Thursday, May 11, 2017

মুরগি এখন বিক্রেতার কাধে কেন?

  • Share The Gag
  • অভিনব পন্হায় ওজন বাড়িয়ে বিক্রি ও প্রতারনার দায়ে শেষ পর্যন্ত বিক্রেতার কাঁধে চড়েছে দেশী মোরগ-মুরগীর দল। 

    কক্সবাজার পৌরসভার বাহারছড়া বাজারে অসাধু মুরগী বিক্রেতাদের এ অভিনব শাস্তি দিয়েছেন বেরসিক স্হানীয় জনগন ও ক্রেতারা। মুরগীকে নিষ্ঠুর পন্হায় বেশী খাবার খাইয়ে ওজন বাড়িয়ে বিক্রি করার মত প্রতারনার দায়ে ১১ মে (বৃহস্পতিবার) সকালে এ ব্যবস্হা নেয়া হয়।

    ক্রেতারা জানান, পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে অন্যদিনের তুলনায় বাজারে দেশী মুরগী ও গরু-মহিষের গোশতের চাহিদা বেশী ছিল। এ সুযোগে অসাধু ও লোভী মুরগী বিক্রেতারা দেশী মুরগীকে মাত্রাতিরিক্ত খাবার খাওয়ানোর মাধ্যমে ওজন বাড়িয়ে বিক্রি করছিল। এতে প্রকৃত ওজন ও দামের চেয়ে অন্ততঃ দেড়গুন দাম দিতে বাধ্য হয়ে প্রতারিত হচ্ছিলেন নিরূপায় ক্রেতারা। এ সিস্টেমে অনেক ক্ষেত্রে মুরগীর প্রকৃত ওজন ও দামের চেয়ে দেড়/ দুইগুন দাম নেয়া হচ্ছিল। এ অবস্হায় ক্রেতাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সকালে এ্যাকশনে নামেন এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা। বাজারে তোলা সব মুরগীর খাদ্যথলিতে এসময় মাত্রাতিরিক্ত ভারী ও টাইট খাদ্য দেখা যায়। তখন নাজির হোসেন ও গিয়াস উদ্দীনসহ কয়েকজন মুরগী বিক্রেতাকে আটক করেন জনগন। অনৈতিক পন্হায় মুরগীর ওজন বাড়িয়ে অভিনব প্রতারনার দায়ে অসাধু বিক্রেতাদের কাঁধে মুরগী তুলে দিয়ে বাজারে ঘুরিয়ে শাস্তি দেয়া হয়। অন্য কয়েকজন মুরগী বিক্রেতা এসময় দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। পৌর কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম, মোঃ সিরাজ, সিলো, দুলাল ও ফরিদসহ বাহারছড়ার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এ সময় উপস্হিত ছিলেন।

    স্বল্প পুঁজিতে লাভজনক মুরগির খামার

  • Share The Gag
  • স্বল্প পুঁজিতে গড়ে উঠতে পারে লাভজনক মুরগির খামার
    কম সময়, কম পরিশ্রম আর স্বল্প পুঁজিতে মুরগির খামার করা যায়। ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা নিয়েই শুরু করা যায় এ ব্যবসা। মাত্র দেড় থেকে তিন মাসের মধ্যে উঠে আসে আয়। মুরগির মাংস ও ডিমের পাশাপাশি মুরগির বিষ্ঠা জৈব সার হিসেবে বিক্রি করা যায়। আর পরিবারের লোকজনের মাধ্যমেই পরিচালনা করা যায় মুরগির খামার।

    নব্য ও সীমিত সাক্ষরদের জন্য জীবিকা দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক শিক্ষা উপকরণ ‘মুরগি পালন’-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে। কমনওয়েলথ অব লার্নিংয়ের সহায়তায় ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের ‘সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ এ শিক্ষা উপকরণ প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে এ বুকলেটের তথ্য নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে অ্যানিমেশন ভিডিও। এতে মুরগির খামার তৈরির প্রক্রিয়া ও বাজারজাতকরণের কৌশল তুলে ধরা হয়েছে। বুকলেটটি সহজ ভাষায় লেখা। যে কেউ বইটি পড়ে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে পারবেন। ‘কাজ করি জীবন গড়ি’ শিরোনামের এ প্রকাশনায় মুরগি খামারের গুরুত্ব সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়। মুরগির মাংস আমাদের আমিষ জাতীয় খাদ্যের চাহিদা পূরণ করে। মুরগির বিষ্ঠা ও হাঁড়ের গুঁড়া জমিতে সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর পাখনা দিয়ে ধুলাবালি ঝাড়ার ঝাড়ন তৈরি হয়। মুরগির নাড়িভুঁড়ি মাছের অতি পছন্দনীয় খাবার। লাভজনক বলে এখন গ্রাম ও শহরের অনেকেই মুরগির খামার করছেন। উদ্যোক্তা যে কেউ মুরগির খামারের ব্যবসায় নেমে পড়তে পারেন বলে বুকলেটে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, ১০০ থেকে ১৫০টি মুরগি পালনের জন্য বাড়ির আশপাশে মাত্র ২০ ফুট লম্বা এবং ১০ ফুট চওড়া জায়গা হলেই যথেষ্ট। মুরগির খামারের জন্য স্থায়ী উপকরণ হিসেবে ঘর তৈরি, পানির ছোট পাত্র, কোদাল, লোহা বা তারের জাল, পলিথিন ইত্যাদি কিনতে প্রায় ১৮ হাজার টাকার প্রয়োজন। চলতি উপকরণ ঝুড়ি, ধানের তুষ, কাঠের গুঁড়া, বৈদ্যুতিক বাল্ব, বৈদ্যুতিক তার, রশি ইত্যাদি কিনতে লাগবে প্রায় ১ হাজার টাকা।

    বুকলেটে উল্লেখ রয়েছে- মুরগির খামারের জন্য ২০ ফুট লম্বা, ১০ ফুট চওড়া একটি ঘর তৈরি করতে হবে। ঘরের মেঝে বা পাটাতন মাটি থেকে দেড় থেকে দুই ফুট উঁচু এবং সমান হতে হবে। বাঁশ, কাঠের তক্তা, মাটি বা ইটের দেয়াল দিয়ে ঘর তৈরি করা যায়। তবে বাঁশের চাটাই দিয়ে ঘর তৈরি করাই ভালো। কারণ এতে কম খরচ হয়। ঘরটি হতে হবে ৭ থেকে ৮ ফুট উঁচু। ঘর তৈরি শেষে দেড় থেকে তিন ফুট উঁচু মোটা তারের নেট দিয়ে ঘরটি ঘিরে দিতে হবে। ২০০ বর্গফুট জায়গায় ১৫০ থেকে ১৭০টি ব্রয়লার এবং ১২০ থেকে ১২৫টি লেয়ার মুরগি পালন করা যায়। বুকলেটে উল্লেখ করা হয়, মুরগির খামারে ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগি রাখা হয়। মাংসের জন্য ব্রয়লার এবং ডিমের জন্য লেয়ার মুরগি পালন করা হয়। ভালো জাতের মুরগি ছাড়া ব্যবসায় লাভ করা যায় না।

    মাংসের জন্য ব্রয়লার মুরগির একদিন বয়সী বাচ্চা কিনতে হবে। ডিমের জন্য লেয়ার মুরগির একদিন বয়সী বাচ্চা কিনতে হবে। ভালো কোম্পানির কাছ থেকে বাচ্চা কিনতে হবে। কেনার আগে জেনে নিতে হবে বাচ্চার টিকা দেয়া আছে কিনা। একটি মুরগি প্রতিদিন গড়ে ১০০ গ্রাম খাবার খায়। খাবারের মধ্যে থাকে গম, ভুট্টা, চালের কনা, চালের কুড়া, গমের ভুসি, তিলের খৈল, শুঁটকি মাছের গুঁড়া, ঝিনুক ও শামুকের গুঁড়া।

