Wednesday, February 17, 2016

জামরুল চাষ

  • Share The Gag
  • পুষ্টি মূল্য
    জামরুল বেশ রসালো একটি ভিটামিন বি-২ সমৃদ্ধ ফল।


    ভেষজ গুণ
    এ ফল বহুমূত্র  রোগীর তৃষ্ণা নিবারনে উপকারী।


    উপযুক্ত জমি ও মাটি
    উঁচু নিকাশযুক্ত বেলে দোআঁশ ও দোআঁশ মাটি এ ফল চাষের জন্য বেশি উপযোগি।


    জাত পরিচিতি
    বারি জামরুল -১: প্রতি বছর ফলধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন। এ জাতের পাকা ফল দেখতে আকর্ষণীয়, মেরুণ বর্ণের এবং খেতে সুস্বাদু এ জাতের জামরুল আঁশবিহীন ও মধ্যম রসালো। জামরুলের এ জাতটি সারা দেশে চাষের জন্য উপযোগী।


    চারা তৈরি
    সাধারণত গুটি কলমের মাধ্যমে জামরুলের বংশ বিস্তার করা হয়।


    চারা রোপণ
    মধ্য জৈষ্ঠ্য থেকে মধ্য আসাঢ় (জুন) মাসে চারিদিকে ১ মিটার করে গর্ত করে ৩ সপ্তাহ উন্মুক্ত রাখতে হয়। এর পর সার মিশিয়ে নির্বাচিত চারা/ কলমটি গর্তের মাঝে সোজা করে রোপণ করা হয়। ৫-৭ মিটার দূরে দূরে চারা রোপণ করা দরকার।


    সার ব্যবস্থাপনা
    প্রতি গর্তে পচা গোবর ১৫ কেজি, টিএসপি সার ৫০০ গ্রাম এবং এমওপি সার ৫০০ গ্রাম প্রয়োগ করতে হয়।
    ১-৩ বছর বয়সী গাছের জন্য পচা গোবর ২০ কেজি, টিএসপি সার ২৫০ গ্রাম এবং এমওপি সার ২৫০ গ্রাম এবং ইউরিয়া সার ২৫০ গ্রাম দুইভাগে প্রয়োগ করতে হয়। এক ভাগ মধ্য বৈশাখ থেকে মধ্য আষাঢ় ও অন্যভাগ মধ্য ভাদ্র থেকে মধ্য কার্তিক মাসে প্রয়োগ করতে হয়। গাছের চারিদিকে বৃত্তাকার নালা তৈরি করে সার প্রয়োগ করা দরকার। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে সারের পরিমানও বাড়াতে হবে।


    সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনা
    খরা মৌসুমে গাছে ২-৩ বার সেচ দেওয়া ভাল। বছরে দু’বার গাছের গোড়ার মাটি হালকাভাবে কুপিয়ে দিতে হবে। কলমের গাছের নিচের দিকের কিছু শাখা-প্রশাখা কেটে দিতে হবে।



    ফসল তোলা: ফল পুষ্ট হওয়ার পর সংগ্রহ করতে হবে।


    সংগৃহীত ও সংকলিত

    কমলা চাষ

  • Share The Gag
  • কমলালেবু জাতীয় ফলের মধ্যে কমলা সবচেয়ে জনপ্রিয়। সুস্বাদু, সুগন্ধি এবং ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ ফল। বর্তমানে কমলা ভুটান, ভারত, পাকিস্তান, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, আমেরিকায় অধিক পরিমাণে উৎপাদন হয়। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করলে আমাদের দেশেও উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পেতে পারে।


    পুষ্টি মূল্য
    এটি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল।


    ভেষজ গুণ
    কমলা সর্দিজ্বর ও বমি নিবারক। কমলার শুকনো ছাল অম্লরোগ ও শারিরীক দুর্বলতা নিরসন করে।


    ব্যবহার
    জ্যাম, জেলি, জুস হিসেবে।


    জাত পরিচিতি
    বারি কমলা-১: এটি একটি নিয়মিত আগাম ফল প্রদানকারী উচ্চ ফলনশীল জাত। প্রতিটি গাছে ৩০০-৪০০টি ফল ধরে। ফল বড়, ওজন ১৮০-২০০ গ্রাম ও প্রায় গোলাকার। পাকার পর হলুদ রঙ ধারণ করে। ফলের খোসা ঢিলা, ফল রসালো ও মিষ্টি। বৃহত্তর সিলেট, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও পঞ্চগড় জেলায় চাষ উপযোগী।


    চারা উৎপাদন
    বীজ থেকে সরাসরি চারা তৈরী করা যায়।  চোখ কলম ও পার্শ্বকলমের মাধ্যমেও কলম তৈরী করা যায়। ১০ থেকে ১২ মাস বয়সের কমলার চারা বাডিং ও গ্রাফটিংয়ের জন্য আদিজোড় হিসাবে ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো। রোপণের জন্য সোজা ও ভাল বৃদ্ধি সম্পন্ন্ তরতাজা চারা অথবা কলম বেছে নিতে হবে।


    জমি তৈরি
    জমির আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। সমতল ভূমিতে আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে এবং পাহাড়ী অঞ্চলে কোদালের সাহায্যে জমি তৈরি করতে হবে। জমির তৈরি পর উভয় দিকে ৪-৫ মিটার দূরত্বে ৬০ সেন্টিমিটার (২ফুট) আকারে গর্ত তৈরি করতে হবে। গর্তের মাটি তুলে পাশে রেখে দিতে হবে। বর্ষার আগে গর্ত মাটি দিয়ে ভর্তি করে রাখতে হবে। কমলা চাষের জমি পাহাড়ী হলে সেখানে ৩০-৫০ মিটার দূরত্বে ২-৪টি বড় গাছ রাখা যেতে পারে।


    চারা রোপণ
    জমির প্রকার ভেদে সমতল জমিতে বর্গাকার বা আয়তাকার এবং পাহাড়ী জমিতে কন্টুর পদ্ধতিতে কমলার চারা/কলম রোপণ করতে হবে।


    ১. বর্গাকার বা আয়তাকার পদ্ধতি
    এ ধরনের রোপণ পদ্ধতিতে গাছ থেকে গাছের দূরত্ব এবং সারি থেকে সারির দূরত্বের চেয়ে কম। ফলে দুই সারির পাশাপাশি চারটি গাছ মিলে এটি আয়তক্ষেত্র সৃষ্টি করে। এ পদ্ধতিতে গাছের পরিচর্যা করা সহজ হয়।

    ২. কন্টুর পদ্ধতি
    এটি এমন এক পদ্ধতি যেখানে পাহাড়ের ঢাল, উচু নিচু ও উচ্চতা অনুসারে জমি থেকে পাহাড়ের ঢালে সমান উচ্চতায় সারিবদ্ধভাবে গাছ লাগানো হয়। সাধারণত: পাহাড়ী এলাকায় যেখানে জমি ঢালু সেখানে এই পদ্ধতিতে গাছ লাগানো হয়। পাহাড় কেটে সমতল সিড়ি বাঁধ তৈরি করা হয় এবং ঢালের সাথে আড়াআড়িভাবে সারি করে গাছ লাগানো হয়। এই পদ্ধতিতে গাছের পরস্পর দূরত্ব কখনও সমান থাকে না। তবে এই পদ্ধতি দ্বারা ভূমি ক্ষয় রোধ করা সম্ভব।

    রোপণ সময়
    বর্ষার শুরুতে অর্থাৎ বৈশাখ ( মে-জুন) মাস কমলার চারা লাগানোর উপযুক্ত সময়। তবে সেচেরে ব্যবস্থা থাকলে যেকোন সময় কমলার চারা লাগানো যেতে পারে।

    মাদা তৈরি
    চারা রোপণের ১৫-২০ দিন আগে উভয় দিকে ৪-৫ মিটার দূরত্বে ৭৫ সেন্টিমিটার (২.৫ফুট) আকারে গর্ত তৈরি করতে হবে। প্রতি গর্তে ১৫ কেজি পচা গোবর, ৩-৫ কেজি ছাই, ২৫০ গ্রাম টিএসপি, ২৫০ গ্রাম এমওপি ও ২৫০ গ্রাম চুন গর্তের উপরের মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে গর্ত ভরাট করতে হবে। গর্ত ভরাট করার ১০-১৫ দিন পর চারা রোপণ করতে হবে।
    চারা রোপণ:
    সুস্থ ও সবল ১.০-১.৫ বছর বয়সের চারা/কলম সংগ্রহ করে গর্তের মাঝখানে এমনভাবে রোপণ করতে হবে যেন গর্তের বলটি ভেঙ্গে না যায়। চারা রোপণের পর হালকাভাবে সেচ দিতে হবে।


    সার ব্যবস্থাপনা
    গাছের বয়স অনুযায়ী নিম্নলিখিতভাবে সার দিতে হবে।


    এসব সারের অর্ধেক ফল সংগ্রহের পর অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাসে এবং বাকি অর্ধেক সার ফল মার্বেল আকার ধারণ করার পর অর্থাৎ অক্টোবর মাসে প্রয়োগ করতে হবে।


    সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনা
    চারা গাছের গোড়ায় মাঝে মাঝে পানি সেচ দিতে হবে। বর্ষাকালে গাছের গোড়ায় যাতে পানি না জমে সেজন্য পানি নিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাছাড়া কমলা গাছের আগাছা দমন করতে হবে।


    অন্যান্য পরিচর্যা
    চারা অবস্থায় কমলা গাছের বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। গোড়া থেকে জম্মানো অতিরিক্ত মাথা গজানোর সাথে সাথে কেটে ফেলতে হবে। নিচের দিকে ছোট ছোট শাখা ছেটে ভূমি থেকে অন্তত: ৪৫ সেমি (দেড় ফুট) উপর হতে কান্ডের উৎপাদনশীল শাখা বাড়তে দিতে হবে। মরা ও রোগাক্রান্ত ডাল মাঝে মাঝে ছেটে দিতে হবে এবং কাটা অংশে কুপ্রাভিট ৫০ ডব্লিউপি পেষ্ট আকারে লাগাতে হবে। গাছের গঠন ছোট থেকেই সুন্দর ও শক্ত করে তুলতে হবে।


    সাথী ফসল
    কমলা বাগানে ৫-৭ বৎসর পর্যন্ত সাথী ফসলের চাষ করা যায়। শাক-সবজি, ডাল ও তেল জাতীয় ফসলের আবাদ করে বাগান থেকে অতিরিক্ত লাভ ঘরে তোলা যায়। এতে কমলার ফলনে কোন ক্ষতি হয় না। বরং নিয়মিত পরিচর্যার কারণে কমলা গাছে বালাইয়ের আক্রমণ কম হয়।


