Showing posts with label মসলা চাষ. Show all posts
Showing posts with label মসলা চাষ. Show all posts

Saturday, July 8, 2017

কালোজিরা চাষ পদ্ধতি

  • Share The Gag
  • কালোজিরা



    কালোজিরা পরিচিতি





    পরিচিতিঃ মাঝারী জাতীয় নরম মৌসুমী গাছ, একবার ফুল ও ফল হয়ে মরে যায়।
    বৈশিষ্ট্যঃ উচ্চতায় ২০-৩০ সেমি (৮-১২ ইঞ্চি), পাতা সরু ও চিকন, সবুজের মধ্যে ছাই- ছাই রং মেশানো। জোড়া ধরে সোজা হয়ে পাতা জন্মায়।
    ফুলঃ স্ত্রী, পুরুষ দুই ধরণের ফুল হয়, নীলচে সাদা (জাত বিশেষ হলুদাভ) রং। পাঁচটি পাঁপড়ি।
    ফলঃ গোলাকার ফল, কিনারায় আঁকর্শির মত বাড়তি অংশ থাকে।
    বীজঃ কালো রং এর প্রায় তিন কোণা আকৃিতর বীজ। বীজকোষ খাঁজ আকারে ফলের সাথে লম্বালম্বিভাবে থাকে। প্রতিটি ফলে ২০-২৫ টি বীজ থাকতে পারে।

    ব্যবহারঃ মশলা হিসাবে ব্যাপক ব্যবহার। পাঁচফোড়নের একটি উপাদান। ইউনানী, কবিরাজী ও লোকজ চিকিৎসায় বহ রকমের ব্যবহার আছে।প্রসাধনীতেও ব্যবহার হয়।
    যে অংশটি ব্যবহার করা হয়ঃ  শুকেনা বীজ ও বীজ থেকে পাওয়া তেল।



     

    কালোজিরা বপন পদ্ধতি





    পরিবেশঃ প্রচুর রোদ লাগে এমন যে কোন সমতল জমি প্রয়োজন।

    মাটিঃ যে কোন মাটিতেই জন্মায়। বেলে-দোআঁশ মাটিতে ফলন ভালো হয়।

    বপন সময়ঃ অগ্রহায়নের শেষ থেকেই লাগানো যায়। বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে পৌষের প্রথমে লাগানো ভালো।

    জমি তৈরিঃ ভাল করে কুপিয়ে বা লাঙ্গল দিয়ে মাটি মিহি করতে হবে। নিড়ানি দিয়ে ঘাস ও আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। অল্প পরিমাণ অর্থাৎ ১০ শতাংশ বা তার কম জমিতে চাষ করলে ৫ সেমি বা দুই ইঞ্চি উঁচু বেড তৈরি করা ভালো। খেয়াল রাখতে হবে যাতে ৬ ইঞ্চ (১৫ সেমি) মাটি আলগা থাকে। অগ্রহায়নের মাঝামাঝি সময়ে মাটিতে জো আসলে জমি তৈরি করা আরম্ভ করা যেতে পারে। সার মেশানোর এক সপ্তাহ পরে প্রয়োজন হলে একবার নিড়ানি দিয়ে বেড তৈরি শেষ করতে হবে।

    বপনঃ এক ফুট বা ৩০ সেমি. দূরে দূরে ১-৪ ইঞ্চি গর্ত করে প্রতি গর্তে ২-৩ টি করে বীজ পুততে হবে। খেয়াল রাখতে হবে বীজ বেশী গভীরে যেন না যায়।

    অংকুরোদম সময়কালঃ ১২-১৬ দিন অর্থাৎ ০-২ সপ্তাহের মধ্যে গজাবে।

    বীজের পরিমাণঃ ১০ শতাংশ জমিতে ৩৫০-৪০০ গ্রাম বীজ প্রয়োজন।

    বীজ শোধনঃ আলাদা করে শোধনের দরকার নেই। তবে বোনার আগে ভালো করে ধুয়ে ধূলাাবালি ্ চিটা বীজ সরিয়ে নেওয়া ভালো। ভেজা বীজ বপন করা উচিত।



    কালোজিরার অন্যান্য পরিচর্যা





    পরিচর্যাঃ বীজ লাগানোর পরই হালকা করে মাটি দিয়ে গর্ত ঢেকে দিতে হবে। পাখিতে বীজ খেতে না পারে, সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজন হলে আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। জমি বেশি ভেজা থাকলে মাটি আলগা করে রস বের করে দিতে হবে।

    সেচঃ সেচের প্রয়োজন নেই। তবে নতুন চারা লাগানোর পর রোদ বেশি হলে ছিটিয়ে পানি দেয়া যেতে পারে। সন্ধ্যায় পানি ছিটিয়ে দেওয়া ভালো।

    কালোজিরার সার ব্যবস্থাপনা




    সার প্রয়োগঃ ১০ শতাংশ জমিতে ১০ কেজি পচা গোবর ও ২ কেজি পচা খৈল, অথবা ১০ কেজি পরিমাণ যে কোন কম্পোস্ট মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে বেড তৈরি করা যেতে পারে। মিহি মাটি দিয়ে সামান্য উঁচু বেড তৈরি করলে বেশি সার লাগবে না। খেয়াল রাখতে হবে যাতে ৬ ইঞ্চ (১৫ সেমি) মাটি আলগা থাকে। অগ্রহায়নের মাঝামাঝি সময়ে মাটিতে জো আসলে জমি তৈরি করা আরম্ভ করা যেতে পারে। সার মেশানোর এক সপ্তাহ পরে প্রয়োজন হলে একবার নিড়ানি দিয়ে বেড তৈরি শেষ করতে হবে।

    জমি তৈরির সময় ছাড়া পরে আর ্কোন সার দেওয়া প্রয়োজন নেই।


     

    কালোজিরার ফল ছিদ্রকারী পোকা








    পোকা আক্রমণের লক্ষণঃ

    পোকার কীড়া ফল ছিদ্র করে বীজ খেয়ে ফেলে।

    পোকার সমন্বিত ব্যবস্থাপনাঃ

    আক্রমণের পূর্বে করণীয়ঃ 

    ১. উন্নত জাতের চাষ করা;
    ২. মিশ্র ফসল হিসাবে ধনে পাতা বা তিষির চাষ করা ।

    আক্রমণের পর করণীয়ঃ

    ১. পোকার ডিম ও কীড়া সংগ্রহ করে মেরে ফেলা ।
    ২. রিকর্ড বা ডেসিস ১০মিলি ১০লিটার পানিতে মিশিয়ে ১৫ দিন পর পর ১-২ বার স্প্রে করা ।


    কালোজিরার এই অসাধারণ ৩৭ স্বাস্থ্য উপকারিতা


    সাধারণত কালোজিরা নামে পরিচিত হলেও কালোজিরার আরো কিছু নাম আছে, যেমন- কালো কেওড়া, রোমান করিয়েন্ডার বা রোমান ধনে, নিজেলা, ফিনেল ফ্লাওয়ার, হাব্বাটুসউডা ও কালঞ্জি ইত্যাদি। কালোজিরার বৈজ্ঞানিক নাম nigella sativa। যে নামেই ডাকা হোকনা কেন এই কালো বীজের স্বাস্থ্য উপকারিতা অপরিসীম। ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নিধন থেকে শুরু করে শরীরের কোষ ও কলার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে কালোজিরা। শুধুমাত্র স্বাস্থ্যের জন্যই না কালোজিরা চুল ও ত্বকের জন্যও অনেক উপকারি। প্রত্যেকের রান্নাঘরেই কালোজিরা থাকে যা খাবারকে সুবাসিত করে। আসুন আমরা আজ আশ্চর্য বীজ কালোজিরার উপকারিতা গুলো জেনে নেই।

    ০১। স্মরণ শক্তি বৃদ্ধি :

    এক চা-চামচ পুদিনাপাতার রস বা কমলার রস বা এক কাপ রঙ চায়ের সাথে এক চা-চামচ কালোজিরার তেল মিশিয়ে দিনে তিনবার করে নিয়মিত সেব্য। যা দুশ্চিন্ত দূর করে। এছাড়া কালোজিরা মেধার বিকাশের জন্য কাজ করে দ্বিগুণ হারে। কালোজিরা নিজেই একটি অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিসেপটিক। মস্তিস্কের রক্ত সঞ্চলন বৃদ্ধির মাধ্যমে স্মরণ শক্তি বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। কালোজিরা খেলে আমাদের দেহে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। এতে করে মস্তিস্কের রক্ত সঞ্চলন বৃদ্ধির হয়। যা আমাদের স্মৃতি শক্তি বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।

    ০২। মাথা ব্যাথা নিরাময়ে :

    ১/২ চা-চামচ কালোজিরার তেল মাথায় ভালোভাবে লাগাতে হবে এবং এক চা চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণ মধুসহ দিনে তিনবার করে ২/৩সপ্তাহ সেব্য।

    ০৩। সর্দি সারাতে :

    এক চা চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণ মধু বা এক কাপ রং চায়ের সাথে মিশিয়ে দৈনিক ৩বার সেব্য এবং মাথায় ও ঘাড়ে রোগ সেরে না যাওয়া পর্যন্ত মালিশ করতে হবে। এছাড়া এক চা-চামচ কালোজিরার সঙ্গে তিন চা-চামচ মধু ও দুই চা-চামচ তুলসী পাতার রস মিশিয়ে খেলে জ্বর, ব্যথা, সর্দি-কাশি দূর হয়। সর্দি বসে গেলে কালিজিরা বেটে কপালে প্রলেপ দিন। একই সঙ্গে পাতলা পরিষ্কার কাপড়ে কালিজিরা বেঁধে শুকতে থাকুন, শ্লেষ্মা তরল হয়ে ঝরে পড়বে। আরো দ্রুত ফল পেতে বুকে ও পিঠে কালিজিরার তেল মালিশ করুন।

    ০৪। বাতের ব্যাথা দূরীকরণে:

    আক্রান্ত স্থানে ধুয়ে পরিষ্কার করে তাতে মালিশ করে; এক চা-চামচ কাঁচা হলুদের রসের সাথে সমপরিমাণ কালোজিরার তেল সমপরিমান মধু বা এক কাপ রং চায়ের সাথে দৈনিক ৩বার করে ২/৩ সপ্তাহ সেব্য।

    ০৫। বিভিন্ন প্রকার চর্মরোগ সারাতে :

    আক্রান্ত স্থানে ধুয়ে পরিষ্কার করে তাতে মালিশকরে; এক চা-চামচ কাঁচা হলুদের রসের সাথে সমপরিমাণ কালোজিরার তেল সমপরিমান মধু বা এককাপ রং চায়ের সাথে দৈনিক ৩বার করে২/৩ সপ্তাহ সেব্য।

    ০৬।হার্টের বিভিন্ন সমস্যার ক্ষেত্রে :

    এক চা-চামচ কালোজিরার তেল সহ এক কাপ দুধ খেয়ে দৈনিক ২বার করে ৪/৫ সপ্তাহ সেব্য এবং শুধু কালোজিরার তেল বুকে নিয়মিত মালিশ করতে হবে।

    ০৭।ব্লাড প্রেসারনিয়ন্ত্রনে রাখতে :

    প্রতিদিন সকালে রসুনের দুটি কোষ চিবিয়ে খেয়ে এবং সমস্ত শরীরে কালোজিরার তেল মালিশ করে সূর্যেরতাপে কমপক্ষে আধাঘন্টা অবস্থান করতে হবে এবং এক চা-চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণমধুসহ প্রতি সপ্তাহে ২/৩ দিন সেব্য যা ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ রাখে। এছাড়া কালোজিরা বা কালোজিরা তেল বহুমুত্র রোগীদের রক্তের শর্করার মাত্রা কমিয়ে দেয় এবং নিম্ন রক্তচাপকে বৃদ্ধি করে ও উচ্চ রক্তচাপকে হ্রাস করে।

    ০৮। অর্শ রোগ নিরাময়ে :

    এক চা-চামচ মাখন ও সমপরিমাণ তেল চুরন/তিলের তেল, এক চা-চামচ কালোজিরার তেল সহ প্রতিদিন খালি পেটে ৩/৪ সপ্তাহ সেব্য।

    ০৯। শ্বাস কষ্ট বা হাঁপানি রোগ সারাতে:

    যারা হাঁপানী বা শ্বাসকষ্ট জনিত সমসসায় ভুগে থাকেন তাদের জন্য কালোজিরা অনেক বেশি উপকারী। প্রতিদিন কালোজিরার ভর্তা রাখুন খাদ্য তালিকায়। কালোজিরা হাঁপানি বা শ্বাস কষ্টজনিত সমস্যা উপশম হবে।এছাড়া এক কাপ চা-চামচ কালোজিরার তেল, এক কাপ দুধ বা রং চায়ের সাথে দৈনিক ৩বার করে নিয়মিত সেব্য।

    ১০। ডায়বেটিক নিয়ন্ত্রণে:

    ডায়াবেটিকদের রোগ উপশমে বেশ কাজে লাগে কালিজিরা। এক চিমটি পরিমাণ কালিজিরা এক গ্লাস পানির সঙ্গে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেয়ে দেখুন, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এছাড়া এক কাপ চা-চামচকালোজিরার তেল, এক কাপ রং চা বা গরম ভাতের সাথে মিশিয়ে দৈনিক ২বার করে নিয়মিত সেব্য। যা ডায়বেটিকস নিয়ন্ত্রণে একশত ভাগ ফলপ্রসূ।

    ১১। জৈব শক্তি বৃদ্ধির জন্য :
    কালোজিরা নারী- পুরুষ উভয়ের যৌনক্ষমতা বাড়ায়। প্রতিদিন কালোজিরা খাবারে সাথে খেলে পুরুষের স্পার্ম সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং পুরুষত্বহীনতা থেকে মুক্তির সম্ভাবনা তৈরি করে। মধ্যপ্রাচ্যে প্রচলিত আছে যে, কালিজিরা যৌন ক্ষমতা বাড়ায় এবং পুরুষত্বহীনতা থেকে মুক্তি দিতে সহায়তা করে। একচা-চামচ মাখন, এক চা-চামচ জাইতুন তেল সমপরিমাণ কালোজিরার তেল ও মধুসহ দৈনিক ৩বার৪/৫ সপ্তাহ সেব্য। তবে পুরানো কালোজিরা তেল স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক।

    ১২। অনিয়মিত মাসিক স্রাববা মেহ/প্রমেহ রোগের ক্ষেত্রে :

    এক কাপকাঁচা হলুদের রস বা সমপরিমাণ আতপ চাল ধোয়া পানির সাথে এক কাপ চা-চামচ কালোজিরার তেল মিশিয়ে দৈনিক ৩বার করে নিয়মিত সেব্য। যা শতভাগ কার্যকরী ।

    ১৩। দুগ্ধ দান কারিনীমা’ দের দুধ বৃদ্ধির জন্য :
    যেসব মায়েদের বুকে পর্যাপ্ত দুধ নেই, তাদের মহৌষধ কালিজিরা। মায়েরা প্রতি রাতে শোয়ার আগে ৫-১০ গ্রাম কালিজিরা মিহি করে দুধের সঙ্গে খেতে থাকুন। মাত্র ১০-১৫ দিনে দুধের প্রবাহ বেড়ে যাবে। এছাড়া এ সমস্যা সমাধানে কালিজিরা ভর্তা করে ভাতের সঙ্গে খেতে পারেন।এছাড়াএকচা-চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণ মধুসহ দৈনিক ৩বার করে নিয়মিত সেব্য। যা শতভাগ কার্যকরী।

    ১৪। ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে

    ত্বকের গঠনের উন্নতি ও ত্বকের প্রভা বৃদ্ধির জন্য কালোজিরা অত্যাবশ্যকীয়। এতে লিনোলেইক ও লিনোলেনিক নামের এসেনশিয়াল ফ্যাটি এসিড থাকে যা পরিবেশের প্রখরতা, স্ট্রেস ইত্যাদি থেকে আপনার ত্বককে রক্ষা করে এবং ত্বককে সুন্দর করে ও ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে।

    · মধু ও কালোজিরার পেস্ট বানিয়ে ত্বকে লাগিয়ে আধাঘন্টা বা একঘন্টা রাখে ধুয়ে ফেলুন, এতে ত্বক উজ্জ্বল হবে।

    · যদি আপনার ব্রণের সমস্যা থাকে তাহলে আপেল সাইডার ভিনেগারের সাথে কালোজিরা মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। নিয়মিত লাগালে ব্রণ দূর হবে।

    · শুষ্ক ত্বকের জন্য কালোজিরার গুঁড়া ও কালোজিরার তেলের সাথে তিলের তেল মিশিয়ে ত্বকে লাগান। এক সপ্তাহের মধ্যে লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখতে পাবেন।

    ১৫। গ্যাষ্ট্রীক বা আমাশয় নিরাময়ে :

    এক চা-চামচ তেলসমপরিমাণ মধু সহ দিনে ৩বার করে ২/৩ সপ্তাহ সেব্য।

    ১৬।জন্ডিস বা লিভারের বিভিন্ন সমস্যার দূরীকরণে :

    একগ্লাস ত্রিপলার শরবতের সাথে এক চা-চামচ কালোজিরার তেল দিনে ৩বার করে ৪/৫ সপ্তাহসেব্য।

    ১৭। রিউমেটিক এবং পিঠেব্যাথা দূর করার জন্য:

    কালোজিরার থেকে যে তেল বের করা হয় তা আমাদের দেহে বাসা বাঁধা দীর্ঘমেয়াদী রিউমেটিক এবং পিঠে ব্যথা কমাতে বেশ সাহায্য করে। এছাড়াও সাধারণভাবে কালোজিরা খেলেও অনেক উপকার পাওয়া যায়।

    ১৮। শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি করতে কালোজিরা:

    দুই বছরের অধিক বয়সী শিশুদের কালোজিরা খাওয়ানোর অভ্যাস করলে দ্রুত শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি ঘটে। শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থতা এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেও অনেক কাজ করে কালোজিরা। দুই বছরের কম বয়সের বাচ্চাদের কালোজিরার তেল সেবন করা উচিত নয়। তবে বাহ্যিক ভাবে ব্যবহার করা যাবে।

    ১৯। মাথা ব্যথায দূর করতে:

    মাথা ব্যথায় কপালে উভয় চিবুকে ও কানের পার্শ্ববর্তি স্থানে দৈনিক ৩/৪ বার কালোজিরা তেল মালিশ করলে উপকার পাওয়া যায়।

    ২০। স্বাস্থ্য ভাল রাখতে:

    মধুসহ প্রতিদিন সকালে কালোজিরা সেবনে স্বাস্থ্য ভালো থাকে ও সকল রোগ মহামারী হতে রক্ষা পাওয়া যায়।

    ২১। হজমের সমস্যায দূরীকরণে:

    হজমের সমস্যায় এক-দুই চা-চামচ কালিজিরা বেটে পানির সঙ্গে খেতে থাকুন। এভাবে প্রতিদিন দু-তিনবার খেলে এক মাসের মধ্যে হজমশক্তি বেড়ে যাবে। পাশাপাশি পেট ফাঁপাভাবও দূর হবে।

    ২২। লিভারের সুরক্ষায়:

    লিভারের সুরক্ষায় ভেষজটি অনন্য। লিভার ক্যান্সারের জন্য দায়ী আফলাটক্সিন নামক বিষ ধ্বংস করে কালিজিরা।

    ২৩। চুল পড়া বন্ধ করতে:

    কালিজিরা খেয়ে যান, চুল পর্যাপ্ত পুষ্টি পাবে। ফলে চুল পড়া বন্ধ হবে। আরো ফল পেতে চুলের গোড়ায় এর তেল মালিশ করতে থাকুন।

    ২৪। দেহের সাধারণ উন্নতিঃ

    নিয়মিত কালোজিরাসেবনে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে সতেজ করে ও সার্বিকভাবে স্বস্থ্যের উন্নতি সাধন করে। এছাড়া
    অরুচি, পেটে ব্যথা, ডায়রিয়া, আমাশয়, জন্ডিস, জ্বর, শরীর ব্যথা, গলা ও দাতে ব্যথা, পুরাতন মাথা ব্যথা, মাইগ্রেন, চুলপড়া, খোসপঁচড়া, শ্বেতি, দাদ, একজিমা, সর্দি, কাশি, হাঁপানিতেও কালোজিরা অব্যর্থ ঔষধ হিসেবে কাজ করে।এটি মূত্র বর্ধক ও উচ্চরক্তচাপ হ্রাসকারক,গ্যসট্রিক আলসার প্রতিরোধক, ভাইরাস প্রতিরোধক, টিউমার এবং ক্যান্সার প্রতিরোধক, ব্যকটেরিয়া এবং কৃমিনাষক, রক্তের স্বাবাবিকতা রক্ষাকারক, যকৃতের বিষক্রিয়ানাষক, এলার্জি প্রতিরোধক, বাতব্যথা নাশক। অরুচি, উদরাময়, শরীর ব্যথা, গলা ও দাঁতের ব্যথা, মাইগ্রেন, চুলপড়া, সর্দি, কাশি, হাঁপানি নিরাময়ে কালোজিরা সহায়তা করে। ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কালোজিরা সহায়ক ভূমিকা পালন করে। চুলপড়া, মাথাব্যথা, অনিদ্রা, মাথা ঝিমঝিম করা, মুখশ্রী ও সৌন্দর্য রক্ষা, অবসন্নতা-দুর্বলতা, নিষ্কিয়তা ও অলসতা, আহারে অরুচি, মস্তিষ্কশক্তি তথা স্মরণশক্তি বাড়াতেও কালোজিরা উপযোগী। জ্বর, কফ, গায়ের ব্যথা দূর করার জন্য কালোজিরা যথেষ্ট উপকারী বন্ধু। এতে রয়েছে ক্ষুধা বাড়ানোর উপাদান। পেটের যাবতীয় রোগ-জীবাণু ও গ্যাস দূর করে ক্ষুধা বাড়ায় এবং দেহের কাটা-ছেঁড়া শুকানোর জন্য কাজ করে। এছাড়া শরীরে সহজে ঘা, ফোড়া, সংক্রামক রোগ (ছোঁয়াচে রোগ) হয় না। তিলের তেলের সঙ্গে কালিজিরা বাঁটা বা কালোজিরার তেল মিশিয়ে ফোড়াতে লাগালে ফোড়ার উপশম হয়।

