Tuesday, July 4, 2017

আদা চাষ

  • Share The Gag
  • আদা চাষ



     

    পুষ্টিমূল্যঃ আদায় ক্যালসিয়াম ও প্রচুর ক্যারোটিন থাকে।


    ভেষজ গুণঃ পেট ফাঁপা ও ফোলা এবং সর্দি-কাশিতে আদা ব্যবহৃত হয়।


    ব্যবহারঃ মসলা হিসেবে আদা জনপ্রিয়।


    উপযুক্ত জমি ও মাটিঃ পানি নিকাশের সুব্যবস্থা আছে এমন উঁচু বেলে-দো-আঁশ ও ও বেলে মাটি আদা চাষের জন্য উপযোগী।


    জাত পরিচিতিঃ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট থেকে উদ্ভাবিত উন্নত জাত বারি আদা-১।


    বারি আদা-১: প্রতিটি গোছায় রাইজোমের ওজন ৪০০-৪৫০ গ্রাম। প্রচলিত জাতগুলোর তুলনায় এর ফলন বেশি। স্থানীয় হাতের মতো বারি আদা-১ সহজে সংরক্ষণ করা যায়।


    তবে স্থানীয় জাত যেমনঃ রংপুরী, খুলনা, টেংগুরা ইত্যাদি জাতেরও চাষ করা হয়।


    চারা তৈরিঃ


    বীজ লাগানোঃ ফাল্গুন থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত লাগানো যায়। সাধারণতঃ ১২-১৫ গ্রাম ওজনের ১-২টি কুঁড়ি বিশিষ্ট কন্দ লাগানো হয়। ৪০-৪৫ সে.মি. দূরে দূরে সারি করে ২০ সে.মি. দূরে ৫ সে.মি. গভীরে আদা লাগানো হয়। কন্দ লাগানো পর ভেলী করে দিতে হয়। প্রতি হেক্টরে ১০০০ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়।


    সার ব্যবস্থাপনাঃ আদার ভাল ফলন পেতে হলে জমির উর্বরতার উপর নির্ভর করে প্রতি হেক্টরে গোবর সার ৪-৬ টন, ইউরিয়া ২০০-২৪০ কেজি, টিএসপি ১৭০-১৯০ কেজি, এমওপি ১৬০-১৮০ কেজি প্রয়োগ করতে হয়। জমি প্রস্ততির সময় সমুদয় গোবর, টিএসপি ও ৮০-৯০ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করতে হয়। কন্দ লাগানোর ৫০ দিন পর ১০০-১২০ কেজি হারে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করা হয়। লাগানোর ৯০ দিন ও ১২০ দিন পর যথাক্রমে ২য় ও ৩য় কিস্তির সার উপরি প্রয়োগ করা হয়। ভেলা সামান্য কুপিয়ে ১ম কিস্তির সার প্রয়োগ করে আবার ভেলা করে দিতে হয়। ২য় ও ৩য় কিস্তির উপরি প্রয়োগের সময় প্রতি হেক্টরে প্রতিবারে ৫০-৬০ কেজি ইউরিয়া ও ৪০-৪৫ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করা হয়। ২য় ও ৩য় কিস্তির সার সারির মাঝে প্রয়োগ করে মাটি কোঁদাল দিয়ে কুপিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে সামান্য পরিমাণ মাটি ভেলীতে দিতে হয়।


    সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনাঃ আদা লাগানোর পর বৃষ্টি হলে সেচের প্রয়োজন হয় না। তবে বৃষ্টি না হলে ও মাটিতে রসের অভাব থাকলে নালাতে সেচ দিতে হবে এবং ২-৩ ঘন্টা পর নালার অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে হবে। বৃষ্টির পানি যেন জমতে না পারে সেজন্য পানি নিকাশের ব্যবস্থা রাখতে হবে। আগাছা দেখা দিলে তা পরিষ্কার করতে হবে। সার উপরি প্রয়োগের সময় আগাছা পরিষ্কার করে প্রয়োগ করা ভালো।


    পোকামাকড় ব্যবস্থাপনাঃ


    পোকার নামঃ রাইজোম ফ্লাই বা কান্ডের মাছি পোকা


    এ পোকার আক্রমণে হঠাৎ করে গাছ মরে যায়। পোকা আদায় আক্রমণ করে ও পরে পচন ধরে। আদা উৎপাদন এলাকার সকল জায়গাতে এ পোকার আক্রমণ দেখা যায় এবং ক্ষতির পরিমান ১০ থেকে ৭০ ভাগ পর্যন্ত হয় বলে বর্ষা মৌসুমে ঘন ঘন ক্ষেত পরিদর্শন করতে হবে ও ক্ষেতে এ পোকার আক্রমণ পর্যবেক্ষণ করতে হবে। মা পোকা দেখতে গাঢ় বাদামী বর্ণের ও পাখার উপর কালো ফোটা আছে। কীড়া ধূসর সাদা বর্ণের। বৃষ্টিপাত ও আদ্র আবহাওয়ায় এ পোকার আক্রমণ বেশি হয়।


    ক্ষতির নমুনাঃ আক্রমণে সবুজ পাতা হঠাৎ করে হলুদ রং ধারণ করে। আক্রান্ত পাতা আগা থেকে মরতে শুরু করে। রাইজোমটি ধূসর বর্ণের হয়ে পচন ধরে। অধিক আক্রমণে সমস্ত আদা পচে যায়।


    জীবন চক্রঃ স্ত্রী পোকা পচা আদায় গুচ্চাকারে ডিম পাড়ে। ৩-৪ দিন পর ডিম থেকে কীড়া বের হয়। কীড়া অবস্থায় ১৬-১৭ দিন থেকে পুত্তলিতে পরিণত হয়। পুত্তলি অবস্থায় ১৪-১৫ দিন থাকার পর পূর্ণাঙ্গ পোকা বেরিয়ে আসে। এদের জীবন চক্র সম্পন্ন করতে ৩৮-৬২ দিন লাগে।


    ব্যবস্থাপনাঃ প্রতিরোধী জাত ব্যবহার করতে হবে।  বীজ লাগানোর সময় রোগ ও পোকা মুক্ত বীজ ব্যবহার করতে হবে। রাইজোম না ভেঙ্গে লাগানো  এবং লাগানোর পূর্বে ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক দিয়ে বীজ (প্রতিলিটারে ২ গ্রাম হারে ) শোধন করে লাগাতে হবে। বর্ষাকালে জমিতে যাতে পানি জমতে না পারে তার জন্য পানি নিষ্কাশনের ভাল ব্যবস্থা করতে হবে। আক্রান্ত গাছ মাটি সহ তুলে ধ্বংশ করা।





    পোকার নামঃ ডগা ছিদ্রকারী পোকা

    কান্ড আক্রমণ করে বলে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। ফলে উৎপাদন কম হয়। এ পোকার মথ (মা) কমলা হলুদ রংয়ের এবং পাখার উপর কালো বর্ণের ফোটা থাকে। কীড়া হালকা বাদামী বর্ণের। গায়ে সুক্ষ্ণ শুং থাকে।

