যখন কৃষকেরা ফসল উৎপাদনে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করছেন ঠিক তখনই কীটনাশক ছাড়া বেগুন উৎপাদন করছেন ঝিনাইদহের হরিনাকুণ্ডু উপজেলার পার্বতীপুর গ্রামের কৃষকেরা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে তারা আইপিএম (ফেরোমনট্রাপ) পদ্ধতি ব্যবহার করে ভালো ফল পাচ্ছেন বলে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
পার্বত্যপুর গ্রামের বেগুন চাষী আয়ুব হোসেন জানান, এ পদ্ধতি সম্পর্কে যখন আমাকে প্রথম জানানো হয় তখন পদ্ধতি সম্পর্কে যেন কাল্পনিক একটা ঘটনা বলে মনে হয়েছিল। আমরা দুই ভাই পার্বতীপুরের এই মাঠে একএকর জমিতে বেগুন চাষ করেছি। প্রথম দিকে আইপিএম পদ্ধতি ব্যবহার করার পরও বেগুন নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে গোপনে কীটনাশক স্প্রে করতাম। কিন্তু বেগুনের দাম যখন কমে গেল কীটনাশক স্প্রে করা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। এখন দেখি ভালো বেগুন পাওয়া যাচ্ছে। আমরা সবজিতে প্রতিদিনেই কীটনাশক স্প্রে করে অভ্যস্ত। তাই এ পদ্ধতি প্রথমে মেনে নিতে পারছিলাম না।
একই গ্রামের বেগুন চাষী ইব্রাহীম, সোলাইমান, ইউনুছ আলি জানান, তারা এ পদ্ধতি ব্যবহার করে ভালো ফলন পাচ্ছেন। তাদের কীটনাশক ছাড়াই এ পদ্ধতিতে চাষ করা দেখে অনেকেই করলা, লাউ ও শসা চাষে এ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।
স্কুল শিক্ষক আমিনুল ইসলাম জানান, আমরা যে কীটনাশক ছাড়াই সবজি বা ভেজাল মুক্ত পণ্য খেতে চাই। তা এ বেগুন চাষের দৃশ্য দেখলেই বোঝা যাচ্ছে। কারণ তারা বেগুন বাজারে নিয়ে গেলে দাম একটু বেশি হলেও আগে আগেই বিক্রি হয়। প্রতিটি কৃষকেরই উচিত এ পদ্ধতি ব্যবহার করা এবং পোকার আক্রমণ অতিরিক্ত হলে সেই ক্ষেত্রে কৃষি অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তাছাড়া যারা বেগুন বা সবজি চাষ করেন প্রতিদিনই ক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে করেন। আর এ পদ্ধতি ব্যবহার করে কৃষকরা যে লাভবান হচ্ছেন এটা কৃষকদের জন্য সুখবর।
এ বিষয়ে হরিনাকুণ্ডু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিশংকর জানান, এটাকে সেক্স ফেরোমন লেয়ার পদ্ধতি বলা হয়। ওই বক্সের মধ্যে পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী পোকার গন্ধ দেয়া থাকে। দূর হতে পুরুষ পোকা আকৃষ্ট হয়ে ওই বক্সের মধ্যে চলে আসে এবং বক্সের মধ্যে রাখা সাবান পানিতে পড়ে পোকা মারা যায়। যদি কোনো মাঠের সবজি চাষীরা একত্রিত হয়ে সকলেই এ পদ্ধতি ব্যবহার করে তাহলে শতকরা ৭৫/৮০ ভাগ পোকা দমন করা সম্ভব।
Sunday, October 30, 2016
ছারপোকা তাড়াতে করণীয়
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 10:53 AM
ছারপোকা যে কী পরিমান ভয়ঙ্কর, তা এই পোকার কামড় যারা না খেয়েছেন তারা ভাবতেও পারবেন না। অন্যদিকে যারা ভুক্তভোগী অর্থাৎ ছারপোকার যন্ত্রণায় জীবন অতিষ্ঠ যাদের, তারাই ভালো বলতে পারবেন এই পোকার অত্যাচার সম্পর্কে। তবে এই দুষ্টু পোকাটি দমন করতেও আছে বেশ কিছু উপায়। চলুন জেনে নিই-
ছারপোকা মোটামুটি ১১৩ ডিগ্রি তাপমাত্রাতে মারা যায়। ঘরে ছারপোকার আধিক্য বেশি হলে বিছানার চাদর, বালিশের কভার, কাঁথা ও ঘরের ছারপোকা আক্রান্ত জায়গাগুলোর কাপড় বেশি তাপে সেদ্ধ করে ধুয়ে ফেলুন। ছারপোকা এতে মারা যাবে।
বিছানাসহ অন্যান্য জায়গা থেকে ছারপোকা তাড়াতে সারা ঘরে ভালো করে ভ্যাকুয়াম করুন। ভ্যাকুয়াম করার সময় খেয়াল রাখুন যাতে ঘরের মেঝেও বাদ না পড়ে। এতে করে আপনার ঘরে ছারপোকার আক্রমণ অনেকটাই কমে যাবে।
এক লিটার পানিতে ডিটারজেন্ট যেমন সার্ফ এক্সেল ঘন করে মিশিয়ে স্প্রে করুন। এ উপায়ে স্প্রে করার ফলে ছারপোকা সহজেই মারা যাবে।
ঘরের যে স্থানে ছারপোকার বাস সেখানে ল্যাভেন্ডার অয়েল স্প্রে করুন। দুই থেকে তিনদিন এভাবে স্প্রে করার ফলে ছারপোকা আপনার ঘর ছেড়ে পালাবে।
আপনার ঘরের ছারপোকা তাড়াতে অ্যালকোহল ব্যবহার করতে পারেন। ছারপোকা প্রবণ জায়গায় সামান্য অ্যালকোহল স্প্রে করে দিন দেখেবেন ছারপোকা মরে যাবে।
আসবাবাপত্র ও লেপ তোশক পরিষ্কার রাখার সাথে সাথে নিয়মিত রোদে দিন। এতে করে ছারপোকার আক্রমণ কমে যাওয়ার সাথে সাথেই ছারপোকা থাকলে সেগুলো মারা যাবে।
ছারপোকার হাত থেরে রেহাই পেতে আপনার বিছানা দেয়াল থেকে দূরে স্থাপন করুন। শোয়ার আগে ও পরে বিছানা ভালো করে ঝেড়ে ফেলুন।
ছারপোকা মোটামুটি ১১৩ ডিগ্রি তাপমাত্রাতে মারা যায়। ঘরে ছারপোকার আধিক্য বেশি হলে বিছানার চাদর, বালিশের কভার, কাঁথা ও ঘরের ছারপোকা আক্রান্ত জায়গাগুলোর কাপড় বেশি তাপে সেদ্ধ করে ধুয়ে ফেলুন। ছারপোকা এতে মারা যাবে।
বিছানাসহ অন্যান্য জায়গা থেকে ছারপোকা তাড়াতে সারা ঘরে ভালো করে ভ্যাকুয়াম করুন। ভ্যাকুয়াম করার সময় খেয়াল রাখুন যাতে ঘরের মেঝেও বাদ না পড়ে। এতে করে আপনার ঘরে ছারপোকার আক্রমণ অনেকটাই কমে যাবে।
এক লিটার পানিতে ডিটারজেন্ট যেমন সার্ফ এক্সেল ঘন করে মিশিয়ে স্প্রে করুন। এ উপায়ে স্প্রে করার ফলে ছারপোকা সহজেই মারা যাবে।
ঘরের যে স্থানে ছারপোকার বাস সেখানে ল্যাভেন্ডার অয়েল স্প্রে করুন। দুই থেকে তিনদিন এভাবে স্প্রে করার ফলে ছারপোকা আপনার ঘর ছেড়ে পালাবে।