    ২৫। দাঁত ব্যথা দূরীকরণে:

    দাঁতে ব্যথা হলে কুসুম গরম পানিতে কালোজিরা দিয়ে কুলি করলে ব্যথা কমে; জিহ্বা, তালু, দাঁতের মাড়ির জীবাণু মরে।

    ২৬। শান্তিপূর্ণ ঘুমের প্রয়োজনে:

    তেল ব্যবহারে রাতভর প্রশান্তিপর্ন নিদ্রা হয়।

    ২৭। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে কালোজিরা:

    কালোজিরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। নিয়মিত কালোজিরা খেলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সতেজ থাকে। এতে করে যে কোন জীবানুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেহকে প্রস্তুত করে তোলে এবং সার্বিকভাবে স্বস্থ্যের উন্নতি করে। ১ চামচ কালোজিরা অথবা কয়েক ফোটা কালোজিরার তেল ও ১চামচ মধুসহ প্রতিদিন সেবন করলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

    ২৮।পারকিনসন্স রোগের প্রতিকারে

    কালোজিরায় থাইমোকুইনিন থাকে যা পারকিনসন্স ও ডিমেনশিয়ায় আক্রান্তদের দেহে উৎপন্ন টক্সিনের প্রভাব থেকে নিউরনের সুরক্ষায় কাজ করে।

    ২৯। চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে

    কালোজিরার তেল চুলের কোষ ও ফলিকলকে চাঙ্গা করে ও শক্তিশালী করে যার ফলে নতুন চুল সৃষ্টি হয়। এছাড়াও কালোজিরার তেল চুলের গোড়া শক্ত করে ও চুল পড়া কমায়।

    ৩০। কিডনির পাথর ও ব্লাডার

    ২৫০ গ্রাম কালোজিরা ও সমপরিমাণ বিশুদ্ধ মধু। কালোজিরা উত্তমরূপে গুঁড়ো করে মধুর সাথে মিশ্রিত করে দুই চামচ মিশ্রণ আধাকাপ গরমপানিতে মিশিয়ে প্রতিদিন আধাকাপ তেল সহ পান করতে হবে। কালোজিরার টীংচার মধুসহ দিনে ৩/৪ বার ১৫ ফোটা সেবন করতে পারেন।

    ৩১। চোখের ব্যথা দূর করতে

    রাতে ঘুমোবার আগে চোখের উভয়পাশে ও ভুরুতে কালোজিরা তেল মালিশ করুন এবং এককাপ গাজরের রসের সাথে একমাস কালোজিরা তেল সেবন করুন। নিয়মিত গাজর খেয়ে ও কালোজিরা টীংচার সেবন আর তেল মালিশে উপকার হবে। প্রয়োজনে নির্দেশিত হোমিও ও বায়োকেমিক ওষুধ সেবন।

    ৩২। উচ্চরক্তচাপ

    যখনই গরম পানীয় বা চা পান করবেন তখনই কালোজিরা কোন না কোন ভাবে সাথে খাবেন। গরমখাদ্য বা ভাত খাওয়ার সময় কালোজিরা ভর্তা খান। এ উভয়পদ্ধতির সাথে রসুনের তেল সাথে নেন। সারা দেহে রসুন ও কালোজিরা তেল মালিশ করুন। কালোজিরা, নিম ও রসুনের তেল একসাথে মিশিয়ে মাথায় ব্যবহার করুন। ভালো মনে করলে পুরাতন রোগীদের ক্ষেত্রে একাজটি ২/৩ দিন অন্তরও করা যায়।

    ৩৩। ডায়রিয়া

    মুখে খাবার স্যালাইন ও হোমিও ওষুধের পাশাপাশি ১ কাপ দই ও বড় একচামচ কালোজিরা তেল দিনে ২ বার ব্যবস্থেয়। এর মূল আরকও পরীক্ষনীয়।

    ৩৪। জ্বর :

    সকাল-সন্ধ্যায় লেবুর রসের সাথে ১ চামচ কালোজিরা তেল পান করুন আর কালোজিরার নস্যি গ্রহন করুন। কালোজিরা ও লেবুর টীংচার (অ্যাসেটিকঅ্যাসিড) সংমিশ্রন করে দেয়া যেতে পারে।

    ৩৫।স্নায়ুবিক উত্তেজনা

    কফির সাথে কালোজিরা সেবনে দুরীভুত হয়।

    ৩৬। উরুসদ্ধি প্রদাহ :

    স্থানটি ভালোভাবে সাবান দিয়ে ধুয়ে নিয়ে ৩ দিন সন্ধ্যায় আক্রান্ত স্থানে কালোজিরা তেল লাগান এবং পর দিন সকালে ধুয়ে নিন।

    ৩৭। আঁচিল

    হেলেঞ্চা দিয়ে ঘষে কালোজিরা তেল লাগান। হেলেঞ্চা মুল আরক মিশিয়ে নিলেও হবে। সাথে খেতে দিন হোমিও ওষুধ

    সকাল রোগের প্রতিষেধক : মধুসহ প্রতিদিন সকালে কালোজিরা সেবনে স্বাস্থ্য ভালো থাকে ও সকল মহামারী হতে রক্ষা পাওয়া যায়।

    সতর্কতা :
    গর্ভাবস্থায় ও দুই বছরের কম বয়সের বাচ্চাদের কালোজিরার তেল সেবন করা উচিত নয়। তবে বাহ্যিক ভাবে ব্যবহার করা যাবে।

    বিঃ দ্রঃ
    কালোজিরার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আশ্চর্যজনক ভাবে অতুলনীয়, আর তা কালোজিরার রস/তেলের মধ্যেই বিদ্যমান। ফলে কালোজিরার তেল ব্যবহার ওসেবন শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করে এবং রোগ মুক্ত রাখে। ইহাইরাসুল (সঃ) এর পবিত্র মমার্থ ।

     


    Friday, July 7, 2017

    এলাচ বা এলাচী চাষ ও পুষ্টিমান বা উপকারিতা

  • Share The Gag
  • এলাচ বা এলাচী চাষ ও পুষ্টিমান বা উপকারিতা



    এলাচ বা এলাচী। মিষ্টি বা ঝাল সব রকম খাবারেই এটির ব্যপক ব্যবহার লক্ষিত হয়। এর বোটানিকাল নাম এলেটারিয়া কার্ডামোমাম (Elettaria cardamomum)ইংরেজিতে বলা হয় কার্ডামন (Cardamon)এটি মূলত আদা জাতীয় একটি গাছ যার গোড়ার দিক থেকে লম্বা ফুলের স্টিক বের হয়। এই ফুলের ফলই হচ্ছে আমাদের পরিচিত এলাচ।

    এলাচ দু রকমের বড় ও ছোট। বড় এলাচ এশিয়া, আফ্রিকা, অষ্টেলিয়া ও প্রশান্ত মহা-সাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের শীত প্রধান অঞ্চলে প্রচুর জন্মায়। বড় এলাচের ৫০ প্রজাতির মধ্যে এই উপমহাদেশে বহু আগে থেকে বেশ কয়েকটি প্রজাতি ফলন হয়। সিলেট অঞ্চলে যে এলাচ জন্মায় তার নাম মোরঙ্গ এলাচ। আমাদের দেশে ঝোপ জঙ্গলে যে আদা গাছ জন্মায় বড় এলাচ গাছ দেখতে অনেকটা সে রকম। গাছে এলাচগুলো সাধারণত: গাছের গোড়ায় মাটি সংলগ্ন হয়ে গুচ্ছাকারে জন্মে। আষাঢ় মাসে ফুল হয় ও পরে ফল ধরে। ভাদ্র আশ্বিন মাসেন এলাচ পাকে। ফলগুলো দেখতে কালচে লাল হয়।

    এলাচ একটি স্পর্শকাতর গাছ। ভেজা স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় ছায়ার মধ্যে এই গাছ ভালো হয়। যেহেতু আমাদের দেশে বৃষ্টি কম, সে কারণে এখানে এলাচ গাছ বেড়ে উঠে না।

    সাধারনত:রোদ্র-ছায়া যুক্ত জায়গায় এলাচ গাছ ও ফলন ভালহয়।যেমন মেহগ্নি , লম্বু .,আকাসমনি বা এ জাতীয় বাগানের ভিতর। ছোট এলাচ গাছ দেখতে আদা মত। তবে পাতাগুলো একটু বেশি লম্বা ও চওড়া। ভারতের বিভিন্ন স্থানে। ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জে এই এলাচ প্রচুর জন্মে। তাছাড়া আদ্রতা যুক্ত পাহাড়িয়া জঙ্গল ও এই এলাচ চাষের উপযুক্ত।

    এলাচের রং হলুদ ভাবাপন্ন হলে এই এলাচ সংগ্রহ করতে হয়। মশলা পাতির মধ্যে এই দুই ধরনের এলাচ অন্যতম। এই এলাচ শুধু মশলাই নয় এর ঔষধিগুণও কিন্তু অনেক। ওষুধ জগতে এলাচের খুব গুরুত্ব রয়েছে।



     

    দেশের মাটিতে উন্নত জাতের এলাচ মসলা চাষঃ
    বাংলাদেশের এলাচের চাহিদার শত ভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করে মেটাতে হয়। মসলার জগতে এলাচ যেমন আবশ্যক তেমনি মূল্যবান। এটা ভেবেই দীর্ঘ দিনের পরিকল্পনা এলাচ আমাদের দেশে কেন ফলন হয় না এর উত্তর ছিল অজানা। প্রতিবেশী দেশের মাটিতে উৎপাদন হলে আমাদের দেশের মাটিতে এলাচ কেন হবেনা? আমাদের দেশে এলাচের গাছ অনেক আগে থেকেই পাওয়া যেত । পূর্বে যে এলাচের গাছ প্রায় গ্রামেই লোকের বাড়ীর আঙ্গীনায় দেখা যেত সেগুলোতে 2-3 বছরের মাথায় ফুল আসত গাছের শাখায় কিন্তু কখনও ফল ধরতে দেখা যেত না যুগের পর যুগ পার হলেও। আমার পিতা মহের বাড়ীতেও ছিল এমন গাছ বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে দেখে আশছি এলাচের গাছ কিন্তু কখনও ফল দেখতে পেতাম না সেখান থেকে আমর শিক্ষা লাভের সূচনা হয় এবং একসময় জানতে পারি ফলন্ত এলাচ আর এই এলচের জেনেটিক জাত ই আলাদা। তার পর থেকে প্রচেষ্টা ভাল জেনেটিক জাত সংগ্রহ করা। আর এরই সূত্র ধরে আলাপ হয় জনাব শাহজাহান ভাই এর সাথে। তার সফল প্রচেষ্টায় আমরা আজ আমাদের প্রতিটি জাতের এলাচের গোড়ায় ফলন হয় বাছাই করে বিদেশ থেকে সংগ্রহের কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ দিনের পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টায় 2011-2012 অর্থ বৎসরে অনেক যাচাই বাছাই করে গাছের গোড়ায় ফলন হয় এমন জাত দেশে এনে চাষ করা শুরু করা হয়। 2013-2014 সালে এলাচ ব্যাপক ভাবে ধরতে শুরু করে। আপনারা টিভি নিউজ ও চ্যানেলে আমাদের বেশকিছু প্রতিবেদন হয়তো দেখে থাকবেন। আমাদের দেশের বিভিন্ন জায়গায় কিছু জংলী এলাচের গাছ পাওয়া যায়, যার শাখায় ফুল হয় কিন্ত কোন ফল হয় না। কিন্ত আমাদের এলাচের জাতের মত গাছের গোড়ায় শিকড়ের মাধ্যমে ফুল ও ফল হয় এমন কোথাও দেখা যায়নি ইতিপূর্বে। আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃতপ্রাপ্ত যে জাতগুলো আছে সেগুলোর প্রতিটি জাতেরই গাছের গোড়ায় ফলন হয়। এদেশে আমদানী নির্ভরতা কমাতে নিজেদেরকে এলাচ চাষে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই এলাচ চাষে দেশ এগিয়ে যাবে। একমাত্র এলাচ ছাড়া বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এমন কোন ফসল নেই যেটা বিঘা প্রতি বৎসরে 10 লক্ষ টাকা কৃষক আয় করে পারে ।

    এলাচের জাতঃ
    এলাচ 2 ধরনের হয়, বড় ও ছোট। উভয় জাতের এলাচ এশিয়া, আফ্রিকা, অষ্ট্রেলিয়া ও প্রশান্ত মহা-সাগরীয় দীপপুঞ্জের নাশিশীতষ্ণ এলাকায় হালকা ছায়া হালকা রোদ্দে অথবা স্যাডো জায়গায় প্রচুর জম্নে। এলাচের 50 টি জাতের মধ্যে ভারতীয় উপমহাদেশে বহু আগে থেকে বেশ কয়েকটি প্রজাতির ফলন হচ্ছে। আমাদের প্যাটেন্ট 8টি জাত এবং প্যাটেন্ট ছাড়া 2 টি জাত সহ মেট 10 টি জাত আছে। তার মধ্যে 2টি জাত অবমুক্ত করা হয়েছে কৃষক পর্যায়ে চাষ করার জন্য।

    গাছ প্রতি ফলনঃ
    রোপনের 2য় বৎসরে কিছু গাছে এলাচ ধরা শুরু করলেও রোপনের 3য় বৎসর থেকে এলাচের গাছে ফলন হয়। প্রায় প্রতি ঝোপে 800 থেকে 900 গ্রাম এমনকি 1 কেজি উপরে পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।

    বাজার মূল্যঃ
    প্রতি কেজি এলাচের বর্তমান বাজার মূল্য 1300/- টাকা পাইকারী দরে এলাচ বিক্রয় যদি ধরা হয় 1000 টাকা তবে প্রতি বিঘায় উৎপাদান হয় সর্বনিম্ন 600 কেজে এবং সর্বোচ্চ 1000 কেজি। সেই হিসবে 1000x1000=10,00,000/- (দশ লক্ষ টাকা) প্রতি বিঘায়। পাঠক বন্ধু বলতে পারেন বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এমন কোন ফল বা ফসল আছে যা কিনা বিঘা প্রতি 10 লক্ষ টাকা আয় হবে। একমাত্র অর্থকরী ফসল এলাচ ছাড়া?



     

    জমি তৈরী ও চারা রোপন পদ্ধতিঃ
    জমি তৈরী বড় আকারে করলে 1 বিঘা বা তার উপরে হলে অবশ্যই মাটির 3টি পরীক্ষা করে নিতে হবে । প্রতিটি জেলায় সরকারী মাটি পরীক্ষা কেন্দ্রে মাটি টেষ্ট করাতে পারেন। মাটি পরীক্ষা কৃষক পরর্যায়ে প্রতিটি পরীক্ষার জন্য 30/- টাকা ফি দিতে হয়। সেই হিসাবে 3 টি পরীক্ষা মোট 90/- টাকা খরচ হবে।(1) মাটির পিএইচ কত ? (2) মাটিতে বলি বা স্যান্ড এর পরিমাণ কত? (3) মাটিতে জৈব উপাদানের পরিমান কত সেটাও জানতে হবে। সবকিছু ঠিকঠাক পরিমাণ মত থাকলে এলাচ উৎপাদনে তেমন কোন খরচ হয় না অবশ্য 1ম বারের চারা কেনার খরচ ছাড়া পরের বছরগুলোতে। মাটিতে পিএইচ এর পরিমাণ 6 এর বেশী হলে মটির সাথে চুন মিশাতে হবে পরিমাণ মত। জমিতে বালির পরিমাণ কম থাকলে অতিরিক্ত বালি মেশাতে হবে যদি এটেল মাটি হয়। দোয়াশ মাটিতে কোন কিছু করতে হয় না। মাটিতে জৈব উপদানের পরিমাণ কম থাকলে পচা গোবর সার বা কেঁচো কম্পষ্ট সার অতিরিক্ত প্রয়োগ করতে হবে। এ ছাড়াও জমি তৈরীর সময় চাষের সঙ্গে টিএসপি, প্রতি শতকে মাটিতে 500 গ্রাম, পটাশ প্রতি শতকে 500 গ্রাম। জেঞ্জার বা ফুরাডান বা কার্বফুরান যা দানাদার কিটনাশক নামে পরিচিত (33 শতক জমিতে 2 কেজি পরিমাণ দিতে হবে।1দিন পর সেচ দিয়ে জমি ভাল ভাবে ভিজিয়ে দিতে হবে। যাতে জমির সাথে সারগুলো ভালভাবে মিশে যেতে পারে। ভাল ফলন পেতে হলে এর 2 সপ্তাহ পরে 2 ফিট চওড়া ও দেড়ফিট গভীর গর্ত করে গোবর সার বা জৈব সার প্রয়োগ করে সাথে দানাদার কিটনাশক অবশ্যই দিতে হবে প্রতি গর্তের গোবরের সাথে 200 গ্রাম। রোপনের পর জমিতে সেচ দিতে হবে। মনে রাখতে হবে অতিরিক্ত পানি যেন গাছের গোড়ায় জমে না থাকে।

    শতর্কতাঃ
    জমিতে পানি জমে থাকতে দেয়া যাবে না। ঘন বর্ষায় চারা লাগানো যাবে না। চারা রোপনের পর পর গোল্ডাজিম লিকুইড স্কয়ার এর ছত্রাক নাশক পানির সাথে পরিমাণমত মিশিয়ে গাছের একেবারে গোড়ায় স্প্রে করতে হবে।গোল্ডাজিম এলাচের গাছের জন্য ভাল কাজ করে। অতিরিক্ত পানি জমিতে লেগে থাকলে ড্রেনের ব্যবস্থা করে পানি নিস্কাশন করতে হবে।

    জমি প্রতি চারা রোপনের হারঃ-
    1 বিঘায় চারা রোপন করা যায় 460 টি । প্রতি শতকে লাগে 14টি চারা এবং 33 শতকে চারার পরিমাণ হলো 460 টি । 33 শতক জমি থেকে 3 বৎসর পরে ফলন হবে 900 থেকে 1000 কেজি বা 1 টন। অর্থাৎ 10 লক্ষ টাকার এলাচ বছরে উৎপাদন হবে।

    পরিচর্যাঃ
    রোপনের 3য় বৎসর পর শীতকালে ফলনের পর পুরাতন গাছ ছাটাই করতে হবে। অবাঞ্চিত মরা গাছ ছাটাই না করলে গাছে ভাল ফলন হয় না। শীতকালে এলাচ গাছে ফুল ও ফল হয়না বিধায় শীতকালে মরা গাছ ও দূর্বল গাছ ছাটাই করা জরুরী।

    এলাচের ফলনের স্থানঃ
    আমাদের জাতের এলাচগুলোর সবগুলোই গাছের গোড়ায় মাটি সংলগ্ন হয়ে গুচ্ছ আকারে ফুল গজায় লতের মত সেই ফুল গুলো থেকে ফল হয় গুচ্ছ আকারেই। প্রতিবেদনে ছবি সংযুক্ত করা হলো। বাংলাদেশে আমরাই একমাত্র এলাচ উৎপাদনকারী ও সম্প্রসারণকারী যাদের জাতগুলো সঠিক জাত ও আন্তর্জাতিক মানের চারা এবং যা প্রতিটি গাছের গোড়া থেকে ফলন হয়। আমাদের পূর্বে বাংলাদেশের কোন লোক বা প্রতিষ্ঠান দেখাতে পারবে না যে, তারা গাছের গোড়া থেকে এলাচের ফলন করেছেন। দেশের আনাচে কানাচে অনেক জাত আছে যে গুলো ফুল হয় কিন্তু কোনদিনও ফল হয় না। ফলে উৎপাদনকরী কৃষক হয় বঞ্চিত এসব জাতের গাছ লাগিয়ে আর এ কারনে আমাদের দেশে এতদিন এলাচ চাষ সম্প্রসারণ করতে পারেনি সঠিক জাতের অভাবে। বাংলায় আষাঢ় মাসে এই জাত গুলোর ফুল আসে এবং ভাদ্র ও আশ্বিন মাসের শেষের দিকে এলাচ পরিপক্ক হয়। তখন বাগান থেকে কাঁচা এলাচ সংগ্রহ করে রোদে শুকাতে হয় অথবা বেশী পরিমাণে উৎপাদন করলে ড্রায়ার মেশিনের সাহায্যে শুকাতে হয়। বর্ষায় হয় বলে এলাচ না শুকিয়ে ঘরে রাখলে পচন ধরবে। এলাচ ফল পরিপক্ক হলে ফলগুলো দেখতে কিছুটা সবুজের উপর লালচে হবে। এলাচের মান উন্নত করতে হলে আন্তর্জাতিক মার্কেটে স্থান করার জন্য কিছু নিয়ম পালন করতে হবে।

     



