Tuesday, February 7, 2017

যশোরের মৎস্য চাষী মফিজুরের উৎপাদিত কৈ আর শিং মাছ ব্যাপক সাঁড়া ফেলেছে

  • Share The Gag
  • যশোরের মৎস্য চাষী মফিজুর রহমান তরফদারের ঋৎপাদিত উন্নত জাতের কৈ আর শিং মাছ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তিনি জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ মাছ চাষি হিসেবে পুরস্কারও পেয়েছেন একাধিকবার।
    জানাযায়,গত ২৭ বছর আগে যশোর শহরতলীর চাঁচড়ার বাসিন্দা মফিজুর রহমান তরফদার পৈত্রিক ব্যবসার হাত ধরে মাছ চাষ শুরু করেন। মফিজুর রহমানের পিতা মুজিবার রহমানও ছিলেন একজন আদর্শ চাষি। আধুনিক পদ্ধতির ধান ও সবজির চাষাবাদ করে তিনিও রাষ্ট্রীয় পদক লাভ করেন। সরকারি পৃষ্টপোষকতায় করেন বিদেশ ভ্রমণ। এক পর্যায়ে শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় ১৯৯০ সালে মফিজুর রহমান লেখা পড়া ছেড়ে পৈত্রিক ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করেন। প্রথমে তিনি বর্মণ পাড়ায় পৈত্রিক জমিতে ২/৩টি পুকুর খনন করে কার্প জাতীয় মাছের চাষ শুরু করেন।
    এরপর থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি মৎস্য চাষি মফিজুর রহমান তরফদারকে। বর্তমানে তিনি চঁচড়া বর্মণ পাড়ায় নিজস্ব ৬ হেক্টর জমিতে ছোট বড় ১০টি পুকুর খনন করে সেখানে উন্নত জাতের কৈ ও শিং মাছের চাষ করছেন। এছাড়া সারা বছরই তিনি সাদা মিশ্র জাতের মাছ চাষ করে থাকেন।

    তার উৎপাদিত কৈ আর শিং মাছ স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য জেলা শহরে রপ্তানি করেন তিনি। তরফদার মৎস্য চাষ প্রকল্প থেকে গত বছর আড়াই শ’ মেট্রিক টন কৈ ও শিং মাছ উৎপাদন করেছেন মফিজুর রহমান। উৎপাদিত এসব মাছ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে  দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা। তার দেখাদেখি অনেকেই এখন উন্নত জাতের কৈ আর শিং মাছ চাষ ঝুঁকে পড়ছেন।
    এৎস্য চাষী মফিজুর রহমান তরফদার আমাদের এ প্রতিবেদককে বলেন তিনি এর আগে রুই, কাতলা, মৃগেলসহ অন্যান্য দেশি জাতের মাছের চাষ করতেন। ৭ বছর আগে তিনি উন্নতমানের কৈ ও শিং মাছের চাষ শুরু করেন। স্থানীয় বাজারে কৈ ও শিং মাছের চাহিদা বেশি হওয়ায় তিনি লাভের মুখ দেখতে শুরু করেন। তিনি বলেন, তার খামারের উৎপাদিত মাছ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতি নিয়ত রাজধানী ঢাকা, বরিশাল, খুলনা, চুয়াডাঙ্গা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ভোলা, পটুয়াখালী, মাগুরা, ফরিদপুর, মাদারীপুরসহ কমপে ২০ জেলায় সরবরাহ করা হয়। মফিজুর রহমানের স্বপ্ন, বাংলাদেশের আমিষের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত মাছ বিদেশে রপ্তানি করে যাতে দেশের চাষিরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জণ করতে পারে সে ব্যাপারে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।তার মৎস্য খামারে নিয়মিত ২ জন নারী শ্রমিক ও ৪ জন পুরুষ শ্রমিক কাজ করছেন। এছাড়া মৌসুমে আরো ১০/১২ জন শ্রমিক তরফদার মৎস্য চাষ প্রকল্পে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
    এদিকে চাঁচড়ার মৎস্য চাষি কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনোয়ারুল করিম আনু বলেন, কৈ ও শিং মাছের চাষ লাভজনক হওয়ায় মফিজুর রহমান তরফদারের মতো আরো অনেক চাষি কৈ ও শিং মাছ চাষের প্রতি অধিক হারে ঝুঁকে পড়ছেন।

    Wednesday, February 1, 2017

    দিন বদলের স্বপ্ন দেখছে নওগাঁর মাছ চাষিরা

  • Share The Gag
  • নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মধ্য দিয়ে বহমান আত্রাই নদীতে ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষ করে দিন বদলের স্বপ্ন দেখছে চাষিরা। মহাদেবপুরের মহিষবাথান এলাকা ও কুঞ্জবন এলাকায় আত্রাই নদীতে ৭৬টি খাঁচায় মাছ চাষ করেছেন এলাকার ৩৫ জন মাছ চাষি। ওই এলাকায় মাছ চাষের নতুন এই পদ্ধতি দেখে স্থানীয় বেকার যুবক ও ভূমিহীন মৎস্য জীবীরা এই নদীতে ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষে আগ্রহী হচ্ছে।

    উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা গেছে, গত বছরের জুন মাসে উপজেলার মহিষবাথান গ্রামে ২০ জন মৎস্যজীবীকে এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পরে নদীতে ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষে স্থানীয় লোকজনকে উদ্বুদ্ধ করতে এই ২০ জনের একটি দল গঠন করে তাদেরকে ১০টি খাঁচায় মাছ চাষের জন্য উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুই লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়। গত সেপ্টেম্বর মাসে ওইসব খাঁচাতে ‘মনোসেক্স’ জাতের তেলাপিয়া মাছের পোনা ছাড়া হয়। পরবর্তী সময়ে মাছ চাষের নতুন পদ্ধতি দেখে স্থানীয় বেকার যুবকরা নিজস্ব উদ্যোগে নদীতে ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষ করতে শুরু করে। পোনা ছাড়ার দুই-তিন মাস পর মাছের ওজন ও মাছে কোনো রোগ-বালাই দেখা না দেওয়ায় প্রতিটি খাঁচা থেকে ৮ থেকে ১০হাজার টাকা লাভের আশা করছে চাষিরা।