আপনার ঘরের ছারপোকা তাড়াতে অ্যালকোহল ব্যবহার করতে পারেন। ছারপোকা প্রবণ জায়গায় সামান্য অ্যালকোহল স্প্রে করে দিন দেখেবেন ছারপোকা মরে যাবে।
আসবাবাপত্র ও লেপ তোশক পরিষ্কার রাখার সাথে সাথে নিয়মিত রোদে দিন। এতে করে ছারপোকার আক্রমণ কমে যাওয়ার সাথে সাথেই ছারপোকা থাকলে সেগুলো মারা যাবে।
ছারপোকার হাত থেরে রেহাই পেতে আপনার বিছানা দেয়াল থেকে দূরে স্থাপন করুন। শোয়ার আগে ও পরে বিছানা ভালো করে ঝেড়ে ফেলুন।
সাতকানিয়ায় সবজি ফলছে কীটনাশক ছাড়াই
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 10:42 AM
মাঠজুড়ে সবজি। টমেটো, লাউ ও শিমে ভরপুর জমি। চািষরা ব্যস্ত সবজি তোলায়। এ চিত্র সাতকানিয়ার বাজালিয়া ও ছাদাহা ইউনিয়নের। দুটি এলাকার জন্য এ দৃশ্য নতুন নয়। হামেশাই এখানে নানা সবজির আবাদ হয়। কিন্তু এবার ভিন্ন—বিষমুক্ত সবজির চাষ করছেন এখানকার চাষিরা।
সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজির আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে বাজালিয়া ও ছদাহা ইউনিয়নের বুড়ির দোকান, শিশুতল, দক্ষিণ ছদাহা, খোদ্দ কেঁওচিয়া, বিল্লিয়াপাড়া, হোসেনপাড়া ও বাইতুশ শরফপাড়া এলাকার ৩০ হেক্টর জমিতে সেক্স ফেরোমন ফাঁদের মাধ্যমে কীটনাশক ছাড়াই সবজির আবাদ করা হয়েছে।
ছদাহা ইউনিয়নের শিশুতল ও বাজালিয়া ইউনিয়নের বুড়ির দোকান এলাকায় দেখা গেছে, টমেটো ও শিমখেতের মাঝে মাঝে বাঁশের খুঁটি দিয়ে প্লাস্টিকের পাত্র ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এসব পাত্রের তলায় অল্প পরিমাণ পানিতে মরে আছে কীটপতঙ্গ।
চাষিরা জানান, পোকার আক্রমণ থেকে বাঁচতে প্রতিবছর সবজিখেতে কীটনাশক ছিটানো হতো। কৃষি বিভাগের লোকজন ঘরে ঘরে এসে অধিক ফলনের উৎসাহ ও ক্ষতির ব্যাপারে অভয় দেওয়ার পর সেক্স ফেরোমন ফাঁদে সবজি উৎপাদনে আগ্রহী হয়েছেন।
শিশুতল এলাকার সবজিচাষি আবুল হোসেন বলেন, ‘চলতি বছর সাত কানি (এক একর সমান আড়াই কানি) জমিতে টমেটো চাষ করেছি। টমেটোখেতে কোনো ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করিনি। শুধু সেক্স ফেরোমন ফাঁদ বসানো হয়েছে। ওই ফাঁদে পড়ে প্রতিদিন ক্ষতিকর পোকা মারা যাচ্ছে। ফলে কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হচ্ছে না।’
দক্ষিণ ছদাহা এলাকার চাষি আবুল হাশেম বলেন, প্রতি কানি টমেটো চাষে প্রায় এক লাখ টাকার কাছাকাছি খরচ পড়ে। তবে এ বছর ওই খরচ অনেক কম পড়বে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, পোকার আক্রমণ থেকে সবজি বাঁচাতে প্রতি কানিতে ১০ হাজার টাকার মতো কীটনাশক ব্যবহার করতে হতো। কিন্তু এ বছর কীটনাশক ব্যবহার না করায় ওই খরচটা বেঁচে গেল। সে হিসাবে লাভের পরিমাণ বাড়বে।
উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আয়ুব আলী প্রথম আলোকে বলেন, বিষমুক্ত সবজিখেতগুলো প্রতিদিনই পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে শিম ও লাউ চাষিরা বাজারে বিক্রি শুরু করেছেন। টমেটো পরিপক্ব হচ্ছে। ১৫-২০ দিনের মধ্যে চাষিরা বিষমুক্ত টমেটো তুলতে পারবেন।
তিনি জানান, সেক্স ফেরোমন পুরুষ পোকা আকর্ষণের সুগন্ধি। এটির গন্ধ বাতাসে ছড়ালে পুরুষ পোকা এসে পাত্রে পড়ে। এরপর মারা যায়। পুরুষ পোকা মারা গেলে বংশবৃদ্ধি কমতে থাকে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খাজানুর রহমান বলেন, প্রথম দিকে উপজেলার কোনো চাষি বিষমুক্ত সবজি চাষে আগ্রহী ছিলেন না। অভয় ও বিভিন্নভাবে উৎসাহ দেওয়ায় কিছু চাষি পরীক্ষামূলকভাবে ৩০ হেক্টর জমিতে বিষমুক্ত টমেটো, লাউ ও শিমের চাষ করেছেন। চাষিরা কীটনাশক ছাড়াই ফেরোমন ফাঁদের মাধ্যমে ভালো সবজি উৎপাদন করতে পারলে ভবিষ্যতে উপজেলার প্রতিটি গ্রামে বিষমুক্ত সবজি চাষের বিপ্লব ঘটে যাবে।
সূত্রঃ প্রথম আলো
সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজির আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে বাজালিয়া ও ছদাহা ইউনিয়নের বুড়ির দোকান, শিশুতল, দক্ষিণ ছদাহা, খোদ্দ কেঁওচিয়া, বিল্লিয়াপাড়া, হোসেনপাড়া ও বাইতুশ শরফপাড়া এলাকার ৩০ হেক্টর জমিতে সেক্স ফেরোমন ফাঁদের মাধ্যমে কীটনাশক ছাড়াই সবজির আবাদ করা হয়েছে।
ছদাহা ইউনিয়নের শিশুতল ও বাজালিয়া ইউনিয়নের বুড়ির দোকান এলাকায় দেখা গেছে, টমেটো ও শিমখেতের মাঝে মাঝে বাঁশের খুঁটি দিয়ে প্লাস্টিকের পাত্র ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এসব পাত্রের তলায় অল্প পরিমাণ পানিতে মরে আছে কীটপতঙ্গ।
চাষিরা জানান, পোকার আক্রমণ থেকে বাঁচতে প্রতিবছর সবজিখেতে কীটনাশক ছিটানো হতো। কৃষি বিভাগের লোকজন ঘরে ঘরে এসে অধিক ফলনের উৎসাহ ও ক্ষতির ব্যাপারে অভয় দেওয়ার পর সেক্স ফেরোমন ফাঁদে সবজি উৎপাদনে আগ্রহী হয়েছেন।
শিশুতল এলাকার সবজিচাষি আবুল হোসেন বলেন, ‘চলতি বছর সাত কানি (এক একর সমান আড়াই কানি) জমিতে টমেটো চাষ করেছি। টমেটোখেতে কোনো ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করিনি। শুধু সেক্স ফেরোমন ফাঁদ বসানো হয়েছে। ওই ফাঁদে পড়ে প্রতিদিন ক্ষতিকর পোকা মারা যাচ্ছে। ফলে কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হচ্ছে না।’