    কোন কোন অঞ্চল এলাচ উৎপাদন করে এবং বাগানের ধরন কেমন হবেঃ-
    পৃথিবীর মধ্যে ফিলিপাইন, শ্রীলংকা, ভারত, পাকিস্থান, ইরাণ, আমেরিকার কিছু অঞ্চল এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এলাচ প্রচুর জম্নে। এলাচ ভাল হয় পাহাড়ী ও পতিত উচূ ভূমিতে যেমনঃ আমাদের দেশে আমের বাগান বা মেহগনির বাগান বা কাঠাল বাগানে অথবা আঙ্গুরের বাগানের নীচে সারিবব্ধভাবে এলাচের চাষ করা যায়। ছায়াযুক্ত বা স্যাডো জায়গায় এলাচ ভাল উৎপাদন হয়। যেমন ধরুনঃ সিলেটের চা বাগনগুলো যে ভাবে ছায়াবৃক্ষের নীচে তৈরী হয়েছে, তেমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। যাদের পতিত ভূমি বা আম কাঠাল, মেহগনীর বাগান আছে যেখানে আধো আলো আধো ছায়া পড়ে এমন স্থানে এলাচ চাষ করলে অধিক লাভ জনক হয়। তা ছাড়া যারা নতুন বাগান করতে চান। তাদের সেডট্রি তৈরীতে অনেক সময় লাগবে তার চেয়ে আঙ্গুরের বাগান করে একই সাথে নীচে এলাচ চাষ করলে সময় কম লাগবে। একই সাথে মিশ্র ফলের নতুন বাগন তৈরী হবে। একই জমি থেকে আঙ্গুর ও এলাচ দুটোই পাওয়া যাবে। নতুন জমিতে আঙ্গুর ও এলাচের মিশ্র বাগান করতে চাইলে আঙ্গুর বাগানের 2 সারির মধ্যে গ্যাপ থাকতে হবে কম পক্ষে 20 ফুট। এতে 2টি সারি আঙ্গুর থাকবে এবং দুই সারি করে এলাচের গাছ থাকবে। উচ্চতা হবে প্রায় 8-9 ফিট। ছবিতে আঙ্গুর বাগানে গ্যাপে গোল চিহ্নিত স্থানে এলাচ চাষ করতে পারেবেন এতে উৎপাদন কারী একই সাথে 2টি ফসল উৎপাদন করতে পারবেন। উৎপাদন কারী এতে অর্থনৈতিক ভাব বেশী লাভবান হতে পারবেন। প্রতিটি মিশ্র বাগানে ক্ষেত্রে পরামর্শ সহ সকল ধরনের সহযোগীতা করা হবে যা একটি লিখিত চুক্তির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে, ফলন আসা পর্যন্ত 3 বছর। আমার একক ভাবে সংগৃহীত উন্নত মানের 50টি মিষ্টি আগুরের জাত আছে যা আমাদের দেশের জন্য যুগান্তকারী সাফল্য। প্রায় 20 বছরের প্রেচেষ্টায় এই জাতগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে দেশে উৎপাদনের জন্য। আর এই জাতগুলো সম্প্রসারনের জন্য এলাচ চাষ এবং আঙ্গুর চাষ একই স্কিমের আওতায় আনা হয়েছে। আমাদের দেশে অনেকের এখনও ধারনা বাংলাদেশের মাটিতে আঙ্গুর মিষ্টি হয় না। এই ধারনাকে চ্যলেঞ্জ করার জন্য বা মানুষের ভুল ধারনা ভেঙ্গে দেয়ার জন্য এবং এলাচের স্যাডো প্লেস তৈরী করার জন্য একই স্কিমে আঙ্গুর ও এলাচ চাষ নিয়ে অগ্রসর হয়েছি। জয়পুর হাটে আঙ্গুরের সাথি ফসল হিসাবে কাল এলাচ চাষ শুরু হয়েছে। তাই আমাদের প্রচেষ্ট এলাচের সাথে 50 জাতের আন্তর্জাতিক মানের মিষ্টি আঙ্গর চাষ। এটা নির্ভর করে উৎপাদনকরীর চাহিদার উপর কোন জাতের আঙ্গুর তিনি চাষ করতে পছন্দ করেন। তার রুচি এবং আর্থি ক সামথ্যের উপর।বাগানের মাঝখানে বাগানের আগাছা পরিস্কার করার জন্য যাতায়াতের ব্যবস্থা রাখতে হবে। যাতে আঙ্গুর গাছগুলো সময়মত স্প্রে করতে অসুবিধা না হয়। একটি আঙ্গুর গাছ প্রায় 70 থেকে 100 বছর বাছে। প্রথমে গাছে 10 থেকে 20 থোকা আঙ্গুর ধরলেও গাছের বয়স এবং স্বাস্থ্য বৃদ্ধির সাথে সাথে এটার ফলন বৃদ্ধি পায়। একটি পরিপূর্ণ গাছে বছরে 40 কেজির উপরে আঙ্গুরের ফলন হয়। বিশেষে করে থমসন, ক্রিমসন, সুলতানা জাতগুলোতে। এগুলো আন্তর্জাতিক মানের প্যাটার্ণ করা জাত, যে মাটিতে লাগানো হোক না কেন তার ফল মিষ্টি হবেই কারন এগুলো জেনেটিক ভাব মিষ্টি জাত বা টেবিল গ্রেপ

     

    টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে ছোট ও বড় এলাচের চারা উৎপাদন



    এলাচকে বলা হয় মসলার রাণী। সুগন্ধযুক্ত এই মসলাটির চাহিদা আমাদের দেশে প্রচুর। রান্নায় স্বাদ বাড়ানো ছাড়াও এর রয়েছে প্রচুর ঔষুধি গুন।কিন্তু কাংখিত এলাচের জাত আমাদের দেশে না থাকায় প্রতি বছর প্রায় দেড়শ কোটি টাকার এলাচ বিদেশ থেকে আমদানী করতে হয়। আমদানী নির্ভর এই মসলাটির সম্প্রতি আমাদের দেশে ব্যাক্তিগত উদ্যেগে খুব সীমিত পরিসরে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু হয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে চারা উৎপাদন ক্ষমতা অপ্রতুল হওয়ায় স্বল্প সময়ে কাংখিত জাতের বিস্তৃতি ঘটাতে টিস্যু কালচার একটি কার্যকরী সমাধান।

     

    গুনাগুণঃ

    ১। এলাচ ক্ষিদে বাড়ায়। দাতের মাড়ি শক্ত করে ও হজম শক্তি বাড়ায়।

    ২। পিত্ত, কষ, রক্তের দোষ, চুলকানি, হাপানি, বমি ও কাশিতে উপকারী।

    ৩। এলাচের গুড়ো আমলকির রসের সাথে মিশিয়ে খেলে প্রসাবের জ্বালাপোড়া ও হাত পা জ্বালার উপশম হয়।

    ৪। এলাচের দানা মুখে রাখলে বমি বমি ভাব এবং মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়। বড় এলাচ পেট ফাপা নিবারক ও কফ পিত্ত এবং রক্তদোষ নিবারক। মুখ রোগ ও মাথার রোগেও বড় এলাচ উপকারী।

    ৫। এলাচ বমি ও শ্বাস কষ্ট দূর করার ক্ষেত্রেও কার্যকর। অনেক সময় খাওয়ার কম বেশিতে পেটে বায়ু জমে।

    ৬। প্রসাব ভাল হচ্ছেনা। পেটটা কেমন যেন গুম মেরে থাকে। এ ক্ষেত্রে দুটি বড় এলাচ খোসাসহ চন্দনের মত বেটে এক কাপ পানিতে গুলে সকালে খেতে হবে। তাতে যদি অসুবিধা পুরোপুরি দূর না হয় তাহলে বিকেলে অনুরূপভাবে আর এক কাপ খাবেন।

    ৭। হাত পা কামড়ানিতে বড় এলাচ বাটা একটু পানি দিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

    ৮। চুলকানিতে কোন মলমে যেকোনে কাজ হয় না। সেখানে বড় এলাচ চন্দনের মত করে বেটে গায়ে মাখতে পারেন।

    ৯। বাতের ব্যথায় অর্ধেক চা চামচ এলাচের গুড়ো পরিমাণ মতে মধু সহ এক মাস পর্যন্ত রোজ একবার খাবেন।

    ১০। ব্রঙ্কিয়াল এজমা দীর্ঘ দিন হলে গেলে কার্ভিয়াক এজমা যদি তার সাথে যুক্ত হয়, তাহলে সামান্য হাটলে বা কাজ করলে শ্বাস কষ্ট বেড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে দুইটি বড় ও দুইটি ছোট এলাচ এক সঙ্গে বেটে এক কাপ পানিতে মিশিয়ে ছেকে খেতে হবে। শ্বাস কষ্ট উপশমে এটা অত্যন্ত কার্যকর।

    ১১। ছোট এলাচ কফ, কাশি, শ্বাস, অশ্বরোগ, মুত্র কচ্ছ ও বায়ু নাশক।

    ১২। বয়স বাড়লে অগ্নিমান্দ্য দেখা দিতে পারে। আবার খাবার লোভও থাকে প্রবল। এমন পরিস্থিতিতে হজমে গন্ডগোল দেখা দিলে দুইটি ছোট এলাচ বেটে এক কাপ পানি সহ খাবেন।

    ১৩। জোলাপ নিয়েও যাদের পায়খানা পরিস্কার হয় না, এবং পায়খানা পরিস্কার না হওয়ায় পেটে সামন্য ব্যথা করে। একটি ছোট এলাচ বাটা আধা কাপ হালকা গরম পানিতে গুলে খাওয়া তাদের জন্য ভীষণ উপকারী।

    ১৪। হৃদ রোগের সঙ্গে হাপানি থাকলে ছোট এলাচ ও পিপুল চূর্ণ সম পরিমাণ নিয়ে গাওয়া ঘিয়ের সাথে মিশিয়ে খেতে হবে।

    ১৫। এ ছাড়া শুলরোগীর কোষ্টবদ্ধতায়। বমনে, খিচ ধরা ব্যথায় এবং খাবারের বিষক্রিয়া জনিত বমিতে এলাচ চুর্ণ পানি দিয়ে গুলে খেতে হবে।

    ১৬। এলাচ দানার গুড়ো একটু লেবুর রসের সাথে মিশিয়ে কেলে পেটের গ্যাস ও পেটে ব্যথার উপশম হয়।

    তবে অতিরিক্ত এলাচ খাওয়া ক্ষতিকর। গর্ভবর্তী মহিলাদের অতিরিক্ত এলাচ খেলে গর্ভপাতের আশংকা থাকে।

    জায়গা/জমি শুকনা থাকলে চাষ/কুপিয়ে প্রতি কাঠায় ৫০০ গ্রাম হারে TSP ও POTASIUM সার ছড়ায়ে অথবা উক্ত সার মিশ্রনে ১ কেজি সার ৩০টা চারা পোতারগর্তে ছড়ায়ে ভিজায়ে দিতে হবে এবং মাটি শুকালে অথবা ৭দিন পর চারা রোপণ করা যাবে।শুকনা মাটিতে চারা রোপণ করলে বিকালে চারা রোপণের পরদিন সকালে ভিজাতে হবে। বীজ থেকে নয় মূল থেকেই জন্ম নেয় এলাচ গাছ।

     

    রোপনের ১৫-২০ দিনের মধ্যে একই হারে uria – potasium সার দিতে হবে তবে পরবর্তীতে কেবল dap সার প্রযোজ্য।

    Tuesday, July 4, 2017

    আদা চাষ

  • Share The Gag
  • আদা চাষ



     

    পুষ্টিমূল্যঃ আদায় ক্যালসিয়াম ও প্রচুর ক্যারোটিন থাকে।


    ভেষজ গুণঃ পেট ফাঁপা ও ফোলা এবং সর্দি-কাশিতে আদা ব্যবহৃত হয়।


    ব্যবহারঃ মসলা হিসেবে আদা জনপ্রিয়।


    উপযুক্ত জমি ও মাটিঃ পানি নিকাশের সুব্যবস্থা আছে এমন উঁচু বেলে-দো-আঁশ ও ও বেলে মাটি আদা চাষের জন্য উপযোগী।


    জাত পরিচিতিঃ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট থেকে উদ্ভাবিত উন্নত জাত বারি আদা-১।


    বারি আদা-১: প্রতিটি গোছায় রাইজোমের ওজন ৪০০-৪৫০ গ্রাম। প্রচলিত জাতগুলোর তুলনায় এর ফলন বেশি। স্থানীয় হাতের মতো বারি আদা-১ সহজে সংরক্ষণ করা যায়।


    তবে স্থানীয় জাত যেমনঃ রংপুরী, খুলনা, টেংগুরা ইত্যাদি জাতেরও চাষ করা হয়।


    চারা তৈরিঃ


    বীজ লাগানোঃ ফাল্গুন থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত লাগানো যায়। সাধারণতঃ ১২-১৫ গ্রাম ওজনের ১-২টি কুঁড়ি বিশিষ্ট কন্দ লাগানো হয়। ৪০-৪৫ সে.মি. দূরে দূরে সারি করে ২০ সে.মি. দূরে ৫ সে.মি. গভীরে আদা লাগানো হয়। কন্দ লাগানো পর ভেলী করে দিতে হয়। প্রতি হেক্টরে ১০০০ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়।


    সার ব্যবস্থাপনাঃ আদার ভাল ফলন পেতে হলে জমির উর্বরতার উপর নির্ভর করে প্রতি হেক্টরে গোবর সার ৪-৬ টন, ইউরিয়া ২০০-২৪০ কেজি, টিএসপি ১৭০-১৯০ কেজি, এমওপি ১৬০-১৮০ কেজি প্রয়োগ করতে হয়। জমি প্রস্ততির সময় সমুদয় গোবর, টিএসপি ও ৮০-৯০ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করতে হয়। কন্দ লাগানোর ৫০ দিন পর ১০০-১২০ কেজি হারে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করা হয়। লাগানোর ৯০ দিন ও ১২০ দিন পর যথাক্রমে ২য় ও ৩য় কিস্তির সার উপরি প্রয়োগ করা হয়। ভেলা সামান্য কুপিয়ে ১ম কিস্তির সার প্রয়োগ করে আবার ভেলা করে দিতে হয়। ২য় ও ৩য় কিস্তির উপরি প্রয়োগের সময় প্রতি হেক্টরে প্রতিবারে ৫০-৬০ কেজি ইউরিয়া ও ৪০-৪৫ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করা হয়। ২য় ও ৩য় কিস্তির সার সারির মাঝে প্রয়োগ করে মাটি কোঁদাল দিয়ে কুপিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে সামান্য পরিমাণ মাটি ভেলীতে দিতে হয়।


    সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনাঃ আদা লাগানোর পর বৃষ্টি হলে সেচের প্রয়োজন হয় না। তবে বৃষ্টি না হলে ও মাটিতে রসের অভাব থাকলে নালাতে সেচ দিতে হবে এবং ২-৩ ঘন্টা পর নালার অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে হবে। বৃষ্টির পানি যেন জমতে না পারে সেজন্য পানি নিকাশের ব্যবস্থা রাখতে হবে। আগাছা দেখা দিলে তা পরিষ্কার করতে হবে। সার উপরি প্রয়োগের সময় আগাছা পরিষ্কার করে প্রয়োগ করা ভালো।


    পোকামাকড় ব্যবস্থাপনাঃ


    পোকার নামঃ রাইজোম ফ্লাই বা কান্ডের মাছি পোকা


    এ পোকার আক্রমণে হঠাৎ করে গাছ মরে যায়। পোকা আদায় আক্রমণ করে ও পরে পচন ধরে। আদা উৎপাদন এলাকার সকল জায়গাতে এ পোকার আক্রমণ দেখা যায় এবং ক্ষতির পরিমান ১০ থেকে ৭০ ভাগ পর্যন্ত হয় বলে বর্ষা মৌসুমে ঘন ঘন ক্ষেত পরিদর্শন করতে হবে ও ক্ষেতে এ পোকার আক্রমণ পর্যবেক্ষণ করতে হবে। মা পোকা দেখতে গাঢ় বাদামী বর্ণের ও পাখার উপর কালো ফোটা আছে। কীড়া ধূসর সাদা বর্ণের। বৃষ্টিপাত ও আদ্র আবহাওয়ায় এ পোকার আক্রমণ বেশি হয়।


    ক্ষতির নমুনাঃ আক্রমণে সবুজ পাতা হঠাৎ করে হলুদ রং ধারণ করে। আক্রান্ত পাতা আগা থেকে মরতে শুরু করে। রাইজোমটি ধূসর বর্ণের হয়ে পচন ধরে। অধিক আক্রমণে সমস্ত আদা পচে যায়।


    জীবন চক্রঃ স্ত্রী পোকা পচা আদায় গুচ্চাকারে ডিম পাড়ে। ৩-৪ দিন পর ডিম থেকে কীড়া বের হয়। কীড়া অবস্থায় ১৬-১৭ দিন থেকে পুত্তলিতে পরিণত হয়। পুত্তলি অবস্থায় ১৪-১৫ দিন থাকার পর পূর্ণাঙ্গ পোকা বেরিয়ে আসে। এদের জীবন চক্র সম্পন্ন করতে ৩৮-৬২ দিন লাগে।


    ব্যবস্থাপনাঃ প্রতিরোধী জাত ব্যবহার করতে হবে।  বীজ লাগানোর সময় রোগ ও পোকা মুক্ত বীজ ব্যবহার করতে হবে। রাইজোম না ভেঙ্গে লাগানো  এবং লাগানোর পূর্বে ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক দিয়ে বীজ (প্রতিলিটারে ২ গ্রাম হারে ) শোধন করে লাগাতে হবে। বর্ষাকালে জমিতে যাতে পানি জমতে না পারে তার জন্য পানি নিষ্কাশনের ভাল ব্যবস্থা করতে হবে। আক্রান্ত গাছ মাটি সহ তুলে ধ্বংশ করা।





    পোকার নামঃ ডগা ছিদ্রকারী পোকা

    কান্ড আক্রমণ করে বলে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। ফলে উৎপাদন কম হয়। এ পোকার মথ (মা) কমলা হলুদ রংয়ের এবং পাখার উপর কালো বর্ণের ফোটা থাকে। কীড়া হালকা বাদামী বর্ণের। গায়ে সুক্ষ্ণ শুং থাকে।

    ক্ষতির নমুনাঃ পোকা কান্ড ছিদ্র করে ভিতরের দিকে খায় বলে পাতা হলুদ হয়ে যায়। অনেক সময় ডেড হার্ট লক্ষণ দেখা যায়। আক্রান্ত কান্ডে ছিদ্র ও কীড়ার মল দেখা যায়। আদ্র আবহাওয়ায় এ পোকার আক্রমণ বেশি হয়।

    ব্যবস্থাপনাঃ আক্রমণ বেশি হলে, সুমিথিয়ন ৫০ ইসি ২০ মিলি হারে প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ব্যবহার করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। ডাইমেক্রন প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। পোকার আক্রমন বেশী হলে নুভাক্রন ১০০ ইসি ১ লিটার পানিতে ১ মিলি ওষুধ ভালোভাবে মিশিয়ে ১৫ দিন পরপর ২ থেকে ৩ বার স্প্রে করতে হবে।

    রোগের নামঃ রাইজম রট

    পিথিয়াম এফানিডারমেটাম নামক ছত্রাকের আক্রমণের কারনে এ রোগ হয়। এ রোগ রাইজমে আক্রমণ করে বলে আদা বড় হতে পারে না ও গাছ দ্রুত মরে যায় ফলে সমূহ ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।

    ক্ষতির নমুনাঃ প্রথমে পাতা হলুদ হয়ে যায় কিন্তু পাতায় কোন দাগ থাকে না। পরবর্তীতে গাছ ঢলে পড়ে ও শুকিয়ে মরে যায়। রাইজম (আদা) পচে যায় ও ফলন মারাত্মক ভাবে কমে যায়। ভেজা ও স্যাঁত স্যাঁতে আবহাওয়ায় এ রোগ বেশী দেখা যায়। বর্ষাকাল বা জলাবদ্ধতা থাকলে এ রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। এ রোগ বীজ, পানি ও মাটির মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে।

    ব্যবস্থাপনাঃ আক্রান্ত গাছ রাইজোমসহ সম্পূর্ণরূপে তুলে ধ্বংস করতে হবে। রোপণের পূর্বে প্রতি লিটার পানিতে ২.৫ গ্রাম রিডোমিল গোল্ড বা ১ গ্রাম ব্যাভিস্টিন মিশ্রিত দ্রবণে বীজকন্দ ৩০ মিনিট ডুবিয়ে ছায়ার নিচে শুকিয়ে রোপণ করতে হবে।  সুষম সার ব্যবহার করতে হবে। একর প্রতি নিম খৈল ১০০০ কেজি অথবা বাদামের খৈল ৪৪৫ কেজি এর সাথে ইউরিয়া ৩০ কেজি, টিএসপি ২০ কেজি এবং এমপি ৫০ কেজি প্রয়োগের ফলে ফলন বৃদ্ধি পায় এবং কন্দ পচা রোগ রোধ করা যায়। কন্দ পচা রোগ দ্বারা আক্রান্তের প্রাথমিক পর্যায়ে কপার অক্সিক্লোরাইড ৫০% ডব্লিউপি প্রতি লিটার পানিতে ৪ গ্রাম বা রিডোমিল গোল্ড প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম মিশিয়ে মাটির সংযোগ স্থলে ১৫-২০ দিন অন্তর অন্তর প্রয়োগ করে রোগ প্রতিরোধ করা যাবে।