    মাছচাষি নওশাদ আলী বলেন, এ পদ্ধতিতে মাছ চাষে অনেক লাভ। পাঁচ জলার মাছ মাত্র ১০টি খাঁচাতেই চাষ করা যায়। যাদের মাছ চাষের জন্য জলা নেই তাদের জন্য এই পদ্ধতি খুবই উপকারী। তিনি আরো জানান, পুকুরে বা যেকোনো বদ্ধ জলাশয়ে যে হারে মাছ বাড়ে তার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি হারে নদীতে মাছ বাড়ে। নদীর পানিতে মাছের রোগ বালাই হয় না বললেই চলে।

    মহিষবাথান গ্রামের ভূমিহীন জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ছয়-সাত মাস আগে একদিন উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুল হক মহিষবাথানে এসে ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষের জন্য ২০জনের একটি দল গঠন করতে বলেন। দল গঠন করার পর তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এরপর ১০টি খাঁচা তৈরি ও মাছের পোনা ছাড়ার জন্য দুই লাখ টাকা সরকারি অনুদানও দেওয়া হয়। অনুদানের টাকায় ড্রাম, নেট ও বাঁশ দিয়ে মহিষবাথান খেয়াঘাট এলাকায় আত্রাই নদীর ওপর ১০টি খাঁচা তৈরি করেন। এরপর গত সেপ্টম্বর মাসে বগুড়ার আদমদীঘি থেকে মনোসেক্স তেলাপিয়া মাছের পোনা এনে তারা খাঁচায় মাছ চাষ করতে শুরু করে। পরে ওই দলের সদস্যরা নিজেরদের খরচে আরও ১০টি খাঁচা তৈরি করে ওই বছরের অক্টোবরের মাসে মাছের পোনা ছাড়েন। কিছুদিন আগে পাঁচটি খাঁচা থেকে ৭৫হাজার টাকার মাছ বিক্রি করেছেন বলেও জানান তিনি।

    সরকারি অনুদানে স্থানীয় চাষিদের খাঁচায় মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ হয়ে মহিষবাথানা খেয়াঘাট এলাকায় আত্রাই নদে খাঁচায় মাছ চাষ করছেন দুই বন্ধু মনজেল হোসেন ও বুলবুল আহমেদ। মনজেল হোসেন বলেন, ডিগ্রি পাস করে বাড়িতে বেকার বসেছিলাম। নদীতে খাঁচায় মাছ চাষ পদ্ধতি দেখে আমি ও আমার বন্ধু বুলবুল দুজনে খাঁচায় মাছ চাষ করার সিদ্ধান্ত নিই। পরে প্রশিক্ষণ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করি। তাঁরা দুজন মিলে তিন মাস ধরে ১৫টি খাঁচায় মাছ চাষ করছেন। তাঁরা জানান, জিআইপাইপ, নেট ও ড্রাম দিয়ে ১০টি খাঁচা তৈরি করতে তাদের খরচ পড়েছে এক লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। আর বাঁশ, নেট ও ড্রাম দিয়ে পাঁচটি খাঁচা তৈরিতে খরচ হয়েছে ৫০হাজার টাকা।

    হ্যাচারি থেকে পোনা এনে রাখার জন্য বাঁশ ও নেট দিয়ে একটি বড় হাঁফা (বড় খাঁচা) তৈরি করতে খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। প্রতিটি খাঁচায় ১ হাজার থেকে ১২শ পিস করে ১৪টি খাঁচায় প্রায় ১৫হাজার পিস তেলাপিয়া মাছ ছেড়েছেন তারা। আর একটি খাঁচায় পরীক্ষা মূলকভাবে পাঙ্গাস মাছ চাষ করছেন তারা দুই বন্ধু। মাছের পোনা ছাড়তে খরচ পড়েছে ৯০ হাজার টাকা। গত বছরের অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ের দিকে খাঁচায় মাছ ছাড়ার পর মাত্র আড়াই মাসে প্রতিটি মাছের ওজন ৭শ থেকে ৮শ গ্রাম পর্যন্ত হয়েছে। আর ১৫-১৬ দিন পর মাছ বিক্রি করা যাবে। খাবার খরচ বাদ দিয়ে আশা করা হচ্ছে প্রতিটি খাঁচার মাছ বিক্রি করে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা লাভ হবে।

    মহিষবাথান সিবিজি (কমিউনিটি বেইসড গ্রুপ) দলের নেতা জাহাঙ্গীর হোসনে জানান, সরকারি উদ্যোগে আরো বেশি সংখ্যক চাষিকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দিলে এবং খাঁচায় মাছ চাষে উদ্যোগী বেকার যুবকদের স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করলে এই পদ্ধতি আরো প্রসার লাভ করবে। এতে এলাকার বেকার যুবকরা স্বাবলম্বী হতে পারবে।

    মহাদেবপুর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুল হক বলেন, বেকার সমস্যা দূর ও ভূমিহীন মৎস্যজীবীদের স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে মহাদেবপুরে খাঁচায় মাছ চাষ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে এলাকার মানুষজনের মধ্যে এই পদ্ধতি অল্প কিছুদিনের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তিনি আরো বলেন, স্বল্প পুঁজি নিয়েই যে কেউ এই পদ্ধতি নদীতে মাছ চাষ করতে পারেন। ২০বাই ১০ ফিটের প্রতিটি খাঁচা তৈরি করতে ১২থেকে ১৫হাজার টাকা খরচ হয়। আর টাকা খরচ হবে মাছের পোনা ও মাছের খাবার বাবদ। এর জন্য নিজস্ব কোনো জলাভূমির প্রয়োজন নেই। সিবিজি প্রকল্প দেখে অনেকে এই পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে আমাদের কাছে আসছে এবং প্রশিক্ষণ নিতে চাচ্ছে। আমরাও তাদের সর্বাত্মক সহায়তা করছি।

     

    দুই বছরেও চালু হয়নি নেত্রকোনা কৃষি আবহাওয়া অফিস

  • Share The Gag
  • হস্তান্তর হওয়ার দুই বছরেও চালু হয়নি নেত্রকোনা কৃষি আবহাওয়া অফিস। সদর উপজেলার কাইলাটি ইউনিয়নে বনুয়াপাড়া গ্রামে মনোরম পরিবেশে আড়াই একর জমিতে নির্মিত হয়েছে আবহাওয়া কার্যালয়টি।

