Wednesday, May 10, 2017

ছাদ/ব্যালকনির উপযোগী ফুল মর্নিং গ্লোরী

  • Share The Gag
  • ছাদ/ব্যালকনির উপযোগী ফুল মর্নিং গ্লোরী

    অদ্ভুত এক সুন্দর ফুলের নাম মর্নিং গ্লোরী । নামটাও বেশ চমৎকার । অপরূপ সুন্দর ফুলটি যখন ছাদ বা ব্যালকনিতে ফুটে তখন সবার নজর কাড়ে। মর্নিং গ্লোরীর অনেক প্রজাতি রয়েছে। প্রায় এক হাজার প্রজাতির মর্নিং গ্লোরী পাওয়া যায় বিশ্বের নানা প্রান্তে। তাদের নানা রঙ, নানা রূপ।মর্নিং গ্লোরী মূলত মেক্সিকো ও সেন্ট্রাল আমেরিকার অধিবাসী। প্রায় সব ধরনের মর্নিং গ্লোরির বৈশিষ্ট্য একই রকম। লতানো গাছ, পানপাতা আকৃতির পাতা এবং ফুল ফানেল আকৃতির। নীল, উজ্জ্বল লাল, সাদা, গাঢ় বেগুনি, গোলাপিসহ নানা রঙের মর্নিং গ্লোরী দেখা যায় । তবে আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় গাঢ় বেগুনি, গোলাপি ও আকাশি নীল রঙগুলো। ফুল সকালে ফোটে এবং দুপুরে নেতিয়ে যায়। মর্নিং গ্লোরীর চারা হয় বীজ থেকে। টবেই লাগানো সম্ভব এটি। বছরের যেকোনো সময়ই এ ফুলের চারা রোপণ বা বীজ বপন করা যায়। তবে অন্য গাছের মতোই বর্ষাকাল মর্নিং গ্লোরী লাগানোর জন্য উপযুক্ত । চারাগুলোকে তার বা অন্যকিছু দিয়ে উপরে লতানোর বন্দোবস্ত করে দিতে হয় । বারান্দায় টবে লাগালে গ্রিলেও লতানো যায় ।

    ​তরমুজ চাষ করে স্বাবলম্বী দুই বন্ধু

  • Share The Gag
  • তরমুজ চাষ করে স্বাবলম্বী দুই বন্ধু

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তরমুজ চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন দুই বন্ধু। গ্রীষ্মকালীন রসালো ফল তরমুজ এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সারা বছরই চাষ হচ্ছে। ফরমালিন ও  বিষমুক্ত এই তরমুজের বাজারে চাহিদাও রয়েছে ভালো। তরমুজ চাষ করে সাফল্য দেখিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের দুই বন্ধু জামাল উদ্দিন এবং মহিউদ্দিন। এদের মধ্যে জামাল উদ্দিন বিদেশ ফেরত আর মহিউদ্দিন গ্রামের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। গত দুই বছর ধরে তারা গ্রামে তরমুজের চাষ করছেন। এতে তারা সাফল্যও পেয়েছেন। বছরে আয় করছেন লাখ লাখ টাকা। তাদের খামারে  কর্মসংস্থান হয়েছে গ্রামের ১৫-২০ জনের। 

    জানা গেছে, সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের জামাল উদ্দিন ও মহিউদ্দিন গত দুই বছর ধরে তরমুজের চাষ করছেন। বছরে তিনবার ফলন হয়। তাদের তরমুজ রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। চলতি বছরে তারা ৮ বিঘা জমিতে তরমুজের চাষ করছেন। প্রতি বিঘায় ৭০-৮০ হাজার টাকা খরচ হয়। এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬ লাখ টাকা। তারা আশা করছেন, ফলন ভালো হলে ১২-১৩ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবেন। তরমুজ চাষের পর তারা ওই জমিতে টমেটো, লাউসহ অন্যান্য সবজিও চাষ করেন। এতেও প্রচুর লাভ হয়। 

    জামাল উদ্দিন জানান, তরমুজ চাষ খুবই লাভজনক। ৩ মাসেই গাছ রোপণ ও তরমুজ বড় হয়ে বাজারে পাঠানো যায়। তাদের ফলানো তরমুজ ওজনে প্রতিটি ৩-৪ কেজি হয়। তারা এতে কোনো প্রকার ফরমালিন বা কেমিক্যাল ব্যবহার করেন না। ফলে তরমুজ টাটকা থাকে। পাকলে ট্রাকে ভরে ঢাকার কারওয়ানবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের আড়তে পাঠানো হয়। বাজারে তাদের তরমুজের চাহিদা অনেক বেশি। মহিউদ্দিন জানান, তাদের দেখাদেখি এলাকার অনেকেই এখন তরমুজ চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন। তারা যৌথভাবে তিতাস এগ্রো ফার্ম লি. নামে একটি প্রকল্প গড়ে তুলেছেন। সেখানে এলাকার ১৫-২০ জন লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করতে পেরেছেন তারা। 

     সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম বদরুল হক বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এখন কৃষকরা তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। বীজতলা থেকে শুরু করে ফল পাঁকা পর্যন্ত ৩ মাস লাগে। ওজনে প্রতিটি তরমুজ ৩ থেকে ৪ কেজি হয়। কৃষি বিভাগ তাদের সহায়তা করছে।

    ​জেনে নিন করমচার গুণাগুণ

  • Share The Gag
  • জেনে নিন করমচার গুণাগুণ 

    'করমচা' বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নামে পরিচিত। এটি টক জাতীয় বেশ জনপ্রিয় একটি ফল। মাটিতে বিস্তৃত গুল্মজাতীয় এই উদ্ভিদ কষ্টসহিষ্ণু এবং খরা সহনশীল। মে থেকে জুন, কাঁচা ফল উত্তোলনের সময়। উচ্চ তাপমাত্রার অঞ্চলে এর ফলন ভাল হয়।

    করমচায় রয়েছে ভিটামিন 'সি' এর উৎস। দাঁত, দাঁতের মাড়ি, অকাল বার্ধক্য রোধে ও ফুসফুস ভাল রাখতে সহায়তা করে থাকে ভিটামিন সি। করমচায় আরো রয়েছে প্রোটিন, ফ্যাট, ক্যালসিয়াম, ফাইবার, মিনারেল, ফসফরাস, আয়রন এবং ভিটামিন 'এ' যা আমাদের শরীরের জন্য জরুরী।

    'করমচা' এর স্বাস্থ্য উপকারিতা হল- হার্ট সুস্থ ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এছাড়াও স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধী, বদহজম, পেট ব্যথা এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রতিকার হিসাবে করমচা বেশ কাজ করে থাকে। করমচা রক্তস্বল্পতা নিরাময়েও দুর্দান্ত কাজ করে। করমচার পাতার রসে জ্বর, ডায়রিয়া এবং কানে ব্যথায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে। করমচার শিকড় একটি হজমী গাছান্ত ঔষধ হিসেবে পরিচিত।

    কাঁচা করমচা খাওয়ার পাশাপাশি আঁচার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। চলুন তৈরি করে ফেলি টক-মিষ্টি 'করমচার আঁচার'

