Tuesday, June 13, 2017

ছাদ বাগানে জামরুল চাষ

  • Share The Gag
  • ছাদ বাগানে জামরুল চাষ

    হঠাৎ করে কিনে শাড়ি-জামা পরা যায়, গাছ লাগানো যায় না। লাগানোর অন্তত দু-তিন সপ্তাহ আগে থেকে ভাবতে হয়, সে অনুযায়ী গর্ত করে গর্তে সার-মাটি ভরে রাখতে হয়। ছাদে বাগান এখন অনেকেই করছেন। তথ্য মতে, ঢাকায় প্রায় দেড় হাজার ছাদ বাগান রয়েছে। সেসব বাগানে নানা রকম ফল, ফুল ও বাহারি গাছ শোভা পাচ্ছে। তবে ছাদে লাগানোর জন্য ফুল ও বাহারি গাছের চেয়ে ফল ও সবজি লাগানো ভালো। বাজার থেকে যেসব ফল কিনছেন তা নানা রকম ক্ষতিকর রাসায়নিক দিয়ে পাকানো, যে সবজি কিনছেন তাতে পোকা মারার বিষ দেয়া। তাই ওতে স্বাস্খ্যঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। তাছাড়া ফল ও সবজি গাছ থেকে তোলার পরই তার ভিটামিন কমতে থাকে। তাই বিষমুক্ত টাটকা ফল ও সবজি পেতে হলে নিজের আঙিনাতেই একটা ছোট্ট বাগান গড়ে তুলতে হবে। বাড়িতে কোথাও ফাঁকা জায়গা না থাকলে খোলা ছাদটাকে এ কাজে ব্যবহার করতে পারেন। তাই ঝটপট পরিকল্পনা করে ফেলুন, এবার ছাদে কী কী গাছ লাগাবেন। ছাদে ভালো হয় এমন ফলের মধ্যে নানা জাতের জামরুল, করমচা, পেয়ারা, কাগজী লেবু, আম্রপালি আম, বারি আম ৪, ডালিম, কামরাঙ্গা, হাইব্রিড জলপাই, বাউকুল ও আপেল কুল, স্ট্রবেরি ইত্যাদি অন্যতম। এ বছর না হয় এ ১০টি ফল দিয়েই শুরু করুন আপনার ছাদে ফলবাগানের যাত্রা। শুরুটা হোক নানা জাতের রূপবতী জামরুল দিয়ে।
    জামরুলের আদি বাসভূমি আন্দামান-নিকোবর হলেও এখন আমাদের দেশী ফলে পরিণত হয়েছে। কাঁচাপাকা সব অবস্খাতেই জামরুল খাওয়া যায়। মৌসুমে জামরুল গাছে কয়েক দফায় জামরুল ধরে। ফলের গড়ন অনেকটা নাশপাতির মতো, সাদা মোমের মতো। তবে আজকাল লাল, সবুজ নানা রঙের জামরুলের জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। দেশী ছোট জাতের পানসে জামরুলের পাশাপাশি এখন দেশে এসেছে মিষ্টি ও বড় বড় জাতের জামরুল।
    সম্প্রতি দেশে এসেছে নতুন কিছু জামরুলের জাত। যেগুলো আকারে বড়, স্বাদেও মিষ্টি। থাইল্যান্ড থেকে এসব জাতের জামরুল এসেছে বলে একে সবাই বলছে থাই জামরুল।

    জাত বাছাই দেশী জামরুল:
    ফল আকারে ছোট, স্বাদে পানসে। তবে ফল ঝরে কম। দেশী জাতের জামরুলের বেশ কয়েক রঙের জামরুল দেখা যায়। লাল, গোলাপি, গোলাপি সবুজ ইত্যাদি রঙে দেশী জামরুলের কয়েকটি রকম আছে। গাছ বড় হওয়ায় ছাদে না লাগানোই ভালো।

    থাই জামরুল:
    থাই ভাষায় ছেম ফু পা, ফিলিপাইনে টামবিস, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় জামবু এয়ার নামের জামরুল বাংলাদেশে এসে হয়েছে থাই জামরুল। এ দেশে এখন কয়েক জাতের থাই জামরুল দেখা যাচ্ছে। এক জাতের থাই জামরুলের রঙ মোমের মতো সাদা, কিন্ত মুখের কাছে গোলাপি আভা। অন্য এক জাতের থাই জামরুলের রঙ সবুজাভ সাদা, অন্যটির রঙ দুধের মতো সাদা। আবার আরেক জাত আছে যেটার ফলের ওপর সাদা লম্বালম্বিভাবে গোলাপি আঁচড় আছে। আবার বড় লাল ফলও রয়েছে থাই জামরুলের। আছে ছোট থেকে বড় বিভিন্ন আকার। লাল রঙের থাই জামরুলের আকার তুলনামূলকভাবে ছোট। তবে সব জাতের সেরা বড় আকারে সাদা রঙের মিষ্টি থাই জামরুল। দশটিতে কেজি হয়। স্বাদে বেশ রসাল, নরম। গ্রীষ্মের প্রথম থেকে ফল ধরতে শুরু কর্ বর্ষাতেও ফল ধরে। বছরে দু-তিন দফায় ফল ধরে। তবে বর্ষার জামরুলের স্বাদ কম হয়। ফল গাছে বেশি পাকলে স্বাদ কমে যায়, চেহারা নষ্ট হয়ে যায় ও পচতে শুরু করে। বেশি বৃষ্টিতেও থাই জামরুলের ক্ষতি হয়।

    রোজ অ্যাপেল:
    থাই জামরুলের মধ্যে ‘রোজ আপেল’ সেরা। বছরে দু’বার ফল ধরে। ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে একবার, এপ্রিল-মে মাসে আরেকবার। ফল আকারে খুব বড়। পাঁচ-ছ’টা জামরুলে এক কেজি হয়। ভেতরে পুরোটাই শাঁস। অত্যধিক মিষ্টি, শাঁসে চিনি বা সুগারের পরিমাণ প্রায় ২৫%। রঙ টকটকে লাল। অন্য জামরুল যেমন পাকার পর পরই গাছ থেকে ঝরে পড়ে, এটা তেমন নয়।

    আপেল জামরুল (বারি জামরুল ১):
    বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত এ জাতটির গাছে নিয়মিত প্রতি বছর ফল ধরে। এ জাতের পাকা ফল দেখতে আকর্ষণীয়। ফলের রঙ মেরুণ বলে অনেকে একে আপেল জামরুল নামেও ডাকেন। খেতে সুস্বাদু, মধ্যম রসালো। ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে ফুল আসে এবং এপ্রিল-মে মাসে ফল পাকে। ফল বড়, প্রতিটি ফলের ওজন ৩৫ গ্রাম। এ জাতটি ছাদে ড্রামে লাগানোর জন্য বাছাই করতে পারেন।

