Monday, June 5, 2017

আনারস | সুস্বাদু সব বাংলা খাবার

  • Share The Gag
  • আনারস | সুস্বাদু সব বাংলা খাবার

    চিকেন আনারসী

    যা লাগবে : চিকেন ছোট ছোট টুকরা করা ৫০০ গ্রাম, পেঁয়াজ কিউব করে কাটা ১ কাপ, কাঁচামরিচ ১ টেবিল চামচ, ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদ অনুযায়ী, আদাবাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, গরম মশলা গুঁড়া ১ চা চামচ, সাদা সিরকা ২ টেবিল চামচ, পাকা আনারস কিউব করে কাটা ১ কাপ, তেল পরিমাণ মতো, পানি প্রয়োজন হলে।

    যেভাবে করবেন : প্রথমে চিকেনের টুকরাগুলো ভালো করে ধুয়ে নিন। তারপর তাতে সব উপকরণ একসঙ্গে মাখিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন ২-৩ ঘণ্টা (পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ ও ধনেপাত ছাড়া)। এরপর একটি ফ্রাইপ্যানে তেল গরম করে মুরগির টুকরাগুলো তাতে পেঁয়াজ, ধনেপাতা, কাঁচামরিচ কুচি দিয়ে ভাজা ভাজা করে রান্না করে পরিবেশন করুন।

    আনারস দিয়ে বাইন মাছ ভুনা

    যা লাগবে : বাইন মাছ বড় একটি, পেঁয়াজ টুকরা করা ১ কাপ, লবণ স্বাদ অনুযায়ী, আদাবাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ, আনারস কিউব করে কাটা ১ কাপ, কাঁচামরিচ ৫-৬টি, তেল পরিমাণ মতো ও তেজপাতা ২টি।

    যেভাবে করবেন : প্রথমে মাছ কেটে ছোট ছোট টুকরা করে ভালো করে লবণ দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে রাখুন। একটি কড়াইয়ে তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজের টুকরা দিয়ে ভাজা ভাজা করে একে একে সব গুঁড়া মশলা এবং লবণ দিয়ে মশলা কষিয়ে নিয়ে তাতে বাইন মাছের টুকরা এবং কিউব করা আনারস দিয়ে আবার কষিয়ে পরিমাণ মতো পানি, জিরা গুঁড়া এবং কাঁচামরিচ দিয়ে ভুনা ভুনা করে নামিয়ে পরিবেশন করুন আনারস দিয়ে বাইন মাছ ভুনা।

    আনারস দিয়ে ডিম ভুনা

    যা লাগবে : আনারস কিউব করে কাটা ১ কাপ, ডিম ৪টি সিদ্ধ করা, পেঁয়াজ কিউব করে কাটা আধা কাপ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, আদাবাটা আধা চা চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ, ধনেপাতা কুঁচি ১ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদ অনুযায়ী, তেল পরিমাণ মতো এবং পানি পরিমাণ মতো।

    যেভাবে করবেন : প্রথমে সিদ্ধ ডিম টুথপিক দিয়ে ফুটো করে হলুদ ও লবণ মাখিয়ে তেল গরম করে তাতে বাদামি করে ভেজে তুলন। ওই তেলে পেঁয়াজের টুকরার সঙ্গে সব বাটা ও গুঁড়া মশলা, লবণ এবং কিউব করা আনারসের সঙ্গে সিদ্ধ ডিম দিয়ে ভুনা ভুনা করে রান্না করে ধনেপাতা কুঁচি দিয়ে নামিয়ে পরিবেশন করুন।
    আনারসের চিকেন কোরমা

    উপকরণ
    মুরগির মাংস ১ কেজি, আনারস কুচি ১ কাপ, আদা বাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, তেল আধা কাপ, মরিচ গুঁড়ো আধা চা চামচ, তেজপাতা ২টি, দারুচিনি ৪ টুকরা, এলাচ ৪টি, লবণ পরিমাণমতো, লবঙ্গ ৪টি, চিনি ২ চা চামচ, বেরেস্তা ২ টেবিল চামচ, কাঁচামরিচ ৫টি, কিশমিশ ১ টেবিল চামচ, পেস্তাবাদাম কুচি ১ টেবিল চামচ, ঘি ৩ টেবিল চামচ, গোলমরিচ ১ চা চামচ।

    যেভাবে তৈরি করবেন
    ১. মাংস, লবণ ও আনারস কুচি ১০ মিনিট মেখে রাখুন।
    ২. কড়াইয়ে তেল গরম করে এলাচ, দারুচিনি, গোলমরিচ, লবঙ্গ ও ফোড়ন দিয়ে সব মসলা কষিয়ে মাংস দিয়ে ভালো করে ভুনে অল্প পানি দিয়ে দমে বসান।
    ৩. ওপরে তেল উঠে এলে কাঁচামরিচ, কিশমিশ ও বাদাম কুচি দিয়ে নামিয়ে ফেলুন।

