০-৩৫০ টাকা, সরপুঁটি ৩৫০-৪৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ২০০-২৫০ টাকা, চাষের কৈ ২৫০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১৫০-২৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, মাগুর ৬০০-৮০০ টাকা, প্রকার ভেদে চিংড়ি ৪০০-৮০০ টাকা, প্রতিটি ইলিশ ৮০০-১৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে; প্রতি কেজি ইলিশের দাম রাখা হচ্ছে ১৬০০ টাকা।

    রংপুরে ১০ বছরে পোলট্রি শিল্প ১০ গুণ

  • Share The Gag
  • রংপুরে ১০ বছরে পোলট্রি শিল্প ১০ গুণ

    রংপুর বিভাগে পোলট্রি শিল্পের গত ১০ বছরে প্রসার হয়েছে ১০ গুণের বেশি। এ অঞ্চলের বর্তমান বাজারে যে পরিমাণ ডিম, মুরগি, বাচ্চা ও ফিডের প্রয়োজন তার প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ জোগান হচ্ছে এখান থেকে। এ শিল্পে বিভাগে প্রায় এক লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। সেই সঙ্গে ৪০০ কোটি টাকার ওপর বিনিয়োগ হয়েছে। তবে চলতি বাজেটে পোলট্রি শিল্পের ওপর ১০ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণ করায় এ শিল্পের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন খামারিরা।

    রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বিভাগে মুরগির খামার রয়েছে ৬ হাজার ১৩৯টি। এর মধ্যে লেয়ার ২ হাজার ৩৭৯টি এবং ব্রয়লার ৩ হাজার ৭৬০টি। একটি মাঝারি মানের মুরগির খামার করতে কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার প্রয়োজন হয়। রক্ষণাবেক্ষণ করতে কমপক্ষে ১৫ জন জনবল কাজ করে। সে হিসাবে এ শিল্পে বিনিয়োগ হয়েছে ৪০০ কোটি টাকার ওপর। কর্মসংস্থান হয়েছে এক লাখ মানুষের।

    এ বিভাগে মোট মুরগির সংখ্যা ২ কোটি ৮৮ লাখ ১ হাজার ৭৭৯টি এবং হাঁসের সংখ্যা ৫৫ লাখ ৫৬ হাজার ৩৪২টি। আমিষের চাহিদা পূরণ ও স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে একজন মানুষের বছরে ১০৪টি ডিম খাওয়া প্রয়োজন। বিভাগে ডিমের চাহিদা রয়েছে ১৬২ কোটি পিস। গত অর্থবছরে ডিম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৪৩ কোটি পিস। সেখানে উৎপাদন হয়েছে ১৪০ কোটি পিস। ১০ বছর আগে এর উৎপাদন ছিল ১০ ভাগের এক ভাগ। এসব বিষয় জানিয়েছেন রংপুর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।

    অপরদিকে এ বিভাগের ১ কোটি ৫৫ লাখ মানুষের মাংসের চাহিদা রয়েছে ৬ লাখ ৭২ হাজার টন। প্রতিদিন একজন মানুষের মাংসের চাহিদা ১২০ গ্রাম সেখানে পাওয়া যাচ্ছে ১১০ গ্রাম। বছরে এ অঞ্চলে মাংস উৎপাদন হচ্ছে ৬ লাখ ২ হাজার টন। এর মধ্যে মুরগির মাংস খায় বছরে গড়ে মাত্র ৩ দশমিক ৬৫ কেজি। একজন মানুষের প্রতিদিন দুধের চাহিদা প্রতিদিন ২৫০ গ্রাম। সেই হিসাবে বছরে দুধের চাহিদা ১৪ লাখ টন। গত অর্থবছরে রংপুরে দুধ উৎপাদন হয়েছে ৮ লাখ টন। দেখা গেছে, গত কয়েক বছরে এ শিল্প এই অঞ্চলে অর্থনীতির চালিকাশক্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছে।

    খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৭, ২০০৯ এবং ২০১১ সালে বার্ড ফ্লুর ভয়াবহ সংক্রমণে রংপুরে এ শিল্পের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খামার বন্ধ হয়ে গেলেও এ শিল্পের অগ্রগতি থেমে থাকেনি। বেসরকারি পর্যায়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি মানের উদ্যোক্তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এ শিল্পে বিপ্লব ঘটেছে। পোলট্রি শিল্পকে কেন্দ্র করে পরিচালনা, পরিচর্যা, বাজারজাতকরণ এবং খাদ্য উৎপাদন কার্যক্রমের সুবাদে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে এ অঞ্চলে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারে ব্যবসা পরচিালনা করে হাজার হাজার উদ্যোক্তা স্বাবলম্বী হয়েছেন।

    কিন্তু চলতি অর্থবছরের বাজেটে পোলট্রি শিল্পে ১০ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণ করায় এ শিল্প অগ্রসরে পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই পোলট্রি মুরগির মাংসের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। সব চেয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে প্যাকেটজাত পোলট্রি ফিডের। মাছ, গরুর মাংস, খাসির মাংসের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধির পর মধ্যবিত্তের খাবার হিসেবে স্থান করে নিয়েছিল পোলট্রি মুরগির মাংস। ভ্যাট নির্ধারণ ও দাম বৃদ্ধির ফলে প্যাকেটজাত পোলট্রি ফিডের দাম বেড়েছে। নিম্ন ও মধ্য আয়ের সাধারণ মানুষ, যারা মাংসের স্বাদ পেতে পোলট্রিনির্ভর হয়ে পড়েছিল এখন অনেকেই মুরগির মাংসের স্বাদ নিতে ভুলে যাবে। ঝুঁকিতে পড়বে পোলট্রি শিল্প। এর বিপরীতে যেসব সাধারণ মানুষ পোলট্রির ওপর নির্ভর করত তাদের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে বিকল্প উৎসের খোঁজ করতে হবে।

    রংপুর প্রাণিসম্পদ অফিসের উপপরিচালক মীর ফারুক হোসেন জানান, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও গত ১০ বছরে পোলট্রি শিল্প এ অঞ্চলে ১০ গুণ বেড়েছে। এ শিল্পের বিকাশের ধারাকে অব্যাহত রাখতে পোলট্রি খাদ্য থেকে শুরু করে এ শিল্পের ওপর নির্ভর সব ধরনের পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা উচিত।

    রংপুর পোলট্রি শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আকবর হোসেন জানান, সরকার অযৌক্তিকভাবে বাজেটে এ শিল্পের ওপর ১০ শতাংশ ভ্যাট চাপিয়ে দিয়েছে। এতে উদীয়মান শিল্পটি হোঁচট খাচ্ছে। তিনি সরকারের প্রতি এই ভ্যাট প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

    দেশি মুরগি বনাম ফার্মের মুরগি

  • Share The Gag
  • দেশি মুরগি বনাম ফার্মের মুরগি







    ১. আকারে ছোট। যত্রতত্র ঘুরে বেড়ায়।


    তবে সন্ধ্যা হলেই দলবল নিয়ে নিজ আস্তানায় ফিরে আসে।


    ২. প্রায় সর্বভূক। এদের চাল দিলে চাল খাবে, গম দিলে গম। ভাতেও ‘না’ নেই, নুডলসেও নেই।