    কাঠবিড়ালী ও বাদুরের আক্রমণ
    কাঠবিড়ালী কাঁচা ও পাকা এবং বাদুর পাকা অবস্থায় কমলার ক্ষতি করে। রাতেই এরা বেশি ক্ষতি করে। পাহারা দিয়ে/ টিনের বা পিতলের বাক্সে ঘন্টা বাজিয়ে/কাকতাড়ুয়া দিয়ে/কাঠবিড়ালী মেরে বাগানে ঝুলিয়ে রেখে কমলা রক্ষা করা যায়।



    ফসল তোলা
    মধ্য কার্তিক থেকে মধ্য পৌষ মাসে ফল সংগ্রহ করতে হয়।

    সংগৃহীত ও সংকলিত

    স্ট্রবেরি চাষ

  • Share The Gag
  • স্ট্রবেরি ছোট ঝোপালো লতানো প্রকৃতির গাছ। এতে শক্ত কোনো কান্ড বা ডালপালা নেই। পাতা সবুজ, ছোট কিনারা খাঁজকাটা, থানকুনি পাতার মতো; পাতার বোঁটাও লম্বা, সরু, নরম। ঝোপের মধ্যেই ছোট ছোট ঘণ্টার মতো সাদা বা ঘিয়া রঙের ফুল ফোটে। সরু সুতার মতো বোঁটার মাথায় একটি একটি করে ফল ধরে। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো ফল। লিচুর মতো একটি গাছে অনেক ফল ধরে। কাঁচা ফলের রঙ সবুজাভ, পাকলে উজ্বল টকটকে লাল হয়।
    আকর্ষণীয় রঙ, গন্ধ ও উচ্চ পুষ্টিমানের জন্য স্ট্রবেরি খুবই জনপ্রিয়। এতে ভিটামিন ‘সি’ ছাড়াও পর্যাপ্ত পরিমাণে অন্যান্য ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ রয়েছে। ফল হিসেবে খাওয়া ছাড়াও বিভিন্ন খাদ্যের সৌন্দর্য ও সুগন্ধ বৃদ্ধিতেও স্ট্রবেরি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।


    স্ট্রবেরির জাত
    বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ‘বারি স্ট্রবেরি-১’ নামে স্ট্রবেরির একটি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে। জাতটি বাংলাদেশের সবখানেই চাষ করা যায়। নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে গাছে ফুল আসতে শুরু করে এবং ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ফল সংগ্রহ করা যায়। প্রতি গাছে গড়ে ৩২টি ফল ধরে যার গড় ওজন ৪৫০ গ্রাম।  হেক্টর প্রতি ফলন ১০-১২ টন। এই জাতের পাকা ফল আকর্ষণীয় টকটকে লাল বর্ণের। জাতটি যথেষ্ঠ পরিমানে সরু লতা ও চারা উৎপাদন করে বলে এর বংশ বিস্তার সহজ।
    এছাড়াও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভাবিত জাত রাবি-১, রাবি-২, রাবি-৩ এবং মডার্ন হর্টিকালচার সেন্টার, নাটোর থেকে প্রচলিত জাত মডার্ন স্ট্রবেরি-১, মডার্ন স্ট্রবেরি-২, মডার্ন স্ট্রবেরি-৩, মডার্ন স্ট্রবেরি-৪, মডার্ন স্ট্রবেরি-৫; আমাদের দেশে চাষযোগ্য জাত।


    উপযুক্ত মাটি ও আবহাওয়া
    স্ট্রবেরি মূলত মৃদু শীত প্রধান অঞ্চলের ফসল। ফুল ও ফল আসার সময় শুকনো আবহাওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশের আবহাওয়া রবি মৌসুমে স্ট্রবেরি চাষের উপযোগী। উর্বর দোআঁশ থেকে বেলে-দোআঁশ যেসব জমিতে পানি জমে সেখানে স্ট্রবেরি ফলানো যাবে না।


    জমি তৈরি ও চারা রোপণ
    জমি ভালভাবে চাষ করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে অন্ততঃ ১ফুট গভীর করে জমি চাষ দিতে হবে। শেষ চাষের সময় পরিমানমতো সার মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে। স্ট্রবেরির চারা আশ্বিন (মধ্যসেপ্টেম্বর থেকে মধ্যঅক্টোবর) মাসে রোপণের উপযুক্ত সময়। তবে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত স্ট্রবেরি চারা রোপণ করা যায়।
    চারা রোপণের জন্য জমিতে বেড তৈরি করে নিতে হবে। প্রতিটি বেড প্রায় ৩ ফুট প্রশস্ত করে তৈরি করতে হবে। দুই বেডের মধ্যে ১-১.৫ ফুট চওড়া নালা রাখতে হবে। প্রতিটি বেডে দুই লাইনের মধ্যে ১.৫-২ ফুট দূরত্ব রাখতে হবে। প্রতিটি লাইনে ১-১.৫ ফুট দূরে দূরে চারা রোপণ করতে হবে। এই হিসেবে প্রতি শতকে প্রায় ১৫০টি চারা রোপণ করা যায়।


    সার প্রয়োগ
    ভাল ফলনের জন্য জমিতে পরিমানমতো সার দিতে হবে। মাটি পরীক্ষা করে সার দিলে ফলন ভালো হয়। সাধারণ হিসেবে প্রতি শতক জমিতে শুকনা পঁচা গোবর সার ১০০-১২০ কেজি, ইউরিয়া সার ১ কেজি, টিএসপি সার ৮০০ গ্রাম, এমওপি সার ৯০০ গ্রাম, জিপসাম সার ৬০০ গ্রাম ব্যবহার করতে হবে।


    শেষ চাষের সময় সম্পূর্ণ গোবর, টিএসপি, জিপসাম ও অর্ধেক পরিমাণ এমওপি সার জমিতে ছিটিয়ে মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। ইউরিয়া ও অবশিষ্ট এমওপি সার চারা রোপণের ১৫ দিন পর থেকে ১৫-২০ দিন পর পর ৪-৫টি কিস্তিতে উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

    সেচ
    জমিতে রসের অভাব দেখা দিলে প্রয়োজনমতো পানি সেচ দিতে হবে। স্ট্রবেরি জলাবদ্ধতা একদমই সহ্য করতে পারে না। তাই বৃষ্টি বা সেচের অতিরিক্ত পানি দ্রুত  বের করে দিতে হবে।


    স্ট্রবেরির চারা উৎপাদন
    স্ট্রবেরি রানারের (কচুর লতির মতো লতা) মাধ্যমে বংশবিস্তার করে থাকে। তাই পূর্ববর্তী বছরের গাছ নষ্ট না করে জমি থেকে তুলে জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ হালকা ছায়াযুক্ত স্থানে রোপণ করতে হবে। ওই গাছ থেকে উৎপন্ন রানারের শিকড় বের হলে তা কেটে ৫০ ভাগ গোবর ও ৫০ ভাগ পলিমাটিযুক্ত পলিথিন ব্যাগে লাগাতে হবে। এরপর পলিথিন ব্যাগসহ চারাটি হালকা ছায়াযুক্ত স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে।
    অতিরিক্ত বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষার জন্য চারার উপর পলিথিনের ছাউনি দিতে হবে। রানারের মাধ্যমে বংশ বিস্তার করা হলে স্ট্রবেরির ফলন ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। তাই জাতের ফলন ক্ষমতা অক্ষুন্ন রাথার জন্য টিস্যু কালচারের মাধ্যমে উৎপাদিত চারা ব্যবহার করা ভালো।


    অন্যান্য যত্ন
    সরাসরি মাটির সংস্পর্শে আসলে স্ট্রবেরির ফল পচে নষ্ট হয়ে যায়। এ জন্য চারা রোপণের ২০-২৫দিন পর স্ট্রবেরির বেড খড় বা কালো পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। প্রতি লিটার পানিতে ৩ মিলিলিটার ডার্সবান-২০ ইসি ও ২ গ্রাম ব্যাভিস্টিন ডিএফ মিশিয়ে ওই দ্রবণে খড় শোধন করে নিলে তাতে উঁই পোকার আক্রমণ হয় না এবং দীর্ঘ দিন তা অবিকৃত থাকে।
    জমি সব সময় আগাছামুক্ত রাখতে হবে। গাছ লাগানোর পর তার গোড়া থেকে প্রচুর রানার বা কচুর লতির মতো লতা বের হতে থাকে। এগুলো জমি ঢেকে ফেলে। এতে ফলন ভাল হয় না।  এ জন্য রানারসমূহ ১০-১৫ দিন পর পর কেটে ফেলতে হবে।


    রোগ বালাই ব্যবস্থাপনা
    পাতায় দাগ পড়া রোগ
    এক ধরণের ছত্রাকের আক্রমণে এই রোগ হয়। এই রোগের আক্রমণে ফলন ও ফলের গুণগত মান কমে যায়। এর প্রতিকারের জন্য অনুমোদিত ছত্রাকনাশক যেমন-সিকিউর বা রিডোমিল্ড গোল্ড প্রতি লিটার পানির সাথে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পরপর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
    ফল পচা রোগ
    এ রোগের আক্রমণে ফলের গায়ে জলে ভেজা বাদামী বা কালো দাগের সৃষ্টি হয়। দাগ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ফল খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে যায়। এ জন্য ফল পরিপক্ক হওয়ার আগে অনুমোদিত ছত্রাকনাশক যেমন-নোইন ৫০ ডব্লিউপি অথবা ব্যাভিস্টিন ডিএফ নামক ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানির সাথে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পরপর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

    মাকড়
    মাকড়ের আক্রমণে স্ট্রবেরির ফলন ক্ষমতা ও গুণগত মান মারত্মকভাবে বিঘিœত হয়। এদের আক্রমণে পাতা তামাটে বর্ণ ধারণ করে ও পুরু হয়ে যায় এবং আস্তে আস্তে কুচকে যায়। গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যবহত হয়। এ জন্য ভারটিমেক নামক মাকড়নাশক প্রতি লিটার পানির সাথে ১ মিলিলিটার হারে মিশিয়ে ১০ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
    পাখি
    বুলবুলি পাখি স্ট্রবেরির সবচেয়ে বড় শত্রু। ফল আসার পর সম্পূর্ণ পরিপক্ক হওয়ার আগেই পাখির উপদ্রব শুরু হয়। এজন্য ফল আসার পর সম্পূর্ণ বেড জাল দিয়ে ঢেকে দিতে হবে যাতে পাখি ফল না খেতে পারে।