    আনারসের শরবত

    উপকরণ : ২০০ গ্রাম আনারস, বিট লবণ, চিনি, বরফ কুচি, পুদিনা পাতা।

    প্রস্তুত প্রণালি : আনারস ভালো মতো পরিষ্কার করে কেটে রস বের করে বেল্গন্ডারের মধ্যে নিন (এতে যেন কোনো খোসা বা বিচি না থাকে)। তাতে মিনারেল পানি, পরিমাণ মতো বিট লবণ, চিনি মিশিয়ে ২০ মিনিট ফ্রিজে রেখে দিন। ২০ মিনিট পর ফ্রিজ থেকে বের করে বরফ কুচি আর পুদিনা পাতা দিয়ে পরিবেশন করুন।
    আনারস টক ঝাল মিষ্টি

    উপকরণ
    আনারস ১টি, গুড় ২০০ গ্রাম, মরিচ ভাজা গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, পাঁচফোড়ন ভাজা গুঁড়া ১ চামচ, জিরা ভাজা গুঁড়া ১ চা চামচ, সরিষার তেল সিকি কাপ, লবণ স্বাদমতো, সিরকা আধা কাপ, বিটলবণ আধা চা চামচ, সোডিয়াম বেনজয়েট সিকি চামচ, সিরকা ১ টেবিল চামচ।

    যেভাবে তৈরি করবেন
    ১. আনারস লম্বা টুকরা করে কাটুন।
    ২. তেলে গুড় ও সিরকা মেশান।
    ৩. মিশে গেলে আনারস দিন। এরপর লবণ ও বিটলবণ দিন।
    ৪. ঘন হয়ে এলে ভাজা মসলা দিন।
    ৫. এরপর নামিয়ে সোডিয়াম বেনজয়েট সিরকায় গুলিয়ে দিয়ে দিন।
    আনারসী ইলিশ

    উপকরণ : ইলিশ মাছের টুকরো ৮-১০টি, আনারস ঝুরি করে কাটা ১ কাপ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, আস্ত কাঁচামরিচ ৫-৬টি, সরিষার তেল পরিমাণমতো, লবণ স্বাদ অনুযায়ী এবং পানি পরিমাণমতো। পেঁয়াজ মিহি করে কাটা হাফ কাপ। রসুন বাটা হাফ চা চামচ।

    প্রস্তুত প্রণালি : প্রথমে মাছের টুকরোগুলো ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। একটি প্যানে তেল নিয়ে পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচ হালকা ভেজে একে একে তাতে সব গুঁড়া ও বাটা মসলা, স্বাদ অনুযায়ী লবণ এবং ঝুরি করা আনারস দিয়ে মসলা ভালো করে কষিয়ে এতে মাছের টুকরো বিছিয়ে অল্প পানি দিয়ে না ঢেকে ১০ মিনিট রান্না করে নামিয়ে পরিবেশন করুন।
    সবজিতে আনারস

    উপকরণ : পটোল গোল গোল করে কাটা ১ কাপ, বরবটি ছোট ছোট টুকরা করা হাফ কাপ, আলু কিউব করে কাটা হাফ কাপ, গাজর কিউব করে কাটা হাফ কাপ, পেঁপে কিউব করে কাটা হাফ কাপ, টমেটো কিউব করে কাটা হাফ কাপ, আনারস কিউব করে কাটা ১ কাপ, কাঁচামরিচ আস্ত ৫-৬টি, হলুদ গুঁড়া হাফ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া হাফ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, পেঁয়াজ কিউব করে কাটা হাফ কাপ, তেল ও পানি পরিমাণমতো।

    প্রস্তুত প্রণালি : সব তরকারি আলাদা আলাদা করে অল্প সেদ্ধ করে নিন। একটি কড়াইয়ে তেল গরম করে এতে পেঁয়াজসহ সব উপকরণ দিয়ে ভালো করে কষিয়ে তারপর আনারস দিয়ে আবার কষিয়ে পরিমাণমতো পানি দিয়ে রান্না শেষ করে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
    আনারস চিংড়ি ভুনা

    উপকরণ : চিংড়ি মাছ ৫০০ গ্রাম, আনারস কিউব করে কাটা ১ কাপ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, আদা বাটা হাফ চা চামচ, লবণ স্বাদ অনুযায়ী, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, তেজপাতা ২টি, আস্ত কাঁচামরিচ ৫-৬টি, সরিষার তেল পরিমাণমতো এবং পানিও পরিমাণমতো।

    প্রস্তুত প্রণালি : প্রথমে মাছের খোসা ছাড়িয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। একটি কড়াইয়ে তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজের সঙ্গে অন্যান্য মসলা, লবণ, চিংড়ি মাছ এবং কিউব করা আনারস দিয়ে ভালো করে কষিয়ে ভুনা ভুনা করে রান্না করে নামিয়ে ফেলুন আনারস চিংড়ি ভুনা।

