Friday, May 6, 2016

রোদে হিট স্ট্রোক হতে পারে গরুর

  • Share The Gag
  • গরমে গবাদি পশু-পাখিরা মহা বিপদে। মুখ ফুটে কিছু বলতে পারে না বলে ওদের সমস্যাটা বেশি। কখনও টানা রোদ, কখনও জলের অভাবে প্রাণ ওষ্ঠাগত। গরমে অধিকাংশ জলাশয়ের জল শুকিয়ে এসেছে। গা ডুবিয়ে স্নান তো দূর, জলপানের জন্য ঠোঁটও ডুবছে না কোথাও কোথাও। এছাড়া হিট স্ট্রোক, নাক দিয়ে রক্ত পড়া, পেট ফোলা উপসর্গ দেখা যায়।

    হিট স্ট্রোক

     এই সময় গ্রামাঞ্চলে গবাদি পশুকে মাঠে চরালে বা বলদকে হালচাষের জন্য ব্যবহার করলে টানা রোদে সান স্ট্রোক বা হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা থাকে।  খুব গরম হাওয়া বইছে যখন, তখন গবাদি পশুকে বেঁধে রাখলেও হিট স্ট্রোক হতে পারে।


    হিট স্ট্রোক হলে দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা প্রচণ্ড বেড়ে যায়, মুখ দিয়ে লালা পড়ে, শ্বাস-প্রশ্বাস বেড়ে যায় এবং অনেক সময় প্রাণীটি মারা যায়।

    বাঁচাতে চাইলে দ্রুত ওই প্রাণীকে ঠান্ডা জায়গায় নিয়ে গিয়ে ঠান্ডা জলে স্নান করাতে হবে। বিশেষ করে মাথায় ঠান্ডা জল ঢালতে হবে। মাথায় বরফ ঘষলেও ভাল ফল পাওয়া যায়। দেহের তাপমাত্রা কিছুক্ষণ অন্তর মেপে দেখতে হবে কমল কি না।

    অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ এবং লারগাকটিল জাতীয় ইনজেকশন দিলে তাপমাত্রা কিছুটা কমে যায়। অনেকক্ষণ ধরে প্রাণীটির প্রস্রাব না হলে নর্মাল স্যালাইন বা রিনগার ল্যাকটেট জাতীয় স্যালাইন নির্দিষ্ট মাত্রায় শিরাতে ইনজেকশন দিলে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে আক্রান্ত প্রাণী।

    নাক দিয়ে রক্ত

    প্রচণ্ড দাবদাহে অনেক সময় গরু-মোষের নাকের শিরা ছিঁড়ে গিয়ে বা নাকের গর্ত থেকে রক্ত ঝরতে পারে। কখনও অল্প কখনও বা বেশি। এটা বন্ধ করার জন্য প্রাণীর মাথায় ও নাকের উপরে প্রচুর পরিমাণে ঠান্ডা জল ঢালতে হবে এবং নাসারন্ধ্রে এপিনেফ্রিন সলিউশন (১:৫০,০০০) ফোঁটা ফোঁটা করে বা তুলোয় ভিজিয়ে লাগাতে হবে। ফিটকিরির জল স্প্রে বা অ্যাড্রিনালিন দ্রবণ গজে ভিজিয়ে নাকের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখা যেতে পারে। রক্ত বন্ধ হওয়ার ওষুধ যেমন ক্রোমোস্ট্যাট ইনজেকশন (গরু, মহিষ ১৫-২০ মিলি/ ছাগল, ভেড়া ২-৫ মিলি) দিতে হবে। ভিটামিন কে ইনজেকশন ও ক্যালসিয়াম (বোরোগ্লুকোনেট) দেওয়া যেতে পারে রক্তপাত বেশি হলে।

