Sunday, May 7, 2017
পেয়ারা খেলে যে লাভ
পেয়ারা
স্বাদ, পুষ্টিগুণ আর স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রাখলে পেয়ারা খেলে প্রচুর লাভ। স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পেয়ারা রাখা যেতে পারে। এতে আছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন ‘সি’ ও লাইকোপেন—যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই দরকারি।
পেয়ারার বিশেষ পাঁচটি গুণের মধ্যে রয়েছে, এটি ডায়াবেটিসের জন্য উপকারী, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, চোখের জন্য ভালো, পেটের জন্য উপকারী আর ক্যানসার প্রতিরোধী।
ডায়াবেটিস রোধে
নিয়মিত পেয়ারা খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে। কারণ পেয়ারায় যে আঁশ আছে, তা শরীরে চিনি শোষণ কমাতে পারে।
রোগ প্রতিরোধে
পেয়ারায় যে পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’ থাকে তা শরীরে গেলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ করতে পারে।
দৃষ্টিশক্তির জন্য
পেয়ারায় থাকা ভিটামিন ‘এ’ চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়। রাতকানা রোগ থেকে বাঁচায়।
ডায়রিয়া রোধে
পেয়ারা ডায়রিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে পারে। তাই নিয়মিত পেয়ারা খেলে ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা কমে যাবে অনেকটা। পেয়ারার আছে ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা।
ক্যানসার প্রতিরোধী
ক্যানসার প্রতিরোধেও পেয়ারা কাজ করে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, লাইকোপেন, ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে পারে। নির্দিষ্ট করে বললে, প্রোস্টেট ক্যানসার আর স্তন ক্যানসারের জন্য পেয়ারা উপকারী।
পেয়ারার ১০টি পুষ্টিগুণ:
১. এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায়, যা কমলালেবুর চেয়েও কয়েক গুণ বেশি।
২. পেয়ারায় আছে ভিটামিন ‘এ’ এবং ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স
৩. এতে আছে যথেষ্ট পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ফলিক অ্যাসিড ও নিকোট্রিন অ্যাসিড৷
৪. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেয়ারা বেশ কাজ দেয়।
৫. এটি রক্তসঞ্চালন ঠিক রাখে এবং কোলেস্টরেল নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা পেয়ারা খেতে পারেন৷
৬. অ্যাজমা, স্কার্ভি, স্থূলতা, ডায়াবেটিস, ক্যানসার ইত্যাদি অসুখের ক্ষেত্রেও পেয়ারা বেশ উপকারী৷
৭. জটিল শর্করা ও তন্তুসমৃদ্ধ পেয়ারা রক্তের চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক।
৮. শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-সমৃদ্ধ পেয়ারা পাতার জুস গ্যাস্ট্রাইটিসের সমস্যায় উপকারী।
৯. পেয়ারা ওজন কমাতে সাহায্য করে এবং এই ফলের রস সর্দি-কাশি, কোষ্ঠকাঠিন্য ও আমাশয়সহ পেটের অসুখ সারাতে পারে।