    ৩. অল্পস্বল্প উড়তে পারে। ফলে পাখির সঙ্গে ইগো ক্ল্যাশ করে। নিজেকে কখনো কখনো পাখি মনে করলেও বেশি ওড়ার সাধ্য না থাকায় নিজ ঘরকেই আপন মনে করে।


    ৪. ডিমের আকার ছোট। তবে একটা ডিম পাড়লেই সেটা নিয়ে ভয়ানক হইচই করতে পারে। তারা ডিম পাড়া মাত্র তা রাষ্ট্র হয়ে যায়।


    ৫. দুর্বল লেগপিস। কিন্তু খেতে সুস্বাদু।


    ৬. ওজনে কম হওয়ার পরও মার্কেট ভ্যালু আছে ঐতিহ্য ও গুণগত মাংসের কারণে।


     


    ১. ফার্মের মুরগি আকারে বড়। খুব বেশি ঘোরাঘুরি করতে পারে না। আলসে-টাইপ। দলবলসহ থাকলেও একে অন্যকে চেনে না প্রায়। কারও সঙ্গেই তেমন কোনো যোগাযোগ নেই। আপনারে নিয়া ব্যস্ত থাকিতে এসেছেন তারা অবনী ’পরে।


    ২. দেশি-বিদেশি পোলট্রি ফুড ছাড়া ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ ও ডিনার হয় না। চাল-গম এরা খেতে পছন্দ করে না। খেলে দামিটা খাবে, না হলে খাবে না।


    ৩. ওড়াউড়ির মধ্যে নেই। এরা ডাইরেক্ট স্থান ত্যাগ করে। পোলট্রি ফার্ম থেকে সরাসরি মার্কেটে। যে দলে জন্ম, সেই দল ত্যাগ করে বাজারের দলে যেতে এদের বিন্দু পরিমাণ কষ্ট হয় না।


    ৪. ডিমের আকার বড়। বাজারে এদের ডিম জনপ্রিয়। তবে ডিম পাড়লেও এরা তা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে না। এদের ধারণা, যেকোনো দানই লজ্জার ঘটনা। ফলে ডিম পাড়লে এরা ঝিম মেরে বসে থাকে।


    ৫. সবল লেগপিস। সবাই এদের লেগের ভক্ত। এরা নিজেরাও তা জানে। তাই সব সময় নিজেদের লেগ অন্যদের জন্য বাড়িয়ে রাখে।


    ৬. ওজনে বেশি হওয়ায় বাজারে কাটতি ভালো। এদের কোনো ঐতিহ্য নেই, তবে এরাই ভবিষ্যৎ।


    পুনশ্চ: এ ছাড়া বাজারে কক নামক পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মুরগির চাহিদা আছে। এরা দেশি ও ফার্মের মুরগির মাঝামাঝিতে একটা অবস্থান বজায় রেখে নিজেদের বাজারমূল্য বাড়িয়ে চলেছে।




    ডিম বৃত্তান্ত (১): দেশি বনাম ফার্মের ডিম




    eggs

     

     

     

     

    ফার্মের ডিম খাবার অভ্যস আমাদের বেশিকাল আগের নয়। আমাদের বয়স্কদের অনেকে এখনও বেশি দাম দিয়ে দেশি মুরগীর ডিম খেতে পছন্দ করে। মনে রাখতে হবে অজ্ঞতা হেতু বেশি অর্থ খরচ করা মানে বেশি পুষ্টি নয়। অনেকে বলে থাকেন দেশি মুরগির ডিমে বেশি পুষ্টি  থাকে। কিন্তু কথাটি মোটেই সত্য নয়। একটি দেশি মুরগীর ডিমের সাথে ফার্মের ডিমের ওজন, দাম ও পুষ্টিমান তুলনা করুন। একটি দেশি ও ফার্মের মুরগীর ডিমের ওজন যথাক্রমে ৩৫-৪০ ও ৫৫-৬০ গ্রাম। দেশি ডিমের ওজন কম হওয়ায় পুষ্টিমানও অনেক কম হবে। সুতরাং এবার সিদ্ধান্ত নিন বেশি টাকা খরচ করে দেশি মুরগীর ডিম না কম টাকায় ফার্মের ডিম ক্রয় করবেন। মনে রাখবেন ডিমের পুষ্টিমান বিচারে দামের সঙ্গে এর একক ওজন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।

    তবে একটি বিষয় এখানে উল্লেখ্য যে, পোলট্রির খাদ্য তালিকায় কেরোটিন বা ভিটামিন- এ’ এর অভাব হলে ফার্মের ডিমের কুসুম বেশি হলুদ হয় না। কিন্তু দেশি মুরগীর ডিমের কুসুম বেশি হলুদ হয়। আমাদের মনে রাখতে হবে শুধু ভিটামিন-এ দ্বারা একটি ডিমের মোট পুষ্টিমান হিসাব করা হয় না। আমরা মূলত আমিষের জন্যই ডিম খেয়ে থাকি, কিন্তু সাথে চর্বি , ভিটামিন ও খনিজদ্রব্য পেয়ে থাকি। তাছাড়া ফলমূল, তরি-তরকারী ও শাকসবজি থেকে আমরা প্রতিদিন ভিটামিন-এ পেয়ে থাকি।



    Monday, July 17, 2017

    আকাশপথে গরু এসে পৌঁছুল কাতারে

  • Share The Gag
  • আকাশপথে গরু এসে পৌঁছুল কাতারে

    জ্বালানিসমৃদ্ধ দেশ কাতার মূলত এর ২৭ লাখ জনগণের খাদ্যচাহিদা মেটাতে আমদানির উপরেই নির্ভরশীল। গত মাসে সৌদি জোটের আরোপ করা অবরোধের ফলে প্রতিবেশি দেশগুলো থেকে খাদ্য আমদানী বন্ধ আছে কাতারে। তাই দেশে গরুর দুধের সরবরাহ বাড়াতে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আকাশপথে গরু আমদানি করেছে দেশটি। এই গরু দিয়ে স্থাপন করা হবে দুগ্ধজাত পণ্যের খামার।

    সন্ত্রাসবাদে মদদ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্টের অভিযোগে গত ৫ জুন কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কচ্ছেদ করেছে সৌদি আরবের নেতৃত্বে আটটি মুসলিম দেশ। কাতার ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যকার বিরোধের কারণে বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটছে এবং দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক জোটে পরিবর্তনের হুমকি দেখা দিয়েছে। চলমান পরিস্থিতিতে আমদানিনির্ভর কাতারে খাদ্য সংকটের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দুধের সরবরাহের পতন ঠেকাতে নিজস্ব দুগ্ধ খামার গড়ে তুলতে দেশটির এক ব্যবসায়ী আকাশপথে চার হাজার গরু আমদানির ঘোষণা দিয়েছিলেন গত মাসে। খবর ব্লুমবার্গ।

    পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিংয়ের চেয়ারম্যান মুতাজ আল খায়াত অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসব গরু কিনেছেন। কাতার এয়ারওয়েজের ৬০টি ফ্লাইটে করে ৫৯০ কিলোগ্রাম ওজনের এক একটি গরু কাতারে আনা হয়েছে। বিমানে করে গবাদি পশু বহনের সর্ববৃহৎ ঘটনা এটি। তিনি জানান, এতে দেশের দুগ্ধজাত পণ্যের মোট চাহিদার ৩০ শতাংশ মেটানো সম্ভব হবে। এই পণ্যগুলো মুতাজ আল খায়াতের প্রবর্তিত নতুন ব্র্যান্ডের অধীনে সরবরাহ করা হবে।