    মুরগি পালনের ক্ষেত্রে রোগবালাইয়ের প্রতি বিশেষ নজর রাখতে হয়। রানীক্ষেত, বসন্ত, রক্ত আমাশয়, কলেরা, বার্ড-ফ্লু মুরগির প্রধান রোগ। এসব রোগে আক্রান্ত হলে মুরগি মারা যায়। এজন্য খুব সতর্ক থাকতে হয়। শীতের সময় মুরগি ও বাচ্চাকে ঠা-া থেকে রক্ষা করতে হবে। গরমের সময় মুরগির ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। মুরগিকে পচা ও বাসি খাবার খাওয়ানো যাবে না। পানির পাত্রে সব সময় পরিষ্কার পানি দিতে হবে। রোগে আক্রান্ত মুরগিকে টিকা দেয়া যাবে না। মুরগি মারা গেলে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে। মুরগির ঘরে বাইরের জুতা পরে ঢোকা যাবে না।

    খামারে মুরগি পালনের পাশাপাশি এগুলো বাজারে বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে। জেলা বা উপজেলা শহর, ছোট-বড় বাজার, গ্রাম, পাড়া-মহল্লায় মুরগির প্রচুর পরিমাণে চাহিদা রয়েছে। এসব স্থানে মুরগি ঝুড়িতে ভরে সরবরাহ করা যায়। ১০০টি ব্রয়লার মুরগি পালন করে দুই মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব। পুঁজি লাগবে প্রায় ২২ হাজার টাকা। অন্যদিকে লেয়ার মুরগি ২০ সপ্তাহ বা পাঁচ মাস বয়স থেকে ডিম পাড়া শুরু করে। এ মুরগি টানা এক বছর বা তারও বেশি সময় ধরে ডিম দেয়। খরচ বাদে লেয়ার মুরগি পালনে দুই বছরে লাভ প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকা। শুরু করতে পুঁজি লাগবে ১ লাখ টাকার কিছু বেশি।

    তথ্য সূত্র- ঢাকা আহছানিয়া মিশন

    জাফরান চাষ পদ্ধতি ও সম্ভাবনা

  • Share The Gag
  • জাফরান পৃথিবীর অন্যতম দামী মসলা, ইহা ‘রেড গোল্ড’ নামেও পরিচিত। প্রাচীন যুগে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জাফরানের সুগন্ধ ও উজ্জ্বল রঙের গুরুত্ব অনুধাবন করে এ জাফরান ব্যবহার সম্ভ্রান্ত পরিবারের মধ্যে ব্যাপক প্রচলন ছিল। এ ফসলের আদিস্থান গ্রীস। জাফরানের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় তা ধীরে ধীরে কান্দাহার, খোরাসান, কাশ্মীরের বনেদী মহলে ব্যবহারের প্রয়োজনে ভারত উপমহাদেশে এর বিস্তার ঘটে। ইউরোপিও ইউনিয়নভুক্ত অনেক দেশেই জাফরান চাষ প্রচলন আছে। আফগানিস্থান, ইরান, তুরস্ক, গ্রীস, মিশর, চীন এ সব দেশে কম বেশি জাফরানের চাষ হয়ে থাকে। স্পেন ও ভারতের কোন কোন অংশে বিশেষ করে কাশ্মীরে এ ফসলের চাষ অনেক বেশি। তবে অন্য দেশের তুলনায় স্পেনে জাফরান উৎপাদন পরিমাণ অত্যাধিক। রপ্তানীকারক অন্যতম দেশ হিসাবেও স্পেন সুপরিচিত। বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় শতকরা ৭০ ভাগ জাফরান স্পেন রপ্তানী করে থাকে।

    যে সব দেশ স্পেন থেকে জাফরান আমদানী করে তাদের মধ্যে জার্মান, ইতালি, আমেরিকা, সুইজারল্যান্ড, ইউকে ও ফ্রান্স অন্যতম। ফুটন্ত ফুলের গর্ভদন্ড (স্টিগমা) সংগ্রহ করে তা থেকে জাফরান প্রাপ্তি একটা ব্যয় বহুল ও প্রচুর শ্রম নির্ভর (লেবার ইনটেনসিভ) কাজ। একই কারণে এ দামী মসলা চাষে অনেকেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। প্রথম বছর রোপিত সব গাছে ফুল আসেনা, এ সময় প্রায় শতকরা ৪০-৬০ ভাগ গাছে ফুল আসতে পারে। এক গ্রাম জাফরান পেতে saffronপ্রায় ১৫০টা ফুটন্ত ফুলের প্রয়োজন হয়। পরের বছর একেক গাছ থেকে প্রায় ২-৩টা করে ফুল দেয়। তবে তৃতীয় বছর থেকে প্রতি বছরে জাফরান গাছ ৫-৭ টা করে ফুল দিতে সক্ষম।

    জাফরানের ইংরেজি নাম ‘সাফরন’, ক্রোকোআইডি (Crocoideae)পরিবার ভুক্ত। এর বৈজ্ঞানিক নাম : Crocus sativus| । এ গাছ লম্বায় প্রায় ৩০ সে.মিটার হয়। প্রতি ফুলে ৩টা স্ত্রী অঙ্গ (Stigma) থাকে, তবে তাতে পুরুষ অঙ্গ (Anther) থাকে মাত্র ৩টা। খাবার সু-স্বাদু করার জন্য বিশেষ করে বিরিয়ানী, কাচ্চী, জর্দা ও কালিয়াসহ নানা পদের দামী খাবার তৈরীতে জাফরান ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও বিয়ের অনুষ্ঠানে জর্দা তৈরীতে প্রাকৃতিক আকর্ষণীয় রং আনতে এবং দামী বাহারী পান বিপণনে জাফরান অন্যতম উপাদান। মুখমন্ডল আকর্ষণীয় করতে ও ত্বকের উজ্জ্বল রং আনার জন্য স্বচ্ছল সচেতন রমণীরা প্রাচীন কাল থেকে জাফরান ব্যবহার করে থাকে। বিউটি পার্লারে রূপচর্চায় জাফরান অন্যতম উপাদান হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

    বংশ বিস্তার: গাছের মোথা বা বালব (অনেকটা পেঁয়াজের মত) সংগ্রহ করে তা বংশ বিস্তারের কাজে ব্যবহার করা হয়। এক বছর বয়স্ক গাছ থেকে রোপন উপযোগী মাত্র দু’টা মোথা (ইঁষন) পাওয়া যায়। তবে ৩-৪ বছর পর একেক গাছ থেকে ৫-৭টা মোথা পাওয়া যেতে পারে। নূতন জমিতে রোপন করতে হলে ৩-৪ বছর বয়স্ক গাছ থেকে মোথা সংগ্রহ করে তা জমিতে রোপন করতে হবে। একই জমিতে ৩-৪ বছরের বেশি ফসল রাখা ঠিক নয়। মোথা বা বালব উঠিয়ে নূতন ভাবে চাষ ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