    এক কেজি করমচা নিয়ে ধুয়ে কেটে বিচি বের করে নিন। এবার কড়াইতে দুই কাপ সরিষার তেল গরম করে এতে এক টেবিল চামচ পাঁচফোঁড়ন, এক চা চামচ আদা বাঁটা, দুই টেবিল চামচ মরিচ গুঁড়া, এক টেবিল চামচ মেথি গুঁড়া-ধনে গুঁড়া-হলুদ গুঁড়া, হাফ কাপ রসূন বাঁটা দিয়ে কষিয়ে নিন।

    এবার করমচা দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়ুন। এবার এক টেবিল চামচ সিরকা, স্বাদমতো লবণ ও চিনি দিয়ে মিনিট দশেক রান্না করুন। তেল উপরে উঠে আসলে চুলা থেকে নামিয়ে ফেলুন। ঠাণ্ডা করে কাঁচের বয়ামে রেখে সংরক্ষণ করুন 'করমচা আঁচার'।

    Tuesday, May 9, 2017

    বাড়ির ছাদে বা বাগানে আঙ্গুর চাষ

  • Share The Gag
  • বাড়ির ছাদে বা বাগানে আঙ্গুর চাষ

    বাংলাদেশে আঙ্গুর চাষের সম্ভাবনা প্রবাদ আছে আঙ্গুর ফল টক। আর এ কথাটি আমাদের জন্য বেশ কার্যকর এ কারণে যে এই ফলটি আমরা এদ্দিন ফলাতে পরিনি। পুরোটাই আমদানী করে যেতে হয়। উচ্চমূল্যের কারণে বরাবরই সাধারণের ধরা ছোঁয়ার বইরে থাকে। কখনও কেউ অসুস্থ হলে কিংবা কালেভ্রদ্রে সাধারণ পরিবারে আঙ্গুর খাওয়া হয়। কিন্তু আমদের মাটি ও জলবায়ু আঙ্গুর চাষের জন্য উপযোগী, এটা সমপ্রতি প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দু'চারটি আঙ্গুর গাছ থাকলেও সেটা পরিবারের আওতার মধ্যে সীমাবদ্ধ প্রতিষ্ঠানিক ভাবে আঙ্গুর চাষের চেষ্টা চালানো হয় ১৯৯০ সালে গাজীপুরের কাশিমপুরস্থ বিএডিসি'র উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্রে।

    আঙ্গুর চাষের জন্য জমি ও মাটি নির্বাচন দো-আঁশযুক্ত লালমাটি, জৈবিক সার সমৃদ্ধ কাঁকর জাতীয় মাটি এবং পাহাড়ের পাললিক মাটিতে আঙ্গুর চাষ ভাল হয়। জমি অবশ্যই উঁচু হতে হবে যেখানে পানি দাঁড়িয়ে থাকবে না এবং প্রচুর সূর্যের আলো পড়বে এমন জায়গা আঙ্গুর চাষের জন্য নির্বাচন করতে হবে।

    জমি তৈরি কিভাবে করবেন
    ভালভাবে চাষ দিয়ে মাটি ঝুরঝুর করবেন তারপর ৭০ × ৭০ × ৭০ সে. মি. মাপের গর্ত করে তাতে ৪০ কেজি গোবর, ৪০০ গ্রাম পটাশ, ৫০০ গ্রাম ফসফেট এবং ১০০ গ্রাম ইউরিয়া গর্তের মাটির সাথে মিশিয়ে ১০/১৫ দিন রেখো দিতে হবে যেন সারগুলো ভালোভাবে মাটির সাথে মিশে যায়। তারপর সংগ্রহীত চারা গোড়ার মাটির বলসহ গর্তে রোপন করে একটি কাঠি গেড়ে সোজা হয়ে ওঠার সুযোগ করে দিতে হবে এবং হালকা পানি সেচ দিতে হবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আঙ্গুর চারা লাগানোর উপযুক্ত সময় মার্চ-এপ্রিল মাস।

    কখন সার প্রয়োগ করবেন আঙ্গুর যেহেতু লতানো গাছ তাই এর বৃদ্ধির জন্য সময়মতো বাড়তি সার প্রয়োগ করতে হবে। রোপনের ১ মাসের মধ্যে বাড়বাড়তি না হলে গোড়ার মাটি আলগা করে তাতে ৫ গ্রাম ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করা দরকার। ১-৩ বছরের প্রতিটি গাছে বছরে ১০ কেজি গোবর, ৪০০ গ্রাম পটাশ, ৫০০ গ্রাম ফসফেট এবং ১০০ গ্রাম ইউরিয়া প্রয়োগ করতে হবে। পটাশ সার ব্যবহারে আঙ্গুর মিষ্টি হয় এবং রোগ বালাইয়ের উপদ্রব কম হয়। গাছ বেড়ে ওঠার জন্য গাছের গোড়ায় শক্ত কাঠি দিতে হবে এবং মাচার ব্যবস্থা করতে হবে- সে মাচাতে আঙ্গুরের শাখা-প্রশাখা ছড়াবে।

    গাছের কান্ড ছাঁটাই রোপনের পরবর্তী বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে মাচায় ছড়িয়ে থাকা আঙ্গুর গাছের কান্ড ছাঁটাই করতে হবে। অধিকাংশ খামারিরই প্রশ্ন গাছে ফুল হয় কিন্তু ফল হয় না। এর কারণ কি? কান্ড ছাঁটাই -এর মাধমে আঙ্গুর গাছের ফলন বৃদ্ধি হয় এবং ফুল ঝরে পড়া কমে যায়। ছাঁটাইয়ের ৭ দিন আগে এবং পরে গোড়ায় হালকা সেচ দিতে হয়। গাছ রোপনের পর মাচার ওঠা পর্যন্ত প্রধান কান্ড ছাড়া অন্য সকল পার্শ্বের শাখা ভেঙ্গে ফেলতে হবে।
    প্রথম ছাঁটাই মাচায় কান্ড ওঠার ৩৫/৪৫ সে.মি. পর প্রধান কান্ডের শীর্ষদেশ কেটে দিতে হবে যাতে ঐ কান্ডের দুই দিক থেকে দুটি করে চারটি শাখা গজায়।

    দ্বিতীয় ছাঁটাই গজানো চারটি শাখা বড় হয়ে ১৫-২০ দিনের মাথায় ৪৫/৬০ সে.মি. লম্বা হবে তখন ৪টি শীর্ষদেশ কেটে দিতে হবে যেখানে থেকে আরও পূর্বের ন্যায় দুটি করে ১৬টি প্রশাখা গজাবে।

    তৃতীয় ছাঁটাই এই ১৬টি প্রশাখা ১৫/২০ দিনের মাথায় ৪৫/৬০ সে.মি. লম্বা হবে তখন আবার এদের শীর্ষদেশ কেটে দিতে হবে যাতে প্রতিটি প্রশাখরে দুদিকে দুটি করে ৪টি নতুন শাখা এবং এমনিভাবে ১৬টি শাখা থেকে সর্বমোট ৬৪টি শাখা গজাবে। অবশ্য সর্বক্ষেত্রেই যে ৬৪টি শাখা গজাবে এমন কোনো কথা নেই। এই শাখার গিরার মধ্যেই প্রথমে ফুল এবং পরে এই ফুলমটর দানার মত আকার ধারণ করে আঙ্গুল ফরে রূপান্তরিত হবে। প্রথম বছর ফল পাবার পর শাখাগুলোকে ১৫/২০ সে.মি. লম্বা রেখে ফেব্রুয়ারী মাসে ছেঁটে দিতে হবে ফলে বসন্তের পক্কালে নতুন নতুন শাখা গজাবে এবং ফুল ধরবে। এই পদ্ধতি ৩/৪ বছর পর্যন্ত চলবে এবং ফলের স্থিতি লাভ করবে।