    কাতার সংকট শুরুর আগে দোহার প্রায় ১০ লাখের বেশি মানুষের জন্য দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য আসত সৌদি আরব থেকে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও এর দুই সহযোগী দেশ কাতারের সঙ্গে পরিবহন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর দুধ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

    কাতারের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর কূটনৈতিক সম্পর্কচ্ছেদের কারণে খাদ্য, নির্মাণসামগ্রী ও প্রাকৃতিক গ্যাস শিল্পের উপকরণ আমদানির জন্য নতুন বাণিজ্য রুট খুঁজতে বাধ্য হয়েছে কাতার।

    মুতাজ আল খায়াতের ব্যবসা মূলত নির্মাণ খাতকে ঘিরে। এছাড়া তার কোম্পানির কৃষি ব্যবসাও রয়েছে। দোহার উত্তরাঞ্চলে ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ তার একটি ফার্ম রয়েছে। সেখানে ভেড়ার দুধ ও মাংস উত্পন্ন হয়। ফার্মটিতে আগে থেকেই সমুদ্রপথে গরু আমদানির পরিকল্পনা ছিল। কাতারকে একঘরে করার ফলে প্রকল্পটি ত্বরান্বিত করা হয়েছে।

    এদিকে কাতার তুরস্ক থেকে দধি এবং মরক্কো ও ইরান থেকে শুষ্ক পন্য আমদানির নতুন নিরাপদ বাণিজ্য রুট খুঁজছে।

     

    সূত্র- বনিকবার্তা

    যে কারণে অস্ট্রেলিয়ায় গরুকে চকলেট খাওয়ানো হয়

  • Share The Gag
  • যে কারণে অস্ট্রেলিয়ায় গরুকে চকলেট খাওয়ানো হয়

    একটি খামারে গরুর মাংসের স্বাদ বাড়াতে গরুকে খাওয়ানো হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে চকলেট, ক্যান্ডি ও কুকিস। পরিমাণ কম নয়, নিয়মিত প্রায় ২ কেজি করে এগুলো খাওয়ানো হয়। আর এমন কাজ করছে অস্ট্রেলিয়ার একটি খামার।

    এসব খাবারে গরুর খাদ্যে মিষ্টতার ব্যবহারে নাকি গরুর মাংস আরও সুস্বাদু হয় বলে দাবি ফার্ম মালিকের। অস্ট্রেলিয়ায় ফার্মটির মালিক স্কট ডি ব্রুইনে।

    তিনি বলেন, তার খামারে গরুদের খাবার হিসাবে দেওয়া হয় চকলেট, ক্যান্ডি এবং কুকিস। গরুর জন্য এমন খাবারের প্রশংসা করছেন খাদ্য রসিকরা। মেলবোর্ন ও অ্যাডিলেডের মাঝে প্রায় ৩ হাজার একরজুড়ে রয়েছে এই ফার্ম। বিশালাকার এ ফার্মে গবাদি পশুগুলো বেশ আরামেই থাকে।

    খামারটি থেকে উৎপন্ন ওয়াগু বিফের সুনাম বিশ্বের নানা প্রান্তে। ময়ূরা স্টেশন নামে ওই প্রতিষ্ঠানটির দাবি, মিষ্টিযোগে বিফের স্বাদ নাকি আরো খুলেছে। ১৮৪৫ সালে থেকে এই ফার্ম চলছে। তবে গরুর খাদ্যে চকলেট দেওয়া হচ্ছে ১৯৯৬ সাল থেকে।

    খামারে রোজ প্রতিটি গরুকে প্রায় দুই কেজি করে খাবার দেওয়া হয়। এর মধ্যে সিংহভাগ থাকে চকলেট, কুকিস এবং ক্যান্ডি।

    তথ্যসূত্র- ইন্টারনেট

     

    ৬৪ ব্যক্তি-সংগঠনকে বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক দিলেন প্রধানমন্ত্রী

  • Share The Gag
  • প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলা ১৪২১ ও ১৪২২ সালে কৃষি খাতের উন্নয়নে অবদান রাখায় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে ৫৫ ব্যক্তি এবং ৯টি সংগঠনকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকে ভূষিত করেছেন।

    শেখ হাসিনা আজ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিজয়ীদের মধ্যে এসব পদক প্রদান করেন।

    কৃষি উন্নয়ন ও গবেষণায় প্রতি বছরে বিশেষ অবদানের জন্য বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি পর্যায়ে ১০টি ক্যাটাগরিতে ৫টি স্বর্ণ, ৯টি রৌপ্য ও ১৮টি ব্রোঞ্জ পদক দেয়া হয়।

    স্বর্ণ পদক বিজয়ীদের প্রত্যেকেই ১৮ ক্যারেটের ২৫ গ্রাম ওজনের ১টি স্বর্ণ পদক ও নগদ ১ লাখ টাকা, রৌপ্য পদক বিজয়ীদের প্রত্যেকেই ২৫ গ্রাম ওজনের ১টি রৌপ্য পদক এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা ও ব্রোঞ্জ পদক বিজয়ীদের প্রত্যেকেই ১টি ব্রোঞ্জ পদক ও নগদ ২৫ হাজার টাকা পেয়েছেন।

    কৃষি গবেষণা এবং সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি আবিষ্কার, বাণিজ্যিক খামার, বনায়ন, পশু পালন, পোল্ট্রি ও মৎস্য খামারে বিশেষ অবদানের জন্য এ পদক দেয়া হয়।

    ১৪২১ এর জন্য পদক প্রাপ্তরা হলেন- স্বর্ণ পদক বিজয়ী ১. কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ি ঢাকা, ২. কুমিল্লা জেলার চৌদ্দ গ্রামের মো. সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, ৩. পাবনার আটঘরিয়ার মো. আব্দুল খালেক, ৪. নীলফামারীর ডোমারের অন্যপূর্ণ এগ্রো সার্ভিস এবং পাবনার ঈশ্বরদীর মোছা. বেলী বেগম।

    রৌপ্য পদক বিজয়ীরা হলেন- ১. রাজবাড়ী জেলার রাজবাড়ী সদরের উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. রকিব উদ্দিন, ২. নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জের গাউসুল আজম বাবা ভান্ডারী বহুমুখী খামার লিঃ, ৩. কুমিল্লা জেলার হোমনার মো. লাল মিয়া, ৪. ময়মনসিংহের ত্রিশালের মো. আজিম উদ্দিন, ৫. টাঙ্গাইল জেলার টাঙ্গাইল সদরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ওসমান গণি, ৬. রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ীর বেগম আদুরী মার্দি, ৭. পাবনার জেলার ঈশ্বরদীর মো. আব্দুল বারী, ৮. কুমিল্লার জেলার চৌদ্দ গ্রামের মো. আবুল কাশেম, ৯. খাগড়াছড়ি জেলার খাগড়াছড়ি সদরের সুজন চাকমা।