    জেলার দশ উপজেলার মধ্যে কেন্দুয়া-আটপাড়া-মদন-খালিয়াজুরী ও কলমাকান্দা উপজেলা হাওরাঞ্চল। এই চার উপজেলাসহ বাকি সবকটি উপজেলাতে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, আবহাওয়া তথ্য আদান-প্রদান করতে নেত্রকোনা কৃষি আবহাওয়া কার্যালয়টি নির্মিত হয়েছে। কার্যালয়ের মূল ফটক ধরে ভিতরে ঢুকে হাতের ডান পাশে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে রয়েছে একটি দ্বিতল ভবন। এর ছাদে স্থাপন করা হয়েছে বাতাস পরিমাপক, বাতাসের দিক নিয়ন্ত্রক এবং সানশাইন রেকর্ডারসহ তিনটি যন্ত্র। আর বাম পাশে দ্বিতল ভবনে যৌথ শয়নালয়।

    এছাড়াও একতলা বিশিষ্ট গার্ডশেড, পাম্প হাউজ ও একটি ইকুইপমেন্ট এরিয়া আছে। যার ভিতরে ট্রান্সমিটার, বৃষ্টি পরিমাপক যন্ত্র, সোলার রেডিওশন, বড় আকারের কয়েকটি থার্মোমিটার এবং একটি অটোমেটিক ওয়েদার স্টেশন রয়েছে বলে  সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    কৃষি আবহাওয়া কার্যালয়ের পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহসিন উদ্দিন জাগো নিউজকে জানান, অফিসে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি প্রায় সবকিছুই আছে। নেই শুধু প্রয়োজনীয় লোকবল। নিয়মানুযায়ী আবহাওয়া কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে বিভিন্ন পদে ১১ জন স্টাফ থাকার কথা রয়েছে। ১১ জনের মধ্যে রয়েছে মাত্র তিন জন। এখানে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো এখনো শূন্য। এছাড়াও নেই কেয়ারটেকার ও  গেটম্যান।

    Netrokona

    নেত্রকোনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন দেওয়ান জাগো নিউজকে জানান,বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের বাস্তবায়নাধীন ‘আপগ্রেডেশন অব অ্যাগ্রো ম্যাটেউরোজিক্যাল সার্ভিস (রিভাইসড)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তিন কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হয়েছে নেত্রকোনা কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার।

    ২০১১ সালের ১৬ জুন শুরু হয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদকাল ছিল ১৫ জুন ২০১২ পর্যন্ত। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আজাদ রহমান অ্যান্ড আনিসুর রহমান শাহীন ( জেভি) ও  মেসার্স সাঈফ খান বিপ্লব নির্মাণ কাজ  শেষে ২০১৪ সালের ৬ জুন গণপূর্ত অধিদফতরে তা হস্তান্তর করেন।

    হস্তান্তরের দুই বছর পরেও আবহাওয়া কার্যালয়টি চালু না হওয়ায় কৃষি ক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। আবহাওয়া কার্যালয়টি চালু না হওয়াতে নেত্রকোনার চারটি উপজেলার হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যায় ক্ষতি হয় বছরের একমাত্র বোরো ফসল।

    কৃষক পাবেন ৩৩ কোটি টাকার প্রণোদনা

  • Share The Gag
  • সরকার তিন ফসল চাষে প্রায় ৩৩ কোটি টাকার কৃষি প্রণোদনা দিয়েছে। আউশ চাষে ৩১ কোটি টাকা আর কুমড়া এবং পাট চাষে দেয়া হচ্ছে বাকি এক কোটি ৯০ লাখ টাকা। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বুধবার তার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রণোদনা ঘোষণা করেন। এ সময় জানানো হয় চলতি অর্থবছরে দুইবারে ৭৫ কোটি টাকা কৃষি প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। গত সেপ্টেম্বরে প্রথম ধাপের ৪২ কোটি টাকা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। নতুন প্রণোদনা ১০ দিনের মধ্যে শুরু হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।



    কৃষিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বড় বড় দেশ জলবায়ুর পরিবর্তনের জন্য দায়ী। কিন্তু তারা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে অনেক কথা বললেও কোনদিনই পরিবর্তন রোধে কোন কাজ করে না। না তারা কার্বন নিঃসরণ কমায় না তাদের বোমাবাজি কমে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত হই আমরা।



    মতিয়া চৌধুরী বলেন, আউশ চাষে কৃষকদের উৎসাহী করে তোলার জন্যই এই প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এই মৌসুমে কুমড়া এবং পাট চাষেও প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। ফসলের উন্নত জাতের সম্প্রসারণে প্রণোদনা কাজে আসবে। একই সঙ্গে কৃষক যাতে অতিরিক্ত অপ্রয়োজনীয় বালাই নাশক ব্যবহার না করে সে জন্য কৃষি বিভাগ সচেষ্ট রয়েছে।



    এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকার কৃষি পণ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করছে। এরপরও সবজি নষ্ট হচ্ছে। এজন্য বেশি বেশি করে সবজি খাওয়ার পারমর্শ দেন তিনি। পান চাষে চুয়াডাঙ্গার কৃষকদের সমস্যা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার নিদের্শ দেন তিনি।



    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় উচ্চফলনশীল স্থানীয় আউশ ও নেরিকা চাষে বীজ ও সারসহ প্রয়োজনীয় উপকরণের যোগান দিতে ২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮৮ জন কৃষককে এ প্রণোদনার টাকা দেয়া হবে। নেরিকা হচ্ছে তুলনামূলক কম সময়ে উৎপাদনশীল ক্ষরাসহিষ্ণু জাত। ২০০৯ সালে এটি আফ্রিকা থেকে আমদানি করা হয়। আগামী মার্চ থেকে শুরু খারিফ-১ মৌসুমে ৫১ জেলায় আউশের জন্য ২৭ কোটি ১০ লাখ এবং ৪০ জেলায় নারিকা জাত চাষে ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা প্রণোদনা দেয়া হবে। এতে আউশ চাষে ২ লাখ ও নারিকার জন্য ২০ হাজার কৃষক সহায়তা পাবে।