    পরিমিত সার এবং উপযুক্ত পরিচর্যার মাধ্যমে একটি আঙ্গুর গাছ না হলেও ৩০ বছর ফলন দিতে পারে। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে প্রতি একরে ৪৩৬টি আঙ্গুর গাছে লাগানো যায় এবং জাতিতে ভিন্নতায় গড়ে প্রতি গাছে প্রতিবছর ৪ কেজি হিসাবে মোট ১৭৪৪ কেজি আঙ্গুর এক একরে উৎপাদন করা সম্ভব।

    একটি হিসাব করে দেখা গেছে, কৃষকের বসত ভিটার ৯ বর্গমিটার জায়গায় ৪টি গাছ লাগিয়ে বছরে সর্বোচ্চ তিনটি ফলনের মাধ্যমে ১৬ কেজি আঙ্গুর উৎপাদন করা সম্ভব। লাউ, সীম, কুমড়া এখন বসত ভিটার আঙ্গিনা থেকে বাণিজ্যিকভাবে মাঠ পর্যায়ে চাষ হচ্ছে, অতএব বসত ভিটার ঐ মাচাটি এখন চাইলে আমরা আঙ্গুর মাচায় রূপান্তরিত করতে পারি। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজন হচ্ছে কৃষক পর্যায়ে প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী খামার স্থাপন, চারা উৎপাদন, বিতরণ এবং জোর প্রচারণা।

    তথ্য সূত্র: শাইখ সিরাজ রচিত ‘মাটি ও মানুষের চাষবাস’ গ্রন্থ থেকে সংগ্রহীত

    আঙুরগাছের পরিচর্যা
    আঙুরগাছের ডাল সময়মতো ও সঠিকভাবে ছাঁটাই না করলে ফুল-ফল ধরে না। আঙুরগাছের বিভিন্ন পরিচর্যার মধ্যে একটি হলো ডাল ছাঁটাই। এই গাছের ডাল বা শাখায় ফুল ধরে। তাই এটা না করলে ফলন অর্ধেকে নেমে যায়। প্রতিবার ফুল ধরার পর ডাল বা শাখাটি পুরনো হয়ে যায় এবং ওই ডাল বা শাখায় আর ফুল-ফল ধরে না। এসব পুরনো ডাল বা শাখা গাছে থাকলে খাবারে ভাগ বসায় এবং গাছে নতুন শাখা-প্রশাখা গজাতে বাধা দেয়।

    শীত আসার সাথে সাথেই আঙুরের পাতা ঝরে যায়। পুরো শীতে গাছ পাতাবিহীন অবস্খায় থাকে। শুধু কাণ্ড ও শাখা-প্রশাখা দেখে মনে হয় যেন গাছটি মরে গেছে। কিন্তু বসন্ত শুরু হওয়ার পর আঙুর গাছে ফুল-ফল ধরতে শুরু করে। তবে ফল পাকতে পাকতে বর্ষা চলে এলে ফল মিষ্টি হয় না।

    বাংলাদেশে যেসব জাতের ফল আগে আসে এবং আগে পুষ্ট হয় সেসব জাতের কিছু ফল মিষ্টি হতে দেখা যায়। আঙুর ফল পুষ্ট হওয়ার পর পাকা অবস্খায় গাছ থেকে পাড়তে হয়। এটি লিচুর মতো আগে পেড়ে ফেললে পরে আর পাকে না। এ দেশে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে আঙুরগাছ ছাঁটাই করলে মার্চ-এপ্রিলে ফল পাওয়া যায়। তবে দেরিতে ফল সংগ্রহ করলে আকাশ একটানা মেঘলা থাকা বা বৃষ্টির কারণে ফল টক হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এর কারণ হলো গরমে আঙুর ফলে চিনিজাতীয় পদার্থ বেড়ে যায়। ফল ঠিকমতো বড় ও মিষ্টি না হলে, ফল ধরার পর প্রতি লিটার পানিতে ৫০ মিলিলিটার ইথরেল ও ১০০ মিলিগ্রাম জিবারেলিক অ্যাসিড পাউডার (জিবগ্রো ৫জি বা বারান্টো-৮০%) একত্রে মিশিয়ে ১৫ দিন পরপর দুই থেকে তিনবার স্প্রে করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।

    গাছ রোপণের প্রথম বছর হালকাভাবে ডাল ছাঁটাই করে দিতে হয়। পরের বছরে গোড়া থেকে ১.৫ মিটার উচ্চতায় গাছ কেটে দিতে হয়। প্রথম বছরে ফল নেয়ার পর ডালগুলো ১০-১৫ সেন্টিমিটার লম্বা রেখে শীতের শুরুতেই আবার কাটতে হয়। বসন্তের শুরুতে কাটা ডালগুলো থেকে অনেক চোখ ও শাখা বের হয়। এভাবে তিন-চার বছর পর্যন্ত একই গাছ থেকে ফল নেয়া যায়। এরপর যখন ডালগুলো থেকে নতুন শাখা কম গজায় বা ফুল ও ফল কম ধরে তখন মূল কাণ্ডটিকে গোড়া থেকে ৭-১০ সেন্টিমিটার উচ্চতায় কেটে দিতে হয়। সেখান থেকে নতুন ডাল গজালে সতেজ দেখে এক-দু’টি ডাল রেখে আগের পদ্ধতিতে নতুন শাখা বের করানো যায়।

    ডাল ছাঁটাইয়ের পর গাছে সার দেয়া ভালো। গাছের সুষ্ঠু বৃদ্ধির জন্য পটাশজাতীয় সারের প্রয়োজন খুব বেশি। পটাশের অভাবে গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, ডাল ভঙ্গুর প্রকৃতির হয় এবং ফল ফেটে যায় ও ফলের মধ্যকার মিষ্টি কমে যায়। প্রথম বছর গাছপ্রতি ১০-১৫ কেজি জৈব সার, ১০০ গ্রাম ইউরিয়া, ১০০ গ্রাম টিএসপি এবং ২৫০ গ্রাম এমওপি সার প্রয়োগ করতে হয়। এরপর প্রতি বছর পাঁচ কেজি জৈব সার, ১০ গ্রাম হারে ইউরিয়া ও টিএসপি এবং ২০ গ্রাম এমওপি সার দিতে হয়। পটাশ সার দু’বারে দিতে হয়। শীতের আগে ডাল ছাঁটাই করার পর অর্ধেক এবং