    ব্রোঞ্জ পদক বিজয়ীরা হলেন- ১. রাজশাহী জেলার তানোরের নুর মোহাম্মদ. ২. সিলেট জেলার সিলেট মহানগরীর আবদুল হাই আজাদ বাবলা, ৩. খুলনা জেলার ডুমুরিয়ার সুরেশ্বর মল্লিক, ৪. যশোর জেলার যশোর সদরের মো. আব্দুল ওয়াহিদ সরদার, ৫. কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি এম এ মতিন, ৬. মেহেরপুর জেলার মেহেরপুর সদরের মোছা. জান্নাতুল ফেরদৌস, ৭. নরসিংদী জেলার রায়পুরার রিয়াজুল ইসলাম সরকার, ৮. ময়মনসিং জেলার গফর গাঁওয়ের মো. রফিকুল ইসলাম, ৯. পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়ার মো. আবুর বকর সিদ্দিক, ১০. ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইলের গোলাম মোস্তফা, ১১. পাবনা জেলার ঈশ্বরদীর মাহফুজা খানম শীমা, ১২. খুলনা জেলার বটিয়াঘাটার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সরদার আবদুল মান্নান, ১৩. গাইবান্ধা জেলার সাঘাটার মো. আমির হোসেন, ১৪. নওগাঁ জেলার নওগাঁ সদরের মো. সালাহ উদ্দিন উজ্জল, ১৫. জয়পুরহাট জেলার জয়পুরহাট সদরের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম সাজু, ১৬. জামালপুর জেলার জামালপুর সদরের মো. ইজাদুর রহমান, ১৭. খুলনা জেলার ডুমুরিয়ার অশোক বৈরাগী এবং ১৮. কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারার মো. শাহীনুর রহমান।

    ১৪২২ এর জন্য পদক প্রাপ্তরা হলেন- স্বর্ণ পদক বিজয়ী ১. গাজীপুরের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্ল্যান্ট ব্রিডিং ডিভিশন, ২. গাজীপুরের সলনার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ৩. সিলেট জেলার সিলেট মহানগরের মো. আবদুল বাছিত সেলিম, ৪. শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রশিদ ভুইয়া, ৫. রংপুর জেলার রংপুর সদরের নাজমুন নাহার।

    রৌপ্য পদক বিজয়ীরা হলেন- ১. ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. আবদুস সালাম, ২. ঝিনাইদহ জেলার ঝিনাইদহ সদরের বেগম ফারজানা বিবি বিশ্বাস, ৩. নাটোর জেলার নাটোর সদরের আলহাজ মো. আলফাজুল আলম, ৪. যশোরের শেখ আফিল উদ্দিন এমপি, ৫. চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গার জাকির এন্ড ব্রাদার্স, ৬. নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জের মো. মাসুদুল হক চৌধুরী, ৭. চট্টগ্রাম জেলার রাউজানের এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি, ৮. নবাবগঞ্জের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আঞ্চলিক হর্টি কালচার রিসার্চ সেন্টারের কৃষিবিদ ড. মো. সরাফ উদ্দিন এবং ৯. নরসিংদী জেলার শিবপুরের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আঞ্চলিক হর্টি কালচার রিসার্চ সেন্টারের ড. মো. নজরুল ইসলাম।

    ব্রোঞ্জ পদক বিজয়ী হলেন- ১. কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জুলফিকার আলী, ২. দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরের গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র, ৩. সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়ার মো. ইউনুস আলী, ৪. কিশোরগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অফিসের স্টোর কিপার সৈয়দ নুরুল আউয়াল তারা মিয়া, ৫. কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোটের জালাল আহমেদ, ৬. ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জের মো. হেলাল উদ্দিন, ৭. ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জের কার্ড মহিলা সমিতি, ৮. সাতক্ষীরা জেলার সাতক্ষীরা সদরের বেগম শাহানা সুলতানা, ৯. সিলেট জেলার বিশ্বনাথের মোছা. রুবা খানম, ১০. গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের মো. দেলোয়ার হোসেন, ১১. পাবনা জেলার ঈশ্বরদীর এস এম রবিউল ইসলাম, ১২. সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরের বেগম ইলিজা খান, ১৩. রংপুর জেলার কেরানীপাড়ার কৃষি তথ্য সেবার আঞ্চলিক বেতার কৃষি অফিসের মো. আবু সায়েম, ১৪. ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. হুমায়ুন কবির, ১৫. ঢাকা নবাবগঞ্জের বেগম মায়া রানী বাউল, ১৬. বান্দরবান জেলার সদরের তারাঙ্গা, ১৭. চট্টগ্রাম জেলার পুটিয়ার †মা. হারুন, ১৮. পাবনা জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিভূতি ভূষণ সরকার।
    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি উন্নয়নে জনগণ এবং প্রতিষ্ঠানকে উৎসাহিত করতে কৃষি পদক প্রদান চালু করেছিলেন।

    বঙ্গবন্ধুর চালু করার পদক প্রদানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার তহবিল আইন-২০০৯ প্রণয়ন করা হয়। এ কর্মকাণ্ডকে আরো গতিশীল করতে পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ট্রাস্ট আইন-২০১৬ প্রণয়ন করা হয়। এ আইনের আলোকে প্রথমবারের মতো ১৪২১ ও ১৪২২ সালের জন্য ৫৫ জন ব্যক্তি ও ৯টি প্রতিষ্ঠানকে ১০টি স্বর্ণ, ১১টি রৌপ্য ও ৩৬টি ব্রোঞ্জ পদক দেয়া হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। কৃষি সচিব মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহ এ পদক বিতরণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

    Saturday, July 15, 2017

    ধান ও গম কাটা মেশিন

  • Share The Gag
  • ধান ও গম কাটা মেশিন

    কৃষি প্রধান বাংলাদেশে খাদ্যশস্যের মধ্যে ধান ও গম অন্যতম। দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটানোর জন্য একদিকে যেমন উৎপাদন বাড়ানো দরকার তেমনি দরকার উৎপাদন খরচ কমানোর। আমাদের দেশে ফসল উৎপাদন ও আহরণের ক্ষেত্রে এখনো সনাতন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ধান অতিরিক্ত শুকিয়ে ৪-৫% জমিতেই ঝরে পড়ছে।এ ধান ও গম কাটার সময়, খরচ ও শ্রম বাঁচিয়ে উৎপাদন খরচ কমাতে ধান ও গম কাটার যন্ত্র ব্যবহার করা যেতে পারে।

    ব্যবহারের নিয়মাবলী : ইঞ্জিন চালু করার পূর্বে ফুয়েল ট্যাংক ডিজেল দ্বারা পূর্ণ করতে হবে। ইঞ্জিনে সঠিক গ্রেডের এবং প্রয়োজনীয় পরিমাণ লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করতে হবে। বোল্ট ও চেইন টেনশন সঠিক রাখতে হবে। নাট, বোল্ট, ফিটিংস্ ইত্যাদি চেক করতে হবে। এরপর ইঞ্জিন টেনশন পুলির সহায়তায় ট্রান্সমিশন সিস্টেম হতে বিচ্ছিন্ন করে ইঞ্জিন চালু করতে হবে। ইঞ্জিন চালুর পর কাটার ব্লেড, চেইন লাগ, স্টার হুইল ইত্যাদি সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা লক্ষ্য রাখতে হবে। ধান বা গম কর্তন আরম্ভ করার পূর্বে লক্ষ্য রাখতে হবে যদি জমির আইল ৬ ইঞ্চির বেশি উঁচু হয় তবে অবশ্যই জমির চারদিকে ফসল ১ ফুট পরিমাণ কাঁচির সাহায্যে পূর্বেই কর্তন করে নিতে হবে, এতে শস্য সঠিকভাবে ডান দিকে পড়বে।