    মতিয়া চৌধুরী বলেন, এছাড়া ৬৪ জেলায় পাট, ইক্ষু, মিষ্টি কুমড়ার বালাই দমনে এক কোটি ৯০ লাখ ১৬ হাজার ৪৬০ টাকা দেয়া হবে।



    আউশ চাষে প্রত্যেক কৃষক ৫ কেজি বীজ, ২০ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি ফসফেট ও ১০ কেজি করে পটাশ পাবে। নারিকার জন্য প্রত্যেক কৃষককে দেয়া হবে ১০ কেজি বীজ, ২০ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি ফসফেট ও ১০ কেজি পটাশ।



    মন্ত্রী বলেন, এতে অতিরিক্ত ৭০ হাজার টন আউশ ও ৬ হাজার টনেরও বেশি নারিকা উৎপাদিত হবে। এছাড়া ৯৮ দশমিক ১৭ বেল অতিরিক্ত পাটের উৎপাদন হবে (এক বেলে ৫ মণ পাট)। তিনি বলেন, সারাদেশে প্রায় ২ কোটি কৃষকের কৃষি কার্ড রয়েছে। তিনি বলেন, সরাসরি টাকা দেয়ার বদলে আমরা কৃষিপণ্য এবং সহায়তা দিয়ে থাকি। এতে দুর্নীতি কম হয়। অনুষ্ঠানে কৃষি সচিব মোহাম্মদ মঈনুদ্দিন আবদুল্লাহ ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হান্নানসহ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    Tuesday, December 13, 2016

    মাটি সংক্রান্ত

  • Share The Gag
  • মাটি কাকে বলে:



    পৃথিবীর উপরিভাগের যে নরম স্তরে গাছপালা মূল স্থাপন করে রস শোষণ করে জন্মায় ও বৃদ্ধি পায় তাকে মাটি বলে।

    মাটির গুণাগুণ:



    পৃথিবী পৃষ্ঠের যে অংশ থেকে উদ্ভিদ খাদ্য সংগ্রহ করে তাই মাটি। পুকুরের পানি সংলগ্ন ১৫-২০ সেমি. মাটি পানির সাথে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নিয়ে থাকে। মাটি ও পানির গুণাগুণের ওপরই মাছের উৎপাদন প্রাথমিকভাবে নির্ভর করে। কোন জলাশয়ের পানি ধারণের আধার হলো মাটি। ভাল মাটিতে যেমন ভাল ফসল হয় ঠিক তেমনি ভাল মাটির পুকুরেও মাছের ভাল উৎপাদন পাওয়া সম্ভব। জলাশয়ের উৎপাদন ক্ষমতা প্রাথমিকভাবে মাটির ধরনের ওপর নির্ভর করে। উর্বর মাটিতে খনন করা পুকুরে সাধারণভাবে মাছের উৎপাদনও ভাল হয়। উর্বর মাটির পুকুর মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরির জন্য অধিক পরিমাণে প্রয়োজনীয় পুষ্টির যোগান দেয়। সুতরাং মাছ চাষে মাটির গুণাগুণের গুরুত্ব অপরিসীম।

    মাছ চাষের ক্ষেত্রে মাটি ও পানির ভৌত-রাসায়নিক গুণাগুণ অন্যতম ভূমিকা পালন করে থাকে। মাছ তার জীবন ধারণের সব কাজ পুকুর-জলাশয়ের পানির মধ্যেই সম্পন্ন করে থাকে। এসব কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য পুকুরের বা জলজ পরিবেশের বিভিন্ন গুণাবলী যথাযথ মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা করা প্রয়োজন।

    কোন জলাশয়ের পানি ধারণের আধার হলো মাটি। মাটিতে বিদ্যমান বিভিন্ন উপাদান পানির ভৌত রাসায়নিক গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণ করে। অর্থাৎ কোন জলাশয়ের উৎপাদন ক্ষমতা প্রাথমিকভাবে ঐ জলাশয়ের মাটির ধরনের ওপর নির্ভর করে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে লাভজনকভাবে মাছ চাষের জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর জলজ পরিবেশ এবং পানিতে প্রাকৃতিক খাদ্যের পরিমিত প্রাচুর্যতা। পানির প্রাথমিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রধানত মাটির ভৌত রাসায়নিক গুণাগুণ তথা মাটির উর্বরতার ওপর নির্ভর করে।

    মাটি হলো ভূপৃষ্ঠের উপরিতলের নরম খনিজ এবং জৈব উপাদানের মিশ্রণ যা উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য প্রাকৃতিক মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। মাটি প্রধানতঃ ৪ টি প্রধান উপাদান সমন্বয়ে গঠিত। এগুলো নিচে উল্লিখিত হলোঃ

    stagnogley

    ১। খনিজ পদার্থ – ৪৫%;

    ২। জৈব পদার্থ – ৫%;
    ৩। বায়ু – ২৫ %;
    ৪। পানি – ২৫%;

    সুতরাং মাটি কঠিন, তরল এবং গ্যাসীয় এই তিন ধরণের পদার্থের সমন্বয়ে গঠিত। নিচে মাটির বিভিন্ন উপাদানের সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলোঃ

    খনিজ পদার্থ ভূ-ত্বক প্রথমে শিলা দ্বারা গঠিত ছিল। পরে তা শিলা ক্ষয় প্রক্রিয়ায় ভেঙ্গে ছোট খন্ডে বা এককে রূপান্তরিত হয়। মাটির এই অংশ বালি, পলি ও কর্দম কণা দ্বারা গঠিত। শিলা ক্ষয় প্রক্রিয়ার ফলে উপরোক্ত কণা ও অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যোপাদান যেমন- নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান মাটিতে মুক্ত হয়। মাটিতে খনিজের পরিমাণ হলো ৪৫%।

    জৈব পদার্থ মাটিতে ১-২% জৈব পদার্থ থাকে তবে হিম অঞ্চলের মাটি ২-৫% জৈব পদার্থ ধারণ করে। এই সব জৈব পদার্থ উদ্ভিদ ও প্রাণীর অবশিষ্টাংশ ও মলমূত্র হতে মাটিতে আসে। জৈব পদার্থ মাটির আবদ্ধকরণ পদার্থ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ খুব কম হলেও এটি ব্যাপকভাবে মাটির গুণাবলী নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

