কাঁচা পেঁপে পাকা পেঁপে দুটোই খান
সারা বছরই পেঁপে পাওয়া যায়। পেঁপে একদিকে যেমন সবজি, অন্যদিকে ফল। কাঁচা থাকতে পেঁপে সবজি—ভর্তা, ভাজি আর রান্না করে খাওয়া যায়। আর পাকলে পেঁপে হয়ে যায় সুস্বাদু ফল। অতিপরিচিত পেঁপের আরেকটি নামও কিন্তু আছে, নামটি হলো অমৃততুন্বী।
নামের জন্য নয়, গুণ বিচারের কথা জানতে গিয়েছিলাম বারডেম জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পুষ্টিবিদ শামছুন্নাহার নাহিদের কাছে।
তিনি বলেন, ‘১০০ গ্রাম পেঁপেতে শর্করা থাকে ৭.২ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৩২ কিলোক্যালরি, ভিটামিন সি ৫৭ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ৬.০ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৬৯ মিলিগ্রাম, খনিজ ০.৫ মিলিগ্রাম এবং ফ্যাট মাত্র ০.১ গ্রাম। এই উপাদানগুলো শুধু শরীরের চাহিদাই মেটায় না, রোগ প্রতিরোধেও অংশ নেয়।’
হৃদ্স্বাস্থ্য সুরক্ষায়: প্রচুর পরিমাণ আঁশ, ভিটামিন সি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে পেঁপেতে। এই উপাদানগুলো রক্তনালিতে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল জমতে বাধা দেয়। তাই হৃদ্স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং উচ্চরক্তচাপ এড়াতে পেঁপে খেতে পারেন নিয়ম করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে: শরীরের মেদ ঝরাতে যাঁরা তৎপর, তাঁদের খাদ্যতালিকায় পেঁপে রাখুন। একদিকে যেমন কম ক্যালরি আছে, অন্যদিকে থাকা আঁশ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে সবজি হিসেবে পেঁপে অনন্য।
প্রতিরোধ ব্যবস্থায়: দেহের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদারে ভূমিকা রাখে পেঁপে। নিয়মিত পেঁপে খেলে সাধারণ রোগবালাই দূরেই থাকে।
ডায়াবেটিস রোগের পথ্য: ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ফল। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, পেঁপে শুধু ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যই প্রয়োজনীয় ফল নয়, ডায়াবেটিস রোগ এড়ানোর জন্যও পেঁপে খান।
চোখ ভালো রাখতে: এর ভিটামিন এ চোখ ভালো রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া বয়সজনিত ক্ষীণদৃষ্টি রোগ প্রতিরোধেও পেঁপের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
বয়স ধরে রাখবে: পেঁপের মধ্যে থাকা উপাদানগুলো বয়সের ছাপ লুকিয়ে ফেলতে খুব দক্ষ। নিয়মিত পেঁপে খেলে ত্বকে বলিরেখা পড়ার প্রবণতা ধীর হয়ে যায়।
ক্যানসার প্রতিরোধী: কোলন ও প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধে এটি উপকারী।
হজমশক্তি বাড়াতে: উৎসব-পার্বণে ভূরিভোজটা একটু বেশিই হয়ে যায়। এ জন্য বিড়ম্বনাও কম হয় না। হজমশক্তি বাড়াতে এবং পেটের গোলযোগ এড়াতেও খেতে পারেন পেঁপে।
ডেঙ্গু জ্বরের প্রতিষেধক পেঁপে পাতা?
সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় উদ্ভাবিত হয়েছে যে পেঁপে পাতা ডেঙ্গুর জন্য বেশ কার্যকরী প্রতিষেধক। কারন পেঁপে পাতার রসে রয়েছে থ্রম্বোসাইটিস যা রক্তের প্লাটিলেট উৎপাদনে সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করে।
গবেষণাটির প্রধান গবেষক ছিলেন AIMST ভার্সিটির প্রফেসর ডক্টর এস. কাঠিরেসান। ডক্টর এস. কাঠিরেসান এর মতে ডেঙ্গুর ভাইরাস মূলত আমাদের রক্তের প্লাটিলেট কমিয়ে দেয়। সাধারণত প্লাটিলেটের জীবনকাল ৫ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত। এরপরে আবার প্রয়োজন অনুসারে নতুন প্লাটিলেট উৎপাদিত হয়। কিন্তু ডেঙ্গুর ভাইরাস শরীরে যতদিন কার্যকর থাকে ততদিন পর্যন্ত শরীরে নতুন প্লাটিলেট উৎপাদনের ক্ষমতা নিস্ক্রিয় থাকে। ফলে জটিল এক সমস্যার সৃষ্টি হয়।
সাধারণত একজন সুস্থ মানুষের রক্তের স্বাভাবিক প্লাটিলেটের পরিমাণ হলো প্রতি মাইক্রো লিটারে ১৫০,০০০ থেকে ২৫০,০০০ পর্যন্ত। ডেঙ্গু হলে এই প্লাটিলেটের সংখ্যা খুব দ্রুত কমে যেতে থাকে।
prothom-alo
Monday, June 12, 2017
Sunday, June 11, 2017
জেনে নিন ফরমালডিহাইড এবং ক্যালসিয়াম কার্বাইড দিয়ে কিভাবে খাবারে ভেজাল করে
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 1:28 PM
ফরমালডিহাইড এবং ক্যালসিয়াম কার্বাইড
ফরমালডিহাইড এবং ক্যালসিয়াম কার্বাইড ( Formaldehyde & calcium carbide )
Ref:- prof. Ir Chanif Mahdi – ECU Environmental Health & Safety- Medical Toxicology Doctors and Physicians ( UK ) – NICRH Bangladesh – WHO Etc
ফরমালিন হচ্ছে বর্ণহীন গন্ধ যোক্ত ফরমালডিহাইড ( রাসায়নিক সংকেত ফর্মালিন (-CHO-)n হল ফর্মালডিহাইডের (CH2O) পলিমার) গ্যাস থেকে পানির সাথে মিশ্রিত একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন প্রিজারভেটিভ – ইহা দেখতে সাদা – ১৮৫৯ সালে রুশ রসায়নবিদ আলেকজান্দর বুতলারভ ফরমালিনের অস্তিত্ব তাঁর প্রতিবেদনে তুলে ধরেন। পরবর্তীতে ১৮৬৯ সালে অগাস্ট উইলহেম ভন হফমেন স্বার্থকভাবে চিহ্নিত করেন। ফরমালিনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সংক্রমিত হতে না দেয়া। অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাককে মেরে ফেলতে পারে। সাধারণত ৩৭ থেকে ৪০ শতাংশ জলীয় দ্রবণই হলো ফরমালিন এবং কখন ও এর সাথে ১০-১২ ভাগ মিথানল ও মিশ্রিত করা হয় অতিরিক্ত প্রিজারভেশন ক্ষমতা বড়ানোর জন্য । ( মিথানল হইতেছে কাঠের উপরের রঙে যে স্প্রিট ব্যাবহার করা হয় তাই । যা মানব দেহের জন্য খুভি ক্ষতিকারক এমন কি নিত্য প্রয়োজনিয় আসবাব পত্র, ল্যাবরেটরি, ইনাডস্ট্রি ইত্যাদিতে নির্দিষ্ট পরিমান ব্যাবহারের অনুমতি থাকলে এর বিশেষ কিছু বিধি নিষেধ আছে । যদিও ফরমালিন ভাল একটি প্রিজারভেটিভ কিন্তু পিজারভেটীভ এর ভিবিন্ন গ্রেড আছে। ফুড গ্রেড নন ফুড গ্রেড। নন ফুড গ্রেড গুলো খাওয়া যায় না আর সেগুলো চরম মাত্রায় বিষাক্ত। ফরমালিন হইল সেই নন ফুড গ্রেডের পিজারভেটিভ তাই খাদ্য দ্রবতে এর ব্যাবহার সম্পূর্ণ নিষেধ । তা ছাড়া বৈজ্ঞানিকভাবে মানুষের জন্য ফরমালিনের লিথাল ডোজ ৩০ মি.মি ( ভিন্ন ব্যাবহারিক বস্থুতে ) এবং বাতাসে ২পিপিএম-( পেইন্ট বা যে কোন ইনাডাস্ট্রি থেকে ) বায়ুতে মিশ্রিত হলে তাও সম্পূর্ণ নিষেধ । ( ( Formalin is commonly used to describe a mixture of 37% to 38% formaldehyde in water. Formaldehyde is a gas. It has the formula HCHO or CH2O. A small amount of stabilizer, such as methanol 10-12%, is usually added to limit oxidation and polymerization )
ফরমালডিহাইড মেথড অনুসারে ভিন্ন নামে থাকতে পারে ( যে কোন প্যাকেটে যদি এই সব যে কোন একটি নাম দেখতে পান তা হলে মনে করবেন ফরমালিন ) ঃ Formic aldehyde- ethanediol –Methanal –Methyl aldehyde –Methylene glycol –Methylene oxide অথবা নিম্ন লিখিত কেমিক্যাল আইটেম সমুহ ও ফরমালিনের উৎপাদক বিধায় ইহা ও এক ধরণের ফরমালিন বলা হয় ঃ Benzylhemiformal –2-bromo-2-nitropropane-1,3-diol –5-bromo-5-nitro-1,3-dioxane –Diazolidinyl urea –1,3-dimethylol-5,5-dimethylhydantoin (or DMDM hydantoin) –Imidazolidinyl urea –Sodium hydroxymethylglycinate –Quaternium-15 । তাই এই সব কেমিক্যাল পদার্থ যে কোন খাদ্য দ্রব্যে লিখা থাকলে বা সন্ধ থাকলে তা থেকে দূরে থাকা উচিৎ ।
বৈধভাবে নির্দিষ্ট পরিমান ফরমালিন কি কাজে ব্যবহার করা হয় ঃ – ফরমালিন সাধারণত টেক্সটাইল, প্লাস্টিক, পেপার, রং, কনস্ট্রাকশন, পোলট্রি ও হ্যাচারি শিল্প, ল্যাবরেটরি, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কাঠ ও প্লাইউড শিল্প, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গবেশনায় , অ্যাগ্রো প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি, সায়েন্টিফিক ল্যাব, ওষুধ কোম্পানি, ভ্যারাইটিজ কনজিউমার প্রডাক্ট, ট্রেডিং কোম্পানিসহ ব্যাবহারের প্রয়োজন বা মৃতদেহ সংরক্ষণে খুভ বেশী উপকারী একটি কেমিক্যাল । কিন্তু দুর্ভাগ্য বশত বাংলাদেশ সহ কয়েক টি দেশে খাদ্যতে ফরমালিন ব্যাবহার করতে দেখা যায় যা কোন অবস্থাতেই স্বাস্থ্য সম্মত নয় – সেই সাথে খাদ্য দ্রবের সাথে সম্পর্ক যোক্ত কোন কিছুতেই ফরমালিন ব্যাবহার করে ঠিক নয় । যদিও কিছু কস্মেটিক ব্যাবহার সামগ্রী, নুখ পালিশ কিছু ক্রিম, শ্যাম্পু, সাবান ইত্যাদিতে ব্যাবহারের অনুমতি থাকলে ও তা ০.০২% ভিতরে থাকতে হয় । প্রাকৃতিক ভাবে কিছুটা ফরমালডিহাড্রেডের উপস্থিতি লক্ষ করা যায় তামাক জাতীয় সিগারেটে এবং আর ও বেশী ফরমাল্ডিহাইড্রেড উৎপন্ন হয় যারা সিগারেট নিভিয়ে আবার পান করেন । সেই সাথে যারা সিগারেট পান করেন না তাহারা ও আক্রান্ত হন ধূমপায়ীর শ্বাসের মাধ্যমে । ( concentrations in cosmetics and other personal care products like lotions, shampoo, conditioner, shower gel, and some fingernail polishes. These may raise the concentration of formaldehyde in the air inside the room for a short time, but the levels reached are far below what is considered to be hazardous)
প্রথমে জেনে নিন আসবাব পত্র ও নিত্য ব্যাবহারিক জিনিসে বা শিল্প কারখানায় অতিরিক্ত ফরমালডিহাইড ব্যাবহারে কি ক্ষতি হতে পারে ঃ- ফরমালডিহাইড অতিরিক্ত ব্যাবহার যে সব আসবাব পত্রে করা হয় তার গ্যাস থেকে বাতাসের মাধ্যমে মানব দেহের শ্বাসের ছড়িয়ে পরে, ফুস ফুস, শ্বাস নালি, মুখ গহ্বরে আক্রান্ত হয়ে ( শ্বাস তন্ত্র ) ভিন্ন ধরণের প্রদাহ যোক্ত অসুখ বা তা থেকে ( বিশেষ করে হাঁপানি ও নিউমোনিয়া বা গলার টনসিল জাতীয়- and cancer of the nasopharynx বা cancer of the nasal sinuses. বা leukemia, ) ক্যানসার সেল ডেবলাপ্ট হওয়ার সম্বাভনা খুভ বেশী, সে জন্য উন্নত দেশে ফরমালডিহাইড অন্তর্ভুক্ত সকল কেমিক্যাল পদার্থ ব্যাবহার সিমিত করার জন্য ইতিমধ্যেই বেশ কড়া কড়ি আইন ও নিয়ম তৈরি করা হয়েছে এবং ফরমালিন জাতীয় কেমিক্যাল সুমহে যাহারা কাজ করেন তাদের জন্য ও বিশেষ নিয়ম ও সতর্কতা অবলম্বনের ব্যাবস্তা করা দরকার ( পেইন্টও প্লাস্টিক , চামড়া ইত্যাদির )
মুনাফালোভিরা সরা সরি ভিন্ন খাদ্যতে কেন ব্যাবহার করতে চায় – ফল মুল, মাছ ইত্যাদি কে বেশী দিন ঠিকিয়ে রাখার জন্য বা পচন রোধ করার জন্য ফরমালিন ব্যাবহার করে থাকে যা সভ্য সমাজে ভাবতেই অবাক লাগে তাই এ বিষয়ে সাধারণ জঙ্গনের সচেতনতা ও কঠোর আইনের প্রয়োজন । পৃথিবীর ১৩ টি দেশে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের জন্য নিয়ম বহির্ভূত ভাবে খাদ্য দ্রব্যে ফরমালিন জাতীয় কেমিক্যাল পদার্থ মিশানো হয়ে থাকে তার মধ্যে বাংলাদেশ সহ চিন, ভারত, থাইল্যান্ড, বার্মা, পাকিস্থানের নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখ যোগ্য । সম্প্রতি এক তথ্যে দেখা যায় এই সব অঞ্চলে, ( ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্স অন ক্যান্সারের ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার রিপোর্টের দেয়া তথ্যমতে) , ১৯৭৫ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ক্যান্সারের হার দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে তা আবারও দ্বিগুণ হবে এবং এ হার তিনগুণে পৌঁছবে ২০৩০ সালের মধ্যে। যদি ও সারা বিশ্বে প্রতি বছর ১.৩ শতাংশ হারে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তেছে । তবে দুঃখ জনক হলেও সত্য – বাংলাদেশ ও তার আশে পাশের দেশ সমুহে এর বৃদ্ধির হার ২.৮ শতাংশ এবং মুল কয়েক টি কারনের মধ্যে প্রধান কারন ই হল সকল ধরণের খাদ্যে দ্রব্যে বিষাক্ত কেমিক্যাল পদার্থের সংমিশ্রণ করে বাজারজাত করা । অন্য এক তথ্যে দেখা গেছে, ভেজাল খাদ্য খেয়ে দেশে প্রতি বছর তিন লাখের বেশি মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রায় দেড় লাখ মানুষ ডায়াবেটিস ও ২ লাখ কিডনি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও গর্ভবতীরা। ভেজালের কারণে গর্ভবতী মায়ের শারীরিক জটিলতাসহ প্রতি বছর গর্ভজাত বিকলাঙ্গ শিশুর সংখ্যা কয়েক লাখ। ( ফরমালিন ও ক্যালসিয়াম কার্বাইড ) আরও বাস্তব প্রমান অনুসারে নিশ্চিত ভাবে বলা হয়েছে , বাংলাদেশে ক্যান্সার প্রতিরোধক ঔষধের বাজার প্রতি বছর শতকরা ২০ ভাগ হারে বেড়েই চলছে যেখানে বিগত নব্বই শতকে মাত্র ৩% ছিল ।
( ইন্টারন্যাশনাল কেমিক্যাল ইম্পোরট ডাটা ভিত্তিক তথ্য ) বাংলাদেশের গত বছরে ফরমালিন আমাদানি কৃত ডাটাতে দেখা গেল দেশের শিল্প প্রতিস্টান ও হাসপাতালের চাহিদা ছিল ২০১২/১৩ সালে ৭৫ টন সেই খানে আমাদানি করা হয় ৩০০ টনের মত । চলতি বছর দেশের চাহিদা ছিল ১০০ টনের সেখানে আমাদানি করা হয়েছে ৫০০ টন । গড়ে বাদ বাকি ৪০০ টন ফরমাল্ডিহাইড্রেট গেল কোথায় ? নিশ্চয় যেভাবেই হউক মানুষের পেটে !!! ( আমার ব্যাক্তি গত অভিমত ) সে জন্য দেশে যতই শক্ত আইন করা হয়না কেন কাজ হবেনা , যতক্ষণ গন সচেতনতা সহ ওদের প্রতি ঘৃণা না জন্মানো যাবে এবং সেই সাথে মুল ডিস্ট্রিবিউটার ও আমদানিকারকদের উপর কড়া নজর দারি সহ আইনের সঠিক প্রয়োগ সব সময় প্রয়োজন । তাহলে কিছু টা প্রতিরোধ হতে পারে । কারন সাধারণ ফরমালিন যোক্ত খাদ্য দ্রব্য স্রব্রাহ কারিরা কারিরা অপরাধী নয়, তাই ওদের কে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে , সর্বস্ব জরিমানা ইত্যাদি করে তেমন লাভবান হওয়ার কথা নয় , বা এ ধরণের ভয়ে সামিয়িক কিছু টা উপকৃত হলেও ওরা পেটের জ্বালায় আবার এই কাজে লাগবেই । তাই ইহা জনগন কে না দেখিয়ে মুল জায়গায় ঠিক মত নক করলেই মনে হয় সবচেয়ে বেশী সুফলতা বয়ে আনবে ।
ফরমালিন স্বাস্থ্যের কি কি ক্ষতি করতে পারে ? – What are the health effects of Formalin ?
ফরমালিনের ব্যাবহারে কি কি অসুখ বা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে ঃপ্রাথমিক ভাবে ফরমালিন যুক্ত ফলমূলসহ অন্যান্য খাবার গ্রহণের ফলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা নষ্ট, হাঁচি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, আ্যাজমা বদহজম, ডায়রিয়া, আলসার, চর্মরোগের উপদ্রব দেখা দেয় এবং পর্যায় ক্রমে যা দেখা দিয়ে থাকে ঃ- ফরমালডিহাইড চোখের রেটিনাকে আক্রান্ত করে রেটিনার কোষ ধ্বংস করে। ফলে মানুষ অন্ধ হয়ে যেতে পারে– এই রাসায়নিক পদার্থ লিভার, কিডনি, হার্ট, ব্রেন সব কিছুুকে ধ্বংস করে দেয়। লিভার ও কিডনি অকেজো হয়ে যায়। হার্টকে দুর্বল করে দেয়। স্মৃতিশক্তি কমে যায়। ফরমালিনযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করার ফলে পাকস্থলী, ফুসফুস ও শ্বাসনালিতে ক্যান্সার হতে পারে। অস্থিমজ্জা আক্রান্ত হওয়ার ফলে রক্তশূন্যতাসহ অন্যান্য রক্তের রোগ, এমনকি ব্লাড ক্যান্সারও হতে পারে। এতে মৃত্যু অনিবার্য। মানবদেহে ফরমালিন ফরমালডিহাইড ফরমিক এসিডে রূপান্তরিত হয়ে রক্তের এসিডিটি বাড়ায় এবং শ্বাস-প্রশ্বাস অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করে। ফরমালিন ও অন্যান্য কেমিক্যাল সামগ্রী সব বয়সী মানুষের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে। ফরমালিনযুক্ত দুধ, মাছ, ফলমূল এবং বিষাক্ত খাবার খেয়ে দিন দিন শিশুদের শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে যায় বা কিডনি, লিভার ও বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নষ্ট, বিকলাঙ্গতা সহ শিশুদের বুদ্ধিমত্তা দিন দিন কমিয়ে দিতে পারে ।গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রেও মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। সন্তান প্রসবের সময় জটিলতা, বাচ্চার জন্মগত দোষত্রুটি ইত্যাদি দেখা দিতে পারে বা প্রতিবন্ধী শিশুর জন্ম হতে পারে। অনেক সময় এ রকম ও দেখা যায়, কয়েক দিন পরপর একই রোগী ডায়রিয়ায় ভুগছেন, পেটের পীড়া ভালো হচ্ছে না, ঘন ঘন চর্মরোগে আক্রান্ত হইতেছেন । অর্থাৎ দীর্ঘ দিন ফরমালিন বা ঐ জাতীয় কেমিক্যাল পদার্থ দীর্ঘদিন যাহারা খেয়ে থাকেন তিনিদের ৮৭% সম্বাভনা আছেই পাকস্থলী, ফুসফুস , শ্বাসনালি, ও অস্থিমজ্জায় ক্যানসারের মত মারাত্মক অসুখ হওয়ার । ( ল্যাব রিসাচ )
সর্বশেষ তথ্য অনুসারে পূর্ণ নিশ্চিত হয়েছেন বিজ্ঞানীরা ঃ- যাহারা ৫.৬০ পিপিএম হতে ১৫প্পিএম পর্যন্ত ফরমালিন যোক্ত খাবার গ্রহন করবেন একনাগারে ২ বছর তাদের বেলায় ৯০% বেলায় শ্বাস তন্র, পাকস্থলী বা লিভার ক্যানসার হবেই _ ( ক্যানসার রিসার্চ ইন্সটি , ইউকে )
ফরমালিন যোক্ত খাবার চিনবেন কিভাবে ( সংগৃহীত ) ঃ প্রসঙ্গত উল্লেখ করতেই হয় , ফরমালিন যোক্ত খাবার কিভাবে চিনা যাবে সে জন্য হাজার খানেক মেইল পাঠাই আমাদের রিসার্চ লাইব্রেরী ও গবেষকদের কাছে । একমাত্র ভারত, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ড চাড়া সবাই জানালেন ফরমালিন আবার খাবারে দেওয়া হয় নাকি ? বা জানেন না বা অনেকে উলটো অনুরুধ করেছেন আমি যেন তিনিদের কে জানাই কি কি খাবারে দেওয়া হইতেছে ইত্যাদি !!! তার পর ও নিজ দেশের সুনাম ধন্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার সম্প্রতি দেওয়া কিছু উপদেশ থেকে কিছু টা জানার চেস্টা করলাম ঃ
বর্তমানে বাংলাদেশে ফরমালিন বা অন্যান্য কৃত্রিম উপাদান ছাড়া খাবার খুভ কম আছে ইহা বলে লাভ নেই ,মনে রাখবেন খাবারে তাপের মাধ্যমে ফরমালিনের ক্ষতিকর প্রভাব নষ্ট হয় না বরং লিকুডেশন বাড়ে ( তরলীকরণ ) তারপর ও যত টুকু পারেন সতর্ক থাকতেই হবে বা অন্য কে সতর্ক রাখা মানবিক দায়িত্ব । এ ছাড়া ও যায় ফরমালিন ছাড়া ক্যালসিয়াম কার্বাইড , কপার সালফেট, কার্বনের ধোঁয়া, পটাশের লিকুইড সলিউশন, জ্বালানো মবিল, ডিডিটি এমন কি আলকাতরা বা ইউরিয়া শ্বার ও ব্যাবহার করে থাকেন সুবিধা ভোগী কিছু ব্যাবসিয়ারা – যা কল্পনা করার মত নয় এমন কি মাল্টি ন্যাশনাল কিছু কোম্পানিরা ও ব্যাবহার করিতেছে , যেমন ফলের রস, স্ন্যাক্সফুড, জ্যাম-জেলি, আচার-চাটনি, সেমাই ও নুডলস ইত্যাদিতে । তাই সুন্দর প্যাকেটের যোগে খাদ্য দেখতে সুন্দর হলেই যে ভাল হবে তাও বলা মুশকিল ।
১০০% নিশ্চিত ভাবে ফরমালিন দেওয়া খাদ্য দ্রব্য চুখে দেখে বলার মত নয়, সে জন্য কিছু ইলেক্ট্রনিক গ্যাস ডিটেক্টর আছে যা দিয়ে পরিক্ষা করলে ৯৫% নিশ্চিত হওয়া যায় বা বাজারে কিছু স্টিকার কিনতে মিলে তা দিয়ে পরিক্ষা করলে বুজা যায় , তাও সাধারণ জনগণের জন্য ব্যয় সাধ্য বিধায় আপাদত নিজের বুদ্ধি খাটিয়েই শাকসবজি, মাছ ইত্যাদি কিনতে হবে । ( যদি ও কিছু দিনের ভিতরে খুভ সস্থা দামে এ সব স্টিকার বাজারে আসার কথা )
সাধারণ ভাবে ফরমালিন সনাক্ত করতে হলে ঃসন্দেহযুক্ত ফরমালিন মাছ ধুয়ে পানিতে ৩% (আয়তন) হাইড্রোজেন পারক্সাইড মেশালে ফরমালডিহাইড অক্সিডাইজড হয়ে ফরমিক অ্যাসিডে রূপান্তর হয়। ফরমিক এসিড প্রমাণের জন্য সে পানিতে অল্প মারকিউরিক ক্লোরাইড মেশালে সাদা রঙের তলানি পড়বে। তাতেই প্রমাণ হবে ফরমিক অ্যাসিড তথা ফরমালডিহাইড তথা ফরমালিন। ( ল্যাব ) অথবা ফরমালডিহাইডের দ্রবণের সঙ্গে ২ সিসি ফিনাইল হাইড্রোজাইন হাইড্রোকোরাইড (১%) এবং ১ সিসি ৫% পটাসিয়াম ফেরিসায়ানাড দিয়ে তারপর ৫ সিসি ঘনীভূত হাইড্রোকোরিক অ্যাসিড মেশালে পুরো দ্রবণ গাঢ় গোলাপী রঙ হয়ে থাকে।
দুধের বেলায় ঃ একটি টেস্ট টিউবে ১০ এম এল দুধ নিয়ে তাথে ৫এম এল সালফিউরিক এসিড ও ফেরিক ক্লোরাইডের মিশিয়ে একটু নড়া চড়া করলে যদি নীল-লোহিত বর্ণের রিং তৈরি করে তা হলে বুজতে হবে এতে ফরমালিন মিশ্রিত আছে ( Take 10 ml of milk in test tube and 5 ml of conc. sulphuric acid is added on the sides of the test tube with out shaking. If a violet or blue ring appears at the intersection of the two layers, then it shows the presence of formalin ) তবে গুড়া দুধের বেলায় ধরা খুভ কস্টকর বিশেষ করে মেলানিন সহ কেমিক্যাল পদার্থের । কথিত আছে বড় বড় খামার বাড়ির কর্তারা প্যাকেট জাত দুধ উৎপাদন কারীর কাছে পৌছে দেয়ার আগে, দুধে কয়েক ফোটা ফরমালিন মিশ্রিত করে নেয় যা ” খামারীর ফোটা ” নামে অনেকেই জানেন মুলত ইহাই ফরমালিন অথচ এই দুধ খেয়ে ছোট ছোট কোমলমতী বাচ্চারা অবসন্নতা ও মেধা শূন্যতায় ভুগতে পারে সে কথা মনে রাখা উচিৎ ।
(যদিও বৈজ্ঞানিক ভাবে ১০০% নিশ্চিত নয় তার পর ও গড়ে ৬০% ফরমালিন মুক্ত থাকা সম্বভ কেননা পরীক্ষায় দেখা যায ফরমালিন মিশ্রত পন্য এক ঘন্টা পানিতে ডুবিয়ে রাখলে সর্বোচ ০.০৫ পিপিএম পরিমাণ কমতে পারে। যেখানে মাছে ফরমালিনের মাত্রা ০.৫-৫.০ পিপিএম দেখা যায় তখন কত টুকু ফরমালিন মুক্ত হবে বুজতেই পারছেন ! )
ফরমালিন দূর করতে হলে যা যা করতে পারেন ঃ ( সংগৃহীত ) পরীক্ষায় দেখা গেছে পানিতে প্রায় ১ ঘন্টা মাছ ভিজিয়ে রাখলে ফর্মালিনের মাত্রা শতকরা ৬১ ভাগ কমে যায়ঃ- লবনাক্ত পানিতে ফর্মালিন দেওয়া মাছ ১ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখলে শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ ফর্মালিনের মাত্রা কমে যায় বলে মনে করা হয় – প্রথমে চাল ধোয়া পানিতে ও পরে সাধারন পানিতে ফর্মালিন যুক্ত মাছ ধুলে শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ ফর্মালিন দূর হয় – সবচাইতে ভাল পদ্ধতি হল ভিনেগার ও পানির মিশ্রনে (পানিতে ১০ % আয়তন অনুযায়ী) ১৫ মিনিট মাছ ভিজিয়ে রাখলে শতকরা প্রায় ১০০ ভাগ ফর্মালিনই দূর হয়– এক লিটার পানিতে এক কাপ ভিনেগার মিশিয়ে শাকসবজি, ফলমুল কিংবা মাছ ১৫ মিনিট রাখুন এবং এরপর ধুয়ে নিন ভালো করে এবং এই পদ্ধতি অনেক টা ভাল অন্যান্য পদ্ধতির চাইতে । ঠিক সে ভাবে ফল মুল ও শাঁক সবজির বেলায় ও করতে হবে বলে জানানো হয়েছে ।
( Fruits: If you suspect that the fruit contains formalin, you must sink it under water for at least 1 hour. Then the formalin will be removed and you can eat the fruit.
Vegetables: Vegetables can be ripen by formaldehyde too. You should sink those under salt-water for at least 10 minutes before cooking. It will remove the formalin from the vegetables.
Fishes: Sink the fishes under water for one hour. It will remove 60% formalin. If you sink it under salt-water for one hour, 90% formalin will be removed. If you sink the fishes under vinegar mixed water [90% vinegar, 10% water], 100% formalin removal can be guaranteed!)
কিভাবে কিছু টা সন্দেহ করতে পারেন
ফরমালিন যোক্ত মাছ বা সবজি ?
ফরমালিনযুক্ত মাছের ফুলকা ধূসর, চোখ ঘোলাটে ও ফরমালিনের গন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া ফরমালিনযুক্ত মাছে মাছি বসে না। আঁইশ তুলনামূলক ধূসর বর্ণের হয়, শরীরে আঁশটে গন্ধ কম পাওয়া যায়, দেহ তুলনামূলক শক্ত হয়। অন্যদিকে ফরমালিনবিহীন মাছের ফুলকা উজ্জ্বল লাল বর্ণের হয়, চোখ ও আঁইশ উজ্জ্বল হয়, শরীরে আঁশটে গন্ধ পাওয়া যায়, মাছের দেহ নরম হয়, ত্বকের আঁশ পিচ্ছিল থাকে। ফরমালিন যুক্ত ফলে প্রাকৃতিক সুবাসের পরিবর্তে ঝাঁঝালো এক প্রকার গন্ধ থাকে। ফলের বোটার অংশটি নাকের কাছে ধরুন। যদি প্রাকৃতিক গন্ধ না পান বা ঝাঁঝালো গন্ধ নাকে লাগে তাহলে নিশ্চিত ভাবেই এতে ফরমালিন মেশানো হয়েছে মনে করতে পারেন।
ক্যালসিয়াম কার্বাইড ( calcium carbide )
সাধারনত ক্যালসিয়াম কার্বাইড এক ধরনের কেমিক্যাল (Ca C2) ধূসর কালো দানাদার রসুনের গন্ধযুক্ত রাসায়নিক পদার্থ। ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করা হয় ইস্পাত কারখানায়, ধাতব বস্তু কাটাকাটিতে বা ওয়েল্ডিং ইত্যাদি কাজে । অ্যাসিটিলিন গ্যাস তৈরি করার জন্য ইহা ব্যবহার করা হয়, বিস্ফোরক দ্রব্য তৈরির জন্যও এটি ব্যবহার করা হয় , যার দুটি ফর্মের কার্বন এটম ডাবল ও ট্রিপল এটম বন্ডে রূপান্তরিত করা যায় । তবে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারে ক্যালসিয়াম কার্বাইড এর সঙ্গে আর্সেনিক এবং ফসফরাস মিশ্রিত করে ব্যাবহার করা হয় । অন্য দিকে ইহা পানির সঙ্গে বিক্রিয়া করে ইথিলিন গ্যাস আর চুন তৈরি করে। এই ইথিলিন গ্যাসকে পলিমার বিক্রিয়া করা হলে পলিথিন তৈরি হয় বা বলতে পারেন পলিথিন তৈরির কাঁচামাল ।অন্যদিকে ক্যালসিয়াম ও কার্বন নিয়ে গঠিত পদার্থটিতে দুটি ক্ষতিকারক পদার্থ আর্সেনিক এবং ফসফরাস থাকে । তাই নিঃসন্দেহে মারাত্মক ক্ষতিকারক ইহা কাউকে বলার অপেক্ষা রাখেনা । সদ্য গবেষণায় সকলেই একমত ২১% সম্বাভনা আছে – যকৃৎ, কিডনি ও ফুসফুসের ক্যানসারের ।
কীভাবে ফল কে পাকায় ঃ- ক্যালসিয়াম কার্বাইড জলীয় সংস্পর্শে এলেই অ্যাসিটিলিন গ্যাস নির্গত করে, যা পাকানোর সময় ফলের সাথে মিশে ক্ষতিকর ইথাইলিনে রূপান্তরিত হয়। অ্যাসিটিলিন ইথাইলিনে রূপান্তরিত হয়ে ফল খুব শিগগিরই ফলের কষ ও ঘামের সঙ্গে এ পদার্থ মিশে গ্যাস তাপের সৃষ্টি করার ১২ /১৪ ঘণ্টার ভিতর ফল পাকতে শুরু করে কেউ কেউ সাথে কেরোসিন ব্যাবহার করেন ।
ক্যালসিয়াম কার্বাইড স্বস্থ্যের জন্য কি কি ক্ষতি করেঃ
কেমিক্যাল মিশ্রিত ফল খেলে মানুষ দীর্ঘমেয়াদি নানা রকম রোগে বিশেষ করে বদহজম, পেটের পীড়া, পাতলা পায়খানা, জন্ডিস, গ্যাস্ট্রিক, শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, লিভার ও কিডনি ন্ষট হওয়াসহ ক্যান্সারের মত জাটল রোগের সৃষ্টি হয়। এছাড়া মহিলারা এর প্রভাবে বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম দিতে পারে।– শ্বাসের সঙ্গে ক্যালসিয়াম কার্বাইডের গ্যাস গ্রহণ করলে তা ফুসফুসের জন্য তিকর। সাধারণত এর ফলে শ্বাসকষ্ট ও কাশি হয়। অতিমাত্রায় গ্রহণ করলে ফুসফুসে পানি জমে তীব্র শ্বাসকষ্ট হতে পারে।–ক্যালসিয়াম কার্বাইড ত্বকের সংস্পর্শে এলে জ্বালা-পোড়া হয় এবং লাল হয়ে ফুলে যেতে পারে।–চোখের সংস্পর্শে এলে চোখেও জ্বালা পোড়া হয় এবং চোখের কর্নিয়া বিনষ্ট হতে পারে।–ক্যালসিয়াম কার্বাইড মুখ, গলা এবং কোমল ঝিলি পর্দায় প্রদাহ সৃষ্টি করে।–ক্যালসিয়াম কার্বাইড থেকে উৎপন্ন অ্যাসিটিলিন গ্যাস অতিমাত্রায় শরীরে প্রবেশ করলে মাথা ঝিমঝিম করে, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় করা, ডায়রিয়া, পেটব্যথা, বমিবমিভাব এবং বমি হতে পারে। এমনকি অ্যাসিটিলিন বিষক্রিয়ার ফলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
কীভাবে বুজবেন ফলকে কার্বাইড দিয়ে পাকানো হয় ?-ফল দেখতে চেহারা উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয় লাগবে ।- ফল সমূহ দেখতে সম্পূর্ণ ফলের রঙ এক ধরনের দেখাবে, অথচ কার্বাইড দিয়ে না পাকালে ফলের গোড়া বা অন্যান্য অংসে সাদা কালো বা কসের দাগ থাকবেই অথবা একটি গাছের ফল কোন সময় সমান ভাবে পাকেনা । টমোটো, আম, পেঁপে ইত্যাদি ফলকে কৃত্রিমভাবে পাকানো হলে ফলত্বক সুষম রঙ ধারণ করে। কলার ক্ষেত্রে ফলত্বক হলুদ বর্ণের থাকলেও কাণ্ডের অংশ গাঢ় সবুজ রঙের থাকে। – ফলের গন্ধ রসুনের মত হালকা গন্ধ থাকতে পারে বা মিস্টি গন্ধ থাকবেনা – অথবা ফল মুখে দিলে দেখবেন টক বা মিষ্টি কোনো স্বাদই নেই বরং বিষাদ, পানসা, শক্ত ও তেতো স্বাদযুক্ত মনে হবে ।
কি পরীক্ষা করতে পারেন ঃ- কার্বাইডের অস্তিত্ব শনাক্তের জন্য আড়তগুলোর আম ডিস্টিল ওয়াটারে ডুবিয়ে তাতে ক্যালসিয়াম ইনডিকেটর দেওয়া হয়। কার্বাইড দিয়ে পাকানো আম কিছুক্ষণ পর সবুজ রং ধারণ করে।
ফরমালডিহাইড এবং ক্যালসিয়াম কার্বাইড ( Formaldehyde & calcium carbide )
Ref:- prof. Ir Chanif Mahdi – ECU Environmental Health & Safety- Medical Toxicology Doctors and Physicians ( UK ) – NICRH Bangladesh – WHO Etc
ফরমালিন হচ্ছে বর্ণহীন গন্ধ যোক্ত ফরমালডিহাইড ( রাসায়নিক সংকেত ফর্মালিন (-CHO-)n হল ফর্মালডিহাইডের (CH2O) পলিমার) গ্যাস থেকে পানির সাথে মিশ্রিত একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন প্রিজারভেটিভ – ইহা দেখতে সাদা – ১৮৫৯ সালে রুশ রসায়নবিদ আলেকজান্দর বুতলারভ ফরমালিনের অস্তিত্ব তাঁর প্রতিবেদনে তুলে ধরেন। পরবর্তীতে ১৮৬৯ সালে অগাস্ট উইলহেম ভন হফমেন স্বার্থকভাবে চিহ্নিত করেন। ফরমালিনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সংক্রমিত হতে না দেয়া। অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাককে মেরে ফেলতে পারে। সাধারণত ৩৭ থেকে ৪০ শতাংশ জলীয় দ্রবণই হলো ফরমালিন এবং কখন ও এর সাথে ১০-১২ ভাগ মিথানল ও মিশ্রিত করা হয় অতিরিক্ত প্রিজারভেশন ক্ষমতা বড়ানোর জন্য । ( মিথানল হইতেছে কাঠের উপরের রঙে যে স্প্রিট ব্যাবহার করা হয় তাই । যা মানব দেহের জন্য খুভি ক্ষতিকারক এমন কি নিত্য প্রয়োজনিয় আসবাব পত্র, ল্যাবরেটরি, ইনাডস্ট্রি ইত্যাদিতে নির্দিষ্ট পরিমান ব্যাবহারের অনুমতি থাকলে এর বিশেষ কিছু বিধি নিষেধ আছে । যদিও ফরমালিন ভাল একটি প্রিজারভেটিভ কিন্তু পিজারভেটীভ এর ভিবিন্ন গ্রেড আছে। ফুড গ্রেড নন ফুড গ্রেড। নন ফুড গ্রেড গুলো খাওয়া যায় না আর সেগুলো চরম মাত্রায় বিষাক্ত। ফরমালিন হইল সেই নন ফুড গ্রেডের পিজারভেটিভ তাই খাদ্য দ্রবতে এর ব্যাবহার সম্পূর্ণ নিষেধ । তা ছাড়া বৈজ্ঞানিকভাবে মানুষের জন্য ফরমালিনের লিথাল ডোজ ৩০ মি.মি ( ভিন্ন ব্যাবহারিক বস্থুতে ) এবং বাতাসে ২পিপিএম-( পেইন্ট বা যে কোন ইনাডাস্ট্রি থেকে ) বায়ুতে মিশ্রিত হলে তাও সম্পূর্ণ নিষেধ । ( ( Formalin is commonly used to describe a mixture of 37% to 38% formaldehyde in water. Formaldehyde is a gas. It has the formula HCHO or CH2O. A small amount of stabilizer, such as methanol 10-12%, is usually added to limit oxidation and polymerization )
ফরমালডিহাইড মেথড অনুসারে ভিন্ন নামে থাকতে পারে ( যে কোন প্যাকেটে যদি এই সব যে কোন একটি নাম দেখতে পান তা হলে মনে করবেন ফরমালিন ) ঃ Formic aldehyde- ethanediol –Methanal –Methyl aldehyde –Methylene glycol –Methylene oxide অথবা নিম্ন লিখিত কেমিক্যাল আইটেম সমুহ ও ফরমালিনের উৎপাদক বিধায় ইহা ও এক ধরণের ফরমালিন বলা হয় ঃ Benzylhemiformal –2-bromo-2-nitropropane-1,3-diol –5-bromo-5-nitro-1,3-dioxane –Diazolidinyl urea –1,3-dimethylol-5,5-dimethylhydantoin (or DMDM hydantoin) –Imidazolidinyl urea –Sodium hydroxymethylglycinate –Quaternium-15 । তাই এই সব কেমিক্যাল পদার্থ যে কোন খাদ্য দ্রব্যে লিখা থাকলে বা সন্ধ থাকলে তা থেকে দূরে থাকা উচিৎ ।
বৈধভাবে নির্দিষ্ট পরিমান ফরমালিন কি কাজে ব্যবহার করা হয় ঃ – ফরমালিন সাধারণত টেক্সটাইল, প্লাস্টিক, পেপার, রং, কনস্ট্রাকশন, পোলট্রি ও হ্যাচারি শিল্প, ল্যাবরেটরি, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কাঠ ও প্লাইউড শিল্প, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গবেশনায় , অ্যাগ্রো প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি, সায়েন্টিফিক ল্যাব, ওষুধ কোম্পানি, ভ্যারাইটিজ কনজিউমার প্রডাক্ট, ট্রেডিং কোম্পানিসহ ব্যাবহারের প্রয়োজন বা মৃতদেহ সংরক্ষণে খুভ বেশী উপকারী একটি কেমিক্যাল । কিন্তু দুর্ভাগ্য বশত বাংলাদেশ সহ কয়েক টি দেশে খাদ্যতে ফরমালিন ব্যাবহার করতে দেখা যায় যা কোন অবস্থাতেই স্বাস্থ্য সম্মত নয় – সেই সাথে খাদ্য দ্রবের সাথে সম্পর্ক যোক্ত কোন কিছুতেই ফরমালিন ব্যাবহার করে ঠিক নয় । যদিও কিছু কস্মেটিক ব্যাবহার সামগ্রী, নুখ পালিশ কিছু ক্রিম, শ্যাম্পু, সাবান ইত্যাদিতে ব্যাবহারের অনুমতি থাকলে ও তা ০.০২% ভিতরে থাকতে হয় । প্রাকৃতিক ভাবে কিছুটা ফরমালডিহাড্রেডের উপস্থিতি লক্ষ করা যায় তামাক জাতীয় সিগারেটে এবং আর ও বেশী ফরমাল্ডিহাইড্রেড উৎপন্ন হয় যারা সিগারেট নিভিয়ে আবার পান করেন । সেই সাথে যারা সিগারেট পান করেন না তাহারা ও আক্রান্ত হন ধূমপায়ীর শ্বাসের মাধ্যমে । ( concentrations in cosmetics and other personal care products like lotions, shampoo, conditioner, shower gel, and some fingernail polishes. These may raise the concentration of formaldehyde in the air inside the room for a short time, but the levels reached are far below what is considered to be hazardous)
প্রথমে জেনে নিন আসবাব পত্র ও নিত্য ব্যাবহারিক জিনিসে বা শিল্প কারখানায় অতিরিক্ত ফরমালডিহাইড ব্যাবহারে কি ক্ষতি হতে পারে ঃ- ফরমালডিহাইড অতিরিক্ত ব্যাবহার যে সব আসবাব পত্রে করা হয় তার গ্যাস থেকে বাতাসের মাধ্যমে মানব দেহের শ্বাসের ছড়িয়ে পরে, ফুস ফুস, শ্বাস নালি, মুখ গহ্বরে আক্রান্ত হয়ে ( শ্বাস তন্ত্র ) ভিন্ন ধরণের প্রদাহ যোক্ত অসুখ বা তা থেকে ( বিশেষ করে হাঁপানি ও নিউমোনিয়া বা গলার টনসিল জাতীয়- and cancer of the nasopharynx বা cancer of the nasal sinuses. বা leukemia, ) ক্যানসার সেল ডেবলাপ্ট হওয়ার সম্বাভনা খুভ বেশী, সে জন্য উন্নত দেশে ফরমালডিহাইড অন্তর্ভুক্ত সকল কেমিক্যাল পদার্থ ব্যাবহার সিমিত করার জন্য ইতিমধ্যেই বেশ কড়া কড়ি আইন ও নিয়ম তৈরি করা হয়েছে এবং ফরমালিন জাতীয় কেমিক্যাল সুমহে যাহারা কাজ করেন তাদের জন্য ও বিশেষ নিয়ম ও সতর্কতা অবলম্বনের ব্যাবস্তা করা দরকার ( পেইন্টও প্লাস্টিক , চামড়া ইত্যাদির )
( ইন্টারন্যাশনাল কেমিক্যাল ইম্পোরট ডাটা ভিত্তিক তথ্য ) বাংলাদেশের গত বছরে ফরমালিন আমাদানি কৃত ডাটাতে দেখা গেল দেশের শিল্প প্রতিস্টান ও হাসপাতালের চাহিদা ছিল ২০১২/১৩ সালে ৭৫ টন সেই খানে আমাদানি করা হয় ৩০০ টনের মত । চলতি বছর দেশের চাহিদা ছিল ১০০ টনের সেখানে আমাদানি করা হয়েছে ৫০০ টন । গড়ে বাদ বাকি ৪০০ টন ফরমাল্ডিহাইড্রেট গেল কোথায় ? নিশ্চয় যেভাবেই হউক মানুষের পেটে !!! ( আমার ব্যাক্তি গত অভিমত ) সে জন্য দেশে যতই শক্ত আইন করা হয়না কেন কাজ হবেনা , যতক্ষণ গন সচেতনতা সহ ওদের প্রতি ঘৃণা না জন্মানো যাবে এবং সেই সাথে মুল ডিস্ট্রিবিউটার ও আমদানিকারকদের উপর কড়া নজর দারি সহ আইনের সঠিক প্রয়োগ সব সময় প্রয়োজন । তাহলে কিছু টা প্রতিরোধ হতে পারে । কারন সাধারণ ফরমালিন যোক্ত খাদ্য দ্রব্য স্রব্রাহ কারিরা কারিরা অপরাধী নয়, তাই ওদের কে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে , সর্বস্ব জরিমানা ইত্যাদি করে তেমন লাভবান হওয়ার কথা নয় , বা এ ধরণের ভয়ে সামিয়িক কিছু টা উপকৃত হলেও ওরা পেটের জ্বালায় আবার এই কাজে লাগবেই । তাই ইহা জনগন কে না দেখিয়ে মুল জায়গায় ঠিক মত নক করলেই মনে হয় সবচেয়ে বেশী সুফলতা বয়ে আনবে ।
ফরমালিন স্বাস্থ্যের কি কি ক্ষতি করতে পারে ? – What are the health effects of Formalin ?
ফরমালিনের ব্যাবহারে কি কি অসুখ বা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে ঃপ্রাথমিক ভাবে ফরমালিন যুক্ত ফলমূলসহ অন্যান্য খাবার গ্রহণের ফলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা নষ্ট, হাঁচি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, আ্যাজমা বদহজম, ডায়রিয়া, আলসার, চর্মরোগের উপদ্রব দেখা দেয় এবং পর্যায় ক্রমে যা দেখা দিয়ে থাকে ঃ- ফরমালডিহাইড চোখের রেটিনাকে আক্রান্ত করে রেটিনার কোষ ধ্বংস করে। ফলে মানুষ অন্ধ হয়ে যেতে পারে– এই রাসায়নিক পদার্থ লিভার, কিডনি, হার্ট, ব্রেন সব কিছুুকে ধ্বংস করে দেয়। লিভার ও কিডনি অকেজো হয়ে যায়। হার্টকে দুর্বল করে দেয়। স্মৃতিশক্তি কমে যায়। ফরমালিনযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করার ফলে পাকস্থলী, ফুসফুস ও শ্বাসনালিতে ক্যান্সার হতে পারে। অস্থিমজ্জা আক্রান্ত হওয়ার ফলে রক্তশূন্যতাসহ অন্যান্য রক্তের রোগ, এমনকি ব্লাড ক্যান্সারও হতে পারে। এতে মৃত্যু অনিবার্য। মানবদেহে ফরমালিন ফরমালডিহাইড ফরমিক এসিডে রূপান্তরিত হয়ে রক্তের এসিডিটি বাড়ায় এবং শ্বাস-প্রশ্বাস অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করে। ফরমালিন ও অন্যান্য কেমিক্যাল সামগ্রী সব বয়সী মানুষের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে। ফরমালিনযুক্ত দুধ, মাছ, ফলমূল এবং বিষাক্ত খাবার খেয়ে দিন দিন শিশুদের শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে যায় বা কিডনি, লিভার ও বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নষ্ট, বিকলাঙ্গতা সহ শিশুদের বুদ্ধিমত্তা দিন দিন কমিয়ে দিতে পারে ।গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রেও মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। সন্তান প্রসবের সময় জটিলতা, বাচ্চার জন্মগত দোষত্রুটি ইত্যাদি দেখা দিতে পারে বা প্রতিবন্ধী শিশুর জন্ম হতে পারে। অনেক সময় এ রকম ও দেখা যায়, কয়েক দিন পরপর একই রোগী ডায়রিয়ায় ভুগছেন, পেটের পীড়া ভালো হচ্ছে না, ঘন ঘন চর্মরোগে আক্রান্ত হইতেছেন । অর্থাৎ দীর্ঘ দিন ফরমালিন বা ঐ জাতীয় কেমিক্যাল পদার্থ দীর্ঘদিন যাহারা খেয়ে থাকেন তিনিদের ৮৭% সম্বাভনা আছেই পাকস্থলী, ফুসফুস , শ্বাসনালি, ও অস্থিমজ্জায় ক্যানসারের মত মারাত্মক অসুখ হওয়ার । ( ল্যাব রিসাচ )
সর্বশেষ তথ্য অনুসারে পূর্ণ নিশ্চিত হয়েছেন বিজ্ঞানীরা ঃ- যাহারা ৫.৬০ পিপিএম হতে ১৫প্পিএম পর্যন্ত ফরমালিন যোক্ত খাবার গ্রহন করবেন একনাগারে ২ বছর তাদের বেলায় ৯০% বেলায় শ্বাস তন্র, পাকস্থলী বা লিভার ক্যানসার হবেই _ ( ক্যানসার রিসার্চ ইন্সটি , ইউকে )
ফরমালিন যোক্ত খাবার চিনবেন কিভাবে ( সংগৃহীত ) ঃ প্রসঙ্গত উল্লেখ করতেই হয় , ফরমালিন যোক্ত খাবার কিভাবে চিনা যাবে সে জন্য হাজার খানেক মেইল পাঠাই আমাদের রিসার্চ লাইব্রেরী ও গবেষকদের কাছে । একমাত্র ভারত, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ড চাড়া সবাই জানালেন ফরমালিন আবার খাবারে দেওয়া হয় নাকি ? বা জানেন না বা অনেকে উলটো অনুরুধ করেছেন আমি যেন তিনিদের কে জানাই কি কি খাবারে দেওয়া হইতেছে ইত্যাদি !!! তার পর ও নিজ দেশের সুনাম ধন্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার সম্প্রতি দেওয়া কিছু উপদেশ থেকে কিছু টা জানার চেস্টা করলাম ঃ
বর্তমানে বাংলাদেশে ফরমালিন বা অন্যান্য কৃত্রিম উপাদান ছাড়া খাবার খুভ কম আছে ইহা বলে লাভ নেই ,মনে রাখবেন খাবারে তাপের মাধ্যমে ফরমালিনের ক্ষতিকর প্রভাব নষ্ট হয় না বরং লিকুডেশন বাড়ে ( তরলীকরণ ) তারপর ও যত টুকু পারেন সতর্ক থাকতেই হবে বা অন্য কে সতর্ক রাখা মানবিক দায়িত্ব । এ ছাড়া ও যায় ফরমালিন ছাড়া ক্যালসিয়াম কার্বাইড , কপার সালফেট, কার্বনের ধোঁয়া, পটাশের লিকুইড সলিউশন, জ্বালানো মবিল, ডিডিটি এমন কি আলকাতরা বা ইউরিয়া শ্বার ও ব্যাবহার করে থাকেন সুবিধা ভোগী কিছু ব্যাবসিয়ারা – যা কল্পনা করার মত নয় এমন কি মাল্টি ন্যাশনাল কিছু কোম্পানিরা ও ব্যাবহার করিতেছে , যেমন ফলের রস, স্ন্যাক্সফুড, জ্যাম-জেলি, আচার-চাটনি, সেমাই ও নুডলস ইত্যাদিতে । তাই সুন্দর প্যাকেটের যোগে খাদ্য দেখতে সুন্দর হলেই যে ভাল হবে তাও বলা মুশকিল ।
১০০% নিশ্চিত ভাবে ফরমালিন দেওয়া খাদ্য দ্রব্য চুখে দেখে বলার মত নয়, সে জন্য কিছু ইলেক্ট্রনিক গ্যাস ডিটেক্টর আছে যা দিয়ে পরিক্ষা করলে ৯৫% নিশ্চিত হওয়া যায় বা বাজারে কিছু স্টিকার কিনতে মিলে তা দিয়ে পরিক্ষা করলে বুজা যায় , তাও সাধারণ জনগণের জন্য ব্যয় সাধ্য বিধায় আপাদত নিজের বুদ্ধি খাটিয়েই শাকসবজি, মাছ ইত্যাদি কিনতে হবে । ( যদি ও কিছু দিনের ভিতরে খুভ সস্থা দামে এ সব স্টিকার বাজারে আসার কথা )
সাধারণ ভাবে ফরমালিন সনাক্ত করতে হলে ঃসন্দেহযুক্ত ফরমালিন মাছ ধুয়ে পানিতে ৩% (আয়তন) হাইড্রোজেন পারক্সাইড মেশালে ফরমালডিহাইড অক্সিডাইজড হয়ে ফরমিক অ্যাসিডে রূপান্তর হয়। ফরমিক এসিড প্রমাণের জন্য সে পানিতে অল্প মারকিউরিক ক্লোরাইড মেশালে সাদা রঙের তলানি পড়বে। তাতেই প্রমাণ হবে ফরমিক অ্যাসিড তথা ফরমালডিহাইড তথা ফরমালিন। ( ল্যাব ) অথবা ফরমালডিহাইডের দ্রবণের সঙ্গে ২ সিসি ফিনাইল হাইড্রোজাইন হাইড্রোকোরাইড (১%) এবং ১ সিসি ৫% পটাসিয়াম ফেরিসায়ানাড দিয়ে তারপর ৫ সিসি ঘনীভূত হাইড্রোকোরিক অ্যাসিড মেশালে পুরো দ্রবণ গাঢ় গোলাপী রঙ হয়ে থাকে।
দুধের বেলায় ঃ একটি টেস্ট টিউবে ১০ এম এল দুধ নিয়ে তাথে ৫এম এল সালফিউরিক এসিড ও ফেরিক ক্লোরাইডের মিশিয়ে একটু নড়া চড়া করলে যদি নীল-লোহিত বর্ণের রিং তৈরি করে তা হলে বুজতে হবে এতে ফরমালিন মিশ্রিত আছে ( Take 10 ml of milk in test tube and 5 ml of conc. sulphuric acid is added on the sides of the test tube with out shaking. If a violet or blue ring appears at the intersection of the two layers, then it shows the presence of formalin ) তবে গুড়া দুধের বেলায় ধরা খুভ কস্টকর বিশেষ করে মেলানিন সহ কেমিক্যাল পদার্থের । কথিত আছে বড় বড় খামার বাড়ির কর্তারা প্যাকেট জাত দুধ উৎপাদন কারীর কাছে পৌছে দেয়ার আগে, দুধে কয়েক ফোটা ফরমালিন মিশ্রিত করে নেয় যা ” খামারীর ফোটা ” নামে অনেকেই জানেন মুলত ইহাই ফরমালিন অথচ এই দুধ খেয়ে ছোট ছোট কোমলমতী বাচ্চারা অবসন্নতা ও মেধা শূন্যতায় ভুগতে পারে সে কথা মনে রাখা উচিৎ ।
(যদিও বৈজ্ঞানিক ভাবে ১০০% নিশ্চিত নয় তার পর ও গড়ে ৬০% ফরমালিন মুক্ত থাকা সম্বভ কেননা পরীক্ষায় দেখা যায ফরমালিন মিশ্রত পন্য এক ঘন্টা পানিতে ডুবিয়ে রাখলে সর্বোচ ০.০৫ পিপিএম পরিমাণ কমতে পারে। যেখানে মাছে ফরমালিনের মাত্রা ০.৫-৫.০ পিপিএম দেখা যায় তখন কত টুকু ফরমালিন মুক্ত হবে বুজতেই পারছেন ! )
ফরমালিন দূর করতে হলে যা যা করতে পারেন ঃ ( সংগৃহীত ) পরীক্ষায় দেখা গেছে পানিতে প্রায় ১ ঘন্টা মাছ ভিজিয়ে রাখলে ফর্মালিনের মাত্রা শতকরা ৬১ ভাগ কমে যায়ঃ- লবনাক্ত পানিতে ফর্মালিন দেওয়া মাছ ১ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখলে শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ ফর্মালিনের মাত্রা কমে যায় বলে মনে করা হয় – প্রথমে চাল ধোয়া পানিতে ও পরে সাধারন পানিতে ফর্মালিন যুক্ত মাছ ধুলে শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ ফর্মালিন দূর হয় – সবচাইতে ভাল পদ্ধতি হল ভিনেগার ও পানির মিশ্রনে (পানিতে ১০ % আয়তন অনুযায়ী) ১৫ মিনিট মাছ ভিজিয়ে রাখলে শতকরা প্রায় ১০০ ভাগ ফর্মালিনই দূর হয়– এক লিটার পানিতে এক কাপ ভিনেগার মিশিয়ে শাকসবজি, ফলমুল কিংবা মাছ ১৫ মিনিট রাখুন এবং এরপর ধুয়ে নিন ভালো করে এবং এই পদ্ধতি অনেক টা ভাল অন্যান্য পদ্ধতির চাইতে । ঠিক সে ভাবে ফল মুল ও শাঁক সবজির বেলায় ও করতে হবে বলে জানানো হয়েছে ।
( Fruits: If you suspect that the fruit contains formalin, you must sink it under water for at least 1 hour. Then the formalin will be removed and you can eat the fruit.
Vegetables: Vegetables can be ripen by formaldehyde too. You should sink those under salt-water for at least 10 minutes before cooking. It will remove the formalin from the vegetables.
Fishes: Sink the fishes under water for one hour. It will remove 60% formalin. If you sink it under salt-water for one hour, 90% formalin will be removed. If you sink the fishes under vinegar mixed water [90% vinegar, 10% water], 100% formalin removal can be guaranteed!)
কিভাবে কিছু টা সন্দেহ করতে পারেন
ফরমালিন যোক্ত মাছ বা সবজি ?
ফরমালিনযুক্ত মাছের ফুলকা ধূসর, চোখ ঘোলাটে ও ফরমালিনের গন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া ফরমালিনযুক্ত মাছে মাছি বসে না। আঁইশ তুলনামূলক ধূসর বর্ণের হয়, শরীরে আঁশটে গন্ধ কম পাওয়া যায়, দেহ তুলনামূলক শক্ত হয়। অন্যদিকে ফরমালিনবিহীন মাছের ফুলকা উজ্জ্বল লাল বর্ণের হয়, চোখ ও আঁইশ উজ্জ্বল হয়, শরীরে আঁশটে গন্ধ পাওয়া যায়, মাছের দেহ নরম হয়, ত্বকের আঁশ পিচ্ছিল থাকে। ফরমালিন যুক্ত ফলে প্রাকৃতিক সুবাসের পরিবর্তে ঝাঁঝালো এক প্রকার গন্ধ থাকে। ফলের বোটার অংশটি নাকের কাছে ধরুন। যদি প্রাকৃতিক গন্ধ না পান বা ঝাঁঝালো গন্ধ নাকে লাগে তাহলে নিশ্চিত ভাবেই এতে ফরমালিন মেশানো হয়েছে মনে করতে পারেন।
ক্যালসিয়াম কার্বাইড ( calcium carbide )
সাধারনত ক্যালসিয়াম কার্বাইড এক ধরনের কেমিক্যাল (Ca C2) ধূসর কালো দানাদার রসুনের গন্ধযুক্ত রাসায়নিক পদার্থ। ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করা হয় ইস্পাত কারখানায়, ধাতব বস্তু কাটাকাটিতে বা ওয়েল্ডিং ইত্যাদি কাজে । অ্যাসিটিলিন গ্যাস তৈরি করার জন্য ইহা ব্যবহার করা হয়, বিস্ফোরক দ্রব্য তৈরির জন্যও এটি ব্যবহার করা হয় , যার দুটি ফর্মের কার্বন এটম ডাবল ও ট্রিপল এটম বন্ডে রূপান্তরিত করা যায় । তবে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারে ক্যালসিয়াম কার্বাইড এর সঙ্গে আর্সেনিক এবং ফসফরাস মিশ্রিত করে ব্যাবহার করা হয় । অন্য দিকে ইহা পানির সঙ্গে বিক্রিয়া করে ইথিলিন গ্যাস আর চুন তৈরি করে। এই ইথিলিন গ্যাসকে পলিমার বিক্রিয়া করা হলে পলিথিন তৈরি হয় বা বলতে পারেন পলিথিন তৈরির কাঁচামাল ।অন্যদিকে ক্যালসিয়াম ও কার্বন নিয়ে গঠিত পদার্থটিতে দুটি ক্ষতিকারক পদার্থ আর্সেনিক এবং ফসফরাস থাকে । তাই নিঃসন্দেহে মারাত্মক ক্ষতিকারক ইহা কাউকে বলার অপেক্ষা রাখেনা । সদ্য গবেষণায় সকলেই একমত ২১% সম্বাভনা আছে – যকৃৎ, কিডনি ও ফুসফুসের ক্যানসারের ।
কীভাবে ফল কে পাকায় ঃ- ক্যালসিয়াম কার্বাইড জলীয় সংস্পর্শে এলেই অ্যাসিটিলিন গ্যাস নির্গত করে, যা পাকানোর সময় ফলের সাথে মিশে ক্ষতিকর ইথাইলিনে রূপান্তরিত হয়। অ্যাসিটিলিন ইথাইলিনে রূপান্তরিত হয়ে ফল খুব শিগগিরই ফলের কষ ও ঘামের সঙ্গে এ পদার্থ মিশে গ্যাস তাপের সৃষ্টি করার ১২ /১৪ ঘণ্টার ভিতর ফল পাকতে শুরু করে কেউ কেউ সাথে কেরোসিন ব্যাবহার করেন ।
ক্যালসিয়াম কার্বাইড স্বস্থ্যের জন্য কি কি ক্ষতি করেঃ
কেমিক্যাল মিশ্রিত ফল খেলে মানুষ দীর্ঘমেয়াদি নানা রকম রোগে বিশেষ করে বদহজম, পেটের পীড়া, পাতলা পায়খানা, জন্ডিস, গ্যাস্ট্রিক, শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, লিভার ও কিডনি ন্ষট হওয়াসহ ক্যান্সারের মত জাটল রোগের সৃষ্টি হয়। এছাড়া মহিলারা এর প্রভাবে বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম দিতে পারে।– শ্বাসের সঙ্গে ক্যালসিয়াম কার্বাইডের গ্যাস গ্রহণ করলে তা ফুসফুসের জন্য তিকর। সাধারণত এর ফলে শ্বাসকষ্ট ও কাশি হয়। অতিমাত্রায় গ্রহণ করলে ফুসফুসে পানি জমে তীব্র শ্বাসকষ্ট হতে পারে।–ক্যালসিয়াম কার্বাইড ত্বকের সংস্পর্শে এলে জ্বালা-পোড়া হয় এবং লাল হয়ে ফুলে যেতে পারে।–চোখের সংস্পর্শে এলে চোখেও জ্বালা পোড়া হয় এবং চোখের কর্নিয়া বিনষ্ট হতে পারে।–ক্যালসিয়াম কার্বাইড মুখ, গলা এবং কোমল ঝিলি পর্দায় প্রদাহ সৃষ্টি করে।–ক্যালসিয়াম কার্বাইড থেকে উৎপন্ন অ্যাসিটিলিন গ্যাস অতিমাত্রায় শরীরে প্রবেশ করলে মাথা ঝিমঝিম করে, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় করা, ডায়রিয়া, পেটব্যথা, বমিবমিভাব এবং বমি হতে পারে। এমনকি অ্যাসিটিলিন বিষক্রিয়ার ফলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
কীভাবে বুজবেন ফলকে কার্বাইড দিয়ে পাকানো হয় ?-ফল দেখতে চেহারা উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয় লাগবে ।- ফল সমূহ দেখতে সম্পূর্ণ ফলের রঙ এক ধরনের দেখাবে, অথচ কার্বাইড দিয়ে না পাকালে ফলের গোড়া বা অন্যান্য অংসে সাদা কালো বা কসের দাগ থাকবেই অথবা একটি গাছের ফল কোন সময় সমান ভাবে পাকেনা । টমোটো, আম, পেঁপে ইত্যাদি ফলকে কৃত্রিমভাবে পাকানো হলে ফলত্বক সুষম রঙ ধারণ করে। কলার ক্ষেত্রে ফলত্বক হলুদ বর্ণের থাকলেও কাণ্ডের অংশ গাঢ় সবুজ রঙের থাকে। – ফলের গন্ধ রসুনের মত হালকা গন্ধ থাকতে পারে বা মিস্টি গন্ধ থাকবেনা – অথবা ফল মুখে দিলে দেখবেন টক বা মিষ্টি কোনো স্বাদই নেই বরং বিষাদ, পানসা, শক্ত ও তেতো স্বাদযুক্ত মনে হবে ।
কি পরীক্ষা করতে পারেন ঃ- কার্বাইডের অস্তিত্ব শনাক্তের জন্য আড়তগুলোর আম ডিস্টিল ওয়াটারে ডুবিয়ে তাতে ক্যালসিয়াম ইনডিকেটর দেওয়া হয়। কার্বাইড দিয়ে পাকানো আম কিছুক্ষণ পর সবুজ রং ধারণ করে।
নার্সারি পুকুর ব্যবস্থাপনায় করণীয়
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 5:07 AM
মাছ চাষের ক্ষেত্রে রেনু পোনাকে ছোট জলাশয়ে প্রতিপালন করে অপেক্ষাকৃত বড় জলাশয়ে বা পুকুরে ছেড়ে মাছ চাষ করা হয়। যে সকল ছোট পুকুরে বা জলাশয়ে রেনু পোনা বা ধানী পোনা অতি যত্ন সহকারে পালন করা হয় তাকে আতুর পুকুর বা নার্সারি পুকুর বলে।
মাছের রেনু বা ধানী পোনা প্রয়োজনীয় পরিচর্যার মাধ্যমে লালন পালন করে মজুদ পুকুরে ছেড়ে চারা পোনায় উন্নীত করার পদ্ধতিকে নার্সারি ব্যবস্থাপনা বলে। অর্থনৈতিক দিক থেকে নার্সারী ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় নার্সারি পুকুর ব্যবস্থায় উন্নত পদ্ধতি অনুসরন করা প্রয়োজন। ৩-৫ দিনের রেণু ছেড়ে পোনা তৈরী করাকে নার্সারি বলে।
পোনা চাষে পুকুরের বৈশিষ্ট্য/নার্সারি পুকুরের বৈশিষ্ট্যঃ
যে কোন অগভীর, বাৎসরীক বা মৌসুমি পুকুরকে মাছের পোনা প্রতিপালনের জন্য নার্সারি পুকুর হিসাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে আতুর পুকুর ছোট হওয়ায় ভাল।
কার্প জাতীয় মাছের পোনা প্রতিপালনের উপযোগী নার্সারি পুকুরের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো – পুকুরটি হবে খোলামেলা, ভালো যাতায়েত ব্যাস্থা, উত্তর- দক্ষিন লম্বা হলে ভাল হয়, আয়তন ১০-২৫ শতাংশ, পানির গভীরতা ২.৫- ৩ ফুট, দো-আশ, পলি দো-আশ বা এটেল দো-আশ মাটি, তলদেশে কাদার বেশী না হওয়ায় ভাল, জলজ আগাছা না থাকা, বন্যা মুক্ত শক্ত ও উচু পাড়, পড়ে গাছ বা ঝোপঝাড় না থাকা, পানি নিষ্কাশন ও সরবরাহ ব্যবস্থা থাকা প্রভৃতি।
নার্সারি ব্যবস্থাপনাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ ক) আতুর পুকুর ব্যবস্থাপনা; খ) কাটাই বা লালন পুকুর ব্যবস্থাপনা
ক) আতুর পুকুর ব্যবস্থাপনাঃ আতুর পুকুরে সাধারনত ১০-১৫ দিন রেণু পোনা লালন পালন করা হয়। এই পুকুরে সঠিক ব্যবস্থাপনার উপর মাছের পোনা বাঁচার হার এবং বৃদ্ধি নির্ভর করে।
ক) আগাছা ও পাড় পরিস্কারঃ নার্সারি পুকুর পাড়ের আগাছা পরিস্কার করতে হবে এতে বেশী আলো পড়ে
– পোনার প্রাকৃতিক খাদ্য বেশী তৈরী হয়
– পোনা উৎপাদন বেশী হয়
– মাঘ-ফাল্গুন- চৈত্র মাসে এ কাজটি করতে হবে।
খ) পুকুরের পাড় মেরামত ও তলা সংস্কার ঃ-
– প্রতি বছর নার্সারি পুকুর শুকানো ভাল
– পুকুর শুকানোর পর ভাঙ্গা পাড় উচু,মজবুদ,এবং ছিদ্রবিহীন ভাবে মেরামত করতে হবে
– অতিরিক্ত কাদা তুলে ফেলে অসমান তলদেশ সমান করতে হবে
– শুকানোর পর তলায় চাষ দিতে হবে
– পুকুর পাড়ের ঢাল ১ঃ২ হতে হবে
পুকুরের পাড় ও তলা সংস্কারের উপকারিতাঃ –
– মাটি চাষ দিলে মাটির বাধন আলগা হয় তাতে সূর্যের আলো মাটির গভীরে প্রবেশ করার ফলে রোগ জীবানু মারা যায় এবং মাটির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ে
-পুকুরের মাটি ও পানির গুনাগুন ভাল থাকে
– তলার বিষাক্ত গ্যাস দূর হয়
– পোনা মাছ আহরনের সময় জাল টানা সহজ হয়
– পুকুরের পাড় মেরামত ও উচু হলে রেণুপোনার চাষ এবং পরিচর্যা সহজ হয়
– বাইরের দূষিত পানি ভিতরে প্রবেশ করতে পারে না
– বাইরের রাক্ষুসে ও অচাষকৃত প্রজাতীর মাছ পুকুরে ঢুকতে পারবে না।
গ) জলজ আগাছা দমনঃ পুকুরে ভাসমান , ডুবন্ত নানা জাতের আগাছা ও শেওলা তুলে ফেলতে হবে কারন ঃ
– মাছের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে
– মাটি ও পানির পুষ্টিকর উপাদান ব্যবহারের কারনে পুকুরে মাছের খাদ্য তৈরীতে বাধার সৃষ্টি হয়
– নার্সারি পুকুরে অতিরিক্ত তন্তÍ জাতীয় শেওলা থাকলে পোনা আহরনের সময় তন্তÍ জাতীয় শেওলায় আটকে পোনা মারা যায়
– কায়িক শ্রম দ্বারা এ আগাছা দূর করা যায়
– প্রতি শতাংশে ৮-১০ গ্রাম তুতে(কপার সালফেট)পানিতে মিশিয়ে সমস্ত পুকুরে ছিটিয়ে দিলে ৩-৪ দিনের মধ্যে সমস্ত শেওলা মারা যায়।
জলজ আগাছ নিয়ন্ত্রনের উপকারিতাঃ
– পানিতে সরাসরি আলো পড়ে ফলে প্রাকৃতিক খাদ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়
– পোনা মাছের জন্য ক্ষতিকারক জীবানু ও প্রাণী ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে না
– পোনা মাছের চলাচল সহজ হয় এবং জাল টানতে সুবিধা হয়
– খাদ্য প্রয়োগে সুবিধা হয়
– পোনা উৎপাদন বেশী হয়।
ঘ) রাক্ষুসে ও অচাষকৃত মাছ দূরীকরনঃ রাক্ষুসে মাছ চাষকৃত মাছের রেণু / পোনা খেয়ে ফেলে, অচাষকৃত মাছ চাষকৃত মাছের রেণু / পোনার খাবার খেয়ে ফেলে তাই নার্সারি পুকুর হতে রাক্ষুসে ও অচাষকৃত মাছ যেমন-শোল,টাকি, গজার, বোয়াল,ফলি,চান্দা পুটি, মলা,চেলা,শিং মাগুর , কৈ সহ যে কোন ধরনের রাক্ষুসে ও অচাষকৃত মাছ দূর করতে হবে। মাছের রেনু পোনা ছাড়ার আগেই পুকুর শুকিয়ে ,বার বার জাল টেনে অথবা রোটেনন প্রয়োগ করে রাক্ষুসে ও অচাষকৃত মাছ পুকুর থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে।
রাক্ষুসে ও অচাষকৃত মাছ দূরীকরনের উপকারিতাঃ
– রেণুর বাচার হার বেশী
– মাছের পোনা বাচার হার বাড়ে
– প্রাকৃতিক ও সম্পূরক খাদ্যের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হয়
– মাছের রোগ বালাই হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
রাক্ষুসে ও অচাষকৃত মাছ পুকুর থেকে দূরীকরনের উপায় –
পুকুর শুকিয়েঃ নার্সারি পুকুর হতে রাক্ষুসে ও অচাষকৃত মাছ দূরীকরণের সর্বোত্তম উপায় হলো শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচে শুকিয়ে ফেলা। পুকুর শুকানোর পর তলায় প্রয়োজনে চাষ দেওয়া এবং কড়া রোদে বেশ কিছুদিন (১৫ দিন) পুকুর ফেলে রাখা। এ কাজ টি ফাল্গুন-চৈত্র মাসে করলে খরচ ও সময় দুইই কম লাগে।
বার বার জালটেনেঃ পুকুর শুকানো সম্ভব না হলে ঘন ফাসের জাল বার বার টেনে রাক্ষুসে ও অচাষকৃত মাছ দূর করা যায়।
রোটেনন প্রয়োগ করেঃ রোটেনন পাউডার প্রয়োগ করে পুকুর হতে রাক্ষুসে ও অচাষকৃত মাছ দূর করা য়ায়। প্রতি শতাংশে প্রতি ফুট পানির গভীতার জন্য ৯.১ মাত্রার ২৫-৩০ গ্রাম রোটেনন প্রয়োজন। কড়া রোদে সকাল ১০-১১ টার সময় প্রয়োগ করলে রোটেননের কার্যকারিতা বেশি পাওয়া যায়। প্রয়োজনীয় মোট রোটেননের তিন ভাগের এক ভাগ কাই তৈরী করে ছোট ছোট বল করে সমস্ত পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে এবং বল ছিটানোর পর পরই বাকি দুই ভাগ বেশে পরিমান পানির সাথে ভালবাবে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। প্রায় ২০-৩০ মিনিট পর মাছ আক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে জাল টেনে সমন্ত মাছ ধরে ফেলেতে হবে। জাল টেনে পুকুরের পানি উলোট-পালট করে দিলে বিষের কার্যকারিতা বেড়ে যায়। রোটেনননের বিষাক্ততার মেয়াদ ৬-৭ দিন। এই রোটেনন পাউডার দিয়ে মারা মাছ খেলে কোন অসুবিধা হয় না।
রোটেনন প্রয়োগের সতর্কতাঃ
– রোটেনন গুলানো ও প্রয়োগের সময় হাতে পলিথিন ও নাকে মুখে গামছা বেধে নিতে হবে।
– রোটেনন বাতাসের অনুকুলে ছিটাতে হবে।
– রোটেনন প্রয়োগের পর হাত ভাল ভাবে সাবান দিয়ে নিতে হবে এবং পাত্র গুলো ও ভাল ভাবে পরিস্কার বরতে হবে।
– রোটেনন সব সময় বাচ্চাদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে।
– রোটেনন বৃষ্টির দিনে কিংবা মেঘলা সময়ে প্রয়োগ করলে ভাল ফলাফল পাওয়া যাবে না।
– রোটেনন ব্যবহারের পর পাত্রটি ভাল ভাবে পরিষ্কার করতে হবে।
ঙ) পুকুর প্রস্তÍতকালীন চুন প্রয়োগঃ পুকুরের তলদেশের মাটি সূর্যালোকে শুকিয়ে গেলে পুকুরের তরদেশে লাঙ্গল দিয়ে ভাল ভাবে চাষ করে শতাংশ প্রতি ১ কেজি হারে পোড়াচুন পাড় সহ সমস্ত পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে।
এ প্রক্রিয়ায় পুকুরের তলদেশের পরজীবি প্রাণী মারা যায় এবং পুকুরের পানি কিছুটা খারযুক্ত হয়। এছাড়াও মাটি থেকে পুষ্টিকর পদার্থ মুক্ত হয়ে পোনা মাছের খাবার উৎপাদনে সহায়তা করে। সন্ধা রাতে মাটির চাড়ি বা ড্রামে তিন গুন পানিতে চুন ভিজিয়ে রাখতে হবে। ঠান্ডা হওয়ার পর আরো ও পানি মিশিয়ে পানি ভর্তি পুকুরের ক্ষেত্রে ঢাল সহ সমস্ত পুকুরে সমান ভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে। পুকুরে চুন প্রয়োগের ৩ দিন পরে পানি সরবরাহ করতে হবে। যদি পানি নিষ্কাশন না করে রোটেনন প্রয়োগ করা হয় তাহলে রোটেনন প্রয়োগের ৩-৫ দিন পর চুন দিতে হবে।
চুন ব্যবহারের মাত্রাঃ PH ৩-৫ চুন ৬ কেজি, PH ৫-৬ চুন ৪ কেজি, PH ৬-৭ চুন ২ কেজি।
প্রতি তিন মাস পরপর চুন প্রয়োগ করলে পুকুরের স্বাস্থ্য কর অবস্থা বজায় থাকে। এক্ষেত্রে চুনের মাত্রা হবে প্রাথমিক মাত্রার ১/৪ ভাগ থেকে ১/২ ভাগ।
ভাল চুন শনাক্তবরনের উপায়ঃ একটি কাচের গ্লাসে কিছু পরিমান পানি নিয়ে তাতে এক টুকরা চুন দিয়ে পরীক্ষা করা যায়। ভাল চুন বিক্রিয়া করে পানিতে বুদবুদ ও তাপ সৃষ্টি করে চুন কেনার সময় বাজারে বসে চায়ের কাপে বা গ্লাসে চুন ও পানি নিয়ে ভাল চুন সনাক্ত করা যায়।
চ) পানি প্রবেশঃ পুকুর শুকানো হলে চুন প্রয়োগের ২-৩ দিন পর পুকুরে পানি প্রবেশ করাতে হবে। পানি উত্তোলোনের ক্ষেত্রে গভীর নলকুপের বা শ্যালো ইঞ্জিনের দ্বারা মাটির নীচের পানি প্রবেশ করানো ভাল। যদি পুকুর বা অন্য ডোবা থেকে পানি প্রবেশ করানো হয় সে ক্ষেত্রে অবশ্যই ফিল্টার নেট দিয়ে পানি ছেঁকে প্রবেশ করাতে হবে যেন পুকুরে কোন রাক্ষুষে ও অচাষকৃত মাছ ঢুকতে না পারে।
ছ) পুকুর প্রস্তÍত কালীন সার প্রয়োগঃ পুকুরে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য জন্মানোর জন্য জৈব ও অজৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। সার প্রয়োগের ফলে পুকুরে অতি ক্ষুদ্র উদ্ভিদ ও প্রাণী জাতীয় জীব কনা জন্ম নেয় যা খেয়ে রেণু জীবন ধারন করে। এসব উদ্ভিদ ও প্রাণী জাতীয় জীবকণাগুলোকে বলা হয় প্ল্যাংক্টন। শুকনো পুকুরে প্রয়োজনীয় জৈব সার সমস্ত পুকুরে ছিটানোর পর চাষ দিয়ে তা মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। সার হিসাবে খৈলও ব্যবহার করা যেতে পারে। শতাংশ প্রতি আধা কেজি (০.৫০কেজি) খৈল রটিফার(প্রাণীকণা ) উৎপাদনে সহায়ক। অজৈব সার পুকুরে পানি ভরাটের পর একত্রে গুলে পানিতে ছিটিয়ে দিতে হবে।
পুকুর প্রস্তÍত কালীন চুন প্রয়োগের ১-২ দিন পর এবং রেণুপোনা মজুদের কমপক্ষে ৪-৫ দিন আগে সার প্রয়োগ করতে হবে। সূর্যোলোকিত সকাল ৯-১০ টার সময় সার প্রয়োগ করা ভাল। এতে পানিতে পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিত হয়। মাছের বৃদ্ধির জন্য প্রাকৃতিক খাদ্য নিশ্চিত করে।
সার প্রয়োগের মাত্রা ও প্রযোগ পদ্ধতিঃ
দ্রুত প্রাকৃতিক খাবার উৎপাদনের জন্য খৈল ৩০০-৪০০ গ্রাম/শতাংশ এবং ইউরিয়া ৮০-১০০ গ্রাম/শতাংশে প্রয়োগ করতে হবে। (খৈল ও ইউরিয়া একটি পাত্রে তিন গুন পানির সাথে ১২-২৪ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে সূর্যের আলোতে সকাল১০-১১ টায় সমস্ত পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে।
জ) প্রাকৃতিক খাদ্য ও প্রাকৃতিক খাদ্য পরীক্ষাঃ রেণু মজুদের পূর্বেই পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরী হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে। রেণুর পুকুরের পানির রং থাকবে লালচে সবুজ বা বাদামী সবুজ। পুকুরে সার দেয়ার ৩-৪ দিনের মধ্যেই মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরী হয়। সার দেয়ার ৪-৫ দিন পর পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্যের উপস্থিতি পরীক্ষা করতে হবে। কারন পোনা মাছের বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান প্রাকৃতিক খাদ্যে আসে।
প্রাকৃতিক খাদ্যঃ সার দিলে পুকুরে উদ্ভিদ ও প্রাণী কণা জন্ম নেয়। পানির বর্ণ দেখে বোঝা যায়। যেমন প্রাকৃতিক খাদ্যযুক্ত পানির বর্ন হালকা সবুজ, বাদামি সবুজ, বা হালকা বাদামি বর্ণের হয়ে থাকে।
প্রাকৃতিক খাদ্য ২ ধরনেরঃ ক) উদ্ভিদ কণা খ) প্রাণী কণা
ঝ) পানির বিষাক্ততা পরীক্ষাঃ পানিতে বিষক্রিয়া থাকলে রেণু মারা যাবে। তাই পুকুরে রেণু ছাড়ার ১-২ দিন আগে বিষ দেওয়া পুকুরের পানিতে একটি হাপা টাঙ্গিয়ে বা পাতিলে ১০-১৫ টি পোনা ছেড়ে ৭-৮ ঘন্টা পর্যন্ত দেখতে হবে পোনাগুলো মারা য়ায় কি না? যদি পোনা মারা না যায় তবে বুঝতে হবে যে, পুকুরের পানিতে বিষাক্ততা নেই। পোনা মারা গেলে বুঝতে হবে যে পানি বিষাক্ত। এ অবস্থায় আরো কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে।
ঞ) ক্ষতিকর জলজ কীটপতঙ্গ দমন: নার্সারি পুকুরে সার প্রয়োগের ৩-৪ দিনের মধ্যেই পানির বর্ণ সবুজ হবে এবং প্লাংক্টন সহ অন্যান্য ক্ষতিকর পোকা মাকড় যেমন- হাঁসপোকা,ব্যাঙাচী বড় প্রানীকনা (মাখন পোকা) ইত্যাদি জন্মায়। ক্ষতিকর পোঁকা মাকড় মাছের রেণুপোনা খেয়ে ফেলে অথবা পেট কেটে মেরে ফেলে। খাদ্যের জন্য রেণুর সাথে প্রাতিযোগিতা করে। ফলে রেণুর মড়ক বেশী হয়। রেণু ছাড়ার আগে ও পরে এদের নিয়ন্ত্রন করা আবশ্যক।
রেণু পোনা মজুদ কালীন ব্যবস্থাপনাঃ
প্রজাতি নির্বচনঃ নার্সারি পুকুরে এক প্রজাতির রেণু ব্যবহার করা উত্তম। নার্সারি কার্যক্রমে ভাল মানের পোনা উৎপাদন এবং মুনাফা অর্জনকে সামনে রেখে প্রজাতি নির্বচনের ক্ষেত্রে অনেক গুলো বিষয় বিবেচনা করতে হবে। যেমন নির্বাচিত প্রজাতির রেণু এলাকা গত প্রাপ্যতা, চারা পোনার এলাকাগত চাহিদা পুকুরের ধরন ও আকার , চাষের ধরন, চাষির অভিজ্ঞতা , চাষির আর্থিক সংগতি ইত্যাদি।
উল্লেখিত বিষয় সমূহ বিবেচরা করে আমাদের দেশে সাধারনত রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প, গ্রাসকার্প, মিরর কার্প,বিগহেড কার্প, রাজ পুটি/থাই পুটি, কমন কার্প, পাঙ্গাস, থাইকৈ, ভিয়েতনামী কৈ,শিং, মাগুর ও মনোসেক্্র তেলাপিয়ার পোনা নার্সারিতে চাষ করা হয়ে থাকে।
পোনার পরিচয়ঃ
ডিম পোনাঃ ডিম ফোটার পর ২-৩ দিন পর্যন্ত অবস্থা। পেটে একটি থলি থাকে। বাইরের খাবার খায় না।
রেণু পোনাঃ পেটের থলি শেষ হওয়ার পরের অবস্থা। দেখতে মশার বাচ্চার মত। সিদ্ধ ডিমের কুসুম,ভাসমান ছোট কীট, ময়দা , খৈল ও মিহি কুড়া খেতে পারে।
ধাণী পোনাঃ আঙ্গুলের এক করের মত অবস্থা। ভাসমান ছোট কীট, শেওলা কণা এবং খৈল কুড়া খেতে পারে। রেণু থেকে ধাণী হতে ৮-১০ দিন সময় লাগে।
চারা পোনাঃ আঙ্গুলের মত বা আরো বড়(৭-১৫ সেমি) অবস্থা। চারা পোনা হতে ৪০-৬০ দিন সময় লাগে। চাষের জন্য চারা পোনাই মজুদ করা হয়।
প্রজাতি অনুযায়ী প্রতি গ্রামে রেণুর সংখ্যা নি¤œরূপঃ
রেণু পোনা মজুদ ঘনত্বঃ এ পদ্ধতিতে প্রস্তÍতকৃত নার্সারি পুকুরে ৩-৫ দিন বয়সের রেণু পোনা প্রতি শতাংশে ৪০-৫০ গ্রাম করে মজুদ করা যায়। প্রথমে অপেক্ষাকৃত ছোট পুকুরে রেণু ছেড়ে ১০-১৫ দিন পর ধানী পোনা লালন পুকুরে কাটাই করতে হবে।
নার্সারি পুকুরে এক সাথে এক প্রজাতীর রেণু মজুদ করা ভাল। একের অধিক প্রজাতির রেণু এক সাথে মজুদ করলে ভাল ফল পাওয়া যায় না।
রেণুপোনা অভ্যস্তকরণ ও পুকুরে মজুদঃ পুকুরে ছাড়ার আগে রেণু পোনাকে নুতন পরিবেশের সাথে সহনশীল করে নিলে মৃত্যু হার অনেকাংশে রোধ করা যায়। এজন্য
– প্রথমে রেণু পরিবহনকৃত ব্যাগ বা পাত্রটি পুকুরের পানিতে ১৫-২০ মিনিট ভাসিয়ে রাখতে হবে।
– তারপর মুখ খুলে হাত দ্বারা পরিবহন ব্যাগের বা পাত্রের পানি আস্তে আস্তে অদল-বদল করতে হবে
– পুকুর এবং ব্যাগের পানির তাপমাত্রা সমতা আসলে ব্যাগটি কাত করে ধরে আলতোভাবে ঢেউ দিয়ে মৃদু স্রোতের ব্যবস্থা করলে সুস্থ সবল রেণু স্রোতের বিপরীতে ব্যাগ থেকে ধীরে ধীরে পুকুরে চলে যাবে। এ কাজটি ২৫-৩০ মিনিট সময় ধরে করতে হবে।
নার্সারি পুকুরের গুরুত্ব: সুস্থ্য সবল পোনা উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন ভাল মানের নার্সারি। রেণু পোনা খুবই সংবেদনশীল। তাই নার্সারি পুকুর যদি সঠিক ভাবে প্রস্তÍত করা না হয় তাহলে কাংখিত ফলাফল পাওয়া সম্ভব না। আমাদের দেশে বাড়ীর আশে-পাশে ছোট এবং মাঝারী আকারের অসংখ্য পুকুর রয়েছে।
এসব পুকুর গুলো যদি চাষের আওতায় নিয়ে চাষ করা হয় তাহলে বিভিন্ন এলাকায় ভাল মানের পোনার চাহিদা পূরন করা সম্ভব। এর ফলে গ্রামীন বেকার সমস্যার আংশিক সমাধান,চাষিদের আয় বাড়ানো, মজুদ পুকুরে ভাল মানের পোনার চাহিদা পূরন, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, পারিবারিক শ্রম সম্পদের সুষ্ঠ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।আমাদের দেশের ছোট- মাঝারী পুকুর গুলো রেণু পোনা চাষের আওতায় আনলে মৎস্য উৎপাদনের পাশাপাশি বিকল্প কর্ম সংস্থান সৃষ্টি হবে।
মাছের রেনু বা ধানী পোনা প্রয়োজনীয় পরিচর্যার মাধ্যমে লালন পালন করে মজুদ পুকুরে ছেড়ে চারা পোনায় উন্নীত করার পদ্ধতিকে নার্সারি ব্যবস্থাপনা বলে। অর্থনৈতিক দিক থেকে নার্সারী ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় নার্সারি পুকুর ব্যবস্থায় উন্নত পদ্ধতি অনুসরন করা প্রয়োজন। ৩-৫ দিনের রেণু ছেড়ে পোনা তৈরী করাকে নার্সারি বলে।
পোনা চাষে পুকুরের বৈশিষ্ট্য/নার্সারি পুকুরের বৈশিষ্ট্যঃ
যে কোন অগভীর, বাৎসরীক বা মৌসুমি পুকুরকে মাছের পোনা প্রতিপালনের জন্য নার্সারি পুকুর হিসাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে আতুর পুকুর ছোট হওয়ায় ভাল।
কার্প জাতীয় মাছের পোনা প্রতিপালনের উপযোগী নার্সারি পুকুরের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো – পুকুরটি হবে খোলামেলা, ভালো যাতায়েত ব্যাস্থা, উত্তর- দক্ষিন লম্বা হলে ভাল হয়, আয়তন ১০-২৫ শতাংশ, পানির গভীরতা ২.৫- ৩ ফুট, দো-আশ, পলি দো-আশ বা এটেল দো-আশ মাটি, তলদেশে কাদার বেশী না হওয়ায় ভাল, জলজ আগাছা না থাকা, বন্যা মুক্ত শক্ত ও উচু পাড়, পড়ে গাছ বা ঝোপঝাড় না থাকা, পানি নিষ্কাশন ও সরবরাহ ব্যবস্থা থাকা প্রভৃতি।
নার্সারি ব্যবস্থাপনাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ ক) আতুর পুকুর ব্যবস্থাপনা; খ) কাটাই বা লালন পুকুর ব্যবস্থাপনা
ক) আতুর পুকুর ব্যবস্থাপনাঃ আতুর পুকুরে সাধারনত ১০-১৫ দিন রেণু পোনা লালন পালন করা হয়। এই পুকুরে সঠিক ব্যবস্থাপনার উপর মাছের পোনা বাঁচার হার এবং বৃদ্ধি নির্ভর করে।
ক) আগাছা ও পাড় পরিস্কারঃ নার্সারি পুকুর পাড়ের আগাছা পরিস্কার করতে হবে এতে বেশী আলো পড়ে
– পোনার প্রাকৃতিক খাদ্য বেশী তৈরী হয়
– পোনা উৎপাদন বেশী হয়
– মাঘ-ফাল্গুন- চৈত্র মাসে এ কাজটি করতে হবে।
খ) পুকুরের পাড় মেরামত ও তলা সংস্কার ঃ-
– প্রতি বছর নার্সারি পুকুর শুকানো ভাল
– পুকুর শুকানোর পর ভাঙ্গা পাড় উচু,মজবুদ,এবং ছিদ্রবিহীন ভাবে মেরামত করতে হবে
– অতিরিক্ত কাদা তুলে ফেলে অসমান তলদেশ সমান করতে হবে
– শুকানোর পর তলায় চাষ দিতে হবে
– পুকুর পাড়ের ঢাল ১ঃ২ হতে হবে
পুকুরের পাড় ও তলা সংস্কারের উপকারিতাঃ –
– মাটি চাষ দিলে মাটির বাধন আলগা হয় তাতে সূর্যের আলো মাটির গভীরে প্রবেশ করার ফলে রোগ জীবানু মারা যায় এবং মাটির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ে
-পুকুরের মাটি ও পানির গুনাগুন ভাল থাকে
– তলার বিষাক্ত গ্যাস দূর হয়
– পোনা মাছ আহরনের সময় জাল টানা সহজ হয়
– পুকুরের পাড় মেরামত ও উচু হলে রেণুপোনার চাষ এবং পরিচর্যা সহজ হয়
– বাইরের দূষিত পানি ভিতরে প্রবেশ করতে পারে না
– বাইরের রাক্ষুসে ও অচাষকৃত প্রজাতীর মাছ পুকুরে ঢুকতে পারবে না।
গ) জলজ আগাছা দমনঃ পুকুরে ভাসমান , ডুবন্ত নানা জাতের আগাছা ও শেওলা তুলে ফেলতে হবে কারন ঃ
– মাছের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে
– মাটি ও পানির পুষ্টিকর উপাদান ব্যবহারের কারনে পুকুরে মাছের খাদ্য তৈরীতে বাধার সৃষ্টি হয়
– নার্সারি পুকুরে অতিরিক্ত তন্তÍ জাতীয় শেওলা থাকলে পোনা আহরনের সময় তন্তÍ জাতীয় শেওলায় আটকে পোনা মারা যায়
– কায়িক শ্রম দ্বারা এ আগাছা দূর করা যায়
– প্রতি শতাংশে ৮-১০ গ্রাম তুতে(কপার সালফেট)পানিতে মিশিয়ে সমস্ত পুকুরে ছিটিয়ে দিলে ৩-৪ দিনের মধ্যে সমস্ত শেওলা মারা যায়।
জলজ আগাছ নিয়ন্ত্রনের উপকারিতাঃ
– পানিতে সরাসরি আলো পড়ে ফলে প্রাকৃতিক খাদ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়
– পোনা মাছের জন্য ক্ষতিকারক জীবানু ও প্রাণী ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে না
– পোনা মাছের চলাচল সহজ হয় এবং জাল টানতে সুবিধা হয়
– খাদ্য প্রয়োগে সুবিধা হয়
– পোনা উৎপাদন বেশী হয়।
ঘ) রাক্ষুসে ও অচাষকৃত মাছ দূরীকরনঃ রাক্ষুসে মাছ চাষকৃত মাছের রেণু / পোনা খেয়ে ফেলে, অচাষকৃত মাছ চাষকৃত মাছের রেণু / পোনার খাবার খেয়ে ফেলে তাই নার্সারি পুকুর হতে রাক্ষুসে ও অচাষকৃত মাছ যেমন-শোল,টাকি, গজার, বোয়াল,ফলি,চান্দা পুটি, মলা,চেলা,শিং মাগুর , কৈ সহ যে কোন ধরনের রাক্ষুসে ও অচাষকৃত মাছ দূর করতে হবে। মাছের রেনু পোনা ছাড়ার আগেই পুকুর শুকিয়ে ,বার বার জাল টেনে অথবা রোটেনন প্রয়োগ করে রাক্ষুসে ও অচাষকৃত মাছ পুকুর থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে।
রাক্ষুসে ও অচাষকৃত মাছ দূরীকরনের উপকারিতাঃ
– রেণুর বাচার হার বেশী
– মাছের পোনা বাচার হার বাড়ে
– প্রাকৃতিক ও সম্পূরক খাদ্যের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হয়
– মাছের রোগ বালাই হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
রাক্ষুসে ও অচাষকৃত মাছ পুকুর থেকে দূরীকরনের উপায় –
পুকুর শুকিয়েঃ নার্সারি পুকুর হতে রাক্ষুসে ও অচাষকৃত মাছ দূরীকরণের সর্বোত্তম উপায় হলো শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচে শুকিয়ে ফেলা। পুকুর শুকানোর পর তলায় প্রয়োজনে চাষ দেওয়া এবং কড়া রোদে বেশ কিছুদিন (১৫ দিন) পুকুর ফেলে রাখা। এ কাজ টি ফাল্গুন-চৈত্র মাসে করলে খরচ ও সময় দুইই কম লাগে।
বার বার জালটেনেঃ পুকুর শুকানো সম্ভব না হলে ঘন ফাসের জাল বার বার টেনে রাক্ষুসে ও অচাষকৃত মাছ দূর করা যায়।
রোটেনন প্রয়োগ করেঃ রোটেনন পাউডার প্রয়োগ করে পুকুর হতে রাক্ষুসে ও অচাষকৃত মাছ দূর করা য়ায়। প্রতি শতাংশে প্রতি ফুট পানির গভীতার জন্য ৯.১ মাত্রার ২৫-৩০ গ্রাম রোটেনন প্রয়োজন। কড়া রোদে সকাল ১০-১১ টার সময় প্রয়োগ করলে রোটেননের কার্যকারিতা বেশি পাওয়া যায়। প্রয়োজনীয় মোট রোটেননের তিন ভাগের এক ভাগ কাই তৈরী করে ছোট ছোট বল করে সমস্ত পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে এবং বল ছিটানোর পর পরই বাকি দুই ভাগ বেশে পরিমান পানির সাথে ভালবাবে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। প্রায় ২০-৩০ মিনিট পর মাছ আক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে জাল টেনে সমন্ত মাছ ধরে ফেলেতে হবে। জাল টেনে পুকুরের পানি উলোট-পালট করে দিলে বিষের কার্যকারিতা বেড়ে যায়। রোটেনননের বিষাক্ততার মেয়াদ ৬-৭ দিন। এই রোটেনন পাউডার দিয়ে মারা মাছ খেলে কোন অসুবিধা হয় না।
রোটেনন প্রয়োগের সতর্কতাঃ
– রোটেনন গুলানো ও প্রয়োগের সময় হাতে পলিথিন ও নাকে মুখে গামছা বেধে নিতে হবে।
– রোটেনন বাতাসের অনুকুলে ছিটাতে হবে।
– রোটেনন প্রয়োগের পর হাত ভাল ভাবে সাবান দিয়ে নিতে হবে এবং পাত্র গুলো ও ভাল ভাবে পরিস্কার বরতে হবে।
– রোটেনন সব সময় বাচ্চাদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে।
– রোটেনন বৃষ্টির দিনে কিংবা মেঘলা সময়ে প্রয়োগ করলে ভাল ফলাফল পাওয়া যাবে না।
– রোটেনন ব্যবহারের পর পাত্রটি ভাল ভাবে পরিষ্কার করতে হবে।
ঙ) পুকুর প্রস্তÍতকালীন চুন প্রয়োগঃ পুকুরের তলদেশের মাটি সূর্যালোকে শুকিয়ে গেলে পুকুরের তরদেশে লাঙ্গল দিয়ে ভাল ভাবে চাষ করে শতাংশ প্রতি ১ কেজি হারে পোড়াচুন পাড় সহ সমস্ত পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে।
এ প্রক্রিয়ায় পুকুরের তলদেশের পরজীবি প্রাণী মারা যায় এবং পুকুরের পানি কিছুটা খারযুক্ত হয়। এছাড়াও মাটি থেকে পুষ্টিকর পদার্থ মুক্ত হয়ে পোনা মাছের খাবার উৎপাদনে সহায়তা করে। সন্ধা রাতে মাটির চাড়ি বা ড্রামে তিন গুন পানিতে চুন ভিজিয়ে রাখতে হবে। ঠান্ডা হওয়ার পর আরো ও পানি মিশিয়ে পানি ভর্তি পুকুরের ক্ষেত্রে ঢাল সহ সমস্ত পুকুরে সমান ভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে। পুকুরে চুন প্রয়োগের ৩ দিন পরে পানি সরবরাহ করতে হবে। যদি পানি নিষ্কাশন না করে রোটেনন প্রয়োগ করা হয় তাহলে রোটেনন প্রয়োগের ৩-৫ দিন পর চুন দিতে হবে।
চুন ব্যবহারের মাত্রাঃ PH ৩-৫ চুন ৬ কেজি, PH ৫-৬ চুন ৪ কেজি, PH ৬-৭ চুন ২ কেজি।
প্রতি তিন মাস পরপর চুন প্রয়োগ করলে পুকুরের স্বাস্থ্য কর অবস্থা বজায় থাকে। এক্ষেত্রে চুনের মাত্রা হবে প্রাথমিক মাত্রার ১/৪ ভাগ থেকে ১/২ ভাগ।
ভাল চুন শনাক্তবরনের উপায়ঃ একটি কাচের গ্লাসে কিছু পরিমান পানি নিয়ে তাতে এক টুকরা চুন দিয়ে পরীক্ষা করা যায়। ভাল চুন বিক্রিয়া করে পানিতে বুদবুদ ও তাপ সৃষ্টি করে চুন কেনার সময় বাজারে বসে চায়ের কাপে বা গ্লাসে চুন ও পানি নিয়ে ভাল চুন সনাক্ত করা যায়।
চ) পানি প্রবেশঃ পুকুর শুকানো হলে চুন প্রয়োগের ২-৩ দিন পর পুকুরে পানি প্রবেশ করাতে হবে। পানি উত্তোলোনের ক্ষেত্রে গভীর নলকুপের বা শ্যালো ইঞ্জিনের দ্বারা মাটির নীচের পানি প্রবেশ করানো ভাল। যদি পুকুর বা অন্য ডোবা থেকে পানি প্রবেশ করানো হয় সে ক্ষেত্রে অবশ্যই ফিল্টার নেট দিয়ে পানি ছেঁকে প্রবেশ করাতে হবে যেন পুকুরে কোন রাক্ষুষে ও অচাষকৃত মাছ ঢুকতে না পারে।
ছ) পুকুর প্রস্তÍত কালীন সার প্রয়োগঃ পুকুরে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য জন্মানোর জন্য জৈব ও অজৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। সার প্রয়োগের ফলে পুকুরে অতি ক্ষুদ্র উদ্ভিদ ও প্রাণী জাতীয় জীব কনা জন্ম নেয় যা খেয়ে রেণু জীবন ধারন করে। এসব উদ্ভিদ ও প্রাণী জাতীয় জীবকণাগুলোকে বলা হয় প্ল্যাংক্টন। শুকনো পুকুরে প্রয়োজনীয় জৈব সার সমস্ত পুকুরে ছিটানোর পর চাষ দিয়ে তা মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। সার হিসাবে খৈলও ব্যবহার করা যেতে পারে। শতাংশ প্রতি আধা কেজি (০.৫০কেজি) খৈল রটিফার(প্রাণীকণা ) উৎপাদনে সহায়ক। অজৈব সার পুকুরে পানি ভরাটের পর একত্রে গুলে পানিতে ছিটিয়ে দিতে হবে।
পুকুর প্রস্তÍত কালীন চুন প্রয়োগের ১-২ দিন পর এবং রেণুপোনা মজুদের কমপক্ষে ৪-৫ দিন আগে সার প্রয়োগ করতে হবে। সূর্যোলোকিত সকাল ৯-১০ টার সময় সার প্রয়োগ করা ভাল। এতে পানিতে পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিত হয়। মাছের বৃদ্ধির জন্য প্রাকৃতিক খাদ্য নিশ্চিত করে।
সার প্রয়োগের মাত্রা ও প্রযোগ পদ্ধতিঃ
| সারের নাম | সারের ধরন | প্রয়োগ মাত্রা (প্রতি শতাংশে) | প্রয়োগ পদ্ধতি |
| জৈব সার | গোবর বা কম্পোষ্ট | ৬-১০ কেজি | শুকনো পুকুরঃ প্রয়োজনীয় পরিমান জৈব সার সমান ভাবে পুকুরের তলায় ছিটিয়ে দেয়ার পর চাষ দিয়ে ভাল ভাবে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে |
| অজৈব সার | ইউরিয়াটিএসপি এমওপি | ৭৫-১০০ গ্রাম১০০-১৫০ গ্রাম ২৫-৫০ গ্রাম | পানি ভর্তি পুকুরঃ পরিমান মতো গোরব পানিতে গুলিয়ে ছিটিয়ে দিতে হবে। পানিতে টিএসপি রাতে ভিজিয়ে পরের দিন সূর্যোলোকিত সকালে (৯ -১০ টা) ইউরিয়ার সাথে মিশিয়ে পুকুরের অগভীর অংশে ভালভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে। |
দ্রুত প্রাকৃতিক খাবার উৎপাদনের জন্য খৈল ৩০০-৪০০ গ্রাম/শতাংশ এবং ইউরিয়া ৮০-১০০ গ্রাম/শতাংশে প্রয়োগ করতে হবে। (খৈল ও ইউরিয়া একটি পাত্রে তিন গুন পানির সাথে ১২-২৪ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে সূর্যের আলোতে সকাল১০-১১ টায় সমস্ত পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে।
জ) প্রাকৃতিক খাদ্য ও প্রাকৃতিক খাদ্য পরীক্ষাঃ রেণু মজুদের পূর্বেই পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরী হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে। রেণুর পুকুরের পানির রং থাকবে লালচে সবুজ বা বাদামী সবুজ। পুকুরে সার দেয়ার ৩-৪ দিনের মধ্যেই মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরী হয়। সার দেয়ার ৪-৫ দিন পর পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্যের উপস্থিতি পরীক্ষা করতে হবে। কারন পোনা মাছের বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান প্রাকৃতিক খাদ্যে আসে।
প্রাকৃতিক খাদ্যঃ সার দিলে পুকুরে উদ্ভিদ ও প্রাণী কণা জন্ম নেয়। পানির বর্ণ দেখে বোঝা যায়। যেমন প্রাকৃতিক খাদ্যযুক্ত পানির বর্ন হালকা সবুজ, বাদামি সবুজ, বা হালকা বাদামি বর্ণের হয়ে থাকে।
প্রাকৃতিক খাদ্য ২ ধরনেরঃ ক) উদ্ভিদ কণা খ) প্রাণী কণা
ঝ) পানির বিষাক্ততা পরীক্ষাঃ পানিতে বিষক্রিয়া থাকলে রেণু মারা যাবে। তাই পুকুরে রেণু ছাড়ার ১-২ দিন আগে বিষ দেওয়া পুকুরের পানিতে একটি হাপা টাঙ্গিয়ে বা পাতিলে ১০-১৫ টি পোনা ছেড়ে ৭-৮ ঘন্টা পর্যন্ত দেখতে হবে পোনাগুলো মারা য়ায় কি না? যদি পোনা মারা না যায় তবে বুঝতে হবে যে, পুকুরের পানিতে বিষাক্ততা নেই। পোনা মারা গেলে বুঝতে হবে যে পানি বিষাক্ত। এ অবস্থায় আরো কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে।
ঞ) ক্ষতিকর জলজ কীটপতঙ্গ দমন: নার্সারি পুকুরে সার প্রয়োগের ৩-৪ দিনের মধ্যেই পানির বর্ণ সবুজ হবে এবং প্লাংক্টন সহ অন্যান্য ক্ষতিকর পোকা মাকড় যেমন- হাঁসপোকা,ব্যাঙাচী বড় প্রানীকনা (মাখন পোকা) ইত্যাদি জন্মায়। ক্ষতিকর পোঁকা মাকড় মাছের রেণুপোনা খেয়ে ফেলে অথবা পেট কেটে মেরে ফেলে। খাদ্যের জন্য রেণুর সাথে প্রাতিযোগিতা করে। ফলে রেণুর মড়ক বেশী হয়। রেণু ছাড়ার আগে ও পরে এদের নিয়ন্ত্রন করা আবশ্যক।
রেণু পোনা মজুদ কালীন ব্যবস্থাপনাঃ
প্রজাতি নির্বচনঃ নার্সারি পুকুরে এক প্রজাতির রেণু ব্যবহার করা উত্তম। নার্সারি কার্যক্রমে ভাল মানের পোনা উৎপাদন এবং মুনাফা অর্জনকে সামনে রেখে প্রজাতি নির্বচনের ক্ষেত্রে অনেক গুলো বিষয় বিবেচনা করতে হবে। যেমন নির্বাচিত প্রজাতির রেণু এলাকা গত প্রাপ্যতা, চারা পোনার এলাকাগত চাহিদা পুকুরের ধরন ও আকার , চাষের ধরন, চাষির অভিজ্ঞতা , চাষির আর্থিক সংগতি ইত্যাদি।
উল্লেখিত বিষয় সমূহ বিবেচরা করে আমাদের দেশে সাধারনত রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প, গ্রাসকার্প, মিরর কার্প,বিগহেড কার্প, রাজ পুটি/থাই পুটি, কমন কার্প, পাঙ্গাস, থাইকৈ, ভিয়েতনামী কৈ,শিং, মাগুর ও মনোসেক্্র তেলাপিয়ার পোনা নার্সারিতে চাষ করা হয়ে থাকে।
পোনার পরিচয়ঃ
ডিম পোনাঃ ডিম ফোটার পর ২-৩ দিন পর্যন্ত অবস্থা। পেটে একটি থলি থাকে। বাইরের খাবার খায় না।
রেণু পোনাঃ পেটের থলি শেষ হওয়ার পরের অবস্থা। দেখতে মশার বাচ্চার মত। সিদ্ধ ডিমের কুসুম,ভাসমান ছোট কীট, ময়দা , খৈল ও মিহি কুড়া খেতে পারে।
ধাণী পোনাঃ আঙ্গুলের এক করের মত অবস্থা। ভাসমান ছোট কীট, শেওলা কণা এবং খৈল কুড়া খেতে পারে। রেণু থেকে ধাণী হতে ৮-১০ দিন সময় লাগে।
চারা পোনাঃ আঙ্গুলের মত বা আরো বড়(৭-১৫ সেমি) অবস্থা। চারা পোনা হতে ৪০-৬০ দিন সময় লাগে। চাষের জন্য চারা পোনাই মজুদ করা হয়।
প্রজাতি অনুযায়ী প্রতি গ্রামে রেণুর সংখ্যা নি¤œরূপঃ
| ক্রমিক নং | প্রজাতি | রেণুর গড় সংখ্যা/গ্রাম |
| ০১ | কাতলা | ৪০০ টি |
| ০২ | রুই | ৪৭৫ টি |
| ০৩ | মৃগেল | ৪০০ টি |
| ০৪ | সিলাভার কার্প | ৩২৫ টি – ৪০০ টি |
| ০৫ | গ্রাস কার্প | ৪৫০ টি |
| ০৬ | মিরর কার্প | ৪৫০ টি |
| ০৭ | বিগহেড | ৩০০ টি |
| ০৮ | সরপুঁটি/রাজ পুঁটি | ৭০০-৮০০ টি |
রেণু পোনা মজুদ ঘনত্বঃ এ পদ্ধতিতে প্রস্তÍতকৃত নার্সারি পুকুরে ৩-৫ দিন বয়সের রেণু পোনা প্রতি শতাংশে ৪০-৫০ গ্রাম করে মজুদ করা যায়। প্রথমে অপেক্ষাকৃত ছোট পুকুরে রেণু ছেড়ে ১০-১৫ দিন পর ধানী পোনা লালন পুকুরে কাটাই করতে হবে।
নার্সারি পুকুরে এক সাথে এক প্রজাতীর রেণু মজুদ করা ভাল। একের অধিক প্রজাতির রেণু এক সাথে মজুদ করলে ভাল ফল পাওয়া যায় না।
রেণুপোনা অভ্যস্তকরণ ও পুকুরে মজুদঃ পুকুরে ছাড়ার আগে রেণু পোনাকে নুতন পরিবেশের সাথে সহনশীল করে নিলে মৃত্যু হার অনেকাংশে রোধ করা যায়। এজন্য
– প্রথমে রেণু পরিবহনকৃত ব্যাগ বা পাত্রটি পুকুরের পানিতে ১৫-২০ মিনিট ভাসিয়ে রাখতে হবে।
– তারপর মুখ খুলে হাত দ্বারা পরিবহন ব্যাগের বা পাত্রের পানি আস্তে আস্তে অদল-বদল করতে হবে
– পুকুর এবং ব্যাগের পানির তাপমাত্রা সমতা আসলে ব্যাগটি কাত করে ধরে আলতোভাবে ঢেউ দিয়ে মৃদু স্রোতের ব্যবস্থা করলে সুস্থ সবল রেণু স্রোতের বিপরীতে ব্যাগ থেকে ধীরে ধীরে পুকুরে চলে যাবে। এ কাজটি ২৫-৩০ মিনিট সময় ধরে করতে হবে।
নার্সারি পুকুরের গুরুত্ব: সুস্থ্য সবল পোনা উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন ভাল মানের নার্সারি। রেণু পোনা খুবই সংবেদনশীল। তাই নার্সারি পুকুর যদি সঠিক ভাবে প্রস্তÍত করা না হয় তাহলে কাংখিত ফলাফল পাওয়া সম্ভব না। আমাদের দেশে বাড়ীর আশে-পাশে ছোট এবং মাঝারী আকারের অসংখ্য পুকুর রয়েছে।
এসব পুকুর গুলো যদি চাষের আওতায় নিয়ে চাষ করা হয় তাহলে বিভিন্ন এলাকায় ভাল মানের পোনার চাহিদা পূরন করা সম্ভব। এর ফলে গ্রামীন বেকার সমস্যার আংশিক সমাধান,চাষিদের আয় বাড়ানো, মজুদ পুকুরে ভাল মানের পোনার চাহিদা পূরন, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, পারিবারিক শ্রম সম্পদের সুষ্ঠ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।আমাদের দেশের ছোট- মাঝারী পুকুর গুলো রেণু পোনা চাষের আওতায় আনলে মৎস্য উৎপাদনের পাশাপাশি বিকল্প কর্ম সংস্থান সৃষ্টি হবে।
নিরাপদ খাদ্য কি
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 3:36 AM
নিরাপদ খাদ্য আধুনিক জীবনে শিল্পজাত খাদ্য একটি স্বাভাবিক ব্যাপার। এ খাদ্যকে স্বাভাবিক এবং ভেজাল ও অন্যান্য দূষণ থেকে নিরাপদ অবস্থায় বিতরণ এখন একটি বিশ্ব সমস্যা। অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি ছাড়াও নানা কারণে খাদ্য দূষিত হতে পারে। খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহণ, খাদ্যগ্রহণ প্রক্রিয়ার যে কোন পর্যায়ে শিল্পায়িত খাদ্য খাদ্যের অনুপযোগী হয়ে যেতে পারে। খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার দ্বার পর্যন্ত খাদ্যের গুণগত মান নিশ্চিত রাখা একটি বড় সরকারি ও বেসরকারি দায়িত্ব।
খাদ্যশিল্পের দায়িত্ব উৎপাদিত খাদ্যসামগ্রী স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানসমূহ এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য আধুনিক মান নির্ধারণ ব্যবস্থাপনা করতে আইনগতভাবে বাধ্য। এ সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনার প্রধান তিনটি পদ্ধতি হলো:
উত্তম উৎপাদন পদ্ধতি (Good Manufacturing Practice or GMP)-এর আওতায় ঐ সমস্ত পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়ে থাকে যার ফলে খাদ্যের সঙ্গতিপূর্ণ মানসহ নিরাপদের বিষয়টি নিশ্চিত করার প্রমাণ রয়েছে।
প্রক্রিয়াজাতজনিত সংকট নির্ধারণ এবং এর প্রতিটি ধাপের নিয়ন্ত্রণ (Hazard Analysis Critical Control Points সংক্ষেপে HACCP)। খাদ্যের মান ও এর নিরাপদ হওয়ার বিষয়টি সনাতনী পদ্ধতির দৃষ্টিকোণ প্রক্রিয়াকৃত খাদ্যের মধ্যেই সীমিত ছিল। HACCP সাম্প্রতিককালে উদ্ভাবিত একটি সক্রিয় কারিগরি পদ্ধতি। এ পদ্ধতি প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রতিটি পর্যায়ে সম্ভাব্য সমস্যা ও তা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।
মান নিশ্চয়তার বিধান আর্ন্তজাতিক মান নির্ধারণ সংস্থা (International Standards Organization ISO 9000) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্ধারিত মানের (EU 29000) মাধ্যমে খাদ্য শিল্পের সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠানসমূহ এই দুটি সংস্থা কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকে বা করা যায়। এ ধরনের কর্মসূচির কার্যকারিতা নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ দ্বারা নিয়মিতভাবে মূল্যায়িত হয়।
যে সমস্ত খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠান এ ধরনের মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অনুসরণ করে তারা এ প্রক্রিয়ায় সরবরাহকারী সূত্র (যেমন কৃষক এবং পাইকারি কাঁচামাল সরবরাহকারি সংস্থা), পরিবহণ সংস্থা, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদেরও জড়িত করে। খাদ্য উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত উৎপাদিত খাদ্য বাজারজাত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের মোড়ক ও আধার ব্যবহূত হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে উৎপাদিত ও প্রক্রিয়াকৃত খাদ্যসামগ্রী উত্তম অবস্থায় ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে। পরিবহণ, পাইকারি গুদাম, খুচরা বিক্রয়স্থল এবং বসতবাড়ি পর্যন্ত এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্যের মান ও নিরাপদ হওয়ার বিয়ষটি নিশ্চিত হয়ে থাকে। মোড়ক বা আধারের সাথে যুক্ত লেবেলে খাদ্য সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি ছাড়াও এর ফলে খাদ্য সংরক্ষণ সহজতর হয়। অন্যদিকে সাধারণত মোড়ককৃত বা টিনজাত খাদ্যের উৎপাদনের তারিখসহ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ঠিকানাও দেওয়া হয়। ফলে, এ সংক্রান্ত কোন অভিযোগের বিষয় প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহণ ও খুচরা বিক্রেতারা মালামাল সংক্রান্ত সম্ভাব্য সঙ্কটও সমাধান করতে সক্ষম হয়।
ফসল কাটা থেকে খাদ্য গ্রহণ করার যে কোন স্তরে রাসায়নিক দ্রব্যাদি এবং জীবাণু দ্বারা বিষাক্ত বা দূষিত হতে পারে। সাধারণত নিরাপদ খাদ্যের ঝূঁকি দুই ধরনের:
ক. জীবাণু সংক্রান্ত দূষণ (যথা বিভিন্ন ধরনের জীবাণু, ছত্রাক ইত্যাদি)। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ কারণে দূষিত খাদ্য মানবদেহে বিভিন্ন বিরূপ উৎসর্গের সৃষ্টি করে।
খ. রাসায়নিক দ্রব্যাদি দ্বারা দূষণ। এর মধ্যে রয়েছে পরিবেশ দূষণ সংক্রান্ত দ্রব্যাদি, পশুর ঔষধের অবশিষ্টাংশ, ভারি ধাতু অথবা অন্যান্য অবশিষ্টাংশ যা কারো অগোচরে খাদ্যে অনুপ্রবেশ করে।
কোন দূষণ সৃষ্টিকারী দ্রব্য স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিপদ ডেকে নিয়ে আসবে কিনা তা অনেকগুলি কারণের উপর নির্ভরশীল। দূষণ সক্ষম বস্ত্তর বিষ এবং এর গ্রহণ ছাড়াও দূষিত খাদ্যে বিষের মাত্রা ও পরিমাণ এবং সময়কালসহ অন্যান্য কারণ। বিষের ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া রোধ করার ক্ষমতাও ব্যক্তিভেদে ভিন্নতর হয়। এ ছাড়া রয়েছে আরেকটি জটিল কারণ। পশু সংক্রান্ত গবেষণালব্ধ তথ্যাদি মানবদেহে যে একই ধরনের ক্ষতি করবে তার অনিশ্চয়তা।
নিরাপদ খাদ্য ক্রমবর্ধমানভাবে জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। বিশ্বব্যাপী সব সরকারই নিজ নিজ ক্ষেত্রে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য বহুবিধ প্রচেষ্টার গতি তীব্র করছে। এর কারণ হচ্ছে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সমস্যার বৃদ্ধিসহ ভোক্তাদের আশঙ্কা। উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে দূষিত খাদ্যজনিত রোগ বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের ক্রমবর্ধমান সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত।
দূষিত খাদ্যগ্রহণের জন্য রোগের মাত্রার গভীরতা ও ব্যাপকতা নির্ণয় করা কঠিন। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে, ২০০৫ সালেই উদরাময় রোগে বিশ্বের ১.৮ মিলিয়ন মানুষ মূত্যুবরণ করেছে। দূষিত খাদ্যগ্রহণ ও পানি পান করা এ ধরনের মূত্যুর সিংহভাগ হবে। এছাড়া, শিশুদের অপুষ্টির একটি প্রধান কারণ উদারাময় রোগ।
শিল্পোন্নত দেশে খাদ্যবাহিত রোগের সংখ্যা প্রতিবছর শতকরা ৩০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে মর্মে তথ্য রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর প্রায় ৭৬ মিলিয়ন মানুষ দূষিত খাদ্যের ফলে রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা যায়। ফলে ৩ লাখ ২৫ হাজার রোগী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গিয়েছে। প্রতিবছর এ ধরনের রোগীর মূত্যুর সংখ্যা হবে ৫ হাজার। অনুন্নত দেশসমূহে এ সংক্রান্ত তথ্যের দূর্বলতা রয়েছে। তবে একথা অনস্বীকার্য যে, এ সমস্ত দেশেই দূষিত খাদ্যজনিত রোগের প্রকোপ ও ব্যাপকতা অধিকতর। বহু অনুন্নত দেশে উদারাময় রোগের প্রকোপ এর প্রমাণ বহন করে।
অধিকাংশ দেশে দূষিত খাদ্যজনিত রোগের ঘটনা এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোগের তথ্য পাওয়া দুস্কর। তবে এ কথা ঠিক যে এ ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব মহামারীর আকার ধারণ করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করা যায় যে, ১৯৯৪ সালে একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই salmonellosis জীবানু বহনকারী আইসক্রিম খাওয়ার ফলে ২,২৪,০০০ ব্যক্তি রোগে আক্রান্ত হয়। ১৯৮৮ সালে দূষিত শামুক বা গলদা চিংড়ি খেয়ে চীনে প্রায় ৩ লাখ মানুষ রোগাক্রান্ত হয়।
২০০৮ সালে চীনে প্রস্তুতকৃত কয়েকটি সংস্থার দূষিত গুড়াদুধ পান করে বহু শিশু রোগাক্রান্ত হয়। কারণ, ঐ ধরনের শিশুখাদ্যে মেলামাইনের মাত্রা বেশি ছিল। বাংলাদেশও এ দুধ আমদানির মাধ্যমে আসে। সম্ভাব্য বিপদ এড়ানোর জন্য সরকার ঐ দুধসহ উন্নত দেশের কয়েকটি দুধ আমদানি নিষিদ্ধ করে দেয়। এর ফলে আমদানিকারকরা হাইকোর্টে মামলা করলে আদালতের নির্দেশে সবকয়টি ব্রান্ডের নিষিদ্ধ দুধ বিদেশে আর্ন্তজাতিক মানসম্পন্ন ল্যাবোরটরিতে পরীক্ষার পর আমদানির জন্য কয়েকটি ব্যান্ডকে ছাড়পত্র প্রদান করে।
অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সাথে অংশিদারত্বের ভিত্তিতে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (WHO) নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক নীতি প্রনয়ণের কাজে লিপ্ত। বিভিন্নমূখী পারদর্শীতা ব্যবহার করে এ সংক্রান্ত খাদ্য উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত প্রতিস্তরে ব্যাপৃত হবে। এ সংস্থার খাদ্য অধিদপ্তর নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করাসহ উত্তম খাদ্য প্রস্ত্তত প্রণালি, খুচরা বিক্রেতা ও ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করবে। ভোক্তার প্রশিক্ষণ এবং খাদ্য ব্যবস্থাপনা দূষিত খাদ্যজনিত রোগ প্রতিরোধ করার অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে একটি উত্তম উপায়।
বিশ্ব খাদ্য সংস্থা মানুষ ও পশুর মধ্যে দূষিত খাদ্য বহনকারী রোগ প্রতিরোধের জন্য সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাগারে নজরদারি খাদ্যদূষণে সক্ষম বস্ত্তর নিবিড় পরীবিক্ষণ ব্যবস্থাপনাকে উন্নত করার প্রয়াস নিয়েছে। এ লক্ষ্যে সদস্য দেশসমূহের সহযোগিতা এ সংস্থার কাম্য। উদ্দেশ্য হচ্ছে আর্ন্তজাতিকভাবে স্বীকৃত নিদের্শনার মাধ্যমে এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা। এ সংস্থা অংশগ্রহণকারী সংশ্লিষ্ট সংস্থার সংখ্যাবৃদ্ধিসহ সহায়তা নিয়ে বিশ্বব্যাপি একটি নেটওয়ার্ক স্থাপন করবে, বিশেষ করে অনুন্নত দেশসমূহে। নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক জনস্বাস্থ্যের অবদান রাখার জন্য এ সংস্থা খাদ্য সংক্রান্ত কারিগরি ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা একটি নতুন উদ্যোগও গ্রহণ করেছে। ফলে নিরাপদ খাদ্য সংক্রান্ত কার্যাবলীর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি স্থাপন করা হবে। এ লক্ষ্যে এ সংস্থাও বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সমন্বয়ে দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে একটি পরামর্শক বোর্ড গঠিত হয়েছে। খাদ্যে জীবানু সংক্রান্ত দূষণের মাত্রা নির্ণয় হবে এ ব্যবস্থাপনা কাঠামোর একটি মূল বিষয়।
বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা Codex Alimentarius Commission-এর নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক মান, নির্দেশনা ও সুপারিশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা কর্তৃক স্বীকৃত। এর উন্নতিকল্প বিশ্ব খাদ্য সংস্থা এ কাজে তাদের অংশগ্রহণের মাত্রা আরও নিবিড় করেছে।
বর্তমানে বায়োটেকনোলজি বিশ্বের উন্নত ও অনুন্নত দেশসমূহের জন্য একটি প্রধান বিষয় হিসাবে গণ্য। এ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য ও এহেন খাদ্যে পুষ্টির গুণাগুণের বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ করার সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে। এ প্রযুক্তিপ্রসূত খাদ্যের ঝুঁকি, উপকারিতা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি জ্ঞানসম্পন্ন ভিত্তি স্থাপন করাই মূল উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য সংক্রান্ত আইন ও বিধি বিশুদ্ধ খাদ্য অধ্যাদেশ-১৯৫৯ এবং বিশুদ্ধ খাদ্য বিধিমালা-১৯৫৭; পশুজবাই (বিধিনিষেধ) এবং মাংস নিয়ন্ত্রণ (সংশোধনী) অধ্যাদেশ-১৯৮৩; বিএসটিআই অধ্যাদেশ-১৯৮৫ (সংশোধনী আইন, ২০০৩); ধ্বংসকারী পোকামাকড় বিধি (প্লান্ট কোয়ারেনটাইন)-১৯৬৬ (১৯৮৪ পর্যন্ত সংশোধিত); কৃষিপণ্য বাজার আইন-১৯৬৪ (সংশোধিত ১৯৮৫); মৎস সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন-১৯৫০ (সর্বশেষ সংশোধনী ১৯৮৫); সামুদ্রিক মৎস্য অধ্যাদেশ-১৯৮৩ এবং বিধি-১৯৮৩; মৎস্য ও মৎসজাত পণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) বিধি-১৯৯৭; জরুরি পণ্য আইন-১৯৫৭, ১৯৫৮ ও ১৯৬৪; খাদ্য বা বিশেষ আদালত আইন-১৯৫৬; খাদ্যশস্য সরবরাহ (ক্ষতিকর কার্যাবলী নিরোধ) অধ্যাদেশ-১৯৫৬; পোকামাকড় ধ্বংসকারী ঔষধ অধ্যাদেশ-১৯৭১ এবং এ সংক্রান্ত বিধি-১৯৮৫।
নীতি যোগাযোগ (Policy Linkages) খামার থেকে টেবিল পর্যন্ত ব্যাপৃত নিরাপদ খাদ্যের গুরুত্ব সরকারি সংশ্লিষ্ট সকল নীতিতে যথাযোগ্য গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ নীতিগুলি হচ্ছে: বাংলাদেশ পরিবেশ নীতি-১৯৯৮; বাংলাদেশ খাদ্য ও পুষ্টি নীতি-১৯৯৭; এবং জাতীয় পুষ্টি নীতি-১৯৯৭; বাংলাদেশ খাদ্য নীতি-১৯৯৮; ব্যাপক খাদ্য নিরাপত্তা নীতি-২০০১ এবং নতুন জাতীয় খাদ্য নীতি-২০০৬; জাতীয় কৃষি নীতি-১৯৯৯, বাংলাদেশ স্বাস্থ্য নীতি-২০০১; এবং রপ্তানি নীতি ইত্যাদি। এ ধরনের গুরুত্ব দেওয়া সত্ত্বেও নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক আইনে যথা বিশুদ্ধ খাদ্য অধ্যাদেশ-১৯৫৯ এবং এর আওতায় বিধিতে Codex Alimentarius-এ বিধৃত মান, নির্দেশনা এবং ব্যবহারিক পদ্ধতিকে সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করা হয় নি। এর মধ্যে HACCP রয়েছে। কিন্তু মৎস ও মৎসজাত পণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ১৯৮৩) এবং বিধিতে HACCP-এর নীতিসমূহের স্বীকৃতি রয়েছে। বিএসটিআইও HACCP-এর মান গ্রহণ করেছে।
২০০৮ সালে বাংলাদেশ সরকার নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। দুটি উন্নয়ন সহযোগীর অর্থ সহায়তা এ প্রকল্প ও স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্প সমাপ্তির পর আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করণসহ খাদ্য পরীক্ষাগারসমূহের উন্নতি হবে বলে আশা করা যায়।
খাদ্যের মান বিশুদ্ধ খাদ্য বিধি (১৯৬৭) এর আওতায় সর্বমোট ১০৭ খাদ্যসামগ্রীকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বিএসটিআই ১৯০টি খাদ্যের মান নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে ৫২টির জন্য ছাড়পত্র গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। ২৮টি Codex মান স্বীকৃতি পেয়েছে। [এ.এম.এম শওকত আলী]
খাদ্যশিল্পের দায়িত্ব উৎপাদিত খাদ্যসামগ্রী স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানসমূহ এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য আধুনিক মান নির্ধারণ ব্যবস্থাপনা করতে আইনগতভাবে বাধ্য। এ সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনার প্রধান তিনটি পদ্ধতি হলো:
উত্তম উৎপাদন পদ্ধতি (Good Manufacturing Practice or GMP)-এর আওতায় ঐ সমস্ত পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়ে থাকে যার ফলে খাদ্যের সঙ্গতিপূর্ণ মানসহ নিরাপদের বিষয়টি নিশ্চিত করার প্রমাণ রয়েছে।
প্রক্রিয়াজাতজনিত সংকট নির্ধারণ এবং এর প্রতিটি ধাপের নিয়ন্ত্রণ (Hazard Analysis Critical Control Points সংক্ষেপে HACCP)। খাদ্যের মান ও এর নিরাপদ হওয়ার বিষয়টি সনাতনী পদ্ধতির দৃষ্টিকোণ প্রক্রিয়াকৃত খাদ্যের মধ্যেই সীমিত ছিল। HACCP সাম্প্রতিককালে উদ্ভাবিত একটি সক্রিয় কারিগরি পদ্ধতি। এ পদ্ধতি প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রতিটি পর্যায়ে সম্ভাব্য সমস্যা ও তা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।
মান নিশ্চয়তার বিধান আর্ন্তজাতিক মান নির্ধারণ সংস্থা (International Standards Organization ISO 9000) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্ধারিত মানের (EU 29000) মাধ্যমে খাদ্য শিল্পের সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠানসমূহ এই দুটি সংস্থা কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকে বা করা যায়। এ ধরনের কর্মসূচির কার্যকারিতা নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ দ্বারা নিয়মিতভাবে মূল্যায়িত হয়।
যে সমস্ত খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠান এ ধরনের মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অনুসরণ করে তারা এ প্রক্রিয়ায় সরবরাহকারী সূত্র (যেমন কৃষক এবং পাইকারি কাঁচামাল সরবরাহকারি সংস্থা), পরিবহণ সংস্থা, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদেরও জড়িত করে। খাদ্য উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত উৎপাদিত খাদ্য বাজারজাত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের মোড়ক ও আধার ব্যবহূত হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে উৎপাদিত ও প্রক্রিয়াকৃত খাদ্যসামগ্রী উত্তম অবস্থায় ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে। পরিবহণ, পাইকারি গুদাম, খুচরা বিক্রয়স্থল এবং বসতবাড়ি পর্যন্ত এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্যের মান ও নিরাপদ হওয়ার বিয়ষটি নিশ্চিত হয়ে থাকে। মোড়ক বা আধারের সাথে যুক্ত লেবেলে খাদ্য সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি ছাড়াও এর ফলে খাদ্য সংরক্ষণ সহজতর হয়। অন্যদিকে সাধারণত মোড়ককৃত বা টিনজাত খাদ্যের উৎপাদনের তারিখসহ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ঠিকানাও দেওয়া হয়। ফলে, এ সংক্রান্ত কোন অভিযোগের বিষয় প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহণ ও খুচরা বিক্রেতারা মালামাল সংক্রান্ত সম্ভাব্য সঙ্কটও সমাধান করতে সক্ষম হয়।
ফসল কাটা থেকে খাদ্য গ্রহণ করার যে কোন স্তরে রাসায়নিক দ্রব্যাদি এবং জীবাণু দ্বারা বিষাক্ত বা দূষিত হতে পারে। সাধারণত নিরাপদ খাদ্যের ঝূঁকি দুই ধরনের:
ক. জীবাণু সংক্রান্ত দূষণ (যথা বিভিন্ন ধরনের জীবাণু, ছত্রাক ইত্যাদি)। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ কারণে দূষিত খাদ্য মানবদেহে বিভিন্ন বিরূপ উৎসর্গের সৃষ্টি করে।
খ. রাসায়নিক দ্রব্যাদি দ্বারা দূষণ। এর মধ্যে রয়েছে পরিবেশ দূষণ সংক্রান্ত দ্রব্যাদি, পশুর ঔষধের অবশিষ্টাংশ, ভারি ধাতু অথবা অন্যান্য অবশিষ্টাংশ যা কারো অগোচরে খাদ্যে অনুপ্রবেশ করে।
কোন দূষণ সৃষ্টিকারী দ্রব্য স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিপদ ডেকে নিয়ে আসবে কিনা তা অনেকগুলি কারণের উপর নির্ভরশীল। দূষণ সক্ষম বস্ত্তর বিষ এবং এর গ্রহণ ছাড়াও দূষিত খাদ্যে বিষের মাত্রা ও পরিমাণ এবং সময়কালসহ অন্যান্য কারণ। বিষের ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া রোধ করার ক্ষমতাও ব্যক্তিভেদে ভিন্নতর হয়। এ ছাড়া রয়েছে আরেকটি জটিল কারণ। পশু সংক্রান্ত গবেষণালব্ধ তথ্যাদি মানবদেহে যে একই ধরনের ক্ষতি করবে তার অনিশ্চয়তা।
নিরাপদ খাদ্য ক্রমবর্ধমানভাবে জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। বিশ্বব্যাপী সব সরকারই নিজ নিজ ক্ষেত্রে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য বহুবিধ প্রচেষ্টার গতি তীব্র করছে। এর কারণ হচ্ছে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সমস্যার বৃদ্ধিসহ ভোক্তাদের আশঙ্কা। উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে দূষিত খাদ্যজনিত রোগ বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের ক্রমবর্ধমান সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত।
দূষিত খাদ্যগ্রহণের জন্য রোগের মাত্রার গভীরতা ও ব্যাপকতা নির্ণয় করা কঠিন। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে, ২০০৫ সালেই উদরাময় রোগে বিশ্বের ১.৮ মিলিয়ন মানুষ মূত্যুবরণ করেছে। দূষিত খাদ্যগ্রহণ ও পানি পান করা এ ধরনের মূত্যুর সিংহভাগ হবে। এছাড়া, শিশুদের অপুষ্টির একটি প্রধান কারণ উদারাময় রোগ।
শিল্পোন্নত দেশে খাদ্যবাহিত রোগের সংখ্যা প্রতিবছর শতকরা ৩০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে মর্মে তথ্য রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর প্রায় ৭৬ মিলিয়ন মানুষ দূষিত খাদ্যের ফলে রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা যায়। ফলে ৩ লাখ ২৫ হাজার রোগী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গিয়েছে। প্রতিবছর এ ধরনের রোগীর মূত্যুর সংখ্যা হবে ৫ হাজার। অনুন্নত দেশসমূহে এ সংক্রান্ত তথ্যের দূর্বলতা রয়েছে। তবে একথা অনস্বীকার্য যে, এ সমস্ত দেশেই দূষিত খাদ্যজনিত রোগের প্রকোপ ও ব্যাপকতা অধিকতর। বহু অনুন্নত দেশে উদারাময় রোগের প্রকোপ এর প্রমাণ বহন করে।
অধিকাংশ দেশে দূষিত খাদ্যজনিত রোগের ঘটনা এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোগের তথ্য পাওয়া দুস্কর। তবে এ কথা ঠিক যে এ ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব মহামারীর আকার ধারণ করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করা যায় যে, ১৯৯৪ সালে একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই salmonellosis জীবানু বহনকারী আইসক্রিম খাওয়ার ফলে ২,২৪,০০০ ব্যক্তি রোগে আক্রান্ত হয়। ১৯৮৮ সালে দূষিত শামুক বা গলদা চিংড়ি খেয়ে চীনে প্রায় ৩ লাখ মানুষ রোগাক্রান্ত হয়।
২০০৮ সালে চীনে প্রস্তুতকৃত কয়েকটি সংস্থার দূষিত গুড়াদুধ পান করে বহু শিশু রোগাক্রান্ত হয়। কারণ, ঐ ধরনের শিশুখাদ্যে মেলামাইনের মাত্রা বেশি ছিল। বাংলাদেশও এ দুধ আমদানির মাধ্যমে আসে। সম্ভাব্য বিপদ এড়ানোর জন্য সরকার ঐ দুধসহ উন্নত দেশের কয়েকটি দুধ আমদানি নিষিদ্ধ করে দেয়। এর ফলে আমদানিকারকরা হাইকোর্টে মামলা করলে আদালতের নির্দেশে সবকয়টি ব্রান্ডের নিষিদ্ধ দুধ বিদেশে আর্ন্তজাতিক মানসম্পন্ন ল্যাবোরটরিতে পরীক্ষার পর আমদানির জন্য কয়েকটি ব্যান্ডকে ছাড়পত্র প্রদান করে।
অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সাথে অংশিদারত্বের ভিত্তিতে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (WHO) নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক নীতি প্রনয়ণের কাজে লিপ্ত। বিভিন্নমূখী পারদর্শীতা ব্যবহার করে এ সংক্রান্ত খাদ্য উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত প্রতিস্তরে ব্যাপৃত হবে। এ সংস্থার খাদ্য অধিদপ্তর নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করাসহ উত্তম খাদ্য প্রস্ত্তত প্রণালি, খুচরা বিক্রেতা ও ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করবে। ভোক্তার প্রশিক্ষণ এবং খাদ্য ব্যবস্থাপনা দূষিত খাদ্যজনিত রোগ প্রতিরোধ করার অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে একটি উত্তম উপায়।
বিশ্ব খাদ্য সংস্থা মানুষ ও পশুর মধ্যে দূষিত খাদ্য বহনকারী রোগ প্রতিরোধের জন্য সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাগারে নজরদারি খাদ্যদূষণে সক্ষম বস্ত্তর নিবিড় পরীবিক্ষণ ব্যবস্থাপনাকে উন্নত করার প্রয়াস নিয়েছে। এ লক্ষ্যে সদস্য দেশসমূহের সহযোগিতা এ সংস্থার কাম্য। উদ্দেশ্য হচ্ছে আর্ন্তজাতিকভাবে স্বীকৃত নিদের্শনার মাধ্যমে এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা। এ সংস্থা অংশগ্রহণকারী সংশ্লিষ্ট সংস্থার সংখ্যাবৃদ্ধিসহ সহায়তা নিয়ে বিশ্বব্যাপি একটি নেটওয়ার্ক স্থাপন করবে, বিশেষ করে অনুন্নত দেশসমূহে। নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক জনস্বাস্থ্যের অবদান রাখার জন্য এ সংস্থা খাদ্য সংক্রান্ত কারিগরি ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা একটি নতুন উদ্যোগও গ্রহণ করেছে। ফলে নিরাপদ খাদ্য সংক্রান্ত কার্যাবলীর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি স্থাপন করা হবে। এ লক্ষ্যে এ সংস্থাও বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সমন্বয়ে দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে একটি পরামর্শক বোর্ড গঠিত হয়েছে। খাদ্যে জীবানু সংক্রান্ত দূষণের মাত্রা নির্ণয় হবে এ ব্যবস্থাপনা কাঠামোর একটি মূল বিষয়।
বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা Codex Alimentarius Commission-এর নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক মান, নির্দেশনা ও সুপারিশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা কর্তৃক স্বীকৃত। এর উন্নতিকল্প বিশ্ব খাদ্য সংস্থা এ কাজে তাদের অংশগ্রহণের মাত্রা আরও নিবিড় করেছে।
বর্তমানে বায়োটেকনোলজি বিশ্বের উন্নত ও অনুন্নত দেশসমূহের জন্য একটি প্রধান বিষয় হিসাবে গণ্য। এ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য ও এহেন খাদ্যে পুষ্টির গুণাগুণের বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ করার সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে। এ প্রযুক্তিপ্রসূত খাদ্যের ঝুঁকি, উপকারিতা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি জ্ঞানসম্পন্ন ভিত্তি স্থাপন করাই মূল উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য সংক্রান্ত আইন ও বিধি বিশুদ্ধ খাদ্য অধ্যাদেশ-১৯৫৯ এবং বিশুদ্ধ খাদ্য বিধিমালা-১৯৫৭; পশুজবাই (বিধিনিষেধ) এবং মাংস নিয়ন্ত্রণ (সংশোধনী) অধ্যাদেশ-১৯৮৩; বিএসটিআই অধ্যাদেশ-১৯৮৫ (সংশোধনী আইন, ২০০৩); ধ্বংসকারী পোকামাকড় বিধি (প্লান্ট কোয়ারেনটাইন)-১৯৬৬ (১৯৮৪ পর্যন্ত সংশোধিত); কৃষিপণ্য বাজার আইন-১৯৬৪ (সংশোধিত ১৯৮৫); মৎস সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন-১৯৫০ (সর্বশেষ সংশোধনী ১৯৮৫); সামুদ্রিক মৎস্য অধ্যাদেশ-১৯৮৩ এবং বিধি-১৯৮৩; মৎস্য ও মৎসজাত পণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) বিধি-১৯৯৭; জরুরি পণ্য আইন-১৯৫৭, ১৯৫৮ ও ১৯৬৪; খাদ্য বা বিশেষ আদালত আইন-১৯৫৬; খাদ্যশস্য সরবরাহ (ক্ষতিকর কার্যাবলী নিরোধ) অধ্যাদেশ-১৯৫৬; পোকামাকড় ধ্বংসকারী ঔষধ অধ্যাদেশ-১৯৭১ এবং এ সংক্রান্ত বিধি-১৯৮৫।
নীতি যোগাযোগ (Policy Linkages) খামার থেকে টেবিল পর্যন্ত ব্যাপৃত নিরাপদ খাদ্যের গুরুত্ব সরকারি সংশ্লিষ্ট সকল নীতিতে যথাযোগ্য গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ নীতিগুলি হচ্ছে: বাংলাদেশ পরিবেশ নীতি-১৯৯৮; বাংলাদেশ খাদ্য ও পুষ্টি নীতি-১৯৯৭; এবং জাতীয় পুষ্টি নীতি-১৯৯৭; বাংলাদেশ খাদ্য নীতি-১৯৯৮; ব্যাপক খাদ্য নিরাপত্তা নীতি-২০০১ এবং নতুন জাতীয় খাদ্য নীতি-২০০৬; জাতীয় কৃষি নীতি-১৯৯৯, বাংলাদেশ স্বাস্থ্য নীতি-২০০১; এবং রপ্তানি নীতি ইত্যাদি। এ ধরনের গুরুত্ব দেওয়া সত্ত্বেও নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক আইনে যথা বিশুদ্ধ খাদ্য অধ্যাদেশ-১৯৫৯ এবং এর আওতায় বিধিতে Codex Alimentarius-এ বিধৃত মান, নির্দেশনা এবং ব্যবহারিক পদ্ধতিকে সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করা হয় নি। এর মধ্যে HACCP রয়েছে। কিন্তু মৎস ও মৎসজাত পণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ১৯৮৩) এবং বিধিতে HACCP-এর নীতিসমূহের স্বীকৃতি রয়েছে। বিএসটিআইও HACCP-এর মান গ্রহণ করেছে।
২০০৮ সালে বাংলাদেশ সরকার নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। দুটি উন্নয়ন সহযোগীর অর্থ সহায়তা এ প্রকল্প ও স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্প সমাপ্তির পর আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করণসহ খাদ্য পরীক্ষাগারসমূহের উন্নতি হবে বলে আশা করা যায়।
খাদ্যের মান বিশুদ্ধ খাদ্য বিধি (১৯৬৭) এর আওতায় সর্বমোট ১০৭ খাদ্যসামগ্রীকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বিএসটিআই ১৯০টি খাদ্যের মান নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে ৫২টির জন্য ছাড়পত্র গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। ২৮টি Codex মান স্বীকৃতি পেয়েছে। [এ.এম.এম শওকত আলী]
Saturday, June 10, 2017
মাশরুম কি , মাশরুম চাষ , মাশরুমের পুষ্টিমান ও উপকারিতা
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 2:08 PM
মাশরুম কি , মাশরুম চাষ , মাশরুমের পুষ্টিমান ও উপকারিতা
মাশরুম হলো এক ধরণের ভক্ষণযোগ্য মৃতজীবী ছত্রাকের ফলন্ত অংগ। এগুলো মূলত Basidiomycetes অথবা Ascomycetes শ্রেণীর অন্তরগত ছত্রাক। মাশরুম একপ্রকার অপুষ্পক উদ্ভিদ। এটি ছত্রাকের বা ইউমাইসেটিসের অন্তর্ভুক্ত । এতে সবুজ কণা (Chlorophyll) নাই বিধায় সবুজ কণাযুক্ত উদ্ভিদের মতো নিজের খাদ্য নিজে প্রস্তুত করতে পারে না। সে কারণে খাদ্যের জন্য এরা প্রাণীজ বা উদ্ভিজ বস্তুর ওপর নির্ভরশীল।
মাশরুম ব্যাঙের ছাতার মতো এক ধরণের ছত্রাক জাতীয় গাছ। মাশরুম ও ব্যাঙের ছাতা দেখতে একই রকম হলেও এদের মাঝে অনেক পার্থক্য আছে। প্রাকৃতিক পরিবেশে জন্ম নেওয়া কোন কোন মাশরুম বিষাক্ত হয় এবং সেগুলো খাওয়া যায় না। সূর্যের আলোয় প্রাকৃতিকভাবে খুব বেশি মাশরুম জন্মাতে পারে না তাই প্রাকৃতিক উপায়ে খাবারের জন্য বেশি করে মাশরুম পাওয়া যায় না।
পৃথিবীতে প্রায় ৩ লাখ প্রজাতির মাশরুম রয়েছে। এগুলোর মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার প্রজাতি খাওয়ার অযোগ্য। আনুমানিক ১০ হাজার প্রজাতির মাশরুমের ওপর গবেষণা চলছে। সব ধরনের ছত্রকই মাশরুম না। শুধুমাত্র খাওয়ার উপযোগী ছত্রাকই মাশরুম। অর্থাৎ সকল মাশরুমই ছত্রাক কিন্তু সকল ছত্রাক মাশরুম নয়। পৃথিবীতে ৩ লক্ষ্য প্রজাতির ছত্রাক থাকলেও এ যাবত কাল পর্যন্ত মাত্র ২০০ প্রজাতির খাওয়ার উপযোগী ছত্রাক তথা মাশরুমের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩০ টি প্রজাতি বানিজ্যিক ভিত্তিতে এবং ১০ টি ইন্ডাট্রিয়াল স্কেলে চাষ করা সম্ভব। বলে রাখা ভালো প্রতিটি প্রজাতিরই আবার অসংখ্য চাষ উপযোগী স্ট্রেইন (বর্ন) রয়েছে। বর্তমানে জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ও সম্প্রসারন কেন্দ্রে ১৫৭ টি চাষ উপযোগী মাশরুমের স্ট্রেইন রয়েছে।
পবিত্র কোরআন ও হাদীসে মাশরুমকে অত্যন্ত মর্যাদাকর খাবার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সহীহ বুখারী শরীফে রাসুল (সঃ) বলেছেন, আল কামাতু মিনাল মান্না ওয়া মাহা সাফা আল্ আইন” অর্থাৎ মাশরুম এক শ্রেণীর মান্না এবং এর রস চোখের জন্য ঔধষ বিশেষ। আর মান্না সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে সূরা বাকারার ৫৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে – অযাল্লালনা আলাইকুমুল গামামা ওয়া আনযালনা আলাইকুমুল মান্না-ওয়াস্-সালওয়া কুলুমিন তায়্যিবাতি মা রাযাক্বনাকুম; ওমা জলামুনা আলাকিন কানূ আনফুছাহুম ইয়াযলিমূন অর্থাৎ আর আমি মেঘমালা দিয়ে তোমাদের উপর ছায়া দান করেছি এবং তোমাদের জন্য অত্যন্ত সম্মানিত খাবার পাঠিয়েছি মান্না ও সালওয়া। তোমরা খাও সে সব পবিত্র বস্তু যা আমি তোমাদের জন্য দান করেছি।

ছত্রাকের উঁচু ও নিচু এই দুটি স্তর রয়েছে, মাশরুম উঁচু স্তরের ছত্রাক এবং প্রধানতঃ
ব্যাসিডিউমাইসেটিস শ্রেনীর অন্তর্ভূক্ত, এতে যৌন স্পোর হয়। ক্যারিওগ্যামী (Karyogamy) ও মিওসিসের (meosis) ফলশ্রুতিতে এই স্পোর উৎপন্ন হয় এবং এগুলো এক নিউক্লিয়েট বিশিষ্ট এবং হ্যাপলয়েড (Haploid)| ব্যাসিডিওমাইসেটিস ব্যতিত এসকোমাইসেটিস শ্রেণীর অন্তর্গত কিছু মাশরুম রয়েছে এগুলো স্পঞ্জ মাশরুম বা মোরেল (morels) নামে পরিচিতি। এক্ষেত্রেও যৌন স্পোর হয় তবে তা বেসিডিও স্পোর নয়, তা এসকোস্পোর (ascospore) নামে পরিচিতি। স্পঞ্জ মাশরুমও ভক্ষণযোগ্য। আমরা ছাতার মতো মাশরুমের যে অংশটি দেখতে পাই এটিকে ছত্রাকের ফ্রুটিং বডি (fruiting body) বলা হয়। মাশরুমের ফ্রুটিং বডি বা ভক্ষণযোগ্য অংশটি সাধারণতভাবে চারভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১। টুপী বা পিলিয়াস (Pilius)
২। জিল (gills) বা ল্যামেল্যা (lamellae)
৩। আবরণ বা ভেইল এনুলাস (veil annulus)
৪। দন্ড বা স্টাইপ (stipe)
টুপী (Pilius)
টুপী বা পিলিয়াস অনেকটা ছাতার আকৃতি বিশিষ্ট। এটি সাধারণত: মাংশ (fleshy) এবং পুরু হয়। জাতভেদে টুপী বিভিন্ন আকৃতি, মাপ ও বর্ণের হয়।
জিল (gills)
জিলাস বা ল্যমেলা মাশরুমের টুপীর নীচের অংশ। এর মধ্যে বংশবিস্তারের অতি প্রয়োজনীয় স্পোর (spore) থাকে। জাতভেদে স্পোরের রং বিভিন্ন হয় এবং বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে রংয়ের পরিবর্তন হয়। জিল এক ধরণের অসংখ্যা সমান্তরাল সুতো দিয়ে তৈরী এবং এরই মধ্যে গদাকৃতির কোষের শীর্ষে বেসিডিওস্পোর থাকে। স্পোরগুলো খালি চোখে দেখা যায় না তবে অনেকগুলো স্পোরকে একত্রে ধুলোর মতো মনে হয়। স্পোরগুলো ঝরে পড়লে তা বাতাসে অন্যত্র নিতে হয় । অনুকুল পরিবেশে স্পোরগুলো গজায়। উচ্চবর্ণের উদ্ভিদও যেমন বীজ থাকে, মাশরুমের তেমনি থাকে স্পোর। স্পোর গজিয়ে সুতোর মত এক ধরণের দন্ড জন্ম নেয়। এগুলোকে হাইফা (hypha) বলা হয়। অনেকগুলো হাইফাকো একত্রে মাইসেলিয়াম বলে। মাইসেলিয়াম বৃদ্ধি পেয়ে দীর্ঘায়িত হয় এবং খাদ্যবস্তু সংগ্রহ করে। হাইফাই ছত্রাকের মূল কাঠামো।
আবরণ (veil )
মাশরুমের সদ্যোজাত ফ্রুটিং বডির জিল (gills) এক ধরণের কোষেকলা দিয়ে আবৃত থাকে যা টুপীর (Pilius) প্রান্ত থেকে দন্ড পর্যন্ত বিস্তৃত। এই কোষকলাকে আবরণ বা veil বলা হয়। ধীরে ধীরে ফ্রুটিং বডির বৃদ্ধি হতে থাকলে টুপীর দিককার আবরণ ছিড়ে যায় এবং এর কিছু অংশ টুপীর প্রান্তভাগ সংলগ্ন থাকে অন্য অংশ দন্ডের (stipe) চারিদিকে আংটির মতো থাকে এটিকে এনুলাস বলা হয়।
দন্ড (stipe or stalk)
টুপী বা (Pilius) কে এই দন্ডই (stipe) ধারণ করে রাখে। এই দন্ডটি সাধারণভাবে টুপীর মাঝামাঝি থাকে। কিন্তু ক্ষেত্র বিশেষ এটি একপাশেও থাকতে পারে। দন্ডটির ভেতরের অংশ ভরাট কিংবা ফাঁপা থাকতে পারে। দন্ডটির সর্বাংশ একই ধরণের পরিধি বিশিষ্ট হতে পারে কিংবা মধ্যম বা শেষ প্রান্ত কিছুটা ফুলে থাকতে পারে।
খাবারের উপযোগী মাশরুমঃ
আমাদের দেশে সাধারণত খাবারের উপযোগী তিন জাতের মাশরুম চাষ হয় ।
১। স্ট্র মাশরুমঃ ধানের খড়, শিমুল তুলা, ছোলার বেসন ও চাউলের কুড়া ইত্যাদি উপকরণ ব্যবহার করে স্ট্র মাশরুম চাষ করা হয়। আমাদের দেশে সাধারণত মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এর চাষ করা যায়।
২। ইয়ার মাশরুমঃ সাধারণত বর্ষাকালে প্রাকৃতিকভাবে আম গাছে ইয়ার মাশরুম পাওয়া যায়। ইয়ার মাশরুম দেখতে কালচে রঙের। ইয়ার মাশরুম সারাবছর চাষ করা গেলেও সাধারণত বর্ষাকালে এর ফলন ভালো হয়।
৩। অয়েস্টার মাশরুমঃ আমাদের দেশে এই জাতের মাশরুম চাষ সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। সারাবছরই এই মাশরুম চাষ করা যায় তবে শীত ও বর্ষাকালে এর ফলন ভালো হয়। অয়েস্টার মাশরুম খুব সহজে চাষ করা যায় এবং এর জন্য খুব অল্প জায়গার প্রয়োজন হয়।

মাশরুম চাষের সুবিধাসমূহঃ
বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু মাশরুম চাষের অত্যন্ত উপযোগি। সে সাথে মাশরুম চাষের প্রয়োজনীয় উপকরণও (যেমন- খড়, কাঠের গুড়া, আখের ছোবড়াসহ বিভিন্ন কৃষিজ ও শিল্পজ বর্জ্য) অত্যন্ত সস্তা এবং সহজলভ্য।
মাশরুম চাষের সাধারন সুবিধাসমূহঃ
(১) মাশরুম চাষে আবাদী জমি দরকার হয় না।
(২) ঘরের মধ্যে চাষ করা যায়।
(৩) তাকে তাকে সাজিয়ে একটি ঘরকে কয়েকটি ঘরের সমান ব্যবহার করা যায়।
(৪) অত্যন্ত অল্প সময়ে অর্থাৎ মাত্র ৭-১০ দিনের মধ্যে মাশরুম পাওয়া যায় যা বিশ্বের অন্য কোন ফসলের বেলায় প্রযোজ্য নয়।
(৫) বাড়ির যে কেউ মাশরুম চাষে অংশ নিতে পারে।
মাশরুম চাষে অর্থনৈতিক সুবিধাঃ
মাশরুম চাষ একটি সর্বোত্তম লাভজনক ব্যবসা। অর্থনৈতিক দৃষ্টিতে কোন ব্যবসা সর্বাধিক লাভজনক তখনই ধরা যাবে যখন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিম্নের বিষয়গুলো সর্বোচ্চ অনুকূল অবস্থা থাকবে। যেমন-
(ক) কম পুঁজির দরকার হবে।
(খ) বিনিয়োগকৃত অর্থ অল্প সময়ের মধ্যে তুলে আনা সম্ভব হবে এবং
(গ) অল্প শ্রমের মাধ্যমে তা সম্ভব হবে।
অপরদিকে বিনিয়োগের বিপরীতে প্রাপ্তির ক্ষেত্রেঃ
(ক) যদি একক প্রতি ফলন অধিক হয়
(খ) বাজার মূল্য অধিক হয়
(গ) একক প্রতি লাভ অধিক হয়, তবে তা সর্বোত্তম ব্যবসা বটে।
মাশরুম চাষের সামাজিক সুবিধাঃ
মাশরুম চাষে যে সমস্ত সামাজিক সুবিধা পাওয়া যায় সেগুলো হলোঃ
(১) ঘরে ঘরে মাশরুম চাষ করে অত্যন্ত পুষ্টিকর এই সবজি নিয়মিত খেয়ে দেশে পুষ্টিহীনতা দূর করা সম্ভব হবে।
(২) পুষ্টিহীনতা দূর হলে রোগব্যাধী জনিত ব্যয় সাশ্রয়সহ সমাজের সুস্ততা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
(৩) আর সুস্থ্য সবল দেহই অধিক কর্মক্ষম, ফলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।
(৪) মাশরুম চাষে, সংরক্ষণে, প্রক্রিয়াজাতকরণেও বাজারজাতকরণে কর্মহীন লোকদের নিয়োজিত করে জনগণকে অধিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।
(৫) যে সমস্ত শিক্ষিত যুবক-যুবতী বেকারত্বের অভিশাপে জর্জরিত, প্রচলিত সামাজিকতার কারণে শিক্ষিত হবার পর যারা রোদে পুড়ে, মাঠে কাদামাটির সাথে মিশে নিজেদেরকে প্রচলিত উৎপাদন পদ্ধতিতে সম্পৃক্ত করতে অনীহা প্রকাশ করেন, সে সমস্ত বেকার ছেলেমেয়েদের জন্য মাশরুম চাষ একটি আর্শীবাদ। কারণ মাশরুম চাষ করতে রোদে পুড়তে হয়না, কাদামাটির সংস্পর্শে আসতে হয় না, ঘরের মধ্যে তাকে তাকে সাজিয়ে সামান্য শ্রমে অল্প সময়ে ন্যূনতম পুজিতে অধিক এবং স্বাধীন উপার্জন করা সম্ভব।

মাশরুম উৎপাদন কৌশলঃ
চাষের উপযোগী স্থানঃ মাশরুম খোলা জায়গায় চাষ করা যায় না। তাই এর জন্য আবাদী জমির প্রয়োজন হয় না। মাশরুম চাষ করার জন্য ছায়াযুক্ত জায়গায় ছন বা বাঁশের চালা দিয়ে ঘর তৈরি করতে হয়। মাটির দেওয়াল দিয়েও ঘর তৈরি করা যায়। আবার বাঁশের বেড়াও দেওয়া যায়। ঘরের ভেতর যাতে আলো ঢুকতে না পারে সেজন্য বাঁশের বেড়ায় মাটি লেপে দিতে হয়।
অয়েস্টার মাশরুম চাষ পদ্ধতিঃ অয়েস্টার মাশরুম বীজ বা স্পন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ জোগাড় করে মাশরুম চাষ শুরু করা যাবে। ধাপে ধাপে মাশরুম চাষ করতে হয়।
১ম পদ্ধতিঃ
১। মাশরুম চাষ কেন্দ্র থেকে মাশরুমের বীজ বা স্পন প্যাকেট সংগ্রহ করতে হবে। বীজ বা স্পনের দুই পাশে কিছুটা গোল করে কেটে চেঁছে নিতে হবে।
২। মাশরুমের প্যাকেট পানিতে ৩০ মিনিটের জন্য ডুবিয়ে রাখতে হবে। ৩০ মিনিট পরে পানি থেকে মাশরুমের প্যাকেট উঠিয়ে নিতে হবে।
৩। অতিরিক্ত পানি ঝরানোর জন্য মাশরুমের প্যাকেট ৫ থেকে ১০ মিনিট উপুড় করে রাখতে হবে। পানি ঝরে গেলে ঘরের নির্ধারিত জায়গায় রেখে দিতে হবে। প্রতিদিন এর উপর তিন থেকে চারবার করে পানি ছিটিয়ে দিতে হবে।
৪। সাধারণত ৩ থেকে ৪ দিন পর কাটা জায়গা থেকে অঙ্কুর গজায়। অঙ্কুর গজানোর পর মাঝে মাঝে পানি ছিটিয়ে দিতে হবে।
৫। খাওয়ার উপযোগী মাশরুম উৎপন্ন হতে ৫ বা ৬ দিন সময় লাগে। খাবার উপযোগী মাশরুম উৎপন্ন হলে তা গোড়া থেকে তুলে নিতে হবে।
৬। বীজের যে জায়গা কাটা হয়েছিল তা ব্লেড দিয়ে একটু চেঁছে দিতে হবে। এই বীজ থেকে আবার মাশরুম গজাবে।
৭। একটা আধা কেজি ওজনের বীজ বা স্পন প্যাকেট থেকে ৩-৪ বার মাশরুম পাওয়া যায়। এতে মোট ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম মাশরুম পাওয়া যাবে।
২য় পদ্ধতিঃ
১। মাশরুম চাষ কেন্দ্র থেকে বীজ বা স্পন সংগ্রহ করতে হবে। এক কেজি ওজনের একটি বীজের পলিথিন খুলে ভিতরের কম্পোস্ট গুঁড়ো করে নিতে হবে।
২। দুই কেজি পরিমাণ ধানের পরিষ্কার ও শুকনো খড় সংগ্রহ করতে হবে। খড়গুলোকে এক ইঞ্চি মাপে কেটে টুকরা করতে হবে।
৩। পরিমাণ মতো পানি ফুটিয়ে নিতে হবে। খড়গুলো জীবাণুমুক্ত করার জন্য ফুটন্ত পানিতে খড়ের টুকরোগুলো এক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে।
৪। খড়গুলো পানি থেকে তুলে চিপে পানি শূন্য করে একটি পাত্রে রাখতে হবে।
৫। পাঁচটি পলিব্যাগ নিয়ে পলিব্যাগের ভেতরে প্রথমে কিছু খড় বিছিয়ে নিতে হবে। খড়ের উপর মাশরুম বীজের গুঁড়ো দিতে হবে। এভাবে একটি পলিব্যাগে চার স্তরে খড় আর মাশরুম বীজের গুঁড়ো বিছিয়ে দিতে হবে। শেষ স্তরে আবার খড় বিছিয়ে দিতে হবে।
৬। খড় বিছানো শেষ হলে খুব শক্ত করে পলিব্যাগ বাঁধতে হবে। এভাবে প্রতিটি পলিব্যাগ বাঁধতে হবে।
৭। পলিব্যাগের চার দিকে ১০-১২টি ছিদ্র করতে হবে। এরপর ব্যাগগুলোকে বীজে পরিণত হওয়ার জন্য ১৫-১৮ দিন রেখে দিতে হবে।
৮। ১৫-১৮ দিন পরে পলিব্যাগগুলো খুলে বীজের দলাগুলো বের করে নিতে হবে।
৯। প্রতিটি বীজের দলা শিকায় করে ঝুলিয়ে রাখতে হবে এবং প্রতিদিন ৪-৫ বার করে পানি ছিটিয়ে দিতে হবে।
১০। ৩-৪ দিন পর চারদিক দিয়ে মাশরুমের অঙ্কুর গজাতে শুরু করবে। ৪-৬ দিন পর খাওয়ার উপযোগী মাশরুম গোড়া থেকে তুলে নিতে হবে।
১১। এভাবে মাশরুম চাষে লাভ বেশি হবে। কারণ প্রতিটি পলিব্যাগ থেকে প্রায় আধা কেজি মাশরুম পাওয়া যাবে। সুতরাং পাঁচটি ব্যাগ থেকে প্রায় আড়াই কেজি মাশরুম উৎপন্ন হবে।
সাবধানতাঃ
১। বীজ বা স্পনে কোনভাবেই সূর্যের আলো পড়তে দেওয়া যাবে না। সবসময় ঘরটি ঠান্ডা রাখতে হবে। খুব বেশি গরম পড়লে ঘরের চারদিকে বস্তা ঝুলিয়ে ভিজিয়ে রাখতে হবে।
২। মাশরুম ঘর ও ঘরের বাইরের চারদিক সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। অপরিচ্ছন্ন জায়গায় মাশরুম ফ্লাই নামের পোকা মাশরুমের ক্ষতি করে।
৩। কীটনাশক ব্যবহার করা যাবে না।
অয়েস্টার মাশরুমের পাপড়ি বেশি ছড়ানোর আগেই তুলে গোড়া থেকে সামান্য কেটে ফেলতে হবে। পলি প্রোপাইলিনের প্যাকেটে কয়েকটা ছিদ্র করে এর মধ্যে মাশরুমগুলো ভার মুখ বন্ধ করে এই প্যাকেট বাজারজাত করতে হবে। প্রতিটি বীজ বা স্পন থেকে প্রায় ২০০ গ্রাম মাশরুম পাওয়া যায়। সুতরাং ২০০টি বীজ বা স্পন থেকে প্রায় ৪০ কেজি মাশরুম পাওয়া সম্ভব হবে।

মাশরুমের পুষ্টিমানঃ
মাশরুমে খনিজ পদার্থের পরিমান মাছ ও মাংসের তুলনায় বেশী এবং প্রচলিত সবজীর তুলনায় প্রায় দ্বিগুন। মাশরুমে আমিষের পরিমান আলু থেকে দ্বিগুন, টমেটো থেকে চারগুন এবং কমলা লেবুর থেকে ছয়গুন বেশী।
পুষ্টির বিচারে মাশরুম নিঃসন্দেহে সবার সেরা। কারণ আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যেসব উপাদান অতি প্রয়োজনীয় যেমন – প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেল সেগুলো মাশরুমে উচ্চ মাত্রায় আছে। অন্যদিকে যেসব খাদ্য উপাদানের আধিক্য আমাদেরকে জটিল ব্যাধীর দিকে নিয়ে যায়,যেমন -ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেড তা মাশরুমে নেই বললেই চলে।প্রতি ১০০ গ্রাম শুকনা মাশরুমে নিম্নলিখিত পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।
প্রোটিন মূল্যঃ মাশরুমের প্রোটিন হল অত্যন্ত উন্নত,সম্পূর্ণ এবং নির্দোষ।একটি সম্পূর্ণ প্রোটিনের পূর্বশর্ত হলো মানব দেহের অত্যাবশ্যকীয় ৯টি এমাইনো এসিডের উপস্থিতি। মাশরুমে অপরিহার্য এ ৯টি এমাইনো এসিডই প্রশংসনীয় মাত্রায় আছে। অন্যান্য প্রাণীজ আমিষ যেমন-মাছ,মাংস,ডিমের আমিষ উন্নতমানের হলেও তার সঙ্গে সম্পৃক্ত চর্বি থাকায় তা গ্রহণে দেহে কোলেস্টরল সমস্যা দেখা দেয়।যার ফলে উচ্চ রক্তচাপ,হৃদরোগ,মেদভূড়ি ইত্যাদি জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পক্ষান্তরে মাশরুমের প্রোটিন নির্দোষ। তাছাড়াও প্রোটিনের বিপরীতে ফ্যাট এবং কার্বো-হাইড্রেটের সর্বনিম্ন উপস্থিতি এবং কোলেস্টরল ভাঙ্গার উপাদান লোভাস্টাটিন,এন্টাডেনিন,ইরিটাডেনিন ও নায়াসিন থাকায় কোলেস্টরল জমার ভয় থাকে না।এ কারণে প্রোটিনের অন্যান্য সব উৎসের তুলনায় মাশরুমের প্রোটিন সর্বোৎকৃষ্ট ও নির্দোষ।নিচের ছকে প্রোটিনের অন্যান্য উৎসের সাথে মাশরুমের তুলনা দেখানো হলঃ
ফ্যাট মুল্যঃ মাশরুমের ফ্যাট অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড দ্বারা তৈরি যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।এছাড়া স্ফিঙ্গলিপিড ও আরগেস্টেরল থাকায় এর মানকে আরও উন্নত করেছে।স্ফিঙ্গলিপিড থাকায় হাড়ের মজ্জা ও ব্রেন ডেভেলপমেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং আরগেস্টেরলের উপস্থিতির কারণে ভিটামিন-ডি সিনথেসিসে সহায়ক হয় যা হাড় ও দাঁত তৈরি এবং ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়তা করে।এছাড়া মাশরুমের ফ্যাটে ৭০-৮০% লিনোলিক এসিড আছে যা শরীর সুস্থ্য রাখতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে।
কার্বোহাইড্রেট মূল্যঃ আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি যা সম্পূর্ণ খরচ না হয়ে শরীরে জমা হয় এবং নানা ধরণের স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করে।মাশরুমে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কম এবং তা পানিতে দ্রবনীয়।ফলে মাশরুমের কার্বোহাইড্রেড শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।এছাড়া এরমধ্যে অধিকাংশ পলিস্যাকারাইড যেমন- গ্লাইকোজেন,বেটা-ডি-গ্লুক্যান,ল্যাম্পট্রোল,লোভাস্টাটিন,এন্টাডেনিন,ইরিটাডেনিন,ট্রাইটারপিন,এডিনোসিন,ইলুডিন প্রভৃতি থাকায় দেহের জটিল রোগ নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এছাড়া মাশরুম এ্যাসিডিক সুগার ও এ্যাসিডিক পলিস্যাকারাইড বিশেষ করে H৫১ সরবরাহ করে।মাশরুমে আঁশের পরিমাণও বেশি।জাত ভেদে ১০-২৮% আঁশ পাওয়া যায়।ফলে ডায়াবেটিকস রোগীদের ইনসুলিনের চাহিদা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ভিটামিন ও মিনারেলঃ ভিটামিন ও মিনারেল দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। প্রতিদিন চাহিদা মাফিক নির্দিষ্ট পরিমাণ ভিটামিন ওমিনারেল গ্রহণ না করলে দেহে বিভিন্ন জটিল রোগের সৃষ্টি হয়।অল্প পরিমাণে অথচ অত্যাবশ্যকীয় এ খাদ্য উপাদানগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে এ অবস্থার সৃষ্টিই হবে না।ভিটামিন ও মিনারেলের উৎস হিসেবে মাশরুমের অবস্থান খুবইউচ্চে।শুকনা মাশরুমে ৫৭%-৬০% ভিটামিন ও মিনারেল (অত্যাবশ্যকীয় ট্রেস এলিমেন্টসহ) বিদ্যমান।আমাদের শরীরের জন্য প্রতিদিন প্রধান প্রধান ভিটামিন ও মিনারেলের যে পরিমাণ প্রয়োজন এবং ১০০ গ্রাম শুকনা মাশরুম যেপরিমাণ সরবরাহ ।
মাশরুমের মধ্যে পটাসিয়াম,ফসফরাস,সোডিয়াম,ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ প্রায় ৭০ ভাগ,যার মধ্যেআবার ৪৫ ভাগই হচ্ছে পটাসিয়াম।এছাড়া কপার ও সেলিনিয়াম যথেষ্ট পরিমাণে থাকায় চুলপড়া,চুল পাকা রোধসহ মহিলাদের ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
মাশরুমের স্বাদঃ মাশরুম অত্যন্ত সুস্বাদু সবজি।প্রাচীনকাল থেকে মানুষ মুখোরোচক এই মাশরুমের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে খাদ্য তালিকায়মাশরুমকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে।এমনকি রাষ্ট্রীয় অতিথিদের আপ্যায়নে ব্যবহৃত হতো মাশরুম।বিশ্বব্যাপী ভোজনরসিকরা মাশরুমকে স্বর্গীয় খাবারের সাথে তুলনা করে।মাশরুম অন্য খাবারের সাথে ব্যবহার করলে তার স্বাদ ও মান বহুগুণে বেড়ে যায়।

যে সমস্ত কারণে মাশরুম বিভিন্ন জটিল রোগের প্রতিরোধক এবং নিরাময়ক হিসেবে কাজ করেঃ
মাশরুম চাষের মাধ্যমে এদেশের পুষ্টি উন্নয়ন, দারিদ্র বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা বেকারত্ব দূরীকরণ (বিশেষ করে মহিলাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি), আমদানী ব্যয় হ্রাস এবং রপ্তানী আয় বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশ উন্নয়নের এক অপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।
মাশরুম হলো এক ধরণের ভক্ষণযোগ্য মৃতজীবী ছত্রাকের ফলন্ত অংগ। এগুলো মূলত Basidiomycetes অথবা Ascomycetes শ্রেণীর অন্তরগত ছত্রাক। মাশরুম একপ্রকার অপুষ্পক উদ্ভিদ। এটি ছত্রাকের বা ইউমাইসেটিসের অন্তর্ভুক্ত । এতে সবুজ কণা (Chlorophyll) নাই বিধায় সবুজ কণাযুক্ত উদ্ভিদের মতো নিজের খাদ্য নিজে প্রস্তুত করতে পারে না। সে কারণে খাদ্যের জন্য এরা প্রাণীজ বা উদ্ভিজ বস্তুর ওপর নির্ভরশীল।
মাশরুম ব্যাঙের ছাতার মতো এক ধরণের ছত্রাক জাতীয় গাছ। মাশরুম ও ব্যাঙের ছাতা দেখতে একই রকম হলেও এদের মাঝে অনেক পার্থক্য আছে। প্রাকৃতিক পরিবেশে জন্ম নেওয়া কোন কোন মাশরুম বিষাক্ত হয় এবং সেগুলো খাওয়া যায় না। সূর্যের আলোয় প্রাকৃতিকভাবে খুব বেশি মাশরুম জন্মাতে পারে না তাই প্রাকৃতিক উপায়ে খাবারের জন্য বেশি করে মাশরুম পাওয়া যায় না।
পৃথিবীতে প্রায় ৩ লাখ প্রজাতির মাশরুম রয়েছে। এগুলোর মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার প্রজাতি খাওয়ার অযোগ্য। আনুমানিক ১০ হাজার প্রজাতির মাশরুমের ওপর গবেষণা চলছে। সব ধরনের ছত্রকই মাশরুম না। শুধুমাত্র খাওয়ার উপযোগী ছত্রাকই মাশরুম। অর্থাৎ সকল মাশরুমই ছত্রাক কিন্তু সকল ছত্রাক মাশরুম নয়। পৃথিবীতে ৩ লক্ষ্য প্রজাতির ছত্রাক থাকলেও এ যাবত কাল পর্যন্ত মাত্র ২০০ প্রজাতির খাওয়ার উপযোগী ছত্রাক তথা মাশরুমের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩০ টি প্রজাতি বানিজ্যিক ভিত্তিতে এবং ১০ টি ইন্ডাট্রিয়াল স্কেলে চাষ করা সম্ভব। বলে রাখা ভালো প্রতিটি প্রজাতিরই আবার অসংখ্য চাষ উপযোগী স্ট্রেইন (বর্ন) রয়েছে। বর্তমানে জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ও সম্প্রসারন কেন্দ্রে ১৫৭ টি চাষ উপযোগী মাশরুমের স্ট্রেইন রয়েছে।
পবিত্র কোরআন ও হাদীসে মাশরুমকে অত্যন্ত মর্যাদাকর খাবার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সহীহ বুখারী শরীফে রাসুল (সঃ) বলেছেন, আল কামাতু মিনাল মান্না ওয়া মাহা সাফা আল্ আইন” অর্থাৎ মাশরুম এক শ্রেণীর মান্না এবং এর রস চোখের জন্য ঔধষ বিশেষ। আর মান্না সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে সূরা বাকারার ৫৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে – অযাল্লালনা আলাইকুমুল গামামা ওয়া আনযালনা আলাইকুমুল মান্না-ওয়াস্-সালওয়া কুলুমিন তায়্যিবাতি মা রাযাক্বনাকুম; ওমা জলামুনা আলাকিন কানূ আনফুছাহুম ইয়াযলিমূন অর্থাৎ আর আমি মেঘমালা দিয়ে তোমাদের উপর ছায়া দান করেছি এবং তোমাদের জন্য অত্যন্ত সম্মানিত খাবার পাঠিয়েছি মান্না ও সালওয়া। তোমরা খাও সে সব পবিত্র বস্তু যা আমি তোমাদের জন্য দান করেছি।
ছত্রাকের উঁচু ও নিচু এই দুটি স্তর রয়েছে, মাশরুম উঁচু স্তরের ছত্রাক এবং প্রধানতঃ
ব্যাসিডিউমাইসেটিস শ্রেনীর অন্তর্ভূক্ত, এতে যৌন স্পোর হয়। ক্যারিওগ্যামী (Karyogamy) ও মিওসিসের (meosis) ফলশ্রুতিতে এই স্পোর উৎপন্ন হয় এবং এগুলো এক নিউক্লিয়েট বিশিষ্ট এবং হ্যাপলয়েড (Haploid)| ব্যাসিডিওমাইসেটিস ব্যতিত এসকোমাইসেটিস শ্রেণীর অন্তর্গত কিছু মাশরুম রয়েছে এগুলো স্পঞ্জ মাশরুম বা মোরেল (morels) নামে পরিচিতি। এক্ষেত্রেও যৌন স্পোর হয় তবে তা বেসিডিও স্পোর নয়, তা এসকোস্পোর (ascospore) নামে পরিচিতি। স্পঞ্জ মাশরুমও ভক্ষণযোগ্য। আমরা ছাতার মতো মাশরুমের যে অংশটি দেখতে পাই এটিকে ছত্রাকের ফ্রুটিং বডি (fruiting body) বলা হয়। মাশরুমের ফ্রুটিং বডি বা ভক্ষণযোগ্য অংশটি সাধারণতভাবে চারভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১। টুপী বা পিলিয়াস (Pilius)
২। জিল (gills) বা ল্যামেল্যা (lamellae)
৩। আবরণ বা ভেইল এনুলাস (veil annulus)
৪। দন্ড বা স্টাইপ (stipe)
টুপী (Pilius)
টুপী বা পিলিয়াস অনেকটা ছাতার আকৃতি বিশিষ্ট। এটি সাধারণত: মাংশ (fleshy) এবং পুরু হয়। জাতভেদে টুপী বিভিন্ন আকৃতি, মাপ ও বর্ণের হয়।
জিল (gills)
জিলাস বা ল্যমেলা মাশরুমের টুপীর নীচের অংশ। এর মধ্যে বংশবিস্তারের অতি প্রয়োজনীয় স্পোর (spore) থাকে। জাতভেদে স্পোরের রং বিভিন্ন হয় এবং বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে রংয়ের পরিবর্তন হয়। জিল এক ধরণের অসংখ্যা সমান্তরাল সুতো দিয়ে তৈরী এবং এরই মধ্যে গদাকৃতির কোষের শীর্ষে বেসিডিওস্পোর থাকে। স্পোরগুলো খালি চোখে দেখা যায় না তবে অনেকগুলো স্পোরকে একত্রে ধুলোর মতো মনে হয়। স্পোরগুলো ঝরে পড়লে তা বাতাসে অন্যত্র নিতে হয় । অনুকুল পরিবেশে স্পোরগুলো গজায়। উচ্চবর্ণের উদ্ভিদও যেমন বীজ থাকে, মাশরুমের তেমনি থাকে স্পোর। স্পোর গজিয়ে সুতোর মত এক ধরণের দন্ড জন্ম নেয়। এগুলোকে হাইফা (hypha) বলা হয়। অনেকগুলো হাইফাকো একত্রে মাইসেলিয়াম বলে। মাইসেলিয়াম বৃদ্ধি পেয়ে দীর্ঘায়িত হয় এবং খাদ্যবস্তু সংগ্রহ করে। হাইফাই ছত্রাকের মূল কাঠামো।
আবরণ (veil )
মাশরুমের সদ্যোজাত ফ্রুটিং বডির জিল (gills) এক ধরণের কোষেকলা দিয়ে আবৃত থাকে যা টুপীর (Pilius) প্রান্ত থেকে দন্ড পর্যন্ত বিস্তৃত। এই কোষকলাকে আবরণ বা veil বলা হয়। ধীরে ধীরে ফ্রুটিং বডির বৃদ্ধি হতে থাকলে টুপীর দিককার আবরণ ছিড়ে যায় এবং এর কিছু অংশ টুপীর প্রান্তভাগ সংলগ্ন থাকে অন্য অংশ দন্ডের (stipe) চারিদিকে আংটির মতো থাকে এটিকে এনুলাস বলা হয়।
দন্ড (stipe or stalk)
টুপী বা (Pilius) কে এই দন্ডই (stipe) ধারণ করে রাখে। এই দন্ডটি সাধারণভাবে টুপীর মাঝামাঝি থাকে। কিন্তু ক্ষেত্র বিশেষ এটি একপাশেও থাকতে পারে। দন্ডটির ভেতরের অংশ ভরাট কিংবা ফাঁপা থাকতে পারে। দন্ডটির সর্বাংশ একই ধরণের পরিধি বিশিষ্ট হতে পারে কিংবা মধ্যম বা শেষ প্রান্ত কিছুটা ফুলে থাকতে পারে।
খাবারের উপযোগী মাশরুমঃ
আমাদের দেশে সাধারণত খাবারের উপযোগী তিন জাতের মাশরুম চাষ হয় ।
১। স্ট্র মাশরুমঃ ধানের খড়, শিমুল তুলা, ছোলার বেসন ও চাউলের কুড়া ইত্যাদি উপকরণ ব্যবহার করে স্ট্র মাশরুম চাষ করা হয়। আমাদের দেশে সাধারণত মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এর চাষ করা যায়।
২। ইয়ার মাশরুমঃ সাধারণত বর্ষাকালে প্রাকৃতিকভাবে আম গাছে ইয়ার মাশরুম পাওয়া যায়। ইয়ার মাশরুম দেখতে কালচে রঙের। ইয়ার মাশরুম সারাবছর চাষ করা গেলেও সাধারণত বর্ষাকালে এর ফলন ভালো হয়।
৩। অয়েস্টার মাশরুমঃ আমাদের দেশে এই জাতের মাশরুম চাষ সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। সারাবছরই এই মাশরুম চাষ করা যায় তবে শীত ও বর্ষাকালে এর ফলন ভালো হয়। অয়েস্টার মাশরুম খুব সহজে চাষ করা যায় এবং এর জন্য খুব অল্প জায়গার প্রয়োজন হয়।
মাশরুম চাষের সুবিধাসমূহঃ
বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু মাশরুম চাষের অত্যন্ত উপযোগি। সে সাথে মাশরুম চাষের প্রয়োজনীয় উপকরণও (যেমন- খড়, কাঠের গুড়া, আখের ছোবড়াসহ বিভিন্ন কৃষিজ ও শিল্পজ বর্জ্য) অত্যন্ত সস্তা এবং সহজলভ্য।
মাশরুম চাষের সাধারন সুবিধাসমূহঃ
(১) মাশরুম চাষে আবাদী জমি দরকার হয় না।
(২) ঘরের মধ্যে চাষ করা যায়।
(৩) তাকে তাকে সাজিয়ে একটি ঘরকে কয়েকটি ঘরের সমান ব্যবহার করা যায়।
(৪) অত্যন্ত অল্প সময়ে অর্থাৎ মাত্র ৭-১০ দিনের মধ্যে মাশরুম পাওয়া যায় যা বিশ্বের অন্য কোন ফসলের বেলায় প্রযোজ্য নয়।
(৫) বাড়ির যে কেউ মাশরুম চাষে অংশ নিতে পারে।
মাশরুম চাষে অর্থনৈতিক সুবিধাঃ
মাশরুম চাষ একটি সর্বোত্তম লাভজনক ব্যবসা। অর্থনৈতিক দৃষ্টিতে কোন ব্যবসা সর্বাধিক লাভজনক তখনই ধরা যাবে যখন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিম্নের বিষয়গুলো সর্বোচ্চ অনুকূল অবস্থা থাকবে। যেমন-
(ক) কম পুঁজির দরকার হবে।
(খ) বিনিয়োগকৃত অর্থ অল্প সময়ের মধ্যে তুলে আনা সম্ভব হবে এবং
(গ) অল্প শ্রমের মাধ্যমে তা সম্ভব হবে।
অপরদিকে বিনিয়োগের বিপরীতে প্রাপ্তির ক্ষেত্রেঃ
(ক) যদি একক প্রতি ফলন অধিক হয়
(খ) বাজার মূল্য অধিক হয়
(গ) একক প্রতি লাভ অধিক হয়, তবে তা সর্বোত্তম ব্যবসা বটে।
মাশরুম চাষের সামাজিক সুবিধাঃ
মাশরুম চাষে যে সমস্ত সামাজিক সুবিধা পাওয়া যায় সেগুলো হলোঃ
(১) ঘরে ঘরে মাশরুম চাষ করে অত্যন্ত পুষ্টিকর এই সবজি নিয়মিত খেয়ে দেশে পুষ্টিহীনতা দূর করা সম্ভব হবে।
(২) পুষ্টিহীনতা দূর হলে রোগব্যাধী জনিত ব্যয় সাশ্রয়সহ সমাজের সুস্ততা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
(৩) আর সুস্থ্য সবল দেহই অধিক কর্মক্ষম, ফলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।
(৪) মাশরুম চাষে, সংরক্ষণে, প্রক্রিয়াজাতকরণেও বাজারজাতকরণে কর্মহীন লোকদের নিয়োজিত করে জনগণকে অধিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।
(৫) যে সমস্ত শিক্ষিত যুবক-যুবতী বেকারত্বের অভিশাপে জর্জরিত, প্রচলিত সামাজিকতার কারণে শিক্ষিত হবার পর যারা রোদে পুড়ে, মাঠে কাদামাটির সাথে মিশে নিজেদেরকে প্রচলিত উৎপাদন পদ্ধতিতে সম্পৃক্ত করতে অনীহা প্রকাশ করেন, সে সমস্ত বেকার ছেলেমেয়েদের জন্য মাশরুম চাষ একটি আর্শীবাদ। কারণ মাশরুম চাষ করতে রোদে পুড়তে হয়না, কাদামাটির সংস্পর্শে আসতে হয় না, ঘরের মধ্যে তাকে তাকে সাজিয়ে সামান্য শ্রমে অল্প সময়ে ন্যূনতম পুজিতে অধিক এবং স্বাধীন উপার্জন করা সম্ভব।
মাশরুম উৎপাদন কৌশলঃ
চাষের উপযোগী স্থানঃ মাশরুম খোলা জায়গায় চাষ করা যায় না। তাই এর জন্য আবাদী জমির প্রয়োজন হয় না। মাশরুম চাষ করার জন্য ছায়াযুক্ত জায়গায় ছন বা বাঁশের চালা দিয়ে ঘর তৈরি করতে হয়। মাটির দেওয়াল দিয়েও ঘর তৈরি করা যায়। আবার বাঁশের বেড়াও দেওয়া যায়। ঘরের ভেতর যাতে আলো ঢুকতে না পারে সেজন্য বাঁশের বেড়ায় মাটি লেপে দিতে হয়।
অয়েস্টার মাশরুম চাষ পদ্ধতিঃ অয়েস্টার মাশরুম বীজ বা স্পন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ জোগাড় করে মাশরুম চাষ শুরু করা যাবে। ধাপে ধাপে মাশরুম চাষ করতে হয়।
১ম পদ্ধতিঃ
১। মাশরুম চাষ কেন্দ্র থেকে মাশরুমের বীজ বা স্পন প্যাকেট সংগ্রহ করতে হবে। বীজ বা স্পনের দুই পাশে কিছুটা গোল করে কেটে চেঁছে নিতে হবে।
২। মাশরুমের প্যাকেট পানিতে ৩০ মিনিটের জন্য ডুবিয়ে রাখতে হবে। ৩০ মিনিট পরে পানি থেকে মাশরুমের প্যাকেট উঠিয়ে নিতে হবে।
৩। অতিরিক্ত পানি ঝরানোর জন্য মাশরুমের প্যাকেট ৫ থেকে ১০ মিনিট উপুড় করে রাখতে হবে। পানি ঝরে গেলে ঘরের নির্ধারিত জায়গায় রেখে দিতে হবে। প্রতিদিন এর উপর তিন থেকে চারবার করে পানি ছিটিয়ে দিতে হবে।
৪। সাধারণত ৩ থেকে ৪ দিন পর কাটা জায়গা থেকে অঙ্কুর গজায়। অঙ্কুর গজানোর পর মাঝে মাঝে পানি ছিটিয়ে দিতে হবে।
৫। খাওয়ার উপযোগী মাশরুম উৎপন্ন হতে ৫ বা ৬ দিন সময় লাগে। খাবার উপযোগী মাশরুম উৎপন্ন হলে তা গোড়া থেকে তুলে নিতে হবে।
৬। বীজের যে জায়গা কাটা হয়েছিল তা ব্লেড দিয়ে একটু চেঁছে দিতে হবে। এই বীজ থেকে আবার মাশরুম গজাবে।
৭। একটা আধা কেজি ওজনের বীজ বা স্পন প্যাকেট থেকে ৩-৪ বার মাশরুম পাওয়া যায়। এতে মোট ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম মাশরুম পাওয়া যাবে।
২য় পদ্ধতিঃ
১। মাশরুম চাষ কেন্দ্র থেকে বীজ বা স্পন সংগ্রহ করতে হবে। এক কেজি ওজনের একটি বীজের পলিথিন খুলে ভিতরের কম্পোস্ট গুঁড়ো করে নিতে হবে।
২। দুই কেজি পরিমাণ ধানের পরিষ্কার ও শুকনো খড় সংগ্রহ করতে হবে। খড়গুলোকে এক ইঞ্চি মাপে কেটে টুকরা করতে হবে।
৩। পরিমাণ মতো পানি ফুটিয়ে নিতে হবে। খড়গুলো জীবাণুমুক্ত করার জন্য ফুটন্ত পানিতে খড়ের টুকরোগুলো এক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে।
৪। খড়গুলো পানি থেকে তুলে চিপে পানি শূন্য করে একটি পাত্রে রাখতে হবে।
৫। পাঁচটি পলিব্যাগ নিয়ে পলিব্যাগের ভেতরে প্রথমে কিছু খড় বিছিয়ে নিতে হবে। খড়ের উপর মাশরুম বীজের গুঁড়ো দিতে হবে। এভাবে একটি পলিব্যাগে চার স্তরে খড় আর মাশরুম বীজের গুঁড়ো বিছিয়ে দিতে হবে। শেষ স্তরে আবার খড় বিছিয়ে দিতে হবে।
৬। খড় বিছানো শেষ হলে খুব শক্ত করে পলিব্যাগ বাঁধতে হবে। এভাবে প্রতিটি পলিব্যাগ বাঁধতে হবে।
৭। পলিব্যাগের চার দিকে ১০-১২টি ছিদ্র করতে হবে। এরপর ব্যাগগুলোকে বীজে পরিণত হওয়ার জন্য ১৫-১৮ দিন রেখে দিতে হবে।
৮। ১৫-১৮ দিন পরে পলিব্যাগগুলো খুলে বীজের দলাগুলো বের করে নিতে হবে।
৯। প্রতিটি বীজের দলা শিকায় করে ঝুলিয়ে রাখতে হবে এবং প্রতিদিন ৪-৫ বার করে পানি ছিটিয়ে দিতে হবে।
১০। ৩-৪ দিন পর চারদিক দিয়ে মাশরুমের অঙ্কুর গজাতে শুরু করবে। ৪-৬ দিন পর খাওয়ার উপযোগী মাশরুম গোড়া থেকে তুলে নিতে হবে।
১১। এভাবে মাশরুম চাষে লাভ বেশি হবে। কারণ প্রতিটি পলিব্যাগ থেকে প্রায় আধা কেজি মাশরুম পাওয়া যাবে। সুতরাং পাঁচটি ব্যাগ থেকে প্রায় আড়াই কেজি মাশরুম উৎপন্ন হবে।
সাবধানতাঃ
১। বীজ বা স্পনে কোনভাবেই সূর্যের আলো পড়তে দেওয়া যাবে না। সবসময় ঘরটি ঠান্ডা রাখতে হবে। খুব বেশি গরম পড়লে ঘরের চারদিকে বস্তা ঝুলিয়ে ভিজিয়ে রাখতে হবে।
২। মাশরুম ঘর ও ঘরের বাইরের চারদিক সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। অপরিচ্ছন্ন জায়গায় মাশরুম ফ্লাই নামের পোকা মাশরুমের ক্ষতি করে।
৩। কীটনাশক ব্যবহার করা যাবে না।
অয়েস্টার মাশরুমের পাপড়ি বেশি ছড়ানোর আগেই তুলে গোড়া থেকে সামান্য কেটে ফেলতে হবে। পলি প্রোপাইলিনের প্যাকেটে কয়েকটা ছিদ্র করে এর মধ্যে মাশরুমগুলো ভার মুখ বন্ধ করে এই প্যাকেট বাজারজাত করতে হবে। প্রতিটি বীজ বা স্পন থেকে প্রায় ২০০ গ্রাম মাশরুম পাওয়া যায়। সুতরাং ২০০টি বীজ বা স্পন থেকে প্রায় ৪০ কেজি মাশরুম পাওয়া সম্ভব হবে।
মাশরুমের পুষ্টিমানঃ
মাশরুমে খনিজ পদার্থের পরিমান মাছ ও মাংসের তুলনায় বেশী এবং প্রচলিত সবজীর তুলনায় প্রায় দ্বিগুন। মাশরুমে আমিষের পরিমান আলু থেকে দ্বিগুন, টমেটো থেকে চারগুন এবং কমলা লেবুর থেকে ছয়গুন বেশী।
পুষ্টির বিচারে মাশরুম নিঃসন্দেহে সবার সেরা। কারণ আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যেসব উপাদান অতি প্রয়োজনীয় যেমন – প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেল সেগুলো মাশরুমে উচ্চ মাত্রায় আছে। অন্যদিকে যেসব খাদ্য উপাদানের আধিক্য আমাদেরকে জটিল ব্যাধীর দিকে নিয়ে যায়,যেমন -ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেড তা মাশরুমে নেই বললেই চলে।প্রতি ১০০ গ্রাম শুকনা মাশরুমে নিম্নলিখিত পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।
| মাশরুমের পুষ্টিমূল্য (১০০ গ্রাম শুকনা মাশরুম) | ||
| খাদ্য উপাদানের নাম | পরিমাণ(গ্রাম) | মন্তব্য |
| আমিষ | ২৫-৩৫ | উন্নত ও সম্পূর্ণ আমিষ |
| ভিটামিন ও মিনারেল | ৫৭-৬০ | সব ধরণের ভিটামিন ও মিনারেল |
| শর্করা | ৫-৬ | পানিতে দ্রবনীয় |
| চর্বি | ৪-৬ | অসম্পৃক্ত চর্বি |
প্রোটিন মূল্যঃ মাশরুমের প্রোটিন হল অত্যন্ত উন্নত,সম্পূর্ণ এবং নির্দোষ।একটি সম্পূর্ণ প্রোটিনের পূর্বশর্ত হলো মানব দেহের অত্যাবশ্যকীয় ৯টি এমাইনো এসিডের উপস্থিতি। মাশরুমে অপরিহার্য এ ৯টি এমাইনো এসিডই প্রশংসনীয় মাত্রায় আছে। অন্যান্য প্রাণীজ আমিষ যেমন-মাছ,মাংস,ডিমের আমিষ উন্নতমানের হলেও তার সঙ্গে সম্পৃক্ত চর্বি থাকায় তা গ্রহণে দেহে কোলেস্টরল সমস্যা দেখা দেয়।যার ফলে উচ্চ রক্তচাপ,হৃদরোগ,মেদভূড়ি ইত্যাদি জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পক্ষান্তরে মাশরুমের প্রোটিন নির্দোষ। তাছাড়াও প্রোটিনের বিপরীতে ফ্যাট এবং কার্বো-হাইড্রেটের সর্বনিম্ন উপস্থিতি এবং কোলেস্টরল ভাঙ্গার উপাদান লোভাস্টাটিন,এন্টাডেনিন,ইরিটাডেনিন ও নায়াসিন থাকায় কোলেস্টরল জমার ভয় থাকে না।এ কারণে প্রোটিনের অন্যান্য সব উৎসের তুলনায় মাশরুমের প্রোটিন সর্বোৎকৃষ্ট ও নির্দোষ।নিচের ছকে প্রোটিনের অন্যান্য উৎসের সাথে মাশরুমের তুলনা দেখানো হলঃ
| প্রতি ১০০ গ্রাম আহার উপযোগী খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ | |
| খাবারের নাম | প্রোটিন (গ্রাম) |
| মাংস | ২২-২৫ গ্রাম |
| মাছ | ১৬-২২ গ্রাম |
| ডিম | ১৩ গ্রাম |
| ডাল | ২২-৪০ গ্রাম |
| মাশরুম | ২৫-৩৫ গ্রাম |
| মাশরুমের ৯টি অত্যাবশ্যকীয় এমাইনো এসিডের পরিমাণ (গ্রাম / ১০০ গ্রাম) | ||||||
| এমাইনো এডিসের নাম | Agaricus bisporus | Agaricusb edodes | Pleurotus florida | Pleurotus ostreatus | Pleurotus sajorcaju | Volvereilla volvacea |
| Leucine | ৭.৫ | ৭.৯ | ৭.৫ | ৬.৮ | ৭.০ | ৪.৫ |
| Isoleucine | ৪.৫ | ৪.৯ | ৫.২ | ৪.২ | ৪.৪ | ৩.৪ |
| Valine | ২.৫ | ৩.৭ | ৬.৯ | ৫.১ | ৫.৩ | ৫.৪ |
| Tryptophan | ২.০ | - | ১.১ | ১.৩ | ১.২ | ১.৫ |
| Lysine | ৯.১ | ৩.৯ | ৯.৯ | ৪.৫ | ৫.৭ | ৭.১ |
| Threonine | ৫.৫ | ৫.৯ | ৬.১ | ৪.৬ | ৫.০ | ৩.৫ |
| Phenylalanine | ৪.২ | ৫.৯ | ৩.৫ | ৩.৭ | ৫.০ | ২.৬ |
| Methionine | ০.৯ | ১.৯ | ৩.০ | ১.৫ | ১.৮ | ১.১ |
| Histidine | ২.৭ | ১.৯ | ২.৮ | ১.৭ | ২.২ | ৩.৮ |
| Total essential | ৩৮.৯ | ৩৬.০ | ৪৬.০ | ৩৩.৪ | ৩৭.৬ | ৩২.৯ |
ফ্যাট মুল্যঃ মাশরুমের ফ্যাট অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড দ্বারা তৈরি যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।এছাড়া স্ফিঙ্গলিপিড ও আরগেস্টেরল থাকায় এর মানকে আরও উন্নত করেছে।স্ফিঙ্গলিপিড থাকায় হাড়ের মজ্জা ও ব্রেন ডেভেলপমেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং আরগেস্টেরলের উপস্থিতির কারণে ভিটামিন-ডি সিনথেসিসে সহায়ক হয় যা হাড় ও দাঁত তৈরি এবং ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়তা করে।এছাড়া মাশরুমের ফ্যাটে ৭০-৮০% লিনোলিক এসিড আছে যা শরীর সুস্থ্য রাখতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে।
কার্বোহাইড্রেট মূল্যঃ আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি যা সম্পূর্ণ খরচ না হয়ে শরীরে জমা হয় এবং নানা ধরণের স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করে।মাশরুমে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কম এবং তা পানিতে দ্রবনীয়।ফলে মাশরুমের কার্বোহাইড্রেড শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।এছাড়া এরমধ্যে অধিকাংশ পলিস্যাকারাইড যেমন- গ্লাইকোজেন,বেটা-ডি-গ্লুক্যান,ল্যাম্পট্রোল,লোভাস্টাটিন,এন্টাডেনিন,ইরিটাডেনিন,ট্রাইটারপিন,এডিনোসিন,ইলুডিন প্রভৃতি থাকায় দেহের জটিল রোগ নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এছাড়া মাশরুম এ্যাসিডিক সুগার ও এ্যাসিডিক পলিস্যাকারাইড বিশেষ করে H৫১ সরবরাহ করে।মাশরুমে আঁশের পরিমাণও বেশি।জাত ভেদে ১০-২৮% আঁশ পাওয়া যায়।ফলে ডায়াবেটিকস রোগীদের ইনসুলিনের চাহিদা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ভিটামিন ও মিনারেলঃ ভিটামিন ও মিনারেল দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। প্রতিদিন চাহিদা মাফিক নির্দিষ্ট পরিমাণ ভিটামিন ওমিনারেল গ্রহণ না করলে দেহে বিভিন্ন জটিল রোগের সৃষ্টি হয়।অল্প পরিমাণে অথচ অত্যাবশ্যকীয় এ খাদ্য উপাদানগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে এ অবস্থার সৃষ্টিই হবে না।ভিটামিন ও মিনারেলের উৎস হিসেবে মাশরুমের অবস্থান খুবইউচ্চে।শুকনা মাশরুমে ৫৭%-৬০% ভিটামিন ও মিনারেল (অত্যাবশ্যকীয় ট্রেস এলিমেন্টসহ) বিদ্যমান।আমাদের শরীরের জন্য প্রতিদিন প্রধান প্রধান ভিটামিন ও মিনারেলের যে পরিমাণ প্রয়োজন এবং ১০০ গ্রাম শুকনা মাশরুম যেপরিমাণ সরবরাহ ।
| ভিটামিন ও মিনারেলের চাহিদা এবং ১০০ গ্রাম শুকনা মাশরুমে এদের পরিমাণ | ||
| প্রধান প্রধান ভিটামিন ও মিনারেলের নাম | দৈনিক চাহিদা | মাশরুমে প্রাপ্তি |
| থায়ামিন (বি ১) | ১.৪ মিলি গ্রাম | ৪.৮ – ৮.৯ মিলি গ্রাম |
| রিবোফ্লাভিন (বি ২) | ১.৫ মিলি গ্রাম | ৩.৭-৪.৭ মিলি গ্রাম |
| নায়াসিন | ১৮.২ মিলি গ্রাম | ৪২-১০৮ মিলি গ্রাম |
| ফসফরাস | ৪৫০ মিলি গ্রাম | ৭০৮-১৩৪৮ মিলি গ্রাম |
| লৌহ | ৯ মিলি গ্রাম | ১৫-১৭ মিলি গ্রাম |
| ক্যালসিয়াম | ৪৫০ মিলি গ্রাম | ৩৩-১৯৯ মিলি গ্রাম |
| কপার | ২ মিলি গ্রাম | ১২-২২ মিলি গ্রাম |
মাশরুমের মধ্যে পটাসিয়াম,ফসফরাস,সোডিয়াম,ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ প্রায় ৭০ ভাগ,যার মধ্যেআবার ৪৫ ভাগই হচ্ছে পটাসিয়াম।এছাড়া কপার ও সেলিনিয়াম যথেষ্ট পরিমাণে থাকায় চুলপড়া,চুল পাকা রোধসহ মহিলাদের ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
মাশরুমের স্বাদঃ মাশরুম অত্যন্ত সুস্বাদু সবজি।প্রাচীনকাল থেকে মানুষ মুখোরোচক এই মাশরুমের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে খাদ্য তালিকায়মাশরুমকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে।এমনকি রাষ্ট্রীয় অতিথিদের আপ্যায়নে ব্যবহৃত হতো মাশরুম।বিশ্বব্যাপী ভোজনরসিকরা মাশরুমকে স্বর্গীয় খাবারের সাথে তুলনা করে।মাশরুম অন্য খাবারের সাথে ব্যবহার করলে তার স্বাদ ও মান বহুগুণে বেড়ে যায়।
মাশরুমের উপকারিতাঃ
মাশরুমে প্রচুর প্রোটিন, খনিজ পদার্থ ও ভিটামিন আছে। তাই খাদ্য হিসেবে এটা খুবই পুষ্টিকর।
১। মাশরুমে চর্বি ও শর্করা কম এবং আঁশ রক্তে চিনির সমতা রক্ষা করে ফলে ডায়াবেটিক রোগী এবং যারা স্থুল বা স্বাস্থ্যবান তাদের জন্য উপযুক্ত খাবার।
২। মাশরুম দেহের ক্ষয়পূরণ, হাড় গঠন ও দাঁত মজবুত করে।
৩। রক্তহীনতা, বেরিবোধ, হৃদরোগ, ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
৪। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৫। মাশরুমে প্রচুর ক্যালসিয়াম , ফসফরাস ও ভিটামিন ডি আছে। যা শিশুদের দাঁত ও হাড় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৬। মাশরুমে আছে প্রচুর ফলিক এসিড ও লৌহ , যা রক্তশূন্যতা দূর করে।
৭। মাশরুমে ট্রাইটারপিন থাকায় এটা বিশ্বে এইডস প্রতিরোধে ব্যবহৃত হচ্ছে।
৮। মাশরুমে ইলুডিন এম ও এস থাকায় এটা আমাশয় প্রতিরোধী।
৯। মাশরুমে এডিনোসিন থাকায় ডেঙ্গুজ্বরের প্রতিরোধক।
১০। মাশরুমে আছে এনজাইম ,যা হজমে সহায়ক ও পেটের পীড়া দূর করে।
১১। মাশরুমে আছে নিউক্লিক এসিড ও অ্যানটি-এলারজেন যা কিডনি রোগ প্রতিরোধক।
৫। মাশরুমে প্রচুর ক্যালসিয়াম , ফসফরাস ও ভিটামিন ডি আছে। যা শিশুদের দাঁত ও হাড় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৬। মাশরুমে আছে প্রচুর ফলিক এসিড ও লৌহ , যা রক্তশূন্যতা দূর করে।
৭। মাশরুমে ট্রাইটারপিন থাকায় এটা বিশ্বে এইডস প্রতিরোধে ব্যবহৃত হচ্ছে।
৮। মাশরুমে ইলুডিন এম ও এস থাকায় এটা আমাশয় প্রতিরোধী।
৯। মাশরুমে এডিনোসিন থাকায় ডেঙ্গুজ্বরের প্রতিরোধক।
১০। মাশরুমে আছে এনজাইম ,যা হজমে সহায়ক ও পেটের পীড়া দূর করে।
১১। মাশরুমে আছে নিউক্লিক এসিড ও অ্যানটি-এলারজেন যা কিডনি রোগ প্রতিরোধক।
১২। মাশরুমে আমিষ, শর্করা, চর্বি, ভিটামিন ও মিনারেল এমন সম্বনিতভাবে আছে যা শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে গর্ভবতী মা ও শিশু নিয়মিত মাশরুম খেলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
১৩। রক্তের কোলেষ্টেরল কমানোর অন্যতম উপাদান ‘ইরিটাডেনিন’ ‘লোবাষ্টটিন’ এবং ‘এনটাডেনিন’মাশরুমে থাকায় এটি হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ নিরাময় করে ।
১৪। এতে লিংকজাই-৮ নামক পদার্থ থাকায় হেপাটাইটিস-বি জন্ডিস প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।
১৫। মাশরুমের বেটা-ডি, গ্লুকেন, ল্যাম্পট্রোল, টারপিনওয়েড এবং বেনজোপাইরিন ক্যান্সার ও টিউমার প্রতিরোধক।
১৬। মাশরুমে সালফার সরবরাহকারী এমাইনো এসিড থাকায় তা চুল পড়া ও চুল পাকা প্রতিরোধ করতে সক্ষম।
১৩। রক্তের কোলেষ্টেরল কমানোর অন্যতম উপাদান ‘ইরিটাডেনিন’ ‘লোবাষ্টটিন’ এবং ‘এনটাডেনিন’মাশরুমে থাকায় এটি হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ নিরাময় করে ।
১৪। এতে লিংকজাই-৮ নামক পদার্থ থাকায় হেপাটাইটিস-বি জন্ডিস প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।
১৫। মাশরুমের বেটা-ডি, গ্লুকেন, ল্যাম্পট্রোল, টারপিনওয়েড এবং বেনজোপাইরিন ক্যান্সার ও টিউমার প্রতিরোধক।
১৬। মাশরুমে সালফার সরবরাহকারী এমাইনো এসিড থাকায় তা চুল পড়া ও চুল পাকা প্রতিরোধ করতে সক্ষম।
যে সমস্ত কারণে মাশরুম বিভিন্ন জটিল রোগের প্রতিরোধক এবং নিরাময়ক হিসেবে কাজ করেঃ
| যে সকল রোগ নিরাময় হয় | যে যে উপাদানের কারনে নিরাময় হয় |
| ইমুন সিস্টেম উন্নত করে | আমিষ, শর্করা, চর্বি, ভিটামিন ও মিনারেলের অপূর্ব সমন্বয় |
| ডায়াবেটিস | চর্বি ও শর্করা কম এবং আঁশ বেশী, পলিস্যাকারাইড,ইনসুলিন উপাদানেয় সহায়ক |
| কোলেস্ট্রেরল, হৃদরোগ,উচ্চরক্তচাপ | ইরিটাডেনিন, লোভাষ্টাটিন, এন্টাডেনিন ও নায়াসিন |
| দাঁত ও হাড়ের গঠন | ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন – ডি |
| রক্ত শূন্যতা | ফলিক এসিড ও লৌহ |
| হেপাটাইটিস বি, জন্ডিস | লিঙ্কজাই-৮, ফলিক এসিড |
| ক্যান্সার, টিউমার | বেটা-ডি-গ্লুকেন, ল্যাম্পট্রোল, টারপিনওয়েড গ্রুপ ও বেনজোপাইরিন অর্গানিক জার্মানিয়াম |
| এইড্স | ট্রাইটারপিন |
| আমাশয় | ইলুডিন এম ও ইলুডিন এস |
| যৌন অক্ষমতা | গ্লাইকোজেন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন-ই |
| ডেঙ্গু জ্বর | এডিনোসিন |
| হাইপার টেনশন ও মেরুদন্ড | স্ফিঙ্গলিপিড ও ভিটামিন বি-১২, এন্টি অক্সিডেন্ট |
| পেটের পীড়া | এনজাইম |
| কিডনি ও এলার্জি | নিউক্লিক এসিড ও এন্টি এলার্জেন |
| চুলপড়া ও চুল পাকা | সালফার এমাইনো এসিড, সেলিনিয়াম ও কপার |
মাশরুম চাষের মাধ্যমে এদেশের পুষ্টি উন্নয়ন, দারিদ্র বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা বেকারত্ব দূরীকরণ (বিশেষ করে মহিলাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি), আমদানী ব্যয় হ্রাস এবং রপ্তানী আয় বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশ উন্নয়নের এক অপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।
তুলা চাষ
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 1:41 PM
তুলা চাষ
অর্থকরী ফসলঃ তুলা
তুলা গাছ থেকে প্রাকৃতিক তন্তু হিসেবে তুলা পাওয়া যায়। এটি একটি অর্থকরী ফসল। জমিতে উৎপাদন করার পর কাপড় তৈরির জন্য এর ফল সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া তুলা গাছের সব অংশই কোন না কোন কাজে লাগে।
কেন তুলা চাষ করবেন
বীজ তুলা হতে ৩৫%-৪০% আঁশ ও ৬০%-৬৫% তুলা বীজ পাওয়া যায়। তুলার আঁশ বস্ত্রকল গুলোতে সুতা তৈরির প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বর্জ্য তুলা (গার্মেন্ট শিল্প ও জুট) লেপ-তোষক ও শতরঞ্চি তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়। তুলা বীজ হতে তেল ও খৈল পাওয়া যায়। তুলাবীজ থেকে প্রাপ্ত পরিশোধিত তেল ভোজ্যতেল ও অপরিশোধিত তেল সাবান তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তুলা বীজের খৈল গবাদিপশু ও মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বীজের গায়ে লেগে থাকা আঁশ (Fuzz) পৃথক করার পর এগুলো ব্যান্ডেজ, গজ, ব্লটিং পেপার এবং কটন বাড প্রভৃতি তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়।
তুলার বিভিন্ন জাত
সমতল এলাকার জন্য
• উচ্চ ফলনশীল জাতের তুলা: সিবি-৫, সিবি-৯ সিবি-১০ ও সিবি-১১
• হাইব্রিড জাত: হীরা হাইব্রিড রূপালী-১ ও ডিএম-১ জাতের তুলা চাষ হচ্ছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য
• পাহাড়ি তুলা-১
• পাহাড়ি তুলা-২
কোথায় তুলা চাষ করবেন
তুলা চাষের জন্য উৎকৃষ্ট মাটি হল দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি। তবে পর্যাপ্ত জৈব পদার্থ রয়েছে এমন মাটিতেই তুলার চাষ করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। খুব বেশি বেলে বা কর্দমকণা সমৃদ্ধ মাটি তুলা চাষের জন্য উপযুক্ত নয়। যেসব জমিতে বৃষ্টির পানি দাঁড়িয়ে থাকে না বা স্বাভাবিক বন্যার পানি উঠে না এরূপ জমি তুলা চাষের জন্য নির্বাচিত করতে হবে। যে জমি স্যাঁতসেঁতে, ছায়া যুক্ত এবং যেখানে বৃষ্টির পানি ২-৬ ঘন্টার মধ্যে নেমে যায় না সেরূপ জমি তুলা চাষের জন্য নির্বাচন করা উচিত নয়। মাটির পিএইচ মান ৬.০ - ৭.৫ হওয়া উত্তম। মাটি বেশি অম্লীয় হলে জমিতে চুন প্রয়োগ করতে হবে।
কিভাবে জমি তৈরি করবেন
আমাদের দেশে বর্তমানে উন্নত পদ্ধতিতে তুলা চাষ করা হচ্ছে। বর্ষার অবস্থা বুঝে মাটিতে জো থাকা অবস্থায় ৩-৪টি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরা ও সমতল করে তৈরি করতে হয়।
বীজ রোপণ করার জন্য উপযুক্ত সময়
আগাম শীত এলাকায় ( বিশেষ করে রংপুর দিনাজপুর এলাকা) শ্রাবণ মাস হতে ভাদ্রের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে অবশ্যই বীজ রোপণের কাজ শেষ করতে হবে। পাহাড়িয়া এলাকায় তীব্র বর্ষা শুরুর ১৫/২০ দিন পূর্বে (জমিতে ‘জো’ থাকা অবস্থায়) বীজ বপন করা উচিত। অর্থাৎ খরা মৌসুমে তুলা আবাদের জন্য জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে বীজ বপন করতে হবে। উত্তরবঙ্গ ও পাহাড়িয়া এলাকা ছাড়া অন্যান্য এলাকায় শ্রাবণের মাঝামাঝি হতে ভাদ্রের মাঝামাঝি পর্যন্ত বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। তবে মধ্য শ্রাবণের দিকে বীজ বপন উত্তম। যদি কোথাও বিশেষ কারণে বীজ বুনতে দেরি হয় তবে তা ভাদ্রের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
রোপণের জন্য বীজ তৈরি করবেন কিভাবে
রোপনের সুবিধার জন্য তুলাবীজ ৩-৪ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে নিয়ে তা ঝুরঝুরে মাটি বা শুকনো গোবর অথবা ছাই দিয়ে এমনভাবে ঘষে নিতে হবে যেন আঁশগুলো বীজের গায়ে লেগে যায় এবং বীজ একটা হতে অন্যটা আলাদা হয়ে যায়। এছাড়া লঘু সালফিউরিক এসিড দিয়ে বীজ আঁশ মুক্ত করেও রোপণ করা যায়। এতে বীজের গায়ে লেগে থাকা রোগ জীবাণু ও পোকার ডিম নষ্ট হয়ে যায়।
কতটুকু বীজ প্রয়োজন
তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব ওপি জাতের ক্ষেত্রে প্রতি একরে প্রায় ৩ কেজি এবং হাইব্রিড বীজের ক্ষেত্রে প্রতি একরে ১.৫-১.৮ কেজি বীজ দরকার হয়।
যেভাবে তুলার বীজ রোপণ করবেন
উত্তর-দক্ষিণ লাইন করে সারিতে বীজ রোপণ করা ভালো। হাত লাঙল দিয়ে হালকা ভাবে সারি টেনে অনুমোদিত সার প্রতি সারিতে ভাল করে নিয়ে তা প্রয়োগ করে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। এরপর নির্ধারিত দূরত্ব ১.২৫ সেঃ মিঃ থেকে ২.৫ সেঃ মিঃ গভীরে ৩/৪টি বীজ বুনে তা ঢেকে দিতে হবে।
সিবি -১ : সারির দূরত্ব ১০০ সেঃ মিঃ ও গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ৫০-৬০ সেঃ মিঃ
অন্য সকল জাতের ক্ষেত্রেঃ সারির দূরত্ব ৯০-১০০ সেঃ মিঃ ও গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ৪৫-৫০ সেঃ মিঃ
অতিবৃষ্টি জনিত কারণ বা অন্য প্রতিকূল আবহাওয়ায় জমি চাষ করা সম্ভব না হলে এবং মাটি খুব ভিজে থাকলে ডিবলিং পদ্ধতিতে সারিতে বীজ পুঁতে দিতে হবে। এই পদ্ধতিতে অনুমোদিত সার গর্তে প্রয়োগ করে ৩/৪টি বীজ নির্ধারিত দূরত্বে বপন করতে হবে। অনেক সময় শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে জমিতে আউশ ধান বা পাট থাকে কিংবা প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে জমি পানিতে প্লাবিত থাকে, যে অবস্থায় বীজ বপন সম্ভব নয়। এরূপ অবস্থায় পলিব্যাগে চারা উৎপন্ন করে ২০-৩০ দিন বয়সের চারা রোপণ করতে হবে।
সার প্রয়োগ ও আগাছা দমন
তুলা চাষের জমি উর্বর হওয়া বাঞ্ছনীয়। উর্বরতা মান কম হলে জমিতে হেক্টর প্রতি ৫-৬ টন গোবর সার বা কম্পোস্ট সার দিতে হবে। এভাবে জৈব সার প্রয়োগ করা হলে জমিতে তুলনামূলক ভাবে কম রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয়। এছাড়া জৈব সার প্রয়োগে জমিতে গৌণ পুষ্টি উপাদানের চাহিদাও পূরণ হয়। মাটির পিএইচ মান ৬.৫-এর কম হলে জমিতে হেক্টর প্রতি ২ টন চুন প্রয়োগ করতে হবে (বীজ বপনের ১ মাস পূর্বে বপন করতে হবে)। জৈব সার জমি তৈরির প্রথম দিকে প্রয়োগ করে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।
নিচে উল্লেখকৃত রাসায়নিক সার গুলো জমিতে দিতে হবে :
সারের নাম হেক্টর প্রতি একর প্রতি
১। ইউরিয়া ২০০-২৫০ কেজি ৮০-১০০ কেজি
২। টি.এস.পি ১৫০-১৭৫ কেজি ৬০-৭০ কেজি
৩। পটাশ সার ১০০-১৫০ কেজি ৪০-৬০ কেজি
৪। জিপসাম ২৫-৩০ কেজি ১০-১২ কেজি
সম্পূর্ণ টি.এস.পি, পটাশ সার ও জিপসাম জমি তৈরির শেষ দিকে দিতে হবে এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ ইউরিয়া-এর ১/৪ অংশ বীজ বপনের ঠিক পূর্বে সারিতে দিতে হবে। ইউরিয়া সার দেওয়ার পর তা মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে যেন বীজের সাথে সরাসরি স্পর্শ না থাকে। বাকী ৩/৪ অংশ ইউরিয়া সমান তিন ভাগ করে তিন বারে প্রয়োগ করতে হবে।
চারার বয়স ইউরিয়া সার পার্শ্বে প্রয়োগ
২০-২৫ দিন ০.২৫ অংশ
৪০-৫০ দিন ০.২৫ অংশ
৬০-৭০ দিন ০.২৫ অংশ
ইউরিয়া জমিতে ছিটিয়ে দিতে হবে, তবে প্রতিবার ইউরিয়া প্রয়োগের আগে জমিতে নিড়ানি দিতে হবে।
আরও যে সব পরিচর্যা দরকার
১. চারা গজানোর ১০ দিন পর প্রথমবার প্রতিগর্তে ২টা ভাল চারা রেখে অবশিষ্ট চারাগুলো তুলে ফেলতে হবে। চারার বয়স ২০/২৫ দিন হলে দ্বিতীয়বার প্রতিগর্তে একটি সুস্থসবল মোটা চারা রেখে বাকিগুলো তুলে ফেলতে হবে।
২. প্রতিবার চারা পাতলা করার সময় আগাছা তুলে ফেলতে হবে। গাছের গোড়ার মাটির উপরের স্তরে যদি শক্ত আস্তরন হয় তবে তা আগাছা নিড়ানোর সময় ভেঙ্গে দিতে হবে। আগাছা বেশি হলে সর্বাধিক ৩ বার আগাছা নিড়াতে হবে।
৩. সেচ-নিষ্কাশন রবি মৌসুমে মাটির আর্দ্রতা কম থাকতে পারে। মাটির রস আছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করে ২-৩ বার সেচ দিতে হবে। বর্ষা মৌসুমে তুলা চাষ করলে কখনো কখনো জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। এরকম অবস্থা দেখা দিলে দ্রুত জলাবদ্ধতার অবসান ঘটাতে হবে।
তুলার বোল ওয়ার্ম পোকা দমনের উপায়
এ পোকার ক্ষতি কিভাবে সনাক্ত করবেন
পোকামাকড়ের মধ্যে বোল ওয়ার্ম তুলার প্রধান শত্রু। গাছের বয়স ৩/৪ সপ্তাহ হলে এই পোকা গাছর কান্ড (উপরের দিকের অংশ) ছিদ্র করে ঢুকে পড়ে ও কচি অংশ খেতে থাকে। সেজন্য ডগা নিস্তেজ হয়ে পড়ে ও পরে শুকিয়ে যায়। পোকার উপদ্রব বেশি হলে এরা ফুল ও ফল আক্রমণ করে। ফলত ফুল-ফল ঝরে পড়তে থাকে।
এই পোকা প্রতিকারের উপায়
পোকার আক্রমণের শুরুতে আক্রান্ত ডগা, কুঁড়ি বা ফল হাত দিয়ে পোকাসহ বেছে নিরাপদ দূরত্বে মাটির নিচে পুঁতে বা পুড়িয়ে ফেলে এর উপদ্রব কিছুটা কমানো যায়। হাত বাছাইয়ের পর কীটনাশক ঔষধ ব্যবহার করা যেতে পারে। হেক্টর প্রতি ৩০০ মিঃ লিঃ রিপকর্ড/সুমিসাইডিন/সিমবুশ/ডেসিস২০-২৫ পানির সাথে মিশিয়ে (প্রতি স্প্রে মেশিনে ১২-১৫ মিঃলি ঔষধ) ভালভাবে পুরো গাছে ছিটিয়ে দিতে হবে। এই পোকা দমন করার জন্য আক্রমণের তীব্রতা অনুযায়ী ১৫-২০ দিন পর পর ৩-৪ বার ঔষধ ছিটানোর প্রয়োজন হতে পারে।
তুলা ফসলের অন্যান্য পোকামাকড়ের মধ্যে জ্যাসিড, জাব পোকা ও তুলার পাতা মোড়ানো পোকার উপদ্রব দেখা যেতে পারে। এসব পোকার আক্রমণ সহজভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে অনুমোদিত ঔষধ মাত্রানুযায়ী প্রয়োগ করতে হবে।
তুলার রোগ হলে কি করবেন
তুলা গাছে বেশ কয়েকটি রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে; যথা- পাতা ঝলসানো, এনথ্রাকনোজ, নেতিয়ে পড়া, চারা ধসা ইত্যাদি। বীজ বাহিত রোগের জন্য বীজ শোধন করে বীজ বপন করতে হবে। রোগাক্রান্ত চারা তুলে পুড়িয়ে ফেলা উত্তম। জমিতে পানিবদ্ধতা থাকতে দেয়া যাবে না। রোগাক্রমণের সম্ভবনা আছে এমন ক্ষেতে ৫% কপার অক্সিক্লোরাইড বা ২.৫% ডাইথেন-গ-৪৫ প্রয়োগ করা যেতে পারে।
তুলা সংগ্রহ করার সময়
তুলা গাছের বোল ভালভাবে ফেটে বের হলে পরিষ্কার শুকনা দিনে বীজতুলা উঠাতে হয়।
তুলার ফলন :
স্বাভাবিক অবস্থায় কৃষক ঠিকমত কাজ করে থাকলে হেক্টর প্রতি ১২-১৫ কুইন্টাল বীজ তুলা উৎপন্ন হয়। তবে যথাযথ উন্নত প্রযুক্তি অবলম্বনে তুলা চাষ করলে ফলন এর দ্বিগুণ পাওয়া যায়।
অর্থকরী ফসলঃ তুলা
তুলা গাছ থেকে প্রাকৃতিক তন্তু হিসেবে তুলা পাওয়া যায়। এটি একটি অর্থকরী ফসল। জমিতে উৎপাদন করার পর কাপড় তৈরির জন্য এর ফল সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া তুলা গাছের সব অংশই কোন না কোন কাজে লাগে।
কেন তুলা চাষ করবেন
বীজ তুলা হতে ৩৫%-৪০% আঁশ ও ৬০%-৬৫% তুলা বীজ পাওয়া যায়। তুলার আঁশ বস্ত্রকল গুলোতে সুতা তৈরির প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বর্জ্য তুলা (গার্মেন্ট শিল্প ও জুট) লেপ-তোষক ও শতরঞ্চি তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়। তুলা বীজ হতে তেল ও খৈল পাওয়া যায়। তুলাবীজ থেকে প্রাপ্ত পরিশোধিত তেল ভোজ্যতেল ও অপরিশোধিত তেল সাবান তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তুলা বীজের খৈল গবাদিপশু ও মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বীজের গায়ে লেগে থাকা আঁশ (Fuzz) পৃথক করার পর এগুলো ব্যান্ডেজ, গজ, ব্লটিং পেপার এবং কটন বাড প্রভৃতি তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়।
তুলার বিভিন্ন জাত
সমতল এলাকার জন্য
• উচ্চ ফলনশীল জাতের তুলা: সিবি-৫, সিবি-৯ সিবি-১০ ও সিবি-১১
• হাইব্রিড জাত: হীরা হাইব্রিড রূপালী-১ ও ডিএম-১ জাতের তুলা চাষ হচ্ছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য
• পাহাড়ি তুলা-১
• পাহাড়ি তুলা-২
কোথায় তুলা চাষ করবেন
তুলা চাষের জন্য উৎকৃষ্ট মাটি হল দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি। তবে পর্যাপ্ত জৈব পদার্থ রয়েছে এমন মাটিতেই তুলার চাষ করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। খুব বেশি বেলে বা কর্দমকণা সমৃদ্ধ মাটি তুলা চাষের জন্য উপযুক্ত নয়। যেসব জমিতে বৃষ্টির পানি দাঁড়িয়ে থাকে না বা স্বাভাবিক বন্যার পানি উঠে না এরূপ জমি তুলা চাষের জন্য নির্বাচিত করতে হবে। যে জমি স্যাঁতসেঁতে, ছায়া যুক্ত এবং যেখানে বৃষ্টির পানি ২-৬ ঘন্টার মধ্যে নেমে যায় না সেরূপ জমি তুলা চাষের জন্য নির্বাচন করা উচিত নয়। মাটির পিএইচ মান ৬.০ - ৭.৫ হওয়া উত্তম। মাটি বেশি অম্লীয় হলে জমিতে চুন প্রয়োগ করতে হবে।
কিভাবে জমি তৈরি করবেন
আমাদের দেশে বর্তমানে উন্নত পদ্ধতিতে তুলা চাষ করা হচ্ছে। বর্ষার অবস্থা বুঝে মাটিতে জো থাকা অবস্থায় ৩-৪টি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরা ও সমতল করে তৈরি করতে হয়।
বীজ রোপণ করার জন্য উপযুক্ত সময়
আগাম শীত এলাকায় ( বিশেষ করে রংপুর দিনাজপুর এলাকা) শ্রাবণ মাস হতে ভাদ্রের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে অবশ্যই বীজ রোপণের কাজ শেষ করতে হবে। পাহাড়িয়া এলাকায় তীব্র বর্ষা শুরুর ১৫/২০ দিন পূর্বে (জমিতে ‘জো’ থাকা অবস্থায়) বীজ বপন করা উচিত। অর্থাৎ খরা মৌসুমে তুলা আবাদের জন্য জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে বীজ বপন করতে হবে। উত্তরবঙ্গ ও পাহাড়িয়া এলাকা ছাড়া অন্যান্য এলাকায় শ্রাবণের মাঝামাঝি হতে ভাদ্রের মাঝামাঝি পর্যন্ত বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। তবে মধ্য শ্রাবণের দিকে বীজ বপন উত্তম। যদি কোথাও বিশেষ কারণে বীজ বুনতে দেরি হয় তবে তা ভাদ্রের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
রোপণের জন্য বীজ তৈরি করবেন কিভাবে
রোপনের সুবিধার জন্য তুলাবীজ ৩-৪ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে নিয়ে তা ঝুরঝুরে মাটি বা শুকনো গোবর অথবা ছাই দিয়ে এমনভাবে ঘষে নিতে হবে যেন আঁশগুলো বীজের গায়ে লেগে যায় এবং বীজ একটা হতে অন্যটা আলাদা হয়ে যায়। এছাড়া লঘু সালফিউরিক এসিড দিয়ে বীজ আঁশ মুক্ত করেও রোপণ করা যায়। এতে বীজের গায়ে লেগে থাকা রোগ জীবাণু ও পোকার ডিম নষ্ট হয়ে যায়।
কতটুকু বীজ প্রয়োজন
তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব ওপি জাতের ক্ষেত্রে প্রতি একরে প্রায় ৩ কেজি এবং হাইব্রিড বীজের ক্ষেত্রে প্রতি একরে ১.৫-১.৮ কেজি বীজ দরকার হয়।
যেভাবে তুলার বীজ রোপণ করবেন
উত্তর-দক্ষিণ লাইন করে সারিতে বীজ রোপণ করা ভালো। হাত লাঙল দিয়ে হালকা ভাবে সারি টেনে অনুমোদিত সার প্রতি সারিতে ভাল করে নিয়ে তা প্রয়োগ করে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। এরপর নির্ধারিত দূরত্ব ১.২৫ সেঃ মিঃ থেকে ২.৫ সেঃ মিঃ গভীরে ৩/৪টি বীজ বুনে তা ঢেকে দিতে হবে।
সিবি -১ : সারির দূরত্ব ১০০ সেঃ মিঃ ও গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ৫০-৬০ সেঃ মিঃ
অন্য সকল জাতের ক্ষেত্রেঃ সারির দূরত্ব ৯০-১০০ সেঃ মিঃ ও গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ৪৫-৫০ সেঃ মিঃ
অতিবৃষ্টি জনিত কারণ বা অন্য প্রতিকূল আবহাওয়ায় জমি চাষ করা সম্ভব না হলে এবং মাটি খুব ভিজে থাকলে ডিবলিং পদ্ধতিতে সারিতে বীজ পুঁতে দিতে হবে। এই পদ্ধতিতে অনুমোদিত সার গর্তে প্রয়োগ করে ৩/৪টি বীজ নির্ধারিত দূরত্বে বপন করতে হবে। অনেক সময় শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে জমিতে আউশ ধান বা পাট থাকে কিংবা প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে জমি পানিতে প্লাবিত থাকে, যে অবস্থায় বীজ বপন সম্ভব নয়। এরূপ অবস্থায় পলিব্যাগে চারা উৎপন্ন করে ২০-৩০ দিন বয়সের চারা রোপণ করতে হবে।
সার প্রয়োগ ও আগাছা দমন
তুলা চাষের জমি উর্বর হওয়া বাঞ্ছনীয়। উর্বরতা মান কম হলে জমিতে হেক্টর প্রতি ৫-৬ টন গোবর সার বা কম্পোস্ট সার দিতে হবে। এভাবে জৈব সার প্রয়োগ করা হলে জমিতে তুলনামূলক ভাবে কম রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয়। এছাড়া জৈব সার প্রয়োগে জমিতে গৌণ পুষ্টি উপাদানের চাহিদাও পূরণ হয়। মাটির পিএইচ মান ৬.৫-এর কম হলে জমিতে হেক্টর প্রতি ২ টন চুন প্রয়োগ করতে হবে (বীজ বপনের ১ মাস পূর্বে বপন করতে হবে)। জৈব সার জমি তৈরির প্রথম দিকে প্রয়োগ করে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।
নিচে উল্লেখকৃত রাসায়নিক সার গুলো জমিতে দিতে হবে :
সারের নাম হেক্টর প্রতি একর প্রতি
১। ইউরিয়া ২০০-২৫০ কেজি ৮০-১০০ কেজি
২। টি.এস.পি ১৫০-১৭৫ কেজি ৬০-৭০ কেজি
৩। পটাশ সার ১০০-১৫০ কেজি ৪০-৬০ কেজি
৪। জিপসাম ২৫-৩০ কেজি ১০-১২ কেজি
সম্পূর্ণ টি.এস.পি, পটাশ সার ও জিপসাম জমি তৈরির শেষ দিকে দিতে হবে এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ ইউরিয়া-এর ১/৪ অংশ বীজ বপনের ঠিক পূর্বে সারিতে দিতে হবে। ইউরিয়া সার দেওয়ার পর তা মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে যেন বীজের সাথে সরাসরি স্পর্শ না থাকে। বাকী ৩/৪ অংশ ইউরিয়া সমান তিন ভাগ করে তিন বারে প্রয়োগ করতে হবে।
চারার বয়স ইউরিয়া সার পার্শ্বে প্রয়োগ
২০-২৫ দিন ০.২৫ অংশ
৪০-৫০ দিন ০.২৫ অংশ
৬০-৭০ দিন ০.২৫ অংশ
ইউরিয়া জমিতে ছিটিয়ে দিতে হবে, তবে প্রতিবার ইউরিয়া প্রয়োগের আগে জমিতে নিড়ানি দিতে হবে।
আরও যে সব পরিচর্যা দরকার
১. চারা গজানোর ১০ দিন পর প্রথমবার প্রতিগর্তে ২টা ভাল চারা রেখে অবশিষ্ট চারাগুলো তুলে ফেলতে হবে। চারার বয়স ২০/২৫ দিন হলে দ্বিতীয়বার প্রতিগর্তে একটি সুস্থসবল মোটা চারা রেখে বাকিগুলো তুলে ফেলতে হবে।
২. প্রতিবার চারা পাতলা করার সময় আগাছা তুলে ফেলতে হবে। গাছের গোড়ার মাটির উপরের স্তরে যদি শক্ত আস্তরন হয় তবে তা আগাছা নিড়ানোর সময় ভেঙ্গে দিতে হবে। আগাছা বেশি হলে সর্বাধিক ৩ বার আগাছা নিড়াতে হবে।
৩. সেচ-নিষ্কাশন রবি মৌসুমে মাটির আর্দ্রতা কম থাকতে পারে। মাটির রস আছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করে ২-৩ বার সেচ দিতে হবে। বর্ষা মৌসুমে তুলা চাষ করলে কখনো কখনো জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। এরকম অবস্থা দেখা দিলে দ্রুত জলাবদ্ধতার অবসান ঘটাতে হবে।
তুলার বোল ওয়ার্ম পোকা দমনের উপায়
এ পোকার ক্ষতি কিভাবে সনাক্ত করবেন
পোকামাকড়ের মধ্যে বোল ওয়ার্ম তুলার প্রধান শত্রু। গাছের বয়স ৩/৪ সপ্তাহ হলে এই পোকা গাছর কান্ড (উপরের দিকের অংশ) ছিদ্র করে ঢুকে পড়ে ও কচি অংশ খেতে থাকে। সেজন্য ডগা নিস্তেজ হয়ে পড়ে ও পরে শুকিয়ে যায়। পোকার উপদ্রব বেশি হলে এরা ফুল ও ফল আক্রমণ করে। ফলত ফুল-ফল ঝরে পড়তে থাকে।
এই পোকা প্রতিকারের উপায়
পোকার আক্রমণের শুরুতে আক্রান্ত ডগা, কুঁড়ি বা ফল হাত দিয়ে পোকাসহ বেছে নিরাপদ দূরত্বে মাটির নিচে পুঁতে বা পুড়িয়ে ফেলে এর উপদ্রব কিছুটা কমানো যায়। হাত বাছাইয়ের পর কীটনাশক ঔষধ ব্যবহার করা যেতে পারে। হেক্টর প্রতি ৩০০ মিঃ লিঃ রিপকর্ড/সুমিসাইডিন/সিমবুশ/ডেসিস২০-২৫ পানির সাথে মিশিয়ে (প্রতি স্প্রে মেশিনে ১২-১৫ মিঃলি ঔষধ) ভালভাবে পুরো গাছে ছিটিয়ে দিতে হবে। এই পোকা দমন করার জন্য আক্রমণের তীব্রতা অনুযায়ী ১৫-২০ দিন পর পর ৩-৪ বার ঔষধ ছিটানোর প্রয়োজন হতে পারে।
তুলা ফসলের অন্যান্য পোকামাকড়ের মধ্যে জ্যাসিড, জাব পোকা ও তুলার পাতা মোড়ানো পোকার উপদ্রব দেখা যেতে পারে। এসব পোকার আক্রমণ সহজভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে অনুমোদিত ঔষধ মাত্রানুযায়ী প্রয়োগ করতে হবে।
তুলার রোগ হলে কি করবেন
তুলা গাছে বেশ কয়েকটি রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে; যথা- পাতা ঝলসানো, এনথ্রাকনোজ, নেতিয়ে পড়া, চারা ধসা ইত্যাদি। বীজ বাহিত রোগের জন্য বীজ শোধন করে বীজ বপন করতে হবে। রোগাক্রান্ত চারা তুলে পুড়িয়ে ফেলা উত্তম। জমিতে পানিবদ্ধতা থাকতে দেয়া যাবে না। রোগাক্রমণের সম্ভবনা আছে এমন ক্ষেতে ৫% কপার অক্সিক্লোরাইড বা ২.৫% ডাইথেন-গ-৪৫ প্রয়োগ করা যেতে পারে।
তুলা সংগ্রহ করার সময়
তুলা গাছের বোল ভালভাবে ফেটে বের হলে পরিষ্কার শুকনা দিনে বীজতুলা উঠাতে হয়।
তুলার ফলন :
স্বাভাবিক অবস্থায় কৃষক ঠিকমত কাজ করে থাকলে হেক্টর প্রতি ১২-১৫ কুইন্টাল বীজ তুলা উৎপন্ন হয়। তবে যথাযথ উন্নত প্রযুক্তি অবলম্বনে তুলা চাষ করলে ফলন এর দ্বিগুণ পাওয়া যায়।
Monday, June 5, 2017
আনারস | সুস্বাদু সব বাংলা খাবার
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 1:27 PM
আনারস | সুস্বাদু সব বাংলা খাবার
চিকেন আনারসী
যা লাগবে : চিকেন ছোট ছোট টুকরা করা ৫০০ গ্রাম, পেঁয়াজ কিউব করে কাটা ১ কাপ, কাঁচামরিচ ১ টেবিল চামচ, ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদ অনুযায়ী, আদাবাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, গরম মশলা গুঁড়া ১ চা চামচ, সাদা সিরকা ২ টেবিল চামচ, পাকা আনারস কিউব করে কাটা ১ কাপ, তেল পরিমাণ মতো, পানি প্রয়োজন হলে।
যেভাবে করবেন : প্রথমে চিকেনের টুকরাগুলো ভালো করে ধুয়ে নিন। তারপর তাতে সব উপকরণ একসঙ্গে মাখিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন ২-৩ ঘণ্টা (পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ ও ধনেপাত ছাড়া)। এরপর একটি ফ্রাইপ্যানে তেল গরম করে মুরগির টুকরাগুলো তাতে পেঁয়াজ, ধনেপাতা, কাঁচামরিচ কুচি দিয়ে ভাজা ভাজা করে রান্না করে পরিবেশন করুন।
আনারস দিয়ে বাইন মাছ ভুনা
যা লাগবে : বাইন মাছ বড় একটি, পেঁয়াজ টুকরা করা ১ কাপ, লবণ স্বাদ অনুযায়ী, আদাবাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ, আনারস কিউব করে কাটা ১ কাপ, কাঁচামরিচ ৫-৬টি, তেল পরিমাণ মতো ও তেজপাতা ২টি।
যেভাবে করবেন : প্রথমে মাছ কেটে ছোট ছোট টুকরা করে ভালো করে লবণ দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে রাখুন। একটি কড়াইয়ে তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজের টুকরা দিয়ে ভাজা ভাজা করে একে একে সব গুঁড়া মশলা এবং লবণ দিয়ে মশলা কষিয়ে নিয়ে তাতে বাইন মাছের টুকরা এবং কিউব করা আনারস দিয়ে আবার কষিয়ে পরিমাণ মতো পানি, জিরা গুঁড়া এবং কাঁচামরিচ দিয়ে ভুনা ভুনা করে নামিয়ে পরিবেশন করুন আনারস দিয়ে বাইন মাছ ভুনা।
আনারস দিয়ে ডিম ভুনা
যা লাগবে : আনারস কিউব করে কাটা ১ কাপ, ডিম ৪টি সিদ্ধ করা, পেঁয়াজ কিউব করে কাটা আধা কাপ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, আদাবাটা আধা চা চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ, ধনেপাতা কুঁচি ১ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদ অনুযায়ী, তেল পরিমাণ মতো এবং পানি পরিমাণ মতো।
যেভাবে করবেন : প্রথমে সিদ্ধ ডিম টুথপিক দিয়ে ফুটো করে হলুদ ও লবণ মাখিয়ে তেল গরম করে তাতে বাদামি করে ভেজে তুলন। ওই তেলে পেঁয়াজের টুকরার সঙ্গে সব বাটা ও গুঁড়া মশলা, লবণ এবং কিউব করা আনারসের সঙ্গে সিদ্ধ ডিম দিয়ে ভুনা ভুনা করে রান্না করে ধনেপাতা কুঁচি দিয়ে নামিয়ে পরিবেশন করুন।
আনারসের চিকেন কোরমা
উপকরণ
মুরগির মাংস ১ কেজি, আনারস কুচি ১ কাপ, আদা বাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, তেল আধা কাপ, মরিচ গুঁড়ো আধা চা চামচ, তেজপাতা ২টি, দারুচিনি ৪ টুকরা, এলাচ ৪টি, লবণ পরিমাণমতো, লবঙ্গ ৪টি, চিনি ২ চা চামচ, বেরেস্তা ২ টেবিল চামচ, কাঁচামরিচ ৫টি, কিশমিশ ১ টেবিল চামচ, পেস্তাবাদাম কুচি ১ টেবিল চামচ, ঘি ৩ টেবিল চামচ, গোলমরিচ ১ চা চামচ।
যেভাবে তৈরি করবেন
১. মাংস, লবণ ও আনারস কুচি ১০ মিনিট মেখে রাখুন।
২. কড়াইয়ে তেল গরম করে এলাচ, দারুচিনি, গোলমরিচ, লবঙ্গ ও ফোড়ন দিয়ে সব মসলা কষিয়ে মাংস দিয়ে ভালো করে ভুনে অল্প পানি দিয়ে দমে বসান।
৩. ওপরে তেল উঠে এলে কাঁচামরিচ, কিশমিশ ও বাদাম কুচি দিয়ে নামিয়ে ফেলুন।
আনারসের শরবত
উপকরণ : ২০০ গ্রাম আনারস, বিট লবণ, চিনি, বরফ কুচি, পুদিনা পাতা।
প্রস্তুত প্রণালি : আনারস ভালো মতো পরিষ্কার করে কেটে রস বের করে বেল্গন্ডারের মধ্যে নিন (এতে যেন কোনো খোসা বা বিচি না থাকে)। তাতে মিনারেল পানি, পরিমাণ মতো বিট লবণ, চিনি মিশিয়ে ২০ মিনিট ফ্রিজে রেখে দিন। ২০ মিনিট পর ফ্রিজ থেকে বের করে বরফ কুচি আর পুদিনা পাতা দিয়ে পরিবেশন করুন।
আনারস টক ঝাল মিষ্টি
উপকরণ
আনারস ১টি, গুড় ২০০ গ্রাম, মরিচ ভাজা গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, পাঁচফোড়ন ভাজা গুঁড়া ১ চামচ, জিরা ভাজা গুঁড়া ১ চা চামচ, সরিষার তেল সিকি কাপ, লবণ স্বাদমতো, সিরকা আধা কাপ, বিটলবণ আধা চা চামচ, সোডিয়াম বেনজয়েট সিকি চামচ, সিরকা ১ টেবিল চামচ।
যেভাবে তৈরি করবেন
১. আনারস লম্বা টুকরা করে কাটুন।
২. তেলে গুড় ও সিরকা মেশান।
৩. মিশে গেলে আনারস দিন। এরপর লবণ ও বিটলবণ দিন।
৪. ঘন হয়ে এলে ভাজা মসলা দিন।
৫. এরপর নামিয়ে সোডিয়াম বেনজয়েট সিরকায় গুলিয়ে দিয়ে দিন।
আনারসী ইলিশ
উপকরণ : ইলিশ মাছের টুকরো ৮-১০টি, আনারস ঝুরি করে কাটা ১ কাপ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, আস্ত কাঁচামরিচ ৫-৬টি, সরিষার তেল পরিমাণমতো, লবণ স্বাদ অনুযায়ী এবং পানি পরিমাণমতো। পেঁয়াজ মিহি করে কাটা হাফ কাপ। রসুন বাটা হাফ চা চামচ।
প্রস্তুত প্রণালি : প্রথমে মাছের টুকরোগুলো ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। একটি প্যানে তেল নিয়ে পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচ হালকা ভেজে একে একে তাতে সব গুঁড়া ও বাটা মসলা, স্বাদ অনুযায়ী লবণ এবং ঝুরি করা আনারস দিয়ে মসলা ভালো করে কষিয়ে এতে মাছের টুকরো বিছিয়ে অল্প পানি দিয়ে না ঢেকে ১০ মিনিট রান্না করে নামিয়ে পরিবেশন করুন।
সবজিতে আনারস
উপকরণ : পটোল গোল গোল করে কাটা ১ কাপ, বরবটি ছোট ছোট টুকরা করা হাফ কাপ, আলু কিউব করে কাটা হাফ কাপ, গাজর কিউব করে কাটা হাফ কাপ, পেঁপে কিউব করে কাটা হাফ কাপ, টমেটো কিউব করে কাটা হাফ কাপ, আনারস কিউব করে কাটা ১ কাপ, কাঁচামরিচ আস্ত ৫-৬টি, হলুদ গুঁড়া হাফ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া হাফ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, পেঁয়াজ কিউব করে কাটা হাফ কাপ, তেল ও পানি পরিমাণমতো।
প্রস্তুত প্রণালি : সব তরকারি আলাদা আলাদা করে অল্প সেদ্ধ করে নিন। একটি কড়াইয়ে তেল গরম করে এতে পেঁয়াজসহ সব উপকরণ দিয়ে ভালো করে কষিয়ে তারপর আনারস দিয়ে আবার কষিয়ে পরিমাণমতো পানি দিয়ে রান্না শেষ করে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
আনারস চিংড়ি ভুনা
উপকরণ : চিংড়ি মাছ ৫০০ গ্রাম, আনারস কিউব করে কাটা ১ কাপ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, আদা বাটা হাফ চা চামচ, লবণ স্বাদ অনুযায়ী, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, তেজপাতা ২টি, আস্ত কাঁচামরিচ ৫-৬টি, সরিষার তেল পরিমাণমতো এবং পানিও পরিমাণমতো।
প্রস্তুত প্রণালি : প্রথমে মাছের খোসা ছাড়িয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। একটি কড়াইয়ে তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজের সঙ্গে অন্যান্য মসলা, লবণ, চিংড়ি মাছ এবং কিউব করা আনারস দিয়ে ভালো করে কষিয়ে ভুনা ভুনা করে রান্না করে নামিয়ে ফেলুন আনারস চিংড়ি ভুনা।
ঝটপট আনারসী চিকেন
উপকরণ : হাড়সহ মুরগির টুকরো করা ৫০০ গ্রাম, সিরকা ২ টেবিল চামচ, আদা বাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, লবণ স্বাদ অনুযায়ী, মরিচ গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, আস্ত কাঁচামরিচ ৫-৬টা, ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ, আনারস কিউব করে কাটা ২ কাপ, পেঁয়াজ কিউব করে কাটা ২ কাপ, তেল পরিমাণমতো এবং পানিও পরিমাণমতো।
প্রস্তুত প্রণালি : মুরগির মাংস ভালো করে ধুয়ে তাতে সব উপকরণ ভালো করে মাখিয়ে ২ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিন (তেল বাদে)। তারপর একটি প্যানে তেল গরম করে তাতে আগে থেকে মাখানো মুরগির মাংসগুলো দিয়ে ভালো করে কষিয়ে মাখা মাখা করে ধনেপাতা কুচি ও কাঁচামরিচ দিয়ে নামিয়ে পরিবেশন করুন।
৬. ঠাণ্ডা হলে বয়ামে রেখে কয়েক দিন রোদে দিয়ে সংরক্ষণ করুন
চিকেন আনারসী
যা লাগবে : চিকেন ছোট ছোট টুকরা করা ৫০০ গ্রাম, পেঁয়াজ কিউব করে কাটা ১ কাপ, কাঁচামরিচ ১ টেবিল চামচ, ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদ অনুযায়ী, আদাবাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, গরম মশলা গুঁড়া ১ চা চামচ, সাদা সিরকা ২ টেবিল চামচ, পাকা আনারস কিউব করে কাটা ১ কাপ, তেল পরিমাণ মতো, পানি প্রয়োজন হলে।
যেভাবে করবেন : প্রথমে চিকেনের টুকরাগুলো ভালো করে ধুয়ে নিন। তারপর তাতে সব উপকরণ একসঙ্গে মাখিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন ২-৩ ঘণ্টা (পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ ও ধনেপাত ছাড়া)। এরপর একটি ফ্রাইপ্যানে তেল গরম করে মুরগির টুকরাগুলো তাতে পেঁয়াজ, ধনেপাতা, কাঁচামরিচ কুচি দিয়ে ভাজা ভাজা করে রান্না করে পরিবেশন করুন।
আনারস দিয়ে বাইন মাছ ভুনা
যা লাগবে : বাইন মাছ বড় একটি, পেঁয়াজ টুকরা করা ১ কাপ, লবণ স্বাদ অনুযায়ী, আদাবাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ, আনারস কিউব করে কাটা ১ কাপ, কাঁচামরিচ ৫-৬টি, তেল পরিমাণ মতো ও তেজপাতা ২টি।
যেভাবে করবেন : প্রথমে মাছ কেটে ছোট ছোট টুকরা করে ভালো করে লবণ দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে রাখুন। একটি কড়াইয়ে তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজের টুকরা দিয়ে ভাজা ভাজা করে একে একে সব গুঁড়া মশলা এবং লবণ দিয়ে মশলা কষিয়ে নিয়ে তাতে বাইন মাছের টুকরা এবং কিউব করা আনারস দিয়ে আবার কষিয়ে পরিমাণ মতো পানি, জিরা গুঁড়া এবং কাঁচামরিচ দিয়ে ভুনা ভুনা করে নামিয়ে পরিবেশন করুন আনারস দিয়ে বাইন মাছ ভুনা।
আনারস দিয়ে ডিম ভুনা
যা লাগবে : আনারস কিউব করে কাটা ১ কাপ, ডিম ৪টি সিদ্ধ করা, পেঁয়াজ কিউব করে কাটা আধা কাপ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, আদাবাটা আধা চা চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ, ধনেপাতা কুঁচি ১ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদ অনুযায়ী, তেল পরিমাণ মতো এবং পানি পরিমাণ মতো।
যেভাবে করবেন : প্রথমে সিদ্ধ ডিম টুথপিক দিয়ে ফুটো করে হলুদ ও লবণ মাখিয়ে তেল গরম করে তাতে বাদামি করে ভেজে তুলন। ওই তেলে পেঁয়াজের টুকরার সঙ্গে সব বাটা ও গুঁড়া মশলা, লবণ এবং কিউব করা আনারসের সঙ্গে সিদ্ধ ডিম দিয়ে ভুনা ভুনা করে রান্না করে ধনেপাতা কুঁচি দিয়ে নামিয়ে পরিবেশন করুন।
আনারসের চিকেন কোরমা
উপকরণ
মুরগির মাংস ১ কেজি, আনারস কুচি ১ কাপ, আদা বাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, তেল আধা কাপ, মরিচ গুঁড়ো আধা চা চামচ, তেজপাতা ২টি, দারুচিনি ৪ টুকরা, এলাচ ৪টি, লবণ পরিমাণমতো, লবঙ্গ ৪টি, চিনি ২ চা চামচ, বেরেস্তা ২ টেবিল চামচ, কাঁচামরিচ ৫টি, কিশমিশ ১ টেবিল চামচ, পেস্তাবাদাম কুচি ১ টেবিল চামচ, ঘি ৩ টেবিল চামচ, গোলমরিচ ১ চা চামচ।
যেভাবে তৈরি করবেন
১. মাংস, লবণ ও আনারস কুচি ১০ মিনিট মেখে রাখুন।
২. কড়াইয়ে তেল গরম করে এলাচ, দারুচিনি, গোলমরিচ, লবঙ্গ ও ফোড়ন দিয়ে সব মসলা কষিয়ে মাংস দিয়ে ভালো করে ভুনে অল্প পানি দিয়ে দমে বসান।
৩. ওপরে তেল উঠে এলে কাঁচামরিচ, কিশমিশ ও বাদাম কুচি দিয়ে নামিয়ে ফেলুন।
আনারসের শরবত
উপকরণ : ২০০ গ্রাম আনারস, বিট লবণ, চিনি, বরফ কুচি, পুদিনা পাতা।
প্রস্তুত প্রণালি : আনারস ভালো মতো পরিষ্কার করে কেটে রস বের করে বেল্গন্ডারের মধ্যে নিন (এতে যেন কোনো খোসা বা বিচি না থাকে)। তাতে মিনারেল পানি, পরিমাণ মতো বিট লবণ, চিনি মিশিয়ে ২০ মিনিট ফ্রিজে রেখে দিন। ২০ মিনিট পর ফ্রিজ থেকে বের করে বরফ কুচি আর পুদিনা পাতা দিয়ে পরিবেশন করুন।
আনারস টক ঝাল মিষ্টি
উপকরণ
আনারস ১টি, গুড় ২০০ গ্রাম, মরিচ ভাজা গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, পাঁচফোড়ন ভাজা গুঁড়া ১ চামচ, জিরা ভাজা গুঁড়া ১ চা চামচ, সরিষার তেল সিকি কাপ, লবণ স্বাদমতো, সিরকা আধা কাপ, বিটলবণ আধা চা চামচ, সোডিয়াম বেনজয়েট সিকি চামচ, সিরকা ১ টেবিল চামচ।
যেভাবে তৈরি করবেন
১. আনারস লম্বা টুকরা করে কাটুন।
২. তেলে গুড় ও সিরকা মেশান।
৩. মিশে গেলে আনারস দিন। এরপর লবণ ও বিটলবণ দিন।
৪. ঘন হয়ে এলে ভাজা মসলা দিন।
৫. এরপর নামিয়ে সোডিয়াম বেনজয়েট সিরকায় গুলিয়ে দিয়ে দিন।
আনারসী ইলিশ
উপকরণ : ইলিশ মাছের টুকরো ৮-১০টি, আনারস ঝুরি করে কাটা ১ কাপ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, আস্ত কাঁচামরিচ ৫-৬টি, সরিষার তেল পরিমাণমতো, লবণ স্বাদ অনুযায়ী এবং পানি পরিমাণমতো। পেঁয়াজ মিহি করে কাটা হাফ কাপ। রসুন বাটা হাফ চা চামচ।
প্রস্তুত প্রণালি : প্রথমে মাছের টুকরোগুলো ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। একটি প্যানে তেল নিয়ে পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচ হালকা ভেজে একে একে তাতে সব গুঁড়া ও বাটা মসলা, স্বাদ অনুযায়ী লবণ এবং ঝুরি করা আনারস দিয়ে মসলা ভালো করে কষিয়ে এতে মাছের টুকরো বিছিয়ে অল্প পানি দিয়ে না ঢেকে ১০ মিনিট রান্না করে নামিয়ে পরিবেশন করুন।
সবজিতে আনারস
উপকরণ : পটোল গোল গোল করে কাটা ১ কাপ, বরবটি ছোট ছোট টুকরা করা হাফ কাপ, আলু কিউব করে কাটা হাফ কাপ, গাজর কিউব করে কাটা হাফ কাপ, পেঁপে কিউব করে কাটা হাফ কাপ, টমেটো কিউব করে কাটা হাফ কাপ, আনারস কিউব করে কাটা ১ কাপ, কাঁচামরিচ আস্ত ৫-৬টি, হলুদ গুঁড়া হাফ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া হাফ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, পেঁয়াজ কিউব করে কাটা হাফ কাপ, তেল ও পানি পরিমাণমতো।
প্রস্তুত প্রণালি : সব তরকারি আলাদা আলাদা করে অল্প সেদ্ধ করে নিন। একটি কড়াইয়ে তেল গরম করে এতে পেঁয়াজসহ সব উপকরণ দিয়ে ভালো করে কষিয়ে তারপর আনারস দিয়ে আবার কষিয়ে পরিমাণমতো পানি দিয়ে রান্না শেষ করে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
আনারস চিংড়ি ভুনা
উপকরণ : চিংড়ি মাছ ৫০০ গ্রাম, আনারস কিউব করে কাটা ১ কাপ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, আদা বাটা হাফ চা চামচ, লবণ স্বাদ অনুযায়ী, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, তেজপাতা ২টি, আস্ত কাঁচামরিচ ৫-৬টি, সরিষার তেল পরিমাণমতো এবং পানিও পরিমাণমতো।
প্রস্তুত প্রণালি : প্রথমে মাছের খোসা ছাড়িয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। একটি কড়াইয়ে তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজের সঙ্গে অন্যান্য মসলা, লবণ, চিংড়ি মাছ এবং কিউব করা আনারস দিয়ে ভালো করে কষিয়ে ভুনা ভুনা করে রান্না করে নামিয়ে ফেলুন আনারস চিংড়ি ভুনা।
ঝটপট আনারসী চিকেন
উপকরণ : হাড়সহ মুরগির টুকরো করা ৫০০ গ্রাম, সিরকা ২ টেবিল চামচ, আদা বাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, লবণ স্বাদ অনুযায়ী, মরিচ গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, আস্ত কাঁচামরিচ ৫-৬টা, ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ, আনারস কিউব করে কাটা ২ কাপ, পেঁয়াজ কিউব করে কাটা ২ কাপ, তেল পরিমাণমতো এবং পানিও পরিমাণমতো।
প্রস্তুত প্রণালি : মুরগির মাংস ভালো করে ধুয়ে তাতে সব উপকরণ ভালো করে মাখিয়ে ২ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিন (তেল বাদে)। তারপর একটি প্যানে তেল গরম করে তাতে আগে থেকে মাখানো মুরগির মাংসগুলো দিয়ে ভালো করে কষিয়ে মাখা মাখা করে ধনেপাতা কুচি ও কাঁচামরিচ দিয়ে নামিয়ে পরিবেশন করুন।
৬. ঠাণ্ডা হলে বয়ামে রেখে কয়েক দিন রোদে দিয়ে সংরক্ষণ করুন
Subscribe to:
Posts (Atom)