১০. বয়সের সঙ্গে জড়িত নানা রোগ যেমন: স্মৃতিভ্রংশ (আলঝেইমার), চোখে ছানি, আর্থরাইটিস বা হাঁটুব্যথা প্রতিরোধে সহায়তা করে।
আপনার বারান্দায় একচিলতে বাগান
বারান্দায় বাগান করার কিছু বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। নার্সারি থেকে টবের গাছ বাসায় আনার পর বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা যায়। এর প্রধান কারণ, গাছটি সঠিক পরিবেশ ও যত্ন—কোনোটিই পায় না। এ জন্য অনেক সময় গাছের পাতা হলুদ হয়ে পড়ে, পাতা ঝরে যায় বা গাছটিই মরে যায়। এ জন্য যেসব দিকে গুরুত্ব দিতে হবে:
১. আলো: গাছের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় সঞ্জীবনী হচ্ছে আলো। পরিমিত আলো ছাড়া গাছ খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে না। ফলে মৃত্যু অবধারিত। তাই পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকতে হবে।
সাধারণত চিরসবুজ গাছ, যাতে ফুল হয় না, সেটাতে অর্ধেক দিন আলো পেলে ভালো থাকে। যেসব গাছে ফুল হয়, সেগুলো সম্পূর্ণ সূর্যালোকে ভালো থাকে। গাছে ফুল আসার জন্য নির্ভর করে, দিনের কতটা সময় সূর্যের আলো গাছটা পাচ্ছে।
ভিন্ন ভিন্ন গাছের ভিন্ন ভিন্ন আলোর সময়কালের প্রয়োজন। সে জন্য দেখা যায় কোনো গাছে বর্ষাকালে ফুল হয় বা গ্রীষ্মকালে বা শীতকালে।
২. তাপমাত্রা: গাছের জন্ম ও বৃদ্ধি নির্ভর করে বিশেষভাবে তাপ ও আলোর ওপর। সবুজ গাছের জন্য দিনে ৭০ ডিগ্রি থেকে ৭৫ ডিগ্রি ও রাতের বেলা ৬৫ থেকে ৭০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা ভালো।
৩. পানি: আমাদের দেশের আবহাওয়ায় টবে প্রতিদিনই পানি দিতে হয়। তবে বর্ষাকালে টব যদি বাইরে থাকে, তবে পানি দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। বৃষ্টির পানি গাছের জন্য অত্যন্ত উপকারী। টবে মাটি যদি ভেজা থাকে, তবে পানি দেবেন না। লক্ষ রাখবেন, টবের মাটি যেন কখনোই একেবারে শুষ্ক না হয় বা টবে পানি না জমে। এই দুই অবস্থাই গাছের জন্য ক্ষতিকর।
৪. আর্দ্রতা: গাছপালার জন্য পরিমিত পরিমাণে আর্দ্রতা সব সময় প্রয়োজন। চিরসবুজ গাছের জন্য ৩০ শতাংশর বেশি আর্দ্রতার প্রয়োজন। সব সময় চেষ্টা করবেন গাছের চারদিকে একটা আর্দ্র আবহাওয়া সৃষ্টি করতে। আর্দ্রতা কমে গেলে গাছের আগা বাদামি রঙের হয়ে যায়। কলি গাছ ঝরে পরে।
৫. মাটি ও পাত্র: আমার মতে, মাটির টবই গাছের জন্য সবচেয়ে ভালো। কেউ চাইলে প্লাস্টিক, সিরামিক বা কাঠের টব ্ব্যবহার করতে পারেন। গাছ অনুসারে টব কিনবেন। স্বাভাবিক বিকাশের জন্য টবের স্থান পরিবর্তন করতে হবে। আর মাটি হচ্ছে গাছের ভিত্তি। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী কতটুকু মাটি লাগবে, গাছের জন্য ততটুকু ব্যবহার করবেন।
৬. সার দেওয়া: টবের গাছের জন্য অল্প পরিমাণে সার দিতে পারেন। তবে সব পরিবেশেই গোবরের সার ব্যবহার করতে পারেন। এর পরিমাণ কম কি বেশি হলে গাছের বিশেষ ক্ষতি হয় না।
ছাদ বাগানের দ্রুত বর্ধনশীল ১০ টি সবজি
শীতকালে নানান ধরনের সব্জির বাণিজ্যিক চাষ হয়ে থাকে তাছাড়াও সৌখিন চাষিরা বা যারা ছাদে বা নিজেদের ছোট্ট আঙ্গিনাতে সবজি লাগান তাদের জন্যও এই সময়টা সবচেয়ে উপযোগী। শীতকালীন সবজিগুলোর মধ্যে সিম, বাধাকপি, ফুলকপি, গাজর, মটরশুঁটি, মুলা, পালংশাক, ওলকপি, লাল শাক, লাউ শাক, করলা, বেগুন, টমেটো, বরবটি, আলু উল্লেখযোগ্য। আজকে আমি আপনাদের পরিচিত কিছু সব্জির সাথে পরিচয় করিয়ে দেব যেগুলো থেকে আপনারা এই শীতকালে অতিদ্রুত ফসল পেতে পারেন। যারা সৌখিন চাষি তারা তাদের ছাদে, বারান্দায় টবে অথবা কন্টেইনারে এই সবজিগুলো চাষ করতে পারেন।
মুলা
মুলা লেটুসের সারির মাঝখানে লাগাতে পারেন। এতে অল্প জায়গাতেই দুইটি ফসল পেতে পারেন। মাটির .৫ ইঞ্চি নিচে মুলার বিজ লাগান। বিজ বপনের আগেই মাটিতে পানি দিন। চারা গজানোর আগ পর্যন্ত আর পানি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। চারা একটু বড় হলে অল্প পরিমানে পানি দিন। এভাবে ২/৩ সপ্তাহ পানি দিন। ২/৩ সপ্তাহ পরেই আপনি মুলা সংগ্রহ করতে পারবেন। মুলা সালাদ, রান্নার সবজি হিসেবে খুবই জনপ্রিয়। এতে প্রছুর পরিমানে ফলিক এসিড, পটাসিয়াম, ক্যালশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম আছে।
গাজর
গাজরে পোকামাকড়ের আক্রমন নেই বললেই চলে সে জন্য চাষ করাও খুব সহজ। এটির চাষ পদ্ধতি অনেকটা মুলার মতই। ৫/৬ ইঞ্চি পর পর গাজরের বিজ বপন করুন। পানি দেওয়ার পদ্ধতিটিও মুলার মতনই। গাজরে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ, বিটা ক্যারোটিন আছে। সালাদ হিসেবে আমাদের দেশে বেশি জনপ্রিয়।
পালং শাক
পালং শাকের বিজ বপনের পূর্বে মাটিতে ভালভাবে জৈব সার দিন। মাতি প্রস্তুত হলে একটি নিড়ানি দিয়ে মাটি কুপিয়ে ঝুরঝুরে করে বিজ বপন করুন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আপনি শাক তুলতে পারবেন। আগে যে গাছগুলোর পাতা বেরুবে সেগুলো আগে তুলে নিন। আপনি চাইলে একই সিজনে ২ বারও পালং শাক লাগাতে পারেন। পালং শাকে প্রচুর আয়রন ও ক্যালশিয়াম আছে।
মটরশুঁটি
মটরশুঁটির বীজ ২/৩ ইঞ্ছি পরপর মাটির ১ ইঞ্চি নিচে বপন করুন। বিজ থেকে চারা গজালে মাচা করে দিন। যারা বারান্দায় লাগাবেন তারা সুতা দিয়ে বারান্দার গ্রিলে উঠিয়ে দিন। ভাল ফসলের জন্য নিয়মিত পানি দিন। মটরশুঁটিতে ভিটামিন এ, বি ও সি আছে। ঠিকমত পরিচর্যা করতে পারলে ধরবে প্রচুর পরিমানে।
বিট
সাধারনত ২ ধরনের বিট দেখা যায় লাল এবং বেগুনি রঙের। বীজ বপনের পূর্বে মাটি ভালভাবে কুপিয়ে ঝরঝরা করে নিন। খেয়াল রাখবেন মাটিতে যেন কোন ধরনের ইটের অথবা পাথরের টুকরো না থাকে। মাটির ২ ইঞ্চি নিচে বীজ বপন করুন। দিনে অন্তত একবার পানি দিন। বিট রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে খুবই কার্যকর। সালাদ এবং রান্নার উপকরন হিসেবে খুবই জনপ্রিয়।
মরিচ