    ফসল সংগ্রহঃ আদা লাগানোর ৯-১০ মাস পর উঠানোর উপযোগী হয়। গাছের প্রায় সব পাতা শুকিয়ে গেলে আদা তোলা হয়। ফলন প্রতি হেক্টরে ১২-১৩ টন।


    আদার দাম বাড়াচ্ছে আমদানিনির্ভরতা


    দেশে চাহিদার তুলনায় আদার উৎপাদন কম। চাহিদা মেটাতে ভারত, চীন ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আদা আমদানি করতে হয়। আর এই আমদানিনির্ভরতাই এখন বাড়াচ্ছে আদার দাম।
    সাম্প্রতিক সময়ে আদার মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে তৈরি করা বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের এক প্রতিবেদনে তাই আদা আমদানির বিকল্প উৎস দেশ খোঁজার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সেই বিকল্প হতে পারে নেপাল ও মিয়ানমার।
    প্রতিবেদন বলছে, বিশ্ববাজারে অস্বাভাবিক হারে মূল্যবৃদ্ধির পরও আদা আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলার পরিমাণ বাড়ছেই৷ দেশেও উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে। তাই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সুযোগ নেই। স্থানীয় বাজারে আদার সরবরাহ যেন স্বাভাবিক থাকে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারদরকে ভিত্তি ধরে আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা করে আদার যৌক্তিক দাম নির্ধারণ করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনটিতে।
    ট্যারিফ কমিশনের এই প্রতিবেদনটি গত বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
    টিসিবির হিসাব অনুযায়ী, দেশে ১ জানুয়ারি মানভেদে ১২৫ থেকে ১৭৫ টাকায় প্রতি কেজি আদা বিক্রি হলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২৫০ টাকায়। ঠিক এক বছর আগে আদা বিক্রি হতো ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। সে হিসেবে এক বছরে দাম বেড়েছে ৯৫ শতাংশ।
    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, দেশে বছরে আদার চাহিদা প্রায় তিন লাখ টন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে আদার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ ২০ হাজার টন। বছরে গড়ে এক লাখ টন আদা আমদানি করতে হয় (চাহিদার ২৭ শতাংশ)। আমদানি করা আদার ৫০ শতাংশ ভারত, ৩০ শতাংশ চীন আর ২০ শতাংশ ইন্দোনেশিয়া থেকে আসে। এ আমদানিনির্ভরতাই আদার দাম বাড়ানোর একটি বড় কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ট্যারিফ কমিশন।
    ভারত বিশ্বের সর্বোচ্চ আদা উৎপাদনকারী দেশ। গত বছর ভারতে অতিরিক্ত আদা উৎপাদন হওয়ায় চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাননি। ফলে এ বছর সে দেশে আদা চাষ অর্ধেকে নেমে আসে। তাই দেশটিতে বর্তমানে আদার দাম কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে চলে এসেছে। এ অবস্থায় ভারতে উৎপাদিত আদার ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোকে চীন, ইন্দোনেশিয়া ও নেপাল থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। এতে আমদানি খরচও বেড়ে যাচ্ছে। মূলত ভারতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
    ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১ জানুয়ারি এক টন আদার আমদানি মূল্য (সিঅ্যান্ডএফ) ছিল ৮০ হাজার টাকা। ১৫ মার্চের পরই বিশ্ববাজারে দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে প্রতি টন আদার আমদানি মূল্য এক লাখ ১৫ হাজার টাকায় পৌঁছায়। ৬ মে অবশ্য আমদানিমূল্য কিছুটা কমে এক লাখ ১০ হাজার টাকায় নেমে আসে।
    তবে জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত আদার মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ট্যারিফ কমিশন দেখেছে, রপ্তানিকারক দেশে যে হারে আদার দাম বেড়েছে, দেশের আমদানিকারকেরা তার চেয়ে কম দামে ঋণপত্র (এলসি) খুলেছেন। এ েক্ষত্রে আন্ডার ইনভয়েসিং হয়ে থাকতে পারে।
    প্রসঙ্গত, আদা আমদানিতে বর্তমানে ৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপিত আছে।
    চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে এক হাজার ৪২ টন আদা আমদানির জন্য ২১টি ঋণপত্র খোলা হয়। এর গড় মূল্য ছিল ৭৭৫ দশমিক ৮২ ডলার। এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহে এক হাজার ৬৮৫ টন আদার জন্য ৩১টি ঋণপত্র খোলা হয়, যার গড় মূল্য ৯৪১ ডলার। ওই মাসের শেষ সপ্তাহে ৫৩টি ঋণপত্র খোলা হয় এক হাজার ৯২২ টন আদা আমদানির জন্য, যার প্রতি টনের মূল্য ৮৭০ দশমিক ২৯ ডলার। অর্থাৎ বিশ্ববাজারে আদার মূল্যবৃদ্ধির পরও ঋণপত্র খোলার প্রবণতা বেড়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, বাজারে আদার দাম বাড়লেও সরবরাহে খুব বেশি প্রভাব পড়ার কথা নয়।
    ট্যারিফ কমিশন বলছে, আমদানি স্বাভাবিক থাকায় আদার সরবরাহে ঘাটতি হওয়ার কারণ নেই। তবে বাজারে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সরকারের নজরদারি বাড়াতে হবে। নইলে দেশে উৎপাদিত আদা ভারতে পাচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। কারণ, ভারতে আদার দাম এ দেশের চেয়ে বেশি হারে বেড়েছে। আদা নিয়ে যেন অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্য না হয়, সে জন্য সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
    আদা আমদানির বিকল্প দেশ হিসেবে নেপাল ও মিয়ানমারকে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপাল বিশ্বের চতুর্থ আদা উৎপাদনকারী দেশ। আবার নেপাল ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করা হলে খরচও অনেক কম পড়বে এবং সময়ও কম লাগবে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজার সার্বক্ষণিক তদারক করা প্রয়োজন, যেন দাম কমার সঙ্গে সঙ্গে দেশীয় বাজারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
    ট্যারিফ কমিশনের প্রিতবেদন
    ৩ লাখ টন চাহিদা বছরে
    ১ লাখ টন আমদানি করতে হয়
    ৫০% আমদানি হয় ভারত থেকে
    ৯৫% দাম বেড়েছে এক বছরে
    বর্তমানে আদা আমদানি হয় ভারত, চীন আর ইন্দোনেশিয়া থেকে। তবে বিকল্প হতে পারে নেপাল আর মিয়ানমার


    জাফরান: লাখ টাকা কেজি মসলার পরীক্ষামূলক ১৫ বছর চাষ

  • Share The Gag
  • জাফরান: লাখ টাকা কেজি মসলার পরীক্ষামূলক ১৫ বছর চাষ

     

     

    বিশ্বের সবচাইতে দামী মসলা বাংলাদেশে ১৫ বছর ধরে চাষ হচ্ছে পরীক্ষামূলকভাবে । সংশ্লিষ্ট বিভাগের উদাসীনতার কারনে ময়মনসিংহসহ দেশের ৯টি বিএডিসি উদ্যানে পরীক্ষামূলক চাষ হলেও আজো সম্প্রসারিত হয়নি বলে দাবী করেছেন অনেকেই। বিশ্বের সবচাইতে দামী লাখ টাকা কেজি এই মসলা ফসলটির নাম জাফরান। জানা যায়, প্রাচীন যুগে পারস্য উপকূলীয় অঞ্চলে জাফরানের স্নিগ্ধ উজ্জল রঙের গুরুত্ব অনুধাবন করে আধ্যাতিক পরিবেশনায় এর ব্যাপক প্রচলন হয়। জাফরান উদ্ভিদতত্বের দিক থেকে ইরিডাসিয়া ফ্যামিলির অন্তর্গত। আরবী ভাষায় ফারান এবং ইংরেজীতে সাফরন । জাফরান কালক্রমে গৃহস্থালীর ব্যবহারে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় তা ধীরে ধীরে কান্দাহার, খোরাসান, কাশ্মীরের বনেদী মহল ব্যবহারের মাধ্যমে ভারত উপমহাদেশে এর আগমন ঘটে।



    ২০০০ সালে বাংলাদেশের ৯ টি বিএডিসি উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে জাফরানের চাষ শুরু হয়। এর মধ্যে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা , গাজীপুরের কাশিমপুর ,পাবনা, রংপুর, বান্দরবন, জামালপুর , লামা এবং খুলনার দৌলনপুর বিএডিসি সার্ভিস সেন্টার। প্রতিটি বাগানে ১৫/২০ টি করে গাছ লাগানো হয় । তৎপরবর্তীতে প্রতিটি গাছের পুষ্পমন্জুরীতে প্রায় ২৫/৩০ টি করে ফুল ফোটে । বীজ তৈরী হতে সময় নেয় ৭০/৮০ দিন। মটরশুটির ন্যায় ছোট গোলাকার লাল রংঙের গাছ প্রতি ২০/৩০ টি করে বীজ হয় । প্রতিটি ফুটন্ত ফুলের পুংকেশর এবং স্ত্রী কেশর কাচাঁ অবস্থায় কেটে আলাদা করে শুকিয়ে নিয়ে সংরক্ষণ করা হয় । ৬/৭ ঘন্টা ভিজিয়ে রং সংগ্রহ করা হয় ।

    আশানুরুপ ফলন পাওয়ার পরও যথাযথ পদক্ষেপ আর পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ঐ চাষ হ্রাস পেতে থাকে। অভিজ্ঞমহল জানিয়েছেন, জাফরান চাষের ধারাবাহিকতা থাকলে দেশের চাহিদা মিটিয়েও বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হতো। জাফরানের উপকারভোগীরা জানান, জাফরানী রঙ অনুষ্ঠানাদিতে বনেদী পোলাও , বিরিয়ানি ,জর্দা, কালিয়াতে ব্যবহার করা হয়। আনেক পান বিলাসী এর পাপড়ি পানের সাথে চর্বণ করেন। জাফরানী রঙ বিভিন্ন হারবাল ওষুধ প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় ব্যবহার হয় । এর রঙ নান্দনিক সাজসজ্জায় তথা বনেদী পার্লারগুলোতে মেহেদিও সাথে সংমিশ্রণে মোহনীয় উজ্জ্বল রং এর উৎকর্ষতা বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হচ্ছে । প্রকৃত জাফরানী রং দ্বারা আধ্যাতিক ইমামগণ চীনা প্লেটের মধ্যে পবিত্র কুরআনের আয়াত লিখা পানি দ্বারা ধৌত করে রোগীকে খাইয়ে থাকেন। জাফরানী সরবত যে কোন অনুষ্ঠানে পরিবেশন যোগ্য । বাংলাদেশের মাটি জাফরান চাষের বিশেষ উপযোগী। তাই নতুন করে হলেও এর দিকে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন বলে অভিজ্ঞমহল মনে করেন।

     

    জাফরান পৃথিবীর অন্যতম দামী মসলা, ইহা ‘রেড গোল্ড’ নামেও পরিচিত। প্রাচীন যুগে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জাফরানের সুগন্ধ ও উজ্জ্বল রঙের গুরুত্ব অনুধাবন করে এ জাফরান ব্যবহার সম্ভ্রান্ত পরিবারের মধ্যে ব্যাপক প্রচলন ছিল। এ ফসলের আদিস্থান গ্রীস। জাফরানের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় তা ধীরে ধীরে কান্দাহার, খোরাসান, কাশ্মীরের বনেদী মহলে ব্যবহারের প্রয়োজনে ভারত উপমহাদেশে এর বিস্তার ঘটে। ইউরোপিও ইউনিয়নভুক্ত অনেক দেশেই জাফরান চাষ প্রচলন আছে। আফগানিস্থান, ইরান, তুরস্ক, গ্রীস, মিশর, চীন এ সব দেশে কম বেশি জাফরানের চাষ হয়ে থাকে। স্পেন ও ভারতের কোন কোন অংশে বিশেষ করে কাশ্মীরে এ ফসলের চাষ অনেক বেশি। তবে অন্য দেশের তুলনায় স্পেনে জাফরান উৎপাদন পরিমাণ অত্যাধিক। রপ্তানীকারক অন্যতম দেশ হিসাবেও স্পেন সুপরিচিত। বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় শতকরা ৭০ ভাগ জাফরান স্পেন রপ্তানী করে থাকে।

    যে সব দেশ স্পেন থেকে জাফরান আমদানী করে তাদের মধ্যে জার্মান, ইতালি, আমেরিকা, সুইজারল্যান্ড, ইউকে ও ফ্রান্স অন্যতম। ফুটন্ত ফুলের গর্ভদন্ড (স্টিগমা) সংগ্রহ করে তা থেকে জাফরান প্রাপ্তি একটা ব্যয় বহুল ও প্রচুর শ্রম নির্ভর (লেবার ইনটেনসিভ) কাজ। একই কারণে এ দামী মসলা চাষে অনেকেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। প্রথম বছর রোপিত সব গাছে ফুল আসেনা, এ সময় প্রায় শতকরা ৪০-৬০ ভাগ গাছে ফুল আসতে পারে। এক গ্রাম জাফরান পেতে saffronপ্রায় ১৫০টা ফুটন্ত ফুলের প্রয়োজন হয়। পরের বছর একেক গাছ থেকে প্রায় ২-৩টা করে ফুল দেয়। তবে তৃতীয় বছর থেকে প্রতি বছরে জাফরান গাছ ৫-৭ টা করে ফুল দিতে সক্ষম।

    জাফরানের ইংরেজি নাম ‘সাফরন’, ক্রোকোআইডি (Crocoideae)পরিবার ভুক্ত। এর বৈজ্ঞানিক নাম : Crocus sativus| । এ গাছ লম্বায় প্রায় ৩০ সে.মিটার হয়। প্রতি ফুলে ৩টা স্ত্রী অঙ্গ (Stigma) থাকে, তবে তাতে পুরুষ অঙ্গ (Anther) থাকে মাত্র ৩টা। খাবার সু-স্বাদু করার জন্য বিশেষ করে বিরিয়ানী, কাচ্চী, জর্দা ও কালিয়াসহ নানা পদের দামী খাবার তৈরীতে জাফরান ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও বিয়ের অনুষ্ঠানে জর্দা তৈরীতে প্রাকৃতিক আকর্ষণীয় রং আনতে এবং দামী বাহারী পান বিপণনে জাফরান অন্যতম উপাদান। মুখমন্ডল আকর্ষণীয় করতে ও ত্বকের উজ্জ্বল রং আনার জন্য স্বচ্ছল সচেতন রমণীরা প্রাচীন কাল থেকে জাফরান ব্যবহার করে থাকে। বিউটি পার্লারে রূপচর্চায় জাফরান অন্যতম উপাদান হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

    বংশ বিস্তার: গাছের মোথা বা বালব (অনেকটা পেঁয়াজের মত) সংগ্রহ করে তা বংশ বিস্তারের কাজে ব্যবহার করা হয়। এক বছর বয়স্ক গাছ থেকে রোপন উপযোগী মাত্র দু’টা মোথা (ইঁষন) পাওয়া যায়। তবে ৩-৪ বছর পর একেক গাছ থেকে ৫-৭টা মোথা পাওয়া যেতে পারে। নূতন জমিতে রোপন করতে হলে ৩-৪ বছর বয়স্ক গাছ থেকে মোথা সংগ্রহ করে তা জমিতে রোপন করতে হবে। একই জমিতে ৩-৪ বছরের বেশি ফসল রাখা ঠিক নয়। মোথা বা বালব উঠিয়ে নূতন ভাবে চাষ ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

    জমি নির্বাচন: প্রায় সব ধরনের জমিতে জাফরান ফলানো যায়। তবে বেলে-দোঁআশ মাটি এ ফসল চাষে বেশি উপযোগী। এঁটেল মাটিতে জাফরানের বাড় বাড়ন্ত ভাল হয় না, তবে এ ধরনের মাটিতে কিছু পরিমান বালু ও বেশি পরিমাণ জৈব সার মিশিয়ে এ মাটিকে উপযোগী করা যায়। জলাবদ্ধ সহনশীলতা এ ফসলের একেবারেই নেই। এ জন্য পানি নিষ্কাশন সুবিধাযুক্ত উঁচু বা মাঝারী উঁচু জমি এ ফসল চাষের জন্য নির্বাচনে প্রাধান্য দেয়া প্রয়োজন। মাটির পি এইচ ৬-৮ হলে বেশি ভাল হয়। ছায়া বা আধা ছায়ায় এ ফসল ভাল হয় না। পর্যাপ্ত রোদ ও আলো-বাতাস প্রাপ্তি সুবিধা আছে এমন স্থানে এ ফসল আবাদ ব্যবস্থা নিতে হবে।

    পরিবারিক প্রয়োজন মেটাতে সাধারণত বাগানের বর্ডার এলাকাতে এ ফসল চাষ প্রচলন আছে। অনেকে ছাদে, পটে বা ছোট ‘বেড’ তৈরী করে নিয়েও সেখানে সীমিত আকারে জাফরান চাষ করে পরিবারের চাহিদা পূরণ করে থাকে। অনেকে এক মিটার চওড়া ও তিন মিটার লম্বা এবং ১৫ সে.মিটার উঁচু বীজতলা তৈরী করে নিয়ে তাতে জাফরান চাষ করে থাকে। এ ব্যবস্থায় পরিচর্যা গ্রহন ও ফুল থেকে স্টিগমা (গর্ভদন্ড) সংগ্রহ করা সুবিধা হয়। বাণিজ্যিকভাবে চাষের ক্ষেত্রে বীজতলার আকার লম্বায় ৮-১০ মিটার করা হয়।

    চাষ পদ্ধতি: তৈরী বীজ তলা সরেজমিন হতে প্রায় ১৫ সে.মিটার উঁচু হবে। প্রতিটা জাফরানের বালব বা মোথা ১০-১২ সে.মিটার দূরত্বে ছোট গর্ত তৈরী করে তা ১২-১৫ সে.মিটার গভীরতায় রোপন করতে হবে। তাতে এ মাপের বীজ তলার জন্য প্রায় ১৫০টা জাফরানের মোথার প্রয়োজন হয়। বর্ষা শেষ হওয়ার পূর্বক্ষণে জুলাই- আগষ্ট মাসে এ ফসলের মোথা বা বালব (ইঁষন) রোপন করা হয়। শুরুতে বেশি গভীর ভাবে জমি চাষ করে বা কোদাল দিয়ে কুপিয়ে জমি আগাছা মুক্ত ও লেবেল করে নেয়া প্রয়োজন। জমি তৈরী কালে প্রতি শতক জমিতে পঁচা গোবর/আবর্জনা পঁচা সার ৩০০ কেজি, টিএসপি ৩ কেজি এবং এমওপি ৪ কেজি প্রয়োগ করে ভালোভাবে মাটির সাথে সমস্ত সার মিশিয়ে হালকা সেচ দিয়ে রেখে দিয়ে দু’সপ্তাহ পর জাফরান বালব রোপন উপযোগী হবে। বসতবাড়ি এলাকায় এ ফসল চাষের জন্য বেশি উপযোগী।
    এ ফসল একবার রোপন করা হলে ৩-৪ বছর পর্যন্ত ফুল দেয়া অব্যাহত থাকে। বর্ষার শেষে আগষ্ট মাসে মাটি থেকে গাছ গজিয়ে ফেব্রুয়ারী মাস পর্যন্ত গাছের বৃদ্ধি ও ফুল দেয়া অব্যাহত থাকে। মে মাসের মধ্যে গাছের উপরিভাগ হলুদ হয়ে মরে যায়। মোথা মাটির নিচে তাজা অবস্থায় বর্ষাকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকে। এ সময় গাছের অবস্থিতি উপরি ভাগ থেকে দেখা যায়না।

    গাছের বৃদ্ধি ও ফুল: গাছে শীতের প্রারম্ভে অর্থাৎ অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ফুল আসে। বড় আকারের মোথা লাগানো হলে সে বছরই কিছু গাছে ফুল ফুটতে পারে। শীতকালে গাছের বাড় বাড়ন্ত ভাল হয়। শীত শেষে এ বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। গাছের বয়স এক বছর হলে অতিরিক্ত ১টা বা ২টা মোথা (ঈড়ৎসং) পাওয়া যায়। তিন বছর পর রোপিত গাছ থেকে প্রায় ৫টা অতিরিক্ত মোথা পাওয়া যাবে, যা আলাদা করে নিয়ে নূতন ভাবে চাষের জন্য ব্যবহার উপযোগী হবে।

    পরিচর্যা: এ ফসল আবাদ করতে হলে সব সময় জমি আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। মাঝে মাঝে নিড়ানী দিয়ে হালকা ভাবে মাটি আলগা করে দেয়া হলে মাটিতে বাতাস চলাচলের সুবিধা হবে এবং গাছ ভালোভাবে বাড়বে। শুকনো মৌসুমে হালকা সেচ দেয়া যাবে। তবে অন্য ফসলের তুলনায় সেচের প্রয়োজনীয়তা অনেক কম। বর্ষায় পানি যেন কোন মতে জমিতে না জমে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পানি জমে থাকলে রোপিত বালব পঁচে যাবে।

    আপদ ও রোগ বালাই: এক প্রকারের ইঁদুর, চিকা ও খরগোস জাফরানের পাতা, ফুল এমনকি গাছের মোথা খেতে পছন্দ করে, মোথা যত খায় নষ্ট করে তার দ্বিগুণ। এ জন্য এ ধরনের উপদ্রব দেখা গেলে প্রয়োজনীয় ফাঁদ ব্যবহার করে অথবা মারার জন্য ঔষুধ ব্যবহার করে তা দমন ব্যবস্থা নিতে হবে।