দক্ষিণ ছদাহা এলাকার চাষি আবুল হাশেম বলেন, প্রতি কানি টমেটো চাষে প্রায় এক লাখ টাকার কাছাকাছি খরচ পড়ে। তবে এ বছর ওই খরচ অনেক কম পড়বে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, পোকার আক্রমণ থেকে সবজি বাঁচাতে প্রতি কানিতে ১০ হাজার টাকার মতো কীটনাশক ব্যবহার করতে হতো। কিন্তু এ বছর কীটনাশক ব্যবহার না করায় ওই খরচটা বেঁচে গেল। সে হিসাবে লাভের পরিমাণ বাড়বে।
উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আয়ুব আলী প্রথম আলোকে বলেন, বিষমুক্ত সবজিখেতগুলো প্রতিদিনই পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে শিম ও লাউ চাষিরা বাজারে বিক্রি শুরু করেছেন। টমেটো পরিপক্ব হচ্ছে। ১৫-২০ দিনের মধ্যে চাষিরা বিষমুক্ত টমেটো তুলতে পারবেন।
তিনি জানান, সেক্স ফেরোমন পুরুষ পোকা আকর্ষণের সুগন্ধি। এটির গন্ধ বাতাসে ছড়ালে পুরুষ পোকা এসে পাত্রে পড়ে। এরপর মারা যায়। পুরুষ পোকা মারা গেলে বংশবৃদ্ধি কমতে থাকে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খাজানুর রহমান বলেন, প্রথম দিকে উপজেলার কোনো চাষি বিষমুক্ত সবজি চাষে আগ্রহী ছিলেন না। অভয় ও বিভিন্নভাবে উৎসাহ দেওয়ায় কিছু চাষি পরীক্ষামূলকভাবে ৩০ হেক্টর জমিতে বিষমুক্ত টমেটো, লাউ ও শিমের চাষ করেছেন। চাষিরা কীটনাশক ছাড়াই ফেরোমন ফাঁদের মাধ্যমে ভালো সবজি উৎপাদন করতে পারলে ভবিষ্যতে উপজেলার প্রতিটি গ্রামে বিষমুক্ত সবজি চাষের বিপ্লব ঘটে যাবে।
সূত্রঃ প্রথম আলো
পলিথিনের শব্দে পালিয়ে যায় ইঁদুর
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 10:37 AM
সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় উপদ্রব। সারা রাত ধরে আমনের খেতে গাছের গোড়া কাটে ইঁদুরগুলো। এদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েন কৃষকেরা। কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিলেন না তাঁরা।
কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পোকা দমনের কীটনাশক ব্যবহার করেও ইঁদুর তাড়ানো যাচ্ছিল না। সন্ধ্যার পর আমনের খেতে ইঁদুর এসে গাছের গোড়া কেটে দেয়। পরদিন সেই আমনের গাছ গবাদিপশুকে খাওয়ানো ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। এমন অবস্থায় কৃষি বিভাগের দ্বারস্থ হন তাঁরা। কৃষি বিভাগের পরামর্শে পলিথিনের ঝান্ডা তৈরি করে পুঁতে দেন পুরো খেতে। বাতাসে সেই পলিথিন পতপত করে শব্দ করে। এ শব্দে ইঁদুর মনে করে কেউ আসছে, তাই ভয়ে পালিয়ে যায়। এখন আর ইঁদুর ধান কাটছে না।
উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের বাকডোকরা গ্রামের কৃষক মোজাক্কের বলেন, ‘নদী এলাকার জমিতে ইঁদুরের উপদ্রব সবচেয়ে বেশি হয়। আমনখেতে ইঁদুরের উপদ্রব থেকে বাঁচতে পলিথিনের ঝান্ডা উড়িয়ে উপকার পেয়েছি।’
উপজেলার কামারপুকুর, কাশিরাম বেলপুকুর, খাতামধুপুর, বাঙালিপুর, বোতলাগাড়ী ইউনিয়ন ও সৈয়দপুর পৌর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় শতাধিক একর জমিতে ইঁদুরের উপদ্রব দেখা দিয়েছে।
সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হোমায়রা মণ্ডল বলেন, এ বছর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে প্রায় ৮ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আবাদ হয়েছে আরও বেশি জমিতে। খেতের পোকামাকড় ও ইঁদুরের উপদ্রব থেকে ফসল রক্ষার জন্য মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন।
নিজেদের অসহায়ত্বের কথা এভাবেই তুলে ধরেন নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার আমনচাষিরা। উপজেলায় এবার আমন মৌসুমের শুরুতে প্রচণ্ড খরা আর অনাবৃষ্টি দেখা দেয়। এ অবস্থায় সেচযন্ত্র ব্যবহার করে আমনের চারা রোপণ করেন কৃষকেরা। পরে বেশ বৃষ্টি হয়। লকলক করে বেড়ে ওঠে আমনের খেত। আশ্বস্ত হতে না–হতেই শুরু হয় ইঁদুরের উপদ্রব।
কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পোকা দমনের কীটনাশক ব্যবহার করেও ইঁদুর তাড়ানো যাচ্ছিল না। সন্ধ্যার পর আমনের খেতে ইঁদুর এসে গাছের গোড়া কেটে দেয়। পরদিন সেই আমনের গাছ গবাদিপশুকে খাওয়ানো ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। এমন অবস্থায় কৃষি বিভাগের দ্বারস্থ হন তাঁরা। কৃষি বিভাগের পরামর্শে পলিথিনের ঝান্ডা তৈরি করে পুঁতে দেন পুরো খেতে। বাতাসে সেই পলিথিন পতপত করে শব্দ করে। এ শব্দে ইঁদুর মনে করে কেউ আসছে, তাই ভয়ে পালিয়ে যায়। এখন আর ইঁদুর ধান কাটছে না।
উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের বাকডোকরা গ্রামের কৃষক মোজাক্কের বলেন, ‘নদী এলাকার জমিতে ইঁদুরের উপদ্রব সবচেয়ে বেশি হয়। আমনখেতে ইঁদুরের উপদ্রব থেকে বাঁচতে পলিথিনের ঝান্ডা উড়িয়ে উপকার পেয়েছি।’
উপজেলার কামারপুকুর, কাশিরাম বেলপুকুর, খাতামধুপুর, বাঙালিপুর, বোতলাগাড়ী ইউনিয়ন ও সৈয়দপুর পৌর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় শতাধিক একর জমিতে ইঁদুরের উপদ্রব দেখা দিয়েছে।
সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হোমায়রা মণ্ডল বলেন, এ বছর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে প্রায় ৮ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আবাদ হয়েছে আরও বেশি জমিতে। খেতের পোকামাকড় ও ইঁদুরের উপদ্রব থেকে ফসল রক্ষার জন্য মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন।