    জমি নির্বাচন: প্রায় সব ধরনের জমিতে জাফরান ফলানো যায়। তবে বেলে-দোঁআশ মাটি এ ফসল চাষে বেশি উপযোগী। এঁটেল মাটিতে জাফরানের বাড় বাড়ন্ত ভাল হয় না, তবে এ ধরনের মাটিতে কিছু পরিমান বালু ও বেশি পরিমাণ জৈব সার মিশিয়ে এ মাটিকে উপযোগী করা যায়। জলাবদ্ধ সহনশীলতা এ ফসলের একেবারেই নেই। এ জন্য পানি নিষ্কাশন সুবিধাযুক্ত উঁচু বা মাঝারী উঁচু জমি এ ফসল চাষের জন্য নির্বাচনে প্রাধান্য দেয়া প্রয়োজন। মাটির পি এইচ ৬-৮ হলে বেশি ভাল হয়। ছায়া বা আধা ছায়ায় এ ফসল ভাল হয় না। পর্যাপ্ত রোদ ও আলো-বাতাস প্রাপ্তি সুবিধা আছে এমন স্থানে এ ফসল আবাদ ব্যবস্থা নিতে হবে।

    পরিবারিক প্রয়োজন মেটাতে সাধারণত বাগানের বর্ডার এলাকাতে এ ফসল চাষ প্রচলন আছে। অনেকে ছাদে, পটে বা ছোট ‘বেড’ তৈরী করে নিয়েও সেখানে সীমিত আকারে জাফরান চাষ করে পরিবারের চাহিদা পূরণ করে থাকে। অনেকে এক মিটার চওড়া ও তিন মিটার লম্বা এবং ১৫ সে.মিটার উঁচু বীজতলা তৈরী করে নিয়ে তাতে জাফরান চাষ করে থাকে। এ ব্যবস্থায় পরিচর্যা গ্রহন ও ফুল থেকে স্টিগমা (গর্ভদন্ড) সংগ্রহ করা সুবিধা হয়। বাণিজ্যিকভাবে চাষের ক্ষেত্রে বীজতলার আকার লম্বায় ৮-১০ মিটার করা হয়।

    চাষ পদ্ধতি: তৈরী বীজ তলা সরেজমিন হতে প্রায় ১৫ সে.মিটার উঁচু হবে। প্রতিটা জাফরানের বালব বা মোথা ১০-১২ সে.মিটার দূরত্বে ছোট গর্ত তৈরী করে তা ১২-১৫ সে.মিটার গভীরতায় রোপন করতে হবে। তাতে এ মাপের বীজ তলার জন্য প্রায় ১৫০টা জাফরানের মোথার প্রয়োজন হয়। বর্ষা শেষ হওয়ার পূর্বক্ষণে জুলাই- আগষ্ট মাসে এ ফসলের মোথা বা বালব (ইঁষন) রোপন করা হয়। শুরুতে বেশি গভীর ভাবে জমি চাষ করে বা কোদাল দিয়ে কুপিয়ে জমি আগাছা মুক্ত ও লেবেল করে নেয়া প্রয়োজন। জমি তৈরী কালে প্রতি শতক জমিতে পঁচা গোবর/আবর্জনা পঁচা সার ৩০০ কেজি, টিএসপি ৩ কেজি এবং এমওপি ৪ কেজি প্রয়োগ করে ভালোভাবে মাটির সাথে সমস্ত সার মিশিয়ে হালকা সেচ দিয়ে রেখে দিয়ে দু’সপ্তাহ পর জাফরান বালব রোপন উপযোগী হবে। বসতবাড়ি এলাকায় এ ফসল চাষের জন্য বেশি উপযোগী।
    এ ফসল একবার রোপন করা হলে ৩-৪ বছর পর্যন্ত ফুল দেয়া অব্যাহত থাকে। বর্ষার শেষে আগষ্ট মাসে মাটি থেকে গাছ গজিয়ে ফেব্রুয়ারী মাস পর্যন্ত গাছের বৃদ্ধি ও ফুল দেয়া অব্যাহত থাকে। মে মাসের মধ্যে গাছের উপরিভাগ হলুদ হয়ে মরে যায়। মোথা মাটির নিচে তাজা অবস্থায় বর্ষাকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকে। এ সময় গাছের অবস্থিতি উপরি ভাগ থেকে দেখা যায়না।

    গাছের বৃদ্ধি ও ফুল: গাছে শীতের প্রারম্ভে অর্থাৎ অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ফুল আসে। বড় আকারের মোথা লাগানো হলে সে বছরই কিছু গাছে ফুল ফুটতে পারে। শীতকালে গাছের বাড় বাড়ন্ত ভাল হয়। শীত শেষে এ বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। গাছের বয়স এক বছর হলে অতিরিক্ত ১টা বা ২টা মোথা (ঈড়ৎসং) পাওয়া যায়। তিন বছর পর রোপিত গাছ থেকে প্রায় ৫টা অতিরিক্ত মোথা পাওয়া যাবে, যা আলাদা করে নিয়ে নূতন ভাবে চাষের জন্য ব্যবহার উপযোগী হবে।

    পরিচর্যা: এ ফসল আবাদ করতে হলে সব সময় জমি আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। মাঝে মাঝে নিড়ানী দিয়ে হালকা ভাবে মাটি আলগা করে দেয়া হলে মাটিতে বাতাস চলাচলের সুবিধা হবে এবং গাছ ভালোভাবে বাড়বে। শুকনো মৌসুমে হালকা সেচ দেয়া যাবে। তবে অন্য ফসলের তুলনায় সেচের প্রয়োজনীয়তা অনেক কম। বর্ষায় পানি যেন কোন মতে জমিতে না জমে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পানি জমে থাকলে রোপিত বালব পঁচে যাবে।

    আপদ ও রোগ বালাই: এক প্রকারের ইঁদুর, চিকা ও খরগোস জাফরানের পাতা, ফুল এমনকি গাছের মোথা খেতে পছন্দ করে, মোথা যত খায় নষ্ট করে তার দ্বিগুণ। এ জন্য এ ধরনের উপদ্রব দেখা গেলে প্রয়োজনীয় ফাঁদ ব্যবহার করে অথবা মারার জন্য ঔষুধ ব্যবহার করে তা দমন ব্যবস্থা নিতে হবে।

    গাছ ঢলে পড়া রোগ: এক ধরনের মাটিতে বসবাসকারী ছত্রাকের (পিথিয়াম, রাইজোক টোনিয়া) আক্রমণে গাছের গোড়া নরম হয়ে গাছ বাদামী রং ধারন করে গাছ হেলে পড়ে। প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে লগন/রিডোমিল-গোল্ড অথবা কার্বোন্ডাজিম দলীয় ছত্রাক নাশক (জাষ্টিন/ব্যাভিস্টিন) স্প্রে করে সুফল পাওয়া যাবে।

    শিকড় পচা রোগ: এটা জাফরানের খুব ক্ষতিকর রোগ। এ রোগের আক্রমণে শিকড় পঁচে গাছ মারা যায়। এ রোগ যথেষ্ট ছোঁয়াচে, এ জন্য বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন করা দরকার এবং আক্রান্ত জমিতে দু-এক বছর জাফরান চাষ করা যাবে না। একই বাগানে ৩-৪ বছর ধরে জাফরান আবাদ অব্যাহত রাখা হলে এ রোগের উপদ্রব বাড়ে। এ জন্য তিন বছর ফসল নেয়ার পর চতুর্থ বছর মোথা উঠিয়ে নিয়ে নূতন ভাবে অন্য জমিতে এ ফসল চাষ ব্যবস্থা নিতে হবে। পরবর্তী ২ বছর এ রোগাক্রান্ত জমিতে আর জাফরান চাষ করা উচিত হবে না।