    ক্ষতির নমুনাঃ পোকা কান্ড ছিদ্র করে ভিতরের দিকে খায় বলে পাতা হলুদ হয়ে যায়। অনেক সময় ডেড হার্ট লক্ষণ দেখা যায়। আক্রান্ত কান্ডে ছিদ্র ও কীড়ার মল দেখা যায়। আদ্র আবহাওয়ায় এ পোকার আক্রমণ বেশি হয়।

    ব্যবস্থাপনাঃ আক্রমণ বেশি হলে, সুমিথিয়ন ৫০ ইসি ২০ মিলি হারে প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ব্যবহার করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। ডাইমেক্রন প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। পোকার আক্রমন বেশী হলে নুভাক্রন ১০০ ইসি ১ লিটার পানিতে ১ মিলি ওষুধ ভালোভাবে মিশিয়ে ১৫ দিন পরপর ২ থেকে ৩ বার স্প্রে করতে হবে।

    রোগের নামঃ রাইজম রট

    পিথিয়াম এফানিডারমেটাম নামক ছত্রাকের আক্রমণের কারনে এ রোগ হয়। এ রোগ রাইজমে আক্রমণ করে বলে আদা বড় হতে পারে না ও গাছ দ্রুত মরে যায় ফলে সমূহ ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।

    ক্ষতির নমুনাঃ প্রথমে পাতা হলুদ হয়ে যায় কিন্তু পাতায় কোন দাগ থাকে না। পরবর্তীতে গাছ ঢলে পড়ে ও শুকিয়ে মরে যায়। রাইজম (আদা) পচে যায় ও ফলন মারাত্মক ভাবে কমে যায়। ভেজা ও স্যাঁত স্যাঁতে আবহাওয়ায় এ রোগ বেশী দেখা যায়। বর্ষাকাল বা জলাবদ্ধতা থাকলে এ রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। এ রোগ বীজ, পানি ও মাটির মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে।

    ব্যবস্থাপনাঃ আক্রান্ত গাছ রাইজোমসহ সম্পূর্ণরূপে তুলে ধ্বংস করতে হবে। রোপণের পূর্বে প্রতি লিটার পানিতে ২.৫ গ্রাম রিডোমিল গোল্ড বা ১ গ্রাম ব্যাভিস্টিন মিশ্রিত দ্রবণে বীজকন্দ ৩০ মিনিট ডুবিয়ে ছায়ার নিচে শুকিয়ে রোপণ করতে হবে।  সুষম সার ব্যবহার করতে হবে। একর প্রতি নিম খৈল ১০০০ কেজি অথবা বাদামের খৈল ৪৪৫ কেজি এর সাথে ইউরিয়া ৩০ কেজি, টিএসপি ২০ কেজি এবং এমপি ৫০ কেজি প্রয়োগের ফলে ফলন বৃদ্ধি পায় এবং কন্দ পচা রোগ রোধ করা যায়। কন্দ পচা রোগ দ্বারা আক্রান্তের প্রাথমিক পর্যায়ে কপার অক্সিক্লোরাইড ৫০% ডব্লিউপি প্রতি লিটার পানিতে ৪ গ্রাম বা রিডোমিল গোল্ড প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম মিশিয়ে মাটির সংযোগ স্থলে ১৫-২০ দিন অন্তর অন্তর প্রয়োগ করে রোগ প্রতিরোধ করা যাবে।

    ফসল সংগ্রহঃ আদা লাগানোর ৯-১০ মাস পর উঠানোর উপযোগী হয়। গাছের প্রায় সব পাতা শুকিয়ে গেলে আদা তোলা হয়। ফলন প্রতি হেক্টরে ১২-১৩ টন।


    আদার দাম বাড়াচ্ছে আমদানিনির্ভরতা


    দেশে চাহিদার তুলনায় আদার উৎপাদন কম। চাহিদা মেটাতে ভারত, চীন ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আদা আমদানি করতে হয়। আর এই আমদানিনির্ভরতাই এখন বাড়াচ্ছে আদার দাম।
    সাম্প্রতিক সময়ে আদার মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে তৈরি করা বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের এক প্রতিবেদনে তাই আদা আমদানির বিকল্প উৎস দেশ খোঁজার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সেই বিকল্প হতে পারে নেপাল ও মিয়ানমার।
    প্রতিবেদন বলছে, বিশ্ববাজারে অস্বাভাবিক হারে মূল্যবৃদ্ধির পরও আদা আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলার পরিমাণ বাড়ছেই৷ দেশেও উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে। তাই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সুযোগ নেই। স্থানীয় বাজারে আদার সরবরাহ যেন স্বাভাবিক থাকে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারদরকে ভিত্তি ধরে আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা করে আদার যৌক্তিক দাম নির্ধারণ করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনটিতে।
    ট্যারিফ কমিশনের এই প্রতিবেদনটি গত বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
    টিসিবির হিসাব অনুযায়ী, দেশে ১ জানুয়ারি মানভেদে ১২৫ থেকে ১৭৫ টাকায় প্রতি কেজি আদা বিক্রি হলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২৫০ টাকায়। ঠিক এক বছর আগে আদা বিক্রি হতো ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। সে হিসেবে এক বছরে দাম বেড়েছে ৯৫ শতাংশ।
    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, দেশে বছরে আদার চাহিদা প্রায় তিন লাখ টন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে আদার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ ২০ হাজার টন। বছরে গড়ে এক লাখ টন আদা আমদানি করতে হয় (চাহিদার ২৭ শতাংশ)। আমদানি করা আদার ৫০ শতাংশ ভারত, ৩০ শতাংশ চীন আর ২০ শতাংশ ইন্দোনেশিয়া থেকে আসে। এ আমদানিনির্ভরতাই আদার দাম বাড়ানোর একটি বড় কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ট্যারিফ কমিশন।
    ভারত বিশ্বের সর্বোচ্চ আদা উৎপাদনকারী দেশ। গত বছর ভারতে অতিরিক্ত আদা উৎপাদন হওয়ায় চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাননি। ফলে এ বছর সে দেশে আদা চাষ অর্ধেকে নেমে আসে। তাই দেশটিতে বর্তমানে আদার দাম কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে চলে এসেছে। এ অবস্থায় ভারতে উৎপাদিত আদার ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোকে চীন, ইন্দোনেশিয়া ও নেপাল থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। এতে আমদানি খরচও বেড়ে যাচ্ছে। মূলত ভারতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
    ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১ জানুয়ারি এক টন আদার আমদানি মূল্য (সিঅ্যান্ডএফ) ছিল ৮০ হাজার টাকা। ১৫ মার্চের পরই বিশ্ববাজারে দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে প্রতি টন আদার আমদানি মূল্য এক লাখ ১৫ হাজার টাকায় পৌঁছায়। ৬ মে অবশ্য আমদানিমূল্য কিছুটা কমে এক লাখ ১০ হাজার টাকায় নেমে আসে।
    তবে জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত আদার মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ট্যারিফ কমিশন দেখেছে, রপ্তানিকারক দেশে যে হারে আদার দাম বেড়েছে, দেশের আমদানিকারকেরা তার চেয়ে কম দামে ঋণপত্র (এলসি) খুলেছেন। এ েক্ষত্রে আন্ডার ইনভয়েসিং হয়ে থাকতে পারে।
    প্রসঙ্গত, আদা আমদানিতে বর্তমানে ৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপিত আছে।
    চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে এক হাজার ৪২ টন আদা আমদানির জন্য ২১টি ঋণপত্র খোলা হয়। এর গড় মূল্য ছিল ৭৭৫ দশমিক ৮২ ডলার। এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহে এক হাজার ৬৮৫ টন আদার জন্য ৩১টি ঋণপত্র খোলা হয়, যার গড় মূল্য ৯৪১ ডলার। ওই মাসের শেষ সপ্তাহে ৫৩টি ঋণপত্র খোলা হয় এক হাজার ৯২২ টন আদা আমদানির জন্য, যার প্রতি টনের মূল্য ৮৭০ দশমিক ২৯ ডলার। অর্থাৎ বিশ্ববাজারে আদার মূল্যবৃদ্ধির পরও ঋণপত্র খোলার প্রবণতা বেড়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, বাজারে আদার দাম বাড়লেও সরবরাহে খুব বেশি প্রভাব পড়ার কথা নয়।
    ট্যারিফ কমিশন বলছে, আমদানি স্বাভাবিক থাকায় আদার সরবরাহে ঘাটতি হওয়ার কারণ নেই। তবে বাজারে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সরকারের নজরদারি বাড়াতে হবে। নইলে দেশে উৎপাদিত আদা ভারতে পাচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। কারণ, ভারতে আদার দাম এ দেশের চেয়ে বেশি হারে বেড়েছে। আদা নিয়ে যেন অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্য না হয়, সে জন্য সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
    আদা আমদানির বিকল্প দেশ হিসেবে নেপাল ও মিয়ানমারকে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপাল বিশ্বের চতুর্থ আদা উৎপাদনকারী দেশ। আবার নেপাল ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করা হলে খরচও অনেক কম পড়বে এবং সময়ও কম লাগবে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজার সার্বক্ষণিক তদারক করা প্রয়োজন, যেন দাম কমার সঙ্গে সঙ্গে দেশীয় বাজারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
    ট্যারিফ কমিশনের প্রিতবেদন
    ৩ লাখ টন চাহিদা বছরে
    ১ লাখ টন আমদানি করতে হয়
    ৫০% আমদানি হয় ভারত থেকে
    ৯৫% দাম বেড়েছে এক বছরে
    বর্তমানে আদা আমদানি হয় ভারত, চীন আর ইন্দোনেশিয়া থেকে। তবে বিকল্প হতে পারে নেপাল আর মিয়ানমার