    শীতের শেষে নতুন ফল ধরতে আরম্ভ করলে বাকি অর্ধেকটুকু। জৈব সার ও টিএসপি ছাঁটাই করার পরপরই প্রয়োগ করতে হয়। ইউরিয়ার এক-তৃতীয়াংশ ছাঁটাইয়ের সময়, এক-তৃতীয়াংশ ফল ধরার পরপরই এবং শেষটুকু ফল মাঝারি আকারের হলে গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করতে হয়।
    লেখক: খোন্দকার মো: মেসবাহুল ইসলাম
    এগ্রোবাংলা ডটকম

    আঙুরের ফলন বাড়াতে করণীয়

    আঙুর একটি অতিলতানো গাছের ফল। শাখা-কলমের বেলায় প্রায় এক ফুট দীর্ঘ শাখা-খণ্ডের এক-তৃতীয়াংশকে মাটির নিচে কাত করে পুঁতলে ভালো হয়। বয়স্ক গাছের জন্য প্রতি বছর এপ্রিল মাসে দুই কেজি তেলের খৈল, এক কেজি হাড় চূর্ণ এবং এক পোয়া সালফেট অব পটাশ ব্যবহার মন্দ নয়। কারও কারও মতে ইউরিয়া, সুপার ফসফেট ও মিউরেট অব পটাশের ১:৩:৩ অনুপাতে মিশ্রণ ব্যবহার উত্তম। ছোট চারা গাছের জন্য এ মিশ্রণের প্রায় দুই ছটাক এবং বেশ বয়স্ক গাছের জন্য প্রায় এক কেজি পর্যন্ত প্রয়োগ করা যেতে পারে।

    চারা পরস্পর থেকে ১০ ফুট দূরে রোপণ করা যেতে পারে। আঙুরের জন্য একটি শক্তিশালী প্রধান কাণ্ড গঠন আবশ্যক। এর যেসব শাখা জন্মে তার গায়ে ফল-পল্লব দেখা যায়। সাধারণত ফল সংগ্রহের পর যখন পাতা ঝরে যায় তখন শাখা ছাঁটাই করা হয়। সব শাখাকেই এমনভাবে ছেঁটে দেয়া যেতে পারে, যাতে ওটার গায়ে কেবল দুই থেকে তিনটি চোখ বাকি থাকে। যেসব শাখা অতি শক্ত হয়ে যায় তার অধিকাংশই কাটা যেতে পারে। ফলের গুচ্ছ থেকে কিছু কিছু ফল কাঁচি দ্বারা কেটে পাতলা করে দিলে ফল উত্কৃষ্ট হয়। এপ্রিল-মে মাসে ফুল দেখা দেয় এবং আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ফল পাকে। গাছপ্রতি ১০ থেকে ১৫ কেজি আঙুর পাওয়া যায়।

    সরকারি পর্যায়ে আঙুর উত্পাদনের প্রচেষ্টার শুরু হয় ১৯৯১ সালে বিএডিসির কাশিমপুর উদ্যান কেন্দ্রে। উক্ত প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশে আঙুরের চাষ, উত্পাদন ও বাজারজাতকরণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। স্বল্প পরিমাণ প্রশিক্ষণই প্রায় যে কোনো গৃহস্থকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে আঙুরের উত্পাদনে।

    আঙুরের চাষ হতে পারে :
    (১) গার্হস্থ্য পর্যায়ে,
    (২) মাঠে এককভাবে এবং
    (৩) মিশ্র ফল বাগানের অন্যতম ফল গাছরূপে।
    এর রোপণ দূরত্ব ১০ ফুটের মতো, সে কারণে এটি আম কিংবা কাঁঠালভিত্তিক মিশ্র ফল বাগানের তৃতীয় সদস্যরূপে স্থান পেতে পারে। আঙুর গাছ দীর্ঘায়ু হওয়ার ফলস্বরূপ আম, কাঁঠাল, নারকেল, খেজুর, তাল ইত্যাদির মতোই মানুষ এর ফল ভোগ করতে পারে একরূপ বংশ পরম্পরায়।

    যেহেতু আঙ্গিনা-বাগানে আঙুরের আবাদের জন্য বেশি জায়গা বা অর্থের দরকার হয় না, সেহেতু দরিদ্র চাষীভাই অল্প জায়গা থেকেই অধিক আয় করতে পারেন। আঙুর গাছ দীর্ঘদিন বাঁচতে পারে (শত বছরের বেশি) এবং পরিচর্যায় তেমন উল্লেখযোগ্য খরচ নেই।

    আমাদের দেশে এ যাবত্ তিনটি উত্পাদনশীল আঙুর গাছের জাত নির্বাচন করা হয়েছে।
    (১) জাককাউ
    (২) ব্ল্যাক রুবী ও
    (৩) ব্ল্যাক পার্ল।

    তিনটি জাতই গ্রীষ্মকালীন এবং পরে তিনটি রংয়ে রূপান্তরিত হয়ে যথাক্রমে হালকা বাদামি, কালো ও করমচা রং ধারণ করে। ফলন আসতে সময় লাগে প্রায় দু’বছর। মিষ্টতার পরিমাণ ১৮ থেকে ২০ শতাংশ । মাটির পিএইচ ৬.৫-৭.৫ হলে আঙ্গুর দ্রুত মিষ্টি হয়। গাছের দীর্ঘায়ু বিবেচনা করে মাচায় লোহার তারের ব্যবস্থা করা ভালো। মাচায় ওঠা পর্যন্ত আঙুর গাছের পার্শ্ব শাখা ভেঙে দিতে হবে। আর যা যা করবেন তা হলো মাচায় প্রথম ডগা উঠবার মুহূর্তে তা ভেঙে দিতে হবে যাতে কর্তনকৃত অংশের নিচ থেকে দুটি কচি ডগা ইংরেজি ‘ভি’ আকারে মাচায় ওঠে এবং ৫০ সেন্টিমিটার লম্বা হবে।

    দুটি ডগার মাথা পুনরায় ৫০ সেন্টিমিটার দূরে ভেঙে দিতে হবে, যাতে প্রতি শাখার উভয় পার্শ্বে অনধিক দুটি করে চারটি প্রশাখা গজায় এবং তা পুনরায় ৫০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বড় হবে।
    উত্পাদিত আটটি প্রশাখা ৫০ সেন্টিমিটার বড় হওয়ার পর তা আবার মাথা ভেঙে দিতে হবে এবং এরপর গাছ যথারীতি বড় হতে থাকবে।

    গাছ রোপণের উপযুক্ত সময় মার্চ থেকে মে। তবে আগস্ট মাস পর্যন্ত রোপণ করা যাবে। এরপর গাছের সতেজতা কমে যাবে। অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত গাছ ঘুমন্ত অবস্থায় থাকবে এবং পাতা ঝরে যাবে। বছরে দু’বার ফুল আসবে। মার্চ ও জুলাই মাসে তা আঙুরে রূপান্তরিত হবে। ফুল আসার পর থেকে আঙুর মিষ্টি হতে সময় লাগবে ১২০ দিন বা চার মাস। নির্দিষ্ট সময়ের আগে আঙুর কাটলে ‘টক’ লাগবে। ফুল আসার ৭০-৮০ দিনের মধ্যে সবুজ অবস্থায় আঙ্গুর স্পঞ্জের ন্যায় নরম হবে। এটা আঙুরের পরিপকস্ফতা বুঝায়। পরবর্তীকালে ৪০ দিন সময় নিবে আঙুর মিষ্টির পর্যায়ে যেতে।