    ঝটপট আনারসী চিকেন

    উপকরণ : হাড়সহ মুরগির টুকরো করা ৫০০ গ্রাম, সিরকা ২ টেবিল চামচ, আদা বাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, লবণ স্বাদ অনুযায়ী, মরিচ গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, আস্ত কাঁচামরিচ ৫-৬টা, ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ, আনারস কিউব করে কাটা ২ কাপ, পেঁয়াজ কিউব করে কাটা ২ কাপ, তেল পরিমাণমতো এবং পানিও পরিমাণমতো।

    প্রস্তুত প্রণালি : মুরগির মাংস ভালো করে ধুয়ে তাতে সব উপকরণ ভালো করে মাখিয়ে ২ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিন (তেল বাদে)। তারপর একটি প্যানে তেল গরম করে তাতে আগে থেকে মাখানো মুরগির মাংসগুলো দিয়ে ভালো করে কষিয়ে মাখা মাখা করে ধনেপাতা কুচি ও কাঁচামরিচ দিয়ে নামিয়ে পরিবেশন করুন।
    ৬. ঠাণ্ডা হলে বয়ামে রেখে কয়েক দিন রোদে দিয়ে সংরক্ষণ করুন

    খালি পেটে লিচু: ভারত ও বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর কারণ

  • Share The Gag
  • খালি পেটে লিচু: ভারত ও বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর কারণ

    ভারতের বিহারে দুইবছর আগে মৌসুমী ফল লিচু খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ৩৯০ টি শিশু। তার মধ্যে ১২২ জনই মারা গিয়েছিল। গবেষকরা এখন বলছেন, খালিপেটে লিচু খাওয়ার ফলেই তাদের শরীরে বিষক্রিয়া দেখা দিয়েছিল।
    লিচু মৌসুমী ফল হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হলেও, ভারত ও বাংলাদেশে কিছু এলাকায় শিশুর মৃত্যুর কারণ হিসাবে লিচু থেকে বিষক্রিয়ার প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, ভারতের বিহার রাজ্য এবং বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অনেক শিশুর মৃত্যুর কারণ এটি।
    আন্তর্জাতিক চিকিৎসা বিজ্ঞান পত্রিকা 'ল্যানচেট'-এর সাম্প্রতিক সংখ্যায় প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্রে এই তথ্য উঠে এসেছে।
    খালি পেটে অনেকগুলি লিচু খেয়ে ফেললে শরীরে যে বিষ তৈরি হয়, তার ফলেই সুস্থ-সবল শিশুদের হঠাৎ খিঁচুনি আর বমি শুরু হয়। তারপরেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে তারা। আর এভাবে আক্রান্ত হওয়া অর্ধেকেরও বেশি শিশু মারা যায়।
    বিহারে 'লিচু রোগ' বা বাংলাদেশের কোথাও কোথাও 'অজানা কীটনাশকের প্রয়োগ'-কেই এসব শিশুমৃত্যুর কারণ বলে মনে করা হতো এতদিন।
    কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে যে মৃত্যুর কারণটা লুকিয়ে থেকেছে 'লিচু' ফলের মধ্যেই।
    লিচুতে হাইপোগ্লাইসিন নামে একটি রাসায়নিক থাকে, যা শরীরে শর্করা তৈরি রোধ করে। খালি পেটে অতিরিক্ত লিচু খেয়ে ফেললে শিশুদের শরীরে শর্করার পরিমাণ অত্যন্ত কমে গিয়ে তা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
    বিহারের ঘটনায় বিজ্ঞানীরা প্রত্যেকটি শিশুর চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য খুঁটিয়ে দেখে এই সিদ্ধান্তে এসেছেন যে ওই বাচ্চাগুলি আগের রাতে খাবার খায় নি অথবা কম খেয়েছিল। পরের দিন রাস্তায় পরে থাকা, নষ্ট হয়ে যাওয়া অথবা অপরিপক্ব লিচু একসঙ্গে অনেকগুলি খেয়ে ফেলেছিল তারা। তারপরেই অসুস্থ হয়ে পড়ে বাচ্চাগুলি।
    মে থেকে জুলাই মাসেই লিচুর ফলন হয়ে থাকে। আর ওই সময়েই শিশুরা ওই উপসর্গ নিয়ে মারাও যায় সবথেকে বেশী।
    বিজ্ঞানীরা বলছেন, অপরিপক্ব লিচু বা লিচুজাতীয় ফল খেয়েই যে বিষক্রিয়ায় বহু শিশু মারা যায়, সেটা অনেক দিন আগেই ক্যারিবিয়ান দ্বীপে গবেষণায় জানা গিয়েছিল।

    বিবিসি বাংলা

    পেয়ারা চাষ - ফলন / পেয়ারা ডাল বাঁকালেই ফলন হবে দশগুণ

  • Share The Gag
  • পেয়ারা চাষ - ফলন / পেয়ারা ডাল বাঁকালেই ফলন হবে দশগুণ

    পেয়ারা চাষ - ফলন
    পেয়ারা একটি পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও ঔষধি গুণসম্পন্ন ফল এবং এতে প্রচুর ভিটামিন-সি আছে। ফল হিসেবে খাওয়ার পাশাপাশি পেয়ারা দিয়ে জেলি, জ্যাম ও জুস তৈরি করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের সব জায়গাতেই কম-বেশি পেয়ারা জন্মে। বিভিন্ন জাতের দেশি পেয়ারা চাষের পাশাপাশি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর উদ্ভাবিত বিভিন্ন উন্নতজাতের পেয়ারার চাষও এখন দেশের অনেক জায়গায় হচ্ছে।

