সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মুহাম্মদ শাহাদৎ হোসাইন সিদ্দিকী ভাড়া বাসার ছাদে বাগান করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি বেলকুচি উপজেলার চালা নিবাসী মোহাম্মদ আলীর বাসায় ভাড়া থাকেন। বাসাটি আয়তনে অনেক বড়, দেখতেও অনেক সুন্দর এবং এতে বিশাল ছাদ রয়েছে। কৃষিবিদ হিসেবে এতবড় খালি জায়গা পতিত থাকতে দেননি বলেই ভাড়া বাসায় থেকেও তিনি দোতলার ছাদে এক চমৎকার বাগান গড়ে তুলেছেন। তাঁর বাগান ঘুরে দেখা যায়, তিনি বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ফলের গাছ লাগিয়েছেন। সব মিলিয়ে তাঁর বাগানে প্রায় ১৫-২০ ধরণের গাছ রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে লাউ, বেগুন, মরিচ, ধনিয়া, টমেটো, মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়স, গিমাকলমি, লাল শাক, সবুজ শাক, ডাটা শাক, শশা, খিরা, করলা, পুঁইশাক, লেবু, বরই, জামরুল ও করমচা দেখা গেছে।
তিনি ভাড়া বাসার ছাদে বাগান করে প্রমাণ করেছেন যে, ইচ্ছা থাকলে যেকোন অবস্থায় ভাল কিছু করা সম্ভব। একজন সরকারী চাকুরিজীবীর পক্ষে কিভাবে এটি সম্ভব হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে গিয়ে তিনি নিজেই উদ্বুদ্ধ হয়ে বাগানটি করেছেন। তিনি বলেন, রবি/২০১৫ মৌসুমে তাঁর উদ্যোগে ২০ টি প্রযুক্তি পল্লীর আওতায় প্রায় ৪০০ কৃষকের বসতবাড়ীতে নিরাপদ সবজি চাষ করা হয়েছে। আমাদের দেশে একদিকে যেমন দিন দিন জমি কমে যাচ্ছে, অপরদিকে মানুষ বেড়ে চলেছে। শাহাদৎ হোসাইন সিদ্দিকীর এধরণের উদ্যোগ গ্রহণ বাসার মালিকদেরকে উদ্বুদ্ধ করবে বলে আমার বিশ্বাস। উল্লেখ্য, তিনি কৃষকের দোরগোড়ায় ডিজিটাল কৃষি সেবা পৌঁছে দেয়ার নিমিত্তে “কৃষকের ডিজিটাল ঠিকানা” নামক একটি সফটওয়্যার উদ্ভাবন করেছেন। যার দরুন তিনি ২০১৪ সালের সেরা কৃষিবিদ হিসেবে ”কেআইবি কৃষি পদক-২০১৫” অর্জন করেছেন। বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব আব্দুল হামিদ তাঁর হতে পুরস্কারটি তুলে দেন। সত্যিকার অর্থে তিনি কৃষি প্রধান এদেশের কৃষিবিদদের অহংকার। আমাদের সকলকেই তার অনুকরণে উজ্জিবীত হওয়া দরকার।
Showing posts with label ছাঁদে সবজ্বী বাগান. Show all posts
Showing posts with label ছাঁদে সবজ্বী বাগান. Show all posts
Thursday, February 11, 2016
Subscribe to:
Comments (Atom)