    চাষ পদ্ধতি:
    আধুনিক জাতের জামরুলের গাছ হয় ঝোঁপালো ও খাটো। তাই এসব জাতের গাছ ছাদে হাফ ড্রামে লাগানো যেতে পারে। তবে বাড়ির আঙিনায় জায়গা থাকলে টব বা ড্রামের চেয়ে মাটিতে লাগানো ভালো। হাফ ড্রামে মে মাসের মধ্যেই দোঁয়াশ মাটি অর্ধেক ও অর্ধেক গোবর বা জৈব সার মিশিয়ে ভরতে হবে। সাথে প্রতিটি হাফ ড্রামে ১ কেজি কাঠের ছাই ও ৫০০ গ্রাম হাঁড়ের গুঁড়া, ২৫০ গ্রাম টিএসপি, ১৫০ গ্রাম এমওপি এবং ৫০ গ্রাম বোরণ সার মিশিয়ে দেবেন। তবে ড্রামের ওপরের কানা থেকে অন্তত দু ইঞ্চি খালি রেখে সারমাটি ভরবেন।
    মাটিতে লাগানো গাছ বাড়ে বেশি। একাধিক কলম লাগালে একটি কলম থেকে অন্য কলমর দূরত্ব দিতে হবে ৩-৪ মিটার। তবে বাগান করতে চাইলে সব দিকে সমান দূরত্ব দিয়ে কলম লাগাতে হবে। জুন-জুলাই মাস কলম রোপণের মোক্ষম সময়। নির্দিষ্ট জায়গায় সব দিকে আধা মিটার মাপ দিয়ে গর্ত করতে হবে। গর্তের মাটির সাথে মিশাতে হবে গর্ত প্রতি ১৫ কেজি গোবর সার, ১ কেজি কাঠের ছাই ও ৫০০ গ্রাম হাঁড়ের গুঁড়া। গর্তের মাঝখানে কলম লাগিয়ে গোড়ার মাটি চেপে দিতে হবে। কাঠি পুঁতে ঠেস দিতে হবে। লাগানোর পর হালকা সেচ ও শুকানোর সময় সেচ দিতে হবে। ছোট গাছে ও ফলবান গাছে প্রতি বর্ষার আগে রাসায়নিক সার দিলে উপকার পাওয়া যায়। ফলবান প্রতিটি গাছে বছরে ১০ কেজি গোবর সারের সাথে ৫০০ গ্রাম সরিষার খৈল, ১ কেজি ইউরিয়া, ৫০০ গ্রাম এমওপি ও ৫০০ গ্রাম টিএসপি সার গোড়া থেকে একটু দূরে চার দিকের মাটি নিড়িয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। এসব ঝামেলা মনে হলে ছাদ বাগানে ড্রামের গাছে গাছ প্রতি ৪-৮টি ট্যাবলেট সার গাছের গোড়ার মাটিতে পুঁতে দিয়ে বছর ভর উপকার পেতে পারেন।

    ছাদে মিষ্টি তেঁতুলের চাষ পদ্ধতি

  • Share The Gag
  • ছাদে মিষ্টি তেঁতুলের চাষ পদ্ধতি

    থাই মিষ্টি তেতুল (Thai Sweet Tamarind ): দ্রুত বাড়ছে মানুষ বাড়ছে বড় বড় দালান কোঠা ।দিন দিন ভরে যাচ্ছে ফসলের ক্ষেত বা ফলের বাগান করার জায়গাগুলি । এক টুকরা জায়গাও আর ফাকা থাকছে না গাছ লাগানোর জন্য । এ ক্ষেত্রে বাড়ির ছাদ কিংবা বেলকনিই একমাত্র ভরসা । শহরের মানুষের জন্য ছাদে বাগানের কোন বিকল্প নেই । গাছ ভালবাসে না এমন মানুষ খুজে পাওয়া যাবে না । কিন্তু অনেক সময় ইচ্ছা থাকার পরও জায়গার অভাবে গাছ লাগানো সম্ভব হয়ে উঠে না । তবে সদিচ্ছা থাকলে একটুকরা ছাদ কিংবা একটু বেলকনিতেও দু চারটা ফলের গাছ বা কয়েকটা শাকসব্জির গাছ লাগিয়ে একদিকে যেমন শখ মিটানো যায় তেমনি কিছু টাটকা শাকসব্জি খাওয়া যায় । আর ছাদে যে শুধু কিছু শাক সবজি , লেবু , পেয়ারা জাতীয় কিছু ফল হচ্ছে তা কিন্তু নয় । বর্তমানে ছাদে দেশী ফলের পাশাপাশি বেশ কিছু বিদেশী ফলও বেশ সুনাম অর্জন করেছে । তন্মধ্যে থাই মিষ্টি তেতুল (Thai Sweet Tamarind ), থাই মিষ্টি কামরাংগা ( Thai Sweet Star Fruits ), থাই জাম্বুরা ( Thai Grape Fruits ) , থাই পেয়ারা ( Thai Guava ), রাম্বুটান ( Rambutan ) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য । তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সঠিক গাছ চিনা সম্ভব হয় না বলে ঠকতে হয় । আজ আমি প্রথমে থাই মিষ্টি তেতুল নিয়ে কয়েকটি কথা লেখব বলে আশা করছি। অরিজিন্যাল থাই মিষ্টি তেতুলের কলমের চারা পাওয়া খুব দুষ্কর । আর পাওয়া গেলেও তা মিষ্টি তেতুল কিনা তাতে যথেষ্ট সন্দেহ আছে । আবার নার্সারীগুলোতে মিষ্টি তেতুলের বীজের চারা পাওয়া যায় প্রচুর। কিন্তু টবে তেতুলের বীজের চারা লাগালে তা থেকে কতটুকু ভাল ফল পাওয়া যাবে তা সহজেই অনুমান করা যায়। আমি আমার ছাদে বাগানের অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি এ থেকে কখনও ভাল ফল পাওয়া যায় না। ঐ বীজের চারা যদি মিষ্টি তেতুলের বীজ থেকেও হয় তবুও সেই গাছের ফল মিষ্টি হবে কিনা সে ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

    থাই মিষ্টি তেতুলের (Thai Sweet Tamarind ) ফুল থেকে শুরু করে ফল পাকা পর্যন্ত মোট প্রায় সাত মাস সময় নিয়ে থাকে এবং একবার গাছে ফল থাকা অবস্থাতেই পুনরায় ফুল আসে । সে হিসেবে বছরে মোট দুইবার ফল পাওয়া যায় । একবার বর্ষাকালে এবং আরেকবার শীতকালে । ছাদে এর চাষের জন্য বাড়তি কোন যত্নের প্রয়োজন হয় না । অন্যান্য টবের গাছের মত সাধারণ যত্ন নিলেই ভাল ফল পাওয়া যায়।

    কিভাবে থাই তেতুলের গাছ লাগাবেনঃ দুইভাগ দো-আঁশ / বেলে দো-আঁশ মাটির সংগে এক ভাগ গোবর, ১০০ গ্রাম টি, এস, পি, ১০০ গ্রাম পটাশ, ২৫০ গ্রাম হাড়ের গুড়া এবং ৫০ গ্রাম সরিষার খৈল একত্রে মিশিয়ে একটি কমপক্ষে ২০ ইঞ্চি বড় টব বা হাফ ড্রামে পানি মিশিয়ে রেখে দিন । ১০-১২ দিন পর মাটি খুচিয়ে রেখ দিন আর্ও ৪-৫ দিন । তারপর একটি ভাল কলমের চারা উক্ত টবে লাগান । তবে চারাটি অবশ্যই কলমের ( Grafting ) কিনা এবং থাই মিষ্টি তেতুলের ( Thai Sweet Tamarind ) কিনা তা নিশ্চিত হয়ে লাগাবেন । বীজের চারা টবে লাগিয়ে অযথা দুই-তিন বছর সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছুই লাভ হবে না । যদিওবা বীজের চারাতে ফল আসে সেই ফল পুষ্ট হবে না এবং মিষ্টি তেতুলের গুণাগুণ পাওয়া যায় না । পরিচর্যাঃ থাই মিষ্টি তেতুলের চারা গাছ লাগানোর পর প্রথম ছয় মাস তেমন কোন যত্ন নিতে হবে না । পরিমিত পানি এবং আগাছা পরিষ্কার করলেই চলবে । ছয় মাস পর থেকে প্রতিমাস অন্তর অন্তর সরিষার খৈল মিশ্রিত পচা পানি দিতে হবে । খৈল এর পানি দেওয়ার পূর্বে মাটি খুচিয়ে নিলে ভাল হয় ।

    রোগজীবাণু ও পোকামাকড়ঃ থাই মিষ্টি তেতুলে সাধারণতঃ পোকামাকড় আক্রমন করে না । তবে বর্ষাকালে তেতুল ফলে ছত্রাক আক্রান্ত করতে দেখা যায় । তাতে তেতুল ফল ফেটে যাবার আশংকা থাকে । কাজেই বর্ষাকাল আসার আগেই যদি ১০ দিন অন্তর অন্তর কয়েকবার একটি ভাল ছত্রাক নাশক ঔষধ স্প্রে করা যায় তাহলে এই সমস্যা থাকে না ।