    মাতৃগাছ রক্ষণাবেক্ষণ
    স্ট্রবেরি গাছ প্রখর সূর্যের আলো ও বেশি বৃষ্টি সহ্য করতে পারে না। এজন্য মার্চ-এপ্রিল মাসে হালকা ছায়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ফল সংগ্রহের পর সুস্থ-সবল গাছ তুলে পলিথিন ছাউনির নিচে রোপণ করলে


    মাতৃগাছকে সূর্যের খরতাপ ও ভারী বৃষ্টির ক্ষতি থেকে রক্ষা করা যায়। মাতৃগাছ থেকে উৎপাদিত রানার পরবর্তী সময়ে চারা হিসেবে ব্যবহার করা হয়।



    ফল সংগ্রহ
    ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি (অক্টোবর মাসের শুরু) সময়ে রোপণকৃত বারি স্ট্রবেরি-১ এর ফল সংগ্রহ পৌষ মাসে শুরু হয়ে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত চলে। ফল পেকে লাল রঙ হলে ফল সংগ্রহ করতে হয়। স্ট্রবেরির সংরক্ষণকাল খুব কম হওয়ায় ফল সংগ্রহের পর পরই তা টিস্যু পেপার দিয়ে মুড়িয়ে প্লাস্টিকের ঝুড়ি বা ডিমের ট্রেতে এমনভাবে সংরক্ষণ করতে হবে যাতে ফল গাদাগাদি অবস্থায় না থাকে। ফল সংগ্রহের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাজারজাত করতে হবে।


    সংগৃহীত ও সংকলিত

    Sunday, February 14, 2016

    শীতে মাছ ও পুকুরের পরিচর্যা

  • Share The Gag
  • ঋতুর আবর্তনের রূপসী বাংলা। ছ’ঋতুর ছয় রকমের বৈশিষ্ট্য। শীতের সকাল কবি সাহিত্যিকদের জন্য আকর্ষনিয় হলেও জনস্বাস্থ্য ও প্রাণিকুলের জন্য কখনই সুখ বয়ে আনে না। শীতকাল আসলেই সাথে নিয়ে আসে জীবের জন্য মারাতœক মারাতœক সব রোগ। আর তাই আমাদের নিজেদের সুরক্ষার পাশাপাশি শিশু বৃদ্ধ সহ আমাদের অধিনে থাকা পশু-পাখিদের উপরো যেমন বাড়তি নজর রাখতে হয় ঠিক তেমনি মাছ ও মাছের ঘের এবং পুকুর গুলোর যতœ নেয়া উচিত। শীতের কুপ্রভাবেও বিশেষ যতœ ও পরিচর্যা করলে মাছের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা যায়।

    পৌষ-মাঘঃ সময়টা শীতকাল, মাছ চাষীদের ক্রান্তিকাল। পৌষ মাস থেকেই হালকা শীত পড়তে শুরু করে। এজন্য মাছের খাদ্য গ্রহণ অনেকটা কমে যায়। পুকুরে এ্যামোনিয়ার প্রভাব বৃদ্ধি পায়। পানিতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয় এবং মাছের মৃত্যু ঘটে।

    এই সময় পুকুরের বদ্ধ জলে মাছ চলাফেরা খুবই কম করে। ফলে মাছের খিদে কম পায়, রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ে। দিন ছোট হওয়ায় রোদ অল্প সময় পুকুরের জলে পড়ে। ফলে পুকুরের জলের ক্রমাগত পরিবর্তন শুরু হয়, এতে পুকুর ও মাছের যে

    সমস্যাগুলো দেখা দেয়ঃ-

    শীতকালে জলের তাপমাত্রা কমতে থাকে। সাধারণত তাপমাত্রা ২৮-৩২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড হলে মাছের বিপাক ক্রিয়া ভাল হয়। এর কম হলে বিপাক ক্রিয়া কমে যাওয়ায় বৃদ্ধির হার কমে।

    অক্সিজেন উৎপাদন কমে যাওয়ায় মাছের শ্বাসকার্য চালাতে কষ্ট হয়। মাছ জলের উপরের দিকে ভাসতে থাকে। মাছের মৃত্যুও ঘটে থাকে।

    পুকুরের মধ্যস্থিত উদ্ভিদকণার প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় জলে দ্রবীভূত কার্বন ডাই অক্সাইডের (CO2) পরিমাণ বেড়ে যায়। এর ফলেও মাছের শ্বাস নিতে অসুবিধা হয়।

    ফাইটোপ্লাংটন বা উদ্ভিদকণা ও জুয়োপ্লাংটন বা প্রাণিকণা কমে যাওয়ায় মাছের খাবার স্বল্পতা দেখা দেয় ফলে দৈহিক বৃদ্ধি হ্রাস পায়।

    জলের পিএইচ (PH) স্বাভাবিক থাকে না। মাছের বৃদ্ধির জন্য স্বাভাবিক পিএইচের মান ৬-৮ এর মধ্যে থাকা উচিত। যদি এর থেকে কম হয়, তাহলে জল অম্ল হবে এবং মাছ খাবার খেতে অনীহা দেখাবে। আবার বেশি হয়ে গেলে জল ক্ষারীয় হবে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে মডক দেখা দিতে পারে।

    ৭) চলতি মৌসুমে মাছের বিশেষ কিছু কিছু রোগ দেখা যায়। এসময় সঠিকভাবে মাছের যতœ না নিলে মাছের ক্ষতরোগ, লেজ ও পাখনা পচা রোগ, ফুলকা পচা রোগ এবং উদর ফোলা রোগ এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে মাছ মরে যেতে পারে।

    পরিচর্যা পদ্ধতিঃ

    পুকুরে পাড় যথাসম্ভব পরিষ্কার রাখতে হবে। যাতে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পুকুরে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পড়ে।
    কৃত্তিম উপায়ে পানিতে অক্সিজেনের বৃদ্ধি ঘটাতে হবে। জাল টেনে, সাঁতার দিয়ে এবং বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে পানিতে অক্সিজেনের বৃদ্ধি ঘটাতে হবে। এছাড়াও একরপ্রতি পাঁচ থেকে ১০ কেজি টিএসপি দিয়ে কাজ চালানো যেতে পারে। প্রতি ১০-১৫ দিন অন্তর পুকুরে জাল টানলে স্বাস্থ্য, মাছের সংখ্যা ও ওজন সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যাবে। এছাডা জাল টানার ফলে পুকুর থেকে বিভিন্ন ক্ষতিকারক গ্যাস বেরি যায়।

    শেওলা, আবর্জনা, কচুরিপানা, আগাছাসহ সব ক্ষতিকর জলজ উদ্ভিদ পরিষ্কার করতে হবে।

    পুকুর পাড়ে পাতাঝরা গাছ থাকলে, গাছের পাতা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
    পুকুরের জলে পিএইচ ৬-৮ এর মধ্যে থাকলে, শীতের শুরুতে ১৫ থেকে ২০ দিন বা একমাস অন্তর অন্তর পুকুরে প্রতি শতাংশে এক কেজি ডলোচুন ও এক কেজি লবণ মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। পিএইচ কম থাকলে চুনের পরিমাণ বাড়াতে হবে। পিএইচ বেশি থাকলে চুন দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

    জৈব সার দিতে হবে। কিন্তু খেয়াল রাখবেন, জৈব সার পচনের জন্য প্রচুর অক্সিজেনের খরচ হয়। তাই মেঘলা দিনে বা সূর্যের আলো তেমন না পড়লে জৈব সার উচিত না।

    পুকুরে উদ্ভিদকণা বৃদ্ধির জন্য অজৈব সার বিশেষ করে ইউরিয়া (বিঘা প্রতি মাসে ৪-৫ কেজি)ও সিঙ্গল সুপার ফসফেট (বিঘা প্রতি মাসে ৫-৬ কেজি) প্রয়োগ করতে হবে। কিন্তু পুকুরের জলের উপর থেকে দৃশ্যতা ২৫-৩০ সেমির কম হলে বা জল ঘন সবুজ রঙের হয়ে গেলে অজৈব সার দেওয়া চলবে না।

    মাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য চালের কুঁড়ো, ভূট্টার গুঁড়ো ইত্যাদির সঙ্গে সমপরিমাণে খোল যেমন, সর্যে, বাদাম, তিল ইত্যাদি মেশাতে হবে। মূল খাবারের সঙ্গে অতি অবশ্যই ১ খনিজ লবণ বা ২ সাধারণ লবণ মেশাতে হবে।

    মাছের হজমশক্তি বাডানোর জন্য প্রতি কুইন্ট্যাল খাবারে ৫০-১০০ গ্রাম উপযুক্ত উৎসেচক বা এনজাইম বা হজমি প্রয়োগ করা উচিত। এতে মাছের খাবার চাহিদা বাড়বে।

    শীতে সাধারণত পুকুরের পানি কমে যায়। আর কম থাকলে গোসাপ, উদবিড়ালরা মাছ খেয়ে ফেলতে পারে। এদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রয়োজনমত পানি সরবরাহ করতে হবে। মাছের ঘনত্ব স্বাভাবিক বা কম রাখতে হবে। পাতা ঝরা বৃক্ষের পাতা পড়ে বা হাট বাজারের পাশের কিংবা কলকারখানার ইত্যাদি কোন কারনে পুকুরের পানি বেশি দূষিত হলে পানি পরিবর্তন করতে হবে।

    প্রয়োজনে স্ট্রেপটোসাইকিন (৫০ পিপিএম) জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক বা পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট (২০০-২৫০পিপিএম) জলে মিশিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

    লেখকঃ মুনিরুজ্জামান

    টমেটো চাষ

  • Share The Gag
  • টমেটোর পুষ্টিমান
    টমেটো একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর সবজি।  টমেটোর পুষ্টির পাশাপাশি ভেষজ মূল্যও আছে। এর শাঁস ও জুস হজমকারক এবং ক্ষুধাবর্ধক। টমেটো রক্ত শোধক হিসেবেও কাজ করে।



