বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ফার্ম মেশিনারী এন্ড পোষ্ট হারেভষ্ট টেকনোলজি (এফএমপিএইচটি) বিভাগ একটি হস্তচালিত গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ যন্ত্র উদ্ভাবন করেছে যার মাধ্যমে একজন শ্রমিক প্রতি ঘন্টায় একবিঘা জমিতে গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ করতে পারে। প্রচলিত পদ্ধতিতে একজন শ্রমিক সারাদিনে দক্ষতাভেদে ২০-৩০ শতাংশ জমিতে গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ করতে পারে। সুতরাং প্রচলিত পদ্�..
Sunday, July 23, 2017
Wednesday, July 19, 2017
দেশি জাতের ব্রয়লার মুরগি উদ্ভাবন
পোলট্রি শিল্পের মুমূর্ষু অবস্থায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণায় নতুন আলোর সন্ধান দিয়েছেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা দেশে এই প্রথম দেশি আবহাওয়া উপযোগী দেশীয় জার্মপ্লাজম ব্যবহার করে ব্রয়লার মুরগির উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছেন। নতুন এ জাতটি অতিসত্বর বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যাবে, এতে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে বলে আশা করছেন পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আশরাফ আলী। পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের গবেষকরা বাউ-ব্রো হোয়াইট ও বাউ-ব্রো কালার নামে ব্রয়লারের দুটি উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছেন। বাংলাদেশে প্রথম দেশি মুরগির স্বাদ পাওয়া যাবে ব্রয়লার এই জাতের মুরগিতে।তিনি আরও বলেন, বিদেশি আবহাওয়া উপযোগী ব্রয়লার এ দেশে এনে বাজারজাত করায় সাম্প্রতিক সময়ে নতুন নতুন রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পোলট্রি খাত। তার গবেষণার ফল পোলট্রি শিল্পে ব্যবহারের মাধ্যমে এ সমস্যার উত্তরণ সম্ভব। অধ্যাপক ড. মোঃ আশরাফ আলী বলেন, বর্তমানে তার গবেষণায় প্রাপ্ত ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা ৬ সপ্তাহে ওজন হচ্ছে ১১০০ গ্রাম। বাচ্চার ওজন আরও ২০০ গ্রাম বৃদ্ধি করা গেলেই নতুন জাতটি বাজারজাতের জন্য পাঠানো হবে।গবেষকরা আরও জানান, ব্রয়লারের বাচ্চা উৎপাদনে আমাদের নিজস্ব কোনো প্যারেন্ট স্টক না থাকায় বাইরের দেশ থেকে প্যারেন্ট স্টক আমদানিতে প্রতি বছর ব্যয় হয় প্রায় ৯০ কোটি টাকা। দেশীয় মুরগির জার্মপ্লাজম ও প্রচলিত উন্নত জাতের সিনথেটিক ব্রয়লারের সমন্বয়ে উদ্ভাবিত নতুন ব্রয়লার দুটি দেশে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করলে আমদানি খরচ সাশ্রয় হবে। এছাড়াও নতুন জাতগুলোর রোগবালাই ও মৃত্যুহার কম হওয়ায় দেশীয় লালন-পালন ব্যবস্থাপনায় কম খরচে বিদেশে সিনথেটিক ব্রয়লারের মতোই উৎপাদন পাওয়া সম্ভব।বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) এসপিজিআর প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পরিচালিত ‘দেশে প্রাপ্ত মুরগির জার্মপ্লাজম ব্যবহার করে ব্রয়লারের প্যারেন্ট স্টক উদ্ভাবন’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে চার বছর গবেষণা শেষে বাউ-ব্রো হোয়াইট ও বাউ-ব্রো কালার নামে ব্রয়লারের জাত দুটি উদ্ভাবনে সফলতা পান গবেষকরা।অপরদিকে মৃত্যু হার কম, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি এবং লালন-পালন ব্যবস্থাপনা প্রচলিত ব্রয়লারের চেয়ে সহজ ও সাশ্রয়ী। ফলে উৎপাদনে লাভজনক।উপযোগী করে তৈরি হওয়ায় দেশীয় আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সমস্যা হয়। ফলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের মধ্যে বিশেষ লালন-পালন ব্যবস্থাপনায় ওইসব প্যারেন্ট স্টককে লালন-পালন করায় উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায়। ফলে বাচ্চার দাম তুলনামূলক বেশি। অপরদিকে ওইসব স্টকের রোগবালাই বেশি এবং বাইরে থেকে আনার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন নতুন নতুন রোগের জীবাণু দেশে বহন করে নিয়ে আসে। যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জ (বার্ড ফ্লু)।অন্যদিকে বাজারে প্রচলিত ওইসব ব্রয়লারের মাংস অত্যধিক নরম ও দেশীয় মুরগির মতো সুস্বাদু না হওয়ায় অনেকে পছন্দ করেন না। এসব বিষয় বিবেচনা করে আমাদের নিজস্ব ব্রয়লারের প্যারেন্ট স্টক তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে চার বছর দেশীয় মুরগির জার্মপ্লাজম ও প্রচলিত উন্নত জাতের সিনথেটিক ব্রয়লারের মোরগ-মুরগি থেকে ক্রমান্বয়ে গুণগত বাছাই ও প্রজননের মাধ্যমে নতুন দুটি ব্রয়লারের প্যারেন্ট স্টক অর্থাৎ জাত উদ্ভাবনে সফল হয়েছি। যার উৎপাদন ক্ষমতা দেশের বাইরে থেকে আমদানিকৃত অন্যান্য উন্নতমানের ব্রয়লার প্যারেন্টের সমকক্ষ।তিনি আরও বলেন, ‘মজার বিষয় হলো উদ্ভাবিত প্যারেন্ট স্টকগুলো দেশে প্রচলিত মুরগির ঘরেই লালন-পালন করে কাক্সিক্ষত উৎপাদন পাওয়া যাবে। কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ঘরের প্রয়োজন নেই। সেইসঙ্গে প্রয়োজন নেই কোনো ব্যয়বহুল টিকাদান কর্মসূচির। অন্যদিকে প্রচলিত ব্রয়লারের মতোই আমাদের উদ্ভাবিত ব্রয়লার ৫ সপ্তাহে দেড় কেজি ওজনের হয়ে থাকে। তবে নতুন ব্রয়লারগুলোর মৃত্যু হার কম, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও ড্রেসিং (জীবন্ত ওজন থেকে মাংসের শতাংশ) শতাংশ বেশি প্রচলিত ব্রয়লার থেকে।’গবেষণার সহযোগী গবেষক ড. বজলুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘আমাদের দেশে অধিকাংশ ভোক্তাই বাজারে গিয়ে রঙিন মুরগি অর্থাৎ দেশি মুরগি খুঁজে থাকেন। এ বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা দুই ধরনের মাংস উৎপাদনকারী (ব্রয়লার) মুরগির জাত উদ্ভাবন করেছি। দেশীয় মুরগি ও বাজারে প্রচলিত উন্নতমানের সিনথেটিক ব্রয়লারের সঙ্গে মিল রেখেই জাত দুটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। বাউ-ব্রো কালার মুরগির মাংস অনেকটা দেশি মুরগির মতো শক্ত প্রকৃতির এবং স্বাদের। অন্যদিকে বাউ-ব্রো হোয়াইটেরও মাংস প্রচলিত ব্রয়লারের মাংস থেকে তুলনামূলক শক্ত এবং সুস্বাদু। তবে নতুন উদ্ভাবিত ব্রয়লার ও প্রচলিত ব্রয়লারের মাংসের পুষ্টিমানের কোনো পার্থক্য নেই। বর্তমানে ব্রয়লারের জাত দুটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত। বাজারে প্রচলিত ব্রয়লারের বাচ্চার চেয়ে কম দামে উদ্ভাবিত ব্রয়লারের বাচ্চা খামারিদের হাতে পৌঁছে দেয়া সম্ভব।’ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পশুপালন অনুষদে ‘দেশীয় জার্মপ্লাজম ব্যবহার করে ব্রয়লার মুরগির উন্নত জাত উদ্ভাবন’ শীর্ষক সেমিনারে ওইসব কথা বলেন পোলট্রি বিশেষজ্ঞরা। দেশীয় জাতের ব্রয়লার উদ্ভাবনে এটিই প্রথম গবেষণা বলে দাবি করেছেন গবেষকরা। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) অর্থায়নে পরিচালিত দেশে প্রথমবারের মতো দেশীয় জার্মপ্লাজম ব্যবহার করে ব্রয়লারের উন্নত জাত উদ্ভাবন প্রকল্পের প্রধান গবেষক ও পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আশরাফ আলীর নেতৃত্বে একটি গবেষণা টিম কাজ করছেন। এ টিমে আরও গবেষণা করছেন প্রকল্পের সহযোগী গবেষক ও সহযোগী অধ্যাপক ড. বজলুর রহমান মোল্লা এবং পিএইচডি ফেলো গোলাম আজম। বর্তমান সময়ে মানুষের আমিষের চাহিদার বিশাল অংশ পূরণ করে আসছে ব্রয়লারের মাংস। সহজলভ্য ও অন্য প্রাণিজ মাংসের তুলনায় দামে সস্তা হওয়ায় সব পেশার মানুষ ব্রয়লারের মাংস খেতে পাচ্ছেন। কিন্তু ব্রয়লার শিল্পে বাচ্চা থেকে শুরু করে খাবার পর্যন্ত, সবই আমদানিনির্ভর হওয়ায় দিন দিন এর উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। |
দেশি মুরগি নিয়ে গবেষণা ও "হাজল” পদ্ধতিতে দেশি মুরগির উৎপাদন
দেশি মুরগি নিয়ে গবেষণা:
নওগাঁ জেলার ১১টি উপজেলা চষে বেড়িয়েছেন তিনি বছরের পর বছর। প্রত্যন্ত পল্লীর আনাচে-কানাচে চলছিল তার অনুসন্ধান। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে তিনি পেয়ে যান তার কাক্সিক্ষত মোরগটি এক আদিবাসীর বাড়িতে। এর প্রায় ১ মাস পর নওগাঁ শহরের পৌর মুরগি বাজারে বাজার করতে গিয়ে পেয়ে গেলেন আরও একটি মুরগি। নওগাঁ শহরের পার নওগাঁর মুরাদ আলী তার ছোট্ট খামারে গবেষণা শুরু করেন সেই মোরগ-মুরগি দুটি নিয়ে।মুরাদ আলী জানান, মার্চে আমার সংগৃহীত মুরগিটি ডিম দিতে শুরু করে। মুরগিটি ১৩টি ডিম দেয়ার পর তার সঙ্গী মোরগটি হঠাৎ মারা যায়। আমার উদ্দেশ্য ছিল আমাদের দেশি জাতের প্রাচীন প্রজাতির উন্নত মোরগ-মুরগি সংগ্রহ করে মোরগ-মুরগির একটি উৎপাদনশীল জাত সৃষ্টি করা। সে লক্ষ্যেই আমি কাজ শুরু করি। কেননা ডিম ও বাচ্চা উৎপাদনে আমাদের দেশি জাতের মুরগি লাভজনক নয়। ফলে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছিল মানুষ। আজ হারিয়ে যেতে বসেছে দেশি মোরগ-মুরগি। তবে ওই ১৩টি ডিম নিয়ে পড়লাম মহাবিপাকে। মুরগিটি উম ধরছে না। আবার ডিমও দিচ্ছে। ডিমে তা দেবে কে? মাত্র ১৩টি ডিম কোনো ইনকিউবেটর মালিক ফুটিয়ে দিতে রাজি হচ্ছিলেন না। অবশেষে আনিসুর রহমান তার ইনকিউবেটরে ডিম ফুটিয়ে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করলেন।
গত মার্চ মাসের ১৮ তারিখে ১৩টি ডিম থেকেই মিশমিশে কালো রঙের ১৩টি বাচ্চা ফুটল। এর মধ্যে ৫টি মোরগ ও ৮টি মুরগি। জন্মের কিছুদিন পর একটি মোরগ মারা যায়। বাচ্চাগুলোর খাঁচার ভেতরেই শারীরিক বিকাশ হতে থাকে। ৭৫ দিন বয়সে বাচ্চাগুলোর শারীরিক বিকাশ লক্ষণীয় পর্যায়ে পৌঁছে। নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ৯০ দিনের মাথায় দেখা গেল বাচ্চাগুলোর দ্রুত শারীরিক পরিবর্তন ও প্রজননক্ষম মোরগ-মুরগির ন্যায় দেহাবয়ব লাভ করেছে। ১১৫ দিনের মাথায় আমার সহযোগী আলি হাসান খাঁচায় খাবার দিতে গিয়ে দেখেন খাঁচার ভেতরে ডিম। ১২৫ দিনের মাথায় ৮টি মুরগিই ডিম দিতে শুরু করেছে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে। বর্তমানে মোরগগুলোর ওজন ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম আর মুরগিগুলোর ওজন ৬৫০ থেকে ৭০০ গ্রাম। প্রতিদিন খাবার গ্রহণের মাত্রও কম, মাত্র ৪৫ গ্রাম। বিদেশি উন্নত প্রজাতির মুরগিগুলো সাড়ে ৫ মাসে যেখানে ডিম দিতে শুরু করে সেখানে এ মুরগিগুলো ডিম দিতে শুরু করেছে মাত্র ৩ মাস ২৫ দিনে। দেশি মুরগি ১৩-১৫টি ডিম দেয়ার পর উম ধরে। কিন্তু এ মুরগিগুলোর সে লক্ষণ নেই। আর উন্মুক্ত স্থান প্রয়োজন হবে না দেশি মুরগি পালনের জন্য। এখন থেকে খাঁচায় বা খামারে পালন করা সম্ভব। ডিমের ওজন ২৭ থেকে ২৮ গ্রাম। তবে মুরগির বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে ডিমের ওজন বাড়ছে।
প্রতিবেশী মানিক জানান, মুরাদের ওই গবেষণা ছিল মূলত দেশি জাতের মুরগি বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা। আমার মনে হয় তিনি তা করতে পারবেন। তার গবেষণায় সেই সফলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ওই মহল্লার হাসান জামান সিদ্দিক বলেন, মুরাদের ওই খামারটি আমি দেখেছি। আমি আনন্দিত তার ধৈর্যের সফলতা দেখে। এবার মুরগিগুলোর ডিম থেকে যে বাচ্চা উৎপাদিত হবে তার মান আরও উন্নত হবে। এ ছাড়াও মোরগ-মুরগিগুলো দেখতেও ভালো লাগে।
খামারের মুরগির মাঝে দেশি মুরগির ঝগড়াটে স্বভাব আমি দেখেছি। আমি জেদ ধরে মুরাদের কাছ থেকে একটি ডিম নিয়েছিলাম। ডিমটি ভেজে খেয়ে মনে হয়েছে একবারেই সেই দেশি মুগির ডিমের স্বাদ। প্রতিবেশী কামরুজ্জামান কামাল জানান, মুরাদ আলী অনেক দিন থেকেই তার চেষ্টার কথা বলছিলেন। অবশেষে তার সফলতা এখন ছড়িয়ে দেয়ার সময়ের অপেক্ষা মাত্র। আশা করছি তার এই সফলতার মাধ্যমে আমরা দেশি প্রজাতির মোরগ-মুরগি রক্ষা করতে পারব। নওগাঁ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এসএম মাহবুবুর রহমান বলেন, মুরাদ আলীর সংগৃহীত মুরগি থেকে যে পরিমাণ নিরবচ্ছিন্নভাবে ডিম পাওয়া যাচ্ছে তা অত্যন্ত আশাপ্রদ। মুরগিগুলোর খাবার গ্রহণও কম। আমি মনে করি আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলে যদি এ প্রজাতির দেশি মুরগি ছড়িয়ে দিতে পারি তা হলে গ্রামের মানুষ আর্থিকভাবে লাভবান হবে এবং আমিষের চাহিদা পূরণ হবে। বিষয়টি আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তদের জানাব।
দেশি মোরগের ক্রসজাত বন্য মোরগ:
মুরগি গৃহপালিত পাখিদের মধ্যে অন্যতম। এর মাংস ও ডিম প্রোটিনের অন্যতম উৎস। এরা ১০-১২ ফুটের বেশি উড়তে পারেনা। একবারে ১২-২০ টি ডিম পাড়ে ও তা দিয়ে বাচ্চা ফুটায়। ২০০৩ সালের হিসাবে সারা পৃথিবীতে ২৪ বিলিয়ন তথা ২৪০০ কোটি মুরগি ছিলো। অন্য সব পাখির চাইতে মুরগির সংখ্যা বেশি।এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার মতে বন্য মুরগিকে পোষ মানিয়ে গৃহপালিত করার কাজটা প্রথম হয়েছিল ভারতীয় উপমহাদেশে। তবে শুরুতে তা করা হয়েছিলো খাদ্যের জন্য না, বরং মোরগ লড়াই এর জন্য। ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে মুরগিপালন ছড়িয়ে পড়েছে পশ্চিম এশিয়ার পারস্য রাজ্য লিভিয়াতে। খ্রিস্টপূর্ব ৫ম শতকে গ্রিসে সেখান থেকে মুরগি আমদানি করা হয়। মিশরে মুরগিপালন শুরু হয় সেখানকার ১৮শ রাজবংশের সময়কালে, আর ৩য় তুতমোসের সময়ের ইতিহাস অনুসারে এই প্রথা এসেছিলো সিরিয়া ও ব্যাবিলন হয়ে।
লামায় বন্য মোরগের শংকরায়নে দেশি মোরগ বাজারজাত করে লাভবান হচ্ছেন স্থানীয়রা। মূলত: প্রাচীনকাল থেকে বন মোরগ পোষ মানিয়ে পালন করে আসছে মানুষ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই উপজেলা বন্য মোরগের সাথে গৃহপালিত মুরগীর ক্রস করে উৎপাদিত মোরগ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে অনেকে। বিগত দিন থেকে স্থানীয়রা পাহাড়ী বন্য মোরগের সাথে দেশি মুরগীর প্রজনন ঘটিয়ে এ জাতের মোরগ পালন করে তা বাজারজাত করে লাভবান হয়ে আসছে। বন্য মোরগের সাথে ক্রসে জম্মানো রাতা মোরগগুলো সাধারণত: দেশি রাতার চেয়ে রাগি ও চটপটে হয়। দেখতে একেবারে বন্য মোরগের মতই, চাকু দিয়ে মোরগের নকগুলোকে তীক্ষè দারালো করা হয়। ক্রসজাত হাইব্রিড প্রজাতি এসব মোরগ; লড়াইয়ের জন্য খুবই পারদর্শী। ফলে বিভিন্ন জেলার-শহরের লোকজন এসে এসব মোরগ কিনে নেয়। স্থানীয় জন প্রতিনিধি ও খামারীরা জানান, বন্য মোরগের শংকরায়নে এই জাতের মোরগ পালন; এলাকায় আয়বর্ধক সংস্থান হয়েছে। এই এলাকার বিভিন্ন গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে এই প্রজাতির মোরগ পালন করছেন স্থানীয়রা। লড়াইয়ের উপযুক্ত এসব ছোট জাতের রাতা অনেকটা বন মোরগের সাদৃশ্য হলেও মৌলিক বৈশিষ্টগত তফাৎ রয়েছে।
৪ নং ওয়ার্ড রাজবাড়ির বাসিন্দা পালিত বড়ুয়া, ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন, বিলছড়ির মিটু বড়ুয়া, মোহাম্মদ হোসাইন, নিরাপদ বড়ুয়া, মেরাখোলার বাসিন্দা মিস্টি ধন বড়ুয়া ও জাফর বৈদ্য জানান, এই পক্রিয়ায় তারা আর্থিক লাভবান হচ্ছে। অভিজ্ঞদের মতে; বন্য মোরগ সাধারণত মানুষ দেখলে উড়াল দেয়, খোলা-মেলা জায়গায় থাকেনা। কিন্তু ক্রসে জম্মানো মোরগ দেখতে বন্য মোরগেরমতো হলেও ভাবভঙ্গি দেশি মোরগের মত, তবে বেশি রাগি। উপজেলায় সম্ভাবনাময় এই পাখি সম্পদের সাথে জড়িতদেরকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এর সঠিক পরিচর্যা সম্পর্কে জ্ঞানদান করা দরকার।
হাজল” পদ্ধতিতে দেশি মুরগির উৎপাদন:
মায়ের হাতের দেশি মুরগি ও গরুর মাংসে মোস্তাফিজের ঈদ
পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনটি পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশিদের সঙ্গে উদযাপন করেছেন জাতীয় দলের পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার তারালি ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামে বাড়ির পাশে নবনির্মিত ঈদগাহে সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের নামাজ পড়েছেন ‘কাটার মাস্টার’।
বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে হাসিমুখে মোস্তাফিজ হাজির হন ঈদগাহে। নামাজ শেষে তিনি কোলাকুলি করেন সবার সঙ্গে। বিনিময় করেন কুশল। সেখানে মোস্তাফিজ বলেন, ‘ক্রিকেট নিয়ে ব্যস্ততার কারণে গ্রামের বাড়িতে আসার সুযোগ সব সময় হয়ে ওঠে না। আর ঈদের নামাজ পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে উদযাপন করা খুবই আনন্দের।’
দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে সবাইকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান বিস্ময় বোলার মোস্তাফিজ। তার বাবা আবুল কাসেম জানান, ‘ওর মায়ের হাতে রান্না দেশি মুরগি আর গরুর মাংস খুব পছন্দ করে মোস্তাফিজ।’
প্রসঙ্গত, গেল কিছুদিন ক্রিকেট নিয়ে বেশ ব্যস্ত ছিলেন মোস্তাফিজ। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) খেলে ভারত থেকে দেশে ফেরার পর তিনি উড়ে যান আয়ারল্যান্ডে। ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলতে। এরপর খেলছেন আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। তবে সেখানে 'দ্য ফিজ' খ্যাত মোস্তাফিজ প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেননি।
Tuesday, July 18, 2017
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় চাষাবাদে ভাগ্য বদল
‘মাছে ভাতে বাঙ্গালি’ এই প্রবাদটি হাজার বছরের। আর এই মাছ ভাতের যোগান আসে আমাদের কৃষি থেকেই। দিন যত যাচ্ছে ততটাই ভোগবাদী মানুষের চাহিদা বাড়ছে ক্রমাগত। বাড়ছে দেশের জনসংখ্যা, বাড়ছে খাদ্য চাহিদা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য দিন দিন কমছে আবাদি জমি। তবুও আমাদের এই ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যের চাহিদা মেটাচ্ছেন কৃষক। শুধু তাই নয়, চাহিদার উদ্বৃত্ত খাদ্য এখন বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। এর নেপথ্যে মূলত: দেশে চাষাবাদে আদিম প্রথার বদলে এখন ব্যবহার হচ্ছে ডিজিটাল প্রযুক্তি। এর ফলে কৃষিতে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। সেকেলের কাঠের লাঙ্গলের বদলে এখন ব্যবহার হচ্ছে ‘কলের লাঙল’ ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার প্রভৃতি। প্রযুক্তির ব্যবহারে ফলন বেড়েছে কয়েকগুণ। এ কারণে চাষাবাদে খরচ, শ্রম, সময় সবই কমেছে। আর বাড়ছে ফসল উৎপাদন, বদলাচ্ছে মানুষের ভাগ্যের চাকা, দেখা দিচ্ছে সৌভাগ্যের আলো। কৃষিতে সাম্প্রতিক বিপ্লব, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা বিশ্বখাদ্য সংস্থা এজন্য বাংলাদেশকে পুরস্কৃত করেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করর্পোরেশন সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এখন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৃষিকাজে সেকেলে যন্ত্রপাতির বদলে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। কেবল জমি চাষই নয়, জমিতে নিড়ানি, সার দেওয়া, কীটনাশক ছিটানো, ধান কাটা, মাড়াই, শুকানো ও ধান থেকে চালসহ সবই আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশের মোট আবাদি জমির ৯০ ভাগ চাষ হচ্ছে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে। যতদূর জানা যায়, চীনে ২০২ থেকে ২২০ খ্রিস্টাব্দে মানুষ প্রথম লাঙল ব্যবহার করে জমি চাষ শুরু হয়। কাঠ দিয়ে লাঙল তারাই প্রথম তৈরি করে। লাঙলের ফলা তৈরিতে ব্যবহার করে লৌহদণ্ড। জোয়াল তৈরিতে ব্যবহার করত কাঠ। সেই থেকে কৃষি প্রযুক্তিতে প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন কৌশল ও যন্ত্রপাতি, বালইনাশক, সার বীজ প্রভৃতি। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কৃষিতে যে বিপ্লব সাধিত হচ্ছে তা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তা আল্লাহ মুলুম। যাক এনিয়ে কিশোরগঞ্জের মরমি কাব, সাধক ও গীতিকার ইবনে সালেহ মুনতাসির রচিত কৃষিপ্রযুক্তি নিয়ে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ’ শীর্ষক লিরিকটি যথার্থ বলে মনে হয়। লিরিকটি হচ্ছে: মান্ধাতার আমলের কৃষি চাষাবাদ পদ্ধতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে/ গরুর লাঙ্গল জোয়াল টানার দিন অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে/ গরুর লাঙ্গল জোয়ালের পরিবর্তে আধুনিক যান্ত্রিক চাষাবাদ পদ্ধতি এসেছে/ দোন পদ্ধতিতে কুন উরির পরিবর্তে যান্ত্রিক সেচ পদ্ধতি অনেক আগেই এসেছে। প্রচলিত সাধারণ বীজের পরিবর্তে উফশী হাইব্রিড বীজ ব্যবহার করা হচ্ছে/খাদ্য উৎপাদন বহুগুণে বেড়েছে/ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পন্ন হয়েছে/ সার কীটনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে ফলন অনেক বেড়েছে সময় কম লাগছে/ খাদ্য উৎপাদন মজুদকরণ বাজারজাত করণে অনেক পরিবর্তন এসেছে। গ্রাম আজ আর গ্রাম নেই শহরে পরিণত হয়েছে/ উন্নত যোগযোগ ব্যবস্থায় গ্রামের আর্থসামাজিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন ঘটেছে/ আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি বিদ্যুৎ সৌর বিদ্যুৎ গ্রামে গ্রামে পৌঁছেছে/ ফ্রিজ টিভি ইন্টারনেটসহ আধুনিক সকল প্রকার উপকরণ গ্রামে ব্যবহার করছে।
বাংলাদেশ আজ বিশ্ব নেতৃত্বের কাতারে দাঁড়িয়েছে/ সম্মান আর মর্যাদার বিবেচনায় বিশেষায়িত হয়েছে/ সময়ের পালায় যুগ পরিবর্তনের ঠেলায় ঘুরে দাঁড়াতে শিখেছে/ পোশাক আর কৃষি শিল্পের উন্নয়নে বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বের রোল মডেল। বাংলাদেশের উন্নয়নের কাহিনিতো সাধারণের অসাধারণ গল্পের কাহিনী/ সারাবিশ্বের টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে রোল মডেলের যামিনী/ আধুনিক চিন্তাচেতনায় সক্ষমতায় কর্মসংস্থান পরিবেশ উন্নয়নের ক্ষেত্রে আদরিনী/সাবাস বাংলাদেশ এগিয়ে যাও বাংলাদেশ এগিয়ে যাবেই কামিনী। কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে আশির দশকের শুরুতে কৃষিতে ধীরে-ধীরে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার শুরু হয়।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিগত ৯/১০ বছর আগে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও কৃষি বিজ্ঞানীরা কৃষি যন্ত্রপাতি উদ্ভাবনের কাজ হাতে নেন। বর্তমানে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ ধরনের আধুনিক যন্ত্রপাতি কৃষিকাজে ব্যবহার হচ্ছে। লাগসই প্রযুক্তির সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে কৃষিতে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন সম্ভব। বর্তমানে দেশে যে সব কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার হচ্ছে তার অন্যতম হচ্ছে কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার। এ যন্ত্রের মাধ্যমে ফসল কাটা, খোসা হতে ফসলের দানা আলাদা করার কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া ছোট জমি চাষের জন্য পাওয়ার টিলার, বড় জমি চাষে ট্রাক্টর বা হুইল ট্রাক্টর, বীজ বপন, সার প্রয়োগ ও কীটনাশক ছিটানোর জন্য ব্রডকাস্ট সিডার, নির্দিষ্ট অবস্থানে বীজ বপনের জন্য সিড ড্রিল, গভীরভাবে কঠিন স্তরের মাটি কর্ষণের জন্য সাব ব্রয়লার, ধান/বীজ শুকানোর যন্ত্র ‘ড্রায়ার’, ধান, গম, ভুট্টা শুকানোর যন্ত্র ব্যাচ ড্রায়ার, পাওয়ার রিপার মেশিন (শস্য কাটার যন্ত্র), ঝাড়ার যন্ত্র ইউনারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি চাষাবাদে ব্যবহার হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাওয়ার টিলার, পাওয়ার রিপার, ঝাড়ার যন্ত্র ইউনার, নিড়ানির যন্ত্র ইউডার, ধান ও গম মাড়াই কল, ভুট্টা মাড়াই কল ইত্যাদি যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর, বগুড়া, রংপুর, যশোর, শেরপুরসহ দেশের বিভিন্নস্থানে সেচপাম্প, ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের খুচরা যন্ত্রপাতি তৈরির বেশকিছু কারখানা গড়ে উঠেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে রীতিমতো বিপ্লব ঘটেছে। চাষাবাদে কাঠের লাঙ্গলের ব্যবহার হয় না বললেই চলে। কৃষি কাজের মধ্যে সবচেয়ে শ্রমনির্ভর কাজ হচ্ছে বীজ বা চারা রোপণ, আগাছা দমন ও ফসল কাটা। মৌসুমের নির্দিষ্ট সময়ে বীজ বপন, চারা রোপণ এবং ফসল কেটে ঘরে তুলতে কৃষককে বেশ সংকটে পড়তে হয়। ওই সময়ে কৃষি শ্রমিকের মজুরি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। কখনো কখনো দ্বিগুণ মজুরি দিয়েও কৃষি শ্রমিক পাওয়া যায় না। ফলে বিলম্বে বীজ রোপণের জন্য ফলন কম হয়, পোকা-মাকড় ও রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ বৃদ্ধি পায়।
তিনি বলেন, কখনো কখনো বিলম্বে ফসল কাটা ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে উৎপাদিত শস্যের একটি বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া আগাম ফসল বিক্রি করতে না পারার কারণে প্রত্যাশিত মূল্য থেকেও কৃষক বঞ্চিত হন। এসব থেকে রক্ষা পেতেই কৃষি কাজে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে যেমন সময় কম লাগছে, তেমনি বেশি ফসলও উৎপাদন হচ্ছে। কৃষক দিয়ে এক বিঘা জমির ধান কাটাতে খরচ হয় তিন হাজার টাকা। আর ‘রিপার’ দিয়ে ধান কাটতে বিঘা প্রতি খরচ হয় মাত্র ৫০০ টাকা। সময়ও লাগে কম। গরু দিয়ে হালচাষ করতে বিঘা প্রতি খরচ হয় ৭০০ টাকা। আর পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ করতে খরচ হয় প্রতি বিঘায় ৪০০ টাকা। ট্রাক্টর দিয়ে হয় মাত্র ২৫০ টাকা। তাই তারা এসব আধুনিক যন্ত্র ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন। তবে এসব যন্ত্রপাতির দাম কমানো দরকার।
কৃষিবিজ্ঞানী ড. রাশিদ উল হক সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, দেশে প্রতি বছর গড়ে প্রায় চার কোটি টন খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয়। উৎপাদন থেকে বাজারজাত পর্যন্ত প্রায় ১৫ শতাংশ খাদ্যশস্য বিনষ্ট হয়, যার পরিমাণ ৪৩ লাখ টন। অথচ চাষাবাদে পুরোপুরি আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে এসব সমস্যা দূর করা সম্ভব বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মহাপরিচালক রফিকুল ইসলাম মণ্ডল এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরিতে ইনস্টিটিউটের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ প্রতিনিয়ত কাজ করছে। বারি উদ্ভাবিত ‘পাওয়ার টিলার অপারেটেড সিডার’-এর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এই যন্ত্রটি দিয়ে একইসাথে জমি চাষ, জমি লেভেল, সার ও বীজ দেয়া যায়। দিন দিন আমাদের জমি কমে যাচ্ছে, কিন্তু খাদ্যের চাহিদা বাড়ছে। তাই কৃষিতে বিপ্লব ঘটাতে চাষাবাদের সব পর্যায়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেন তিনি। তবে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কৃষিতে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ও উন্নতি সাধিত হয়েছে তার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দেশের তৃণমূলে এই খাতে জড়িত কৃষক, তরুণ উদ্যোক্তাদের এ প্রযুক্তি সম্পর্কে আপডেট ধারনা দেয়ার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে মাঠ পর্যায়ে সমন্বিত ভাবে কাজ করবেন। আর এর তদারকি করতে হবে কৃষি মন্ত্রণালয়সহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট উইংকে। এ ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠান কৃষকদের পাশে থেকে প্রযুক্তিগত ধারণা প্রদান, প্রশিক্ষণ, পরার্মশ ও কৌশলগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন এই প্রত্যাশা থাকল।
জুমে এবার সাথী ফসল হবে নতুন প্রযুক্তির ‘তুলা চাষ’
পাহাড়ে জুম চাষে ধানের সাথে উন্নত জাতের তুলা চাষের নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে কৃষি বিজ্ঞানিরা। এ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ করা গেলে দেশে তুলা উৎপাদনে বিরাট মাইল ফলক সূচিত হবে বলে মনে করছে কৃষি বিজ্ঞানিরা। পার্বত্য তিন জেলার পাহাড়ি টিলা ভূমির সনাতনী পদ্ধতির জুম চাষ। ঐতিহ্যবাহী এ চাষে একই জমিতে ফলানো হয় ধান, নানা জাতের সবজি এবং আদা হলুদ,তিলসহ হরেক রকম ফসল। এখন থেকে জুম চাষের উপযোগী জমিতে উন্নত জাতের তুলা চাষ করা সম্ভব। কৃষি বিভাগের হিসেব অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলায় ৫০ হাজার হেক্টর জুম চাষের উপযোগি জমি রয়েছে। এই জমিতে জুমিয়া (জুম চাষিদের) আত্ম নির্ভরশীলতার পাশাপাশি দেশে তুলা উৎপাদনে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। পরিদর্শন প্লটের তুলা চাষী জয়দেবী ত্রিপুরা জানান, আগে কার্পাস(জুম) তুলা চাষে করে ভালো ফলন হতোনা। কিন্তু উন্নত জাতের তুলা চাষে ফলন হয় ভালো। দামও অনেক বেশি। বাংলা কৃষি গবেষনা ফাউন্ডেশন (কেজিএফ)’র পৃষ্ঠপোষকতায় তুলা চাষে স্থানীয় জুম চাষিদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ে এর আগে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত তুলা দিয়ে স্থানীয়দের কাপড় পিনন,খাদি, গামছা তৈরির উপযোগি ছিল। এসব তুলা বিঘা প্রতি ৪৫ কেজি থেকে ৫০ কেজির বেশি উৎপাদন হতো না। কিন্তু তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নতুন হাইব্রিট আমেরিকান জাতের টেক্সটাইল তুলার উৎপাদন দ্বিগুণের চেয়ে বেশি। এ জাতের তুলা বিঘা প্রতি দে’শ থেকে দু’শ কেজি উৎপাদন হচ্ছে। আড়া আড়ি পদ্ধতিতে দুই লাইন ধানের পাশাপাশি এক লাইন তুলা পদ্ধতির চাষাবাদ মাটি ক্ষয় রোধসহ পরিবেশ সম্মত হওয়ায় জুম চাষিদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে উন্নত জাতের তুলা চাষের আওতায় আনা সম্ভব। জুমে উন্নত আমেরিকার জাতের তুলা চাষের সম্ভাবতা নিয়ে গত তিন বছর ধরে গবেষণা করে সফল হয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে তুলা উন্নয়ন বোর্ড গত তিন বছর ধরে পাহাড়ের জুম চাষে তুলা চাষের সম্ভাব্যতা নিয়ে গবেষণা করে সফলতা পেয়েছে। সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রনালয়ে ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা খাগড়াছড়ির বিভিন্ন স্থানে উন্নত জাতের তুলা গবেষণা প্লট পরিদর্শন করেন। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক ফরিদ উদ্দিন বলেন, পাহাড়ের মাটি খুবই উর্বর। এই মাটিতে নতুন উদ্ভাবিত তুলা চাষ সম্ভব। আমরা যদি এখানকার ৫০ হাজার হেক্টর জুম চাষের উপযোগি জমিতে উন্নত জাতের তুলা চাষ করতে পারি তাহলে দেশের ব্যাপক একটি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। আর অন্য ফসলের সাথে তুলা চাষ করে কৃষকদের আর্থিক উন্নয়ন ঘটানো যাবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হামিদুর রহমান জানান, পাহাড়ের মানুষগুলোর জীবনের প্রধান অবলম্বন জুম চাষ। জুমে উৎপাদিত কৃষি পণ্য খেয়ে তারা বেঁচে থাকেন। এই চাষের সাথে আয়বর্ধক দেশী তুলার সাথে উন্নত জাতের তুলা যদি সংযোজন করা যায় তাহলে জুম চাষীরা বেশি লাভবান হবেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব শ্যামল কান্তি ঘোষ জানান, জুমে পাহাড়ীরা ধানের সাথে বিভিন্ন ফসল চাষ করছে। এখন এই ফসলের সঙ্গী তুলা। জুম চাষিরা ধান কেটে ফেলার পরও উন্নত জাতের তুলা থেকে তারা অতিরিক্ত টাকা আয় করতে পারবেন। আর বাজারে এই তুলার মূল্য অনেক বেশি বলেও জানান তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে এ জাতের তুলা প্রান্তিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশের গার্মেন্টস শিল্পের সর্বোচ্চ আমদানি পণ্য কাঁচামাল সুতা উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য সম্ভব হবে।
কৃষিতে যান্ত্রিক প্রযুক্তি ব্যবহারে রংপুরে গমের ফলন বেড়েছে
রংপুর থেকে জয়নাল আবেদীন: কৃষি ক্ষেত্রে যান্ত্রিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুফল পেতে শুরু করেছে রংপুর অঞ্চলের কৃষকরা। যান্ত্রিক কৃষি উপকরণের ফলে সহজ হয়েছে চাষাবাদ। এই জেলায় ধান, চাল, পাটসহ গম চাষে কৃষকের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