    জাফরান সংগ্রহ: রোপনের প্রথম বছর সাধারণত ফুল আসে না। তবে জাফরানের রোপিত বালব আকারে বেশ বড় হলে সে বছরই জাফরান গাছ থেকে মাত্র একটা ফুল ফুটতে পারে। পরের বছর প্রতি গাছে পর্যায়ক্রমে ২-৩ টা ফুল আসবে। দু’বছরের গাছে ৪-৫টা এবং তিন বছরের গাছে ৭-৮টা ফুল দিবে। জাফরানের স্ত্রী অঙ্গ ৩টা থাকে এবং পুরুষ অঙ্গ ও ৩’টা থাকে। গাছে অক্টোবর মাস থেকে ফুল দেয়া আরম্ভ করে এবং নভেম্বর মাস পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। তবে এ ফুল ফোটা মৌসুমী তাপমাত্রার উপর অনেকটা নির্ভর করে। ফুটন্ত ফুলের গন্ধের মাত্রা কিছুটা তীব্র। ফুল ফোটার সঙ্গে সঙ্গে গর্ভদন্ড (ঝঃরমসধ) গাছ থেকে ছেঁটে সংগ্রহ করা প্রয়োজন। এ দন্ডের অগ্রভাগের অংশ তুলনায় চওড়া বেশি বা মোটা হয়। এ অংশের রং গাঢ় লালচে হয়। নীচের অংশ অনেকটা সুতার মত চিকন এবং হালকা হলুদ রঙের হয়। উপরের অংশ জাফরান হিসাবে ব্যবহৃত হয়, নিচের চিকন অংশের গুণাগুণ তেমন ভালো হয় না।

    সংরক্ষণের আগে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে যেন তা ভালোভাবে শুকানো হয়। অন্যথায় জাফরান বেশি দিন রাখা যাবে না, প্রকৃতিক গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।ফুল ফোটার সঙ্গে সঙ্গে ফুলের স্টিগমার বা গর্ভদন্ডের প্রয়োজনীয় অংশ কেঁচি দিয়ে বা অন্য ভাবে ছেঁটে নিয়ে তা চওড়া একটা পাত্রে পরিষ্কার কাগজ বিছিয়ে নিয়ে তার উপর সংগৃহীত জাফরান রোদে শুকানোর ব্যবস্থা নেয়া হয়। এ সময় রোদে দেয়ার জন্য জাফরান সংরক্ষিত পাত্রটা কিছু উঁচু স্থানে টেবিল/টুলে রাখতে হবে এবং কোন মতেই যেন বাতাস বা অন্য কোন প্রাণীর উপদ্রবে পড়ে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জাফরান শুকানোর জন্য এক ধরনের যন্ত্র (ডেসিকেটর বা ড্রায়ার) ব্যবহার করা হয়।

    জাফরান সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কাজ অতি ধৈর্য্যরে সাথে করতে হয় যা অনেকটা চা সংগ্রহের মত। ফসল সংগ্রহ, পরবর্তীতে প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বিপণন এ কাজগুলো উৎপাদনকারী সব দেশেই মহিলারা করে থাকে। এ দেশেও এ গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পাদনের জন্য আগ্রহী মহিলাদের সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ দেয়া অতি জরুরী হবে। দু-তিন দিন পড়ন্ত রোদে শুকানোর পর তা আর্দ্রতা রোধক পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে। কড়া রোদে বা বৃষ্টিতে ভেজার আশঙ্কা থাকলে বাড়ীর বারান্দায় বা জানালার ধারে সুরিক্ষত স্থানে এ মূল্যবান জাফরান শুকানোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

    সাবধানতা: জাফরান অত্যান্ত দামী ফসল। এ জন্য অসাধু ব্যবসায়ীরা এতে ভেজাল দিয়ে ক্রেতা সাধারণকে প্রতারিত করার অহরহ দৃষ্টান্ত আছে। ক্রেতাকে অবশ্যই জাফরান ক্রয় কালে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। সব চেয়ে ভাল হয় বাড়ির ছাদে বা সবজী বাগানে কিছু সংখ্যক গাছ লাগিয়ে নিজেই উৎপাদন করা বা উৎপাদনে অন্য কাউকে উৎসাহিত করে সেখান হতে নিজ প্রয়োজন মেটানো।

    জাফরান চাষে করণীয়: প্রত্যেক হর্টিকালচার সেন্টারে সুবিধামত স্থানে ২-৩টা স্থায়ী বীজ তলায় এ দামী গুরুত্বপূর্ণ হাইভ্যালু ফসলের আবাদ ব্যবস্থা নেয়া অত্যাবশ্যক। পার্শ্ববর্তী যে কোন দেশ থেকে দু-একশত জাফরান বালব সংগ্রহ করে চাষের উদ্যোগ নেয়া জরুরী। জাফরান বালব সংগ্রহের ক্ষেত্রে বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে তা প্রত্যেক হর্টিকালচার সেন্টারে বিশেষ করে নূরবাগ জার্মপ্লাজম হর্টিকালচার সেন্টারে চাষ ব্যবস্থা নিয়ে মাতৃ বাগানের উৎস সৃষ্টি করতে পারে।

    লেখকঃ সাবেক মহাপরিচালক,কৃষি সম্প্রসাররণ অধিদপ্তর।

    বাড়ির ছাদে বারমাসী আমড়া চাষ

  • Share The Gag
  • বাড়ির ছাদে বারমাসী আমড়া চাষ পদ্ধতি

    আমড়া চাষ তাও আবার বাড়ির ছাদে। শুনতে অবাক লাগলেও তা থেকে আপনি পেতেপারেন বাড়তি আয়। ছাদে উপর টবে অতি সহজেই বারমাসী আমড়ার চাষ করা যায়। একটি কলমের চারা থেকে মাত্র এক বৎসরের মধ্যেই ফল পাওয়া সম্ভব। আমড়ার চাষ পদ্ধতিও খুব সহজ। বীজ থেকেও চারা করে টবে লাগানো যায়। এক্ষেত্রে ২-৩ বছরের মধ্যে ফল পাওয়া যায় । টবে লাগানোর জন্য কলমের চারাই বেশী ভাল। আমড়াতে প্রচুর ভিটামিন সি বিদ্যমান ।

    আমড়ার চাষ পদ্ধতি:
    ছাদে আমড়ার চারা লাগানোর জন্য ২০ ইঞ্চি কালার ড্রাম বা টব সংগ্রহ করতে হবে। ড্রামের তলায় ৩-৫ টি ছিদ্র করে নিতে হবে। যাতে গাছের গোড়ায় পানি জমে না থাকে। টব বা ড্রামের তলার ছিদ্রগুলো ইটের ছোট ছোট টুকরা দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে। টব বা ড্রামের গাছটিকে ছাদের এমন জায়গায় রাখতে হবে যেখানে সবসময় রোদ থাকে। এবার ২ ভাগ বেলে দোআঁশ মাটি, ১ ভাগ গোবর, ২ কেজি কাঠের ছাই এবং ২০০ গ্রাম হাড়ের গুড়া একত্রে মিশিয়ে ড্রাম বা টবে পানি দিয়ে রেখে দিতে হবে ১০-১২ দিন। অতঃপর মাটি কিছুটা খুচিয়ে দিয়ে আবার ৪-৫ দিন একইভাবে রেখে দিতে হবে। মাটি যখন ঝুরঝুরে হবে তখন একটি সবল সুস্থ কলমের চারা সেই টবে রোপন করতে হবে। চারা রোপনের সময় খেয়াল রাখতে হবে গাছের গোড়া যেন মাটি থেকে আলাদা না হয়ে যায়। চারা গাছটিকে সোজা করে লাগাতে হবে। সেইসঙ্গে গাছের গোড়ায় মাটি কিছুটা উঁচু করে দিতে হবে এবং মাটি হাত দিয়ে চেপে চেপে দিতে হবে। যাতে গাছের গোড়া দিয়ে বেশি পানি না ঢুকতে পারে। একটি সোজা কাঠি দিয়ে গাছটিকে বেঁধে দিতে হবে। চারা লাগানোর পর থেকে অল্প অল্প করে পানি দিতে হবে। আমড়া গাছ পানি জমে থাকা একদম পছন্দ করে না। কাজেই লক্ষ্য রাখতে হবে যেন গাছের গোড়ায় পানি জমে না থাকে। টবে পানি জমে গেলে তাৎক্ষণিক নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।
    অন্যান্য পরিচর্যা:
    আমড়া গাছের চারা লাগানোর ৬/৭ মাস পর থেকে ৩০-৪০ দিন অন্তর অন্তর সরিষার খৈল পচা পানি প্রয়োগ করতে হবে। সরিষার খৈল ১০ দিন পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর সেই পচা খৈলের পানি পাতলা করে গাছের গোড়ায় দিতে হবে। ১ বছর পর টবের আংশিক মাটি পরিবর্তন করে দিতে হবে। ২ ইঞ্চি প্রস্থে এবং ৬ ইঞ্চি গভীরে শিকরসহ মাটি ফেলে দিয়ে নতুন সার মিশ্রিত মাটি দিয়ে তা ভরে দিতে হবে। মাটি পরিবর্তনের এই কাজটি সাধারণত বর্ষার শেষ এবং শীতের আগে করলেই ভালো হয়। গাছের মরা ডালপালা ছেটে দিতে হবে। ১০-১৫ দিন অন্তর অন্তর টব বা ড্রামের মাটি কিছুটা খুঁচিয়ে দিতে হবে।