     জাতসমূহ



    বারি টমেটো-১: গাছের উচ্চতা ৪০-৪২ ইঞ্চি। প্রতিটি গাছে ২৫-৩০টি করে ফল ধরে। গাছ প্রতি ফলন ২.৫-৩.০ কেজি। ফল কিছুটা লম্বাটে আকারের। প্রতিটি ফলের ওজন ৮৫-৯৫ গ্রাম। বাংলাদেশের সব এলাকাতেই এটি চাষ করা যায়। গাছ থেকে এক মাসের বেশি সময় ধরে ফল সংগ্রহ করা যায়। প্রতি হেক্টরে ফলন ৩৪৫-৩৬০ টন/হেক্টর।
    বারি টমেটো-২: গাছের উচ্চতা ২৮-৩০ ইঞ্চি। প্রতিটি গাছে ৩০-৩৫টি করে ফল ধরে। গাছ প্রতি ফলন ২.০-২.৫ কেজি। ফল মোটামুটি গোল আকারের হয়। প্রতিটি ফলের ওজন ৮৫-৯০ গ্রাম। ফলটি অনেকদিন সংরক্ষণ করা যায়। বাংলাদেশের সব এলাকাতেই এটি চাষ করা যায়। গাছ থেকে এক মাসের বেশি সময় ধরে ৪-৫ বার ফল সংগ্রহ করা যায়। প্রতি হেক্টরে ফলন ৩২৫-৩৪৫ টন/হেক্টর।
    বারি টমেটো-৩: গাছের উচ্চতা ৪০-৪২ ইঞ্চি। প্রতিটি গাছে ৩০-৩২টি করে ফল ধরে। গাছ প্রতি ফলন ২.০-৩.০ কেজি। ফলের রঙ গাঢ় লাল। ফল কিছুটা চ্যাপ্টা ও মাংসল ধরণের। প্রতিটি ফলের গড় ওজন ৮৫-৯০ গ্রাম। বাংলাদেশের সব এলাকাতেই এটি চাষ করা যায়। প্রতিটি গাছ থেকে ৭-৮ বার ফল সংগ্রহ করা যায়। প্রতি হেক্টরে ফলন ৩৪৫-৩৬০ টন/হেক্টর।
    বারি টমেটো-৪: প্রতিটি গাছে ২০-২৫টি ফল ধরে। গাছ প্রতি ফলন প্রায় ১ কেজি। ফলের রঙ লাল এবং গোল আকারের। প্রতিটি ফলের গড় ওজন ৪০ গ্রাম। এই জাতটি উচ্চ তাপ সহনশীল বলে সারাবছরই চাষ করা যায়। এ জাত চাষ করে বর্ষা মৌসুমে আর্থিকভাবে বেশি লাভবান হওয়া যায়। তবে গ্রীষ্ম এবং বর্ষা মৌসুমে পলিথিন ছাউনিতে চাষ করতে হয় এবং টমেটোটোন (প্রতি লিটার পানিতে ২০ মিলিলিটার হারে) নামক হরমোন প্রয়োগে ফলন বেশি হয়। প্রতি হেক্টরে ফলন ৮০-৯০ টন/হেক্টর।
    বারি টমেটো-৫: প্রতিটি গাছে ২০-২২টি ফল ধরে। গাছ প্রতি ফলন প্রায় ৮০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি। ফলের আকার হৃদপিন্ডের মতো। প্রতিটি ফলের ওজন প্রায় ৪৫ গ্রাম। শীত মৌসুমে আগাম চাষ করা যায়। তবে গ্রীষ্ম এবং বর্ষা মৌসুমে পলিথিন ছাউনিতে চাষ করতে হয় এবং টমেটোটোন (প্রতি লিটার পানিতে ২০ মিলিলিটার হারে) নামক হরমোন প্রয়োগে ফলন বেশি হয়। প্রতি হেক্টরে ফলন ৮০-৯০ টন/হেক্টর।



    বারি টমেটো-৬: গাছের উচ্চতা ৪৮-৫৪ ইঞ্চি। ফুল ও ফল হওয়ার সময়ও গাছের বৃদ্ধি হতে থাকে। প্রতি গাছে ৩০-৪০টি ফল ধরে। ফল গোল আকারের। রঙ হালকা লাল। ফলের চামড়ার উপরে শিরা দেখা যায়। প্রতিটি ফলের ওজন ৮০-৯০ গ্রাম। গাছ থেকে এক মাসের বেশি সময় ধরে ফল সংগ্রহ করা যায়। শীত মৌসুমে আগাম চাষ করা যায়। তবে গ্রীষ্ম এবং বর্ষা মৌসুমে পলিথিন ছাউনিতে চাষ করতে হয় এবং টমেটোটোন নামক হরমোন (প্রতি লিটার পানিতে ২০ মিলিলিটার হারে) প্রয়োগে ফলন বেশি হয়।  প্রতি হেক্টরে ফলন শীত মৌসুমে: ৩২০-৩৬০ গ্রীষ্ম মৌসুমে: ১৮০-২০০ টন/হেক্টর।



    বারি টমেটো-৭: প্রতিটি গাছে ৩০-৩২টি ফল ধরে। প্রতি গাছের ফলন হয় ৩.০-৩.৫ কেজি।  ফলের উপরে বোঁটার গোড়ায় তারার মতো চিহ্ন থাকে। ফল সামান্য চেপ্টা ধরণের। ফলের রঙ গাঢ় হলদে থেকে কমলা। প্রতিটি ফলের গড়ওজন ১৫০ গ্রাম। এই জাতের টমেটোতে বিটা ক্যারোটিন থাকে, যা রাতকানা রোগ থেকে রক্ষা করে। এক মৌসুমে ৬-৭ বার ফল সংগ্রহ করা যায়। সারাদেশেই শীতকালে চাষ করা যায়। পারিবারিক বাগানে চাষের জন্য এজাতটি বিশেষভাবে উপযোগী। প্রতি হেক্টরে ফলন ৪০০-৪২৫ টন/হেক্টর।



    বারি টমেটো-৮: গাছ খাটো আকারের। প্রতিটি গাছে ২৫-৩০টি ফল ধরে। প্রতি গাছে ফলন হয় ২.৫-৩.০ কেজি। ফল বর্গাকৃতি থেকে গোল আকারের হয়ে থাকে। ফলের রঙ হালকা লাল। ফল মাংসল এবং ফলের চামড়া (ত্বক) খুব পুরু ও শক্ত। প্রতিটি ফলের গড় ওজন ১০০-১১৫ গ্রাম। এক মৌসুমে ৪-৫ বার ফল সংগ্রহ করা যায়। জমি থেকে ফল তুলে ঘরে সাধারণ তাপমাত্রায় ১৫-২০ দিন সংরক্ষণ করা যায়। প্রতি হেক্টরে ফলন ৩৬৫-৩৮৫ টন/হেক্টর।



    বারি টমেটো-৯: গাছ খাটো আকারের। প্রতিটি গাছে ৩২-৩৫টি ফল ধরে। প্রতি গাছে ফলন হয় ২.০-৩.০ কেজি। ফল ডিমের আকৃতির। ফলের নিচের দিক সামান্য চোখা। ফলের গড় ওজন ৭৫ গ্রাম। এক মৌসুমে ৩-৪ বার ফল সংগ্রহ করা যায়। সংগ্রহ করা ফল ঘরে সাধারণ তাপমাত্রায় ৩ সপ্তাহের বেশি সময় সংরক্ষণ করা যায়। ফল শক্ত তাই দূর দূরান্তে পরিবহন করা যায়। প্রতি হেক্টরে ফলন ৩২০-৩৬০ টন/হেক্টর।



    বারি টমেটো-১০: প্রতিটি গাছে ৭৫-৮০টি ফল ধরে। গাছ প্রতি ফলন হয় ২.০-২.৫ কেজি। ফল ডিম আকারের। প্রতিটি ফলের ওজন ২৫-৩০ গ্রাম। ফলের ত্বক বেশ পুরু এবং শক্ত । ফল সংগ্রহ এক মাসের বেশি সময় ধরে করা যায়। এ জাতটি দূর দূরান্তে সরবরাহের উপযোগী। তাছাড়াও ঘরেও বেশি সময় ধরে সংরক্ষণ করা যায়। গ্রীষ্মকালে পাওয়া বলে বেশি লাভবান হওয়া যায়। গ্রীষ্ম মৌসুমে হরমোন ব্যবহার জরুরি নয়, তবে ব্যবহার করলে ফলন বেশি হয়। প্রতি হেক্টরে ফলন ১৮০-২০০ টন/হেক্টর।



    বারি টমেটো-১১: গাছ লম্বা আকারের ও কম ঝোপালো। প্রতি গাছে ১৮০-২২০টি ফল ধরে এবং গাছ প্রতি ফলন প্রায় ১ কেজি। ফলের আকার ছোট। ফলের ওজন ৮-১০ গ্রাম। প্রতি গোছায় ১৫-২০টি ফল আঙ্গুরের মতো থোকায় ধরে। ফল অনেক মিষ্টি স্বাদের হয়। মূলত শীতকালে আবাদ করা হয় তবে বছরের অন্য সময়েও চাষ করা যায়। সাধারণ তাপমাত্রায় দুই সপ্তাহ ফল সংরক্ষণ করা যায়। প্রতি হেক্টরে ফলন শীত মৌসুমে: ১৪০-১৬০, গ্রীষ্ম মৌসুমে: ৬০-৮০টন/হেক্টর।



    বারি টমেটো-১২: গাছ লম্বা ও কম ঝোপালো। ফল আকারে মাঝারি ধরণের, কিছুটা চ্যাপ্টা। পাকলে সুন্দর লাল রঙের হয়। প্রতিটি ফলের গড় ওজন  ৮০-৮৫ গ্রাম। সারা দেশেই চাষ করা যায়। প্রতি হেক্টরে ফলন ৩২৫-৩৮৫ টন/হেক্টর।



    বারি টমেটো-১৩:  প্রতিটি ফলের গড় ওজন ৩০ গ্রাম। এই জাতটি যথেষ্ট গরম সহ্য করতে পারে। বর্ষাকালে বেশি বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে পলিথিন ছাউনিতে আবাদ করতে হয়। প্রতি হেক্টরে ফলন ১৮০-২০০ টন/হেক্টর।



    বারি টমেটো-১৪: প্রতিটি গাছে ৩০-৩৫টি ফল ধরে। ফলের আকার বড়। ফলের মাংসল অংশ আকর্ষণীয় লাল রঙের হয়। প্রতি ফলের গড় ওজন ৯০-৯৫ গ্রাম। অনেকদিন ধরে ( প্রায় দেড় থেকে দুই মাস) ফল সংগ্রহ করা যায়। সাধারণ তাপমাত্রায় বাড়িতে বেশিদিন সংরক্ষণ করা যায়। প্রতি হেক্টরে ফলন ৩৬৫-৩৮৫টন/হেক্টর।



    বারি টমেটো-১৫: প্রতিটি গাছে গড়ে ৪০-৪৫টি ফল ধরে। ফলের আকার অনেকটা ডিমের মতো। এতে বীজের সংখ্যা অনেক কম থাকে।  প্রতিটি ফলের গড় ওজন ৬৫-৭০ গ্রাম। ফলের ত্বক অনেক পুরু এবং শক্ত থাকে বলে বেশিদিন ধরে সংরক্ষণ করা যায়। ফল পাকতে শুরু করলে প্রায় এক মাস ধরে ফল সংগ্রহ করা যায়। প্রতি হেক্টরে ফলন ৩২৫-৩৪৫ টন/হেক্টর।



