আদার কন্দ ছিদ্রকারি পোকা
পোকার ডিম থেকে বের হওয়ার পর সদ্যজাত লার্ভা রাইজোম ছিদ্র করে ভেতরে ঢুকে এবং রাইজোমের অভ্যন্তরীণ অংশ খায়। আক্রান্ত গাছ হলুদ হয়ে যায়। পরবর্তীকালে রাইজোমে পচন ধরে। আক্রমণের মাত্রা বেশি হলে গাছ থেকে কোনো ফলন পাওয়া যায় না। এ পোকা আদার রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ পোকা ডিম পাড়া এবং বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হওয়ার জন্য ছত্রাক আক্রান্ত আদা গাছ পছন্দ করে। রোগাক্রান্ত রাইজোমের মধ্যে পোকার লার্ভা এবং পিউপা দেখা যায়। এ ছাড়াও পূর্ণ বয়স্ক পোকাগুলো আদা গাছে ব্যাকটেরিয়াল উইল্টের বাহক হিসেবে কাজ করে।
প্রতিকার :
০ লার্ভা ও পিউপাসহ পচা রাইজোম সংগ্রহ এবং ধ্বংস করে ফেলতে হবে।
০ গাছের গোড়ার মাটি নিয়মিত উলোট-পালোট করতে হবে, কারণ পোকা মাটিতে ডিম পাড়ে।
০ যেহেতু রোগাক্রান্ত রাইজোমে পোকার আক্রমণ হয় এ জন্য ফসলকে রোগমুক্ত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
০ অত্যধিক আক্রান্ত এলাকায় আক্রমণের শুরুতে নিম্নলিখিত কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। কার্বোসালফান (মার্শাল ২০ ইসি, সানসালফান ২০ ইসি, জেনারেল ২০ ইসি বা অন্য নামের) অথবা ফেনিট্রোথিয়ন (ফেনিটকস ৫০ ইসি, সুমিথিয়ন ৫০ ইসি, ইমিথিয়ন ৫০ ইসি, সোভাথিয়ন ৫০ ইসি বা অন্য নামের) প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি হিসেবে আদা ক্ষেতে স্প্রে করতে হবে। স্প্রে করার সময় খেয়াল রাখতে হবে গাছের গোড়ার মাটি যেন ভিজে যায়। ।
পরবর্তীতে যা যা করবেন না:
১. আদা লাগানোর পর পিলাই ( গাছ বের হবার পর লাগানো আদা ) তুলবেন না
পরবর্তীতে যা যা করবেন:
১. স্বাস্থ্যবান এবং রোগমুক্ত রাইজোম বীজের জন্য নির্বাচন করে বপন করুন
২. উন্নত জাতের আদা বপন করুন ।
Tuesday, May 9, 2017
মরিচের ফলছিদ্রকারি পোকা দমন
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 2:32 AM
মরিচের ফলছিদ্রকারি পোকা
লক্ষণ :
পোকার কীড়া কচি ফল ও ডগা ছিদ্র করে ও ভিতরে কুরে কুরে খায় । এরা ফুলের কুঁড়িও খায়
প্রতিকার:
•ক্ষেত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা ।
• আক্রান্ত ডগা ও ফল সংগ্রহ করে নষ্ট করা
• চারা রোপনের ১৫ দিন পর থেকে ক্ষেত ঘন ঘন পর্যাবেক্ষন করা ।
• জৈব বালাইনাশক ব্যবহার যেমন নিমবিসিডিন ৩ মিঃলিঃ / লি. হারে পানিতে মিশিয়ে স্পে করা ।
• শতকরা ১০ ভাগের বেশি ক্ষতি হলে যে কোন একটি বালাইনাশক ব্যবহার করা । যেমন রিপকর্ড ১ মিঃলিঃ বা ডেসিস ০.৫মিলি বা ফাসটেক ০.৫ মিঃলিঃ বা সবিক্রন -২ মিঃলিঃ বা সুমিথিয়ন-২ মিঃলিঃ বা ডায়াজিনন ২ মিঃলিঃ /লিটার হারে পানিতে মিশিয়ে স্পে করা ।
পরবর্তীতে যা যা করবেন না:
১. স্প্রে করার পর ১৫ দিনের মধ্যে সেই সবজি খাবেন না বা বিক্রি করবেন না
পরবর্তীতে যা যা করবেন:
১. আগাম বীজ বপন করা
২. সুষম সার ব্যবহার করা
লক্ষণ :
পোকার কীড়া কচি ফল ও ডগা ছিদ্র করে ও ভিতরে কুরে কুরে খায় । এরা ফুলের কুঁড়িও খায়
প্রতিকার:
•ক্ষেত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা ।
• আক্রান্ত ডগা ও ফল সংগ্রহ করে নষ্ট করা
• চারা রোপনের ১৫ দিন পর থেকে ক্ষেত ঘন ঘন পর্যাবেক্ষন করা ।
• জৈব বালাইনাশক ব্যবহার যেমন নিমবিসিডিন ৩ মিঃলিঃ / লি. হারে পানিতে মিশিয়ে স্পে করা ।
• শতকরা ১০ ভাগের বেশি ক্ষতি হলে যে কোন একটি বালাইনাশক ব্যবহার করা । যেমন রিপকর্ড ১ মিঃলিঃ বা ডেসিস ০.৫মিলি বা ফাসটেক ০.৫ মিঃলিঃ বা সবিক্রন -২ মিঃলিঃ বা সুমিথিয়ন-২ মিঃলিঃ বা ডায়াজিনন ২ মিঃলিঃ /লিটার হারে পানিতে মিশিয়ে স্পে করা ।
পরবর্তীতে যা যা করবেন না:
১. স্প্রে করার পর ১৫ দিনের মধ্যে সেই সবজি খাবেন না বা বিক্রি করবেন না
পরবর্তীতে যা যা করবেন:
১. আগাম বীজ বপন করা
২. সুষম সার ব্যবহার করা
ভূমিহীনদের পথের দিশা তিস্তাচরের মিষ্টি কুমড়া
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 2:12 AM
ভূমিহীনদের পথের দিশা তিস্তাচরের মিষ্টি কুমড়া
দৃষ্টিভঙ্গিটা ছিল কিছুই না হওয়ার চেয়ে অন্তত কিছু হোক। গবেষণার ভিত্তিতে কৃষি উৎপাদন ও ভূমিহীন কৃষকদের জীবনমানের উন্নয়নকে সামনে রেখে কাজ শুরু। আর শুরুর বছরেই অনাবাদি ও পড়ে থাকা বালুচরে পিট পদ্ধতিতে মিষ্টি কুমড়া চাষে মেলে সফলতা। এরপর কেবল সামনের দিকে এগিয়ে চলার গল্প।
চাষির সংখ্যা বেড়ে শত শত থেকে এখন হাজার হাজারে দাঁড়িয়েছে। মিষ্টি কুমড়ায় ভূমিহীন এসব চাষির সংসারে ফিরেছে স্বচ্ছলতা। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন এর উদ্যোগ ও সহায়তায় বালুচরে মিষ্টি কুমড়া চাষের এ সফলতার দৃষ্টান্ত এখন সারা দেশজুড়ে। ২০০৫ সালে গাইবান্ধা জেলার চরাঞ্চলের ১১টি স্থানে ১৭৭ জন চাষিকে নিয়ে সবজি ফলানোর এ সংগ্রাম শুরু করে প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন। এর পরের কয়েক বছরের মধ্যেই রংপুর জেলার তিস্তা নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে মিষ্টি কুমড়া চাষে বিপ্লব ঘটে গেছে।
রংপুরের কাউনিয়া ও গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা নদীর জেগে ওঠা বালুচরে উত্তোলনের অপেক্ষায় পড়ে থাকা সারি সারি মিষ্টি কুমড়ার নান্দনিক শোভায় মুগ্ধ কৃষক, থমকে দাঁড়ায় পথিকও। চরাঞ্চলে উৎপাদিত কুমড়া এ অঞ্চলের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে।
সরেজমিনে গঙ্গাচড়া উপজেলার চর মর্নেয়া, শংকরদহ, ধামুর, কোলকোন্দ, শিঙ্গীমারী ও নোহালী চর এলাকায় দেখা যায়, আবাদকৃত মিষ্টি কুমড়া উত্তোলনে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন কৃষকরা। চর শিঙ্গিমারীর চাষি ইলিয়াছ মিয়া, মতিয়ার মিয়া, হরিকান্ত বর্মণ, আরতী রানী, ঝুমু রানী ও বিলকিস বেগম জানান, তারা গত তিন বছর ধরে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করছেন।
কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের রাজিব গ্রামের দিনেশ চন্দ্র, শফিকুল, তালুক সাহবাজ গ্রামের আব্দুল খালেক ও হরিচরণ শর্মা গ্রামের শফিকুল ইসলাম জানান, তাদের বাপ-দাদার আমলে কখনো এসব বালুচরে কোনো ফসলের চাষ হয়নি। এবার এলাকার চাষিরা প্রত্যেকে ২০০ থেকে ২৫০টি গাদায় (পিট) কুমড়া চাষ করেছেন। তারা জানান, নভেম্বর মাসে একটি করে গাদায় দুই থেকে তিনটি চারা রোপণ করা হয়। এতে তাদের খরচ হয়েছে পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা। ইতিমধ্যে প্রত্যেক চাষির কুমড়া বিক্রয় হয়েছে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকায়। জমিতে আরো যে পরিমাণ কুমড়া রয়েছে তা ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করা যাবে।
উদ্ভাবিত কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে দারিদ্র্য নিরসনে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ও প্রাকটিক্যাল অ্যাকশন চলতি বছর গঙ্গাচড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়নের প্রায় ১৯০ হেক্টর এবং কাউনিয়া উপজেলার প্রায় ৭৩ হেক্টর বালুচরে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেছে। উৎপাদিত কুমড়া বর্তমানে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি হচ্ছে।
কাউনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুর রহমান ও গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চলতি মৌসুমে তিস্তার বালুচরে অল্প খরচে অধিক ফলন ও দাম পেয়ে চাষিরা কুমড়া চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
প্রাকটিক্যাল অ্যাকশন, বাংলাদেশের এক্সট্রিম প্রোভার্টি প্রোগ্রাম হেড এ জেড এম নজমুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত চরাঞ্চলের তিন হাজার ২৭৩ জন চাষি এক হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে ৩৩ হাজার মেট্রিকটন কুমড়া উৎপাদন করেন। যার স্থানীয় বাজার মূল্য ২২ কোটি টাকা। এ সফলতার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ২০০৯ সালে সরকার ও ডিএফআইডি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচটি জেলায় ইইপি সিঁড়ি প্রকল্পের মাধ্যমে মিষ্টি কুমড়া চাষ সম্প্রসারণে সহায়তা করে।