     

    সংরক্ষণ পদ্ধতি : ব্যবহারের পর যন্ত্রটি থেকে ঘাস, খড়, মাটি সম্পূর্ণরূপে পরিস্কার করতে হবে। ফুয়েল ট্যাংক হতে সম্পূর্ণ ফুয়েল বের করে পরিস্কার করতে হবে। কোনো অংশ ঢিলা হলে তা ঠিক করে নিতে হবে। যন্ত্রটির ঘূর্ণায়মান অংশগুলোতে এবং চেইনে মাঝে মাঝে মবিল দিতে হবে। মৌসুম শেষে ভালভাবে পরিস্কার করে শুষ্ক ও উপরে শেড যুক্ত স্থানে রাখতে হবে। কাটিং ব্লেড এবং চেইনে লুব্রিকেটিং অয়েল বা গ্রিজ দিয়ে রাখতে হবে ।

    যন্ত্রের সুবিধা : যন্ত্রটি ঘণ্টায় ৬৫ থেকে ৭৫ শতাংশ জমির ফসল কাটতে পারে। এক ঘণ্টায় মাত্র আধা লিটার ডিজেল খরচ হয়। যন্ত্রটি চালাতে মাত্র একজন লোকের প্রয়োজন হয়। যন্ত্রটির ওজন কম তাই প্রয়োজনে রশি, বাঁশের সাহায্যে এক জমি থেকে অন্য জমিতে নেয়া যায় এবং পরিবহনের সময় জমির কোনো ক্ষতি হয় না। এর চাকা বিশেষভাবে তৈরির ফলে অল্প পরিমাণ কাদা ও পানি থাকলে জমিতে ব্যবহার করা যায়। যন্ত্রটির সকল পার্টস দেশর সর্বত্র পাওয়া যায় এবং সহজেই স্থানীয় ওয়ার্কশপে মেরামত যোগ্য । ধান ও গম কাটার যন্ত্র সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগে।

     

    বাংলাদেশে এই মেশিন এ সি আই মোটরস বিপণন করে থাকে।

     

    Friday, July 14, 2017

    বাংলাদেশি দুগ্ধ চাষিদের সহায়তায় ইউএসএইড

  • Share The Gag
  • বাংলাদেশি দুগ্ধ চাষিদের সহায়তায় ইউএসএইড

    সম্প্রতি ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউএসএইড) মর্যাদাপূর্ণ প্রোগ্রাম ‘ফিড দ্য ফিউচার পার্টনারিং ফর ইনোভেশন’র সঙ্গে অংশীদারিত্বের ঘোষণা দিয়েছে প্রমিথিয়ান পাওয়ার সিস্টেমস।

    এর ফলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের উদ্ভাবনী কৃষিজ পণ্য বাণিজ্যিককরণের মাধ্যমে লাভজনক এবং টেকসই ব্যবসা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। যা নিম্ন আয়ের দুগ্ধ-চাষিদের জন্য উপকারে আসবে বলে আশা উদ্যোক্তাদের।

    কঠোর স্ক্রিনিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে অংশীদারদের। এভাবেই বিশ্বজুড়ে ১০০টিরও বেশি সম্ভাব্য অংশীদারদের মতো বাংলাদেশ থেকে অংশীদার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে প্রমেথিয়ান পাওয়ার সিস্টেমস।

    কৃষি প্রযুক্তি চিহ্নিতকরণ এবং বাজারজাতকরণের মাধ্যমে দুগ্ধ চাষিদের ক্ষতি কমিয়ে আয় বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে এবং কিছু বিশেষ নির্ণায়কের উপর ভিত্তি করে এই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

    এই অংশীদারিত্বের আওতায় বাংলাদেশের হাজার হাজার নিম্ন আয়ের দুগ্ধ চাষি প্রমিথিয়ান পাওয়ার সিস্টেমসের কোল্ড চেইন প্রক্রিয়ায় আওতাভুক্ত হতে পারবেন। এটি বাস্তবায়ন করতে দুধ শীতলীকরণে প্রমিথিয়ান তাদের পেটেন্ট করা তাপশক্তি সঞ্চয় প্রযুক্তি স্থাপন করে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নিম্ন আয়ের দুগ্ধ চাষিদের থেকে নিয়মিত দুধ সংগ্রহ করবে। এটি চাষিদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বেশি মাত্রায় দুধ উৎপাদনে দুগ্ধ চাষিদের আগ্রহী করে তুলতে সহায়তা করবে।

    পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে কোল্ড চেইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান দেয়ার ক্ষেত্রে প্রমিথিয়ান পাওয়ার সিস্টেমস অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে ভারতে বেশ শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করেছে ও দক্ষিণ এশিয়া এবং আফ্রিকার অন্য দেশগুলোর দুগ্ধ খাতেও কাজ করার সুযোগ খুঁজছে। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে প্রমিথিয়ান পাওয়ার সিস্টেমসের একটি গবেষণা কেন্দ্র এবং ভারতের পুনেতে একটি ডিজাইন ও পণ্য উৎপাদন করার ব্যবস্থা রয়েছে।

    ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশের শতাধিক গ্রামে ডিজেল জেনারেটর ছাড়াই তাপশক্তি সঞ্চয় প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির চিলিং সল্যুশন স্থাপন করা হয়েছে

    প্রমিথিয়ান পাওয়ার সিস্টেমসের বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের পরিচালক যোফি যোসেফ বলেন, বাংলাদেশে একটি নিবেদিত দল নিয়োজিত করেছি, যাদের মাধ্যমে আমরা দুগ্ধ চাষিদের আরও বেশি কার্যকর এবং লাভজনক পদ্ধতিতে মানসম্মত দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণের বিষয়গুলো শেখাতে চাই।

    বাংলাদেশের দুগ্ধ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত জনগোষ্ঠী এবং চাষিদের আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারায় আমরা আনন্দিত।

    সূত্র- জাগো নিউজ

    দেশি ট্যাংরার কৃত্রিম প্রজনন ও চাষ পদ্ধতি উদ্ভাবন

  • Share The Gag
  • দেশি ট্যাংরার কৃত্রিম প্রজনন ও চাষ পদ্ধতি উদ্ভাবন

    দেশি ট্যাংরা মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও চাষের কৌশল উদ্ভাবন করেছেন মৎস্যবিজ্ঞানীরা। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সৈয়দপুর স্বাদু পানি উপকেন্দ্রের একদল বিজ্ঞানী এটি উদ্ভাবন করেন। গত জুনে এই প্রযুক্তি মৎস্য মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    সৈয়দপুরে অনেক দিন থেকেই মৎস্যবিজ্ঞানীরা দেশি জাতের বিলুপ্তপ্রায় মাছ নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁরা এই প্রথম ট্যাংরা মাছের কৃত্রিম প্রজনন, পোনা উৎপাদন ও চাষের কলাকৌশল উদ্ভাবন করেছেন।

