বাকৃবিতে বন্যাসহিষ্ণু ধানের বীজ বিতরণ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পার্শ্ববর্তী গ্রামের কৃষাণীদের মাঝে বন্যাসহিষ্ণু (বিনা ধান-১১ ও ব্রি ধান-৫২ ) ধানের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদীয় সম্মেলন কক্ষে এসব বীজ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বয়রা ইউনিয়নের ২০০ জন কৃষাণীর প্রত্যেককে পাঁচ কেজি করে ধানের বীজ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম বলেন, "বিনা ধান ১১ বন্যা সহিষ্ণু ধানের জাত। এ জাতের ধান গাছ টানা তিন সপ্তাহ ধরে পানির নিচে থাকতে পারে। পানি নেমে যাওয়ার পর ১-২ সপ্তাহের মধ্যে আবার নতুন কুশি বের হবে। এর জন্য ফলন কমবে না বরং পূর্বের মতোই ফলন পাওয়া যাবে। তবে বন্যার সময় অনুযায়ী ধান গাছের জীবনকাল ১০-১২ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে।
'স্ট্রেস টলারেন্ট রাইস ফর আফ্রিকা অ্যান্ড সাউথ ইস্ট এশিয়া' (এসটিআরএসএ) প্রজেক্ট'র কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রেজাউল করিম। বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবিনা ইয়াসমিন ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রসারণ কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন এসটিআরএসএ এর প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল হকসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা।
Monday, July 3, 2017
Sunday, July 2, 2017
থোকা থোকা মাল্টা
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 6:51 PM
মাল্টা
ছোট ছোট গাছে ঝুলছে থোকা থোকা মাল্টা। একেকটি গাছে ১৫-২০টি থেকে ৪০টি পর্যন্ত। গাঢ় সবুজ রঙের মাল্টাগুলোর কোনো কোনোটিতে হলুদাভ ভাব এসেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার জামতাড়া এলাকায় দুই বছর বয়সী এই মাল্টা বাগানের মালিক মতিউর রহমান।
প্রায় আট বছর আগে ১০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে মতিউর বাণিজ্যিকভাবে পেয়ারা, আম, লেবু, কুল ও বেদানার চাষ শুরু করেন। কিছুদিন পর স্থানীয় একটি জাতের মাল্টার বেশ কিছু চারা রোপণ করেন। দেড় বছরের মাথায় সেগুলোতে ফল ধরে। কিন্তু ফলগুলো ছিল পানসে। মাল্টা চাষের কথা তখনই মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলেন মতিউর। অন্য ফলগুলোর আবাদ ভালোই চলতে থাকে।
বছর দুয়েক আগে স্থানীয় হর্টিকালচার সেন্টারের কর্মকর্তারা মতিউর রহমানকে বারি মাল্টা-১-এর কিছু চারা নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে রোপণ করার প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ২০০ চারা এনে দুই বিঘা জমিতে রোপণ করেন তিনি। এরপর শুরু হয় সেগুলোর যত্ন। অপেক্ষায় থাকেন ফল পাওয়ার। অবশেষে তিন মাস আগে বাগানের তিন-চতুর্থাংশ গাছে ধরে কাঙ্ক্ষিত ফল। সবুজ সেই মাল্টায় জীবনে নতুন করে আলোর দিশা দেখতে পান মতিউর রহমান।
এই প্রতিবেদক সম্প্রতি মতিউরের মাল্টার বাগান দেখতে গিয়েছিলেন। গাছে গাছে ঝুলছে পরিপক্ব মাল্টা। ফল সবুজ হলেও ভীষণ রসাল ও মিষ্টি লাগল খেতে। মতিউর রহমান বলেন, বাগানটি কৃষি বিভাগের দ্বিতীয় শস্য বহুমুখীকরণ প্রকল্পের (এসসিডিপি) আওতায়। প্রথমবারের ফলন সুস্বাদু হওয়ায় দারুণ খুশি কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। এ মাসের (সেপ্টেম্বর) শেষের দিকে বাগান থেকে মাল্টাগুলো তোলা হবে।
মতিউর রহমান বলেন, এসসিডিপির সাবেক প্রকল্প পরিচালক এবং বর্তমানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হামিদুর রহমান সম্প্রতি এই বাগান পরিদর্শন করে গেছেন। কৃষি বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তারা এবারের ফলনের সব মাল্টাই কিনে নিতে চেয়েছেন।
এসসিডিপি প্রকল্পের উদ্যান প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ জহুরুল ইসলাম বলেন, মাল্টা চাষের সম্ভাবনা যাচাই করার জন্য এই বাগানের মাল্টার নমুনা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হবে। উল্লেখ্য, এই কর্মকর্তার তদারকিতেই প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে বরেন্দ্র অঞ্চলে বারি মাল্টা-১-এর চাষ শুরু হয়েছে।
গাছে ঝুলছে থোকা থোকা মাল্টা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক সাইফুর রহমান জানান, সড়কের পাশ দিয়ে দিয়ে যাওয়ার সময় মতিউর রহমানের এই মাল্টার বাগান অনেকেরই দৃষ্টি কাড়ে। বারি মাল্টা-১ চাষের সাফল্য দেখে অনেকেই এখন এই ফল চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। চারা সংগ্রহের জন্য কেউ কেউ হর্টিকালচার সেন্টারে আসছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হামিদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, শীতকালে লেবুজাতীয় দেশি ফল থাকে না বললেই চলে। সে ক্ষেত্রে বারি মাল্টা-১ লেবুজাতীয় ফলের উৎপাদনের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা যায়। এর বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা বারি মাল্টা-১ দারুণ সুস্বাদু একটি ফল।
মাল্টা চাষের পদ্ধতি: এসসিডিপি প্রকল্পের উদ্যান প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম বলেন, সারা দিন রোদ পড়ে এবং বৃষ্টির পানি জমে না—এমন উঁচু বা মাঝারি উঁচু জমি মাল্টা চাষের জন্য নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচিত জমিটি কয়েকবার চাষ ও মই দিয়ে সমান করে নিতে হবে। জমি থেকে আগাছা পরিষ্কার করে আশপাশে উঁচু গাছ থাকলে কেটে ফেলতে হবে। সমতল ভূমিতে বর্গাকার বা ষড়ভূজি পদ্ধতিতে চারা রোপণ করতে হবে। সাধারণত মধ্য বৈশাখ থেকে মধ্য ভাদ্র (মে-আগস্ট) মাসের মধ্যে মাল্টার চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। তবে পানির সেচ নিশ্চিত করা গেলে চারা বছরের যেকোনো সময় লাগানো যেতে পারে।
চারা রোপণের জন্য গর্তের আকার ৭৫ সেন্টিমিটার বাই ৭৫ সেন্টিমিটার হবে। একটি চারা থেকে অন্যটির দূরত্ব হবে চার মিটার। তবে তিন মিটার দূরত্বেও চারা লাগানো যেতে পারে। গর্তের মধ্যে ১৫ কেজি গোবর বা কম্পোস্ট সার দিয়ে তিন থেকে পাঁচ কেজি ছাই, ২৫০ গ্রাম টিএসপি, ২৫০ গ্রাম এমওপি সার ও ২৫০ গ্রাম চুন ওপরের মাটির সঙ্গে মেশাতে হবে। গর্তগুলো ১৫-২০ দিন ভরাট করে রেখে তারপর চারা লাগাতে হবে।
ছোট ছোট গাছে ঝুলছে থোকা থোকা মাল্টা। একেকটি গাছে ১৫-২০টি থেকে ৪০টি পর্যন্ত। গাঢ় সবুজ রঙের মাল্টাগুলোর কোনো কোনোটিতে হলুদাভ ভাব এসেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার জামতাড়া এলাকায় দুই বছর বয়সী এই মাল্টা বাগানের মালিক মতিউর রহমান।
প্রায় আট বছর আগে ১০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে মতিউর বাণিজ্যিকভাবে পেয়ারা, আম, লেবু, কুল ও বেদানার চাষ শুরু করেন। কিছুদিন পর স্থানীয় একটি জাতের মাল্টার বেশ কিছু চারা রোপণ করেন। দেড় বছরের মাথায় সেগুলোতে ফল ধরে। কিন্তু ফলগুলো ছিল পানসে। মাল্টা চাষের কথা তখনই মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলেন মতিউর। অন্য ফলগুলোর আবাদ ভালোই চলতে থাকে।
বছর দুয়েক আগে স্থানীয় হর্টিকালচার সেন্টারের কর্মকর্তারা মতিউর রহমানকে বারি মাল্টা-১-এর কিছু চারা নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে রোপণ করার প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ২০০ চারা এনে দুই বিঘা জমিতে রোপণ করেন তিনি। এরপর শুরু হয় সেগুলোর যত্ন। অপেক্ষায় থাকেন ফল পাওয়ার। অবশেষে তিন মাস আগে বাগানের তিন-চতুর্থাংশ গাছে ধরে কাঙ্ক্ষিত ফল। সবুজ সেই মাল্টায় জীবনে নতুন করে আলোর দিশা দেখতে পান মতিউর রহমান।
এই প্রতিবেদক সম্প্রতি মতিউরের মাল্টার বাগান দেখতে গিয়েছিলেন। গাছে গাছে ঝুলছে পরিপক্ব মাল্টা। ফল সবুজ হলেও ভীষণ রসাল ও মিষ্টি লাগল খেতে। মতিউর রহমান বলেন, বাগানটি কৃষি বিভাগের দ্বিতীয় শস্য বহুমুখীকরণ প্রকল্পের (এসসিডিপি) আওতায়। প্রথমবারের ফলন সুস্বাদু হওয়ায় দারুণ খুশি কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। এ মাসের (সেপ্টেম্বর) শেষের দিকে বাগান থেকে মাল্টাগুলো তোলা হবে।
মতিউর রহমান বলেন, এসসিডিপির সাবেক প্রকল্প পরিচালক এবং বর্তমানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হামিদুর রহমান সম্প্রতি এই বাগান পরিদর্শন করে গেছেন। কৃষি বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তারা এবারের ফলনের সব মাল্টাই কিনে নিতে চেয়েছেন।
এসসিডিপি প্রকল্পের উদ্যান প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ জহুরুল ইসলাম বলেন, মাল্টা চাষের সম্ভাবনা যাচাই করার জন্য এই বাগানের মাল্টার নমুনা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হবে। উল্লেখ্য, এই কর্মকর্তার তদারকিতেই প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে বরেন্দ্র অঞ্চলে বারি মাল্টা-১-এর চাষ শুরু হয়েছে।
গাছে ঝুলছে থোকা থোকা মাল্টা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক সাইফুর রহমান জানান, সড়কের পাশ দিয়ে দিয়ে যাওয়ার সময় মতিউর রহমানের এই মাল্টার বাগান অনেকেরই দৃষ্টি কাড়ে। বারি মাল্টা-১ চাষের সাফল্য দেখে অনেকেই এখন এই ফল চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। চারা সংগ্রহের জন্য কেউ কেউ হর্টিকালচার সেন্টারে আসছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হামিদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, শীতকালে লেবুজাতীয় দেশি ফল থাকে না বললেই চলে। সে ক্ষেত্রে বারি মাল্টা-১ লেবুজাতীয় ফলের উৎপাদনের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা যায়। এর বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা বারি মাল্টা-১ দারুণ সুস্বাদু একটি ফল।
মাল্টা চাষের পদ্ধতি: এসসিডিপি প্রকল্পের উদ্যান প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম বলেন, সারা দিন রোদ পড়ে এবং বৃষ্টির পানি জমে না—এমন উঁচু বা মাঝারি উঁচু জমি মাল্টা চাষের জন্য নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচিত জমিটি কয়েকবার চাষ ও মই দিয়ে সমান করে নিতে হবে। জমি থেকে আগাছা পরিষ্কার করে আশপাশে উঁচু গাছ থাকলে কেটে ফেলতে হবে। সমতল ভূমিতে বর্গাকার বা ষড়ভূজি পদ্ধতিতে চারা রোপণ করতে হবে। সাধারণত মধ্য বৈশাখ থেকে মধ্য ভাদ্র (মে-আগস্ট) মাসের মধ্যে মাল্টার চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। তবে পানির সেচ নিশ্চিত করা গেলে চারা বছরের যেকোনো সময় লাগানো যেতে পারে।
চারা রোপণের জন্য গর্তের আকার ৭৫ সেন্টিমিটার বাই ৭৫ সেন্টিমিটার হবে। একটি চারা থেকে অন্যটির দূরত্ব হবে চার মিটার। তবে তিন মিটার দূরত্বেও চারা লাগানো যেতে পারে। গর্তের মধ্যে ১৫ কেজি গোবর বা কম্পোস্ট সার দিয়ে তিন থেকে পাঁচ কেজি ছাই, ২৫০ গ্রাম টিএসপি, ২৫০ গ্রাম এমওপি সার ও ২৫০ গ্রাম চুন ওপরের মাটির সঙ্গে মেশাতে হবে। গর্তগুলো ১৫-২০ দিন ভরাট করে রেখে তারপর চারা লাগাতে হবে।
কুইক কম্পোস্ট ও বোঁর্দো মিক্সচার প্রস্তুত প্রণালী
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 6:40 PM
কুইক কম্পোস্ট ও বোঁর্দো মিক্সচার প্রস্তুত প্রণালী
কুইক কম্পোস্ট:
কুইক কম্পোস্ট অল্প সময়ে অর্থাৎ মাত্র ১৫ দিনে তৈরী ও ব্যবহার উপযোগী উচ্চ পুষ্টিমান সম্পন্ন একটি জৈব সার।
কুইক কম্পোস্ট তৈরীর উপাদান – সরিষার খৈল, কাঠের গুঁড়া বা চাউলের কুঁড়া ও অর্ধপঁচা (ডিকম্পোজড) গোবর বা হাঁস মুরগরি বিষ্ঠা যার অনুপাত হবে ১ : ২ : ৪ অর্থাৎ একভাগ খৈল + দুইভাগ কাঠের/চাউলের কুঁড়া + চারভাগ গোবর/হাঁস-মুরগীর বিষ্ঠা।
কুইক কম্পোস্ট তৈরী পদ্ধতিঃ
১। গুঁড়া করা সরিষার খৈল, চাউলের কুঁড়া / কাঠের গুঁড়া ও ডিকম্পোজড গোবর ভালভাবে মিশাতে হবে।
২। মিশ্রনে পরিমান মত পানি যোগ করে এমনভাবে কাই বানাতে হবে যাতে ঐ মিশ্রণ দিযে কম্পোস্ট বল তৈরি করলে ভেঙ্গে যাবেনা কিন্তু ১ মিটার উপর থেকে ছেড়ে দিলে তা ভেঙ্গে যাবে।
৩। মিশ্রিত পদার্থগুলো স্তুপ করে এমন ভাবে রেখে দিতে হবে যাতে ভিতরে জলীয় বাষ্প বের হতে না পারে আর এ কারণে পচনক্রিয়া সহজতর হয়। স্তুপটির পরিমান ৩০০- ৪০০ কেজির মধ্যে হওয়া ভাল। স্তুপের সমসত্ম উপাদান একবারে না মিশিয়ে ৩/ ৪ বারে মিশাতে হবে।
৪। শীতকালে স্তুপের উপরে ও চারদিকে চটের বস্তা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। আর বর্ষাকালে বৃষ্টির জন্য পলিথিন সীট ব্যবহার করতে হবে এবং বৃষ্টি থেমে গেলে পলিথিন সরিয়ে ফেলতে হবে।
৫। স্তুপ তৈরীর ২৪ ঘন্টা পর থেকে স্তুপের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে এবং ৪৮-৭২ ঘন্টার মধ্যে ৬০-৭০ সেঃ তাপমাত্রায় পৌছায়। অর্থাৎ স্তুপে তখন আঙ্গুল ঢোকালে অসহনীয় তাপমাত্রা অনুভূত হবে (৬০-৭০ সেঃ)। যার ফলে সৃষ্ট তাপে মিশ্রিত পদার্থ পুড়ে নষ্ট হতে পারে। তাই স্তুপ ভেঙ্গে উলট – পালট করে ১ ঘন্টা সময়ের জন্য মিশ্রনকে ঠান্ডা করে নিতে হবে এবং পুনরায় পূর্বের ন্যায় স্তুপ করে রাখতে হবে।
৬। এভাবে ৪৮-৭২ ঘন্টা পর পর স্তুপ ভেঙ্গে উলট- পালট করতে থাকলে ১৫ দিনের মধ্যে উক্ত উন্নত মিশ্র জৈব সার জমিতে প্রয়োগের উপযোগী হবে। সার তৈরী হলে তা ঝুরঝুরে শুকনা হবে এবং কালো বাদামী বর্ণের হবে।
প্রয়োগমাত্রাঃ
১। জমির উর্বরতা ও ফসলভেদে প্রতি শতাংশে প্রায় ৬-১০ কেজি কুইক কম্পোস্ট সার ব্যবহার করতে হয়। ফসলের জমি তৈরীর সময়ে প্রতি শতাংশে ৬ কেজি এবং ধান চাষের ক্ষেত্রে কুশি পর্যায়ে সেচের পূর্বে ২ কেজি করে উপরি প্রয়োগ করা যেতে পারে।
২। সবজী ফসলের ক্ষেত্রে জমি তৈরীর সময়ে প্রতি শতাংশে ৬ কেজি এবং ৪ কেজি সার রিং বা নালা করে সব্জী বেডে উপরি প্রয়োগ করতে হয়। সার প্রয়োগের পর সেচ দিতে হয়।
পুষ্টিমান ও ব্যবহারের উপকারীতাঃ
কুইক কম্পোস্ট সারে নাইট্রোজেন – ২.৫৬%, ফসফরাস -০.৯৮%, ও পটাশিয়াম- ০.৭৫% পাওয়া যায়। এ ছাড়াও ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও কিছু গৌণ খাদ্য উপাদান থাকে। ( ঢা.বি. ল্যাব ১৯৯৯)
কুইক কম্পোস্ট সার ব্যবহারের ফলে মাটিতে বাতাস চলাচল বৃদ্ধি পায়, অনুজীবের ক্রিয়া বাড়তে থাকে, ফসলের প্রয়োজনীয় সকল খাদ্য উপাদান সহজ লভ্য হয়। ফলে আশানরূপ ফলন পাওয়া যায় এবং গুনগত মান সম্পন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদন সম্ভব হয়।
বোঁর্দো মিক্সচার:
বোঁর্দো মিক্সচারের উদ্ভব হয়েছিল ১৮৮৫ সনে ফ্রান্সে। তবে এখনো বালাইনাশক হিসেবে এরজনপ্রিয়তা রয়েছে। উদ্ভিদের বিভিন্ন ছত্রাকজনিত রোগের পাশাপাশি ব্যাটেরিয়াজনিত রোগেও এটিব্যবহৃত হয়েথাকে।
প্রয়োজনীয় উপকরণ:
১. তুঁতে ২. চুন, ৩. পানি, ৪. দুইটি ছোট ও একটি বড় মাটির পাত্র, ৫. দুইটি বাঁশ/কাঠের কাঠি, ৬.সেপ্রয়ার, ৭.একটি ইস্পাতের চাকু।
প্রস্তুত প্রণালী:
তুঁতে ও চুন আলাদা করে মিহিভাবে গুড়া করে নিয়ে ৮০ গ্রাম করে মেপে নিতে হবে। ছোট মাটিরপাত্রেদু’টিতে ৫ লি. করে পানি নিতে হবে। প্রতিটি পাত্রে গুড়াকৃত তুঁতে ও চুন ঢেলে বাঁশের কাঠি দিয়েনেড়ে৮-১০ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর দু’পাত্রের দ্রবণ বড় মাটির পাত্রে একসাথে ঢেলেদিয়েভালভাবে ঝাঁকিয়ে নিতে হবে। এটিই বোঁর্দো মিঙচার। মিঙচারের রঙ গাঢ় নীল হলে মিশ্রণসঠিকহয়েছে বুঝতে হবে। সবুজ রঙ বা সাদাটে রঙের হলে বুঝতে হবে যথাক্রমে তুঁতে বা চুন বেশিহয়েছে। প্রস্তুতকৃত বোঁর্দো মিশ্রণটি ইস্পাতের (stainless steel) এর চাকুর অগ্রভাগ ডুবিয়ে দেখতেহবেলালচে দাগ পড়ে কিনা। না পড়লে বুঝতে হবে মিশ্রণটি তৈরি ঠিকমতো হয়েছে। তবে লালচেদাগপড়লে ধীরে ধীরে সামান্য পরিমানে চুনের পানি যোগ করে আবার পরীৰা করে দেখতে হবে।মিশ্রণটিসেপ্রয়ার মেশিনে করে ব্যবহার করতে হবে। তৈরিকৃত বোঁর্দো মিশ্রণ ২-৩ ঘন্টার ভেতর ব্যবহারকরতেহয়।
কুইক কম্পোস্ট:
কুইক কম্পোস্ট অল্প সময়ে অর্থাৎ মাত্র ১৫ দিনে তৈরী ও ব্যবহার উপযোগী উচ্চ পুষ্টিমান সম্পন্ন একটি জৈব সার।
কুইক কম্পোস্ট তৈরীর উপাদান – সরিষার খৈল, কাঠের গুঁড়া বা চাউলের কুঁড়া ও অর্ধপঁচা (ডিকম্পোজড) গোবর বা হাঁস মুরগরি বিষ্ঠা যার অনুপাত হবে ১ : ২ : ৪ অর্থাৎ একভাগ খৈল + দুইভাগ কাঠের/চাউলের কুঁড়া + চারভাগ গোবর/হাঁস-মুরগীর বিষ্ঠা।
কুইক কম্পোস্ট তৈরী পদ্ধতিঃ