    জাফরান: লাখ টাকা কেজি মসলার পরীক্ষামূলক ১৫ বছর চাষ

  • Share The Gag
  • জাফরান: লাখ টাকা কেজি মসলার পরীক্ষামূলক ১৫ বছর চাষ

     

     

    বিশ্বের সবচাইতে দামী মসলা বাংলাদেশে ১৫ বছর ধরে চাষ হচ্ছে পরীক্ষামূলকভাবে । সংশ্লিষ্ট বিভাগের উদাসীনতার কারনে ময়মনসিংহসহ দেশের ৯টি বিএডিসি উদ্যানে পরীক্ষামূলক চাষ হলেও আজো সম্প্রসারিত হয়নি বলে দাবী করেছেন অনেকেই। বিশ্বের সবচাইতে দামী লাখ টাকা কেজি এই মসলা ফসলটির নাম জাফরান। জানা যায়, প্রাচীন যুগে পারস্য উপকূলীয় অঞ্চলে জাফরানের স্নিগ্ধ উজ্জল রঙের গুরুত্ব অনুধাবন করে আধ্যাতিক পরিবেশনায় এর ব্যাপক প্রচলন হয়। জাফরান উদ্ভিদতত্বের দিক থেকে ইরিডাসিয়া ফ্যামিলির অন্তর্গত। আরবী ভাষায় ফারান এবং ইংরেজীতে সাফরন । জাফরান কালক্রমে গৃহস্থালীর ব্যবহারে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় তা ধীরে ধীরে কান্দাহার, খোরাসান, কাশ্মীরের বনেদী মহল ব্যবহারের মাধ্যমে ভারত উপমহাদেশে এর আগমন ঘটে।



    ২০০০ সালে বাংলাদেশের ৯ টি বিএডিসি উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে জাফরানের চাষ শুরু হয়। এর মধ্যে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা , গাজীপুরের কাশিমপুর ,পাবনা, রংপুর, বান্দরবন, জামালপুর , লামা এবং খুলনার দৌলনপুর বিএডিসি সার্ভিস সেন্টার। প্রতিটি বাগানে ১৫/২০ টি করে গাছ লাগানো হয় । তৎপরবর্তীতে প্রতিটি গাছের পুষ্পমন্জুরীতে প্রায় ২৫/৩০ টি করে ফুল ফোটে । বীজ তৈরী হতে সময় নেয় ৭০/৮০ দিন। মটরশুটির ন্যায় ছোট গোলাকার লাল রংঙের গাছ প্রতি ২০/৩০ টি করে বীজ হয় । প্রতিটি ফুটন্ত ফুলের পুংকেশর এবং স্ত্রী কেশর কাচাঁ অবস্থায় কেটে আলাদা করে শুকিয়ে নিয়ে সংরক্ষণ করা হয় । ৬/৭ ঘন্টা ভিজিয়ে রং সংগ্রহ করা হয় ।

    আশানুরুপ ফলন পাওয়ার পরও যথাযথ পদক্ষেপ আর পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ঐ চাষ হ্রাস পেতে থাকে। অভিজ্ঞমহল জানিয়েছেন, জাফরান চাষের ধারাবাহিকতা থাকলে দেশের চাহিদা মিটিয়েও বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হতো। জাফরানের উপকারভোগীরা জানান, জাফরানী রঙ অনুষ্ঠানাদিতে বনেদী পোলাও , বিরিয়ানি ,জর্দা, কালিয়াতে ব্যবহার করা হয়। আনেক পান বিলাসী এর পাপড়ি পানের সাথে চর্বণ করেন। জাফরানী রঙ বিভিন্ন হারবাল ওষুধ প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় ব্যবহার হয় । এর রঙ নান্দনিক সাজসজ্জায় তথা বনেদী পার্লারগুলোতে মেহেদিও সাথে সংমিশ্রণে মোহনীয় উজ্জ্বল রং এর উৎকর্ষতা বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হচ্ছে । প্রকৃত জাফরানী রং দ্বারা আধ্যাতিক ইমামগণ চীনা প্লেটের মধ্যে পবিত্র কুরআনের আয়াত লিখা পানি দ্বারা ধৌত করে রোগীকে খাইয়ে থাকেন। জাফরানী সরবত যে কোন অনুষ্ঠানে পরিবেশন যোগ্য । বাংলাদেশের মাটি জাফরান চাষের বিশেষ উপযোগী। তাই নতুন করে হলেও এর দিকে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন বলে অভিজ্ঞমহল মনে করেন।

     