    ডাল ছাটাই:
    আমড়া গাছের রোগ-বালাই যুক্ত শুকনো ও মরা ডাল কেটে দিতে হবে। এছাড়াও অপ্রয়োজনীয় ডাল কেটে দিতে হবে।
    রোগজীবাণু ও পোকামাকড়:
    আমড়াগাছে প্রায়ই একধরনের ছোট মাকড়সা আক্রমণ করে যা খালি চোখে দেখা যায় না। এতে পাতা কুঁকড়িয়ে যায়। এর জন্য মাঝে মাঝে কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে। তা ছাড়াও ফল যখন ছোট থাকে তখন মাছি পোকার আক্রমন হতে পারে । এজন্য বিষ টোপ ব্যবহার করা ভাল। বর্ষাকালে ছত্রাক আক্রান্ত যাতে না করতে পারে সেজন্য বর্ষার পূর্বেই কয়েকবার ভাল ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা উচিৎ।
    প্রতিকার:
    ১. পোকার সংখ্যা কম হলে হাত বাছাই করে মারতে হবে।
    ২. ছের নিচে ঝড়ে পরা মরা পাতা ও আবর্জনা আগুনের পুড়িয়ে নষ্ট করতে হবে।
    ৩. এছাড়া কীটনাশক ব্যবহার করে এ পোকা দমনের ব্যবস্থা করতে হবে। আমড়া গাছে যেকোন রোগ বা পোকার আক্রমন দেখা দিলে তা দমন করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

    এই নিয়ম মত কাজ করতে পারলে বারমাসী আমড়া গাছে সাড়া বছরই আমড়া পাওয়া যাবে। বারমাসী এ আমড়ার চাষ করে পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয় করা সম্ভব।

    Wednesday, May 10, 2017

    মৎস্য হ্যাচারীতে কপাল খুলছে নুরুদ্দিনের

  • Share The Gag
  • মৎস্য হ্যাচারীতে কপাল খুলছে নুরুদ্দিনের

    ভোলার লালমোহনের গজারিয়ার বাসিন্দা নুরুদ্দিন মৎস্য হ্যাচারীর মাধ্যমে নিজের ভাগ্য বদলের চেষ্টা করছেন। আট ভাই এবং চার বোনের মধ্যে নুরুদ্দিন আট নম্বরে। পরিবারের সবাই শিক্ষিত,তার বাবা মাছের দালাল ছিলেন এরপর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এতো বড়ো সংসারে সব সদস্যের ভরণ পোষণ এবং লেখাপড়ার খরচ তার পিতার পক্ষে মোটেও সহজ ছিলোনা তবুও তিনি হাল ছাড়েননি, উচ্চ শিক্ষিত করিয়েছেন ছেলে মেয়ে সবাইকে। নুরুদ্দিনও স্থানীয় কেরামতিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে এসএসসি, গজারিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে আলিম,ঢাকার সরকারি কবি নজরুল কলেজ থেকে দর্শনে বিএ এবং ঢাকা কলেজ থেকে দর্শনে এমএ ডিগ্রী লাভ করেছেন ২০১০ সালে।

    ঢাকায় লেখাপড়ার সুবাধে বিভিন্ন সরকারি চাকরির প্রতি দৌঁড় ঝাঁপ অনেক করেছেন, কিছুতেই কিছু হলোনা। প্রতারিতও হয়েছেন চাকরির জন্য টাকা দিয়ে, নিজের দুখো কষ্টের কথা গুলো এভাবেই তার মৎস্য হ্যাচারির পাড়ে বসে বললেন এই প্রতিবেদকের কাছে।

    বললেন একটি চাকরির জন্য কতো মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি তার হিসাব নেই। অবশেষে চাকরি পেয়েছি ভোলা আলতাজের রহমান ডিগ্রী কলেজে সেটাও আবার তৃতীয় কোটায়। বেতন নেই অনেক বছর যাবৎ। নিজ পকেট আর বাবা ও ভাইদের টাকায় কতোদিন চলবে। দুশ্চিন্তায় চোখে ঘুম আসতোনা রাতে।

    অবশেষে বড়ো ভাই বশির উল্লাহ্‌র পরামর্শ আমার কাছে ভালো লাগছে। এরপর আমার চারটি পুকুরে বিভিন্ন কার্প জাতীয় মাছের ডিম ছেড়েছি। এখন ডিম ফুটে বাচ্চা অনেক বড়ো হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেশীদের আরও তিনটি পুকুর লিজ নিয়ে তাতে বড়ো হওয়া মাছের বাচ্চা গুলো ছাড়ছি। এখন বিভিন্ন দূর থেকেও মাছ চাষিদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি মাছ দেবার জন্য। উচ্চ শিক্ষিত হয়েও মাছের রেনু ছেড়ে মাছ চাষ করছেন দেখে এলাকার অনেকেই প্রথম প্রথম খারাপ মন্তব্য করতেন এখন আর কেউ করেনা,নুরুদ্দিনের বাবা হাজি নুরুল ইসলামও এ ব্যাপারে প্রশংশায় তার ছেলের সুনাম কুড়াচ্ছেন। এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবু ইউছুফ এ ব্যাপারে বলেন ঢাকা থেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও নুরুদ্দিন অন্য আর দশটা ছেলের মতো নই,ঘুষ দিয়ে চাকরি করার দরকার নেই অথচ যে টাকা দিয়ে চাকরি নিবে তা দিয়ে সে আজ মৎস্য হ্যাচারী করে নিজেই নিজের ভাগ্য বদলের চেষ্টা করছেন তা জেনে আমি খুব আনন্দিত।

    আমি মনে করি দেশের সব ছেলে মেয়ের যদি নুরুদ্দিনের মতো প্রবল ইচ্ছা শক্তি থাকতো তাহলেই এদেশের চিত্র পাল্টে যেত। আমি নুরুদ্দিনের এ শুভ উদ্যোগকে স্বাগত জানায়। নুরুদ্দিনের মতো উপজেলায় আরও অনেকে ঘুষ দিয়ে চাকরি নেবার প্রবণতা বাদ দিয়ে মৎস্য চাষ, পৌল্ট্রি, শাক সবজি, গবাদি পশু ,ছাগল, হাঁস সহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। নিজেরায় বেক্তিগত ভাবে পরের উপর ভরশা না করেই স্বাবলম্বী হবার চেষ্টা করছেন।