১। গুঁড়া করা সরিষার খৈল, চাউলের কুঁড়া / কাঠের গুঁড়া ও ডিকম্পোজড গোবর ভালভাবে মিশাতে হবে।
২। মিশ্রনে পরিমান মত পানি যোগ করে এমনভাবে কাই বানাতে হবে যাতে ঐ মিশ্রণ দিযে কম্পোস্ট বল তৈরি করলে ভেঙ্গে যাবেনা কিন্তু ১ মিটার উপর থেকে ছেড়ে দিলে তা ভেঙ্গে যাবে।
৩। মিশ্রিত পদার্থগুলো স্তুপ করে এমন ভাবে রেখে দিতে হবে যাতে ভিতরে জলীয় বাষ্প বের হতে না পারে আর এ কারণে পচনক্রিয়া সহজতর হয়। স্তুপটির পরিমান ৩০০- ৪০০ কেজির মধ্যে হওয়া ভাল। স্তুপের সমসত্ম উপাদান একবারে না মিশিয়ে ৩/ ৪ বারে মিশাতে হবে।
৪। শীতকালে স্তুপের উপরে ও চারদিকে চটের বস্তা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। আর বর্ষাকালে বৃষ্টির জন্য পলিথিন সীট ব্যবহার করতে হবে এবং বৃষ্টি থেমে গেলে পলিথিন সরিয়ে ফেলতে হবে।
৫। স্তুপ তৈরীর ২৪ ঘন্টা পর থেকে স্তুপের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে এবং ৪৮-৭২ ঘন্টার মধ্যে ৬০-৭০ সেঃ তাপমাত্রায় পৌছায়। অর্থাৎ স্তুপে তখন আঙ্গুল ঢোকালে অসহনীয় তাপমাত্রা অনুভূত হবে (৬০-৭০ সেঃ)। যার ফলে সৃষ্ট তাপে মিশ্রিত পদার্থ পুড়ে নষ্ট হতে পারে। তাই স্তুপ ভেঙ্গে উলট – পালট করে ১ ঘন্টা সময়ের জন্য মিশ্রনকে ঠান্ডা করে নিতে হবে এবং পুনরায় পূর্বের ন্যায় স্তুপ করে রাখতে হবে।
৬। এভাবে ৪৮-৭২ ঘন্টা পর পর স্তুপ ভেঙ্গে উলট- পালট করতে থাকলে ১৫ দিনের মধ্যে উক্ত উন্নত মিশ্র জৈব সার জমিতে প্রয়োগের উপযোগী হবে। সার তৈরী হলে তা ঝুরঝুরে শুকনা হবে এবং কালো বাদামী বর্ণের হবে।
প্রয়োগমাত্রাঃ
১। জমির উর্বরতা ও ফসলভেদে প্রতি শতাংশে প্রায় ৬-১০ কেজি কুইক কম্পোস্ট সার ব্যবহার করতে হয়। ফসলের জমি তৈরীর সময়ে প্রতি শতাংশে ৬ কেজি এবং ধান চাষের ক্ষেত্রে কুশি পর্যায়ে সেচের পূর্বে ২ কেজি করে উপরি প্রয়োগ করা যেতে পারে।
২। সবজী ফসলের ক্ষেত্রে জমি তৈরীর সময়ে প্রতি শতাংশে ৬ কেজি এবং ৪ কেজি সার রিং বা নালা করে সব্জী বেডে উপরি প্রয়োগ করতে হয়। সার প্রয়োগের পর সেচ দিতে হয়।
পুষ্টিমান ও ব্যবহারের উপকারীতাঃ
কুইক কম্পোস্ট সারে নাইট্রোজেন – ২.৫৬%, ফসফরাস -০.৯৮%, ও পটাশিয়াম- ০.৭৫% পাওয়া যায়। এ ছাড়াও ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও কিছু গৌণ খাদ্য উপাদান থাকে। ( ঢা.বি. ল্যাব ১৯৯৯)
কুইক কম্পোস্ট সার ব্যবহারের ফলে মাটিতে বাতাস চলাচল বৃদ্ধি পায়, অনুজীবের ক্রিয়া বাড়তে থাকে, ফসলের প্রয়োজনীয় সকল খাদ্য উপাদান সহজ লভ্য হয়। ফলে আশানরূপ ফলন পাওয়া যায় এবং গুনগত মান সম্পন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদন সম্ভব হয়।
বোঁর্দো মিক্সচার:
বোঁর্দো মিক্সচারের উদ্ভব হয়েছিল ১৮৮৫ সনে ফ্রান্সে। তবে এখনো বালাইনাশক হিসেবে এরজনপ্রিয়তা রয়েছে। উদ্ভিদের বিভিন্ন ছত্রাকজনিত রোগের পাশাপাশি ব্যাটেরিয়াজনিত রোগেও এটিব্যবহৃত হয়েথাকে।
প্রয়োজনীয় উপকরণ:
১. তুঁতে ২. চুন, ৩. পানি, ৪. দুইটি ছোট ও একটি বড় মাটির পাত্র, ৫. দুইটি বাঁশ/কাঠের কাঠি, ৬.সেপ্রয়ার, ৭.একটি ইস্পাতের চাকু।
প্রস্তুত প্রণালী:
তুঁতে ও চুন আলাদা করে মিহিভাবে গুড়া করে নিয়ে ৮০ গ্রাম করে মেপে নিতে হবে। ছোট মাটিরপাত্রেদু’টিতে ৫ লি. করে পানি নিতে হবে। প্রতিটি পাত্রে গুড়াকৃত তুঁতে ও চুন ঢেলে বাঁশের কাঠি দিয়েনেড়ে৮-১০ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর দু’পাত্রের দ্রবণ বড় মাটির পাত্রে একসাথে ঢেলেদিয়েভালভাবে ঝাঁকিয়ে নিতে হবে। এটিই বোঁর্দো মিঙচার। মিঙচারের রঙ গাঢ় নীল হলে মিশ্রণসঠিকহয়েছে বুঝতে হবে। সবুজ রঙ বা সাদাটে রঙের হলে বুঝতে হবে যথাক্রমে তুঁতে বা চুন বেশিহয়েছে। প্রস্তুতকৃত বোঁর্দো মিশ্রণটি ইস্পাতের (stainless steel) এর চাকুর অগ্রভাগ ডুবিয়ে দেখতেহবেলালচে দাগ পড়ে কিনা। না পড়লে বুঝতে হবে মিশ্রণটি তৈরি ঠিকমতো হয়েছে। তবে লালচেদাগপড়লে ধীরে ধীরে সামান্য পরিমানে চুনের পানি যোগ করে আবার পরীৰা করে দেখতে হবে।মিশ্রণটিসেপ্রয়ার মেশিনে করে ব্যবহার করতে হবে। তৈরিকৃত বোঁর্দো মিশ্রণ ২-৩ ঘন্টার ভেতর ব্যবহারকরতেহয়।
ছাদে লেবুজাতীয় ফলের চাষ পদ্ধতি
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 6:25 PM
ছাদে লেবুজাতীয় ফলের চাষ পদ্ধতি
অত্যন্ত সাধারণ একটি টক ফল লেবু । সারা দেশে সমানভাবে সমাদৃত এই ফলটি । যে কোন খাবারের অনুষ্ঠানে লেবু ছাড়া যেন চলেই না । বাংলাদেশের প্রায় সব জেলাতেই কম-বেশী লেবুর চাষ হয়ে থাকে । লেবুতে প্রচুর ভিটামিন সি আছে । বাড়ির ছাদে দু/একটা লেবু গাছ থাকলে সারাবছর লেবুর চাহিদা মিটানো যায় । সেই সাথে পরিবারের ভিটামিন সি এর অভাব দূর করা যায় ।
লেবুর জাতঃ
লেবুর উন্নত জাতের মধ্যে এফটিআইপি বাউ কাগজী লেবু - ১, এফটিআইপি বাউ লেবু -২, (সেন্টেড এলাচী) এবং এফটিআইপি বাউ লেবু -৩ (সেমি সীডলেস) অন্যতম । সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে সারাবছরই এসব গাছ থেকে ফলন পাওয়া সম্ভব ।
চাষ পদ্ধতিঃ
ছাদে লেবুর চারা লাগানোর জন্য ২০ ইঞ্চি কালার ড্রাম বা টব সংগ্রহ করতে হবে । ড্রামের তলায় ৩-৫ টি ছিদ্র করে নিতে হবে । যাতে গাছের গোড়ায় পানি জমে না থাকে । টব বা ড্রামের তলার ছিদ্রগুলো ইটের ছোট ছোট টুকরা দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে । এবার ২ ভাগ বেলে দোআঁশ মাটি, ১ ভাগ গোবর, ৩০-৪০ গ্রাম টি,এস,পি সার, ৩০-৪০ গ্রাম পটাশ সার, ১০-১৫ গ্রাম পাথর চুন এবং ২০০ গ্রাম হারের গুড়া বা ১ কেজি কাঠের ছাই দিয়ে ড্রাম বা টব ভরে পানিতে ভিজিয়ে রেখে দিতে হবে ১০-১২ দিন । অতঃপর মাটি কিছুটা খুচিয়ে দিয়ে আবার ৪-৫ দিন এভাবেই রেখে দিতে হবে । যখন মাটি ঝুরঝুরে হবে তখন একটি সবল সুস্থ কলমের চারা উক্ত টবে রোপন করতে হবে । চারা রোপনের সময় খেয়াল রাখতে হবে গাছের গোড়া যেন মাটি থেকে আলাদা না হয়ে যায় । চারা গাছটিকে সোজা করে লাগাতে হবে । সেই সাথে গাছের গোড়ায় মাটি কিছুটা উচু করে দিতে হবে এবং মাটি হাত দিয়ে চেপে চেপে দিতে হবে । যাতে গাছের গোড়া দিয়ে বেশী পানি না ঢুকতে পারে । একটি সোজা কাঠি দিয়ে গাছটিকে বেধে দিতে হবে । চারা লাগানোর পর লক্ষ্য রাখতে হবে যেন গাছের গোড়ায় পানি জমে না থাকে । মাটি শুকিয়ে গেলে অল্প পরিমানে পানি দিতে হবে । লেবু জাতীয় কোন গাছে কখনই বেশী পরিমানে পানি দিয়ে স্যাঁত স্যাঁতে অবস্থায় রাখা যাবে না ।
অন্যান্য পরিচর্যাঃ
গাছ লাগানোর ৪/৫ মাস পর থেকে নিয়মিত ২০-২৫ দিন অন্তর অন্তর সরিষার খৈল পচা পানি প্রয়োগ করতে হবে । এ কাজের উপরই ছাদের গাছের ফলন অনেকাংশে নির্ভর করছে । সরিষার খৈল ১০ দিন পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে । তারপর সেই পচা খৈলের পানি পাতলা করে গাছের গোড়ায় দিতে হবে । ২ বছর পর টবের আংশিক মাটি পরিবর্তন করে দিতে হবে । ২ ইঞ্চি প্রস্থে এবং ৬ ইঞ্চি গভীরে শিকরসহ মাটি ফেলে দিয়ে নতুন সার মিশ্রিত মাটি দিয়ে তা ভরে দিতে হবে । ১০-১৫ দিন অন্তর অন্তর টব বা ড্রামের মাটি কিছুটা খুঁচিয়ে দিতে হবে ।
ডাল-পালা ছাটাইঃ
লেবু কিংবা লেবু জাতীয় গাছে প্রায়ই কিছু কিছু ডাল মরতে দেখা যায় । এইসব মরা ডালগুলো কেটে দিতে হবে । তা ছাড়াও ছাদের লেবু গাছকে অধিক ডালপালাযুক্ত সুন্দর ভাবে তৈরী করতে হলে চারা লাগানোর পর থেকে কিছুদিন ডাল কেটে দিতে হবে । পরবর্তীতে শুধু মরা ডাল কাটলেই চলবে ।
ত্বকের যত্নে লেবুর রয়েছে কিছু বিশেষ ব্যবহার। নিয়মিত যত্নে আপনার চেহারায় ফিরে আসবে লাবন্য। লেবু খুব সহজে পাওয়া যায় বলে এটার সাহায্যে কাজ করা যায় খুব সহজেই।
নিচে লেবুর কিছু ব্যবহার দেয়া হলোঃ
১) মুখের শ্রী বৃদ্ধি করার জন্য এক টুকরো লেবুর রসের সাথে দুই চামচ দুধ মিশিয়ে তুলার সাহায্যে মুখে প্রলেপ লাগান। ১৫ – ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলু্ন।
২) মুখের ব্রন এবং ব্রনের দাগ স রানোর জন্য লেবুর রস ত্বকে মাখা একান্ত দ রকার। তৈলাক্ত ত্বকে ব্রনের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। লেবু কিংবা গাজরের রস অল্প একটু চিনির সাথে মিশিয়ে খেলে এর হাত থেকে সহজেই রেহাই পাওয়া যায়।
৩) আধা চা চামচ লেবুর রস, এক চা চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে মুখে ও গলায় লাগান। ১৫ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি আপনার ত্বকে আদ্রতা আনবে। মেক আপ করার আগে মুখে এই রূপটানটি লাগালে মুখ উজ্জল হবে।
৪) মুখের বলিরেখার দাগ আপনার সাজ নষ্ট করে দেয়। ১০ গ্রাম লেবুর রস এবং ১০ গ্রাম টমেটোর রস একত্রে মিশিয়ে বলিরেখার উপর লাগিয়ে ৫ মিনিট পর রেখে ধুয়ে নিন। বলিরেখা থাকবে না।
৫) পাকা কলা, লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে ২০ – ২৫ মিনিট লাগিয়ে রাখলে উপকার পাওয়া যায়। আবার লেবুর রসের সঙ্গে দুধ ও চন্দনের গুড়া দিয়ে পেস্ট করে পোড়া জায়গায় ম্যাসেজ করলে উপকার পাওয়া যায়।
৬) লেবুর রস ও শসার রস সমপরিমাণে মিশিয়ে নিন। ব্যাস তৈরী হয়ে গেল অ্যান্টিজেন্ট লোশন। এটি ত্বকে লাগিয়ে দেখুন। কয়েকদিনের মধ্যেই ত্বকের তেলতেলে ভাব কমে যাবে।
৭) হাতের কনুই, হাঁটু, পায়ের গোড়ালি এসব জায়গায় বেশি ময়লা জমে। এ নিয়ে অনেকের ই দুঃশ্চিন্তার শেষ নেই। আধা টুকরো লেবু নিয়ে এই জায়গাগুলোতে ভাল করে ঘষে নিলে ময়লা উঠে গিয়ে ঝকঝকে হয়ে উঠবে।
অত্যন্ত সাধারণ একটি টক ফল লেবু । সারা দেশে সমানভাবে সমাদৃত এই ফলটি । যে কোন খাবারের অনুষ্ঠানে লেবু ছাড়া যেন চলেই না । বাংলাদেশের প্রায় সব জেলাতেই কম-বেশী লেবুর চাষ হয়ে থাকে । লেবুতে প্রচুর ভিটামিন সি আছে । বাড়ির ছাদে দু/একটা লেবু গাছ থাকলে সারাবছর লেবুর চাহিদা মিটানো যায় । সেই সাথে পরিবারের ভিটামিন সি এর অভাব দূর করা যায় ।
লেবুর জাতঃ
লেবুর উন্নত জাতের মধ্যে এফটিআইপি বাউ কাগজী লেবু - ১, এফটিআইপি বাউ লেবু -২, (সেন্টেড এলাচী) এবং এফটিআইপি বাউ লেবু -৩ (সেমি সীডলেস) অন্যতম । সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে সারাবছরই এসব গাছ থেকে ফলন পাওয়া সম্ভব ।
চাষ পদ্ধতিঃ
ছাদে লেবুর চারা লাগানোর জন্য ২০ ইঞ্চি কালার ড্রাম বা টব সংগ্রহ করতে হবে । ড্রামের তলায় ৩-৫ টি ছিদ্র করে নিতে হবে । যাতে গাছের গোড়ায় পানি জমে না থাকে । টব বা ড্রামের তলার ছিদ্রগুলো ইটের ছোট ছোট টুকরা দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে । এবার ২ ভাগ বেলে দোআঁশ মাটি, ১ ভাগ গোবর, ৩০-৪০ গ্রাম টি,এস,পি সার, ৩০-৪০ গ্রাম পটাশ সার, ১০-১৫ গ্রাম পাথর চুন এবং ২০০ গ্রাম হারের গুড়া বা ১ কেজি কাঠের ছাই দিয়ে ড্রাম বা টব ভরে পানিতে ভিজিয়ে রেখে দিতে হবে ১০-১২ দিন । অতঃপর মাটি কিছুটা খুচিয়ে দিয়ে আবার ৪-৫ দিন এভাবেই রেখে দিতে হবে । যখন মাটি ঝুরঝুরে হবে তখন একটি সবল সুস্থ কলমের চারা উক্ত টবে রোপন করতে হবে । চারা রোপনের সময় খেয়াল রাখতে হবে গাছের গোড়া যেন মাটি থেকে আলাদা না হয়ে যায় । চারা গাছটিকে সোজা করে লাগাতে হবে । সেই সাথে গাছের গোড়ায় মাটি কিছুটা উচু করে দিতে হবে এবং মাটি হাত দিয়ে চেপে চেপে দিতে হবে । যাতে গাছের গোড়া দিয়ে বেশী পানি না ঢুকতে পারে । একটি সোজা কাঠি দিয়ে গাছটিকে বেধে দিতে হবে । চারা লাগানোর পর লক্ষ্য রাখতে হবে যেন গাছের গোড়ায় পানি জমে না থাকে । মাটি শুকিয়ে গেলে অল্প পরিমানে পানি দিতে হবে । লেবু জাতীয় কোন গাছে কখনই বেশী পরিমানে পানি দিয়ে স্যাঁত স্যাঁতে অবস্থায় রাখা যাবে না ।
অন্যান্য পরিচর্যাঃ
গাছ লাগানোর ৪/৫ মাস পর থেকে নিয়মিত ২০-২৫ দিন অন্তর অন্তর সরিষার খৈল পচা পানি প্রয়োগ করতে হবে । এ কাজের উপরই ছাদের গাছের ফলন অনেকাংশে নির্ভর করছে । সরিষার খৈল ১০ দিন পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে । তারপর সেই পচা খৈলের পানি পাতলা করে গাছের গোড়ায় দিতে হবে । ২ বছর পর টবের আংশিক মাটি পরিবর্তন করে দিতে হবে । ২ ইঞ্চি প্রস্থে এবং ৬ ইঞ্চি গভীরে শিকরসহ মাটি ফেলে দিয়ে নতুন সার মিশ্রিত মাটি দিয়ে তা ভরে দিতে হবে । ১০-১৫ দিন অন্তর অন্তর টব বা ড্রামের মাটি কিছুটা খুঁচিয়ে দিতে হবে ।
ডাল-পালা ছাটাইঃ
লেবু কিংবা লেবু জাতীয় গাছে প্রায়ই কিছু কিছু ডাল মরতে দেখা যায় । এইসব মরা ডালগুলো কেটে দিতে হবে । তা ছাড়াও ছাদের লেবু গাছকে অধিক ডালপালাযুক্ত সুন্দর ভাবে তৈরী করতে হলে চারা লাগানোর পর থেকে কিছুদিন ডাল কেটে দিতে হবে । পরবর্তীতে শুধু মরা ডাল কাটলেই চলবে ।
ত্বকের যত্নে লেবুর রয়েছে কিছু বিশেষ ব্যবহার। নিয়মিত যত্নে আপনার চেহারায় ফিরে আসবে লাবন্য। লেবু খুব সহজে পাওয়া যায় বলে এটার সাহায্যে কাজ করা যায় খুব সহজেই।
নিচে লেবুর কিছু ব্যবহার দেয়া হলোঃ
১) মুখের শ্রী বৃদ্ধি করার জন্য এক টুকরো লেবুর রসের সাথে দুই চামচ দুধ মিশিয়ে তুলার সাহায্যে মুখে প্রলেপ লাগান। ১৫ – ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলু্ন।
২) মুখের ব্রন এবং ব্রনের দাগ স রানোর জন্য লেবুর রস ত্বকে মাখা একান্ত দ রকার। তৈলাক্ত ত্বকে ব্রনের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। লেবু কিংবা গাজরের রস অল্প একটু চিনির সাথে মিশিয়ে খেলে এর হাত থেকে সহজেই রেহাই পাওয়া যায়।
৩) আধা চা চামচ লেবুর রস, এক চা চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে মুখে ও গলায় লাগান। ১৫ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি আপনার ত্বকে আদ্রতা আনবে। মেক আপ করার আগে মুখে এই রূপটানটি লাগালে মুখ উজ্জল হবে।
৪) মুখের বলিরেখার দাগ আপনার সাজ নষ্ট করে দেয়। ১০ গ্রাম লেবুর রস এবং ১০ গ্রাম টমেটোর রস একত্রে মিশিয়ে বলিরেখার উপর লাগিয়ে ৫ মিনিট পর রেখে ধুয়ে নিন। বলিরেখা থাকবে না।
৫) পাকা কলা, লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে ২০ – ২৫ মিনিট লাগিয়ে রাখলে উপকার পাওয়া যায়। আবার লেবুর রসের সঙ্গে দুধ ও চন্দনের গুড়া দিয়ে পেস্ট করে পোড়া জায়গায় ম্যাসেজ করলে উপকার পাওয়া যায়।
৬) লেবুর রস ও শসার রস সমপরিমাণে মিশিয়ে নিন। ব্যাস তৈরী হয়ে গেল অ্যান্টিজেন্ট লোশন। এটি ত্বকে লাগিয়ে দেখুন। কয়েকদিনের মধ্যেই ত্বকের তেলতেলে ভাব কমে যাবে।
৭) হাতের কনুই, হাঁটু, পায়ের গোড়ালি এসব জায়গায় বেশি ময়লা জমে। এ নিয়ে অনেকের ই দুঃশ্চিন্তার শেষ নেই। আধা টুকরো লেবু নিয়ে এই জায়গাগুলোতে ভাল করে ঘষে নিলে ময়লা উঠে গিয়ে ঝকঝকে হয়ে উঠবে।
Saturday, July 1, 2017
বাকৃবি গবেষকের সাফল্যঃছাদে মাছ ও সবজির সমন্বিত চাষ(অ্যাকোয়াপনিক্স)
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 5:30 PM
ছাদে মাছ ও সবজির সমন্বিত চাষ
বাড়ির ছাদে অনেকেই সবজি বা ফলমূলের চাষ করেন। তারা চাইলে সবজি বা ফলমূলের পাশাপাশি মাছ চাষ করতে পারেন। এতে বাড়তি তেমন খরচ নেই। অন্যদিকে আমিষের জোগানও হবে। আবার খুব বেশি ঝামেলারও নয়।
সম্প্রতি ছাদে সবজির পাশাপাশি মাছ চাষ পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করেছেন ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একোয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ সালাম। ২০ বছরের গবেষণায় তিনি ছাদে মাছ ও সবজি চাষবিষয়ক একোয়াপনিক্স পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন।
একোয়াপনিক্স হচ্ছে হাইড্রোপনিক্স ও একোয়াকালচারের সমন্বয়ে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি, যেখানে মাছ ও সবজির সমন্বিত চাষ করা সম্ভব। এতে কোনো মাটির দরকার হয় না, শুধু পানি ব্যবহার করেই সম্ভব মাছ ও সবজির চাষ।
এ পদ্ধতিতে বাড়ির ছাদে বা আঙিনায় আয়তনের ওপর নির্ভর করে যে কোনো আকারের প্লাস্টিক ট্যাঙ্ক বা ড্রামের মধ্যে পানি দিয়ে সেখানে তেলাপিয়া, মাগুর, কই, পাঙ্গাশসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ চাষ করা যাবে। আর সবজি চাষের জন্য একটি কাঠের আলনা তৈরি করে তাতে তিন সারিতে উল্টো করে একটির নিচে আরেকটি দুইপাশে কাটা প্লাস্টিকের বোতল বসিয়ে তাতে নুড়ি পাথর দিয়ে সবজির চারা লাগাতে হবে।