২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রাকটিক্যাল অ্যাকশন, বাংলাদেশের এ উদ্যোগের সফলতা তুলে ধরে তিনি জানান, 'পাথওয়েজ ফ্রম প্রোভার্টি' প্রকল্পের মাধ্যমে ১৯ হাজার ২৫ হেক্টর বালুচর চাষের আওতায় আনা হয়। ওই বছরগুলোতে ১২ হাজার ৮৫৭ জন ভূমিহীন দরিদ্র চাষি প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিকটন মিষ্টি কুমড়া উৎপাদন করেন। যার বাজার মূল্য ৩৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা।
নজমুল ইসলাম বলেন, 'মিষ্টি কুমড়া উৎপাদনের এ প্রযুক্তি ভূমিহীনদের মধ্যে আশার আলো হিসেবে ধরা দিয়েছে। শুধু প্রকল্পের চাষিরাই নন, এর বাইরের চাষিরাও এ প্রযুক্তি অনুসরণ ও গ্রহণ করে উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি সাফল্য পাচ্ছেন। ' ভূমিহীনরা যেন তাদের কষ্টের ফসলের ন্যায্য দাম পান, তাও নিশ্চিত করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'দেশের বাজারে তৃণমূল চাষিদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। এ কারণে আমরা দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন বাজারের সঙ্গে তাদের সংযোগ করে দিচ্ছি। বর্তমানে একাধিক দেশে এসব মিষ্টি কুমড়া রপ্তানি হচ্ছে। '
দেশের নদীভাঙন কবলিত হতদরিদ্র মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক সময়ের পতিত বালুচরে মিষ্টি কুমড়া চাষের এ প্রযুক্তির সফলতা এখন প্রমাণিত। তিস্তাসহ দেশের ৩০ থেকে ৪০টি নদীভাঙন এলাকায় লক্ষাধিক পরিবার সব কিছু হারিয়ে বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধের ওপর বসবাস করে। বিশাল এ জনগোষ্ঠীকে যদি এ প্রযুক্তির আওতায় আনা যায়, তবে কৃষি উৎপাদনসহ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিপ্লব ঘটবে।
দৃষ্টিভঙ্গিটা ছিল কিছুই না হওয়ার চেয়ে অন্তত কিছু হোক। গবেষণার ভিত্তিতে কৃষি উৎপাদন ও ভূমিহীন কৃষকদের জীবনমানের উন্নয়নকে সামনে রেখে কাজ শুরু। আর শুরুর বছরেই অনাবাদি ও পড়ে থাকা বালুচরে পিট পদ্ধতিতে মিষ্টি কুমড়া চাষে মেলে সফলতা। এরপর কেবল সামনের দিকে এগিয়ে চলার গল্প।
চাষির সংখ্যা বেড়ে শত শত থেকে এখন হাজার হাজারে দাঁড়িয়েছে। মিষ্টি কুমড়ায় ভূমিহীন এসব চাষির সংসারে ফিরেছে স্বচ্ছলতা। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন এর উদ্যোগ ও সহায়তায় বালুচরে মিষ্টি কুমড়া চাষের এ সফলতার দৃষ্টান্ত এখন সারা দেশজুড়ে। ২০০৫ সালে গাইবান্ধা জেলার চরাঞ্চলের ১১টি স্থানে ১৭৭ জন চাষিকে নিয়ে সবজি ফলানোর এ সংগ্রাম শুরু করে প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন। এর পরের কয়েক বছরের মধ্যেই রংপুর জেলার তিস্তা নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে মিষ্টি কুমড়া চাষে বিপ্লব ঘটে গেছে।
রংপুরের কাউনিয়া ও গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা নদীর জেগে ওঠা বালুচরে উত্তোলনের অপেক্ষায় পড়ে থাকা সারি সারি মিষ্টি কুমড়ার নান্দনিক শোভায় মুগ্ধ কৃষক, থমকে দাঁড়ায় পথিকও। চরাঞ্চলে উৎপাদিত কুমড়া এ অঞ্চলের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে।
সরেজমিনে গঙ্গাচড়া উপজেলার চর মর্নেয়া, শংকরদহ, ধামুর, কোলকোন্দ, শিঙ্গীমারী ও নোহালী চর এলাকায় দেখা যায়, আবাদকৃত মিষ্টি কুমড়া উত্তোলনে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন কৃষকরা। চর শিঙ্গিমারীর চাষি ইলিয়াছ মিয়া, মতিয়ার মিয়া, হরিকান্ত বর্মণ, আরতী রানী, ঝুমু রানী ও বিলকিস বেগম জানান, তারা গত তিন বছর ধরে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করছেন।
কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের রাজিব গ্রামের দিনেশ চন্দ্র, শফিকুল, তালুক সাহবাজ গ্রামের আব্দুল খালেক ও হরিচরণ শর্মা গ্রামের শফিকুল ইসলাম জানান, তাদের বাপ-দাদার আমলে কখনো এসব বালুচরে কোনো ফসলের চাষ হয়নি। এবার এলাকার চাষিরা প্রত্যেকে ২০০ থেকে ২৫০টি গাদায় (পিট) কুমড়া চাষ করেছেন। তারা জানান, নভেম্বর মাসে একটি করে গাদায় দুই থেকে তিনটি চারা রোপণ করা হয়। এতে তাদের খরচ হয়েছে পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা। ইতিমধ্যে প্রত্যেক চাষির কুমড়া বিক্রয় হয়েছে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকায়। জমিতে আরো যে পরিমাণ কুমড়া রয়েছে তা ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করা যাবে।
উদ্ভাবিত কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে দারিদ্র্য নিরসনে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ও প্রাকটিক্যাল অ্যাকশন চলতি বছর গঙ্গাচড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়নের প্রায় ১৯০ হেক্টর এবং কাউনিয়া উপজেলার প্রায় ৭৩ হেক্টর বালুচরে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেছে। উৎপাদিত কুমড়া বর্তমানে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি হচ্ছে।
কাউনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুর রহমান ও গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চলতি মৌসুমে তিস্তার বালুচরে অল্প খরচে অধিক ফলন ও দাম পেয়ে চাষিরা কুমড়া চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
প্রাকটিক্যাল অ্যাকশন, বাংলাদেশের এক্সট্রিম প্রোভার্টি প্রোগ্রাম হেড এ জেড এম নজমুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত চরাঞ্চলের তিন হাজার ২৭৩ জন চাষি এক হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে ৩৩ হাজার মেট্রিকটন কুমড়া উৎপাদন করেন। যার স্থানীয় বাজার মূল্য ২২ কোটি টাকা। এ সফলতার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ২০০৯ সালে সরকার ও ডিএফআইডি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচটি জেলায় ইইপি সিঁড়ি প্রকল্পের মাধ্যমে মিষ্টি কুমড়া চাষ সম্প্রসারণে সহায়তা করে।
২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রাকটিক্যাল অ্যাকশন, বাংলাদেশের এ উদ্যোগের সফলতা তুলে ধরে তিনি জানান, 'পাথওয়েজ ফ্রম প্রোভার্টি' প্রকল্পের মাধ্যমে ১৯ হাজার ২৫ হেক্টর বালুচর চাষের আওতায় আনা হয়। ওই বছরগুলোতে ১২ হাজার ৮৫৭ জন ভূমিহীন দরিদ্র চাষি প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিকটন মিষ্টি কুমড়া উৎপাদন করেন। যার বাজার মূল্য ৩৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা।
নজমুল ইসলাম বলেন, 'মিষ্টি কুমড়া উৎপাদনের এ প্রযুক্তি ভূমিহীনদের মধ্যে আশার আলো হিসেবে ধরা দিয়েছে। শুধু প্রকল্পের চাষিরাই নন, এর বাইরের চাষিরাও এ প্রযুক্তি অনুসরণ ও গ্রহণ করে উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি সাফল্য পাচ্ছেন। ' ভূমিহীনরা যেন তাদের কষ্টের ফসলের ন্যায্য দাম পান, তাও নিশ্চিত করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'দেশের বাজারে তৃণমূল চাষিদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। এ কারণে আমরা দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন বাজারের সঙ্গে তাদের সংযোগ করে দিচ্ছি। বর্তমানে একাধিক দেশে এসব মিষ্টি কুমড়া রপ্তানি হচ্ছে। '
দেশের নদীভাঙন কবলিত হতদরিদ্র মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক সময়ের পতিত বালুচরে মিষ্টি কুমড়া চাষের এ প্রযুক্তির সফলতা এখন প্রমাণিত। তিস্তাসহ দেশের ৩০ থেকে ৪০টি নদীভাঙন এলাকায় লক্ষাধিক পরিবার সব কিছু হারিয়ে বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধের ওপর বসবাস করে। বিশাল এ জনগোষ্ঠীকে যদি এ প্রযুক্তির আওতায় আনা যায়, তবে কৃষি উৎপাদনসহ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিপ্লব ঘটবে।
আধুনিক পদ্ধতিতে পাহাড়ে চাষাবাদ
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 1:50 AM