    সৈয়দপুর-রংপুর মহাসড়কের পাশে সৈয়দপুরের কামারপুরে ২০০৩ সালে প্রায় ১০ একর জায়গা নিয়ে স্বাদু পানি উপকেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। মিঠা পানির বিলুপ্তপ্রায় ৫৪ প্রজাতির দেশি মাছ নিয়ে গবেষণা, উন্নত জাত উদ্ভাবন, চাষিদের উদ্বুদ্ধকরণ ও হাতে-কলমে শিক্ষা, পরামর্শসহ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এখান থেকে। কাজ করছেন ৩ জন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাসহ ১৭ জন কর্মচারী।

    এখানে ১৫টি পুকুরে মাগুর, শিং, কই, রুই, কাতলা, জেনেটিক্যালি ইমপ্রুভড তেলাপিয়া, সরপুঁটি, ট্যাংরা, ভেদা, শোল, টাকি, খলিশা, গুতুমসহ নানা রকম মাছের জাত ও উন্নয়ন নিয়ে কাজ চলছে। সারা দেশে এ ধরনের উপকেন্দ্র রয়েছে পাঁচটি। এর মধ্যে সৈয়দপুর স্বাদু পানি উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা বিপন্ন প্রজাতির ট্যাংরা মাছের প্রজনন ও পোনা উৎপাদনে সফলতা দেখিয়েছেন। ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা খোন্দকার রশীদুল হাসানের নেতৃত্বে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মালিহা হোসেন ও শওকত আহম্মেদ এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। খোন্দকার রশীদুল হাসান জানান, ট্যাংরা মাছ খুবই সুস্বাদু ও পুষ্টিসমৃদ্ধ। কাঁটা কম থাকায় সবার প্রিয়। এপ্রিল থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত ট্যাংরা মাছের প্রজননকাল। এ সময় ৮-১০ গ্রাম ওজনের ট্যাংরা সংগ্রহ করে প্রস্তুতকৃত পুকুরে মজুত করে কৃত্রিম প্রজননের জন্য ব্রুড তৈরি করা হয়। হরমোন ইনজেকশন প্রয়োগের মাধ্যমে ডিম থেকে রেণু পোনা তৈরি করে ১০ দিনের মধ্যে পুকুরে ছাড়া হয়। রেণু পোনা ছাড়ার আগে পুকুর শুকিয়ে প্রথমে প্রতি শতাংশে এক কেজি হারে চুন প্রয়োগের পাঁচ দিন পর প্রতি শতাংশে ইউরিয়া ১০০ গ্রাম, টিএসপি ৭৫ গ্রাম ও গোবর চার কেজি ব্যবহার করা হয়। ব্রুড প্রতিপালন পুকুরের চারপাশে জালের বেষ্টনী দিয়ে ঘেরা দিতে হবে। সেই সঙ্গে নির্দেশিকামতো খাবার দেওয়া এবং যত্ন নিতে হয়। পুকুরে ছাড়া ট্যাংরা ৮-১০ মাসের মধ্যে খাওয়ার উপযোগী হয়ে ওঠে। এখানে গুতুম মাছের একটি উন্নত জাত উদ্ভাবনের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি জানান।

    ট্যাংরা গবেষণা দলে থাকা বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মালিহা হোসেন বলেন, এই পদ্ধতিতে দ্রুত প্রজননের মাধ্যমে এই জনপ্রিয় মাছটি বিলুপ্তির কবল থেকে রক্ষা পাবে। আর অল্প সময়ে বৃদ্ধি পায় বলে চাষিরাও লাভবান হবেন।

    বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এই কেন্দ্রের উদ্ভাবিত ট্যাংরা মাছের কৃত্রিম প্রজনন, রেণু পোনা তৈরি ও লালনপালনের প্রযুক্তি মৎস্য মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। ফার্ম ম্যানেজারদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি দেশি জাতের এই ট্যাংরা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এতে মানুষ দেশি ট্যাংরা মাছের প্রকৃত স্বাদ পাবে।

    শুরু হবে পঞ্চম কৃষি শুমারি ৩৩৯ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব

  • Share The Gag
  • পঞ্চম কৃষি শুমারি, ৩৩৯ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব

    অর্থনীতিতে কৃষির অবদান খুঁজতে আগামী বছর কৃষি শুমারি করবে সরকার। প্রতি দশ বছর পরপর এই শুমারি করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো- কৃষি খাতে শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপ-খাতসমূহের খানা পর্যায়ে ও কৃষি খামারে সার্বিক তথ্য সংগ্রহ করা। এছাড়া পরিবার পর্যায়ে কৃষি খামারের সার্বিক তথ্য সংগ্রহ করে সংকলন ও প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ করা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এ শুমারি করে।

    বিবিএস সূত্র জানায়, কৃষি শুমারির লক্ষ্যে পরিকল্পনা কমিশনে ৩৩৮ কোটি ৯৮ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ব্যয় ধরে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি বছর থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ শুমারির কার্যক্রম চলবে। শুমারি প্রকল্প বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছর ৩১০ কোটি ৬ লাখ ৬৪ হাজার টাকা, ২০১৮-১৯ অর্থবছর ১৩ কোটি ৬১ লাখ ৮০ হাজার, ২০১৯-২০ অর্থবছর ৯ কোটি ৩৩ লাখ ৭৬ হাজার এবং ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ কোটি ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে।

    সর্বশেষ কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৮ সালে।

    সূত্র জানায়, বাংলাদেশে কৃষি একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। সরকারের নীতিনির্ধারণ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণে কৃষি জমির পরিমাণ, জমির ব্যবহার, কৃষক, শস্য উৎপাদন, মৎস্য উৎপাদন এবং প্রাণিসম্পদ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা প্রধানত কৃষি শুমারির মাধ্যমেই পাওয়া যায়।

    স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত চারটি কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এগুলো ১৯৭৭ সালে প্রথম, ১৯৮৩-৮৪ সালে দ্বিতীয়, ১৯৯৬ সালে তৃতীয় এবং ২০০৮ সালে চতুর্থ কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় পরিসংখ্যান আইন ২০১৩-তে আদম শুমারি ও অর্থনৈতিক শুমারির পাশাপাশি কৃষি শুমারি অনুষ্ঠানের বিষয় উল্লেখ রয়েছে।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রণীত ধারণা পদ্ধতি অনুসরণ করে সদস্য দেশসমূহে পাঁচ বা ১০ বছর অন্তর কৃষি শুমারি পরিচালনা করা হয়। এজন্য ১০ বছরের মাথায় পঞ্চম কৃষি শুমারি পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ শুমারি পরিচালনা করতে দুই হাজার ছয়শ’ মাস্টার ট্রেইনার ও জোনাল কর্মকর্তা, ২৪ হাজার সাতশ’ সুপারভাইজার ও দেড় লাখ গণনাকারী কাজ করবেন।