মাজরা পোকার আক্রমণে ফলন কমছে
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 10:34 AM
চলছে আমন ধানের মৌসুম। ধানের এ বাড়ন্ত সময়ে পোকা দমনে উদ্যোগী না হলে ফলন বহুলাংশে হ্রাস পায়। আমন ধানে যতো ধরনের পোকার আক্রমণ হয়, তার মধ্যে হলুদ মাজরা পোকা সবচেয়ে ক্ষতিকর।
হলুদ মাজরা পোকার অভিযোজন ক্ষমতা বেশি হওয়ায় আমন মৌসুমে বৃষ্টি বেশি হলেও পানিতে অনায়েসে বেঁচে থাকতে পারে। এ পোকা যে গাছে আক্রমণ করে সেই গাছের শীষ সম্পূর্ণভাবে চিটা হয়। পোকা দমন করা খুবই কষ্টসাধ্য। এর ফলে ফলন কমে যায় শতকরা ৮০ ভাগ পর্যন্ত। অনেক সময় ফলন নেমে আসতে পারে শূন্যের কোটায়।
এই পোকা সম্পর্কে বাংলানিউজের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) কীটতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান।
ধানের হলুদ মাজরা পোকা আক্রমণের লক্ষণ সম্পর্কে তিনি জানান,
শীষ বের হওয়ার আগে: ধানের গোছার মাঝখানের ডিক পাতা হলুদ হয়ে যায়। পোকাটি লার্ভা অবস্থায় কাণ্ডের ভেতরের অংশ খেতে শুরু করে। একপর্যায়ে যখন ডিক পাতা গোড়া থেকে বিছিন্ন হয়ে গেলে পাতাটি মরে যায়। এই মরা ডিগ পাতাটি টান দিলে সহজেই উঠে আসে। যাকে ডেড হার্ট বলে।
শীষ বের হওয়ার পরে: শীষ আসা অবস্থায় আক্রমণ হলে ধানের শীষগুলো সাদা হয়ে যায়। এ পোকার আক্রমণে শীষের দানাগুলোতে পুষ্টি সরবরাহ হয় না। ফলে শীষের সব দানা চিটায় পরিণত হয়। জুলাই (আষাঢ়) থেকে অক্টোবর (আশ্বিন) মাস পর্যন্ত আমন ধানে মাজরা পোকার আক্রমণ বেশি হয়।
বিরতিহীন ধান চাষ এ পোকার বংশ বাড়াতে উল্ল্যেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া বন্য ধান গাছ ও অন্যান্য ধান জাতীয় আগাছাও বিকল্প পোষক হিসেবে কাজ করে। মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া সার প্রয়োগে এ পোকার প্রার্দুভাব ব্যাপক আকার ধারণ করে। জলি আমনে এ পোকার ছয়বার পর্যন্ত বংশ বিস্তার করে।
এ পোকার আক্রমণে দমন ব্যবস্থা সম্পকে তিনি বলেন, জমিতে শতকরা ১০-১৫ ভাগ মরা ডিগ অথবা শতকরা পাঁচ শতাংশ সাদা শীষ দেখা দিলে অতি দ্রুত কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে। অনুমোদিত কার্যকরী কীটনাশকের মধ্যে রয়েছে ফুরাডান ৫জি, ফিপরোনিল ৩জি। যা প্রতি হেক্টরে ১০ কেজি দিতে হবে।
এছাড়া প্রতি হেক্টরে পাঁচ কেজি থায়ামেথোক্সাম ও ক্লোরানট্রানিলি (০.৬ জি) প্রয়োগ করেও এ পোকা দমন করা যায়। প্রাকৃতিকভাবে ঘাসফড়িং হলুদ মাজরা পোকার ডিম খেয়ে থাকে। এছাড়া পরজীবী ট্রাইকোগ্রামা হলুদ মাজরা পোকার ডিম থেকে পুষ্টি নিয়ে থাকে। ফলে ওইসব ডিম থেকে লার্ভা জন্মাতে পারে না।
আলোর ফাঁদ ব্যবহার করে পূর্ণবয়স্ক পোকা দমন করা যায়। এরা গাদা করে ডিম পাড়ে। তাই ডিমের গাদা সংগ্রহ করে এদের ভালোভাবে দমন করা সম্ভব। হলুদ মাজরা পোকা থেকে প্রতিরোধের উপায় প্রসঙ্গে ড. মিজানুর রহমান জানান, বীজতলায় চারা গাছের পাতার আগার দিকে স্ত্রী পোকা ডিম পাড়ে। তাই রোপা ধান খেতে চারা গাছ রোপণ করার আগেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। বীজ তলায় চারা গাছের পাতার আগা কাঁচি দিয়ে ছাটলে ডিমগুলো আর মূল মাঠে যেতে পারে না। এভাবে প্রায় ৫০ ভাগ হলুদ মাজরা পোকার ডিম ধ্বংস করা যায়।
সূত্রঃ বাংলা নিউজ ২৪
হলুদ মাজরা পোকার অভিযোজন ক্ষমতা বেশি হওয়ায় আমন মৌসুমে বৃষ্টি বেশি হলেও পানিতে অনায়েসে বেঁচে থাকতে পারে। এ পোকা যে গাছে আক্রমণ করে সেই গাছের শীষ সম্পূর্ণভাবে চিটা হয়। পোকা দমন করা খুবই কষ্টসাধ্য। এর ফলে ফলন কমে যায় শতকরা ৮০ ভাগ পর্যন্ত। অনেক সময় ফলন নেমে আসতে পারে শূন্যের কোটায়।
এই পোকা সম্পর্কে বাংলানিউজের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) কীটতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান।
ধানের হলুদ মাজরা পোকা আক্রমণের লক্ষণ সম্পর্কে তিনি জানান,
শীষ বের হওয়ার আগে: ধানের গোছার মাঝখানের ডিক পাতা হলুদ হয়ে যায়। পোকাটি লার্ভা অবস্থায় কাণ্ডের ভেতরের অংশ খেতে শুরু করে। একপর্যায়ে যখন ডিক পাতা গোড়া থেকে বিছিন্ন হয়ে গেলে পাতাটি মরে যায়। এই মরা ডিগ পাতাটি টান দিলে সহজেই উঠে আসে। যাকে ডেড হার্ট বলে।
শীষ বের হওয়ার পরে: শীষ আসা অবস্থায় আক্রমণ হলে ধানের শীষগুলো সাদা হয়ে যায়। এ পোকার আক্রমণে শীষের দানাগুলোতে পুষ্টি সরবরাহ হয় না। ফলে শীষের সব দানা চিটায় পরিণত হয়। জুলাই (আষাঢ়) থেকে অক্টোবর (আশ্বিন) মাস পর্যন্ত আমন ধানে মাজরা পোকার আক্রমণ বেশি হয়।
বিরতিহীন ধান চাষ এ পোকার বংশ বাড়াতে উল্ল্যেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া বন্য ধান গাছ ও অন্যান্য ধান জাতীয় আগাছাও বিকল্প পোষক হিসেবে কাজ করে। মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া সার প্রয়োগে এ পোকার প্রার্দুভাব ব্যাপক আকার ধারণ করে। জলি আমনে এ পোকার ছয়বার পর্যন্ত বংশ বিস্তার করে।