    জাফরান পৃথিবীর অন্যতম দামী মসলা, ইহা ‘রেড গোল্ড’ নামেও পরিচিত। প্রাচীন যুগে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জাফরানের সুগন্ধ ও উজ্জ্বল রঙের গুরুত্ব অনুধাবন করে এ জাফরান ব্যবহার সম্ভ্রান্ত পরিবারের মধ্যে ব্যাপক প্রচলন ছিল। এ ফসলের আদিস্থান গ্রীস। জাফরানের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় তা ধীরে ধীরে কান্দাহার, খোরাসান, কাশ্মীরের বনেদী মহলে ব্যবহারের প্রয়োজনে ভারত উপমহাদেশে এর বিস্তার ঘটে। ইউরোপিও ইউনিয়নভুক্ত অনেক দেশেই জাফরান চাষ প্রচলন আছে। আফগানিস্থান, ইরান, তুরস্ক, গ্রীস, মিশর, চীন এ সব দেশে কম বেশি জাফরানের চাষ হয়ে থাকে। স্পেন ও ভারতের কোন কোন অংশে বিশেষ করে কাশ্মীরে এ ফসলের চাষ অনেক বেশি। তবে অন্য দেশের তুলনায় স্পেনে জাফরান উৎপাদন পরিমাণ অত্যাধিক। রপ্তানীকারক অন্যতম দেশ হিসাবেও স্পেন সুপরিচিত। বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় শতকরা ৭০ ভাগ জাফরান স্পেন রপ্তানী করে থাকে।

    যে সব দেশ স্পেন থেকে জাফরান আমদানী করে তাদের মধ্যে জার্মান, ইতালি, আমেরিকা, সুইজারল্যান্ড, ইউকে ও ফ্রান্স অন্যতম। ফুটন্ত ফুলের গর্ভদন্ড (স্টিগমা) সংগ্রহ করে তা থেকে জাফরান প্রাপ্তি একটা ব্যয় বহুল ও প্রচুর শ্রম নির্ভর (লেবার ইনটেনসিভ) কাজ। একই কারণে এ দামী মসলা চাষে অনেকেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। প্রথম বছর রোপিত সব গাছে ফুল আসেনা, এ সময় প্রায় শতকরা ৪০-৬০ ভাগ গাছে ফুল আসতে পারে। এক গ্রাম জাফরান পেতে saffronপ্রায় ১৫০টা ফুটন্ত ফুলের প্রয়োজন হয়। পরের বছর একেক গাছ থেকে প্রায় ২-৩টা করে ফুল দেয়। তবে তৃতীয় বছর থেকে প্রতি বছরে জাফরান গাছ ৫-৭ টা করে ফুল দিতে সক্ষম।

    জাফরানের ইংরেজি নাম ‘সাফরন’, ক্রোকোআইডি (Crocoideae)পরিবার ভুক্ত। এর বৈজ্ঞানিক নাম : Crocus sativus| । এ গাছ লম্বায় প্রায় ৩০ সে.মিটার হয়। প্রতি ফুলে ৩টা স্ত্রী অঙ্গ (Stigma) থাকে, তবে তাতে পুরুষ অঙ্গ (Anther) থাকে মাত্র ৩টা। খাবার সু-স্বাদু করার জন্য বিশেষ করে বিরিয়ানী, কাচ্চী, জর্দা ও কালিয়াসহ নানা পদের দামী খাবার তৈরীতে জাফরান ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও বিয়ের অনুষ্ঠানে জর্দা তৈরীতে প্রাকৃতিক আকর্ষণীয় রং আনতে এবং দামী বাহারী পান বিপণনে জাফরান অন্যতম উপাদান। মুখমন্ডল আকর্ষণীয় করতে ও ত্বকের উজ্জ্বল রং আনার জন্য স্বচ্ছল সচেতন রমণীরা প্রাচীন কাল থেকে জাফরান ব্যবহার করে থাকে। বিউটি পার্লারে রূপচর্চায় জাফরান অন্যতম উপাদান হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

    বংশ বিস্তার: গাছের মোথা বা বালব (অনেকটা পেঁয়াজের মত) সংগ্রহ করে তা বংশ বিস্তারের কাজে ব্যবহার করা হয়। এক বছর বয়স্ক গাছ থেকে রোপন উপযোগী মাত্র দু’টা মোথা (ইঁষন) পাওয়া যায়। তবে ৩-৪ বছর পর একেক গাছ থেকে ৫-৭টা মোথা পাওয়া যেতে পারে। নূতন জমিতে রোপন করতে হলে ৩-৪ বছর বয়স্ক গাছ থেকে মোথা সংগ্রহ করে তা জমিতে রোপন করতে হবে। একই জমিতে ৩-৪ বছরের বেশি ফসল রাখা ঠিক নয়। মোথা বা বালব উঠিয়ে নূতন ভাবে চাষ ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

    জমি নির্বাচন: প্রায় সব ধরনের জমিতে জাফরান ফলানো যায়। তবে বেলে-দোঁআশ মাটি এ ফসল চাষে বেশি উপযোগী। এঁটেল মাটিতে জাফরানের বাড় বাড়ন্ত ভাল হয় না, তবে এ ধরনের মাটিতে কিছু পরিমান বালু ও বেশি পরিমাণ জৈব সার মিশিয়ে এ মাটিকে উপযোগী করা যায়। জলাবদ্ধ সহনশীলতা এ ফসলের একেবারেই নেই। এ জন্য পানি নিষ্কাশন সুবিধাযুক্ত উঁচু বা মাঝারী উঁচু জমি এ ফসল চাষের জন্য নির্বাচনে প্রাধান্য দেয়া প্রয়োজন। মাটির পি এইচ ৬-৮ হলে বেশি ভাল হয়। ছায়া বা আধা ছায়ায় এ ফসল ভাল হয় না। পর্যাপ্ত রোদ ও আলো-বাতাস প্রাপ্তি সুবিধা আছে এমন স্থানে এ ফসল আবাদ ব্যবস্থা নিতে হবে।

    পরিবারিক প্রয়োজন মেটাতে সাধারণত বাগানের বর্ডার এলাকাতে এ ফসল চাষ প্রচলন আছে। অনেকে ছাদে, পটে বা ছোট ‘বেড’ তৈরী করে নিয়েও সেখানে সীমিত আকারে জাফরান চাষ করে পরিবারের চাহিদা পূরণ করে থাকে। অনেকে এক মিটার চওড়া ও তিন মিটার লম্বা এবং ১৫ সে.মিটার উঁচু বীজতলা তৈরী করে নিয়ে তাতে জাফরান চাষ করে থাকে। এ ব্যবস্থায় পরিচর্যা গ্রহন ও ফুল থেকে স্টিগমা (গর্ভদন্ড) সংগ্রহ করা সুবিধা হয়। বাণিজ্যিকভাবে চাষের ক্ষেত্রে বীজতলার আকার লম্বায় ৮-১০ মিটার করা হয়।