এবার মাছের ট্যাঙ্কের পানি বালতি দিয়ে ওপরে তুলে সেখান থেকে সাইফোন প্রক্রিয়ায় ফোঁটা ফোঁটা করে ওপরের ওই চারা লাগানো বোতলে সরবরাহ করতে হবে। এ পানি পর্যায়ক্রমে ওপর থেকে নিচে আরও দুইটি বোতলের মধ্য দিয়ে গড়িয়ে একটি পাত্রে এসে জমা হয়, যা আবারও মাছের ট্যাঙ্কে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে মাছের ট্যাঙ্কের অ্যামোনিয়া সমৃদ্ধ পানি গাছের শিকড়ে অবস্থিত ডি-নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া ভেঙে গাছের খাদ্য উপযোগী নাইট্রেটে পরিণত করে পানিকে দূষণমুক্ত করে এবং ওই পানিকে আবার মাছের ট্যাঙ্কে ব্যবহার উপযোগী করে তোলে। এ পদ্ধতিতে দেশি-বিদেশি শাকসবজি চাষ করা যায়। তবে টমেটো, শসা, করলা, শিম, ব্রকলি, পুদিনা, বেগুন, দেশি লেটুসসহ আমেরিকান লেটুস ফলন বেশ ভালো হয়।
এ পদ্ধতিতে সবজি চাষের জন্য বাড়তি কোনো ধরনের সার বা মাটির প্রয়োজন না পড়লেও মাছের আলাদা খাদ্য বাইরে থেকে সরবরাহ করতে হবে।
তবে কেউ ইচ্ছা করলে বিনা খরচেই সেই খাবারও তৈরি করতে পারেন ঘরে বসে। চাইলে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বা মৎস্য বিভাগে গিয়ে এ পদ্ধতি সম্পর্কে পরামর্শ নিতে পারেন।

বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপকে লাগবের লক্ষ্যে ভার্টিক্যাল (লম্বালম্বি) চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। বাংলাদেশও এখন আর পিছিয়ে নেই। তাই দেশের প্রচলিত হরাইজন্টাল (সমান্তরাল) চাষাবাদের পাশাপাশি নতুন ওই চাষাবাদের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা। এ ক্ষেত্রে বাড়ির ছাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান কৃষি বিজ্ঞানীরা। কারণ হিসেবে উঠে এসেছে উলম্ব পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে খুবই স্বল্প পরিমাণ জমির প্রয়োজন হয় কিন্তু ফলন পাওয়া যায় অনেক বেশি।
বর্তমানে বাজারে প্রাপ্ত অধিকাংশ শাক-সবজিতে উচ্চ মাত্রার যেসব কীটনাশক ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা হয় তার মূল্যও অনেক বেশি। আর তাই কৃষকরা যেমন একদিকে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে তেমনি ঘটছে মারাতœক স্বাস্থ্যহানী। এসব দিককে কেন্দ্র করে সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে একই সাথে মাছ ও সব্জির চাষ করার পদ্ধতি আবিষ্কার করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করে আসছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের একোয়াকালচার বিভাগের প্রফেসর ড. এম এ সালাম।
গবেষক ড. সালাম জানান, বাড়ির ছাদে কিংবা আঙিনায় সমন্বিত এই পদ্ধতিতে মাছ ও সবজি চাষ করতে কোন প্রকার রাসায়নিক সার বা কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। ফলে উৎপাদিত মাছ ও সবজি খুবই স্বাস্থ্যসম্মত। এছাড়া এই পদ্ধতিতে মাটি ছাড়াই সম্ভব হবে সবজি চাষ। সমন্বিত মাছ ও সবজি চাষের এই পদ্ধতিকে বলা হয় একোয়াপনিক্স (Aquaponics)।
অ্যাকোয়াপনিক্স পদ্ধতির সুবিধাগুলো-
১. প্রযুক্তিটি অতি সহজ হওয়ায় বা সামান্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন সম্ভব।
২. অ্যাকোয়াপনিক্স একটি জৈব খাদ্য উৎপাদন পদ্ধতি। এর মাধ্যমে সুলভ উপাদান ব্যবহার করে উপাদেয় তথা পুষ্টিকর খাদ্য উৎপন্ন করা যেতে পারে।
৩. কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সবজি উৎপাদন সম্ভব।
৪. সবজি উৎপাদনে স্বল্প পরিমাণ পানি দরকার হয়। এতে শুধু বাষ্পীভূত পানিটুকুই ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
৫. পলিথিন দিয়ে ঘর তৈরি করে তাতে সারা বছরই মাছ ও সবজি চাষ করা যায়।
৬. এ পদ্ধতির জন্য তেলাপিয়া মাছই সর্বাধিক উপযোগী। কেননা, এ মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া, অধিক ঘনত্বেও চাষ করা সম্ভব।
উপরন্তু, পানির গুণাগুণে কিছুটা হেরফের হলেও তেলাপিয়ার বৃদ্ধিতে কোনো তারতম্য হয় না। লক্ষ করা গেছে, ২০০০ লিটারের ট্যাংক থেকে ৮ মাসে ১০০-১২০ কেজি তেলাপিয়া উৎপাদন সম্ভব। এর সাথে বছরব্যাপী উল্লেখযোগ্য পরিমাণে টমেটো, লেটুস, কচু ও পুদিনা ইত্যাদি উৎপন্ন করা যায়।
অ্যাকোয়াপনিক্স পদ্ধতিতে মাছ ও সবজির সমন্বিত চাষে মাটি ছাড়া স্বল্প পরিমাণ পানি ও জায়গার দরকার হয়। এতে শাকসবজি ফলানোর জন্য অতিরিক্ত সারের কোনো আবশ্যকতা নেই। এ পদ্ধতিতে মাছ ও সবজির সমন্বিত চাষে খরা ও উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চল যথার্থই সহায়ক। এ ক্ষেত্রে মাছের ট্যাংকের অ্যামোনিয়াসমৃদ্ধ পানি গাছের শিকড়ে অবস্থিত ব্যাকটেরিয়া ভেঙে গাছের খাদ্য উপযোগী নাইট্রেটে পরিণত করে এবং পানি দূষণমুক্ত করে পুনরায় মাছের ব্যবহার উপযোগী করে তোলে। এ পদ্ধতিতে বাড়ির আঙিনা, ভবনের ছাদ ও বারান্দা থেকে অতি সহজেই টাটকা শাকসবজি ও মাছ উৎপাদন সম্ভব।
অ্যাকোয়াপনিক্স পদ্ধতিগুলো-
১. পুকুরে মাচা পদ্ধতি : এ পদ্ধতিতে বাঁশের চটি দিয়ে মাচা তৈরি করা হয়। মাচাটি প্রতিটি আধা লিটার পানি ভর্তি চল্লিশটি বোতল দিয়ে ভাসিয়ে রাখতে হয়। অতঃপর বোতলের তলায় অনেক ছিদ্র করে তার মধ্যে নারিকেলের ছোবড়া ও নুড়ি পাথর স্তরে স্তরে সাজিয়ে তাতে সবজির চারা লাগিয়ে মাছের পুকুরে স্থাপন করতে হয়। প্রতিটি মাচায় চারটি করে কচু, পুদিনা, কলমিশাক, ঢেঁড়স ও টমেটোর সর্বমোট ২০টি চারা ব্যবহার করা যায়।
২. প্লাস্টিকের ড্রামে পদ্ধতি : এ পদ্ধতিতে প্লাস্টিকের ড্রাম লম্বালম্বিভাবে কেটে অর্ধেক করে নুড়ি পাথর ও মাটি স্তরে স্তরে সাজিয়ে কচু, পেঁপে ও বেগুনের চারা রোপণ করা হয়। এ ক্ষেত্রে মাছের ট্যাংকের ময়লা পানি পাম্প করে প্রতিদিন দুইবার ড্রামের নুড়ি পাথরের মাঝে সরবরাহ করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় গাছের শেকড় প্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহ করে এবং পরিষ্কার পানি পুনরায় মাছের ট্যাংকে ফিরে আসে। এ পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন অন্য যে কোনো পদ্ধতির চেয়ে ফলপ্রসূ ও আশাব্যঞ্জক প্রতীয়মান হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) উদ্ভাবিত এ পদ্ধতিতে সবজি চাষের জন্য মাটি ও সারের দরকার না হলেও মাছকে যথানিয়মে খাদ্য সরবরাহ করতে হয়।
এ পদ্ধতিতে খুবই স্বল্প খরচে বাড়ির আঙিনায় মাছ ও শাকসবজি চাষ করে পারিবারিক চাহিদা মেটানো যেতে পারে। লক্ষণীয় যে, মাছ ও সবজি চাষের এ সমন্বিত পদ্ধতি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব। এতে অধিক ঘনত্বে মজুদকৃত মাছের পুকুরের পানিদূষণ হ্রাস করে মাছের উৎপাদন সন্তোষজনকভাবে বৃদ্ধি করা সম্ভব।
৩. আলনা পদ্ধতি : এ পদ্ধতিতে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বোতল ভবনের ছাদে আলনায় স্থাপন করা হয়। সাড়ে পাঁচ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট একটি কাঠের আলনায় আনুভূমিকভাবে ৬টি, উপরে নিচে তিন সারিতে ১৮টি এবং উভয় পাশে মোট ৩৬টি বোতল সাজিয়ে রাখা হয়। বোতলগুলোর ছিপির ভেতরে এক টুকরো স্পঞ্জ দিয়ে তার ওপর নুড়ি পাথর বসিয়ে প্রতি বোতলে দুটি করে সবজির চারা রোপণ করতে হয়। এতে একটি আলনায় ৩৬টি বোতলে ৭২টি চারা লাগানো যায়। এভাবে ৫০০ লিটার পানির ট্যাংকে ৩৫০ লিটার পানি দিয়ে তাতে ৬০টি তেলাপিয়া মাছ মজুদ করা যায়।
৪. গ্যালভানাইজড পদ্ধতি : এ পদ্ধতিতে গ্যালভানাইজড পাত দ্বারা ৫''x২".৫''x১০" আকারের ট্রে তৈরি করে সেখানে পানি নির্গমনের জন্য একটি ৪ ইঞ্চি লম্বা পাইপ স্থাপন করা হয়। অতঃপর পানিভর্তি একটি ট্রের সাহায্যে ভাসমান মাচা পদ্ধতিতে এবং অপর একটিতে নুড়ি পাথর সাজিয়ে সবজি চাষ করা হয়। ট্রেগুলোকে একটি ভাসমান বাঁশের মাচার ওপর রাখা হয়। ভাসমান মাচা পদ্ধতিতে চারটি করে টমেটো, লেটুস ও পুদিনার চারা একটি শোলার পাতের মাঝে রোপণ করা হয়। অপর পক্ষে, নুড়ি পাথরের ট্রেতে কচু, টমাটো, লেটুস ও কলমিশাক রোপণ করে যথানিয়মে মাছের ট্যাংকের পানি সরবরাহ করা হয়। এভাবে আরও কিছু পরিচর্যার পরে লক্ষ করা গেছে, উভয় পদ্ধতিতেই সবজির চারা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পায়।
দেখা গেছে, মাটিতে উৎপাদিত কচুর তুলনায় বাকৃবি উদ্ভাবিত অ্যাকোয়াপনিক্স পদ্ধতিতে জন্মানো কচুর বৃদ্ধি প্রায় দশ গুণ বেশি।
স্মর্তব্য যে, ক্রমবর্ধমান গতিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দেশের প্রায় ১৬ কোটি মানুষের তথা আপামর জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা আজ ভয়াবহ হুমকির মুখে। সর্বত্র ভেজাল তথা অনিরাপদে খাদ্যের ছড়াছড়ি। এসব খাদ্য খেয়ে নানা রোগব্যাধির কবলে পড়ে মানুষের জীবন সংকটাপন্ন। এছাড়া, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রয়োগের মাধ্যমে শাকসবজির উৎপাদন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত অ্যাকোয়াপনিক্স পদ্ধতির সাহায্যে শাকসবজি ও মাছ উৎপন্ন করে স্বাস্থ্য ঝুঁকি অনেকাংশেই হ্রাস করা সম্ভব।
বাণির্জিকভিত্তিক এক্যুয়াপনিক্স চাষ ব্যবস্থাপনা
যন্ত্রচালিত ইলেকট্রিক পাম্পের সাহায্যে মাছের ট্যাংক হতে মল ও উদ্বৃত্ত খাদ্য ও বর্জ্য পদার্থসমূহ পানি পরিশ্রুত কঠিন বস্তুর মধ্য দিয়ে বর্জ্য কণাগুলো ছেঁকে গাছের শিকড়ে অবস্থিত সিমবায়োটিক ব্যাক্টেরিয়াগুলোর সাহায্যে বিশেষ প্রক্রিয়ায় পুষ্টিসমৃদ্ধ উৎপাদন গাছের দেহ বৃদ্ধির জন্য গ্রহণ করে থাকে। পরবর্তীতে পরিশ্রুত পানি পরিশোধন হয়ে মাছের ট্যাংকে ফিরে আসে এবং পুনঃসঞ্চালন পদ্ধতির মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি কিছুক্ষণ পর পর বিরতি দিয়ে চলতে থাকে।
এক্যুয়াপনিক্স চাষ ব্যবস্থাপনা দুটি ভাগে বিভক্ত-
১) এক্যুয়াপনিক্স পর্যায়টি মাছ চাষের জন্য ও
২) হাইড্রোপনিক্স পর্যায়টি উদ্ভিদ, বিশেষ করে সবজি চাষের জন্য।
মাছ চাষ ট্যাংকে মাছের মল ছাড়াও উদ্বৃত্ত খাদ্য পানিতে মিশে অম্লতা বৃদ্ধি পেতে থাকে কিন্তু এই বর্জ্য পদার্থ গাছের দেহ বৃদ্ধির জন্য পুষ্টি উপাদান যোগায়। গাছের শিকড়ে যে সিমরায়োটিক ব্যাকটেরিয়া রয়েছে সেই সব ব্যাকটেরিয়া পরিবেশ হতে নাইট্রোজেন গ্রহণ করে এবং পরবর্তীতে তা রূপান্তরিত করে নাইট্রেটে পরিণত করে। গাছের শিকড় পুষ্টি সম্পন্ন খাদ্য উপাদান বিশেষ প্রক্রিয়ায় শোষণ করে গাছকে দেহ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। যদিও এক্যুয়াপনিক্স চাষ ব্যবস্থাপনাকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যা, তবুও বর্জ্যরে বড় বড় কণাগুলোকে সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষতর কণায় রূপান্তরের জন্য বিভিন্ন উপভাগে ভাগ করা যায় যাতে অম্লতা বৃদ্ধি কমিয়ে আনা যায় কিংবা পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ স্বাভাবিক মাত্রায় থাকে। এর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ অংশগুলো হলো-
* প্রতিপালন পাত্র (Rearing Tank ঃ মাছ সংরক্ষণ, বৃদ্ধি ও খাবার প্রয়োগের জন্য।
* উদ্বৃত্ত খাদ্য জমা হওয়ার কক্ষ (Setting Basin) ঃ ট্যাংকের যে অংশে ছোট-বড় খাদ্য কণা জমা হয়।
* জৈব-পরিশ্রুত যন্ত্র (Bio-Filter)
* হাইড্রোপনিক অধঃব্যবস্থাপনা (Hydroponic Sub-System) ঃ এই ব্যবস্থাপনায় গাছ তার যে অংশে (শিকড়ে) অতিরিক্ত পুষ্টি উপাদান পানি থেকে শোষণ করে তাকে হাইড্রোপনিক সাব সিস্টেম বলা হয়ে থাকে।
* পানি নিষ্কাশন কূপ (Sump) ঃ হাইড্রোপনিক সিস্টেমের তলদেশ যেখান থেকে পানি প্রবাহ শুরু হয়ে প্রতিপালন ট্যাংকে ফিরে আসে।
এক্যুয়াপনিক্স চাষ ব্যবস্থাপনার আধুনিকরণ নির্ভর করে পরিশীলিত কাঠামো নির্মাণ এবং ব্যয়ের ওপর, তবে কঠিন খাদ্য কণা নির্গমন, জৈব পরিস্রাবন অথবা হাইড্রোপনিক্স সাব সিস্টেমকে একটি ইউনিটে রূপান্তরিত করা যেতে পারে, যা পানি প্রবাহ সরাসরি এক্যুয়াকারচার অংশ হতে হাইড্রোপনিক্স অংশে যেতে পারে।
হাইড্রোপনিক্স অংশে গাছের শিকড় পানিতে নিমজ্জিত থাকে, এর ফলে শিকড় উদ্বৃত্ত খাদ্য ও মল হতে এমোনিয়া পরিস্রাবণ করে, যা মাছের জন্য পানিতে অম্লতা বৃদ্ধির কারণ হয়ে থাকে; ফলে মাছের বিপাক ক্রিয়ার ব্যাঘাত ঘটে। পানি যখন হাইড্রোপনিক্স সাব-সিস্টেমের মাধ্যমে প্রবাহিত হয় তখন পানি পরিষ্কার ও অক্সজেনের মাত্রা বৃদ্ধি পায় পরবর্তীতে এক্যুয়াকালচার মাছের ট্যাংকে পানি পরিশোধিত হয়ে ফিরে আসে। এভাবে পুনঃসঞ্চালন প্রক্রিয়া বারবার ঘটে থাকে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বাংলাদেশে এক্যুয়াপনিক্স চাষ পদ্ধতি নতুন চালু হয়েছে। বাণিজ্যিকভিত্তিতে এ পদ্ধতির চাষ এখনো হয়নি। মৎস্য বিজ্ঞানীদের জানামতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্বিবিদ্যালয়ের মৎস্য অনুষদে ও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিউটের গবেষণা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে এবং আশানুরূপ ফল পাওয়া গেছে। এই পদ্ধতির উল্লেখযোগ্য দিক হলো এটি একটি পরিবেশবান্ধব চাষ ব্যবস্থাপনা; যাতে অধিক ঘনত্বে পোনা মজুদ করে ট্যাংকের বা পুকুরের পানি দূষণ করে মাছের স্বাভাবিক উৎপাদন (রাসায়নিক সার ছাড়া) বৃদ্ধি করতে সক্ষম। বাংলাদেশে এই পদ্ধতিতে মাছ/সবজি চাষ যদিও একটি নতুন ক্ষেত্র হিসেবে দেখা দিয়েছে, কিন্তু উন্নত দেশে এই পদ্ধতিতে চাষ অনেক আগে থেকে শুর হয়েছে। ভবিষ্যতে আমাদের দেশে এই পদ্ধতিতে চাষ বাস্তবায়ন প্রোটিনের চাহিদা মেটাবার পাশাপাশি ভোক্তার স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে আমরা যে পদ্ধতিতে চাষ করছি তা স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ নয়। আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ট্রেইসেবিলিটি চাহিদা মোতাবেক চাষ করা স্বত্ত্বেও অনেক সময় কৃষি জমিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার, কীটনাশক ওষুধ অধিক বর্ষনের ফলে খামারের পানিতে মিশে যায়। এতে খামারের মাছে রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। বাধ্য হয়ে আমাদেরকে তখন রাসায়নিক সার/ওষুধ প্রয়োগ করতে হয়।
বিশ্বের মধ্যে বাংরাদেশ একটি জলবহুল স্বল্প আয়তনের দেশ। আগামী ২০৫০ সালে এদেশে জনসংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হবে। এই বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর প্রাণীজ আমিষের চাহিদা মেটাতে দেশ হিমসিম খাবে। বর্তমানে আমরা জনপ্রতি ৬০ গ্রাম প্রাণিজ আমিষ পেয়ে থাকি। দেশে বর্তমানে মৎস্য উৎপাদন ৩৩ লক্ষ মেট্রিক টন। ২০৫০ সালে আগামী প্রজন্মের জন্য কমপক্ষে ৯০ লক্ষ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন করা দূরূহ হবে। বিজ্ঞানীদের একথাটি সত্য যে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ২০৩০ সালে প্রাণিজ প্রোটিনের অভাবে ১০ কোটি লোক বিশ্বে মারা যাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের আগাম বার্ত ইলনিনো ও লানিনোর (Lanino) প্রভাব বিজ্ঞানীরা ১০০০ বছর আগে থেকে প্রত্যক্ষ করে আসছেন। মনুষ্যসৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা ও জলবায়ু পরিবর্তন মৎস্যকুলের জন্য অশনি সংকেত নিয়ে এসেছে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনে মৎস্যের ওপর প্রভাব নিরসনে এক্যুয়াপনিক্স চাষ ব্যবস্থাপনা একটি নতুন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। আজ আমাদের ঘরে ঘরে বাড়ীর ছাদে কিংবা বারান্দায় কিংবা গাড়ি পার্কিং এলাকায় খালি জায়গায় এক্যুয়াপনিক্স চাষ পদ্ধতি বাস্তবায়ন করে প্রাণিজ আমিষ ও টাটকা সবজির চাহিদা মিটাতে পারি। যেহেতু এটি একটি পরিবেশবান্ধব চাষ পদ্ধতি সেহেতু ভোক্তার খাদ্য নিরাপত্তার জরুরি প্রয়োজনে টাটকা শাক-সবজি ও মাছ সরবরাহ করার জন্য পদ্ধতিটি কার্যকর হতে পারে। সবচেয়ে যেটা গুরুত্বপূর্ণ তাহলো অসময়ে বন্যা, খরা বা প্রতিকূল পরিবেশের প্রভাবকে মুক্ত রেখে এর চাষ কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া সম্ভব। এখন থেকে এক্যুয়াপনিক চাষ বিষয়ে প্রশিক্ষণ, প্রচার ও জনসচেতনা সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
কৃতজ্ঞতা স্বীকার
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিউট বাস্তবায়িত এক্যুয়াপনিক্স প্রকল্পটি স্বচক্ষে দেখার অভিজ্ঞতা এই প্রবন্ধটি লেখায় অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। বিশেষ করে এম জি হোসেনের সাথে আলাপক্রমে প্রকল্পের উদ্দেশ্যাবলী গবেষণার বিভিন্ন দিক ও এক্যুয়াপনিক্স চাষের ভবিষ্যত সম্ভাবনার বিষয়গুলি প্রবন্ধে বিশদভাবে স্থান পেয়েছে। তাই তাদেরকে আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
এক্যুয়াপনিক্স ও হাইড্রোপনিক্স পদ্ধতির সহায়ক রচনা পুস্তক ও জার্নলসমূহ:
1. Brown, Jamie, Backyard Aquaponics , Smashwords Edition (Barnes and Nobles), 2010.
2. Kenyon, Stewart, Hydroponics for the home garden, Toronto: Van Nostrand Reinhold 1979. Print.
3. Rakocy, James. “Q and A”. Aquaponic Journal, Mach 2010.
(Dr. James Rakocy is the Director of the University of the Virgin Island Agricultural Experiment station and has been doing research is aquaponics for over 20 years. Rakocy is one of the founds father in the development of this science.)
4. Roberts, Keith, How to do Hydroponics, 4th ed, Vol. 1 Farmingdale: Futuregarden, 2003,
(This book is more of hydroponics basics guide then Hydroponics for the Home Gardener. Its a reference book when anybody building his own hydroponic system. Great plumping guides and useful parts lists to each system that is displayed in this book.)
৫। ড. এ.এ সালাম ও শাহরিয়ার হাশেম, (২০১২); একুয়াপনিক্স মাধ্যমে মাছ ও সবজির সমন্বিত চাষ, জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ (৭-১৩ জুলাই), পৃষ্ঠা ৭৩-৭৫।
৬। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিউটের এক্যুয়াপনিক্স প্রকল্পের অভিজ্ঞতার আলোকে
৭। ইন্টারনেট থেকে প্রাসংগিক তথ্যাদি।
পাওয়া সমন্বিত এই পদ্ধতি সমন্ধে ড. সালাম বলেন, বাড়ীর আঙিনায় বা বাসার ছাদের আয়তনের উপর নির্ভর করে যেকোন আকারের প্লাস্টিক ট্যাঙ্ক অথবা ড্রামের মধ্যে পানি দিয়ে সেখানে তেলাপিয়া, মাগুর, কই, পাঙ্গাসসহ বিভিন্ন দেশীয় জাতের মাছ চাষ করেন। আর সবজি চাষের জন্য একটি কাঠের আলনা তৈরী করে তাতে তিন সারিতে উল্টো করে একটির নিচে আরেকটি দুইপাশে কাটা প্লাস্টিকের বোতল বসিয়ে তাতে নুড়ি পাথর দিয়ে সবজির চারা লাগাতে হবে। এবার মাছের ট্যাঙ্কের পানি বালতি করে উপরে তুলে সেখান থেকে সাইফোন প্রক্রিয়ায় ফোটাফোটা করে উপরের ওই চারা লাগানো বোতলে সরবরাহ করতে হবে। এই পানি পর্যায়ক্রমে উপর থেকে নিচে আরও দুটি বোতলের মধ্য দিয়ে গড়িয়ে একটি পাত্রে এসে জমা হয় যা পুণরায় মাছের ট্যাঙ্কে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে মাছের ট্যাঙ্কের অ্যামোনিয়া সমৃদ্ধ পানি গাছের শিকড়ে অবস্থিত ডি-নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া ভেঙ্গে গাছের খাদ্য উপযোগী নাইট্রেটে পরিণত করে পানিকে দূষণ মুক্ত করে এবং ওই পানিকে পুণরায় মাছের ট্যাঙ্কে ব্যবহার উপযোগী করে তোলে। এ পদ্ধতিতে বিভিন্ন দেশী-বিদেশী শাকসবজি চাষ করা যায়। তবে টমেটো, শসা, করোল্লা, শিম, ব্রকলি, পুদিনা, বেগুন, দেশী লেটুসসহ আমেরিকান লেটুস ফলন বেশ ভাল হয়।
মাছকে কি রকমের খাবার দিতে হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে ড. সালাম বলেন, ‘এই পদ্ধতিতে সবজি চাষের জন্য বাড়তি কোন প্রকার সার বা মাটির প্রয়োজন না পড়লেও মাছকে আলাদা খাদ্য বাইরে থেকে সরবরাহ করতে হবে। বাজার থেকে কিনে মাছকে যাতে খাদ্য দিতে না হয়, সেজন্য আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়ানো “কালো সৈনিক” পোকার লার্ভা মাছের প্রিয় খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এটি মাছের খুবই প্রিয় খাবার। এতে প্রচুর প্রোটিন, লিপিড এবং বিভিন্ন প্রকার খনিজ লবন রয়েছে যা মাছের দ্রুত বর্ধনে সাহায্য করে।
নতুন এই প্রযুক্তি নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে ড. সালাম বলেন, যেহেতু প্রতিনিয়তই আমাদের দেশের চাষাবাদের জন্য জমির পরিমাণ কমছে তাই উলম্ব পদ্ধতিটি অনেকাংশে আমাদের সাহায্য করবে বলে আশা প্রকাশ করছি। কারণ, উলম্ব পদ্ধতিতে একই জায়গায় অনেকগুলো ফসল একসাথে উৎপাদন করা যায়। এর ফলে একদিকে যেমন জমির পরিমাণের উপর চিন্তা করতে হচ্ছে না, অন্যদিকে কীটনাশক ও রাসায়নিক ক্ষতিকর পদার্থেও হাত থেকেও রক্ষা পাওয়া যাবে। তাছাড়া খরচ ও জায়গা কম লাগায় এই পদ্ধতির মাধ্যমে আর্থিকভাবেও লাভবান হওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
বাড়ির ছাদে অনেকেই সবজি বা ফলমূলের চাষ করেন। তারা চাইলে সবজি বা ফলমূলের পাশাপাশি মাছ চাষ করতে পারেন। এতে বাড়তি তেমন খরচ নেই। অন্যদিকে আমিষের জোগানও হবে। আবার খুব বেশি ঝামেলারও নয়।
সম্প্রতি ছাদে সবজির পাশাপাশি মাছ চাষ পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করেছেন ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একোয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ সালাম। ২০ বছরের গবেষণায় তিনি ছাদে মাছ ও সবজি চাষবিষয়ক একোয়াপনিক্স পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন।
একোয়াপনিক্স হচ্ছে হাইড্রোপনিক্স ও একোয়াকালচারের সমন্বয়ে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি, যেখানে মাছ ও সবজির সমন্বিত চাষ করা সম্ভব। এতে কোনো মাটির দরকার হয় না, শুধু পানি ব্যবহার করেই সম্ভব মাছ ও সবজির চাষ।
এ পদ্ধতিতে বাড়ির ছাদে বা আঙিনায় আয়তনের ওপর নির্ভর করে যে কোনো আকারের প্লাস্টিক ট্যাঙ্ক বা ড্রামের মধ্যে পানি দিয়ে সেখানে তেলাপিয়া, মাগুর, কই, পাঙ্গাশসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ চাষ করা যাবে। আর সবজি চাষের জন্য একটি কাঠের আলনা তৈরি করে তাতে তিন সারিতে উল্টো করে একটির নিচে আরেকটি দুইপাশে কাটা প্লাস্টিকের বোতল বসিয়ে তাতে নুড়ি পাথর দিয়ে সবজির চারা লাগাতে হবে।
এবার মাছের ট্যাঙ্কের পানি বালতি দিয়ে ওপরে তুলে সেখান থেকে সাইফোন প্রক্রিয়ায় ফোঁটা ফোঁটা করে ওপরের ওই চারা লাগানো বোতলে সরবরাহ করতে হবে। এ পানি পর্যায়ক্রমে ওপর থেকে নিচে আরও দুইটি বোতলের মধ্য দিয়ে গড়িয়ে একটি পাত্রে এসে জমা হয়, যা আবারও মাছের ট্যাঙ্কে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে মাছের ট্যাঙ্কের অ্যামোনিয়া সমৃদ্ধ পানি গাছের শিকড়ে অবস্থিত ডি-নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া ভেঙে গাছের খাদ্য উপযোগী নাইট্রেটে পরিণত করে পানিকে দূষণমুক্ত করে এবং ওই পানিকে আবার মাছের ট্যাঙ্কে ব্যবহার উপযোগী করে তোলে। এ পদ্ধতিতে দেশি-বিদেশি শাকসবজি চাষ করা যায়। তবে টমেটো, শসা, করলা, শিম, ব্রকলি, পুদিনা, বেগুন, দেশি লেটুসসহ আমেরিকান লেটুস ফলন বেশ ভালো হয়।
এ পদ্ধতিতে সবজি চাষের জন্য বাড়তি কোনো ধরনের সার বা মাটির প্রয়োজন না পড়লেও মাছের আলাদা খাদ্য বাইরে থেকে সরবরাহ করতে হবে।
তবে কেউ ইচ্ছা করলে বিনা খরচেই সেই খাবারও তৈরি করতে পারেন ঘরে বসে। চাইলে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বা মৎস্য বিভাগে গিয়ে এ পদ্ধতি সম্পর্কে পরামর্শ নিতে পারেন।
বাকৃবি গবেষকের সাফল্যঃ বাড়ির ছাদে “মাছ ও সবজির সমন্বিত চাষ”
বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপকে লাগবের লক্ষ্যে ভার্টিক্যাল (লম্বালম্বি) চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। বাংলাদেশও এখন আর পিছিয়ে নেই। তাই দেশের প্রচলিত হরাইজন্টাল (সমান্তরাল) চাষাবাদের পাশাপাশি নতুন ওই চাষাবাদের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা। এ ক্ষেত্রে বাড়ির ছাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান কৃষি বিজ্ঞানীরা। কারণ হিসেবে উঠে এসেছে উলম্ব পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে খুবই স্বল্প পরিমাণ জমির প্রয়োজন হয় কিন্তু ফলন পাওয়া যায় অনেক বেশি।
বর্তমানে বাজারে প্রাপ্ত অধিকাংশ শাক-সবজিতে উচ্চ মাত্রার যেসব কীটনাশক ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা হয় তার মূল্যও অনেক বেশি। আর তাই কৃষকরা যেমন একদিকে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে তেমনি ঘটছে মারাতœক স্বাস্থ্যহানী। এসব দিককে কেন্দ্র করে সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে একই সাথে মাছ ও সব্জির চাষ করার পদ্ধতি আবিষ্কার করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করে আসছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের একোয়াকালচার বিভাগের প্রফেসর ড. এম এ সালাম।
গবেষক ড. সালাম জানান, বাড়ির ছাদে কিংবা আঙিনায় সমন্বিত এই পদ্ধতিতে মাছ ও সবজি চাষ করতে কোন প্রকার রাসায়নিক সার বা কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। ফলে উৎপাদিত মাছ ও সবজি খুবই স্বাস্থ্যসম্মত। এছাড়া এই পদ্ধতিতে মাটি ছাড়াই সম্ভব হবে সবজি চাষ। সমন্বিত মাছ ও সবজি চাষের এই পদ্ধতিকে বলা হয় একোয়াপনিক্স (Aquaponics)।
অ্যাকোয়াপনিক্স পদ্ধতির সুবিধাগুলো-
১. প্রযুক্তিটি অতি সহজ হওয়ায় বা সামান্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন সম্ভব।
২. অ্যাকোয়াপনিক্স একটি জৈব খাদ্য উৎপাদন পদ্ধতি। এর মাধ্যমে সুলভ উপাদান ব্যবহার করে উপাদেয় তথা পুষ্টিকর খাদ্য উৎপন্ন করা যেতে পারে।
৩. কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সবজি উৎপাদন সম্ভব।
৪. সবজি উৎপাদনে স্বল্প পরিমাণ পানি দরকার হয়। এতে শুধু বাষ্পীভূত পানিটুকুই ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
৫. পলিথিন দিয়ে ঘর তৈরি করে তাতে সারা বছরই মাছ ও সবজি চাষ করা যায়।
৬. এ পদ্ধতির জন্য তেলাপিয়া মাছই সর্বাধিক উপযোগী। কেননা, এ মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া, অধিক ঘনত্বেও চাষ করা সম্ভব।
উপরন্তু, পানির গুণাগুণে কিছুটা হেরফের হলেও তেলাপিয়ার বৃদ্ধিতে কোনো তারতম্য হয় না। লক্ষ করা গেছে, ২০০০ লিটারের ট্যাংক থেকে ৮ মাসে ১০০-১২০ কেজি তেলাপিয়া উৎপাদন সম্ভব। এর সাথে বছরব্যাপী উল্লেখযোগ্য পরিমাণে টমেটো, লেটুস, কচু ও পুদিনা ইত্যাদি উৎপন্ন করা যায়।
অ্যাকোয়াপনিক্স পদ্ধতিতে মাছ ও সবজির সমন্বিত চাষে মাটি ছাড়া স্বল্প পরিমাণ পানি ও জায়গার দরকার হয়। এতে শাকসবজি ফলানোর জন্য অতিরিক্ত সারের কোনো আবশ্যকতা নেই। এ পদ্ধতিতে মাছ ও সবজির সমন্বিত চাষে খরা ও উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চল যথার্থই সহায়ক। এ ক্ষেত্রে মাছের ট্যাংকের অ্যামোনিয়াসমৃদ্ধ পানি গাছের শিকড়ে অবস্থিত ব্যাকটেরিয়া ভেঙে গাছের খাদ্য উপযোগী নাইট্রেটে পরিণত করে এবং পানি দূষণমুক্ত করে পুনরায় মাছের ব্যবহার উপযোগী করে তোলে। এ পদ্ধতিতে বাড়ির আঙিনা, ভবনের ছাদ ও বারান্দা থেকে অতি সহজেই টাটকা শাকসবজি ও মাছ উৎপাদন সম্ভব।
অ্যাকোয়াপনিক্স পদ্ধতিগুলো-
১. পুকুরে মাচা পদ্ধতি : এ পদ্ধতিতে বাঁশের চটি দিয়ে মাচা তৈরি করা হয়। মাচাটি প্রতিটি আধা লিটার পানি ভর্তি চল্লিশটি বোতল দিয়ে ভাসিয়ে রাখতে হয়। অতঃপর বোতলের তলায় অনেক ছিদ্র করে তার মধ্যে নারিকেলের ছোবড়া ও নুড়ি পাথর স্তরে স্তরে সাজিয়ে তাতে সবজির চারা লাগিয়ে মাছের পুকুরে স্থাপন করতে হয়। প্রতিটি মাচায় চারটি করে কচু, পুদিনা, কলমিশাক, ঢেঁড়স ও টমেটোর সর্বমোট ২০টি চারা ব্যবহার করা যায়।
২. প্লাস্টিকের ড্রামে পদ্ধতি : এ পদ্ধতিতে প্লাস্টিকের ড্রাম লম্বালম্বিভাবে কেটে অর্ধেক করে নুড়ি পাথর ও মাটি স্তরে স্তরে সাজিয়ে কচু, পেঁপে ও বেগুনের চারা রোপণ করা হয়। এ ক্ষেত্রে মাছের ট্যাংকের ময়লা পানি পাম্প করে প্রতিদিন দুইবার ড্রামের নুড়ি পাথরের মাঝে সরবরাহ করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় গাছের শেকড় প্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহ করে এবং পরিষ্কার পানি পুনরায় মাছের ট্যাংকে ফিরে আসে। এ পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন অন্য যে কোনো পদ্ধতির চেয়ে ফলপ্রসূ ও আশাব্যঞ্জক প্রতীয়মান হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) উদ্ভাবিত এ পদ্ধতিতে সবজি চাষের জন্য মাটি ও সারের দরকার না হলেও মাছকে যথানিয়মে খাদ্য সরবরাহ করতে হয়।
এ পদ্ধতিতে খুবই স্বল্প খরচে বাড়ির আঙিনায় মাছ ও শাকসবজি চাষ করে পারিবারিক চাহিদা মেটানো যেতে পারে। লক্ষণীয় যে, মাছ ও সবজি চাষের এ সমন্বিত পদ্ধতি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব। এতে অধিক ঘনত্বে মজুদকৃত মাছের পুকুরের পানিদূষণ হ্রাস করে মাছের উৎপাদন সন্তোষজনকভাবে বৃদ্ধি করা সম্ভব।
৩. আলনা পদ্ধতি : এ পদ্ধতিতে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বোতল ভবনের ছাদে আলনায় স্থাপন করা হয়। সাড়ে পাঁচ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট একটি কাঠের আলনায় আনুভূমিকভাবে ৬টি, উপরে নিচে তিন সারিতে ১৮টি এবং উভয় পাশে মোট ৩৬টি বোতল সাজিয়ে রাখা হয়। বোতলগুলোর ছিপির ভেতরে এক টুকরো স্পঞ্জ দিয়ে তার ওপর নুড়ি পাথর বসিয়ে প্রতি বোতলে দুটি করে সবজির চারা রোপণ করতে হয়। এতে একটি আলনায় ৩৬টি বোতলে ৭২টি চারা লাগানো যায়। এভাবে ৫০০ লিটার পানির ট্যাংকে ৩৫০ লিটার পানি দিয়ে তাতে ৬০টি তেলাপিয়া মাছ মজুদ করা যায়।
৪. গ্যালভানাইজড পদ্ধতি : এ পদ্ধতিতে গ্যালভানাইজড পাত দ্বারা ৫''x২".৫''x১০" আকারের ট্রে তৈরি করে সেখানে পানি নির্গমনের জন্য একটি ৪ ইঞ্চি লম্বা পাইপ স্থাপন করা হয়। অতঃপর পানিভর্তি একটি ট্রের সাহায্যে ভাসমান মাচা পদ্ধতিতে এবং অপর একটিতে নুড়ি পাথর সাজিয়ে সবজি চাষ করা হয়। ট্রেগুলোকে একটি ভাসমান বাঁশের মাচার ওপর রাখা হয়। ভাসমান মাচা পদ্ধতিতে চারটি করে টমেটো, লেটুস ও পুদিনার চারা একটি শোলার পাতের মাঝে রোপণ করা হয়। অপর পক্ষে, নুড়ি পাথরের ট্রেতে কচু, টমাটো, লেটুস ও কলমিশাক রোপণ করে যথানিয়মে মাছের ট্যাংকের পানি সরবরাহ করা হয়। এভাবে আরও কিছু পরিচর্যার পরে লক্ষ করা গেছে, উভয় পদ্ধতিতেই সবজির চারা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পায়।
দেখা গেছে, মাটিতে উৎপাদিত কচুর তুলনায় বাকৃবি উদ্ভাবিত অ্যাকোয়াপনিক্স পদ্ধতিতে জন্মানো কচুর বৃদ্ধি প্রায় দশ গুণ বেশি।
স্মর্তব্য যে, ক্রমবর্ধমান গতিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দেশের প্রায় ১৬ কোটি মানুষের তথা আপামর জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা আজ ভয়াবহ হুমকির মুখে। সর্বত্র ভেজাল তথা অনিরাপদে খাদ্যের ছড়াছড়ি। এসব খাদ্য খেয়ে নানা রোগব্যাধির কবলে পড়ে মানুষের জীবন সংকটাপন্ন। এছাড়া, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রয়োগের মাধ্যমে শাকসবজির উৎপাদন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত অ্যাকোয়াপনিক্স পদ্ধতির সাহায্যে শাকসবজি ও মাছ উৎপন্ন করে স্বাস্থ্য ঝুঁকি অনেকাংশেই হ্রাস করা সম্ভব।
বাণির্জিকভিত্তিক এক্যুয়াপনিক্স চাষ ব্যবস্থাপনা
যন্ত্রচালিত ইলেকট্রিক পাম্পের সাহায্যে মাছের ট্যাংক হতে মল ও উদ্বৃত্ত খাদ্য ও বর্জ্য পদার্থসমূহ পানি পরিশ্রুত কঠিন বস্তুর মধ্য দিয়ে বর্জ্য কণাগুলো ছেঁকে গাছের শিকড়ে অবস্থিত সিমবায়োটিক ব্যাক্টেরিয়াগুলোর সাহায্যে বিশেষ প্রক্রিয়ায় পুষ্টিসমৃদ্ধ উৎপাদন গাছের দেহ বৃদ্ধির জন্য গ্রহণ করে থাকে। পরবর্তীতে পরিশ্রুত পানি পরিশোধন হয়ে মাছের ট্যাংকে ফিরে আসে এবং পুনঃসঞ্চালন পদ্ধতির মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি কিছুক্ষণ পর পর বিরতি দিয়ে চলতে থাকে।
এক্যুয়াপনিক্স চাষ ব্যবস্থাপনা দুটি ভাগে বিভক্ত-
১) এক্যুয়াপনিক্স পর্যায়টি মাছ চাষের জন্য ও
২) হাইড্রোপনিক্স পর্যায়টি উদ্ভিদ, বিশেষ করে সবজি চাষের জন্য।
মাছ চাষ ট্যাংকে মাছের মল ছাড়াও উদ্বৃত্ত খাদ্য পানিতে মিশে অম্লতা বৃদ্ধি পেতে থাকে কিন্তু এই বর্জ্য পদার্থ গাছের দেহ বৃদ্ধির জন্য পুষ্টি উপাদান যোগায়। গাছের শিকড়ে যে সিমরায়োটিক ব্যাকটেরিয়া রয়েছে সেই সব ব্যাকটেরিয়া পরিবেশ হতে নাইট্রোজেন গ্রহণ করে এবং পরবর্তীতে তা রূপান্তরিত করে নাইট্রেটে পরিণত করে। গাছের শিকড় পুষ্টি সম্পন্ন খাদ্য উপাদান বিশেষ প্রক্রিয়ায় শোষণ করে গাছকে দেহ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। যদিও এক্যুয়াপনিক্স চাষ ব্যবস্থাপনাকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যা, তবুও বর্জ্যরে বড় বড় কণাগুলোকে সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষতর কণায় রূপান্তরের জন্য বিভিন্ন উপভাগে ভাগ করা যায় যাতে অম্লতা বৃদ্ধি কমিয়ে আনা যায় কিংবা পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ স্বাভাবিক মাত্রায় থাকে। এর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ অংশগুলো হলো-
* প্রতিপালন পাত্র (Rearing Tank ঃ মাছ সংরক্ষণ, বৃদ্ধি ও খাবার প্রয়োগের জন্য।
* উদ্বৃত্ত খাদ্য জমা হওয়ার কক্ষ (Setting Basin) ঃ ট্যাংকের যে অংশে ছোট-বড় খাদ্য কণা জমা হয়।
* জৈব-পরিশ্রুত যন্ত্র (Bio-Filter)
* হাইড্রোপনিক অধঃব্যবস্থাপনা (Hydroponic Sub-System) ঃ এই ব্যবস্থাপনায় গাছ তার যে অংশে (শিকড়ে) অতিরিক্ত পুষ্টি উপাদান পানি থেকে শোষণ করে তাকে হাইড্রোপনিক সাব সিস্টেম বলা হয়ে থাকে।
* পানি নিষ্কাশন কূপ (Sump) ঃ হাইড্রোপনিক সিস্টেমের তলদেশ যেখান থেকে পানি প্রবাহ শুরু হয়ে প্রতিপালন ট্যাংকে ফিরে আসে।
এক্যুয়াপনিক্স চাষ ব্যবস্থাপনার আধুনিকরণ নির্ভর করে পরিশীলিত কাঠামো নির্মাণ এবং ব্যয়ের ওপর, তবে কঠিন খাদ্য কণা নির্গমন, জৈব পরিস্রাবন অথবা হাইড্রোপনিক্স সাব সিস্টেমকে একটি ইউনিটে রূপান্তরিত করা যেতে পারে, যা পানি প্রবাহ সরাসরি এক্যুয়াকারচার অংশ হতে হাইড্রোপনিক্স অংশে যেতে পারে।
হাইড্রোপনিক্স অংশে গাছের শিকড় পানিতে নিমজ্জিত থাকে, এর ফলে শিকড় উদ্বৃত্ত খাদ্য ও মল হতে এমোনিয়া পরিস্রাবণ করে, যা মাছের জন্য পানিতে অম্লতা বৃদ্ধির কারণ হয়ে থাকে; ফলে মাছের বিপাক ক্রিয়ার ব্যাঘাত ঘটে। পানি যখন হাইড্রোপনিক্স সাব-সিস্টেমের মাধ্যমে প্রবাহিত হয় তখন পানি পরিষ্কার ও অক্সজেনের মাত্রা বৃদ্ধি পায় পরবর্তীতে এক্যুয়াকালচার মাছের ট্যাংকে পানি পরিশোধিত হয়ে ফিরে আসে। এভাবে পুনঃসঞ্চালন প্রক্রিয়া বারবার ঘটে থাকে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বাংলাদেশে এক্যুয়াপনিক্স চাষ পদ্ধতি নতুন চালু হয়েছে। বাণিজ্যিকভিত্তিতে এ পদ্ধতির চাষ এখনো হয়নি। মৎস্য বিজ্ঞানীদের জানামতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্বিবিদ্যালয়ের মৎস্য অনুষদে ও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিউটের গবেষণা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে এবং আশানুরূপ ফল পাওয়া গেছে। এই পদ্ধতির উল্লেখযোগ্য দিক হলো এটি একটি পরিবেশবান্ধব চাষ ব্যবস্থাপনা; যাতে অধিক ঘনত্বে পোনা মজুদ করে ট্যাংকের বা পুকুরের পানি দূষণ করে মাছের স্বাভাবিক উৎপাদন (রাসায়নিক সার ছাড়া) বৃদ্ধি করতে সক্ষম। বাংলাদেশে এই পদ্ধতিতে মাছ/সবজি চাষ যদিও একটি নতুন ক্ষেত্র হিসেবে দেখা দিয়েছে, কিন্তু উন্নত দেশে এই পদ্ধতিতে চাষ অনেক আগে থেকে শুর হয়েছে। ভবিষ্যতে আমাদের দেশে এই পদ্ধতিতে চাষ বাস্তবায়ন প্রোটিনের চাহিদা মেটাবার পাশাপাশি ভোক্তার স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে আমরা যে পদ্ধতিতে চাষ করছি তা স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ নয়। আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ট্রেইসেবিলিটি চাহিদা মোতাবেক চাষ করা স্বত্ত্বেও অনেক সময় কৃষি জমিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার, কীটনাশক ওষুধ অধিক বর্ষনের ফলে খামারের পানিতে মিশে যায়। এতে খামারের মাছে রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। বাধ্য হয়ে আমাদেরকে তখন রাসায়নিক সার/ওষুধ প্রয়োগ করতে হয়।
বিশ্বের মধ্যে বাংরাদেশ একটি জলবহুল স্বল্প আয়তনের দেশ। আগামী ২০৫০ সালে এদেশে জনসংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হবে। এই বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর প্রাণীজ আমিষের চাহিদা মেটাতে দেশ হিমসিম খাবে। বর্তমানে আমরা জনপ্রতি ৬০ গ্রাম প্রাণিজ আমিষ পেয়ে থাকি। দেশে বর্তমানে মৎস্য উৎপাদন ৩৩ লক্ষ মেট্রিক টন। ২০৫০ সালে আগামী প্রজন্মের জন্য কমপক্ষে ৯০ লক্ষ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন করা দূরূহ হবে। বিজ্ঞানীদের একথাটি সত্য যে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ২০৩০ সালে প্রাণিজ প্রোটিনের অভাবে ১০ কোটি লোক বিশ্বে মারা যাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের আগাম বার্ত ইলনিনো ও লানিনোর (Lanino) প্রভাব বিজ্ঞানীরা ১০০০ বছর আগে থেকে প্রত্যক্ষ করে আসছেন। মনুষ্যসৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা ও জলবায়ু পরিবর্তন মৎস্যকুলের জন্য অশনি সংকেত নিয়ে এসেছে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনে মৎস্যের ওপর প্রভাব নিরসনে এক্যুয়াপনিক্স চাষ ব্যবস্থাপনা একটি নতুন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। আজ আমাদের ঘরে ঘরে বাড়ীর ছাদে কিংবা বারান্দায় কিংবা গাড়ি পার্কিং এলাকায় খালি জায়গায় এক্যুয়াপনিক্স চাষ পদ্ধতি বাস্তবায়ন করে প্রাণিজ আমিষ ও টাটকা সবজির চাহিদা মিটাতে পারি। যেহেতু এটি একটি পরিবেশবান্ধব চাষ পদ্ধতি সেহেতু ভোক্তার খাদ্য নিরাপত্তার জরুরি প্রয়োজনে টাটকা শাক-সবজি ও মাছ সরবরাহ করার জন্য পদ্ধতিটি কার্যকর হতে পারে। সবচেয়ে যেটা গুরুত্বপূর্ণ তাহলো অসময়ে বন্যা, খরা বা প্রতিকূল পরিবেশের প্রভাবকে মুক্ত রেখে এর চাষ কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া সম্ভব। এখন থেকে এক্যুয়াপনিক চাষ বিষয়ে প্রশিক্ষণ, প্রচার ও জনসচেতনা সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
কৃতজ্ঞতা স্বীকার
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিউট বাস্তবায়িত এক্যুয়াপনিক্স প্রকল্পটি স্বচক্ষে দেখার অভিজ্ঞতা এই প্রবন্ধটি লেখায় অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। বিশেষ করে এম জি হোসেনের সাথে আলাপক্রমে প্রকল্পের উদ্দেশ্যাবলী গবেষণার বিভিন্ন দিক ও এক্যুয়াপনিক্স চাষের ভবিষ্যত সম্ভাবনার বিষয়গুলি প্রবন্ধে বিশদভাবে স্থান পেয়েছে। তাই তাদেরকে আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
এক্যুয়াপনিক্স ও হাইড্রোপনিক্স পদ্ধতির সহায়ক রচনা পুস্তক ও জার্নলসমূহ:
1. Brown, Jamie, Backyard Aquaponics , Smashwords Edition (Barnes and Nobles), 2010.
2. Kenyon, Stewart, Hydroponics for the home garden, Toronto: Van Nostrand Reinhold 1979. Print.
3. Rakocy, James. “Q and A”. Aquaponic Journal, Mach 2010.
(Dr. James Rakocy is the Director of the University of the Virgin Island Agricultural Experiment station and has been doing research is aquaponics for over 20 years. Rakocy is one of the founds father in the development of this science.)
4. Roberts, Keith, How to do Hydroponics, 4th ed, Vol. 1 Farmingdale: Futuregarden, 2003,
(This book is more of hydroponics basics guide then Hydroponics for the Home Gardener. Its a reference book when anybody building his own hydroponic system. Great plumping guides and useful parts lists to each system that is displayed in this book.)
৫। ড. এ.এ সালাম ও শাহরিয়ার হাশেম, (২০১২); একুয়াপনিক্স মাধ্যমে মাছ ও সবজির সমন্বিত চাষ, জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ (৭-১৩ জুলাই), পৃষ্ঠা ৭৩-৭৫।
৬। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিউটের এক্যুয়াপনিক্স প্রকল্পের অভিজ্ঞতার আলোকে
৭। ইন্টারনেট থেকে প্রাসংগিক তথ্যাদি।
পাওয়া সমন্বিত এই পদ্ধতি সমন্ধে ড. সালাম বলেন, বাড়ীর আঙিনায় বা বাসার ছাদের আয়তনের উপর নির্ভর করে যেকোন আকারের প্লাস্টিক ট্যাঙ্ক অথবা ড্রামের মধ্যে পানি দিয়ে সেখানে তেলাপিয়া, মাগুর, কই, পাঙ্গাসসহ বিভিন্ন দেশীয় জাতের মাছ চাষ করেন। আর সবজি চাষের জন্য একটি কাঠের আলনা তৈরী করে তাতে তিন সারিতে উল্টো করে একটির নিচে আরেকটি দুইপাশে কাটা প্লাস্টিকের বোতল বসিয়ে তাতে নুড়ি পাথর দিয়ে সবজির চারা লাগাতে হবে। এবার মাছের ট্যাঙ্কের পানি বালতি করে উপরে তুলে সেখান থেকে সাইফোন প্রক্রিয়ায় ফোটাফোটা করে উপরের ওই চারা লাগানো বোতলে সরবরাহ করতে হবে। এই পানি পর্যায়ক্রমে উপর থেকে নিচে আরও দুটি বোতলের মধ্য দিয়ে গড়িয়ে একটি পাত্রে এসে জমা হয় যা পুণরায় মাছের ট্যাঙ্কে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে মাছের ট্যাঙ্কের অ্যামোনিয়া সমৃদ্ধ পানি গাছের শিকড়ে অবস্থিত ডি-নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া ভেঙ্গে গাছের খাদ্য উপযোগী নাইট্রেটে পরিণত করে পানিকে দূষণ মুক্ত করে এবং ওই পানিকে পুণরায় মাছের ট্যাঙ্কে ব্যবহার উপযোগী করে তোলে। এ পদ্ধতিতে বিভিন্ন দেশী-বিদেশী শাকসবজি চাষ করা যায়। তবে টমেটো, শসা, করোল্লা, শিম, ব্রকলি, পুদিনা, বেগুন, দেশী লেটুসসহ আমেরিকান লেটুস ফলন বেশ ভাল হয়।
মাছকে কি রকমের খাবার দিতে হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে ড. সালাম বলেন, ‘এই পদ্ধতিতে সবজি চাষের জন্য বাড়তি কোন প্রকার সার বা মাটির প্রয়োজন না পড়লেও মাছকে আলাদা খাদ্য বাইরে থেকে সরবরাহ করতে হবে। বাজার থেকে কিনে মাছকে যাতে খাদ্য দিতে না হয়, সেজন্য আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়ানো “কালো সৈনিক” পোকার লার্ভা মাছের প্রিয় খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এটি মাছের খুবই প্রিয় খাবার। এতে প্রচুর প্রোটিন, লিপিড এবং বিভিন্ন প্রকার খনিজ লবন রয়েছে যা মাছের দ্রুত বর্ধনে সাহায্য করে।
নতুন এই প্রযুক্তি নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে ড. সালাম বলেন, যেহেতু প্রতিনিয়তই আমাদের দেশের চাষাবাদের জন্য জমির পরিমাণ কমছে তাই উলম্ব পদ্ধতিটি অনেকাংশে আমাদের সাহায্য করবে বলে আশা প্রকাশ করছি। কারণ, উলম্ব পদ্ধতিতে একই জায়গায় অনেকগুলো ফসল একসাথে উৎপাদন করা যায়। এর ফলে একদিকে যেমন জমির পরিমাণের উপর চিন্তা করতে হচ্ছে না, অন্যদিকে কীটনাশক ও রাসায়নিক ক্ষতিকর পদার্থেও হাত থেকেও রক্ষা পাওয়া যাবে। তাছাড়া খরচ ও জায়গা কম লাগায় এই পদ্ধতির মাধ্যমে আর্থিকভাবেও লাভবান হওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
বহুগুণে গুণান্বিত কাসাভা চাষ
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 5:10 PM
বহুগুণে গুণান্বিত কাসাভা চাষ
আফ্রিকা মহাদেশের বেশির ভাগ মানুষ কাসাভা খেয়ে জীবন ধারণ করে। তবে বাংলাদেশে এখনো এটি নিতান্তই অপরিচিত। গুল্মজাতীয় এ উদ্ভিদটি বাংলাদেশে চাষ না হলেও পাহাড়ে-জঙ্গলে দীর্ঘদিন থেকে এ গাছ জন্মায়। স্থানীয়ভাবে কাসাভার ব্যবহার আছে অনেক আগে থেকেই। গ্রামের মানুষ কাসাভার কন্দকে ‘শিমুল আলু’ বলে। গাছটির পাতা অনেকটা শিমুল গাছের মতো দেখতে বলেই হয়তো এরকম নামকরণ।
পুষ্টিগুণ
কাসাভা আটার পুষ্টিগুণ গমের আটার চেয়ে অনেক বেশি। এই আটা থেকে রুটি ছাড়াও অনেক প্রকার সুস্বাদু খাবার তৈরি করা যায়। কাসাভা ভিটামিনের দিক দিয়েও শীর্ষে। কাসাভার খাদ্যমানের মধ্যে প্রোটিন আছে ১০ শতাংশেরও বেশি। অ্যামাইনো অ্যাসিড ও কার্বোহাইড্রেট আছে যথাক্রমে ১০ ও ৩০ শতাংশ। আরো আছে ফ্রুকটোজ ও গ্লুকোজ। খাদ্যোপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম কাসাভা আলুতে রয়েছে ৩৭ গ্রাম শর্করা, ১.২ গ্রাম আমিষ, ০.৩ গ্রাম চর্বি, ৩৫ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ০.৭ মিলিগ্রাম আয়রন, ০.০৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন এ, ৩৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি এবং ১৪৬ ক্যালরি খাদ্যশক্তি।
রোগ প্রতিরোধ
সব পুষ্টিগুণ মিলে সেলুলোজের সঙ্গে পাওয়া যাবে মিনারেল ও ফাইবার গ্লুটামিন। এর আঠালো অংশ ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ উপশমের ক্ষেত্রে কাজ করে। কাসাভা ফাইবার বাড়তি কোলেস্টরলের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করে। এমনকি এটি ক্যান্সার প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে।
বাজারজাত
সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে কাসাভা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইতোমধ্যে বেসরকারি কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কাসাভা থেকে আটা ও স্টার্চ তৈরি করে বাজারজাতকরণের উদ্যোগে নিয়েছে।
প্রক্রিয়াজাত
কাসাভা আলুকে প্রক্রিয়াজাত করে তা থেকে আটা ও স্টার্চ পাওয়া যায়। এই আটা দিয়ে রুটি থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাবার পাওয়া সম্ভব। প্রতি কেজি আলু থেকে আটা ও স্টার্চ মিলিয়ে প্রায় ৩৪০ গ্রাম পর্যন্ত উৎপাদন করা সম্ভব। এক হেক্টর জমি থেকে বছরে প্রায় ২৫.৫ মেট্রিক টন অর্থাৎ ৩ হাজার ৪০০ কেজি কাসাভা আটা ও স্টার্চ পাওয়া সম্ভব।
খাদ্যসামগ্রী
কাসাভার আটা দিয়ে রুটি ছাড়াও পাঁপর, চিপস, নুডলস, ক্র্যাকার্স, বিস্কুট, কেক, পাউরুটি ইত্যাদি তৈরি করা যায়। কাসাভা আলু যেমন সিদ্ধ করে খাওয়া যায়, তেমনই তরকারি করে মাছ-মাংসের সঙ্গে খাওয়া যায়।

কোথায় চাষ হয় :
পৃথিবীর উৎপন্ন কাসাভার ৬০ ভাগ মানুষের খাদ্য, ২৫ ভাগ পশুখাদ্য এবং বাকিটা স্টার্চ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। আফ্রিকায় ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় এ ফসল মানুষের খাবারের অন্যতম প্রধান উপাদান। দক্ষিণ আমেরিকায় মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবেও কাসাভা ব্যবহৃত হয়। আফ্রিকার নাইজেরিয়া, উগান্ডা, তানজানিয়া, মোজাম্বিক, ঘানা ও জায়ারে সবচেয়ে বেশি কাসাভা চাষ হয়। এশিয়ায় চীন, ভারত, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও ভারতে কাসাভার চাষ হয়। এসব জায়গায় মানুষের খাবারের পাশাপাশি স্টার্চ কারখানার কাঁচামাল হিসেবে কাসাভার ব্যবহার বেশি লক্ষ্য করা যায়।
এলো কোথা থেকে :
প্রায় ৭ হাজার বছর আগে কলম্বিয়া ও ভেনিজুয়েলায় কাসাভা চাষের ইতিহাস জানা যায়। তাই দক্ষিণ আমেরিকাকেই কাসাভার উৎপত্তিস্থল হিসেবে মনে করা হয়। পনের শতকে স্প্যানিশ বসতি স্থাপনকারীদের দ্বারা মধ্য আমেরিকায় এর চাষ সম্প্রসারিত হয়। ষোল শতকের শেষের দিকে পর্তুগিজরা কাসাভা আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলে নিয়ে আসে। এশিয়ায় প্রথম ফিলিপাইনে স্প্যানিশরা মেক্সিকো থেকে কাসাভা নিয়ে আসে, যা পরে অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে। আঠারো শতকের শুরুতে পর্তুগিজদের দ্বারা ভারতে কাসাভার আগমন ঘটে। জানা যায়, বাংলাদেশে উনিশ শতকের মাঝামাঝি জনৈক খ্রিস্টান মিশনারির মাধ্যমে মধুপুর অঞ্চলে প্রথম কাসাভা চাষ করা হয়।
জাত :
কাসাভার অনেক প্রচলিত ও উন্নত জাত রয়েছে। কৃষকরা খাবার ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে জাত নির্বাচন করে। খাবারের জন্য অনেক অঞ্চলে মিষ্টি জাতের কাসাভা চাষ করা হয়। ভারতে কাসাভার জনপ্রিয় হাইব্রিড জাতগুলো হলো গ-৪, ঐ-৯৭, ঐ-১৬৫, ঐ-২২৬, ঐ-১৬৮৭, ঐ-২৩০৪, ঝ-৮৫৬। ইন্দোনেশিয়ায় অউওজঅ-১, ২, ৩, ৪; থাইল্যান্ডে জঅণঙঘএ-১, ২, ৩, ৬০; ফিলিপাইনে চজ-ঈ ১৩, ২৪, ৬২ এবং চীনে ঝঈ-২০১, ২০৫, ১২৪ জাতগুলো জনপ্রিয়। নাইজেরিয়ায় ঞগঝ-৩০০১, ৩০৫৭২, ৫০৩৯৫, ৩০৫৫৫ এবং কলম্বিয়ায় গ.ঈড়ষ.-২২১৫, ১৬৮৪, গ.ইজঅ-৫, ১২ জাতগুলো উল্লেখযোগ্য।
চাষের যত নিয়মকানুন :
মাটি : উষ্ণ ও নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল কাসাভা চাষের উপযোগী। অনুর্বর পাহাড়ি মাটি কিংবা বালিমাটি যেখানে অন্য কোনো ফসল ফলানো যায় না সেখানেও কাসাভা চাষ করা যায়। তবে এ ফসল জলাবদ্ধতা ও উচ্চ লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে না।
জলবায়ু : এটি একটি খরাসহনশীল ফসল। যেখানে ছয় মাস পর্যন্ত খরা বা শুষ্ক অবস্থা বিরাজ করে সেখানেও কাসাভা সহজে চাষ করা যায়। তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের নিচে কাসাভা ভালো হয় না। উপযুক্ত তাপমাত্রা ২৫-৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার ৩০০ মিটার ওপরেও কাসাভা চাষ করা যায়।
বংশবৃদ্ধি :
গাছ লাগানোর জন্য বীজ কিংবা কাটিং উভয়ই ব্যবহার করা যায়। বাণিজ্যিকভাবে চাষের জন্য পরিপক্ব কা-ের কাটিং ব্যবহার করা হয়। কাসাভা সংগ্রহের সময় সুস্থ, সবল ও রোগমুক্ত কা-গুলো কেটে পরবর্তী বছর লাগানোর জন্য ছায়াযুক্ত স্থানে সংরক্ষণ করতে হয়। লাগানোর সময় কা-কে ১৫-২০ সেমি করে কেটে সোজা করে লাগাতে হবে। প্রতিটি কাটিংয়ে কমপক্ষে ৫ থেকে ৭টি নোড থাকতে হবে।
জমি তৈরি :
সাধারণত জমিতে চাষের প্রয়োজন হয় না। তবে বাণিজ্যিকভাবে চাষের জন্য জমি চাষ করা যেতে পারে। অধিকাংশ জায়গায় পিট তৈরি করে কাসাভার কাটিং বা সেট লাগানো হয়। পাহাড়ি এলাকায় এটি একটি সহজ ও সুবিধাজনক পদ্ধতি। তবে পিটগুলো মাটি থেকে একটু ওপরের দিকে উঠানো হলে ফলন ভালো পাওয়া যায়।
লাগানোর নিয়ম :
প্রতি হেক্টর জমিতে ১০ হাজার গাছ লাগানো যায়। একটি গাছ থেকে অন্য গাছের দূরত্ব ৭৫ থেকে ৯০ সেমি রাখতে হবে। কাটিং মাটিতে লাগানোর সময় ২০ সেমি মাটির নিচে এবং ৫ সেমি মাটির ওপরে থাকতে হবে। সাধারণত ১৫-২০ দিনের মধ্যে কাটিং থেকে নতুন কুশি বের হয়। যেসব কাটিং থেকে কুশি বের হবে না সেগুলো তুলে ফেলে সেখানে ৪০ সেমি আকারের নতুন কাটিং লাগাতে হবে।
সেচ :
সাধারণত সেচের প্রয়োজন হয় না। তবে কাটিং লাগানোর পর গাছ গজানোর জন্য ৩-৫ দিন অন্তর কমপক্ষে দুবার সেচ দিতে হবে। দীর্ঘদিন খরা অবস্থা বিরাজ করলে হালকা সেচের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে ফলন বৃদ্ধি পায়।
আন্তঃপরিচর্যা :
গাছ লাগানোর পর এক মাস অন্তর গোড়ার আগাছা পরিষ্কার করে গোড়ায় মাটি তুলে দিলে ফলন ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। যদিও কাসাভায় রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ খুবই কম তথাপিও এক ধরনের মাকড়ের আক্রমণে অনেক সময় ফসলের ক্ষতি হয়। সব সময় রোগবালাই ও পোকামাকড় মুক্ত কাটিং লাগাতে হবে এবং মাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসলকে রক্ষা করতে হলে আক্রমণ দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাকড়নাশক স্প্রে করতে হবে। অনেক সময় ইঁদুর মাটির নিচের কাসাভা খেয়ে বেশ ক্ষতি করে। এ জন্য বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ ও বিষটোপ ব্যবহার করে ইঁদুর দমন করতে হবে।
আন্তঃফসল চাষ :
আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার ৯০ ভাগ কাসাভা জমিতে আন্তঃফসল হিসেবে ডালজাতীয় ফসল ও শাকসবজি চাষ করা হয়। ভারতে কাসাভার সঙ্গে আন্তঃফসল হিসেবে শিম, চীনাবাদাম, মটর, পেঁয়াজ ও শাকসবজি চাষ করা হয়। ইন্দোনেশিয়ায় কাসাভার সঙ্গে ধান ও ভুট্টা চাষ করা হয়। মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডে নারকেল, পাম অয়েল ও রাবার বাগানে আন্তঃফসল হিসেবে কাসাভা চাষ করা হয়। আন্তঃফসল চাষের কারণে কাসাভার ফলনের তেমন কোনো ক্ষতি হয় না। তবে এ ক্ষেত্রে গাছের ঘনত্ব কিছুটা কমিয়ে দিলে চাষে সুবিধা হয়।
ফলন :
সাধারণত হেক্টরপ্রতি ২৫-৩০ টন ফলন পাওয়া যায়। তবে ভালো ব্যবস্থাপনায় উন্নত জাত চাষ করলে হেক্টরপ্রতি ৫৫ থেকে ৬০ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।
ব্যক্তিগত উদ্যোগে কুমিল্লার ময়নামতির টিলা অঞ্চল, মধুপুর গড়, গারো পাহাড় ও চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে কাসাভা চাষ করা হচ্ছে। এখানে চাষকৃত জাতগুলো থাইল্যান্ড ও ভারত থেকে আমদানিকৃত এবং একবর্ষজীবী। এসব জায়গায় উৎপাদিত কাসাভা স্টার্চ উৎপাদনের জন্য কারখানায় ব্যবহৃত হয়। গাছপ্রতি ১৫-১৮ কেজি এবং একরপ্রতি ৬ টনের অধিক ফলন পাওয়া যায়। কুমিল্লায় সাথী ফসল হিসেবে কাসাভার সঙ্গে ছড়াকচু এবং মধুপুর অঞ্চলে সরিষা চাষ করা হয়।
বাংলাদেশের পাহাড়, টিলা, গড় ও শুষ্ক অঞ্চল যেখানে অন্য কোনো ফসল করা যায় না সেখানে কাসাভার চাষ সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। ফসল বহুমুখীকরণ, মঙ্গা মোকাবেলা এবং দেশের পতিত জমিগুলো ফসল চাষের আওতায় নিয়ে আসার জন্য কাসাভা একটি লাগসই ফসল। প্রতি বছর আমাদের দেশের ওষুধশিল্পসহ অন্যান্য শিল্প-কারখানায় প্রচুর পরিমাণে স্টার্চ ও সুক্রোজ প্রয়োজন হয়, যা সাধারণত বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। দেশের পতিত এলাকাগুলো লিজ ভিত্তিতে সহজে কাসাভা চাষের আওতায় নিয়ে এসে স্টার্চের এ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
আফ্রিকা মহাদেশের বেশির ভাগ মানুষ কাসাভা খেয়ে জীবন ধারণ করে। তবে বাংলাদেশে এখনো এটি নিতান্তই অপরিচিত। গুল্মজাতীয় এ উদ্ভিদটি বাংলাদেশে চাষ না হলেও পাহাড়ে-জঙ্গলে দীর্ঘদিন থেকে এ গাছ জন্মায়। স্থানীয়ভাবে কাসাভার ব্যবহার আছে অনেক আগে থেকেই। গ্রামের মানুষ কাসাভার কন্দকে ‘শিমুল আলু’ বলে। গাছটির পাতা অনেকটা শিমুল গাছের মতো দেখতে বলেই হয়তো এরকম নামকরণ।
পুষ্টিগুণ
কাসাভা আটার পুষ্টিগুণ গমের আটার চেয়ে অনেক বেশি। এই আটা থেকে রুটি ছাড়াও অনেক প্রকার সুস্বাদু খাবার তৈরি করা যায়। কাসাভা ভিটামিনের দিক দিয়েও শীর্ষে। কাসাভার খাদ্যমানের মধ্যে প্রোটিন আছে ১০ শতাংশেরও বেশি। অ্যামাইনো অ্যাসিড ও কার্বোহাইড্রেট আছে যথাক্রমে ১০ ও ৩০ শতাংশ। আরো আছে ফ্রুকটোজ ও গ্লুকোজ। খাদ্যোপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম কাসাভা আলুতে রয়েছে ৩৭ গ্রাম শর্করা, ১.২ গ্রাম আমিষ, ০.৩ গ্রাম চর্বি, ৩৫ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ০.৭ মিলিগ্রাম আয়রন, ০.০৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন এ, ৩৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি এবং ১৪৬ ক্যালরি খাদ্যশক্তি।
রোগ প্রতিরোধ
সব পুষ্টিগুণ মিলে সেলুলোজের সঙ্গে পাওয়া যাবে মিনারেল ও ফাইবার গ্লুটামিন। এর আঠালো অংশ ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ উপশমের ক্ষেত্রে কাজ করে। কাসাভা ফাইবার বাড়তি কোলেস্টরলের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করে। এমনকি এটি ক্যান্সার প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে।
বাজারজাত
সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে কাসাভা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইতোমধ্যে বেসরকারি কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কাসাভা থেকে আটা ও স্টার্চ তৈরি করে বাজারজাতকরণের উদ্যোগে নিয়েছে।
প্রক্রিয়াজাত
কাসাভা আলুকে প্রক্রিয়াজাত করে তা থেকে আটা ও স্টার্চ পাওয়া যায়। এই আটা দিয়ে রুটি থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাবার পাওয়া সম্ভব। প্রতি কেজি আলু থেকে আটা ও স্টার্চ মিলিয়ে প্রায় ৩৪০ গ্রাম পর্যন্ত উৎপাদন করা সম্ভব। এক হেক্টর জমি থেকে বছরে প্রায় ২৫.৫ মেট্রিক টন অর্থাৎ ৩ হাজার ৪০০ কেজি কাসাভা আটা ও স্টার্চ পাওয়া সম্ভব।
খাদ্যসামগ্রী
কাসাভার আটা দিয়ে রুটি ছাড়াও পাঁপর, চিপস, নুডলস, ক্র্যাকার্স, বিস্কুট, কেক, পাউরুটি ইত্যাদি তৈরি করা যায়। কাসাভা আলু যেমন সিদ্ধ করে খাওয়া যায়, তেমনই তরকারি করে মাছ-মাংসের সঙ্গে খাওয়া যায়।
কোথায় চাষ হয় :
পৃথিবীর উৎপন্ন কাসাভার ৬০ ভাগ মানুষের খাদ্য, ২৫ ভাগ পশুখাদ্য এবং বাকিটা স্টার্চ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। আফ্রিকায় ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় এ ফসল মানুষের খাবারের অন্যতম প্রধান উপাদান। দক্ষিণ আমেরিকায় মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবেও কাসাভা ব্যবহৃত হয়। আফ্রিকার নাইজেরিয়া, উগান্ডা, তানজানিয়া, মোজাম্বিক, ঘানা ও জায়ারে সবচেয়ে বেশি কাসাভা চাষ হয়। এশিয়ায় চীন, ভারত, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও ভারতে কাসাভার চাষ হয়। এসব জায়গায় মানুষের খাবারের পাশাপাশি স্টার্চ কারখানার কাঁচামাল হিসেবে কাসাভার ব্যবহার বেশি লক্ষ্য করা যায়।
এলো কোথা থেকে :
প্রায় ৭ হাজার বছর আগে কলম্বিয়া ও ভেনিজুয়েলায় কাসাভা চাষের ইতিহাস জানা যায়। তাই দক্ষিণ আমেরিকাকেই কাসাভার উৎপত্তিস্থল হিসেবে মনে করা হয়। পনের শতকে স্প্যানিশ বসতি স্থাপনকারীদের দ্বারা মধ্য আমেরিকায় এর চাষ সম্প্রসারিত হয়। ষোল শতকের শেষের দিকে পর্তুগিজরা কাসাভা আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলে নিয়ে আসে। এশিয়ায় প্রথম ফিলিপাইনে স্প্যানিশরা মেক্সিকো থেকে কাসাভা নিয়ে আসে, যা পরে অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে। আঠারো শতকের শুরুতে পর্তুগিজদের দ্বারা ভারতে কাসাভার আগমন ঘটে। জানা যায়, বাংলাদেশে উনিশ শতকের মাঝামাঝি জনৈক খ্রিস্টান মিশনারির মাধ্যমে মধুপুর অঞ্চলে প্রথম কাসাভা চাষ করা হয়।
জাত :
কাসাভার অনেক প্রচলিত ও উন্নত জাত রয়েছে। কৃষকরা খাবার ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে জাত নির্বাচন করে। খাবারের জন্য অনেক অঞ্চলে মিষ্টি জাতের কাসাভা চাষ করা হয়। ভারতে কাসাভার জনপ্রিয় হাইব্রিড জাতগুলো হলো গ-৪, ঐ-৯৭, ঐ-১৬৫, ঐ-২২৬, ঐ-১৬৮৭, ঐ-২৩০৪, ঝ-৮৫৬। ইন্দোনেশিয়ায় অউওজঅ-১, ২, ৩, ৪; থাইল্যান্ডে জঅণঙঘএ-১, ২, ৩, ৬০; ফিলিপাইনে চজ-ঈ ১৩, ২৪, ৬২ এবং চীনে ঝঈ-২০১, ২০৫, ১২৪ জাতগুলো জনপ্রিয়। নাইজেরিয়ায় ঞগঝ-৩০০১, ৩০৫৭২, ৫০৩৯৫, ৩০৫৫৫ এবং কলম্বিয়ায় গ.ঈড়ষ.-২২১৫, ১৬৮৪, গ.ইজঅ-৫, ১২ জাতগুলো উল্লেখযোগ্য।
চাষের যত নিয়মকানুন :
মাটি : উষ্ণ ও নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল কাসাভা চাষের উপযোগী। অনুর্বর পাহাড়ি মাটি কিংবা বালিমাটি যেখানে অন্য কোনো ফসল ফলানো যায় না সেখানেও কাসাভা চাষ করা যায়। তবে এ ফসল জলাবদ্ধতা ও উচ্চ লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে না।
জলবায়ু : এটি একটি খরাসহনশীল ফসল। যেখানে ছয় মাস পর্যন্ত খরা বা শুষ্ক অবস্থা বিরাজ করে সেখানেও কাসাভা সহজে চাষ করা যায়। তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের নিচে কাসাভা ভালো হয় না। উপযুক্ত তাপমাত্রা ২৫-৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার ৩০০ মিটার ওপরেও কাসাভা চাষ করা যায়।
বংশবৃদ্ধি :
গাছ লাগানোর জন্য বীজ কিংবা কাটিং উভয়ই ব্যবহার করা যায়। বাণিজ্যিকভাবে চাষের জন্য পরিপক্ব কা-ের কাটিং ব্যবহার করা হয়। কাসাভা সংগ্রহের সময় সুস্থ, সবল ও রোগমুক্ত কা-গুলো কেটে পরবর্তী বছর লাগানোর জন্য ছায়াযুক্ত স্থানে সংরক্ষণ করতে হয়। লাগানোর সময় কা-কে ১৫-২০ সেমি করে কেটে সোজা করে লাগাতে হবে। প্রতিটি কাটিংয়ে কমপক্ষে ৫ থেকে ৭টি নোড থাকতে হবে।
জমি তৈরি :
সাধারণত জমিতে চাষের প্রয়োজন হয় না। তবে বাণিজ্যিকভাবে চাষের জন্য জমি চাষ করা যেতে পারে। অধিকাংশ জায়গায় পিট তৈরি করে কাসাভার কাটিং বা সেট লাগানো হয়। পাহাড়ি এলাকায় এটি একটি সহজ ও সুবিধাজনক পদ্ধতি। তবে পিটগুলো মাটি থেকে একটু ওপরের দিকে উঠানো হলে ফলন ভালো পাওয়া যায়।
লাগানোর নিয়ম :
প্রতি হেক্টর জমিতে ১০ হাজার গাছ লাগানো যায়। একটি গাছ থেকে অন্য গাছের দূরত্ব ৭৫ থেকে ৯০ সেমি রাখতে হবে। কাটিং মাটিতে লাগানোর সময় ২০ সেমি মাটির নিচে এবং ৫ সেমি মাটির ওপরে থাকতে হবে। সাধারণত ১৫-২০ দিনের মধ্যে কাটিং থেকে নতুন কুশি বের হয়। যেসব কাটিং থেকে কুশি বের হবে না সেগুলো তুলে ফেলে সেখানে ৪০ সেমি আকারের নতুন কাটিং লাগাতে হবে।
- লাগানোর সময়
সারা বছরই গাছ লাগানো যায়। তবে সাধারণত বর্ষার শুরুতে কাসাভার কাটিং লাগানো ভালো। আমাদের দেশে এপ্রিল-মে মাস কাসাভা লাগানোর সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।
সার ব্যবস্থাপনা : তেমন কোনো সার প্রয়োগ করতে হয় না। তবে বাণিজ্যিকভাবে চাষের জন্য হেক্টরপ্রতি ১৮০-২০০ কেজি নাইট্রোজেন, ১৫-২২ কেজি ফসফরাস ও ১৪০-১৬০ কেজি পটাসিয়াম প্রয়োগ করলে সর্বাধিক ফলন পাওয়া যায়।
সেচ :
সাধারণত সেচের প্রয়োজন হয় না। তবে কাটিং লাগানোর পর গাছ গজানোর জন্য ৩-৫ দিন অন্তর কমপক্ষে দুবার সেচ দিতে হবে। দীর্ঘদিন খরা অবস্থা বিরাজ করলে হালকা সেচের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে ফলন বৃদ্ধি পায়।
আন্তঃপরিচর্যা :
গাছ লাগানোর পর এক মাস অন্তর গোড়ার আগাছা পরিষ্কার করে গোড়ায় মাটি তুলে দিলে ফলন ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। যদিও কাসাভায় রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ খুবই কম তথাপিও এক ধরনের মাকড়ের আক্রমণে অনেক সময় ফসলের ক্ষতি হয়। সব সময় রোগবালাই ও পোকামাকড় মুক্ত কাটিং লাগাতে হবে এবং মাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসলকে রক্ষা করতে হলে আক্রমণ দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাকড়নাশক স্প্রে করতে হবে। অনেক সময় ইঁদুর মাটির নিচের কাসাভা খেয়ে বেশ ক্ষতি করে। এ জন্য বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ ও বিষটোপ ব্যবহার করে ইঁদুর দমন করতে হবে।
আন্তঃফসল চাষ :
আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার ৯০ ভাগ কাসাভা জমিতে আন্তঃফসল হিসেবে ডালজাতীয় ফসল ও শাকসবজি চাষ করা হয়। ভারতে কাসাভার সঙ্গে আন্তঃফসল হিসেবে শিম, চীনাবাদাম, মটর, পেঁয়াজ ও শাকসবজি চাষ করা হয়। ইন্দোনেশিয়ায় কাসাভার সঙ্গে ধান ও ভুট্টা চাষ করা হয়। মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডে নারকেল, পাম অয়েল ও রাবার বাগানে আন্তঃফসল হিসেবে কাসাভা চাষ করা হয়। আন্তঃফসল চাষের কারণে কাসাভার ফলনের তেমন কোনো ক্ষতি হয় না। তবে এ ক্ষেত্রে গাছের ঘনত্ব কিছুটা কমিয়ে দিলে চাষে সুবিধা হয়।
ফলন :
সাধারণত হেক্টরপ্রতি ২৫-৩০ টন ফলন পাওয়া যায়। তবে ভালো ব্যবস্থাপনায় উন্নত জাত চাষ করলে হেক্টরপ্রতি ৫৫ থেকে ৬০ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।
ব্যক্তিগত উদ্যোগে কুমিল্লার ময়নামতির টিলা অঞ্চল, মধুপুর গড়, গারো পাহাড় ও চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে কাসাভা চাষ করা হচ্ছে। এখানে চাষকৃত জাতগুলো থাইল্যান্ড ও ভারত থেকে আমদানিকৃত এবং একবর্ষজীবী। এসব জায়গায় উৎপাদিত কাসাভা স্টার্চ উৎপাদনের জন্য কারখানায় ব্যবহৃত হয়। গাছপ্রতি ১৫-১৮ কেজি এবং একরপ্রতি ৬ টনের অধিক ফলন পাওয়া যায়। কুমিল্লায় সাথী ফসল হিসেবে কাসাভার সঙ্গে ছড়াকচু এবং মধুপুর অঞ্চলে সরিষা চাষ করা হয়।
বাংলাদেশের পাহাড়, টিলা, গড় ও শুষ্ক অঞ্চল যেখানে অন্য কোনো ফসল করা যায় না সেখানে কাসাভার চাষ সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। ফসল বহুমুখীকরণ, মঙ্গা মোকাবেলা এবং দেশের পতিত জমিগুলো ফসল চাষের আওতায় নিয়ে আসার জন্য কাসাভা একটি লাগসই ফসল। প্রতি বছর আমাদের দেশের ওষুধশিল্পসহ অন্যান্য শিল্প-কারখানায় প্রচুর পরিমাণে স্টার্চ ও সুক্রোজ প্রয়োজন হয়, যা সাধারণত বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। দেশের পতিত এলাকাগুলো লিজ ভিত্তিতে সহজে কাসাভা চাষের আওতায় নিয়ে এসে স্টার্চের এ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
ছাদে ডালিম ,আনার বা বেদানার চাষ পদ্ধতি
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 4:50 PM
ছাদে আনার বা বেদানার চাষ পদ্ধতি
ডালিমের উন্নত জাতই হল আনার বা বেদানা । আনার বা বেদানা খুবই মিষ্টি এবং সুস্বাদু একটি ফল । বাংলাদেশের মাটি বেদানা চাষের উপযোগী । এ কারণেই বাংলাদেশের বসতবাটির আঙ্গিনায় এর চাষ পরিলক্ষিত হয় । আনার বা বেদানা একটি পুষ্টিকর ফল। আনার দিয়ে কবিরাজরা বিভিন্ন ধরনের ঔষধ তৈরী করে থাকে । নিয়মিত যত্ন নিলে আনার গাছ থেকে সারা বছর ফল পাওয়া যায় । ছাদে টবে বা ড্রামে খুব সহজেই আনার বা বেদানার চাষ করা যায় ।
বেদানার চাষ পদ্ধতিঃ
ছাদে আনার বা বেদানার চারা লাগানোর জন্য ২০ ইঞ্চি কালার ড্রাম বা টব সংগ্রহ করতে হবে । ড্রামের তলায় ৩-৫ টি ছিদ্র করে নিতে হবে । যাতে গাছের গোড়ায় পানি জমে না থাকে । টব বা ড্রামের তলার ছিদ্রগুলো ইটের ছোট ছোট টুকরা দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে । টব বা ড্রামের গাছটিকে ছাদের এমন জায়গায় রাখতে হবে যেখানে সবসময় রোদ থাকে । এবার ২ ভাগ বেলে দোআঁশ মাটি, ১ ভাগ গোবর, ৪০-৫০ গ্রাম টি,এস,পি সার, ৪০-৫০ গ্রাম পটাশ সার,এবং ২০০ গ্রাম হাড়ের গুড়া একত্রে মিশিয়ে ড্রাম বা টবে পানি দিয়ে রেখে দিতে হবে ১০-১২ দিন । অতঃপর মাটি কিছুটা খুচিয়ে দিয়ে আবার ৪-৫ দিন একইভাবে রেখে দিতে হবে । মাটি যখন ঝুরঝুরে হবে তখন একটি সবল সুস্থ কলমের চারা উক্ত টবে রোপন করতে হবে । চারা রোপনের সময় খেয়াল রাখতে হবে গাছের গোড়া যেন মাটি থেকে আলাদা না হয়ে যায় । চারা গাছটিকে সোজা করে লাগাতে হবে । সেই সাথে গাছের গোড়ায় মাটি কিছুটা উচু করে দিতে হবে এবং মাটি হাত দিয়ে চেপে চেপে দিতে হবে । যাতে গাছের গোড়া দিয়ে বেশী পানি না ঢুকতে পারে । একটি সোজা কাঠি দিয়ে গাছটিকে বেধে দিতে হবে । চারা লাগানোর পর প্রথমদিকে পানি কম দিতে হবে । আস্তে আস্তে পানি বাড়াতে হবে । লক্ষ্য রাখতে হবে যেন গাছের গোড়ায় পানি জমে না থাকে আবার বেশী শুকিয়েও না যায় ।
অন্যান্য পরিচর্যাঃ
আনার বা বেদানা গাছের চারা লাগানোর ৪/৫ মাস পর থেকে নিয়মিত ২৫-৩০ দিন অন্তর অন্তর সরিষার খৈল পচা পানি প্রয়োগ করতে হবে । সরিষার খৈল ১০ দিন পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে । তারপর সেই পচা খৈলের পানি পাতলা করে গাছের গোড়ায় দিতে হবে । ১ বছর পর টবের আংশিক মাটি পরিবর্তন করে দিতে হবে । ২ ইঞ্চি প্রস্থে এবং ৬ ইঞ্চি গভীরে শিকরসহ মাটি ফেলে দিয়ে নতুন সার মিশ্রিত মাটি দিয়ে তা ভরে দিতে হবে । মাটি পরিবর্তনের এই কাজটি সাধারণতঃ বর্ষার শেষ এবং শীতের আগে করলেই ভাল হয় । ১০-১৫ দিন অন্তর অন্তর টব বা ড্রামের মাটি কিছুটা খুঁচিয়ে দিতে হবে ।

গাছে সার প্রয়োগঃ চারা লাগানোর আগে গর্তে সার প্রয়োগ ছাড়াও প্রতি বছর গাছে নিয়মিত সার প্রয়োগ করতে হবে। গর্ত করার ৮-১০ দিন পর গর্তের মাটির সাথে নিম্নলিখিত হারে সার মিশিয়ে গর্ত ভরাট করতে হবে৷ গর্ত ভরার ২০/২৫ দিন পর চারা রোপণ করতে হবে ৷
এক বছর বয়সের প্রতিটি গাছে ১০ কেজি গোবর সার ১২৫ গ্রাম ইউরিয়া ১২৫ গ্রাম ট্রিপুল সুপার ফসফেট ও ১২৫ গ্রাম মিউরেট অব পটাশ সার প্রয়োগ করতে হবে এবং প্রতি বছর সারের মাত্রা কিছু কিছু বাড়াতে হবে এভাবে একটি পূর্ণ বয়স্ক গাছের সারের মাত্রা হবে ৬০ কেজি গোবর সার, ১.৫ কেজি ইউরিয়া, ১.৫ কেজি ট্রিপল সুপার ফসফেট ও ১.৫ কেজি মিউরেট অব পটাশ। উপরোক্ত পরিমাণ সার দুভাগে ভাগ করে একভাগ জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে ও আরেক ভাগ আশ্বিন-কার্তিক মাসে গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করতে হবে।
আগাছা দমনঃ ডালিমের চাষাবাদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া একান্ত প্রয়োজন। ডালিম গাছের গোড়ায় যেন কোন আগাছা লেগে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এজন্য নিয়মিতভাবে আগাছা পরিষ্কার করতে হবে।
পানি সেচ ও নিষ্কাশনঃ ফলন্ত গাছে নিয়মিত হাল্কা সেচ দিতে হবে। গাছের গোড়ার মাটি কখনই বেশি শুকনো বা পানি জমে থাকবে না। ছোট অবস্থায় ও সার প্রয়োগের পর মাটিতে পর্যাপ্ত রস না থাকলে অবশ্যই সেচ দিতে হবে।
ডাল ছাটাইঃ
ছাদের আনার গাছের ডাল নিয়মিত ছাটাই করতে হবে । আনার বা বেদানা গাছের পুরাতন ডালের নতুন শাখায় ফুল আসে । পুরাতন ডালে নতুন শাখা বের করার জন্যই ডাল পালা ছাটাই করা প্রয়োজন ।এ ছাড়াও আনার গাছের শিকড় থেকে বের হওয়া সাকারও ছেঁটে দেয়া দরকার ।
শিকড় ছাঁটাইঃ গাছে সারা বছরই ফুল ও ফল হয়৷ তবে বসন্তে ও বর্ষায় বেশি ফুল আসে৷ বসন্তের ফুল থেকে গ্রীষ্মকালে ফল পাওয়া যায় এবং এর গুণাগুণ খুবই নিম্নমানের হয়ে থাকে৷ কিন্তু বর্ষার ফুল থেকে প্রাপ্ত ফল অক্টোবর-নভেম্বরে সংগ্রহ করা হয় যার গুণগত মান খুবই ভাল হয়৷ তাই গাছকে বর্ষায় ফুল আসতে বাধ্য করার জন্য মার্চ-এপ্রিল মাসে ১৫সেমি.গভীর করে মাটি খুঁড়ে শিকড়গুলোকে ১৫ দিন উন্মুক্ত করে রাখা হয় এবং পরে জৈব সারসহ মাটি চাপা দিয়ে সেচ দিতে হবে৷
বিশেষ পরিচর্যাঃ ডালিম গাছে সারা বছরই কিছু না কিছু ফুল আসে। তবে সব সময়ের ফুল থেকে ফল উৎপন্ন হয় না। বসন্তকালে যে ফুল হয় সেই ফুল থেকে গ্রীষ্মকালের ফল হয় যদিও এই ফলের মান খুব একটা ভালো হয় না। বর্ষার শুরুতে যে ফুল আসে এবং সেই ফুল থেকে যে ফল হয় তা কার্তিক অগ্রহায়ণ মাসে সংগ্রহের উপযুক্ত হয় এবং এ ফলের মান বেশ ভালো হয়। তাই বর্ষার শুরুতে ফুল আনার জন্য পৌষ মাস থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত গাছের বিশেষ পরিচর্যা নিতে হয়। এই সময়ে গাছে পানির সেচ দেয়া বন্ধ রাখতে হয় ফলে গাছের বৃদ্ধি বন্ধ থাকে। চৈত্র মাসে গাছে সেচ দিতে হয় এবং কোদাল দিয়ে কুপিয়ে গাছের গোড়ার মাটি আল্গা করে দিতে হয়। চৈত্র মাসে গাছের পাতা ঝরে যায় ও বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত গাছ ঘুমন্ত অবস্থায় থাকে। বর্ষা শুরু হওয়ার আগে দু-একটা সেচ দিলে ভালো হয়। বর্ষা শুরু হওয়ার সাথে সাথে গাছের বদ্ধি ও ফুল ফল ধারণ শুরু হয় এবং কার্তিক অগ্রহায়ণ মাসে এই ফল সংগ্রহের উপযুক্ত হয়।

ডালিমের রোগবালাই তার প্রতিকারঃ
ডালিমের প্রজাপতি বা ফলছিদ্রকারী পোকাঃ ডালিম ফলের মারাত্মক শত্রু হচ্ছে ডালিমের প্রজাপতি বা ফলছিদ্রকারী পোকা। এই প্রজাতির শূঁককীট ফলের ক্ষতি করে থাকে। স্ত্রী প্রজাপতি ফুলের বৃস্তৃতি ও ছোট ফলের ওপর ডিম পাড়ে। ডিম থেকে শূঁককীট বের হয়ে বর্ধনশীল ফলে ছিদ্র করে ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং ফলের বীজ ও অন্যান্য অংশ খেয়ে ফেলে। পরে মূককীটে পরিণত হওয়ার পূর্বে ফলের ত্বকে গোলাকার ছিদ্র করে ফল থেকে বের হয়ে আসে। এই পোকায় আক্রান্ত ফলে মাধ্যমিক সংক্রমণ হিসেবে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ হতে পারে।
প্রতিকারঃ আক্রান্ত ফল গাছ থেকে পেড়ে বা মাটিতে পড়ে থাকা ফল কুড়িয়ে নষ্ট করে ফেলতে হবে। গাছে ফলধারণের পর ফলের বৃদ্ধি শুরু হলে কাপড় বা পলিথিন বা বাটার কাগজ দিয়ে বৃদ্ধিমান ফল ব্যাগিং করে দিলে এ পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
প্রতি লিটার পানিতে এক মিলিলিটার হারে ম্যালাথিয়ন বা কার্বরিল বা ফস্ফামিডন গ্রুপের কীটনাশক দিয়ে ১৫ দিন অন্তর অন্তর গাছে ও ফলে সেপ্র করতে হবে।
কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকাঃ কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা সাধারণত পরিচর্যাবিহীন গাছে আক্রমণ করে থাকে। এই পোকার শূঁককীট রাতের বেলা কাণ্ড ও শাখার ছাল ছিদ্র করে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ভেতরের অংশ খেতে থাকে। দিনের বেলা ডালের গর্তের মধ্যে এরা লুকিয়ে থাকে ও বর্জ্য পদার্থ ত্যাগ করে। কাণ্ড বা শাখায় ছোট ছোট ছিদ্র বা বর্জ্য পদার্থ দেখে এ পোকার আক্রমণ লক্ষ করা যায়।
প্রতিকারঃ গর্তের মধ্যে সরু তার ঢুকিয়ে পোকার কীড়াকে খুঁচিয়ে মারার ব্যবস্থা করতে হবে।
গর্ত থেকে এ পোকার কীড়ার বর্জ্য পদার্থ পরিষ্কার করে গর্তে ইনজেকশনের সিরিঞ্জ বা তুলার সাহায্যে কেরোসিন বা পেট্রোল ঢুকিয়ে কাদা দিয়ে গর্ত বন্ধ করে দিলে পোকা মারা যাবে।
রস শোষণকারী পোকাঃ ছাতা পোকা, সাদা মাছি, শুল্ক বা আঁশ পোকা, থ্রিপস, জাব পোকা ও মাকড় ডালিমের রস শোষণকারী পোকা হিসেবে চিহ্নিত। এসব পোকার আক্রমণে পাতা, মুকুল, ফুল ও ছোট ফল খসে পড়ে। সাদা মাছি ও জাব পোকা পাতা ও কচি ডগার রস চুসে খায় ফলে আক্রান্ত অংশ বিবর্ণ ও বিকৃত হয়ে যায়। এছাড়া এসব পোকা দেহ থেকে এক ধরনের মধু নিঃসৃত করে যা পাতায় লেগে থাকে। পরে পাতার গায়ে এই নিঃসৃত মধুর ওপর এক প্রকার ছত্রাক জন্মায়। ফলে গাছের খাদ্য তৈরি প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়। মাকড় ও থ্রিপস পোকা পাতা, ফুলের বোঁটা, বৃতি ও দলমণ্ডলে ক্ষত করে এবং ক্ষত থেকে বের হওয়া কোষরস খায়। ফলে পাতার আগা কুঁকড়ে যায় এবং ফুল ঝরে যাওয়ায় ফলধারণ বিঘ্নিত হয়।
প্রতিকারঃ ছাতা পোকা ও শুল্ক পোকার কীট দমনের জন্য আক্রমণের প্রথম অবস্থায় আক্রান্ত অংশ কেটে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। এর পর প্রতি লিটার পানিতে এক মিলিলিটার হারে মনোক্রোটোফস বা ডায়াজিনন গ্রুপের কীটনাশক মিশিয়ে গাছে সেপ্র করতে হবে।
জাব পোকা বা সাদামাছি দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে এক মিলিলিটার হারে ডাইমিথয়েট বা আধা মিলিলিটার হারে ফসফামিডন বা ডায়াজিনন গ্রুপের কীটনাশক মিশিয়ে ১৫ দিন অন্তর অন্তর গাছে দুই বার সেপ্র করতে হবে।
মাকড় দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে এক মিলিলিটার হারে কেলথেন বা দুই গ্রাম হারে সালফার ছত্রাকনাশক মিশিয়ে গাছে সেপ্র করতে হবে।
ফলের দাগ রোগঃ এটি একটি ছত্রাকঘটিত রোগ। এ রেগে আক্রান্ত ফলের ওপর ছোট ও অনিয়মিত দাগ পড়ে। দাগগুলোর চারিদিকে সবুজ হলদে দাগ থাকে। পরবর্তীতে দাগগুলো লম্বা দাগে পরিণত হয় এবং ফলের খোসার নিচের বীজগুলো বাদামি বর্ণের হয়ে যায়। আক্রান্ত ফলের গুণাবলী নষ্ট হয়ে যায় এবং ফলের বাজার মূল্য কমে যায়।
প্রতিকারঃ রোগাক্রান্ত অংশ কেটে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
প্রতি লিটার পানিতে ২.৫ গ্রাম হারে মেনকোজেব বা ১ গ্রাম হারে কার্বান্ডিজম ছত্রাকনাশক গুলে ১০ দিন অন্তর অন্তর ৩-৪ বার ফলে ও গাছে ভালোভাবে সেপ্র করতে হবে।
ফল পচা রোগঃ ছত্রাকঘটিত এ রোগটি সাধারণত বর্ষাকালে দেখা যায়। এ রোগের জীবাণু দ্বারা ফুল আক্রান্ত হলে ফলধারণ বিঘ্নিত হয় এবং কচি ফল ঝরে যায়। ফলের গায়ে, বিশেষ করে বোঁটায় হলদে বা কালো দাগ দেখে এ রোগের আক্রমণ বোঝা যায়। এরোগের আক্রমণে ফলের খোসা কুঁচকে যায় ও ফলের ওজন কমে যায়। আক্রান্ত ফল কাঁচা থাকে, আকার ছোট হয় ও ফলের চাকচিক্য নষ্ট হয়ে যায় এবং শেষে ফল নরম হয়ে পচে যায়।
প্রতিকারঃ এ রোগের প্রতিকার ফলের দাগ রোগের প্রতিকারের অনুরূপ।
ফল ফেটে যাওয়াঃ ডালিমের ফল ফেটে যাওয়া একটি মারাত্মক সমস্যা। এটি কোন ছত্রাকজনিত রোগ নয়। এটি সাধারণত পুষ্টি উপাদানের অভাবজনিত কারণে বা মাটিতে রসের তারতম্যের কারণে হয়ে থাকে। ফলের বৃদ্ধির সময় শুকনো আবহাওয়ায় মাটিতে রসের অভাব দেখা দিলে ফলের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং ফলের ত্বক শক্ত হয়ে যায়। এরপর হঠাৎ বৃষ্টি হলে মাটিতে রসের আধিক্য ঘটে, ফলে ফলের ভেতরের অংশ দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পায় এতে ভেতরের চাপ সহ্য করতে না পেরে ফলের খোসা ফেটে যায়।
প্রতিকারঃ ফলধারণের পর থেকে ডালিম গাছে ঘন ঘন পানি সেচ দিতে হবে।