    ছাদে বাগানের জন্য করনীয়

  • Share The Gag


  • ছাদে বাগান : প্রারম্ভে করনীয়



    বর্তমানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বাড়ির ছাদে বাগান করা বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অধিকাংশ বাড়ির ছাদের দিকে তাকালেই বিভিন্ন ধরনের বাগান দেখা যায়। অবশ্য রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরের ছাদে যেসব বাগান দেখা যায় তার অধিকাংশই অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। পরিকল্পিতভাবে উদ্যোগ নেয়া হলে বাড়ির ছাদে যেকোন গাছ, এমনকি শাকসবজিও ফলানো সম্ভব। আঙুর, বেদানা, ডালিম, আমড়া, পেয়ারা ইত্যাদি নান ধরনের মৌসুমী ফল ছাড়াও কলমি শাক, কলা, ডাঁটা, লাউ ইত্যাদি অনায়াসে উৎপাদন করা যায়। কোন গাছের জন্য কি ধরনের মাটি উপযোগী তা নিশ্চিত হয়ে ছাদে বাগান করলে ভাল হয়। এ ছাড়া বেশি রোদ বা গরম সহ্য করতে পারে এমন গাছই ছাদে বপন করা উত্তম। ছাদে বাগান করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে নিয়মিত পানি সেচ দেয়া। কারণ, বাগানের গাছগুলো যেহেতু সাধারণ মাটির সংস্পর্শ হতে দূরে থাকে তাই নিয়মিত পানি সেচ না দিলে গাছগুলো যেকোন সময় মারা যেতে পারে। সাধারণত দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটিতে গাছ ভাল জন্মে। ছাদে বাগান করতে হলে এ ধরনের মাটি ব্যবহার করলে ভাল হয়।

    শখ করে আমাদের দেশে ছাদে বাগান করার প্রথা শুরু হলেও এখন রীতিমত অর্থনৈতিক খাত হিসেবে চিহ্নিত। অনেকেই আছে যারা বাড়ির ছাদে বাগান করে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে।

    ছাদে বাগান করতে হলে প্রতিদিন সকাল-বিকাল গাছে পানি দিতে হবে। গাছের গোড়ায় যাতে পানি না জমে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া মাটির ধরণ জেনে বাগান করলে ছাদে যেকোন ধরনের গাছই জন্মানো সম্ভব। ৪-৫ কাঠা জমির উপর বাড়ির ছাদে পরিকল্পিতভাবে বাগান করলে পরিবারের চাহিদা পূরণ করেও বছরে বিক্রি কর যায় ৪০-৫০ হাজার টাকা।

    ইচ্ছে করলেই শহরবাসী ফলের বাগান বা সবজি বাগান করতে জমি পান না। তাই বিকল্প উপায় বের করে আবাদি জমি নষ্ট না করে ছাদকে কাজে লাগিয়ে বাগান করা যায়। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বিকল্প আয়ের উৎস হতে পারে এই ছাদে বাগান যা পরিবারকে করবে স্বচ্ছল।

    ছাদে বাগান: বিস্তারিত তথ্য



    বিশাল বাংলার জমিন যেমন বিস্তৃত, তেমনি লাখোকোটি দালান ঘরের ছাদও অবারিত বিস্তৃত। যদিও বাংলার জমিন এখনো যথোপোযুক্তভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। সেখানে ছাদের কথা তো আরও পরে আসে। কিন্তু এ দেশের কিছু আগ্রহী ব্যক্তিবর্গ আছেন যারা ব্যক্তিগত আগ্রহ আর উদ্যোগে ছাদে বাগান করেন শখের বসে। বিনিয়োগের যেমন হিসাব থাকে না, তেমনি প্রাপ্তির হিসেবেও তেমনভাবে করা হয় না শখের ছাদের বাগানে। অথচ সামান্য আন্তরিকতা আর সুষ্ঠ পরিকল্পনার মাধ্যমে এ প্রতিশ্রুতিশীল দিকটাকে অনেকদূর নিয়ে যেতে পারি। ছাদে বাগান করে ছাদের সৌন্দর্য যেমন বাড়ে, তার সাথে জায়গাটুকু ব্যবহার করে পরিবারের ফুল, শাকসবজি ও ফলের চাহিদা যথাযথভাবে মেটানো যায়। শুধু কি তাই পরিকল্পিতভাবে ছাদে বাগান করে বাড়তি আয়ও করা যায়। সর্বোপরি ছাদের বাগানে পরিবারের অবসরপ্রাপ্ত আগ্রহী লোকগুলো দারুণভাবে সময় কাটাতে পারেন। সময়ের সদ্ব্যবহার করতে পারেন।

    বাগান পদ্ধতি ছাদে বাগান দু'ভাগে করা যায়। যেমন কাঠ বা লোহার ফ্রেমে এঁটে বেড তৈরি করে এবং অন্যটি হলো টব, ড্রাম, পট কনটেইনার এসব ব্যবহার করে। প্রথম ক্ষেত্রে পুরো ছাদ বা ছাদের অংশবিশেষ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কার্নিশের পার্শ্বে বা আলাদা ফ্রেম করে সুন্দরভাবে ডিজাইন করে সেটিং করা যায়। এ ক্ষেত্রে জল ছাদের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। জল ছাদ না থাকলে আলাকাতরার প্রলেপ দিয়ে তার ওপর মোটা পলিথিন বিছিয়ে তার ওপর মাটি দিতে হবে। মনে রাখতে হবে মাটির পুরুত্ব যত বেশি হবে। অন্তত দু'ফুট পুরু মাটির স্তর থাকতে হবে। তবে যত বেশি তত ভালো। অতিরিক্ত পানি, সার পাবার সুষ্ঠু পথ রাখতে হবে। পরবর্তীতে প্রয়েঅজনীয় পরিমাণ রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হবে। ফ্রেম তৈরির ক্ষেত্রে কাঠ, লোহা, স্টিল, মোটা রবার এসব ব্যবহার করা যায়। তবে যা কিছু দিয়ে বা যে ভাবেই বেড তৈরি হোক না কেন ৩/৪ বছর পর পুরো বেড ভেঙ্গে নতুন করে তৈরি করতে হবে। এতে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। ছাদে বাগানের জন্য শুরুতেই যদি মাটিকে ফরমালডিহাইড দিয়ে (প্রতি লিটার পানির সাথে ১০০ মিলিলিটার ফরমালডিহাইড) শোধন করে নেয়া যায় মাটি শোধনের কৌশল হলে প্রয়োজন অনুযায়ী মাটি নিয়ে বর্ণিত মাত্রায় ফরমালডিহাইড মিশ্রিত পানি মাটিতে ছিটিয়ে দিয়ে পুরো মাটিকে মোটা পলিথিন দিয়ে ৩/৪ দিন ঢেকে রাখতে হবে। পরে পলিথিন উঠিয়ে সূর্যের আলোর তাপে খুলে রাখতে হবে পরবর্তী ৩/৪ দিন পর্যন্ত। ফরমালিনের গন্ধ শেষ হয়ে গেলেই মাটি ব্যবহারের উপযোগী হবে। দ্বিতীয় পদ্ধতির মধ্যে আছে ড্রাম, বালতি, টব, কনটেইনার এসবের যেকোন একটি বা দুটি নির্বাচন করার পর পাত্রের তলায় কিছু পরিমাণ খোয়া (ইট পাথরের কণা) দিতে হবে। ইটের খোয়া পানি নিষ্কাশন এবং অতিরিক্ত পানি বের করে দেয়া এবং পাত্রের ভেতরে বাতাস চলাচলের সহায়তা করে। এ ক্ষেত্রেও অর্ধেক মাটি এবং অর্দেক পঁচা জৈব সারের মিশ্রণ হতে হবে। মনে রাখতে হবে, শাক-সবজি, ফুলের জন্য ছোট খাট টব বা পাত্র হলেও চলে। কিন্তু ফলের ক্ষেত্রে পাত্র/ড্রাম যত বড় হয় তত ভালো। কেননা আমাদের বুঝতে হবে ফল গাছের শেকড় প্রকৃতিতভাবে বেশ গভীরে যায়। কিন্তু ড্রাম/টব/পাত্রের সীমিত জায়গার অভাবে যথাযথভাবে বিস্তৃতি লাভ করতে পারে না। সে জন্য ছাদের বাগানে টব/ড্রামের আকার যত বড় হয় তত ভালো হয়। টবে/ড্রামে গাছে/ জাত নির্বাচনের পর য়ৌক্তিকভাবে সাজাতে হবে। যেমন বড় গাছ পূর্ব ও দক্ষিন পাশে না দিয়ে পশ্চিম ও উত্তর পাশে দিতে হবে। এতে আলো বাতাস রোদ ভালোভাবে পাবে। তাছাড়া ছোট বড় জাতের মিশ্রণ করে সেটিং করলে গাছের গাত্র বৃদ্ধিসহ বাড় বাড়তি ভালো হয়। আরেকটি জরুরি কথা হলো ছাদে বাগাপন করার ক্সেত্রে ফল চাষাবাদে কলমের এবং হাইব্রিড জাতের ব্যবহার বেশি ফলদায়ক।