গত বছর রংপুর জেলায় সাড়ে ৩হাজার হেক্টর জমিতে গমের চাষাবাদ হয়েছিল আর এ বছর ৪ হাজার হেক্টর জমিতে গম চাষাবাদ হয়েছে। কৃষি অধিদপ্তরের আবিস্কার কম্বাইন হারভেষ্টার মেশিন যা ধান ও গম কাটা এবং মাড়াই করে অল্প খরচে খুব সহজে। এসব বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গম চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছে রংপুর জেলার কৃষকরা। সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা ও গভীর নলকূপের মাধ্যমে যে বোরো চাষাবাদ করা হচ্ছে সেটিকে কমিয়ে যান্ত্রিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গম এবং আউস চাষ বাড়ানোর লক্ষে কৃষি অধিদপ্তর উন্নত বারি ২৫গম বীজ সরবরাহ করায় এবার গমের ব্যাপক ফলন হয়েছে রংপুরে। হাসি ফুটেছে এ অঞ্চলের গম চাষিদের মুখে।
আগে ৬০ শতক জমির গম ফলন, কাটা, মাড়াই করতে খরচ হতো ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। এখন কম্বাইন হারভেষ্টার মেশিনের মাধ্যমে খরচ হচ্ছে মাত্র টাকা ৬ থেকে ৭শ টাকা। কৃষি অধিদপ্তরের দেওয়া বীজ, সার, কিটনাশক ও বৈজ্ঞানিক উপকরণ এবং বিভিন্ন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় আগামীতে আরো বেশি চাষাবাদে আগ্রহী হবে কৃষক। একদিনে গম কাটা মাড়াই ও বস্তাবন্দি করে ভালো দামে বাজারজাত করতে পারায় আবারও কৃষিতে আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে কৃষকের। তারাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকতা মোঃ রেজাউল করিম জানান কৃষি অধিদপ্তর ও আইডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রদর্শনী ও নতুন প্রযুক্তর মাধ্যমে কৃষকদের উদ্ধুদ্ধকরণ এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় কৃষিতে যে সংকট দেখা দিয়েছিল সে সংকট মোকাবেলায় এখন গম উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে ও আগামীতে আরো বেশি জমিতে এ গম চাষাবাদ করে সরকারের যে খাদ্য চাহিদা তা পূরণ হবে বলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশাবাদী ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুরের খামার বাড়ির উপ-পরিচালক মোঃ জুলফিকার হায়দার বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর রংপুর জেলায় গম চাষ বেড়েছে এবং রংপুরের প্রতিটি উপজেলায় সিড ভিলেজ তৈরি করা হচ্ছে। কৃষিতে নতুন প্রযুক্তি, ভালো উন্নত মানের বীজ সরবরাহ অব্যাহত থাকলে আগামীতে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করতে পারবে এ অঞ্চলের গম।
শেকৃবিতে মৌচাষের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে অধিক পরিমানে মধু, পরাগরেণু, প্রপোলিস ও মোম উৎপাদন
বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগীয় প্রধান, ড. মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেনের তত্ত্বাবধায়নে, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় সুশীলন এনজিওর সাথে যৌথ উদ্যোগে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, আমাদের দেশে যেসব মৌচাষী রয়েছেন, এই মৌচাষীদেরকে আরও বেশি প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উন্নত চাষপদ্ধতি অবহিত করা।
এরই আলোকে গবেষকদল গাজীপুর, সিরাজগঞ্জ, সাতক্ষীরা জেলায় মোট বিশ জন করে ষাট জন চাষীকে প্রশিক্ষন দিচ্ছে সেই সাথে বিভিন্ন চাষাবাদ উপকরণ দিচ্ছে। প্রথমে বিশটি আধুনিক মৌবাক্স দেয়া হয় যাতে মধু, মোম, পোলেন, প্রপোলিস, এই চারটি জিনিস সংগ্রহ করা যাবে। এক বছর যাবত গবেষণা করে দেখা যায়, এতে গতানুগতিক পদ্ধতির চেয়ে দেড়গুন বেশি ফলন দেয়। সেই সাথে মধুর গুনগত মান অর্থাৎ আর্দ্রতা কম থাকে যা আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন।
উন্নত বাক্স গুলোতে ১৮-১৯% আর্দ্রতায় মধু সংগ্রহ করা যায়। সেই তুলনায় গতানুগতিক বা´ গুলোতে আর্দ্রতা ২৩-২৪%। অনেক ক্ষেত্রে এর পরিমান ২৭-২৮% হয়। মধুতে আর্দ্রতা যত বেশি থাকে সে মধু তত দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এতে মধু তার কার্যকরীতা হারায়। তবে আর্দ্রতা ১৭-১৮%রাখলে গুণগত মান হারায় না।
মৌমাছি ফুল থেকে পিলেট আকারে যে পরাগরেণু সংগ্রহ করে তা পোলেন ট্রাপ প্রযুক্তি ব্যাবহার করে হারভেষ্ট করা যায়। এ পোলেন ট্রাপটি ষাট জন চাষীর গতানুগতিক মৌবাক্সে ব্যবহার করে দেখা যায়, প্রতিটি মৌসুমে আধা কেজি পরাগরেণু পাওয়া যায়। এ পরাগরেণু ক্যাপসিউল হিসেবে বা সরাসরি চা, কফি, দুধ ইত্যাদির সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়। যা এর আগে বাংলাদেশে কখনো সংগ্রহ করা হয়নি।
প্রপোলিস ট্রাপ যা ষাট জন চাষী কে একশত বিশটি প্রদান করে মৌ-আঠা সফলভাবে পাওয়া যায়। এটি ও বাংলাদেশে প্রথম সংগ্রহ করা হয়। এর অত্যাধিক ঔষুধি গুনাগুণ রয়েছে।
এছাড়াও কুইন এক্সক্লুডার সফলভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, এক্ষেত্রে সাধারণত আমাদের দেশে ব্রুড পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় যার একটি চেম্বারে মৌমাছি, লার্ভা, পিউপা, ডিম, মধু, মোম, পোলেন, প্রপোলিস থাকে ফলে গতানুগুতিক ধারায় মধু সংগ্রহ করলে বাচ্চা মৌমাছি মারা যায়, তাই পরবর্তী মৌসুমে মৌমাছির সংখ্যা কমে যায়, ফলশ্রুতিতে মধু উৎপাদন ব্যাহত হয়। আর কুইনএক্সক্লুডার পদ্ধতিতে দোতলা বাক্স থাকে এতে রাণী মৌমাছি নিচের বাক্সে থেকে উপরে যেতে পারেনা, আর কর্মী মৌমাছিরা উপরে থাকে। ফলে মধু সংগ্রহ করলে ,বাচ্চা মৌমাছি মারা যায় না এবং মধুর গুনাগুণ অক্ষুন্ন থাকে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগীয় প্রধান, ড. মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানান এবং এই কাজটি যেন দ্রুত বাংলাদেশি সকল মৌচাষীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সেজন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
রংপুরে এই ডিমের হালি ৮০০ টাকা, এলাকায় চাঞ্চল্য
রংপুর : অবিশাস্য হলেও এটাই সত্যি। ৮শ টাকা হালি দরে বিক্রি হচ্ছে ডিম। তবে এ ডিম মুরগি বা হাঁসের না। এটা রংপুর নগরীর জলকর এলাকায় কলেজছাত্র আব্দুর রহমান সৌরভের গড়ে তোলা খামারের টার্কি মুরগির ডিমের দাম।
এছাড়াও খামারে উৎপাদিত ডিম এবং বাচ্চা ছড়িয়ে পড়ছে আশেপাশের এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। লেখাপড়ার পাশাপাশি শখের বশে স্বল্প পরিসরে শুরু করেছিলেন টার্কি বার্ডের খামার। এখন খরচ ওঠার পর প্রতিমাসে ডিম এবং টার্কি বিক্রি করে আয় করছেন রংপুর সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র সৌরভ।
খেতে সুম্বাদু টার্কি মুরগির মাংসের ব্যাপক চাহিদা থাকায় বাণিজ্যিক ভাবে টার্কির খামার গড়ে তুলতে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন তিনি।
সৌরভ জানান, প্রথমে ফেসবুকে টার্কি মুরগি সম্পর্কে জানতে পারেন। পরে ঢাকা, নওগাঁ এবং সিলেটে গড়ে ওঠা টার্কি খামারে যোগাযোগ করেন। সেখান থেকে কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করে ২০১৬ সালের জুলাই মাসে সিলেট থেকে ১৭টি টার্কি মুরগি কিনে এনে খামার শুরু করেন।
দুই মাস বয়সের প্রতিটি টার্কি কিনেছেন ২ হাজার টাকা করে। টার্কিগুলোর মধ্যে মুরগি ৯টি এবং মোরগ ছিল ৮টি। ৬ থেকে ৭ মাস বয়সে টার্কি ডিম দেয়া শুরু করে। দেশি মুরগির মতো ১৫ থেকে ২০টি ডিম দেওয়ার কিছুদিন পর আবার ডিম দেয়ার কথা থাকলেও গত কুরবানি ঈদের পর থেকে তিনি প্রতিদিন ৬ থেকে ৭টি করে ডিম পাচ্ছেন।
সৌরভ বলেন, ৯টি স্ত্রী টার্কির জন্য সমান সংখ্যক পুরুষ টার্কির দরকার নেই। সংখ্যায় বেশি হলে পুরুষ টার্কি অধিকাংশ সময় মারামারিতে লিপ্ত হয়। তাই দুটি পুরুষ টার্কি রেখে বাকি গুলো বিক্রি করেছেন। প্রতিটি টার্কি বিক্রি করেছেন ৪ থেকে ৫ হাজার টাকায়। সাধারণ মুরগির মত রোগ বালাই হলেও টার্কির খামার করার পর তেমন বড় ধরনের কোনো অসুখ দেখা দেয়নি।
তিনি দাবি করেন, টার্কির রোগবালাই প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই প্রবল। ৬ মাসে একটি পুরুষ টার্কির ওজন হয়েছে ৫ থেকে ৬ কেজি এবং স্ত্রী টার্কির ওজন হয়েছে ৩ থেকে ৪ কেজি। বেশ কিছু বাচ্চা বিক্রির পরও বর্তমানে তার খামারে টার্কির সংখ্যা ৭০টি। এর মধ্যে বাচ্চা আছে ৩০টি।
এছাড়াও বর্তমানে বেশ কিছু দেশি মুরগির মাধ্যমে টার্কির ডিম ফোটানোর ব্যবস্থা করেছেন। এক মাস বয়সের একা জোড়া বিক্রি করেছেন ২ হাজার ৫শ টাকায় এবং প্রতিটি ডিম বিক্রি করছেন ২শ টাকা করে।
তিনি বলেন, তার খামারে উৎপাদিত ডিম ইতোমধ্যে নিজ এলাকা ছাড়াও ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, হবিগঞ্জ এবং গোপালগঞ্জ থেকে এসেও কিনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। খামার শুরুর সময় ৪০ হাজার টাকা খরচ হলেও টার্কি মুরগি এবং ডিম বিক্রি করে সে টাকা উঠে এসেছে। তিনিই প্রথম ‘রংপুর টার্কি ফার্ম’ নামে বাণিজ্যিকভাবে এ খামার করেছেন।
সৌরভ বলেন, টার্কির মাংসের সুখ্যাতি বিশ্বজুড়ে। তাই উৎপাদন খরচ তুলনামূলক অনেক কম হওয়ায় টার্কি মুরগিপালন করা অনেক লাভজনক। খাবার বলতে ঘাস হচ্ছে টার্কির প্রধান খাবার। এছাড়া পাতা কপি, কচুরিপনা এবং দানাদারযুক্ত খাবার হচ্ছে টার্কির খাবার। তাই যে কেউ অনায়াসে টার্কি পালন করে লাভবান হতে পারেন।
উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, একটি পুরুষ টার্কি ৬ মাসে ৫ থেকে ৬ কেজি ওজনের হয়ে থাকে। যদি ৩শ টাকা কেজি ধরা হয় তাহলে ৬ কেজি ওজনের একটি টার্কির মূল্য হচ্ছে ১ হাজার ৮শ টাকা। এর জন্য খরচ সর্বসাকূল্যে ৫শ টাকার বেশি হবে না। অন্যদিকে ৬ মাসে গরুর খামারে ওই সময়ে শুধু খরচই হবে কিন্তু তেমন লাভ সম্ভব নয়।
বর্তমানে তিনি ১শ ডিমপাড়া টার্কির খামার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এজন্য এক ব্যাচে ৫শ বাচ্চা উৎপাদনের জন্য ইনকিউবেটর মেশিন স্থাপনের কাজ শুরু করেছেন।
তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভারত থেকে নিম্নমানের টার্কির বাচ্চা নিয়ে আসছে একটি প্রতারক চক্র। কম টাকায় বাচ্চাগুলো বিক্রি করায় সহজে ক্রেতা আকৃষ্ট হচ্ছেন। কিন্তু এ গুলোর মান খুবই খারাপ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাচ্চাগুলো মারা যাচ্ছে। কিন্তু সহজে নিম্নমানের বাচ্চা চেনার কোনো উপায় না থাকায় তিনি বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান থেকে বাচ্চা সংগ্রহের পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে আলাপকালে রংপুরের হাঁস মুরগি খামারের সহকারী পরিচালক ডা. জিতেন্দ্রনাথ বর্মন বলেন, টার্কি হচ্ছে পাখি প্রজাতির অন্তর্ভূক্ত। এখনো আমাদের দেশে ব্যাপকভাবে এর প্রচরণ শুরু হয়নি। তবে এর মাংস খুবই সুস্বাদু। অল্প খরচে টার্কি পালন সম্ভব হয় বলে খামারিরা সহজে লাভবান হতে পারেন।
আধুনিক পদ্ধতিতে বছরে দুই শতাধিক ডিম দেবে দেশি জাতের মুরগি
আধুনিক পদ্ধতিতে বছরে দুই শতাধিক ডিম দেবে দেশি জাতের মুরগি
আধুনিক পদ্ধতিতে লালন পালন করে দেশি জাতের মুরগির কাছ থেকে বছরে দুই শতাধিক ডিম পাওয়া যাবে। এই নতুন দেশি জাতের মুরগির উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট।
আজ রোববার সকালে খুলনার ডুমুরিয়ায় দেশি মুরগি সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দেশে প্রথমবারের মতো নারীদের মধ্যে মুরগি প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ।
ডুমুরিয়া উপজেলা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. তালুকদার নুরুন্নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অজয় কুমার রায়, খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার সুভাষ চন্দ্র সাহা প্রমুখ।
এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ডুমুরিয়া উপজেলার ৫০টি পরিবারের গৃহিণীদের চারটি করে নতুন দেশি জাতের মুরগি প্রদান করা হয়।
দেশি জাতের এই মুরগি লালন-পালন করে অস্বচ্ছল পরিবারের সদস্যরা পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে পারবে। বাংলাদেশে এই প্রথম ডুমুরিয়া উপজেলা থেকে এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হলো।
দেশী মুরগি পালন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন ও খামারীদের মাঝে মুরগি বিতরণ:
ডুমুরিয়া, খুলনায় আধুনিক পদ্ধতিতে “দেশী মুরগি পালন শীর্ষক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন ও খামারীদের মাঝে মুরগি বিতরণ’’ বিষয়ক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব নারায়ন চন্দ্র চন্দ, এমপি, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয় জনাব অজয় কুমার রায় এবং খুলনা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের প্রতিনিধি অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, খুলনা বিভাগ।উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মহোদয় ড. তালুকদার নুরুন্নাহার ।
“দেশী মুরগি সংরক্ষণ ও উন্নয়ণ” শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মিসেস শাকিলা ফারুক তাঁর স্বাগত বক্তব্যে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিসহ উপস্থিত সকল স্তরের বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, খামারী এবং ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন যে- উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশী মুরগি পালন করে দেশের মুরগি ও ডিমের চাহিদা মিটিয়ে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থিক উন্নতিকল্পে ডুমুরিয়া, খুলনা-সহ দেশের ৬ টি জেলায় উক্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
উক্ত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মহোদয় তাঁর বক্তব্যে বলেন দেশী মুরগির চাহিদা অতি প্রাচীনকাল থেকেই ছিল বর্তমানেও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। অনেক মানুষের কাছে বাণিজ্যিকভাবে পালিত ব্রয়লার মাংসের তুলনায় দেশী মুরগি অধিক গ্রহণযোগ্য যার ফলে বাজারে ক্রেতা সাধারণ অধিক মূল্যে দেশী মুরগি ক্রয় করতে ইচ্ছুক। বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার, তাই দেশের সাধারণ মানুষের উন্নয়নে এবং জনসাধারণের পুষ্টির যোগান দেওয়ার জন্য এই গবেষণা প্রকল্পটি হাতে নিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী মহোদয় তার বক্তব্যে বলেন চলমান প্রকল্পটির পরিকল্পিত কার্যক্রমগোলো সফলভাবে সম্পাদন করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সুষ্ঠুভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সভার সভাপতি ও বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট এর মহাপরিচালক ড. তালুকদার নুরুন্নাহার মহোদয় তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, আমাদের নিজস্ব মুরগির জাতগুলো বিলীন হওয়ার পথে। এই মূল্যবান জেনেটিক রিসোর্সগুলো সংরক্ষণ এবং এর উন্নয়নের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশী মুরগি পালন বিষয়ক আলোচনায় তিনি ৪টি বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেন; যেমন- মুরগির জাত, ডিম উৎপাদন, ডিমের ওজন ও প্রথম ডিম পাড়ার বয়স। তিনি বলেন যে দেশী মুরগি উন্নয়নের জন্য উক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো অত্যন্ত গুরুত্বসহ বিবেচনায় আনতে হবে। ফলে সামগ্রিকভাবে উৎপাদন বেড়ে যাবে এবং এভাবে দেশের ডিম ও মাংসের চাহিদা মেটানো সম্ভব। পরিশেষে, সভাপতি মহোদয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, বিজ্ঞানী, বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, খামারী এবং ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
এবার দেশি মুরগির স্বাদ পাওয়া যাবে ব্রয়লার (গোশত উৎপাদনকারী) মুরগিতে