    আমাদের দেশে সারাবছরই বিভিন্ন ধরণের ফলের চাষ করা হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন ফলমূলের মধ্যে পেয়ারা অন্যতম। পেয়ারা হচ্ছে একটি গ্রীষ্মকালীন ফল। পেয়ারার ইংরেজি নাম Guava ও বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে Pisidium guajava.। বাংলাদেশের সব জায়গাতেই কম বেশি পেয়ারা জন্মে। তবে বাণিজ্যিকভাবে বরিশাল, ফিরোজপুর, ঝালকাঠি, চট্টগ্রাম, ঢাকা, গাজীপুর, কুমিল্লা, মৌলভীবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি প্রভৃতি এলাকায় এর চাষ হয়ে থাকে। বিভিন্ন জাতের দেশী পেয়ারা চাষের পাশাপাশি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর উদ্ভাবিত বিভিন্ন উন্নত জাতের পেয়ারার চাষও এখন দেশের অনেক জায়গায় হচ্ছে।

    পুষ্টিমান

    পেয়ারায় প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ আছে।

    ঔষধিগুণ

    শেকড়, গাছের বাকল, পাতা এবং অপরিপক্ক ফল কলেরা, আমাশয় ও অন্যান্য পেটের পীড়া নিরাময়ে ভালো কাজ করে। ক্ষত বা ঘাঁতে থেঁতলানো পাতার প্রলেপ দিলে উপকার পাওয়া যায়। পেয়ারা পাতা চিবালে দাঁতের ব্যথা উপশম হয়।

    বাজার সম্ভাবনা

    পেয়ারা একটি পুষ্টিকর ও ঔষধিগুণ সম্পন্ন ফল। ফলটি সুস্বাদু এবং এতে প্রচুর ভিটামিন-সি আছে। ফল হিসেবে খাওয়ার পাশাপাশি পেয়ারা দিয়ে জেলি, জ্যাম ও জুস তৈরি করা হয়ে থাকে। তাই আমাদের দেশে এই ফলের প্রচুর চাহিদা আছে। এছাড়া দেশের চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত উৎপাদন বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব। এক্ষেত্রে বিভিন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সহায়তা দিয়ে থাকে। পেয়ারা বিদেশে রপ্তানি করার জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

    পেয়ারা উৎপাদন কৌশল

    জাত

    বাংলাদেশে চাষকৃত পেয়ারার জাতের মধ্যে স্বরূপকাঠি, কঞ্চন নগর ও মুকুন্দপুরী উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত দু’টি উন্নত জাত হলো কাজী পেয়ারা ও বারি পেয়ারা-২।

    কাজী পেয়ারা

    ১. এ জাতটি ১৯৮৫ সালে অনুমোদন করা হয়।

    ২. গাছের আকার মধ্যম। ডাল বেশ লম্বা।

    ৩. বীজ লাগানোর এক বছরের মধ্যে ফল দিতে শুরু করে। এ জাতটি বছরে ২ বার ফল দেয়।

    ৪. ১ম বার মধ্য ফাল্গুন থেকে মধ্য বৈশাখ (মার্চ-এপ্রিল) মাসে ফুল আসে। যা মধ্য আষাঢ় থেকে মধ্য ভাদ্র (জুলাই-আগস্ট) মাসে পাকে। ২য় বার মধ্য ভাদ্র থেকে মধ্য আশ্বিন (সেপ্টেম্বর) মাসে ফুল আসে এবং মধ্য মাঘ থেকে মধ্য ফাল্গুন (ফেব্রুয়ারি) মাসে পাকে।

    ৫. ফলের আকার বেশ বড়। ওজন ৪০০-৫০০ গ্রাম।

    ৬. পাকা ফল হলুদাভ সবুজ এবং ভেতরের শাঁস সাদা।

    ৭. প্রতি ফলে ৩৪০-৩৬০টি বীজ থাকে।৮.

    কাজী পেয়ারা খেতে সামান্য টক।

    বারি পেয়ারা-২

    ১. এ জাতটি ১৯৯৬ সালে অনুমোদন করা হয়।

    ২. গাছ ছাতাকৃতি ও কাজী পেয়ারা গাছের চেয়ে ছোট হয়। ৎ

    ৩. পাতা সামনের দিক সুঁচালো।

    ৪. এ জাতটি বর্ষাকালে ও শীতকালে ২ বার ফল দেয়।

    ৫. ফল আকারে ছোট, ওজন ২৩০-২৫০ গ্রাম ও গোলাকার।

    ৬. পাকা ফল হলুদাভ সবুজ এবং ভেতরের শাঁস সাদা।

    ৭. পেয়ারা খেতে সুস্বাদু ও মিষ্টি।

    তথ্যসূত্র : কৃষি প্রযুক্তি হাতবই, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, জয়দেবপুর, গাজীপুর।