    ৭০-৮০ দিনের সময় গাছপ্রতি ২০ গ্রাম পটাশ পানির সঙ্গে মিশিয়ে দিলে আঙুর দ্রুত মিষ্টির পর্যায়ে চলে যায়। ফুল থেকে আঙুর মুগ ডালের মতো আকার হলে জিবরেলিক এসিড ছিটিয়ে প্রয়োগ করলে আকারে ও আকৃতিতে বড় হয়। ফুল থাকা অবস্থায় কীটনাশক ওষুধ প্রয়োগ নিষেধ। আঙুরের থোকায় হাত লাগানো উচিত নয়, এতে চামড়ার উপরের সাদা পাউডার হাতের ছোঁয়ায় উঠে যায় এবং পোকার আক্রমণ সহজতর হয়। থোকায় আঙুুর যখন মুগ ডালের আকারে থাকে তখন ছোট অবস্থায় কিছু আঙ্গুর বাছাই করে ফেলে দেয়া ভাল যাতে আঙ্গুরের সাইজ সুন্দর থাকে। আঙ্গুর পাকার সময় বৃষ্টি হবার সম্ভাবনা থাকায় মাচার উপরে ‘পলিথিন সীট’ দিয়ে আবৃত করে দিতে হবে যাতে গাছে বৃষ্টির পানি না লাগে। লাগলে পাকা আঙ্গুর ফেটে যাবার সম্ভাবনা থাকে। প্রতি বছর একটা নির্দিষ্ট সময়ে তিনটি কাজের পরিচর্যা নিয়মিতভাবে করতে হবে।

    এগুলো হলো:
    (ক) প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মদ্যে গাছের গোড়ায় মাটি হালকাভাবে কুপিয়ে আলগা করে তাতে অনুমোদিত সার প্রয়োগ করে শুধুমাত্র একবার বেশি করে পানি দিতে হবে।

    (খ) জানুয়ারি মাসের ৪র্থ সপ্তাহে ঘুমন্ত গাছের শাখা-প্রশাখা ছাটাই করে দিতে হবে। ছাটাইকৃত ডালগুলো কেটে পরে মাটিতে পুতে পানি দিলে পুনরায় নতুন গাছ হবে।

    (গ) ফেব্রুয়ারি মাসের ১ম সপ্তাহে সামান্য গরম আরম্ভ হবার সাথে সাথে গাছের গোড়ায় পানি সেচ দিতে হবে, যে পর্যন্ত না বৃষ্টি হয়। পানি দেবার ১০ দিনের মধ্যে গাছে নতুন শাখা-প্রশাকা গজাবে এবং তাতে ফুল দেখা দিবে যা পরবর্তীতে আঙ্গুরে রূপান্তরিত হবে।’

    লেবু খান ওজন কমান

  • Share The Gag
  • লেবু খান ওজন কমান

    লেবুর রস জীবাণুনাশক, সংক্রমণ দমনকারী, হজমে সাহায্য করে, চর্বিকে দূরে রাখে। লেবু যে শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করতে সাহায্য করে, সে কথা বহু আগে থেকে প্রমাণিত। লেবুতে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি। মূত্রের উৎপাদনের মাধ্যমে সহজে শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের হতে সাহায্য করে। লেবুর নিরাময় ক্ষমতা নিশ্চিত, যা অনেক গবেষণাও দেখা গেছে। লেবু অন্ত্র বা পেট পরিষ্কার করে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলোকে ধ্বংস করে।

    শরীরের ওজন কমাতে চাইলে প্রথমেই শরীরের ভেতরে জমে থাকা দূষিত পদার্থ বের করতে হবে, যাতে বাড়তি ওজন সহজে কমতে পারে। তবে লেবু চিকিৎসা শুরুর এক সপ্তাহ আগে থেকেই খাবারের পরিমাণ একটু কমিয়ে দিন। তারপর দুই থেকে তিন সপ্তাহ প্রতিদিন কয়েক গ্লাস পানির সঙ্গে এক গ্লাস তাজা লেবুর রস মিশিয়ে খাবেন। নিয়ম করে প্রতিদিন খেতে হবে।

    ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে একটি অরগ্যানিক লেবু রস মিশিয়ে পান করুন। সারা দিনে কমপক্ষে দশ গ্লাস পানি পান করবেন। আর প্রথম গ্লাস ছাড়া অন্যান্যবার এক গ্লাস পানিতে আধখানা তাজা লেবুর রস দেবেন। অবশ্যই আগে থেকে করে রাখা রস খাবেন না। অন্তত দুই সপ্তাহ এভাবে লেবু পানি পান করুন। প্রথম গ্লাসে মধু দিতে পারেন, মধুতে ভিটামিন ও মিনারেল থাকার কারণে তা সাধারণ চিনির মতো ওজন না বাড়িয়ে বরং কমান।

    নিয়মিত যে পরিমাণ খাবার খেয়ে থাকেন, লেবুর চিকিৎসা চলাকালীন সেই খাবারের পরিমাণ কমিয়ে অর্ধেক করুন। এসময় মাছ, মাংস, মিষ্টি বা চর্বি জাতীয় খাবার কম খাবেন। সবজির স্যুপ করে খেতে পারেন, স্যুপের মধ্যেও লেবুর রস দিতে পারেন। ১০০ গ্রাম লেবুতে থাকে ১৭০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, যা আমাদের নার্ভ, হৃদযন্ত্র এবং পেশি শক্ত করতে সাহায্য করে? অন্যান্য সময়ের তুলনায় এখন হাঁটাহাঁটি একটু বেশি করবেন।

    তিন সপ্তাহ পার হয়ে যাওয়ার পর দেখবেন ওজন কমেছে, শরীরটা অনেক হালকা লাগছে। আস্তে আস্তে আবার খাওয়া-দাওয়া করতে পারেন। তবে তিন সপ্তাহ লেবু চিকিৎসার কথা একেবারে ভুলে যাবেন না, সবকিছুই সচেতনভাবে খাবেন। ফ্যাট জাতীয় খাবারের পর কুসুম গরম পানিতে ছোট একটি লেবুর রস মিশিয়ে পান করবেন। এতে বাড়তি ফ্যাটটুকু কেটে নেবে লেবুর রস। তাছাড়া ১০০ গ্রাম লেবুর রস সারা দিনের অর্ধেক ভিটামিন সি-এর অভাব পূরণ করতে পারে।

    আধুনিক পদ্ধতিতে টমেটো চাষ ও ফলন বৃদ্ধি

  • Share The Gag
  • পুষ্টিমানঃ

    টমেটো একটি অতি প্রয়োজনীয়, জনপ্রিয় এবং পুষ্টিকর সবজি। এটি ভিটামিন এ এবং সি-এর অন্যতম উৎস। কাঁচা ও রান্না করে-এ দুইভাবেই টমেটো খাওয়া যায়। টমেটো বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হয় যেমন জ্যাম, জেলি, সস্, কেচাপ, আচার, সালাদ ইত্যাদি। টমেটোর পুষ্টিমান পাকা টমেটোর ভক্ষণযোগ্য অংশের প্রতি ১০০ গ্রামে পুষ্টি উপাদানসমূহ নিম্ন লিখিত পরিমাণে পাওয়া যায়;