দেশের এক-দশমাংশ পাহাড়ি অঞ্চল। আর এ পাহাড়ি অঞ্চলে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে ভূমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা একই সঙ্গে কর্মসংস্থান ও ফসলের ফলন বৃদ্ধি করা সম্ভব। পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় পাহাড়ের ঢালে গাছ-গাছালি কেটে ও আগুনে পুড়িয়ে জমিকে চাষ উপযোগী করার মাধ্যমে যে চাষাবাদ করা হয়, তাই হচ্ছে জুম চাষ। জুম চাষকে পাহাড়ি সমপ্রদায় বিভিন্ন নামে অভিহিত করে। চাষ পদ্ধতি একই। জুম চাষকে চাকমা ভাষায় জুম, মারমা ভাষায় ইয়াঁ, ত্রিপুরা ভাষায় হুগ, ম্রো ভাষায় উঃঅ, খিয়াং ভাষায় লাই, বম ভাষায় লাও, কৃষিবিজ্ঞানিদের ভাষায় স্থানান্তরিত। পাহাড়িরা যুগ যুগ ধরে এ সনাতন পদ্ধতিতে পাহাড়ে জুম চাষাবাদ করে আসছে। এর মাধ্যমেই জুমিয়ারা জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় ১৮১৮ সালে জুম চাষ একমাত্র কৃষি ব্যবস্থা ছিল। এরপর ১৮৬০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসতবাড়ির খাজনা প্রথা শুরু হয়। ১৮৭০ সালে এটিকে জুম খাজনা করা হয়। প্রতি পরিবার থেকে তখন ৪ টাকা খাজনা আদায় করা হতো। কৃষি বিভাগের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় অবস্থিত ৫ হাজার ৪৮০ বর্গকিলোমিটার অশ্রেণীভুক্ত বনভূমির সিংহভাগই জুম চাষ করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় ৩০-৩৫ হাজার জুমিয়া পরিবার এ জুম চাষের সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে রাঙামাটিতে ৯-১১ হাজার, খাগড়াছড়িতে ১০-১২ হাজার ও বান্দরবানে ১১-১৩ হাজার (তথ্য: জুম চাষ বই)। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর শতকরা ৮০ ভাগ জুম চাষ করে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য়ের লীলাভূমি পার্বত্য চট্টগ্রাম। ১৩,৩১৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল। দেশের এক-দশমাংশ আয়তনের এ পার্বত্য চট্টগ্রামে রয়েছে-রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা। তিন পার্বত্য জেলায় ২৫টি উপজেলা রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, উত্তর-পূর্বে ভাতের মিজোরাম রাজ্য, দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমার (বার্মার) আরকান প্রদেশ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলা। দেশের সব ক'টি ধর্মের লোক পাওয়া যায় এ অঞ্চলে। বাংলা ভাষা-ভাষির জনগোষ্ঠী ছাড়াও ভিন্ন ভাষার অনেক উপজাতি সমপ্রদায় বসবাস করে এ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে যা দেশের কোথাও আর দেখা যায় না। তাছাড়া পাহাড়ি-চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, মুরং, বোম, খুমি, খ্যাং, চাক, তঞ্চঙ্গা, লুসাই-কুকি, রিয়াং, উসাই, পাংগো ছাড়াও বিভিন্ন উপজাতি বসবাস করে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিরা জুম চাষ করে। জুমিয়া পরিবারগুলো তাদের এ ঐতিহ্যবাহী জুম চাষের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতে সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক ও আদি পদ্ধতিতে চাষাবাদের ফলে এ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে পাহাড়গুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। জুমচাষে প্রতিবছর অসংখ্য পাহাড়ের গাছপালা বন-জঙ্গল কেটে আগুনে পোড়ানোর ফলে সবুজ অরণ্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে হারিয়ে যাচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্যপ্রাণির অস্তিত্ব। প্রতিবছর নতুন নতুন পাহাড় বেছে নিতে হয়, স্থান পরিবর্তন করে পাহাড়ের ঢালে চাষাবাদ করতে হয়।
উপজাতীয় জুমিয়া পরিবারগুলো জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত পাহাড়ের বন-জঙ্গল কেটে রোদে শুকায়। প্রায় মাসখানেক রোদে শুকানোর পর আগুন দিয়ে পুড়ে ফেলে। ওই পাহাড়ে গাছপালা বলে কিছু থাকে না। শুধু ছাই আর গাছপালার পোড়া অবশিষ্টাংশ। জুমিয়া পরিবারগুলো বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকে। ভারী বৃষ্টি হওয়ার পর পাহাড়ের মাটি খুড়ে রোপণ করে বিভিন্ন ফসল। প্রতিটি গর্তে বিভিন্ন ফসলের বীজ রোপণ করে জুমিয়ারা। নানাজাতের ধান, কুমড়া, মারফা, অড়হড়, শিম, শশা, করলা, ঢেঁড়শ, তিল, কা, ভুট্টা, আদা, যব, তুলা, হলুদ, পাহাড়ি আলু, শাবাং (সবজির নাম), জুমিয়া কচু, মাকসহ বিভিন্ন ফসলের বীজ রোপণ করে। জুমিয়াদের ভাষায়
ধান করলে ধান পায়,
জুম করলে সব পায়।
জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত জুমের ফসল ঘরে ওঠাতে থাকে। তখন জুমের জমিতে জুমিয়ারা মাচাং ঘর করে এবং সপরিবারে সেখানে বাস করে। কারণ এ সময় হরিণ, বানর, হাতি, বন্য শূকর এছাড়া বিভিন্ন বন্যপ্রাণি দ্বারা ফসলের ক্ষতি পারে। ফসল সংগ্রহ শেষ হলে আবার নতুন করে পাহাড় খোঁজা শুরু করে জুমিয়ারা। এভাবে সুদীর্ঘকালব্যাপী এ ভূমিহীন উপজাতীয় জুমিয়া পরিবারগুলো ঘুরে বেড়ায় যাযাবরের মতো এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে।
অপরিকল্পিতভাবে চাষাবাদ বিশেষ করে জুম চাষের জন্য দায়ী। ১৯৯২ সালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়-খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান জেলার পাহাড়ি ভূমি ক্ষয়ের হার খুব বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়েছে। রামগড় কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, এক ইঞ্চি উর্বর মাটি তৈরি হতে প্রায় ১০০-১৫০ বছর সময় লাগে। অন্যদিকে অপরিকল্পতভাবে চাষাবাদ ও জুম চাষের ফলে পাহাড় ধ্বংস হয়ে এ উর্বর মাটি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। পাহাড়ি মাটি ক্ষয়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান যেমন-ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, নাইট্রোজেন, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।
এসব কারণে পাহাড়ে গাছপালা বেঁচে থাকা দুরূহ হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। জুমচাষের কারণে পাহাড় ধসে অনেক সময় আসা-যাওয়ার রাস্তা পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায়। নদী-নালা, খাল-বিল দ্রুত ভরাট হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে কাপ্তাই হ্রদের গভীরতা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। জুমচাষ এক পাহাড়ে করার পর ১০-১৫ বছর আর সেই পাহাড়ে চাষাবাদ করা যায় না। তাছাড়া ওই পাহাড়ে ফসল আর ভালো ফলে না।
জুম জমির মাটি পাহাড়িদের জন্য খুবই গুরুত্ব বহন করে। কেননা, চাকমা ও তংচঞ্চা পাঙ্গপূজার বেদীমূলে পূজার উপকরণ হিসেবে জুম মাটির প্রয়োজন হয় বলে জানালেন কয়েকজন পাহাড়ি। সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে চাষাবাদও বদলিয়েছে। চাষীরা এখন ব্যবহার করছে উচ্চফলনশীল হাইব্রিড বীজ, আইপি এম প্রযুক্তি, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি আরো অধিক উন্নত প্রযুক্তি। সেই যুগে জুম চাষ করে লাভবান হচ্ছে না জুম চাষীরা।