    গাছ ঢলে পড়া রোগ: এক ধরনের মাটিতে বসবাসকারী ছত্রাকের (পিথিয়াম, রাইজোক টোনিয়া) আক্রমণে গাছের গোড়া নরম হয়ে গাছ বাদামী রং ধারন করে গাছ হেলে পড়ে। প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে লগন/রিডোমিল-গোল্ড অথবা কার্বোন্ডাজিম দলীয় ছত্রাক নাশক (জাষ্টিন/ব্যাভিস্টিন) স্প্রে করে সুফল পাওয়া যাবে।

    শিকড় পচা রোগ: এটা জাফরানের খুব ক্ষতিকর রোগ। এ রোগের আক্রমণে শিকড় পঁচে গাছ মারা যায়। এ রোগ যথেষ্ট ছোঁয়াচে, এ জন্য বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন করা দরকার এবং আক্রান্ত জমিতে দু-এক বছর জাফরান চাষ করা যাবে না। একই বাগানে ৩-৪ বছর ধরে জাফরান আবাদ অব্যাহত রাখা হলে এ রোগের উপদ্রব বাড়ে। এ জন্য তিন বছর ফসল নেয়ার পর চতুর্থ বছর মোথা উঠিয়ে নিয়ে নূতন ভাবে অন্য জমিতে এ ফসল চাষ ব্যবস্থা নিতে হবে। পরবর্তী ২ বছর এ রোগাক্রান্ত জমিতে আর জাফরান চাষ করা উচিত হবে না।

    জাফরান সংগ্রহ: রোপনের প্রথম বছর সাধারণত ফুল আসে না। তবে জাফরানের রোপিত বালব আকারে বেশ বড় হলে সে বছরই জাফরান গাছ থেকে মাত্র একটা ফুল ফুটতে পারে। পরের বছর প্রতি গাছে পর্যায়ক্রমে ২-৩ টা ফুল আসবে। দু’বছরের গাছে ৪-৫টা এবং তিন বছরের গাছে ৭-৮টা ফুল দিবে। জাফরানের স্ত্রী অঙ্গ ৩টা থাকে এবং পুরুষ অঙ্গ ও ৩’টা থাকে। গাছে অক্টোবর মাস থেকে ফুল দেয়া আরম্ভ করে এবং নভেম্বর মাস পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। তবে এ ফুল ফোটা মৌসুমী তাপমাত্রার উপর অনেকটা নির্ভর করে। ফুটন্ত ফুলের গন্ধের মাত্রা কিছুটা তীব্র। ফুল ফোটার সঙ্গে সঙ্গে গর্ভদন্ড (ঝঃরমসধ) গাছ থেকে ছেঁটে সংগ্রহ করা প্রয়োজন। এ দন্ডের অগ্রভাগের অংশ তুলনায় চওড়া বেশি বা মোটা হয়। এ অংশের রং গাঢ় লালচে হয়। নীচের অংশ অনেকটা সুতার মত চিকন এবং হালকা হলুদ রঙের হয়। উপরের অংশ জাফরান হিসাবে ব্যবহৃত হয়, নিচের চিকন অংশের গুণাগুণ তেমন ভালো হয় না।

    সংরক্ষণের আগে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে যেন তা ভালোভাবে শুকানো হয়। অন্যথায় জাফরান বেশি দিন রাখা যাবে না, প্রকৃতিক গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।ফুল ফোটার সঙ্গে সঙ্গে ফুলের স্টিগমার বা গর্ভদন্ডের প্রয়োজনীয় অংশ কেঁচি দিয়ে বা অন্য ভাবে ছেঁটে নিয়ে তা চওড়া একটা পাত্রে পরিষ্কার কাগজ বিছিয়ে নিয়ে তার উপর সংগৃহীত জাফরান রোদে শুকানোর ব্যবস্থা নেয়া হয়। এ সময় রোদে দেয়ার জন্য জাফরান সংরক্ষিত পাত্রটা কিছু উঁচু স্থানে টেবিল/টুলে রাখতে হবে এবং কোন মতেই যেন বাতাস বা অন্য কোন প্রাণীর উপদ্রবে পড়ে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জাফরান শুকানোর জন্য এক ধরনের যন্ত্র (ডেসিকেটর বা ড্রায়ার) ব্যবহার করা হয়।

    জাফরান সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কাজ অতি ধৈর্য্যরে সাথে করতে হয় যা অনেকটা চা সংগ্রহের মত। ফসল সংগ্রহ, পরবর্তীতে প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বিপণন এ কাজগুলো উৎপাদনকারী সব দেশেই মহিলারা করে থাকে। এ দেশেও এ গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পাদনের জন্য আগ্রহী মহিলাদের সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ দেয়া অতি জরুরী হবে। দু-তিন দিন পড়ন্ত রোদে শুকানোর পর তা আর্দ্রতা রোধক পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে। কড়া রোদে বা বৃষ্টিতে ভেজার আশঙ্কা থাকলে বাড়ীর বারান্দায় বা জানালার ধারে সুরিক্ষত স্থানে এ মূল্যবান জাফরান শুকানোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

    সাবধানতা: জাফরান অত্যান্ত দামী ফসল। এ জন্য অসাধু ব্যবসায়ীরা এতে ভেজাল দিয়ে ক্রেতা সাধারণকে প্রতারিত করার অহরহ দৃষ্টান্ত আছে। ক্রেতাকে অবশ্যই জাফরান ক্রয় কালে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। সব চেয়ে ভাল হয় বাড়ির ছাদে বা সবজী বাগানে কিছু সংখ্যক গাছ লাগিয়ে নিজেই উৎপাদন করা বা উৎপাদনে অন্য কাউকে উৎসাহিত করে সেখান হতে নিজ প্রয়োজন মেটানো।

    জাফরান চাষে করণীয়: প্রত্যেক হর্টিকালচার সেন্টারে সুবিধামত স্থানে ২-৩টা স্থায়ী বীজ তলায় এ দামী গুরুত্বপূর্ণ হাইভ্যালু ফসলের আবাদ ব্যবস্থা নেয়া অত্যাবশ্যক। পার্শ্ববর্তী যে কোন দেশ থেকে দু-একশত জাফরান বালব সংগ্রহ করে চাষের উদ্যোগ নেয়া জরুরী। জাফরান বালব সংগ্রহের ক্ষেত্রে বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে তা প্রত্যেক হর্টিকালচার সেন্টারে বিশেষ করে নূরবাগ জার্মপ্লাজম হর্টিকালচার সেন্টারে চাষ

    Friday, May 26, 2017

    কারিপাতা বিস্তারিত ও চাষাবাদ নিয়ম

  • Share The Gag
  • হিমালয়ের পাদদেশ থেকে শুরু করে সুন্দরবনসংলগ্ন জনপদেও দেখেছি কারিপাতার গাছ জন্মাতে। তবে কারিপাতার রান্না তামিলনাড়ুর চিদাম্বরমে আন্নামালাই বিশ্ববিদ্যালয়ে খেয়ে তবেই না এর স্বাদ বুঝেছি। কারিপাতাগাছ এ দেশে পরিচিত গাছ হলেও সুগন্ধি গাছ হিসেবে এর ব্যবহার প্রায় নেই বললেই চলে। কারিপাতা এদেশে কোথাও কোথাও নিমভুতগাছ হিসেবে পরিচিত। বনে জঙ্গলে জন্মে, আপনা আপনি হয়। কেউ কখনো এ গাছ লাগায় না। এগাছ অবশ্য কেউ কেউ কবিরাজী কাজে ব্যবহার করে থাকেন। তবে এর সুগন্ধি পাতা ব্যবহার করে এদেশে কেউ কখনো রান্না করেন না। কিন্তু ভারতের তামিলনাড়ুতে গিয়ে কারিপাতা ছাড়া রান্না কেউ না খেয়ে ফিরে এসেছে এমনটি শোনা যায়নি। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দক্ষিণ ভারতে রান্নাকে সুগন্ধিযুক্ত করতে কারিপাতার ব্যবহার চলে আসছে। খাদ্যকে শুধু সুস্বাদু করাই নয়, এ পাতার কিছু ভেষজগুণও আছে। তাই আমাদের বুনো এ গাছটির পাতা তেজপাতার মতো মসলা হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। আর এ গাছ চাষে আলাদা কোনো জমি দরকার নেই। বাড়ির আশপাশে যেসব বাগানের ভেতর ছায়া ছায়া ফাঁকা জায়গা পড়ে রয়েছে সেসব পতিত জায়গা ব্যবহার করে কারিপাতা উৎপাদন করে বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে।


    গাছের পরিচয়


    মূলত কারি বা ঝোল তরকারি রান্নার জন্য এ গাছের পাতা ব্যবহার করা হয় বলে এর ইংরেজি নাম কারি লিফ, বাংলায় কারি পাতা। বাংলায় স্খানীয় কিছু নামও আছে- নিমভুত, বারসাঙ্গা ইত্যাদি। তামিল ভাষায় বলে কারিভেম্পু, তেলেগুতে কারেপাকু। হিন্দিতে বলে কাঠনিম, মিঠানিম, গোরানিম, গাধেলা, কারি পাত্তা ইত্যাদি। উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম abcdr, পরিবার রুটেসী। অর্থাৎ কারি পাতা ও কামিনী ফুলের গাছ একই গোত্রের। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৫০০ মিটার উঁচুতেও কারিপাতাগাছ জন্মাতে পারে। গাছ মাঝারি উচ্চতার, উচ্চতায় ৫-৬ মিটার হয়। পাতা দেখতে অনেকটা নিম পাতার মতো। পাতায় সালফারঘটিত এক ধরনের উদ্বায়ী তেল থাকার কারণে সুন্দর ঝাঁঝাল গন্ধ আসে। কাঁচা পাতা ডললে পাতা থেকে গোলমরিচ, লবঙ্গ, মরিচ, আদা ইত্যাদি মসলার মিশ্রিত এক প্রকার ঘ্রাণ বের হয়। এই সুগন্ধির জন্যই কারিপাতা রান্নায় মসলাপাতা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাতা পক্ষল ও যৌগিক, নিমপাতার মতোই। তবে পাতাগুলো ডালের মাথা থেকে চারদিকে সূর্যের রশ্মির মতো ছড়িয়ে পড়ে। তাই পত্রবিন্যাস সুন্দর দেখায়। প্রতিটি পাতায় অনুপত্রকের সংখ্যা ৯-১৫টি। অনুপত্রকের কিনারা খাঁজকাটা, অগ্রভাগ সূচালো। ডালের মাথায় পুষ্পমঞ্জরীতে সাদা রঙের ফুল ফোটে, ফুলেও সুগন্ধ আছে। ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে ফুল ফোটে। ফুল থেকে নিমের মতো ফল হয়। ফল ডিম্বাকার থেকে গোলাকার, কাঁচা ফলের রঙ সবুজ। পরিপক্ব হওয়ার সাথে সাথে লালচে থেকে কালো হয়ে যায়। বীজ থেকে সহজে চারা হয়।




    ব্যবহার


    সুগন্ধি মসলা হিসেবে সবুজ পাতা রান্নায় ব্যবহার করা যায়। পাতায় ৬.১% প্রোটিন, ১.০% তেল, ১৬% শ্বেতসার, ৬.৪% আঁশ ও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি (৪ মিলিগ্রাম/১০০গ্রাম পাতা) আছে। কাঁচা কারিপাতা কয়েকটা জলতে ধুয়ে রান্নার সময় তার ভেতরে ছিঁড়ে দিলে রান্নায় সুঘ্রাণ ও ঝাঁঝ আসে। গরু ও খাসির গোশত, মিশ্র সবজি, ডাল ইত্যাদি কারিপাতা দিয়ে রান্না করা যায়। কারিপাতা শুকনো করে গুঁড়ো হিসেবে কারি পাউডার তৈরি করা যায়। বোতলে ভরে রেখে রান্নার সময় তা ব্যবহার করা যায়। তবে কাঁচা পাতায় ঘ্রাণ বেশি।


    কারিপাতা, গাছ, শিকড় সবই ভেষজ গুণসম্পন্ন। গাছের শিকড় অর্শ রোগে উপকারী। আমাশয় ও ডায়রিয়া সারাতেও কারিপাতা ওস্তাদ। কয়েকটা সবুজ পাতা চিবিয়ে খেলে এটা সেরে যায়। পাতা সেঁকে ও তা থেকে ক্বাথ তৈরি করে খেলে বমিভাব দূর হয়। রেচনতন্ত্রের ব্যথা দূর করতে পাতার রস সেবন করতে পরামর্শ দেয়া হয়। শরীরের কোথাও কোনো বিষাক্ত পোকা কামড়ালে কাঁচা কারিপাতা ডলে সেখানে লাগালে দ্রুত উপশম হয়। যকৃতের কঠিন ব্যথা সারাতে রোগীদের কারিপাতা গাছের শিকড়ের রস খাওয়ানো হয়। শুধু পাতা নয়, এর ফলও খাওয়া যায়। বীজ থেকে যে তেল পাওয়া যায় তার গন্ধ অনেকটা নারকেল তেলের মতো আর স্বাদ মরিচের মতো ঝাঁঝালো। তেল জিহ্বায় স্পর্শ করলে ঠাণ্ডা মনে হয়।




    চাষাবাদ


    বীজ থেকে প্রথমে চারা তৈরি করে নিতে হবে। বর্ষার শুরুতে ২-৩ মিটার পর পর জমিতে চারা লাগাতে হবে। চারা লাগানোর জন্য সবদিকে আধা মিটার আন্দাজে গর্ত তৈরি করে গর্তের মাটির সাথে এক ঝুড়ি গোবর সার মিশিয়ে সপ্তাহ দুয়েক রেখে দিতে হবে। জুন-জুলাই মাসে চারা লাগাতে হবে। প্রতি বছর জুলাই মাসে একবার গাছপ্রতি ১০০-২০০ গ্রাম ইউরিয়া সার দিতে হবে। খরার সময় সেচ দিলে উপকার হয়। গাছের বয়স ১৫ মাস হলেই গাছ থেকে পাতা তোলা শুর করা যায়। কচি পাতা না তুলে গোড়ার দিক থেকে বয়স্ক পাতা তুলে আঁটি বেঁধে বাজারে বেচতে পাঠাতে হবে। ঘরোয়া ব্যবহারের জন্য একটা দুটো গাছই যথেষ্ট। বাণিজ্যিকভাবে চাষের আগে এর বাজার সম্বন্ধে নিশ্চিত হতে হবে। এ গাছে সহজে কোনো রোগ পোকা আক্রমণ করে না।

    Wednesday, April 19, 2017

    গ্রীষ্মকালীন বারি মরিচ ২ এর চাষাবাদ

  • Share The Gag
  • গ্রীষ্মকালীন বারি মরিচ ২ এর চাষাবাদ

    মরিচ বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী মসলা ফসল। কাঁচা ও পাকা উভয় অবস্থাতেই এ ফসলে প্রচুর চাহিদা রয়েছে। রান্নার রং, রুচি ও স্বাদে ভিন্নতা আনার জন্য মরিচ একটি অপরিহার্য উপাদান। পুষ্টির পাশাপাশি মরিচের ভেষজ গুণ রয়েছে। কাঁচা মরিচ ভিটামিন-এ ও সি সমৃদ্ধ। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা মরিচে ২-৩ গ্রাম আমিষ, ৬ গ্রাম শ্বেতসার, ০.৬ গ্রাম তেল, ৭ গ্রাম আঁশ, ১০০-থেকে ২০০০ আই.ইউ ভিটামিন-সি এবং ২০ থেকে ২৮ গ্রাম অন্যান্য ভিটামিন ও পানি রয়েছে। এটি ক্ষুধা বর্ধক, বায়ু নাশক ইত্যাদি গুণাবলি সম্পন্ন। বাংলাদেশে প্রায় ১৬ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে ৩৭ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ উৎপাদিত হয়। বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কাঁচা মরিচ রপ্তানি হয়। রবিও খরিপ-১ মৌসুমে মরিচ সহজলভ্য হলেও খরিপ-২ মৌসুমে বাজারে স্বল্পতা দেখা দেয়। তাই বর্ষ ও শীত মৌসুমের পূর্বে মরিচের উৎপাদন অব্যাহত রাখার প্রয়াসে মসলা গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীগণের নিরলস প্রচেষ্টায় বারি মরিচ -২ নামে একটি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করা হয় এবং জাতীয় বীজবোর্ড কর্তৃক ২০১৩ সালে মুক্তায়িত করা হয়। জাতটি দেশে কাঁচা মরিচের মোট উৎপাদন বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।

    জাতের বৈশিষ্ট্য: এটি একটি গ্রীষ্মকালীন মরিচের জাত। গাছ বেশ লম্বা ও ঝোপালো। গাছের পাতার রং হালকা সবুজ। প্রতি গাছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টি মরিচ ধরে। এই জাতের মরিচের ত্বক পুরু। কাঁচা অবস্থায় মরিচের রং হালকা সবুজ এবং পাকা অবস্থায় লাল। এ জাতের মরিচের জীবন কাল প্রায় ২৪০ দিন।

    মাটি: উঁচু এবং মাঝারি উঁচু জমিতে এ জাতটি চাষ করা যায়। সুনিষ্কশিত , উর্বরতা সমৃদ্ধ বেলে দোঁআশ এবং পলি দোঁআশ মাটি এ জাতের মরিচ চাষের জন্য উত্তম। বাংলাদেশের বগুড়া, পাবনা, লালমরিহাট, ময়মনসিংহ ও সমগ্র খুলনা অঞ্চল, মানিকগঞ্জ ঢাকা প্রভৃতি এলকায় জাতটি চাষ করা যায়।

    রোপণমৌসুম: এটি একটি গ্রীষ্মকালীন জাতের মরিচ। এপ্রিল মাসে জমিতে এ মরিচের চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত এ জাতের মরিচের চারা জমিতে রোপণ করা যায়।

    চারা উৎপাদন: অপেক্ষাকৃত উঁচু যেখানে বৃষ্টির পানি দাঁড়ায় না, যতেষ্ট আলো-বাতাস পায়, পানি সেচের উৎস আছে এরূপ জমি বীজতলার জন্য নির্বাচন করতে হবে।গ্রীষ্মকালীন মরিচের জন্য মার্চ মাসে বীজতলায় বীজ বপন করতে হবে। প্রতিটি বীজতলার আকৃতি ৩ মি.ঢ ১ মিটার হওয়া উচিত। এ ধরনের প্রতিটি বীজতলায় ১৫ গ্রাম হারে বীজ সারিতে বপন করতে হবে। ভাল চারার জন্য প্রথমে বীজতলার মাটিতে প্রয়োজনীয় কম্পোষ্ট সার এবং কাঠের ছাই মিশিয়ে ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। বীজ বপনের ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা আগে প্রতিকেজি বীজে ২ গ্রাম হারে প্রোভেক্স বা ব্যাভিষ্টিন মিশিয়ে শোধন করে নিতে হবে। শোধিত বীজ বীজতলায় ৪ থেকে ৫ সে.মি. দূরে দূরে সারি করে ১ সে.মি. গভীরে সরু দাগ টেনে ঘন করে বপন করতে হবে। বীজ বপনের পর বীজতলায় যাতে পোকামাকড় দ্বারা চারা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্য প্রতিলিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে সেভিন পাউডার মিশিয়ে মাটিতে স্প্রে করতে হবে। অতিবৃষ্টি বা খরা থেকে চারা রক্ষার জন্য বাঁশের চাটাই, পলিথিন বা নেট দিয়ে বীজতলা ঢেকে দিতে হবে। বাঁশের চাটাই বা পলিথিন সকাল বিকাল বা রাতে সরিয়ে নিতে হবে। নেট ব্যবহারে বিভিন্ন শোষক পোকা চারাকে আক্রমণ করতে পারে না এবং নেটের উপর দিয়ে হালকা সেচ দিলে চারা ভাল থাকে। ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে বীজ গজায়। চরা ৩ থেকে ৪ সে.মি. হলে নির্দিষ্ট দূরত্বে চারা পাতলা করা হয়। খাট, মোটা কান্ড ও ৪ থেকে ৫ পাতা বিশিষ্ট ৩০ থেকে ৩৫ দিন বয়সের উৎকৃষ্ট চারা মূল জমিতে রোপণ করারর উপযুক্ত বলে বিবেচনা করা হয়।
    জমি প্রস্তুত ও বেড তৈরী: গ্রীষ্মকালীন মরিচ চাষের জন্য ৪ থেকে ৫টি আড়আড়িভাবে চাষও মই দিয়ে গভীরভাবে চাষ করে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। জমি থেকে আগাছা ও পূর্ববর্তী ফসলের আবর্জনা ইত্যাদি সরিয়ে ফেলতে হবে। চারা রোপণের জন্য ১.২ মি. প্রস্থ বিশিষ্ট প্রয়োজন মতো লম্বা ৩০ সে.মি. উচ্চতার বেড তৈরী করতে হবে। পানি সেচ ও নিষ্কাশনের জন্য দুই বেডের মাঝখানে ৪০ থেকে ৫০ সে.মি. প্রশস্ত নালা রাখতে হবে।
    বীজের পরিমাণ ও রোপণ দূরত্ব: বারি মরিচ-২ এর চারা তৈরী করার জন্য একর প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়। সারি থেকে সারির দূরত্ব দিতে হবে ৬০ সে.মি. এবং গাছ থেকে গাছের দূরত্ব দিতে হবে ৫০ সে.মি.। এ ভাবে রোপণ করলে একর প্রতি ১৩ ,৩৩৩ টি গাছ পাওয়া যায়।
    সারের পরিমাণ ও প্রয়োগ পদ্ধতি। মাটির প্রকৃতি, উর্বরতা ইত্যাদির উপর নির্ভর করে সারের মাত্রা ভিন্ন হতে পারে। বারি মরিচ-২ এর জন্য একর প্রতি ২ টন কম্পোষ্ট, ৮৪ কেজি ইউরিয়া,১৩২ কেজি টিএসপি, ৮০ কেজি এমওপি ৪৪ কেজি জিপসাম ৬০০ গ্রাম বোরন সারের প্রয়োজন হয়। শেষ চাষের সময় কম্পোষ্ট, টিএসপি, জিপসাম, বোরন ও ১/৪ অংশ এমপি সার মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। তারপর চারা রোপণের ২৫, ৫০ ও ৭০ দিন পর পর্যাক্রমে ১ম ২য় ও ৩য় কিস্তিতে প্রতিবার ৭০ কেজি ইউরিয়া ও ৫০ কেজি এমওপি সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে।
    সেচ প্রয়োগ: চারা রোপণ করার পর অবস্থা বুঝে হালকা সেচ প্রয়োগ করতে হবে, যাতে চারা সতেজ থাকে এবং মাটিতে সহজে খাপ খাওয়াতে পারে। যেহেতু বারি-২ মরিচ খরিপ-২ মৌসুমে চাষ করা হয়, তাই অন্যান্য মরিচের মতো বেশি সেচ প্রয়োজন হয় না। তবে অবস্থা ভেদে ৩ থেকে ৪ টি সেচ প্রয়োজন হতে পারে।

