Friday, July 21, 2017
ছোট দেশি মুরগির দাম প্রতি পিসে বেড়েছে ৫০ টাকা
রাজধানীর নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারগুলোতে গরু ও খাসির মাংসের দাম এখনও সাধারণ ক্রেতার সামর্থ্যের বাইরে। রোজার আগে সিটি কর্পোরেশন থেকে দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও তা মানেননি রাজধানীর মাংস ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে কয়েক দফায় দাম বাড়ানোও হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দামও প্রায় প্রতি সপ্তাহেই বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে দেশি মুরগির দাম।
গত সপ্তাহে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল ছোট সাইজের প্রতিটি দেশি মুরগি। আজ শুক্রবারের বাজারে সেই দাম বাড়িয়ে ৪৫০ টাকা রাখা হচ্ছে। এছাড়া তেল ও রসুনসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম আরেক দফা বেড়েছে। তবে পাইকারি বাজারে প্রায় সব ধরনের চালের দাম ১-২ টাকা হারে কমেছে। আর সবজির বাজার ও মাছের বাজার অনেকটা স্থিতিশীল আছে।
আজ রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে ছোট দেশি মুরগির দাম ৫০ টাকা বেড়ে প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা দরে। এছাড়া ব্রয়লার মুরগি আগের দাম অর্থাৎ ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লেয়ার মুরগি ২২০ টাকা এবং পাকিস্তানি লাল মুরগি ২০ টাকা বেড়ে ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আজকের বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫০০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মুদি বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের দামেই স্থিতিশীল রয়েছে অধিকাংশ মুদি পণ্যের দাম। আজকের বাজারে কেজি প্রতি ছোলা ৮৫ টাকা; দেশি মুগ ডাল ১৩০ টাকা; ভারতীয় মুগ ডাল ১২০ টাকা; মাসকলাই ১৩৫ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১২৫ টাকা; ভারতীয় মসুর ডাল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দারুচিনি ৩৬০ টাকা; জিরা ৪৫০ টাকা; শুকনা মরিচ ২০০ টাকা; লবঙ্গ ১৫০০ টাকা; এলাচ ১৬০০ টাকা; চীনের আদা ১২০ টাকা এবং ক্যারালা আদা ১৪০ টাকা; হলুদ ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে ভোজ্য তেলের ব্র্যান্ড ভেদে ৫ লিটারের বোতল ২০-৩০ টাকা বেড়ে ৫৩০-৫৪০ টাকা; প্রতি লিটারে ১-২ টাকা বেড়ে ১০৭ টাকা থেকে ১০৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বাজার দর পর্যালোচনা করে দামের কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে, টিসিবির মূল্য তালিকায় ব্র্যান্ড ভেদে ৫ লিটারের বোতল ৫১০ টাকা থেকে ৫৩০ টাকা। প্রতি লিটার ভোজ্য তেল ১০২-১০৭ টাকা।
চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের চালের দাম ১-২ টাকা পর্যন্ত কমেছে। মোটা স্বর্ণা চাল ২ টাকা কমে প্রতি কেজি ৪৪ টাকা, পারিজা চাল ৪৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মিনিকেট (ভালো মানের) ২ টাকা কমে ৫৪ টাকা, মিনিকেট (সাধারণ) ৫২ টাকা, বিআর২৮ ৪৮ টাকা, সাধারণ মানের নাজিরশাইল ৫০ টাকা, উন্নত মানের নাজিরশাইল ৫২ টাকা, পাইজাম চাল ৪৮ টাকা, বাসমতি ৫৩ টাকা, কাটারিভোগ ৭২-৭৩ টাকা এবং পোলাও চাল (পুরাতন) ১০০ টাকা, (নতুন) ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
নিত্য প্রয়োজনীয় কাঁচা পণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি বেগুন ৬০-৮০ টাকা; শশা ৫০ টাকা; চাল কুমড়া ৫০ টাকা; কচুর লতি ৬০ টাকা; পটল ৫০ টাকা; ঢেঁড়স ৫০ টাকা; ঝিঙ্গা ৬০ টাকা; চিচিঙ্গা ৫০ টাকা; করলা ৫০ টাকা; কাকরোল ৫০ টাকা; পেঁপে ৪০-৫০ টাকা; কচুরমুখী ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিটি ফুলকপি ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা এবং লেবু হালি প্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা; পালং শাক আঁটি প্রতি ১৫ টাকা; লালশাক ১৫ টাকা; পুঁইশাক ২০ টাকা এবং লাউশাক ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া আজকের বাজারে কেজিপ্রতি দেশি পেঁয়াজ ৩০ টাকা; ভারতীয় পেঁয়াজ ২৮ টাকা; দেশি রসুন ১১০ টাকা; ভারতীয় রসুন ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। হাইব্রিড টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা; দেশি টমেটো ৯০ দরে। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম ৮০ টাকা; আলু ২৪ টাকা।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০-৩৫০ টাকা, সরপুঁটি ৩৫০-৪৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ২০০-২৫০ টাকা, চাষের কৈ ২৫০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১৫০-২৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, মাগুর ৬০০-৮০০ টাকা, প্রকার ভেদে চিংড়ি ৪০০-৮০০ টাকা, প্রতিটি ইলিশ ৮০০-১৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে; প্রতি কেজি ইলিশের দাম রাখা হচ্ছে ১৬০০ টাকা।
দেশি মাছ
দেশি মাছ
বাংলাদেশের মাছের তালিকা
বাংলাদেশের সীমানার ভেতরে চার শত প্রজাতির অধিক মাছ পাওয়া যায়। মাছের দিক দিয়ে বাংলাদেশ খুব সমৃদ্ধ। মাছ উৎপাদনেও বাংলাদেশ সামনের কাতারে অবস্থান করছে। মাছে ভাতে বাঙ্গালী তাই নদী মাতৃক বাংলাদেশের চিরাচরিত প্রবাদ। প্রায় চার শতের অধিক নদী, অসংখ্য খাল, বিল, হাওর, বাওর, ডোবা, নালার বাংলাদেশে পাওয়া যায় নানা রং ও স্বাদের মাছ। আকার আকৃতিতে ও এরা যেমন বিচিত্র, নামগুলোও তেমনি নান্দনিক। বৌরাণী, গুলশা, তপসে, চিতল, কাকিলা, কই, শিং, পাবদা আরও কত কি!
বাংলাদেশে ২৬০ প্রজাতির স্বাদুপানির (মোহনাজলসহ) এবং ৪৭৫ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়াও ১২-এর অধিক প্রজাতির চাষকৃত বিদেশী মাছ চাষের জলাশয়ে এবং ৭০-এর অধিক জাতের বিদেশী বাহারী মাছ এ্যাকুয়ারিয়ামে পাওয়া যায়। আইইউসিএন (২০০৩) এর তথ্যানুসারে বাংলাদেশে স্বাদুপানির ৫৪ প্রজাতির মাছ হুমকির সম্মুখীন। এর মধ্যে ১২ প্রজাতির মাছ ভয়ঙ্কর বিপদাপন্ন এবং ২৮ প্রজাতির মাছ বিপদাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত।
মৎস্য অধিদপ্তর (২০০৯) এর তথ্যানুসারে বাংলাদেশে জনপ্রতি বাৎসারিক মাছ গ্রহণের পরিমাণ ১৭.২৩ কেজি, মাছের বাৎসরিক চাহিদা ২৫.৯০ লক্ষ মেট্রিক টন, জনপ্রতি মাছের বাৎসরিক চাহিদা ১৮ কেজি, প্রলিজ আমিষ সরবরাহে অবদান ৫৮ শতাংশ। বাংলাদেশে মাছের মোট উৎপাদন ২৫ লক্ষ ৬৩ হাজার ২৯৬ মেট্রিক টন। যার মধ্যে অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয় (আহরিত) থেকে আসে ১০,৬০,১৮১ মেট্রিক টন, অভ্যন্তরীণ বদ্ধ জলাশয় (চাষকৃত) থেকে আসে ১০,০৫,৫৪২ মেট্রিক টন এবং সমুদ্র থেকে আসে ৪,৯৭,৫৭৩ মেট্রিক টন।
বাংলাদেশের সংরক্ষিত মাছ
বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের রক্ষিত বন্যপ্রাণীর তালিকার তফসিল ১ অনুযায়ী ২৫টি প্রজাতি এবং তফসিল ২ অনুযায়ী ২৭টি প্রজাতির, মোট ৫২ প্রজাতির মাছকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ আইন অনুসারে এই ৫২ প্রজাতির মাছ শিকার, বিক্রয় ও বিপণন বাংলাদেশের আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
বাংলাদেশের স্বাদুপানির মাছ
বাংলাদেশে স্বাদু পানির মৎস্য প্রজাতিসমূহের বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা শুরু হয় ১৮২২ সালে। ২০০৫ সালে এ. কে. আতাউর রহমান বাংলাদেশের স্বাদুপানির মাছকে ৫৫টি পরিবারের অধীনে ১৫৪ গণের ২৬৫টি প্রজাতিকে তালিকাভুক্ত করেছিলেন যার ভেতরে কয়েক প্রজাতির সামুদ্রিক মাছও ছিলো। সর্বশেষ বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ-এর ২৩ নং খণ্ডে ১৭টি বর্গের অধীন ৬১টি পরিবারের ২৫১টি প্রজাতিকে স্বাদুপানির মাছ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের মাছ
| বাংলা নাম | অবস্থা | সাধারণ ইংরেজি নাম | বৈজ্ঞানিক নাম | ছবি | |
|---|---|---|---|---|---|
| আইড়/আরটামিম/আড় | স্থানীয় | Long-whiskered catfish | Sperata aor | ||
| Along | এলং | স্থানীয় | Bengal Barb | Megarasbora elanga | |
| Angrot/Kharsa | এংরট | স্থানীয় | Angrot | Labeo angra | |
| জেব্রা আঞ্জু | স্থানীয় | Zebrafish | Danio rerio | ||
| NOOR | আরওয়ারি | স্থানীয় | Menoda catfish | Hemibagrus menoda | |
| NRMO | বাগাইর/বাঘাইর | স্থানীয় | Dwarf goonch | Bagarius bagarius | |
| Bai-la | বাইলা | স্থানীয় | Awaous guamensis | ||
| Baim | বাইম | স্থানীয় | Zig-zag eel/Tire track eel | Mastacembelus armatus | |
| Boitka | বইটকা | স্থানীয় | Labeo pangusia | ||
| Bhetki | ভেটকী | স্থানীয় | Barramundi | Lates calcarifer | |
| Balichura | বালিচুরা | স্থানীয় | Balitora minnow | Psilorhynchus balitora | |
| Balichura | বালিচুরা | endemic | Rainbow minnow | Psilorhynchus gracilis | |
| Bamush | বামুশ | স্থানীয় | Bengal eel | Ophisternon bengalense | |
| Bane-hara | বানেহারা | স্থানীয় | Indian mottled eel | Anguilla bengalensis bengalensis | |
| বাঁশপাতা/দেবারি | স্থানীয় | Sind danio | Devario devario | ||
| Bansh-pata/Bati | বাঁশপাতা/বাটা | স্থানীয় | Broad-mouthed mullet/Large-scaled mullet | Paramugil parmatus | |
| Barali | বারালি / বোরালি | স্থানীয় | Barred baril | Barilius barila | |
| Baril/Joiya | বারিল/জইয়া | স্থানীয় | Hamilton's barila | Barilius bendelisis | |
| Bata/Bangna | বাটা/বাংনা | স্থানীয় | Reba | Labeo ariza | |
| Bata | বাটা | স্থানীয় | B a t a | Labeo bata | |
| Batasi | বাতাসি | স্থানীয় | Indian potasi | Neotropius atherinoides | |
| Bechi | বেচি | স্থানীয় | Whitespot/Blue panchax | Aplocheilus panchax | |
| Bele | বেলে | স্থানীয় | Scribbled goby | Awaous grammepomus | |
| Bhadi puti | ভাদি পুঁটি | স্থানীয় | Pool barb | Puntius sophore | |
| Bhangan | ভাঙন/ভাঙ্গন | স্থানীয় | Boga labeo | Labeo boga | |
| Bhol | ভোল | স্থানীয় | Trout barb | Raiamas bola | |
| Kuli/Bhut bele | কুলি/ভূত বেলে | স্থানীয় | Dusky sleeper | Eleotris fusca | |
| Bilchuri | বিলচুরি | স্থানীয় | Mottled loach | Acanthocobitis botia | |
| Boal | বোয়াল | স্থানীয় | Wallago | Wallago attu | |
| Borguni | বোরগুনি | স্থানীয় | Jarbua terapon | Terapon jarbua | |
| Bou/Rani | বৌমাছ/রানি | স্থানীয় | Bengal loach | Botia dario | |
| Bou mach | বৌমাছ/রানি | questionable | Hora loach | Botia dayi | |
| Murari | মুরারি | স্থানীয় | Carplet | Aspidoparia morar | |
| Magor/Shing | মাগুর/শিঙি মাছ | স্থানীয় | Indian torrent catfish | Amblyceps mangois | |
| Gong Tengra | গং টেংরা | স্থানীয় | Gagata gagata | ||
| Magor/Shing | মাগুর/শিঙি মাছ | স্থানীয় | Gagata youssoufi | ||
| Chondon Ilish | চন্দনা/চন্দন ইলিশ | স্থানীয় | Toli shad | Tenualosa toli | |
| Chapila | চাপিলা | স্থানীয় | Ganges River Gizzard Shad | Gonialosa manmina | |
| Chapila | চাপিলা | স্থানীয় | Indian River Shad | Gudusia chapra | |
| Chebli | চেবলি | স্থানীয় | Giant Danio | Devario aequipinnatus | |
| Cheka | চেকা | স্থানীয় | Squarehead Catfish | Chaca chaca | |
| Chela | চেলা | questionable | Silver razorbelly minnow | Salmostoma acinaces | |
| Chep chela/Laubucha | চেপ চেলা/লাউবুচা | স্থানীয় | Indian Glass Barb | Chela laubuca | |
| Chewa | চেওয়া | স্থানীয় | Pseudapocryptes elongatus | ||
| Chitol | চিতল/ চেতল | স্থানীয় | Clown Knifefish | Chitala chitala | |
| Foli/Chitol | ফলি | স্থানীয় | Bronze featherback | Notopterus notopterus | |
| Chuna | চুনো | স্থানীয় | Honey gourami | Trichogaster chuna | |
| Chunobele | চুনোবেলে | স্থানীয় | Gobiopterus chuno | ||
| Common carp | কমন কার্প | introduced | Common carp | Cyprinus carpio carpio | |
| Dahuk | ডাহুক | স্থানীয় | Boddart's goggle-eyed goby | Boleophthalmus boddarti | |
| Dahuk | ডাহুক | স্থানীয় | Walking goby | Scartelaos histophorus | |
| Dari (fish) | ডারি | স্থানীয় | Schistura scaturigina | ||
| Darkina | দারকিনা | স্থানীয় | Flying barb | Esomus danricus | |
| Darkina | দারকিনা | স্থানীয় | Slender rasbora | Rasbora daniconius | |
| Darkina | দারকিনা | স্থানীয় | Gangetic scissortail rasbora | Rasbora rasbora | |
| Dhal magor | ঢাল মাগুর | স্থানীয় | Glyptothorax telchitta | ||
| Ek thouta | এক থৌতা | questionable | Wrestling halfbeak | Dermogenys pusilla | |
| Gechua | গেছুয়া | স্থানীয় | Channa gachua | ||
| Gechua | গেছুয়া | স্থানীয় | Walking snakehead | Channa orientalis | |
| Gagla | গাগলা | স্থানীয় | Gagora catfish | Arius gagora | |
| Gong magor | গং মাগুর | স্থানীয় | Gray eel-catfish | Plotosus canius | |
| Gong tengra | গাঙ টেংরা | স্থানীয় | Gagata cenia | ||
| Gong tengra | গাঙ টেংরা | স্থানীয় | Gogangra viridescens | ||
| Gong tengra | গাঙ টেংরা | স্থানীয় | Nangra nangra | ||
| Kabashi Tengra | গুলসা/গুলসা-টেংরা/কাবাশি টেংরা | স্থানীয় | Gangetic mystus | Mystus cavasius | |
| Ghor poi-ya | ঘর পোয়া | স্থানীয় | Sucker head | Garra gotyla gotyla | |
| Ghonia | ঘনিয়া | স্থানীয় | Boggut labeo | Labeo boggut | |
| Ghor poa | ঘর পোয়া | introduced | Garra annandalei | ||
| Ghora chela | ঘোড়া চেলা | স্থানীয় | Securicula gora | ||
| Ghora mach | ঘোড়া মাছ | স্থানীয় | Labeo dyocheilus | ||
| Gilipunti | গিলি পুঁটি | স্থানীয় | Golden barb | Puntius gelius | |
| Gobi (fish) | বেলে | স্থানীয় | Apocryptes bato | ||
| Goti poa | গোটি পোয়া | স্থানীয় | Largescale archerfish | Toxotes chatareus | |
| Gozar | গজার | স্থানীয় | Great snakehead | Channa marulius | |
| Grass carp | গ্রাস কার্প | introduced | Grass carp | Ctenopharyngodon idella | |
| Gura tengra | গুরা টেঙ্গরা | স্থানীয় | Chandramara chandramara | ||
| Gutum | গুতুম | স্থানীয় | Annandale loach | Lepidocephalichthys annandalei | |
| Gutum | গুতুম | স্থানীয় | Guntea loach | Lepidocephalichthys guntea | |
| Hatchetfish | স্থানীয় | Chela cachius | |||
| Ilish | Elish ইলিশ | স্থানীয় | Hilsa shad | Tenualosa ilisha | |
| Jaya | জয়া | স্থানীয় | Jaya | Aspidoparia jaya | |
| Kechhki | কাচকি | স্থানীয় | Ganges river sprat | Corica soborna | |
| Kechhki | কাচকি | স্থানীয় | Yellowtail mullet | Sicamugil cascasia | |
| Kajuli | কাজুলি | স্থানীয় | Gangetic ailia | Ailia coila | |
| Kajuli | কাজুলি | স্থানীয় | Jamuna ailia | Ailiichthys punctata | |
| Kakila | কাকিলা | স্থানীয় | Freshwater garfish | Xenentodon cancila | |
| Kalibaus | কালিবাউস/ কালবোশ | স্থানীয় | Orange-fin labeo | Labeo calbasu | |
| Kachon punti | কাচোন পুঁটি | স্থানীয় | Rosy barb | Puntius conchonius | |
| Kani pabda | কানি পাবদা | স্থানীয় | Butter catfish | Ompok bimaculatus | |
| Kani tengra | কানি টেংরা | স্থানীয় | Glyptothorax cavia | ||
| Kani tengra | কানি টেংরা | স্থানীয় | Painted catfish | Pseudolaguvia ribeiroi | |
| Kani tengra | কানি টেংরা | স্থানীয় | Pseudolaguvia shawi | ||
| Karati hangar | করাতি হাঙর | স্থানীয় | Knifetooth sawfish | Anoxypristis cuspidata | |
| Kathal pata | কাঁঠাল পাতা | স্থানীয় | Pan sole | Brachirus pan | |
| Katol | কাতলা | স্থানীয় | Catla | Catla catla | |
| Keti (fish) | কেটি | স্থানীয় | Osteobrama cotio cotio | ||
| Khailsha | খৌলশা/ খলশে | স্থানীয় | Banded gourami | Colisa fasciata | |
| Goroy গরই | স্থানীয় | Banded gourami | Colisa fasciata | ||
| Khaksa | খাকসা | স্থানীয় | Barilius barna | ||
| Kharu | খারু | স্থানীয় | Rice-paddy eel | Pisodonophis boro | |
| Khorsula | খোরসুলা | স্থানীয় | Corsula | Rhinomugil corsula | |
| Climbing Perch | কৈ | স্থানীয় | Climbing perch | Anabas testudineus | |
| Koirka | কৈরকা | স্থানীয় | Schistura corica | ||
| Koitor | কোইটুর | স্থানীয় | Coitor croaker | Johnius coitor | |
| Koksa | ককসা | স্থানীয় | Barilius shacra | ||
| Kosuati | কোসুয়াটি | স্থানীয় | Oreichthys cosuatis | ||
| Kuchia | কুঁচে, কুচিয়া, কুইচ্চা | স্থানীয় | Swamp eel | Monopterus cuchia | |
| Kuli (fish) | কুলি | স্থানীয় | Duckbill sleeper | Butis butis | |
| Kumirer khil | কুমিরের খিল | স্থানীয় | Deocata pipefish | Microphis deocata | |
| Kursha (fish) | কুরসা | স্থানীয় | Kalabans | Sinilabeo dero | |
| Kuta kanti | কুটি কানটি | স্থানীয় | Conta catfish | Erethistes pusillus | |
| Kutakanti | কুটি কানটি | স্থানীয় | |||
| Lal kholisha | লাল খোলিশা/ খলশে | স্থানীয় | Dwarf gourami | Colisa lalia | |
| Lomba chanda | লম্বা চাঁদা | স্থানীয় | Elongate glass-perchlet | Chanda nama | |
| Modhu pabda | মধু পাবদা | স্থানীয় | Pabdah catfish | Ompok pabda | |
| Magur | মাগুর | introduced | African catfish / North African catfish | Clarias gariepinus | |
| Minor carp | স্থানীয় | Crossocheilus latius | |||
| Mola punti | মলা পুঁটি | স্থানীয় | Glass-barb | Puntius guganio | |
| Mola | মলা | স্থানীয় | Mola Carplet | Amblypharyngodon microlepis | |
| Mrigol | মৃগেল | স্থানীয় | Mrigal | Cirrhinus cirrhosus | |
| Muri bacha | মুরি বাচা | স্থানীয় | Eutropiichthys murius | ||
| Muribacha | মুরিবাচা | স্থানীয় | Garua Bachcha | Clupisoma garua | |
| Nandil | নানডিল | স্থানীয় | Labeo nandina | ||
| Napte koi | নাপতে কই | স্থানীয় | Badis | Badis badis | |
| Neftani | নেফটেনি | স্থানীয় | Frail gourami | Ctenops nobilis | |
| Nilotica | নিলোটিকা | introduced | Nile tilapia | Oreochromis niloticus niloticus | |
| Nur Pur | নদয় | স্থানীয় | Gangetic leaffish | Nandus nandus | |
| Nuna bailla | নুনা বেলে | স্থানীয় | Brachygobius nunus | ||
| Nuna-tengra | নুনা টেংরা | স্থানীয় | Long whiskers catfish | Mystus gulio | |
| Olive danio | স্থানীয় | Danio dangila | |||
| Pabda catfish | পাবদা | স্থানীয় | Pabo catfish | Ompok pabo | |
| Panga | পাঙ্গা | স্থানীয় | Java loach | Pangio oblonga | |
| Pangas | পাঙ্গাস / পাঙাশ | স্থানীয় | Yellowtail catfish | Pangasius pangasius | |
| Pankal baim | পনকাল বাইম / পাঁকাল বাম | স্থানীয় | Barred spiny eel | Macrognathus pancalus | |
| Pathar chata | পাথর চাটা | স্থানীয় | Barilius tileo | ||
| Phasa (fish) | ফাশা/ ফ্যাঁসা | questionable | Gangetic hairfin anchovy | Setipinna phasa | |
| Phopa chanda | ফোপা চান্দা/ ফোঁপা চাঁদা | স্থানীয় | Himalayan glassy perchlet | Pseudambassis baculis | |
| Phutani punti | ফুটনি পুঁটি | স্থানীয় | Spottedsail barb | Puntius phutunio | |
| Poa (fish) | পোয়া | স্থানীয় | Pama croaker | Otolithoides pama | |
| Potka | পটকা | স্থানীয় | Green pufferfish | Tetraodon fluviatilis | |
| Pug-headed mud skipper | বেলে | স্থানীয় | Giant mudskipper | Periophthalmodon schlosseri | |
| Puiya | পুয়া | স্থানীয় | Burmese loach | Lepidocephalichthys berdmorei | |
| Punti (fish) | পুঁটি | স্থানীয় | Swamp barb | Puntius chola | |
| Punti (fish) | পুঁটি | স্থানীয় | Puntio barb | Puntius puntio | |
| Putitor mohashoul | মহাশোল | স্থানীয় | Golden mahseer | Tor putitora | |
| Mohashoul | মহাশোল | স্থানীয় | Tor Tor | ||
| Rajputi | রাজ পুঁটি | introduced | Java barb | Barbonymus gonionotus | |
| Ranga chanda | রাঙ্গা চান্দা / রাঙা চাঁদা | স্থানীয় | Indian glassy fish | Parambassis ranga | |
| Rata boura | রাটা বউরা | স্থানীয় | Purple spaghetti-eel | Moringua raitaborua | |
| Rita (fish) | রিটা | স্থানীয় | Rita | Rita rita | |
| River catfish | স্থানীয় | Eutropiichthys vacha | |||
| Rotten filthy fish sticks | স্থানীয় | Eutropiichthys vacha | |||
| Rui | রুই | স্থানীয় | Ruhi | Labeo rohita | |
| Sapla pata | শাপলা পাটা | স্থানীয় | Pale-edged stingray | Dasyatis zugei | |
| Savon khorka | শভন খোরকা | স্থানীয় | Schistura savona | ||
| Shada ghonia | সাদা ঘনিয়া | স্থানীয় | Kuria labeo | Labeo gonius | |
| Shankhachii | শানকাচি | স্থানীয় | Banded eagle ray | Aetomylaeus nichofii | |
| Shillong (fish) | শিলঙ্গ | স্থানীয় | Silond catfish | Silonia silondia | |
| Shingi | শিঙ্গঘি / শিঙি | স্থানীয় | Stinging catfish | Heteropneustes fossilis | |
| Shoul | শৌল / শোল | স্থানীয় | Snakehead murrel | Channa striata | |
| Shorpunti | সরপুঁটি | স্থানীয় | Olive barb | Puntius sarana | |
| Silver carp | সিলভার কার্প | introduced | Silver carp | Hypophthalmichthys molitrix | |
| Snake eel | কুইচা | স্থানীয় | Longfin snake-eel | Pisodonophis cancrivorus | |
| Striped dwarf catfish | স্থানীয় | Mystus tengara | |||
| Songkor | Sea | ||||
| Suncush | শুনকুশ | questionable | Dwarf whipray | Himantura walga | |
| Taki (fish) | টাকি | স্থানীয় | Spotted snakehead | Channa punctata | |
| Tapse | তপসে/ তপস্বী | স্থানীয় | Mango Fish / Cichlid | Sarotherodon melanotheron heudelotii | |
| Tara baim | তারা বাইম | স্থানীয় | Lesser spiny eel | Macrognathus aculeatus | |
| Tengra | টেংরা | স্থানীয় | Batasio batasio, Mystus tengara | ||
| Tepa | ট্যাঁপা | স্থানীয় | Ocellated pufferfish | Tetraodon cutcutia | |
| Teri punti | টেরা পুঁনটি | স্থানীয় | Onespot barb | Puntius terio | |
| Tiashol | টিয়াশোল | স্থানীয় | Barca snakehead | Channa barca | |
| Tilapia | তেলাপিয়া | introduced | Mozambique tilapia | Oreochromis mossambicus | |
| Tit punti | স্থানীয় | Ticto barb | Puntius ticto | ||
| Titari | টাটারি | স্থানীয় | River stone carp | Psilorhynchus sucatio | |
| Topse Mach | স্থানীয় | Topse mach | |||
| Tor mahseer | মহাশির | স্থানীয় | Tor mahseer | Tor tor | |
| Utii | উটি | স্থানীয় | Chaguni | Chagunius chagunio |
হারিয়ে যাচ্ছে দেশি প্রজাতির মাছ
জলবায়ুর পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অসচেতনতা, অবাধে লবণ পানি তুলে বাগদা চিংড়ি চাষ, ফসলের ক্ষেতে কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের যথেচ্ছ ব্যবহার এবং মিঠাপানির অভাবে মৎস্য খনি হিসেবে পরিচিত দক্ষিণাঞ্চলে দেশি প্রজাতির মাছ হারিয়ে যেতে বসেছে। মিঠাপানির সুস্বাদু মাছ এখন আর তেমন মিলছে না। দেশি মাছের বদলে এখন বাজারে জায়গা দখল করেছে চাষ করা পাঙ্গাস, তেলাপিয়া, ক্রস ও কার্প জাতীয় মাছ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষি ও চাষাবাদ ব্যবস্থা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে উজাড় হয়ে যাচ্ছে দেশি প্রজাতির কৈ, মাগুর, শিং, পাবদা, টেংরা, পুঁটি, ডারকা, মলা, ঢেলা, চেলা, শাল চোপরা, শৌল, বোয়াল, আইড়, ভ্যাদা, বুড়াল, বাইম, খলিসা, ফলি, চিংড়ি, মালান্দা, খরকাটি, গজার, শবেদা, চেং, টাকি, চিতল, গতা, পোয়া, বালিয়া, উপর চকুয়া, কাকিলাসহ প্রায় আড়াইশ প্রজাতির মিঠা পানির মাছ। গ্রামে একসময় পৌষ-মাঘ মাসে পুকুর, খাল, ডোবা, ঘেরের পানি কমতে থাকলে দেশি মাছ ধরার ধুম পড়তো। অথচ এখন অনেক গ্রামেই দেশি প্রজাতির মাছ নেই বললেই চলে। শীতকালের বাইরে বর্ষাকালে ধানের জমিতে কইয়া জাল, বড়শি ও চাই পেতে মাছ ধরার রীতিও হারিয়ে গেছে অনেক এলাকা থেকে। যারা একসময় পুকুর, খাল-বিল, ডোবা, নালায় মাছ ধরে পরিবারের চাহিদা পূরণ করতেন, তাদের অনেকেই এখন বাজার থেকে মাছ কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছেন।
মৎস্য অধিদফতর সূত্রও বলছে, দুই দশক আগে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে প্রায় আড়াইশ প্রজাতির মিঠাপানির মাছ পাওয়া যেত। এখন এগুলো বিলুপ্তির পথে।
রাজধানীর শান্তিনগর বাজারের মাছ ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘১৫-১৬ বছর আগেও মাছ কিনে খাওয়ার তেমন রেওয়াজ ছিল না আমার এলাকায়। কেনার মধ্যে শুধু ইলিশ মাছ কেনার কথাই মনে পড়ে। মাছের প্রয়োজন হলে সবাই বাড়ির সামনে খালে বা নদীতে চলে যেত। খালে, পুকুরে তখন এত মাছ ছিল যে, কেউ খালি হাতে নেমেও হাতিয়ে মাছ ধরতে পারতো।’
এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৎস্য খামারি সালাউদ্দিন মুফতি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘বাড়িতে দু’টি পুকুর আছে। জন্মের পর থেকেই এই পুকুর দু’টি দেখছি। ২০ বছর আগেও পুকুর থেকে সারাবছর বাড়ির সবাই মাছ ধরত। শীতের মৌসুমে পুকুর ‘আউড়ান’ (অনেক মানুষ একসঙ্গে পুকুরে নেমে পানি ঘোলা করা, যেন ঘোলা পানি খেয়ে মাছ দুর্বল হয়ে ওপরে ভেসে উঠে এবং সহজে সেগুলো ধরা যায়) হতো। এরপর জাল, ডালা, খুচন নিয়ে মাছ ধরতে নেমে যেত ছোট-বড় সবাই। কেউ কেউ হাতিয়ে মাছ ধরত। শোল, গজার, টাকি, চিংড়ি, শিং, কই, টেংরা, পাবদা, ফলিসহ বিভিন্ন জাতের মাছ ধরা পড়ত। তবে এখন ওই দুই পুকুরে চেলা, পুঁটি, বেলে ছাড়া কোনও মাছ নেই।’
পিরোজপুরের নাজিরপুরের কলার দোয়ানিয়া গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আসলাম মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘স্থানীয় কলার দোয়ানিয়া বাজারেও হাটের দিন দেশি প্রজাতির অনেক মাছ উঠত। এখন আর সেসব মাছ ওঠে না। বাজার ভরা থাকে চাষের পাঙ্গাস আর তেলাপিয়ায়। মাঝে-মধ্যে সিজনে জাটকাও ওঠে।’ দেশি মাছ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি ইরি ধান ও অন্যান্য সবজিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারকে দায়ী করেন।
সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে যোগাযোগ করে জানা গেছে, দেশি প্রজাতির মাছ হারিয়ে যাচ্ছে ১৪টি কারণে। এই কারণগুলো হলো- জলবায়ুর প্রভাব, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, কারেন্ট জালের অবৈধ ব্যবহার, ফসলি জমিতে অপরিকল্পিত কীটনাশক ব্যবহার, জলাশয় দূষণ, নদ-নদীর নব্যতা হ্রাস, উজানে বাঁধ নির্মাণ, নদী সংশ্লিষ্ট খাল-বিলের গভীরতা কমে যাওয়া, ডোবা ও জলাশয় ভরাট করা, মা মাছের আবাসস্থলের অভাব, ডিম ছাড়ার আগেই মা মাছ ধরে ফেলা, ডোবা-নালা পুকুর ছেঁকে মাছ ধরা, বিদেশি রাক্ষুসে মাছের চাষ করা ও মাছের প্রজননে ব্যাঘাত ঘটানো।
চলতি বছরের মার্চ মাসে নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হাওর এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে উঠেছিল। সংশ্লিষ্ট জেলার মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, ধান পঁচে হাওরের পানিতে অ্যামোনিয়া গ্যাস তৈরি হয়ে অক্সিজেন কমে যাওয়ার কারণেই মাছ মরে গেছে। তবে হাওর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উদ্ভিদ পঁচে অ্যামোনিয়া তৈরি হয় না। অন্য কোনও কারণ আছে। সেগুলোকে খুঁজে বের করতে খুব দ্রুত বৈজ্ঞানিক গবেষণা করতে হবে বলা হলেও তা এখনও করা হয়নি। গবেষণার পরিকল্পনাও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নেই।
এ প্রসঙ্গে মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক সৈয়দ আরিফ আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। কেন্দ্রীয়ভাবে আমরা বিষয়টি গভীরভাবে মনিটর করছি। বিভিন্ন কারণেই দেশি প্রজাতির মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। যে মাছগুলো হারিয়ে যাচ্ছে বলে বলা হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে অনেক প্রজাতির মাছ রক্ষা করতে গবেষণা চলছে। পাবদা, টেংরা, বোয়াল, আইড় মাছের চাষ হচ্ছে। পাঙ্গাসের চাষ হচ্ছে আগে থেকেই। কৈ মাছেরও চাষ হচ্ছে। আরও গবেষণা হবে। দেশি প্রজাতির মাছ রক্ষায় মৎস্য অধিদফতর প্রতিবছরই মৎস্য মেলার আয়োজন করে। একই কর্মসূচি জেলা, উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’
মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, কয়েক দশক আগেও এ অঞ্চলে আড়াইশ প্রজাতির মিঠাপানির মাছ ছিল। মনুষ্যসৃষ্ট বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতায় এসব মাছের অনেক প্রজাতি এখন আর চোখে পড়ে না। বর্ষা মৌসুমে নদী, খাল, বিল থেকে কারেন্ট জাল দিয়ে ব্যাপক হারে ডিমওয়ালা মাছ ধরার কারণে দেশি মিঠা পানির মাছের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
পিরোজপুরের কয়েকজন প্রবীণ জানান, একসময় এলাকার বলেশ্বর, সন্ধ্যা ও পায়রা নদীতে ২ কেজি ওজনের ইলিশ পাওয়া যেত। পাওয়া যেত ৫ থেকে ৬ কেজি ওজনের বোয়াল ও আইড় মাছ। এমন কোনও মাছ ছিল না যা এ অঞ্চলের বিলে পাওয়া যেত না। এলাকার নলামারা বিলে তারা জাল দিয়ে ১২ কেজি ওজনের কালবাউশ মাছ ধরেছেন। বেলে, ডগরা, কাজলি, ভাঙ্গান, ভোলা প্রভৃতি মাছ তারা খাওয়ার অযোগ্য মনে করে ধরার পর ফেলে দিতেন। এখন আর সেদিন নেই বলে জানান তারা।
দেশি প্রজাতির মাছের হারিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য অনুষদের অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিভিন্ন কারণেই দেশি প্রজাতির মাছ হারিয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রকৃতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে মানুষের সচেতনতার অভাবও রয়েছে। হারিয়ে যাওয়া দেশি মাছ রক্ষায় এখন ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে; যেভাবে এখন পাবদা, টেংরা, বোয়াল, আইড়, পাঙ্গাস ও কৈ মাছের চাষ হচ্ছে।’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বর্তমান সরকারের যথাযথ উদ্যোগে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬৮ হাজার ৩০৫ মেট্রিক টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রফতানির মাধ্যমে ৪ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা আয় হয়েছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে দেশে মাছের উৎপাদন ছিল ২৭ লাখ ৪১ হাজার মেট্রিক টন। মৎস্যবান্ধব সরকারের উন্নয়নমুখী উদ্যোগ ও সেবার কারণেই মৎস্য উৎপাদনের পরিমাণ ব্যাপক হারে বেড়েছে।’
Wednesday, July 19, 2017
দেশি ডিম কেন খাবেন? এবং ডিমের ৭টি বিস্ময়কর উপকারিতা
ভালো ভাবে বিবেচনা করলে বোঝা যাবে যে দেশি মুরগির ডিম আর ফার্মের মুরগির ডিম এর মাঝে তেমন পুষ্টি গত কোন পার্থক্য নেই , তবে সামান্য কিছু পার্থক্য থাকতে পারে । আমাদের দেশে সাধারণত দেশি মুরগী ছেড়ে দেয়া অবস্তায় পালন করা হয় , এজন্য এরা বাহিরে থেকে নানা রকম পোকা – মাকড় ,গাছের কচি পাতা ,কেঁচো,ইত্যাদি খায় এর জন্য দেশি মুরগীর ডিম পুষ্টি হয় । আবার অন্য দিকে ফার্মের মুরগীকে মাঝে মাঝে নানা রকম ভিটামিন খাবারের সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়, সে সব খাবারে থাকে নানা রকম খনিজ পদাথ – শামুকের গুড়া ,খৈল,লবণ ,শুটকি মাছের গুড়া, ভুষি ,গম, ভুট্টা আরও অনেক কিছুর সং মিশ্রণের ফলে যে খাবের হয় তা ফার্মের মুরগিকে দেয়া হয় যার কারণে ফার্মের মুরগীর ডিমও পুষ্টিকর হয় । আবার দেশী মুরগীর তুলনায় ফার্মের মুরগীর ডিম আকারে বেশী বড় হয় , এ সব দিক বিবেচনা করলে ফার্মের মুরগীর ডিমেই বেশি পুষ্টি থাকে ।

দেশি ডিম কেন খাবেন?
তবে ফার্মের ডিমের তুলনায় দেশি মুুরগীর ডিম অধিক পুষ্টি সম্পন্ন হয়ে থাকে। দেশি মুরগীর ডিমের বিশেষ বৈশিষ্ট হলো এটি প্রাকৃতিক ভাবে উৎপাদিত, যাতে ক্ষতিকর কোন চর্বি থাকে না।
এ কথা হলফ করে বলা যায় যে, ডিম খাওয়ার কথা উঠলে আমাদের দেশের অধিকাংশ লোকজন মুরগির ডিম-ই বেছে নেবেন। বিশেষ করে হাঁসের ডিমের সঙ্গে যদি তুলনা করা যায় তাহলে মুরগির ডিম-ই বেশি পছন্দ। এর কারণ, প্রচলিত ধারণা হচ্ছে মুরগির ডিমে বেশি পুষ্টি থাকে।
আজকাল অনেকেই ডিম খান না। কেউ ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ে, কেউ আবার রক্তে চর্বির পরিমান কম রাখতে, কেউ আবার হৃদরোগকে ভয় পেয়ে। কিন্তু আসলেই কি ডিম এগুলো বাড়ায়? বরং চিকিৎসকেরা আজকাল বলেন উল্টো কথা। তারা বলেন , সকালে নাস্তায় একটি ডিম মাসে প্রায় ৩ পাউন্ড পর্যন্ত ওজন কমাতে পারে।
সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক কিংবা দুপুর-রাতের খাবারে ডিমের একটা মেন্যু ঘুরেফিরে আসেই। আর ব্যাচেলরদের জীবনে সহজে রান্নার সহজ মেন্যু হিসেবে ডিম তো প্রায় ‘জাতীয় খাদ্য’ই বটে!
ডিমের কুসুম ভিটামিন-এ ও ভিটামিন-বি-এর খুবই ভালো উত্স। ভিটামিন-এ ত্বকের জন্য ভালো। ভিটামিন-বি শরীরে শক্তি জোগায়, মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং মাংসপেশির গঠনে সহায়ক। এ ছাড়া গর্ভধারণের জন্যও ডিমের কুসুম খাওয়া উপকারী। ডিমের কুসুমে থাকা স্যাচুরেটেড ফ্যাট শরীরে প্রয়োজনীয় হরমোনের উত্পাদন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে এবং শরীরে ভিটামিন ও মিনারেল ধারণ করার ক্ষমতা বাড়ায়।
ডিমের ৭টি বিস্ময়কর উপকারিতা:
সবারই পছন্দের খাবার হল ডিম। সকালের নাস্তায় ডিম ছাড়া যেন নাস্তাই করা হয় না। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ডিম খেতে ভালবাসেন না এমন মানুষ খুব কমই আছে। ডিম সেদ্ধ, ডিম পোঁচ, অথবা ডিম দিয়ে যে কোন রান্না খুবই জনপ্রিয় বিশ্বজুড়ে।
আপনি হয়তো জানেন যে ডিম আমাদের দেহের জন্য অনেক বেশি উপকারী, কিন্তু কীভাবে আপনার উপকার করে এই ডিম? জেনে নিই উপকারিতা গুলো সম্পর্কে।
মস্তিষ্কের জন্য উপকারিঃ
ডিমে আছে প্রচুর পরিমানে কলিন যা নিউরোট্র্রান্সমিটার হিসেবে কাজ করে আমাদের দেহকে সুস্থ রাখে। ডিম আমাদের মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে থাকে। তাছাড়া ডিমের কুসুমে আছে ফলেট উপাদান যা আমাদের মস্তিষ্কের ভিতরে স্নায়ু কোষের রক্ষণাবেক্ষণ করে।
দেহের হাড় মজবুত করেঃ
ডিমে আছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ডি যা আমাদের দেহের ক্যালসিয়ামের অভাব পূরণ করে থাকে এবং ডিমে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের উপস্থিতি অস্টিওপরোসিস বন্ধ রাখে এবং দেহের হাড় মজবুত হতে সাহায্য করে।
দেহের ওজন নিয়ন্ত্রন করেঃ
আমাদের দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে ডিমের উপকারিতা অনেক। যারা পেশির ওজন বৃদ্ধি করতে চান তাদের জন্য প্রোটিন সমৃদ্ধ ডিম উপযুক্ত। গবেষণায় দেখা গেছে যে ডিম আমাদের দেহে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগাকে কমিয়ে দিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে।
নখ ও চুলের স্বাস্থ্য উন্নত করঃ
ডিমে আছে সালফার সমৃদ্ধ অ্যামিনো অ্যাসিড যা আমাদের হাতের নখের স্বাস্থ্যই শুধু উন্নত করেনা আমাদের চুলের স্বাস্থ্য মজবুত করে ও আকর্ষণীয় করে তুলে। ডিমের অন্যান্য খনিজ পদার্থ সেলেনিয়াম, আয়রন ও জিঙ্ক দেহের নখ ও চুলের স্বাস্থ্য রক্ষার্থে সহযোগীতা করে।
দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করেঃ
ডিমের অবস্থিত লুটিন ও যেক্সানথিন এই দুটি ক্যারটিনয়েড আমাদের চোখের সুস্থ দৃষ্টি নির্ধারণে সাহায্য করে। ডিমের এই উপাদান গুলো আমাদের চোখের ছানি, মেকুলার পতন ও সূর্যের বেগুনী রশ্মি থেকে আমাদের চোখকে রক্ষা করে।
স্তনের ক্যানসার রোধ করেঃ
গবেষণার পরামর্শ অনুযায়ী বলা হয়েছে যে প্রতি সপ্তাহে ৬ টি করে ডিম খেলে স্তনে ক্যানসার হওয়ার সম্ভবনা ৪০% কমে যায়।
ডিম সহজেই হজম হয়ঃ
ডিম খুব দ্রুত হজম হয়ে যায় আমাদের দেহে। ডিম আপনি যেভাবেই খান না কেন এটি আমাদের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
Saturday, July 15, 2017
ধান ও গম কাটা মেশিন
কৃষি প্রধান বাংলাদেশে খাদ্যশস্যের মধ্যে ধান ও গম অন্যতম। দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটানোর জন্য একদিকে যেমন উৎপাদন বাড়ানো দরকার তেমনি দরকার উৎপাদন খরচ কমানোর। আমাদের দেশে ফসল উৎপাদন ও আহরণের ক্ষেত্রে এখনো সনাতন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ধান অতিরিক্ত শুকিয়ে ৪-৫% জমিতেই ঝরে পড়ছে।এ ধান ও গম কাটার সময়, খরচ ও শ্রম বাঁচিয়ে উৎপাদন খরচ কমাতে ধান ও গম কাটার যন্ত্র ব্যবহার করা যেতে পারে।
ব্যবহারের নিয়মাবলী : ইঞ্জিন চালু করার পূর্বে ফুয়েল ট্যাংক ডিজেল দ্বারা পূর্ণ করতে হবে। ইঞ্জিনে সঠিক গ্রেডের এবং প্রয়োজনীয় পরিমাণ লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করতে হবে। বোল্ট ও চেইন টেনশন সঠিক রাখতে হবে। নাট, বোল্ট, ফিটিংস্ ইত্যাদি চেক করতে হবে। এরপর ইঞ্জিন টেনশন পুলির সহায়তায় ট্রান্সমিশন সিস্টেম হতে বিচ্ছিন্ন করে ইঞ্জিন চালু করতে হবে। ইঞ্জিন চালুর পর কাটার ব্লেড, চেইন লাগ, স্টার হুইল ইত্যাদি সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা লক্ষ্য রাখতে হবে। ধান বা গম কর্তন আরম্ভ করার পূর্বে লক্ষ্য রাখতে হবে যদি জমির আইল ৬ ইঞ্চির বেশি উঁচু হয় তবে অবশ্যই জমির চারদিকে ফসল ১ ফুট পরিমাণ কাঁচির সাহায্যে পূর্বেই কর্তন করে নিতে হবে, এতে শস্য সঠিকভাবে ডান দিকে পড়বে।
সংরক্ষণ পদ্ধতি : ব্যবহারের পর যন্ত্রটি থেকে ঘাস, খড়, মাটি সম্পূর্ণরূপে পরিস্কার করতে হবে। ফুয়েল ট্যাংক হতে সম্পূর্ণ ফুয়েল বের করে পরিস্কার করতে হবে। কোনো অংশ ঢিলা হলে তা ঠিক করে নিতে হবে। যন্ত্রটির ঘূর্ণায়মান অংশগুলোতে এবং চেইনে মাঝে মাঝে মবিল দিতে হবে। মৌসুম শেষে ভালভাবে পরিস্কার করে শুষ্ক ও উপরে শেড যুক্ত স্থানে রাখতে হবে। কাটিং ব্লেড এবং চেইনে লুব্রিকেটিং অয়েল বা গ্রিজ দিয়ে রাখতে হবে ।
যন্ত্রের সুবিধা : যন্ত্রটি ঘণ্টায় ৬৫ থেকে ৭৫ শতাংশ জমির ফসল কাটতে
বাংলাদেশে এই মেশিন এ সি আই মোটরস বিপণন করে থাকে।
Tuesday, July 4, 2017
জাফরান: লাখ টাকা কেজি মসলার পরীক্ষামূলক ১৫ বছর চাষ
বিশ্বের সবচাইতে দামী মসলা বাংলাদেশে ১৫ বছর ধরে চাষ হচ্ছে পরীক্ষামূলকভাবে । সংশ্লিষ্ট বিভাগের উদাসীনতার কারনে ময়মনসিংহসহ দেশের ৯টি বিএডিসি উদ্যানে পরীক্ষামূলক চাষ হলেও আজো সম্প্রসারিত হয়নি বলে দাবী করেছেন অনেকেই। বিশ্বের সবচাইতে দামী লাখ টাকা কেজি এই মসলা ফসলটির নাম জাফরান। জানা যায়, প্রাচীন যুগে পারস্য উপকূলীয় অঞ্চলে জাফরানের স্নিগ্ধ উজ্জল রঙের গুরুত্ব অনুধাবন করে আধ্যাতিক পরিবেশনায় এর ব্যাপক প্রচলন হয়। জাফরান উদ্ভিদতত্বের দিক থেকে ইরিডাসিয়া ফ্যামিলির অন্তর্গত। আরবী ভাষায় ফারান এবং ইংরেজীতে সাফরন । জাফরান কালক্রমে গৃহস্থালীর ব্যবহারে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় তা ধীরে ধীরে কান্দাহার, খোরাসান, কাশ্মীরের বনেদী মহল ব্যবহারের মাধ্যমে ভারত উপমহাদেশে এর আগমন ঘটে।
২০০০ সালে বাংলাদেশের ৯ টি বিএডিসি উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে জাফরানের চাষ শুরু হয়। এর মধ্যে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা , গাজীপুরের কাশিমপুর ,পাবনা, রংপুর, বান্দরবন, জামালপুর , লামা এবং খুলনার দৌলনপুর বিএডিসি সার্ভিস সেন্টার। প্রতিটি বাগানে ১৫/২০ টি করে গাছ লাগানো হয় । তৎপরবর্তীতে প্রতিটি গাছের পুষ্পমন্জুরীতে প্রায় ২৫/৩০ টি করে ফুল ফোটে । বীজ তৈরী হতে সময় নেয় ৭০/৮০ দিন। মটরশুটির ন্যায় ছোট গোলাকার লাল রংঙের গাছ প্রতি ২০/৩০ টি করে বীজ হয় । প্রতিটি ফুটন্ত ফুলের পুংকেশর এবং স্ত্রী কেশর কাচাঁ অবস্থায় কেটে আলাদা করে শুকিয়ে নিয়ে সংরক্ষণ করা হয় । ৬/৭ ঘন্টা ভিজিয়ে রং সংগ্রহ করা হয় ।
আশানুরুপ ফলন পাওয়ার পরও যথাযথ পদক্ষেপ আর পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ঐ চাষ হ্রাস পেতে থাকে। অভিজ্ঞমহল জানিয়েছেন, জাফরান চাষের ধারাবাহিকতা থাকলে দেশের চাহিদা মিটিয়েও বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হতো। জাফরানের উপকারভোগীরা জানান, জাফরানী রঙ অনুষ্ঠানাদিতে বনেদী পোলাও , বিরিয়ানি ,জর্দা, কালিয়াতে ব্যবহার করা হয়। আনেক পান বিলাসী এর পাপড়ি পানের সাথে চর্বণ করেন। জাফরানী রঙ বিভিন্ন হারবাল ওষুধ প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় ব্যবহার হয় । এর রঙ নান্দনিক সাজসজ্জায় তথা বনেদী পার্লারগুলোতে মেহেদিও সাথে সংমিশ্রণে মোহনীয় উজ্জ্বল রং এর উৎকর্ষতা বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হচ্ছে । প্রকৃত জাফরানী রং দ্বারা আধ্যাতিক ইমামগণ চীনা প্লেটের মধ্যে পবিত্র কুরআনের আয়াত লিখা পানি দ্বারা ধৌত করে রোগীকে খাইয়ে থাকেন। জাফরানী সরবত যে কোন অনুষ্ঠানে পরিবেশন যোগ্য । বাংলাদেশের মাটি জাফরান চাষের বিশেষ উপযোগী। তাই নতুন করে হলেও এর দিকে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন বলে অভিজ্ঞমহল মনে করেন।
জাফরান পৃথিবীর অন্যতম দামী মসলা, ইহা ‘রেড গোল্ড’ নামেও পরিচিত। প্রাচীন যুগে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জাফরানের সুগন্ধ ও উজ্জ্বল রঙের গুরুত্ব অনুধাবন করে এ জাফরান ব্যবহার সম্ভ্রান্ত পরিবারের মধ্যে ব্যাপক প্রচলন ছিল। এ ফসলের আদিস্থান গ্রীস। জাফরানের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় তা ধীরে ধীরে কান্দাহার, খোরাসান, কাশ্মীরের বনেদী মহলে ব্যবহারের প্রয়োজনে ভারত উপমহাদেশে এর বিস্তার ঘটে। ইউরোপিও ইউনিয়নভুক্ত অনেক দেশেই জাফরান চাষ প্রচলন আছে। আফগানিস্থান, ইরান, তুরস্ক, গ্রীস, মিশর, চীন এ সব দেশে কম বেশি জাফরানের চাষ হয়ে থাকে। স্পেন ও ভারতের কোন কোন অংশে বিশেষ করে কাশ্মীরে এ ফসলের চাষ অনেক বেশি। তবে অন্য দেশের তুলনায় স্পেনে জাফরান উৎপাদন পরিমাণ অত্যাধিক। রপ্তানীকারক অন্যতম দেশ হিসাবেও স্পেন সুপরিচিত। বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় শতকরা ৭০ ভাগ জাফরান স্পেন রপ্তানী করে থাকে।
যে সব দেশ স্পেন থেকে জাফরান আমদানী করে তাদের মধ্যে জার্মান, ইতালি, আমেরিকা, সুইজারল্যান্ড, ইউকে ও ফ্রান্স অন্যতম। ফুটন্ত ফুলের গর্ভদন্ড (স্টিগমা) সংগ্রহ করে তা থেকে জাফরান প্রাপ্তি একটা ব্যয় বহুল ও প্রচুর শ্রম নির্ভর (লেবার ইনটেনসিভ) কাজ। একই কারণে এ দামী মসলা চাষে অনেকেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। প্রথম বছর রোপিত সব গাছে ফুল আসেনা, এ সময় প্রায় শতকরা ৪০-৬০ ভাগ গাছে ফুল আসতে পারে। এক গ্রাম জাফরান পেতে saffronপ্রায় ১৫০টা ফুটন্ত ফুলের প্রয়োজন হয়। পরের বছর একেক গাছ থেকে প্রায় ২-৩টা করে ফুল দেয়। তবে তৃতীয় বছর থেকে প্রতি বছরে জাফরান গাছ ৫-৭ টা করে ফুল দিতে সক্ষম।
জাফরানের ইংরেজি নাম ‘সাফরন’, ক্রোকোআইডি (Crocoideae)পরিবার ভুক্ত। এর বৈজ্ঞানিক নাম : Crocus sativus| । এ গাছ লম্বায় প্রায় ৩০ সে.মিটার হয়। প্রতি ফুলে ৩টা স্ত্রী অঙ্গ (Stigma) থাকে, তবে তাতে পুরুষ অঙ্গ (Anther) থাকে মাত্র ৩টা। খাবার সু-স্বাদু করার জন্য বিশেষ করে বিরিয়ানী, কাচ্চী, জর্দা ও কালিয়াসহ নানা পদের দামী খাবার তৈরীতে জাফরান ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও বিয়ের অনুষ্ঠানে জর্দা তৈরীতে প্রাকৃতিক আকর্ষণীয় রং আনতে এবং দামী বাহারী পান বিপণনে জাফরান অন্যতম উপাদান। মুখমন্ডল আকর্ষণীয় করতে ও ত্বকের উজ্জ্বল রং আনার জন্য স্বচ্ছল সচেতন রমণীরা প্রাচীন কাল থেকে জাফরান ব্যবহার করে থাকে। বিউটি পার্লারে রূপচর্চায় জাফরান অন্যতম উপাদান হিসাবে ব্যবহার করা হয়।
বংশ বিস্তার: গাছের মোথা বা বালব (অনেকটা পেঁয়াজের মত) সংগ্রহ করে তা বংশ বিস্তারের কাজে ব্যবহার করা হয়। এক বছর বয়স্ক গাছ থেকে রোপন উপযোগী মাত্র দু’টা মোথা (ইঁষন) পাওয়া যায়। তবে ৩-৪ বছর পর একেক গাছ থেকে ৫-৭টা মোথা পাওয়া যেতে পারে। নূতন জমিতে রোপন করতে হলে ৩-৪ বছর বয়স্ক গাছ থেকে মোথা সংগ্রহ করে তা জমিতে রোপন করতে হবে। একই জমিতে ৩-৪ বছরের বেশি ফসল রাখা ঠিক নয়। মোথা বা বালব উঠিয়ে নূতন ভাবে চাষ ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
জমি নির্বাচন: প্রায় সব ধরনের জমিতে জাফরান ফলানো যায়। তবে বেলে-দোঁআশ মাটি এ ফসল চাষে বেশি উপযোগী। এঁটেল মাটিতে জাফরানের বাড় বাড়ন্ত ভাল হয় না, তবে এ ধরনের মাটিতে কিছু পরিমান বালু ও বেশি পরিমাণ জৈব সার মিশিয়ে এ মাটিকে উপযোগী করা যায়। জলাবদ্ধ সহনশীলতা এ ফসলের একেবারেই নেই। এ জন্য পানি নিষ্কাশন সুবিধাযুক্ত উঁচু বা মাঝারী উঁচু জমি এ ফসল চাষের জন্য নির্বাচনে প্রাধান্য দেয়া প্রয়োজন। মাটির পি এইচ ৬-৮ হলে বেশি ভাল হয়। ছায়া বা আধা ছায়ায় এ ফসল ভাল হয় না। পর্যাপ্ত রোদ ও আলো-বাতাস প্রাপ্তি সুবিধা আছে এমন স্থানে এ ফসল আবাদ ব্যবস্থা নিতে হবে।
পরিবারিক প্রয়োজন মেটাতে সাধারণত বাগানের বর্ডার এলাকাতে এ ফসল চাষ প্রচলন আছে। অনেকে ছাদে, পটে বা ছোট ‘বেড’ তৈরী করে নিয়েও সেখানে সীমিত আকারে জাফরান চাষ করে পরিবারের চাহিদা পূরণ করে থাকে। অনেকে এক মিটার চওড়া ও তিন মিটার লম্বা এবং ১৫ সে.মিটার উঁচু বীজতলা তৈরী করে নিয়ে তাতে জাফরান চাষ করে থাকে। এ ব্যবস্থায় পরিচর্যা গ্রহন ও ফুল থেকে স্টিগমা (গর্ভদন্ড) সংগ্রহ করা সুবিধা হয়। বাণিজ্যিকভাবে চাষের ক্ষেত্রে বীজতলার আকার লম্বায় ৮-১০ মিটার করা হয়।
চাষ পদ্ধতি: তৈরী বীজ তলা সরেজমিন হতে প্রায় ১৫ সে.মিটার উঁচু হবে। প্রতিটা জাফরানের বালব বা মোথা ১০-১২ সে.মিটার দূরত্বে ছোট গর্ত তৈরী করে তা ১২-১৫ সে.মিটার গভীরতায় রোপন করতে হবে। তাতে এ মাপের বীজ তলার জন্য প্রায় ১৫০টা জাফরানের মোথার প্রয়োজন হয়। বর্ষা শেষ হওয়ার পূর্বক্ষণে জুলাই- আগষ্ট মাসে এ ফসলের মোথা বা বালব (ইঁষন) রোপন করা হয়। শুরুতে বেশি গভীর ভাবে জমি চাষ করে বা কোদাল দিয়ে কুপিয়ে জমি আগাছা মুক্ত ও লেবেল করে নেয়া প্রয়োজন। জমি তৈরী কালে প্রতি শতক জমিতে পঁচা গোবর/আবর্জনা পঁচা সার ৩০০ কেজি, টিএসপি ৩ কেজি এবং এমওপি ৪ কেজি প্রয়োগ করে ভালোভাবে মাটির সাথে সমস্ত সার মিশিয়ে হালকা সেচ দিয়ে রেখে দিয়ে দু’সপ্তাহ পর জাফরান বালব রোপন উপযোগী হবে। বসতবাড়ি এলাকায় এ ফসল চাষের জন্য বেশি উপযোগী।