মরিচ গাছ লাগানোর জন্য আপনি বাজার থেকে মরিচের চারা কিনে আনতে পারেন অথবা নিজেই মরিচের চারা উৎপাদন করতে পারেন। এ জন্য ভাল জাতের বীজ সংগ্রহ করে বীজ বপনের আগের রাতে বীজগুলোকে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর একটি টবে বা কন্টেইনারে বীজগুলো বপন করে দিন। মরিচের বীজ থেকে চারা গজাতে কিছুদিন সময় লাগে। সুতরাং বিচলিত হবেন না। বীজ থেকে চারা গজানো শুরু করলে চারা উঠিয়ে অন্য একটি টবে চারাটি লাগান। টবের আকার ছোট হলে একটি টবে একটি চারা লাগান, তব বড় হলে ২ টি লাগাতে পারেন। সব ধরনের মরিচের চাষ পদ্ধতি মোটামুটি একই। আপনি চাইলে মিষ্টি মরিচ( ক্যাপসিকাম) ও লাগাতে পারেন। একটি মরিচ গাছ থেকে আপনি অনেক দিন পর্যন্ত মরিচ পাবেন।
লেটুস
সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল সবজির মধ্যে অন্যতম লেটুস। টবে, কন্টেইনারে বা প্লাস্টিকের বোতল কেটে তাতে মাটি ভরে লেটুসের বীজ ছিটিয়ে দিন। ছোট টবে বা প্লাস্টিকের বোতলে একটি করে বীজ বপন করুন। জায়গা বড় হলে ৮-১৬ ইঞ্চি দূরে দূরে একটি করে গাছ লাগান। কয়েকদিন পর থেকেই পাতা তুলতে পারবেন। দিনের বেলায় প্রতিদিন একবার করে পানি দিন। লেটুস সালাদ, বার্গার,স্যান্ডউইচে ব্যবহৃত হয়। লেটুসে ভিটামিন এ এবং ফলিক এসিড আছে।
ব্রকলি
ব্রকলি দেখতে অনেকটা ফুলকপির মত। অনেকে এটিকে সবুজ ফুলকপিও বলে থাকেন। ব্রকলির অন্য সবকিছু ফুলকপির মত হলেও এর পুষ্টিগুণ অনন্য। এতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ, সি, কে ও বিটা ক্যারোটিন আছে। বিজের চারায় ফসল আসতে মাসখানেক সময় লাগতে পারে। ব্রকলির মাথায় যে ফুল থাকে তা ফোটার আগেই ফসল সংগ্রহ করতে হবে।
পেঁয়াজ
পেঁয়াজ লাগানোর আগে মাটি ভালভাবে ঝুরঝুরে করে নিতে হবে যাতে করে মাটিতে কোন পাথর বা ইটের কনা না থাকে। তারপর পেঁয়াজের বীজ বপন করতে হবে। সপ্তাহে এক দিন পানি দিতে হবে এবং কিছুদিন পর পর মাটিতে নিরানি দিতে হবে। অল্প কিছুদিন পর থেকেই পেঁয়াজকলি সংগ্রহ করতে পারবেন। ফুল চলে আসলে পেঁয়াজ সংগ্রহ করতে পারবেন। পেঁয়াজে ফাইবার, ভিটামিন সি আছে।
টমেটো
টমেটো গাছ লাগানোর জন্য আপনি একটি আলাদা টবে বিজতলা বানিয়ে নিতে পারেন। সেখানে টমেটোর বীজ বপন করুন। চারা একটু বড় হলে সেখান থেকে তুলে আলাদা একটি টবে চারা লাগান। একটি টবে একটি করে চারা লাগান। চারা বড় হলে একটি খুঁটি দিয়ে চারাটিকে বেধে দিন। কিছুদিন পর থেকেই ফুল আসা শুরু করবে। নিয়মিত পানি দিন। মাটিতে জৈব সার দিন।
বীজ কোথায় পাবেন
ভাল ফলনের জন্য আপনাকে ভাল জাতের বীজ সংগ্রহ করতে হবে। বাজারে অনেক ভাল মানের বীজ পাওয়া যাচ্ছে। আপনি ঢাকার সিদ্দিক বাজার থেকে বীজ ক্রয় করতে পারবেন এছাড়াও ছাদ বাগান করার জন্য কৃষি ষ্টোর নামে মগবাজার একটি আউটলেট আছে তারাও বিক্রি করে থাকে।
ছাদে আম গাছ চাষ
ঢাকার মণিপুরীপাড়ায় একটি চার তলার বাড়ির ছাদে কয়েকটা আমগাছ লাগিয়ে বাগান করেছেন দেওয়ান মজিবুর রহমান। বোশেখ মাস। প্রায় প্রতিটা আমগাছেই কিছু না কিছু আম ঝুলছে। একটা গাছের আম হলদে হয়ে পাক ধরেছে। বারোমাসি জাত, তাই অসময়েও আম ধরে, অসময়ে পাকে। এসব দেখে মজিবুর রহমান বেশ আনন্দ পান।
বারোমাসি জাত ছাড়াও তার ছাদবাগানে আছে আম্রপালি, হিমসাগর, খিরসাপাত, মলি্লকা ও গোপালভোগ জাতের মোট ২০টি আম গাছ। সব গাছ তিনি লাগিয়েছেন হাফ ড্রামে। প্রতিবছর এ ২০টি আমগাছ থেকে যে পরিমাণ আম হয় তাতে পরিবারের খাওয়ার কাজ চলে যায়। বছরভেদে তিনি গাছগুলো থেকে প্রায় ২০০-৪০০টি আম পান। তিনি এই ভেবে খুশি, যাই হোক বাজার থেকে বিষাক্ত রাসায়নিক দিয়ে পাকানো খারাপ আম তো কিনে খেতে হচ্ছে না। পরিশ্রম আর খরচ যাই-ই হোক, বাগান করে দেহ-মনের স্বাস্থ্য তো ভালো রাখা যাচ্ছে।
প্রায় ১০ বছর আগে তার ছাদবাগানের যাত্রা শুরু। বৃক্ষমেলায় গিয়ে একটি টবের আমগাছে পাকা আম ঝুলতে দেখে শখ হয় টবে আম চাষ করার। সেই গাছটি কিনে এনে একটা হাফ ড্রামে লাগিয়ে দেন। পরের বছরও সে গাছে আম ধরে। এরপর তিনি একের পর এক বাড়িয়ে তোলেন আমসহ অন্যান্য ফলগাছের বাগান। আম ছাড়া এখন তার ছাদবাগানে আছে জামরুল, পেয়ারা, বিলিম্বি, কুল ও সফেদা গাছ। মাঝেমধ্যে তিনি ছাদবাগানের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঢাকা অফিসের উপপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম ও উপসহকারী কৃষি অফিসার রঞ্জিতা খানমের পরামর্শ নেন। তারা তার বাগানও মাঝেমধ্যে পরিদর্শন করেন। তাদের পরামর্শ ও নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি রোজ বাগানের পরিচর্যা করেন। ফলগাছের ভালো বাড়বাড়তি ও ফলধারণের জন্য তিনি গোবর সারের পাশাপাশি ট্যাবলেট সার দিয়ে ভালো ফল পেয়েছেন। আট বছর বয়সী গাছের জন্য ৮টি ও ১০ বছর বয়সী গাছের জন্য ১০টি করে এক একটি গাছে বছরে একবার ট্যাবলেট সার দিয়েছেন। নিয়মিত পানিও দিতে হয়। পোকার জন্য মুকুল আসার ঠিক আগে একবার ও গুটি দাঁড়ানোর পর কীটনাশকও স্প্রে করতে হয়। তিনি বলেন, ছাদে বাগান করে যত্ন করতে ঠিকই বেশ সময় দিতে হয়। তারপরও তিনি মনে করেন, প্রত্যেকেরই বাড়ি করার আগে নকশা ও পরিকল্পনার সময়ই ছাদে কিছু গাছপালা লাগানোর পরিকল্পনা রাখা বাধ্যতামূলক করা উচিত। নগরীর পরিবেশ রক্ষায় এটা খুবই জরুরি।
ছাদে আমবাগান করার কৌশল:
আমগাছ খুব বড় হয়। তাই যে কোনো আমগাছ ড্রামে লাগানো যাবে না। ড্রামে লাগানোর জন্য বেছে নিতে হবে এমন সব আমের জাত যেগুলোর গাছ খাটো বা বামন ও ঝোপালো হয় এবং অল্প বয়স থেকেই আম দেয়া শুরু করে। এ দেশে প্রাপ্ত জাতগুলোর মধ্যে আম্রপালি, লতা বোম্বাই, মলি্লকা, নিলম, দশেরি, চৌষা, কেইট, শ্রাবণী, সিন্দুরী, বাউ আম-৩, বাউ আম-৭, বাউ আম-৯ (চৌফলা) ইত্যাদি জাত ড্রামে লাগাতে পারেন। আম্রপালি জাতের আম খুব মিষ্টি ও বেশ কয়েকদিন ঘরে রেখে খাওয়া যায়, গাছে ধরেও প্রচুর। বাউ আম-৯ জাতটি নিয়মিত ফলধারী বামন প্রকৃতির গাছ, এ গাছে বছরে ৩-৪ বার আম ধরে। তাই সৌখিন ফলচাষিরা ছাদে ড্রামে বা টবে এ জাতটি চাষ করতে পারেন। বাণিজ্যিকভাবে এটা চাষ না করা ভালো। এছাড়া থাইল্যান্ড থেকে আসা 'নাম ডক মাই' জাতটিও ড্রামে লাগাতে পারেন। আশপাশের বিশ্বস্ত নার্সারি বা সরকারি হর্টিকালচার সেন্টারগুলো থেকে এসব জাতের কলম কিনতে পারেন।