বার দেশি মুরগির স্বাদ পাওয়া যাবে ব্রয়লার (গোশত উৎপাদনকারী) মুরগিতে। শুধু তাই নয়, ব্রয়লারের গোশত হবে দেশি মুরগির মতো শক্ত ও সুস্বাদু। এ ছাড়া বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্রয়লার উৎপাদনেও কমবে খরচ, বাড়বে উৎপাদন। এমন গুণাগুণ নিয়ে ‘বাউ-ব্রো-হোয়াইট’ ও ‘বাউ-ব্রো-কালার’ নামে উন্নত জাতের ব্রয়লারের দুটি জাত উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের এক দল গবেষক। ব্রয়লারের বাচ্চা উৎপাদনে আমাদের নিজস্ব কোনো প্যারেন্ট স্টক না থাকায় বাইরের দেশ থেকে তা আমদানিতে প্রতিবছর ব্যয় হয় প্রায় ৯০ কোটি টাকা। দেশি মুরগির জার্মপ্লাজম ও প্রচলিত উন্নত জাতের সিনথেটিক ব্রয়লারের সমন্বয়ে উদ্ভাবিত নতুন ব্রয়লার দুটি দেশে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করলে ওই আমদানি খরচ সাশ্রয় হবে। এ ছাড়া নতুন জাতগুলোর রোগবালাই ও মৃত্যুহার কম হওয়ায় দেশি লালনপালন ব্যববস্থাপনায় কম খরচে বিদেশে সিনথেটিক ব্রয়লারের মতোই উৎপাদন পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন উদ্ভাবক অধ্যাপক ড. আশরাফ আলী ও ড. বজলুর রহমান মোল্লা।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) এসপিজিআর প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পরিচালিত ‘দেশে প্রাপ্ত মুরগির জার্মপ্লাজম ব্যবহার করে ব্রয়লারের প্যারেন্ট স্টক উদ্ভাবন’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে চার বছর গবেষণা শেষে ‘বাউ-ব্রো-হোয়াইট’ ও ‘বাউ-ব্রো-কালার’ নামে ব্রয়লারের জাত দুটি উদ্ভাবনে সাফল্য পান গবেষকরা। নতুন উদ্ভাবিত জাতগুলোর এক দিনের বাচ্চার ওজন, খাদ্য রূপান্তর দক্ষতা, ৩৫ দিনে ওজন (১.৫ কেজি) বাজারে প্রচলিত ব্রয়লারের মতোই। অন্যদিকে মৃত্যুর হার কম, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি এবং লালনপালন ব্যবস্থাপনা প্রচলিত ব্রয়লারের চেয়ে সহজ ও সাশ্রয়ী। এ গবেষণাকাজে সহযোগিতা করেন পিএইচডি শিক্ষার্থী গোলাম আজম।
উদ্ভাবিত ব্রয়লার সম্পর্কে গবেষণার প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. আশরাফ আলী বলেন, ‘আমাদের দেশে বাণিজ্যিক হ্যাচারিগুলো ব্রয়লার উৎপাদনের জন্য প্রতিবছর কোটি কোটি বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে ব্রয়লারের প্যারেন্ট স্টক বাইরের দেশ থেকে আমদানি করে বাচ্চা উৎপাদন করে। অন্যদিকে বাইরে থেকে আমদানি করা প্যারেন্ট ব্রয়লার শীতপ্রধান দেশের উপযোগী করে তৈরি হওয়ায় এ দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সমস্যা হয়। ফলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ওই সব প্যারেন্ট স্টক লালনপালন করায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। ফলে বাচ্চার দাম তুলনামূলক বেশি পড়ে। অন্যদিকে ওই সব স্টক দেশের বাইরে থেকে আনার ফলে বিভিন্ন রোগের জীবাণু দেশে ছড়িয়ে পড়ে, যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা (বার্ড ফ্লু)। এ ছাড়া বাজারে প্রচলিত ওই সব ব্রয়লারের গোশত অত্যধিক নরম ও দেশি মুরগির মতো সুস্বাদু না হওয়ায় অনেকে পছন্দ করে না। এসব বিষয় মাথায় রেখে আমাদের নিজস্ব ব্রয়লারের প্যারেন্ট স্টক তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে চার বছর দেশি মুরগির জার্মপ্লাজম ও প্রচলিত উন্নত জাতের সিনথেটিক ব্রয়লারের মোরগ-মুরগি থেকে ক্রমে গুণগত বাছাই ও প্রজননের মাধ্যমে নতুন দুটি ব্রয়লারের প্যারেন্ট স্টক অর্থাৎ জাত উদ্ভাবনে সফল হয়েছি। যার উৎপাদন ক্ষমতা আমদানি করা অন্যান্য উন্নত মানের ব্রয়লার প্যারেন্টের সমকক্ষ। মজার ব্যাপার হলো, উদ্ভাবিত প্যারেন্ট স্টকগুলো দেশে প্রচলিত মুরগির ঘরেই লালনপালন করে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন পাওয়া যাবে। কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের প্রয়োজন হবে না। প্রয়োজন নেই কোনো ব্যয়বহুল টিকাদান কর্মসূচির। অন্যদিকে প্রচলিত ব্রয়লারের মতোই আমাদের উদ্ভাবিত ব্রয়লার পাঁচ সপ্তাহে দেড় কেজি ওজনের হয়ে থাকে।’
গবেষণার সহযোগী গবেষক ড. বজলুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘আমাদের দেশে বেশির ভাগ ভোক্তাই বাজারে গিয়ে রঙিন মুরগি অর্থাৎ দেশি মুরগি খোঁজে। বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা দুই ধরনের গোশতউৎপাদনকারী (ব্রয়লার) মুরগির জাত উদ্ভাবন করেছি। দেশি মুরগি ও বাজারে প্রচলিত উন্নত মানের সিনথেটিক ব্রয়লারের সঙ্গে মিল রেখেই জাত দুটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। বাউ-ব্রো-কালার মুরগির গোশত অনেকটা দেশি মুরগির মতো স্বাদ ও শক্ত প্রকৃতির। অন্যদিকে বাউ-ব্রো-হোয়াইটেরও গোশত প্রচলিত ব্রয়লারের গোশত থেকে তুলনামূলক শক্ত ও সুস্বাদু। তবে নতুন উদ্ভাবিত ব্রয়লার ও প্রচলিত ব্রয়লারের গোশত পুষ্টিমানের কোনো পার্থক্য নেই। বর্তমানে ব্রয়লারের জাত দুটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত।’ বাজারে প্রচলিত ব্রয়লারের বাচ্চার চেয়ে কম দামে উদ্ভাবিত ব্রয়লারের বাচ্চা খামারিদের হাতে শিগগিরই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
ড. বজলুর রহমান জানান, বর্তমানে জাত দুটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির লক্ষ্যে জেনেটিক্সের মলিকুলার পর্যায়ে কিছু কাজ করা হচ্ছে। মূলত উদ্ভাবিত জাতগুলোর বৈশিষ্ট্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম অটুট থাকবে কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তবে অর্থায়নের অভাবে কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। দেশের খ্যাতনামা খামারি ও হ্যাচারি মালিকরা যদি আমাদের গবেষণায় অর্থায়নে এগিয়ে আসেন, তাহলে উদ্ভাবিত ব্রয়লার জাতগুলোর মাধ্যমে দেশের আমদানিনির্ভর ব্রয়লার শিল্পকে রপ্তানি শিল্পে রূপান্তর করা সম্ভব।
বেশি ডিম দেয়া মুরগি চেনার উপায় এবং দেশি মুরগি চেনার সহজ ৪টি উপায়
বেশি ডিম দেয়া মুরগি চেনার উপায়
বর্তমানে পোলট্রি শিল্প বেশ জমজমাট। গ্রাম থেকে শুরু করে শহরের কেন্দ্রস্থল কোথাও এর সমাদরের কমতি নেই। এমনকি বড় বড় অট্টালিকার ছাদেও গড়ে ওঠেছে জীবন্ত এ শিল্প; যা থেকে পূরণ হচ্ছে দেশের পুষ্টি, বিশেষ করে আমিষের চাহিদা। পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে বেকারত্বের এক বিরাট অংশ। আর এ লক্ষ-উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য খামারে চাই সুস্থ এবং উৎপাদনশীল মুরগি । তাই বেশি ডিম দেয়া মুরগি চেনা, এর আচরণ ও অন্য লক্ষণগুলো সর্ম্পকে জানা খুবই জরুরি। মুরগির দেহের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ এবং এর আচরণের ওপর শরীরের অবস্থা উপলব্দি করা যায়। সে কারণে বেশি ডিম দেয়া মুুুরগি কীভাবে চেনা যায় তা একেক করে এবার জেনে নেয়া যাক-
মাথার অংশ: বেশি ডিম দেয়া মুরগির মাথা হবে ছোট, হালকা এবং মাংশল অংশ থাকবে কম। মাথার ঝুঁটি ও গলার ফুল হবে উজ্জ্বল লাল রঙ কিংবা গোলাপি বর্ণের । তবে এগুলো অবশ্য নরম, সুগঠিত ও প্রস্ফুটিত হবে।
চোখ, নাক ও মুখ: পাখির চোখের বর্ণ হবে উজ্জ¦ল। চোখ সব সময় সতর্ক থাকতে হবে। নাক ও মুখ থাকবে শ্লেষ্মাহীন পরিষ্কার। নাক দিয়ে সর্দিঝরা কিংবা গলার ভেতর ঘড়ঘড় শব্দ হবে না ।
দেহ বা শরীর: মুরগির দেহ সুগঠিত হবে। পরিমাণমতো খাদ্য ও পানি পান করবে, যে কারণে খাদ্যথলিতে খাবারে ভর্তি থাকবে। পেটে ডিম অনুভব হলে অবশ্যই ওজনে ভারি হবে। এধরনের মুরগির পিঠ হয় লম্বা ও প্রশস্ত। শরীরের কোনো অংশে খুঁত, অপূর্ণতা অথবা বিকলাঙ্গ হবে না।
পালক: সুস্থ অবস্থায় মুরগির পালক উজ্জ্বল ও সুবিন্যস্ত থাাকে। এ ধরনের মুরগি সাধারণত মার্চ মাসের দিকে পালক পাল্টায়। তবে মাথার উপরিভাগের পালক শূন্য হয়ে টাকের সৃষ্টি হয়।
বয়স: মুরগির বয়স বাড়ার সাথে সাথে ডিম উৎপাদনের হার তুলনামূলকভাবে কমে যায়। সাধরণত ৫৬০ দিন বয়স পর্যন্ত মুরগি মোট উৎপাদনের শতকরা প্রায় ৬০ ভাগ ডিম দেয় । তাই বয়ষ্ক মুরগি খাবারের জন্য বিক্রি করে খামারের নতুন মুরগি তোলা উচিত।
চঞ্চল ও সতর্কতা: স্বাস্থ্যবান মুরগি সব সময় চঞ্চল থাকে এবং খাবার খুঁজতে ব্যস্ত মনে হয়। হঠাৎ কোনো শব্দ হলে অথবা শত্র“র উপস্থিত বুঝতে পারলে মুখে এক ধরনের শব্দ করে স্বজাতিকে সতর্ক করে দেয়। কেউ ধরতে গেলে দৌড়ে পালায়।
পা: সুস্থ মুরগির পা থাকবে সুন্দর ও সুগঠিত। মুরগির পা’র মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাহাঁটি করবে।
মলদ্বার এবং পাছার হাড়: ডিম পাড়া মুরগির মলদ্বার হবে প্রশস্ত ও ডিম্বাকৃতি। পরীক্ষা করলে সেখানে আর্দ্র ও রক্তাভ দেখাবে। মলদ্বারের উভয় পাশে হাত দিলে পাছার হাড় অনুভব করা যায়। উৎপাদনশীল মুরগির দুই হাড়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব হবে দু’ইঞ্চি ।
তলপেট: মুরগির তলপেটে হাত দিয়ে বুঝা যাবে এর ডিম ধারণের ক্ষমতা । ডিম দেয়া অবস্থায় তলপেট প্রশস্ত ও নরম থাকে। মুরগি ডিম পাড়া অবস্থায় বুকের হাড়ের নিম্নভাগ এবং পাছার উভয় হাড়ের মাথা পর্যন্ত দূরত্ব হবে দু’ইঞ্চি। মুরগির তলপেটে মেদ থাকবে না এবং চাপ দিলে পেটের ভেতর ডিম অনুভব হবে।
চামড়া: উৎপাদনীল মুরগির চামড়ার নিচে কোনো মেদ জমা থাকবে না। চামড়া হবে পাতলা ও নরম ।
দাঁড়ানোর ভঙ্গি: সুস্থ অবস্থায় মুরগির দাঁড়ানোর ভঙ্গি স্বাভাবিক থাকে। পাখি দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবে।
রঙ পরির্তন: ডিম পাড়ার সাথে সাথে মলদ্বার, ঠোঁট, ঝুঁটি, গলার ফুল ও পায়ের রঙ পরিবর্তন হতে শুরু করে। রঙ পরিবর্তন শেষ হলে বুঝতে হবে ডিম পাড়ার সময় শেষ।
ব্যবহার ও আচরণ: বেশি ডিম দেয়া মুরগির আচরণ হবে সতর্কভাব, ভদ্র ও চঞ্চল। ডিম পাড়ার সময় বাসায় ঢুকবে, কোনো সময় অলস বসে থাকবে না । ডিম পাড়া মুরগির পিঠে হাত রাখলে সহজেই বসে পড়বে।
সবশেষে বলতে হয়, সুস্থ এবং উৎপাদনশীল মুরগি চিহ্নিত করে তবেই পালন করা উচিত। এতে একদিকে যেমন রোগবালাইয়ের সম্ভাবনা কম থাকবে, তেমনি খামারি হবে লাভবান।
দেশি মুরগি চেনার সহজ ৪টি উপায়:
১/ দেশি মুরগির ঠোট সমান ও চোখা ধারাল হবে। ২/ চঞ্চল ও ছট ফটে সভাব এর হবে। ৩/ শরীরে বিভিন্ন রং এর মিশ্রন থাকবে কোন টি একবারে কালো হবে। ৪/ মাংস হালকা বাদামি বর্ণের হবে।
সাধারনত মুরগির পা দেখে দেখে দেশি মুরগি চেনার চেষ্টা করা হয় কিন্তূ এতে ক্রেতা বেশির ভাগ সময় প্রতারিত হয়ে থাকেন,কারন হলুদ ও সাদা দেশি ও কক উভয় ধরনেরই মুরগির হয়ে থাকে।
পাকিস্তানি সোনালি মুরগি দেশি বলে চালিয়ে দিচ্ছেন বিক্রেতারা
স্বাদ ও মানে ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও একই সাথে ও একই দামে বিক্রি হচ্ছে দেশি ও পাকিস্তানি সোনালি মুরগি। কেবল দেখতে একই রকম বলে দেশি মুরগির নামে দেদারসে পাকিস্তানি মুরগি চালিয়ে যাচ্ছেন বিক্রেতারা। বাজার থেকে মুরগি কিনে বাসায় গিয়ে রান্নার পর খাওয়ার সময় বোঝা যায় এটা তো দেশি মুরগি নয়। বিক্রেতারা ক্রেতাকে দেশি মুরগি বলে ধরিয়ে দিচ্ছেন পাকিস্তানি সোনালি মুরগি।
নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজার, চকবাজারসহ কয়েকটি বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দেশি মুরগি ও পাকিস্তানি সোনালি মুরগি রাখা হচ্ছে একই খাঁচায়। দুই-তিনটি দেশি মুরগির সাথে রাখা হচ্ছে ৮-১০ টি পাকিস্তানি সোনালি মুরগি। বিক্রি হচ্ছে একই দামে। অথচ দুই মুরগির দামের মধ্যে রয়েছে বিস্তর তফাৎ। দেশি মুরগি কেজিপ্রতি দাম যেখানে ৩৫০-৩৬০ টাকা সেখানে খামারি পর্যায়ে পাকিস্তানি সোনালি ঁ
মুরগির দাম ২৩০-২৫০ টাকা। কিন্তু বিক্রেতার দেশি মুরগির দামে বিক্রি করছেন পাকিস্তানি সোনালী মুরগিও। ক্রেতা মুরগি চাওয়ার সাথে সাথে খাঁচা থেকে ধরে মুরগি মেপে ক্রেতাকে দিচ্ছে। আকার, ওজন এবং গায়ের রং একই হওয়ার কারণে ক্রেতারা বুঝতেই পারছেননা কোনটি দেশি মুরগি আর কোনটি পাকিস্তানি সোনালি মুরগি। ফলে দেশি মুরগি কিনতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঠকছেন ক্রেতারা।
গত কয়েক দিনে বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বাজারে দেশি মুরগির সংকট চলছে। গুটিকয়েক দোকানে দেশি মুরগি পাওয়া যাচ্ছে। চকবাজারের এক তরুণ মুরগি ব্যবসায়ী জানান, বাজারে দেশি মুরগির সংকট এবং চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে কিছু কিছু অসাধু মুরগি বিক্রেতা একই সাথে ও একই দামে দেশি ও পাকিস্তানি সোনালি মুরগি বিক্রি করছে।
তবে সব মুরগি বিক্রেতার মত এক খাঁচায় দেশি ও পাকিস্তানি মুরগি বিক্রি করছেন না রিয়াজউদ্দিন বাজারের মুরগি বিক্রেতা মোহাম্মদ ইলিয়াস। অন্যান্য বিক্রেতা কেন একই খাঁচায় দেশি ও পাকিস্তানি সোনালি মুরগি বিক্রি করছে তার উত্তর তিনি বলেন, অন্যরা কেন এই কাজ করছে তা আমি জানি না। তবে আমি দেশি ও পাকিস্তানি সোনালি মুরগি আলাদা খাঁচায় রেখে বিক্রি করছে।’ তার কাছ থেকে জানা গেল পাকিস্তানি মুরগি চেনার উপায়। তিনি জানান, চেহারা, পা ও শরীর ভালো করে লক্ষ্য করলে সোনালী মুরগি চেনা যায়। পাকিস্তানি মুরগির ঘিলা ছোট, পা চিকন, চোখ কালো। দেশি মুরগির চেয়ে সোনালী মুরগির স্বাদ কম।
চকবাজারের মুরগি বিক্রেতাটি জানালেন, দেশি মুরগির ঘিলা বড়, পা মোটা, পায়ে ময়লা থাকে, পাকস’লীতে খাবার থাকে বেশি। আর সোনালি মুরগির পা পরিষ্কার থাকে, পাকস’লীতে খাবার কম থাকে, বুক দুর্বল। তবে ওজন ও গায়ের রং দেখে বোঝার সুযোগ নেই কোনটি দেশি মুরগি আর কোনটি পাকিস্তানি সোনালি মুরগি। দুই প্রকারের মুরগিরই ওজন আড়াই কেজি বা তিন কেজি পর্যন্ত হয়।
বাজার মাত করেছে অবিকল দেশি মুরগি ‘কক্কুড়া’
দেখতে অবিকল দেশি মুরগির মতো। তাই কাটতিও বেশ। হোটেল-রেসেত্মারাঁয় চালানো হয় ‘দেশি চিকেন’ বলে। খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ‘কক’, ‘কককুড়া’ আর ‘সোনালি’ নামে। কিন্তু দেখতে হুবহু দেশি মুরগির মতো বলে প্রতিকেজি মুরগিতে ক্রেতাদের ঠকানো হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা করে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফেরিওয়ালাসহ কিছু ভাসমান দোকানদার খুচরা ক্রেতাদের কাছে দেশি মুরগি বলে বিক্রি করছে কক্কুড়া। বিশেষ করে বাসাবাড়িতে গিয়ে মহিলাদের কাছে গছিয়ে দেওয়া হচ্ছে এসব মুরগি।
মাসছয়েক আগে বাজারে এসেছে এ কককুড়া। আগে এসব মূলত আসতো সীমানত্মবর্তী বিভিন্ন এলাকা বিশেষ করে কুষ্টিয়া, বগুড়া, কুমিল্লার লাকসাম প্রভৃতি এলাকা থেকে। এসব মুরগির ওজন হয় ৬শ থেকে ৮শ গ্রামের মতো। কক্কুড়া সাধারণত সাত থেকে আট রঙে পাওয়া যায়। তবে ইদানীং সাদা রঙের কককুড়াই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে বেশি। এটা দেখতে অনেকটা দেশি সাদা রঙের মুরগির মতো। আর সোনালি মুরগির রং অনেকটা লালচে ও সোনালি। এগুলো ‘কালার বার্ড’ নামেও পরিচিত। এসব মুরগির রং বা আকার দেখতে যেমন দেশি মুরগির মতো, তেমনি স্বাদও প্রায় দেশি মুরগির মতোই। তাই দেশি মুরগি বলে সহজেই চালিয়ে দেওয়া যায় ‘সোনালি’ বা ‘কক’কে। কিন্তু ককের খুচরা মূল্য কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৩৫ টাকা। আর সোনালির দাম কেজিপ্রতি ১৩০ থেকে ১৫৫ টাকা। বিভিন্ন বাজারে কক কেজিপ্রতি ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়। আর সোনালির দাম ছিল ১৫০ টাকা। এ ছাড়া ফার্ম ১১৫-১২০ ও দেশি মুরগি ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায় গতকাল। কিন্তু সোনালি ও কক-এর দাম একেক দোকানে একেকরকম হাঁকতে দেখা গেছে। এতে ক্রেতারা বিভ্রানত্ম হয়ে পড়েন। দেখে যেমন বোঝার উপায় নেই তেমনি দামও দেশি মুরগির সমান হাঁকার কারণে বোঝা যায় না এগুলো আসলে দেশি মুরগি নয়।
অনেক বিক্রেতা এ মুরগিগুলো দেশি বলে চালিয়ে দিয়ে ক্রেতাদের ঠকাচ্ছে, তা সত্য। এটা অনৈতিক। ওসব ব্যবসায়ীদের কারণে মুরগির ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বাজারগুলোর প্রায় সব কটিতেই সোনালি বা কক্কুড়া পাওয়া যাচ্ছে। তবে না চেনার কারণে ঠকছেন ক্রেতারা। এ সুযোগে অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা বাড়তি হাতিয়ে নিচ্ছে ক্রেতাদের কাছ থেকে। আগে ব্রয়লার মুরগিকে পাকিসত্মানি মুরগি বলে চালিয়ে দেওয়া হলেও এখন এসব মুরগিতে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। সচেতনতার অভাবে মানুষ এসব মুরগি কিনে ঠকছে আসলে দেখতে দেশি মুরগির মতো হওয়ায় অনেকেই না জেনে বাড়তি দাম দিয়ে এসব মুরগি কিনছেন। এক্ষেত্রে বিক্রেতারা ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা করছে। ক্রেতারা আসল দামদর জানলে এমনটা হতো না।
কিনছেন দেশি, আসলে বিদেশি!