এ পোকার আক্রমণে দমন ব্যবস্থা সম্পকে তিনি বলেন, জমিতে শতকরা ১০-১৫ ভাগ মরা ডিগ অথবা শতকরা পাঁচ শতাংশ সাদা শীষ দেখা দিলে অতি দ্রুত কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে। অনুমোদিত কার্যকরী কীটনাশকের মধ্যে রয়েছে ফুরাডান ৫জি, ফিপরোনিল ৩জি। যা প্রতি হেক্টরে ১০ কেজি দিতে হবে।
এছাড়া প্রতি হেক্টরে পাঁচ কেজি থায়ামেথোক্সাম ও ক্লোরানট্রানিলি (০.৬ জি) প্রয়োগ করেও এ পোকা দমন করা যায়। প্রাকৃতিকভাবে ঘাসফড়িং হলুদ মাজরা পোকার ডিম খেয়ে থাকে। এছাড়া পরজীবী ট্রাইকোগ্রামা হলুদ মাজরা পোকার ডিম থেকে পুষ্টি নিয়ে থাকে। ফলে ওইসব ডিম থেকে লার্ভা জন্মাতে পারে না।
আলোর ফাঁদ ব্যবহার করে পূর্ণবয়স্ক পোকা দমন করা যায়। এরা গাদা করে ডিম পাড়ে। তাই ডিমের গাদা সংগ্রহ করে এদের ভালোভাবে দমন করা সম্ভব। হলুদ মাজরা পোকা থেকে প্রতিরোধের উপায় প্রসঙ্গে ড. মিজানুর রহমান জানান, বীজতলায় চারা গাছের পাতার আগার দিকে স্ত্রী পোকা ডিম পাড়ে। তাই রোপা ধান খেতে চারা গাছ রোপণ করার আগেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। বীজ তলায় চারা গাছের পাতার আগা কাঁচি দিয়ে ছাটলে ডিমগুলো আর মূল মাঠে যেতে পারে না। এভাবে প্রায় ৫০ ভাগ হলুদ মাজরা পোকার ডিম ধ্বংস করা যায়।
সূত্রঃ বাংলা নিউজ ২৪
ধানের পোকা দমনে আলোক ফাঁদ
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 10:27 AM
ফসলের পোকা দমনে রাসায়নিক সারের বদলে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছেন নওগাঁর কৃষকরা। জেলার রানীনগর উপজেলায় আলোক ফাঁদ ব্যবহার করে পোকা দমন করা হচ্ছে। এতে লাভ হচ্ছে দুই দিকে। পরিবেশ রক্ষা হচ্ছে, পাশাপাশি চাষের খরচ কমছে কৃষকের।
রানীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গেলেই এই আলোক ফাঁদের দেখা মেলে। রাতে অন্ধকারের মধ্যে এই ফাঁদগুলো দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের উৎসাহেই এই প্রকল্প চলছে এই উপজেলায়।
আমন ধানের ক্ষেতের আইলে কোথাও পানিভর্তি পাত্রে, কোথাও কাগজের উপর আলো জ্বেলে ধানে আক্রমণাত্মক বিভিন্ন পোকা ধরেন কৃষক।
এই পদ্ধতিতে পোকা দমন শুরু হওয়ার পর থেকে কৃষকদের খরচ যেমন কমে আসছে, তেমনি ধানের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ, এই পদ্ধতিতে ধানের জন্য ক্ষতিকারক পোকা দমন হলেও উপকারী পোকাগুলো রয়ে যাচ্ছে।
উপজেলার খট্টেশ্বর গ্রামের কৃষক লোকমান, জিসারুল, সিরাজ এবং কাশিমপুর গ্রামের কৃষক জাহেদুল, জাহাঙ্গীর, আব্দুর রাজ্জাকসহ অনেকেই বলেছেন- এই পদ্ধতিতে তারা উপকৃত হয়েছেন। পোকার উপস্থিতি চিহ্নিত করে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম গোলাম সারওয়ার বলেন, এটি একটি সহজলভ্য পদ্ধতি। কৃষকরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে খুব সহজেই ধানের ক্ষেতে পোকা মাকড়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেন।
সূত্রঃ ঢাকা টাইমস
রানীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গেলেই এই আলোক ফাঁদের দেখা মেলে। রাতে অন্ধকারের মধ্যে এই ফাঁদগুলো দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের উৎসাহেই এই প্রকল্প চলছে এই উপজেলায়।
আমন ধানের ক্ষেতের আইলে কোথাও পানিভর্তি পাত্রে, কোথাও কাগজের উপর আলো জ্বেলে ধানে আক্রমণাত্মক বিভিন্ন পোকা ধরেন কৃষক।
এই পদ্ধতিতে পোকা দমন শুরু হওয়ার পর থেকে কৃষকদের খরচ যেমন কমে আসছে, তেমনি ধানের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ, এই পদ্ধতিতে ধানের জন্য ক্ষতিকারক পোকা দমন হলেও উপকারী পোকাগুলো রয়ে যাচ্ছে।
উপজেলার খট্টেশ্বর গ্রামের কৃষক লোকমান, জিসারুল, সিরাজ এবং কাশিমপুর গ্রামের কৃষক জাহেদুল, জাহাঙ্গীর, আব্দুর রাজ্জাকসহ অনেকেই বলেছেন- এই পদ্ধতিতে তারা উপকৃত হয়েছেন। পোকার উপস্থিতি চিহ্নিত করে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম গোলাম সারওয়ার বলেন, এটি একটি সহজলভ্য পদ্ধতি। কৃষকরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে খুব সহজেই ধানের ক্ষেতে পোকা মাকড়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেন।
সূত্রঃ ঢাকা টাইমস
Wednesday, October 26, 2016
কৃষি বিপন্ন হলে গোটা দেশের বিপদ
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 1:10 AM
কৃষি মূলগত ভাবে পাল্টে যাচ্ছে। আগে কৃষিতে যে শক্তির প্রয়োগ হত তার গোটাটাই প্রায় ছিল ভারবাহী পশুশক্তি এবং মানুষের পেশিশক্তি। এখন দেশে কৃষিতে যে শক্তির ব্যবহার হয় তার বড়জোর পাঁচ শতাংশ পশুশক্তি, আরও পাঁচ শতাংশ মানুষের পেশিশক্তি, বাকিটা যন্ত্রশক্তি।
যখন লাঙ্গল করা, গাড়ি টানা, ঘানি এবং পারসিক জলচক্র ইত্যাদির সাহায্যে সেচের কাজে পশুশক্তির বহুল ব্যবহার চালু হয়, তখন বিশুদ্ধ আর্থনীতিক কারণেই গোমাংস ভক্ষণের উপর কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। আজকের পরিবর্তিত অবস্থায় কৃষি ও পশুপালনের মধ্যেকার সম্পর্ক একটা সংকটের মধ্যে পড়েছে। আগে চাষিদের ঘরে এঁড়ে বাছুরগুলোকে নির্বীজকরণ করে বলদ হিসেবে রেখে দেওয়া হত। যেহেতু কৃষিতে বলদের চাহিদা ছিল বিপুল, এঁড়ে বাছুরেরও মর্যাদা ছিল সমধিক। এখন কৃষিতে পশুশক্তির ব্যবহার খুবই কম, ফলে বলদের সেই চাহিদাও এখন অতীত। এঁড়ে গরুগুলোর কী হবে?