    টমেটো চাষের জন্য জলবায়ুঃ

    টমেটো এদেশে রবি বা শীতের ফসল হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট  থেকে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। রাতের তাপমাত্রা ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর নিচে থাকলে তা গাছের ফুল ও ফল ধারণের জন্য বেশি উপযোগী। গড় তাপমাত্রা ২০-২৫ ডিগ্রি সে. টমেটোর ভালো ফলনের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। রাতের তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর কম হলে টমেটোতে ফল হয় না।

    মাটির বৈশিষ্ট্যঃ

    আলো-বাতাসযুক্ত উর্বর দো-আঁশ মাটি টমেটো চাষের জন্য সবচেয়ে ভালো। তবে উপযুক্ত পরিচর্যা বেলে দো-আঁশ থেকে এঁটেল দো-আঁশ সব মাটিতেই টমেটোর ভালো জন্মে। মাটির অম্লতা ৬-৭ হলে ভালো হয়। মাটির অম্লতা বেশি হলে জমিতে চুন প্রয়োগ করা দরকার।

    চাষের মৌসুমঃ

    টমেটো দীর্ঘমেয়াদী একটি ফসল। বীজ বোনা থেকে শুরু করে গাছের প্রথম ফল পাকা পর্যন্ত কমপক্ষে ১০০ দিন লাগে এবং ফলধারণ জাতভেদে ৩০-৬০ দিন স্থায়ী হয়। এ জন্য রবি মৌসুমের অনুকূল আবহাওয়ার সম্পূর্ণ সুযোগ নিতে হলে মৌসুম আসার আগেই চাষের আয়োজন করতে হবে।

    #    বর্ষাকালের চাষের জন্য এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত এবং আগাম জাতের ক্ষেত্রে জুলাই থেকে আগস্ট মাস এবং শীতকালীন চাষের জন্য সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত চারা উৎপাদনের জন্য বীজতলায় বীজ বপন করা যায়।

    বীজতলা তৈরিঃ

    চারা তৈরির দুই মাস আগে বীজ বপনের জন্য বীজতলা তৈরির প্রস্তুতি নিতে হবে। বীজতলায় নির্দিষ্ট পরিমাণ জৈব সার এবং নি¤œলিখিত অন্যান্য সার এবং রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করতে হবে।

    বীজতলায় বীজ বপনঃ

    বীজ বোনার আগে  প্রোভক্স/ব্যাভিস্টিন বা ভিটাভ্যাক্স বা সিনকার দ্বারা বীজ শোধন করে নিতে হবে। সুস্থ সবল চারা উৎপাদনের জন্য প্রথমে ১০ গ্রাম মানসম্মত ভাল বীজ ঘন করে প্রতিটি বীজতলায় (বীজ তলার আয়তন হবে দৈর্ঘ্য ১ মিটার ও প্রস্থ ৩ মিটার) বুনতে হয়।এই হিসেবে প্রতি হেক্টরে (প্রায় ২৫০ শতক)) ২০০ গ্রাম (১ গ্রাম/শতাংশ) বীজ বুনতে (গজানোর হার ৮০%) ২০টি বীজতলার প্রয়োজন।গজানোর ৮-১০ দিন পর চারা দ্বিতীয় বীজতলায় প্রতিটি চারা ৪ সেমি. দূরত্বে স্থানান্তর বা রোপণ করতে পারলে ভালো হয়।এক হেক্টর জমিতে টমেটো চাষের জন্য এ রকম ২০-২২টি বীজতলার প্রয়োজন হয়।বীজতলায় প্রতি ইঞ্চিতে ৪০-৬০টি ছিদ্রযুক্ত নাইলন নেট দিয়ে ঢেকে চারা উৎপাদন করলে চারা অবস্থায়ই সাদা মাছিপোকার কারণে পাতা কোঁকড়ানো ভাইরাস রোগ ছড়ানোর হাত থেকে নিস্তার পাওয়া যায়। এ রকম সুস্থ সবল ও ভাইরাসমুক্ত চারা রোপণ করে ভালো ফলন পাওয়া যায়।অতিরিক্ত বৃষ্টি ও রোদের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনে পলিথিন ও চাটাই এর আচ্ছাদন ব্যবহার করা দরকার ।

    বীজের পরিমাণঃ

    বীজতলায় বীজ বপনের ক্ষেত্রে শতাংশ জমি প্রতি ১ গ্রাম (২০০ গ্রাম/হেক্টর) বীজ লাগে। তবে জাত ভেদে বীজের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।

    মূল জমি তৈরিঃ

    জমি ভালভাবে চাষ দিয়ে বেড তৈরি করে নিতে হবে।

    সারের পরিমাণ ও প্রয়োগঃ

    টমেটো গাছ মাটি থেকে প্রচুর পরিমাণ খাদ্য উৎপাদন গ্রহণ করে। বৃদ্ধির প্রাথমিক পর্যায়ে খাদ্যের অভাব হলে গাছ দ্রুত বাড়ে না এবং পরবর্তী পর্যায়ে খাদ্যের ঘাটতি ফলণ অনেক কমিয়ে দেয়। মাটি পরীক্ষা করে জমির চাহিদা অনুযায়ী সার প্রয়োগ করাই সবচেয়ে ভাল। তবে গড়পড়তায় টমেটো চাষের জন্য প্রতি শতাংশ জমিতে যে সারের দরকার হয় তা হলোঃ

    সার প্রয়োগ পদ্ধতিঃ

    ইউরিয়া ও এমওপি সার ব্যতীত বাকি সব সার মূলজমি তৈরির সময় প্রয়োগ করতে হবে এবং মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে ফেলতে হবে। তবে দস্তা ও টিএসপি এক সাথে প্রয়োগ করা উচিত নয়। ইউরিয়া ও এমওপি সার সমান তিন ভাগে ভাগ করে তিনবারে উপরি প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম ভাগ চারা রোপণের ১০-১৫ দিন পর, দ্বিতীয় ভাগ চারা রোপণের ২৫-৩০ দিন পর, তৃতীয় ভাগ চারা রোপণের ৪০-৪৫ দিন পর উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

    চারা রোপণঃ

    চারার বয়স ২৫-৩০ দিন অথবা ৪-৬ পাতা হলে মূল জমিতে রোপণ করতে হবে।বীজতলা থেকে চারা অত্যন্ত যতœ সহকারে তুলতে হবে যাতে চারা শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এ জন্য চারা তোলার আগে বীজতলার মাটি ভিজিয়ে নিতে হবে।চারা রোপণের আগে উপড়ে তোলা চারাগাছটির গোড়া (শিকড়) ২% ইউরিয়া +২% বোরিক এসিড দ্রবণে ডুবিয়ে নিলে চারা গাছটি তাৎক্ষণিকভাবে খাবার পায়। ফলে পাতা হলুদ বা বিবর্ণ হবে না।প্রথমে ১ মিটার চওড়া বেড তৈরি করে নিতে হবে। প্রতি বেডে দুই লাইন করে চারা রোপণ করতে হবে। লাইন থেকে লাইনের দূরত্ব হবে ৬০ সেমি. এবং প্রতি লাইনে চারা থেকে চারা ৬০ সেমি. দূরত্বে লাগাতে হবে।একটি বেডে দুই লাইনে টমেটোর চারা রোপণ করার ক্ষেত্রে চারাগুলো ত্রিভূজ আকৃতিতে লাগাতে হবে।বিকেলের পড়ন্ত রোদে চারা রোপণ করাই উত্তম এবং লাগানোর পর গোড়ায় হালকা সেচ প্রদান করতে হবে।