    বারি হাইব্রিড টমেটো-৩: প্রতিটি গাছে গড়ে ৩৫টি ফল ধরে। প্রতিটি গাছে ফলন হয় ১.২ থেকে ১.৩ কেজি। ফলের আকার কুল বড়ই এর মতো। প্রতিটি ফলের গড় ওজন ৩৫-৪০ গ্রাম। ফলের ত্বক অনেক পুরু ও শক্ত বলে বেশিদিন ধরে সংরক্ষণ করা যায় এবং দূর দূরান্তে পরিবহনের জন্য সু্বধিাজনক। এই জাতটি যথেষ্ট গরম সহ্য করতে পারে। গ্রীষ্মকালীন জাত হলেও সারাবছরই আবাদ করা যায়। বর্ষাকালে বেশি বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে পলিথিন ছাউনিতে আবাদ করতে হয়। প্রতি হেক্টরে ফলন ১৪০-১৬০ টন/হেক্টর।



    বারি হাইব্রিড টমেটো-৪: প্রতিটি গাছে গড়ে ৩০টি ফল ধরে। গাছ প্রতি ফলন প্রায় ১.৫ কেজি। ফলের গড় ওজন ৫০ গ্রাম। ফল আকারে মাঝারি গোল ও লাল রঙের।এই জাতটি যথেষ্ট গরম সহ্য করতে পারে। গ্রীষ্মকালীন জাত হলেও সারাবছরই আবাদ করা যায়। বর্ষাকালে বেশি বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে পলিথিন ছাউনিতে আবাদ করতে হয়। প্রতি হেক্টরে ফলন ১৬০-১৮০ টন/হেক্টর।



    বারি হাইব্রিড টমেটো-৫: প্রতিটি গাছে গড়ে ৩৫-৪০টি ফল ধরে। প্রতিটি গাছে গড়ে ফলন হয় ৩.৫ থেকে ৪.০ কেজি। ফল আকারে বড়, গোল আকারের এবং সুন্দর লাল রঙের হয়। প্রতিটি ফলের ওজন ৯৫-১০০ গ্রাম। ফল পাকতে শুরু করলে প্রায় এক মাস ধরে ফল সংগ্রহ করা যায়। প্রতি হেক্টরে ফলন ৩৮৫-৪০০ টন/হেক্টর।



    বারি হাইব্রিড টমেটো-৬: প্রতিটি গাছে গড়ে ৩৫-৪০টি ফল ধরে। প্রতিটি গাছে গড়ে ফলন হয় ৩.০ থেকে ৪.০ কেজি। ফল আকারে বড়, গোল আকারের এবং সুন্দর লাল রঙের হয়। ফলটি অনেকদিন ঘরে সংরক্ষণ করা যায়। প্রতিটি ফলের ওজন ৯০-৯৫ গ্রাম। ফল পাকতে শুরু করলে প্রায় এক মাস ধরে ফল সংগ্রহ করা যায়। প্রতি হেক্টরে ফলন ৩৬৫-৩৮৫ টন/হেক্টর।
    বাহার: গাছের উচ্চতা ৩০-৩২ ইঞ্চি। প্রতিটি গাছে ১৬-২০টি ফল ধরে। ফল আকারে বড়, গোলাকার। প্রতিটি ফলের ওজন গড় ওজন ১১০ গ্রাম। গাছ ছোট, কান্ড শক্ত, গাছ খাড়া, পাতা গাঢ় সবুজ ও চওড়া। প্রতি হেক্টরে ফলন ২৬৫ টন/হেক্টর।



    বিনা টমেটো-২: গাছের উচ্চতা ৩০-৩২ ইঞ্চি। প্রতিটি গাছে ১৮-২২টি ফল ধরে। ফলের আকার গোল। উপরের দিকে সামান্য শিরা আছে। প্রতিটি ফলের গড় ওজন ৫০ গ্রাম। ফল খেতে সুস্বাদু। পাতা হালকা সবুজ ও কিছুটা কোকড়ানো। প্রতি হেক্টরে ফলন ১৪৫-১৬০ টন/হেক্টর।



    বিনা টমেটো-৩: গাছের উচ্চতা ৩০-৩৩ ইঞ্চি। প্রতিটি গাছে ১২-১৪টি ফল ধরে। ফল কিছুটা চ্যাপ্টা ও স্পষ্ট শিরাযুক্ত। প্রতিটি ফলের গড় ওজন ৮২ গ্রাম। পাতা হালকা সবুজ ও কিছুটা কোকড়ানো। প্রতি হেক্টরে ফলন ১৫৩-১৭০ টন/হেক্টর।



    বিনা টমেটো-৪: গাছের উচ্চতা ২৮-৩০ ইঞ্চি। প্রতিটি গাছে ২২-২৮টি করে ফল ধরে। ফল গোল আকারের। ফলের ত্বক মৃসন ধরণের হয়। প্রতিটি ফলের গড় ওজন ৮২ গ্রাম। গাছের পাতা গাঢ় সবুজ রঙের। ফল খেতে সুস্বাদু এবং ভিটামিন সি এর পরিমান বেশি থাকে। প্রতি হেক্টরে ফলন ৩১০ টন/হেক্টর।



    বিনা টমেটো-৫: গাছের উচ্চতা ৩৬-৩৮ ইঞ্চি। প্রতিটি গাছে ৩০-৩৫টি ফল ধরে। ফল কিছুটা লম্বাটে ধরণের। ফলের ত্বক মসৃন। গাছের পাতা হালকা সবুজ রঙের। ফল খেতে সুস্বাদু এবং ভিটামিন সি এর পরিমান বেশি থাকে। প্রতি হেক্টরে ফলন ২৮০ টন/হেক্টর।



    বিনা টমেটো-৬:  প্রতিটি গাছে ৩০-৩৫টি ফল ধরে। ফল মাঝারি আকারের। ফলের ত্বক মসৃন। ফল খেতে সুস্বাদু। ফলে কম বীজ থাকে। আগাম ও নাবি রোপণের জন্য উপযোগী জাত। প্রতি হেক্টরে ফলন শীতকালে: ৩৪৫, শীতের শুরুতে: ২১০. গ্রীষ্মকালে: ১৬০ টন/হেক্টর।



    বিনা টমেটো-৭: প্রতিটি গাছে ২৫-৩০টি ফল ধরে।  ফল মাঝারি আকারের। ফলের ত্বক মসৃন। ফল খেতে সুস্বাদু। রবি মৌসুমের জাত হলেও গ্রীষ্মকালেও চাষ করা যায়। প্রতি হেক্টরে ফলন শীতকালে: ৩৫০, শীতের শুরুতে: ২৫৫. গ্রীষ্মকালে: ১৬০ টন/হেক্টর।



    বিনা টমেটো-৮: গাছ লম্বা হয়, গাছের উচ্চতা ৫৫ ইঞ্চি। অধিক ফলনশীল। বীজ আকারে ছোট হয়। প্রতি হেক্টরে ফলন ৩৬৫-৩৭৬ টন/হেক্টর।



    বিনা টমেটো-৯: গাছ লম্বা হয়, গাছের উচ্চতা ৪৩ ইঞ্চি। অধিক ফলনশীল। বীজ আকারে ছোট হয়। প্রতি হেক্টরে ফলন ৩৪৫-৩৬৫ টন/হেক্টর।



    বিনা টমেটো-১০: গাছ লম্বা হয়, গাছের উচ্চতা ৫৫ ইঞ্চি। অধিক ফলনশীল। বীজ আকারে ছোট হয়। প্রতি হেক্টরে ফলন ৩২৫-৩৪৫ টন/হেক্টর।



    বীজ ও বীজতলার মাটি শোধন:
    টমেটো চাষে সফলতার জন্য কেনা বীজ বা ঘরে রাখা বীজ প্রথমে শোধন করে নিতে হবে (ভিটাভেক্স ছাত্রকানাশক দিয়ে)। সম্ভব হলে বীজতলার মাটিও শোধন করে নিলে ভাল হয়। বীজ তলার মাটি চাষ দিয়ে তাতে জৈব সার মিশিয়ে পলিথিন দিয়ে দু’সপ্তাহ ভাল করে ঢেকে রেখে দিলে সূর্যের তাপে মাটিতে থাকা অনেক জীবাণু মরে যায় ও বীজতলার মাটি শোধন হয়ে যায়। সময় না থাকলে বীজতলার মাটির উপরে ৩ ইঞ্চি পুরু করে কাঠের গুঁড়া বিছিয়ে আগুন দিলে সে তাপেও রোগ জীবাণু নষ্ট হয়।

    চারা তৈরি
    সরাসরি জমিতে বীজ বুনেও টমেটো চাষ করা যায়। তবে দ্রুত ভাল ফলন পাওয়ার জন্য আলাদাভাবে চারা তৈরি করে সেই চারা মূল জমিতে লাগাতে হবে। এজন্য রোদযুক্ত উঁচু জায়গায় পরিস্কার করে ভালভাবে মাটি চাষ দিয়ে বীজতলা তৈরি করতে হবে। চাষের পর মাটি সমতল করে ১ মিটার চওড়া করে বেড বানাতে হবে। বেড খুব বেশি লম্বা না করে ৩-৫ মিটার করা ভাল। এতে পরিচর্যার সুবিধে হয়। ছিটিয়ে বীজতলায় বীজবপন করা যায়। ছিটিয়ে বপনের জন্য সাধারণত: প্রতি বর্গমিটার বীজতলার জন্য ১০০-১৫০ গ্রাম বীজ লাগে। বীজ থেকে চারা গজাতে ৬-১৪ দিন লাগে। শীতকালীন টমেটো চাষের জন্য বীজ বুনতে হবে কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে। আগাম চাষের জন্য শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে বীজ বুনতে হবে।



    জমি তৈরি
    জমি ৪-৫ বার চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরা করে নিতে হয়। গ্রীষ্মকালে টমেটো চাষের জন্য ২০-২৫ সেন্টিমিটার উঁচু এবং ২৩০ সেন্টিমিটার চওড়া বেড তৈরি করতে হয়। সেচ দেওয়ার সুবিধার্থে ২টি বেডের মাঝে ৩০ সেন্টিমিটার নালা রাখতে হয়।



    চারা রোপণের দূরত্ব
    প্রতিটি বেডে ২ সারি করে ৬০ী৪০ সেন্টিমিটার দূরত্বে ২৫-৩০ দিন বয়সের চারা রোপণ করতে হয়।