    চাষ পদ্ধতি: তৈরী বীজ তলা সরেজমিন হতে প্রায় ১৫ সে.মিটার উঁচু হবে। প্রতিটা জাফরানের বালব বা মোথা ১০-১২ সে.মিটার দূরত্বে ছোট গর্ত তৈরী করে তা ১২-১৫ সে.মিটার গভীরতায় রোপন করতে হবে। তাতে এ মাপের বীজ তলার জন্য প্রায় ১৫০টা জাফরানের মোথার প্রয়োজন হয়। বর্ষা শেষ হওয়ার পূর্বক্ষণে জুলাই- আগষ্ট মাসে এ ফসলের মোথা বা বালব (ইঁষন) রোপন করা হয়। শুরুতে বেশি গভীর ভাবে জমি চাষ করে বা কোদাল দিয়ে কুপিয়ে জমি আগাছা মুক্ত ও লেবেল করে নেয়া প্রয়োজন। জমি তৈরী কালে প্রতি শতক জমিতে পঁচা গোবর/আবর্জনা পঁচা সার ৩০০ কেজি, টিএসপি ৩ কেজি এবং এমওপি ৪ কেজি প্রয়োগ করে ভালোভাবে মাটির সাথে সমস্ত সার মিশিয়ে হালকা সেচ দিয়ে রেখে দিয়ে দু’সপ্তাহ পর জাফরান বালব রোপন উপযোগী হবে। বসতবাড়ি এলাকায় এ ফসল চাষের জন্য বেশি উপযোগী।
    এ ফসল একবার রোপন করা হলে ৩-৪ বছর পর্যন্ত ফুল দেয়া অব্যাহত থাকে। বর্ষার শেষে আগষ্ট মাসে মাটি থেকে গাছ গজিয়ে ফেব্রুয়ারী মাস পর্যন্ত গাছের বৃদ্ধি ও ফুল দেয়া অব্যাহত থাকে। মে মাসের মধ্যে গাছের উপরিভাগ হলুদ হয়ে মরে যায়। মোথা মাটির নিচে তাজা অবস্থায় বর্ষাকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকে। এ সময় গাছের অবস্থিতি উপরি ভাগ থেকে দেখা যায়না।

    গাছের বৃদ্ধি ও ফুল: গাছে শীতের প্রারম্ভে অর্থাৎ অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ফুল আসে। বড় আকারের মোথা লাগানো হলে সে বছরই কিছু গাছে ফুল ফুটতে পারে। শীতকালে গাছের বাড় বাড়ন্ত ভাল হয়। শীত শেষে এ বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। গাছের বয়স এক বছর হলে অতিরিক্ত ১টা বা ২টা মোথা (ঈড়ৎসং) পাওয়া যায়। তিন বছর পর রোপিত গাছ থেকে প্রায় ৫টা অতিরিক্ত মোথা পাওয়া যাবে, যা আলাদা করে নিয়ে নূতন ভাবে চাষের জন্য ব্যবহার উপযোগী হবে।

    পরিচর্যা: এ ফসল আবাদ করতে হলে সব সময় জমি আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। মাঝে মাঝে নিড়ানী দিয়ে হালকা ভাবে মাটি আলগা করে দেয়া হলে মাটিতে বাতাস চলাচলের সুবিধা হবে এবং গাছ ভালোভাবে বাড়বে। শুকনো মৌসুমে হালকা সেচ দেয়া যাবে। তবে অন্য ফসলের তুলনায় সেচের প্রয়োজনীয়তা অনেক কম। বর্ষায় পানি যেন কোন মতে জমিতে না জমে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পানি জমে থাকলে রোপিত বালব পঁচে যাবে।

    আপদ ও রোগ বালাই: এক প্রকারের ইঁদুর, চিকা ও খরগোস জাফরানের পাতা, ফুল এমনকি গাছের মোথা খেতে পছন্দ করে, মোথা যত খায় নষ্ট করে তার দ্বিগুণ। এ জন্য এ ধরনের উপদ্রব দেখা গেলে প্রয়োজনীয় ফাঁদ ব্যবহার করে অথবা মারার জন্য ঔষুধ ব্যবহার করে তা দমন ব্যবস্থা নিতে হবে।

    গাছ ঢলে পড়া রোগ: এক ধরনের মাটিতে বসবাসকারী ছত্রাকের (পিথিয়াম, রাইজোক টোনিয়া) আক্রমণে গাছের গোড়া নরম হয়ে গাছ বাদামী রং ধারন করে গাছ হেলে পড়ে। প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে লগন/রিডোমিল-গোল্ড অথবা কার্বোন্ডাজিম দলীয় ছত্রাক নাশক (জাষ্টিন/ব্যাভিস্টিন) স্প্রে করে সুফল পাওয়া যাবে।

    শিকড় পচা রোগ: এটা জাফরানের খুব ক্ষতিকর রোগ। এ রোগের আক্রমণে শিকড় পঁচে গাছ মারা যায়। এ রোগ যথেষ্ট ছোঁয়াচে, এ জন্য বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন করা দরকার এবং আক্রান্ত জমিতে দু-এক বছর জাফরান চাষ করা যাবে না। একই বাগানে ৩-৪ বছর ধরে জাফরান আবাদ অব্যাহত রাখা হলে এ রোগের উপদ্রব বাড়ে। এ জন্য তিন বছর ফসল নেয়ার পর চতুর্থ বছর মোথা উঠিয়ে নিয়ে নূতন ভাবে অন্য জমিতে এ ফসল চাষ ব্যবস্থা নিতে হবে। পরবর্তী ২ বছর এ রোগাক্রান্ত জমিতে আর জাফরান চাষ করা উচিত হবে না।

    জাফরান সংগ্রহ: রোপনের প্রথম বছর সাধারণত ফুল আসে না। তবে জাফরানের রোপিত বালব আকারে বেশ বড় হলে সে বছরই জাফরান গাছ থেকে মাত্র একটা ফুল ফুটতে পারে। পরের বছর প্রতি গাছে পর্যায়ক্রমে ২-৩ টা ফুল আসবে। দু’বছরের গাছে ৪-৫টা এবং তিন বছরের গাছে ৭-৮টা ফুল দিবে। জাফরানের স্ত্রী অঙ্গ ৩টা থাকে এবং পুরুষ অঙ্গ ও ৩’টা থাকে। গাছে অক্টোবর মাস থেকে ফুল দেয়া আরম্ভ করে এবং নভেম্বর মাস পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। তবে এ ফুল ফোটা মৌসুমী তাপমাত্রার উপর অনেকটা নির্ভর করে। ফুটন্ত ফুলের গন্ধের মাত্রা কিছুটা তীব্র। ফুল ফোটার সঙ্গে সঙ্গে গর্ভদন্ড (ঝঃরমসধ) গাছ থেকে ছেঁটে সংগ্রহ করা প্রয়োজন। এ দন্ডের অগ্রভাগের অংশ তুলনায় চওড়া বেশি বা মোটা হয়। এ অংশের রং গাঢ় লালচে হয়। নীচের অংশ অনেকটা সুতার মত চিকন এবং হালকা হলুদ রঙের হয়। উপরের অংশ জাফরান হিসাবে ব্যবহৃত হয়, নিচের চিকন অংশের গুণাগুণ তেমন ভালো হয় না।