কাণ্ডজ্ঞান বলে, গোহত্যা বা গোমাংসভক্ষণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা যে আইনগুলো বিভিন্ন রাজ্যে রয়েছে, এখন ভেবে দেখা দরকার যে সেগুলোর আর কোনও প্রয়োজন আছে কি না। কিন্তু হচ্ছে তার উল্টোটা— গোরক্ষার নামে যে তান্ডব চলছে তা সামাজিক ক্ষেত্র ছাড়াও কৃষিক্ষেত্রেও গভীর সংকট ডেকে আনছে।
ষাটের দশকে আমরা অনেকেই মনে করতাম যে, কৃষকের হাতে জমি দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। ১৯৭৭-৭৮ সালে যখন খাসজমি বণ্টন হল, তখন বিলি করার জন্য পাওয়া জমির তুলনায় প্রাপকের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে দেখা গেল অনেক জমিতে লাঙ্গলই ঘোরে না— কোদাল দিয়ে চাষ করতে হয়। যখন অ-কৃষক মালিকদের হাতে জমি ছিল, সেই সময়ের তুলনায় এই ব্যবস্থায় গোটা রাজ্যেই প্রভূত উৎপাদন বাড়ল, কিন্তু সেটা বিঘা-প্রতি উৎপাদনের হিসেবে। শ্রমদিবস পিছু উৎপাদনের হার খুব একটা বাড়ল না। সেই উৎপাদনের হার বৃদ্ধির জন্য কৃষিতে যন্ত্রশক্তির বিপ্লবটি খুবই প্রয়োজন ছিল।
বর্ণাশ্রম না ভেঙে, ভূমিসংস্কার না করেই ষাটের দশকে ভারতের রাষ্ট্রনায়করা সবুজ বিপ্লবের কথা ভেবেছিলেন। গোড়ায় গলদ। কিন্তু, অস্বীকার করা যাবে না যে তাঁরা কৃষির উন্নয়নে রাষ্ট্রের ভুমিকার কথাটিকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হলেও, রাষ্ট্র কৃষিক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেছিল। কৃষি গবেষণার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছিল। গবেষণার ফসল চাষিদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বহু বীজ-খামার গড়ে তোলা হয়েছিল। ভারতের কৃষি-অর্থনীতির ক্ষেত্রে এই খামারগুলির গুরুত্ব অনেক।
১৯৯০ দশকের গোড়ায় কেন্দ্রীয় সরকার উল্টো পথে হাঁটতে শুরু করে। কৃষিক্ষেত্রে বিনিয়োগ বন্ধ হল। কৃষি গবেষণার কাজ নাকি করবে বহুজাতিক সংস্থাগুলো। তারাই সরবরাহ করবে বীজ, সার, কীটনাশক ও যন্ত্রপাতি। এই সংস্কার কর্মসূচির দু’ দশক পরে আমরা দেখতে পাচ্ছি আমাদের কৃষি এখন হাতে গোনা কয়েকটি বিদেশি বহুজাতিকের মুখাপেক্ষী। কিছু দিন আগে দুটি বড় বহুজাতিক সংযুক্ত হয়ে এক দৈত্যাকার একচেটিয়া ব্যবসায়িক সংস্থার জন্ম হল। সেটা দুনিয়ার বীজ ও কীটনাশকের বাজারের বিপুলাংশই নিয়ন্ত্রণ করবে, ভারতে তাদের প্রায় কোনও প্রতিদ্বন্দ্বীই থাকবে না। এই একচেটিয়া ক্ষমতাকে তারা ব্যবহার করবে বীজ-সার-কীটনাশকের দাম যথেচ্ছ বাড়িয়ে কৃষকদের লুন্ঠন করার কাজে। এর নীট ফল দাঁড়াবে আরও কৃষকের আত্মহত্যা, আর খাদ্য উৎপাদনে আমরা যেটুকু স্বয়ম্ভরতা অর্জন করতে পেরেছি, তা-ও হারানো।
এই আগ্রাসন থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার একমাত্র রাস্তা কৃষিক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা, দেশের চাহিদা ও আবহাওয়ার সঙ্গে সংগতি রেখে বীজ তৈরি করা, বীজ খামারে সে সব বীজের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা, পরীক্ষিত বীজ কৃষকদের সরব্রাহ করা, এবং চাষিদের উৎপন্ন ফসল ন্যায্যমূল্যে কিনে নেওয়া। এ জন্য যেমন প্রচুর কৃষি-গবেষণাগার লাগবে, তেমনই প্রয়োজন হবে অনেক কৃষি খামারের।
ষাটের দশকে যে সব কৃষি খামার গড়ে তোলা হয়েছিল, তাদের মধ্যে একটি ছিল গোয়ালতোড়ে। সেই খামারে এখনও বীজের জন্য কিছু পরিমাণে চাষ হয়, যদিও এর অন্তর্গত এক হাজার একর জমিকে যে-ভাবে বীজ উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা সম্ভব ছিল, সেটা করা হয়নি। অথচ, গোয়ালতোড়কে ঘিরে প্রচুর আলুর চাষ হয়, এবং প্রায়ই খারাপ বীজের কারণে উৎপাদন বিপর্যয় ঘটে। এই খামারটিকে ব্যবহার করে আলু বীজের সমস্যাটাকে ভাল ভাবে মোকাবিলা করা যেত। রাজ্যের আরও অনেক বীজ খামারকে এই রকম নিষ্ফলা ফেলে রাখা হয়েছে, সেগুলিকেও কৃষির উন্নতিতে কাজে লাগানো যেত। বামফ্রন্ট জমানাতেই গোয়ালতোড় কৃষি খামার বন্ধ করে দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা শুরু হয়। ২০১১ তে নতুন সরকার আসার পর এটিকে শিল্প উন্নয়ন নিগমের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, এবং এই জমি ‘ল্যান্ড-ব্যাঙ্কের’ অন্তর্ভুক্ত বলে দাবি করা হচ্ছে।
১৯৮০-র দশকে আংশিক ভূমিসংস্কার ছিল বামফ্রন্টের সাফল্য। কিন্তু সেই সাফল্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে কৃষির উন্নয়নে মনোযোগ দিতে হত। ছোট ছোট ভূমিখণ্ডকে একত্র করার জন্য সমবায় গঠন করা যেত, এবং রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপে কৃষির আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নেওয়া যেত। সীমিত ক্ষমতার মধ্যেও যেটুকু করা যেত, বামফ্রন্ট সেটাও করতে বিফল হয়। আবার বাম-রাজত্বের শেষ দিকে কৃষির আধুনিকীকরণের দায়িত্বটা বহুজাতিকদের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ চলে, যদিও সে-প্রস্তাব তখন কার্যকর হয়নি। এখন তৃণমূল সরকার সেই চুক্তি চাষের পথেই এগোবে বলে ঘোষণা করেছে। প্রস্তাবে ঈষৎ নতুনত্ব আছে, কিন্তু অন্তর্বস্তুতে এটা ঔপনিবেশিক যুগের নীলচাষের থেকে আদৌ আলাদা নয়।