    রোপণ সময়
    শীতকালীন টমেটোর জন্য মধ্য কার্তিক থেকে মাঘের ১ম সপ্তাহ (নভেম্বর থেকে মধ্য জানুয়ারি) পর্যন্ত চারা রোপণ করা যায়। তবে আগাম চাষের জন্য রোপণ সময় এগিয়ে আনতে হবে। আগাম চাষের জন্য ভাদ্র-আশ্বিন মাসে এবং নাবি চাষের ফাল্গুণ মাসে এবং গ্রীষ্মকালীন চাষের জন্য জন্য চৈত্র-বৈশাখ মাসে চারা রোপণ করতে হবে।



    সারের পরিমাণ
    টমেটো চাষের জন্য প্রতি শতকে ইউরিয়া ২.০-২.৪ কেজি, টিএসপি ১.৬-২.০ কেজি, এমওপি ০.৮-১.২ কেজি ও গোবর সার ৩০-৪৫ কেজি দিতে হয়। অর্ধেক গোবর সার ও সবটুকু টিএসপি সার শেষ চাষের সময় জমিতে ছিটিয়ে দিতে হবে। অবশিষ্ট গোবর চারা লাগানোর পূর্বে  গর্তে প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া ও এমওপি সমান দুই কিস্তিতে পার্শ্বকুশী ছাঁটাই এর পর চারা লাগানোর ৩য় সপ্তাহে ও ৫ম সপ্তাহে রিং পদ্ধতিতে প্রয়োগ করতে হয়।



    অন্তবর্তীকালীন পরিচর্যা
    মরা পাতা ছাঁটাইসহ  ‘অ’ আকৃতি বাঁশের খুটি টমেটো গাছের জন্য অতি প্রয়োজনীয় একটি কাজ। এ ছাড়া প্রয়োজনে সেচ দেয়াও যেতে পারে। প্রথম ফুলের গোছার ঠিক নিচের কুশিটি ছাড়া সব পার্শ্বকুশি ছাঁটাই করতে হবে।



    রোগবালাই
    টমেটোর চারা ঢলে পড়া রোগ: যে কোন বয়সের গাছই ক্ষেতে গেলে অনেক সময় ঝিমিয়ে ঢলে যেতে দেখা যায়। ব্যাক্টেরিয়ার কারণে এমন হলে হঠাৎ করে চারা ঢলে পড়ে। আক্রান্ত  গাছের ডাল কেটে পানিতে রাখলে ব্যাকটেরিয়ার সাদা কষের মত তরল বেরিয়ে আসে। পক্ষান্তরে ছত্রাক জীবাণু দ্বারা গাছ আক্রান্ত  হলে প্রথমে গাছের অংশ বিশেষ এবং কয়েকদিন পর সম্পূর্ণ গাছ ঢলে পড়ে। আক্রান্ত  কান্ডের ভিতরের অংশ বাদামী রং ধারণ করে। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় মাটি যদি ভেজা থাকে তাহলে এ রোগের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। রোগাক্রান্ত  গাছ ও সেচের পানির মাধ্যমে এ রোগের জীবাণু বিস্তার লাভ করে।



    দমন ব্যবস্থাপনা:  রোগ মুক্ত চারা উৎপাদন ও রোপণ করতে হবে। বীজ তলায় বীজ বপনের ২-৩ সপ্তাহ পূর্বে ৩-৫ টন/হেক্টর হারে মুরগির পচা বিষ্ঠা মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া। মূল জমিতেও এভাবে মুরগির বিষ্ঠা  দেয়া যেতে পারে। ২৫০-৩০০ কেজি/হে: হারে সরিষা বা নিম খৈল এভাবে প্রয়োগ করেও সুফল পাওয়া যায়। জমি আগাছামুক্ত রাখা। ঢলে পড়া চারা ক্ষেতে দেখা মাত্রই তুলে তা ধ্বংস করতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে জৈব সার ও পরিমিত ইউরিয়া ব্যবহার করা। জমি সব সময় আর্দ্র বা ভিজা না রাখা এবং নিকাশের ব্যবস্থা রাখা।





    ফসল সংগ্রহ ও ফলন: জাত ও লাগানোর সময়ের উপর নির্ভর করে ২-৪ মাসের মধ্যেই ফসল তোলার সময় হয়। টমেটো পাকা ও কাঁচা উভয়ই অবস্থায়ই তোলা যায়। প্রতি হেক্টরে ফলন ২০-৪০ টন।



    সংগৃহীত ও সংকলিত

    বেগুন চাষ

  • Share The Gag
  • বেগুন যথেষ্ট পুষ্টি সমৃদ্ধ, অধিক ফলা ও লাভজনক। আমাদের দেশে তরকারি হিসাবে খাওয়া ছাড়াও ভাজি, সিদ্ধ/আগুনে পুড়িয়ে ভর্তা হিসাবে খাওয়া হয়। বেগুনের আচার খুবই জনপ্রিয়।


    পুষ্টিমান
    আমাদের দৈনন্দিন চাহিদার প্রায় সব কয়টি পুষ্টিমান বেগুনে কমবেশী বিদ্যমান।


    মাটি
    হালকা বেলে থেকে ভারী এটেল মাটি অর্থাৎ প্রায় সব ধরনের মাটিতেই বেগুনের চাষ করা হয়। এটেঁল দো-আঁশ ও পলি দো-আঁশ মাটি বেগুন চাষের জন্য উপযোগী এবং এই মাটিতে বেগুনের ফলন বেশী হয়।


    বেগুনের জাত
    বাংলাদেশে প্রধানতঃ লম্বা ফল, গোলাকর ফল ও গোলাকার এই তিন ধরণের বেগুনের চাষ বেশী হয়ে থাকে। সব জাতকে মৌসুম ভিত্তিক দুই ভাবে ভাগ করা যেতে পারে, যেমন-শীতকালীন বেগুন ও বারমাসী বেগুন। শীতকালীন জাতের বেগুন রবি মৌসুমে চাষ করা হয় কারণ, এই জাতের বেগুন কেবলমাত্র রবি মৌসুমেই ফল দিতে পারে। আর বারমাসী বেগুন বছরের যে কোন সময় চাষ করা যেতে পারে। বেগুনের উল্লেখযোগ্য কিছু জাত হলো- ইসলামপুরী, খটখটিয়া, লাফফা, ঈশ্বরদি-১, উত্তরা (বারি বেগুন ১), তাল বেগুন, নয়ন কাজল, কেজি বেগুন, শিংনাথ, ঝুমকো, তারাপুরী (বারি বেগুন ২), কাজলা (বারি বেগুন ৪), নয়নতারা (বারি বেগুন ৫), চমক এফ১, কাজল এফ১ ইত্যাদি। সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট থেকে বিটি বেগুন-১, ২, ৩, ৪ জাত নামের চারটি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে যেগুলো বেগুনের মারাত্মক ক্ষতিকর ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ প্রতিরোধী।


    চাষের মৌসুম
    বাংলাদেশের জলবায়ুতে বছরের যে কোন সময়ই বেগুনের চাষ করা যেতে পারে। তবে রবি মৌসুমে বেগুন চাষ করলে ফলন খরিপ মৌসুমের চেয়ে পাওয়া যায়। রবি মৌসুম অর্থাৎ শীতকালের জন্য সাধারণতঃ আগষ্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বীজ বোনার উপযুক্ত সময়। খরিপ মৌসুম অর্থাৎ বর্ষাকালীন বেগুনের জন্য জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত বীজ বোনার উপযুক্ত সময়। রবি মৌসুমে চাষের জন্য যে কোন জাতের বেগুন লাগানো যেতে পারে, কিন্তু খরিপ মৌসুমে চাষের জন্য বারমাসী জাতসমূহ লাগাতে হবে।


    বীজ ও বীজ শোধন
    বীজ শোধন করে বেগুন চাষ করলে বেশ কয়েকটি রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। প্রতি কেজি বীজের জন্য ২.৫ গ্রাম ভিটাভেক্স-২ নামক ছত্রাকনাশক ও বীজ পাত্রে ঢেলে এমনভাবে ঝাকাতে হবে যেন বীজের গায়ে ছত্রাক নাশক ভালভাবে লেগে যায়। শোধনকৃত বীজ পাত্র থেকে বের করার পর ছায়াতে শুকিয়ে নিতে হবে। বীজ বপনের ছয় ঘন্টা আগে বীজশোধন করা ভাল।


    চারা তৈরি
    বেগুন চাষের জন্য প্রথমে বীজতলায় চারা করে তা মূল জমিতে রোপণ করতে হয়। বীজতলা এমন স্থানে তৈরী করতে হবে যেখানে বৃষ্টির পানি দাঁড়াবে না অর্থাৎ সুনিষ্কাশিত হতে হবে, সর্বদা আলো-বাতাস পায় অর্থাৎ ছায়ামুক্ত হতে হবে।
    চাষের পর সম্পূর্ণ জমিকে কয়েকটি ছোট ছোট বীজতলাতে ভাগ করে নিতে হবে। প্রতিটি বীজতলা দৈর্ঘ্যে ৩-৫ ঘন মিটার, প্রস্থে এক মিটার ও পাশ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার ফাঁকা জায়গা রাখা উচিত। পাশাপাশি দুটো বীজতলার মধ্যে ৫০-৬০ সেন্টিমিটার ফাঁকা জায়গা রাখা উচিত। এ ফাঁকা জায়গা থেকে মাটি নিয়ে বীজতলা উঁচু করে নিতে হবে। অল্প সংখ্যক চারা উৎপাদনের জন্য বীজতলা হিসেবে কাঠের বাক্স, প্লাস্টিকের ট্রে অথবা বড় টব ব্যবহার করা যেতে পারে।
    প্রতি হেক্টর জমিতে বেগুন চাষের জন্য ২৫০-৩০০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়।
    বীজতলাতে বীজ ছিটিয়ে বা সারি করে বোনা যেতে পারে। সারিতে বুনলে সারি থেকে সারির দূরত্ব ৫ সেমি. দিতে হবে। বীজ বোনার পর বীজতলার মাটি হালকা করে চেপে দিতে হবে। বীজতলাতে চারার দূরত্ব ২-৩ সেমি. হলে চারার বৃদ্ধি ভাল হয়। বীজ বোনার পর ঝাঝরি দিয়ে হালকা ভাবে পানি ছিটিয়ে সেচ দেওয়া দরকার। প্রয়োজন হলে, শুকনা খড় বা পলিথিন শীট বা বস্তা দিয়ে বীজতলা ঢেকে দেওয়া যেতে পারে। গ্রীষ্মকালে সকালে ও সন্ধ্যায় হালকাভাবে সেচ দেওয়া প্রয়োজন। চারা গজানোর পর ২-৩ দিন অন্তর হালকা সেচ দেওয়া উচিত।