এমন অবস্থায় জুমীয়দের কথা বিবেচনা করে পাহাড়ের জন্য বিকল্প চাষ পদ্ধতি আবিষ্কৃৃত হয়েছে। তার নাম ম্যাথ্ (গড়ফধৎহ অমৎরপঁষঃঁৎধষ ঞবপযহড়ষড়মু রহ ঃযব ঐরষষ) পদ্ধতি। এ মডেল অনুসরণ করে চাষাবাদ করলে পাহাড়ি কৃষকদের আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব। এছাড়া এ পদ্ধতিতে উর্বরতা বিনষ্ট হয় না। মাটির ক্ষয়রোধ হয়। ফসলের পর্যায়ক্রম অনুসারে চাষাবাদ করা যায়। ম্যাথ পদ্ধতিতে ধাপে ধাপে ফসলের চাষ করতে হয়। প্রথম বৃষ্টির পর পরই দ্রুত বর্ধনশীল ফসল-পেঁপে, কলা, পেয়ারা, লেবু, আম, সফেদা, জাম্বুরা, কমলা পাশাপাশি কিছু বনজ চারা লাগিয়ে দিতে হয়। সময় উপযোগী-আড়াআড়িভাবে আনারস, অড়হড়, লাগাতে হয়। তাছাড়া মৌসুমভিত্তিক ধান, কাউন, ভুট্টা, তিল, কচু, ঢেঁড়শ, বরবটি, টমেটো, বেগুন ও মরিচের চাষাবাদ করা যেতে পারে। ম্যাথ পদ্ধতিতে চাষ করলে কৃষকরা সবজির দাম তুলনামূলক বেশি পাবে। কেননা এ সবজি অমৌসুমে পাওয়া যায়। এতে অর্থনৈতিক উন্নতি হবে, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পাবে, ভূমির ক্ষয়রোধ বন্ধ হবে। স্থায়ীভাবে বনায়ন সৃষ্টির ফলে প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধ হবে। ম্যাথ পদ্ধতি পাহাড়ি অঞ্চলে গ্রহণযোগ্য হবে এবং কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য়ের লীলাভূমি পার্বত্য চট্টগ্রাম। ১৩,৩১৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল। দেশের এক-দশমাংশ আয়তনের এ পার্বত্য চট্টগ্রামে রয়েছে-রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা। তিন পার্বত্য জেলায় ২৫টি উপজেলা রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, উত্তর-পূর্বে ভাতের মিজোরাম রাজ্য, দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমার (বার্মার) আরকান প্রদেশ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলা। দেশের সব ক'টি ধর্মের লোক পাওয়া যায় এ অঞ্চলে। বাংলা ভাষা-ভাষির জনগোষ্ঠী ছাড়াও ভিন্ন ভাষার অনেক উপজাতি সমপ্রদায় বসবাস করে এ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে যা দেশের কোথাও আর দেখা যায় না। তাছাড়া পাহাড়ি-চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, মুরং, বোম, খুমি, খ্যাং, চাক, তঞ্চঙ্গা, লুসাই-কুকি, রিয়াং, উসাই, পাংগো ছাড়াও বিভিন্ন উপজাতি বসবাস করে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিরা জুম চাষ করে। জুমিয়া পরিবারগুলো তাদের এ ঐতিহ্যবাহী জুম চাষের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতে সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক ও আদি পদ্ধতিতে চাষাবাদের ফলে এ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে পাহাড়গুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। জুমচাষে প্রতিবছর অসংখ্য পাহাড়ের গাছপালা বন-জঙ্গল কেটে আগুনে পোড়ানোর ফলে সবুজ অরণ্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে হারিয়ে যাচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্যপ্রাণির অস্তিত্ব। প্রতিবছর নতুন নতুন পাহাড় বেছে নিতে হয়, স্থান পরিবর্তন করে পাহাড়ের ঢালে চাষাবাদ করতে হয়।
উপজাতীয় জুমিয়া পরিবারগুলো জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত পাহাড়ের বন-জঙ্গল কেটে রোদে শুকায়। প্রায় মাসখানেক রোদে শুকানোর পর আগুন দিয়ে পুড়ে ফেলে। ওই পাহাড়ে গাছপালা বলে কিছু থাকে না। শুধু ছাই আর গাছপালার পোড়া অবশিষ্টাংশ। জুমিয়া পরিবারগুলো বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকে। ভারী বৃষ্টি হওয়ার পর পাহাড়ের মাটি খুড়ে রোপণ করে বিভিন্ন ফসল। প্রতিটি গর্তে বিভিন্ন ফসলের বীজ রোপণ করে জুমিয়ারা। নানাজাতের ধান, কুমড়া, মারফা, অড়হড়, শিম, শশা, করলা, ঢেঁড়শ, তিল, কা, ভুট্টা, আদা, যব, তুলা, হলুদ, পাহাড়ি আলু, শাবাং (সবজির নাম), জুমিয়া কচু, মাকসহ বিভিন্ন ফসলের বীজ রোপণ করে। জুমিয়াদের ভাষায়
ধান করলে ধান পায়,
জুম করলে সব পায়।
জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত জুমের ফসল ঘরে ওঠাতে থাকে। তখন জুমের জমিতে জুমিয়ারা মাচাং ঘর করে এবং সপরিবারে সেখানে বাস করে। কারণ এ সময় হরিণ, বানর, হাতি, বন্য শূকর এছাড়া বিভিন্ন বন্যপ্রাণি দ্বারা ফসলের ক্ষতি পারে। ফসল সংগ্রহ শেষ হলে আবার নতুন করে পাহাড় খোঁজা শুরু করে জুমিয়ারা। এভাবে সুদীর্ঘকালব্যাপী এ ভূমিহীন উপজাতীয় জুমিয়া পরিবারগুলো ঘুরে বেড়ায় যাযাবরের মতো এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে।
অপরিকল্পিতভাবে চাষাবাদ বিশেষ করে জুম চাষের জন্য দায়ী। ১৯৯২ সালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়-খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান জেলার পাহাড়ি ভূমি ক্ষয়ের হার খুব বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়েছে। রামগড় কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, এক ইঞ্চি উর্বর মাটি তৈরি হতে প্রায় ১০০-১৫০ বছর সময় লাগে। অন্যদিকে অপরিকল্পতভাবে চাষাবাদ ও জুম চাষের ফলে পাহাড় ধ্বংস হয়ে এ উর্বর মাটি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। পাহাড়ি মাটি ক্ষয়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান যেমন-ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, নাইট্রোজেন, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।
এসব কারণে পাহাড়ে গাছপালা বেঁচে থাকা দুরূহ হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। জুমচাষের কারণে পাহাড় ধসে অনেক সময় আসা-যাওয়ার রাস্তা পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায়। নদী-নালা, খাল-বিল দ্রুত ভরাট হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে কাপ্তাই হ্রদের গভীরতা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। জুমচাষ এক পাহাড়ে করার পর ১০-১৫ বছর আর সেই পাহাড়ে চাষাবাদ করা যায় না। তাছাড়া ওই পাহাড়ে ফসল আর ভালো ফলে না।
জুম জমির মাটি পাহাড়িদের জন্য খুবই গুরুত্ব বহন করে। কেননা, চাকমা ও তংচঞ্চা পাঙ্গপূজার বেদীমূলে পূজার উপকরণ হিসেবে জুম মাটির প্রয়োজন হয় বলে জানালেন কয়েকজন পাহাড়ি। সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে চাষাবাদও বদলিয়েছে। চাষীরা এখন ব্যবহার করছে উচ্চফলনশীল হাইব্রিড বীজ, আইপি এম প্রযুক্তি, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি আরো অধিক উন্নত প্রযুক্তি। সেই যুগে জুম চাষ করে লাভবান হচ্ছে না জুম চাষীরা।
এমন অবস্থায় জুমীয়দের কথা বিবেচনা করে পাহাড়ের জন্য বিকল্প চাষ পদ্ধতি আবিষ্কৃৃত হয়েছে। তার নাম ম্যাথ্ (গড়ফধৎহ অমৎরপঁষঃঁৎধষ ঞবপযহড়ষড়মু রহ ঃযব ঐরষষ) পদ্ধতি। এ মডেল অনুসরণ করে চাষাবাদ করলে পাহাড়ি কৃষকদের আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব। এছাড়া এ পদ্ধতিতে উর্বরতা বিনষ্ট হয় না। মাটির ক্ষয়রোধ হয়। ফসলের পর্যায়ক্রম অনুসারে চাষাবাদ করা যায়। ম্যাথ পদ্ধতিতে ধাপে ধাপে ফসলের চাষ করতে হয়। প্রথম বৃষ্টির পর পরই দ্রুত বর্ধনশীল ফসল-পেঁপে, কলা, পেয়ারা, লেবু, আম, সফেদা, জাম্বুরা, কমলা পাশাপাশি কিছু বনজ চারা লাগিয়ে দিতে হয়। সময় উপযোগী-আড়াআড়িভাবে আনারস, অড়হড়, লাগাতে হয়। তাছাড়া মৌসুমভিত্তিক ধান, কাউন, ভুট্টা, তিল, কচু, ঢেঁড়শ, বরবটি, টমেটো, বেগুন ও মরিচের চাষাবাদ করা যেতে পারে। ম্যাথ পদ্ধতিতে চাষ করলে কৃষকরা সবজির দাম তুলনামূলক বেশি পাবে। কেননা এ সবজি অমৌসুমে পাওয়া যায়। এতে অর্থনৈতিক উন্নতি হবে, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পাবে, ভূমির ক্ষয়রোধ বন্ধ হবে। স্থায়ীভাবে বনায়ন সৃষ্টির ফলে প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধ হবে। ম্যাথ পদ্ধতি পাহাড়ি অঞ্চলে গ্রহণযোগ্য হবে এবং কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
Monday, May 8, 2017
সুস্থ থাকতে রোজ খেতেই হবে কলা
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 1:43 PM
সুস্থ থাকতে রোজ খেতেই হবে কলা, জেনে নিন কলার ১০ গুণ
জেনে নিন কলার ১০ গুণ
কাঁচ কলার শুক্তো, পাকা কলা, থোড়, মোচা কোনটা বাদ দেবেন? আর এমন কি গাছ আছে বলুন তো যার ল্যাজা থেকে মুড়ো গোটাটাই খেয়ে ফেলতে পারেন? শুধু তাই নয়, কলা পাতায় মুড়ে মাছের পাতুরিও কি কম সুস্বাদু? ইচ্ছে হলে কলা পাতায় ভাত খেতে পারেন, কলার ভেলায় চড়ে খানিক ঘুরেও আসতে পারেন। এমনকী, কলার খোসাও দারুণ উপকারী। কেন কলার এত নামডাক? আসলে কলার গুণ যে অসীম। জেনে নিন কলার ১০ গুণ।
১। হার্ট- কলার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম। যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ফলে হার্ট সুস্থ থাকে। স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।
২। এনার্জি- ন্যাচারাল সুগার, সলিউবল ফাইবার ও পটাশিয়াম থাকা কারণে যে কোনও রকম এনার্জি ড্রিঙ্ক, এনার্জি বুস্টারের থেকে অনেক বেশি, অনেক ন্যাচারাল এনার্জি জোগায় কলা। এক্সারসাইজের আগে ও পরে তাই অবশ্যই কলা খান। অ্যাথলিট, টেনিস প্লেয়াররাও এনার্জির জন্য সবচেয়ে বেশি কলার উপরই ভরসা রাখেন।