    ছায়ায় রাখুন

    প্রতি দিন সকাল ১০-১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত গবাদি পশু-পাখিকে বেঁধে রাখার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কোনও ভাবেই চড়া রোদে  বেঁধে রাখা যাবে না। ছায়াযুক্ত জায়গা বাছতে হবে এবং সময়ের সঙ্গে ছায়া কোন দিকে সরছে, সেটাও মাথায় রাখতে হবে। প্রাণী রোদে থাকলে তাকে ছায়ায় আনার আধ ঘণ্টা পর জল খাওয়াতে হবে। সঙ্গে-সঙ্গে নয়।

    পরিষ্কার জল

    এই সময় গবাদি পশু-পাখিকে নালা-নর্দমা বা পুকুরের জল না দিয়ে পরিষ্কার জীবাণুমুক্ত জল খেতে দিতে হবে। সেটা একান্ত না পারলে নালা পুকুরের জলকে থিতিয়ে নিয়ে পরিমাণ মতো ফিটকিরি বা পটাশ দিয়ে শোধন করে নিতে হবে।

    হাঁস-মুরগি

    • মুক্তাঙ্গন প্রথায় পালিত হাঁস-মুরগির ক্ষেত্রেও জীবাণুমুক্ত অবস্থায় পরিষ্কার খাবার -জল সরবরাহ করতে হবে। দুপুর বেলা যতটা সম্ভব ছায়ায় রাখার চেষ্টা করতে হবে।

    • ব্রয়লার,ডিম পাড়া মুরগি ডিপলিটার পদ্ধতিতে পালন করলে ঘরে ফ্যান লাগিয়ে দিন।

    •স্যালাইন বা গুড়-লবণ মিশ্রিত  জল দিনের বেলায় দেওয়া দরকার।

    •খামারের চারপাশে পর্যাপ্ত গাছ লাগালে ভাল ছায়া মেলে।

    •গবাদি পশু-পাখির ঘর স্বল্প খরচে টালি আর খড় দিয়ে বানালে বেশি ঠান্ডা থাকে।

    এই রকম গরম প্রতি বছরই হবে। তাই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষতি এড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ।

    [paypal_donation_button]

    প্রত্যেক গ্রামে মৎস্য উন্নয়ন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে

  • Share The Gag
  • মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. ছায়েদুল হক বলেছেন, ‘প্রত্যেক গ্রামে মৎস্য উন্নয়ন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।’

    বুধবার রাজধানী ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের সুরমা মিলনায়তনে ‘বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে ইলিশ মাছের টেকসই ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক দুই দিনের আঞ্চলিক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    বাংলাদেশ মদস্য অধিদফতর, আইআিইডি, বিসিএএস এবং বিএইউ যৌথভাবে এ সেমিনার আয়োজন করে।

    ছায়েদুল হক বলেন, ‘এখন ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য উন্নয়ন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি গ্রামে মৎস্য উন্নয়ন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।’

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন আর দরিদ্র দেশ নয়। প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। বিশ্বের অনেক দেশ এগিয়ে যাওয়ার জন্য শেখ হাসিনাকে অনুসরণ করছে।’

    ভারত ও মায়ানমারের প্রতিনিধিদের উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, ‘সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া ইলিশ সংরক্ষণ সম্ভব নয়। ভারত, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মানুষকেই ইলিশ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।’

    বক্তব্য দেন, মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. সৈয়দ আরিফ আজাদ, মিয়ানমারের প্রতিনিধি ড. কিন মং সো, ভারতের ড. উৎপল ভৌমিক, বাংলাদেশের ড. ইশাম ইয়াসিন মোহাম্মদ, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান মিহির কান্তি মজুমদার ও প্রফেসর ড. এম এ ওহাব।

    স্বাগত বক্তব্য দেন সিনিয়র ফেলো মো. লিয়াকত আলী। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক ড. এ আতিক রহমান।

    [paypal_donation_button]

