Showing posts with label গাভী. Show all posts
Showing posts with label গাভী. Show all posts

Tuesday, May 23, 2017

দুগ্ধ খামার স্থাপনের গুরুত্ব ও পদ্ধতি

  • Share The Gag
  • মানুষের শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশের জন্য দুধ ও মাংসের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির জন্য দৈনিক ২৫০ মিলিলিটার দুধ ও ১২০ গ্রাম মাংসের প্রয়োজন। তার বিপরীতে আমরা পাচ্ছি ৫১ মিলিলিটার ও ২০ গ্রাম মাংস। দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে দুধ ও মাংসের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশে দুধ ও মাংসের ব্যাপক চাহিদা পূরণ করতে হলে আরও অনেক গাভীর খামার স্থাপন করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ব্যাপক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
    দুগ্ধ খামার বর্তমানে একটি লাভজনক শিল্প। গাভীর খামার বেকারত্ব দূরীকরণ, দারিদ্র্যবিমোচন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশে দুধের চাহিদা পূরণে বিশাল ভূমিকা রাখছে।
    একটি পারিবারিক গাভীর খামার স্থাপন করতে বেশি জমির প্রয়োজন হয় না। বাড়ির ভেতরেই একটি আধা-পাকা শেড তৈরি করলেই চলে। গাভীর খামার স্থাপনে তেমন কোনো ঝুঁকি নেই। প্রয়োজনে দেশি ঘাস সংগ্রহ করে খাওয়ালেও চলে। অল্প পুঁজি দিয়ে গাভীর খামার শুরু করা যেতে পারে। একটি পারিবারিক গাভীর খামার দেখাশোনা করার জন্য আলাদা শ্রমিকের প্রয়োজন হয় না।
    গাভীর খামার স্থাপনের গুরুত্ব-
    ১. মানুষের অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য দুধ ও মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি করা;
    ২.খামার থেকে অধিক মুনাফা অর্জন করা;
    ৩. শ্রম ও পুঁজির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা;
    ৪. গাভী দ্বারা আঁশজাতীয় খাদ্য এবং মানুষের খাদ্যের উচ্ছিষ্টাংশকে যথাযথ ব্যবহার করা যায়;
    ৫. ভূমির উর্বরতা সংরক্ষণ ও বৃদ্ধিতে গাভীর খামারের গুরুত্ব অপরিসীম;
    ৬. গাভীর খামার সারা বছরের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে;
    ৭. গাভীর খামার মোটামুটি স্থায়ী ব্যবসা, অন্য যে কোনো কাজ অপেক্ষা শ্রেয়;
    ৮. পর্যাপ্ত দ্রব্য সামগ্রী যেমন- দই, ঘি, মিষ্টি ইত্যাদি উৎপাদনের ফলে দুগ্ধ খামার স্থায়ী ভালো বাজার সৃষ্টি করতে পারে;
    ৯. গোবর দ্বারা বায়োগ্যাস প্লান্ট তৈরি করে জ্বালানি ও আলোর ব্যবস্থা করা যায়;
    ১০. ষাঁড় বিক্রি করে আয় বৃদ্ধি করা যায়।
    তিনটি সংকর গাভী পালন খামারের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব
    ১. স্থায়ী মূলধন বিনিয়োগ
    ক. জমি- নিজস্ব
    খ. শেড/ঘর- নিজস্ব
    গ. গাভী ক্রয় ৩টিী৬০,০০০/- =১,৮০,০০০/-
    ২. আনুষঙ্গিক ব্যয়
    ক. ঘাস- নিজস্ব
    খ. খড়-  নিজস্ব
    গ. দানাদার খাদ্য (৬ কেজি/৩/দিন)
    (৬ী৩ী৩৬৫ী২০) = ১,৩১,১৪০/-
    ঘ. লেবার- নিজস্ব
    ঙ. ওষুধ, টিকা ইত্যাদি =    ৩,০০০/-
    মোট ব্যয় = ৩,১৪,৪০০/-টাকা
    ৩. আয়-
    ক. দুধ বিক্রি থেকে- ১২ লিটার/গাভী/ দিন
    (১২ী৩ী২৮০ী৩৫) = ৩,৫২,৮০০/-
    খ. বছর শেষে ৩টি বাছুর বিক্রি থেকে আয়
    (৩ী২০০০০)----------=   ৬০,০০০/-
    প্রথম বছর শেষে মোট আয় = ৪,১২,৮০০/-
    প্রথম বছরে মুনাফা = মোট আয়-মোট ব্যয়
    ৪,১২,৮০০- ৩,১৪,৪০০=৯৮,৪০০/- টাকা
    দ্বিতীয় বছরে মুনাফা= ৯৮,৪০০ী১.৫ গুণ= ১,৪৭,৬০০/- টাকা

    খামার স্থাপন পদ্ধতি
    আদর্শ ব্যবস্থাপনার কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও সঠিকভাবে পরিচালনার মাধ্যমেই দুধ, মাংস উৎপাদন তথা গাভীর খামারকে লাভজনক করা সম্ভব।
    ১. খামারের সঠিক স্থান নির্বাচন যেমন-
    - শুষ্ক ও উঁচু ভূমি -পারিপার্শ্বিক অবস্থা ভালো হতে হবে
    - সুষ্ঠু যাতায়াত ব্যবস্থা - প্রয়োজনীয় জমির প্রাপ্যতা
    - সুষ্ঠু নিষ্কাশন ব্যবস্থা- পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ
    - মাটির প্রকৃতি ভালো হতে হবে- আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকা।
    - জনবসতি থেকে দূরে
    - রাস্তা থেকে দূরে
    ২. আধুনিক স্বাস্থ্যসম্মত বাসস্থান তৈরি,
    ৩. উপযোগী জাত ও গাভী বাছাই করা,
    ৪. নিয়মিত টিকা প্রদান, কৃমিনাশক এবং প্রজনন   সমস্যাজনিত চিকিৎসা প্রদান,
    ৫. প্রজননের সঠিক সময় নির্ধারণ,
    ৬. নির্ধারিত রেশন মোতাবেক খাদ্য প্রদান করা,
    ৭. কাঁচা ঘাস ব্যবস্থাপনা,
    ৮. গর্ভবর্তী গাভী ব্যবস্থাপনা,
    ৯. বাছুর ব্যবস্থাপনা,
    ১০. সঠিক দুধ দোহন পদ্ধতি
    ১১. বাছুরের মোটাতাজাকরণ কার্যক্রম বিশেষ করে এঁড়ে বাছুর,
    ১২. বাজার ব্যবস্থাপনা।
    গাভী পালনের মাধ্যমে দারিদ্র্যবিমোচন ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব।

    গাভীর খামার ব্যবস্থাপনা

  • Share The Gag
  • বাংলাদেশে প্রতিবছর দুধের চাহিদা ১২.৫২ মিলিয়ন মেট্রিক টন, উৎপাদন হচ্ছে প্রতিবছর ২.২৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন, ঘাটতি প্রতিবছর ১০.২৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন। চাহিদার আলোকে আমাদের দেশে ছোট-বড় প্রায় ৪৭,৭১০টি ডেইরি খামার গড়ে উঠেছে। বর্তমানে শংকর জাতের গাভী পালনের মাধ্যমে দুগ্ধ খামার স্থাপন একটি লাভজনক ব্যবসা। ফলে গাভী পালনে উন্নত ব্যবস্থাপনা, সঠিক প্রজনন, সুষম খাদ্য, রোগদমন ও প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে খামারিদের জানা প্রয়োজন।

    ভালজাতের গাভীর বৈশিষ্ট্য মাথা : হালকা ও ছোট আকার, কপাল প্রশসত্দ, উজ্জ্বল চোখ, খাদ্যের প্রতি আগ্রহ। দৈহিক বৈশিষ্ট্য : দেহের সামনে দিক হালকা, পিছনের দিক ভারী ও সুসংগঠিত, দৈহিক আকার আকর্ষণীয়, শরীরের গঠন ঢিলা। পাজর : পাজরের হাড় স্পষ্ট, হাড়ের গঠন সামঞ্জস্যপুর্ণ। চামড়া : চামড়া পাতলা, চামড়ার নীচে অহেতুক চর্বি জমা থাকবে না, চামড়ার রঙ উজ্জ্বল, লোম মসৃণ ও চকচকে হবে। ওলান : ওলান বড় সুগঠিত ও দেহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, বাটগুলো একই আকারের হবে। চারবাট সমান দূরত্বে ও সমানত্দরাল হবে। দুগ্ধশিরা : দুগ্ধশিরা মোটা ও স্পষ্ট, তলপেটে নাভীর পাশ দিয়ে দুগ্ধশিরা আঁকাবাঁকাভাবে বিস্তৃত থাকবে।

    খামার ব্যবস্থাপনা: খামার ব্যবস্থাপনা এক প্রকার কৌশল যার মাধ্যমে খামারের সম্পদ, সুযোগ ও সময়ের সমন্বয় ঘটানো যায়। সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনার সুফল হল-
    ১. সম্পদের মিতব্যয়িতা
    ২. স্বল্প সময়ে ফললাভ
    ৩. স্বল্প সময়ে অধিক উৎপাদন
    ৪. শক্তি ও শ্রমের অপচয় রোধ
    ৫. উৎপাদনে গুণগতমান ও উৎকর্ষতা লাভ।

    সাধারণ ব্যবস্থাপনা: গাভী তার গুণগতমান উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়ে থাকে। কিন্তু গাভীর বংশানুক্রমিক গুণগতমান যতই ভাল হোক এর ব্যবস্থাপনা সমন্ধে বিশেষ যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। দৈনন্দিন পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, বিজ্ঞান সম্মত বাসস্থান, সুষম খাদ্য সরবরাহ, সঠিক প্রজনন, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ইত্যাদি উন্নত গাভী পালনের মৌলিক বিষয়।

    বাসস্থান: পারিবারিক পর্যায়ে বা খামার পর্যায়ে গাভী পালন করতে হলে গাভীর জন্য ভাল বাসস্থান প্রয়োজন। গাভীকে বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থা যেমন- ঝড়, বৃষ্টি, অতিরিক্ত ঠাণ্ডা ও গরম এবং অন্যান্য নৈসর্গিক দৈব দুর্বিপাক, পোকামাকড়, চোর, বন্য-জীবজন্তু হতে রক্ষা করার জন্য যথোপযুক্ত বাসস্থান বা গোয়ালঘর প্রয়োজন। আমাদের আবহাওয়ার আলোকে ঘরে প্রচুর আলো বাতাস চলাচলের জন্য ঘরটি উত্তর-দক্ষিণমুখী হওয়া বাঞ্চনীয়। কোন অবস্থাতেই যেন ঘরে স্যাঁতস্যাঁতে অবস্থা যেন না থাকে। এতে ঘরের মেঝেটি ইট বিছানো থাকলে ভাল হয়। ঘরের দুর্গন্ধ ও মশামাছি দমনের জন্য মাঝে মাঝে জীবাণুনাশক দ্বারা ধোয়া প্রয়োজন।

    গবাদিপশুর বাসস্থান দুই ধরণের হতে পারে : ১. উন্মুক্ত বা উদাম ঘর ২. বাঁধা ও প্রচলিত ঘর।

    বাঁধা ঘরের বৈশিষ্ট্য: এই পদ্ধতিতে গরুর গলায় দড়ি বা লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে পালন করা যায়। গাভীর খাদ্য, পানি গ্রহণ এবং দুধ দোহন একই স্থানে করা যায়।

    সুবিধা : বাঁধা থাকে বিধায় গাভীর দুধ দোহন সহজ হয়, প্রতিকূল আবহাওয়ায় পশু নিরাপদ থাকে, কৃত্রিম প্রজননের জন্য বেশ সুবিধাজনক, নির্ধারিত অল্প জায়গায় পশু পালন করা যায়।

    অসুবিধা: এই পদ্ধতিতে ঘর তৈরি খরচ বেশি, পশুর সহজে ঘোরাফেরার ব্যবস্থা থাকে না, এতে পশুর ব্যয়াম না হওয়াতে বিভিন্ন ধরনের রোগ হবার সম্ভাবনা থাকে, একই জায়গায় দিনরাত্রি বাঁধা থাকে বলে মেঝে স্যাঁতস্যাঁতে থাকে।

    বাঁধা ঘরের নকশা: এই পদ্ধতির গো-শালায় পশু সব সময় বাঁধা অবস্থায় থাকে। এজন্য গো-শালা যাতে সহজে পরিস্কার করা যায় সেদিকে লক্ষ্য রেখে ঘর তৈরি করা প্রয়োজন। প্রচলিত গো-শালা দুই ধরনের হয়-

    একসারি বিশিষ্ট গো-শালা: অল্প সংখ্যক গবাদি পশুর জন্য একটি লম্বা সারিতে বেঁধে পালনের জন্য এই গো-শালা তৈরি করা হয়। প্রতিটি পশুকে পৃথক রাখার জন্য জিআইপাইপ দিয়ে পার্টিশন দেয়া হয়, পার্টিশনের পাইপ লম্বায় ৯০ সে.মি. এবং উচ্চতায় ৪৫ সে.মি. হওয়া প্রয়োজন, একটি গরুর দাঁড়াবার স্থান ১৬৫ সে.মি., পাশের জায়গা ১০৫ সে.মি., খাবার পাত্র ৭৫ সে.মি. এবং নালা ৩০ সে.মি. হওয়া প্রয়োজন, একই মাপে পশুর সংখ্যা অনুযায়ী জায়গা নির্ধারণ করে গো-শালা তৈরি করা হয়, গো-শালা হবে একচালা বিশিষ্ট ঘর, ঘরের ছাদ প্রায় ৩০০ সে.মি. উঁচুতে করতে হয়।

    দুই সারি বিশিষ্ট গো-শালা: অল্প জায়গায় অধিক পশুপালনের জন্য এ ধরণের গো-শালা তৈরি করা হয়, এ ধরনের গো-শালায় পশুকে দুভাবে রাখা যায়, মুখোমুখি পদ্ধতি ও বাহির মুখ পদ্ধতি। মুখোমুখি পদ্ধতিতে দুই সারি পশু সামনাসামনি থাকে। দুইসারি খাবারের পাত্রের মাঝখানে ১২০ সে.মি. চওড়া রাসত্দা থাকে- যা পাত্রে খাবার দেবার জন্য ব্যবহার করা হয়, একটি গরুর জন্য দাঁড়ানোর জায়গা ৫.৫ ফুট, পাশের জায়গা ৩.৫ ফুট।