    আগাছ দমন: ভাল ফলনের জন্য চারা রোপণের ১৫, ৩০ , ৪৫ও ৬০ দিন পর পর চার বার নিড়ানী দিয়ে আগাছা দমন করতে হবে।

    মাটি তোলা: ভাল ফসলের জন্য ৩ থেকে৪ বার দুই সারির মাঝের মাটি তুলে দিতে হবে। এতে গাছের গোড়া শক্ত হয় এবং পানি নিষ্কাশনের সুবিধা হয়।

    খুঁটি প্রদান: অধিক উচ্চতা, ফলনের ভার , ঝড়-বাতাস বা অতিবৃষ্টির কারণে গাছ হেলে পড়ে। ফলে মরিচের গুণাগুণ হ্রাস পায়। তাই হেলে পড়া থেকে রক্ষার জন্য খুঁটির সাথে মরিচ গাছ বেঁধে দিতে হবে।

    ফসল ও বীজ সংগ্রহ: চারা রোপণের ৭০ থেকে ৮০ দিন পর মরিচ ফল উত্তোলন করা হয়। বারি মরিচ-২ এর জীবনকাল দীর্ঘ হওয়াতে প্রায় ৮ থেকে ১০ বার ফসল উত্তোলন করা যায়। উত্তম বীজের জন্য বড়, পুষ্ট ও সম্পূর্ণ পাকা মরিচ নির্বাচন করতে হবে। বর্ষাকালে মরিচ শুকানো বেশ কষ্টকর। এজন্য পাকা মরিচ দুই ফালি করে কেটে বীজ বের করে নিয়ে শুকাতে হবে।

    বীজ সংরক্ষণ: মরিচের বীজ বিভিন্ন ধরনের বায়ুরোধী পাত্র, পলিথিন বা অ্যালুমনিয়াম ফয়েল প্যাকেটে সংরক্ষণ করা যায়। বীজ শোধনের জন্য অপেক্ষাকৃত ছোট আকৃতির বায়ুরোধী পাত্র বা পলিথিন প্যাকেট ইত্যাদি ব্যবহার করা উচিত।

    রোগ ও পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা: বারি মরিচ-২ জাতে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ নেই বললেই চলে। তবে মাঝে মধ্যে আগা মরা রোগের প্রাদুর্ভাব হতে পারে। এ ছাড়া বীজের জন্য রাখা পাকা মরিচে ফল পচা রোগ দেখা দিতে পারে।

    আগা মরা রোগ: সারা বছর এই রোগ হয়ে তাকে। তবে সাধারণত বৃষ্টি হওয়ার পর তাপমাত্রাও আর্দ্রতা বৃদ্ধি পেলে এ রোগের আক্রমণ বৃদ্ধি পায়।

    রোগের লক্ষণ:

    ১। এই ছত্রাকের আক্রমণে নতুন আগায় ক্ষত দেখা দেয়।ফলে আগা মরতে মরতে পিছনের দিকে অগ্রসর হয়। এজন্যই এই রোগকে আগা মরা রোগ বলা হয়।

    ২। গাছে যখন ফুল ধরা শুরু করে তখনই এই রোগের আক্রমণ দেখা দেয়। আক্রান্ত গাছের ফুল শুকিয়ে যায়।

    ৩। রোগ ফুল থেকে কা-ে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে এটি শাখা-প্রশাখা ও কা-ে ডাইব্যাক রোগের সৃষ্টি করে। শাখা- প্রশাখাগুলি নেতিয়ে শুকিয়ে যায়।

    ৪। মরা আগা পানি ভেজা বাদামি রং এর হয়ে থাকে ও চূরান্ত পর্যায়ে ধূসর সাদা বা খড়ের রং এর মতো ধারণ করে। আক্রান্ত আগা, কা- বা মরিচের ফলে অত্যধিক পরিমাণে কালো রং এর ছোট ছোট ছত্রাকের অণুবীজ বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে, যা খালি চোখে দেখা যায় না।

    দমন ব্যবস্থাপনা:

    ১। রোগ মুক্ত বীজ ব্যবহার করতে হবে।

    ২। বীজ বপনের পূর্বে প্রোভেক্স-২০০ প্রতি কেজি বীজের সাথে ২ গ্রাম বা কার্বেনডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক এক গ্রাম হারে মিশিয়ে শোধন করে কিছুক্ষণ ছায়ায় রাখার পর বপন করতে হবে।

    ৩। রোগের লক্ষণ দেখাদিলে প্রতি লিটার পানির সাথে ৩ গ্রাম হারে কুপ্রাভিট মিশিয়ে ৭ থেকে ১০ দিন পরপর ২ থেকে ৩ বার সমস্ত গাছে স্প্রে করতে হবে।

    ফল পচা রোগ: এটি একটি বীজবাহিত রোগ। এ রোগের কারণে মরিচের ফলন শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে।

    রোগের লক্ষণ:

    ১।এই রোগের জীবাণু সাধারণত পাকা মরিচকে আক্রমণ করে থাকে।

    ২। আক্রান্ত ফলের ত্বকের উপর ছোট ছোট কালো গোলাকার স্পষ্ট দাগ দেখতে পাওয়া যায়।

    ৩। ফলের বিবর্ণ এলাকায় কালো ছত্রাকের অণুবীজ দেখতে পাওয়া যায়।

    ৪। আক্রমণের চূরান্ত পর্যায়ে ছত্রাক দ্বারা বীজ ঢেকে যায়।

    ৫। ফলে আক্রান্ত অংশ কালো হয়ে কুঁচকে যায়। আক্রান্ত ফল শুকিয়ে যায়।

    দমন ব্যবস্থাপনা:

    ১। রোগমুক্ত গাছ হতে বীজ সংগ্রহ করতে হবে।

    ২। রোগাক্রান্ত শুকনা কা- কেটে আগুনে পুড়য়ে ফেলতে হবে।

    ৩। ফসলের ক্ষেত সব সময় আগাছা মুক্ত রাখতে হবে।

    ৪। রোগের লক্ষণ দেখা দিলে প্রতি লিটার পানির সাথে ৩ গ্রাম হারে কুপ্রাভিট মিশিয়ে ৭ থেকে ১০ দিন পর পর ৩ থেকে ৪ বার স্প্রে করতে হবে।

    ফলন: ভালভাবে যত্ন নিলে বারি-২ জাতের মরিচে একর প্রতি ৮ থেকে ১০ টন ফলন পাওয়া যেতে পারে।

    Tuesday, May 17, 2016

    আদা চাষ

  • Share The Gag




  • পুষ্টিমূল্যঃ আদায় ক্যালসিয়াম ও প্রচুর ক্যারোটিন থাকে।




    ভেষজ গুণঃ পেট ফাঁপা ও ফোলা এবং সর্দি-কাশিতে আদা ব্যবহৃত হয়।




    ব্যবহারঃ মসলা হিসেবে আদা জনপ্রিয়।




    উপযুক্ত জমি ও মাটিঃ পানি নিকাশের সুব্যবস্থা আছে এমন উঁচু বেলে-দো-আঁশ ও ও বেলে মাটি আদা চাষের জন্য উপযোগী।




    জাত পরিচিতিঃ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট থেকে উদ্ভাবিত উন্নত জাত বারি আদা-১।




    বারি আদা-১: প্রতিটি গোছায় রাইজোমের ওজন ৪০০-৪৫০ গ্রাম। প্রচলিত জাতগুলোর তুলনায় এর ফলন বেশি। স্থানীয় হাতের মতো বারি আদা-১ সহজে সংরক্ষণ করা যায়।




    তবে স্থানীয় জাত যেমনঃ রংপুরী, খুলনা, টেংগুরা ইত্যাদি জাতেরও চাষ করা হয়।




    চারা তৈরিঃ




    বীজ লাগানোঃ ফাল্গুন থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত লাগানো যায়। সাধারণতঃ ১২-১৫ গ্রাম ওজনের ১-২টি কুঁড়ি বিশিষ্ট কন্দ লাগানো হয়। ৪০-৪৫ সে.মি. দূরে দূরে সারি করে ২০ সে.মি. দূরে ৫ সে.মি. গভীরে আদা লাগানো হয়। কন্দ লাগানো পর ভেলী করে দিতে হয়। প্রতি হেক্টরে ১০০০ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়।




    সার ব্যবস্থাপনাঃ আদার ভাল ফলন পেতে হলে জমির উর্বরতার উপর নির্ভর করে প্রতি হেক্টরে গোবর সার ৪-৬ টন, ইউরিয়া ২০০-২৪০ কেজি, টিএসপি ১৭০-১৯০ কেজি, এমওপি ১৬০-১৮০ কেজি প্রয়োগ করতে হয়। জমি প্রস্ততির সময় সমুদয় গোবর, টিএসপি ও ৮০-৯০ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করতে হয়। কন্দ লাগানোর ৫০ দিন পর ১০০-১২০ কেজি হারে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করা হয়। লাগানোর ৯০ দিন ও ১২০ দিন পর যথাক্রমে ২য় ও ৩য় কিস্তির সার উপরি প্রয়োগ করা হয়। ভেলা সামান্য কুপিয়ে ১ম কিস্তির সার প্রয়োগ করে আবার ভেলা করে দিতে হয়। ২য় ও ৩য় কিস্তির উপরি প্রয়োগের সময় প্রতি হেক্টরে প্রতিবারে ৫০-৬০ কেজি ইউরিয়া ও ৪০-৪৫ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করা হয়। ২য় ও ৩য় কিস্তির সার সারির মাঝে প্রয়োগ করে মাটি কোঁদাল দিয়ে কুপিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে সামান্য পরিমাণ মাটি ভেলীতে দিতে হয়।




    সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনাঃ আদা লাগানোর পর বৃষ্টি হলে সেচের প্রয়োজন হয় না। তবে বৃষ্টি না হলে ও মাটিতে রসের অভাব থাকলে নালাতে সেচ দিতে হবে এবং ২-৩ ঘন্টা পর নালার অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে হবে। বৃষ্টির পানি যেন জমতে না পারে সেজন্য পানি নিকাশের ব্যবস্থা রাখতে হবে। আগাছা দেখা দিলে তা পরিষ্কার করতে হবে। সার উপরি প্রয়োগের সময় আগাছা পরিষ্কার করে প্রয়োগ করা ভালো।




    পোকামাকড় ব্যবস্থাপনাঃ




    পোকার নামঃ রাইজোম ফ্লাই বা কান্ডের মাছি পোকা




    এ পোকার আক্রমণে হঠাৎ করে গাছ মরে যায়। পোকা আদায় আক্রমণ করে ও পরে পচন ধরে। আদা উৎপাদন এলাকার সকল জায়গাতে এ পোকার আক্রমণ দেখা যায় এবং ক্ষতির পরিমান ১০ থেকে ৭০ ভাগ পর্যন্ত হয় বলে বর্ষা মৌসুমে ঘন ঘন ক্ষেত পরিদর্শন করতে হবে ও ক্ষেতে এ পোকার আক্রমণ পর্যবেক্ষণ করতে হবে। মা পোকা দেখতে গাঢ় বাদামী বর্ণের ও পাখার উপর কালো ফোটা আছে। কীড়া ধূসর সাদা বর্ণের। বৃষ্টিপাত ও আদ্র আবহাওয়ায় এ পোকার আক্রমণ বেশি হয়।




    ক্ষতির নমুনাঃ আক্রমণে সবুজ পাতা হঠাৎ করে হলুদ রং ধারণ করে। আক্রান্ত পাতা আগা থেকে মরতে শুরু করে। রাইজোমটি ধূসর বর্ণের হয়ে পচন ধরে। অধিক আক্রমণে সমস্ত আদা পচে যায়।




    জীবন চক্রঃ স্ত্রী পোকা পচা আদায় গুচ্চাকারে ডিম পাড়ে। ৩-৪ দিন পর ডিম থেকে কীড়া বের হয়। কীড়া অবস্থায় ১৬-১৭ দিন থেকে পুত্তলিতে পরিণত হয়। পুত্তলি অবস্থায় ১৪-১৫ দিন থাকার পর পূর্ণাঙ্গ পোকা বেরিয়ে আসে। এদের জীবন চক্র সম্পন্ন করতে ৩৮-৬২ দিন লাগে।




    ব্যবস্থাপনাঃ প্রতিরোধী জাত ব্যবহার করতে হবে।  বীজ লাগানোর সময় রোগ ও পোকা মুক্ত বীজ ব্যবহার করতে হবে। রাইজোম না ভেঙ্গে লাগানো  এবং লাগানোর পূর্বে ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক দিয়ে বীজ (প্রতিলিটারে ২ গ্রাম হারে ) শোধন করে লাগাতে হবে। বর্ষাকালে জমিতে যাতে পানি জমতে না পারে তার জন্য পানি নিষ্কাশনের ভাল ব্যবস্থা করতে হবে। আক্রান্ত গাছ মাটি সহ তুলে ধ্বংশ করা।




    পোকার নামঃ ডগা ছিদ্রকারী পোকা




    কান্ড আক্রমণ করে বলে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। ফলে উৎপাদন কম হয়। এ পোকার মথ (মা) কমলা হলুদ রংয়ের এবং পাখার উপর কালো বর্ণের ফোটা থাকে। কীড়া হালকা বাদামী বর্ণের। গায়ে সুক্ষ্ণ শুং থাকে।




    ক্ষতির নমুনাঃ পোকা কান্ড ছিদ্র করে ভিতরের দিকে খায় বলে পাতা হলুদ হয়ে যায়। অনেক সময় ডেড হার্ট লক্ষণ দেখা যায়। আক্রান্ত কান্ডে ছিদ্র ও কীড়ার মল দেখা যায়। আদ্র আবহাওয়ায় এ পোকার আক্রমণ বেশি হয়।




    ব্যবস্থাপনাঃ আক্রমণ বেশি হলে, সুমিথিয়ন ৫০ ইসি ২০ মিলি হারে প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ব্যবহার করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। ডাইমেক্রন প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। পোকার আক্রমন বেশী হলে নুভাক্রন ১০০ ইসি ১ লিটার পানিতে ১ মিলি ওষুধ ভালোভাবে মিশিয়ে ১৫ দিন পরপর ২ থেকে ৩ বার স্প্রে করতে হবে।




    রোগের নামঃ রাইজম রট




    পিথিয়াম এফানিডারমেটাম নামক ছত্রাকের আক্রমণের কারনে এ রোগ হয়। এ রোগ রাইজমে আক্রমণ করে বলে আদা বড় হতে পারে না ও গাছ দ্রুত মরে যায় ফলে সমূহ ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।




    ক্ষতির নমুনাঃ প্রথমে পাতা হলুদ হয়ে যায় কিন্তু পাতায় কোন দাগ থাকে না। পরবর্তীতে গাছ ঢলে পড়ে ও শুকিয়ে মরে যায়। রাইজম (আদা) পচে যায় ও ফলন মারাত্মক ভাবে কমে যায়। ভেজা ও স্যাঁত স্যাঁতে আবহাওয়ায় এ রোগ বেশী দেখা যায়। বর্ষাকাল বা জলাবদ্ধতা থাকলে এ রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। এ রোগ বীজ, পানি ও মাটির মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে।




    ব্যবস্থাপনাঃ আক্রান্ত গাছ রাইজোমসহ সম্পূর্ণরূপে তুলে ধ্বংস করতে হবে। রোপণের পূর্বে প্রতি লিটার পানিতে ২.৫ গ্রাম রিডোমিল গোল্ড বা ১ গ্রাম ব্যাভিস্টিন মিশ্রিত দ্রবণে বীজকন্দ ৩০ মিনিট ডুবিয়ে ছায়ার নিচে শুকিয়ে রোপণ করতে হবে।  সুষম সার ব্যবহার করতে হবে। একর প্রতি নিম খৈল ১০০০ কেজি অথবা বাদামের খৈল ৪৪৫ কেজি এর সাথে ইউরিয়া ৩০ কেজি, টিএসপি ২০ কেজি এবং এমপি ৫০ কেজি প্রয়োগের ফলে ফলন বৃদ্ধি পায় এবং কন্দ পচা রোগ রোধ করা যায়। কন্দ পচা রোগ দ্বারা আক্রান্তের প্রাথমিক পর্যায়ে কপার অক্সিক্লোরাইড ৫০% ডব্লিউপি প্রতি লিটার পানিতে ৪ গ্রাম বা রিডোমিল গোল্ড প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম মিশিয়ে মাটির সংযোগ স্থলে ১৫-২০ দিন অন্তর অন্তর প্রয়োগ করে রোগ প্রতিরোধ করা যাবে।




    ফসল সংগ্রহঃ আদা লাগানোর ৯-১০ মাস পর উঠানোর উপযোগী হয়। গাছের প্রায় সব পাতা শুকিয়ে গেলে আদা তোলা হয়। ফলন প্রতি হেক্টরে ১২-১৩ টন।

    রসুন চাষ

  • Share The Gag




  • রসুন বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য অর্থকরী মসলা জাতীয় ফসল। এটি রান্নার স্বাদ, গন্ধ ও রুচি বৃদ্ধিতে অনেক বেশি ভূমিকা রাখে। প্রতি বছর বিদেশ থেকে আমদানী করে আমাদের দেশের রসুনের ঘাটতি মেটানো হয়ে থাকে, যা দেশের জন্য কাম্য নয়। বাংলাদেশের প্রায় ৬৬ হাজার একর জমিতে রসুনের আবাদ হয় এবং মোট উৎপাদন প্রায় ১০২ হাজার টন কিন্তু তা আমাদের চাহিদার মাত্র ৪ ভাগের এক ভাগ পূরণ করে।




    পুষ্টিমূল্য ও ভেষজ গুণঃ রসুনে আমিষ, প্রচুর ক্যালসিয়াম ও সামান্য ভিটামিন ‘সি’ থাকে। রসুন ব্যবহারে অজীণর্তা, পেটফাঁপা, শুলবেদনা, হৃদরোগ, অর্শ, ক্রিমি, সর্দি, কাশি, টাইফয়েড, ডিপথেরিয়া, বাতরোগ, গুরুপাক, বলবর্ধক, শুক্রবর্ধক ও যে কোন প্রকার চর্মরোগ সারে। এছাড়া রসুন থেকে তৈরি ঔষুধ নানা রোগ যেমন-ফুসফুসের রোগ, আন্ত্রিকরোগ, হুপিংকাশি, কানব্যাথা প্রভৃতিতে ব্যবহৃত হয়।




    উপযুক্ত জমি ও মাটিঃ পানি জমে না এমন উর্বর দো-আঁশ মাটিতে রসুন ভাল জন্মে তবে এঁটেল দো-আঁশ মাটিতেও চাষ করা যায়। এঁটেল মাটিতে কন্দ সুগঠিত হয় না। জমিতে পানি বের হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা না থাকলে কন্দ বড় হয় না এবং রসুনের রং খারাপ হয়ে যায়। বাংলাদেশের দিনাজপুর, রংপুর, নাটোরের গুরুদাসপুর ও বরাইগ্রাম, পাবনা জেলার চাটমহর এবং সিরাজগঞ্জ জেলার তারাশ উপজেলায় রসুন বেশি উৎপাদিত হয়।




    জাত পরিচিতিঃ



    • বারি রসুন-১: গড় উচ্চতা ২৫ ইঞ্চি, পাতার সংখ্যা (প্রতি গাছে) ৭-৮টি, কোয়ার সংখ্যা (প্রতি কন্দে) ২০-২২টি, কোয়ার দৈর্ঘ্য প্রায় ১ ইঞ্চি, বাল্বের ওজন ২০.০৮ গ্রাম, রোগ ও পোকার আক্রমণ খুব কম, জীবন কাল ১৪০-১৫০ দিন, ফলন (একর প্রতি) ২০০০-৩০০০ কেজি।