    সোর্স-দ্য রিপোর্ট

    Wednesday, May 4, 2016

    পাবদা মাছ চাষ

  • Share The Gag
  • পাবদা মাছ চাষ

    পুকুর নির্বাচন
    • এ মাছ চাষের জন্য ৭-৮ মাস পানি থাকে এ রকম ১৫-২০ শতাংশের পুকুর/জলাশয় নির্বাচন করা যায়।
    • পুকুরটি বন্যামুক্ত এবং পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

    পুকুর প্রস্তুতি, পোনা মজুদ,খাদ্য ও সার প্রয়োগ

    •  পুকুরের পাড় মেরামত জলজ আগাছা পরিষ্কার করার পর শতাংশে ১কেজি হারে চুন প্রয়োগ করতে হবে।
    •  চুন প্রয়োগের ৩ দিন পর প্রতি শতাংশে ৭-৮ কেজি গোবর প্রয়োগ করতে হবে।
    •  শতাংশ প্রতি ৩-৪ গ্রাম ওজনের সুস্থ্য-সবল ২০০-২৫০ টি পোনা মজুদ করা যাবে।
    •  সম্পুরক খাদ্য হিসেবে দেহ ওজনের ৫-১০ ভাগ হারে ২৫-৩০% আমিষ সমৃদ্ধ খাবার প্রতিদিন ২ বার প্রয়োগ করতে হবে।
    •  প্রাকৃতিক খাবার উৎপাদনের জন্য ১৫ দিন অন্তর ৪ কেজি গোবর সার প্রয়োগ করা যেতে পারে।

    মাছ আহরণ ও উৎপাদন  

    • ৭-৮ মাসের মধ্যে ৩০-৩৫ গ্রাম ওজনের হলে মাছ আহরণ করা যাবে।
    • আধা-নিবিড় পদ্ধতিতে একক চাষের মতাংশে ১৪-১৫ কেজি মাছ উৎপাদন করা যেতে পারে

     

    শিং-মাগুর ও কৈ মাছ চাষ

  • Share The Gag
  • বাংলাদেশে শিং-মাগুর ও কৈ অত্যন্ত সুস্বাদু  এবং পুষ্টিকর মাছ হিসেবে বহুল আলোচিত ও সমাদৃত। কিন্তু জলজ পরিবেশের আনুকূল্যের অভাব এবং অতিরিক্ত আহরণজনিত কারণে এসব মাছ অধুনা বিলুপ্তির পথে। এসব মাছ বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষার্থে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা কার্যক্রম শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে আশাব্যঞ্জক সাফল্য অর্জন করেছে। ফলে এ জাতীয় মাছ বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষার উজ্জ্বল সম্ভাবনার দ্বারোদঘাটন হয়েছে।




    ক. এ মাছ অত্যন্ত পুষ্টিকর ও সুস্বাদু
    খ. অধিক সংখ্যক মাছ এক সঙ্গে চাষ করা যায়।
    গ. স্বল্প গভীর পানিতে নিরাপদে চাষ করা সম্ভব।
    ঘ. অন্যান্য মাছের তুলনায় এ মাছের চাহিদা ও বাজার মূল্য অনেক বেশি।
    ঙ. অতিরিক্ত শ্বাসনালী থাকায় বাতাস থেকে অঙিজেন নিয়ে এরা দিব্যি বেঁচে থাকতে পারে।    ফলে, জীবন্ত অবস্থায় বাজারজাত করা যায়।
    চ. কৃত্রিম প্রজনন কৌশল উদ্ভাবনের ফলে পর্যাপ্ত পরিমাণে পোনা উৎপাদন সম্ভব।
    ছ. রোগীর পথ্য হিসেবে এ মাছের চাহিদা ব্যাপক।


    এ প্রেক্ষাপটে প্রথমে শিং মাছের ওপর সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করা হলো-