এ ফসল একবার রোপন করা হলে ৩-৪ বছর পর্যন্ত ফুল দেয়া অব্যাহত থাকে। বর্ষার শেষে আগষ্ট মাসে মাটি থেকে গাছ গজিয়ে ফেব্রুয়ারী মাস পর্যন্ত গাছের বৃদ্ধি ও ফুল দেয়া অব্যাহত থাকে। মে মাসের মধ্যে গাছের উপরিভাগ হলুদ হয়ে মরে যায়। মোথা মাটির নিচে তাজা অবস্থায় বর্ষাকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকে। এ সময় গাছের অবস্থিতি উপরি ভাগ থেকে দেখা যায়না।
গাছের বৃদ্ধি ও ফুল: গাছে শীতের প্রারম্ভে অর্থাৎ অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ফুল আসে। বড় আকারের মোথা লাগানো হলে সে বছরই কিছু গাছে ফুল ফুটতে পারে। শীতকালে গাছের বাড় বাড়ন্ত ভাল হয়। শীত শেষে এ বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। গাছের বয়স এক বছর হলে অতিরিক্ত ১টা বা ২টা মোথা (ঈড়ৎসং) পাওয়া যায়। তিন বছর পর রোপিত গাছ থেকে প্রায় ৫টা অতিরিক্ত মোথা পাওয়া যাবে, যা আলাদা করে নিয়ে নূতন ভাবে চাষের জন্য ব্যবহার উপযোগী হবে।
পরিচর্যা: এ ফসল আবাদ করতে হলে সব সময় জমি আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। মাঝে মাঝে নিড়ানী দিয়ে হালকা ভাবে মাটি আলগা করে দেয়া হলে মাটিতে বাতাস চলাচলের সুবিধা হবে এবং গাছ ভালোভাবে বাড়বে। শুকনো মৌসুমে হালকা সেচ দেয়া যাবে। তবে অন্য ফসলের তুলনায় সেচের প্রয়োজনীয়তা অনেক কম। বর্ষায় পানি যেন কোন মতে জমিতে না জমে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পানি জমে থাকলে রোপিত বালব পঁচে যাবে।
আপদ ও রোগ বালাই: এক প্রকারের ইঁদুর, চিকা ও খরগোস জাফরানের পাতা, ফুল এমনকি গাছের মোথা খেতে পছন্দ করে, মোথা যত খায় নষ্ট করে তার দ্বিগুণ। এ জন্য এ ধরনের উপদ্রব দেখা গেলে প্রয়োজনীয় ফাঁদ ব্যবহার করে অথবা মারার জন্য ঔষুধ ব্যবহার করে তা দমন ব্যবস্থা নিতে হবে।
গাছ ঢলে পড়া রোগ: এক ধরনের মাটিতে বসবাসকারী ছত্রাকের (পিথিয়াম, রাইজোক টোনিয়া) আক্রমণে গাছের গোড়া নরম হয়ে গাছ বাদামী রং ধারন করে গাছ হেলে পড়ে। প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে লগন/রিডোমিল-গোল্ড অথবা কার্বোন্ডাজিম দলীয় ছত্রাক নাশক (জাষ্টিন/ব্যাভিস্টিন) স্প্রে করে সুফল পাওয়া যাবে।
শিকড় পচা রোগ: এটা জাফরানের খুব ক্ষতিকর রোগ। এ রোগের আক্রমণে শিকড় পঁচে গাছ মারা যায়। এ রোগ যথেষ্ট ছোঁয়াচে, এ জন্য বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন করা দরকার এবং আক্রান্ত জমিতে দু-এক বছর জাফরান চাষ করা যাবে না। একই বাগানে ৩-৪ বছর ধরে জাফরান আবাদ অব্যাহত রাখা হলে এ রোগের উপদ্রব বাড়ে। এ জন্য তিন বছর ফসল নেয়ার পর চতুর্থ বছর মোথা উঠিয়ে নিয়ে নূতন ভাবে অন্য জমিতে এ ফসল চাষ ব্যবস্থা নিতে হবে। পরবর্তী ২ বছর এ রোগাক্রান্ত জমিতে আর জাফরান চাষ করা উচিত হবে না।
জাফরান সংগ্রহ: রোপনের প্রথম বছর সাধারণত ফুল আসে না। তবে জাফরানের রোপিত বালব আকারে বেশ বড় হলে সে বছরই জাফরান গাছ থেকে মাত্র একটা ফুল ফুটতে পারে। পরের বছর প্রতি গাছে পর্যায়ক্রমে ২-৩ টা ফুল আসবে। দু’বছরের গাছে ৪-৫টা এবং তিন বছরের গাছে ৭-৮টা ফুল দিবে। জাফরানের স্ত্রী অঙ্গ ৩টা থাকে এবং পুরুষ অঙ্গ ও ৩’টা থাকে। গাছে অক্টোবর মাস থেকে ফুল দেয়া আরম্ভ করে এবং নভেম্বর মাস পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। তবে এ ফুল ফোটা মৌসুমী তাপমাত্রার উপর অনেকটা নির্ভর করে। ফুটন্ত ফুলের গন্ধের মাত্রা কিছুটা তীব্র। ফুল ফোটার সঙ্গে সঙ্গে গর্ভদন্ড (ঝঃরমসধ) গাছ থেকে ছেঁটে সংগ্রহ করা প্রয়োজন। এ দন্ডের অগ্রভাগের অংশ তুলনায় চওড়া বেশি বা মোটা হয়। এ অংশের রং গাঢ় লালচে হয়। নীচের অংশ অনেকটা সুতার মত চিকন এবং হালকা হলুদ রঙের হয়। উপরের অংশ জাফরান হিসাবে ব্যবহৃত হয়, নিচের চিকন অংশের গুণাগুণ তেমন ভালো হয় না।
সংরক্ষণের আগে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে যেন তা ভালোভাবে শুকানো হয়। অন্যথায় জাফরান বেশি দিন রাখা যাবে না, প্রকৃতিক গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।ফুল ফোটার সঙ্গে সঙ্গে ফুলের স্টিগমার বা গর্ভদন্ডের প্রয়োজনীয় অংশ কেঁচি দিয়ে বা অন্য ভাবে ছেঁটে নিয়ে তা চওড়া একটা পাত্রে পরিষ্কার কাগজ বিছিয়ে নিয়ে তার উপর সংগৃহীত জাফরান রোদে শুকানোর ব্যবস্থা নেয়া হয়। এ সময় রোদে দেয়ার জন্য জাফরান সংরক্ষিত পাত্রটা কিছু উঁচু স্থানে টেবিল/টুলে রাখতে হবে এবং কোন মতেই যেন বাতাস বা অন্য কোন প্রাণীর উপদ্রবে পড়ে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জাফরান শুকানোর জন্য এক ধরনের যন্ত্র (ডেসিকেটর বা ড্রায়ার) ব্যবহার করা হয়।
জাফরান সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কাজ অতি ধৈর্য্যরে সাথে করতে হয় যা অনেকটা চা সংগ্রহের মত। ফসল সংগ্রহ, পরবর্তীতে প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বিপণন এ কাজগুলো উৎপাদনকারী সব দেশেই মহিলারা করে থাকে। এ দেশেও এ গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পাদনের জন্য আগ্রহী মহিলাদের সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ দেয়া অতি জরুরী হবে। দু-তিন দিন পড়ন্ত রোদে শুকানোর পর তা আর্দ্রতা রোধক পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে। কড়া রোদে বা বৃষ্টিতে ভেজার আশঙ্কা থাকলে বাড়ীর বারান্দায় বা জানালার ধারে সুরিক্ষত স্থানে এ মূল্যবান জাফরান শুকানোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
সাবধানতা: জাফরান অত্যান্ত দামী ফসল। এ জন্য অসাধু ব্যবসায়ীরা এতে ভেজাল দিয়ে ক্রেতা সাধারণকে প্রতারিত করার অহরহ দৃষ্টান্ত আছে। ক্রেতাকে অবশ্যই জাফরান ক্রয় কালে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। সব চেয়ে ভাল হয় বাড়ির ছাদে বা সবজী বাগানে কিছু সংখ্যক গাছ লাগিয়ে নিজেই উৎপাদন করা বা উৎপাদনে অন্য কাউকে উৎসাহিত করে সেখান হতে নিজ প্রয়োজন মেটানো।
জাফরান চাষে করণীয়: প্রত্যেক হর্টিকালচার সেন্টারে সুবিধামত স্থানে ২-৩টা স্থায়ী বীজ তলায় এ দামী গুরুত্বপূর্ণ হাইভ্যালু ফসলের আবাদ ব্যবস্থা নেয়া অত্যাবশ্যক। পার্শ্ববর্তী যে কোন দেশ থেকে দু-একশত জাফরান বালব সংগ্রহ করে চাষের উদ্যোগ নেয়া জরুরী। জাফরান বালব সংগ্রহের ক্ষেত্রে বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে তা প্রত্যেক হর্টিকালচার সেন্টারে বিশেষ করে নূরবাগ জার্মপ্লাজম হর্টিকালচার সেন্টারে চাষ
Monday, July 3, 2017
পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পোকার চাষ!
পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পোকার চাষ!