    সেচ ও নিষ্কাশনঃ

    চারা রোপণের ৩-৪ দিন পর পর্যন্ত হালকা সেচ ও পরে প্রতি কিস্তিতে সার উপরি প্রয়োগের পর জমিতে সেচ দিতে হয়। গ্রীষ্ম মৌসুমে টমেটো চাষের জন্য ঘন ঘন সেচের প্রয়োজন হয়। বর্ষা মৌসুমে তেমন একটা সেচের প্রয়োজন হয় না। টমেটো গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। সেচ অথবা বৃষ্টির অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য নালা পরিমিতি চওড়া (৩০-৪০ সেন্টিমিটার) এবং এক দিকে সামান্য ঢালু হওয়া দরকার। সেচ দেওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে, সেচের পানি কখনোই যেন বেডের উপর উঠে না আসে। নালাতে সেচ দিতে হবে, নালা থেকে শোষণের মাধ্যমে বেড ও গাছ পানি সংগ্রহ করতে হবে।

    আচ্ছাদনের ব্যবস্থাঃ  সূর্যের প্রখরতা থেকে চারা গাছকে বাঁচানোর জন্য ছায়াদানের ব্যবস্থা করতে হবে।

    মালচিংঃ প্রতিটি সেচের পরে মাটির উপরি ভাগের চটা বা চাকামাটি ভেঙে দিতে হবে যাতে মাটিতে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে।

    আগাছা দমনঃ টমেটোর জমিতে প্রয়োজনীয় নিড়ানি দিয়ে আগাছামুক্ত রাখতে হবে।

    বিশেষ পরিচর্যাঃ 

    #   প্রথম ফুলের গোছার ঠিক নিচের কুশিটি ছাড়া নিচের সব পার্শ্বকুশি ছেঁেট দিতে হবে।

    #   বাউনিয়া দেয়া-গাছে বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেকনা দিতে হবে।

    ফসল তোলাঃ

    #    ফলের নিচে ফুল ঝরে যাওয়ার পর যে দাগ থাকে ঐ স্থান থেকে লালচে ভাব শুরু হলেই বাজারজাতকরণের জন্য ফল সংগ্রহ করতে হবে। এতে ফল অনেকদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।

    #    অপরিপক্ব অবস্থায় ফল তুলে হরমোন প্রয়োগে ফল পাকানো হলে ফলের স্বাভাবিক স্বাদ ও পুষ্টিগুণ নষ্ট হয় এবং ফলনও কম হয়। তাই এভাবে ফলন সংগ্রহ ও পাকানো মোটেই সমীচিন নয়।

    মেয়াদঃ ১০০-১৪০ দিন।

    ফলনঃ জাত ভেদে ফলন ১৫-৫০ টন/একর হয়। মৌসুম, জাত, আবহাওয়া এবং পরিচর্যা অনুযায়ী প্রতি একর জমিতে ৫০ টনের বেশি টমেটো পাওয়া সম্ভব।

    টমেটোর জাতঃ

    মৌসুম অনুযায়ী এ দেশে চাষযোগ্য টমেটো জাতসমূহকে মোটামুটিভাবে নিম্নলিখিত শ্রেণীসমূহে ভাগ করা যেতে পারে:

    আগাম জাতঃ এসব জাত শীতকালেই হয়, তবে আগাম ফলে। আগাম জাতসমূহের বীজ বপন করা হয় জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে। আগাম জাতসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বারি টমেটো ৪, বারি টমেটো ৫, রোমা ভিএফ, রোমারিও, টিপু সুলতান, গ্রেট পেলে, ডেল্টা এফ ১, উন্নয়ন এফ ১, পুষারুবী, নিউ রূপালী এফ ১ ইত্যাদি।

    ভরা মৌসুমী জাতঃ শীতকালে স্বাভাবিক সময়েই এসব জাতের গাছে ফল ধরে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে বীজ বুনে অক্টোবর-নভেম্বরে এসব জাতের টমেটোর চারা রোপণ করা হয়। অধিকাংশ জাতই শীতকালে ফলে। এসব জাতের মধ্য থেকে মানিক, রতন, বারি টমেটো ৩, বারি টমেটো ৬, বারি টমেটো ৭, বারি টমেটো ৯, বাহার, মহুয়া ইত্যাদি জাতকে বেছে নেয়া যেতে পারে।

    নাবি শীত মৌসুমী জাতঃ এসব জাতের বীজ বুনতে হয় জানুয়ারিতে, ফল পাওয়া যায় মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত। বাহার, রোমা ভিএফ, রাজা, সুরক্ষা ইত্যাদি জাত নাবি চাষের জন্য ভাল।

    সারা বছর চাষের উপযোগি জাতঃ বছরের যে কোন সময় টমেটোর বীজ বুনলে চারা ও সেসব চারা লাগালে গাছ হয় সত্য, এমনকি সেসব গাছে ফুলও আসে। কিন্তু সব জাতের গাছে ফল ধরে না। এজন্য সারা বছর চাষের উপযোগি জাত যেমন বারি টমেটো ৬ (চৈতী) চাষ করা যায়।

    বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা উদ্ভাবিত টমেটোর উন্মুক্ত (OP) জাত গুলির সংক্ষিপ্ত বৈশিষ্ট নিম্নে দেয়া হলো:

    গ্রীষ্ম ও বর্ষায় চাষ পদ্ধতি:

    গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে টমেটো চাষ করার জন্য বারি-৪ হাইব্রিড টমেটো জাত অনুমোদন করা হয়েছে।২৩০ সেন্টিমিটার (প্রায় ৯০ ইঞ্চি) চওড়া (মাঝে ৩০ সেন্টিমিটার নালাসহ) ২টি বেডে লম্বালম্বিভাবে একটি করে ছাউনির ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ছাউনির দু’পাশে উচ্চতা ১৩৫ সেন্টিমিটার ও মাঝখানের উচ্চতা ১৮০ সেন্টিমিটার হয়।চারা লাগানোর আগেই জমিতে নৌকার ছইয়ের আকৃতি করে ছাউনি দিতে হয়। ছাউনির জন্য বাঁশ, স্বচ্ছ পলিথিন, নাইলনের দড়ি ও পাটের সুতলি প্রয়োজন। পলিথিন যাতে বাতাসে উড়ে না যায় সেজন্য ছাউনির ওপর দিয়ে উভয় পাশ থেকে আড়াআড়িভাবে দড়ি পেঁচানো হয়ে থাকে।পাশাপাশি দুই ছাউনির মাঝে ৫০ সেন্টিমিটার চওড়া নিষ্কাশন নালা রাখতে হবে। জমি থেকে বেডের উচ্চতা ২০-২৫ সেন্টিমিটার হতে হবে। প্রতিটি ছাউনিতে ২টি বেডে ৪টি সারি থাকবে। ২৫-৩০ দিন বয়সের চারা প্রতি বেডে ২ সারি করে রোপণ করতে হবে।গ্রীষ্মকালীন টমেটো গাছে প্রচুর ফুল ও করলেও উচ্চ তাপমাত্রা পরাগায়নে বিঘœ ঘটায়। কাজেই আশানুরূপ ফলন পেতে হলে ‘টমাটোটোন’ নামক কৃত্রিম হরমোন ২ সেমি. ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে ছোট সিঞ্চনযন্ত্রের সাহায্যে সপ্তাহে দুইবার শুধুমাত্র সদ্য ফোটা ফুলে স্প্রে করতে হবে।তবে নতুন উদ্ভাবিত হাইব্রিড জাতসমূহের হরমোন প্রয়োগ ছাড়াও লাভজনক ফলন পাওয়া যায়।