    সুবিধা: একই সাথে দুইসারি পশুকে সহজে খাবার ও পানি সরবরাহ করা যায়, দুধ দোহনের জন্য অধিকতর আলো পাওয়া যায়, পশু নিজ জায়গায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, পরিচর্যাকারী সহজে চলাফেরা করতে পারে।

    একটি গাভীকে নিম্ন তালিকা অনুসারে খাদ্য সরবরাহ করতে হবে :
    কাঁচা ঘাস (সবুজ ঘাস) ২০-৩০ কেজি, দানাদার খাদ্য মিশ্রণ: ১৮-২০% প্রোটিন সমৃদ্ধ: ১ম ৩ কেজি দুধ উৎপাদনের জন্য- ০৩ কেজি, পরবর্তী প্রতি কেজি দুধ উৎপাদনের জন্য-০.৫ কেজি, লবণ-৫০-৬০ গ্রাম, পরিস্কার পানি-প্রয়োজন মত।

    পরিচর্যা: গাভীর সঠিক পরিচর্যা না করলে উন্নত জাতের গাভী পালন করেও গাভীকে সুস্থ সবল উৎপাদনক্ষম রাখা সম্ভব হবে না। ফলে গাভী হতে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ দুধ, মাংস পাওয়া যাবে না এবং গাভী পালন অলাভজনক হবে।

    দুধ দোহন: গাভীর দুধ দৈনিক ভোরে একবার এবং বিকালে একবার নির্দিষ্ট সময়ে দোহন করতে হবে। দুধ দোহনের পূর্বে গাভীর উলান ও দোহনকারীর হাত পরিস্কার পানি দিয়ে ভালভাবে ধুয়ে নিতে হবে।

    প্রজনন: গাভীর বংশানুক্রমিক গুণগতমান উন্নয়নের জন্য সুষ্ঠু পরিকল্পিত প্রজনন ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হবে। যে ষাড়ের মা, দাদী, নানী যত বেশি পরিমাণ দুধ দেয় তার বাচ্চার দুধ উৎপাদনের ক্ষমতা ততই বেশি হয়। তাই যখন গাভী গরম হবে তখন গুণগতমানসম্পন্ন ষাড়ের বীজ দ্বারা নিকটস্থ কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র হতে গাভীকে প্রজনন করিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

    খামারের রেকর্ড সংরক্ষণ: খামারের লাভক্ষতি নিরূপণ আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসাবের উপর নির্ভরশীল। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য পরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিয়য়ে মূল্যায়ন করা দরকার। খামারের উৎপাদিত পণ্যের হিসাব, ক্রয়, বিক্রয়, জন্ম, মৃতু্য এবং কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রমের জন্য সঠিক তথ্য রক্ষাকল্পে রেকর্ড সংরক্ষণ করা অত্যাবশ্যকীয়।

    উন্মুক্ত বাসস্থানে নিম্নোক্ত হারে জায়গার প্রয়োজন:
    পশুর ধরণ ঘরে প্রতি পশু স্থান প্রতি পশুর জন্য মুক্ত স্থান খাদ্যপাত্র
    বাড়ন্ত বাছুর ২.৫-৩ বর্গ মিটার ৫-৬ বর্গ মিটার ৩৭-৫০ সেন্টিমিটার
    গাভী ৩-৩.৫ বর্গ মিটার ৮-১০ বর্গ মিটার ৫০-৬০ সেন্টিমিটার
    গর্ভবতী গাভী ১০-১২ বর্গ মিটার ১৮-২০ বর্গ মিটার ৬০-৭০ সেন্টিমিটার

    লেখক: কৃষিবিদ সোহরাব জিসান

    গাভী পালন : আয় বাড়তে করণীয়


    হয়তো আপনার বাসা সংলগ্ন কিছু জায়গা পতিত অবস্থায় রয়েছে। সেখানে গাভী, হাঁস-মুরগির খামার ও মাছ চাষ করে বাড়তি টাকা উপার্জন করতে পারেন। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করে নিতে পারেন। একদিকে ৮৪ ফুট, আরেক দিকে ৬০ ফুট—এমনি একটি জায়গায় কী কী করবেন, কত পুঁজি নিয়ে নামবেন এবং কবে থেকে লাভবান হতে থাকবেন তার একটি বর্ণনা দেয়া হলো।
    সংখ্যা ৮টি। জায়গার পরিমাণ ১৬ ফুট – ৫০ ফুট।

    খরচের হিসাব :
    ১. গাভীর ঘর নির্মাণ (উপরে টিন, চারদিকে দেয়াল) ১০,০০০ টাকা;
    ২. ৮টি গাভী ক্রয় (বাছুরসহ দুধের গাভী) প্রতিটি ৫০,০০০ করে ৪,০০,০০০ টাকা;
    ৩. খানার পাত্রসহ আনুষঙ্গিক খরচ ৪,০০০ টাকা;
    ৪. প্রতিদিন খাদ্য খরচ (১টির জন্য ১০০ টাকা) ৮টির জন্য (৮০০ × ৩০) ২৮,০০০ টাকা (প্রতি মাসে);
    ৫. ওষুধ, ভিটামিন (মাসিক) ১৫০০ টাকা;
    ৬. টিউবওয়েল স্থাপন ৮,০০০ টাকা;
    ৭. পানি সাপ্লাইয়ের মোটর ৮,০০০ টাকা;
    ৮. ৪টি ফ্যান ১৬,০০০ টাকা; মোট খরচ ৯,৮৫,০০০ টাকা।

    গাভীর খামার থেকে আয় : প্রতিটি গাভী দৈনিক ১৮ কেজি দুধ দেবে। প্রতি কেজির দাম ৩০ টাকা। একটি গাভীর দুধ থেকে প্রতিদিন গড়ে পাওয়া যাবে ৩০ × ১৮ = ৫৪০ টাকা। তাহলে ৮টি গাভীর দুধ থেকে প্রতিদিন ৫৪০ × ৮ = ৪৩২০ টাকা আয় হবে। ফলে ৩০ দিনে ৮টি গাভীর দুধ বিক্রি থেকে ৪৩২০ × ৩০ = ১,২৯,৬০০ টাকা। গাভী প্রায় ৮ মাস ধরে গড়ে ১৮ কেজি দুধ দেবে। এরপর দুধের পরিমাণ কমতে থাকবে। দুধ বিক্রি থেকে ৮ মাসে আয় ১,২৯,৬০০ × ৮ = ১০,৩৬,৮০০ টাকা। প্রাথমিক খরচ ৯,৮৫,০০০ টাকা; মোট আয় = ৫১,৮০০ টাকা। ৮ মাস পর নিট লাভ ৫১,৮০০ টাকা।

    ৮ মাস পর দুধ দেয়ার পরিমাণ কমে যাবে। গড়ে ৮ কেজিতে নেমে আসবে। তাহলে ৮টি গাভী থেকে ৬৪ কেজি দুধ পাওয়া যাবে। ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলে ৬৪ কেজি দুধ থেকে দৈনিক আয় ১৯২০ টাকা। ৩০ দিনে আয় ১৯২০ × ৩০ = ৫৭,৬০০। ৮ মাসের আয় ৫৭,৬০০ × ৮ = ৪,৪০,৮০০ টাকা। তাহলে প্রথম ৮ মাসে দুধ বিক্রি থেকে আয় ১০,৩৬,৮০০ টাকা + পরবর্তী ৪ মাসে আয় ৪,৪০,৮০০ টাকা। মোট দুধ বিক্রি থেকে আয় ১৪,৭৭,৬০০ টাকা।

    ৮ মাস পর দুধ দেয়ার পরিমাণ কমে যাবে। তখন কৃত্রিম প্রজনন দিতে হবে। কৃত্রিম প্রজনন দেয়ার প্রায় ৮ মাস পর গাভী বাচ্চা দেবে। এরপর প্রতিবার ২০ কেজি করে দুধ দেবে। এ গাভী ৪ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত পোষা যাবে। ১ বছর পর এক-একটি বাছুর প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করা যাবে। ৩ বছর পর বাছুরগুলো আবার গর্ভবতী হবে। তখন এক-একটির দাম ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় দাঁড়াবে। এ কারণে বাছুরগুলো রেখে ষাঁড়গুলো বিক্রি করে দিতে হবে।

    গাভীকে দানাদার খাদ্য, কাঁচা ঘাস, খড়, চালের কুঁড়া ও প্রচুর পরিমাণে পানি দিতে হবে। পরবর্তী বছরগুলোতে ঘর নির্মাণ খরচ লাগবে না, গাভীও কিনতে হবে না। ৮ মাস পর আবার গাভীগুলো দুধ দেবে। আগের বাছুর বড় হবে। এসময় ঘর নির্মাণ খরচ, গাভী ক্রয় খরচ, টিউবওয়েল নির্মাণ খরচ আর লাগবে না, তবে খাদ্য খরচ বেড়ে যাবে। আগের ৮টি গাভী, ৮টি বড় বাছুর, নতুন ৮টি ছোট বাছুর সব মিলে ২৪টি গরু হবে। আগের বাছুরের মধ্যে যদি ষাঁড় থাকে তাহলে বিক্রি করে দিতে হবে। ৮টি বাছুরের মধ্যে যদি ৪টি ষাঁড় থাকে তাহলে প্রতিটি ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করলে ১৫,০০০ × ৪ = ৬০.০০০ টাকা আয় হবে। এর বেশিও আয় হতে পারে।

    ৮ মাস পর বাছুর প্রসবের পরে খরচ : খাদ্য খরচ বেড়ে গিয়ে দাঁড়াবে দৈনিক ১,৫০০ টাকা। তাহলে এক মাসে খাদ্য খরচ ১,৫০০ × ৩০ = ৪৫,০০০ (প্রতি মাসে)। বিদ্যুত্, পানি, ওষুধ, ভিটামিন ৫,০০০ টাকা। মোট ব্যয় ৫০,০০০ টাকা।

    আয় : দুধ বিক্রি থেকে এক মাসে আয় ১,২৯,৬০০ টাকা; ১,২৯,৬০০ - ৫০,০০০ = ৭৯,৬০০ টাকা নিট লাভ। এছাড়া প্রতি বছর বাছুর বিক্রি থেকে এবং গোবর বিক্রি করেও টাকা অর্জন করা যাবে। গাভীগুলো ৪ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত দুধ দেয়ার পর এগুলো বিক্রি করে দিতে হবে। এ ধরনের একটি গাভী ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করা যাবে।
    লেখক: মোহাম্মদ মোস্তফা
    এগ্রোবাংলা ডটকম

    দুধ উত্পাদন বৃদ্ধির তিনটি কৌশল


    গাভী পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য দুধ উত্পাদন। আর তার জন্য প্রয়োজন সুষম খাবার সরবরাহ, রোগাক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে যথাযথ চিকিত্সাসহ অন্যান্য দৈনন্দিন পরিচর্যা। তবে এর সাথে আরো কিছু সহজ বিষয়ের দিকে নজর দিলে দুধের উত্পাদন আশানুরূপ মাত্রায় বাড়ানো সম্ভব। দুধে আশি ভাগের বেশি পানি থাকে। বাকি ১২.৫ ভাগ ফ্যাট নয় এমন শক্ত পদার্থ যেমন- ভিটামিন, মিনারেল ইত্যাদি। অবশিষ্টাংশ ফ্যাট। এক লিটার দুধ উত্পাদনের জন্য গাভীর প্রায় চার লিটার পানির প্রয়োজন হয়। অথচ অধিকাংশ সময় গাভীকে পর্যাপ্ত পানি দেয়া হয় না। যেমন- রাতের বেলা পিপাসা লাগলেও গাভী পানি পান করতে পারে না। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গাভীকে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি দিলে দুধের উত্পাদন প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে যায়। তাই গাভী যেন প্রয়োজনমত পানি পান করতে পারে সে জন্য চব্বিশ ঘণ্টা পানির পাত্রে পানি দিতে হবে। প্রচলিত ধারণা হচ্ছে গাভীকে বেশি খাবার দিলে দুধ উত্পাদন বেশি হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে সুষম, পুষ্টিকর খাবার গাভীর শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এবং দুধ উত্পাদনের জন্য অপরিহার্য কিন্তু অতিরিক্ত খাবার কখনোই নয়। বরং এতে হিতে বিপরীত হয়।

    খাবার হজমের জন্য পাকস্থলীর রাসায়নিক পরিবেশ হচ্ছে ক্ষারীয়। গাভী যত বেশি জাবর কাটবে খাবারের সাথে বেশি লালা মিশ্রিত হবে এতে খাবার বেশি হজম হবে। গাভী জাবর কাটার সময় না পেলে খাবার হজম হবে না। আর এ কারণে পুষ্টিও কম পাবে। আর পুষ্টি কম পেলে দুধ উত্পাদনও কমে আসবে। তাই খাবার হজমের জন্য গাভীকে কমপক্ষে আট ঘণ্টা জাবর কাটার সময় দিতে হবে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর আর কোনো খাবার দেয়া ঠিক হবে না। গাভীকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করতে হবে। প্রতি লিটার দুধে প্রায় ১.২ গ্রাম ক্যালসিয়াম থাকার কারণে দুগ্ধবতী গাভীর দুধ উত্পাদনের জন্য বেশি পরিমাণে ক্যালসিয়াম প্রয়োজন হয়। খাবারের সাথে ক্যালসিয়াম সরবরাহ না করলে গাভীর হাড় থেকে ক্যালসিয়াম ব্যবহার করে থাকে। এতে হাড়ে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিলে গাভী দুর্বল ও অসুস্থ হয়ে পড়ে। দুধ উত্পাদনও কমে যায়।

    উপরের বিষয়গুলোর দিকে নজর দিলে খরচ কমের পাশপাশি দুধ উত্পাদন বৃদ্ধি পাবে। খামারি লাভবান হবে।