এই পথে, রাজ্যের উন্নয়নের নামে যে ভাবে কৃষি ও শিল্পকে পরস্পর-বিরোধী হিসাবে তুলে ধরা হচ্ছে, শিল্পস্থাপনের অগ্রাধিকার প্রমাণ করার জন্য কৃষিকে যে ভাবে অবহেলা করা হচ্ছে, এবং লুটেরাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে, তার পরিণাম মারাত্মক হতে বাধ্য। শিল্পের প্রয়োজন অনস্বীকার্য, কিন্তু শিল্পায়নের প্রক্রিয়াতে কৃষিকে বিস্মৃত হওয়া চলে না। ইউরোপের যে উদাহরণ তুলে ধরা হয়, সেখানে কিন্তু শিল্পের পাশাপাশি কৃষিরও আধুনিকীকরণ ঘটেছিল। মুলত কৃষির চাহিদা মেটাতে গড়ে তোলা হয়েছিল রাসায়নিক শিল্প। চিলিতে প্রশান্ত মহাসাগর উপকূল জুড়ে শত শত বছর ধরে জমা হওয়া বাদুড়ের মল থেকে গড়ে উঠেছিল সোডিয়াম নাইট্রেটের পাহাড়, কেমিস্ট্রি বইতে যাকে বলা হয় চিলি সল্টপিটার। নিখরচায় পেয়ে যাওয়া সেই উর্বরকের ব্যবহার করে ইউরোপ কৃষি উৎপাদনে বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলে ।
ভারতে কৃষি যে সংকটে পড়েছে তা থেকে বেরোতে গেলে রাষ্ট্রকে কৃষিতে বিনিয়োগ করতেই হবে, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে চাষিদের উন্নত বীজ সরবরাহ করতে আরও অনেক নতুন খামার গড়ে তুলতে হবে। সে কাজটা সহজ নয়, কারণ বীজ খামার করতে জমি লাগে। তাই রাজ্যের হাতে যে বীজ খামারগুলি আছে তার জমি অন্য কাজে ব্যবহার করাটা সামাজিক দৃষ্টিতে অত্যন্ত অদূরদর্শিতার কাজ হবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে কিছু আশা করা বৃথা। সে সরকার এক দিকে গো-রক্ষার নামে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ ঘটাবে, আর অন্য দিকে গোটা কৃষি-ব্যবস্থাটাকে বহুজাতিক একচেটিয়া পুঁজির হাতে তুলে দেবে।
রাজ্যের হাতে ক্ষমতা সীমিত, কিন্তু সেই ক্ষমতাটুকুও বিচক্ষণতার সঙ্গে ব্যবহার করে নতুন দিশা দেখানো যায়। কিন্তু প্রবণতাটি যদি হয় শিল্পের দোহাই দিয়ে পুঁজির একাগ্র আরাধনা, তা হলে কৃষকের সঙ্গে সারা দেশের ভাগ্য-বিপর্যয় এড়ানো কঠিন।
সুত্রঃ আনন্দবাজার
যখন লাঙ্গল করা, গাড়ি টানা, ঘানি এবং পারসিক জলচক্র ইত্যাদির সাহায্যে সেচের কাজে পশুশক্তির বহুল ব্যবহার চালু হয়, তখন বিশুদ্ধ আর্থনীতিক কারণেই গোমাংস ভক্ষণের উপর কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। আজকের পরিবর্তিত অবস্থায় কৃষি ও পশুপালনের মধ্যেকার সম্পর্ক একটা সংকটের মধ্যে পড়েছে। আগে চাষিদের ঘরে এঁড়ে বাছুরগুলোকে নির্বীজকরণ করে বলদ হিসেবে রেখে দেওয়া হত। যেহেতু কৃষিতে বলদের চাহিদা ছিল বিপুল, এঁড়ে বাছুরেরও মর্যাদা ছিল সমধিক। এখন কৃষিতে পশুশক্তির ব্যবহার খুবই কম, ফলে বলদের সেই চাহিদাও এখন অতীত। এঁড়ে গরুগুলোর কী হবে?
কাণ্ডজ্ঞান বলে, গোহত্যা বা গোমাংসভক্ষণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা যে আইনগুলো বিভিন্ন রাজ্যে রয়েছে, এখন ভেবে দেখা দরকার যে সেগুলোর আর কোনও প্রয়োজন আছে কি না। কিন্তু হচ্ছে তার উল্টোটা— গোরক্ষার নামে যে তান্ডব চলছে তা সামাজিক ক্ষেত্র ছাড়াও কৃষিক্ষেত্রেও গভীর সংকট ডেকে আনছে।
ষাটের দশকে আমরা অনেকেই মনে করতাম যে, কৃষকের হাতে জমি দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। ১৯৭৭-৭৮ সালে যখন খাসজমি বণ্টন হল, তখন বিলি করার জন্য পাওয়া জমির তুলনায় প্রাপকের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে দেখা গেল অনেক জমিতে লাঙ্গলই ঘোরে না— কোদাল দিয়ে চাষ করতে হয়। যখন অ-কৃষক মালিকদের হাতে জমি ছিল, সেই সময়ের তুলনায় এই ব্যবস্থায় গোটা রাজ্যেই প্রভূত উৎপাদন বাড়ল, কিন্তু সেটা বিঘা-প্রতি উৎপাদনের হিসেবে। শ্রমদিবস পিছু উৎপাদনের হার খুব একটা বাড়ল না। সেই উৎপাদনের হার বৃদ্ধির জন্য কৃষিতে যন্ত্রশক্তির বিপ্লবটি খুবই প্রয়োজন ছিল।
বর্ণাশ্রম না ভেঙে, ভূমিসংস্কার না করেই ষাটের দশকে ভারতের রাষ্ট্রনায়করা সবুজ বিপ্লবের কথা ভেবেছিলেন। গোড়ায় গলদ। কিন্তু, অস্বীকার করা যাবে না যে তাঁরা কৃষির উন্নয়নে রাষ্ট্রের ভুমিকার কথাটিকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হলেও, রাষ্ট্র কৃষিক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেছিল। কৃষি গবেষণার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছিল। গবেষণার ফসল চাষিদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বহু বীজ-খামার গড়ে তোলা হয়েছিল। ভারতের কৃষি-অর্থনীতির ক্ষেত্রে এই খামারগুলির গুরুত্ব অনেক।