    * চাষের উপযোগী পরিবেশ ও মাটি

    মাটির প্রকৃতি
    জলবায়ু
    বেলে দো-আঁশ মাটি পেয়ারা চাষের জন্য সবচেয়ে ভালো।
    জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি থেকে আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি (জুন-সেপ্টেম্বর) সময়ে পেয়ারার চারা রোপণ করার জন্য উপযুক্ত সময়।

    জমি তৈরি

    ১. উর্বর বেলে দো-আঁশ মাটি পেয়ারা চাষের জন্য সবচেয়ে ভালো। উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমি এজন্য নির্বাচন করতে হবে।

    ২. চাষ ও মই দিয়ে জমি সমতল ও আগাছামুক্ত করে নিতে হবে।

    চারা রোপণ পদ্ধতি

    ১. সমতল ভূমিতে বর্গাকার ও ষড়ভূজি এবং পাহাড়ি ভূমিতে কন্টুর পদ্ধতিতে পেয়ারা চাষ করা যায়।

    ২. সারি থেকে সারির দূরত্ব ৩ মিটার রাখতে হবে।

    ৩. চারা থেকে চারা ৪ মিটার দূরত্বে রোপণ করতে হবে।

    ৪. গর্তের আকার ৫০ সে.মি. চওড়া ও ৫০ সে.মি. দীর্ঘ রাখতে হবে।

    ৫. চারা রোপণের পর খুঁটি ও বেড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

    সার প্রয়োগ

    কৃষকদের মতে গুণগত মানসম্পন্ন ভালো ফলন পেতে হলে পেয়ারা গাছে যতটুকু সম্ভব জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। মাটি পরীক্ষা করে মাটির ধরণ অনুযায়ী সার প্রয়োগ করতে হবে। তবে জৈব সার ব্যবহার করলে মাটির গুণাগুণ ও পরিবেশ উভয়ই ভালো থাকবে। বাড়িতে গবাদি পশু থাকলে সেখান থেকে গোবর সংগ্রহ করা যাবে। নিজের গবাদি পশু না থাকলে পাড়া-প্রতিবেশি যারা গবাদি পশু পালন করে তাদের কাছ থেকে গোবর সংগ্রহ করা যেতে পারে। এছাড়া ভালো ফলন পেতে হলে জমিতে আবর্জনা পচা সার ব্যবহার করা যেতে পারে। বাড়ির আশেপাশে গর্ত করে সেখানে আবর্জনা, ঝরা পাতা ইত্যাদির স্তুপ করে রেখে আবর্জনা পচা সার তৈরি করা সম্ভব।

    সেচ

    ১. মাটিতে প্রয়োজনীয় রসের অভাব দেখা দিলে বা খরার সময় ২-৩ বার পানি সেচ দিতে হবে।

    ২. অন্যদিকে অতিবৃষ্টি বা জলাবদ্ধতা দেখা দিলে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

    রোগবালাই

    ১. পেয়ারা গাছের পাতা, কান্ড, শাখা-প্রশাখা ও ফল এ্যানথ্রাকনোজ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। প্রথমে পেয়ারা গাছে ছোট ছোট বাদামি রঙের দাগ দেখা যায়। দাগগুলো ধীরে ধীরে বড় হয়ে পেয়ারা গাছে ক্ষত সৃষ্টি করে। আক্রান্ত ফল পরিপক্ক হলে অনেক সময় ফেটে যায়। তাছাড়া এ রোগে আক্রান্ত ফলের শাঁস শক্ত হয়ে যায়। গাছের পরিত্যক্ত শাখা-প্রশাখা, ফল এবং পাতায় এ রোগের জীবাণু বেঁচে থাকে। বাতাস ও বৃষ্টির মাধ্যমে পেয়ারার এ্যানথ্রাকনোজ রোগ ছড়ায়।

    ২. ডাইবেক রোগে গাছের কচি ডাল আগা থেকে শুকিয়ে মরে যেতে থাকে।

    ৩. সাদা মাছি পোকা পাতার নিচের দিকে আক্রমণ করে রস চুষে খায়। এর ফলে পাতায় সুটিমোল্ড ছত্রাক জন্মে এবং পাতা ঝরে যায়।

    ৪. স্ত্রী মাছি পোকা ফলের খোসার ওপর ডিম পাড়ে। এর ডিম ফুটে কীড়া বের হয়ে ফল ছিদ্র করে ভিতরে প্রবেশ করে এবং ফল খেয়ে নষ্ট করে ফেলে।

    প্রতিকার

    এ সব রোগ দমনের জন্য স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত জৈব কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে পোকা দমন না হলে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তা অথবা উপজেলা কৃষি অফিসে পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করা যেতে পারে।