৩।হজম- ডায়েটারি ফাইবার থাকার কারণে কলা হজম ক্ষমতা বাড়িয়ে পেট পরিষ্কার রাখে। হজমের সমস্যায় অ্যান্টাসিডের থেকে অনেক ভাল কাজ করে কলা। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে সকালে উঠে দুটো কলা খেয়ে নিন।
৪।আলসার- কলার মধ্যে থাকা প্রয়োজনীয় খনিজ ও উপাদান হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের ক্ষরণ রুখতে সাহায্য করে। ফলে স্টমাক অলাসারের সমস্যায় ভাল কাজ করে কলা।
৫।ভিটামিন বি ৬- কলার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন বি ৬। যা রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে ভিটামিন বি ৬। অ্যামাইনো অ্যাসিডের সিন্থেসিস বাড়িয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
৬।ভিটামিন ও মিনারেল- ভিটামিন বি ৬ ও পটাশিয়ামের পাশাপাশি কলায় রয়েছে ভিটামিন সি, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, আয়োডিন, সেলেনিয়াম ও জিঙ্ক। ফলে প্রতি দিনের ডায়েটে কলা থাকলে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি অনেকটাই মেটে।
৭।কলার খোসা- শুধু শাঁস নয়। কলার খোসাও দারুণ উপকারী। সোরেসিস, অ্যাকনের মতো ত্বকের সমস্যায় ভাল কাজ করে কলার খোসা। সদ্য ছাড়ানো টাটকা কলার খোসা ত্বকের সোরেসিসের উপর ঘষে নিন। সারা রাত রেখে দিন। সকালে উঠে মুখে ধুয়ে ফেলুন।
৮।ক্যানসার- সম্পূর্ণ পাকা কলার মধ্যে রয়েছে টিউমর নেক্রোসিস ফ্যাক্টর।এই সাইটোকিন কমপাউন্ড রক্তের শ্বেতকণিকা বাড়াতে সাহাযিয করে। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়।
৯।স্ট্রেস- স্ট্রেস কমাতে অব্যর্থ কলা। এর মধ্যে রয়েছে অ্যামাইনো অ্যাসিড ট্রিপটোফ্যান যা শরীরে সিরোটোনিমে পরিণত হয়।এই সিরোটোনিন স্ট্রেস কমিয়ে মুড ভাল করতে সাহায্য করে।অতিরিক্ত চাপের সময় কলা খেয়ে নিন। চাপ কমবে।
ক্যানসার রোধে সাহায্য করে বেদানা
১০।হ্যাংওভার- এক্সারসাইজে যেমন কাজে আসে কলা, তেমনই পার্টিতেও কাজে আসে কলা। পার্টি হ্যাংওভার কাটাতে কলার থেকে ভাল আর কিছু হতে পারে না। ব্লেন্ডারে দুটো কলা ও বরফ একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন, কয়েকটা বেরি, নারকেলের দুধ বা গরুর দুধ মিশিয়ে শেক বানিয়ে খেয়ে নিন। হ্যাংওভার কেটে যাবে।
জেনে নিন কলার ১০ গুণ
কাঁচ কলার শুক্তো, পাকা কলা, থোড়, মোচা কোনটা বাদ দেবেন? আর এমন কি গাছ আছে বলুন তো যার ল্যাজা থেকে মুড়ো গোটাটাই খেয়ে ফেলতে পারেন? শুধু তাই নয়, কলা পাতায় মুড়ে মাছের পাতুরিও কি কম সুস্বাদু? ইচ্ছে হলে কলা পাতায় ভাত খেতে পারেন, কলার ভেলায় চড়ে খানিক ঘুরেও আসতে পারেন। এমনকী, কলার খোসাও দারুণ উপকারী। কেন কলার এত নামডাক? আসলে কলার গুণ যে অসীম। জেনে নিন কলার ১০ গুণ।
১। হার্ট- কলার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম। যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ফলে হার্ট সুস্থ থাকে। স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।
২। এনার্জি- ন্যাচারাল সুগার, সলিউবল ফাইবার ও পটাশিয়াম থাকা কারণে যে কোনও রকম এনার্জি ড্রিঙ্ক, এনার্জি বুস্টারের থেকে অনেক বেশি, অনেক ন্যাচারাল এনার্জি জোগায় কলা। এক্সারসাইজের আগে ও পরে তাই অবশ্যই কলা খান। অ্যাথলিট, টেনিস প্লেয়াররাও এনার্জির জন্য সবচেয়ে বেশি কলার উপরই ভরসা রাখেন।
৩।হজম- ডায়েটারি ফাইবার থাকার কারণে কলা হজম ক্ষমতা বাড়িয়ে পেট পরিষ্কার রাখে। হজমের সমস্যায় অ্যান্টাসিডের থেকে অনেক ভাল কাজ করে কলা। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে সকালে উঠে দুটো কলা খেয়ে নিন।
৪।আলসার- কলার মধ্যে থাকা প্রয়োজনীয় খনিজ ও উপাদান হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের ক্ষরণ রুখতে সাহায্য করে। ফলে স্টমাক অলাসারের সমস্যায় ভাল কাজ করে কলা।
৫।ভিটামিন বি ৬- কলার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন বি ৬। যা রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে ভিটামিন বি ৬। অ্যামাইনো অ্যাসিডের সিন্থেসিস বাড়িয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
৬।ভিটামিন ও মিনারেল- ভিটামিন বি ৬ ও পটাশিয়ামের পাশাপাশি কলায় রয়েছে ভিটামিন সি, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, আয়োডিন, সেলেনিয়াম ও জিঙ্ক। ফলে প্রতি দিনের ডায়েটে কলা থাকলে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি অনেকটাই মেটে।
৭।কলার খোসা- শুধু শাঁস নয়। কলার খোসাও দারুণ উপকারী। সোরেসিস, অ্যাকনের মতো ত্বকের সমস্যায় ভাল কাজ করে কলার খোসা। সদ্য ছাড়ানো টাটকা কলার খোসা ত্বকের সোরেসিসের উপর ঘষে নিন। সারা রাত রেখে দিন। সকালে উঠে মুখে ধুয়ে ফেলুন।
৮।ক্যানসার- সম্পূর্ণ পাকা কলার মধ্যে রয়েছে টিউমর নেক্রোসিস ফ্যাক্টর।এই সাইটোকিন কমপাউন্ড রক্তের শ্বেতকণিকা বাড়াতে সাহাযিয করে। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়।
৯।স্ট্রেস- স্ট্রেস কমাতে অব্যর্থ কলা। এর মধ্যে রয়েছে অ্যামাইনো অ্যাসিড ট্রিপটোফ্যান যা শরীরে সিরোটোনিমে পরিণত হয়।এই সিরোটোনিন স্ট্রেস কমিয়ে মুড ভাল করতে সাহায্য করে।অতিরিক্ত চাপের সময় কলা খেয়ে নিন। চাপ কমবে।
ক্যানসার রোধে সাহায্য করে বেদানা
১০।হ্যাংওভার- এক্সারসাইজে যেমন কাজে আসে কলা, তেমনই পার্টিতেও কাজে আসে কলা। পার্টি হ্যাংওভার কাটাতে কলার থেকে ভাল আর কিছু হতে পারে না। ব্লেন্ডারে দুটো কলা ও বরফ একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন, কয়েকটা বেরি, নারকেলের দুধ বা গরুর দুধ মিশিয়ে শেক বানিয়ে খেয়ে নিন। হ্যাংওভার কেটে যাবে।
Sunday, May 7, 2017
পেয়ারা গাছে অসময়ে ফলধারণের কলাকৌশল
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 4:50 PM
পেয়ারা গাছে অসময়ে ফলধারণের কলাকৌশল
পেয়ারা অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ ফল। বাংলাদেশের সর্বত্রই কম বেশি এ ফল জন্মে থাকে। প্রাথমিকভাবে পেয়ারার বাণিজ্যিক চাষাবাদ পিরোজপুর, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এসব জেলায় কিছু কিছু এলাকায় চাষ হয়। বর্তমানে পেয়ারার কতগুলো উন্নতজাত ও নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে পেয়ারা চাষে কৃষক উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। এখন সারা দেশেই এ ফলের বাণিজ্যিক চাষাবাদ হচ্ছে। বহুবিধ গুণাগুণের সমন্বয়ের জন্য পেয়ারাকে নিরক্ষীয় এলাকার আপেল বলা হয়। মুচমুচ করে টাটকা পেয়ারা খাওয়ার মজাই অন্যরকম। তাছাড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে জ্যাম, জেলি, জুস এসব তৈরি করেও পেয়ারা খাওয়া যায়। আমাদের দেশে বেশ কয়েকটি উন্নত জাতের পেয়ারা যেমন কাজী পেয়ারা, বারি পেয়ারা-২, বারি পেয়ারা-৩ (লাল শাঁস বিশিষ্ট), বাউ পেয়ারা-১ থেকে বাউ পেয়ারা-৯ পর্যন্ত, ইপসা পেয়ারা পাওয়া যায়। স্থানীয় জাতের মধ্যে স্বরূপকাঠি, কাঞ্চননগর ও মুকুন্দপুরী অতি জনপ্রিয় জাত। সাম্প্রতিক সময়ে থাই পেয়ারা চাষে কৃষকদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
পেয়ারা গাছের বৈশিষ্ট্য
পেয়ারা খেতে খুবই সুস্বাদু, মুচমুচে ও সুমিষ্ট। পেয়ারাকে ভিটামিন সি এর ব্যাংক বলা যায়। পেয়ারা গাছ মাঝারি আকারের শাখা প্রশাখা বিশিষ্ট আকৃতির হয়ে থাকে। শীতের সময় পাতা ঝরে পড়ে। বসন্তের শেষের দিকে পেয়ারা গাছে নতুন পাতা ও ডগা আসে। সাধারণত বর্ষা ও শীত ঋতুতে গাছে পেয়ারা হয়। তবে শীত অপেক্ষা বর্ষাকালে ফলন একটু বেশি হয়। বর্ষাকালে জলীয়ভাব বেশি থাকায় ফলের মিষ্টতা ও অন্যান্য গুণাগুণ শীতকালের ফলের থেকে অনেকাংশেই কম থাকে। তাছাড়া জলীয়ভাব বেশি থাকায় পাকা ফল তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়, যার ফলে দাম থাকে কম। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সব জাতের পেয়ারার গুণাগুণ শীতকালে বেড়ে যায়, রোগ ও পোকার আক্রমণও কম থাকে। ফলের আকৃতি এবং রঙ সবদিক থেকেই সুন্দর হওয়ায় এ সময়ে পেয়ারার দামও থাকে বেশি। এসব দিক বিবেচনায় রেখেই বর্ষাকাল বাদে কিভাবে অন্যান্য ঋতুতে অত্যাধিক হারে উৎপাদন বাড়ানো যায় সে ব্যাপারে গবেষণা শুরু হয়। অত্যন্ত আশার কথা যে, গবেষকরা আজ এ ব্যাপারে সার্থক হয়েছেন। পেয়ারা গাছে অসময়ে ফলধারণ এখন খুব সহজেই সম্ভব হয়।