    শিং মাছ
    আবাসস্থল:
    খাল-বিল, হাওর-বাঁওড়, পুকুর-দীঘি, ডোবানালা, প্লাবনভূমি ইত্যাদি। এঁদো, কর্দমাক্ত মাটি, গর্ত, গাছের গুঁড়ির তলা ইত্যাদি জায়গায় এরা সহজেই বসবাস করতে পারে। আগাছা, কচুরিপনা, পচা পাতা, ডালপালা ঘেরা জলাশয়ে বাস করতে এদের আদৌ কোন সমস্যা হয় না।


    খাদ্য গ্রহণ প্রবণতা:
    রেণুপর্যায়ে আর্টেমিয়া, জু-প্লাঙ্কটন, ক্ষুদ্রজলজ পোকামাকড় ইত্যাদি। বায়োপ্রাপ্ত অবস্থায়- জলজ পোকা-মাকড়, ক্ষুদ্র চিংড়ি ও মাছ, ডেট্রিটাস পচনরত প্রাণিজ দ্রব্যাদি।


    পরিপক্বতা : এ মাছ বছরে একবার প্রজনন করে থাকে এবং প্রথম বছরেই পরিপক্বতা অর্জন করে। প্রজননকাল মে থেকে সেপ্টেম্বর মাস।


    চাষ ব্যবস্থাপনা : ১.০ থেকে ১.৫ মিটার গভীরতা বিশিষ্ট পুকুর এ মাছ চাষের জন্য উপযোগী। সম্ভব হলে পুকুরের পানি শুকিয়ে পাড় মেরামত করে নিতে হবে। পুকুরপ্রতি শতাংশে ১ কেজি চুন, ১০ কেজি গোবর, ১০০ গ্রাম ইউরিয়া ও ১০০ গ্রাম টিএসপি সার প্রয়োগ করতে হবে। পুকুরে প্রতি শতাংশ ৪-৬ সেমি.? দৈর্ঘ্যের সুস্থ-সবল ২০০ থেকে ২৫০টিপোনা মজুদ করা যেতে পারে।


    সম্পূরক খাদ্য সরবরাহ: চালের কুঁড়া শতকরা ৪০ ভাগ?তৈলবীজের?খৈল ৩০ ভাগ ও শুঁটকি ৩০ ভাগ একত্রে মিশিয়ে গোলাকারে বল তৈরি করে মাছকে সবররাহ করতে হবে। এছাড়া শামুক-ঝিনুকের গোশতও মাছকে খাওয়ানো যেতে পারে।


    খাদ্য প্রয়োগের মাত্রা:মজুদকৃত মাছের মোট ওজনের ৪-৫% হারে?দৈনিক দুইবার খাদ্য প্রদান করতে হয়। যথাযথ পদ্ধতিতে পরিচর্যা করা সম্ভব হলে ৬-৮ মাসে শিং মাছ বাজারজাত করার উপযোগী সাইজে উন্নীত হয়ে থাকে।


    সম্ভাব্যআয়: এক চাষ মৌসুমে ব্যবস্থাপনা খরচ বাদে প্রতি শতাংশে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা আয় করা সম্ভব।


     






    আবাসস্থল :খালবিল, হাওর-বাঁওড়, ডোবানালা, পুকুর, প্লাবনভূমি ইত্যাদি। এ মাছ এঁদো, কর্দমাক্ত মাটি, গাছের গুঁড়ির তলা, গর্ত ইত্যাদি জায়গায় বসবাস করতে পছন্দ করে। স্রোতহীন আবদ্ধ পানিতে এদের সচরাচর দেখা যায়। কচুরিপানা, পচাপাতা আগাছ বেষ্টিত জায়গায় এদের স্বচ্ছন্দে বসবাস লক্ষ্য করা যায়।