    জমি তৈরি ও চারা রোপণ
    সাধারণতঃ মাঠের জমি তৈরির জন্য ৪-৫ বার চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। ৩৫-৪৫ দিন বয়সের চারা রোপণের উপযোগী হয়। এ সময় চারাতে ৫-৬টি পাতা গজায় এবং চারা প্রায় ১৫ সেমি. লম্বা হয়। চারা তোলার সময় যাতে শিকড় নষ্ট না হয় সেজন্য চারা তোলার ১-২ ঘন্টা আগে বীজতলায় পানি দিয়ে মাটি ভিজিয়ে নিতে হবে। সাধারণতঃ বড় আকারের বেগুনের জাতের ক্ষেত্রে ৯০ সেমি. দূরে সারি করে সারিতে ৬০ সেমি. ব্যবধানে চারা লাগানো যেতে পারে এবং ক্ষুদ্রাকার জাতের ক্ষেত্রে ৭৫ সেমি. সারি করে সারিতে ৫০ সেমি. ব্যবধানে চারা লাগানো যেতে পারে। জমিতে লাগানোর পর পরই যাতে চারা শুকিয়ে না যায় সে জন্য সম্ভব হলে বিকালের দিকে চারা লাগানো উচিত।


    সার প্রয়োগ
    মাটি পরীক্ষা করে জমি ও ফসলের চাহিদা অনুযায়ী সার দেয়া ভালো। তবে সাধারণ হারে বেগুনের জমিতে সারের পরিমান নিম্নরুপ:


    সেচ প্রয়োগ
    বেগুন চাষের জন্য সেচ অত্যন্ত প্রয়োজন বেগুনের শিকড় মাটির খুব গভীরে যায় না বলে ভাল উৎপাদন পাওয়ার জন্য ঘন ঘন সেচ দিতে হবে।


    পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা
    বেগুনের সবচেয়ে ক্ষতিকর পোকা হল বেগুনের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা। কোন কোন এলাকায় ক্ষুদ্র লাল মাকড় প্রধান শত্রু। এছাড়া কাঁটালে পোকা বা ইপলাকনা বিট্ল, জাব পোকা, ছাতরা পোকা, বিছা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, থ্রিপস, কাটুই পোকা ইত্যাদি বেগুনের ক্ষতি করে থাকে। আইপিএম পদ্ধতিতে এসব পোকা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিতে হবে।


    বেগুনের ডগা ও ফলছিদ্রকারী পোকা
    কীড়া কুঁড়ি, পাতার বোঁটা, কচি ডগা ইত্যাদি ছিদ্র করে খেতে খেতে ভিতরে ঢোকে। ভিতরে ঢুকে ক্রমাগত খাওয়ার ফলে সুড়ঙ্গের সৃষ্টি হয়। ফলে কচি ডগা ঢলে পড়ে এবং অবশেষে মারা যায়। একইভাবে ফল ছিদ্র করে ভিতরে ঢোকে ও শাঁস খায়। আক্রান্ত ফলের গায়ে কীড়ার মলসহ ছিদ্র দেখা যায়। আক্রান্ত বেগুন কাটলে ভিতরে মল ও পচা সুড়ঙ্গ দেখা যায়। কীড়াও দেখা যেতে পারে। বেশি আক্রান্ত হলে ফল খাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়ে এবং বাজারে আক্রান্ত বেগুনের চাহিদাও থাকে না।



     দমন ব্যবস্থাপনা
    ১.    শক্ত খোসাযুক্ত ও লম্বা জাতের বেগুনে যেমন ঝুমকা, শিংনাথ  ইত্যাদিতে এ পোকার আক্রমণ তুলনামূলকভাবে কম হয়। এছাড়া উত্তরা, নয়নতারা প্রভৃতি জাত সহনশীল। সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট থেকে উদ্ভাবিত বিটি বেগুন -১, ২, ৩, ৪ জাতে এ পোকার আক্রমণ হয় না। এসব জাত চাষ করা যেতে পারে।
    ২.    প্রতি সপ্তাহে অন্ততঃ একবার আক্রান্ত ডগা ও ফল ছিঁড়ে ধ্বংস করতে হবে।
    ৩.    ক্ষেত সবসময় পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আগাছা, বেগুনের মরা পাতা, আক্রান্ত ডগা ইত্যাদি সরিয়ে ফেলতে হবে।
    ৪.    ক্ষেতে সুষম সার ব্যবহার করতে হবে।
    ৫.    ডিম ও কীড়ামুক্ত চারা রোপণ করতে হবে।
    ৬.    ফেরোমোন ফাঁদ ব্যবহার করে পুরুষ মথ ধরে এদের বংশ কমানো যায়।


    রোগ ব্যবস্থাপনা
    এ দেশে বেগুনের ঢলে পড়া ও গোড়া পচা দু’টি মারাত্মক রোগ। প্রায় বেগুন ক্ষেতেই এ রোগ দেখা যায়। ফল পচা রোগেও অনেক বেগুন নষ্ট হয়। বীজতলায় ড্যাম্পিং অফ রোগ চারার মড়ক সৃষ্টি করে। এ ছাড়া মোজাইক, ক্ষুদে পাতা, শিকড়ে গিঁট ইত্যাদি রোগও বেগুন ফসলের যথেষ্ট ক্ষতি করে থাকে।
    বেগুনের ঢলে পড়া রোগ


    রোগের লক্ষণ
    যে কোন বয়সের গাছই ক্ষেতে গেলে অনেক সময় ঝিমিয়ে ঢলে যেতে দেখা যায়। । এ রোগের প্রকোপ বেশি হলে সম্পূর্ণ ক্ষেতই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এ রোগে আক্রান্ত  হয়ে গাছের কচি পাতা প্রথমে ঢলে পড়ে কিংবা নীচের বয়স্ক পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। শিকড়ের মাধ্যমে আক্রমণ শুরু হলেও পরে তা কান্ডে ছড়িয়ে পড়ে। ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক জীবাণু দ্বারা এ রোগ হয়ে থাকে। ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত  হলে গাছ হঠাৎ ঢলে পড়ে। আক্রান্ত  গাছের ডাল কেটে পানিতে রাখলে ব্যাকটেরিয়ার সাদা কষের মত তরল বেরিয়ে আসে। পক্ষান্তরে ছত্রাক জীবাণু দ্বারা গাছ আক্রান্ত  হলে প্রথমে গাছের অংশ বিশেষ এবং কয়েকদিন পর সম্পূর্ণ গাছ ঢলে পড়ে। আক্রান্ত  কান্ডের ভিতরের অংশ বাদামী রং ধারণ করে। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় মাটি যদি ভেজা থাকে তাহলে এ রোগের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।
    দমন ব্যবস্থাপনা
    ১.    রোগ মুক্ত চারা উৎপাদন ও রোপণ করতে হবে। বীজ তলায় বীজ বপনের ২-৩ সপ্তাহ পূর্বে ৩-৫ টন/হেক্টর হারে মুরগির পচা বিষ্ঠা মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া। মূল জমিতেও এভাবে মুরগির বিষ্ঠা  দেয়া যেতে পারে। ২৫০-৩০০ কেজি/হে: হারে সরিষা বা নিম খৈল এভাবে প্রয়োগ করেও সুফল পাওয়া যায়।
    ২.    জমি আগাছামুক্ত রাখা। ঢলে পড়া চারা ক্ষেতে দেখা মাত্রই তুলে তা ধ্বংস করতে হবে।
    ৩.    পর্যাপ্ত পরিমাণে জৈব সার ও পরিমিত ইউরিয়া ব্যবহার করা।
    ৪.    জমি সব সময় আর্দ্র বা ভিজা না রাখা এবং নিকাশের ব্যবস্থা রাখা।
    ৫.    বন বেগুন গাছের কান্ডের সাথে কাঙ্খিত জাতের জোড় কলম করে বেগুনের চাষ করলে ঢলে পড়া রোগ সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা যায়।


    আগাছা দমন
    আগাছা খাদ্য, পানি ও আলোর জন্য ফসলের সাথে প্রতিযোগিতা করে এবং পোকা মাকড় ও রোগজীবাণুর আশ্রয়স্থল হিসাবে কাজ করে। সে জন্য জমিতে আগাছা দেখা দিলে মাঝে মাঝে পরিস্কার করে মাটি আলগা করে দিতে হবে। হালকাভাবে মাটি আলগা করে নির্দিষ্ট দিন পর পর নিড়ানি দেওয়া যেতে পারে এতে করে গাছের শিকড় বৃদ্ধি ভাল হবে।



    ফল সংগ্রহ ও ফলন
    ফল সম্পূর্ণ পরিপক্ক হওয়ার পূর্বেই সংগ্রহ করতে হবে। বেশী কচি অবস্থায় ফল সিকি ভাগ সংগ্রহ করলে ফলের গুণ ভাল থাকে, তবে ফলন কম পাওয়া যায়। ফলের বৃদ্ধি থেকে শুরু করে পরিপক্ক পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছানো পর্যন্ত বেগুন খাওয়ার উপযুক্ত থাকে। সাধারণতঃ ফুল ফোটার পর ফল পেতে গড়ে প্রায় ১ মাস সময় লাগে। জাত ভেদে হেক্টর প্রতি ১৭-৬৪ টন ফলন পাওয়া যায়।


    সংগৃহীত ও সংকলিত

    মাছ ধরার পর সংরক্ষণের সহজ পদ্ধতি

  • Share The Gag
  • শীতলীকরণঃ আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে স্বল্প সময়ের জন্য মাছের সজীবতা রক্ষার্থে শীতলীকরণ অত্যন্ত সুবিধাজনক ও বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে মাছের তাপমাত্রা হিমাংকের কাছাকাছি আনা হয়, তবে হিমাংকের নিচে নয়। এ পদ্ধতি খুব দ্রুত ও দক্ষতার সাথে পরিচালনার মাধ্যমে খুব ভাল ফল পাওয়া যায়। তবে দীর্ঘ সময়ের জন্য সংরক্ষণে শীতলীকরণ পদ্ধতি অনুপযোগী। আহরণের পর পরই যদি মাছকে অন্তর্বতীকালীন সংরক্ষণের প্রয়োজন হয় যেমন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রেরণ, অবতরণ কেন্দ্র থেকে বাজারে বা প্রক্রিয়াজাত কারখানায় প্রেরণের প্রয়োজন হয় তবে এ পদ্ধতি অবলম্বনে ভাল ফল পাওয়া যায়।