পেয়ারা গাছে অসময়ে ফলধারণের পদ্ধতিগুলো
বর্তমানে পেয়ারা গাছে বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের জন্য কৃষি বিজ্ঞানীরা বেশ কয়েকটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। সেগুলো হলো শিকড় উন্মুক্তকরণ পদ্ধতি, হরমোন জাতীয় পদার্থ প্রয়োগ পদ্ধতি ও শাখা-প্রশাখা বাঁকানো পদ্ধতি।
ক. শিকড় উন্মুক্তকরণ পদ্ধতি
পেয়ারা গাছের গোড়ার মাটি তুলে বা আলগা করে দিতে হবে। মাটি তুলে গাছের শিকড়গুলো বের করে নাড়াচাড়া দিতে হবে। গাছের গোড়া থেকে ০১ থেকে ১.৫ মিটার (পেয়ারা গাছের ক্যানপি) পর্যন্ত মাটি কোদাল, শাবল বা নিড়ানি দ্বারা খুব ভালোভাবে সাবধানতার সাথে মাটি উন্মুক্ত করে দিতে হবে। মাটি তুলে দেয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে, গাছের শিকড়গুলো কেটে না যায়। বিশেষ করে গাছের আসল মূল (টেপ রুট) কাটা ও উৎপাটন করা যাবে না। গাছ নাড়ানো যাবে না। সাধারণত যে কোনো বয়সের পেয়ারা গাছে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায়। গোড়ার মাটি উন্মুক্ত করার কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ দিন পর পরিচর্যা করতে হবে। পরিচর্যাকালে পরিমাণমতো সার ও সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এ পদ্ধতিতে গাছের পাতা লাল হয়ে ঝড়ে যেতে পারে। আমাদের দেশে এপ্রিল-মে মাসে পেয়ারা গাছে শিকড় উন্মুক্ত করতে হয়। এ প্রযুক্তি ব্যবহার করলে পেয়ারা গাছে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে ফলধারণ করে।
খ. হরমোন জাতীয় পদার্থ প্রয়োগ পদ্ধতি
সাধারণত ২ থেকে ৫ বছর বিশিষ্ট পেয়ারা গাছে হরমোন প্রয়োগ করতে হয়। এপ্রিল-মে মাসে হরমোন প্রয়োগ করার উৎকৃষ্ট সময়। এ সময়ে হরমোন জাতীয় পদার্থ হিসেবে ২,৪-ডি; ন্যাপথালিন এসিটিক এসিড (এনএএ), ১০% ইউরিয়ার দ্রবণ এসব রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। স্প্রে মেশিন বা ফুটপাম্প দিয়ে খুব ভালো করে পেয়ারা গাছের পাতা ভিজিয়ে দিতে হবে। কয়েক দিনের মধ্যেই গাছের পাতা লালচে হয়ে ঝড়ে যেতে পারে। পরবর্তীতে গাছে সঠিক পরিচর্যা নিলে নতুন পাতা জন্মাবে এবং অসময়ে ফলধারণ হবে।
গ. শাখা-প্রশাখা বাঁকানো পদ্ধতি
শাখা-প্রশাখা বাঁকানো পদ্ধতি সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তি। পেঁয়ারার ডাল বাঁকালেই প্রায় দশগুণ বেশি ফলন হয়। তাছাড়া একই প্রযুক্তিতে বছরের বার মাসই ফল ধরানো সম্ভব হয়। ফলের মৌসুমে গাছের ফুল ছিঁড়ে দিয়ে এ প্রক্রিয়াকে আরও প্রভাবিত করা যায়, যার ফলে সারা বছরই ফলের মৌসুমের তুলনায় কমপক্ষে আট থেকে দশগুণ ফল ধরবে গাছে। এ লক্ষ্যে ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে গবেষণার মাধ্যমে ‘গাছের ডাল বাঁকানো’ পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে। বছরে দুইবার অর্থাৎ গ্রীষ্মকালে এবং হেমন্তকালে শাখা-প্রশাখার নিয়ন্ত্রিত বিন্যাসের মাধ্যমে সারা বছর পেয়ারার ফুল ও ফলধারণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। গাছের বয়স দেড় থেকে দুইবছর হলেই এ পদ্ধতি শুরু করা যাবে এবং পাঁচ থেকে ছয় বছর পর্যন্ত এ পদ্ধতিতে ফলন বাড়ানো সম্ভব। ডাল বাঁকানোর ১০ থেকে ১৫ দিন আগে গাছের গোড়ায় সার ও পানি দিতে হয়। ডাল বাঁকানোর সময় প্রতিটি শাখার অগ্রভাগের প্রায় এক থেকে দেড়ফুট অঞ্চলের পাতা ও ফুল-ফল রেখে বাকি অংশ ছেটে দিতে হয়। এরপর ডালগুলোকে সুতা দিয়ে বেঁধে তা বাঁকিয়ে মাটির কাছাকাছি করে সাথে অথবা খুঁটির মাধ্যমে মাটিতে বেঁধে দিতে হয় । গ্রীষ্মকালে মাত্র ১০ থেকে ১২ দিন পরেই নতুন ডাল গজানো শুরু হয়। নতুন ডাল ১ সেমি. লম্বা হলে বাঁধন খুলে দেয়া হয়। আর হেমন্তকালে নতুন ডাল গজাতে ২০ থেকে ২৫ দিন সময় লাগে। ডাল বাঁকানোর ৪৫ থেকে ৬০ দিন পরে ফুল ধরা শুরু হয়। এভাবে গজানো প্রায় প্রতি পাতার কোলেই ফুল আসে। এ পদ্ধতিতে সারা বছরই ফলন পাওয়া যায়।
বিশেষ ব্যবস্থাপনাগুলো
পেয়ারা গাছের আকার আকৃতি, কাঠামো ও গুণগত মানের ফলধারণের জন্য গাছে বিশেষ কতগুলো ব্যবস্থাপনা করা যায়। এ ব্যবস্থাপনাগুলোর মধ্যে অঙ্গ ছাঁটাই, ডাল নুয়ে দেয়া, ফুল ছিঁড়ে দেয়া, ফল পাতলাকরণ, ফল ঢেকে দেয়া এসব পদ্ধতি।
অঙ্গ ছাঁটাই : গাছের মরা, শুকনা, চিকন, লিকলিকে, রোগাক্রান্ত ও প্রয়োজনহীন ডালপালা ছাঁটাই করাকে অঙ্গ ছাঁটাই বলা হয়। রোপণকৃত চারা বা কলমের আকার, আকৃতি ও কাঠামো সুন্দর করার উদ্দেশ্যে মাটি থেকে ১.০ থেকে ১.৫ মিটার ওপরে বিভিন্ন দিকে ছড়ানো ৪ থেকে ৫টি ডাল রেখে গোড়ার দিকের সব ডাল ছাঁটাই করে দিতে হবে। বয়স্ক গাছের ফল সংগ্রহের পর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে অঙ্গ ছাঁটাই করা হয়। এতে গাছে নতুর ডালপালা গজায়, প্রচুর ফুল হয় এবং গুণমানের উৎকৃষ্ট ফলধারণ করে।
ডাল নুয়ে দেয়া : পেয়ারা গাছের খাঁড়া ডালে সাধারণত ফুল ও ফল খুবই কম ধরে। তাই খাঁড়া ডালগুলোকে যদি ওজন বা টানার সাহায্যে নুয়ে দিলে প্রচুর পরিমাণ নতুন শাখা গজায়। নতুন ডালপালায় গুণগতমানের ফলধারণ ও ফলন বৃদ্ধি পায়।
ফুল ও ফল পাতলাকরণ : কাজী পেয়ারা ও বারি পেয়ারা-২ এর গাছে প্রতি বছর প্রচুরসংখ্যক ফুল ও ফল আসে। ফল আকারে বড় হওয়ার গাছের পক্ষে সব ফল ধারণ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। ফলের ভারে ডালপালা ভেঙে যায় এবং ফল আকারে ছোট ও নি¤œমানের হয়। এ অবস্থায়, গাছকে দীর্ঘদিন ফলবান রাখতে ও মানসম্পন্ন ফল পেতে হলে প্রথমেই কিছু ফুল এবং পরে ফল ছোট থাকা অবস্থায় (মার্বেল অবস্থা) ৫০ থেকে ৬০% ফল পাতলা করে দেয়া দরকার। কলমের গাছের ক্ষেত্রে কোনো অবস্থাতেই প্রথম বছর ফল নেয়া উচিত হবে না। তাই ফুল আসার সাথে সাথে ছিঁড়ে ফেলে দেয়া প্রয়োজন। দ্বিতীয় বছর অল্প পরিমাণ ফল নেয়া ভালো। এভাবে গাছের বয়স ও অবস্থা বুঝে ফল রাখতে হবে। পরিকল্পিত উপায়ে ফুল বা ফল পাতলা করে প্রায় সারা বছর কাজী পেয়ারা ও বারি পেয়ারা-২ জাতের গাছে ফল পাওয়া যাবে।
ফ্রুট ব্যাগিং বা ফল ঢেকে দেয়া : পেয়ারা ছোট অবস্থাতেই ব্যাগিং করলে রোগ, পোকামাকড়, পাখি, বাদুড়, কাঠবিড়ালি এসব থেকে সহজেই রক্ষা করা যায়। ব্যাগিং করা ফল অপেক্ষাকৃত বড় আকারের এবং আকর্ষণীয় রঙের হয়। ব্যাগিং বাদামি কাগজ বা ছোট ছিদ্রযুক্ত পলিথিন দিয়ে করা যেতে পারে। ব্যাগিং করলে সূর্যের আলট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে প্রতিহত হয় বিধায় কোষ বিভাজন বেশি হয় এবং ফল আকারে বড় হয়। ব্যাগিং করার আগে অবশ্যই প্রতি লিটার পানির সঙ্গে ০.৫ মিলি হারে টিল্ট ২৫০ ইসি মিশিয়ে সব ফল ভালোভাবে ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশে পেয়ারার উৎপাদন মাত্র ১ লাখ ৬১ হাজার টন। বাংলাদেশের আবহাওয়া, জলবায়ু, মাটি এসব পেয়ারা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তাছাড়া অসময়ে ফলধারণের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগুলো গবেষকরা উদ্ভাবন করেছেন। বিশেষ ব্যবস্থাপনাসমূহের মাধ্যমে সহজেই পেয়ারা চাষে আর্থিক লাভবান করা সম্ভব। তাই পরিকল্পিত উপায়ে প্রযুক্তিভিত্তিক পেয়ারা চাষের প্রতি কৃষক ভাইদের উদ্বুদ্ধ ও বাস্তবায়ন করার জন্য গবেষক, বিজ্ঞানী, সম্প্রসারণবিদ, কৃষিকর্মী সর্বোপরি সরকারের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার।
থাই পেয়ারার চাষ
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 4:43 PM
থাই পেয়ারার চাষ