    সাভারে বাড়ির ছাদে বাড়ছে ফুল-ফলের বাগান

  • Share The Gag
  • সাভারে বাসাবাড়ির ছাদে ফুল ও ফলের বাগান করা হয়েছে। সেই ছাদে লাগানো হয় আম, লেবু, কমলালেবু, মালটা, কলা, আখ, পেয়ারা, আমড়া, স্ট্রবেরি, ডালিম, জাম্বুরাসহ বিভিন্ন ফলের গাছ। তার সাথে গোলাপ, পাতাবাহার, বেলিসহ বিভিন্ন জাতের ফুলের গাছ। এখন অনেক বাড়ির ছাদেই গাছে গাছে ঝুলছে বড় আকারের জাম্বুরা আর ডালিম। অন্য যে ফল রয়েছে সেগুলো দেখলেও মন জুড়িয়ে যায়। কিছু ফলগাছ আছে যেগুলো সারা বছর ফল ধরে। ছাদের বাগানে চাষ করা বিষমুক্ত ফল নিজেরা খাচ্ছেন, আত্মীয়স্বজন প্রতিবেশীদের বাড়িতেও পাঠাচ্ছেন।

    সাভার পৌর এলাকার মধ্য রাজাশনের ব্যবসায়ী আব্দুর রব জানান, ২০০৯ সালে তিনি পাঁচ শতাংশ জায়গায় বাড়ি করেন। ২০১২ সালে আড়াই শতাংশের মধ্যে দুই তলা বাড়ির ছাদে বাগান করেছেন আব্দুর রব। আর বাকি জায়গার মধ্যেও ফুল-ফলসহ বিভিন্ন সবজির বাগান তার। তার বাড়ির চার পাশে সবুজ সতেজ পরিবেশ। তিনি তার ছেলে ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়–য়া নাতি পারভেজ শত ব্যস্ততার মধ্যেও বাগানের পরিচর্যা করতে ভোলেন না। 

    আব্দুল রব জানান, তার বাড়ির ছাদের বাগানে ফলের মধ্যে ডালিম, জাম্বুরা, মাল্টা, কমলালেবু, করমচা, আম ও আমড়া গাছ আছে। এ ছাড়া তিনি টব ও ড্রামের মধ্যে বিভিন্ন জাতের ফুলের গাছ লাগিয়েছেন। সব মিলিয়ে বাগানে মোট গাছ আছে শতাধিক।

    মানুষ খোলামেলা উঠানের বাড়িগুলোর বদলে এখন গড়ে তুলছে আকাশছোঁয়া বহুতল সব ভবন। 

    ফলে বাড়ির উঠানের পাশ দিয়ে লাগানো বিশালাকৃতির গাছগুলো এখন আর দেখা যায় না। তাই বলে মানুষের মন থেকে কিন্তু হারিয়ে যায়নি সবুজের হাতছানি পাওয়ার আশা। এ কারণেই আধুনিক ফ্যাট বাড়িগুলোর ছাদে সাভার পৌর এলাকার অনেকেই গড়ে তুলছেন চমৎকার বাগান।

    আব্দুর রব নয়া দিগন্তকে বলেন, ছোটবেলায় গ্রামের বাড়ির বাগান থেকে ফল খেতাম। এখনকার শিশুদের গাছ থেকে সরাসরি ফল পেড়ে খাওয়ার অভিজ্ঞতা নেই। ছাদে বাগান করায় গাছ থেকে ফল পেড়ে খাওয়া যাচ্ছে। আত্মীয়স্বজনদের বিষমুক্ত ফল খাওয়ানো যায়।

    সাভার বাজার রোডের ব্যাংক কলোনির আরেকটি বাড়ির ছাদের বাগান দেখে চোখ আটকে যায়। চার তলা বাড়ির ছাদ থেকে সবুজ লতা দেয়াল বেয়ে নেমেছে নিচতলা পর্যন্ত। ছাদেও বোঝা যাচ্ছিল বাগানের অস্তিত্ব। পুরো বাড়িতেই সবুজের সমারোহ। ওই বাড়ির মালিক মনিরুজ্জামান জুয়েলের আশুলিয়া এলাকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। 

    তিনি বলেন, ইট-কংক্রিটের শহরে সবুজের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কষ্ট। তাই বাড়ি করার পর ছাদে বাগান করার পরিকল্পনা শুরু করি। তিনি জানান, তাদের বাগানে কমলালেবু থেকে শুরু করে প্রায় সব ফলই আছে। প্রতিটি পিলারের গোড়ায় ড্রামের মধ্যে গাছগুলো লাগানো হয়েছে। তার বাগানে ১২ মাসই আমড়া ধরে। গত বছর তাদের গাছে প্রচুর আম ধরেছে। নিজেরা খাওয়ার পাশাপাশি আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের মধ্যেও অনেক ফল বিতরণ করেছেন।

    ইদানীং বাসার ছাদে বাগানের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকেই ফুল-ফলের পাশাপাশি রীতিমতো শাকসবজিও চাষ করছেন। যারা ভাড়া বাসায় থাকেন বা ছাদে বাগান করার সুবিধা নেই, তারা টবে গাছগাছালি রোপণ করেছেন বারান্দায়, চিলেকোঠায়, সিঁড়ির কিনারায় অথবা জানালার পাশে। এতে একচিলতে জায়গাও সবুজ হয়ে উঠেছে। পরিবেশবাদীরা বেশ কিছু দিন ধরেই শহরের তাপমাত্রার ভারসাম্য রা, স্বাস্থ্য সুরা এবং বিষমুক্ত সবজি প্রাপ্তিতে ছাদে বাগান কর্মসূচি বাধ্যতামূলক করে নীতিমালা করার দাবি জানাচ্ছেন। তাদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে ঘনবসতিপূর্ণ শহরে পরিবেশ দিন দিন বিষিয়ে উঠছে।

    নদী ও পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদের সাভারের সিনিয়র সহসভাপতি প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন নয়া দিগন্তকে জানান, ছাদে বাগান শুধু শ্যামলিমা আনে না, ভবনের তাপমাত্রাও কমে। এ ক্ষেত্রে নার্সারি মালিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে ছাদে বাগান করাকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।