    তৃতীয় আরেকটি পদ্ধতি অনেকেই অনুসরণ করে। সুন্দরভাবে বাঁশ/পিলার রড দিয়ে জাংলো বা মাচা বানিয়ে পব/প্লাস্টিকের পাত্রে ফুল, বাহারী গাছ গাছালী, অর্কিড আবাদ করে থাকেন। এক্ষেত্রে ঝুলন্ত টব/পাত্র মাঝখানে না ঝুলিয়ে পাশে ডিজাইন করে সেটিং করলে জায়গার সদ্ব্যবহার করা যায়, দেখতেও সুন্দর লাগে।

    যেভাবে করবেন মাটি তো নেই, বিশেষ করে ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরে যাঁরা বাস করেন, তাঁদের। কিন্তু গাছ তো দরকার। তাই শেষ ভরসা বাড়ির ছাদ। সেখানেই ফুল, সেখানেই ফল। পৃথিবীর অনেক দেশে এখন ছাদে বাগান করা সে দেশের সিটি করপোরেশনের বাধ্যতামূলক আইন। শহরের ইট-পাথর যেন সবুজের স্পর্শ পায়, আমাদের দেশে সেসবের বালাই নেই। ব্যক্তি উদ্যোগে দুই-একটা ছাদ বাগান হয়েছে। কিন্তু নির্মল পরিবেশের জন্য যা খুবই কম। ছাদে বাগান আর মাটিতে বাগান এক বিষয় নয়, আবার কাজটি যে কঠিন, তাও নয়। জানা দরকার, ছাদের উপযোগী গাছ কোনগুলো। গাছের প্রজাতির ওপর নির্ভর করে ওই গাছটি ছাদ-বাগানের জন্য তা হাফ ড্রাম, টব নাকি চৌবাচ্চা কাঠামো করে লাগানো হবে এবং এসব গাছের জন্য পরিচর্যার ধরন কী হবে, তা আগেই ঠিক করে নিতে হবে। খোলামেলা ছাদ থাকলেই হলো। স্থায়ী বাগান করার জন্য ছাদে সিমেন্টের স্থায়ী টব তৈরি করে নেওয়া যেতে পারে। গরুর নান্দার মতো বাজারে সিমেন্টের টব কিনতে পাওয়া যায়। সবচেয়ে উত্তম হয় লোহার হাফ ব্যারেল হলে। ব্যারেলের দুই পাশে হাতল থাকতে হবে। এর সুবিধা হচ্ছে টবটি এক স্থান থেকে আরেক স্থানে সরানো যাবে। টবের নিচে ছিদ্র থাকা জরুরি। কয়েকটি ভাঙা চাড়ি ছিদ্রের মুখে দিয়ে মাটি ভরতে হবে। তিন ভাগ মাটি, দুই ভাগ গোবর সার আর এক ভাগ পাতা পচা সার দিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে টব পূর্ণ করুন। বর্ষার আগে আগে টবে চারা কলম লাগাতে হবে। এই টবে ফুল, ফল, সবজির চাষ করা যেতে পারে। ফুলের মধ্যে গোলাপ, গাঁদা, দোলনচাঁপা, ডালিয়া, চন্দ্রমলি্লকা, ইউফোরবিয়াসহ মৌসুমি সব ফুলেরই চাষ করা সম্ভব। ছাদ বাগানে সবজিও ফলতে পারে। বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মরিচ, শসা, লাউ, কুমড়া, ঢেঁড়স, বরবটি, সিম, ক্যাপসিকাম, লেটুসপাতা, পুদিনাপাতা, ধনেপাতাসহ প্রায় সব ধরনের সবজি টবে ফলানো সম্ভব। ফলের মধ্যে আম, জাম, লিচু, শরিফা, সফেদা, কামরাঙ্গা, বাতাবিলেবু, জলপাই, কদবেল, ডালিম, পেয়ারা, কমলা, মালটা, কুল ছাদ বাগানকে আকর্ষণীয়, অনন্য করে তুলতে পারে। আজকাল অনেকেই ছাদ বাগান করার জন্য এগিয়ে আসছেন। তবে ছাদে ফল গাছ লাগানোর প্রবণতা বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে। ছোট একটি টবে ফল ধরলে যেমন দেখতে সুন্দর লাগে, তেমনি ছাদে প্রচুর পরিমাণ রোদ লাগে বলে ফলও ভালো হয়।

    ছাদে কি কি গাছ লাগাবেন : ছাদে বাগান করার সময় লক্ষ রাখতে হবে যেন গাছটি বড় আকারের না হয়। অর্থাৎ ছোট আকারের গাছ লাগাতে হবে এবং ছোট আকারের গাছে যেন বেশি ফল ধরে সে জন্য হাইব্রিড জাতের ফলদ গাছ লাগানো যেতে পারে। আম্রপালি ও মলি্লকা জাতের আম, পেয়ারা, আপেল কুল, জলপাই, করমচা, শরিফা, আতা, আমড়া, লেবু, ডালিম, পেঁপে, এমনকি কলা গাছও লাগানো যাবে। ছাদ বাগানের প্রথম শর্ত হচ্ছে, গাছ বাছাই। জেনে, বুঝে, বিশ্বস্ত নার্সারি, বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে গাছ সংগ্রহ করতে হবে। বেঁটে প্রজাতির অতিদ্রুত বর্ধনশীল ও ফল প্রদানকারী গাছই ছাদ বাগানের জন্য উত্তম। বীজের চারা নয়, কলমের চারা লাগালে অতিদ্রুত ফল পাওয়া যায়। আজকাল বিভিন্ন ফলের গুটি কলম, চোখ কলম ও জোড় কলম পাওয়া যাচ্ছে। ছাদ বাগানের জন্য এসব কলমের চারা সংগ্রহ করতে পারলে ভালো হয়। টবে আমের মধ্যে আম্রপালি, আলফানসো, বেঁটে প্রজাতির বারোমেসে, লতা, ফিলিপাইনের সুপার সুইট, রাঙ্গু আই চাষ করা যেতে পারে। লেবুর মধ্যে কাগজিলেবু, কমলা, মালটা, নারকেলি লেবু, কামকোয়াট, ইরানিলেবু, বাতাবিলেবু (অ্যাসেম্বল) টবে খুবই ভালো হয়। এ ছাড়া কলমের জলপাই, থাইল্যান্ডের মিষ্টি জলপাই, কলমের শরিফা, কলমের কদবেল, ডালিম, স্ট্রবেরি, বাউকুল, আপেলকুল, নারিকেলকুল, লিচু, থাইল্যান্ডের লাল জামরুল, গ্রিন ড্রপ জামরুল, আপেল জামরুল, আঙ্গুর পেয়ারা, থাই পেয়ারা, ফলসা, খুদে জাম, আঁশফল, জোড় কলমের কামরাঙা, এমনকি ক্যারালা ড্রফ প্রজাতির নারিকেলের চাষ করা যেতে পারে। সঠিক মানের চারা হলে এক বছরের মধ্যেই ফল আসে। আজকাল বিদেশ থেকে উন্নত মানের কিছু চারা কলম দেশে আসছে। ছাদ বাগানের সাধ পূরণ করার জন্য এসব সংগ্রহ করে লাগাতে পারেন। বাহারি পাতার জামরুল, পেয়ারা, সফেদা গাছও বিভিন্ন নার্সারিতে এখন কিনতে পাওয়া যাচ্ছে। ছাদে এসব গাছ লাগানো হলে ছাদ বাগানের সৌন্দার্য বৃদ্ধি পায়।