    সংরক্ষণের আগে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে যেন তা ভালোভাবে শুকানো হয়। অন্যথায় জাফরান বেশি দিন রাখা যাবে না, প্রকৃতিক গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।ফুল ফোটার সঙ্গে সঙ্গে ফুলের স্টিগমার বা গর্ভদন্ডের প্রয়োজনীয় অংশ কেঁচি দিয়ে বা অন্য ভাবে ছেঁটে নিয়ে তা চওড়া একটা পাত্রে পরিষ্কার কাগজ বিছিয়ে নিয়ে তার উপর সংগৃহীত জাফরান রোদে শুকানোর ব্যবস্থা নেয়া হয়। এ সময় রোদে দেয়ার জন্য জাফরান সংরক্ষিত পাত্রটা কিছু উঁচু স্থানে টেবিল/টুলে রাখতে হবে এবং কোন মতেই যেন বাতাস বা অন্য কোন প্রাণীর উপদ্রবে পড়ে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জাফরান শুকানোর জন্য এক ধরনের যন্ত্র (ডেসিকেটর বা ড্রায়ার) ব্যবহার করা হয়।

    জাফরান সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কাজ অতি ধৈর্য্যরে সাথে করতে হয় যা অনেকটা চা সংগ্রহের মত। ফসল সংগ্রহ, পরবর্তীতে প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বিপণন এ কাজগুলো উৎপাদনকারী সব দেশেই মহিলারা করে থাকে। এ দেশেও এ গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পাদনের জন্য আগ্রহী মহিলাদের সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ দেয়া অতি জরুরী হবে। দু-তিন দিন পড়ন্ত রোদে শুকানোর পর তা আর্দ্রতা রোধক পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে। কড়া রোদে বা বৃষ্টিতে ভেজার আশঙ্কা থাকলে বাড়ীর বারান্দায় বা জানালার ধারে সুরিক্ষত স্থানে এ মূল্যবান জাফরান শুকানোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

    সাবধানতা: জাফরান অত্যান্ত দামী ফসল। এ জন্য অসাধু ব্যবসায়ীরা এতে ভেজাল দিয়ে ক্রেতা সাধারণকে প্রতারিত করার অহরহ দৃষ্টান্ত আছে। ক্রেতাকে অবশ্যই জাফরান ক্রয় কালে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। সব চেয়ে ভাল হয় বাড়ির ছাদে বা সবজী বাগানে কিছু সংখ্যক গাছ লাগিয়ে নিজেই উৎপাদন করা বা উৎপাদনে অন্য কাউকে উৎসাহিত করে সেখান হতে নিজ প্রয়োজন মেটানো।

    জাফরান চাষে করণীয়: প্রত্যেক হর্টিকালচার সেন্টারে সুবিধামত স্থানে ২-৩টা স্থায়ী বীজ তলায় এ দামী গুরুত্বপূর্ণ হাইভ্যালু ফসলের আবাদ ব্যবস্থা নেয়া অত্যাবশ্যক। পার্শ্ববর্তী যে কোন দেশ থেকে দু-একশত জাফরান বালব সংগ্রহ করে চাষের উদ্যোগ নেয়া জরুরী। জাফরান বালব সংগ্রহের ক্ষেত্রে বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে তা প্রত্যেক হর্টিকালচার সেন্টারে বিশেষ করে নূরবাগ জার্মপ্লাজম হর্টিকালচার সেন্টারে চাষ

    Monday, July 3, 2017

    পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পোকার চাষ!

  • Share The Gag
  • পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পোকার চাষ!



    নিত্য নতুন খাবার আবিষ্কার হচ্ছে, কিন্তু সেসব খাবারে প্রকৃত পুষ্টি পাচ্ছে না মানুষ। তাই বিজ্ঞানীরা বলছেন, খুব শিগগিরই ইউরোপে পোকা চাষের ফার্ম চালু হবে। পোকা ছাড়া কোনোভাবেই পুষ্টির চাহিদা পূরণ হওয়া সম্ভব নয়। কারণ, শুককীট বা ল্যাদা পোকায় প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন আছে, যা মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটাবে।

    জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্যানুসারে ২০০০ সালে মাংস বা প্রোটিনের চাহিদা যা ছিল, তা থেকে ২০৩০ সাল নাগাদ প্রায় ৭২ ভাগ বেড়ে যাবে। আর তখন প্রোটিনের চাহিদা পূরণে হিমসিম খেতে হবে মানুষকে। বর্তমানে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে বিভিন্ন প্রাণীর মাংস খাই আমরা। কিন্তু তথন এমন পরিস্তিতি সৃষ্টি হবে যে প্রাণীর মাংসেও পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে পারবে না। তাই বাধ্য হয়েই পোকা মাকড়ের উপর নির্ভরশীল হবে মানুষ।

    ২০১৩ সালেও জাতিসংঘ থেকে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনেও টেকশই পুষ্টি চাহিদা পূরণের জন্য পোকা চাষের প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘাস ফড়িং, পিঁপড়া ও অন্যান্য পোকামাকড় চাষ করে পুষ্টি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। তবে পোকা চাষের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার। যেসব পোকামাকড় পরিবেশের ক্ষতি করে না সেগুলো চাষ করতে হবে। আর এদিকে অন্যান্য প্রোটিনের উৎস যেমন মাছ ও মাংসও সচল রাখতে হবে।

    গত বছরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নও এক প্রতিবেদনে ক্রমবর্ধমান পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে পোকা চাষের ব্যাপারে উৎসাহিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘পুষ্টির চাহিদা পূরণের জন্য পোকা খাওয়ার বিষয়টি এলিয়েন কালচার মনে হলেও এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার প্রায় ২ মিলিয়ন মানুষের প্রধান প্রোটিনের উৎস এই পোকামাকড়। এই পোকামাকড়গুলোর মধ্যে শুঁয়োপোকা, উইপোকা, ঘাস ফড়িং, ঝিঁঝিঁ, অরুচিকর বাগ এবং অন্যান্য পোকামাকড় খুব জনপ্রিয়। কিন্তু এসব পোকামাকড় সেখানে কোনো ফার্মে চাষ হয় না। ওইসব অঞ্চলের মানুষ প্রাকৃতিকভাবে পোকা সংগ্রহ করে খায়।’

    ইউরোপে এখন যে পোকামাকড়ের ব্যবহার হয় না তা কিন্তু নয়। তবে মানুষের খাবার হিসেবে ব্যবহার হয় কমই। সাধারণত বাসার পোষা প্রাণীর জন্য তারা এসব পোকা কেনেন এবং সেগুলোকে পোষেন। তবে যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে তাতে এবার মানুষের খাবারের জন্য পোকার চাষ শুরু হবে। এবং এটি মাছ ও মাংসের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার হবে। তার মধ্যে শুককীট, বা উড়ন্ত পোকা খুবই উপযুক্ত বিকল্প হিসেবে মনে করছেন গবেষকরা।



    ইতিমধ্যেই ইউরোপিয়ান কমিশন ‘প্রোটইনসেক্ট’ নামের এক প্রজেক্ট চালু করেছে। এই প্রজেক্টের কাজ হলো কোন কোন প্রাণী বা পোকা মানুষের পুষ্টির জন্য বেশি উপযোগী ও পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে না, তা গবেষণা করে বের করা।