১৯৯০ দশকের গোড়ায় কেন্দ্রীয় সরকার উল্টো পথে হাঁটতে শুরু করে। কৃষিক্ষেত্রে বিনিয়োগ বন্ধ হল। কৃষি গবেষণার কাজ নাকি করবে বহুজাতিক সংস্থাগুলো। তারাই সরবরাহ করবে বীজ, সার, কীটনাশক ও যন্ত্রপাতি। এই সংস্কার কর্মসূচির দু’ দশক পরে আমরা দেখতে পাচ্ছি আমাদের কৃষি এখন হাতে গোনা কয়েকটি বিদেশি বহুজাতিকের মুখাপেক্ষী। কিছু দিন আগে দুটি বড় বহুজাতিক সংযুক্ত হয়ে এক দৈত্যাকার একচেটিয়া ব্যবসায়িক সংস্থার জন্ম হল। সেটা দুনিয়ার বীজ ও কীটনাশকের বাজারের বিপুলাংশই নিয়ন্ত্রণ করবে, ভারতে তাদের প্রায় কোনও প্রতিদ্বন্দ্বীই থাকবে না। এই একচেটিয়া ক্ষমতাকে তারা ব্যবহার করবে বীজ-সার-কীটনাশকের দাম যথেচ্ছ বাড়িয়ে কৃষকদের লুন্ঠন করার কাজে। এর নীট ফল দাঁড়াবে আরও কৃষকের আত্মহত্যা, আর খাদ্য উৎপাদনে আমরা যেটুকু স্বয়ম্ভরতা অর্জন করতে পেরেছি, তা-ও হারানো।
এই আগ্রাসন থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার একমাত্র রাস্তা কৃষিক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা, দেশের চাহিদা ও আবহাওয়ার সঙ্গে সংগতি রেখে বীজ তৈরি করা, বীজ খামারে সে সব বীজের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা, পরীক্ষিত বীজ কৃষকদের সরব্রাহ করা, এবং চাষিদের উৎপন্ন ফসল ন্যায্যমূল্যে কিনে নেওয়া। এ জন্য যেমন প্রচুর কৃষি-গবেষণাগার লাগবে, তেমনই প্রয়োজন হবে অনেক কৃষি খামারের।
ষাটের দশকে যে সব কৃষি খামার গড়ে তোলা হয়েছিল, তাদের মধ্যে একটি ছিল গোয়ালতোড়ে। সেই খামারে এখনও বীজের জন্য কিছু পরিমাণে চাষ হয়, যদিও এর অন্তর্গত এক হাজার একর জমিকে যে-ভাবে বীজ উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা সম্ভব ছিল, সেটা করা হয়নি। অথচ, গোয়ালতোড়কে ঘিরে প্রচুর আলুর চাষ হয়, এবং প্রায়ই খারাপ বীজের কারণে উৎপাদন বিপর্যয় ঘটে। এই খামারটিকে ব্যবহার করে আলু বীজের সমস্যাটাকে ভাল ভাবে মোকাবিলা করা যেত। রাজ্যের আরও অনেক বীজ খামারকে এই রকম নিষ্ফলা ফেলে রাখা হয়েছে, সেগুলিকেও কৃষির উন্নতিতে কাজে লাগানো যেত। বামফ্রন্ট জমানাতেই গোয়ালতোড় কৃষি খামার বন্ধ করে দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা শুরু হয়। ২০১১ তে নতুন সরকার আসার পর এটিকে শিল্প উন্নয়ন নিগমের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, এবং এই জমি ‘ল্যান্ড-ব্যাঙ্কের’ অন্তর্ভুক্ত বলে দাবি করা হচ্ছে।
১৯৮০-র দশকে আংশিক ভূমিসংস্কার ছিল বামফ্রন্টের সাফল্য। কিন্তু সেই সাফল্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে কৃষির উন্নয়নে মনোযোগ দিতে হত। ছোট ছোট ভূমিখণ্ডকে একত্র করার জন্য সমবায় গঠন করা যেত, এবং রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপে কৃষির আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নেওয়া যেত। সীমিত ক্ষমতার মধ্যেও যেটুকু করা যেত, বামফ্রন্ট সেটাও করতে বিফল হয়। আবার বাম-রাজত্বের শেষ দিকে কৃষির আধুনিকীকরণের দায়িত্বটা বহুজাতিকদের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ চলে, যদিও সে-প্রস্তাব তখন কার্যকর হয়নি। এখন তৃণমূল সরকার সেই চুক্তি চাষের পথেই এগোবে বলে ঘোষণা করেছে। প্রস্তাবে ঈষৎ নতুনত্ব আছে, কিন্তু অন্তর্বস্তুতে এটা ঔপনিবেশিক যুগের নীলচাষের থেকে আদৌ আলাদা নয়।
এই পথে, রাজ্যের উন্নয়নের নামে যে ভাবে কৃষি ও শিল্পকে পরস্পর-বিরোধী হিসাবে তুলে ধরা হচ্ছে, শিল্পস্থাপনের অগ্রাধিকার প্রমাণ করার জন্য কৃষিকে যে ভাবে অবহেলা করা হচ্ছে, এবং লুটেরাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে, তার পরিণাম মারাত্মক হতে বাধ্য। শিল্পের প্রয়োজন অনস্বীকার্য, কিন্তু শিল্পায়নের প্রক্রিয়াতে কৃষিকে বিস্মৃত হওয়া চলে না। ইউরোপের যে উদাহরণ তুলে ধরা হয়, সেখানে কিন্তু শিল্পের পাশাপাশি কৃষিরও আধুনিকীকরণ ঘটেছিল। মুলত কৃষির চাহিদা মেটাতে গড়ে তোলা হয়েছিল রাসায়নিক শিল্প। চিলিতে প্রশান্ত মহাসাগর উপকূল জুড়ে শত শত বছর ধরে জমা হওয়া বাদুড়ের মল থেকে গড়ে উঠেছিল সোডিয়াম নাইট্রেটের পাহাড়, কেমিস্ট্রি বইতে যাকে বলা হয় চিলি সল্টপিটার। নিখরচায় পেয়ে যাওয়া সেই উর্বরকের ব্যবহার করে ইউরোপ কৃষি উৎপাদনে বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলে ।
ভারতে কৃষি যে সংকটে পড়েছে তা থেকে বেরোতে গেলে রাষ্ট্রকে কৃষিতে বিনিয়োগ করতেই হবে, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে চাষিদের উন্নত বীজ সরবরাহ করতে আরও অনেক নতুন খামার গড়ে তুলতে হবে। সে কাজটা সহজ নয়, কারণ বীজ খামার করতে জমি লাগে। তাই রাজ্যের হাতে যে বীজ খামারগুলি আছে তার জমি অন্য কাজে ব্যবহার করাটা সামাজিক দৃষ্টিতে অত্যন্ত অদূরদর্শিতার কাজ হবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে কিছু আশা করা বৃথা। সে সরকার এক দিকে গো-রক্ষার নামে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ ঘটাবে, আর অন্য দিকে গোটা কৃষি-ব্যবস্থাটাকে বহুজাতিক একচেটিয়া পুঁজির হাতে তুলে দেবে।
রাজ্যের হাতে ক্ষমতা সীমিত, কিন্তু সেই ক্ষমতাটুকুও বিচক্ষণতার সঙ্গে ব্যবহার করে নতুন দিশা দেখানো যায়। কিন্তু প্রবণতাটি যদি হয় শিল্পের দোহাই দিয়ে পুঁজির একাগ্র আরাধনা, তা হলে কৃষকের সঙ্গে সারা দেশের ভাগ্য-বিপর্যয় এড়ানো কঠিন।
সুত্রঃ আনন্দবাজার
Subscribe to:
Posts (Atom)