এও সি ভিটামিন সমৃদ্ধ বহুবিধ গুণের জন্য নিরক্ষীয় অঞ্চলে পেয়ারাকে বলা হয় আপেল। বাংলাদেশের সর্বত্র কম-বেশি পেয়ারার চাষ হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে ২৪ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমি থেকে ৪৫ হাজার ৯৯০ মেট্রিক টন পেয়ারা উৎপন্ন হয়। ক’বছর আগেও শীতকালে পেয়ারা পাওয়া যেত না। দেশের কৃষিবিজ্ঞানীদের গবেষণা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে এখন শীতকালেও সুস্বাদু পেয়ারা পাওয়া যাচ্ছে দেশে। থাইল্যান্ড থেকে আসা থাই পেয়ারা-৫ ও থাই পেয়ারা-৭ এখন চাষ হচ্ছে সারা দেশে। বেশি ফলন ও বেশি দামের জন্য এ পেয়ারা এরই মধ্যে দেশের ফলচাষিদের মধ্যে বিপুল সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছে। রাজশাহী, নাটোর, বগুড়া ও ঈশ্বরদীর অনেক ফলচাষি থাই পেয়ারা চাষ করে তাদের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছেন এবং অধিক লাভ হওয়ার কারণে এর চাষ সারা দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। পেয়ারার এসব জাতের মধ্যে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট জাতটি হলো থাই পেয়ারা-৭। এ পেয়ারার আকার গোলাকার, রঙ হলদে সবুজ, প্রতিটি পেয়ারার ওজন গড়ে ৪০০ থেকে ৭০০ গ্রাম। গাছের উচ্চতা ২.৫ থেকে ১০ মিটার। ফুল ফোটা থেকে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত ৯০ দিন সময় লাগে। এ জাতের বড় বৈশিষ্ট্য হলো- বারো মাসই এ পেয়ার পাওয়া যায়। বীজ কম ও নরম। অন্যান্য পেয়ারার চেয়ে বেশি মিষ্টি ও কচকচা। বসতবাড়ির আঙিনায়, বাড়ির ছাদে বা মাঠে বাণিজ্যিকভাবে বেশ লাভজনকভাবে এ পেয়ারা চাষ করা যায়।
এ জাতের পেয়ারা বর্তমানে রাজধানী ঢাকা শহরে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অপার সম্ভাবনাময় এ পেয়ারা পরীক্ষামূলকভাবে এক বিঘা জমিতে চাষ করে খরচ বাদে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ পাওয়া গেছে। এ কারণে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত মানসম্পন্ন উদ্যান প্রকল্প গত বছর ৩ লাখ থাই পেয়ারার চারা উৎপাদন করে। প্রতিটি চারা মাত্র ১০ টাকা মূল্যে বিক্রি করা হয়। সমন্বিত মানসম্পন্ন উদ্যান প্রকল্পের পরিচালক বলেন, ২০০২ সালে থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো উন্নত জাতের পেয়ারার জাত আনা হয়। তারপর ২০০৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আরও কয়েকটি জাত এনে দেশে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। সর্বশেষ থাই পেয়ারা-৭ জাতটির মধ্যে উৎকর্ষতা পাওয়া যায়। জাতটি দেশের মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী। দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি হার্টিকালচার সেন্টার, ব্র্যাক নার্সারি এবং বিভিন্ন বেসরকারি নার্সারি যেমন বগুড়ার সবুজ নার্সারি ও নাটোরের তেকুপির কৃষিবিদ নার্সারিতে সুলভে থাই পেয়ারার চারা পাওয়া যায়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বেশ কিছুসংখ্যক প্রগতিশীল ফলচাষি থাই পেয়ারা চাষ করে সফল হয়েছেন।
শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের রায়হান উদ্দিন পেয়ারা বিক্রি করে ১৯ লাখ টাকা লাভ করেছেন। তিনি ৩৪ বিঘা জমিতে থাই পেয়ারা চাষ করেন। এতে খরচ পড়ে ১ লাখ টাকা। পরবর্তীতে তিনি প্রতি কেজি পেয়ারা বিক্রি করেছেন সর্বোচ্চ ১৭৫ টাকা। বিঘাপ্রতি ফলন হয়েছে ২ হাজার কেজি। উদ্যান বিশেষজ্ঞরা জানান, এক বিঘা জমিতে পূর্ণবয়স্ক গাছ থাকলে ২ হাজার কেজির বেশি পেয়ারা উৎপন্ন হয়। সব খরচ বাদে চাষির লাভ থাকে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা। নাটোর শহরের আলম নামের একজন ফলচাষি ২৫ বিঘা জমির ওপর গড়ে তুলেছেন থাই পেয়ারার এক নয়নকাড়া বাগান। তিনি গ্রীষ্ম ও বর্ষার সময় তেমন বেশি ফল নেন না। কারণ এ সময় পেয়ারার দাম কম থাকে। তিনি এ সময়ে ধরা ফলের শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ নষ্ট করে দেন। এতে শরৎ ও শীতকালে প্রচুর ফল ধরে। অমৌসুমে পেয়ারার দাম বেশি থাকায় লাভের পরিমাণটাও বেশি হয়।
চাষ পদ্ধতি : অন্যান্য জাতের পেয়ারার মতোই মধ্য জ্যৈষ্ঠ থেকে মধ্য আশ্বিন মাসে থাই পেয়ারা-৭ এর চারা রোপণ করতে হয়। এ পেয়ারা চাষের জন্য নিকাশযুক্ত বেলে দো-অাঁশ মাটিই উত্তম। এ পেয়ারার বংশবৃদ্ধির জন্য বীজ থেকে চারা বা গুটি কলম ব্যবহার করা উচিত। চার বাই চার বা তিন বাই তিন মিটার দূরত্বে এ জাতের পেয়ারার চারা রোপণ করা যায়। রোপণের কয়েক সপ্তাহ আগে ৫০ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্য, ৫০ সেন্টিমিটার প্রস্থ ও ৫০ সেন্টিমিটার চওড়া গর্ত খনন করতে হবে। প্রতিটি গর্তে মাটির সঙ্গে চারা রোপণের ২০ থেকে ৩০ দিন আগে ৪০ থেকে ৫০ কেজি পচা গোবর সার, ১৫০ গ্রাম টিএসপি ও ১৫০ গ্রাম এমওপি সার মিশিয়ে দিতে হবে। তার পর সারমিশ্রিত মাটি দ্বারা গর্ত ভরাট করে গর্তের মাঝখানে চারাটি রোপণ করতে হবে। চারা রোপণের পর গর্তের চারদিকে মাটি দ্বারা উঁচু করে বেঁধে দিতে হবে, যাতে বাইরের পানি এসে গাছের গোড়ায় না জমে।
গাছটি যাতে বাতাসে হেলে না পড়ে সেজন্য বাঁশের খুঁটির সঙ্গে হালকাভাবে বেঁধে দিতে হবে। রসের অভাব হলে সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। পেয়ারা গাছ থেকে অধিক ফলন পেতে পাঁচ বছরের নিচের একটি গাছে বছরে পচা গোবর ২০ থেকে ২৫ কেজি, ইউরিয়া ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম, টিএসটি ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ও এমওপি ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম এবং পাঁচ বছরের ওপর একটি গাছে প্রতি বছর পচা গোবর ২৫ থেকে ৩০ কেজি, ইউরিয়া ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম, টিএসপি ৪৫০ থেকে ৫৫০ গ্রাম, এমওপি ৪৫০ থেকে ৫৫০ গ্রাম সার ব্যবহার করতে হবে। উল্লিখিত পরিমাণ সার সমান দুইভাগে ভাগ করে বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ এবং আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে দুই কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। সার প্রয়োগের পর প্রয়োজনে সেচ দিতে হবে। অনেক সময় জিঙ্কের অভাবে পাতার শিরায় ক্লোরোসিস দেখা যায়। সেক্ষেত্রে ৮০ লিটার পানিতে ৪০০ গ্রাম জিঙ্ক ও ৪০০ গ্রাম চুন মিশিয়ে গাছে স্প্রে করতে হবে। পেয়ারা সংগ্রহের পর ভাঙা, রোগাক্রান্ত ও মরা শাখা-প্রশাখা ছাঁটাই করে ফেলতে হবে। পেয়ারা গাছ প্রতি বছর প্রচুরসংখ্যক ফল দিয়ে থাকে। গাছের পক্ষে সব ফল ধারণ সম্ভব হয় না। তাই মার্বেল আকৃতির হলেই ঘন সন্নিবিষ্ট ফল ছাঁটাই করতে হবে। ছাতরা পোকা, সাদা মাছি পোকা, ফল ছিদ্রকারী পোকা ও মাছি পোকাসহ বিভিন্ন রকমের পোকা দ্বারা পেয়ারার গাছ আক্রান্ত হয়। এসব পোকা-মাকড় দমনের জন্য সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করতে হবে। যেমন-মাটিতে পড়ে থাকা পোকা আক্রান্ত ফল কুড়িয়ে ধ্বংস করা। ফেরোমোন ফাঁদ ও বিষ টোপ ব্যবহার।
সাদা মাছি দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে পাঁচ গ্রাম ডিটারজেন্ট পাউডার মিশিয়ে গাছে স্প্রে করা। আর অন্যান্য পোকা দমনের জন্য পেয়ারা গাছে ১০ থেকে ১৫ দিন পর পর দুই থেকে তিনবার সিমবুশ বা মেলাথিয়ন ইত্যাদি কীটনাশকের যে কোনো একটি প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২৫ মিলি মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। এছাড়া পেয়ারা গাছে অ্যানথ্রাকনোজ রোগ দেখা দিলে প্রথমে পেয়ারার গায়ে ছোট ছোট বাদামি রঙের দাগ দেখা দেয়। দাগগুলো ক্রমান্বয়ে বড় হয়ে পেয়ারার গায়ে ক্ষতের সৃষ্টি করে। আক্রান্ত ফল পরিপক্ব হলে অনেক সময় ফেটে যায়। এ রোগ দমনের জন্য গাছের নিচে ঝরে পড়া পাতা ও ফল সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। গাছে ফুল ধরার পর টপসিন-এম প্রতি লিটার পানিতে দুই গ্রাম মিশিয়ে ১৫ দিন অন্তর স্প্রে করতে হবে।
ভালোভাবে যত্ন নিলে একটি পূর্ণবয়স্ক গাছে গ্রীষ্মকালে ৬০ থেকে ৭০ কেজি এবং হেমন্তকালে ৫০ থেকে ৬০ কেজি ফলন পাওয়া যায়।