    সূত্র- এগ্রো বাংলা

    বাংলাদেশে ডেইরী সেক্টর নিয়ে কিছু স্বপ্ন, কিছু কথা

  • Share The Gag
  • বাংলাদেশে ডেইরী সেক্টর নিয়ে কিছু স্বপ্ন, কিছু কথা।

    স্বপ্ন তা সে যেটাই হোক, আমরা ছোট নয়, অনেক বড় করে স্বপ্ন দেখতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি হাতেহাত রেখে এগিয়ে গেলে কোন বাধাই বাধা নয়, যার অসংখ্য প্রমান রেখে গিয়েছেন আমাদের বাংলাদেশের অনেক বড় বড় উদ্যোগক্তারা। কৃষিপ্রধান এই বাংলাদেশে অনেক দেরী করে হলেও ডেইরী সেক্টরে যে বিপ্লব শুরু হয়ে গেছে তা সবাই একবাক্যে মেনে নেবে। এই বিল্পবের পেছনে যেমন রয়েছে তথ্য প্রযুক্তির উতকর্ষের সাধন, ঠিক তেমন রয়েছে দেশের শিক্ষিত এবং প্রবাসী বেকার জনগোষ্ঠীর নতূন উতসাহ এবং বিনিয়োগ। আমরা সবাই এক হতে পেরেছি এটাই এই মূহুর্তের সব থেকে বড় পাওয়া। সবাই সংবদ্ধ হয়ে যেকোন একটা কাজে উদ্যোগ নিলে সেখানে সফল হওয়া শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার। একটা দেশের ভিত মজবুতের জন্য ক্ষুদ্র এবং মাঝারী বিনিয়োগ বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই। একটা দেশ তখনই সাবলম্বী হবে যখন দেশের প্রতিটা পরিবার, প্রতিটা জনগন জিডিপিতে তাদের ভূমিকা রাখবে। ডেইরী সেক্টর এমনই একটা সম্ভাবনাময় শিল্পখাত যা পরনির্ভরতা দূর করে একটা পরিবারে আর্থিক সাচ্ছন্দ এনে দেবে, পরিবারে সুখ আসবে, সন্তানরা লেখাপড়ার সুযোগ পাবে এবং দেশের পুষ্টিহীনতা দূর করে সুস্থ সবল জাতিও তৈরী করবে।

    বর্তমান ডেইরী সেক্টরের সার্বিক অবস্থান বিবেচনা করে যে প্রধান সমস্যা চোখে পড়ে, যে সমস্যার কারনে খামারীরা ডেইরী সেক্টরের প্রতি উতসাহ হারিয়ে ফেলে তা হলো দুধের ন্যায্য দাম। আমাদের দেশে মোট চাহিদার ৮০% দুধ যেখানে আমদানী নির্ভর সেখানে কি সমস্যার কারনে খামারীরা দুধের দাম থেকে বঞ্চিত এটাই এখন ভাবার বিষয়। প্রতি বছর ৬৫-৭০ হাজার মেট্রিক টন গুড়াদুধ আমদানী হয় যা ১৭ লাখ লিটার তরল দুধের সমপরিমান এবং এর আনুমানিক মূল্য ২.৫ হাজার কোটি টাকা। প্রতিদিন ১৮ মিলিয়ন লিটার দুধ আমাদের দেশে উতপাদন হচ্ছে যার মাত্র ৭% যাচ্ছে মিল্ক প্রসেসরদের কাছে, বাকীটা লোকালি ব্যবহারিত হচ্ছে। এত বিপূল পরিমান চাহিদা থেকে সত্তেও খামারীরা দুধের দাম থেকে বঞ্চিত এটা অত্যান্ত দুক্ষের এবং পরিতাপের বিষয় শুধু সরকারের জন্য নয় বরং জাতিগতভাবে আমাদের প্রত্যেকের ও। আমরা কেউই পারিনি এই শিল্পের সাথে জড়িত ব্যবসায়ীদের সঠিক পথ দেখাতে এবং তাদেরকে সহযোগিতার হাত বাড়াতে। যা হবার হয়েছে এখন আমরা আর অতীত নিয়ে পড়ে থাকতে চাইনা, আমরা চাই ডেইরী সেক্টর নিয়ে একটি সুষ্ঠ পরিকল্পনা এবং এর সঠিক বাস্তবায়ন। এই লক্ষ্যে দুগ্ধ খামারী থেকে শুরু করে ট্রেডার, কালেকটর, প্রসেসর, সরকারী, বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থাসমুহের সহযোগিতা ছাড়া কোনভাবেই সম্ভব নয়।

    দুধের দাম এলাকা অঞ্চলভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে একজন খামারীকে বিক্রয় করতে হয় যা খাদ্যের দাম বা সার্বিক ব্যায়ের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। অন্যান্য খাদ্য দ্রব্যের উচ্চমূল্য, টাকার অবমূল্যায়ন, জীবনযাত্রার ব্যয় হিসাব করলে দুগ্ধ খামারীদের অবস্থান অত্যান্ত নাজুক। আমরা স্বপ্ন দেখি আবার গ্রামের প্রতিটা ঘরে ঘরে একটি খামার থাকবে, মানুষ পরনির্ভরশীলতা দূর করে সাবলম্বী হবে, দেশে বেকার সমস্যার সমাধান হবে।

    ঠিক এই অবস্থায় আমাদের এবং সরকারের কি করনীয় হতে পারে এটাই ভাববার বিষয়। সরকার এবং খামারীদের একত্র হয়ে কাজ করতে হবে এর কোন বিকল্প নেই, তারপর যে যার অবস্থানে কিছু কাজ করার আছে। রাতারাতি সব কিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তবে বর্তমান যে অবকাঠামো আছে সেটেকে ব্যবহার করেই সরকারকে নেমে পড়তে হবে উন্নয়নমূলক কাজে। সরকারের সহযোগি মনোভাব এবং সহযোগিতা ছাড়া কোন ভাবেই এই সেক্টরের উন্নতি সাধিত হবেনা। বিশেষ যে কাজগুলোর প্রতি এখনই সরকারের গুরুত্ত দেয়া উচিত তা হলো:

    সবার প্রথম সরকারের উচিত হবে দুগ্ধ খামারীদের দুধ বিক্রির বাজারের যে অবকাঠামো আছে তা পুনরায় ঢেলে সাজানো। মিল্ক ভিটা, আড়ং, ফার্মফ্রেস সহ যারা যারা দুগ্ধ প্রসেসর কোম্পানী এবং কালেক্টর আছে তারা তরল দুধের যে দাম দিচ্ছে তা বাজারের মূল্যস্ফীতি, উচ্চ দ্রব্যমূল্য, জীবন যাত্রা ব্যয় এসবের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পুনরায় একটি দাম সবার জন্য নির্ধারন করে দেয়া। প্রতিদিন দুধ তাদের কালেক্ট করতে হবে, যদি না করে এই কোম্পানীগুলোর পক্ষ থেকে খামারীদের ক্ষতিপূরনের ব্যবস্থা করার আইন করা। এখানে সরকারের মিল্ক ভিটাকে সর্বপ্রথম উদ্যোগ নিতে হবে। মিল্কভিটাকে সারা দেশে প্রতিটা গুরুত্তপূর্ন বিভাগীয় শহর গ্রাম পর্যায়ে কুলিং প্লান্ট এবং কালেকশন পয়েন্ট করে দিতে হবে যেন খামারীদের দুধ বিক্রি করতে অসুবিধা না হয়।

    বিগত ২০০০ সনে বাংলাদেশে বছরে দুধ উতপাদন হতো ২ লক্ষ মেট্রিক টন। বর্তমানে ২০১৭ তে বেড়ে দাড়িয়েছে ৭২-৭৪ লক্ষ মেট্রিক টন। এত পরিমান উতপাদন বাড়ার পরও সরকার আমদানীকৃত গুড়া দুধের উপর শুল্ক কর বাড়াতে পারেনি। দেশে খামারীরা যদি না বাচে, ধংস হয়ে যায় কত মানুষ বেকার হবে, কত পরিবার না খেয়ে থাকবে সরকারের কাছে অবশ্যই সেই হিসাব আছে। সরকারের উচিত গুড়া দুধের উপর শুল্ক পরিমান কিছুটা বাড়ানো এবং উন্নত বিশ্বে আমদানী করা গুড়া দুধ যে তেজষ্ক্রিয়াতার মাত্রায় আমদানীর অনুমতি আছে তা আমাদের দেশেও মেনে চলা। আমরা কেন অধিক তেজক্রিয় মাত্রার আমদানী করা দুধ খেতে যাবো, যা অন্যকোন দেশ করেনা? গত ৫ বছরে দুগ্ধ শিল্পের অভূতপূর্ব উন্নয়নের পরও যদি আমদানী কমানো না হয়, অধিক তেজক্রিয়তার মাত্রার দুধ আমদানীর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা না হয় তা সরকার ও দেশের জন্য হবে আত্মঘাতী।

    দেশে গুড়াদুধের আমদানী কমানোর সাথে সাথে নিজের দেশের ভিতরেই কি করে কম দামে গুড়াদুধ তৈরী করা যায় তার দিকে বিশেষ গুরুত্ত আরোপ করতে হবে। শুধু মিল্কভিটা এবং আড়ং আমাদের দেশে গুড়া দুধ তৈরী করছে। ধীরে ধীরে দেশে দুধের প্রোডাকশন বাড়ার সাথে সাথে গুড়া দুধের প্রসেসিং প্ল্যান্টও বাড়াতে হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এখন দেরী না করে সর্বপ্রথম মিল্কভিটার গুড়াদুধের প্ল্যান্টকে অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন করে পুনরায় চালু করে প্রয়োজনে খামারীদের এবং প্রসেসিং কোম্পানীকে ভর্তুকি দিয়ে ধীরে ধীরে আগানোর উদ্যোগ সরকারের নেয়া উচিত। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতও খামারীদের এবং মিল্ক প্রসেসিং কোম্পানীদের বিভিন্ন স্কিম এর আওতায় যেমন মেশিনারীজের উপর, নতূন ফার্ম করার উপর ভর্তুকি দিয়ে যদি আসতে পারে আমাদের ও সে ব্যবস্থা করতে হবে। উন্নত দেশগুলো যেমন আমেরিকা, কানাডা, নিউজিল্যান্ড তাদের খামারীদের সার্থ রক্ষার্থে প্রয়োজনের বেশী উতপাদন হবার পরও তাদের খামারীদের ভর্তুকি দেয় আর আমাদের দেশে দুধের এত চাহিদা থাকা সত্তেও আমরা খামারীদের কোন প্রকার সহযোগিতা করতে পারছিনা। গুড়া দুধের নিজেদের দেশে প্ল্যান্ট তৈরী করা ছাড়া দুগ্ধ শিল্পের বাজার কোনভাবেই ঠিক করা সম্ভব হবেনা।

    উপরের এই কাজগুলো যত দ্রুত সম্ভব সরকারের উচিত বাস্তবায়নে যাওয়া। পাশাপাশি আরো যে কাজগুলোকে গুরুত্ত সহকারে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে তা হলো:

    ডেইরী ভ্যালু চেইন এর রিলেটেড প্রোডাক্টসের উপর অধিক গুরুত্ত আরোপ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে দুগ্ধজাত পন্য প্রস্তুতকারক কোম্পানীদেরকে বিদ্যুৎ, গ্যাস, ভ্যাট সহ নানাবিধ সুযোগ সুবিধা দিয়ে তাদের অধিক প্রেরনা দিতে হবে যেন তারা মানসম্পন্ন দুগ্ধজাত পন্য প্রস্তুত করে, জনগনকে দুগ্ধজাত পন্য কেনায় উতসাহ প্রদান করে। আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন দুগ্ধজাত পন্য উতপাদনে আমরা অনেক পিছিয়ে। ক্রেতার নানাবিধ চাহিদা অনুযায়ী নানাবিধ মান সম্পন্ন পন্য ক্রেতাদের হাতে তুলে দিতে পারলেই দুধের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাবে। সে ক্ষেত্রে কার্যকরী বাজারজাতকরন নীতি গ্রহন না করতে পারলে সকল চেস্টাই ব্যার্থ হবে। প্রথমত, জনগনকে বোঝাতে হবে কেন তারা দুধ খাবে, দুধের উপকারীতা কি। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্যাম্পেইন করে তাদের খাদ্য তালিকায় দুধকে প্রাধান্য দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সরকারী বেসরকারী পর্যায়ের উদ্যোগক্তাদের নিয়ে টিভি, পত্রিকা বিজ্ঞপনের মাধ্যমে জনগনের সামনে দুধের উপকারিতা তুলে ধরে সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি ক্রেতাদের পছন্দমত নানাবিধ আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দুগ্ধজাত পন্য তৈরী করতে হবে।

    দুগ্ধ খামার বেড়ে ওঠার পাশাপাশি খামারীদের জন্য পশু ডাক্তারদের সংখ্যা আরো অধিক সংখ্যায় বাড়াতে হবে। বর্তমানে যে সংখ্যা আছে তা হলো ১০,০০০ পশুর জন্য ১ জন ডাক্তার। এটা খুবই অপ্রতুল, এটা কোন সেবার পর্যায়ে পরেনা। যার ফলে অনভিজ্ঞ ডাক্তার নামধারী লোকজনের ভূল চিকিতসায় খামারীরা নানানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে। দুগ্ধ খামারীদের জন্য সরকারের এই সেবার মান অধিক মাত্রায় নিশ্চিত করতে হবে। অনলাইন স্বাস্থ্য সেবা, বিনামূল্যে কার্যকরী সকল ভ্যাকসিন, মেডিসিন, চিকিতসা, খামারী দোড় গোড়ায় পৌছে দেবার ব্যবস্থা করতে হবে।

    পশুখাদ্য পন্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য সরকারকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রতি বছর একটা নির্দিষ্ট সময় বাজারে গোখাদ্যের মজুত করে কৃত্রিম গো খাদ্যের সংকট তৈরী করে খামারীদের পকেট থেকে ঠকায়ে অধিকমূল্য নিয়ে যাচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। সরকারকে এদের ব্যাপারে কঠোর আইনের ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। পাশাপাশি দেশের ভিতরে সরকারী পতিত যে জমি পড়ে আছে তা এলাকা ভিত্তিক খামারীদের সমিতি আকারে ঘাস চাষের প্রকল্পের আওয়াত সহজ শর্তে লীজ দেবার ব্যবস্থা করা যেতে পারলে খামারীরা গোখাদ্য খরচ অনেকটা কমিয়ে আনতে পারবে। খামারীদের ঘাস চাষে উতসাহিত করার জন্য সরকার থেকে প্রনোদনা, এবং আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও পশু খাদ্য আমদানীতে সরকারকে বিনা শুল্কে আমদানীকারকদের সহযোগিতা করা খুবই গুরুত্তপূর্ন।