সের চাহিদা মেটাতে দেশে এখন ব্রয়লার মুরগীর বাণিজ্যিক চাষ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তুলনামূলক সস্তা ও সহজলভ্য হওয়ায় বেশিরভাগ মানুষ এই মুরগীই কেনে। তবে এসব মুরগীতে সবার রুচি হয় না। আর দেশি মুরগীর তুলনায় ব্রয়লারগুলোর স্বাদও কম। তাই সামর্থ্য থাকলে দেশি মুরগীই কিনতে চান সবাই।
তবে ঠিকঠাক না চেনার কারণে অনেকেই ঠকছেন। দেশি ভেবে বেশি দামে ফার্মের মুরগীই কিনে বাসা ফিরছেন কেউ। বাজারে ফার্মে পালিত লেয়ার, কক, ব্রয়লারসহ নানা জাতের মুরগী পাওয়া যায়। এর মধ্যে থেকে দেশি মুরগীটি চিনতে হলে অভিজ্ঞতা প্রয়োজন আছে না হলে নিশ্চিত ঠকবেন।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, দেশি মুরগী বলে যেসব বিক্রি করা হচ্ছে তা আদৌ দেশি নয়। বাজারে এখন পাকিস্তানি কক দেশি মুরগী বলে বিক্রি করা হচ্ছে। পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলে এই জাতের মুরগীগুলো চেনা দুষ্কর।
এমনকি দেখা গেছে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে দেশি চিকেন বলে চালানো হয় সেগুলোও পাকিস্তানি কক বা বিদেশি জাতেরই মুরগী। এসব মুরগী খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ‘কক’, ‘কককুড়া’ আর ‘সোনালি’ নামে। কিন্তু দেখতে হুবহু দেশি মুরগীর মতো বলে দামও চড়া। এতে ক্রেতারা ঠকছে প্রতি কেজি মুরগীতে ৭০-৮০ টাকা করে।
রাজধানীর বিভিন্ন কলোনি ও আবাসিক এলাকাগুলোয় এসব মুরগী ফেরিওয়ালাসহ কিছু ভাসমান খুচরা বিক্রেতা দেশি মুরগী বলে বিক্রি করছে।
হাতিরপুল বাজারের মুরগী ব্যবসায়ী আবুল কালাম জানান, এসব মুরগী কিনে কোনো ক্রেতা এখন পর্যন্ত অভিযোগ করেনি। পাকিস্তানি ককের স্বাদ দেশী মুরগীর মতোই।
তবে এসব মুরগী দেশি বলে বিক্রি করার অভিযোগ অস্বীকার তিনি বলেন, ‘আমি বিদেশি মুরগীকে দেশি বলে বিক্রি করি না। আমাদের এখানে পাকিস্তানি কক ও দেশি মুরগী দু’টোই আছে।’
এসব মুরগী কোথা থেকে আসে জানতে চাইলে পলাশী বাজারের মুরগী বিক্রেতা রহিম বলেন, ‘আমরা এসব মুরগী কাওরান বাজার থেকে নিয়ে আসি। তবে দেশে আসে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা বিশেষ করে কুষ্টিয়া, যশোর, বগুড়া, কুমিল্লার লাকসাম প্রভৃতি এলাকা থেকে।’
দেশি মুরগীর মতো দেখতে এসব মুরগীর ওজন সাধারণত ৬শ থেকে ৮শ গ্রাম হয়। পাকিস্তানি কক বিভিন্ন রঙের পাওয়া যায়। দেখতে অনেকটা দেশি বিভিন্ন রঙের মুরগীর মতো।
এসব মুরগীর খুচরা মূল্য কেজিপ্রতি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা যা দেশি মুরগীর সমান। যদিও বিদেশি হিসেবে বিক্রি হলে দাম হওয়ার কথা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা।
পলাশী বাজারে মুরগী কিনতে আসা সরকারি চাকরিজীবী মোশারফ হোসেন বলেন, ‘ফার্মের ব্রয়লার মুরগী খেতে তেমন একটা ভালো লাগে না। তাই দেশি মুরগী কিনি। কিন্তু দেশি মুরগীতেও আজকাল ভেজাল দেখা দিয়েছে। এজন্যে আগের মতো দেশি মুরগী কিনলে স্বাদ পাওয়া যায় না।’
এ ব্যাপারে পোলট্রি ব্রিডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ সভাপতি আবু লুৎফি ফজলে রহিম খান বলেন, ‘এসব মুরগী শরীরের জন্য কোনো ক্ষতি করে না। মাংসের চাহিদা পূরণ করার জন্য এ ধরনের মুরগী উৎপাদন করা হয়। দেশি মুরগী ও বিদেশি মুরগীর মধ্যে স্বাদের পার্থক্য থাকলেও একই ধরনের আমিষ পাওয়া যায়। তবে দেশি মুরগী বলে বিক্রি করাটা এক ধরনের অনৈতিক ব্যবসা। আর এ ধরনের মুরগীর মূল্য দেশি মুরগীর তুলানায় কম।
Monday, July 17, 2017
হাঁসের খামার হতে পারে আপনারও
ঢাকার বাইরে হাঁস পালন বেশ লাভজনক। তবে প্রশিক্ষণ না থাকলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে হাঁস প্রজননকেন্দ্র। এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ব্যবসা হিসেবে দিতে পারেন খামার। বিস্তারিত জানাচ্ছেন সিদ্ধার্থ সাই হাঁসের থাকার জন্য এমনভাবে ঘর বানাতে হবে যেন আলো-বাতাস যাওয়া-আসা করতে পারে। ঘরের আশপাশে জলাধার থাকলে ভালো হয়। ১০০টি হাঁস নিয়ে শুরু করতে পারেন আপনার হাঁসের খামার। ১০০টি হাঁসের খামার গড়তে ১৫টির বেশি হাঁসের বাচ্চা নিয়ে শুরু করতে হবে। প্রজননের জন্য হাঁসের খামারে ১০ : ১ পরিমাণে হাঁস এবং হাঁসা রাখতে হবে। বড় হলে প্রয়োজনীয় হাঁস ও হাঁসা রেখে অন্যগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে। প্রথমে বাচ্চা এনে অন্তত সাত দিন সেগুলোকে নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রায় রাখতে হবে। এ জন্য শীতের সময় বেশি তাপ ক্ষমতাসম্পন্ন লাইট দিয়ে ঘরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে রাখা জরুরি। গরমের দিনে ঘর ঠাণ্ডা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। ঘরে হাঁসগুলো থাকার জায়গায় ধানের তুষ অথবা কাঠের গুঁড়া দিয়ে বিছানা তৈরি করতে হবে। ঘরের আশপাশ পরিষ্কার করাটাও জরুরি। কারণ অপরিষ্কার জায়গা থেকে রোগ-জীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। |
জাত নির্বাচন
হাঁসের বিভিন্ন জাত আছে। তবে খামারের জন্য জিনডিং ও দেশি_এ দুই ধরনের হাঁসই ভালো। এগুলো মাংস ও ডিম উৎপাদনে আমাদের আবহাওয়ার উপযোগী। জিনডিং হাঁস কষ্টসহিঞ্চু, এদের পালন পদ্ধতিও সহজ। এরা বছরে ২৫০ থেকে ২৭০টি ডিম দেয়। দেশি কালো জাতের হাঁস উচ্চ মাত্রায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। এগুলো বছরে ২০০ থেকে ২৩০টি ডিম দেয়। এদের মাংসও খুব সুস্বাদু।
হাঁসের পালন পদ্ধতি ও খাবার
হাঁস পালনে তেমন শ্রম দিতে হয় না। বাইরে ছেড়ে দিলে নিজেরাই খাবার সংগ্রহ করতে পারে। অতিরিক্ত খাদ্য চাহিদা মেটাতে চালের কুঁড়ার সঙ্গে ডাবি্লউ এস-এ, ডি, ই, বি-১, বি-২, বি-৬, বি-১২ ভিটামিনগুলো দেওয়া যেতে পারে। পাঁচ মাস পর থেকে হাঁসগুলো ডিম দেওয়া শুরু করবে। তিন বছর বয়স পর্যন্ত হাঁস পূর্ণ মাত্রায় ডিম দেয়। এরপর হাঁসগুলোকে বাজারে বিক্রি করে দিতে হবে, যার মাংস খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
সাবধানতা
হাঁসের প্রধান রোগ কলেরা আর প্লেগ। হাঁসকে এসব রোগের মড়ক থেকে রক্ষা করতে কিছু নিয়ম পালন করতে হয়। ধানের তুষ দিয়ে বানানো হাঁসের বিছানায় প্রতিদিন বি্লচিং এবং ভিরকন-এস প্রয়োগ করতে হবে। কেউ ভেতরে যেতে চাইলে ভাইরাস মুক্তকারী দ্রবণে পা চুবিয়ে নেওয়ার পর তাকে যেতে দিতে হবে। ভয় পেলে হাঁসের ডিম পাড়ায় বিঘ্ন ঘটে। তাই সব সময় খেয়াল রাখতে হবে, হাঁসগুলো যেন কোনো ভাবেই ভয় না পায়। একদিন থেকে দুই মাস বয়সের মধ্যে দুবার প্লেগ ও কলেরার টিকা দিতে হবে। এরপর প্রতি ছয় মাস পরপর টিকা দিতে হবে। সরকারি দপ্তর থেকে টিকার ভ্যাকসিন কেনাই ভালো। ভ্যাকসিন কেনার সময় দেখে নিতে হবে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে কি না। এরপর ক্রেতার কাছ থেকেই পরিবহনের সঠিক নিয়ম জেনে খামারে নিয়ে যেতে হবে। সঠিকভাবে পরিবহন না করলে ভ্যাকসিনের গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়।
নিতে হবে প্রশিক্ষণ
নারায়ণগঞ্জে আছে বাংলাদেশ সরকারের কেন্দ্রীয় হাঁস প্রজননকেন্দ্র। এখান থেকে হাঁস পালনে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। খুলনার দৌলতপুরে, নওগাঁ, ফেনীর সোনাগাজী, কিশোরগঞ্জ ও রাঙামাটিতেও আছে প্রজননকেন্দ্র। আপনার কাছাকাছি কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করতে পারেন প্রয়োজনীয় হাঁসের বাচ্চা। হাঁসের খাবার ও ওষুধপত্র কিনতে পাওয়া যাবে প্রায় প্রতিটি বিভাগীয় শহরেই। ঢাকার ফুলবাড়িয়ায় আছে পাখির খাদ্যের বৃহৎ বাজার। চালের মিল থেকে তুষ ও কুঁড়া সংগ্রহ করা যাবে। এ ছাড়া পশুখাদ্য দোকানেও তুষ ও কুঁড়া পাওয়া যায়। কীটনাশকের দোকানে ভিরকন এস এবং মুদি দোকান থেকে বি্লচিং পাউডার সংগ্রহ করা যাবে।
প্রয়োজনীয় পুঁজি
প্রাথমিকভাবে লাভের জন্য তিন বছরের পরিকল্পনা নিয়ে খামার গড়তে হবে। ১০০টা হাঁসের জন্য বাঁশের একটি ঘর বানাতে এককালীন খরচ পড়বে ১৫ হাজার টাকা। ১১৫টি হাঁসের বাচ্চার দাম পড়বে এক হাজার ৩৮০ টাকা। কুঁড়াপ্রতি বস্তা পড়বে ২০০ টাকা, মাসে এক বস্তা করে কুঁড়া লাগবে। বছরে ১২ বস্তা, তিন বছরে ৩৬ বস্তা। ৩৬ বস্তা কুঁড়ার দাম পড়বে সাত হাজার ২০০ টাকা। বি্লচিং পাউডার লাগবে মাসে পাঁচ কেজি। দাম কেজিপ্রতি ৬০ টাকা হলে ৩৬ মাসে বি্লচিং পাউডার লাগবে ১৮০ কেজি, যার দাম পড়বে ১০ হাজার ৮০০ টাকা। তুষ বা কাঠের গুঁড়া লাগবে চার মাস অন্তর চার বস্তা করে। এক বস্তা কাঠের গুঁড়ার দাম ৫০ টাকা। বছরে লাগবে ১২ বস্তা। তিন বছরে ৩৬ বস্তা কাঠের গুঁড়ার দাম পড়বে এক হাজার ৮০০ টাকা। ভ্যাকসিন লাগবে বছরে এক হাজার টাকা করে তিন বছরে তিন হাজার টাকার। আপৎকালীন সময়ের জন্য হয়তো লাগবে আরো ১০ হাজার ৮২০ টাকা। মোট খরচ তিন বছরে ৫০ হাজার টাকা।
লাভ কেমন
বছরে হাঁস ডিম দেয় গড়ে ২৩০টি। ১০০টি হাঁসের ৯০টি হাঁস ডিম দিলে বছরে ডিম পাওয়া যাবে ২০ হাজার ৭০০টি। ৩০ টাকা হালি ধরে ২০ হাজার ৭০০টি ডিমের দাম এক লাখ ৫৫ হাজার ২৫০ টাকা। একটি হাঁস গড়ে দুই-তিন কেজি হয়।
তিন বছর ডিম দেওয়ার পর একেকটা হাঁস গড়ে ২০০ টাকা হিসাবে ১০০টি হাঁস বিক্রি করে পাওয়া যাবে ২০ হাজার টাকা। খরচ বাদ দিয়ে এক বছরে নিট লাভ ৫৮ হাজার ৪০০ টাকা।
দেশী মুরগি উৎপাদনে উন্নত কৌশল
দেশী মুরগি উৎপাদনে উন্নত কৌশল
বাংলাদেশের গ্রাম এলাকায় প্রায় প্রতিটি পরিবার দেশী মুরগি পালন করে থাকে। এদের উৎপাদন ক্ষমতা বিদেশী মুরগির চেয়ে কম। উৎপাদন ব্যয়ও অতি নগণ্য। এটি অধিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন। এদের মাংস ও ডিমের মূল্য বিদেশী মুরগীর তুলনায় দ্বিগুণ, এর চাহিদাও খুবই বেশী। দেশী মুরগির মৃত্যুহার বাচ্চা বয়সে অধিক এবং অপুষ্টিজনিত কারনে উৎপাদন আশানুরূপ নয়। বাচ্চা বয়সে দেশী মোরগ-মুরগির মৃত্যুহার কমিয়ে এনে সম্পূরক খাদ্যের ব্যবস্থা করলে দেশী মুরগি থেকে অধিক ডিম ও মাংস উৎপাদন করা সম্ভব।
উল্লেখিত অবস্থার আলোকে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট দেশী মুরগি উৎপাদনে উন্নত কৌশল শীর্ষক প্রযুক্তিটি উদ্ভাবন করেছে। এ কৌশল ব্যবহার করে খামারিরা দেশী মুরগি থেকে অধিক ডিম ও মাংস উৎপাদন করে পারিবারিক পুষ্টি ও আয় বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবে।
উদ্দেশ্য:
- সম্পুরক খাদ্য, রানীক্ষেত ও বসন্তের প্রতিষেধক প্রদান করে এবং বন্য জন্তুর কবল থেকে মুক্ত রেখে দেশী মুরগি, বিশেষ করে ছোট বাচ্চার মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা যায়।
- দেশী মুরগির দৈহিক ওজন ও ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি করা।
প্রযুক্তি ব্যবহারের পদ্ধতি:
- প্রযুক্তিটি গ্রামীণ পর্যায়ে সকল গৃহস্থ পরিবারই ব্যবহার করতে পারবেন। খামারের আকার অনুযায়ী প্রত্যেক খামারীর জন্য মোরগ-মুরগির সংখ্যা নিম্নে দেওয়া হলো-
| খামারের আকার | আবাদী জমির পরিমাণ (শতাংশ) | মোরগ/মুরগি |
| ছোট | ৫০ শতাংশ | ১টি মোরগ ও ৩টি মুরগি |
| মাঝারী ও বড় | ৫০ ও তার অধিক | ১টি মোরগ ও ৬টি মুরগি |
দেশীয় পদ্ধতিতে দেশি মোরগ পালন
১৭ অক্টোবর ১৫।। অনেকেই জানতে চেয়ে ছিলেন যে সল্প মূলধন দিয়ে কি ব্যবসা করা যায়। তাদের জন্য দেশি মোরগ হতে পারে একটি সময়পযোগি ব্যবসা। স ল্প জায়গায় অল্প টাকা বিনিয়োগ করে সল্প সময়ে অধিক আয় করা যায়। বসত বাড়িতে মুরগি চাষ হচ্ছে একটি সহজ এবং লাভজনক কাজ। বাড়ির গৃহিণীরা খামার স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারে। একটি মোরগ একটি মুরগির তুলনায় দ্রুত বাড়ে আর বাজারে দেশি মোরগের প্রচুর চাহিদা থাকায় মোরগ বিক্রি করতে তেমন বেগ পেতে হয়না এবং বাজারে ভাল দাম ও পাওয়া যায়।
দেশি মোরগ আবদ্ধ ও ছেড়ে পালন করা যায়। তবে ছেড়ে পালন করলে বেশি লাভবান হওয়া যায় কারন মোরগ নিজের খাদ্য নিজে কুড়িয়ে খায়।এরা মুক্ত আলো বাতাস বিশেষ করে প্রচুর সূর্য কিরণে বেড়ে উঠে যা তাদের শরীরে ভিটামিন ‘ডি’ তৈরি করতে সাহায্য করে। এদের খাবারের জন্য তেমন কোন খরচ করতে হয় না।
মোরগ নির্বাচনঃ- দেশি মোরগ বা মুরগির বাচ্চা উৎপাদনের জন্য তেমন কোন হ্যাচারি গড়ে ওঠেনি তাই নিজেকে ই দেখে শুনে সুস্থ সবল ও নিরোগ মোরগ সংগ্রহ করতে হবে। মূলত ৪০০-৬০০ গ্রামের মোরগ দিয়ে শুরু করলে ভাল ফলাফল আশা করা যায়। কারন ঐ সময়ের পর মোরগ গুলো দ্রুত বাড়ে এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচর্যা পেলে ২ মাস পর মোরগ গুলোর গড় ওজন ২ কেজির উপর হবে। প্রতি কিলো দেশি মোরগের মূল্য কেমন আছে সেটা নাই বা বললাম। আপনারা নিজেরা লাভ-ক্ষতি বের করে নিন।