    খাদ্যগ্রহণপ্রবণতা: এদের খাদ্য গ্রহণ প্রবণতা শিং মাছের মতোই।


    পরিপক্বতা: এ মাছ বছরে একবার প্রজনন করে থাকে। প্রজননকালে মে থেকে আগস্ট মাস।


    চাষ ব্যবস্থাপনা:
    ১.০ থেকে ১.৫ মিটার গভীরতা বিশিষ্ট পুকুর এ মাছ চাষের জন্য উপযোগী, পুকুরের পানি শুকিয়ে পাড় মেরামত করে নিতে হবে। প্রতি শতাংশে ১ কেজি চুন, ১০ কেজি গোবর, ১০০ গ্রাম ইউরিয়া, ১০০ গ্রাম টিএসপি সার প্রয়োগ করে পুকুর প্রস্তুতিপর্ব সম্পন্ন করতে হয়। ৪-৬ সেমি.?দৈর্ঘ্যের সুস্থ-সবল পোনা পুকুরে মজুদ করা উত্তম। শতাংশপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০টি পোনা মজুদ করা যেতে পারে। শিং মাছের মতো মাগুর মাছকেও মাছের মোট ওজনের ৪-৫% হারে?দৈনিক দুইবার খাবার সরবরাহ করতে হবে।


    মাগুর
    মাছের খাবার হিসেবে শিং মাছের অনুরূপ উপকরণাদিসহ?তৈরি সম্পূরক খাদ্য?দৈনিক  দু’বার যথারীতি প্রদান করতে হবে। যথা নিয়মে মাছের পরিচর্যা করা সম্ভব হলে  ৮-১০ মাসেই মাগুর মাছ বাজারজাত করার উপযোগী সাইজে উন্নীত হয়ে থাকে।


    সম্ভাব্য আয় : এক চাষ মৌসুমে মাগুর মাছ চাষ করে ব্যবস্থাপনা খরচাদি বাদে শতাংশ প্রতি ১০০ থেকে ১,৫০০ টাকা আয় করা সম্ভব।


    ড্রাম সিডার

  • Share The Gag
  • ড্রাম সিডারের বিবরণ : এটি প্লাস্টিকের তৈরি ছয়টি ড্রাম বিশিষ্ট বীজ বপন যন্ত্র। ড্রামগুলো ২.৩ মিটার লম্বা লোহার দণ্ডে পরপর সাজানো থাকে। লোহার দণ্ডের দুই প্রান্তে প্লাস্টিকের তৈরি দু’টি চাকা এবং যন্ত্রটি টানার জন্য একটি হাতল যুক্ত থাকে। প্রতিটি ড্রামের দৈর্ঘ্য ২৫ সেন্টিমিটার এবং ব্যাস ৫৫ সেন্টিমিটার এবং এর দুই প্রান্তে ২০ সেন্টিমিটার দূরত্বে দুই সারি ছিদ্র আছে। প্রয়োজনে রাবারের তৈরি সংযুক্ত বেল্টের সাহায্যে এক সারি ছিদ্র বন্ধ রাখা যায়।






    • কাদাময় জমিতে ড্রাম সিডার দিয়ে সারি করে সরাসরি বীজ বপন ধান চাষাবাদের একটি সহজ প্রযুক্তি। এ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি, চারা উত্তোলন ও রোপণ করতে হয় না বিধায় সময়, শ্রম ও উৎপাদন ব্যয় বহুলাংশে কমানো সম্ভব।






    • জমি ও পরিবেশ ভেদে আউশ, আমন ও বোরো তিন মৌসুমেই এ প্রযুক্তিতে ধান চাষ করা যাবে, তবে আউশ ও বোরো মৌসুমে এটি বেশি উপযোগী।






    • ড্রাম সিডার দিয়ে বোনা ধানের ফলন রোপা ধানের তুলনায় শতকরা ১০-২০ ভাগ বেশি হতে পারে।






    • যন্ত্রটি হালকা বলে সহজে বহনযোগ্য। একজন লোক ঘণ্টায় অন্তত ১ বিঘা জমিতে বীজ বপন করতে পারে।





    • এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে ফসল রোপা পদ্ধতির চেয়ে ১০-১৫ দিন আগে পাকে।



    জমি তৈরি ও বীজ বপন : ধান রোপণের জন্য জমি যেভাবে কাদা করতে হয় সেভাবেই জমি উত্তমরূপে চাষ ও মই দিয়ে কাদাময় করে নিতে হবে। জমি সমতল করতে হবে, বীজ বপনের সময় যেন কোথাও পানি দাঁড়িয়ে না থাকে। ভালো বীজ ২৪ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে পরে ২-৪ দিন (মৌসুমের তাপমাত্রা কম-বেশির উপর নির্ভরশীল) জাগ দিয়ে ভালোভাবে অঙ্কুরিত করে নিতে হবে। অঙ্কুর খুব ছোট হলে অতিরিক্ত বীজ পড়ে যাবে, আবার অঙ্কুর বেশি লম্বা হলে ড্রামের ছিদ্র দিয়ে পড়বে না। সাধারণত অঙ্কুরের দৈর্ঘ্য ৪-৫ মিলিমিটার অর্থাৎ একটি ধানের সমান লম্বা হলেই ভালো হয়। ড্রামে বীজ ভরার আগে অঙ্কুরিত বীজ ১-২ ঘণ্টা ছায়ায় ছড়িয়ে দিয়ে বাতাসে শুকিয়ে নিলে ভালো হবে। বোনার সময় চাকার পেছনে ২-৩ ফুট লম্বা চিকন এক খণ্ড কলা গাছ বেঁধে নিলে (হালকা মই হিসেবে) জমিতে পায়ের দাগ বা গর্ত মুছে যাবে এবং কিছু বীজের অপচয়ও রোধ হবে।

    অঙ্কুরিত বীজ ড্রামে ভরার সময় লক্ষ রাখতে হবে যেন ড্রামের এক-তৃতীয়াংশ অবশ্যই খালি থাকে। ড্রামের গায়ে আঁকা ত্রিভুজাকৃতি চিহ্ন যেন সবসময় সামনের দিকে থাকে। সাধারণত একক ঘন সারিতে বীজ বপন করা উত্তম এবং এতে বিঘাপ্রতি ৩.৫-৪.০ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়।


    মৌসুম ও বপনের সময় : বোরো মৌসুমে নভেম্বরের শেষ থেকে ডিসেম্বর মাসের প্রথমার্ধে বীজ বপন করতে হবে। আমন মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের সুযোগ আছে এমন মাঝারি উঁচু জমিতে জুনের শেষার্ধ থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত এ পদ্ধতিতে বীজ বোনা যায়। তবে বীজ বপনের অন্তত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই এমন সময় বেছে নিতে হবে। কারণ বপনের পরপর ভারী বৃষ্টি হলে বীজের সারি ও বীজ এলোমেলো হয়ে যেতে পারে।