    • বারি রসুন-২: গড় উচ্চতা ২২ ইঞ্চি, পাতার সংখ্যা (প্রতি গাছে) ৯-১০টি, কোয়ার সংখ্যা (প্রতি কন্দে) ২৩-২৪টি, কোয়ার দৈর্ঘ্য প্রায় ১ ইঞ্চি, রোগ ও পোকার আক্রমণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ও সংরক্ষণ ক্ষমতা ভাল, জীবন কাল ১৪৫-১৫৫ দিন, ফলন (একর প্রতি) ৩০০০-৪০০০ কেজি।

    • বাউ রসুন-১: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগ হতে এ নামের একটি রসুনের জাত বের করা হয়েছে। এটি ব্যাকটেরিয়াল সফ্ট-রট প্রতিরোধী, ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত কিছু রোগ প্রতিরোধী, উচ্চ ফলনশীল এবং সংরক্ষণ গুন ভাল।

    • বাউ রসুন-২: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগ দীর্ঘদিন যাবত গবেষণা চালিয়ে ভাইরাস প্রতিরোধী এ জাত বের করেছে। এটি উচ্চ ফলনশীল, ভাইরাস রোগ প্রতিরোধী, পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম, সংরক্ষণ গুন ভাল এবং ফলন প্রতি একরে ৫০০০-৬০০০ কেজি।

    • ইটালী (দেশী জাত): গাছগুলো শক্ত, চওড়া, পাতাগুলো উপরের দিকে থাকে এবং ফলন বেশি হয়।

    • আউশী (দেশী জাত): পাতা অপেক্ষাকৃত ছোট ও চিকন, কন্দ ছোট, ঢলে পড়ে, ফলন কম, বাজারে চাহিদা ও মূল্য কম।



    বীজ বপনঃ শুকনো রসুনের বাহিরের সারির কোয়া লাগানো হয়। ১৫ সে.মি. দূরত্বে সারি করে ১০ সে.মি. দূরে ৩-৪ সে.মি. গভীরে রসুনের কোয়া লাগানো হয়। প্রতি হেক্টরে ৩০০-৩৫০ কেজি বীজ রসুনের প্রয়োজন হয়।




    সার ব্যবস্থাপনাঃ রসুনে হেক্টর প্রতি সারের পরিমাণ হলো-গোবর ১০ টন, ইউরিয়া ২০০ কেজি, টিএসপি ১২৫ কেজি, এমওপি ১০০ কেজি, জিংক সালফেট ২০ কেজি, বোরাক্স ১০ কেজি ও জিপসাম ১০০ কেজি। জমি তৈরির সময় সমুদয় গোবর, টিএসপি, জিংক সালফেট, বোরাক্স ও জিপসাম মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। রসুন লাগানোর ৩০ দিন ও ৬০ দিন পর যথাক্রমে ১ম ও ২য় কিস্তির উপরি সার প্রয়োগ করা হয়। প্রতিবারে প্রতি হেক্টরে ১০০ কেজি ইউরিয়া ও ৫০ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করা হয়।




    চাষের সময় পরিচর্যাঃ




    আগাছা দমনঃ রসুন লাগানোর ১৫ দিন পর আগাছা বেশি হলে অর্থাৎ আগাছাগুলো নাড়ার উপর দিয়ে যখন উঠে তখন রনষ্টার ৫০ মিলি প্রতি বিঘাতে ৪০-৫০ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। জমিতে আগাছা হলে অবস্থা বুঝে একাধিকবার নিড়ানী দিতে হবে। বন্যা পস্নাবিত এলাকায় জিরো টিলেজে মালচিং এর মাধ্যমে রসুন লাগানো যাবে। তবে কোন কোন সময় বীজ রোপণ হতে রসুন উত্তোলন পর্যন্ত একটি নিড়ানী লাগতে পারে। তবে নিড়ানী নির্ভর করবে রসুন ক্ষেতে আগাছার পরিমাণের উপর।




    সেচ ব্যবস্থাঃ রসুন লাগানোর পর জমির রস বুঝে সেচ দিতে হয়। রসুনের কোয়া লাগিয়েই একবার সেচ দেওয়া হয়। এর পর চারা বের না হওয়া পর্যন্ত জমিতে পর্যাপ্ত রস থাকতে হবে। চারা একবার হয়ে গেলে ১০-১৫ দিন অন্তর সেচ দিলেও চলে। রসুনের জমিতে বিশেষ করে, কন্দ গঠনের সময় উপযুক্ত পরিমাণে রস থাকা দরকার। সে জন্য এ সময় অবশ্যই সেচ দিতে হবে। কন্দ যখন পরিপক্ক হতে থাকে তখন সেচ কম দিতে হয়। এই ফসলে মোটামুটি ৪-৫ টি সেচের দরকার হয়। ড্রেনের দু পাশের নালা দিয়ে জমিতে সেচ দেওয়া সুবিধাজনক। নালা দিয়ে জমিতে সমভাবে ও সহজেই পানি সেচ দেয়া এবং জমিতে বেশি পানি থাকলে তা বের করে দেওয়া যায়।




    গাছের গোড়ায় মাটিঃ চারা গজালে সারির দু’ধার থেকে গোড়ায় মাটি তুলে দিতে হয়।




    জমিতে খড় বিছানোঃ বীজ জমিতে বপনের পর পরই জমিতে খড় বিছিয়ে দেয়া যায়।




    রোগ ও পোকামাকড় ব্যবস্থাপনাঃ




    পোকার নামঃ থ্রিপস




    এ পোকা ছোট কিন্তু পাতার রস চুষে খায় বিধায় গাছ দূর্বল হয়ে পড়ে। সে কারনে ক্ষেতের মধ্যে পাতা বিবর্ণ দেখালে কাছে গিয়ে মনোযোগ সহকারে দেখা উচিৎ, তা না হলে ফলন অনেক কমে যাবে।  পোকা আকৃতিতে খুব ছোট। স্ত্রী পোকা সরু, হলুদাভ।  পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ গাঢ় বাদামী। বাচ্চা সাদা বা হলুদ। এদের পিঠের উপর লম্বা দাগ থাকে।




    ক্ষতির নমুনাঃ এরা রস চুষে খায় বলে আক্রান্ত পাতা রূপালী রং ধারণ করে। আক্রান্ত পাতায় বাদামী দাগ বা ফোঁটা দেখা যায়। অধিক আক্রমণে পাতা শুকিয়ে যায় ও ঢলে পড়ে। রাইজোম আকারে ছোট ও বিকৃত হয়।




    জীবন চক্রঃ স্ত্রী পোকা পাতার কোষের মধ্যে ৪৫-৫০ টি ডিম পাড়ে। ৫-১০ দিনে ডিম হতে নিম্ফ (বাচ্চা) বের হয়। নিম্ফ ১৫-৩০ দিনে দুটি ধাপ অতিক্রম করে। প্রথম ধাপে খাদ্য গ্রহণ করে  এবং দ্বিতীয় ধাপে খাদ্য গ্রহণ না করে মাটিতে থাকে। এরা বছরে ৮ বার বংশ বিস্তার করে। এবং স্ত্রী পোকা পুরুষ পোকার সাথে মিলন ছাড়াই বাচ্চা দিতে সক্ষম।




    ব্যবস্থাপনাঃ সাদা রংয়ের আঠালো ফাঁদ ব্যবহার। ক্ষেতে মাকড়সার সংখ্যা বৃদ্ধি করে এ পোকা দমন করা যায়। আক্রমণ বেশি হলে সাইপারমেক্সিন গ্রুপের সাইপেরিন, সাইপার অথবা ইমাডিক্লোরো ফিড গ্রুপের এডমায়ার প্রতি লিটারে ১ মিলি সাইপারমেক্সিন অথবা ইমিডা ক্লোরোফিড প্রতি লিটারে ০.৫ মিলি গাছে ৪ থেকে ৫ দিন পরপর স্প্রে করতে হবে।




    রোগের নামঃ কান্ড পঁচা


    স্কেলরোসিয়াম রলফসিফিউজারিয়াম নামক ছত্রাক দ্ধারা এ রোগ হয়। যে কোন বয়সে গাছ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। কন্দ ও শিকড়ে এর আক্রমণ দেখা যায়। আক্রান্ত কন্দে পচন ধরে এবং আক্রান্ত কন্দ গুদামজাত করে বেশী দিন রাখা যায় না।




    ক্ষতির নমুনাঃ আক্রান্ত গাছের পাতা হলদে হয়ে যায় ও ঢলে পড়ে।  টান দিলে আক্রান্ত গাছ খুব সহজে মাটি থেকে কন্দসহ উঠে আসে। আক্রান্ত স্থানে সাদা সাদা ছত্রাক এবং বাদামী বর্ণের গোলাকার ছত্রাক গুটিকা (স্কেলরোসিয়াম ) দেখা যায়। অধিক তাপ ও আর্দ্রতা পূর্ণ মাটিতে এ রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করে। ক্ষেতে সেচ দিলেও এ রোগ বৃদ্ধি পায়। এ রোগের জীবাণু মাটিতে বসবাস করে বিধায় সেচের পানির মাধ্যমে ও মাটিতে আন্ত পরিচর্যার সময় কাজের হাতিয়ারের মাধ্যমে এ রোগের বিস্তার হয়।




    ব্যবস্থাপনাঃ আক্রান্ত গাছ তুলে ধ্বংশ করতে হবে। মাটি সব সময় স্যাঁত স্যাঁতে রাখা যাবে না। আক্রান্ত জমিতে প্রতি বছর পেঁয়াজ /রসুন চাষ করা যাবে না। ম্যানকোজেব গ্রুপের এগ্রিজে ডাইথেনএম-৪৫ অথবা ব্যাভিষ্টিন (কার্ববোন্ডাজিম) ছত্রাকনাশক প্রতি কেজি বীজে ১০০ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধণ করে বপন করতে হবে।






    ফসল সংগ্রহঃ রসুন গাছের পাতা শুকিয়ে বাদামী রং ধারণ করলে ঢলে পড়ে তখন রসুন তোলার উপযোগী হয়। গাছসহ রসুন তোলা হয় এবং ঐ ভাবে ছায়াতে ভালভাবে শুকিয়ে মরা পাতা কেটে সংরক্ষণ করা হয়। প্রতি হেক্টরে ১০-১২ টন ফলন পাওয়া যায়।




    ফসল সংগ্রহের পর করণীয়ঃ



    • ছায়াতে শুকাতে পারলে ভাল গুণাগুণ বজায় থাকে।

    • রোদে শুকালে রসুন নরম হয়ে যেতে পারে।

    • ফুতি পোকার র্লাভা থেকে রক্ষা পেতে হলে সংরক্ষণের সময় সেভিন পাউডার ১০ লিটার পানিতে ২০ গ্রাম করে স্প্রে করে দিতে হবে।

    • রসুন খুব ভালোভাবে পরিপক্ক করে নিয়ে ক্ষেত থেকে তুলতে হবে। অপরিপক্ক রসুন তুললে সেটা থেকে বীজ করা যাবে না। জমিতে ফুলকা হলে বুঝতে হবে রসুন পরিপক্ক হয়েছে।



    বাছাইঃ রসুন মাঠ থেকে সংগ্রহের পর ছোট, মাঝারি ও বড় এই তিনটি গ্রেডে ভাগ করতে হবে।




    বীজ হিসাবে সংরক্ষণ পদ্ধতিঃ রসুন সংগ্রহের পর ৫-৭ দিন ছায়াযুক্ত স্থানে শুকাতে হয়। একে রসুনের কিউরিং বলে। পরে পরিমাণ মতো (৪-৫ কেজি) রসুনের শুকানো গাছ বেনি তৈরি করে বাতাস চলাচল করে এমন ঘরে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। এক ঝোপা থেকে অন্য ঝোপা কিছুটা দূরে/ফাঁকা করে রাখতে হবে যাতে করে বাতাস চলাচল করতে পারে। এছাড়া রসুন উত্তোলনের পর পাতা ও শিকড় কেটে ব্যাগে এবং বাঁশের র‌্যাক, মাচায় এবং চটের বস্তাতেও সংরক্ষণ করা যায়। বীজের জন্য এভাবে সংরক্ষণ করার আগে যেটা মোটা, সুস্থ, সবল, রোগব্যাধি বিহীন রসুন বাছাই করতে হবে।

    পেঁয়াজ চাষ

  • Share The Gag




  • পেঁয়াজ গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। মসলা ও সবজি হিসাবে ব্যবহার হয়। বর্তমানে আমাদের দেশে মাত্র ২৮৫.৬৬ হাজার একর জমিতে প্রতি বছর প্রায় ৭ লক্ষ ৬৯ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়। পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই পেঁয়াজের চাষ দেখা যায়। পেঁয়াজের চাষ শুধু শীতকালেই হয় না এখন বর্ষাকালেও চাষ করা হচ্ছে।




    পুষ্টিমূল্যঃ এত প্রচুর ক্যালসিয়াম ও সামান্য ভিটামিন ‘সি’ আছে।




    ভেষজ গুণঃ



    • উত্তেজক হিসেবে কাজ করে

    • প্রস্রাবের বেগ বাড়ায়

    • শ্বাসনালীর মিউকাস কমায়

    • ঋতুস্রাব বাড়ায়

    • হজমি নালার জ্বালা কমায়

    • রক্ত পরিশোধন করে

    • এ্যাজমা ও কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়

    • পোকার কামড়ে বিশুদ্ধ মধুসহ প্রলেপ দিলে জ্বালা কমায়

    • কাঁচা পেঁয়াজের রস চুলের বৃদ্ধিতে সহায়ক



    ব্যবহারঃ তরকারীতে মসলা হিসেবে ব্যবহার ছাড়াও বিভিন্ন মুখরোচক খাবার তৈরিতে পেঁয়াজের ব্যবহার রয়েছে।




    উপযুক্ত জমি ও মাটিঃ উর্বর বেলে-দো-আঁশ মাটি পেঁয়াজ চাষের জন্য অতি উত্তম। বর্ষায় পেঁয়াজ চাষের জন্য উঁচু জমি দরকার যেখানে বৃষ্টির পানি জমেনা। জমিতে সেচ ও পানি নিকাশের ব্যবস্থা থাকতে হবে।




    জাত পরিচিতিঃ




    বারি পেঁয়াজ-১: জাতটির কন্দ অধিক ঝাঁঝযুক্ত। প্রতিটি গাছে ১০-১২টি পাতা হয়। হেক্টর প্রতি ফলন ১২-১৬ টন। হেক্টর প্রতি বীজের ফলন ৬০০-৬৫০ কেজি। বারি পেঁয়াজ-১ পার্পল ব্লচ ও স্টেমফাইলাম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন। জাতটি রবি মৌসুমে চাষ উপযোগী।




    বারি পেঁয়াজ-২: জাতটি বিশেষভাবে খরিফ মৌসুমে অর্থাৎ গ্রীষ্মকালে স্বল্প সময়ের ফসল। এটি দেখতে গোলাকার ও লাল রঙের। আগাম চাষের জন্য মধ্য ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বীজ তলায় বীজ বোনা যায় এবং এপ্রিল মাসে ৪০-৪৫ দিনের চারা মাঠে রোপণ করা যায়। নাবী চাষের জন্য জুন-জুলাই মাসে বীজতলায় বীজ বুনতে হয়। প্রতি হেক্টরে (২৪৭ শতকে) ফলন ২২  টন।




    বারি পেঁয়াজ-৩: জাতটি বিশেষভাবে খরিফ মৌসুমে অর্থাৎ গ্রীষ্মকালে স্বল্প সময়ের ফসল। এটি দেখতে গোলাকার ও লাল রঙের। বীজ বোনার জন্য মধ্য জুন থেকে মধ্য জুলাই মাস উপযুক্ত সময়। আগাম চাষে বীজ বোনার উপযুক্ত সময় হচ্ছে মধ্য ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ এবং এপ্রিল মাস চারা রোপণের উপযুক্ত সময়।




    বারি পেঁয়াজ-৪: এটি উচ্চ ফলনশীল শীতকালীন পেঁয়াজ। আকৃতি গোলাকার, রং ধুসর লালচে বর্ণের ও ঝাঁঝযুক্ত। হেক্টর প্রতি ফলন ১৭-২২ টন।




    বারি পেঁয়াজ-৫: এ জাতটি গ্রীষ্মকালে চাষের উপযোগী স্বল্প সময়ের ফসল। এটি সারা বছরব্যাপী চাষ করা যেতে পারে। বীজ থেকে ফসল উত্তোলন পর্যন্ত ৯৫-১১০ দিন সময় লাগে। হেক্টর প্রতি গড় ফলন ১৮-২০ টন।




    স্থানীয় জাতঃ স্থানীয় জাতের মধ্যে তাহেরপুরী, ফরিদপুরের ভাতি, ঝিটকা, কৈলাসনগর উল্লেখযোগ্য। আগাম রবি মৌসুমে এ জাত দুটির ফলন দ্বিগুন হয় এবং কন্দের মানও উন্নত হয়। উদ্ভাবিত ও উল্লেখিত পেঁয়াজের জাত দুইটি উত্তরবঙ্গ, কুষ্টিয়া, যশোর ও ফরিদপুর অঞ্চলে ব্যবসায়িক ভাবে চাষ করার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।




    ভাল বীজের বৈশিষ্ট্যঃ



    • ভাল বীজ হাত নিয়ে চাপ দিলে চাপ বসবে না। খারাপ বীজ হলে চাপ বসবে।

    • মুখে নিয়ে দাঁত দিয়ে চাপ দিলে ভাল বীজ হলে ভেঙ্গে যাবে। খারাপ বীজ হলে চ্যাপ্টা হয়ে যাবে।

    • পানিতে দিলে ভাল হলে পানিতে ডুবে যাবে। খারাপ হলে ভেসে উঠবে।



    চারা তৈরিঃ ৩x১ মিটার আকারের প্রতি বীজতলার জন্য ২৫-৩০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়। পেঁয়াজ রবি ও খরিপ মৌসুমে চাষ করা যায়। খরিপ মৌসুমে চাষের জন্য জুলাই-আগষ্ট (শ্রাবণ-ভাদ্র) ও রবি মৌসুমে চাষের জন্য ফেব্রুয়ারী-মার্চ (মাঘ-ফাল্গুন) মাসে বীজ তলায় বীজ বপন করতে হয়। জমির আগাছা পরিষ্কার করে ভালভাবে চাষও মই দিয়ে ৩x১ মিটার আকারের বীজতলা করে এক সপ্তাহ রাখা হয়। বীজ বপনের পূর্বে আগের দিন সন্ধ্যায় বীজ ভিজিয়ে রেখে পরের দিন তুলে ১ ঘন্টা রৌদ্রে শুকিয়ে তারপর বীজতলায় বপন করতে হবে। বীজ বপনের পর ঝুরঝুরে মাটি দিয়ে বীজ ঢেকে দিতে হবে। বীজ বপনের পরদিন বেডে ছায়ার ব্যবস্থা করতে হবে। দিনের বেলা বীজতলা ঢেকে রাখতে হবে এবং রাত্রে খোলা রাখতে হবে। প্রয়োজনে ঝরনা দিয়ে পানি দিতে হবে।




    চারা রোপনঃ ৫ টি চাষ ও মই দিয়ে জমি তৈরি করা হয়। ১৫x১০ সে.মি. দূরত্বে চারা রোপন করা হয়। বর্ষার সময় ১ মিটার চওড়া ও ১৫ সে.মি. উঁচু বেড তৈরি করে চারা রোপণ করা হয়। দুই বেডের মাঝে ৩০ সে.মি. চওড়া পানি নিকাশের নালা রাখা হয়। ৪০-৪৫ দিন বয়সের চারা লাগানোর উপযোগী হয়।




    সার ব্যবস্থাপনাঃ পেঁয়াজের জমিতে প্রতি হেক্টরে গোবর ৮-১০ টন, ইউরিয়া ২৫০-২৭০ কেজি, টিএসপি ১৯০-২০ কেজি এবং ১৫০-১৭০ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করা হয়। জমি তৈরির সময় ১৬০-১৭০ কেজি ইউরিয়া ও বাকী সমুদয় সার মাটিতে মেশাতে হয়। চারা রোপনের ২০ দিন পর বাকী ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করা হয়।




    সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনাঃ জমিতে রসের অভাব থাকলে সেচ দিতে হবে। বর্ষা মৌসুমে যাতে বৃষ্টির পানি দাঁড়াতে না পারে সেজন্য নিকাশ নালা রাখতে হবে। জমি আগাছামুক্ত রাখতে হবে। সেচের পর জমি নিড়ানি দিয়ে আলগা করে দিতে হবে। পেঁয়াজের কন্দ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ফুলের কুঁড়ি দেখামাত্র ভেঙ্গে দিতে হবে।




    রোগ ও পোকামাকড় ব্যবস্থাপনাঃ




    পোকার নামঃ থ্রিপস


    এ পোকা ছোট কিন্তু পাতার রস চুষে খায় বিধায় গাছ দূর্বল হয়ে পড়ে। সে কারনে ক্ষেতের মধ্যে পাতা বিবর্ণ দেখালে কাছে গিয়ে মনোযোগ সহকারে দেখা উচিৎ, তা না হলে ফলন অনেক কমে যাবে।  পোকা আকৃতিতে খুব ছোট। স্ত্রী পোকা সরু, হলুদাভ। পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ গাঢ় বাদামী। বাচ্চা সাদা বা হলুদ। এদের পিঠের উপর লম্বা দাগ থাকে।




    ক্ষতির নমুনাঃ এরা রস চুষে খায় বলে আক্রান্ত পাতা রূপালী রং ধারণ করে। আক্রান্ত পাতায় বাদামী দাগ বা ফোঁটা দেখা যায়। অধিক আক্রমণে পাতা শুকিয়ে যায় ও ঢলে পড়ে। রাইজোম আকারে ছোট ও বিকৃত হয়।