    ‘প্রোটইনসেক্ট’ ও ‘মিনেভরা কমিউনিকেশন ইউকে’ এক সাথে কাজ করছে। মিনেভরা কমিউনিকেশনের এক মুখপাত্র বলেন, ‘ইউরোপের নীতিমালায় কোন পোকামাকড় খাওয়া বা পালন করার ব্যাপারে আইন আছে। তবে সম্প্রতি পোকা চাষের যে কথা উঠেছে তাকে আমরা খুবই উদ্বিঘ্ন। কারণ আবার সব নীতিমালা পরিবর্তন করতে হবে। কোন কোন পোকা ফার্মে চাষ করা যাবে আর কোনগুলো যাবে না তা নির্ধারণ করতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি।’

    তবে পোকা চাষের ব্যাপারে সবচেয়ে যে বিষয় নিয়ে সবাই সবচেয়ে উদ্বিগ্ন তা হলো- মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি। কারণ, এখনও অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, কিছু পোকা আছে যেগুলো মানুষের খাওয়া ‍উচিত নয়। সেগুলো মানুষের পাকস্থলী হজম করতে পারবে না, বা স্বাস্থ্যের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

    তবে ইউরোপীয় খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ (ইএফএসএ) এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে। তারা বলছেন, অন্যান্য প্রাণীর মাংস যেভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হয়, ঠিক সেভাবেই পোকা প্রক্রিয়াজাত করা হবে। সুতরাং এখানে ক্ষতির কোনো সম্ভাবনা নেই। আর মানুষের পুষ্টির চাহিদাও পূরণ হবে।

    তাই ইউরোপিয়ান কমিশন তাদের ‘প্রোটইনসেক্ট’ প্রোজেক্টের ডাটা-গুলি আবার যাচাইবাছাই করছে। ডাটা-গুলির উপর নির্ভর করবে কত তাড়াতাড়ি আবার পোকার ফার্ম চালু করা যায়। যদি তারা মনে করেন, পোকা চাষ করা সম্ভব- তাহলে খুব শিগগিরই পোকা চাষের ফার্ম চালু করা হবে।

    ঢাকায় ছাদের ওপর গরু পালন

  • Share The Gag
  • ঢাকায় ছাদের ওপর গরু পালন





    পুরান ঢাকার লালবাগের সরু অলিগলি পেরিয়ে খুঁজে নিতে হল বাড়িটি।



    ডুরি আঙ্গুল লেনের চারতলা বড় এই বাড়িটি দেখে বোঝার উপায় নেই এই বাড়ির ছাদেই রয়েছে একটি গরুর খামার।

     



     

     

     

     

     

     

     

     

     

     

    সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠেই এলো সেপের ছাদটিতে রয়েছে ফুলের গাছ আর গরু। খামারের মালিক হাজি হাবিবুর রহমান ও তার ভাই-বোন সবায়এই খামারের সাথে যুক্ত।

    এই ছাদে দাড়িয়ে কথা বলছিলাম মি. রহমানের বোন তাহমিনা আক্তারের সাথে। তিনি বলছিলেন ১০- ১২ বছর আগে এই খামার করার চিন্তাটা আসে।

    মি. রহমান সেবার ঈদে একটি গরু কিনে আনেন। কিন্তু কোরবানীর জন্য যথেষ্ট বয়স না হওয়ায় তিনি গরুটি রেখে দেন। এরপর নিয়ে আসেন আরেকটি গরু। আর এভাবেই শুরু।

    ছোট দুটি গরু নিয়ে বাসার ছাদে পালতে শুরু করেন, এখন ঐ খামারে সব সময় ১৫ থেকে ২০ টা গরু থাকছে।

    গরু গুলো বড় হলে তাদের মধ্যে কয়েকটি বিক্রি করছেন। আর বাকি গুলো থেকে দুধ বিক্রি করছেন। প্রতিদিন গরু গুলো থেকে প্রায় ৪০ লিটার দুধ পাচ্ছেন এই খামারিরা।

    বর্তমানে খামারটিতে রয়েছে আটটি অস্ট্রেলিয়ান গরু। আর চারটি নেপালি গরু। বাকি ছয়টি এবছর কোরবানির ঈদের জন্য বিক্রি করা হয়েছে।



     

     

     

     

     

     

     

     

     

     

     

    শীতের দিনে একবার। সাবান, শ্যাম্পু দিয়ে পরিষ্কার করেন তাদের।

    ছাদের ওপরে টিনের ছাউনি দেয়া আর সামনে বাঁশ দিয়ে ঘিরে তৈরি করা হয়েছে গরুর থাকার জায়গা। ভিতরে চলছে ফ্যান।

    গরু পালন করতে সাধারণত বড় জায়গার প্রয়োজন হয়। ছাদের ওপর সীমিত এই জায়গায় গরুর জন্য কতটা স্বস্তি দায়ক? প্রশ্ন করলে মি. রহমান বলছিলেন " তাদের আরাম আয়েশের জন্য সব ব্যবস্থা আছে। কোন কষ্ট হয় না তাদের"।

    যেখানে রাজধানী ঢাকায় স্থান স্বল্পতার জন্য নানা সমস্যার কথা প্রায় সময় শোনা যায়, সেখানে ছাদের ওপর এই খামার তৈরি করে এই খামারের মালিকের যেমন লাভবান হচ্ছেন তেমনি একই সাথে প্রতিবেশীরা এখান থেকে ভেজাল মুক্ত টাটকা গরু দুধ কিনতে পারছেন।

    তাই তারাও স্বাগত জানাচ্ছেন অভিনব এই উদ্যোগকে।

     

     

     

     

     

     

     

     

     

     

    পাখি পালন, শখের পাখি থেকে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন

  • Share The Gag
  • পাখি পালন, শখের পাখি থেকে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন



     

    এক সময় শখের বশে বনে বাদাড়ে ঘুরে বেড়াতেন তিনি। বনে বাদাড়ে ঘুরে বেড়ানোরও একটা কারণ ছিল তার। কারণটি হলো পাখি শিকার করা।



     

    গাছে গাছে বাগানে বাগানে ঘুরে ঘুরে পাখি ও পাখির বাচ্চা ধরে এনে পালন করা ছিল তার নেশা। এই নেশা থেকেই বর্তমানে পাখি পালন করা এখন তার পেশায় পরিণত হয়েছে।

     

    বলা হচ্ছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি ইউনিয়নের আংদিয়া গ্রামের টুটুল সেনের কথা। তার বাবার নাম ভোলানাথ সেন ও মায়ের নাম আল্পনা রানী সেন।

     

    লেখাপড়ায় বেশিদূর এগুতে পারেননি টুটুল, সংসারের কাজ কর্মেও তেমন মন ছিলো না তার। পাখি পালনের নেশায় মাধ্যমিক পাশ করেই থমকে যায় তার লেখাপড়া। পরবর্তীতে তিনি ঠিক করেন পাখি পালনকেই তিনি পেশা হিসেবে বেছে নেবেন।

     

    তারপর দেশি বিদেশি বিভিন্ন জাতের পাখি নিয়ে ছোট আকারে পাখি পালনের জন্য নিজের বাড়িতেই একটি খামার গড়ে তোলেন।