    যে শিল্প এখন মাত্র উঠতি অবস্থায় সেখানে আয়ের উপর সরকারী সকল ট্যাক্স প্রত্যাহার না করলে খামারীরা ছোট বড় দুগ্ধ শিল্প গড়ে তুলতে উতসাহিত বোধ করবেনা। এখনও একটা ছোট মাঝারী দুগ্ধ খামারে বিদ্যুৎ বিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল হিসাবে গন্য করা যা অত্যান্ত দুক্ষজনক। এটাকে অনতিবিলম্বে কৃষিখাতের আওতায় এনে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহন করা দরকার।

    অধিক শংকর জাতের দুগ্ধবান গাভী প্রস্তুতের জন্য সঠিক এবং কার্যকরী প্রজনন নীতিমালা তৈরী করতে হবে। দেশে এমন একটি ব্রিডকে সামনে আনতে হবে যা দিয়ে আমাদের ডুয়েল পারপাস, যেমন দুধ ও মাংস উভয় সার্থই রক্ষা করবে, দেশের আবহাওয়ার সাথে মানানসই হবে। দুগ্ধ খামারীদের সাথে আলোচনা না করে বাংলাদেশে যে ব্রাহমান জাতের আবির্ভাব হয়েছে তা ছিল সরকারের ভূল সিদ্ধ্যান্ত। এই জাত আমাদের দেশের দুগ্ধ শিল্পকে ধংসের পথে নিয়ে যাবে।

    একটা নতূন খামার করার জন্য ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক খুব অল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদী খামার বান্ধব ঋন সহজে দেবার জন্য সরকারী এবং বেসরকারী ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমুহকে সুনির্দিষ্ট কিছু নীতিমালা করে দিতে হবে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় এই ঋনের ১০% শতাংশ খামারীরা পায়না বরং রাজনৈতিক, এলাকার প্রভাবশালী লোকজন নানান রকম ভূয়া আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ম্যানেজ করে নিয়ে যাচ্ছে এবং এতে করে প্রকৃত খামারীরা বঞ্চিত হচ্ছে। সরকারকে এই খামারীদের ঋন দেবার ব্যাপারে সঠিক যাচাই বাছাই করে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।

    সুনির্দিষ্ট খামার বান্ধব ডেইরী নীতিমালা অত্যান্ত জরুরী। পুরানো নীতিমালাকে ঘষামাজা করে নয়, আমরা চাই সরকার প্রকৃত ডেইরী খামারীদের সাথে বসে তাদের সমস্যা সমূহ পর্যালোচনার নিরিখে সিদ্ধ্যান্ত নেয়া হোক। আমরা সরকারের দায়িত্তপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে দেখি মিল্ক প্রসেসরদের সাথে কথে বলে বাজেট সহ নানাবিধ কর্মকান্ড পরিচলনা করতে। মিল্ক প্রসেসর কখনই একটা দেশের ডেইরী খামারীদের সমস্যা, দুক্ষ, দুর্দশার চিত্র তুলে ধরতে পারবেনা। আমরা চাই সরকার পরবর্তি সিদ্ধ্যান্তগুলো সঠিকভাবে নেবেন অতীতের সকল ভূল থেকে শিক্ষা নিয়ে। আমরা আর পেছনে পড়ে থাকতে চাইনা। পৃথিবীর অন্যান্য দেশ ও জাতির মত আমরাও আমাদের দেশের অবস্থান জানান দিতে চাই, আমরা বলতে চাই শুধু পোষাক শিল্পে নয়, ডেইরীতে আমরা এখন আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন।

     

    ধন্যবাদ

    শাহ এমরান
    জেনারেল সেক্রেটারি
    বাংলাদেশ ডেইরী ফার্মারস এসোসিয়েশন

    Sunday, May 14, 2017

    গবাদিপশুর জলাতঙ্ক লক্ষণ ও করণীয়

  • Share The Gag
  • জলাতংক 

    মানুষসহ সকল গবাদিপশুর ভাইরাসজনিত একটি মারত্মক রোগ। আক্রান্ত পশুর লালাতে এ রোগজীবাণু থাকে এবং আক্রান্ত পশুর কামড়ে সুস্থ পশু বা মানুষ এ রোগ জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়। লক্ষণ দেখা দিলে বুঝতে হবে মৃত্যুই এ রোগের নিশ্চিত পরিনতি। শিয়াল ও বাঁদুর এ রোগজীবাণুর বাহক এবং প্রধানতঃ কুকুর আক্রান্ত প্রাণী। 

    লক্ষণঃ 



    পশু কান সজাগ ও চোখ বড় করে রাখে। মুখ দিয়ে প্রচুর লালা ঝরে। পানি পিপাসা হয়, তবে পান করতে পারে না। ভীষণভাবে অশান্ত হয়ে উঠে। শক্ত রশি ছাড়া আটকে রাখা যায় না। সামনে যা পায় তা’ই কামড়ানোর চেষ্টা করে। আক্রান্ত পশু পরিশেষে নিস্তেজ ও অবশ হয়ে মারা যায়। 

    করণীয়ঃ 

    আক্রান্ত পশুকে মেরে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে। বেওয়ারিশ কুকুর নিধন করতে হবে। গৃহপালিত কুকুরকে নিয়মিত প্রতিষেধক টিকা প্রদান করতে হবে। চিকিৎসা অর্থহীন এবং কোন অবস্থায়ই ঔষধ খাওয়ানোর জন্য পশুর মুখে হাত দেয়া যাবে না। 

    প্রতিশেধকঃ 

    পোষা কুকুর / বিড়ালকে নিয়মিত প্রতিশেধক টিকা দিতে হবে। টিকা দেয়া হয়নি এমন পশুর কামড়ে মানুষ / পশু আক্রানত্ম হলে অনতিবিলম্বে নির্ধারিত মাত্রায় প্রতিশেধক টিকা দিতে হবে।

    ক্ষুরা রোগ লক্ষন ও করণীয়

  • Share The Gag
  • ​ক্ষুরা রোগ 

    ইহা সকল বয়সের গরু-মহিষ ও ছাগল-ভেড়ার ভাইরাসজনিক একটি মারাত্মক অতি ছোঁয়াছে রোগ। 
    লক্ষণঃ 

    শরীরের তাপমাত্রা অতি বৃদ্ধি পায়। জিহ্বা, দাঁতের মাড়ি, সম্পূর্ণ মুখ গহ্বর, পায়ের ক্ষুরের মধ্যভাগে ঘা বা ক্ষত সুষ্টি হয়। ক্ষত সৃষ্টির ফলে মুখ থেকে লালা ঝরে, সাদা ফেনা বের হয়। কখনও বা ওলানে ফোসকার সৃষ্টি হয়। পশু খোঁড়াতে থাকে এবং মুখে ঘা বা ক্ষতের কারণে খেতে কষ্ট হয়। অল্প সময়ে পশু দূর্বল হয়ে পরে। এ রোগে গর্ভবর্তী গাভীর প্রায়ই গর্ভপাত ঘটে। দুধালো গাভীর দুধ উৎপাদন মারাত্মক ভাবে হ্রাস পায়। বয়স্ক গরুর মৃত্যুহার কম হলেও আক্রান্ত বাছুরকে টিকিয়ে রাখা কঠিন। 

    করণীয়ঃ 



    আক্রান্ত পশুকে সুস্থ পশু থেকে আলাদা রাখতে হবে। অসুস্থ পশুর ক্ষত পটাশ বা আইওসান মিশ্রিত পানি দ্বারা ধৌত করে দিতে হবে। ফিটকিরির পানি ১০ গ্রাম (২ চা চামচ) ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে হবে। সোহাগার খৈ মধু মিশিয়ে মুখের ঘায়ে প্রলেপ দিতে হবে। নরম খাবার দিতে হবে। পশুকে শুস্ক মেঝেতে রাখতে হবে কোন অবস্থায়ই কাদা মাটি বা পানিতে রাখা যাবেনা। সুস্থ অবস্থায় গবাদিপশুকে বছরে দুইবার প্রতিষেধক টিকা দিতে হবে। খাওয়ার সোডা ৪০ গ্রাম ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে পায়ের ঘা পরিষ্কার করে সালফানাসাইড পাউডার লাগাতে হবে। সালফানামাইড / টেট্রাসাইক্লিন অথবা উভয় ঔষধ ৫- ৭ দিন ব্যবহার করা যাবে।

    হরমোনের ব্যবহার ছাড়া গরু মোটাতাজাকরণ

  • Share The Gag
  • গ্রোথ হরমোনের ব্যবহার ছাড়া গরু মোটাতাজাকরণ

    কোনোভাবেই ইনজেকশন বা কোনো গ্রোথ হরমোন ব্যবহার করে গবাদিপশু মোটাতাজাকরণের উদ্যোগ নেওয়া যাবে না। এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার ছাড়াও স্বাভাবিক ও জৈব পদ্ধতিতেই গরু মোটাতাজাকরণ সম্ভব। এজন্য দরকার শুধু কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলা। কোনো গ্রোথ হরমোন ব্যবহার ছাড়াই যেভাবে গবাদিপশুর বেশি মাংস নিশ্চিত করা যায়,

    সে সম্পর্কে কিছু পদ্ধতি স্বল্প পরিসরে আলোকপাত করা হল: অধিক মাংস উৎপাদনের জন্য ২ থেকে ৩ বছর বয়সের শীর্ণকায় গরুকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় খাদ্য সরবরাহ করে হৃষ্টপুষ্ট গরুতে রূপান্তরিত করাকে গরু মোটাতাজাকরণ বলে।

    এটির গুরুত্ব হচ্ছে- দারিদ্রতা হ্রাসকরণ, অল্প সময়ে কম পুঁজিতে অধিক মুনাফা অর্জন, অল্প সময়ের মধ্যে লাভসহ মূলধন ফেরত পাওয়া, প্রাণীজ আমিষের ঘাটতি পূরণ, স্বল্পমেয়াদি প্রযুক্তি হওয়ার কারণে পশু মৃত্যুর হার কম, কৃষিকার্য হতে উৎপাদিত উপজাত পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে সহজেই মাংস উৎপাদন করা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে আয় বৃদ্ধি করা প্রভৃতি।

    মোটাতাজাকরণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান পদ্ধতি:মোটাতাজাকরণের সঠিক সময়: বয়সের উপর ভিত্তি করে সাধারণত ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে গরু মোটাতাজাকরণ করা যায়। অনেক সময় ৫ থেকে ৬ মাসও সময় লাগতে পারে। গরু মোটাতাজাকরণের জন্য সুবিধাজনক সময় হচ্ছে বর্ষা এবং শরৎকাল যখন প্রচুর পরিমাণ কাঁচাঘাস পাওয়া যায়। চাহিদার উপর ভিত্তি করে কোরবানী ঈদের ৫ থেকে ৬ মাস পূর্ব থেকে গরুকে উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা দিয়ে মোটাতাজাকরণ লাভজনক।

    স্থান নির্বাচন: গরু রাখার স্থান নির্বাচনে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে: ১. শুষ্ক ও উঁচু জায়গা হতে হবে, যাতে খামার প্রাঙ্গণে পানি না জমে থাকে ২. খোলামেলা ও প্রচুর আলো বাতাসের সুযোগ থাকতে হবে। ৩.খামারে কাঁচামাল সরবরাহ ও উৎপাদিত দ্রব্যাদি বাজারজাতকরণের জন্য যোগাযোগ সুবিধা থাকতে হবে ৪. পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকতে হবে; ৫. সুষ্ঠু পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকতে হবে।

    গরু নির্বাচন: উন্নত দেশের মাংসের গরুর বিশেষ জাত রয়েছে। বিদেশি গরুর জন্য উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। তাই দেশীয় গরু মোটাতাজাকরণ অলাভজনক। ২ থেকে ২.৫ বছরের গরুর শারীরিক বৃদ্ধি ও গঠন মোটাতাজাকরণের জন্য বেশি ভাল। এঁড়ে বাছুরের দৈহিক বৃদ্ধির হার বকনা বাছুরের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। তবে বাছুরের বুক চওড়া ও ভরাট, পেট চ্যাপ্টা ও বুকের সাথে সমান্তরাল, মাথা ছোট ও কপাল প্রশস্ত, চোখ উজ্জ্বল ও ভেজা ভেজা, পা খাটো প্রকৃতির ও হাড়ের জোড়াগুলো স্ফীত, পাজর প্রশস্ত ও বিস্তৃত, শিরদাড়া সোজা হতে হবে।

    গরুর খাদ্যের ধরণ: খাদ্যে মোট খরচের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ভাগ ব্যয় হয়। তাই স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত খাদ্য দ্বারা খরচ কমানো সম্ভব। এজন্য গরু মোটাতাজাকরণের একটি সুষম খাদ্য তালিকা নিচে দেওয়া হল:

    ক) শুকনো খড়: দুই বছরের গরুর জন্য দৈহিক ওজনের শতকরা ৩ ভাগ এবং এর অধিক বয়সের গরুর জন্য শতকরা ২ ভাগ শুকনো খড় ২ থেকে ৩ ইঞ্চি করে কেটে একরাত লালীগুড়/চিটাগুড় মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে প্রতিদিন সরবরাহ করতে হবে। পানি: চিটাগুড় = ২০ : ১।

    খ) কাঁচাঘাস: প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ কেজি তাজা ঘাস বা শস্যজাতীয় তাজা উদ্ভিদের উপজাত দ্রব্য যেমন- নেপিয়ার, পারা, জার্মান, দেশজ মাটি কালাই, খেসারি, দুর্বা ইত্যাদি সরবরাহ করতে হবে।

    গ) দানাদার খাদ্য: প্রতিদিন কমপক্ষে ১ থেকে ২ কেজি দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। নিচে ১০০ কেজি দানাদার খাদ্যে তালিকা দেওয়া হল:১. গম ভাঙা/গমের ভূসি-৪০ কেজি; ২. চালের কুঁড়া-২৩.৫ কেজি; ৩. খেসারি বা যেকোনো ডালের ভূসি-১৫ কেজি: ৪. তিলের খৈল/সরিষার খৈল-২০ কেজি; লবণ-১.৫ কেজি। তাছাড়াও বিভিন্ন রকমের ইউরিয়া মোলাসেস ব্লক ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি হচ্ছে ৩৯ ভাগ চিটাগুড়, ২০ ভাগ গমের ভূসি, ২০ ভাগ ধানের কুঁড়া, ১০ ভাগ ইউরিয়া, ৬ ভাগ চুন ও ৫ ভাগ লবণের মিশ্রণ।

    রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা:

    ক. প্রতিদিন নিয়মিতভাবে পশুর গা ধোয়াতে হবে;

    খ. গো-শালা ও পার্শ্ববর্তী স্থান সর্বদা পরিস্কার রাখতে হবে:

    গ. নিয়মিতভাবে গরুকে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে;

    ঘ. বাসস্থান সর্বদা পরিস্কার রাখতে হবে।

    ঙ. স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পরিমিত পরিমাণে পানি ও সুষম খাদ্য প্রদান করতে হবে।

    চ. রোগাক্রান্ত পশুকে অবশ্যই পৃথক করে রাখতে হবে।

    ছ. খাবার পাত্র পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

    জ. খামারের সার্বিক জৈব নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে।

    ঝ. পশু জটিল রোগে আক্রান্ত হলে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

    বাজারজাতকরণ: মোটাতাজাকরণ গরু লাভজনকভাবে সঠিক সময়ে ভাল মূল্যে বাজারজাতকরণের ব্যবস্থাগ্রহণ হচ্ছে আরেকটি উল্লেখ্যযোগ্য বিষয়। বাংলাদেশে মাংসের জন্য বিক্রয়যোগ্য গবাদিপশুর বাজারমূল্যেও মৌসুমভিত্তিক হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। কাজেই একজন প্রতিপালককে গরু মোটাতাজাকরণের জন্য অবশ্যই গরুর ক্রয়মূল্য যখন কম থাকে তখন গরু ক্রয় করে বিক্রয়মূল্যের উর্ধ্বগতির সময়ে বিক্রয়ের ব্যবস্থা নিতে হবে। সাধারণত কোরবানীর ঈদের সময়ে গরুর মূল্য অত্যাধিক থাকে এবং এর পরের মাসেই বাজার দর হ্রাস পায়। তাই এখন গরু মোটাতাজাকরণের উপযুক্ত সময় এবং কোরবানীর সময় তা বিক্রি করে দেওয়া ভাল।

    Thursday, November 10, 2016

    গবাদি পশু-পাখির শীতকালীন রোগবালাই ও প্রতিকার

  • Share The Gag
  • আসছে শীতকাল। এ সময় গরু ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ অন্যান্য গবাদিপশু-পাখির নানান রকমের রোগবালাই হয়ে থাকে। গবাদিপশু পাখির শীতকালীন কিছু কমন রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. প্রিয় মোহন দাস।



    গামবোরো রোগ


    গামবোরো একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এ রোগে বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে ব্রয়লার, কক, সোনালী ও লেয়ার মুরগি মারা যায়। তাই এ রোগের মুরগির মৃত্যুর পাশাপাশি আক্রান্ত ফ্লক ইম্যুনোসাপ্রেশনে ভোগে। আর তাই এ রোগকে মুরগির এইডস বলা হয়। আর এ ধরনের ফ্লক থেকে কখনই আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যায় না।


    রোগের লক্ষণ


    গামবোরো রোগের কিছু কমন লক্ষণ হলো পানি না খাওয়া, খাদ্য না খাওয়া, পাতলা পায়খানা হওয়া ইত্যাদি।


    চিকিৎসা ও প্রতিকার


    এন্টিবায়োটিক হিসেবে সিপ্রোফ্লক্সাসিন ১০% ব্যবহার করা যায়। এটি রক্তে তাড়াতাড়ি মিশে আর শরীরে থাকেও দীর্ঘক্ষণ। ফলে দ্রুত কাজ শুরু হয়ে যায়। ১ লিটার পানিতে ১ মিলি পরপর ৩-৫ দিন সবসময়ের জন্য পানিতে দিতে হবে। যে কোনো ভালো অর্গানিক এসিড কোম্পানি নির্দেশিত মাত্রায় ব্যবহার করা যেতে পারে। অর্গানিক অ্যাসিডগুলো কিডনি হতে ইউরেট দূর করতে সহায়তা করে। এ ক্ষেত্রে ভিনেগার ব্যবহার করা যায়।


    গলাফুলা রোগ


    গলাফুলা (hemorrhagic septicemia) এশিয়া, আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপের কিছু দেশ ও মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এটি বেশি পরিলক্ষিত হয়। গলাফুলা একটি তীব্র প্রকৃতির রোগ যা গরু এবং মহিষকে আক্রান্ত করে। এটি একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যা Pasteurella multocida দ্বারা সংঘটিত হয়। এ রোগে মৃত্যুর হার খুবই বেশি।


    পশুর শরীরে স্বাভাবিক অবস্থায় এ রোগের জীবাণু বিদ্যমান থাকে। কোনো কারণে যদি পশু ধকল যেমন ঠাণ্ডা, অধিক গরম, ভ্রমণজনিত দুর্বলতা ইত্যাদির সম্মুখীন হয় তখনই এ রোগ বেশি দেখা দেয়। গলাফুলা রোগের প্রচলিত নাম ব্যাংগা, ঘটু, গলগটু, গলবেরা ইত্যাদি।


    রোগের লক্ষণ


    এ রোগ অতি তীব্র ও তীব্র এ দুইভাবে হতে পারে।


    অতি তীব্র প্রকৃতির রোগে হঠাৎ জ্বর হয়ে মুখ ও নাক দিয়ে তরল পদার্থ বের হতে থাকে। পশু অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে ও খাওয়া বন্ধ করে দেয় এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু ঘটে। তীব্র প্রকৃতির রোগে আক্রান্ত পশু ২৪ ঘন্টার অধিক বেঁচে থাকে। এ সময় পশুর এডিমা দেখা দেয় যা প্রথমে গলার নিচে, পরে চোয়াল, তলপেট এবং নাক, মুখ, মাথা ও কানের অংশে বিস্তৃত হয়।


    গলায় স্ফীতি থাকলে গলার ভেতর ঘড় ঘড় শব্দ হয়, যা অনেক সময় দূর থেকে শোনা যায়। প্রদাহযুক্ত ফোলা স্থানে ব্যথা থাকে এবং হাত দিলে গরম ও শক্ত অনুভূত হয়। মুচ দিয়ে ছিদ্র করলে উক্ত স্থান হতে হলুদ বর্ণের তরল পদার্থ বের হয়ে আসে। অনেক সময় কাশি হয় এবং চোখে পিচুটি দেখা যায়। নাক দিয়ে ঘন সাদা শ্লেষ্মা পড়তে দেখা যায়। সাধারণত লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে আক্রান্ত পশু মারা যায়।


    চিকিৎসা ও প্রতিকার


    আক্রান্ত পশুর চিকিৎসায় বিলম্ব হলে সুফল পাওয়া যাবে না। তাই রোগের উপসর্গ দেখা দেয়ার সাথে সাথে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। এ রোগের চিকিৎসায় Ampicillin, Tetracycline, Erythromycin, Sulphonamide জাতীয় ইনজেকশন গভীর মাংসে দিয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়।


    এ রোগ উচ্ছেদ করা অসম্ভব কারণ এ রোগের জীবাণু স্বাভাবিক অবস্থায় পশুর দেহে থাকে। তবে নিম্নোক্ত ব্যবস্থা অবলম্বন করে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়।




    • রোগাক্রান্ত পশুকে সুস্থ পশু থেকে আলাদা করে সুস্থ পশুকে টিকা দানের ব্যবস্থা করতে হবে।






    • মড়কের সময় পশুর চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।






    • হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পশুর পরিচর্যার ব্যবস্থা করতে হবে।






    • টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।




    ক্ষুরারোগ


    এটি ভভইরাসজনিত একটি মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি। দুই ক্ষুরওয়ালা সব প্রাণীই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তবে আমাদের দেশে সাধারণত গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়া এ রোগের শিকার হয় বেশি। বাতাসের সাহায্যে এ রোগের ভাইরাস দূরবর্তী এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।


    রোগের লক্ষণ




    • প্রথম অবস্থায় শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।






    • মুখ দিয়ে লালা ঝরে এবং লালা ফেনার মতো হয়। পশু খেতে পারে না এবং ওজন অনেক কমে যায়।






    • দুগ্ধবতী পশুতে দুধ অনেক কমে যায়। বাছুরের ক্ষেত্রে লক্ষণ দেখা দেয়ার আগেই বাছুর মারা যেতে পারে।




    চিকিৎসা ও প্রতিকার


    আক্রান্ত প্রাণীর মুখ ও পায়ের ঘা পটাশিয়াম পারম্যাংগানেট মেশানো পানি বা খাওয়ার সোডা মেশানো পানি দিয়ে দিনে ৩-৪ বার ধুয়ে দিতে হবে। ওষুধ মেশানো পানি দিয়ে ক্ষতস্থান ধোয়ার পরে সালফা নিলামাইড বা এ ধরনের পাউডার লাগাতে হবে। চার ভাগ নারকেল তেলের সাথে ১ ভাগ তারপিন তেল মিশিয়ে লাগালে ক্ষতস্থানে মাছি পড়বে না।


    গরুর বাদলা রোগ


    বাদলা রোগ গরুর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ। ক্লস্ট্রিডিয়াম শোভিয়াই নামক ব্যাকটিরিয়া জীবাণু এ রোগের প্রধান কারণ-


    রোগের লক্ষণ




    • তীব্র রোগে প্রথমে জ্বর হয় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে পেছনের অংশে মাংসপেশি ফুলে যায়।






    • ফোলা জায়গায় চাপ দিলে পচ পচ শব্দ হয়।






    • আক্রান্ত অংশ কালচে হয়ে যায় ও পচন ধরে।






    • রোগাক্রান্ত প্রাণী দুর্বল হয়ে মারা যায়।




    চিকিৎসা ও প্রতিকার


    অ্যান্টিব্লাকলেগ সিরাম প্রতিটি আক্রান্ত পশুর শিরা বা ত্বকের নিচে ১০০-২০০ মিলিলিটার ইনজেকশন দিতে হবে (যদি পাওয়া যায়)  অ্যান্টিহিসটামিনিক জাতীয় ইনজেকশন যেমন- হিস্টাভেট, ডিলারজেন, ফ্লুগান ইত্যাদি দৈনিক ৬ সি.সি. করে ৩ দিন মাংসে ইনজেকশন দিতে হবে। প্রয়োজনে আক্রান্ত ক্ষতস্থান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পরিষ্কার করে টিংচার আয়োডিন গজ প্রয়োগ করতে হবে।
    আক্রান্ত পশুকে সুস্থ পশু থেকে আলাদা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। মৃত পশুকে মাটির নিচে কলিচুন সহযোগে পুঁতে ফেলতে হবে। জীবাণুনাশক দিয়ে গোয়ালঘর পরিস্কার করতে হবে।


    ফ্যাসিওলিয়াসিস রোগ


    গবাদিপশুর যকৃতে ফ্যাসিওলা জাইগানটিকা ও ফ্যাসিওলা হেপাটিকা নামক পাতাকৃমি দ্বারা সৃষ্ট পশুর রোগকে ফ্যাসিওলিওসিস বলে। রক্তস্বল্পতা, ম্যান্ডিবুলের নিচে পানি জমা, যা দেখতে বোতলের মতো, ডায়রিয়া এবং ধীরে ধীরে কৃশকায় অবস্থায় পরিণত হওয়াই এ রোগের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশে প্রায় ২১ ভাগ গরুতে এবং সিলেট অঞ্চলে প্রায় ২১.৫৪ ভাগ ছাগলে ফ্যাসিওলা জাইগানটিকা পাতাকৃমিতে হয়।


    রোগের লক্ষণ




    • আক্রান্ত পশুর যকৃতে অপ্রাপ্তবয়স্ক কৃমির মাইগ্রেশনের ফলে যকৃত কলা ধ্বংস হয় এবং যকৃতিতে প্রোটিন সংশ্লেষণ হ্রাস পায়। এতে পশুর হাইপোপ্রিটিনিমিয়া তথা বটল জ্বর হয়।






    • বদহজম ও ডায়রিয়া দেখা দেয়। ক্ষুধামন্দা ও দুর্বলতা পরিলক্ষিত হয়। চোখের কনজাংটিভা ফ্যাকাশে হয়ে যায়।






    • তীব্র যকৃত প্রদাহ এবং রক্তক্ষরণের ফলে লক্ষণ প্রকাশের আগেই পশুর হঠাৎ মৃত্যু ঘটে।




    চিকিৎসা ও প্রতিকার


    ট্রাইক্লেবেন্ডাজল বোলাস প্রতি কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১০ থেকে ১৫ মিলিগ্রাম করে আক্রান্ত পশুকে খাওয়ালে ৯০ থেকে ১০০ ভাগ সুফল পাওয়া যায়। নাইট্রোক্সিলিন ইনজেকশন প্রতি ৫০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১.৫ মিলিলিটার হিসেবে গরু, মহিষ ও ছাগলের ত্বকের নিচে প্রয়োগ করে কার্যকরি ফল পাওয়া যায়। সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে দুর্বলতা ও রক্তস্বল্পতার জন্য ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স ইনজেকশন দেয়া এবং মিনারেল মিকচার খাওয়ানো ভালো। পশুকে সন্দেহজনক স্থান যেমন নিচু জায়গা বা ড্রেনের পাশে ঘাস খাওয়ানো থেকে বিরত রাখতে হবে।


    তড়কা রোগ


    তড়কা গবাদিপশুর একটি মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ। গবাদিপশু থেকে এ রোগে মানুষেও ছাড়ায়। এ রোগের জীবাণু দ্বারা সংক্রামিত খাদ্য খেয়ে বিশেষ করে নদী-নালার পানি ও জলাবদ্ধ জায়গার ঘাস খেয়ে গবাদিপশু অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত হয়।


    রোগের লক্ষণ




    • দেহের লোম খাড়া হয়। দেহের তাপমাত্রা ১০৬-১০৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়।






    • নাক, মুখ ও মলদ্বার দিয়ে রক্তক্ষরণ হতে পারে। পাতলা ও কালো পায়খানা হয়।






    • লক্ষণ প্রকাশের ১-৩ দিনের মধ্যে পশু ঢলে পড়ে মারা যায়।




    চিকিৎসা ও প্রতিরোধ


    পেনিসিলিন/বাইপেন ভেট/জেনাসিন ভেট/ এম্পিসিন ভেট ইনজেকশন দেয়া যেতে পারে। এ ছাড়াও স্ট্রেপটোমাইসিন/এন্টিহিস্টাভেট ইনজেকশন দেয়া যেতে পারে। সুস্থ পশুকে সর্বদা পৃথক রাখতে হবে। মৃতপশুর মল, রক্ত ও ম্রৃতদেহ মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হবে।


    মো. আব্দুর রহমান*




    * শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ-২২০২,

    Thursday, April 28, 2016

    ক্ষুরা রোগ

  • Share The Gag
















  • ইহা সকল বয়সের গরু-মহিষ ও ছাগল-ভেড়ার ভাইরাসজনিক একটি মারাত্মক অতি ছোঁয়াছে রোগ।








    লক্ষণঃ



















    শরীরের তাপমাত্রা অতি বৃদ্ধি পায়। জিহ্বা, দাঁতের মাড়ি, সম্পূর্ণ মুখ গহ্বর, পায়ের ক্ষুরের মধ্যভাগে ঘা বা ক্ষত সুষ্টি হয়। ক্ষত সৃষ্টির ফলে মুখ থেকে লালা ঝরে, সাদা ফেনা বের হয়। কখনও বা ওলানে ফোসকার সৃষ্টি হয়। পশু খোঁড়াতে থাকে এবং মুখে ঘা বা ক্ষতের কারণে খেতে কষ্ট হয়। অল্প সময়ে পশু দূর্বল হয়ে পরে। এ রোগে গর্ভবর্তী গাভীর প্রায়ই গর্ভপাত ঘটে। দুধালো গাভীর দুধ উৎপাদন মারাত্মক ভাবে হ্রাস পায়। বয়স্ক গরুর মৃত্যুহার কম হলেও আক্রান্ত বাছুরকে টিকিয়ে রাখা কঠিন।
    করণীয়ঃ
    আক্রান্ত পশুকে সুস্থ পশু থেকে আলাদা রাখতে হবে। অসুস্থ পশুর ক্ষত পটাশ বা আইওসান মিশ্রিত পানি দ্বারা ধৌত করে দিতে হবে। ফিটকিরির পানি ১০ গ্রাম (২ চা চামচ) ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে হবে। সোহাগার খৈ মধু মিশিয়ে মুখের ঘায়ে প্রলেপ দিতে হবে। নরম খাবার দিতে হবে। পশুকে শুস্ক মেঝেতে রাখতে হবে কোন অবস্থায়ই কাদা মাটি বা পানিতে রাখা যাবেনা। সুস্থ অবস্থায় গবাদিপশুকে বছরে দুইবার প্রতিষেধক টিকা দিতে হবে। খাওয়ার সোডা ৪০ গ্রাম ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে পায়ের ঘা পরিষ্কার করে সালফানাসাইড পাউডার লাগাতে হবে। সালফানামাইড / টেট্রাসাইক্লিন অথবা উভয় ঔষধ ৫- ৭ দিন ব্যবহার করা যাবে।



    Friday, April 22, 2016

    গবাদিপশু হাঁস মুরগির খাবারে জীবনঘাতী অ্যান্টিবায়োটিক

  • Share The Gag
  • মানুষের জন্য তৈরি অ্যান্টিবায়োটিকের অতিমাত্রায় যথেচ্ছ ব্যবহার চলছে হাঁস-মুরগি, মাছ ও গরু-ছাগলের খাবার উৎপাদনে। এতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধক জীবাণু জন্মায় প্রাণীর শরীরে। এই অ্যান্টিবায়োটিক মাংসের মাধ্যমে আবার ঢুকছে মানুষের শরীরে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য জীবন ঘাতক হিসেবে বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের (এনসিআরপি) এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাছ-মাংস বা অন্য খাদ্যের মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করা অ্যান্টিবায়োটিকের বিপজ্জনক প্রভাব পড়ছে কিডনি ও লিভারের ওপর। আবার অ্যান্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতাও বড় বিপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক রোগজীবাণু মেরে ফেলে। তবে কোনো কারণে শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিসট্যান্স বা প্রতিরোধী জীবাণু তৈরি হলে তা হবে নীরব ঘাতক। অ্যান্টিবায়োটিক যুক্ত খাবার গ্রহণকারী প্রাণীর মাংস খেলে এমন অবস্থা তৈরি হতে পারে। তখন ছোটখাটো রোগ নিরাময়েও অ্যান্টিবায়োটিক কোনো কাজ দেবে না। তিনি বলেন, বিশ্বের কোথাও প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনো অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ বেচা বা কেনা সম্ভব নয়, শুধু বাংলাদেশেই এটা সম্ভব হচ্ছে। যে কেউ যখন-তখন ওষুধের দোকানে গিয়ে যে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক কিনতে পারছেন প্রেসক্রিপশন ছাড়াই। আর এ কারণেই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি জরিপের তথ্য উল্লেখ করে এনসিআরপির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর সারা বিশ্বে ৬৩,২০০ টন অ্যান্টিবায়োটিক প্রাণিদেহে ব্যবহৃত হয়েছে। এভাবে চললে ২০৩০ সালে এটি ১ লাখ ৫,৬০০ টনে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ২০ লাখ লোক অ্যান্টিবায়োটিক রেজিসট্যান্স (প্রতিরোধী) সমস্যায় আক্রান্ত হয়। তাদের মধ্যে প্রায় ২৩ হাজার লোক মারা যান। এতে আরও বলা হয়, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিসট্যান্সের সংকটটি এখনই থামানো না গেলে মানবসভ্যতা অদূর ভবিষ্যতে ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। কোনো জটিল সংক্রমণ নয়, বরং অতি সাধারণ সংক্রমণেই মানুষ মারা যেতে পারে। কারণ কোনো অ্যান্টিবায়োটিকই তখন কার্যকর থাকবে না। তিনি বলেন, সমস্যা সমাধানে পশু, হাঁস-মুরগি ও মাছ চাষের সময় রোগ প্রতিরোধমূলক ও মোটাতাজাকরণ কাজে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। রোগাক্রান্ত প্রাণীর চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হলে তা যেন প্রাণীর জন্যই তৈরি অ্যান্টিবায়োটিক হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

    এদিকে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ও এর কার্যকারিতা নিয়ে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) উদ্যোগে একটি সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ঢাকার ওপর পরিচালিত ওই সমীক্ষায় বলা হয়, ৫৫.৭০ শতাংশ মানুষের দেহে অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর। এর অর্থ হচ্ছে ঢাকা মহানগরে যেসব রোগজীবাণুর সংক্রমণ ঘটে তার বিরুদ্ধে ৫৫.৭০ শতাংশ অ্যান্টিবায়োটিক কোনো কাজ করে না। পবার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে মৎস্য খামারে ১০ ধরনের ও ৫০ শ্রেণির রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব রাসায়নিকের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক, কীটনাশক ও গ্রোথ এজেন্ট। প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক মানুষের কিডনি, লিভার ও হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি করছে। এ ছাড়া বিশ্বে ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকের ৫০ শতাংশ কৃষি খাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বে কৃষি খাতে ৬৩ হাজার ২০০ টন অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহৃত হচ্ছে। এমন অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল রেজিসট্যান্সের ফলে বিশ্বে ২০৫০ সাল নাগাদ বছরে প্রায় ১ কোটি মানুষ মারা যাবেন বলে ধারণা করা হয়। এনসিআরপির প্রতিবেদনে বলা হয়, খাবারের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিকের অনুপ্রবেশ ঘটছে তিনভাবে। প্রথমত, মাংস, দুধ ও মাছের খামারিরা তাদের অসুস্থ পশু ও মাছের চিকিৎসা করার জন্য। দ্বিতীয়ত, ফিড ম্যানুফ্যাকচারার অ্যান্টিবায়োটিক মেশাচ্ছে। আর তৃতীয়ত, পরিবেশ দূষণের কারণে খাবারের পানিতে অতিসামান্য অ্যান্টিবায়োটিক মিশে যাচ্ছে। কিন্তু প্রাণিচিকিৎসক মানুষের চিকিৎসায় নির্দেশিত অ্যান্টিবায়োটিকের অনেকগুলোই অতি মুনাফার লোভে নিয়ম-বিরুদ্ধভাবে প্রাণিচিকিৎসায় ব্যবহার করছেন। এসব অ্যান্টিবায়োটিক রোগ সারার বহু পরও প্রাণীর শরীরে থেকে যায়। ফলে এসব পশুর মাংস বা দুধ কিংবা মাছ খেলে মানব শরীরে প্রবেশ করে প্রতিরোধ সৃষ্টি করে। ফলে কোনো মানুষ জীবাণু সংক্রমণে অসুস্থ হওয়ার পর সেই অ্যান্টিবায়োটিক খেলেও কোনো কাজ হয় না। এটি এখন বৈশ্বিক সমস্যায় রূপ নিয়েছে। বিজ্ঞানীরা এ থেকে পরিত্রাণের পথ খুঁজছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘ চাইছে পশু, হাঁস-মুরগি ও মাছ চাষের সময়ে ‘রোগ প্রতিরোধমূলক’ ও ‘মোটাতাজার’ কাজে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ হোক বলে গবেষণায় আহ্বান জানানো হয়।

    কনজিউমার্স ইন্টারন্যাশনাল এক হিসেবে জানিয়েছে, জীবাণুর অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের কারণে এখন যে হারে মানুষ মারা যাচ্ছেন, তা কমানো না গেলে ২০৫০ সালে এশিয়া মহাদেশে ৪৭ লাখ ৩০ হাজার, আফ্রিকাতে ৪১ লাখ ৫০ হাজার, দক্ষিণ আমেরিকাতে ৩ লাখ ৯২ হাজার, ইউরোপে ৩ লাখ ৯০ হাজার, উত্তর আমেরিকাতে ৩ লাখ ১৭ হাজার এবং ওসেনিয়াতে ২২ হাজার মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। তাদের মধ্যে আবার বেশির ভাগই শিশু, গর্ভবতী মহিলা ও বৃদ্ধ।

    অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের মতে, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মদের স্বার্থে সরকার যেন এ বিষয়ে কঠোর আইন প্রণয়ন এবং আইন ভঙ্গকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে। তিনি বলেন, গাজীপুর জেলার এক খামারি জানিয়েছিলেন, আগে তারা এক হাজার মুরগির জন্য ১৫-১৮ হাজার টাকার ওষুধ কিনতেন। কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত মুরগি পালনের প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর এখন লাগে মাত্র ৪-৫ হাজার টাকা, উৎপাদনও হয় বেশি।

    Saturday, February 13, 2016

    গবাদী পশু প্রাণির জাত পরিচিতি

  • Share The Gag



  • জাতঃ ইহা একটি বিশেষ গোষ্ঠি, যাহার সদস্য সদস্যাবৃন্দ একই চারিত্রিক বৈশিষ্টের অধিকারী এবং ঐ চারিত্রিক বৈশিষ্টগুলি বংশ পরম্পরায় সমভাবে বিদ্যমান।

    গবাদি পশুর জাতকে সাধারণতঃ ৩টি উপায়ে বিভক্ত করা যায়। যথাঃ


    • উৎপত্তি ও আকার অনুসারে

    • ব্যবহার বা কাজ দ্বারা

    • জাতির মৌলিক্ত বা বিশুদ্ধতার পরিমান দ্বারা


    কাজ বা ব্যবহার অনুযায়ী জাত বিভাগঃ


    • দুধাল জাতঃ জার্সি, হলেষ্টিন ফ্রিজিয়ান, গোয়েনারসি, শাহীওয়াল ইত্যাদি

    • মাংশাল জাতঃ হারফোর্ড, এবার্ডিন, এ্যাংগাস, শর্টহর্ন ইত্যাদি

    • শ্রমশীল জাতঃ ধান্নী, এ্যাংগোলা ইত্যাদি

    • বিবিধঃ সিন্ধি, হারিয়ানা, থারপারকার


    মৌলিকত্ব বা বিশুদ্ধতার পরিমিতি অনুসারে জাত বিভাগঃ


    • মৌলিক বা বিশুদ্ধ জাতঃ এই জাতভূক্ত গাভীকে অবশ্যই ইহার পূর্ব পুরুষদের সমস্ত শাখার মাধ্যমে সেই জাতির অধদি পুরুষদের সংগে সম্পর্ক রাখতে হবে। যেমন-শাহীওয়াল, জার্সি ইত্যাদি।

    • উন্নীত জাত (গ্রেড): কোন নির্দ্দিষ্ট জাতের ষাঁড়ের সাথে অনুন্নত গাভীর মধ্যে ধারাবাহিক প্রজননের ফলে সৃষ্ট উন্নত জাত। যেমন-শাহীওয়াল, জার্সি ইত্যাদি।

    • দো-আঁশলাঃ দুই মৌলিক জাতের গাভী ও ষাঁড়ের মিলনে বা প্রজননে সৃষ্ট নূতন জাত। যেমন-সিন্ধি শাহীওয়াল দো-আঁশলাঃ

    • গোত্র বিহীনঃ সাদৃস্য বিহীন। যেমন-দেশী গাভী।


    জার্সি:

    উৎপত্তি : জার্সি, ওয়েনসি এ্যাল্ডার্লি ও সার্ক চ্যানেল দ্বীপ সমূহ জার্সি গাভীর উৎপত্তিস্থান।

    সাধারন বৈশিষ্ট্য: বিদেশী দুধাল গাভীর মধ্যে জার্সির আকার সবচেয়ে ক্ষুদ্রাকার। গাভীর ওজন ৪০০-৪৫০ কেজি এবং ষাঁড়েন ওজন ৬০০-৮৫০ কেজি। ওলান বেশ বড়। মাথা ও ঘাড় বেশ মানানসই । শিরদাঁড়া সোজা এবং চুট বিহীন। শরীর মেদহীন। গায়ের রং লাল বা মেহগিনি রং বিশিষ্ট। জিহবা ও লেজ কালো। সদ্য প্রসূত বাচ্চা দৃর্বল ও ছোট হয়। তাই বাচ্চা পালন কষ্টসাধ্য। সদ্য প্রসূত বাচ্চার ওজন ২২-৩৩ কেজি। জার্সি গাভী অপেক্ষাকৃত অল্প সময়ে বয়প্রাপ্তত হয় এবং অনেক বয়স পর্যন্ত দূগ্ধ প্রদানে সক্ষম।

    উপকারিতাঃ দূগ্ধ উৎপাদন ও তার মান প্রশংসনীয়। বাৎসরিক দুগ্ধ উৎপাদন ২৭৫০-৪০০০ লিটার। দুধে চর্বির পরিমান  শতকরা ৫ ভাগ।

    হলেস্টিন ফ্রিজিয়ানঃ

    উৎপত্তি: হল্যান্ডের ফ্রিজিয়ান ফ্রিজিল্যান্ড প্রদেশ।

    সাধারন বৈশিষ্টঃ দুধাল জাতের মধ্যে হলেষ্টিন ফ্রিজিয়ান এর আকার সর্ব বৃহৎ। গাভীর গড় ওজন ৬৭৫ কেজি এবং ষাঁড়ের ওজন ১০০০ কেজি। শরীরের মধ্য ও পিছন ভাগ ভারী ও ওলান বেশ বড়। পিছনের পা বেশ সোজা। গাভীগুলি বেশ শান্ত কিন্তু ষাঁড়গুলি প্রায় বদ মেজাজী। গায়ের  রং কালো-সাদায় চিত্রা এবং যে কোন প্রকারের প্রাধান্য থাকতে পারে। জন্মের সময়  বাচ্চার গড় ওজন ৪৫ কেজি। হলেস্টিন ফ্রিজিয়নের বয়োপ্রাপ্তি দেরীতে ঘটে।

    উপকারিতাঃ বাৎসরিক  দুগ্ধ উৎপাদন ক্ষমতা ৪৫০০-৯০০০ কেজি। চর্বির পরিমান শতকরা ৩.৫ ভাগ। দূগ্ধবতী গাভীর মধ্যে সর্বাপেক্ষা বেশী ও মাংশ উৎপাদনকারী জাত।

    শাহীওয়ালঃ

    উৎপত্তিঃ পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মন্টগোমারী জেলা।

    সাধারন বৈশিষ্টঃ শাহীওয়াল গাভী আকারে কিছুটা বড়। গাভীর ওজন ৪৫০-৫৫০ কেজি এবং ষাঁড়ের ওজন ৬০০-১০০০ কেজি। জন্মকালে বাছুরের ওজন ২২-২৮ কেজি। মাথা প্রশস্ত ও শিং ছোট কিন্তু মোটা। চূট ও গলকম্বল বেশ বড়। ওলান বড় এবং ঝুলন্ত। গায়ের রং সাধারনতঃ হালকা লাল বা হালকা হলুদ। কোন কোন গাভীর শরীরের বিভিন্ন অংশে সাদা রং দেখা যায়। বলদ ও ষাঁড় ধীর ও অলস।

    উপকারিতাঃ শাহীওয়াল এই উপমহাদেশের দুধাল গাভী রূপে সুপরিচিত। বাৎসরিক দুধ উৎপাদন ৩০০০-৪০০০ লিটার। চর্বি পরিমান ৪.৫%।

    হারিয়ানাঃ

    উৎপত্তিঃ ভারতের রটক, হীসার, গরগাঁও ও দিলস্নী।

    সাধারন বৈশিষ্টঃ হারিয়ানা দেখলেই মনে হয় অত্যন্ত পরিশ্রমী ও শক্তিশালী। গাভীর ওজন ৪০০ - ৫০০ কেজি এবং ষাঁড়ের ওজন ৬০০ - ১১০০ কেজি। জন্মকালে বাছুরের ওজন ২২ - ২৫ কেজি। মাথা বেশ লম্বা এবং অপেক্ষাকৃত সরু। শিং লম্বা, চিকন ও বাঁকানো। দেহের রং সাদাটে বা হালকা ধূসর।

    উপকারিতা: হারিয়ানা দুধ উৎপাদন ও লাংগল বা গাড়ী টানার জন্য উপযোগী। বাৎসরিক দুধ উৎপাদন ১৫০০ লিটার। দুধে চর্বির পরিমান ৫%। বকনা সাধারণত: ৩ - ৪ বৎসরের পূর্বে গাভী হয় না।

    লাল সিন্ধি



    উৎপত্তি: পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের করাচী, লাসবেলা ও হায়দারাবাদ।

    প্রাপ্তি স্থান: পাকিস্তানের সর্বত্রই পাওয়া যায়। পৃথিবীর  অনেক দেশে যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ভারত, সিংহল, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ড।

    সাধারণ বৈশিষ্ট: গায়ের রং লাল বলে নাম লাল সিন্ধি। গাভীর ওজন ৩৫০ - ৪০০ কেজি ও ষাড়ের ওজন ৪২৫ - ৫০০ কেজি। কপাল প্রশস্ত ও উন্নত, কানের আকার মাঝারী, নীচের দিকে ঝুলানো, ওলান বেশ বড়। শিং খাটো ও মোটা। ঘাড় খাটো ও মোটা। নাভী বড় ও ঝুলানো, বুক প্রশস্ত। গায়ের রং সাধারণত: গাঢ় লাল, কিন্তু কালচে হলুদ থেকে গাঢ় মেটে রং এর হতে পারে। এই জাতের গাভী ৩৫০ দিন দুধ দেয়। দৈনিক উৎপাদন প্রায় ৮-১০লিটার। জন্মকালে বাচ্চার ওজন ২১ - ২৪ কেজি।

    উপকারীতা: বাৎসরিক গড় দূগ্ধ উৎপাদন প্রায় ২০০০  লিটার। দুধে চর্বির পরিমান ৫% এর উপরে। এই জাত আমাদের দেশী আবহাওয়ায় মোটামুটি অভিযোজিত। বলদ বা ষাঁড় দ্বারা গাড়ীটানা ও হালচাষ ভাল ভাবে করা যায়। বকনা তিন বছর বয়সেই গাভী হয়ে থাকে।

    লাল চাঁটগেঁয়ে সিন্ধি

    উৎপত্তি: বাংলাদেশের চট্রগ্রাম ও পার্বত্য চট্রগাম।

    সাধারণ বৈশিষ্ট : দেহের আকার ছোট। গায়ের রং হাল্কা লাল। শিং ছোট, পাতলা ও ভিতরের দিকে আংশিক বাঁকানো। গলকম্ব ও মাথা ছোট। কান খাড়া। গাভীর ওজন ২৫০ - ৩০০ কেজি এবং ষাঁড় ৩৫০ - ৪০০ কেজি। ওলান বেশ সুঠাম, বাঁট অপেক্ষাকৃত ছোট। লাল চাঁটগেঁয়ে সিন্ধি বাংলাদেশের একমাত্র বিশুদ্ধ জাত হিসাবে পরিচিত।

    ছাগলের জাত

    গৃহপালিত পশুর মধ্যে ছাগল অত্যন্ত পরিচিত প্রাণী । এদের স্বাভাবিক জীবনকাল ৮-১০ বৎসর । পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রায় ৩১৩ জাতের ছাগল  পাওয়া যায় । ছাগল জাত ভেদে ১-৬ টি পর্যন্ত বাচচা প্রসব করে থাকে । আকৃতি ও আচরনে অন্যান্য পশুর মত এদের মধ্যেও ভিন্নতা লক্ষণীয় । ছাগলের দুধ, মাংস, লোম ও চামড়ার অর্থকরী সম্পদ। ছাগল পালন করতে হলে ছাগলের বিভিন্ন জাত সমর্পকে জানা প্রয়োজন । পৃথিবীতে বিভিন্ন জাতের ছাগল রয়েছে তার মধ্যে (১) ব্ল্যাক বেংগল (২) যমুনাপারি (৩) বীটল ইত্যাদি পাওয়া যায়।

    ১। ব্ল্যাক বেংগলঃ


    এ জাতের ছাগল বাংলাদেশর সর্বত্রই পাওয়া যায় এবং এটাই দেশের একমাত্র ছাগলের জাত। উলে­খ্য যে, বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পশ্চিম বাংলা, আসাম ও অন্যান্য রাজ্যেও এই জাতের ছাগল পাওয়া যায়। গায়ের রং অধিকাংশ ক্ষেত্রে কালো। তবে সাদা-কালো, খয়েরী-সাদা ইত্যাদিও হতে পারে। এরা সাধারনত: আকারে ছোট হয়। তবে মাঝে মাধ্যে এ জাতের বড় ছাগলও দেখা যায়। আমাদের দেশে এদের গড় ওজন যথাক্রমে ৯ থেকে ১৩ কেজি। পূর্ণ বয়স্ক বড় আকারের ছাগল এবং ছাগীর গড়  ওজন যথাক্রমে ৩২ ও ২০ কেজি । ঘাড় এবং পেছনের অংশ উচ্চতায় প্রায় সমান। বুক প্রশস্ত। পা গুলো ছোট ছোট। ছাগ এবং ছাগীর ছোট ছোট সরু এবং উর্দ্ধমুখী শিং আছে। কিন্তু পাঁঠার শিং তুলনামূলক ভাবে বড়, মোটা এবং পিছনের দিকে বাঁকানো। কানের আকার ছোট বা মাঝারী, চোখা এবং শরীরের সাথে সমান্তরাল এবং উর্দ্ধমুখী। গায়ের লোম ছোট ও মসৃন। এরা এক সংগে একাধিক বাচ্চা প্রসব করে। দ্রুত প্রজননশীলতা, সুস্বাদু মাংশ এবং উচ্চমান সম্পন্ন চামড়ার জন্য ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পৃথিবী বিখ্যাত।

    ২। যমুনাপারীঃ

    যমুনাপারি ভারতের সবচাইতে বড় এবং রাজকীয় ছাগলের জাত হিসাবে পরিচিত। বাংলাদেশেও এ জাতের ছাগল রয়েছে। এদের শরীর বিরাটাকার। গায়ের রং সাদা ও হলদেটে ধরনের হয়ে থাকে। এদের নাক রোমাদের নাকের মত টিকালো কান দুটো লম্বা, ঝোলানো ও ভাঁজ করা। পা বেশ লম্বা । যমুনাপারী ছাগলের পেছনের পায়ের পিছন দিকে লম্বা লম্বা  লোম থাকে। মাংস ও দুধের জন্য এ জাতের ছাগল পৃথিবীতে বিখ্যাত। বীজ হিসাবে এ জাতের ছাগলের পাঁঠা ভারত থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করা হয়। বাংলাদেশেও যমুনাপারি ছাগলের  জনপ্রিয়তা  রয়েছে ।

    ৩। বীটলঃ

    এ জাতের ছাগলের আদি বাস পাকিস্তান ও ভারতের পাঞ্জাবে। এদের মুখ ও নাকের গড়ন যমুনাপারি ছাগলের মত ।

    মুরগীর জাত



    বিভিন্ন মোরগ-মুরগীর বৈশিষ্ট

    মোরগ-মুরগীকে সাধারণত: দুই শ্রেণীতে ভাগ করা যেতে পারে। যেমন: হাল্কা (Light) জাত ও ভারী (Heavy) জাত।



































    শ্রেণী

    বংশ

    সাধারণ বৈশিষ্ট

    আমেরিকা

    রোড আইল্যান্ড রেড (আর.আর.আই), নিউহ্যাম্পশেয়ার, পাইমাউথ ইত্যাদি।

    পা লোমহীন, চামড়া হলদে, কানের লতি লাল, মাঝারী আকারের শরীর, মাংশ ও ডিম উভয়ের জন্যই ভাল।

    ভূমধ্যসাগরীয়

    হোয়াইট লেগ হর্ন, ব্যাক মিনারকা, এনকোনা ইত্যাদি। যেমন: ফাইওমি (পাকিস্তানী)

    পা লোমহীন, চামড়া হলুদ বা সাদা, কানের লতি সাদা, শরীরের আকার ছোট, খুব বেশী ডিম দেয়, কুঁচে লাগে না।

    বিলাতী

    সাসেক্স, অষ্টারলর্প, অরপিংটন ইত্যাদি

    লোমহীন পা, সাদা চামড়া, কানের লতি লাল, মাঝারী আকারের শরীর, মাংশ ও ডিম উভয়ের জন্যই ভাল।

    এশীয়

    ব্রাহামা, কোচিন, ল্যাংশায়ার ইত্যাদি

    লোমযুক্ত পা, চামড়া হলদে, কানের লতি লাল, আকাওে বড়, মাংশের জন্য ভাল, ঘন ঘন কুঁচে হয়।

    বাংলাদেশী

    আসিল, চাঁটগাঁয়ে বা মালয়ী

    পা লোমহীন, চামড়া হলদে, কানের লতি লালচে, আকারে বেশ বড় ও লম্বা, মাংশের জন্য ভাল। মোরগ লড়াইয়ের জন্য প্রসিদ্ধ।








    তথ্য:


    তথ্য আপা প্রকল্প


    ডেইরি ফার্ম

  • Share The Gag
  • পড়াশোনা শেষ করে বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রীরা গতানুগতিক চাকরি বা ব্যবসার আশায় বসে থাকে। এ সকল চাকরি বা ব্যবসার আশায় না থেকে আমরা যদি নিজেরাই আত্দকর্মসংস্থানের জন্য কিছু গঠনমূলক কাজ করি তাহলে আমাদের ভাগ্যের সঙ্গে সঙ্গে সমাজকেও আমরা কিছু উপহার দিতে পারব। এজন্য দরকার আত্দবিশ্বাস এবং কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠা। সমাজে এমন অনেক ব্যতিক্রমী পেশা রয়েছে যেখানে একটু পরিশ্রম ও চিন্তাভাবনা নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করলে সফলতা দরজায় এসে কড়া নাড়বে। আমাদের ক্যারিয়ার পাতায় প্রতিদিনই আমরা চেষ্টা করি কিছু গঠনমূলক প্রজেক্টের ধারণা দিতে। আজকে এরকম একটি প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা করা হলো। এটি হলো ডেইরি ফার্ম।

    বাংলাদেশে এখন সফল ডেইরি ফার্মের সংখ্যা অনেক। দিন দিন এর চাহিদা ও বাজার বাড়ছে। একদিকে যেমন এ থেকে আদর্শ খাবার হিসেবে দুধ, আমিষের চাহিদা মেটাতে মাংস এবং জ্বালানি হিসেবে গোবর ও জৈব সার পাওয়া যাবে, তেমনি অন্যদিকে এ খাত থেকে বেশ ভালো আয় করাও সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে অল্পবিস্তর জ্ঞান থাকতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিলে।

    প্রাথমিক প্রয়োজন : যেকোনো কিছু গড়তে সবার আগে প্রয়োজন প্রাথমিক প্রস্তুতি। এ প্রস্তুতির উপর নির্ভর করে যে কোনো কাজের সফলতার ও ব্যর্থতা। ডেইরি ফার্ম গড়ে তুলতে প্রয়োজন আর্থিক সঙ্গতি, অভিজ্ঞতা ও গরুর নিরাপদ আশ্রয়। প্রথমেই বিশাল ফার্ম তৈরিতে হাত না দিয়ে ছোট পরিসরে কাজে হাত দেওয়া ভালো। ৫ থেকে ৬টি গরু নিয়ে যাত্রা করে আস্তে আস্তে ফার্মকে সম্প্রসারণ করাই উত্তম। ২টি গরুর জন্য একজন দক্ষ লোক নিয়োগ করা গেলে ভালো। তবে খেয়াল রাখতে হবে লোকটির গরুর যত্ন নেয়ার পূর্বঅভিজ্ঞতা আছে কিনা।

    বাছাই প্রক্রিয়া : নিজ এলাকায় বিশেষ করে মফস্বলে গরুর ফার্ম গড়ে তোলাই শ্রেয়। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন গরুর উন্নত জাত বাছাই। উন্নত জাতের গরু বাছাই না করলে সারা বছর ফার্মে রোগবালাই লেগে থাকবে । ভালো জাতের গরুর পাশাপাশি ফার্মে পর্যাপ্ত ঘাস, খৈল বিচালির ব্যবস্থা রাখতে হবে। ফার্ম গড়ে তোলার পরপরই দুধ বিক্রির জন্য প্রচারণা চালাতে হবে।

    স্থান নির্বাচন : যেখানে যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো এবং দুধ বিক্রির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে এসব এলাকার আশপাশেই ডেইরি ফার্ম গড়ে তোলা প্রয়োজন। চারপাশে উঁচু দেওয়াল, পরিবেশসম্মত আবাসন, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস এবং গরুর বিশ্রাম ও হাঁটাচলার জন্য জায়গা থাকতে হবে। গরুর ওষুধের দোকান, কাঁচা ঘাসের খামার আশপাশে থাকলে ভালো।

    খাবার সরবরাহ : ডেইরি ফার্মের জন্য সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিতে হবে গরুর খাবারের প্রতি। পর্যাপ্ত ও মানসম্পন্ন খাবার না পেলে সঠিক পরিমাণ দুধ পাওয়া যায় না। ধানের কুঁড়া, গমের ভুসি, ছোলা, খেসারির খোসা, লবণ, খৈল, নারিকেলের ছোবড়া, ঘাস-বিচালির পর্যাপ্ত সংগ্রহ রাখতে হবে। অনেক সময় বাসি ও পচা খাবার গরুকে সরবরাহ করা হয়। যা কখনোই ঠিক নয়। এতে করে গরুর বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। সবসময়ই খেয়াল রাখতে হবে গরুর খাদ্য যেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও পুষ্টিমান সম্পন্ন হয়। এ জন্য পচা বা দীর্ঘদিন রাখা এসব পণ্য গরুকে খাওয়ানো উচিত নয়। গাভীর গর্ভধারণ ও গর্ভকালীন আলাদাভাবে পরিচর্যা করতে হবে। এ সময় স্থানীয় পশু চিকিৎসকের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে।

    আয়-ব্যয় : ডেইরি ফার্ম একটি দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম। সঙ্গে সঙ্গেই লাভের আশা করা ভুল। বরং ধীরে সুস্থে এগুলেই ভালো ফল পাওয়া যাবে। গড়ে এক একটি গরু কিনতে ৩০-৫০ হাজার টাকা খরচ হবে। এছাড়া যত বেশি গরুর সংখ্যা বাড়বে খরচের খাতও তত কমবে। বর্তমানে শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকান ও কনফেকশনারীর লোকজন সরাসরি ফার্মে এসে দুধ সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। গড়ে এক একটি গরু থেকে মাসে ৪-৫ হাজার টাকার দুধ বিক্রি করা সম্ভব। খরচ বাদে এই লাভ একটি পরিবারের জন্য কম নয়।

    পরিচর্যা : উন্নত জাতের গাভী ডেইরি ফার্মের জন্য সহায়ক। এ ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ান গাভীর জাত বেছে নেওয়া যেতে পারে। এজন্য পশু খামারি এবং পশু কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে নিলে ভালো হয়। প্রতিটি গরুর জন্য আলাদা মশারি, ফ্যান, ময়লা পরিষ্কারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। আলোর জন্য লাইটিং এবং পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারেও নজর দেওয়া জরুরি।

    পশুর স্বাস্থ্য পরিচর্যা : দেশের প্রায় প্রতিটি উপজেলায় পশু চিকিৎসাকেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া সরকারিভাবেও খামারিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সাহায্য ছাড়াও ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। যুব উন্নয়ন, কৃষিব্যাংক, গ্রামীণ ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকেও প্রশিক্ষিত তরুণরা বিনা জামানতে বেশ মোটা অংকের ঋণ সহায়তা পেতে পারেন। বেকার শিক্ষিত তরুণদের জন্য এটি হতে পারে একটি চমৎকার পেশা।

    তাই নিজেরাই নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে সচেষ্ট হই এবং এরকম ডেইরি ফার্ম করে অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হই।
    এগ্রোবাংলা ডটকম

    গাভীর দুধের উত্পাদন যেভাবে বাড়াবেন
    গাভীর দুধ উত্পাদনের পরিমাণ ও গুণগতমান জাতের ওপর নির্ভর করে। গাভীর দুধ উত্পাদনের পরিমাণ দুধের উপাদান যেমন-মাখন, আমিষ, খনিজ পদার্থ সবই বিভিন্ন জাতের গাভীতে কম-বেশি হতে পারে। বংশগত ক্ষমতার কারণ দেশীয় জাতের গাভীতে দুধের মাখনের পরিমাণ বেশি থাকে কিন্তু এরা দুধ উত্পাদন করে কম। সিন্ধি, শাহিওয়াল, হরিয়ানা জাতের গাভীর দুধে মাখন বা ননীর পরিমাণ অন্য বিদেশীয় জাতের গাভী যেমন হলস্টেন, ফ্রিজিয়ান, জার্সি ইত্যাদি জাতের গাভী সিন্ধি, শাহিওয়াল, হরিয়ানা প্রভৃতি গাভী থেকে বেশি দুধ দেয়।

    খাদ্য গাভীর দুধ উত্পাদন ও দুধের গুণগতমানের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। অধিক পরিমাণ খাদ্য খাওয়ালে বেশি দুধ পাওয়া যায়। তবে খাদ্য অবশ্যই সুষম হতে হবে। গাভীকে সুষম খাদ্য না খাওয়ালে দুধ উত্পাদনের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায় এবং দধের গুণগতমানও কমতে বাধ্য। কারণ খাদ্যে বিদ্যমান উপাদানগুলো ভিন্ন অবস্থায় দুধের মাধ্যমে নিঃসৃত হয়। খাদ্যে দুধের মাখনের উপস্থিতির পরিমাণ কম-বেশি করতে পারে। নিম্নোক্ত ধরনের খাদ্যের জন্য গাভীর দুধের মাখনের হার কম হতে পারে।
    ১. মাত্রাতিরিক্ত দানাদার খাদ্য খাওয়ালে।
    ২. পিলেট জাতীয় খাদ্য খাওয়ালে।
    ৩. অতিরিক্ত রসালো খাদ্য খাওয়ালে এবং
    ৪. মিহিভাবে গুঁড়ো করা খড় খাওয়ালে।

    গাভীর দুধে মাখনের পরিমাণ কমে গেলে খাদ্য পরিবর্তন করে প্রয়োজনীয় সুষম খাদ্য খাওয়াতে হবে। দুধে খনিজ পদার্থ ও খাদ্যপ্রাণের পরিমাণ গাভীর খাদ্যের মাধ্যমে বাড়ানো যায়। গাভীকে সুষম খাদ্য না দিলে দুধে সামান্য মাত্রায় আমিষ ও শর্করা জাতীয় উপাদান পাওয়া যায় এবং দুধ উত্পাদনের পরিমাণ কমে যায়। দুধ দোহন বিশেষ করে দোহন কাল, দোহনের সময়, দুধ দোহন প্রক্রিয়া, বিভিন্ন বাঁটের প্রভাব ইত্যাদি গাভীর দুধের পরিমাণ ও মানকে প্রভাবিত করে। গাভীর দুধ দেয়ার পরিমাণ আস্তে আস্তে ৫০ দিনে বেড়ে সর্বোচ্চ হয়। ওলানে দুধের চাপের ওপর দুধের পরিমাণ ও উপাদান নির্ভর করে। দুগ্ধদান কালের ৯০ দিন পর থেকে দুধে মাখন ও আমিষের হার আংশিক বাড়ে। একই গাভীকে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দোহন করলে দুধে মাখনের পরিমাণ বেশি পাওয়া যায়। তাই সকালের দুধের চেয়ে বিকালের দুধে মাখনের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই গাভীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২-৩ বার দোহন করা উচিত। এতে দুধ উত্পাদনের পরিমাণ বাড়তে পারে।

    প্রসবকালে গাভীর সুস্বাস্থ্য আশানুরূপ দুধ উত্পাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাভী থেকে বেশি দুধ পেতে হলে গর্ভকালে সুষ্ঠু পরিচর্যা ও সুষম খাদ্য দেয়া প্রয়োজন। প্রসবের দুই মাস আগে গাভীর দুধ দোহন অবশ্যই বন্ধ করে দিতে হবে। মোট দুধ উত্পাদনের ৪০% ওলানের সামনের অংশের বাঁট এবং ৩০% পেছনের অংশের বাঁট থেকে পাওয়া যায়। গাভীর ওলানের বাঁট অবশ্যই সুস্থ থাকতে হবে।

    রক্ষণাবেক্ষণ, বাসস্থান, গাভীর দুধ উত্পাদনের পরিমাণ ও গুণগতমানের হ্রাস-বৃদ্ধির জন্য অনেকাংশে দায়ী। পারিপার্শ্বিক অবস্থা গাভীর জন্য আরামদায়ক হওয়া উচিত। দোহনের সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন না করলে অর্থাত্ দুধ দোহন ত্রুটিপূর্ণ হলে দুধ উত্পাদনের পরিমাণ ও গুণগতমান কমতে পারে।

    প্রতিকূল আবহাওয়া দুধ উত্পাদনের জন্য ক্ষতিকর। শীত মৌসুম দুধাল গাভীর জন্য আরামদায়ক। এ মৌসুমে দুধ উত্পাদনের এবং দুধে মাখনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, গরমকাল, বর্ষাকাল, আর্দ্র আবহাওয়ায় গাভীর দুধের উত্পাদন ও গুণগতমান হ্রাস পায়। গরমের দিকে গাভীকে ঠাণ্ডা অবস্থায় রাখলে উত্পাদনের কোনো ক্ষতি হয় না। গাভীর প্রজননের সময় দুধ উত্পাদন কমে যায়।

    দীর্ঘ বিরতিতে বাচ্চা প্রসব করলে গাভীর দুধ উত্পাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। স্বল্প বিরতিতে বাচ্চা প্রসবের কারণে দুধ উত্পাদন কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। তাই গাভীকে বাচ্চা প্রসবের ৬০-৯০ দিনের মধ্যে পাল দিতে হবে। কোনোক্রমেই ৬০ দিনের আগে প্রজনন করানো উচিত নয়। গাভীর শরীরে ৫০% এবং দুধে প্রায় ৮৭% পানি থাকে। তাই গাভীকে ইচ্ছামত পানি পান করার ব্যবস্থা করলে দুধ উত্পাদন বেশি হয় এবং দুধে মাখনের পরিমাণ বেশি থাকে।
    এগ্রোবাংলা ডটকম

    গাভীর বড় ওলানের পরিচর্যা
    অধিক দুধ উত্পাদনকারী গাভীর দৈহিক আকার যেমন বড় হয় তেমনি বড় হয় তার ওলানও। এসব গাভী যত্নসহকারে পরিচর্যা করতে হয়। বড় ওলান নিয়ে গাভীর চলাফেরা ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় ওলানে আঘাত লেগে ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে। এতে বিভিন্ন রোগ-জীবাণু বাসা বেধে ম্যাসটাইটিস হতে পারে। এ ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পেতে এসব গাভী অন্যান্য গরু থেকে আলাদা করে পালন করা হয়। এত সতর্কতার পরও উঠা-বসার সময় শেডের কনক্রিটের মেঝেতে ঘষা লেগে ওলানে ক্ষত সৃষ্টি হয়। আর তাতে গোবর বা চোনা লেগে রোগ-জীবাণুর আক্রমণে গাভী অসুস্থ্র হয়। ওলানে সমস্যা দেখা দিলে দুধ উত্পাদন হ্রাস পায়। ম্যাসটাইটিস মারাত্মক আকার ধারণ করলে কখনো কখনো ওলানের এক বা একাধিক বাঁট কেটে ফেলতে হয়। তখন দুধ উত্পাদন অর্ধেকের নিচে নেমে আসে।

    ওলানে আঘাতজনিত সমস্যা এড়াতে কনক্রিটের পরিবর্তে বালির মেঝে অধিক স্বাস্থ্যসম্মত বলে অভিমত দিয়েছে ডেয়রি বিজ্ঞানীরা। এই বালির মেঝে তৈরি করতে হবে বিশেষ প্রক্রিয়ায়। প্রায় দেড় মিটার সমপরিমাণ গভীর করে মাটি শেডের মেঝে থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। এরপর কমপক্ষে দু’স্তরে বড় বড় টায়ার বসাতে হবে। টায়ারের উপর বিছিয়ে দিতে হবে পরিষ্কার বালু। বালু অবশ্যই কাঁকর, ইটের টুকরা, লোহার টুকরা বা অন্যান্য যেকোনো ধারালো বস্তুমুক্ত হতে হবে। রোগের সংক্রমণমুক্ত এলাকা থেকে এই বালু সংগ্রহ করতে হবে।

    বালির মেঝে নরম হওয়ায় গাভী উঠে দাঁড়ানো কিংবা বসার সময় কোনো ধরনের আঘাত পাবে না। ওলানের আঘাতজনিত সমস্যা থেকে রক্ষা পাবে। এ মেঝের সুবিধাজনক দিক হচ্ছে গাভীর চোনা সহজেই ঝুরঝুরে বালিতে পড়ে শুকিয়ে যাওয়া। তবে বালি যেন ভেজা না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এ জন্য দিনে কমপক্ষে দু’বার গোবর পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। সব বালি সপ্তাহে কমপক্ষে তিনদিন উলোট পালোট করে দিতে হবে। উপরের বালি নিচে এবং নিচের বালি উপরে উঠে এলে রোগ-জীবাণু বংশবৃদ্ধি করতে পারবে না, রোগ বাসা বাধার সুযোগ পাবে না। ছয় মাস অন্তর অন্তর শেডের পুরানো বালি ফেলে দিয়ে নতুন বালি দিতে হবে।
    লেখক: ডা. হাসান মুহাম্মদ মিনহাজে আউয়াল, ঢাকা