    এ প্রসজ্ঞে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো:সাহাবুদ্দিন বলেন উপজেলায় কৃষি, মৎস্য, প্রাণী ইত্যাদি সম্পদের চাষা বাদের প্রচুর ক্ষেত্র আছে। ভোলার চারপাশে নদী থাকায় জোয়ার আসলেও কিছুক্ষণ পর পানি নেমে যায়। যারা এসব ক্ষেত্র আবাদ করার জন্য নিজ উদ্যোগে আমাদের কাছে এসে পরামর্শ চায় আমরা তা দিতে প্রস্তুত,এসব ক্ষেত্রে উপজেলায় কৃষদের বীজ,সার ইত্যাদি উপকরণ বিতরণ করা হয়।

    ছাদে পুদিনার চাষ পদ্ধতি

  • Share The Gag
  • ছাদে পুদিনার চাষ পদ্ধতি

    পুদিনা পাতা সাধারণতঃ তরি-তরকারির সাথে সুগন্ধি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন রকমের বড়া তৈরির কাজে পুদিনা পাতার অবদান রয়েছে । বিশেষ করে রমজানের এই মাসে বাড়ি কিংবা ইফতারের দোকানগুলোতে ব্যাপকভাবে পুদিনা পাতা ব্যবহার হয়ে থাকে । পুদিনা একটি সাধারণ আগাছা ধরনের গাছ। কাণ্ড ও পাতা বেশ নরম। কাণ্ডের রঙ বেগুনি, পাতার রঙ সবুজ। পাতা ডিম্বাকার, পাতার কিনারা খাঁজকাটা । সারা বছর পুদিনা পাতা হাতের কাছে পেতে চাইলে বাড়ির ছাদ অথবা বারান্দায় অতি সহজেই এই পুদিনা পাতার চাষ করা যায় ।
    চাষ পদ্ধতিঃ
    প্রায় সব মাটিতেই পুদিনা পাতার চাষ করা যায় । ১০-১২ ইঞ্চি মাটির টব এমনকি তেলের কন্টেইনারেও এর চাষ সম্বব । টবের মাটির সংগে কিছু জৈব সার অথবা গোবর ভালভাবে মিশিয়ে তাতে পানি দিয়ে ৬/৭ দিন রেখে দিতে হবে । মাটি কিছুটা শুকিয়ে এলে তাতে পুদিনা পাতার কাটিং লাগিয়ে দিতে হবে । কাটিং সংগ্রহের সময় পুরানো ডাল শিকড়সহ কেটে আনতে পারলে ভাল হয় । টবে বা কন্টেইনারে কাটিং রোপনের কিছুদিনের মধ্যেই পুদিনা পাতার গাছে টব ভরে যাবে । পুদিনা গাছের তেমন কোন যত্নের দরকার হয় না, শুধু প্রয়োজন অনুসারে মাঝে মাঝে পানি দিতে হবে । ছায়া যুক্ত স্থানেও পুদিনা গাছ জন্মাতে পারে বিধায় ঘরের মধ্যেও এর চাষ সম্ভব ।

    পুদিনা পাতার গুনাগুণঃ

    ১। গরমে ত্বকের জ্বালাপোড়া ও ফুসকুরি সমস্যায় কয়েকটি পুদিনার পাতা চটকে গোসলের পানিতে মিশিয়ে গোসল করলে ভালো কাজ হয়।
    ২। মুখের দুর্গন্ধ দুর করতে পুদিনা পাতা পানির সাথে মিশিয়ে কুলি করুন।উপকার পাবেন।
    ৩। পুদিনা পাতা হজম শক্তি বাড়ায়,মুখের অরুচি ও গ্যাসের সমস্যা দুর করে,কর্মক্ষমতা বৃদ্বি করে ও শরীর ঠান্ডা রাখে।
    ৪। পুদিনা ত্বকের যে কোনো সংক্রমণকে ঠেকাতে অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে। শুকনো পুদিনা পাতা ফুটিয়ে পুদিনার পানি তৈরি করে ফ্রিজে রেখে দিন। এক বালতি পানিতে দশ থেকে পনেরো চামচ পুদিনার পানি মিশিয়ে গোসল করুন। এর ফলে গরমকালে শরীরে ব্যাকটেরিয়া জনিত বিশ্রী দুর্গন্ধের হাত থেকে রেহাই পাবেন, কেননা পুদিনার অ্যাস্ট্রিঞ্জেন্ট গুণ অতুলনীয়। ঘামাচি, অ্যালার্জিও হবে না।
    ৫। পুদিনা পাতার রস তাৎক্ষণিক ব্যথানাশক উপাদান হিসেবে কাজ করে। পুদিনা পাতার রস চামড়ার ভেতর দিয়ে নার্ভে পৌঁছে নার্ভ শান্ত করতে সহায়তা করে। তাই মাথা ব্যথা বা জয়েন্টে ব্যথা উপশমে পুদিনা পাতা ব্যবহার করা যায়। মাথা ব্যথা হলে পুদিনা পাতার চা পান করতে পারেন। অথবা তাজা কিছু পুদিনা পাতা চিবিয়ে খেতে পারেন। জয়েন্টে ব্যথায় পুদিনা পাতা বেটে প্রলেপ দিতে পারেন।
    ৬। পুদিনা পাতার চা শরীরের ব্যাথা দুর করতে খুবই উপকারি।
    ৭। মাইগ্রেনের ব্যাথা দুর করতে নাকের কাছে টাটকা পুদিনা পাতা ধরুন।এর গন্ধ মাথাব্যাথা সারাতে খুবই উপকারি।
    ৮। কোন ব্যাক্তি হঠাত করে অগ্গান হয়ে গেলে তার নাকের কাছে পুদিনা পাতা ধরুন।সেন্স ফিরে আসবে।
    ৯। অনবরত হেচকি উঠলে পুদিনা পাতার সাথে গোলমরিচ পিষে ছেকে নিয়ে রসটুকু পান করুন।কিছুক্ষনের মধ্যেই হেচকি বন্ধ হয়ে যাবে।
    ১০। গোলাপ, পুদিনা, আমলা, বাঁধাকপি ও শশার নির্যাস একসঙ্গে মিশিয়ে টোনার তৈরি করে মুখে লাগালে তা ত্বককে মসৃণ করে তোলে।
    ১১। পুদিনা পাতায় রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইটোনিউট্রিয়েন্টসের চমৎকারী গুনাগুণ যা পেটের যে কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে খুব দ্রুত। যারা হজমের সমস্যা এবং পেটের ব্যথা কিংবা পেটের অন্যান্য সমস্যায় ভুগে থাকেন তারা খাবার পর এককাপ পুদিনা পাতার চা খাওয়ার অভ্যাস করুন। ৬/৭টি তাজা পুদিনা পাতা গরম পানিতে ফুটিয়ে মধু মিশিয়ে খুব সহজে পুদিনা পাতার চা তৈরি করতে পারেন ঘরে।
    ১২। পুদিনাপাতা পুড়িয়ে ছাই দিয়ে মাজন বানিয়ে দাত মাজলে মাড়ি থাকবে সুস্থ,দাত হবে শক্ত ও মজবুত।
    ১৩। দীর্ঘদিন রোগে ভুগলে বা কোষ্ঠ্যকাঠিন্য থাকলে অনেক সময় অরুচি হয়।এক্ষেত্রে পুদিনা পাতার রস ২ চা চামচ,কাগজি লেবুর রস ৮-১০ ফোটা,লবণ হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে সকাল বিকাল ২ বেলা খান।এভাবে ৪-৫ দিন খেলে অরুচি দুর হয়ে যাবে।
    ১৪। তাত্ক্ষনিকভাবে ক্লান্তি দুর করতে পুদিনা পাতার রস ও লেবুর রস একসংে মিশিয়ে পান করুন।ক্লান্তি নিমিষেই দুর হয়ে যাবে।
    ১৫। কফ দুর করতে পুদিনা পাতার রস,তুলসী পাতার রস,আদার রস ও মধু একসাথে মিশিয়ে খান।পুরোনো কফ দুর করতেও এই মিস্রণ অতুলনীয়।
    ১৬। সুস্থ হার্টের জন্য পুদিনা পাতা অনেক উপকারী। এটি রক্তে কলেস্টরেল জমতে বাধা প্রদান করে। ফলে হার্ট থাকে সুস্থ।
    ১৭। যেকোনো কারনে পেটে গ্যাস জমে গেলে পুদিনা পাতা কার্যকরী ভুমিকা পালন করে। পুদিনার রস ২ চা চামচ, সামান্য লবন, কাগজী লেবুর রস ৮/১০ ফোঁটা, হালকা গরম পানির সাথে মিশিয়ে সারাদিন ২-৩ বার খেলে পেটে গ্যাস ভাব কমে আসে।
    ১৮। পিত্তে শ্লেষ্মার জ্বর, অম্লপিত্ত, আমাশা, অজীর্ণ, উদরশূল, প্রভৃতির কারনে অনেকসময় আমাদের বমি বমি ভাব আসে। এসময় পুদিনার শরবতের সাথে এক চা চামুচ তেঁতুল মাড় ও চিনি মিশিয়ে খেলে বমিভাদ দূর হয়ে যায়।
    ১৯। পুদিনা পাতার রস উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত পুদিনা পাতার রস খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে থাকে।
    ২০। পুদিনার শেকড়ের রস উকুননাশক হিসেবে খুবই কার্যকরী, এমনকি পাতাও। পুদিনার পাতা বা শেকড়ের রস চুলের গোড়ায় লাগান। এরপর একটি পাতলা কাপড় মাথায় পেঁচিয়ে রাখুন। এক ঘণ্টা পর চুল শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত দু বার এটা করুন। এক মাসের মধ্য চুল হবে উকুনমুক্ত।
    ২১। মেয়েদের অনিয়মিত পিরিয়ডের যন্ত্রণা থেকে সেরে ওঠার জন্য পুদিনা পাতা বেশ উপকারী।
    ২২। পুদিনা ত্বককে শীতল করে। খাবারের সঙ্গে নিয়মিত খেলে শরীরের ত্বক সতেজ হয়, সজীব ভাব বজায় থাকে। মৃত কোষকে দূর করে মৃসণ করে তোলে ত্বক। সেজন্য, আধা কাপ পুদিনা পাতা বাটা ও পরিমিত বেসন দিয়ে পেস্ট করে মুখে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট পর মুখ ধুয়ে নিলে, উপকার পাওয়া যায়।
    ২৩। ব্রণ দূর করতে ও ত্বকের তৈলাক্তভাব কমাতে তাজা পুদিনাপাতা বেটে ত্বকে লাগান। দশ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। ব্রণের দাগ দূর করতে প্রতিদিন রাতে পুদিনা পাতার রস আক্রান্ত স্থানে লাগান। সম্ভব হলে সারারাত রাখুন। নতুন কমপক্ষে ২/৩ ঘণ্টা। তারপর ধুয়ে ফেলুন। মাস খানেকের মাঝেই দাগ দূর হবে।