মুরগির ঘর তৈরির নিয়মঃ- মোরগের জন্য খোলামেলা ঘর হতে হবে। ১.৫ মিটার (৫ ফুট) লম্বা X১.২ মিটার (৪ ফুট) চওড়া এবং ১ মিটার (৩.৫ ফুট) উঁচু ঘর তৈরি করতে হবে। ঘরের বেড়া বাঁশের তরজা বা কাঠের তক্তা দিয়ে তৈরি করতে হবে। এছাড়া মাটির দেয়ালও তৈরি করা যাবে। বেড়া বা দেওয়ালে আলো বাতাস চলাচলের জন্য ছিদ্র থাকতে হবে। ঘরের চাল খড়, টিন বা বাঁশের তরজার সাথে পলিথিন ব্যবহার করে তৈরি করা যাবে। এরকম ঘরে ১০-১৫টি মোরগ পালন করা যায়।
খাবারঃ- বাড়ির প্রতিদিনের বাড়তি বা বাসী খাদ্য যেমন ফেলে দেওয়া এঁটোভাত, তরকারি,
ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গম, ধান, পোকামাকড়, শাক সবজির ফেলে দেওয়া অংশ, ঘাস, লাতা পাতা, কাঁকর, পাথর কুচি ইত্যাদি মুরগি কুড়িয়ে খায়।
পরিচর্যাঃ- ছেড়ে পালন পদ্ধতিতে মুরগি পরিচর্যার জন্য সময় বা লোকজনের তেমন দরকার পড়ে না। তারপরও কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখতে হয়। সকালে মুরগির ঘর খুলে কিছু খাবার দিতে হবে। সন্ধ্যায় মুরগি ঘরে ওঠার আগে আবার কিছু খাবার দিতে হবে। ঘরে উঠলে দরজা বন্ধ করে দিতে হবে।মুরগির পায়খানা ঘরের মেঝেতে যেন লেপ্টে না যায় সেজন্য ঘরের মেঝেতে ধানের তুষ, করাতের গুঁড়া ২.৫ সে.মি. (১ ইঞ্চি) পুরু করে বিছাতে হবে। পায়খানা জমতে জমতে শক্ত জমাট বেঁধে গেলে বারবার তা উলট-পালট করে দিতে হবে এবং কিছুদিন পর পর পরিষ্কার করতে হবে। এ পদ্ধতিতে দেশি মোরগ পালন করা গেলে প্রায় তেমন কোন খরচ ছাড়াই ভাল একটা মুনাফা পাওয়া যাবে।
দেশি মুরগি পালনে যত্ন নিতে হবে
সাকুল্যে ৫-১০টি মুরগি। বাড়ির আশপাশে চরে বেড়িয়ে বাড়ির উচ্ছিষ্ট খাবার, পোকামাকড়, কেঁচো, কচি ঘাসপাতা খায় তারা। সে অর্থে প্রতিপালনের কোনও খরচ নেই বললে চলে। আপাতদৃষ্টিতে লাভজনক মনে হলেও আসলে অতটা লাভ হয় না। ছাড়া মুরগি অন্যত্র ডিম পেড়ে আসে, কখনও রোগে মারা যায়। তাই দেশি মুরগির পালন লাভজনক করতে হলে কিছু নিয়ন্ত্রণ থাকা দরকার, সে জাত নির্বাচনেই হোক বা রোগ পরিচর্যায়।
প্রথমে আসি মুরগির জাতে। ব্রয়লার খামারের হাইব্রিড মুরগি উঠোনে ছেড়ে পালন করা যায় না। তাই খাঁটি জাতগুলোকে বাছতে হবে। যেমন, রোড আইল্যান্ড রেড (আরআইআর) বা ব্ল্যাক অস্ট্রালর্প। রঘুনাথপুর, বালুরঘাটের রাজ্য মুরগি খামারে লাল বা আরআইআর এবং কালো বা ব্ল্যাক অস্ট্রালর্প মুরগির বাচ্চা পাওয়া যায়। ইদানীং কালে বনরাজা, গিরিরাজা, গ্রামরপ্রিয়া ইত্যাদি জাত কৃত্রিম ভাবে তৈরি করা হয়েছে।
মুরগি রাতে রাখার জন্য ঘর বানাতে হবে। মাটি থেকে সামান্য উপরে বাঁশ বা কাঠ দিয়ে কম খরচে খড় বা টালি ঢেকে তৈরি ঘরগুলো যেন শুকনো, পরিষ্কার হয়। আর আলো-বাতাস খেলে। প্রতিটি পাখির জন্য গড়ে তিন বর্গফুট জায়গা ধরতে হবে।
দেশি মুরগি চরে বেড়িয়ে তার খাবার সংগ্রহ করে নিলেও এ ধরনের উন্নত জাতের মুরগির পুরো উৎপাদন ক্ষমতা কাজে লাগাতে অল্প পরিমাণে সুষম খাবার দেওয়া প্রয়োজন। চালের গুঁড়ো (৩০০ গ্রাম), খুদ বা গম ভাঙা (২৮০ গ্রাম), সর্ষে/ তিল খোল ( ২০০ গ্রাম), মাছ বা সোয়াবিন গুঁড়ো (২০০ গ্রাম), ভিটামিন ও খনিজ লবণ মিশ্রণ যেমন সাপ্লিভিট এম (২০ গ্রাম) মিশিয়ে মুরগির সংখ্যা অনুযায়ী মাথা পিছু ৫০-৭০ গ্রাম হিসাবে অর্ধেক সকালে ও অর্ধেক বিকালে খেতে দিতে হবে। রাতে মুরগি রাখার যে ঘর আছে, সেখানে নির্দিষ্ট পাত্রে জল ও খাবার দিতে হবে। যাতে সকালে ঘর থেকে বেরনো বা পরে ঘরে ঢোকার সময় ওই খাবার ও জল খাওয়া অভ্যাস তৈরি হয়। এই অভ্যাস থাকলে ওষুধ গুলে খাওয়াতে সুবিধা হয়। মুরগির খাবার সবসময় শুকনো ও পরিষ্কার রাখতে হবে। বেশি দিন জমা রাখলে ছত্রাক সংক্রমণ ঘটে।
সংকরায়ণ পদ্ধতিতে দেশি মুরগির সঙ্গে উন্নত মোরগ রেখে প্রাকৃতিক প্রজনন ঘটিয়ে দেশি মুরগির জিনগত উৎকর্ষতা বাড়ানো যায়। প্রতি ১০টি দেশি মুরগি পিছু ১টি উন্নত জাতের মোরগ রাখতে হবে। যে সংকর মুরগি জন্মাবে, তা দেশি মুরগির চেয়ে দ্রুত (৪-৫ মাস বয়সে) এবং প্রায় দ্বিগুণ (বছরে ১২০-১৪০টি) ডিম দেবে।
রোগব্যাধি মুরগি পালনের অন্যতম সমস্যা। তাই নিয়মিত মুরগির ঘর চুন বা জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। প্রতি মাসে একবার করে কৃমিনাশক ওষুধ (পাইপেরাজিন তরল বয়স অনুযায়ী ০.৫-১ মিলি) জলে গুলে খাওয়াতে হবে। রানিক্ষেত বা বসন্তের মতো কয়েকটি সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাকরণ জরুরি। টিকা দেওয়ার দশ দিন আগে কৃমির ওষুধ খাওয়াতে হবে। টিকাকরণ বিশেষত রানিক্ষেত টিকা ৭-১০ দিন বয়সে নাকে বা চোখে এক ফোঁটা, ৩০ দিন বয়সে আর এক বার, ২ মাস বয়সে প্রথম কৃমির ওষুধ এবং আড়াই মাস বয়সে ডানার তলায় ০.৫ মিলি ইঞ্জেকশন অবশ্যই নিতে হবে। ঝিমুনি, সর্দি, শ্বাসকষ্ট, পাতলা বা রক্ত পায়খানা নজরে এলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যাকট্রিম ডিএস বা সেপম্যাক্স (১টি বড়ি ১০টি বড় বা ২০টি বাচ্চা মুরগির জন্য) খাবারে বা জলে গুলে ড্রপারে করে খাইয়ে দিতে হবে (৩/৫/৭ দিন)।
দেশী মুরগি বানিজ্যিকভাবে পালন
দেশী মুরগি বানিজ্যিকভাবে পালন কৌশল আয় বৃদ্ধি ও পারিবারিক পুষ্টির নিশ্চয়তা বিধানে দেশী মুরগী প্রতিপালন বিশেষ অবদান রাখতে পারে । আমরা সবাই বলে থাকি দেশী মুরগির উৎপাদন কম । কিন্তু বিভিন্ন পর্যায়ে বিশেষ লক্ষ্য এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করে দেশী মুরগীর উৎপাদন দ্বিগুনের ও বেশী পাওয়া সম্ভব। দেশী মুরগি থেকে লাভ জনক উৎপাদন পওয়ায় বিভিন্ন কৌশল এখানে বর্ননা করা হয়েছে।
গবেষনায় দেখা গেছে দেশী মুরগির ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি করে বাজারে বিক্রি করার চেয়ে ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা তৈরী করে ৮-১২ সপ্তাহ বয়সে বিক্রি করলে লাভ বেশী হয়। এক সংঙ্গে ১০-১২ টি মুরগি নিয়ে পালন শূরু করতে হবে। তবে কখনও ১৫-১৬ টির বেশী নেওয়া ঠিক না । তাতে অনেক অসুবিধাই হয় । শুরুতে মুরগি গুলোকে কৃমি নাষক ঔষধ খাওয়ানোর পরে রানীক্ষেত রোগের টীকা দিতে হবে। মুরগির গায়ে উকুন থাকলে তাও মেরে নিতে হবে। প্রতিটি মুরগিকে দিনে ৫০-৬০ গ্রাম হারে সুষম খাদ্য দিতে হবে। আজকাল বাজারে লেয়ার মুরগির সুষম খাদ্য পাওয়া যায় । তা ছাড়া আধা আবদ্ধ এ পদ্ধতিতে পালন করলে লাভ বেশী হয়।
মুরগির সাথে অবশ্যই একটি বড় আকারের মোরগ থাকতে হবে। তা না হলে ডিম ফুটানো যাবে না । ডিম পাড়া শেষ হলে মুরগি উমে আসবে । তখন ডিম দিয়ে বাচ্চা ফুটানোর ব্যবস্থা নিতে হয়।এক সঙ্গে একটি মুরগির নীচে ১২-১৪ টি ডিম বসানো যাবে। খামারের আদলে বাঁশ, কাঠ খড়, বিচলী তাল নারকেল সুপারির পাতা দিয়ে যত কম খরচে স্থানান্তর যোগ্য ঘর তৈরী করা সম্ভব তা করা যায়। ঘর তৈরীর সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন সঠিক মাপের হয় এবং পর্যাপ্ত আলো বাতাস চলাচল করতে পারে । বানানোর পর ঘরটিকে বাড়ীর সব চেয়ে নিরিবিলি স্থানে রাখতে হবে । মাটির উপর ইট দিয়ে তার উপর বসাতে হবে। তাহলে ঘর বেশী দিন টিকবে ।
ফুটানোর ডিম সংগ্রহ ও সংরক্ষনঃ- আরেকটি প্রয়োজনীয় ̧গুরুত্বপূর্ন কাজ। ডিম পাড়ার পর ডিম সসংগ্রহের সময় পেন্সিল দিয়ে ডিমের গায়ে তারিখ লিখে ঠান্ডা জায়গায় সংরক্ষন করতে হবে। ডিম পাড়া শেষ হলেই মুরগি কুঁচো হবে। গরম কালে ৫-৬ দিন বয়সের ডিম এবং শীত কালে ১০-১২ দিন বয়সের ডিম ফুটানোর জন্য নির্বাচন করতে
হবে।
দেশী মুরগি পালন কৌশলের বিশেষ নজর দেয়ার ধাপ সমূহঃ-
উমে বসানো মুরগির পরিচর্যা করতে হবে। মুরগির সামনে পাত্রে সবসময় খাবার ও পানি দিয়ে রাখতে হবে যাতে সে ইচ্ছে করলেই খেতে পারে । তাহলে মুরগির ওজন হ্রাস পাবেনা এতে বাচ্চা তোলার পর আবার তাড়াতাড়ি ডিম পাড়া আরম্ভ করবে।
- ডিম বসানোর ৭-৮ দিন পর আলোতে রাতের বেলা ডিম পরীক্ষা করলে বাচ্চা হয় নাই এমন ডিম ̧লো চেনা যাবে এবং বের করে অনতে হবে। বাচ্চা হওয়া ডিম ̧লো সুন্দর করে সাজিয়ে দিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন মুরগি বিরক্ত না হয়।
প্রতিটি ডিমের গায়ে সমভাভে তাপ লাগার জন ̈ দিনে কমপেক্ষ ৫-৬ বার ওলট পালট করে দিতে হবে।
বাতাসের আর্দ্রতা কম হলে বিশেষ করে খুব গরম ও শীতের সময় ডিম উমে বসানোর ১৮- ২০দিন পর্যন্ত কুসুম গরম পানিতে হাতের আঙ্গুল ভিজিয়ে পানি স্প্রে করে দিতে হবে।
*ফোটার পর ৫-৬ ঘন্টা পর্যন্ত মাকে দিয়ে বাচ্চাকে উম দিতে হবে। তাতে বাচ্চা শুকিয়ে ঝরঝরে হবে।
বাচ্চা ফুটার পর বাচ্চার পরিচর্যা ও ডিম পাড়া মুরগির পরিচর্যা :- গরম কালে বাচ্চার বয়স ৩-৪ দিন এবং শীত কালে ১০-১২ দিন পর্যন্ত বাচ্চার সাথে মাকে থাকতে দিতে হবে। তখন মুরগি নিজেই বাচ্চাকে উম দিবে। এতে কৃত্রিম উমের (ব্রুডিং ) প্রয়োজন হবে না। এ সময় মা মুরগিকে খাবার দিতে হবে। মা মুরগির খাবারের সাথে বাচ্চার খাবার ও কিছূ আলাদা করে দিতে হবে।
বাচ্চা গুলো মায়ের সাথে খাবার খাওয়া শিখবে। উপরোক্ত বর্নিত সময়ের পর মুরগিকে বাচ্চা থেকে আলাদা করতে হবে। এ অবস্থায় বাচ্চাকে কৃত্রিম ভাবে ব্রুডিং ও খাবার দিতে হবে। তখন থেকেই বাচ্চা পালনের মত বাচ্চা পালন পদ্ধতির সব কিছুই পালন করতে হবে। মা মুরগিকে আলাদা করে লেয়ার খাদ্য দিতে হবে। এ সময় মা মুরগিকে তাড়াতাড়ি সুস্থ হওয়ার জন্য পানিতে দ্রবনীয় ভিটামিন দিতে হবে।
মা মুরগি ও বাচ্চা এমনভাবে আলাদা করতে হবে যেন তারা দৃষ্টির বাহিরে থাকে। এমন কি বাচ্চার চিচি শব্দ যেন মা মুরগি শুনতে না পায় । তা না হলে মা ও বাচ্চার ডাকা ডাকিতে কেউ কোন খাবার বা পানি কিছুই খাবে না । আলাদা করার পর অবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে গেলে আর কোন সমস্য থাকে না ।প্রতিটি মুরগিকে এ সময় ৮০-৯০ গ্রাম লেয়ার খাবার দিতে হবে। সাথে সাথে ৫-৭ ঘন্টা চড়ে বেড়াতে দিতে হবে। প্রতি ৩-৪ মাস পর পর কৃমির ঔষধ এবং ৪-৫ মাস পর পর আর. ডি. ভি . টীকা দিতে হবে।
দেশে একটি মুরগি ডিম পাড়ার জন্য ২০ -২৪দিন সময় নেয় । ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোর জন্য ২১ দিন সময় নেয় । বাচ্চা লালন পালন করে বড় করে তোলার জন্য ৯০-১১০ দিন সময় নেয় । ডিম থেকে এ ভাবে (৯০-১১০ দিন ) বাচ্চা বড় করা পর্যন্ত একটি দেশী মুরগির উৎপাদন চক্র শেষ করতে স্বাভাবিক অবস্থায় ১২০- ১৩০ দিন সময় লাগে।
কিন্তু মাকে বাচ্চা থেকে আলাদা করার ফলে এই উৎপাদন চক্র ৬০ -৬২ দিনের মধ্যে সমাপ্ত হয়। বাকি সময় মুরগিকে ডিম পাড়ার কাজে ব্যবহার করা যায় । এই পালন পদ্ধতিকে ক্রিপ ফিডিং বলে । * ক্রিপ ফিডিং পদ্ধতিতে বাচ্চা পালন করলে মুরগিকে বাচ্চা পালনে বেশী সময় ব্যায় করতে হয় না । ফলে ডিম পাড়ার জন্য মুরগি বেশী সময় দিতে পারে । এই পদ্ধতিতে বাচ্চা ফুটার সংখ্যা বেশী হয় । দেখা গেছে বাচ্চার মৃত্যুহারও অনেক কম থাকে। মোট কথা অনেক দিক দিয়েই লাভবান হওয়া যায় । এই পদ্ধতি বর্তমানে অনেকে ব্যবহার করে লাভবান হচ্ছেন।
Saturday, July 15, 2017
কৃষি প্রযুক্তিতে পথ প্রদর্শক বাংলাদেশ
কৃষক যে ফসল ফলান, তা যদি তিনি সময়মত বিত্রিক্র করতে না পারেন, তা হলে তাদের বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়। বাজারজাত সমস্যার কারণে কোনো এলাকায় বাম্পার ফলনে দাম পড়ে যায়। আবার অন্য এলাকায় ভোক্তাদের তা চড়া দামে ত্রক্রয় করতে হয়। তা যেন না হয়, সে জন্য মোবাইল, ফেসবুক ও ওয়েবসাইটে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ই-কৃষি। ডিজিটাল কৃষির বদৌলতে উৎপাদন যেমন বাড়ছে, তেমনি কৃষকের মাঠের ফসল সরাসরি চলে আসছে রাজধানীর বড় বড় দোকানগুলোতে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম থেকে মুক্তি মিলছে ভোক্তা ও কৃষকের।