    জৈব পদার্থ নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে-

    সমস্ত পুষ্টি উপাদানের গুদাম ঘর হিসেবে কাজ করে;
    মাটির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈব গুণাবলী উন্নত করে;
    ভূমি ক্ষয় রোধ করে;

    অতিরিক্ত শ্বসন অঙ্গ থাকায় এসব মাছ বাতাস থেকে অক্সিজেন নিয়ে বেঁচে থাকতে পারে; ফলে জীবন্ত অবস্থায় বাজারজাত করা যায়;

    পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে;

    অণুজীবের প্রধান শক্তি হলো এই জৈব পদার্থ এবং

    মাটিতে নাইট্রোজেনের প্রধান উৎস এ জৈব পদার্থ।

    বায়ু ও পানি প্রবল বর্ষার সময় বা সেচ দিলে মাটির অধিকাংশ রন্ধ্রই পানি দ্বারা পূর্ণ হয়। কিন্তু শুকনা বা খরার সময় ঐ রন্ধ্রগুলো বায়ু দ্বারা পূর্ণ হয়। বায়ুমন্ডলের বায়ু অপেক্ষা মাটির বায়ুতে বেশি পরিমাণ কার্বন ডাই-আক্সাইড ও জলীয়বাষ্প থাকে কিন্তু অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকে। বায়ুর প্রধান কাজ হলো শ্বসন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা। বায়ু ও পানির গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো-

    মাটির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক কার্য নিয়ন্ত্রণ করা;
    শিলা ক্ষয় প্রক্রিয়ায় সাহায্য করা;
    সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে অংশগ্রহণ করা এবং
    দ্রাবক ও পুষ্টি উপাদানের বাহক হিসেবে কাজ করা।

    মাটির প্রকারভেদ:

    বালি, পলি ও কাদা- এই তিনটি স্বতন্ত্র মাটি কণার তুলনামূলক অনুপাতের ওপর ভিত্তি করে মাটির বুনটসমূহের নামকরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন মাটি বিভিন্ন অনুপাতে বালি, পলি ও কাদা কণা ধারণ করে থাকে। কোন মাটিতে বালি কণার পরিমাণ বেশি, আবার কোনটাতে কাদা কণার পরিমাণ বেশি। এই পরিবর্তনের নির্দিষ্ট সীমারেখায় রেখে মাটিকে ১২ টি গ্রুপ বা দলে বিভক্ত করা হয়। এই দলগুলোই বুনটভিত্তিক শ্রেণী বলে পরিচিত। এই শ্রেণীগুলোর একটির হতে অন্যটির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক ধর্মে যথেষ্ট পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। যে মাটিতে অধিক পরিমাণ কাদা কণা থাকে তাকে কাদা মাটি, যে মাটি অধিক পরিমাণ পলি কণা ধারণ করে তাকে পলি মাটি, আর যে মাটিতে বালি কণার পরিমাণ বেশি থাকে তাকে বালি মাটি বলে। যদি কোন মাটি এই তিনটি শ্রেণীর একটিরও প্রভাব বিস্তারকারী ভৌতিক বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন না করে (যেমন-৪০% বালি কণা, ২০% কাদা কণা ও ৪০% পলিকণা যুক্ত মাটি) তবে তাকে দোআঁশ মাটি বলে। দোয়াঁশ মাটিতে বালি, পলি ও কাদা কণার শতকরা পরিমাণ সমান থাকেনা। কিন্তু এ বালি, পলি ও কাদা কণাসমূহের কাছাকাছি প্রায় সামঞ্জস্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য বা ধর্ম প্রদর্শন করে।

    মাটির গুণাগুণ:

    সুষ্ঠুভাবে মাছ চাষ ব্যবস্থাপনায় পুকুর তৈরির জন্য দোঁআশ ও বেলে-দোঁআশ মাটি সবচেয়ে ভাল। এ ধরনের মাটি সহজে পানি ধারণ করে রাখতে পারে। মাটির পিএইচ (PH)-এর মাত্রা ৫.০ এর উপরে থাকা সমীচীন। মাটিতে বিদ্যমান পুষ্টি পদার্থ ও পিএইচ-এর ওপর ভিত্তি করে মাটিকে সাধারণতঃ ৩ ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন- উচ্চ উৎপাদনশীল, মধ্যম উৎপাদনশীল ও নিম্ন উৎপাদনশীল (সারণি-১)।

    সারণি-১: মাটির পুষ্টিমান ও পিএইচ অনুযায়ী পুকুর-জলাশয়ের শ্রেণিবিন্যাস উৎপাদনশীলতার শ্রেণী পিএইচ মাত্রা পুষ্টি উপাদানের মাত্রা (মিগ্রা/কিলো) নাইট্রোজেন ফসফরাস কার্বন উচ্চ ৭.৫-৬.৫ >৫০ ৬-১২ >১.৫ মধ্যম ৬.৫-৫.৫ ২৫-৪৯ ৩-৫ >০.৫-১.৪ নিম্ন <৫.৫ <২৫ <৩ <০.৫

    প্রাকৃতিক উৎপাদনশীলতা কম হলেও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে লাভজনক মাছ চাষের জন্য পুকুরকে উপযোগি করে তোলা যায়। এক্ষেত্রে খরচ কিছুটা বেশি পড়ে।

    মাটির গঠন, বর্ণ, পিএইচ-র ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের মাটিকে সাধারণভাবে ৬ ভাগে ভাগ করা যায়। এ ভিত্তিতে বাংলাদেশের মাটির শ্রেণিবিন্যাস ও প্রাকৃতিক উৎপাদনশীলতা নিচের সারণিতে দেয়া হলো (সারণি-২)।