    বর্তমানে সেই খামার বাণিজ্যিক খামারে পরিণত করেছেন টুটুল। এখন তার খামারে দেশি বিদেশি নানা জাতের পাখি রয়েছে।





    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে টুটুল সেন রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘শখের বশে পাখি পালন করা শুরু করি আমি। ২০১৩ সাল থেকে শখের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে পাখি পালন শুরু করি। প্রথমে আমি পাঁচ জোড়া বাজরিকা এবং এক জোড়া পকাটেল পাখি নিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করি। বর্তমানে আমার খামারে বিভিন্ন প্রজাতির দুইশ এর অধিক পাখি রয়েছে। যার মূল্য তিন লাখ টাকার অধিক।’

     

    তিনি জানান, বর্তমানে এই পাখি পালন করে তিনি সংসার চালাচ্ছেন। এখান থেকে তার প্রতি মাসে আনুমানিক ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা আয় হয়।

     

    পাখি পালনের নিয়ম-কানুন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পাখি পালন একটি সৌখিন কাজ। পাখিকে ভালোমত যত্ন না করলে লাভবান হওয়া যায় না। পাখিদের দৈনিক ২-৩ ঘণ্টা পরিচর্যার দরকার হয়। পাখিদের একদিন পর পর খাবার দেওয়ার প্রয়োজন হয় এবং প্রতিদিন পাখির বিষ্ঠা পরিষ্কার করতে হয়।

    ‘এসব পাখির খাবার এই অঞ্চলে পাওয়া যায় না। এজন্য দেশের ভিন্ন স্থান যেমন, রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রভৃতি জেলা থেকে পাখির খাবার সংগ্রহ করতে হয়। বর্তমানে এখান থেকে কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, ঝিনাইদহ, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা পাখি কিনতে আসেন।



    ‘আমার এ খামারে বর্তমানে বাজরিকা, বাজিগার, লাভ বার্ড, প্রিন্স, পকাটেল, কাকাতুয়া, ডাইমন্ড ডাবসহ দেশি বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির পাখি রয়েছে।’

     

    টুটুল সেনের স্ত্রী বীনা সেন রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘প্রথম প্রথম পাখি পালনকে আমি পছন্দ করতাম না। তারপরে আমি দেখলাম যে পাখি পালন বেশ লাভজনক। তাই আমি আমার স্বামীর সঙ্গে মিলে পাখি পালন করছি।’

     

    দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আল মামুন রাইজিংবিডিকে জানান, সমাজে অনেক বেকার আছে। যারা বেকারত্বের দোহায় দিয়ে বাড়ি বসে থাকে। কিন্তু টুটুল পাখি পালন করে আজ স্বাবলম্বী হয়েছে। সে সমাজের একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

    তেলাপিয়ার নতুন রোগ, সতর্ক হওয়ার পরামর্শ

  • Share The Gag
  • তেলাপিয়ার নতুন রোগ, সতর্ক হওয়ার পরামর্শ

    বিভিন্ন দেশে তেলাপিয়া মাছে একটি বিশেষ ধরনের ভাইরাস আক্রমণ করছে। ‘তেলাপিয়া লেক’ নামের ওই ভাইরাস দক্ষিণ আমেরিকা থেকে শুরু করে আফ্রিকা-এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) সম্প্রতি এই রোগের ব্যাপারে বিশ্ববাসীকে সাবধান করে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। এই ভাইরাস যেসব দেশে ছড়িয়ে পড়ছে, সেখানে তেলাপিয়ায় মড়ক দেখা দিচ্ছে বলে সংস্থাটি তাদের সতর্কবার্তায় উল্লেখ করেছে।

    বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ও মৎস্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত তেলাপিয়া মাছের গায়ে ফোসকা পড়বে, এরা খাবার কম খাবে। এমন কোনো মাছ বাংলাদেশের কোনো খামারে তাঁরা পাননি।

    বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন খামারে মাছের পরীক্ষা করেন। সেখানে এ ধরনের কোনো রোগাক্রান্ত মাছ পাওয়া যায়নি। তবে কেউ ব্যক্তিগতভাবে ইন্দোনেশিয়া বা থাইল্যান্ড থেকে তেলাপিয়া মাছের পোনা নিয়ে আসছে কি না, তা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

    তবে এফএওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের চতুর্থ তেলাপিয়া উৎপাদনকারী দেশ বাংলাদেশও এই ভাইরাসের আক্রমণের শিকার হতে পারে। ইতিমধ্যে এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে এমন দেশ থেকে যাতে অন্য দেশগুলো তেলাপিয়া আমদানি না করে, সে ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আরিফ আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘মূলত অল্প জায়গায় বেশি মাছ চাষ করলে ও পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণ না করলে এ ধরনের ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ বেশি হয়। আমরা এ ব্যাপারে চাষিদের সচেতন করতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি।’

    এফএওর হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে বছরে ৩ লাখ ৩৮ হাজার টন তেলাপিয়া উৎপাদিত হয়। আর সবচেয়ে বেশি তেলাপিয়া হয় চীনে, ১৮ লাখ টন। বিশ্বে বর্তমানে ৬৭০ কোটি ডলারের তেলাপিয়া মাছ আমদানি-রপ্তানি হয়। এই রোগের কারণে বিশ্বে তেলাপিয়া বাণিজ্যে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে বলে সংস্থাটি সতর্কতা জারি করেছে।

    মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী দেশে প্রায় চার লাখ টন তেলাপিয়া উৎপাদিত হয়। এই মাছকে দেশের গরিব মানুষের প্রাণিজ আমিষের অন্যতম উৎস হিসেবে দেখা হয়। দেশে উৎপাদিত মোট মাছের ১০ শতাংশ এই তেলাপিয়া মাছ।

    সূত্র- প্রথম আলো

    কমল কৃষি ঋণের সুদ

  • Share The Gag
  • কমল কৃষি ঋণের সুদ

    ব্যাংক ঋণের সুদ হারের নিম্নমুখী প্রবণতা বিবেচনায় নিয়ে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে কৃষি ঋণের সুদের হার কমানো হয়েছে।

    এতদিন কৃষি ও পল্লী ঋণের সুদ হারের ঊর্ধ্বসীমা ছিল ১০ শতাংশ। বৃহস্পতিবার তা ১ শতাংশ পয়েন্ট কমিয়ে ৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠিয়েছে।

    ‘কৃষি ও পল্লী ঋণের সুদ হার পুনঃনির্ধারণ’ শীর্ষক সার্কুলারে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ১৪ জুন এক সার্কুলারের মাধ্যমে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে কৃষি ও পল্লী ঋণের সুদ হারের ঊর্ধ্বসীমা ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।

    কৃষি খাতে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি এবং প্রকৃত কৃষকের কাছে ঋণ সহজলভ্য করার লক্ষ্যে আমানত ও ঋণের সুদ হারের নিম্নমুখী প্রবণতা বিবেচনায় অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে কৃষি ও পল্লী ঋণের সুদ হারের ঊর্ধ্বসীমা ১০ শতাংশের পরিবর্তে ৯ শতাংশে পুনঃনির্ধারণ করা হল।

    ১ জুলাই থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

    সূত্র-বিডি নিউজ ২৪