গোটা বিশ্ব তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির জোয়ারে ভাসছে। উন্নত দেশগুলো প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। কৃষি প্রধান বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্বের সাথে, সময়ের সাথে তালমিলিয়ে। কৃষকের দোর গোড়ায় পৌছে যাচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তির সেবা। মোবাইল ফোন, রেডিও, টিভি, কম্পিউটার, ইন্টারনেট, সিনেমা সবই কৃষক তথ্য সেবার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বরগুনার আমতলীতে কৃষকদের জন্য সরকারিভাবে কমিউনিটি রেডিও চালু হয়েছে। বেসরকারি ১৩ রেডিও কৃষি তথ্য সেবা দিচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রথম বাংলাদেশে কৃষি গবেষণায় ব্যবহার করা হচ্ছে অক্টো-কপ্টল্টার। গবেষকরা জানিয়েছেন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই ড্রোন, কৃষকদের ক্ষেত ও ফসল সম্পর্কে দ্রুত নির্ভুল তথ্য দেবে। মোবাইল ফোন কলের মাধ্যমে সঙ্গে সঙ্গে সমস্যা সমাধানের সেবা পাচ্ছেন দেশের প্রত্যন্ত এলাকার কৃষক। সরাসরি ১৬১২৩ এবং ৬৭৬৭ নম্বরের মাধ্যমে সমাধান মিলছে। ১৬১২৩ নম্বরে ফোন দিলে খামারবাড়ির কৃষি তথ্য সার্ভিসের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে তথ্য সেবা পাচ্ছেন কৃষক। আর ৬৭৬৭ নম্বরের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে তথ্য জানতে পারেন বা কৃষি কর্মকর্তাকে মাঠে ডেকে নিতে পারেন কৃষক। মোবাইলে কৃষি সেবা আরো সহজ করতে দেশের ১৪ হাজার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে মোবাইল কোম্পানি বাংলালিংক সিম প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কৃষি তথ্যের প্রচলন প্রকল্পের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সঠিক কৃষি তথ্য সহজলভ্য করার জন্য ১৫০ গ্রামে একটি করে কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। আরও ৯০ গ্রামে একটি করে কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলছে। তৈরী করা হয়েছে কৃষকের ডাটাবেউজ। এ ডাটাবেইজের তালিকা ধরে ধরে কৃষকের উপকরণ, ১০ টাকায় ব্যাংক হিসেব খোলা ও কৃষি ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। কৃষি কল সেন্টারের মাধ্যমেও কৃষকদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি তথ্য সার্ভিস ও প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের উদ্যোগে কৃষি কল সেন্টার সেবা দিচ্ছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কৃষি তথ্যের প্রচলন প্রকল্পের পরিচালক ড. রাধেশ্যাম সরকার বলেন, দেশজুড়ে বিনামূল্যে মোবাইলে কল করে সেবা নিতে পারছেন কৃষক। তৃণমূল পর্যায়ে ২৪৫টি কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। চালু করা হয়েছে কৃষি ও কমিউনিটি রেডিও। প্রতিনিয়ত তৈরি করা হয়েছে মোবাইল অ্যাপস। দেশের ১৫টি চিনিকলের সব আখ চাষী এখন এসএমএস এর মাধ্যমে আগাম বিপনন তথ্য পাচ্ছেন। ফলে আখচাষীদের দীর্ঘ দিনের বিড়ম্বনার অবসান হয়েছে। কৃষকদের আধুনিক কৃষিকাজে যুক্ত করার জন্য ১০ জেলায় এআইসিটি ল্যাব (কৃষি তথ্য যোগাযোগ কেন্দ্র) স্থাপিত
হয়েছে। এআইসিটি সদস্যরা বিনা মূল্যে ল্যাব থেকেএআইসিটি প্রশিক্ষণ নিতে পারছেন। প্রত্যেক এআইসিটি ল্যাবে এআইসিটি উপকরণ- ডেস্কটপ কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মাল্কিল্টমিডিয়া প্রজেক্টর, ইন্টারনেট মডেম, প্রিন্টার, জেনারেটর ইত্যাদি বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মহাপরিচালক এবং এটুআই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কবীর বিন আনোয়ার বলেন, কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার সহজ করায় চিনিকলগুলোকে মৌসুমের মাঝখানে আখের অপেক্ষায় আর বসে থাকতে হচ্ছে না, এগুলো আরো দক্ষভাবে পরিচালিত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, কৃষকদের আয় ও জীবনযাত্রার মান বেড়েছে এবং তাদের ক্ষমতায়ন হয়েছে বলেও তিনি জানান। ইতিমধ্যে অন্যান্য কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রেও মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে পাইকারি বাজারদর জানবার প্রদ্ধতি সরকার চালু করেছে। এর সুবিধা বেশ কিছু কৃষক এবং ব্যবসায়ী নিতেও শুরু করেছেন, তবে ভবিষ্যতে এর আওতা আরো সম্প্রসারিত হবে।
খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন বজায় রাখতে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপকূলীয় এলাকায় কৃষি গবেষণায় ব্যবহার হচ্ছে ড্রোন (মানুষবিহীন উড়ো যান)। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বপ্রথম বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগে ড্রোন ব্যবহার করে কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে গবেষণার কাজ চলছে। বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট, নেদারল্যান্ডসের টুয়েন্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে দেশের কৃষি গবেষণায় আধুনিক, উন্নত এবং কার্যকর প্রযুক্তি মানুষবিহীন এ যান ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে কৃষক জমিতে পরিমিত সার প্রয়োগ এবং রোগ-পোকামাকড়ের আক্রমণ দমন করার বার্তা বা তথ্য সংগ্রহের জন্য এই যানটি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে সফলভাবে এর ব্যবহার শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম গবেষণা কেন্দ্রের গবেষক ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ শেখ হেমায়েত হোসেন বলেন, ইনফরমেশন অন ফিঙ্গার টাচ নামে তথ্য সার্ভিসের সদর দপ্তরে একটি কিয়স্ক (বুথ) স্থাপন করা হয়েছে। টাচ স্ক্রীনের মাধ্যমে সহজেই এ বুথ থেকে কৃষিবিষয়ক তথ্য নেয়া যাচ্ছে। কৃষকের জানালা নামে একটি সেবা রয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের। এটি হচ্ছে মাঠ ফসলের বিভিন্ন সমস্যার ধারণকৃত ছবির তথ্য ভাণ্ডার যা ব্যবহার করে সমস্যা নির্ণয় এবং একই সাথে সমস্যার পরিবেশ বান্ধব সমাধান করবে এটি। যে কোন কম্পিউটার বা স্মার্ট ফোনে এটি ব্যবহার করা যায়।
আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি যত দ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছানোর জন্য ইউএনডিপি ও ড্যানিশ সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৃষি তথ্য সার্ভিস, কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র বা এআইসিসি চালু করেছে। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সব জাত, চাষাবাদ প্রত্রিক্রয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাচ্ছে। এছাড়া এই অ্যাপসের মাধ্যমে বারি উদ্ভাবিত ফসলের উন্নত প্রযুক্তি, বিশেষ করে রোগবালাই, পোকা মাকড় ও সার ব্যবস্থাপনাসহ যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। মোবাইলে ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে এ অ্যাপসের মাধ্যমে কৃষকরা পাচ্ছেন সব তথ্য। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের রয়েছে রাইজ নলেজ ব্যাংক নামে ইন্টারনেট ভিত্তিক একটি তথ্য সেবা। এর মাধ্যমে কৃষকরা ধানের সঠিক জাত, রোপণের কৌশল, সার ব্যবস্থাপনা তথ্য জানতে পারছেন। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল জলবায়ু তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন উপাত্তের উপর ভিত্তি করে সেবাটি তৈরি করা হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করেছে ফসল পঞ্জিকা। বাংলাদেশে এখন সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে প্রায় তিন হাজারের বেশি টেলিসেন্টার রয়েছে। এসব তথ্যকেন্দ্র থেকে কৃষি তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। অনেক কৃষক তথ্যকেন্দ্রের কর্মীকে মাঠে নিয়ে যান। তার ক্ষেতের রোগাক্রান্ত ফসল বা পাতার ছবি তুলে ই-মেইল করেন। এরপর ছবিটি বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সেবা পাচ্ছেন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, কৃষি কল সেন্টার ১২৩ নম্বরে মোবাইল ফোন থেকে ফিদ্ধ এসএমএস এবং সরাসরি কল করে কৃষিবিষয়ক যেকোনো সমস্যার সমাধান কৃষক পেতে পারেন। এ ছাড়া ভ্রাম্যমান সিনেমা ভ্যানের মাধ্যমে ভিডিও প্রদর্শন করে কৃষকদের সচেতন করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র প্রর্দশনের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে খুব সহজেই কৃষকদের মাঝে প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এ ধারণা নিয়ে কৃষি তথ্য সার্ভিস বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ কৌশল, উদ্বুদ্ধকরণ নাটিকা বা গান প্রচার করছে। কৃষি তথ্য সার্ভিস বাংলা ভাষায় কৃষি তথ্যসমৃদ্ধ ওয়েবসাইট তৈরি করেছে। দেশে এ পর্যন্ত ১৪টি কমিউনিট রেডিও লাইসেন্স পেয়েছে। একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান কৃষি তথ্য সার্ভিস কর্তৃক পরিচালিত বরগুনার আমতলীতে স্থাপিত হয়েছে কমিউনিটি রেডিও ‘আমার রেডিও আমাদেরও কথা বলে’।
‘কৃষি সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট’ মাটি পরীক্ষার জন্য তৈরি করেছে ‘সারের প্রয়োগমাত্রা নিরুপণের সফটওয়্যার’। মাটিতে কি কি উপাদান আছে তা মাটি পরীক্ষা করে বের করে, এই সফটওয়্যারে বসিয়ে, সেইসাথে জমির পরিমাণটুকু বসিয়ে দিলেই কৃষক বা কৃষিবিদ জেনে যাবেন, তার জমিতে কি পরিমাণ সার লাগবে। তথ্য প্রযুক্তির এই সুফলটিও মাঠ পর্যায়ে অনেক কৃষক এখন গ্রহণ করছে। ফলে সারের পিছনে কৃষকদের ব্যয় কমে এসেছে, কৃষকের উৎপাদন ভালো হয়েছে এবং মাটির গুণাগুণ উন্নীত হয়েছে। দেড় লাখ সয়েল স্যাম্পল বিশ্লেষণের পর ম্যাপিং করে মাটির উর্বরতার ঘাটতি বিশ্লেষণ করে ডিজিটাল ডাটাবেজ থেকে এসকিউএল সার্ভারের মাধ্যমে সার প্রয়োগ সংক্রান্ত রিয়েল টাইম ডাটা সেবা দেয়া হচ্ছে। ক্যাটালিস্টদের সহযোগিতায় ২০০৯ সালে ৩০ উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া তথ্যসেবাটি এটুআই-এর হাত ধরে ২০১৪ সাল থেকে পৌঁছে গেছে প্রত্যন্ত অঞ্চলে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. রফিকুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, কৃষকদের কাছাকাছি তথ্য সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য নানামুখী কর্মপরিকল্পনা চলছে। কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইমেলের মাধ্যমে প্রশ্ন পাঠালে পরদিনই উত্তর পাওয়া যায়। স্মার্ট ফোনের অ্যাপসে গিয়ে প্রশ্ন লিখলে সাথে সাথে উত্তর দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। কৃষকরা এটা নিজে না পারলে কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা নিয়ে করতে পারবেন।
- গুটি ইউরিয়া যন্ত্র
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ফার্ম মেশিনারী এন্ড পোষ্ট হারেভষ্ট টেকনোলজি (এফএমপিএইচটি) বিভাগ একটি হস্তচালিত গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ যন্ত্র উদ্ভাবন করেছে যার মাধ্যমে একজন শ্রমিক প্রতি ঘন্টায় একবিঘা জমিতে গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ করতে পারে। প্রচলিত পদ্ধতিতে একজন শ্রমিক সারাদিনে দক্ষতাভেদে ২০-৩০ শতাংশ জমিতে গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ করতে পারে। সুতরাং প্রচলিত পদ্�.. - মাশরুমের চাষ
মাশরুম একটি পুষ্টিকর সবজি। সাধারণত: সবজির মতো মাশরুম মাটিতে জন্মায় না। এটি নিম্নশ্রেণীর ছত্রাক জাতীয় পরজীবী উদ্ভিদ। জীবন ধারনের জন্য এরা জৈবিক বস্তু (Organic mattor) থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করে। আশির দশকের শুরুতে এদেশে পরীক্ষামূলকভাবে মাশরুম চাষ শুরু হয়। সে সময় সাভারে অবস্থিত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আওতাধীন ২টি কালচার সেন্টারে �.. - কেসিএম পাওয়ার টিলারবর্তমানে দেশের অধিকাংশ জমি (শুকনো বা কাদা) পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ করা হয়। প্রচলিত পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি তৈরি করতে ৫-৬টি চাষের প্রয়োজন হয়। KGF(কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন), CASEED এবং MAWTS-এর যৌথ উদ্যোগে উদ্ভাবিত কেসিএম পাওয়ার টিলার দিয়ে সেখানে ২/৩টি চাষ যথেষ্ট।এই যন্ত্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শুকনো জমিতে অর্থাৎ যে জমির উপর দিয়ে হেঁটে যেতে পায়ে কাদা লাগে না, এমন জমিতে গভ..
- কম্পোস্টআপনি জানেন কি?
- বর্তমানে জমিতে অধিক উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রচুর পরিমানে রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয়।
- তবে ব্যাপকহারে এ রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে জমিতে এর বিরূপ প্রভাব ও পড়ে ।
- সাথে সাথে জমিতে জৈব পদার্থ ও উপকারী অনুজীবের পরিমান হ্রাস পেতে থা..