    সারণি-২: অঞ্চলভেদে মাটির গুণাগুণ

    ক্র.নং অঞ্চল মাটির প্রকার PH-র ভিত্তিতে মাটির ধরণ মাটির বর্ণ উৎপাদনশীলতা ১ বরেন্দ্র, মধুপুর গড়, সাভার, গাজীপুর, সিলেট, কুমিল্লা ও নোয়াখালীর অংশ বিশেষ এটেল, কাদা ও বালিযুক্ত কাদা বেশি অম্লীয় লাল ও বাদামী প্রাকৃতিক উৎপাদনশীলতা কম ২ যশোর, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, পাবনা, রাজশাহী, ঢাকা ও বরিশালের কিয়দংশ পলিযুক্ত এটেল ক্ষারীয় হালকা ও বাদামী গাঢ় ধূসর প্রাকৃতিক উৎপাদনশীলতা বেশি ৩ ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ঢাকা, রংপুর, বগুড়া, পাবনা ও ফরিদপুরের কিয়দংশ পলিযুক্ত দো-আঁশ নিরপেক্ষ থেকে ক্ষারীয় ধূসর ও গাঢ় ধূসর প্রাকৃতিক উৎপাদনশীলতা তুলনামূলক বেশি ৪ রংপুর-দিনাজপুরের কিয়দংশ, মানিকগঞ্জ, গাইবান্ধা, ফরিদপুর ও টাঙ্গাইলের কিয়দংশ বালি ও বালিযুক্ত পলি কিছুটা অম্লীয় ধূসর প্রাকৃতিক উৎপাদনশীলতা তুলনামূলক কম ৫ নদী সন্নিকটস্থ অঞ্চল বালিযুক্ত পলি অম্লীয়/ক্ষারীয়/নিরপেক্ষ ধূসর থেকে কালচে ধূসর প্রাকৃতিক উৎপাদনশীলতা তুলনামূলক কম ৬ উপকূলীয় অঞ্চলসমূহ পলি ও কাদার ভাগ বেশি অম্লীয় কালো বা ছাই রং প্রাকৃতিক উৎপাদনশীলতা কম

    মাটির ভৌত-রাসায়নিক গুণাগুণ:

    যে অঞ্চলের মাটি উর্বর সে স্থানে খনন করা পুকুরও সাধারণভাবে উর্বর হয়ে থাকে এবং সে অঞ্চলের পুকুরে মাছের উৎপাদনও ভাল হয়। উর্বর মাটি পানিতে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্যের যোগান দেয় এবং পানি দূষণ রোধে ভূমিকা রাখে। সাধারণভাবে মাটি ৪ প্রকারের হয়ে থাকে ক) এটেল মাটি, ২) বেলে মাটি, গ) লাল মাটি এবং ঘ) দোআঁশ মাটি। দোআঁশ মাটির পুকুর মাছ চাষের জন্য সর্বাধিক উপযোগি। বেলে মাটির পানি ধারণক্ষমতা খুবই কম এবং লাল মাটির পুকুরে পানি প্রায় সবসময় ঘোলা থাকে। এজন্য বেলে মাটি ও লাল মাটিতে খনন করা পুকুর মাছ চালের জন্য ততটা উপযোগি হয় না। বিভিন্ন ধরণের পুষ্টি ধরে রাখা ও আদান প্রদানে দোআঁশ মাটি উত্তম।

    দোআঁশ মাটি মাছ চাষের জন্য উত্তম;
    এটেল মাটি মাছ চাষের জন্য কম উপযোগি;
    বেলে মাটি চাষ চাষের উপযোগি নয়;
    লাল মাটিতে মাছচাষ ব্যয়বহুল।

    ভালো মানের মাটির জন্য যোগাযোগ করুন – ০১৯৮৬২০২৫৮৫

    Thursday, November 10, 2016

    গবাদি পশু-পাখির শীতকালীন রোগবালাই ও প্রতিকার

  • Share The Gag
  • আসছে শীতকাল। এ সময় গরু ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ অন্যান্য গবাদিপশু-পাখির নানান রকমের রোগবালাই হয়ে থাকে। গবাদিপশু পাখির শীতকালীন কিছু কমন রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. প্রিয় মোহন দাস।



    গামবোরো রোগ


    গামবোরো একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এ রোগে বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে ব্রয়লার, কক, সোনালী ও লেয়ার মুরগি মারা যায়। তাই এ রোগের মুরগির মৃত্যুর পাশাপাশি আক্রান্ত ফ্লক ইম্যুনোসাপ্রেশনে ভোগে। আর তাই এ রোগকে মুরগির এইডস বলা হয়। আর এ ধরনের ফ্লক থেকে কখনই আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যায় না।


    রোগের লক্ষণ


    গামবোরো রোগের কিছু কমন লক্ষণ হলো পানি না খাওয়া, খাদ্য না খাওয়া, পাতলা পায়খানা হওয়া ইত্যাদি।


    চিকিৎসা ও প্রতিকার


    এন্টিবায়োটিক হিসেবে সিপ্রোফ্লক্সাসিন ১০% ব্যবহার করা যায়। এটি রক্তে তাড়াতাড়ি মিশে আর শরীরে থাকেও দীর্ঘক্ষণ। ফলে দ্রুত কাজ শুরু হয়ে যায়। ১ লিটার পানিতে ১ মিলি পরপর ৩-৫ দিন সবসময়ের জন্য পানিতে দিতে হবে। যে কোনো ভালো অর্গানিক এসিড কোম্পানি নির্দেশিত মাত্রায় ব্যবহার করা যেতে পারে। অর্গানিক অ্যাসিডগুলো কিডনি হতে ইউরেট দূর করতে সহায়তা করে। এ ক্ষেত্রে ভিনেগার ব্যবহার করা যায়।


    গলাফুলা রোগ


    গলাফুলা (hemorrhagic septicemia) এশিয়া, আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপের কিছু দেশ ও মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এটি বেশি পরিলক্ষিত হয়। গলাফুলা একটি তীব্র প্রকৃতির রোগ যা গরু এবং মহিষকে আক্রান্ত করে। এটি একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যা Pasteurella multocida দ্বারা সংঘটিত হয়। এ রোগে মৃত্যুর হার খুবই বেশি।


    পশুর শরীরে স্বাভাবিক অবস্থায় এ রোগের জীবাণু বিদ্যমান থাকে। কোনো কারণে যদি পশু ধকল যেমন ঠাণ্ডা, অধিক গরম, ভ্রমণজনিত দুর্বলতা ইত্যাদির সম্মুখীন হয় তখনই এ রোগ বেশি দেখা দেয়। গলাফুলা রোগের প্রচলিত নাম ব্যাংগা, ঘটু, গলগটু, গলবেরা ইত্যাদি।


    রোগের লক্ষণ


    এ রোগ অতি তীব্র ও তীব্র এ দুইভাবে হতে পারে।


    অতি তীব্র প্রকৃতির রোগে হঠাৎ জ্বর হয়ে মুখ ও নাক দিয়ে তরল পদার্থ বের হতে থাকে। পশু অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে ও খাওয়া বন্ধ করে দেয় এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু ঘটে। তীব্র প্রকৃতির রোগে আক্রান্ত পশু ২৪ ঘন্টার অধিক বেঁচে থাকে। এ সময় পশুর এডিমা দেখা দেয় যা প্রথমে গলার নিচে, পরে চোয়াল, তলপেট এবং নাক, মুখ, মাথা ও কানের অংশে বিস্তৃত হয়।


    গলায় স্ফীতি থাকলে গলার ভেতর ঘড় ঘড় শব্দ হয়, যা অনেক সময় দূর থেকে শোনা যায়। প্রদাহযুক্ত ফোলা স্থানে ব্যথা থাকে এবং হাত দিলে গরম ও শক্ত অনুভূত হয়। মুচ দিয়ে ছিদ্র করলে উক্ত স্থান হতে হলুদ বর্ণের তরল পদার্থ বের হয়ে আসে। অনেক সময় কাশি হয় এবং চোখে পিচুটি দেখা যায়। নাক দিয়ে ঘন সাদা শ্লেষ্মা পড়তে দেখা যায়। সাধারণত লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে আক্রান্ত পশু মারা যায়।


    চিকিৎসা ও প্রতিকার


    আক্রান্ত পশুর চিকিৎসায় বিলম্ব হলে সুফল পাওয়া যাবে না। তাই রোগের উপসর্গ দেখা দেয়ার সাথে সাথে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। এ রোগের চিকিৎসায় Ampicillin, Tetracycline, Erythromycin, Sulphonamide জাতীয় ইনজেকশন গভীর মাংসে দিয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়।


    এ রোগ উচ্ছেদ করা অসম্ভব কারণ এ রোগের জীবাণু স্বাভাবিক অবস্থায় পশুর দেহে থাকে। তবে নিম্নোক্ত ব্যবস্থা অবলম্বন করে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়।




    • রোগাক্রান্ত পশুকে সুস্থ পশু থেকে আলাদা করে সুস্থ পশুকে টিকা দানের ব্যবস্থা করতে হবে।






    • মড়কের সময় পশুর চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।






    • হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পশুর পরিচর্যার ব্যবস্থা করতে হবে।






    • টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।




    ক্ষুরারোগ


    এটি ভভইরাসজনিত একটি মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি। দুই ক্ষুরওয়ালা সব প্রাণীই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তবে আমাদের দেশে সাধারণত গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়া এ রোগের শিকার হয় বেশি। বাতাসের সাহায্যে এ রোগের ভাইরাস দূরবর্তী এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।


    রোগের লক্ষণ




    • প্রথম অবস্থায় শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।






    • মুখ দিয়ে লালা ঝরে এবং লালা ফেনার মতো হয়। পশু খেতে পারে না এবং ওজন অনেক কমে যায়।






    • দুগ্ধবতী পশুতে দুধ অনেক কমে যায়। বাছুরের ক্ষেত্রে লক্ষণ দেখা দেয়ার আগেই বাছুর মারা যেতে পারে।




    চিকিৎসা ও প্রতিকার


    আক্রান্ত প্রাণীর মুখ ও পায়ের ঘা পটাশিয়াম পারম্যাংগানেট মেশানো পানি বা খাওয়ার সোডা মেশানো পানি দিয়ে দিনে ৩-৪ বার ধুয়ে দিতে হবে। ওষুধ মেশানো পানি দিয়ে ক্ষতস্থান ধোয়ার পরে সালফা নিলামাইড বা এ ধরনের পাউডার লাগাতে হবে। চার ভাগ নারকেল তেলের সাথে ১ ভাগ তারপিন তেল মিশিয়ে লাগালে ক্ষতস্থানে মাছি পড়বে না।


    গরুর বাদলা রোগ


    বাদলা রোগ গরুর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ। ক্লস্ট্রিডিয়াম শোভিয়াই নামক ব্যাকটিরিয়া জীবাণু এ রোগের প্রধান কারণ-


    রোগের লক্ষণ




    • তীব্র রোগে প্রথমে জ্বর হয় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে পেছনের অংশে মাংসপেশি ফুলে যায়।






    • ফোলা জায়গায় চাপ দিলে পচ পচ শব্দ হয়।






    • আক্রান্ত অংশ কালচে হয়ে যায় ও পচন ধরে।






    • রোগাক্রান্ত প্রাণী দুর্বল হয়ে মারা যায়।




    চিকিৎসা ও প্রতিকার


    অ্যান্টিব্লাকলেগ সিরাম প্রতিটি আক্রান্ত পশুর শিরা বা ত্বকের নিচে ১০০-২০০ মিলিলিটার ইনজেকশন দিতে হবে (যদি পাওয়া যায়)  অ্যান্টিহিসটামিনিক জাতীয় ইনজেকশন যেমন- হিস্টাভেট, ডিলারজেন, ফ্লুগান ইত্যাদি দৈনিক ৬ সি.সি. করে ৩ দিন মাংসে ইনজেকশন দিতে হবে। প্রয়োজনে আক্রান্ত ক্ষতস্থান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পরিষ্কার করে টিংচার আয়োডিন গজ প্রয়োগ করতে হবে।
    আক্রান্ত পশুকে সুস্থ পশু থেকে আলাদা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। মৃত পশুকে মাটির নিচে কলিচুন সহযোগে পুঁতে ফেলতে হবে। জীবাণুনাশক দিয়ে গোয়ালঘর পরিস্কার করতে হবে।


    ফ্যাসিওলিয়াসিস রোগ


    গবাদিপশুর যকৃতে ফ্যাসিওলা জাইগানটিকা ও ফ্যাসিওলা হেপাটিকা নামক পাতাকৃমি দ্বারা সৃষ্ট পশুর রোগকে ফ্যাসিওলিওসিস বলে। রক্তস্বল্পতা, ম্যান্ডিবুলের নিচে পানি জমা, যা দেখতে বোতলের মতো, ডায়রিয়া এবং ধীরে ধীরে কৃশকায় অবস্থায় পরিণত হওয়াই এ রোগের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশে প্রায় ২১ ভাগ গরুতে এবং সিলেট অঞ্চলে প্রায় ২১.৫৪ ভাগ ছাগলে ফ্যাসিওলা জাইগানটিকা পাতাকৃমিতে হয়।


    রোগের লক্ষণ




    • আক্রান্ত পশুর যকৃতে অপ্রাপ্তবয়স্ক কৃমির মাইগ্রেশনের ফলে যকৃত কলা ধ্বংস হয় এবং যকৃতিতে প্রোটিন সংশ্লেষণ হ্রাস পায়। এতে পশুর হাইপোপ্রিটিনিমিয়া তথা বটল জ্বর হয়।






    • বদহজম ও ডায়রিয়া দেখা দেয়। ক্ষুধামন্দা ও দুর্বলতা পরিলক্ষিত হয়। চোখের কনজাংটিভা ফ্যাকাশে হয়ে যায়।






    • তীব্র যকৃত প্রদাহ এবং রক্তক্ষরণের ফলে লক্ষণ প্রকাশের আগেই পশুর হঠাৎ মৃত্যু ঘটে।




    চিকিৎসা ও প্রতিকার


    ট্রাইক্লেবেন্ডাজল বোলাস প্রতি কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১০ থেকে ১৫ মিলিগ্রাম করে আক্রান্ত পশুকে খাওয়ালে ৯০ থেকে ১০০ ভাগ সুফল পাওয়া যায়। নাইট্রোক্সিলিন ইনজেকশন প্রতি ৫০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১.৫ মিলিলিটার হিসেবে গরু, মহিষ ও ছাগলের ত্বকের নিচে প্রয়োগ করে কার্যকরি ফল পাওয়া যায়। সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে দুর্বলতা ও রক্তস্বল্পতার জন্য ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স ইনজেকশন দেয়া এবং মিনারেল মিকচার খাওয়ানো ভালো। পশুকে সন্দেহজনক স্থান যেমন নিচু জায়গা বা ড্রেনের পাশে ঘাস খাওয়ানো থেকে বিরত রাখতে হবে।


    তড়কা রোগ


    তড়কা গবাদিপশুর একটি মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ। গবাদিপশু থেকে এ রোগে মানুষেও ছাড়ায়। এ রোগের জীবাণু দ্বারা সংক্রামিত খাদ্য খেয়ে বিশেষ করে নদী-নালার পানি ও জলাবদ্ধ জায়গার ঘাস খেয়ে গবাদিপশু অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত হয়।


    রোগের লক্ষণ




    • দেহের লোম খাড়া হয়। দেহের তাপমাত্রা ১০৬-১০৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়।






    • নাক, মুখ ও মলদ্বার দিয়ে রক্তক্ষরণ হতে পারে। পাতলা ও কালো পায়খানা হয়।






    • লক্ষণ প্রকাশের ১-৩ দিনের মধ্যে পশু ঢলে পড়ে মারা যায়।




    চিকিৎসা ও প্রতিরোধ


    পেনিসিলিন/বাইপেন ভেট/জেনাসিন ভেট/ এম্পিসিন ভেট ইনজেকশন দেয়া যেতে পারে। এ ছাড়াও স্ট্রেপটোমাইসিন/এন্টিহিস্টাভেট ইনজেকশন দেয়া যেতে পারে। সুস্থ পশুকে সর্বদা পৃথক রাখতে হবে। মৃতপশুর মল, রক্ত ও ম্রৃতদেহ মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হবে।


    মো. আব্দুর রহমান*




    * শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ-২২০২,

    Monday, November 7, 2016

    বৃষ্টিতে বাউফলে ১৪ হাজার হেক্টর ফসলের ক্ষয়ক্ষতি

  • Share The Gag
  • পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় গত তিন দিনের অবিরাম বৃষ্টির কারনে আমান ধান ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ধানে শীষ আসার পূর্ব মূহুর্তে এ ধরনে দুর্যোগ ধান ফলনের ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিস। এ দুর্যোগের ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছে উপজেলা প্রান্তিক কৃষকরা।

    উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলায় ৩৭ হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে আমন চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের ও ১৭ হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে উচ্চফলনশীল আমান চাষ করা হয়। অপর দিকে ৩ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে বেগুন, টমেটো, লাউ, পালনশাক ও লালশাক ইত্যাদি ধরনের সবজি চাষ করা হয়েছে। আহাওয়া অনুকুলে থাকায় আমন ও সবজির বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু বিগত তিন দিনের বিরামহীন ভারি বর্ষনের ফলে ১২৫৬০ হেক্টর আমন ও ৩০০ হেক্টর সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

    সরজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে টানা বৃষ্টির কারনে জমির ধান গাছের গোড়ালী ভেঙ্গে পড়েছে। কোন উপায় না পেয়ে কৃষরা ক্ষেতের কাছে গিয়ে শুধু নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। চর কালাইয়া এলাকার বর্গা চাষী বাদল প্যাদা জানিয়েছেন, তার প্রায় ৩ একর জমির অধিকাংশ ধান টানা বৃষ্টি ও ঝরো বাতাসের কারনে শুয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, মহাজনের কাছ থেকে জমি বর্গা ও সুদের ওপড় টাকা নিয়ে ধান চাষে দুর্যোগের কারনে এ বছর ক্ষতির মুখে পড়তে হলো। এক সময়ে ধান চাষী সংকর হাওলাদার জানান, বিগত বছরে ধান চাষে লোকাসান গুনে এ বছর সবজি চাষ শুরু করে ছিলাম। কিন্তু সে আশায়ও সেগুরেবালী।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সরোয়ার জামান সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, আমার মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের এ ধরনের দুর্যোগের পূর্বাভাস দুই দিন আগেই দিয়ে ছিলাম। চাষীদের ক্ষেতের পানি নিস্কাসনের জন্য বলা হয়েছে। তবে যে জমির ধান গাছ শুয়ে পড়েছে তার ৩৫ভাগ ধান নষ্ট হলেও বাকীটা ভালো থাকবে বলে আশা করা যায়।