    গৃহীত কৃষি (শস্য, মৎস্য ও প্রাণসিম্পদ) শুমারি-২০১৮ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি খাতের উপ-খাতসমূহের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান, আন্তঃশুমারির সময়ে কৃষি খাতের বার্ষিক উৎপাদন প্রাক্কলন সম্পর্তিক জরিপ পরিচালনার ক্ষেত্রে নমুনা প্রণয়নে সহায়তা ও নির্ণয়, কৃষি উপ-খাতসমূহের সঙ্গে জড়িত ক্ষুদ্র, মাঝারি, প্রান্তিক চার্ষীদের ও পল্লী উন্নয়নে সরকারি কর্মসূচি গ্রহণে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ, প্রশাসনিক বিভাগ, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও মৌজা পর্যায়ে কৃষি উপ-খাতসমূহের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।

     

    Wednesday, July 12, 2017

    মালিকের কাছে এসএমএস পাঠাতে পারে গরুও

  • Share The Gag
  • মালিকের কাছে এসএমএস পাঠাতে পারে গরুও

    জার্মানির লোয়ার স্যাক্সনি রাজ্যের একটা পশু খামার৷ সেখানে কৃষক ভেস্টরুপের মোবাইল ফোনটি একটু পর পরই বেজে উঠছে৷ এতে অবশ্য বিরক্ত নন তিনি৷ বরং খামারের পশুদের হালনাগাদ বিষয়ক তথ্য মোবাইলে পাওয়ায় সন্তুষ্টই তিনি৷
    উলরিশ ভেস্টরুপের মোবাইলে বারাবার রিং বাজার কারণ আসলে একটি প্রযুক্তি পণ্য৷ নিরিহ পশুগুলো জানেই না যে, এই বিশ্বস্ত মালিকটি আসলে তাদের উপর গোয়েন্দাগিরি করছেন৷ খামারে কি ঘটছে মুহূর্তের মধ্যেই সেটা জেনে যাচ্ছেন মালিক৷
    অনেকে পছন্দ না করলেও, ভেস্টরুপ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গবাদি পশুর খবরাখবর রাখার পক্ষে৷ তিনি বলেন, ‘‘যন্ত্রটি গরুর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি, তাদের গতিবিধিও পরিমাপ করতে পারে ৷''

    তবে গাভির অনেক আচরণের মধ্যে একটি বিশেষ দিকেই ভেস্টরুপের আগ্রহ বেশি৷ মাসে মাত্র একবার গর্ভধারণের উপযুক্ত ঋতুকাল পার করে তারা৷ ভেস্টরুপ বলেন, ‘‘পশুগুলি কোনো অস্বাভাবিক আচরণ করলে সেন্সর তা রেকর্ড করে৷ একটি পশু অপর একটি পশুর উপরে মাথা এলিয়ে দিলে বা অন্যের উপর উঠতে চেষ্টা করলে, বুঝতে হবে যে সে উত্তেজিত৷ কম্পিউটার তখন একে গর্ভধারণের ইঙ্গিত মনে করে৷ সঙ্গে সঙ্গে সেই তথ্য পৌঁছে যায় আমার মোবাইলে ৷''

    মাঝে অবশ্য আরেকটি পর্যায় রয়েছে৷ গরুর গলায় থাকা সেন্সর থেকে তথ্য প্রথমে চলে যায় ফ্রান্সের পর্যবেক্ষণ সংস্থা মেদ্রিয়া-য়৷ এরপর জার্মান টেলিকমের মাধ্যমে এসএমএস আকারে তা পৌঁছায় ভেস্টরুপের মতো কৃষকের কাছে ৷

    ভেস্টরুপের কাছে ষাড়ের হিমায়িত শুক্রাণু রয়েছে৷ এগুলো বেশ দামি৷ কোনো গরু গর্ভধারণের জন্য তৈরি হলে একটি নলের সাহায্যে গরুর দেহে শুক্রাণু প্রবেশ করিয়ে দেন তিনি ৷

    গবাদি পশুর উপর নজর রাখার এই প্রযুক্তি সস্তা নয়৷ একমাত্র যাঁদের একশো'র বেশি পশু রয়েছে, তাঁরা এটি ব্যবহারের সক্ষমতা রাখেন৷ ভেস্টরুপের পশুর সংখ্যা প্রায় ছয়শো৷ তিনি তাঁদের গর্ভকাল পর্যবেক্ষণে সেন্সরের সহায়তা নিতে এক বছরে খরচ করেছেন বিশ হাজার ইউরোর মতো৷ তবে এই বিনিয়োগের সুফলও আসতে শুরু করেছে ৷

    এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন

  • Share The Gag
  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী-২০১৭ পালিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আমনুরা সংলগ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে এই কর্মসূচী পালিত হয়।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এবিএম রাশেদুল হাসান একটি মেহগনী গাছের চারা রোপনের মাধ্যমে কর্মসূচীর শুভ উদ্বোধন করেন।

    এ সময় উপাচার্য পরিবেশ বিপর্যয় রক্ষায় সকলকে গাছ লাগানোর প্রতি যত্নবান হওয়ার আহবান জানান।

    কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ট্রেজারার শাহরিয়ার কবির, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মকবুল হোসেন, প্রভোস্ট ড.সাহেব আলীসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ।

    মঠবাড়িয়ায় উন্নত জাতের নারিকেল চারা সম্প্রসারণ কর্মসূচি

  • Share The Gag
  • পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় উন্নত খাটো জাতের নারিকেল গাছের চারা সম্প্রসারণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উদ্যোগে খাটো জাতের নারিকেল চারা সম্প্রসারণ কর্মসূচির আওতায় আজ মঙ্গলবার কৃষকদের মাঝে ৫৮৫টি ভিয়েতনাম থেকে সংগৃহিত দুইটি উন্নত জাতের নারিকেল চারা বিক্রয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা কৃষি ভবনের কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিকুর রহমান বাদশা।

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফরিদ উদ্দিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, মঠবাড়িয়া প্রেসক্লাব সভাপতি আবদুস সালাম আজাদী, সাধারণ সম্পাদক মো. জিল্লুর রহমান, সাংবাদিক মিজানুর রহমান মিজু ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার কর্মকার প্রমূখ।

    সবশেষে ২৫০ জন কৃষকের মাঝে ৮৮৫টি ভিয়েতনাম থেকে সংগৃহিত সিয়াম গ্রীণ ও সিয়াম ব্লু জাতের নারিকেল চারা বিক্রয় করা হয়। এছাড়া নারিকেল চারা রোপন ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে একটি সহায়ক পুস্তিকা ও বিনামূল্যে সার বিতরণ করা হয়।

    উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ভিয়েতনাম থেকে সংগৃহিত উন্নত দুইটি নারিকেলের জাত সিয়াম গ্রীণ ও সিয়াম ব্লু খাটো জাতের নারিকেল গাছ। এ নারিকেল চারা রোপনের তিন বছরের মধ্যে ফলন ধরে। ডাব হিসেবে এ নারিকেল অত্যন্ত সমাদৃত। এ ডাবের পানি সুমিষ্ট ও সুস্বাদু। গাছ খাটো আকারে বেঁচে থাকে। বিদেশে রপ্তানিযোগ্য এ নারিকেল জাতের চারা আবাদে স্থানীয় কৃষকের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

    সূত্র- কালেরকন্ঠ

     