    চাষের সময়ের পরিচর্যা

    ১. ডাল ছাঁটাই : পেয়ারা সংগ্রহের পর ভাঙা, রোগাক্রান্ত ও মরা শাখা-প্রশাখা ছাঁটাই করে ফেলতে হবে। তাতে গাছে আবার নতুন নতুন কুঁড়ি জন্মাবে।

    ২. ফল পাতলাকরণ : কাজী পেয়ারা ও বারি পেয়ারা-২ জাতের গাছ প্রতিবছর প্রচুর সংখ্যক ফল দিয়ে থাকে। ফল পাতলা না করলে গাছ ভেঙ্গে যায়। তাই মার্বেল আকৃতি হলেই কমপক্ষে ৫০ ভাগ ফল ছাঁটাই করতে হবে। এতে ফলের আকার আকর্ষণীয় হয়।

    ফল সংগ্রহ

    সবুজ থেকে হলুদে-সবুজ রঙ ধারণ করলে ফল সংগ্রহ করতে হবে।

    উৎপাদিত ফলের পরিমাণ
    প্রতিটি গাছ থেকে বছরে গড়ে প্রায় ১০০০ থেকে ২০০০টি পেয়ারা পাওয়া যায়।

    পেয়ারা উৎপাদন খরচ

    * ১বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে ফসল উৎপাদন খরচ

    খরচের খাত
    পরিমাণ
    আনুমানিক মূল্য (টাকা)
    চারা
    ১০০টি
    ১০০০
    জমি তৈরি
    ৬টি মাদা তৈরি
    ৯০০
    পানি সেচ
    ১ বার
    ২০০
    শ্রমিক
    ১০ জন
    ১৫০০
    সার
    প্রয়োজন অনুসারে জৈব সার

    এই সার বাড়িতেই তৈরি করা সম্ভব। তাই এর জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন নেই।
    বিকল্প হিসেবে (প্রতি গর্তে সারের পরিমাণ)
    টিএসপি=১৫০-২০০ গ্রাম (১ কেজি=২৩ টাকা)
    এম পি=৭৫-১০০ গ্রাম (১ কেজি=২৮ টাকা)
    ১০
    কীটনাশক
    প্রয়োজন অনুসারে জৈব বা রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার
    নিজস্ব/দোকান
    জমি ভাড়া
    একবছর
    ৪০০০
    মাটির জৈব গুণাগুণ রক্ষা ও উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য জৈব সার ও জৈব কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে লাভের পরিমাণ বাড়তে পারে।

    তথ্যসূত্র : মাঠকর্ম, চাটমোহর, পাবনা, অক্টোবর ২০০৯

    মূলধন

    এক বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে পেয়ারা চাষের জন্য প্রায় ৬০০০ টাকার প্রয়োজন হবে। মূলধন সংগ্রহের জন্য ঋণের প্রয়োজন হলে নিকট আত্মীয়স্বজন, সরকারি ও বেসরকারি ঋণদানকারী ব্যাংক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (এনজিও)- এর সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে। সরকারি ও বেসরকারি ঋণদানকারী ব্যাংক বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (এনজিও) শর্ত সাপেক্ষে ঋণ দিয়ে থাকে।

    প্রশিক্ষণ
    পেয়ারা চাষ করার আগে অভিজ্ঞ কারও কাছ থেকে পেয়ারা চাষ সম্পর্কে খুঁটিনাটি জেনে নিতে হবে। এছাড়া চাষ সংক্রান্ত কোন তথ্য জানতে হলে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তা অথবা উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করা যেতে পারে। এছাড়া বাংলাদেশে প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আছে। এসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্ধারিত ফি-এর বিনিময়ে কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।
    পেয়ারা একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল। বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলে পেয়ারা জন্মে। তাই বাণিজ্যিক ভিওিতে পেয়ারা চাষ করে পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি অতিরিক্ত উৎপাদন বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করা সম্ভব।

    সচরাচর জিজ্ঞাসা

    প্রশ্ন ১ : পেয়ারা কোন ঋতুর ফল?
    উত্তর : পেয়ারা একটি গ্রীষ্মকালীন ফল।

    প্রশ্ন ২ : কখন পেয়ারা সংগ্রহ করতে হয়?
    উত্তর : সবুজ থেকে হলদে-সবুজ রং ধারণ করলে ফল সংগ্রহ করতে হয়।

    প্রশ্ন ৩ : পেয়ারায় কোন ভিটামিন আছে?
    উত্তর : পেয়ারায় প্রচুর ভিটামিন সি আছে।


    পেয়ারা ডাল বাঁকালেই ফলন হবে দশগুণ
    বর্ষাকালের অন্যতম জনপ্রিয় ফল পেয়ারা। আমাদের দেশে ফলটির চাহিদা অনেক। দীর্ঘ ২৭ মাস গবেষণার পর সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে তথ্য দিলেন বাউকুল উদ্ভাবক ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এম.এ. রহিম।
    পেয়ারা ডাল বাঁকালেই ফলন হবে দশগুণ। তাছাড়া একই প্রযুক্তিতে বছরের বার মাসই ফল ধরানো সম্ভব। ফলের মৌসুমে গাছের ফুল ছিড়ে দিয়ে এ প্রক্রিয়াকে আরো প্রভাবিত করা যায়, যার ফলে সারা বছরই ফলের মৌসুমের তুলনায় কমপক্ষে আট থেকে দশগুণ ফল ধরবে গাছে।