    টব : দরকারমতো সহজেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরানো যায়। ছাদে টবে গাছ লাগানো অনেকেই পছন্দ করেন। টবে সার-মাটি দেওয়া খুব সহজ। আজকাল অনেকেই পোড়ামাটি এবং প্লাস্টিকের টব ব্যবহার করেন। আবার টবের গায়ে রং দিয়ে সৌন্দর্য বাড়ানো যায়। টবে গাছ লাগানোর সময় মনে রাখতে হবে যেন ওই গাছ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টবের অল্প মাটিতে ওই গাছের খাদ্যপুষ্টি থাকে।

    হাফ ড্রাম : বড় আকারের ড্রামের মাঝামাঝি কেটে দুই টুকরো করে বড় দুটি টব তৈরি করা যায়। বড় জাতের এবং ফলের গাছের জন্য হাফ ড্রাম ভালো। এগুলো সরাসরি ছাদের ওপর না বসিয়ে কয়েকটি টুকরো ইটের ওপর বসানো দরকার। অনেকে মনে করেন, ছাদের ওপর হাফ ড্রাম রাখলে ছাদের ক্ষতি হয়। এ ধারণা সঠিক নয়।

    চৌবাচ্চা : ছাদে এক থেকে দেড় ফুট উঁচু এবং তিন থেকে চারটি পিলারের ওপর পানির ট্যাঙ্ক বা চৌবাচ্চা আকারের রিং স্লাব বসিয়ে ইটের টুকরো এবং সিমেন্টের ঢালাই দিয়ে স্থায়ী চৌবাচ্চা তৈরি করা যায়। এই ধরনের চৌবাচ্চায় মাছ এবং জলজ উদ্ভিদ চাষ করে ছাদের পরিবেশ সুন্দর রাখা যায় সহজেই।

    স্থায়ী বেড পদ্ধতি : ছাদের কোনো অংশে স্থায়ী বাগান করতে চাইলে সুবিধামতো আকারের স্থায়ী বেড তৈরি করা যায়। তবে চার ফুট দৈর্ঘ্য, চার ফুট প্রস্থ এবং দুই ফুট উচ্চতার বেড তৈরি করা ভালো। এ ধরনের বেড তৈরি করতে নিচে পুরু পলিথিন দিয়ে ঢালাই করলে ছাদ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

    টবের টিপস : ফুল কিংবা ফল গাছ যাই হোক না কেন, টব ব্যবহার করার সময় লক্ষ রাখতে হবে, গাছের আকার কত বড় হবে। সেই মতো টবের আকার নির্ধারণ করা দরকার। পানি গড়িয়ে যাওয়ার জন্য টবের নিচে ছিদ্র থাকতে হবে। ছিদ্রের ওপর নারকেলের ছোবড়া বা ইটের টুকরো দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। টবে ব্যবহারের আগে টবে ব্যবহার করা ছোবড়া বা ইটের টুকরো ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। গরম পানিতে ধুয়ে নিতে পারলে ভালো। যে গাছের চারা লাগানো হবে তা সাধারণ পানিতে ধুয়ে নিতে হবে। এর ফলে রোগের সংক্রমণ অনেক কমে যায়। চারা কেনার সময় অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের চারা সংগ্রহ করা দরকার। গাছ বড় হলে প্রয়োজনে বড় টবে সাবধানে চারা স্থানান্তর করে নেওয়া যায়। তবে টব ভেঙে চারা গাছ বের করা যাবে না। মনে রাখতে হবে, চারা গাছটি যেন কোনোভাবেই আঘাত না পায়।

    টবের সার-মাটি : টবের গাছের খাদ্যপুষ্টি চাহিদা মেটানোর জন্য মাটিতে দরকারি সার মেশাতে হবে। মাটি, গোবর সার, কম্পোস্ট, পচা পাতা, পরিমাণমতো রাসায়নিক সার মেশাতে হবে। শুকনো দূর্বা ঘাস টবের মাটির মাঝামাঝি দিয়ে তার ওপরে মাটি দিয়ে চারা গাছ লাগানো ভালো।

    গাছ বা চারা নির্বাচন ছাদে বাগান যতটা না বাণিজ্যিক তার চেয়ে বেশি নান্দনিক এবং শখের। উদ্দেশ্য যাই থাক জাত নির্বাচনে সতর্ক সচেতন হওয়া জরুরি। মনে রাখতে হবে সাধারণ জমিতে যে ভাবে চাষ বাস করা যায় ছাদে সে ভাবে করা যায় না। গাছ সাধারণভাবে তাদের বাড় বাড়তির জন্য তেমন জায়গা পায়না। সেজন্য অতিরিক্ত যত্ম সেবা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষভাবে সর্তক থাকতে হবে। মনে রাখা দরকার ছাদের বাগানে কখনো ঝোপ/ঝাড়/বাঁশ টাইপের কোন বড় গাছ/জাত লাগানো যাবে না। এতে হিতের বীপরিত হয়ে যাবে। লেবু, পেয়ারা, আম, জামরুল, ডালিম, আমড়া, লিচু, কামরাঙ্গা, জলপাই, করমচা এসব ফল বেশী উপযোগী। ফলের ক্ষেত্রে হাইব্রিড বা দেশীয় যে কোন জাত থাকনা কেন কেন কলমের চারা ব্যবহার করা বেশি ভালো। এতে নানন্দিকতা ভালোভাবে রক্ষা পায়, কম জায়গা খরচ হয়। ফুল এবং সবজির ক্ষেত্রে জাতের কোন বালাই নেই। কেননা ফুল এবং সবজি কখনো বেশি জায়গা নেয় না। আমাদের দেশের প্রচলিত জাতের ফুল, শাকসবজির সবটাই সহজে উৎপাদন করা সম্ভব। বাড়ির বারান্দায় মালতি লতা, দোপাটি, হাসনাহেনা। উঠোনে লাউয়ের মাচা, ঘি কাঞ্চন মরিচ। একটু দূরেই ডালিম, প্রবীণ আম বৃক্ষ। এসব স্মৃতি হয়ে গেছে। স্মৃতি হয়ে গেছে দলিজ ঘরের বারান্দার বাগান, নিকানো উঠোন। কংক্রিটের দেয়াল, বহুতল ভবন ওইসব স্মৃতি গিলে খেয়েছে। নগর সভ্যতায় হারিয়ে যাচ্ছে মাটি। হারিয়ে যাচ্ছে সবুজ। তারপরও অনেকে বাগান করার স্বপ্ন দেখেন। জানালায় ঝুলিয়ে দেন মানিপ্লান্টের লতা। তবে স্বপ্ন থাকলে, ইচ্ছা থাকলে কংক্রিটের দালানকোঠার মধ্যেও বাগান করা সম্ভব। ফিরিয়ে আনা সম্ভব শৈশবের স্মৃতিঘেরা সেই হারানো লতা, ফুলের খশবু। ছাদে বাগান করে ফুল, ফল, সবজির সব স্বাদই পূরণ করা সম্ভব। এর জন্য প্রথম প্রয়োজন ইচ্ছাশক্তি আর বাগানের প্রতি প্রেম।

    যত্ম সেবা যেহেতু সীমিত আকারে সীমিত জায়গায় উৎপাদন করা হয় সেজন্য অতিরিক্ত যত্ম সেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং বিভিন্ন পরিচর্যায় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। কেননা সার কমবেশি হলে, গাছের সাথে লেগে গেলে গাছ মরে যাবে, পরিমাণ মতো না হলে অপুষ্টিতে ভুগবে।
    টবের ক্ষেত্রে ছোট গাছ বড় হলে পট/টব বদল, ডিপটিং (পুরানো টবকে আলতো করে মাটিতে শুইয়ে গড়াগড়ি দিলে গাছটি টব থেকে বেড়িয়ে আসবে। পরে অতিরিক্ত মূল কেটে মাটি বদলিয়ে সার প্রয়োগসহ নতুনভাবে গাছ বসানো) করতে হবে সময়মতো। বছরে অন্তত একবার পুরাতন মাটি বদলিয়ে নতুন মাটি জৈব সারসহ দিতে হবে। ইদানিং বাজারে টবের মাটি কিনতে পাওয়া যায়। মানসম্মত মাটি কিনে টবে/পটে/ড্রামে ভরতে হবে।
    খুব সাবধানতার সাথে টব/পটে/ড্রামে/চারা/কলম/বীজ লাগাতে হবে। ঠিক মাঝখানে পরিমাণ মতো মাটির নিচে রোপন করতে হবে। চারা বা কলমের সাথে লাগানো মাটির বল যেন না ভাঙ্গে সেদিকে নজর রাখতে হবে। চারা বা কলমের ক্ষেত্রে বীজতলা/নার্সারিতে যতটুকু নিচে বা মাটির সমানে ছিল ততটুকু সমানে ছাদে লাগাতে হবে। বীজতলার থেকে বেশি বা কম গভীরে লাগালে গাছের বাড়বাড়তিতে সমস্যা হবে। মাঠে ফলমুল সবজি চাষের চেয়ে ছাদে সবজি চাষের অনেক পার্থক্যের একটা গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা। চাদের বাগানে প্রতিদিন পরিষ্কার কার্যক্রম অনুসরণ করতে হবে। সেজন্য পুরাতন রোগাক্রান্ত, বয়স্ক ডালপালা, পাতা সাবধানতার সাথে কেটে নির্দিষ্ট স্থানে জমা করতে হবে। এতে গাছপালা রোগমুক্ত থাকবে ফলনে সুবিধা হবে। ফুল এবং সবজিতে প্রয়োজন মাফিক সার প্রয়োগ করতে হবে। কিন্তু ফলের ক্ষেত্রে অন্তত দু'বার একবার বর্ষার আগে একবার বর্ষার পরে সাবধানে পরিমাণমত সার দিতে হবে। সার প্রয়োগের সময় মাটির আর্দ্রতা দেখে নিতে হবে। কেননা বেশি আর্দ্র বা কম আর্দ্র কোন টাইপের সার প্রয়োগের জন্য উপযুক্ত নয়। বিশেষ ক্ষেত্রে কিছু কিছু সার পানিতে মিশিয়ে গাছ ছিটিয়ে দিতে হবে। গুঁটি সারও এ ক্ষেত্রে বিশেষ উপযোগী।
    আমাদের দেশের আবহাওয়ায় কোন ফলে পোকা বা রোগের আক্রমণ অহরহ ঘটে থাকে। সেক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। প্রতি ২/৩ বার যদি চাদের বাগান পরিদর্শন করা যায় তাহলে বালাই আক্রমণ যেমন কম হবে তেমনি ফসলও পাওয়া যাবে অনেক। সুতরাং লাভ বেশি হবে। যদি হঠাৎ বেশি মারাত্মক আক্রান্ত হয়ে যায় তখন উপযুক্ত বালাইনাশক সঠিক সময়ে ব্যবহার করতে হবে। আলোচ্য নিবন্ধে ছাদের কথা বলা হয়েছে কিন্তু অন্যান্য পদ্ধতি অনুসরন করে স্থানকালপাত্র অনুযায়ী ঘরের ভেতরে, সিঁড়ি, ব্যালকনি, বারান্দা, কার্নিশ এসব জায়গায় ও অনায়াসে গাছ লাগানো যায়।

    সেচ নিস্কাশন ছাদে/টবে সেচ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা মাটির আর্দ্রতার জন্য সহজেই গাছপারা নেতিয়ে যাবে তেমনি অতি পানি বা পানির আর্দ্রতার জন্যও গাছ নেতিয়ে পড়ে মরে যেতে পারে। তাই অবশ্যই ছাদের বাগানে প্রতিনিয়ত সেচের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। ছাদের বাগানে সেচের জন্য ক্সিকিলার অর্থাৎ ঝাঁঝরি দিয়ে সেচ দেয়া ভালো। তাছাড়া প্লাস্টিকের চিকণ পাইপ দিয়েও পানি সরবরাহ বা দেয়া যায়। এক্ষেত্রে ডেলিভারি পাইপের মাথায় চাপ দিয়ে ধরলে পানি হালকাভাবে ছিটিয়ে পরে সুতরাং ইচ্ছে করলে ঐ পদ্ধতিও অনুসরণ করা যায়। জীবনের প্রয়োজনে মানুষ অনেক নতুন তথ্য প্রযুক্তি আবিষ্কার করে। শখের বিলাশী ঘটনাও সময়ের ব্যবধানে আবশ্যকীয় হয়ে যায় এবং সর্বজনবিদিত উপকারি ও জনপ্রিয় হয়ে যায়। ছাদের বাগানও তেমন। সময়ের প্রয়োজনে জীবনের প্রয়োজনে সবাই এক চিলতে জায়গাও খালি রাখতে চায় না। প্রতি ইঞ্চি জায়গাকে যৌক্তিকভাবে ব্যবহার করতে চায়। দিন বদলের পরিক্রমায় অদূর ভবিষ্যতে হয়তো ছাদের বাগান একটি আবশ্যকীয় প্রযুক্তি পদ্ধতি হয়ে স্থান পাবে। সবচেয়ে বড় কথা ছাদে বাগানকে একটি অতিরিক্ত লাভ হিসেবে পরিগণিত করা যায়।

    তাই আমাদের যার যার সুযোগ আচে সে সুযোগকে যৌক্তিকভাবে কার্যকর ভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে আমাদের বহুমুখী লাভ হবে। আসুন আমরা সবাই এ সুযোগের আওতায় সর্বোচ্চ লাভ ঘরে তুলি, কৃষিকে সমৃদ্ধ করি দেশেকে সমৃদ্ধ করি।

    ছাদে বাগানের কিছু জরুরি টিপস
    ১) লম্বা গাছকে ছোট গাছকে সামনে রাখতে হবে।
    ২) টবে বা ফ্রেমে খৈল দেয়া যাবে না, এতে পিঁপড়ার উপদ্রব বাড়তে পারে।
    ৩) বাজার থেকে কেনা প্যাকেটজাত কম্পোস্ট সার ব্যবহার করলে ভালো।
    ৪) বছরে একবার নতুন মাটি দিয়ে পুরাণ মাটি বদলিয়ে দিতে হবে। এটি অক্টোবর মাসে করলে ভালো।
    ৫) ছাদে বাগানের জন্য মিশ্র সার, গুঁটি ইউরিয়া, খৈল, হাড়ের গুঁড়া (পচিয়ে) ব্যবহার করা ভালো।
    ৬) বাজারে স্টিল লোহার ফ্রেম পাওয়া যায়। এগুলো দিয়ে অনায়সে ছাদে বাগান করা যায়।
    ৭) অবস্থা বুঝে গাছের গোড়ায় চুনের পানি সপ্তাহে ১ বার ব্যবহার করা যায়।

    নড়াইলে চালু হয়েছে কৃষি যন্ত্রপাতি সেবা কেন্দ্র

  • Share The Gag
  • খামার যান্ত্রিকরণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলার তিন উপজেলায় চালু হয়েছে কৃষি যন্ত্রপাতি সেবা কেন্দ্র। এ সেবাকেন্দ্র স্থাপনের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে একই জমিতে বছরে একাধিকবার বিভিন্ন জাতের ফসল উৎপাদন। প্রাথমিকভাবে নড়াইল সদর উপজেলায় উজিরপুর অর্গানিক বহুমুখী সমবায় সমিতিতে, লোহাগড়ার ইশানগাতি আইপিএম কৃষি ক্লাবে এবং কালিয়া উপজেলার চাচুড়ী সিআইজি (কমন ইন্টারেস্ট গ্রুপ) কৃষি ক্লাবে ১টি করে কৃষি যন্ত্রপাতি সেবা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।




    নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি প্রকৌশলী এ এম হেলালুর রহমান জানান,কৃষি ফসলের নিবিড়তা রক্ষায় উৎপাদন খরচ কমানো, সময় বাঁচানো ও শ্রমের অপচয় রোধ কল্পে কৃষক বান্ধব কৃষি যন্ত্রপাতি সেবা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।এসব সেবা কেন্দ্রে ধান ও গম কর্তন যন্ত্র (রিপার), পাওয়ার টিলার চালিত সিডার যন্ত্র (বীজ বপন যন্ত্র),কম্বাইন্ড হারভেস্টর (ধান,গম কর্তন ও মাড়াই শেষে পরিষ্কার করে বস্তাবন্দী), ট্রান্সপ্লান্টনার (ধান রোপণ যন্ত্র) ও পাওয়ার থ্রেসার যন্ত্র (ধান ও গম মাড়াই-ঝাড়াই যন্ত্র ) কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে প্রদান করা হয়েছে।




    একটি সেবা কেন্দ্রের আওতায় কমপক্ষে ১০ একর জমি ও ২০ থেকে ২৫ জন কৃষক সদস্য থাকতে হবে বলে জানালেন কৃষি প্রকৌশলী এ এম হেলালুর রহমান।একটি কম্বাইন্ড হারভেস্টর প্রতি ঘণ্টায় ৩৬ জন লোকের সমপরিমাণ কাজ সম্পন্ন করতে পারে বলে জানান ওই কৃষি প্রকৌশলী।




    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি সেবা কেন্দ্রে প্রায় ১৫ লাখ টাকা মূল্যমানের কৃষি যন্ত্রপাতি বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে।এসব কেন্দ্রের বাইরের কৃষকরা একটি নির্দিষ্ট ফি প্রদানপূর্বক কৃষি যন্ত্রপাতি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।




    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নড়াইলের উপ-পরিচালক শেখ আমিনুল হক বলেন,ফসল উৎপাদন, কর্তন ও মাড়াইয়ে যে শ্রমিকের প্রয়োজন হয় তা থেকে অনেক কম খরচে কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কৃষকরা ধান,গম উৎপন্ন করে ঘরে তুলতে পারবেন।পাশাপাশি একই জমিতে একাধিকবার বিভিন্ন জাতের ফসল উৎপাদনও সম্ভবপর হবে বলে তিনি জানান।




    সূত্রঃ বাসস।

    ১১১৩ জন নিয়োগ দেবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর

  • Share The Gag
  • জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে রাজধানীর খামারবাড়িতে অবস্থিত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এক হাজার ১১৩ জন প্রকৃত বাংলাদেশি নাগরিককে ১১ ধরনের অস্থায়ী পদে এই নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার প্রার্থীরা পদগুলোতে আবেদন করার সুযোগ পাবেন না। এ ছাড়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী অন্যান্য জেলা কোটা অনুসরণ করা হবে।

    পদসমূহ:
    স্টোরকিপার ৪২ জন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে ৪০৪ জন, ক্যাশিয়ার ১৩ জন, ড্রাইভার পাঁচজন, প্লাম্বিং মিস্ত্রি ছয়জন, স্প্রেয়ার মেকানিক ১৬৮ জন, অফিস সহায়ক সাতজন, ফার্মলেবার ১৫২ জন, নিরাপত্তা প্রহরী বা অফিস গার্ড ২১৯ জন, বাবুর্চি (কুক) ৩২ জন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে ৬৫ জনসহ মোট এক হাজার ১১৩ প্রার্থী এই নিয়োগ পাবেন।

    যোগ্যতা:
    পদগুলোতে আবেদনের জন্য পদমর্যাদা অনুযায়ী প্রার্থীদের অষ্টম শ্রেণি পাস যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিষয়ে স্নাতক পাস পর্যন্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে। এ ছাড়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পদের জন্য অন্যান্য ক্ষেত্রে দক্ষতাসম্পন্ন হতে হবে।

    বয়স:
    ১৪ জুন, ২০১৭ তারিখে প্রার্থীদের বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৩০ বছর। তবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ১৮ থেকে ৩২ বছর।

    বেতন:
    পদমর্যাদা অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রতি মাসে আট হাজার ২৫০ থেকে ২৪ হাজার ৬৮০ টাকা পর্যন্ত বেতন দেওয়া হবে।

    আবেদন প্রক্রিয়া:
    বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত নিয়ম অনুসরণ করে টেলিটকের ওয়েবসাইট (dae.teletalk.com.bd) থেকে পদগুলোতে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার সুযোগ থাকছে ১৪ জুন, ২০১৭ সকাল ১০টা থেকে ১৩ জুলাই, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত দেখুন :





    DAE

    তিস্তা নদীতে সিবিজি খাঁচায় মাছ চাষ প্রশিক্ষণ

  • Share The Gag
  • তিস্তা নদীতে সিবিজি খাঁচায় মাছ চাষ প্রশিক্ষণ
    নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদীতে সিবিজি খাঁচায় মাছ চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    দুই দিন ব্যাপী (১১-১২ জুন) উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ও মুক্তিযোদ্ধা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির আয়োজনে এ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন উক্ত সমিতির ২০ জন মৎস্যজীবিসহ প্রায় অর্ধশতাধিক তিস্তা পাড়ের মানুষ।

    এ প্রশিক্ষণটি টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ খড়িবাড়ী গ্রামের তিস্তা নদীর পাড়ে অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়) এর আওতায় দুই দিন ব্যাপী তিস্তা নদীতে সিবিজি খাঁচায় মাছ চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

    এ পর্যায়ে আমরা পাউবো’র সাথে একটি চুক্তির মাধ্যমে তিস্তা নদীতে সিবিজি খাঁচায় এ মৎস্য চাষের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। তারই ধারাবাহিকতায় এ উপজেলায় দুইটি (সুন্দরখাতা ও তিস্তানদী) প্রকল্প চালু করা হয়েছে। সমিতির সভাপতি আশরাফ আলী বলেন, তিস্তা নদীতে আপাতত ২০টি সিবিজি খাঁচা স্থাপন করা হয়েছে।

    আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে প্রকল্পটি আরো সম্প্রসারণ করা হবে। প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী ও ১ম দিনে আলোচনা সভায় সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ আশরাফ আলীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ তবিবুল ইসলাম, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রবিউল ইসলাম শাহিন।

    প্রশিক্ষণ ও আলোচনা সভায় সমিতির সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মিয়ার উদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তৃতা করেন খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ হামিদুল ইসলাম, খালিশা চাপানী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ সোহরাব হোসেন, টেপাখড়িবাড়ী ইউপি’র সদস্য আলহাজ্জ আমজাদ হোসেন, বিশিষ্ট সমাজ সেবক মোঃ আব্দুল মজিদ, ওয়াহেদুর রহমান মহুবার রহমান, ডিমলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি বাদশা সেকেন্দতার ভূট্ট, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম রেজা ও দপ্তর সম্পাদক ও সীমান্ত টাইমস ২৪.কমের প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ ফরিদুল ইসলাম ফরিদ প্রমুখ।

    ডিমলা প্রতিনিধি

    Monday, June 12, 2017

    কেন খাবেন ডালিম রস? পাতা থেকে শিকড় সবই উপকারী

  • Share The Gag
  • কেন খাবেন ডালিম রস?



    ডালিম মোটামুটি সবারই পছন্দের ফল। স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা ভেবে অনেকেই নিয়মিত ডালিম খান। ডালিমদানা খাওয়ার পাশাপাশি এর জুসও খেতে পারেন। কারণ, ডালিমের জুসও অনেক উপকারী। জেনে নিন এর উপকারিতা সম্পর্কে: রক্তে চিনির মাত্রা ঠিক রাখে: ডালিম রসে ফ্রুক্টোজ থাকলেও এটি অন্য ফলের রসের মতো রক্তে চিনির মাত্রা বাড়ায় না। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে নিয়মিত ডালিম রস খেলে রক্তে চিনির মাত্রা ঠিক থাকে।
    ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়: শরীর থেকে মুক্ত ক্ষতিকর উপাদান কমিয়ে ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এই মুক্ত উপাদান অন্যান্য রোগ সৃষ্টি করে। তাই রোগব্যাধি দূর করতে ডালিম রস উপকারী।
    রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী গুণাগুণ আছে ডালিমে। শরীরের ক্ষতিকর ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়ার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ডালিমের রস।

    হজমশক্তি বাড়ায়: ডালিমে আছে ডায়াটারি ফাইবার বা আঁশ। দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় দুই ধরনের আঁশ থাকায় এটি হজমশক্তি বাড়ায় এবং অন্ত্রের নড়াচড়া নিয়মিত করে।

    হিমোগ্লোবিন বাড়ায়: আয়রন, ক্যালসিয়াম, শর্করা ও আঁশ (ফাইবার) সমৃদ্ধ ডালিম রক্তে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করে দেহে রক্ত চলাচল সচল রাখে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে, প্রতিদিন মাঝারি আকৃতির একটি ডালিম খাওয়ার চেষ্টা করুন। অথবা এক গ্লাস ডালিমের রস খান।

    পাতা থেকে শিকড় সবই উপকারী :

    ডালিম নিয়ে নানা গবেষণায় এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, ডালিম শুধুমাত্র একটি মাজাদার ফল নয়, বরং মানব শরীর গঠন ও সুরক্ষায় ডালিমের রয়েছে বহুমুখি ঔষধি গুণ। এতদিন আমরা ডালিমের স্বাদ নিয়েছি, কিন্তু পাতা থেকে শিকড় পর্যন্ত পুরো ডালিম গাছিটিই যে মানুষের পরম উপকারী বন্ধু তা আমাদের অনেকেরই আজানা। অথচ উদ্ভিদ বিজ্ঞান এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণায় ডালিম গাছের নানা ভেষজ গুণের কথা বলা হয়েছে। আমাদের দেশে বর্তমানে এলোপ্যাথি ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরেই এদেশে এলোপ্যাথির ব্যাপক প্রসার শুরু। পাশাপাশি জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে হোমিওপ্যাথিও দিন দিন প্রসার ঘটছে। কিন্তু এমন একটা সময় ছিল, এদেশের সাধারণ মানুষ চিকিৎসা বলতে বুঝতেন ইউনানী এবং আয়ুর্বেদ চিকিৎসা। গাছ-পালা, লতা-পাতা অর্থাৎ প্রাকৃতিক বিভিন্ন উপাদানই ইউনানী এবং আয়ুর্বেদ চিকিৎসার মূল উৎস। এখনো দেশের প্রত্যন্ত ও গ্রামাঞ্চলের মানুষ প্রাকৃতিক উপাদান নির্ভর চিকিৎসার উপর নির্ভর করে থাকেন। প্রকৃতির সৃষ্টি ডালিম গাছ মানুষের বহুরকম জটিল ও কঠিন রোগের আরোগ্য বিধানে সক্ষম। নিম্নে তার কয়েকটির বিবরণ তুলে ধরা হল।



    রক্তপাত বন্ধ করতে ডালিম ফুল অত্যন্ত কার্যকরী। হঠাৎ দুর্ঘটনায় শরীরের কোন অংশ ছিঁড়ে গেলে, থেঁতলে গেলে বা কেটে রক্তপাত হলে ডালিম ফুল কচলিয়ে ক্ষতস্থানে লাগিয়ে চেপে ধরলে রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায়। ফুল না পেলে পাতাও ভাল কাজ করে।



    হঠাৎ নাক দিয়ে রক্ত পড়া রোগের মহৌষধ ডালিম ফুলের রস। নাক দিয়ে রক্ত পড়া বা রক্ত ঝরা একটি সাধারণ রোগ। বহু মানুষের এরকম হয়। অনেকের বিনা কারণে নাক দিয়ে রক্ত যায়। শিশুদের মাঝেও এটা লক্ষ্য করা যায়। হঠাৎ করেই এরকম হয়। আঘাত, পলিপ বা কোন কারণ ব্যতীত যদি নাক দিয়ে রক্ত পড়ে বা রক্ত যায় ডালিম ফুল কচলিয়ে রস নিয়ে নাকে শ্বাস নিলে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায়।



    আমাশয় নিরাময়ে ডালিমের খোসা। যারা আমাশয়ের রোগী, ডালিমের খোসা সিদ্ধ করে সেবন করলে আমাশয় নিরাময়ে ভল ফল পাওয় যায়। আমাশয় নিরাময়ে ডালিমের কাঁচা খোসা এবং শুকনা খোসা দুটোই কার্যকরী। তাই ডালিম খেয়ে খোসা ফেলে না দিয়ে শুকিয়ে ঘরে রেখে দেয়া ভাল।



    ডালিম গাছের ছাল গুড়ো করে ছড়িয়ে দিলে শরীরের যে কোন স্থানের বাগি বা উপদংশ নিরাময়ে ভাল কাজ করে। মহিলাদের প্রদররোগ নিরাময়ে ডালিম ফুল উপকারী। প্রদর একটি জটিল মেয়েলি রোগ। প্রদর দু প্রকার। শ্বেতপ্রদর ও রক্তপ্রদর। উভয় প্রকার প্রদরে ৪/৫টি ডালিম ফুল বেটে মধুর সাথে মিশিয়ে কিছুদিন সেবন করলে রোগ সেরে যায়।



    গর্ভপাত নিরাময়ে ডালিমের গাছের পাতা উপকারী। বহু মহিলার গর্ভসঞ্চারের দুই তিন মাসের মধ্যে গর্ভপাত হয়ে যায়। কোন কোন মহিলার একাধিকবার এরকম হয়। ডালিম গাছের পাতা বেটে মধু ও দধি একসাথে মিশিয়ে সেবন করলে গর্ভপাতের আশংকা দুর হয়।



    ডালিম গাছের শিকড় ক্রিমি নাশক। ক্রিমির সমস্যা আমাদের জাতীয় সমস্যা। ক্রিমির কারণে শিশু থেকে বুড়ো পর্যন্ত সবাই নানাবিধ জটিলতায় ভোগেন। ডালিম গাছের মূল বা শিকড় থেকে ছাল নিয়ে চূর্ন করে চুনের পানির সাথে মিশিয়ে সেবন করলে আনায়াসেই ক্রিমিনাশ হয়। বয়স ভেদে ১-৩ গ্রাম পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। শিশুদের পেটের রোগ নিরাময়ে ডালিম গাছের ছাল। শিশুরা বিভিন্ন প্রকার পেটের পীড়ায় ভোগে। যেসব শিশু পেট বড় হওয়াসহ বিভিন্ন প্রকার পেটের পীড়ায় ভোগে তাদেরকে জন্য ডালিম গাছের শিকড় থেকে ছাল নিয়ে গুড়ো করে মধুর সাথে মিশিয়ে সেবন করতে দিলে ভাল ফল পাওয়া যায়।



    ডালিম গাছ- ফল, ফলের খোসা, পাতা থেকে শুরু করে শিকড় পর্যন্ত কোনটাই ফেলনা নয়। আগাগোড়া মানুষের উপাকরী। ডালিম গাছের চাষ কোন কঠিন কাজ নয়, এর জন্য বেশি পরিশ্রম এবং অধিক যত্নও প্রয়োজন হয় না। যে কোন রকম মাটিতেই ডালিমের চাষ হয়। এর জন্য বড় জায়গাও লাগে না। ঘরের আঙ্গিনা এমনকি বাড়ির ছাদেও সহজে ডালিমের চাষ করা যায়। ঘরে একটি ডালিম গাছ থাকা মানে ঔষধের একটি ফ্যাক্টরি থাকা।