- কেচোঁ কম্পোস্ট (ভার্মি কম্পোস্ট)কেচোঁ মানুষের একটি অন্যতম উপকারী প্রাকৃতিক ক্ষুদ্র প্রাণী। এ প্রাণী যে মাটি চাষাবাদের কাজে উপকারে আসে তা আমরা গুরুত্ব দিয়ে চিন্তা করিনি। প্রধানত কেচোঁ উপরের মাটি নিচে এবং নিচের মাটি উপরে তুলে থাকে। এসব কাজের সাথেই কেচোঁর সারও তৈরি হয়। কেচোঁর দ্বারা জৈব সার তৈরির জন্য এ সাথে তরকারির খোসা, গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা ও নাড়িভুড়ি, পাতাসহ পচা আবর্জন
পরিবর্তিত জলবায়ুতে বারো মাসের কৃষি
বৈশাখ:
১/এ মাসে খরা হতে পারে এবং বোরো ধানের জন্য খুবই নাজুক সময়। নাবি বোরো ধানের থোড় আসার সময় যাতে খরার জন্য পানির অভাব না হয় তার জন্য আগে থেকেই সেচের ব্যবস্থা রাখা।
২/ ধান গাছে এসময়ে ফুল আসে এবং বাদামী গাছ ফড়িং এর ব্যাপক আক্রমন হয়। যার ফলে ধান চিটা হয়ে যায়।- ড্রাম সিডারের বিবরণ : এটি প্লাস্টিকের তৈরি ছয়টি ড্রাম বিশিষ্ট বীজ বপন যন্ত্র। ড্রামগুলো ২.৩ মিটার লম্বা লোহার দণ্ডে পরপর সাজানো থাকে। লোহার দণ্ডের দুই প্রান্তে প্লাস্টিকের তৈরি দু’টি চাকা এবং যন্ত্রটি টানার জন্য একটি হাতল যুক্ত থাকে। প্রতিটি ড্রামের দৈর্ঘ্য ২৫ সেন্টিমিটার এবং ব্যাস ৫৫ সেন্টিমিটার এবং এর দুই প্রান্তে ২০ সেন্টিমিটার দূরত্বে
বনসাই চাষ ও যত্ন
বনসাই চাষ ও যত্ন
বনসাই একটি জীবন্ত শিল্প।একটি শক্ত কান্ড বিশিষ্ট গাছ কে একটি ছোট পটে রেখে বছরের পরবছর একে বাঁচিয়ে রাখার শিল্পকেই বনসাই বলে।প্রাণের স্পন্দন আর শিল্পকর্মের নান্দনিকতা এক সুতোয় প্রকাশ পায় বলেই বনসাই জীবন্ত শিল্পকর্ম হিসেবে পরিচিত। নগরে ইটের স্থাপনার মধ্যে এক টুকরো সবুজের উপস্থিতি এবং স্বল্প পরিসরে সহজ যত্ন-আত্তিতে বনসাই সংগ্রহ করা যায় বলেই বৃক্ষপ্রিয় মানুষের কাছে বনসাইয়ের কদর যেন একটু বেশিই।
বহু বছর আগে চীন দেশে এই শিল্পের সূচনা হলেও পরবর্তী আজকাল শৌখিন সংগ্রহের পাশাপাশি ঘর সাজাতে এবং অন্যান্য ইন্টেরিয়র ডিজাইনের কাজে বনসাই ব্যবহার করা হয়। মূল গাছের সব বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে, অগভীর ছোট পাত্রে বৃক্ষজাতীয় গাছের ক্ষুদ্র সংস্করণ গড়ে তোলার কাজকেই বনসাইশিল্প বলা হয়। ক্ষুদ্র এই সংস্করণটিই বনসাই হিসেবে পরিচিত।
গাছ নির্বাচন[সম্পাদনা]
যে সকল গাছের বৃদ্ধি ধীরে ধীরে হয়। গাছের কান্ড মোটা হয়। বছরে একবার পাতা ঝরে। গাছের বয়স হলে গাছের ছাল মোটা হয়। গাছের ঝুরি নামে এমন গাছ, শিকড় কেটে দিলে ঝুরি গাছের শিকড়ের কাজ করে। গাছ অনেকদিন সতেজ থাকে এবং গাছের বয়স অনুযায়ী বেঁচে থাকে। যেখানে বা যেদেশে বনসাই করা হবে সে স্থানের আবহাওয়া উপযোগী হতে হয়।
বাংলাদেশে বনসাই করা যেতে পারে এমন গাছগুলো হল:
- বট * বকুল * শিমুল * পাকুড় * তেতুল * শিবীষ * বাবলা * পলাশ * বিলিতি বেল * ছাতিম * হিজল * জাম *নিম * বেলি * গাব * শেফালী * পেয়ারা * হেওরা * ডালিম * তমাল * জাম্বুরা * কমলা * তুলসী * বহেরা * বরই * কামিনী * মেহেদী * কড়ই * অর্জুন * জারুল * জুনিপার * নরশিংধ * করমচা * লুকলুকি * কৃষ্ণচূড়া * কদবেল * দেবদারু * সাইকেশ * হরিতকি * কামরাঙা * আমলকি * নীলজবা * লালজবা * অশ্বথ বট * নুডা বট * পাকুর বট * কাঠলি বট * রঙ্গন ছোট * রঙ্গন বড় * নিম সুন্দরী * লাল গোলাপ * খই বাবলা * কনকচাঁপা * গোলাপজাম * পাথরকুচি * সাদা নয়নতারা * স্টার কুইন * বাগান বিলাস * হেলিকুনিয়া * লাল টাইমফুল * গোলাপিটা ফুল * ক্যাকটাস গোল * ক্যাকটাস লম্বা * পান বিলাস * লালা পাতাবাহার * লাল জামরুল * চায়না বাঁশ * সন্ধ্যা মালতী হলুদ * যজ্ঞ ডুমুর * আলমন্ডা
নিজেই তৈরি করুন বনসাই:
যে গাছটির বনসাই তৈরি করবেন, সেটার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ভালোভাবে জেনে নিন। নির্বাচিত গাছের বীজ থেকে চারা তৈরি করে নিতে পারেন অথবা নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করে তা থেকে বনসাই তৈরি করতে পারেন। বনসাইয়ের মাটি তৈরির ক্ষেত্রে দো-আঁশ বা পলিমাটির সঙ্গে পরিমিত জৈব সার ব্যবহার করুন।
পানি নিষ্কাশন ও গাছের বৃদ্ধি রোধে বিশেষভাবে তৈরি টবেই বনসাইয়ের চারা রোপণ করতে হবে। এই টবের নিচের দিকে পানি নিষ্কাশনের এবং কিনারা বরাবর দুই বা ততোধিক ছিদ্র থাকে, যা তার পেঁচিয়ে গাছের বৃদ্ধি কমিয়ে রাখে।
কিছুদিন বৃদ্ধির পর গাছটির জন্য উপযুক্ত আকৃতি নির্ধারণ করে ডালপালায় তার পেঁচিয়ে রাখার পাশাপাশি নিয়মিত অবাঞ্ছিত ডাল-পাতা ছাঁটাই করতে থাকুন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সৃষ্টি হবে আপনার বনসাইটি। ঢাকার পাশাপাশি রাজশাহীতেও বনসাইয়ের প্রসার ব্যাপক
মাটি তৈরি
বনসাই চাষের জন্য দো-আঁশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী। এছাড়া এতে কম্পোস্ট সার ,ইটের গুড়ো, বালি, পাথর এর গুড়ো,পোড়ামাটির গুড়ো,ছাই ইত্যাদি মেশানো উচিৎ। সম্ভব হলে এতে কেঁচো সার, গোবর সার ইত্যাদি মেশানো উচিৎ। মাটি এমন ভাবে তৈরি করতে হবে যাতে পানি নিষ্কাশন ভাল হয়।
চারা সংগ্রহ
বনসাই এর জন্য চারা গাছ যে কোন স্থান থেকে সংগ্রহ করা যায়। বীজ থেকেও চারা সংগ্রহ করা যায়, আবার কলমের চারাও সংগ্রহ করা যায়। কলমের মধ্যে কাটিং,লেয়ারিং,এয়ার লেয়ারিং ইত্যাদি উপায়ে চারা সংগ্রহ করা যায়। নার্সারি থেকে চারা লাগানো যায়। আবার, বট, পাকুড়, অশ্বত্থ গাছের চারা পুরাতন দেয়াল,পুরাতন ইটের স্তুপ থেকেও সংগ্রহ করা যায়।
পট বা টব
বনসাই এর জন্য তেমন বড় পাত্র লাগে না। অপেক্ষাকৃত অনেক ছোট পাত্রে বনসাই চাষ করা হয়। বনসাই এর টব বা পটের নিচে পানি নিষ্কাশন এর জন্য ছোট ছিদ্র থাকতে হয়।
একটু আন্তরিকতাপূর্ণ দেখভাল আপনার বনসাইটিকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। এ ক্ষেত্রে খুব বেশি ঝামেলার দরকার হয় না। আপনাদের জন্য বনসাইয়ের পরিচর্যার নিয়ম সমূহ জানানো হল:
১. গাছকে নিয়মিত খাবার দিন। যেমন, কালো মাটি, বালু বা ইটের চূর্ণ, সরিষা বা নীলের খোসা ইত্যাদি।
২. বনসাই অতিরিক্ত পানিবদ্ধতা এবং রোদ— কোনোটাই সহ্য করতে পারে না। তাই এ বিষয়ে খেয়াল রাখুন।
৩. বনসাই ধুলা-ময়লামুক্ত রাখতে পানি দিয়ে পাতা ও ডাল মুছে দিন।
৪. টবের মাটিতে পোকামাকড় কিংবা ছত্রাকের প্রাদুর্ভাব হলে সঠিক মাত্রায় ওষুধ প্রয়োগ করুন।
৫. এমন স্থানে রাখুন, যেখানে আলো-বাতাস চলাচল করে কিন্তু লোকজনের যাওয়া-আসা কম।
৬. নির্ধারিত আকৃতি ঠিক রাখতে নির্ধারিত ডালপালা বাদে ছাঁটাই করুন।
৭. বেশি ব্যস্ত থাকলে সঠিক মাত্রায় তরল বা স্পেস সার প্রয়োগ করতে পারেন।
৮. অবশ্যই প্রতি এক বছর অন্তর টবের মাটি পরিবর্তন করুন।
৯. গাছের ছাঁটাইসহ অন্যান্য কাজে বনসাই পরিচর্যার জন্য নির্ধারিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করুন।
আপনার বনসাইটি কোনো কারণে বনসাইটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলে, যেখান থেকে কিনেছেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।ব্যক্তিগতভাবে বনসাই সংগ্রহ করেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলুন।খেয়াল রাখবেনকখনোই শুধু দামের ভিত্তিতে বনসাইয়ের ভালো-মন্দ নির্বাচন করবেন না।
বনসাই ক্রয়কালে খেয়াল রাখুন—
#বনসাইটির রুট বেইস ভালো কি না?
#প্রাকৃতিকভাবেই গাছটি সৌন্দর্য প্রকাশ করছে কি না।
#গাছের বাকলে বয়সের ছাপ স্পষ্ট কি না। ভালো
#বনসাইয়ের মূল কাণ্ড মসৃণ ও দাগমুক্ত হয়।
#বনসাইটি আদি বৃক্ষের বৈশিষ্ট্য বহন করে কি না।
শিল্পকর্মের সঙ্গে আপনার সম্পৃক্ততা নিরেট গৃহসজ্জার বস্তু থাকে না, এটি আপনারই একটি অংশ হয়ে ওঠে। সবুজের উপস্থিতি আপনাকে শত ব্যস্ততার মধ্যেও প্রশান্ত রাখে এবং আরও উদ্যমী করে তোলে। একটি প্রাণের উপস্থিতিই অন্য একটি প্রাণের উৎসাহ জোগায়। এই বনসাই হতে পারে আপনার সেই প্রাণের উৎস।
শখের পেশা বনসাই

তারিন তাসমী
মানুষের শখ বিচিত্র। বিচিত্র শখের পেশা। তবে শখের পেশায় সাফল্যের সম্ভাবনা বেশি। মানুষ সাধারণত প্রকৃতির সান্নিধ্য পছন্দ করে। কারণ প্রকৃতি মনকে প্রশান্ত করে। কিন্তু শহুরে যান্ত্রিক জীবনে প্রকৃতির ছোঁয়া দুর্লভ। তাই শহুরে মানুষকে প্রকৃতির ছোঁয়া দিতে বনসাই হতে পারে একটি বিকল্প। সে কারণেই ড্রয়িংরুম, অফিস রুমসহ বিভিন্ন শো প্লেসে বনসাই নাগরিক জীবনকে দিচ্ছে প্রকৃতির ছোঁয়া। বর্তমানে বনসাই একটি শিল্প, এ শিল্পের সাথে জাড়িয়ে আপনিও আপনার পেশাকে বদলে নিতে পারেন। একটি হতে পারে আপনার শখের পেশা।
বনসাই কি
বনসাইয়ের ইতিহাস বহু পুরনো। ধারণা করা হয় প্রায় ২০০০ বছর পূর্বে চীনে এর শুরু। পরবর্তী সময়ে জাপানে বনসাই বিস্তৃতি লাভ করে। বনসাই শব্দটি জাপানি। বন শব্দের অর্থ ছোট পাত্র এবং সাই শব্দের অর্থ গাছ। অর্থাৎ বনসাই মানে দাঁড়াচ্ছে, ছোট পাত্রে গাছ। বনসাই মূলত ছোট পাত্রে বিশেষ পদ্ধতিতে গাছ লাগানোকে বলা হয়।
কীভাবে চাষ করবেন
সাধারণত বনসাইয়ের চারা বা গাছ নির্বাচন করা জরুরি। কারণ সঠিকভাবে গাছ নির্বাচন না করলে বনসাই বেশি দিন টিকে থাকে না। বনসাইয়ের জন্য ফলদ ও বনজ গাছ নির্বাচন করতে পারেন। বনসাই তৈরির জন্য উপযুক্ত প্রজাতির গাছ হলোÑ বট, পাকুর, হিজল, অশ্বথ, ডুমুর, ডালিম, কদম, বাগানবিলাস, বোতল ব্রাশ, নিম, জামরুল, তেঁতুল, করমচা ও কৃষ্ণচূড়া ইত্যাদি। আর টবের মধ্যে দোআঁশ মাটির সাথে জৈবসার মিশিয়ে বনসাইয়ের মাটি তৈরি করা হয়। টবের পানি নিষ্কাশনের ছিদ্রের ওপর ইটের কুচির পরিবর্তে এক টুকরা তারের জালি রেখে তা কিছু কাঁকর দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। রোদ নেই কিন্তু আলো-বাতাস আছে এমন জায়গায় রাখতে হবে।
উপকরণ
বনসাই গাছের জন্য প্রাথমিকভাবে যে জিনিসটি দরকার তা হলো পট। পট না হলে চারা কোথায় তৈরি বা গাছ কোথায় রাখবেন। বনসাইয়ের জন্য ঢাকায় ভালো পট না পেলেও রাজশাহীতে পাওয়া যায় এবং খুব মজবুতও। এরপর বনসাইয়ের ডাল কাটার জন্য সিকেচার, পাতা কাটার জন্য কাঁচি, ডালের গোড়া সরানোর জন্য কনকেক এবং তার কাটার জন্য ওয়্যার টাকার প্রয়োজন বলে জানান জাতীয় উদ্যান ও বলধা বাগানের ফরেস্ট অফিসার মজিবুর রহমান।
স্থান নির্বাচন
বনসাই চাষ করতে চাইলে স্থান নির্বাচনের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ আলো-বাতাসের অভাবে গাছ মারা যেতে পারে। আবার রোদ আছে এমন জায়গায় বনসাই চাষ করা যাবে না। আলো-বাতাস আছে এমন স্থান নির্বাচন করাই বাঞ্ছনীয়। যেসব স্থানে বনসাই তৈরি করতে পারেন-ফ্ল্যাটের বারান্দায়, বাসার ছাদে অথবা পর্যাপ্ত পরিমাণে আলো-বাতাস ঢোকে এমন ঘরে। এক একটি বনসাই ১৪-১৮ ইঞ্চির মধ্যে রাখাই ভালো।
বনসাই তৈরির ধাপ
বনসাই তৈরির জন্য কা-, শেকড়, শাখা-প্রশাখা ও পাতা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করাই যথেষ্ট নয়। টবের ছোট গাছে প্রকৃতির কোলে বেড়ে ওঠা বয়োবৃদ্ধ গাছের সুঠাম ভঙ্গিমায় আনার চেষ্টা করতে হবে বলে জানান বলধা বাগানের ফরেস্ট অফিসার মজিবুর রহমান।
তিনি আরো বলেন, বনসাইকে যে মডেলের রূপ দেয়া হবে তা স্থির করে শাখা বাছাই করা দরকার। জোড়া পাতার কক্ষ থেকে কা-ের দুই পাশের দুটি শাখা গজায়। বাছাই পদ্ধতি অনুসারে এর একটি রাখতে হবে।
শাখা ছাঁটাই
বনসাইয়ের বয়স ৩-৪ বছর হলে তখন প্রুনিংয়ের প্রয়োজন হয়। বাছাই করা মোটা শাখাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাটতে হবে।
তার বাঁধা
কা- বা শাখাকে সুন্দর, ভঙ্গিমায় আনতে যেসব কৃত্রিম উপায় অবলম্বন করা হয় তার বাঁধা তাদের মধ্যে অন্যতম। সরল শাখায় তার জড়িয়ে আঁকাবাঁকা রূপ দেয়া যায়।
উপার্জন
বাংলাদেশে একটা সময় বনসাই দুর্লভ ছিল। বর্তমানে অনেকেই বনসাই করছেন। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে কাজ করতে মানুষ ভালোবাসে। শখের নেশা থেকে পেশা হিসেবে ক্যারিয়ারের জন্য অল্প বিনিয়োগ করে ভালো আয় করতে পারেন বনসাই তৈরি করে। এ পেশায় বাড়িতে বসে ৫০০০ থেকে ৮০০০ টাকা বিনিয়োগ করে মাসে ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। বনসাইয়ের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারেন, কারণ এরাই মূলত আপনার ক্রেতা। যেমন হাসপাতাল, ব্যাংক, রেস্তোরাঁ, বহুজাতিক কোম্পানি, শপিং কমপ্লেক্স সাজানোর জন্য বনসাই প্রয়োজন হয়।
ভালো করতে হলে
বনসাই একটি সৃষ্টিশীল কাজ। এর মাধ্যমে আনন্দ পাওয়া যায়। বনসাই করতে হলে শ্রম দিতে হবে। এর সাথে সব সময় লেগে থাকতে হবে। বনসাই যেমন কঠিন আবার তেমনি সহজ। প্রশিক্ষণ ছাড়া বনসাই করা সম্ভব নয়। এর সম্পর্কে ভালো ধারণা না থাকলে সফলতা পাওয়া কঠিন। তরুণ-তরুণীদের বর্তমানে বনসাইয়ের প্রতি বেশ ঝোঁক রয়েছে। তারা প্রশিক্ষণ নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করলে সফলতা পাবে নিশ্চিত।
প্রশিক্ষণ পেতে যোগাযোগ করতে পারেন, রেডিয়েন্ট ইনস্টিটিউট অব ডিজাইন কিংবা জাতীয় উদ্যান ও বলধা বাগান কর্তৃপক্ষের সাথে।
বনসাই তৈরির কিছু বিশেষ কলা-কৌশল রয়েছে। যেমন প্রুনিং, লিফট্রিমিং, ওয়াইরিং, ক্লাম্পিং, গ্রাফিটং, ডিফলিয়েশন প্রভৃতি। বনসাই তৈরির জন্য পট বা ‘ট্রে’ নির্বাচনও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পট গোলাকার, ডিম্বাকার, বর্গাকার ইত্যাদি বিভিন্ন আকারের হয়। চীনে কাঠের পাত্র বা রৌপ্য নির্মিত পাত্রে বনসাই তৈরির ঐতিহ্য রয়েছে।