মাটিতে বোরনজনিত সার যেমন বোরিক এসিড গাছপ্রতি ৪০ গ্রাম হারে মাটিতে প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া ফলের বৃদ্ধির সময় প্রতি লিটার পানিতে পাঁচ গ্রাম হারে বোরিক এসিড এর মিশ্রণ ১০ দিন অন্তর অন্তর ফলে ও গাছে সেপ্র করতে হবে।
ডালিমের যেসব জাতে ফল ফাটা সমস্যা নেই সেসব জাত চাষাবাদ করতে হবে।
ফল সংগ্রহঃ কলমের গাছে ৩-৪ বছর থেকেই ফলন শুরু হয়। ফুল আসার পর থেকে ফল পাকা পর্যন্ত ৬ মাস সময় লাগে। পুষ্ট ফলের খোসার রঙ হলদে-বাদামি হয়ে এলেই ফল পাড়ার উপযুক্ত হয়। গাছে ফল বেশি দিন রেখে দিলে ফল ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফল ফেটে যাওয়া জাতের ওপর নির্ভরশীল। যেসব গাছে ফল ফেটে যাওয়ার প্রবণতা থাকে সেসব গাছের ফল পুষ্ট হওয়ার কিছু আগেই পেড়ে নিতে হয়। তবে অপুষ্ট ফলের স্বাদ ও গুণাগুণ খুব একটা ভালো হয় না। ডালিমের খোসা বেশ শক্ত এজন্য পাকা ফল অনেক দিন সংরক্ষণ করা যায় এবং পরিবহনেও নষ্ট হয় না।
ফলনঃ ডালিম গাছ চার-পাঁচ বছর বয়স থেকে ফল দিতে শুরু করে। তবে শুরুর দিকে ফলন তেমন একটা আশানুরূপ হয় না। সাধারণত ৮-১০ বছর বয়স থেকে ডালিম গাছ ভালো ফলন দিয়ে থাকে। প্রথম ফল ধরার সময় গাছপ্রতি ২০-২৫টির বেশি ফল পাওয়া যায় না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ফলন বাড়তে থাকে। দশ বছর বয়সের গাছে গড়ে ১০০-১৫০ টি ফল ধরে। তবে ভালো পরিচর্যা নিলে গাছপ্রতি ২০০-২৫০টি ফল পাওয়া যেতে পারে। একটি ডালিম গাছ ত্রিশ বছর পর্যন্ত লাভজনক ফলন দিয়ে থাকে।
ডালিমের উন্নত জাতই হল আনার বা বেদানা । আনার বা বেদানা খুবই মিষ্টি এবং সুস্বাদু একটি ফল । বাংলাদেশের মাটি বেদানা চাষের উপযোগী । এ কারণেই বাংলাদেশের বসতবাটির আঙ্গিনায় এর চাষ পরিলক্ষিত হয় । আনার বা বেদানা একটি পুষ্টিকর ফল। আনার দিয়ে কবিরাজরা বিভিন্ন ধরনের ঔষধ তৈরী করে থাকে । নিয়মিত যত্ন নিলে আনার গাছ থেকে সারা বছর ফল পাওয়া যায় । ছাদে টবে বা ড্রামে খুব সহজেই আনার বা বেদানার চাষ করা যায় ।
বেদানার চাষ পদ্ধতিঃ
ছাদে আনার বা বেদানার চারা লাগানোর জন্য ২০ ইঞ্চি কালার ড্রাম বা টব সংগ্রহ করতে হবে । ড্রামের তলায় ৩-৫ টি ছিদ্র করে নিতে হবে । যাতে গাছের গোড়ায় পানি জমে না থাকে । টব বা ড্রামের তলার ছিদ্রগুলো ইটের ছোট ছোট টুকরা দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে । টব বা ড্রামের গাছটিকে ছাদের এমন জায়গায় রাখতে হবে যেখানে সবসময় রোদ থাকে । এবার ২ ভাগ বেলে দোআঁশ মাটি, ১ ভাগ গোবর, ৪০-৫০ গ্রাম টি,এস,পি সার, ৪০-৫০ গ্রাম পটাশ সার,এবং ২০০ গ্রাম হাড়ের গুড়া একত্রে মিশিয়ে ড্রাম বা টবে পানি দিয়ে রেখে দিতে হবে ১০-১২ দিন । অতঃপর মাটি কিছুটা খুচিয়ে দিয়ে আবার ৪-৫ দিন একইভাবে রেখে দিতে হবে । মাটি যখন ঝুরঝুরে হবে তখন একটি সবল সুস্থ কলমের চারা উক্ত টবে রোপন করতে হবে । চারা রোপনের সময় খেয়াল রাখতে হবে গাছের গোড়া যেন মাটি থেকে আলাদা না হয়ে যায় । চারা গাছটিকে সোজা করে লাগাতে হবে । সেই সাথে গাছের গোড়ায় মাটি কিছুটা উচু করে দিতে হবে এবং মাটি হাত দিয়ে চেপে চেপে দিতে হবে । যাতে গাছের গোড়া দিয়ে বেশী পানি না ঢুকতে পারে । একটি সোজা কাঠি দিয়ে গাছটিকে বেধে দিতে হবে । চারা লাগানোর পর প্রথমদিকে পানি কম দিতে হবে । আস্তে আস্তে পানি বাড়াতে হবে । লক্ষ্য রাখতে হবে যেন গাছের গোড়ায় পানি জমে না থাকে আবার বেশী শুকিয়েও না যায় ।
অন্যান্য পরিচর্যাঃ
আনার বা বেদানা গাছের চারা লাগানোর ৪/৫ মাস পর থেকে নিয়মিত ২৫-৩০ দিন অন্তর অন্তর সরিষার খৈল পচা পানি প্রয়োগ করতে হবে । সরিষার খৈল ১০ দিন পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে । তারপর সেই পচা খৈলের পানি পাতলা করে গাছের গোড়ায় দিতে হবে । ১ বছর পর টবের আংশিক মাটি পরিবর্তন করে দিতে হবে । ২ ইঞ্চি প্রস্থে এবং ৬ ইঞ্চি গভীরে শিকরসহ মাটি ফেলে দিয়ে নতুন সার মিশ্রিত মাটি দিয়ে তা ভরে দিতে হবে । মাটি পরিবর্তনের এই কাজটি সাধারণতঃ বর্ষার শেষ এবং শীতের আগে করলেই ভাল হয় । ১০-১৫ দিন অন্তর অন্তর টব বা ড্রামের মাটি কিছুটা খুঁচিয়ে দিতে হবে ।
গাছে সার প্রয়োগঃ চারা লাগানোর আগে গর্তে সার প্রয়োগ ছাড়াও প্রতি বছর গাছে নিয়মিত সার প্রয়োগ করতে হবে। গর্ত করার ৮-১০ দিন পর গর্তের মাটির সাথে নিম্নলিখিত হারে সার মিশিয়ে গর্ত ভরাট করতে হবে৷ গর্ত ভরার ২০/২৫ দিন পর চারা রোপণ করতে হবে ৷
| সারের নাম | পরিমাণ/গর্ত |
| কমপোস্টের গুঁড়া | ৫০০ গ্রাম |
| ইউরিয়া | ১৫০ গ্রাম |
| টিএসপি | ১০০ গ্রাম |
| এমপি | ১০০ গ্রাম |
| জিপসাম | ৭০ গ্রাম |
এক বছর বয়সের প্রতিটি গাছে ১০ কেজি গোবর সার ১২৫ গ্রাম ইউরিয়া ১২৫ গ্রাম ট্রিপুল সুপার ফসফেট ও ১২৫ গ্রাম মিউরেট অব পটাশ সার প্রয়োগ করতে হবে এবং প্রতি বছর সারের মাত্রা কিছু কিছু বাড়াতে হবে এভাবে একটি পূর্ণ বয়স্ক গাছের সারের মাত্রা হবে ৬০ কেজি গোবর সার, ১.৫ কেজি ইউরিয়া, ১.৫ কেজি ট্রিপল সুপার ফসফেট ও ১.৫ কেজি মিউরেট অব পটাশ। উপরোক্ত পরিমাণ সার দুভাগে ভাগ করে একভাগ জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে ও আরেক ভাগ আশ্বিন-কার্তিক মাসে গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করতে হবে।
আগাছা দমনঃ ডালিমের চাষাবাদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া একান্ত প্রয়োজন। ডালিম গাছের গোড়ায় যেন কোন আগাছা লেগে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এজন্য নিয়মিতভাবে আগাছা পরিষ্কার করতে হবে।
পানি সেচ ও নিষ্কাশনঃ ফলন্ত গাছে নিয়মিত হাল্কা সেচ দিতে হবে। গাছের গোড়ার মাটি কখনই বেশি শুকনো বা পানি জমে থাকবে না। ছোট অবস্থায় ও সার প্রয়োগের পর মাটিতে পর্যাপ্ত রস না থাকলে অবশ্যই সেচ দিতে হবে।
ডাল ছাটাইঃ
ছাদের আনার গাছের ডাল নিয়মিত ছাটাই করতে হবে । আনার বা বেদানা গাছের পুরাতন ডালের নতুন শাখায় ফুল আসে । পুরাতন ডালে নতুন শাখা বের করার জন্যই ডাল পালা ছাটাই করা প্রয়োজন ।এ ছাড়াও আনার গাছের শিকড় থেকে বের হওয়া সাকারও ছেঁটে দেয়া দরকার ।
শিকড় ছাঁটাইঃ গাছে সারা বছরই ফুল ও ফল হয়৷ তবে বসন্তে ও বর্ষায় বেশি ফুল আসে৷ বসন্তের ফুল থেকে গ্রীষ্মকালে ফল পাওয়া যায় এবং এর গুণাগুণ খুবই নিম্নমানের হয়ে থাকে৷ কিন্তু বর্ষার ফুল থেকে প্রাপ্ত ফল অক্টোবর-নভেম্বরে সংগ্রহ করা হয় যার গুণগত মান খুবই ভাল হয়৷ তাই গাছকে বর্ষায় ফুল আসতে বাধ্য করার জন্য মার্চ-এপ্রিল মাসে ১৫সেমি.গভীর করে মাটি খুঁড়ে শিকড়গুলোকে ১৫ দিন উন্মুক্ত করে রাখা হয় এবং পরে জৈব সারসহ মাটি চাপা দিয়ে সেচ দিতে হবে৷
বিশেষ পরিচর্যাঃ ডালিম গাছে সারা বছরই কিছু না কিছু ফুল আসে। তবে সব সময়ের ফুল থেকে ফল উৎপন্ন হয় না। বসন্তকালে যে ফুল হয় সেই ফুল থেকে গ্রীষ্মকালের ফল হয় যদিও এই ফলের মান খুব একটা ভালো হয় না। বর্ষার শুরুতে যে ফুল আসে এবং সেই ফুল থেকে যে ফল হয় তা কার্তিক অগ্রহায়ণ মাসে সংগ্রহের উপযুক্ত হয় এবং এ ফলের মান বেশ ভালো হয়। তাই বর্ষার শুরুতে ফুল আনার জন্য পৌষ মাস থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত গাছের বিশেষ পরিচর্যা নিতে হয়। এই সময়ে গাছে পানির সেচ দেয়া বন্ধ রাখতে হয় ফলে গাছের বৃদ্ধি বন্ধ থাকে। চৈত্র মাসে গাছে সেচ দিতে হয় এবং কোদাল দিয়ে কুপিয়ে গাছের গোড়ার মাটি আল্গা করে দিতে হয়। চৈত্র মাসে গাছের পাতা ঝরে যায় ও বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত গাছ ঘুমন্ত অবস্থায় থাকে। বর্ষা শুরু হওয়ার আগে দু-একটা সেচ দিলে ভালো হয়। বর্ষা শুরু হওয়ার সাথে সাথে গাছের বদ্ধি ও ফুল ফল ধারণ শুরু হয় এবং কার্তিক অগ্রহায়ণ মাসে এই ফল সংগ্রহের উপযুক্ত হয়।
ডালিমের রোগবালাই তার প্রতিকারঃ
ডালিমের প্রজাপতি বা ফলছিদ্রকারী পোকাঃ ডালিম ফলের মারাত্মক শত্রু হচ্ছে ডালিমের প্রজাপতি বা ফলছিদ্রকারী পোকা। এই প্রজাতির শূঁককীট ফলের ক্ষতি করে থাকে। স্ত্রী প্রজাপতি ফুলের বৃস্তৃতি ও ছোট ফলের ওপর ডিম পাড়ে। ডিম থেকে শূঁককীট বের হয়ে বর্ধনশীল ফলে ছিদ্র করে ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং ফলের বীজ ও অন্যান্য অংশ খেয়ে ফেলে। পরে মূককীটে পরিণত হওয়ার পূর্বে ফলের ত্বকে গোলাকার ছিদ্র করে ফল থেকে বের হয়ে আসে। এই পোকায় আক্রান্ত ফলে মাধ্যমিক সংক্রমণ হিসেবে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ হতে পারে।
প্রতিকারঃ আক্রান্ত ফল গাছ থেকে পেড়ে বা মাটিতে পড়ে থাকা ফল কুড়িয়ে নষ্ট করে ফেলতে হবে। গাছে ফলধারণের পর ফলের বৃদ্ধি শুরু হলে কাপড় বা পলিথিন বা বাটার কাগজ দিয়ে বৃদ্ধিমান ফল ব্যাগিং করে দিলে এ পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
প্রতি লিটার পানিতে এক মিলিলিটার হারে ম্যালাথিয়ন বা কার্বরিল বা ফস্ফামিডন গ্রুপের কীটনাশক দিয়ে ১৫ দিন অন্তর অন্তর গাছে ও ফলে সেপ্র করতে হবে।
কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকাঃ কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা সাধারণত পরিচর্যাবিহীন গাছে আক্রমণ করে থাকে। এই পোকার শূঁককীট রাতের বেলা কাণ্ড ও শাখার ছাল ছিদ্র করে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ভেতরের অংশ খেতে থাকে। দিনের বেলা ডালের গর্তের মধ্যে এরা লুকিয়ে থাকে ও বর্জ্য পদার্থ ত্যাগ করে। কাণ্ড বা শাখায় ছোট ছোট ছিদ্র বা বর্জ্য পদার্থ দেখে এ পোকার আক্রমণ লক্ষ করা যায়।
প্রতিকারঃ গর্তের মধ্যে সরু তার ঢুকিয়ে পোকার কীড়াকে খুঁচিয়ে মারার ব্যবস্থা করতে হবে।
গর্ত থেকে এ পোকার কীড়ার বর্জ্য পদার্থ পরিষ্কার করে গর্তে ইনজেকশনের সিরিঞ্জ বা তুলার সাহায্যে কেরোসিন বা পেট্রোল ঢুকিয়ে কাদা দিয়ে গর্ত বন্ধ করে দিলে পোকা মারা যাবে।
রস শোষণকারী পোকাঃ ছাতা পোকা, সাদা মাছি, শুল্ক বা আঁশ পোকা, থ্রিপস, জাব পোকা ও মাকড় ডালিমের রস শোষণকারী পোকা হিসেবে চিহ্নিত। এসব পোকার আক্রমণে পাতা, মুকুল, ফুল ও ছোট ফল খসে পড়ে। সাদা মাছি ও জাব পোকা পাতা ও কচি ডগার রস চুসে খায় ফলে আক্রান্ত অংশ বিবর্ণ ও বিকৃত হয়ে যায়। এছাড়া এসব পোকা দেহ থেকে এক ধরনের মধু নিঃসৃত করে যা পাতায় লেগে থাকে। পরে পাতার গায়ে এই নিঃসৃত মধুর ওপর এক প্রকার ছত্রাক জন্মায়। ফলে গাছের খাদ্য তৈরি প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়। মাকড় ও থ্রিপস পোকা পাতা, ফুলের বোঁটা, বৃতি ও দলমণ্ডলে ক্ষত করে এবং ক্ষত থেকে বের হওয়া কোষরস খায়। ফলে পাতার আগা কুঁকড়ে যায় এবং ফুল ঝরে যাওয়ায় ফলধারণ বিঘ্নিত হয়।
প্রতিকারঃ ছাতা পোকা ও শুল্ক পোকার কীট দমনের জন্য আক্রমণের প্রথম অবস্থায় আক্রান্ত অংশ কেটে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। এর পর প্রতি লিটার পানিতে এক মিলিলিটার হারে মনোক্রোটোফস বা ডায়াজিনন গ্রুপের কীটনাশক মিশিয়ে গাছে সেপ্র করতে হবে।
জাব পোকা বা সাদামাছি দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে এক মিলিলিটার হারে ডাইমিথয়েট বা আধা মিলিলিটার হারে ফসফামিডন বা ডায়াজিনন গ্রুপের কীটনাশক মিশিয়ে ১৫ দিন অন্তর অন্তর গাছে দুই বার সেপ্র করতে হবে।
মাকড় দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে এক মিলিলিটার হারে কেলথেন বা দুই গ্রাম হারে সালফার ছত্রাকনাশক মিশিয়ে গাছে সেপ্র করতে হবে।
ফলের দাগ রোগঃ এটি একটি ছত্রাকঘটিত রোগ। এ রেগে আক্রান্ত ফলের ওপর ছোট ও অনিয়মিত দাগ পড়ে। দাগগুলোর চারিদিকে সবুজ হলদে দাগ থাকে। পরবর্তীতে দাগগুলো লম্বা দাগে পরিণত হয় এবং ফলের খোসার নিচের বীজগুলো বাদামি বর্ণের হয়ে যায়। আক্রান্ত ফলের গুণাবলী নষ্ট হয়ে যায় এবং ফলের বাজার মূল্য কমে যায়।
প্রতিকারঃ রোগাক্রান্ত অংশ কেটে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
প্রতি লিটার পানিতে ২.৫ গ্রাম হারে মেনকোজেব বা ১ গ্রাম হারে কার্বান্ডিজম ছত্রাকনাশক গুলে ১০ দিন অন্তর অন্তর ৩-৪ বার ফলে ও গাছে ভালোভাবে সেপ্র করতে হবে।
ফল পচা রোগঃ ছত্রাকঘটিত এ রোগটি সাধারণত বর্ষাকালে দেখা যায়। এ রোগের জীবাণু দ্বারা ফুল আক্রান্ত হলে ফলধারণ বিঘ্নিত হয় এবং কচি ফল ঝরে যায়। ফলের গায়ে, বিশেষ করে বোঁটায় হলদে বা কালো দাগ দেখে এ রোগের আক্রমণ বোঝা যায়। এরোগের আক্রমণে ফলের খোসা কুঁচকে যায় ও ফলের ওজন কমে যায়। আক্রান্ত ফল কাঁচা থাকে, আকার ছোট হয় ও ফলের চাকচিক্য নষ্ট হয়ে যায় এবং শেষে ফল নরম হয়ে পচে যায়।
প্রতিকারঃ এ রোগের প্রতিকার ফলের দাগ রোগের প্রতিকারের অনুরূপ।
ফল ফেটে যাওয়াঃ ডালিমের ফল ফেটে যাওয়া একটি মারাত্মক সমস্যা। এটি কোন ছত্রাকজনিত রোগ নয়। এটি সাধারণত পুষ্টি উপাদানের অভাবজনিত কারণে বা মাটিতে রসের তারতম্যের কারণে হয়ে থাকে। ফলের বৃদ্ধির সময় শুকনো আবহাওয়ায় মাটিতে রসের অভাব দেখা দিলে ফলের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং ফলের ত্বক শক্ত হয়ে যায়। এরপর হঠাৎ বৃষ্টি হলে মাটিতে রসের আধিক্য ঘটে, ফলে ফলের ভেতরের অংশ দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পায় এতে ভেতরের চাপ সহ্য করতে না পেরে ফলের খোসা ফেটে যায়।
প্রতিকারঃ ফলধারণের পর থেকে ডালিম গাছে ঘন ঘন পানি সেচ দিতে হবে।
মাটিতে বোরনজনিত সার যেমন বোরিক এসিড গাছপ্রতি ৪০ গ্রাম হারে মাটিতে প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া ফলের বৃদ্ধির সময় প্রতি লিটার পানিতে পাঁচ গ্রাম হারে বোরিক এসিড এর মিশ্রণ ১০ দিন অন্তর অন্তর ফলে ও গাছে সেপ্র করতে হবে।
ডালিমের যেসব জাতে ফল ফাটা সমস্যা নেই সেসব জাত চাষাবাদ করতে হবে।
ফল সংগ্রহঃ কলমের গাছে ৩-৪ বছর থেকেই ফলন শুরু হয়। ফুল আসার পর থেকে ফল পাকা পর্যন্ত ৬ মাস সময় লাগে। পুষ্ট ফলের খোসার রঙ হলদে-বাদামি হয়ে এলেই ফল পাড়ার উপযুক্ত হয়। গাছে ফল বেশি দিন রেখে দিলে ফল ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফল ফেটে যাওয়া জাতের ওপর নির্ভরশীল। যেসব গাছে ফল ফেটে যাওয়ার প্রবণতা থাকে সেসব গাছের ফল পুষ্ট হওয়ার কিছু আগেই পেড়ে নিতে হয়। তবে অপুষ্ট ফলের স্বাদ ও গুণাগুণ খুব একটা ভালো হয় না। ডালিমের খোসা বেশ শক্ত এজন্য পাকা ফল অনেক দিন সংরক্ষণ করা যায় এবং পরিবহনেও নষ্ট হয় না।
ফলনঃ ডালিম গাছ চার-পাঁচ বছর বয়স থেকে ফল দিতে শুরু করে। তবে শুরুর দিকে ফলন তেমন একটা আশানুরূপ হয় না। সাধারণত ৮-১০ বছর বয়স থেকে ডালিম গাছ ভালো ফলন দিয়ে থাকে। প্রথম ফল ধরার সময় গাছপ্রতি ২০-২৫টির বেশি ফল পাওয়া যায় না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ফলন বাড়তে থাকে। দশ বছর বয়সের গাছে গড়ে ১০০-১৫০ টি ফল ধরে। তবে ভালো পরিচর্যা নিলে গাছপ্রতি ২০০-২৫০টি ফল পাওয়া যেতে পারে। একটি ডালিম গাছ ত্রিশ বছর পর্যন্ত লাভজনক ফলন দিয়ে থাকে।
Subscribe to:
Posts (Atom)