    উদ্ভাবিত প্রযুক্তি সম্পর্কে ড. রহিম জানান, সাধারণত বর্ষা ও শীত ঋতুতে গাছে পেয়ারা হয়। তবে শীত অপেক্ষা বর্ষাকালে ফলন একটু বেশি হয়। বর্ষাকালে জলীয়ভাব বেশি থাকায় ফলের মিষ্টতা ও অন্যান্য গুণাগুণ শীতকালের ফলের থেকে অনেকাংশেই কম থাকে। তাছাড়া জলীয়ভাব বেশি থাকায় পাকা ফল তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়, যার ফলে দাম থাকে কম। কিন্তু পরীক্ষা করে দেখা গেছে সকল জাতের পেয়ারার গুণাগুণ শীতকালে বেড়ে যায়, রোগ ও পোকার আক্রমণও কম থাকে। ফলের আকৃতি এবং রঙ সবদিক থেকেই সুন্দর হওয়ায় এই সময়ে পেয়ারার দামও থাকে বেশি। এসব দিক বিবেচনায় রেখেই বর্ষাকাল বাদে কীভাবে অন্যান্য ঋতুতে অত্যাধিক হারে উৎপাদন বাড়ানো যায় সে ব্যাপারে গবেষণা শুরম্ন হয়। এ লক্ষ্যে ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে গবেষণার মাধ্যমে ‘গাছের ডাল বাঁকানো’ পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্ম পস্নাজম সেন্টারে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে প্রতিটি গাছ থেকে সাধারণ গাছের তুলনায় কমপক্ষে আট থেকে দশগুণ বেশি পেয়ারা উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে।

    এছাড়াও পেয়ারার মৌসুমে গাছের ফুল ও ফল ছিড়ে দিয়ে এ প্রক্রিয়াকে আরো প্রভাবিত করা যায় বলে জানান তিনি। এ সম্পর্কে বাকৃবির জার্ম পস্নাজম সেন্টারের প্রধান গবেষণা সহযোগী কৃষিবিদ শামসুল আলম মিঠু বলেন, বছরে দু’বার অর্থাৎ গ্রীষ্মকালে এবং হেমনত্মকালে শাখা-প্রশাখার নিয়ন্ত্রিত বিন্যাসের মাধ্যমে সারা বছর পেয়ারার ফুল ও ফল ধারণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। গাছের বয়স দেড় থেকে দু’বছর হলেই এই পদ্ধতি শুরম্ন করা যাবে এবং পাঁচ থেকে ছয় বছর পর্যনত্ম এই পদ্ধতিতে ফলন বাড়ানো সম্ভব।

    ডাল বাঁকানোর ১০ থেকে ১৫ দিন আগে গাছের গোড়ায় সার ও পানি দেওয়া হয়। ডাল বাঁকানোর সময় প্রতিটি শাখার অগ্রভাগের প্রায় এক থেকে দেড় ফুট অঞ্চলের পাতা ও ফুল-ফল রেখে বাকি অংশ ছেটে দেওয়া হয়। এরপর ডালগুলোকে সুতা দিয়ে বেঁধে তা বাঁকিয়ে মাটির কাছাকাছি করে সাথে অথবা খুঁটির মাধ্যমে মাটিতে বেঁধে দেওয়া হয়। গ্রীষ্মকালে মাত্র দশ থেকে বার দিন পরেই নতুন ডাল গজানো শুরম্ন হয়। নতুন ডাল ১ সে.মি. লম্বা হলে বাঁধন খুলে দেওয়া হয়। আর হেমনত্মকালে নতুন ডাল গজাতে বিশ থেকে পঁচিশ দিন সময় লাগে। ডাল বাঁকানোর ৪৫ থেকে ৬০ দিন পরে ফুল ধরা শুরম্ন হয়। এভাবে গজানো প্রায় প্রতি পাতার কোলেই ফুল আসে। এ পদ্ধতিতে সারা বছরই ফলন পাওয়া যায়। তাছাড়া ফলের মিষ্টতা বেশি এবং রঙ আকৃতি সুন্দর হওয়ায় পেয়ারার বাজার দরও বেশি পাওয়া যায়

    Friday, June 2, 2017

    খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ১৪ হাজার ৪০২ কোটি টাকার বরাদ্দের প্রস্তাব

  • Share The Gag
  • ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ১৪ হাজার ৪০২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে উন্নয়ন খাতে ৪২৩ কোটি টাকা এবং অনুন্নয় খাতে ১৩ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে এই বরাদ্দ (সংশোধিত) ছিল ১১ হাজার ৯৭৯ কোটি টাকা।