    জীবন চক্রঃ স্ত্রী পোকা পাতার কোষের মধ্যে ৪৫-৫০ টি ডিম পাড়ে। ৫-১০ দিনে ডিম হতে নিম্ফ (বাচ্চা) বের হয়। নিম্ফ ১৫-৩০ দিনে দুটি ধাপ অতিক্রম করে। প্রথম ধাপে খাদ্য গ্রহণ করে এবং দ্বিতীয় ধাপে খাদ্য গ্রহণ না করে মাটিতে থাকে। এরা বছরে ৮ বার বংশ বিস্তার করে। এবং স্ত্রী পোকা পুরুষ পোকার সাথে মিলন ছাড়াই বাচ্চা দিতে সক্ষম।




    ব্যবস্থাপনাঃ সাদা রংয়ের আঠালো ফাঁদ ব্যবহার। ক্ষেতে মাকড়সার সংখ্যা বৃদ্ধি করে এ পোকা দমন করা যায়। আক্রমণ বেশি হলে সাইপারমেক্সিন গ্রুপের সাইপেরিন, সাইপার অথবা ইমাডিক্লোরো ফিড গ্রুপের এডমায়ার প্রতি লিটারে ১ মিলি সাইপারমেক্সিন অথবা ইমিডা ক্লোরোফিড প্রতি লিটারে ০.৫ মিলি গাছে ৪ থেকে ৫ দিন পরপর স্প্রে করতে হবে।




    পোকার নামঃ জাব পোকা




    ক্ষতির নমুনাঃ জাব পোকা দলবদ্ধভাবে পেঁয়াজ পাতার রস চুষে খায়, ফলে গাছ দূর্বল ও হলুদাভ হয়ে যায়। জাব পোকার মলদ্বার দিয়ে যে তরল পদার্থ বের হয় তাকে ’হানিডিউ’ বলে যা পাতায় আটকে গেলে সুটি মোল্ড নামক কালো ছত্রাক জন্মায়। ফলে গাছের সবুজ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।




    ব্যবস্থাপনাঃ আক্রমণ বেশি হলে সাইপারমেক্সিন গ্রুপের সাইপেরিন, সাইপার অথবা ইমাডিক্লোরো ফিড গ্রুপের এডমায়ার প্রতি লিটারে ১ মিলি সাইপারমেক্সিন অথবা ইমিডা ক্লোরোফিড প্রতি লিটারে ০.৫ মিলি গাছে ৪ থেকে ৫ দিন পরপর স্প্রে করতে হবে।




    রোগের নামঃ পার্পল ব্লচ/ব্লাইট




    এ রোগ পেঁয়াজের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। যে কোন বয়সে গাছের পাতা ও কান্ড আক্রান্ত হয়। অধিক আক্রমনে পেঁয়াজে ফুল আসে না ও ফসল কম হয়। আক্রান্ত বীজ বেশিদিন গুদামে রাখা যায়না। বাজার মূল্য কমে যায়।  অল্টারনারিয়া পোরিস্টেমফাইলিয়াম বট্রাইওসাম নামক ছত্রাকদ্বয় দ্বারা এ রোগ হয়ে থাকে।




    ক্ষতির নমুনাঃ কান্ডে প্রথমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পানি ভেজা হালকা বেগুনী রংয়ের দাগের সৃষ্টি হয়। দাগগুলি বৃদ্ধি পেয়ে বড় দাগে পরিণত হয় এবং আক্রান্ত স্থান খড়ের মত হয়ে শুকিয়ে যায়। আক্রান্ত পাতা ক্রমান্বয়ে উপরের দিক হতে মরতে শুরু করে। পাতা বা কান্ডের গোড়ায় আক্রান্ত স্থানের দাগ বৃদ্ধি পেয়ে হঠাৎ পাতা বা বীজবাহী  কান্ড ভেঙ্গে পড়ে এতে বীজ অপুষ্ট হয় ও ফলন কম হয়। বৃষ্টিপাত হলে এ রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করে। আক্রান্ত বীজ, গাছের পরিত্যাক্ত অংশ ও বায়ুর মাধ্যমে এ রোগ বিস্তার লাভ করে।




    ব্যবস্থাপনাঃ রোগ প্রতিরোধী বা সহনশীল জাত ব্যবহার। রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার। ফসল পর্যায় অনুসরন করা অর্থ্যাৎ একই জমিতে পর পর কমপক্ষে ৪ বছর পেঁয়াজ না করা। পেঁয়াজ গাছের পরিত্যাক্ত অংশ, আগাছা ধ্বংস করা। ম্যানকোজেব গ্রুপের এগ্রিজে ডাইথেনএম-৪৫ অথবা ব্যাভিষ্টিন (কার্ববোন্ডাজিম) ছত্রাকনাশক প্রতি কেজি বীজে ১০০ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধণ করে বপন করতে হবে। আক্রমণ বেশি হলে প্রতিলিটার পানিতে রোভরাল বা এন্ট্রাকল ২ গ্রাম ও এগ্রিজে, ডাইথেন এম-৪৫ বা ফলিকিউর (টেবুকোনাজল) ১০ লিটার পানিতে .০৫ মিলি মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।




    রোগের নামঃ কান্ড পঁচা


    স্কেলরোসিয়াম রলফসিফিউজারিয়াম নামক ছত্রাক দ্ধারা এ রোগ হয়। যে কোন বয়সে গাছ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। কন্দ ও শিকড়ে এর আক্রমণ দেখা যায়। আক্রান্ত কন্দে পচন ধরে এবং আক্রান্ত কন্দ গুদামজাত করে বেশী দিন রাখা যায় না।




    ক্ষতির নমুনাঃ আক্রান্ত গাছের পাতা হলদে হয়ে যায় ও ঢলে পড়ে।  টান দিলে আক্রান্ত গাছ খুব সহজে মাটি থেকে কন্দসহ উঠে আসে। আক্রান্ত স্থানে সাদা সাদা ছত্রাক এবং বাদামী বর্ণের গোলাকার ছত্রাক গুটিকা (স্কেলরোসিয়াম ) দেখা যায়। অধিক তাপ ও আর্দ্রতা পূর্ণ মাটিতে এ রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করে। ক্ষেতে সেচ দিলেও এ রোগ বৃদ্ধি পায়। এ রোগের জীবাণু মাটিতে বসবাস করে বিধায় সেচের পানির মাধ্যমে ও মাটিতে আন্ত পরিচর্যার সময় কাজের হাতিয়ারের মাধ্যমে এ রোগের বিস্তার হয়।




    ব্যবস্থাপনাঃ আক্রান্ত গাছ তুলে ধ্বংশ করতে হবে। মাটি সব সময় স্যাঁত স্যাঁতে রাখা যাবে না। আক্রান্ত জমিতে প্রতি বছর পেঁয়াজ /রসুন চাষ করা যাবে না। ম্যানকোজেব গ্রুপের এগ্রিজে ডাইথেনএম-৪৫ অথবা ব্যাভিষ্টিন (কার্ববোন্ডাজিম) ছত্রাকনাশক প্রতি কেজি বীজে ১০০ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধণ করে বপন করতে হবে।




    ফসল সংগ্রহঃ




    উপযোগী বৈশিষ্ট্যঃ পেঁয়াজ গাছ পরিপক্ক হলে পাতা ক্রমান্বয়ে হলুদ হয়ে হেলে পড়ে। জমির প্রায় ৭০-৮০% গাছের এ অবস্থা হলে পেঁয়াজ তোলার উপযোগী হয়।




    সংগ্রহের সময়ঃ পেঁয়াজ গাছের ঘাড় বা গলা শুকিয়ে ভেঙ্গে গেলে বা নরম মনে হলে বুঝতে হবে যে পেঁয়াজের উত্তোলনের সময় হয়েছে।




    কতদিন লাগবেঃ বীজ বপন থেকে ফসল উত্তোলন পর্যন্ত প্রায় ১১০ থেকে ১২০ দিন সময় লাগে।




    ফলনঃ সাধারণতঃ বর্ষা মৌসুমে ৩৫-৪৫ দিন এবং রবি মৌসুমে ৪০-৫৫ দিনের মধ্যে পেঁয়াজ তোলার উপযুক্ত হয়। রবি মৌসুমে পেঁয়াজের পাতা মরে গেলে (গলা চিকন হলে) গাছ সমেত পেঁয়াজ তুলে এনে পাতা শুকিয়ে মরা পাতা কেটে সংরক্ষণ করা হয়। প্রতি হেক্টরে ফলন রবিতে ১২-১৬ টন ও খরিপ ১০-১২ টন।






    পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন




    রোপণ সময়ঃ নভেম্বর মাসের প্রথম ভাগে শল্ককন্দ মাঠে রোপণ করতে হয়।




    জীবনকালঃ ফসল উত্তোলন পর্যন্ত ৯০-১০০ দিন সময় লাগে। এ বীজ ফসল আবাদের জন্য দূরত্বঃ সারি থেকে সারি এবং গাছ থেকে গাছের দূরত্ব হবে ৮×৬ ইঞ্চি।




    ওজনঃ প্রতিটি বীজ কন্দের ওজন ১২ থেকে ১৫ গ্রাম হওয়া দরকার।




    সারঃ গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য যে পরিমাণ সারের প্রয়োজন হয়, বীজ উৎপাদনেও সে পরিমাণ সারের প্রয়োজন হয়। ফুল আসার পর একরপ্রতি অতিরিক্ত ৪০ কেজি ইউরিয়া ও ১০০ কেজি এমপি সার পেঁয়াজের জমিতে ছিটিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে এবং গাছের গোড়া ঝুরঝুরা মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়া প্রয়োজন, যাতে রোপণকৃত বীজ পেয়াজগুলো মাটির নীচে থাকে।




    লক্ষ্যণীয়ঃ পেঁয়াজের জাতকে ঠিক রাখার জন্য বীজ ফসলের চতুর্দিকে ১০০০ মিটারের মধ্যে অন্য কোনো পেঁয়াজের জাত থাকা ঠিক নয়।




    গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ


    জাতঃ বাংলদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা পেঁয়াজের ঘাটতি মিটানোর জন্য গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের কয়েকটি জাত আবিষ্কার করেছেন। এগুলো হলো-



    • বারি পেঁয়াজ-২

    • বারি পেঁয়াজ-৩

    • বারি পেঁয়াজ-৫  (এটি শীত, গ্রীষ্ম সবসময়ই আবাদ করা যায়)



    চাষের সুবিধাঃ



    • বসতবাড়িতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদনের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচন ও আয় বৃদ্ধি সম্ভব।

    • অমৌসুমে এ পিয়াজ উৎপাদন হয় বলে দামও ভাল পাওয়া যায়।



    স্থান নির্বাচনঃ বৃষ্টিপাত অল্প হয় এ রকম অঞ্চলের জন্য বারি পেঁয়াজ ২ ও বারি পেঁয়াজ ৩ চাষের জন্য উপযোগী।


    চাষের জন্য পরিবেশ ও মাটি
















    জলবায়ু

    তাপমাত্রা

    মাটির ধরণ

    গ্রীষ্ম কাল

    পেঁয়াজ উৎপাদনের উপযোগী তাপমাত্রা ২৫ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সে.।

    পানি জমে না এমন দো-আঁশ, এটেল দো-আঁশ, বেলে দো-আঁশ ও পলিযুক্ত মাটি পেঁয়াজ চাষের জন্য উত্তম।




    জমি তৈরী




    বীজতলা তৈরি ও চারা উৎপাদনঃ ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে চারা উৎপাদন




    বেড তৈরি ও আগাছা পরিষ্কারঃ প্রথমে জমি ভালোভাবে চাষ দিয়ে আগাছা সম্পূর্ণরূপে তুলে ফেলতে হবে। তারপর বেড তৈরি করে এক সপ্তাহ রেখে দিতে হবে। এক সপ্তাহ পর বেডগুলি পুনরায় কুপিয়ে আগাছা বেছে ফেলে বীজ বপন করতে হবে।




    বপনের জন্য বীজ প্রস্তত করাঃ বপনের আগে বীজ কমপক্ষে এক ঘন্টা রোদে শুকাতে হবে। তারপর বীজ ছায়ায় রেখে ঠান্ডা করে নিতে হবে। অতপর বীজ সন্ধ্যায় ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে উঠাতে হবে। বীজগুলি পানি থেকে উঠানোর পর গামছা বা পাতলা কাপড়ের ব্যাগে ঝুল অবস্থায় রেখে সম্পূর্ণ পানি মুক্ত করে নিয়ে ঝুরঝুরে অবস্থায় এলে বীজ বপন করতে হবে।




    বীজ বপনের পর করণীয়ঃ বীজ বপনের পর আলাদা ঝুরঝুরে মাটি দিয়ে বীজগুলি ঢেকে দিতে হবে। তারপর হাত বা কলাগাছের টুকরা দিয়ে মাটি সুন্দরভাবে চেপে শক্ত করে দিতে হবে। বীজ ফেলার পরদিন বেডে ছায়া দেওয়ার জন্য প্রতি বেডে ৫টি করে বাঁশের বাতি অর্ধ চন্দ্রকারে এমনভাবে বসানো হয় যেন বাতির দুই মাথা ড্রেনের মধ্যে থাকে এং বেডের ঠিক মাঝখান হতে বাঁশের বাতির উচ্চতা ১৮ইঞ্চি হয়। পরের দিন পানি দিয়ে বীজতলা এমনভাবে চট দিয়ে ঢেকে দিতে হবে যেন চটের দুই মাথা খোলা থাকে। বীজ গজানোর পূর্বে দিনের বেলা বীজতলা ঢেকে রাখতে হবে এবং রাতে খোলা রাখতে হবে। প্রয়োজন বোধে বীজতলায় ঝরণা দিয়ে পানি দিতে হবে।




    বীজ গজানোর পর করণীয়ঃ বীজ গজানোর পর সকাল ও বিকাল ছাড়া অবশিষ্ট সময় বীজতলা ঢেকে রাখতে হবে। চারা যত বড় হতে থাকবে ঢাকার সময় তত কমাতে হবে। চারার দৈর্ঘ্য .৫ থেকে ১ ইঞ্চি হলে আর ঢাকার প্রয়োজন হবে না। বীজতলায় এক সপ্তাহ পর পর রিডোমিল অথবা রোভরাল দুই গ্রাম হারে প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ডেম্পিং অফ রোগ দমনের জন্য স্প্রে করতে হবে। ৩৫ থেকে ৪০ দিন বয়সের চারা রোপণের উপযুক্ত হয়।




    বীজতলায় রস না থাকলে চারা উত্তোলনের এক ঘন্টা পূর্বে ঝরণা দিয়ে সেচ দিতে হবে আর রস থাকলে সেচ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।




    চারা উঠানোর সময়ঃ চারা দিনের যে কোন সময় উঠানো যেতে পারে।




    জুলাই ও আগস্ট মাসে চারা উৎপাদনঃ এই পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি, বীজবপন, বীজতলার যত্ন ও চারা উত্তোলন পদ্ধতি ছায়া পদ্ধতির ন্যায়। তবে এক্ষেত্রে বৃষ্টির পানি বীজতলার চারা রৌদ্র পাওয়ার জন্য চটের পরিবর্তে পাতলা সাদা রংঙের পলিথিন পেপার দিয়ে বীজতলা ঢেকে দিতে হবে। বৃষ্টির সময় বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হবে এবং রৌদ্র হলে পলিথিন খুলে দিতে হবে। বীজতলার পরিচর্যা ও চারা উঠানো পদ্ধতি একই রকম।




    উভয় সময়ের জন্য বীজ বপন




































    বীজতলায় বীজ বপনের সময়

    মূল জমিতে চারা রোপণের ৪০ থেকে ৪৫ দিন পূর্বে

    বীজতলার আকার

    বীজতলা ৩x১ মিটার বা (১০x৩ ফুট) আকারে হতে হবে

    বীজের প্রয়োজন

    প্রতি বীজতলার জন্য ২৫-৩০ গ্রাম

    একর প্রতি বীজ

    ১.৫ কেজি

    বীজ গজানোর হার

    ৭০ থেকে ৭৫ ভাগ হতে হবে

    প্রতি একর জমির জন্য বীজতলার প্রয়োজন

    ৪০ থেকে ৫০ টি

    বীজ বপনের দূরত্ব

    বীজতলায় ২ থেকে ৩ ইঞ্চি পরপর সারি করে বীজ বপন করতে হবে




    মুল জমি তৈরিঃ অবস্থাভেদে ৩ থেকে ৪টি চাষ ও মই দিয়ে  খুব ভালভাবে মাটি প্রস্তত করতে হয়।




    রোপণ পদ্ধতিঃ




























    রোপণের সময়

    আগামঃ ১ ফেব্রুয়ারি হতে ৩০ মার্চ (মধ্য মাঘ-মধ্য চৈত্র) মাসের মধ্যে এবং

    নাবীঃ ২৫ আগস্ট হতে ১০ অক্টোবর (মধ্য ভাদ্র-আশ্বিনের শেষ) মধ্যে

    চারার বয়স

    ৩৫ থেকে ৪০ দিন বয়সের চারা মূল জমিতে রোপণ করতে হয়

    উচ্চতা

    ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি

    রোপণ দূরত্ব

    সারি থেকে সারি ৬ ইঞ্চি এবং চারা থেকে চারা ৩ ইঞ্চি

    রোপণের সময় করণীয়

    চারার পাতার / অংশ এবং শিকড়ের / অংশ কেটে ফেলতে হবে




    লক্ষ্যণীয়ঃ খরা মৌসুমে চারা রোপণ করলে রোপণের পর জমিতে প্লাবন সেচ দিতে হবে। অন্য মৌসুমে চারা রোপণ করলে সেচ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। চারা রোপণের সময় কিছু চারা বীজতলায় রেখে দিতে হবে। কারণ রোপণের ১০/১২ দিন পর যদি জমিতে কোন চারা মারা যায় তাহলে সেই স্থানে বীজতলার চারা পুনঃ রোপণ করতে হবে।




    চাষের সময়ের পরিচর্যা




    সেচ ব্যবস্থাঃ


    গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের চারা রোপণের পরপরই যদি কোন কারণে জমিতে রস না থাকে তবে একটা হালকা সেচ জরুরী। এছাড়া যদি জমিতে পর্যাপ্ত রস না থাকে এবং পরিমিত বৃষ্টি না হয় মাঝে মাঝে হালকা সেচ দিতে হবে।তাই গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সেচের গুরুত্ব অনেক। গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য ১০ থেকে ১৫ দিন পরপর মোট ৫ থেকে ৬ টি সেচ প্রদান করতে হয়।




    পানি বের করে দেওয়াঃ বর্ষাকালে জমিতে বৃষ্টি বা অন্য কোন কারণে যদি পানি জমে যায় তবে দ্রুত পানি বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ পেঁয়াজ গাছ জমানো পানি সহ্য করতে পারে না। তাই জমি তৈরীর পূর্বেই প্রয়োজনীয় নালা কেটে রাখতে হয়। বর্ষাকালে প্রতিটি বেডের চার পাশে ২ থেকে ৩ ইঞ্চি উচুঁ আইল তৈরি করে দিতে হয়। তবে পানি বের করার জন্য এক পাশ দিয়ে আইল কেটে রাখতে হয়।




    সারের মাত্রা ও প্রয়োগঃ গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জমিতে নিম্ন বর্ণিত হারে সার প্রয়োগ করতে হবে।












































     সার

    মোট পরিমাণ  (একর প্রতি)

    শেষ চাষের সময় দেয়

    পরবর্তী পরিচর্যা হিসাবে দেয়

    (২০ দিন পর)

    গোবর

    ২০০০ কেজি

    সব

    -

    ইউরিয়া

    ৮২ কেজি

    ৫০ কেজি

    ৩২ কেজি

    টিএসপি

    ১১০  কেজি

    সব

    -

    এমপি

    ৬০ কেজি

    সব

    -

    জিপসাম

    ৪৫ কেজি

    সব

    -




    আগাছা দমনঃ গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জমিতে প্রচুর আগাছা জন্মে। তাই চারা লাগানোর পর প্রথম ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে প্রথমবার আগাছা পরিস্কার করতে হয়। এই ভাবে মোট ৩ থেকে ৪ বার আগাছা পরিস্কার করার প্রয়োজন হয়। আগাছ পরিস্কারের জন্য ছোট কোদাল ব্যবহার করা ভাল।




    জমিতে খড় বিছানোঃ পেঁয়াজের জমিতে মাটির জোঁ আসার সাথে সাথে ভালভাবে জমিতে খড় বিছিয়ে চটা ভেংগে দিতে হয়।




    ফসল সংগ্রহঃ গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ আগাম চাষে সাধারণতঃ চারা রোপণের ৮০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে এবং নাবী চাষে চারা রোপণের ৯০ থেকে ১০০ দিনের মধ্যে পেঁয়াজ সংগ্রহের উপযোগী হয়ে যায়। পেঁয়াজ সংগ্রহের ১৫ থেকে ২০ দিন আগে গাছের ডগা ভেংগে দিলে ফলন ভাল পাওয়া যায়।




    ফলনঃ সঠিক মাত্রা সার ও অন্যান্য পরিচর্যা করে গ্রীষ্মকালীন আগাম চাষে প্রতি একরে ৮ হাজার  কেজি এবং গ্রীষ্মকালীন নাবী চাষে প্রতি একরে ৯ হাজার থেকে সারে ৯ হাজার  কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব।