পেয়ারার ফলছিদ্রকারি পোকা
এ পোকা ফল ছিদ্র করে ফলের ভিতরে ঢুকে ফলের মাংসল অংশ খেতে থাকে এবং ফল ভেতরে পঁচে যায় ।
এর প্রতিকার হল:
১. ফল ব্যাগিং করা বা পলিথিন দিয়ে প্যাচানো
২. নষ্ট ফল বাগান থেকে অপসারণ করা।
৩. টাফগার ২ মি.লি. / লি. হারে পানিতে মিশিয়ে শেষ বিকেলে স্প্রে করা।
পরবর্তীতে যা যা করবেন না:
১. বাগান অপরিচ্ছন্ন রাখবেন না
পরবর্তীতে যা যা করবেন:
১.ফল সংগ্রহ শেষ হলে গাছের মরা ডালপালা, ফলের বোটা, রোগ বা পোকা আক্রান্ত ডাল পালা ও অতিঘন ডাল পালা ছাটাই করে পরিস্কার করে দিন
২. পরিস্কার করার পর একটি ছত্রাক নাশক ও একটি কীটনাশক দ্বারা পুরো গাছ ভালভাবে স্প্রে করুন
৩. নিয়মিত বাগান পরিদর্শন করুন।
Sunday, May 14, 2017
ডালিমের এনথ্রাকনোজ রোগ সমাধান
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 12:20 AM
ডালিমের এনথ্রাকনোজ রোগ
ডালিমের এনথ্রাকনোজ হলে কচি পাতায় অনিয়মিত দাগ দেখা যায় । কচি ফল কাল হয়ে শুকিয়ে ফেটে যায় এবং কখনও কখনও ঝড়ে যায় ।
প্রতিকার:
১. সময়মত প্রুনিং করে গাছ ও বাগান পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা
২. গাছের নিচে ঝড়ে পড়া পাতা, ফল অপসারণ করা।
৩. কার্বেন্ডাজিম বা ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক ২ গ্রাম / লি. হারে পানিতে মিশিয়ে ১৫ দিন পরপর ৩-৪ বার স্প্রে করা ।
পরবর্তীতে যা যা করবেন না:
১. বাগান অপরিচ্ছন্ন রাখবেন না
পরবর্তীতে যা যা করবেন:
১.ফল সংগ্রহ শেষ হলে গাছের মরা ডালপালা,ফলের বোটা, রোগ বা পোকা আক্রান্ত ডাল পালা ও অতিঘন ডাল পালা ছাটাই করে পরিস্কার করে দিন
২. পরিস্কার করার পর একটি ছত্রাক নাশক ও একটি কীটনাশক দ্বারা পুরো গাছ ভালভাবে স্প্রে করুন
৩. নিয়মিত বাগান পরিদর্শন করুন।
ডালিমের এনথ্রাকনোজ হলে কচি পাতায় অনিয়মিত দাগ দেখা যায় । কচি ফল কাল হয়ে শুকিয়ে ফেটে যায় এবং কখনও কখনও ঝড়ে যায় ।
প্রতিকার:
১. সময়মত প্রুনিং করে গাছ ও বাগান পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা
২. গাছের নিচে ঝড়ে পড়া পাতা, ফল অপসারণ করা।
৩. কার্বেন্ডাজিম বা ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক ২ গ্রাম / লি. হারে পানিতে মিশিয়ে ১৫ দিন পরপর ৩-৪ বার স্প্রে করা ।
পরবর্তীতে যা যা করবেন না:
১. বাগান অপরিচ্ছন্ন রাখবেন না
পরবর্তীতে যা যা করবেন:
১.ফল সংগ্রহ শেষ হলে গাছের মরা ডালপালা,ফলের বোটা, রোগ বা পোকা আক্রান্ত ডাল পালা ও অতিঘন ডাল পালা ছাটাই করে পরিস্কার করে দিন
২. পরিস্কার করার পর একটি ছত্রাক নাশক ও একটি কীটনাশক দ্বারা পুরো গাছ ভালভাবে স্প্রে করুন
৩. নিয়মিত বাগান পরিদর্শন করুন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৎস্য চাষীদের মাঝে উপকরণ বিতরণ
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 12:10 AM
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৎস্য চাষীদের মাঝে উপকরণ বিতরণ
বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলা কমপ্লেক্স চত্তরে উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সদর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ। উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হাসান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফতেখার উদ্দিন শামীম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হুদা, ভারপ্রাপ্ত সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মহসিন আলী, সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাসুদ রানাসহ অন্যরা।
সদর উপজেলা মৎস্য দপ্তর উন্মুক্ত জলাশয়ে বিল নার্সারী স্থাপন ও পোনা অবমুক্তকরণ প্রকল্পের আওতায় মহাডাঙ্গা ও বিল গাওয়া বিলে এবং রাজস্ব খাতে বিল শাকুলায় বিল নার্সারী কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সুফলভোগীদের মাঝে এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় (প্রদর্শণী জলাশয়ে) এসব উপকরণ বিতরণ করে। বিতরণকৃত উপাদানের মধ্যে রয়েছে চুন, ইউরিয়া, টিএসপি, খইল, মাছের খাবার।
সূত্র- এইবেলা
বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলা কমপ্লেক্স চত্তরে উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সদর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ। উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হাসান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফতেখার উদ্দিন শামীম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হুদা, ভারপ্রাপ্ত সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মহসিন আলী, সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাসুদ রানাসহ অন্যরা।
সদর উপজেলা মৎস্য দপ্তর উন্মুক্ত জলাশয়ে বিল নার্সারী স্থাপন ও পোনা অবমুক্তকরণ প্রকল্পের আওতায় মহাডাঙ্গা ও বিল গাওয়া বিলে এবং রাজস্ব খাতে বিল শাকুলায় বিল নার্সারী কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সুফলভোগীদের মাঝে এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় (প্রদর্শণী জলাশয়ে) এসব উপকরণ বিতরণ করে। বিতরণকৃত উপাদানের মধ্যে রয়েছে চুন, ইউরিয়া, টিএসপি, খইল, মাছের খাবার।
সূত্র- এইবেলা
Saturday, May 13, 2017
ছাদে ড্রাগন ফলের চাষ
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 2:27 PM
ছাদে ড্রাগন ফলের চাষ
ড্রাগন ফলের গাছ দেখতে একদম ক্যাকটাসের মতো । পাতাবিহীন এই গাছটি দেখে অনেকেই একে ক্যাকটাস বলেই মনে করেন। ডিম্বাকৃতির উজ্জ্বল গোলাপি রঙের এই ফলের নাম শুনলে কেমন জানি অদ্ভুত মনে হয় । এ আবার কেমন ফল । এটা কি আদৌ খাবার উপযোগী কিনা মনে সন্দেহ জাগে । ফলের ভিতরের অংশ লাল ও সাদা হয়। ভিতরে নরম শাঁস এবং ফলের মিষ্ট গন্ধ আছে । শাঁসের মধ্যে ছোট ছোট নরম বীজ থাকে। ড্রাগন গাছে ফুল ফোটার ৩৫ - ৪০ দিনের মধ্যেই খাওয়ার উপযুক্ত হয় ।
চাষ পদ্ধতিঃ
প্রায় সব ধরনের মাটিতেই ড্রাগন ফল চাষ করা যায়। তবে জৈব পদার্থসমৃদ্ধ বেলে-দোঁআশ মাটিই ড্রাগন চাষের জন্য উত্তম। ছাদে ড্রাগন ফলের কাটিং লাগানোর জন্য ২০ ইঞ্চি কালার ড্রাম বা টব সংগ্রহ করতে হবে । ড্রামের তলায় ৩-৫ টি ছিদ্র করে নিতে হবে । যাতে গাছের গোড়ায় পানি জমে না থাকে । টব বা ড্রামের তলার ছিদ্রগুলো ইটের ছোট ছোট টুকরা দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে । টব বা ড্রামের গাছটিকে ছাদের এমন জায়গায় রাখতে হবে যেখানে সবসময় রোদ থাকে । এবার ২ ভাগ বেলে দোআঁশ মাটি, ১ ভাগ গোবর, ৪০-৫০ গ্রাম টি,এস,পি সার এবং ৪০-৫০ গ্রাম পটাশ সার,একত্রে মিশিয়ে ড্রাম বা টবে পানি দিয়ে রেখে দিতে হবে ১০-১২ দিন । অতঃপর মাটি কিছুটা খুচিয়ে দিয়ে আবার ৪-৫ দিন একইভাবে রেখে দিতে হবে । মাটি যখন ঝুরঝুরে হবে তখন একটি কাটিং এর চারা উক্ত টবে রোপন করতে হবে । গাছের গোড়ায় মাটি কিছুটা উচু করে দিতে হবে এবং মাটি হাত দিয়ে চেপে চেপে দিতে হবে । যাতে গাছের গোড়া দিয়ে বেশী পানি না ঢুকতে পারে । একটি সোজা কাঠি দিয়ে গাছটিকে বেধে দিতে হবে । ড্রাগন ক্যাক্টাস জাতীয় গাছ তাই পানি খুব কম দিতে হবে । লক্ষ্য রাখতে হবে যেন গাছের গোড়ায় পানি কখনই জমে না থাকে ।
অন্যান্য পরিচর্যাঃ
ড্রাগনের গাছের কান্ড লতানো প্রকৃতির । তাই চারা লাগানোর পর গাছ কিছুটা বড় হয়ে গেলে খুঁটি বা পিলার পুঁতে দিয়ে ড্রাগন ফল গাছ বেঁধে দিতে হবে ।
ফলের ব্যবহারঃ
ড্রাগন ফল ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে খেলে ভালো লাগে। ফলকে ২/৪ টুকরা করে চামচ দিয়ে কুরে এর শাঁস খাওয়া যায় । এ ছাড়াও খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে কাঁটাচামচ দিয়ে খাওয়া যায়।
ড্রাগন ফলের গাছ দেখতে একদম ক্যাকটাসের মতো । পাতাবিহীন এই গাছটি দেখে অনেকেই একে ক্যাকটাস বলেই মনে করেন। ডিম্বাকৃতির উজ্জ্বল গোলাপি রঙের এই ফলের নাম শুনলে কেমন জানি অদ্ভুত মনে হয় । এ আবার কেমন ফল । এটা কি আদৌ খাবার উপযোগী কিনা মনে সন্দেহ জাগে । ফলের ভিতরের অংশ লাল ও সাদা হয়। ভিতরে নরম শাঁস এবং ফলের মিষ্ট গন্ধ আছে । শাঁসের মধ্যে ছোট ছোট নরম বীজ থাকে। ড্রাগন গাছে ফুল ফোটার ৩৫ - ৪০ দিনের মধ্যেই খাওয়ার উপযুক্ত হয় ।
চাষ পদ্ধতিঃ
প্রায় সব ধরনের মাটিতেই ড্রাগন ফল চাষ করা যায়। তবে জৈব পদার্থসমৃদ্ধ বেলে-দোঁআশ মাটিই ড্রাগন চাষের জন্য উত্তম। ছাদে ড্রাগন ফলের কাটিং লাগানোর জন্য ২০ ইঞ্চি কালার ড্রাম বা টব সংগ্রহ করতে হবে । ড্রামের তলায় ৩-৫ টি ছিদ্র করে নিতে হবে । যাতে গাছের গোড়ায় পানি জমে না থাকে । টব বা ড্রামের তলার ছিদ্রগুলো ইটের ছোট ছোট টুকরা দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে । টব বা ড্রামের গাছটিকে ছাদের এমন জায়গায় রাখতে হবে যেখানে সবসময় রোদ থাকে । এবার ২ ভাগ বেলে দোআঁশ মাটি, ১ ভাগ গোবর, ৪০-৫০ গ্রাম টি,এস,পি সার এবং ৪০-৫০ গ্রাম পটাশ সার,একত্রে মিশিয়ে ড্রাম বা টবে পানি দিয়ে রেখে দিতে হবে ১০-১২ দিন । অতঃপর মাটি কিছুটা খুচিয়ে দিয়ে আবার ৪-৫ দিন একইভাবে রেখে দিতে হবে । মাটি যখন ঝুরঝুরে হবে তখন একটি কাটিং এর চারা উক্ত টবে রোপন করতে হবে । গাছের গোড়ায় মাটি কিছুটা উচু করে দিতে হবে এবং মাটি হাত দিয়ে চেপে চেপে দিতে হবে । যাতে গাছের গোড়া দিয়ে বেশী পানি না ঢুকতে পারে । একটি সোজা কাঠি দিয়ে গাছটিকে বেধে দিতে হবে । ড্রাগন ক্যাক্টাস জাতীয় গাছ তাই পানি খুব কম দিতে হবে । লক্ষ্য রাখতে হবে যেন গাছের গোড়ায় পানি কখনই জমে না থাকে ।
অন্যান্য পরিচর্যাঃ
ড্রাগনের গাছের কান্ড লতানো প্রকৃতির । তাই চারা লাগানোর পর গাছ কিছুটা বড় হয়ে গেলে খুঁটি বা পিলার পুঁতে দিয়ে ড্রাগন ফল গাছ বেঁধে দিতে হবে ।
ফলের ব্যবহারঃ
ড্রাগন ফল ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে খেলে ভালো লাগে। ফলকে ২/৪ টুকরা করে চামচ দিয়ে কুরে এর শাঁস খাওয়া যায় । এ ছাড়াও খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে কাঁটাচামচ দিয়ে খাওয়া যায়।
ফলগাছে লেয়ারিং/গুটি কলম/দাবা কলম পদ্ধতি
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 1:51 PM
ফলগাছে লেয়ারিং/গুটি কলম/দাবা কলম পদ্ধতি
সাধারণ তথ্যঃ
দাবা কলম হচ্ছে -“মাতৃগাছের সঙ্গে সংযুক্ত অবস্থায় এর শাখায় অস্থানিক শিকড় গজিয়ে মাতৃগাছের হুবহু গুণসম্পন্ন চারা উৎপাদনের কৌশল”। অর্থাৎ ইপ্সিত ফলগাছের কোন শাখায় ক্ষত সৃস্টি করে সেখান থেকে আস্থানিক শিকড় গজিয়ে পরবর্তীতে এটিকে মাতৃগাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি পুর্ণাঙ্গ স্বতন্ত্র গাছ হিসাবে তৈরী করা ।
বাংলাদেশের বিভিন্ন ফলের বংশবিস্তারে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় যেমনঃ লিচু, পেয়ারা, কাগজীলেবু, জামরুল,বাতাবী লেবু, ডালিম, করমচা, গোলাপজাম, জলপাই, কামিনী ফুল, ভেলভেট ফুল ইত্যাদি।
সাধারণতঃ ঝোপ জাতীয় ফল গাছ যেগুলো উচু কম হয় এবং পাশ্বে বেশী ছড়ায় এ ধরণের গাছের বংশবিস্তারের জন্য দাবা কলম উপযোগী।
দাবা কলমের সুবিধাঃ
ক) এটি একটি সহজ পদ্ধতি এবং করতে খুব একটি দক্ষতার প্রয়োজন হয় না।
খ) অল্প সময়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গাছের চারা উৎপাদন করা যায়।
গ) কলমের চারায় কম সময়ে ফল ধারণ করে।
ঘ) যে সমস্ত প্রজাতি কাটিং এ সহজে শিকড় গজায় না তাদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি সফলতা বয়ে আনতে পারে।
দাবা কলমের অসুবিধাঃ
ক) বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এ পদ্ধতি কাটিং অপেক্ষা ব্যয়বহুল এবং এর জন্য বাড়তি শ্রমিকের প্রয়োজন হয়।
খ) এই পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করতে গেলে অধিক সংখ্যক মাতৃগাছের প্রয়োজন হয়।
সুবিধা অসুবিধা বিবেচনায় এনে যদি এই পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করে যদি একজন চাষী একে লাভজনক মনে করেন তবে তখনই এটিকে গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়।
দাবাকলমের প্রকারভেদ:
অধুনা বিশ্বে এই প্রাচীন পদ্ধতির সংস্করণ করে উন্নত পদ্ধতির প্রচলন করা হয়েছে। দাবা কলমের বেশ কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছেঃ
ক) শাখা দাবা কলম
খ) সরল দাবা কলম
গ) যৌগিক দাবা কলম
ঘ) পরিখা দাবা কলম
ঙ) ঢিবি দাবা কলম এবং
চ) গুটি কলম।
গুটি কলম:
দাবা কলমের মধ্যে গুটি কলম সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রচলিত পদ্ধতি । গুটি কলমকে পট লেয়ারেজ, চাইনিজ লেয়ারেজ, এয়ার লেয়ারেজ, মারকটেজ নামেও ডাকা হয়ে থাকে। গুটি কলম নিরক্ষীয় এবং নাতিশীষ্ণ অঞ্চরের গাছের বংশবিস্তারে বিশেষ করে ফল গাছের বংশ বিস্তারে ব্যবহৃত হয়।
ধাপ ১. নির্বাচিত শাখা যাতে গুটি কলম করা হবে।
ধাপ ২. পাতা অপসারণ করে চক্রাকারে বাকল তুলে ফেলা হয়েছে।
ধাপ ৩. কাটা অংশের চারিদিকে রুটিং মিডিয়াম দিকে ঢেকে দেয়া হয়েছে এবং পানি ধারণ নিশ্চিত করা হয়েছে।
ধাপ ৪. রুটিং মিডিয়াম সহ ডালকে পাতলা স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে মুড়ে দেয়া হয়েছে।
ধাপ ৫. মূল গজানো দাবা কলম।
গুটি কলম সাধারণতঃ
ক) মাটির সমান্তরালে অবস্থান করছে এমন শাখায় করা হয়ে থাকে।
খ) নির্বাচিত ডালের বয়স ৬-১২ মাস হতে হবে।
গ) ডালটি পেন্সিলের মত মোটা হতে হবে, গাছের দক্ষিণ পূর্ব দিকের ডাল হলে উত্তম। নির্বাচিত শাখার অগ্রভাগর ৩০-৪০ সে:মি: নীচে কয়েকটি পাতা সরিয়ে দুটি পর্ব মধ্যবর্তী অংশ থেকে ধারালো ছুরি দিয়ে চক্রাকারে ৪-৫ সে:মি: পরিমাণ জায়গায় বাকল তুলে ফেলতে হয়। কাটা জায়গার কাঠের উপরের সবুজাভ আবরণটি ছুরির বুক দিয়ে চেঁছে ফেলে দিতে হয। এতে ক্যাম্বিয়াম যোগসুত্র বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। ডালের উপরের দিকের কাটাটি গিটের কাছাকাছি হলে ভাল হয়। কারন এতে কলমে তাড়াতাড়ি শিকড় গজায়। এরপর কাটা জায়গাটিকে পুরোপুরি রুটিং মিডিয়া (৫০% এটেল দোয়াশ মাটি + ৫০% পঁচা গোবর) নারিকেলের ছোবড়ার গুড়া, নারিকেলের ছোবড়া, পাটের আঁশ ইত্যাদি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে শিকড় গজানোর জন্য কাটা উপরের অংশ যেন অবশ্যই রুটিং মিডিয়া দিয়ে ঢাকা থাকে। রুটিং মিডিয়া স্থাপনের পর এর চারদিকে স্বচ্ছ পলিথিনের শীট শক্ত করে বেধে দিতে হয যেমন কোন ভাবেই রুটিং মিডিয়া পিছলে না নেমে যায়। এ ব্যবস্থা রুটিং মিডিয়ায় পানি ধারণ নিশ্চিত করে। অনেক সময় সহজে শিকড় গজায় না এমন প্রজাতির কলমের ক্ষেত্রে কাটা অংশে রুটিং হরমোন (IBA, NAA, Kinetin ইত্যাদি) প্রয়োগ করা হয়। বৈশাখ – আষাঢ় মাস গুটি কলম করার উপযুক্ত সময়। গুটি কলমে শিকড় গজাতে গাছের প্রকার ভেদে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় নেয়। শিকড়ের রং প্রথমে সাদা থাকে, আস্তে আস্তে রং বদলিয়ে খয়েরী হয়। শিকড়ের রং খয়েরী হলে মাতৃগাছ থেকে ২ থেকে ৩ দফায় কেটে নিয়ে এসে নার্সারী বেডে রোপণ করতে হয়। উদাহারণঃ লিচু, কাগজীলেবু, পেয়ার, ডালিম, জামরুল, বতাবীলেবু, জলপাই,গোলাপজাম, করমচা, আম ইত্যাদি।
যৌগিক দাবাকলম:
সাধারণতঃ লতানো স্বাভাবের কাষ্ঠল শাখা বিশিষ্ট গাছে দাবা কলমের এ পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হয়। এর জন্য লম্বা এবং সহজে বাঁকানো যায় এমনি শাখা নির্বাচন করা হয়। শাখার প্রতিটি একান্তর পর্ব বা দু’টি বাদ রেখে তৃতীয় পর্ব মাটি চাপা দেয়া হয়। মাটির নিচে চাপা দেয়া অংশ থেকে শিকড় এবং উপরের অংশ থেকে বিটপ বের হয়। তখন এগুলো কেটে লাগানো হয়। যেমনঃ আঙ্গুর, মাধবীলতা ইত্যাদি।
ধাপ – ১. একটি শাখাকে একান্তর ক্রমিক ভাবে মাটিতে পোঁতা হয়েছে।
ধাপ – ২. মাটি চাপা অংশ থেকে মূল গজিয়েছে।
ধাপ – ৩. পর্ব থেকে নতুন শাখা ও মূল গজিয়েছে।
ধাপ – ৪. যৌগিক দাবা কলম পৃথক করা হয়েছে।
দাবাকলমের ব্যবস্থাপনা:
ক) যেহেতু দাবা কলম নার্সারীতে বেশ কয়েক বছর স্থায়ী হয় তাই এর স্থান, মাটি, জলাবদ্ধতামুক্ত এবং উপযুক্ত পরিবেশে হতে হবে।
খ) দাবা কলমের মাতৃগাছ হুবহু উৎস গুণসম্পন্ন এবং রোগবালাই মুক্ত হতে হবে।
গ) দাবা কলমে শিকড় গজানোর সময় রুটিং মিডিয়া দিয়ে গোড়া অবশ্যই ঢেকে দিতে হয়। এ ব্যবস্থা শুধুমাত্র শিকড় গজানোর স্থানে অন্ধকার প্রদানই নয় বরং প্রয়োজনীয় জীলয় রস এবং নিস্কাশনসহ অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করে।
ঘ) রোগ, পোকামাকড় এবং আগাছা নিয়ন্ত্রণ বিশেষভাবে খেয়াল করতে হবে। তা না হলে দাবা কলমে পুরোপুরি সফলতা আসবে না।
ঙ) দাবা কলম মাতৃগাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে এসে অতিরিক্ত পাতা ও ডাল ছাটাই করে গোড়ার পলিথিন শীট খুলে ফেলে ৩/৪ দনি জাগ দেয়া উচিৎ। এতে হার্ডেনিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। যার দরুন পরবর্তীতে কলমের চারা মাঠের প্রতিকুল আবহাওয়া সহজেই সহ্য করতে পারে।
চ) দাবা কলমের চারাগুলির উপরের অংশে শিকড়ের বিস্তৃতির অনুপাতে ছাটাই করতে হবে। এ ব্যবস্থা কলমের বৃদ্ধির সামঞ্জস্যতা রক্ষা করবে।
ছ) প্রাথমিকভাবে দাবা কলমের চারাগুলিকে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা এবং আদ্রতাপূর্ণ জায়গায় রাখা বাঞ্ছনীয়।
জ) ১৫ সে:মি: x ২৫ সে: মি: সাইজের ছিদ্রযুক্ত পলিথিন ব্যাগে ২ ভাগ মাটি : ১ ভাগ গোবর : ১ বাগ কম্পোষ্ট যুক্ত মিশ্রণ দিয়ে ভর্তি করতে হবে।
ঝ) হার্ডেনিং করা দাবা কলমের চারাগুলোকে পরবর্তীতে পলিথিন ব্যাগে লাগিয়ে আধো ছায়াযুক্ত স্থানে নতুন বিটপ গজানো এবং লেগে যাওয়া পর্যন্ত রাখতে হবে।
শারীরবৃত্তীয় এবং অংগসংস্থানিক ভিত্তি:
দাবা কলমে গাছের সংযুক্ত শাখায় ক্ষত সৃষ্টি করে তাতে অস্থানিক শিকড় গজিয়ে উক্ত শাখাকে পুনর্জন্ম দেয়া হয়। শাখার এই যে পুনর্জন্ম লাভ দুইটি মৌলিক বিষয়ের উপর নির্বরশীল।
ক) প্রথমটি হচ্ছে ‘টোটিপোটেন্সি’ অর্থাৎ প্রতিটি জীবিত উদ্ভিদ কোষই কৌলিতাত্ত্বিকভাবে উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশ গঠন এবং তাদের ক্রিয়াকর্ম চালানোর সংকেত বহন করে।
খ) দ্বিতীয়টি হচ্ছে ক্রমবিকাশের ফলে নতুন অংগের উদ্ভব। অর্থাৎ পূর্ণতাপ্রাপ্ত কোষের পরিবর্তন সাধন হয়ে নতুন অস্থানিক বর্ধনশীল অংগের সৃষ্টি।
দাবা কলমের শিকড়ায়নের শারীরবৃত্ত্বীয় ঘটনাঃ
দাবা কলমে যখন শাখার গোড়ায় কেটে বাকল তোলা হয় তখন কাটা অংশের আন্তঃকোষীয় ফাঁকগুলি গাছের রসে পূর্ণ হয়ে যায়। বৃক্ষ রসে উপস্থিত চিনি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট এ রূপান্তরিত হয়, যা কিনা পরবর্তীতে বাতাসের অক্সিজেন এর সাথে মিশে সুবেরিন তৈরী করে। এই সুবেরিন জমা হয়ে সুবেরিন ত্বক সৃষ্টি করে যা শাখা থেকে পানি বেরিয়ে যাওয়াসহ পচন, রোগ জীবাণুর আক্রমন প্রতিরোধ করে। সুবেরিন ত্বক হচ্ছে একটি ক্ষণস্থায়ী স্তর। এ জন্য পরবর্তীতে পেরেনকাইমা কোষ বা কর্টেক্স থেকে প্রথমে ক্যালাস এবং পরবর্তীতে ক্যাম্বিয়াম সৃষ্টি হয় যা একটি স্থায়ী স্তর। ক্যাম্বিয়াম কলার বিভাজন ক্ষমতা আছে এই ক্ষমতাবলে এসব কলা থেকে নতুন নতুন কোষ উৎপাদনের মাধ্যমে দ্রুত বর্ধনশীল অংগের সৃষ্টি হয় যা শেষ পর্যন্ত শিকড় গজানোর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
দাবা কলমের শিকড়ায়ন এর বৃদ্ধি প্রক্রিয়ায় অক্সিন গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। দু’টি ধাপে অক্সিনের কার্যকলাপ প্রকাশ পায়।
আরম্ভ পর্যায়ঃ
যেখানে শিকড়ের মেরিষ্টেম সৃষ্টি হয়। এটি দু’ভাগে বিভক্ত।
ক) অক্সিন সক্রিয় পর্যায় – ৪ দিন স্থায়ী;
খ) অক্সিন নিস্ক্রীয় পর্যায় – ৪ দিন স্থায়ী।
র্দীঘায়ন এবং উন্নয়ন পর্যায়ঃ
শারীরবৃত্তীয়ভাবে দাবা কলমে শিকড়ায়নে নিম্ন লিখিত অভ্যন-রীণ নিয়ামকগুলি প্রভাবাম্বিত করে থাকে।
ক) গাছের বয়স
খ) গাছের পুষ্টি এবং হরমোন জনিত অবস্থা
১। অক্সিন, জিবারেলীন, সাইটোকাইনিন শিকড়ায়নে সহায়তা করে
২। এবসিসিক এসিড শিকড়ায়নে বাধার সৃষ্টি করে
গ) মূল গাছে শাখার অবস্থান
ঘ) কলার পূর্ণতা
ঙ) শাখায় পাতার উপস্থিতি
চ) কাটা অংশে রোগজীবাণূ বা পোকা-মাকড়ের উপস্থিতি
অনুরূপভাবে দাবা কলমে নিম্নলিখিত বাহ্যিক নিয়ামকগুলি শিকড়ায়ন প্রভাবাম্বিত করেঃ
ক) নির্দিষ্ট মৌসুমঃ গ্রীস্মের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত
খ) আলোঃ শাখার উপরের অংশ সালোকসংশ্লেষণে সহায়তা করে। শাখার গোড়ায় অন্ধকার শিকড়ায়নে সহায়তা করে।
গ) তাপমাত্রাঃ ২১-৩০ ডিগ্রী সেঃ দিনের এবং ১৫-১৬ ডিগ্রী সেঃ রাত্রির তাপমাত্র শিকড় গজাতে সাহায্য করে।
ঘ) পানিঃ অল্প পরিমাণ জলীয় রস শিকড়ায়ন বিঘ্নিত করে। বেশী হলে শ্বসন প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়।
ঙ) রুটিং মিডিয়াঃ বাতাসপূর্ণ রুটিং মিডিয়া শিকড়ায়নে সহায়তা করে। প্রয়োজনীয় তাপমাত্র পানি এবং আলোর অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে।
চ) পোলারিটিঃ ডালের নিকটবর্তী এবং দূরবর্তী অংশ অবশ্যই বজায় রাখতে হবে।
দাবা কলমে শিকড়ায়নে অংগসংস্থানিক ক্রমবিকাশঃ
অংগসংস্থানিকভাবে দাবা কলমে শিকড়ায়ন চারটি ধাপে সংঘটিত হয়।
ক) সুনির্দিষ্ট পূর্ণতাপ্রাপ্ত কোষ থেকে ক্রমবিকাশের ফলে নতুনভাবে অংগের উদ্ভব হওয়া।
খ) নতুন উদ্ভব হওয়া বিভাজনক্ষম ভাসকুলার টিস্যু অথবা ভাসকুলার বান্ডিলের নিকটতম নির্দিষ্ট কোষ থেকে প্রারম্ভিক শিকড়ের বিকাশলাভ।
গ) এই সকল বিকশিত শিকড়ের প্রারম্ভিক অবস্থা থেকে সুসংগঠিত শিকড়ে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে ক্রমবিকাশ লাভ।
ঘ) কর্টেক্স এবং অন্যান্য কলা ভেদ করে শিকড়ের বৃদ্ধি এবং বেরিয়ে আসা ও পারবর্তীতে প্রাথমিক শিকড় এবং জাইলেম কলার মধ্যবর্তী ক্যাম্বিয়াম সৃস্টি।
লিচু গাছের গুটি কলম করার পদ্ধতি :
গুটি কলম করার উপযুক্ত সময় বর্ষাকাল৷
গুটি কলমের জন্য ১-২ বছর বয়সী, সতেজ, সরল, নিরোগ, পেন্সিলের মতো মোটা ডাল বেছে নিতে হবে ৷
নির্বাচিত ডালের আগা হতে ৪০-৫০ সেন্টিমিটার পরে (লম্বা) ঠিক একটি গিঁটের নিচে ৩-৪ সেন্টিমিটার পরিমাণ মাপের ছাল গোল করে ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে ডালটির কেবল বাকল সাবধানে উঠিয়ে ফেলতে হবে৷
এরপর জৈব সার মিশ্রিত (৩ ভাগ এঁটেল মাটি ও ১ ভাগ পঁচা গোবর বা পাতা পঁচা ) মাটির সাথে পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করতে হবে৷ উক্ত পেস্ট দ্বারা কাটা অংশ সমান ভাবে ঢেকে দিতে হবে৷
ঢেকে দেয়ার পর ২০ সে.মি. লম্বা ও চওড়া পলিথিন দিয়ে মাটি বলটি ঢেকে দিয়ে সুতলি দিয়ে বেঁধে দিতে হবে ৷
শিকড় আসতে সময় লাগে ২-৩ মাস ৷ শিকড়ের রঙ খয়েরী বা তামাটে হলে কলম করা ডালটি গুটিসহ কেটে এনে পলিথিন সরিয়ে দিয়ে ছায়া জায়গায় তৈরি বীজতলায় বা টবে ৪-৫ সপ্তাহ সংরক্ষণ করার পর গাছটি লাগানোর উপযোগী হয়৷
সাধারণ তথ্যঃ
দাবা কলম হচ্ছে -“মাতৃগাছের সঙ্গে সংযুক্ত অবস্থায় এর শাখায় অস্থানিক শিকড় গজিয়ে মাতৃগাছের হুবহু গুণসম্পন্ন চারা উৎপাদনের কৌশল”। অর্থাৎ ইপ্সিত ফলগাছের কোন শাখায় ক্ষত সৃস্টি করে সেখান থেকে আস্থানিক শিকড় গজিয়ে পরবর্তীতে এটিকে মাতৃগাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি পুর্ণাঙ্গ স্বতন্ত্র গাছ হিসাবে তৈরী করা ।
বাংলাদেশের বিভিন্ন ফলের বংশবিস্তারে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় যেমনঃ লিচু, পেয়ারা, কাগজীলেবু, জামরুল,বাতাবী লেবু, ডালিম, করমচা, গোলাপজাম, জলপাই, কামিনী ফুল, ভেলভেট ফুল ইত্যাদি।
সাধারণতঃ ঝোপ জাতীয় ফল গাছ যেগুলো উচু কম হয় এবং পাশ্বে বেশী ছড়ায় এ ধরণের গাছের বংশবিস্তারের জন্য দাবা কলম উপযোগী।
দাবা কলমের সুবিধাঃ
ক) এটি একটি সহজ পদ্ধতি এবং করতে খুব একটি দক্ষতার প্রয়োজন হয় না।
খ) অল্প সময়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গাছের চারা উৎপাদন করা যায়।
গ) কলমের চারায় কম সময়ে ফল ধারণ করে।
ঘ) যে সমস্ত প্রজাতি কাটিং এ সহজে শিকড় গজায় না তাদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি সফলতা বয়ে আনতে পারে।
দাবা কলমের অসুবিধাঃ
ক) বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এ পদ্ধতি কাটিং অপেক্ষা ব্যয়বহুল এবং এর জন্য বাড়তি শ্রমিকের প্রয়োজন হয়।
খ) এই পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করতে গেলে অধিক সংখ্যক মাতৃগাছের প্রয়োজন হয়।
সুবিধা অসুবিধা বিবেচনায় এনে যদি এই পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করে যদি একজন চাষী একে লাভজনক মনে করেন তবে তখনই এটিকে গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়।
দাবাকলমের প্রকারভেদ:
অধুনা বিশ্বে এই প্রাচীন পদ্ধতির সংস্করণ করে উন্নত পদ্ধতির প্রচলন করা হয়েছে। দাবা কলমের বেশ কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছেঃ
ক) শাখা দাবা কলম
খ) সরল দাবা কলম
গ) যৌগিক দাবা কলম
ঘ) পরিখা দাবা কলম
ঙ) ঢিবি দাবা কলম এবং
চ) গুটি কলম।
গুটি কলম:
দাবা কলমের মধ্যে গুটি কলম সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রচলিত পদ্ধতি । গুটি কলমকে পট লেয়ারেজ, চাইনিজ লেয়ারেজ, এয়ার লেয়ারেজ, মারকটেজ নামেও ডাকা হয়ে থাকে। গুটি কলম নিরক্ষীয় এবং নাতিশীষ্ণ অঞ্চরের গাছের বংশবিস্তারে বিশেষ করে ফল গাছের বংশ বিস্তারে ব্যবহৃত হয়।
ধাপ ১. নির্বাচিত শাখা যাতে গুটি কলম করা হবে।
ধাপ ২. পাতা অপসারণ করে চক্রাকারে বাকল তুলে ফেলা হয়েছে।
ধাপ ৩. কাটা অংশের চারিদিকে রুটিং মিডিয়াম দিকে ঢেকে দেয়া হয়েছে এবং পানি ধারণ নিশ্চিত করা হয়েছে।
ধাপ ৪. রুটিং মিডিয়াম সহ ডালকে পাতলা স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে মুড়ে দেয়া হয়েছে।
ধাপ ৫. মূল গজানো দাবা কলম।
গুটি কলম সাধারণতঃ
ক) মাটির সমান্তরালে অবস্থান করছে এমন শাখায় করা হয়ে থাকে।
খ) নির্বাচিত ডালের বয়স ৬-১২ মাস হতে হবে।
গ) ডালটি পেন্সিলের মত মোটা হতে হবে, গাছের দক্ষিণ পূর্ব দিকের ডাল হলে উত্তম। নির্বাচিত শাখার অগ্রভাগর ৩০-৪০ সে:মি: নীচে কয়েকটি পাতা সরিয়ে দুটি পর্ব মধ্যবর্তী অংশ থেকে ধারালো ছুরি দিয়ে চক্রাকারে ৪-৫ সে:মি: পরিমাণ জায়গায় বাকল তুলে ফেলতে হয়। কাটা জায়গার কাঠের উপরের সবুজাভ আবরণটি ছুরির বুক দিয়ে চেঁছে ফেলে দিতে হয। এতে ক্যাম্বিয়াম যোগসুত্র বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। ডালের উপরের দিকের কাটাটি গিটের কাছাকাছি হলে ভাল হয়। কারন এতে কলমে তাড়াতাড়ি শিকড় গজায়। এরপর কাটা জায়গাটিকে পুরোপুরি রুটিং মিডিয়া (৫০% এটেল দোয়াশ মাটি + ৫০% পঁচা গোবর) নারিকেলের ছোবড়ার গুড়া, নারিকেলের ছোবড়া, পাটের আঁশ ইত্যাদি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে শিকড় গজানোর জন্য কাটা উপরের অংশ যেন অবশ্যই রুটিং মিডিয়া দিয়ে ঢাকা থাকে। রুটিং মিডিয়া স্থাপনের পর এর চারদিকে স্বচ্ছ পলিথিনের শীট শক্ত করে বেধে দিতে হয যেমন কোন ভাবেই রুটিং মিডিয়া পিছলে না নেমে যায়। এ ব্যবস্থা রুটিং মিডিয়ায় পানি ধারণ নিশ্চিত করে। অনেক সময় সহজে শিকড় গজায় না এমন প্রজাতির কলমের ক্ষেত্রে কাটা অংশে রুটিং হরমোন (IBA, NAA, Kinetin ইত্যাদি) প্রয়োগ করা হয়। বৈশাখ – আষাঢ় মাস গুটি কলম করার উপযুক্ত সময়। গুটি কলমে শিকড় গজাতে গাছের প্রকার ভেদে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় নেয়। শিকড়ের রং প্রথমে সাদা থাকে, আস্তে আস্তে রং বদলিয়ে খয়েরী হয়। শিকড়ের রং খয়েরী হলে মাতৃগাছ থেকে ২ থেকে ৩ দফায় কেটে নিয়ে এসে নার্সারী বেডে রোপণ করতে হয়। উদাহারণঃ লিচু, কাগজীলেবু, পেয়ার, ডালিম, জামরুল, বতাবীলেবু, জলপাই,গোলাপজাম, করমচা, আম ইত্যাদি।
যৌগিক দাবাকলম:
সাধারণতঃ লতানো স্বাভাবের কাষ্ঠল শাখা বিশিষ্ট গাছে দাবা কলমের এ পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হয়। এর জন্য লম্বা এবং সহজে বাঁকানো যায় এমনি শাখা নির্বাচন করা হয়। শাখার প্রতিটি একান্তর পর্ব বা দু’টি বাদ রেখে তৃতীয় পর্ব মাটি চাপা দেয়া হয়। মাটির নিচে চাপা দেয়া অংশ থেকে শিকড় এবং উপরের অংশ থেকে বিটপ বের হয়। তখন এগুলো কেটে লাগানো হয়। যেমনঃ আঙ্গুর, মাধবীলতা ইত্যাদি।
ধাপ – ১. একটি শাখাকে একান্তর ক্রমিক ভাবে মাটিতে পোঁতা হয়েছে।
ধাপ – ২. মাটি চাপা অংশ থেকে মূল গজিয়েছে।
ধাপ – ৩. পর্ব থেকে নতুন শাখা ও মূল গজিয়েছে।
ধাপ – ৪. যৌগিক দাবা কলম পৃথক করা হয়েছে।
দাবাকলমের ব্যবস্থাপনা:
ক) যেহেতু দাবা কলম নার্সারীতে বেশ কয়েক বছর স্থায়ী হয় তাই এর স্থান, মাটি, জলাবদ্ধতামুক্ত এবং উপযুক্ত পরিবেশে হতে হবে।
খ) দাবা কলমের মাতৃগাছ হুবহু উৎস গুণসম্পন্ন এবং রোগবালাই মুক্ত হতে হবে।
গ) দাবা কলমে শিকড় গজানোর সময় রুটিং মিডিয়া দিয়ে গোড়া অবশ্যই ঢেকে দিতে হয়। এ ব্যবস্থা শুধুমাত্র শিকড় গজানোর স্থানে অন্ধকার প্রদানই নয় বরং প্রয়োজনীয় জীলয় রস এবং নিস্কাশনসহ অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করে।
ঘ) রোগ, পোকামাকড় এবং আগাছা নিয়ন্ত্রণ বিশেষভাবে খেয়াল করতে হবে। তা না হলে দাবা কলমে পুরোপুরি সফলতা আসবে না।
ঙ) দাবা কলম মাতৃগাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে এসে অতিরিক্ত পাতা ও ডাল ছাটাই করে গোড়ার পলিথিন শীট খুলে ফেলে ৩/৪ দনি জাগ দেয়া উচিৎ। এতে হার্ডেনিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। যার দরুন পরবর্তীতে কলমের চারা মাঠের প্রতিকুল আবহাওয়া সহজেই সহ্য করতে পারে।
চ) দাবা কলমের চারাগুলির উপরের অংশে শিকড়ের বিস্তৃতির অনুপাতে ছাটাই করতে হবে। এ ব্যবস্থা কলমের বৃদ্ধির সামঞ্জস্যতা রক্ষা করবে।
ছ) প্রাথমিকভাবে দাবা কলমের চারাগুলিকে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা এবং আদ্রতাপূর্ণ জায়গায় রাখা বাঞ্ছনীয়।
জ) ১৫ সে:মি: x ২৫ সে: মি: সাইজের ছিদ্রযুক্ত পলিথিন ব্যাগে ২ ভাগ মাটি : ১ ভাগ গোবর : ১ বাগ কম্পোষ্ট যুক্ত মিশ্রণ দিয়ে ভর্তি করতে হবে।
ঝ) হার্ডেনিং করা দাবা কলমের চারাগুলোকে পরবর্তীতে পলিথিন ব্যাগে লাগিয়ে আধো ছায়াযুক্ত স্থানে নতুন বিটপ গজানো এবং লেগে যাওয়া পর্যন্ত রাখতে হবে।
শারীরবৃত্তীয় এবং অংগসংস্থানিক ভিত্তি:
দাবা কলমে গাছের সংযুক্ত শাখায় ক্ষত সৃষ্টি করে তাতে অস্থানিক শিকড় গজিয়ে উক্ত শাখাকে পুনর্জন্ম দেয়া হয়। শাখার এই যে পুনর্জন্ম লাভ দুইটি মৌলিক বিষয়ের উপর নির্বরশীল।
ক) প্রথমটি হচ্ছে ‘টোটিপোটেন্সি’ অর্থাৎ প্রতিটি জীবিত উদ্ভিদ কোষই কৌলিতাত্ত্বিকভাবে উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশ গঠন এবং তাদের ক্রিয়াকর্ম চালানোর সংকেত বহন করে।
খ) দ্বিতীয়টি হচ্ছে ক্রমবিকাশের ফলে নতুন অংগের উদ্ভব। অর্থাৎ পূর্ণতাপ্রাপ্ত কোষের পরিবর্তন সাধন হয়ে নতুন অস্থানিক বর্ধনশীল অংগের সৃষ্টি।
দাবা কলমের শিকড়ায়নের শারীরবৃত্ত্বীয় ঘটনাঃ
দাবা কলমে যখন শাখার গোড়ায় কেটে বাকল তোলা হয় তখন কাটা অংশের আন্তঃকোষীয় ফাঁকগুলি গাছের রসে পূর্ণ হয়ে যায়। বৃক্ষ রসে উপস্থিত চিনি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট এ রূপান্তরিত হয়, যা কিনা পরবর্তীতে বাতাসের অক্সিজেন এর সাথে মিশে সুবেরিন তৈরী করে। এই সুবেরিন জমা হয়ে সুবেরিন ত্বক সৃষ্টি করে যা শাখা থেকে পানি বেরিয়ে যাওয়াসহ পচন, রোগ জীবাণুর আক্রমন প্রতিরোধ করে। সুবেরিন ত্বক হচ্ছে একটি ক্ষণস্থায়ী স্তর। এ জন্য পরবর্তীতে পেরেনকাইমা কোষ বা কর্টেক্স থেকে প্রথমে ক্যালাস এবং পরবর্তীতে ক্যাম্বিয়াম সৃষ্টি হয় যা একটি স্থায়ী স্তর। ক্যাম্বিয়াম কলার বিভাজন ক্ষমতা আছে এই ক্ষমতাবলে এসব কলা থেকে নতুন নতুন কোষ উৎপাদনের মাধ্যমে দ্রুত বর্ধনশীল অংগের সৃষ্টি হয় যা শেষ পর্যন্ত শিকড় গজানোর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
দাবা কলমের শিকড়ায়ন এর বৃদ্ধি প্রক্রিয়ায় অক্সিন গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। দু’টি ধাপে অক্সিনের কার্যকলাপ প্রকাশ পায়।
আরম্ভ পর্যায়ঃ
যেখানে শিকড়ের মেরিষ্টেম সৃষ্টি হয়। এটি দু’ভাগে বিভক্ত।
ক) অক্সিন সক্রিয় পর্যায় – ৪ দিন স্থায়ী;
খ) অক্সিন নিস্ক্রীয় পর্যায় – ৪ দিন স্থায়ী।
র্দীঘায়ন এবং উন্নয়ন পর্যায়ঃ
শারীরবৃত্তীয়ভাবে দাবা কলমে শিকড়ায়নে নিম্ন লিখিত অভ্যন-রীণ নিয়ামকগুলি প্রভাবাম্বিত করে থাকে।
ক) গাছের বয়স
খ) গাছের পুষ্টি এবং হরমোন জনিত অবস্থা
১। অক্সিন, জিবারেলীন, সাইটোকাইনিন শিকড়ায়নে সহায়তা করে
২। এবসিসিক এসিড শিকড়ায়নে বাধার সৃষ্টি করে
গ) মূল গাছে শাখার অবস্থান
ঘ) কলার পূর্ণতা
ঙ) শাখায় পাতার উপস্থিতি
চ) কাটা অংশে রোগজীবাণূ বা পোকা-মাকড়ের উপস্থিতি
অনুরূপভাবে দাবা কলমে নিম্নলিখিত বাহ্যিক নিয়ামকগুলি শিকড়ায়ন প্রভাবাম্বিত করেঃ
ক) নির্দিষ্ট মৌসুমঃ গ্রীস্মের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত
খ) আলোঃ শাখার উপরের অংশ সালোকসংশ্লেষণে সহায়তা করে। শাখার গোড়ায় অন্ধকার শিকড়ায়নে সহায়তা করে।
গ) তাপমাত্রাঃ ২১-৩০ ডিগ্রী সেঃ দিনের এবং ১৫-১৬ ডিগ্রী সেঃ রাত্রির তাপমাত্র শিকড় গজাতে সাহায্য করে।
ঘ) পানিঃ অল্প পরিমাণ জলীয় রস শিকড়ায়ন বিঘ্নিত করে। বেশী হলে শ্বসন প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়।
ঙ) রুটিং মিডিয়াঃ বাতাসপূর্ণ রুটিং মিডিয়া শিকড়ায়নে সহায়তা করে। প্রয়োজনীয় তাপমাত্র পানি এবং আলোর অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে।
চ) পোলারিটিঃ ডালের নিকটবর্তী এবং দূরবর্তী অংশ অবশ্যই বজায় রাখতে হবে।
দাবা কলমে শিকড়ায়নে অংগসংস্থানিক ক্রমবিকাশঃ
অংগসংস্থানিকভাবে দাবা কলমে শিকড়ায়ন চারটি ধাপে সংঘটিত হয়।
ক) সুনির্দিষ্ট পূর্ণতাপ্রাপ্ত কোষ থেকে ক্রমবিকাশের ফলে নতুনভাবে অংগের উদ্ভব হওয়া।
খ) নতুন উদ্ভব হওয়া বিভাজনক্ষম ভাসকুলার টিস্যু অথবা ভাসকুলার বান্ডিলের নিকটতম নির্দিষ্ট কোষ থেকে প্রারম্ভিক শিকড়ের বিকাশলাভ।
গ) এই সকল বিকশিত শিকড়ের প্রারম্ভিক অবস্থা থেকে সুসংগঠিত শিকড়ে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে ক্রমবিকাশ লাভ।
ঘ) কর্টেক্স এবং অন্যান্য কলা ভেদ করে শিকড়ের বৃদ্ধি এবং বেরিয়ে আসা ও পারবর্তীতে প্রাথমিক শিকড় এবং জাইলেম কলার মধ্যবর্তী ক্যাম্বিয়াম সৃস্টি।
লিচু গাছের গুটি কলম করার পদ্ধতি :
গুটি কলম করার উপযুক্ত সময় বর্ষাকাল৷
গুটি কলমের জন্য ১-২ বছর বয়সী, সতেজ, সরল, নিরোগ, পেন্সিলের মতো মোটা ডাল বেছে নিতে হবে ৷
নির্বাচিত ডালের আগা হতে ৪০-৫০ সেন্টিমিটার পরে (লম্বা) ঠিক একটি গিঁটের নিচে ৩-৪ সেন্টিমিটার পরিমাণ মাপের ছাল গোল করে ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে ডালটির কেবল বাকল সাবধানে উঠিয়ে ফেলতে হবে৷
এরপর জৈব সার মিশ্রিত (৩ ভাগ এঁটেল মাটি ও ১ ভাগ পঁচা গোবর বা পাতা পঁচা ) মাটির সাথে পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করতে হবে৷ উক্ত পেস্ট দ্বারা কাটা অংশ সমান ভাবে ঢেকে দিতে হবে৷
ঢেকে দেয়ার পর ২০ সে.মি. লম্বা ও চওড়া পলিথিন দিয়ে মাটি বলটি ঢেকে দিয়ে সুতলি দিয়ে বেঁধে দিতে হবে ৷
শিকড় আসতে সময় লাগে ২-৩ মাস ৷ শিকড়ের রঙ খয়েরী বা তামাটে হলে কলম করা ডালটি গুটিসহ কেটে এনে পলিথিন সরিয়ে দিয়ে ছায়া জায়গায় তৈরি বীজতলায় বা টবে ৪-৫ সপ্তাহ সংরক্ষণ করার পর গাছটি লাগানোর উপযোগী হয়৷
Thursday, May 11, 2017
কুচিয়া মাছ চাষ করে হোন স্বাবলম্বী
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 10:15 PM
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় মৎস্য অধিপ্তরের সহযোগীতায় বাংলাদেশের নির্বাচিত এলাকায় কুচিয়া ও কাকড়া চাষ এবং গবেষনা প্রকল্পের আওতায় বাণিজ্যিকভাবে শুরু করেছেন কুইচ্চা মাছের চাষ।
https://youtu.be/14oL8tYHGLc
ভিডিও দিপ্ত টিভি
শুধু তাই নয় চলনবিল এলাকার তাড়াশ, রায়গঞ্জ, গুরুদাশপুর, সিংড়া, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুরসহ বেশ কিছু গ্রামে কুচিয়া চাষ অনেকেই বলে জানা গেছে। কুচিয়া দেখতে সাপের মত। এর রয়েছে বিভিন্ন নাম কুঁচে, কুঁচে মাছ, কুচিয়া, কুইচ্চা বা কুচে বাইম। এটি একটি ইল-প্রজাতির মাছ। Sybranchidae পরিবারের অন্তর্গত এই মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Monopterus cuchia। কুচিয়া সাধারণত কাদা মাটিতে থাকে। কাদা খুড়ে খুড়ে এগুলো সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে সরকারী পৃষপোষকতায় চলনবিল তথা তাড়াশ উপজেলায় পাকা ড্রামে পদ্ধতিতে কুচিয়া প্রজনন ও চাষ শুরু হয়েছে। চলনবিল এলাকায় এ মাছটি অত্যন্ত সু-স্বাদু মাছ হিসেবে পরিচিত। তাড়াশে কুচিয়া দেশের চাহিদা মিটিয়ে কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। তবে মানুষ বিভিন্ন রোগের প্রতিকারের জন্যও এগুলো খায়।
তাড়াশ উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তরের বাংলাদেশের নির্বাচিত এলাকায় কুচিয়া ও কাকড়া চাষ এবং গবেষনা প্রকল্পের আওতায় এ উপজেলা গত বছর থেকে সরকারী সহাতায় উপজেলার ৩টি ইউনিয়নে কুচিয়া চাষ শুরু হয়েছে বানিজ্য হারে। এ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার মাধাইনগর, বারুহাস ও দেশীগ্রাম ইউনিয়নে একটি কমিটি তৈরি করে তাদের যাবতীয় উপকরণ সামগ্রী ও প্রশিক্ষনের মাধ্যমে কুচিয়া চাষ পদ্ধতিতে প্রশিক্ষীত করে কুচিয়া মাছ চাষ শুর করেছেন। তারা প্রাথমিক পর্যায়ে ছোট ছোট কুচিয়া সংগ্রহ করে তা এক বছরের প্রজেক্টে বড় করে বিক্রি করছেন।
বারুহাস ইউনিয়নের বস্তুল কচিয়া চাষ প্রকল্পের সভাপতি তপন কুমার উরাও জানান, তাদের কুচিয়া চাষে উপজেলা মৎস্য অধিপ্তরের সহযোগীতায় যাবতীয় উপকরণসহ প্রতিটা প্রজেক্টে এক লক্ষ আটত্রিশ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন। এক বছর পর খরচ বাদ দিয়ে তাদের প্রায় লক্ষাধিক টাকার উপরে লাভ হচ্ছে। এটা লাভজনক ব্যবসায় বলেও তারা জানান।
কুচিয়া মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম জানান, একটি বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থার এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি শুরু করেন কুচিয়ার খামার। কুচিয়া রাখার জন্য ১টি ট্যাংকি পাকা করে এর মধ্যে পানি রেখে এর চাষ শুরু করেন। কুচিয়াকে খাবার হিসেবে কেঁচো, ছোট ছোট মাছ, সুঁটকির গুরা এবং মাছের খাবার দেওয়া হয়।
তিনি আরো জানান, বর্তমানে খামারে প্রায় ২ মণ কুচিয়া আছে। এটা একটি লাভজনক ব্যবসা। বিভিন্ন খাল বিলে যারা কুচিয়া ধরে তাদের কাছ থেকে বাচ্চা কুচিয়া ৩০০ টাকা কেজি দরে কিনে এনে খামারে রেখে বড় করে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে কেজি বিক্রি করেন। একটি কুচিয়া প্রায় ১ কেজির চেয়ে বেশি ওজনের হয়। তবে আর্থিক সমস্যার কারনে তিনি এই কুচিয়া খামারটিকে বড় করতে পারছেন না। পারছেননা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয় করতে।
এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলা মৎস্য অফিসার হাফিজুর রহমান জানান, বর্তমান সরকারের মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের আওতায় বাংলাদেশের নির্বাচিত এলাকায় কুচিয়া ও কাকড়া চাষ এবং গবেষনা প্রকল্পের মধ্যেমে কুচিয়া চাষ প্রদর্শনী ও প্রকল্প গ্রহন করেছেন। এ ধারাবাহিকতায় তাড়াশ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে গত বছর থেকে বানিজ্যকহারে সরকারের ও মৎস্য অধিদপ্তরের পৃষ্টপোষকতায় কুচিয়া চাষ ও কুচিয়া প্রজনন শুরু হয়েছে। এতে করে কুচিয়া চাষের সাথে জরিতদের লাভজনক ব্যবসায় হওয়ায় তারা কুচিয়া চাষে আগ্রহী হয়ে পড়েছেন।
https://youtu.be/14oL8tYHGLc
ভিডিও দিপ্ত টিভি
শুধু তাই নয় চলনবিল এলাকার তাড়াশ, রায়গঞ্জ, গুরুদাশপুর, সিংড়া, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুরসহ বেশ কিছু গ্রামে কুচিয়া চাষ অনেকেই বলে জানা গেছে। কুচিয়া দেখতে সাপের মত। এর রয়েছে বিভিন্ন নাম কুঁচে, কুঁচে মাছ, কুচিয়া, কুইচ্চা বা কুচে বাইম। এটি একটি ইল-প্রজাতির মাছ। Sybranchidae পরিবারের অন্তর্গত এই মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Monopterus cuchia। কুচিয়া সাধারণত কাদা মাটিতে থাকে। কাদা খুড়ে খুড়ে এগুলো সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে সরকারী পৃষপোষকতায় চলনবিল তথা তাড়াশ উপজেলায় পাকা ড্রামে পদ্ধতিতে কুচিয়া প্রজনন ও চাষ শুরু হয়েছে। চলনবিল এলাকায় এ মাছটি অত্যন্ত সু-স্বাদু মাছ হিসেবে পরিচিত। তাড়াশে কুচিয়া দেশের চাহিদা মিটিয়ে কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। তবে মানুষ বিভিন্ন রোগের প্রতিকারের জন্যও এগুলো খায়।
তাড়াশ উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তরের বাংলাদেশের নির্বাচিত এলাকায় কুচিয়া ও কাকড়া চাষ এবং গবেষনা প্রকল্পের আওতায় এ উপজেলা গত বছর থেকে সরকারী সহাতায় উপজেলার ৩টি ইউনিয়নে কুচিয়া চাষ শুরু হয়েছে বানিজ্য হারে। এ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার মাধাইনগর, বারুহাস ও দেশীগ্রাম ইউনিয়নে একটি কমিটি তৈরি করে তাদের যাবতীয় উপকরণ সামগ্রী ও প্রশিক্ষনের মাধ্যমে কুচিয়া চাষ পদ্ধতিতে প্রশিক্ষীত করে কুচিয়া মাছ চাষ শুর করেছেন। তারা প্রাথমিক পর্যায়ে ছোট ছোট কুচিয়া সংগ্রহ করে তা এক বছরের প্রজেক্টে বড় করে বিক্রি করছেন।
বারুহাস ইউনিয়নের বস্তুল কচিয়া চাষ প্রকল্পের সভাপতি তপন কুমার উরাও জানান, তাদের কুচিয়া চাষে উপজেলা মৎস্য অধিপ্তরের সহযোগীতায় যাবতীয় উপকরণসহ প্রতিটা প্রজেক্টে এক লক্ষ আটত্রিশ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন। এক বছর পর খরচ বাদ দিয়ে তাদের প্রায় লক্ষাধিক টাকার উপরে লাভ হচ্ছে। এটা লাভজনক ব্যবসায় বলেও তারা জানান।
কুচিয়া মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম জানান, একটি বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থার এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি শুরু করেন কুচিয়ার খামার। কুচিয়া রাখার জন্য ১টি ট্যাংকি পাকা করে এর মধ্যে পানি রেখে এর চাষ শুরু করেন। কুচিয়াকে খাবার হিসেবে কেঁচো, ছোট ছোট মাছ, সুঁটকির গুরা এবং মাছের খাবার দেওয়া হয়।
তিনি আরো জানান, বর্তমানে খামারে প্রায় ২ মণ কুচিয়া আছে। এটা একটি লাভজনক ব্যবসা। বিভিন্ন খাল বিলে যারা কুচিয়া ধরে তাদের কাছ থেকে বাচ্চা কুচিয়া ৩০০ টাকা কেজি দরে কিনে এনে খামারে রেখে বড় করে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে কেজি বিক্রি করেন। একটি কুচিয়া প্রায় ১ কেজির চেয়ে বেশি ওজনের হয়। তবে আর্থিক সমস্যার কারনে তিনি এই কুচিয়া খামারটিকে বড় করতে পারছেন না। পারছেননা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয় করতে।
এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলা মৎস্য অফিসার হাফিজুর রহমান জানান, বর্তমান সরকারের মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের আওতায় বাংলাদেশের নির্বাচিত এলাকায় কুচিয়া ও কাকড়া চাষ এবং গবেষনা প্রকল্পের মধ্যেমে কুচিয়া চাষ প্রদর্শনী ও প্রকল্প গ্রহন করেছেন। এ ধারাবাহিকতায় তাড়াশ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে গত বছর থেকে বানিজ্যকহারে সরকারের ও মৎস্য অধিদপ্তরের পৃষ্টপোষকতায় কুচিয়া চাষ ও কুচিয়া প্রজনন শুরু হয়েছে। এতে করে কুচিয়া চাষের সাথে জরিতদের লাভজনক ব্যবসায় হওয়ায় তারা কুচিয়া চাষে আগ্রহী হয়ে পড়েছেন।
মুরগি এখন বিক্রেতার কাধে কেন?
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 9:20 PM
অভিনব পন্হায় ওজন বাড়িয়ে বিক্রি ও প্রতারনার দায়ে শেষ পর্যন্ত বিক্রেতার কাঁধে চড়েছে দেশী মোরগ-মুরগীর দল।
কক্সবাজার পৌরসভার বাহারছড়া বাজারে অসাধু মুরগী বিক্রেতাদের এ অভিনব শাস্তি দিয়েছেন বেরসিক স্হানীয় জনগন ও ক্রেতারা। মুরগীকে নিষ্ঠুর পন্হায় বেশী খাবার খাইয়ে ওজন বাড়িয়ে বিক্রি করার মত প্রতারনার দায়ে ১১ মে (বৃহস্পতিবার) সকালে এ ব্যবস্হা নেয়া হয়।
ক্রেতারা জানান, পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে অন্যদিনের তুলনায় বাজারে দেশী মুরগী ও গরু-মহিষের গোশতের চাহিদা বেশী ছিল। এ সুযোগে অসাধু ও লোভী মুরগী বিক্রেতারা দেশী মুরগীকে মাত্রাতিরিক্ত খাবার খাওয়ানোর মাধ্যমে ওজন বাড়িয়ে বিক্রি করছিল। এতে প্রকৃত ওজন ও দামের চেয়ে অন্ততঃ দেড়গুন দাম দিতে বাধ্য হয়ে প্রতারিত হচ্ছিলেন নিরূপায় ক্রেতারা। এ সিস্টেমে অনেক ক্ষেত্রে মুরগীর প্রকৃত ওজন ও দামের চেয়ে দেড়/ দুইগুন দাম নেয়া হচ্ছিল। এ অবস্হায় ক্রেতাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সকালে এ্যাকশনে নামেন এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা। বাজারে তোলা সব মুরগীর খাদ্যথলিতে এসময় মাত্রাতিরিক্ত ভারী ও টাইট খাদ্য দেখা যায়। তখন নাজির হোসেন ও গিয়াস উদ্দীনসহ কয়েকজন মুরগী বিক্রেতাকে আটক করেন জনগন। অনৈতিক পন্হায় মুরগীর ওজন বাড়িয়ে অভিনব প্রতারনার দায়ে অসাধু বিক্রেতাদের কাঁধে মুরগী তুলে দিয়ে বাজারে ঘুরিয়ে শাস্তি দেয়া হয়। অন্য কয়েকজন মুরগী বিক্রেতা এসময় দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। পৌর কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম, মোঃ সিরাজ, সিলো, দুলাল ও ফরিদসহ বাহারছড়ার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এ সময় উপস্হিত ছিলেন।
কক্সবাজার পৌরসভার বাহারছড়া বাজারে অসাধু মুরগী বিক্রেতাদের এ অভিনব শাস্তি দিয়েছেন বেরসিক স্হানীয় জনগন ও ক্রেতারা। মুরগীকে নিষ্ঠুর পন্হায় বেশী খাবার খাইয়ে ওজন বাড়িয়ে বিক্রি করার মত প্রতারনার দায়ে ১১ মে (বৃহস্পতিবার) সকালে এ ব্যবস্হা নেয়া হয়।
ক্রেতারা জানান, পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে অন্যদিনের তুলনায় বাজারে দেশী মুরগী ও গরু-মহিষের গোশতের চাহিদা বেশী ছিল। এ সুযোগে অসাধু ও লোভী মুরগী বিক্রেতারা দেশী মুরগীকে মাত্রাতিরিক্ত খাবার খাওয়ানোর মাধ্যমে ওজন বাড়িয়ে বিক্রি করছিল। এতে প্রকৃত ওজন ও দামের চেয়ে অন্ততঃ দেড়গুন দাম দিতে বাধ্য হয়ে প্রতারিত হচ্ছিলেন নিরূপায় ক্রেতারা। এ সিস্টেমে অনেক ক্ষেত্রে মুরগীর প্রকৃত ওজন ও দামের চেয়ে দেড়/ দুইগুন দাম নেয়া হচ্ছিল। এ অবস্হায় ক্রেতাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সকালে এ্যাকশনে নামেন এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা। বাজারে তোলা সব মুরগীর খাদ্যথলিতে এসময় মাত্রাতিরিক্ত ভারী ও টাইট খাদ্য দেখা যায়। তখন নাজির হোসেন ও গিয়াস উদ্দীনসহ কয়েকজন মুরগী বিক্রেতাকে আটক করেন জনগন। অনৈতিক পন্হায় মুরগীর ওজন বাড়িয়ে অভিনব প্রতারনার দায়ে অসাধু বিক্রেতাদের কাঁধে মুরগী তুলে দিয়ে বাজারে ঘুরিয়ে শাস্তি দেয়া হয়। অন্য কয়েকজন মুরগী বিক্রেতা এসময় দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। পৌর কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম, মোঃ সিরাজ, সিলো, দুলাল ও ফরিদসহ বাহারছড়ার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এ সময় উপস্হিত ছিলেন।
Subscribe to:
Posts (Atom)