    ২৪। পুদিনা পাতার রস শ্বাস-প্রশ্বাসের নালী খুলে দেওয়ার কাজে সহায়তা করে। ফলে যারা অ্যাজমা এবং কাশির সমস্যায় পড়েন তাদের সমস্যা তাৎক্ষণিক উপশমে পুদিনা পাতা বেশ কার্যকরী। খুব বেশি নিঃশ্বাসের এবং কাশির সমস্যায় পড়লে পুদিনা পাতা গরম পানিতে ফুটিয়ে সেই পানির ভাপ নিন এবং তা দিয়ে গার্গল করার অভ্যাস তৈরি করুন।
    ২৫। পেটের পীড়ায়ঃ এটি ইরেটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম [ আইবিএস ] এবং দীর্ঘস্থায়ী বদহজমের বিরুদ্ধে খুবই কার্যকর। এছাড়াও পুদিনা কোলনের পেশী সংকোচন নিয়ন্ত্রন করে।
    ২৬। অ্যাজমাঃ পুদিনায় রোজমেরিক এসিড নামের এক ধরনের উপাদান থাকে। এটি প্রাকপ্রদাহী পদার্থ তৈরীতে বাধা দেয়। ফলে অ্যাজমা হয় না। এছাড়াও এ ঔষধি প্রোস্টসাইক্লিন তৈরীতে বাধা দেয়। তাতে শাসনালী পরিষ্কার থাকে।
    ২৭। রোদে পোড়া ত্বকের জ্বালাপোড়া কমাতে পুদিনা পাতার রস ও অ্যালোভেরার রস একসঙ্গে মিশিয়ে ত্বকে লাগান। পনেরো মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
    ২৮। পুদিনা পাতা ক্যান্সার প্রতিরোধের ক্ষমতা রাখে। পুদিনা পাতার পেরিলেল অ্যালকোহল যা ফাইটোনিউরিয়েন্টসের একটি উপাদান দেহে ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধিতে বাঁধা প্রদান করে।
    ২৯। পুদিনার তাজা পাতা পিষে মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর যদি তা ধুয়ে ফেলা যায়, তা হলে মুখের তৈলাক্ত ভাব দূর হয়ে যায়। ব্রণ ওঠাও বন্ধ হয়।
    ৩০। পুদিনার পাতা ভালো করে পিষে তার রস ভালো করে মাথায় ব্যবহার করেন। যাদের চুলে উকুন আছে, তারা খুব উপকার পাবেন।
    ৩১। অরুচিতেঃ রোগে ভোগার পর, পেটে বায়ু জমে ও কোষ্ঠ বদ্ধতায় অরুচি আসে। একই রকম খাদ্য দীর্ঘদিন খেলে অরুচি আসে। এ সব ক্ষেত্রে পুদিনার সরবত ( পুদিনার রস ২ চা চামচ, সামান্য লবন, কাগজী লেবুর রস্‌ ৮/১০ ফোঁটা, হাল্কা গরম পানি পোয়া খানিক একত্রে মিশয়ে ) সকাল বিকাল দিনে দুই বার ৫/৭ দিন খেলে অরুচি চলে যায়। পুদিনা পাতা বেটে পানিতে গুলে শরবত করা যায়। সে ক্ষেত্রে কাঁচা পাতা ৮/১০ গ্রাম নিতে হবে।
    ৩২। মুত্রাল্পতায়ঃ অনেক রোগে প্রস্রাব কম হয়। কিন্তু যে ক্ষেত্রে ঠান্ডা গরমের ফলে সাময়িক ভাবে অল্প অল্প প্রস্রাব হতে থাকে কোনো কোনো সময় দাহ হতে থাকে, সে ক্ষেত্রে পুদিনা পাতা ৮/১০ গ্রাম বেটে তাতে সামান্য লবন ও কাগজী লেবুর রস্‌ পোয়াখানিক ঠান্ডা পানি মিশিয়ে শরবত করে দিনে ২/৩ বার খেতে হবে। অন্য কোনো রোগে মূত্রাল্পতা হলে সেক্ষেত্রে এটা ব্যবহার করা যাবে কিনা সেটা নির্ভর করবে রোগের ধরনের ঊপর এবং চিকিৎসকের বিচার ধারার উপর।
    ৩৩। শিশুদের অতিসারেঃ পাতলা দাস্ত, সেই সাথে পেট মোচড় দিয়ে ব্যথা, কোন কোন ক্ষেত্রে অল্প আম –সংযুক্ত দাস্ত, সেই সাথে পেট ফাঁপা, হিক্কা বমি বমি ভাব, প্রস্রাবও সরলি হচ্ছেনা, শিশু কিছুই খেতে চাচ্ছেনা। এক্ষেত্রে পুদিনা পাতার রস্‌ ৮/১০ ফোঁটা আল্প একটু চিনি ও লবন সহযোগে এক ঘন্টা অন্তর কয়েকবার খাওয়াতে হবে। কখন কি ভাবে কতবার খাওয়াতে হবে সেটা নির্ভর করবে রোগীর সুস্থতার ক্রমের দিকে লক্ষ রেখে। বয়স আনুপাতে মাত্রাটা ঠিক করে নিতে হবে।
    ৩৪। পুদিনার চাঃ বেশী চা খেলে শরীর খারাপ হতে পারে। ঠিক চাএর মত করে চায়ের পাতার বদলে পুদিনা পাতা ও সেই সাথে দুধ চিনি গোল মরিচ ও মৌরি দিয়ে এই চা তৈরী করতে হবে। এই চা খেতে সুস্বাদু এবং খেলে তৃপ্তি হয়।
    হাকিমি ও ইউনানি মতেঃ- পুদিনা পাতা খেলে শরীরে তাপ বাড়ে। শরীরের দূষিত পদার্থ মলের সাহায্যে বেরিয়ে যায়। পাকস্থলি ও বুকের ও কিডনির যাবতীয় গ্লানি ও ক্লেদ দূর হয়।
    ৩৫। যাদের হজমশক্তি কম তারা পুদিনার শরবত ও চাটনি খেলে উপকার পাবেন।
    ৩৬। পাতলা পায়খানা হলে পুদিনাপাতা বেশ উপকারী।
    ৩৭। হঠাৎ সানস্ট্রোক করলে পুদিনার শরবত খেলে উপকার পাবেন।
    ৩৮। পুদিনাপাতার সালাদ খেলে পেটে গ্যাস হয় না। হজম হয়।
    ৩৯। পুদিনা মেয়েদের রক্তশূন্যতা পূরণ করে।
    ৪০। মায়ের বুকে দুধ বাড়ে।
    ৪১। যারা প্রস্রাব সমস্যায় ভুগছেন তারা এক গ্লাস পানিতে কয়েক ফোঁটা পুদিনাপাতার রস, সামান্য লবণ ও অল্প চিনি দিয়ে শরবত খান প্রস্রাব পরিষ্কার হবে।
    ৪২। মাইগ্রেন বা আধকপালে মাথা ধরায় পুদিনাপাতা বেটে মাথায় লাগালে মাথাব্যথা ভালো হয়।