এও সি ভিটামিন সমৃদ্ধ বহুবিধ গুণের জন্য নিরক্ষীয় অঞ্চলে পেয়ারাকে বলা হয় আপেল। বাংলাদেশের সর্বত্র কম-বেশি পেয়ারার চাষ হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে ২৪ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমি থেকে ৪৫ হাজার ৯৯০ মেট্রিক টন পেয়ারা উৎপন্ন হয়। ক’বছর আগেও শীতকালে পেয়ারা পাওয়া যেত না। দেশের কৃষিবিজ্ঞানীদের গবেষণা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে এখন শীতকালেও সুস্বাদু পেয়ারা পাওয়া যাচ্ছে দেশে। থাইল্যান্ড থেকে আসা থাই পেয়ারা-৫ ও থাই পেয়ারা-৭ এখন চাষ হচ্ছে সারা দেশে। বেশি ফলন ও বেশি দামের জন্য এ পেয়ারা এরই মধ্যে দেশের ফলচাষিদের মধ্যে বিপুল সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছে। রাজশাহী, নাটোর, বগুড়া ও ঈশ্বরদীর অনেক ফলচাষি থাই পেয়ারা চাষ করে তাদের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছেন এবং অধিক লাভ হওয়ার কারণে এর চাষ সারা দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। পেয়ারার এসব জাতের মধ্যে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট জাতটি হলো থাই পেয়ারা-৭। এ পেয়ারার আকার গোলাকার, রঙ হলদে সবুজ, প্রতিটি পেয়ারার ওজন গড়ে ৪০০ থেকে ৭০০ গ্রাম। গাছের উচ্চতা ২.৫ থেকে ১০ মিটার। ফুল ফোটা থেকে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত ৯০ দিন সময় লাগে। এ জাতের বড় বৈশিষ্ট্য হলো- বারো মাসই এ পেয়ার পাওয়া যায়। বীজ কম ও নরম। অন্যান্য পেয়ারার চেয়ে বেশি মিষ্টি ও কচকচা। বসতবাড়ির আঙিনায়, বাড়ির ছাদে বা মাঠে বাণিজ্যিকভাবে বেশ লাভজনকভাবে এ পেয়ারা চাষ করা যায়।
এ জাতের পেয়ারা বর্তমানে রাজধানী ঢাকা শহরে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অপার সম্ভাবনাময় এ পেয়ারা পরীক্ষামূলকভাবে এক বিঘা জমিতে চাষ করে খরচ বাদে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ পাওয়া গেছে। এ কারণে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত মানসম্পন্ন উদ্যান প্রকল্প গত বছর ৩ লাখ থাই পেয়ারার চারা উৎপাদন করে। প্রতিটি চারা মাত্র ১০ টাকা মূল্যে বিক্রি করা হয়। সমন্বিত মানসম্পন্ন উদ্যান প্রকল্পের পরিচালক বলেন, ২০০২ সালে থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো উন্নত জাতের পেয়ারার জাত আনা হয়। তারপর ২০০৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আরও কয়েকটি জাত এনে দেশে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। সর্বশেষ থাই পেয়ারা-৭ জাতটির মধ্যে উৎকর্ষতা পাওয়া যায়। জাতটি দেশের মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী। দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি হার্টিকালচার সেন্টার, ব্র্যাক নার্সারি এবং বিভিন্ন বেসরকারি নার্সারি যেমন বগুড়ার সবুজ নার্সারি ও নাটোরের তেকুপির কৃষিবিদ নার্সারিতে সুলভে থাই পেয়ারার চারা পাওয়া যায়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বেশ কিছুসংখ্যক প্রগতিশীল ফলচাষি থাই পেয়ারা চাষ করে সফল হয়েছেন।
শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের রায়হান উদ্দিন পেয়ারা বিক্রি করে ১৯ লাখ টাকা লাভ করেছেন। তিনি ৩৪ বিঘা জমিতে থাই পেয়ারা চাষ করেন। এতে খরচ পড়ে ১ লাখ টাকা। পরবর্তীতে তিনি প্রতি কেজি পেয়ারা বিক্রি করেছেন সর্বোচ্চ ১৭৫ টাকা। বিঘাপ্রতি ফলন হয়েছে ২ হাজার কেজি। উদ্যান বিশেষজ্ঞরা জানান, এক বিঘা জমিতে পূর্ণবয়স্ক গাছ থাকলে ২ হাজার কেজির বেশি পেয়ারা উৎপন্ন হয়। সব খরচ বাদে চাষির লাভ থাকে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা। নাটোর শহরের আলম নামের একজন ফলচাষি ২৫ বিঘা জমির ওপর গড়ে তুলেছেন থাই পেয়ারার এক নয়নকাড়া বাগান। তিনি গ্রীষ্ম ও বর্ষার সময় তেমন বেশি ফল নেন না। কারণ এ সময় পেয়ারার দাম কম থাকে। তিনি এ সময়ে ধরা ফলের শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ নষ্ট করে দেন। এতে শরৎ ও শীতকালে প্রচুর ফল ধরে। অমৌসুমে পেয়ারার দাম বেশি থাকায় লাভের পরিমাণটাও বেশি হয়।
চাষ পদ্ধতি : অন্যান্য জাতের পেয়ারার মতোই মধ্য জ্যৈষ্ঠ থেকে মধ্য আশ্বিন মাসে থাই পেয়ারা-৭ এর চারা রোপণ করতে হয়। এ পেয়ারা চাষের জন্য নিকাশযুক্ত বেলে দো-অাঁশ মাটিই উত্তম। এ পেয়ারার বংশবৃদ্ধির জন্য বীজ থেকে চারা বা গুটি কলম ব্যবহার করা উচিত। চার বাই চার বা তিন বাই তিন মিটার দূরত্বে এ জাতের পেয়ারার চারা রোপণ করা যায়। রোপণের কয়েক সপ্তাহ আগে ৫০ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্য, ৫০ সেন্টিমিটার প্রস্থ ও ৫০ সেন্টিমিটার চওড়া গর্ত খনন করতে হবে। প্রতিটি গর্তে মাটির সঙ্গে চারা রোপণের ২০ থেকে ৩০ দিন আগে ৪০ থেকে ৫০ কেজি পচা গোবর সার, ১৫০ গ্রাম টিএসপি ও ১৫০ গ্রাম এমওপি সার মিশিয়ে দিতে হবে। তার পর সারমিশ্রিত মাটি দ্বারা গর্ত ভরাট করে গর্তের মাঝখানে চারাটি রোপণ করতে হবে। চারা রোপণের পর গর্তের চারদিকে মাটি দ্বারা উঁচু করে বেঁধে দিতে হবে, যাতে বাইরের পানি এসে গাছের গোড়ায় না জমে।
গাছটি যাতে বাতাসে হেলে না পড়ে সেজন্য বাঁশের খুঁটির সঙ্গে হালকাভাবে বেঁধে দিতে হবে। রসের অভাব হলে সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। পেয়ারা গাছ থেকে অধিক ফলন পেতে পাঁচ বছরের নিচের একটি গাছে বছরে পচা গোবর ২০ থেকে ২৫ কেজি, ইউরিয়া ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম, টিএসটি ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ও এমওপি ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম এবং পাঁচ বছরের ওপর একটি গাছে প্রতি বছর পচা গোবর ২৫ থেকে ৩০ কেজি, ইউরিয়া ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম, টিএসপি ৪৫০ থেকে ৫৫০ গ্রাম, এমওপি ৪৫০ থেকে ৫৫০ গ্রাম সার ব্যবহার করতে হবে। উল্লিখিত পরিমাণ সার সমান দুইভাগে ভাগ করে বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ এবং আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে দুই কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। সার প্রয়োগের পর প্রয়োজনে সেচ দিতে হবে। অনেক সময় জিঙ্কের অভাবে পাতার শিরায় ক্লোরোসিস দেখা যায়। সেক্ষেত্রে ৮০ লিটার পানিতে ৪০০ গ্রাম জিঙ্ক ও ৪০০ গ্রাম চুন মিশিয়ে গাছে স্প্রে করতে হবে। পেয়ারা সংগ্রহের পর ভাঙা, রোগাক্রান্ত ও মরা শাখা-প্রশাখা ছাঁটাই করে ফেলতে হবে। পেয়ারা গাছ প্রতি বছর প্রচুরসংখ্যক ফল দিয়ে থাকে। গাছের পক্ষে সব ফল ধারণ সম্ভব হয় না। তাই মার্বেল আকৃতির হলেই ঘন সন্নিবিষ্ট ফল ছাঁটাই করতে হবে। ছাতরা পোকা, সাদা মাছি পোকা, ফল ছিদ্রকারী পোকা ও মাছি পোকাসহ বিভিন্ন রকমের পোকা দ্বারা পেয়ারার গাছ আক্রান্ত হয়। এসব পোকা-মাকড় দমনের জন্য সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করতে হবে। যেমন-মাটিতে পড়ে থাকা পোকা আক্রান্ত ফল কুড়িয়ে ধ্বংস করা। ফেরোমোন ফাঁদ ও বিষ টোপ ব্যবহার।
সাদা মাছি দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে পাঁচ গ্রাম ডিটারজেন্ট পাউডার মিশিয়ে গাছে স্প্রে করা। আর অন্যান্য পোকা দমনের জন্য পেয়ারা গাছে ১০ থেকে ১৫ দিন পর পর দুই থেকে তিনবার সিমবুশ বা মেলাথিয়ন ইত্যাদি কীটনাশকের যে কোনো একটি প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২৫ মিলি মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। এছাড়া পেয়ারা গাছে অ্যানথ্রাকনোজ রোগ দেখা দিলে প্রথমে পেয়ারার গায়ে ছোট ছোট বাদামি রঙের দাগ দেখা দেয়। দাগগুলো ক্রমান্বয়ে বড় হয়ে পেয়ারার গায়ে ক্ষতের সৃষ্টি করে। আক্রান্ত ফল পরিপক্ব হলে অনেক সময় ফেটে যায়। এ রোগ দমনের জন্য গাছের নিচে ঝরে পড়া পাতা ও ফল সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। গাছে ফুল ধরার পর টপসিন-এম প্রতি লিটার পানিতে দুই গ্রাম মিশিয়ে ১৫ দিন অন্তর স্প্রে করতে হবে।
ভালোভাবে যত্ন নিলে একটি পূর্ণবয়স্ক গাছে গ্রীষ্মকালে ৬০ থেকে ৭০ কেজি এবং হেমন্তকালে ৫০ থেকে ৬০ কেজি ফলন পাওয়া যায়।
Subscribe to:
Posts (Atom)