    পরিচর্যা : সার ব্যবস্থাপনা রোপা পদ্ধতির মতো। তবে ইউরিয়া সার এলসিসি ভিত্তিক প্রয়োগ করা যেতে পারে। বপনের প্রথম ৪-৫ দিন জমিতে পানির প্রয়োজন নেই। মাটি ভিজা থাকলেই চলবে। পরে গাছের বৃদ্ধির সাথে খাপ খাইয়ে প্রথমে ছিপছিপে পানি এবং গাছ কিছুটা বড় হয়ে গেলে রোপা পদ্ধতির অনুরূপ পানির ব্যবস্থাপনা করতে হবে। রোপণ পদ্ধতির চেয়ে সরাসরি ধান বোনা পদ্ধতিতে আগাছার প্রাদুর্ভাব বেশি হয়। ড্রাম সিডারে সারিতে বপন হওয়ায় নিড়ানি বা উইডার দিয়ে আগাছা দমন সহজ হয়। এ ক্ষেত্রে ব্রি-উইডার বেশি উপযোগী। তবে উইডার প্রয়োগের পরে হাত দিয়ে সারির ভেতরের আগাছা পরিষ্কার করা দরকার। আগাছা দমনের জন্য আগাছানাশকও ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে বোরো মৌসুমে বীজ বপনের ৭-১০ দিন এবং আমন ও আউশ মৌসুমে ৪-৬ দিনের মধ্যে জমিতে ২০-২৫ মিলিলিটার রনস্টার অথবা ১০-১২ মিলিলিটার রিফিট ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রতি ৫ শতাংশ জমিতে সমানভাবে স্প্রে করতে হবে। জমিতে ছিপছিপে দাঁড়ানো পানি থাকা অবস্থায় আগাছানাশক প্রয়োগ করতে হবে এবং পরের ৩-৫ দিন অবশ্যই ছিপছিপে পানি রাখতে হবে। অধিকন্তু নিরাপদ আগাছানাশক ব্যবহার করার জন্য আগাছানাশকের বোতল/প্যাকেটের গায়ে লেখা নির্দেশাবলী ও সতর্কবাণী মেনে চলতে হবে।

    [paypal_donation_button]



     

    কম্পোস্ট ব্যবহারের উপকারিতা

  • Share The Gag




    • বর্তমানে জমিতে অধিক উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রচুর পরিমানে রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয়।






    • তবে ব্যাপকহারে এ রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে জমিতে এর বিরূপ প্রভাব ও পড়ে ।






    • সাথে সাথে জমিতে জৈব পদার্থ ও উপকারী অনুজীবের পরিমান হ্রাস পেতে থাকে।






    • এছাড়া জমির পুষ্টি উপাদানের মাত্রা ও ক্রমশ কমে যেতে থাকে। এজন্য জমিতে কম্পোষ্ট ব্যবহার খুবই প্রয়োজনীয়








    যেসব উপাদান দিয়ে কম্পোস্ট তৈরি করা যায়, তা হলো-




    • ফসলের অবশিষ্টাংশ






    • কচুরীপানা






    • সবজি বা ফলের খোসা






    • আগাছা






    • বসতবাড়ির ময়লা আবর্জনা ও






    • খড়কুটা






    কম্পোস্ট ব্যবহারে-


    ১.    মাটির পুষ্টিমান বৃদ্ধি করে ও মাটিকে সমৃদ্ধ করে।


    ২.    বেলে মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং পুষ্টি উপাদান যুক্ত করে।


    ৩.    এটেল মাটিকে ঝুরঝুরে করে ও এর বায়ুচলাচল বৃদ্ধি করে।


    ৪.    সবজি ফসলে মালচিং এর কাজ করে।


    ৫.    ভূমিক্ষয় রোধ করতে সহায়তা করে।


    ৬.    মাটিতে উপকারী অনুজীবের কার্যক্রম বৃদ্ধি করে।


    ৭.    মাটির পি-এইচ বা রাসায়নিক বিক্রিয়ার মান নিরপেক্ষ রাখতে সহায়তা করে।


    ৮.    পট অথবা টবের মাটির সহিত কম্পোস্ট ব্যবহার করে চারা রোপন করা হয়।


    [paypal_donation_button]

    কেচোঁ কম্পোস্ট (ভার্মি কম্পোস্ট)

  • Share The Gag
  • কেচোঁ মানুষের একটি অন্যতম উপকারী প্রাকৃতিক ক্ষুদ্র প্রাণী। এ প্রাণী যে মাটি চাষাবাদের কাজে উপকারে আসে তা আমরা গুরুত্ব দিয়ে চিন্তা করিনি। প্রধানত কেচোঁ উপরের মাটি নিচে এবং নিচের মাটি উপরে তুলে থাকে। এসব কাজের সাথেই কেচোঁর সারও তৈরি হয়। কেচোঁর দ্বারা জৈব সার তৈরির জন্য এ সাথে তরকারির খোসা, গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা ও নাড়িভুড়ি, পাতাসহ পচা আবর্জনারও প্রয়োজন হয়।




    কেচোঁ কম্পোস্ট তৈরি করতে হলে প্রথমে গর্ত তৈরি করতে হয়। এরপর এসব গর্তে ঘাস, আমের পাতা বা খামারের ফেলে দেয়া অংশ এসবের যেকোনো একটি ছোট ছোট করে কেটে এর প্রায় ২৫ কেজি হিসেবে নিতে হয়।




    তবে বসেব আবর্জনা গর্তে ফেলার আগে গর্তেও তলদেশসহ চারপাশে পলিথিন দিয়ে মুড়ে দিতে হবে। এতে করে গর্তের কেচোঁ পিট থেকে বাইরে যেতে পারবে না।




    কেচোঁ কম্পোস্ট তৈরির জন্য প্রথমেই পলিথিন বিছানোর পরে গর্তের নিচে ১৫ সে. মিটার পুরু করে বেড বানাতে হবে। এ বেড তৈরির জন্য ভাল মাটি ও গোবর সমপরিমাণে মিশাতে হবে এবং এসব মিশানো গোবর ও মাটি পরে কেচোঁর খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।


    সাধারণত এসব কম্পোস্ট তৈরির কাজে দুই ধরনের কেচোঁর জাত রয়েছে। তাহলো-এপিজিক ও এন্ডোজিক নামের। এপিজিক জাতগুলো দেখতে লাল রংঙের এরা মাটির উপরের স্তরেই বিচরণ করে থাকে। এরা সাধারণত সার উৎপাদন করতে পারে না তবে এরা মাটির ভৌত ও জৈব গুণাবলির উন্নতি করে।

    কেচোঁ কম্পোস্ট তৈরির জন্য এসব গর্ত গোবর ও মাটি দিয়ে ভর্তি করার পর এতে প্রায় ২ হাজার কেচোঁ প্রয়োগ করতে হয়। কেচোঁ প্রয়োগের পর গর্তের উপরিভাগ পাটের ভিজানো চট দিয়ে ঢেকে দিতে হবে এবং সারের গুণগত মান বজায় রাখার জন্য গর্তেও উপরিভাগে ছায়া প্রদানের ব্যবস্থা খুবই জরুরি।




    এসব কেচোঁ যেসব খাবার খায় তা গর্তে নিয়মিতভাবে সরবরাহ করতে হবে। কেচোঁর খাবারের মধ্যে রয়েছে স্থানীয় ঘাস, খামারজাত পদার্থ, আখের ও কলার ফেলে দেয়া অংশ এসব। এয়াড়া এসব অংশ মাটিতে পচে জৈব সারও তৈরি হয়।


    অন্যান্য কম্পোস্ট তৈরির চেয়ে কেচোঁ কম্পোস্ট তৈরি করতে সময় কম লাগে। এছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে একটি আদর্শ ভার্মিকম্পোস্ট ১.৫৭% নাইট্রোজেন, ১.২৬% ফসফরাস, ২.৬০% পটাশ, ০.৭৪% সালফার, ০.৬৬% ম্যাগনেশিয়াম, ০.০৬% বোরণ রয়েছে। এছাড়া কেচোঁ কম্পোস্টে অন্যান্য কম্পোস্টের চেয়ে প্রায় ৭-১০ ভাগ পুষ্টিমান বেশি থাকে।


    সাধারণত পিপঁড়া, উইপোকা, তেলেপোকা, মুরগী, ইঁদুর পানি এসব কেচোঁর বড় শত্রু। এরা যেন কেচোঁর কাছে আসতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।






    উপাদান             শতকরা হার


    নাইট্রোজেন          ১.০


    ফসফেট             ১.০


    পটাশিয়াম           ১.০


    জৈব কার্বন          ১৮.০


    পানি                ১৫-২৫