নিত্য নতুন খাবার আবিষ্কার হচ্ছে, কিন্তু সেসব খাবারে প্রকৃত পুষ্টি পাচ্ছে না মানুষ। তাই বিজ্ঞানীরা বলছেন, খুব শিগগিরই ইউরোপে পোকা চাষের ফার্ম চালু হবে। পোকা ছাড়া কোনোভাবেই পুষ্টির চাহিদা পূরণ হওয়া সম্ভব নয়। কারণ, শুককীট বা ল্যাদা পোকায় প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন আছে, যা মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটাবে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্যানুসারে ২০০০ সালে মাংস বা প্রোটিনের চাহিদা যা ছিল, তা থেকে ২০৩০ সাল নাগাদ প্রায় ৭২ ভাগ বেড়ে যাবে। আর তখন প্রোটিনের চাহিদা পূরণে হিমসিম খেতে হবে মানুষকে। বর্তমানে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে বিভিন্ন প্রাণীর মাংস খাই আমরা। কিন্তু তথন এমন পরিস্তিতি সৃষ্টি হবে যে প্রাণীর মাংসেও পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে পারবে না। তাই বাধ্য হয়েই পোকা মাকড়ের উপর নির্ভরশীল হবে মানুষ।
২০১৩ সালেও জাতিসংঘ থেকে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনেও টেকশই পুষ্টি চাহিদা পূরণের জন্য পোকা চাষের প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘাস ফড়িং, পিঁপড়া ও অন্যান্য পোকামাকড় চাষ করে পুষ্টি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। তবে পোকা চাষের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার। যেসব পোকামাকড় পরিবেশের ক্ষতি করে না সেগুলো চাষ করতে হবে। আর এদিকে অন্যান্য প্রোটিনের উৎস যেমন মাছ ও মাংসও সচল রাখতে হবে।
গত বছরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নও এক প্রতিবেদনে ক্রমবর্ধমান পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে পোকা চাষের ব্যাপারে উৎসাহিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘পুষ্টির চাহিদা পূরণের জন্য পোকা খাওয়ার বিষয়টি এলিয়েন কালচার মনে হলেও এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার প্রায় ২ মিলিয়ন মানুষের প্রধান প্রোটিনের উৎস এই পোকামাকড়। এই পোকামাকড়গুলোর মধ্যে শুঁয়োপোকা, উইপোকা, ঘাস ফড়িং, ঝিঁঝিঁ, অরুচিকর বাগ এবং অন্যান্য পোকামাকড় খুব জনপ্রিয়। কিন্তু এসব পোকামাকড় সেখানে কোনো ফার্মে চাষ হয় না। ওইসব অঞ্চলের মানুষ প্রাকৃতিকভাবে পোকা সংগ্রহ করে খায়।’
ইউরোপে এখন যে পোকামাকড়ের ব্যবহার হয় না তা কিন্তু নয়। তবে মানুষের খাবার হিসেবে ব্যবহার হয় কমই। সাধারণত বাসার পোষা প্রাণীর জন্য তারা এসব পোকা কেনেন এবং সেগুলোকে পোষেন। তবে যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে তাতে এবার মানুষের খাবারের জন্য পোকার চাষ শুরু হবে। এবং এটি মাছ ও মাংসের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার হবে। তার মধ্যে শুককীট, বা উড়ন্ত পোকা খুবই উপযুক্ত বিকল্প হিসেবে মনে করছেন গবেষকরা।
ইতিমধ্যেই ইউরোপিয়ান কমিশন ‘প্রোটইনসেক্ট’ নামের এক প্রজেক্ট চালু করেছে। এই প্রজেক্টের কাজ হলো কোন কোন প্রাণী বা পোকা মানুষের পুষ্টির জন্য বেশি উপযোগী ও পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে না, তা গবেষণা করে বের করা।
‘প্রোটইনসেক্ট’ ও ‘মিনেভরা কমিউনিকেশন ইউকে’ এক সাথে কাজ করছে। মিনেভরা কমিউনিকেশনের এক মুখপাত্র বলেন, ‘ইউরোপের নীতিমালায় কোন পোকামাকড় খাওয়া বা পালন করার ব্যাপারে আইন আছে। তবে সম্প্রতি পোকা চাষের যে কথা উঠেছে তাকে আমরা খুবই উদ্বিঘ্ন। কারণ আবার সব নীতিমালা পরিবর্তন করতে হবে। কোন কোন পোকা ফার্মে চাষ করা যাবে আর কোনগুলো যাবে না তা নির্ধারণ করতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি।’
তবে পোকা চাষের ব্যাপারে সবচেয়ে যে বিষয় নিয়ে সবাই সবচেয়ে উদ্বিগ্ন তা হলো- মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি। কারণ, এখনও অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, কিছু পোকা আছে যেগুলো মানুষের খাওয়া উচিত নয়। সেগুলো মানুষের পাকস্থলী হজম করতে পারবে না, বা স্বাস্থ্যের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
তবে ইউরোপীয় খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ (ইএফএসএ) এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে। তারা বলছেন, অন্যান্য প্রাণীর মাংস যেভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হয়, ঠিক সেভাবেই পোকা প্রক্রিয়াজাত করা হবে। সুতরাং এখানে ক্ষতির কোনো সম্ভাবনা নেই। আর মানুষের পুষ্টির চাহিদাও পূরণ হবে।
তাই ইউরোপিয়ান কমিশন তাদের ‘প্রোটইনসেক্ট’ প্রোজেক্টের ডাটা-গুলি আবার যাচাইবাছাই করছে। ডাটা-গুলির উপর নির্ভর করবে কত তাড়াতাড়ি আবার পোকার ফার্ম চালু করা যায়। যদি তারা মনে করেন, পোকা চাষ করা সম্ভব- তাহলে খুব শিগগিরই পোকা চাষের ফার্ম চালু করা হবে।
Saturday, May 20, 2017
নিরাপদ সবজির উৎস হোক ছাদ কৃষি
ঢাকাশহর শুধু না বাংলাদেশের প্রায় শহরেই এখন ছাদ কৃষি বহুল আলোচিত। বাংলাদেশের বহুল টিভি চ্যানেল ও এখন হৃদয়ে মাটি ও মানুষের ডাকের পাশাপাশি ছাদ কৃষি নিয়েই আলাদাভাবে টিভি প্রতিবেদন করছে যার ফলশ্রুতিতে দেশের প্রায় অঞ্চলেই বৃদ্ধি পাচ্ছে ছাদে বাগান। অল্প পরিসর জায়গাতেই অনেকেই গড়ে তুলেছে সুন্দর সুন্দর বাগান। কেউ করছে ফুলের বাগান কেউ করছে ফলজ বাগান আবার কেউ ছাদেই উৎপাদন করছে নিয়মিতভাবে সারা বছরের সবজি। এই যে যারা বাগান করছে তারা প্রায়শ বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয় যেমন গাছের পাতার রঙ পরিবর্তন হওয়া, বিভিন্ন পোকামাকড় এর উপদ্রব আর যারা বাগান করছে তারাও থাকেন ব্যাপক বিপাকে কোথায় মিলবে এর যথোপযুক্ত সমাধান। আবার সমাধান পেলেও কোথায় মিলবে এই পণ্যাদি??
প্রায় ছাদ বাগানেই চায় নিরাপদ ছাদ বাগান আর সেই ছাদ বাগান থেকেই পাবে কিছু নিরাপদ সবজি কিন্তু নিরাপদ সবজি উৎপাদন করতে হলে কিছু পণ্যাদি দরকার হবে যা কিনা রাসায়নিক উপাদান ছাড়া তাহলে কোথায় মিলবে এই পণ্যাদি?? আসুন জেনে নেই কোথায় কি কি পণ্যাদি পাবেন নিরাপদ রাসায়নিক মুক্ত চাষাবাদ করার জন্য।
বাংলাদেশের বহুল পরিচিত কোম্পানি ইস্পাহানী এগ্রো লিমিটেড নিরাপদ কৃষির জন্য কাজ করছে অনেকদিন ধরে গড়ে তুলেছে ইস্পাহানী বায়োটেক লিমিটেড আর তাদের কিছু পণ্যাদি সারা দেশ জুড়ে নিরাপদ রাসায়নিক মুক্ত ফসল উৎপাদনে রাখছে বিশাল ভুমিকা আর হ্যা আসুন তাদের এমন কিছু পণ্যাদি সম্পর্কে কিছুটা পরিচিত হয়ে নেই।
বায়োনিম প্লাস (Bio Neem Plus)
নিম ভিত্তিক ইসি অ্যাজাডিরেকটিন ১% সমৃদ্ধ।
- বেগুনের জাব পোকা (এফিড) দমনে কার্যকরী
- এটি একটি পরিবেশ বান্ধব কীটনাশক।
- আই পি এম এর সাথে ব্যবহার যোগ্য।
যে সকল ফসলের জন্য উপযোগীঃ
বেগুণ, টমেটো, সিম, করলা, পটল, কাঁকরোল, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ঢেঁড়স, মরিচ, পেঁয়াজ এছাড়াও বিভিন্ন প্রকার ফুল, ফল, তুলার জন্য অনেক উপযোগী একটি পরিবেশ বান্ধব পণ্য।
প্যাঁক সাইজ- ৫০ মিলি, ১০০ মিলি,
ইকোম্যাক (Ecomac)
ইকোম্যাক ১.৮ ইসি একটি বায়োপেস্টিসাইড যা এবামেকটিন সমৃদ্ধ। এটি একটি এন্টিবায়োটিক যা ক্ষতিকর পোকা, মাকড় ও নেমাটোড দমনে কার্যকরী এবং পরিবেশ বান্ধব।
যে সকল ফসলের জন্য উপযোগীঃ
বেগুণ, টমেটো, সিম, করলা, পটল, কাঁকরোল, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ঢেঁড়স, মরিচ, পেঁয়াজ এছাড়াও বিভিন্ন প্রকার ফুল, ফল, তুলার জন্য অনেক উপযোগী একটি পরিবেশ বান্ধব পণ্য।
প্যাঁক সাইজ- ৫০ মিলি, ১০০ মিলি,
ঢাকা শহরে এই পণ্য গুলো বিক্রি করছে কৃষি ষ্টোর - ০১৭৭১৬২৫২৫২।