    শীতলীকরণের প্রধান লক্ষ্য হলো মাছের তাপমাত্রাকে ০-৫ সে. এর কাছাকাছি নিয়ে আসা। তাপমাত্রা কমানোর উপকারিতা হলো-


    • মাছের গুণাগুণ ভাল থাকে;

    • সকল রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ৩.৩০ সে. তাপমাত্রায় মারা যায়। সুতরাং কোনক্রমে তাপমাত্রা যদি ৩.৩০ সে. এর নিচে কমানো যায তাতে রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া মারা যাবে;

    • যদিও সাইক্রোফিলিক (Psychrophilic) ব্যাকটেরিয়া নিম্ন তাপমাত্রায় বাঁচে, কিন্তু তাদের ক্ষেত্রেও যত তাপমাত্রা কমানো হয়, ততই তাদের অসুবিধার সৃষ্টি হয়।


    সুপার চিলিং: এটি এমন এক পদ্ধতি যেখানে মাছকে হিমাংকের বিন্দুর একটু নীচের তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয় এবং যে তাপমাত্রায় মাছের দেহ হিমায়িত হতে শুরু করে। মাছের গুণগতমান বিবেচনায় ২-৩ সপ্তাহ পর্যন্ত মাছের সংরক্ষণ কাল বাড়ানো যায়।

    শীতলীকরণের উপায়সমূহঃ


    • বরফ ব্যবহার করে;

    • মাছের উপর দিয়ে শীতল বায়ু প্রবাহ করে;

    • হিমায়িত সামুদ্রিক পানি ব্যবহার করে;

    • শুষ্ক বরফ (কঠিন কার্বন ডাই অক্সাইড) তরল নাইট্রোজেন শীতল এমোনিয়া ইত্যাদি ব্যবহার করে;

    • সংরক্ষক ও বরফ ব্যবহার করে।


    বরফ ব্যবহারঃ নিম্ন তাপমাত্রায় মাছ সংরক্ষণের একটি স্বল্পকালীন পদ্ধতি। স্বাদু পানি থেকে উৎপাদিত টুকরো বা গুড়ো বরফ (Flacked ice) ব্যবহার করে মাছকে আচ্ছাদিত করা হয়। ফলে মাছের পচন সাময়িকভারে রোধ করা যায়। কারণ-


    • সঠিকভাবে মাছের তাপ (০ সে. থেকে ৪ সে.) কমিয়ে আনার ফলে এনজাইম, জারণ ও ব্যাকটেরিয়াজনিত পরিবর্তন কমিয়ে দেয়;

    • বরফগলা পানি মাছের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং ব্যাকটেরিয়া, রক্ত, শে­ষ্মা ইত্যাদি ধৌত করে। বরফ ব্যবহার করে শীতলীকরণে বরফ ও মাছের অনুপাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দিনের তাপমাত্রা ও শীতলীকরণের উদ্দেশ্যের উপর নিভর্র করে বরফ ও মাছের অনুপাত নির্ণয় করা হয়। শীতকালে বরফঃ মাছের অনুপাত ১:২ এবং গ্রীষ্মকালে ১:১ ব্যবহার করা হয়।

    • মাছকে বরফ দ্বারা সংরক্ষণের জন্য এক ধরনের বাক্স ব্যবহার করা সুবিধাজনক। এ বাক্সকে ফিশ ক্রেট (Fish crate) বলা হয়।


    বরফ ব্যবহারের সুবিধাঃ বরফ তাপমাত্রা কমিয়ে এনে মাছের পচন রোধ করে। এছাড়া বরফ ব্যবহারে যে সকল সুবিধা পাওয়া যায় তা হলো-


    • বরফ গলা পানি মাছের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং ব্যাকটেরিয়া রক্ত শে­মা ইত্যাদি ধৌত করে;

    • বরফ গলা পানি মাছের উপরিতলকে ভেজা রেখে শুকানো প্রতিরোধ করে এবং চকচকে ভাব সংরক্ষণ করে;

    • বরফ গলা পানি তাপ আদান-প্রদানের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে;

    • ভাল পানি দ্বারা তৈরি বরফ বিষাক্ত নয় এবং নিরাপদ;

    • বরফ সহজেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বহন করা যায়;

    • বরফ শূণ্য ডিগ্রী সেলসিয়সি তাপমাত্রায় গলে বলে এটি মাছকে হিমায়িত করে না তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাপমাত্রাকে আদর্শ শীতলীকরণ তাপমাত্রার কাছে থাকে;

    • বরফ তুলনামূলকভাবে সস্তা;

    • মাছকে যে কোন ধরনের ধারকে স্বল্প সময়ের জন্য সংরক্ষণ করা যায় যদি বক্স না থাকে;

    • মাছকে যে কোন জায়গায় যে কেহ যেমন-মৎস্যজীবী, পরিবহনকারী, আড়ৎদার, খুচরা বিক্রেতা এমনকি ভোক্তা পর্যন্ত বরফায়িত করতে পারে।


    বিভিন্ন ধরনের বরফ শীতলকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়। ফ্লেক আইস সাধারনত দ্রুত তাপমাত্রা কমিয়ে আনার জন্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় ব্যবহার করা হয়। আবার ব্লক আইস সাধারণত সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয়। তবে ব্লক আইস ব্যবহারের ক্ষেত্রে যতদুর সম্ভব একৈ আকারে ছোট ছোট কৈায় ভেংগে ব্যবহার করা উচিত।

    বরফ তৈরীর পানির প্রকৃতিঃ


    • বরফ তৈরিতে পরিস্কার এবং জীবাণুমুক্ত পানি ব্যবহার করা উচিত।

    • পৌরসভার সরবরাহকৃত পানি সরাসরি বরফ তৈরিতে ব্যবহার করা উচিত নয়। জীবাণুমুক্ত (পরিস্কারক/জীবাণুনাশক/ব্লিচিং) করে ব্যবহার করা উচিত;

    • পুকুর, গর্ত, লেক, নদী, খাল বা সমুদ্র উপকূলের পানি বরফ তৈরির কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়। এসব প্রাকৃতিক পানিতে কাদা, ময়লা, পঁচা দ্রব্য, ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য জীবাণু থাকে। এ পানি ব্যবহার করে তৈরি বরফ মাছ সংরক্ষণে ব্যবহার করলে তা উৎস হিসাবে কাজ করে;

    • সামুদ্রিক পানিতে লবণ থাকে। যার ফলে সামুদ্রিক পানি বরফে পরিণত করতে সাধারণ পানির চেয়ে কম তাপমাত্রার অর্থাৎ শূণ্য ডিগ্রী সেলসিয়াস এর চেয়ে কম তাপমাত্রায় নিতে হয়। এজন্য সামুদ্রিক পানি থেকে তৈরি বরফ তৈরী করা হয় না। এছাড়া বরফ তৈরি করতে অনেক বেশী সময় ও বিদ্যুত প্রয়োজন হয়। তবে স্বাদুপানি অপ্রতুল হলে সামুদ্রিক পানি ব্যবহার করা যেতে পারে;

    • টিউবয়েল বা ডিপটিউবয়েলের পানি শোধণ করে বরফ তৈরির কাজে ব্যবহার করলে ভাল গুণগত মানের বরফ পাওয়া যায়;

    • বরফ তৈরির কারখানার পানির আধার নিয়মিত পরিস্কার করা উচিত;

    • এন্টিবায়োটিক যুক্ত পানি দিয়ে তৈরি বরফ ব্যবহার করে মাছ সংরক্ষণের মেয়াদকাল বৃদ্ধি করা যেতে পারে। তবে তা অবশ্যই অনুমোদিত বিধি বিধানের আলোকে ব্যবহার করতে হবে।


    মাছ সংরক্ষণ ও পরিবহনের নতুন পদ্ধতিঃ বাংলাদেশ কৃষি বিশববিদ্যালয়ের মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরনের প্রফেসর ড. নওশাদ আলম একটি কার্যকরী বরফ বাক্স উদ্ভাবন করেছেন। এটি সস্তা অথচ কার্যকরী বরফ বাক্স। এতে মাছ পরিবহন কৌশলটিতে বহুল ব্যবহৃত বাঁশের ঝুড়ির উন্নয়ন ঘটিয়ে তাপ চলাচল প্রতিরোধী বরফ বাক্সে পরিণত করা হয়েছে। পরিবর্তিত ঝুড়িতে মাছ ঝুড়ির সংর্স্পশে আসে না। তাই বাঁশের চটির ফাঁক ফোকর থেকে সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকেনা। এমনকি পলিথিন দিয়ে আগাগোড়া মোড়া থাকে বলে বার বার পরিষ্কার করে একই ঝুড়ি ব্যবহারেও সমস্যা হয় না। ২৫ থেকে ৩০কেজি মাছ ধরে এমন একটি বাঁশের ঝুড়ির ভেতরের দিকটা হোগলা পাটি দিয়ে মুড়ে দিতে হয়।


    হোগলার উপর দু’স্তর প্লাস্টিকের শিট দিয়ে সেলাই করে দিতে হয়। শিটের কিছু অংশ বাড়তি থাকবে। সেলাই করা প্লাস্টিকের শিটের উপর আর একটি পাতলা স্বচ্ছ পলিথিন শিট বিছিয়ে বরফ দেয়া মাছ পরিবহন করতে হবে। প্রথমে পলিথিন শিটের উপর ১স্তর বরফ রেখে মাছ সাজিয়ে দিতে হয। এরপর ভাঁজে ভাঁজে বরফ ও মাছের স্তর সাজিয়ে ওপরে জাম বরফ দিয়ে বাড়তি চট, হোগলা ও পলিথিন শিট একসাথে মুড়ে ঝুড়ির ওপরে বেধে নিতে হয়। ঝুড়ির মুখ সব সময় বেধে রেখে মাছ পরিবহন করতে হয়। এভাবে বরফ দেয়া মাছ ২৪ ঘন্টা পুনরায় বরফ না দিয়ে গুণাগুণ সঠিক রেখে সংরক্ষণ করা যায়। ২৪ঘন্টা পর পর মাছের উপর সামান্য জাম বরফ দিয়ে প্রায় ৫-৬ দিন পর্যন্ত খুব ভালোভাবে মাছকে সংরক্ষণ করা যায়। হোগলাপাতা, ছেড়াজাল, বা নাইলন কাপড় চমৎকার তাপ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।


    বরফ বাক্সটি মাঠ পর্যায়ে মৎস্যজীবি, মৎস্য ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র প্রক্রিয়াজাতকারী ও মৎস্য পরিবহনকারীদের দ্বারা সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তারপরও যদি কোনো সমস্যা ও জানার থাকলে উপজেলা মৎস্য অফিস এবং ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ মাৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ ও দেশি পোনা সংগ্রহ করা যেতে পারে।