    প্রস্তাবিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে মঞ্জুরী ও বরাদ্দের দাবিসমূহে বলা হয়েছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের এই ঘোষিত বাজেটে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে। এ সব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইন্সটিটিউশনালাইজেশন অব ফুড সেফটি ইন বাংলাদেশ ফর সেফার ফুড প্রকল্প বাস্তবায়ন, সারা দেশে কৌশলগত স্থানে ১ লাখ ৫ হাজার মে. টন ধারণ ক্ষমতার ১৪৮টি নতুন খাদ্য গুদামও অবকাঠামো নির্মাণ বাস্তবায়ন, আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন, তুরস্কের সহায়তায় স্টিল সাইলো নির্মাণ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।


    নিরাপদ ও পুষ্টিমান সম্পন্ন পর্যাপ্ত খাদ্য নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, এই লক্ষ্য অর্জনে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।


    তিনি বলেন, সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্য ধারণক্ষমতা ২০২০ সালের মধ্যে ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীতকরণে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য স্বল্পমূল্যে খোলা বাজারে খাদ্য শস্য বিক্রয় এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনীর আওতায় খাদ্যশস্য বরাদ্দের কর্মসূচি আমরা অব্যাহত রাখবো। সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৮ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য শস্য সংগ্রহ ও ২৭ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য শস্য বিতরণ এবং খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে বছরের ৫ মাস স্বল্প আয়ের ৫০ লাখ পরিবারকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে খাদ্য সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মুহিত।


    (বাসস)

    কৃষিতে বরাদ্দের প্রস্তাব ১৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা

  • Share The Gag
  • ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের বাজেটে কৃষি মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ১৩ হাজার ৬০৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উন্নয়ন খাতে ১ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা এবং অনুন্নয়ন খাতে ১১ হাজার ৮শ ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।


    ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের বাজেটে এই বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার ৩শ ৭৮ কোটি টাকা। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, কৃষি উত্পাদন বৃদ্ধির জন্য স্বাভাবিক ভর্তুকির অতিরিক্ত হিসেবে কৃষিজাত সামগ্রী রপ্তানির ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।


    জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, সেচযন্ত্রে ব্যবহূত বিদ্যুত্ বিলের ওপর ২০ শতাংশ হারে আমরা ছাড় প্রদান করছি। বর্তমানে কৃষি যান্ত্রিকীকরণে উন্নয়ন সহায়তার হার হাওর ও দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় ৭০ শতাংশ এবং দেশের অন্যান্য এলাকার জন্য ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিগত এপ্রিল মাসের আকস্মিক বন্যায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা এবং কিশোরগঞ্জ এলাকায় খাদ্যশস্য উত্পাদন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সারাদেশের খাদ্য উত্পাদন মোটামুটিভাবে লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে বলে আমরা আশা করছি ।


    অর্থমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে কৃষিখাতে নতুন প্রযুক্তির সহায়তায় মত্স্য ও শাকসবজি উত্পাদনে আমরা যথেষ্ট কৃতিত্ব অর্জন করেছি। পাটের উন্মোচিত জেনোম তথ্য কাজে লাগিয়ে স্বল্প দৈর্ঘ্য ও নিম্নতাপমাত্রা সহিষ্ণু তোষা পাটের দুটি এবং দেশি পাটের একটি অগ্রবর্তী লাইন উদ্ভাবন করা হয়েছে।

    মৎস্য ও প্রাণিসম্পদে বরাদ্দ ১৯২৯ কোটি টাকা

  • Share The Gag
  • ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ১ হাজার ৯২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উন্নয়ন খাতে ১ হাজার ১৫ কোটি টাকা এবং অনুন্নয় খাতে ৯’শ ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের বাজেটে এই বরাদ্দ (সংশোধিত) ছিল ১ হাজার ৬শ’ ৬২ কোটি টাকা।

    ১ জুন বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের এই বাজেটে ঘোষিত বাজেটের আওতায় বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।

    এ সব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ মেরিন ফিসারিজ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রকল্প ; গোপালগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ কিশোরগঞ্জ জেলায় মৎস্য ডিপ্লোমা ইনুস্টটিউট স্থাপন প্রকল্প ; মানসম্মত মৎস্যবীজ ও পোনা উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মৎস্য স্থাপনা পুনর্বাসন ও উন্নয়ন প্রকল্প ; রংপুর বিভাগে মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্প, ব্রুড ব্যাংক স্থাপন প্রকল্প প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

    সোর্স- (বাসস)

    Thursday, June 1, 2017

    ভিডিও তে দেখুন রেড লেডী পেঁপের বীজ দেখতে কেমন

  • Share The Gag
  • Original Red Lady Papaya Seeds (Taiwan) অরিজিনাল রেড লেডী পেঁপে বীজ

    Original Red Lady Papaya Seeds (Taiwan) অরিজিনাল রেড লেডী পেঁপে বীজ. এই ভিডিও টি দেখুন রেড লেডি অরিজিনাল পেঁপের বীজ কেমন তা দেখা যাবে।

     

    https://youtu.be/dumA8fcpCbQ