    ৪৩। যাদের বুক ধড়ফড় করে তারা পুদিনাপাতা খেলে উপকার হবে।

    ছাদে কামরাঙার চাষ পদ্ধতি

  • Share The Gag
  • ছাদে কামরাঙার চাষ পদ্ধতি

    কামরাঙা একটি অতি পরিচিত ফল । গ্রাম বাংলায় প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কামরাঙা গাছ দেখতে পাওয়া যায় । ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এই ফলের স্বাদ কিছুটা টক-মিষ্টি । কিন্তু থাই জাতের কামরাঙার স্বাদ মিষ্টি । এই মিষ্টি কামরাঙা অতি সহজেই ছাদে টবে সহজেই চাষ করা যায় । ফলনও খুব ভাল হয় । একটি থাই মিষ্টি কামরাঙার কলমের চারা থেকে মাত্র ৬ মাসের মধ্যেই ফল পাওয়া সম্ভব । সারা বছরই কম-বেশী ফল গাছে থাকে তবে জুন-জুলাই এবং ডিসেম্বর-জানুয়ারীতে বেশী পরিমানে ফল পাওয়া যায় । ছোট টব এমনকি ১২ ইঞ্চি টবেও এর চাষ করা যায় । যে কোন মাটিতেই মিষ্টি কামরাংগার চাষ সম্ভব । কামরাঙার রোগ বালাই নেই বললেই চলে ।

     

    চাষ পদ্ধতিঃ
    ছাদে কামরাঙার চারা লাগানোর জন্য ২০ ইঞ্চি কালার ড্রাম বা টব সংগ্রহ করতে হবে । ড্রামের তলায় ৩-৫ টি ছিদ্র করে নিতে হবে । যাতে গাছের গোড়ায় পানি জমে না থাকে । টব বা ড্রামের তলার ছিদ্রগুলো ইটের ছোট ছোট টুকরা দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে । এবার ২ ভাগ বেলে দোআঁশ মাটি, ১ ভাগ গোবর, ৪০-৫০ গ্রাম টি,এস,পি সার, ৪০-৫০ গ্রাম পটাশ সার, একত্রে মিশিয়ে ড্রাম বা টব ভরে পানিতে ভিজিয়ে রেখে দিতে হবে ১০-১২ দিন । অতঃপর মাটি কিছুটা খুচিয়ে দিয়ে আবার ৪-৫ দিন এভাবেই রেখে দিতে হবে । যখন মাটি ঝুরঝুরে হবে তখন একটি সবল সুস্থ কলমের চারা উক্ত টবে রোপন করতে হবে । চারা রোপনের সময় খেয়াল রাখতে হবে গাছের গোড়া যেন মাটি থেকে আলাদা না হয়ে যায় । চারা গাছটিকে সোজা করে লাগাতে হবে । সেই সাথে গাছের গোড়ায় মাটি কিছুটা উচু করে দিতে হবে এবং মাটি হাত দিয়ে চেপে চেপে দিতে হবে । যাতে গাছের গোড়া দিয়ে বেশী পানি না ঢুকতে পারে । একটি সোজা কাঠি দিয়ে গাছটিকে বেধে দিতে হবে । চারা লাগানোর পর প্রথমদিকে পানি কম দিতে হবে । আস্তে আস্তে পানি বাড়াতে হবে । লক্ষ্য রাখতে হবে যেন গাছের গোড়ায় পানি জমে না থাকে আবার বেশী শুকিয়েও না যায় । কামরাঙা গাছে পানি বেশী হলেও পাতা হলুদ বর্ণ ধারণ করে ঝরে যায় আবার পানি একদম শুকিয়ে গেলেও একই অবস্থা হয় ।

    অন্যান্য পরিচর্যাঃ
    গাছ লাগানোর ৪/৫ মাস পর থেকে নিয়মিত ২৫-৩০ দিন অন্তর অন্তর সরিষার খৈল পচা পানি প্রয়োগ করতে হবে । সরিষার খৈল ১০ দিন পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে । তারপর সেই পচা খৈলের পানি পাতলা করে গাছের গোড়ায় দিতে হবে । ১ বছর পর টবের আংশিক মাটি পরিবর্তন করে দিতে হবে । ২ ইঞ্চি প্রস্থে এবং ৬ ইঞ্চি গভীরে শিকরসহ মাটি ফেলে দিয়ে নতুন সার মিশ্রিত মাটি দিয়ে তা ভরে দিতে হবে । গাছের মরা ডাল কেটে দিতে হবে । অধিক ফলন পেতে হলে প্রতিবছর একবার ডালগুলি কেটে গাছকে ছোট রাখতে হবে । ১০-১৫ দিন অন্তর অন্তর টবের মাটি কিছুটা খুচিয়ে দেয়া প্রয়োজন ।