    বগুড়ায় বড় হচ্ছে পুরনো কৃষি যন্ত্রাংশের বাজার

  • Share The Gag
  • বগুড়ায় বিসিক শিল্পনগরীসহ বিভিন্ন স্থানে কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরির সাত শতাধিক কারখানা রয়েছে। উত্তরাঞ্চলের এ প্রাণকেন্দ্র কৃষি যন্ত্রপাতি শিল্পে নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছে বলা হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উতরে যেতে না পারায় এ শহরেই বড় হচ্ছে পুরনো যন্ত্রপাতির বাজার। স্থানীয়ভাবে প্রস্তুতকৃত যন্ত্রপাতিতে ভরসা পাচ্ছেন না কৃষকরা। তারা কিনছেন ব্যবহারের ফলে বিকল বিদেশী যন্ত্রের সচল যন্ত্রাংশ।

    সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শাপলা সুপার মার্কেট, রেলওয়ে হকার্স মার্কেট, গোহাইল রোড, বিআরটিসি মার্কেট এলাকায় বিকল হয়ে যাওয়া পাওয়ার টিলার, শ্যালো মেশিন ও জেনারেটর কেনাবেচা হচ্ছে। পুরনো যন্ত্রাংশের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। কমপক্ষে ১০টি জেলায় এসব যন্ত্রাংশ বিক্রি হয়। এখানে গড়ে উঠেছে পুরনো যন্ত্রাংশের এক বিশাল বাজার।

    ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অচল পাওয়ার টিলার বিক্রি হয় ১৮ থেকে ২২ হাজার টাকায়। যেখানে নতুনের দাম ৯০ হাজার থেকে লক্ষাধিক টাকা। শ্যালো মেশিন ও জেনারেটর বিক্রি হয় ক্ষমতার ভিত্তিতে। তবে বেশি বিক্রি হয় পাওয়ার টিলার ও শ্যালো মেশিনের যন্ত্রাংশ। উত্তরের ১৬টি জেলার পাশাপাশি ঢাকার ধোলাইখাল, চট্টগ্রাম বন্দর এবং যশোর থেকেও সংগ্রহ করা হয় এসব পুরনো মেশিন।

    পুরনো যন্ত্রাংশ বিক্রির কমপক্ষে ২০০ দোকান রয়েছে বগুড়ায়। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিটি দোকানে দৈনিক গড়ে ৫ হাজার টাকার যন্ত্রাংশ বিক্রি হয়। অচল মেশিনের যন্ত্রাংশগুলো তারা আলাদা করে বাজারমূল্যের প্রায় অর্ধেক দামে বিক্রি করেন। ১৮ থেকে ২২ হাজার টাকায় পাওয়ার টিলার কিনে তারা আলাদা যন্ত্রাংশ বিক্রি করেন সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার টাকায়। একটি সিডি ফোর শ্যালো মেশিন পুরনো কেনা হয় ৪ হাজার টাকায় আর সেটির যন্ত্রাংশ বিক্রি হয় ৮-৯ হাজার টাকায়। তিন অশ্বশক্তির শ্যালো মেশিন কেনা হয় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। এর যন্ত্রাংশগুলো আলাদা করে বিক্রি হয় ৩-৪ হাজার টাকায়।
    ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একেকটি দোকানে ১০-১২ লাখ টাকার পুরনো যন্ত্রাংশ রয়েছে। এসব দোকানে পাওয়ার টিলারের পুরনো ফাল শেফট ১ হাজার ৫০০ টাকায় পাওয়া যায়, যেখানে নতুনের দাম ২ হাজার ৫০০ টাকার বেশি। লোহার চাকা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা আর নতুন কিনতে গেলে ৩ হাজার টাকার বেশি লাগে। কাউন্টার পিনিয়াম ১ হাজার ১০০ আর নতুন প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা; বিট টায়ার ৫ হাজার, নতুন কিনতে গেলে দাম পড়বে সাড়ে ৬ হাজার টাকা।

    এছাড়া পুরনো একটি গিয়ারবক্স বিক্রি হয় ২ হাজার ৮০০ টাকা, নতুন কিনতে লাগে ৪ হাজার ৬০০ টাকা। পাওয়ার টিলারের একটি যন্ত্রাংশ ড্যানিশ বোর্ড পুরনোর ৮০০ আর নতুনের দাম পড়ে ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা।

    এসব যন্ত্রাংশ বগুড়ার কারখানাগুলোয়ও তৈরি হয়। তার পরও কেন মানুষ পুরনো জিনিস কিনছে, এর জবাবে ব্যবসায়ীরা বলেন, কিছু পার্টস লোকাল মেড হয়ে থাকে। কিন্তু পুরনো পার্টস আমদানি করা মেশিনের; ফলে নকল হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। আর বিদেশী জিনিসের মান ভালো, দীর্ঘস্থায়ী, দামও কম। শহরের শাপলা সুপার মার্কেটের মুন্না মেশিনারিজের জাহাঙ্গীর আলম জানান, পাওয়ার টিলার নতুনের দাম বেশি। এর কোনো পার্টস নষ্ট হয়ে গেলে সহজে পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলেও আসল যন্ত্রাংশের মতো হয় না। কৃষকরা পাওয়ার টিলার নিয়ে ঝামেলায় পড়ে যান। সে কারণেই বগুড়ার এ পুরনো যন্ত্রাংশের চাহিদা বাড়ছে।

    সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়ন থেকে পাওয়ার টিলারের চাকা কিনতে আসা মুকুল জানান, বাজারে নতুন টায়ার পাওয়া যাবে। কিন্তু পুরনো টায়ার দীর্ঘস্থায়ী হয়। তাছাড়া পুরনো টায়ারে প্রায় ২ হাজার টাকা সেভ হবে। সার্ভিসও ভালো।

    এদিকে নতুনের পাশাপাশি সেকেন্ডহ্যান্ড যন্ত্রাংশের বাজারও যে দিন দিন বড় হচ্ছে, তা বোঝা গেল বগুড়ার পুরনো যন্ত্রাংশের বিক্রেতা ফরহাদ হোসেনের কথায়। তিনি জানান, প্রতিদিন দোকানে গড়ে ১০ হাজার টাকার বেশি বিক্রি হয়ে থাকে। শাপলা সুপার মার্কেটের শামীম মেশিনারিজ প্রোপ্রাইটর শহীদুল হক খন্দকার শামীম জানান, বাংলাদেশ এগ্রিকালচার মেশিনারি মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বগুড়া জেলা শাখার প্রায় ৩৫০ সদস্য রয়েছে। এর মধ্যে পুরনো কৃষি যন্ত্রাংশ বিক্রেতা রয়েছে প্রায় ২০০টি। তার হিসাব মতে, প্রতিদিন এখানে কয়েক লাখ টাকার পুরনো যন্ত্রাংশ বিক্রি হয়।
    বাংলাদেশ এগ্রিকালচার মেশিনারি মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বগুড়া জেলা শাখার উপদেষ্টা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আযম টিকুল জানান, পুরনো যন্ত্রাংশের বাজারে কৃষিকাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে এমন মেশিনের যন্ত্রাংশের চাহিদা বেশি। এতে কৃষকদেরও সাশ্রয় হচ্ছে।

    সূত্র- বনিকবার্তা