মে-জুনে ড্রামে আমের কলম লাগানোর জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। হাফ ড্রাম হলে ভালো হয়। ড্রামের জন্য সার মাটি তৈরি করতে হবে। টবের জন্য দো-অাঁশ মাটি নেবেন। মাটির সঙ্গে চার ভাগের এক ভাগ বা ১০ কেজি গোবর সার বা ড্রামপ্রতি ৪ কেজি প্যাকেটের কম্পোস্ট সার, ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম এমওপি (পটাশ) সার, ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম টিএসপি (ফসফেট) সার, ১ কেজি হাঁড়ের গুঁড়ো, ৫০ গ্রাম ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সার মিশিয়ে নিন। এসব সার মাটি ড্রামে ভরার আগে ড্রাম থেকে যাতে অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে যেতে পারে সেজন্য ড্রামের তলায় ছিদ্র করে নিন। ছিদ্রের মুখে তিন দিকে পুরনো মাটির টব ভাঙা টুকরো এমনভাবে দিন যাতে ছিদ্রের মুখ বন্ধ না হয়। এর ওপর আর একটা টুকরো দিয়ে ঢেকে পাতলা স্তর করে খড় বিছিয়ে দিন। তারপর সার মাটি দিয়ে ড্রাম ভরে দিন। ড্রামের মাঝখানে সোজা করে জুন-জুলাই মাসে আমের কলম পুঁতে দিন। কলম লাগানোর পর পানি দেবেন। কলম যদি বেশি লম্বা হয় তাহলে মাটিতে লেগে গেলে আগা কেটে কিছুটা খাটো করে দিতে পারেন। এতে পরে গাছ ভালো ঝোপালো হবে।
জুন-জুলাইয়ে লাগানো কলমের গাছে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে মুকুল আসবে। তবে প্রথম বছর সেসব মুকুল না রেখে সব ভেঙে দেবেন। পরের বছর আসা মুকুল রেখে আম ফলাবেন। প্রতি বছর বর্ষার আগে ও পরে ড্রামের মাটিতে গোবর ও অন্যান্য সার দেবেন। বছরে একবার প্রতি ড্রামে চারটি করে ট্যাবলেট সার পুঁতে দিতে পারেন। ট্যাবলেট সার দিলে শুধু গোবর সার দেবেন, অন্য কোনো সার দেয়ার দরকার হবে না। চার-পাঁচ বছর অন্তর গাছের গোড়া থেকে খানিকটা মাটি সরিয়ে কিছু শিকড় ও ডালপালা ছেঁটে দেবেন। বর্ষার আগে এ কাজ করতে হবে। জুন-জুলাইতে যখন আম তুলবেন, দু'তিনটি পাতাসহ বোঁটা কেটে তুলবেন। এতে পরের বছর ভালো আম ধরবে। মুকুল ও গুটি ঝরা কমাতে প্ল্যানোফিক্স হরমোন মুকুল বের হওয়ার ঠিক আগে ও ঠিক পরে দুবার স্প্রে করতে পারেন। এ সময় ছত্রাকনাশক ও কীটনাশকও ছিটাতে পারেন। গুটি মারবেলের মতো হলে সে সময়ও একবার ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক ছিটাতে পারেন। এতে আমগাছে রোগ ও পোকার আক্রমণ কম হবে। ড্রাম রাখবেন ছাদে খোলা জায়গায় যেখানে সারা দিন রোদ পড়ে। ড্রাম ছাদের ওপর এমনভাবে রাখবেন যাতে ছাদ থেকে ড্রাম কিছুটা উঁচু বা ফাঁকা থাকে। এতে ছাদের ক্ষতি হবে না। এজন্য ড্রামের তলায় চার পাশে চারটি ইট দিয়ে উঁচু করে দিতে পারেন। ড্রামে ৬-৭ বছর গাছ রাখার পর সেটা সরিয়ে নতুন গাছ লাগালে ভালো হয়।
লেখক : কৃষিবিদ মৃত্যুঞ্জয় রায়
জেনে নিন লাউয়ের ফলন বৃদ্ধির উপায়
আমাদের সবজির মধ্যে লাউ অন্যতম। বর্তমানে বাজারে লাউয়ের দাম বেশ একটু চড়া। লাউয়ের উৎপাদন বাড়াতে পারলে কৃষক লাভবান হবে পাশাপাশি ক্রেতারাও কম দাম লাউ কিনতে পারবে। লাউ গাছে প্রচুর ফুল ধরে, কিন্তু লাউ ধরে খুব কম। কৌশল জানা থাকলে অধিকাংশ ফুল থেকেই লাউ ধরানো সম্ভব।
লাউ, মিষ্টি কুমড়া, করলা, কাঁকরোল, পেঁপে ইত্যাদি সবজি গাছ একলিঙ্গ এবং ভিন্নবাসী উদ্ভিদ হওয়ায় প্রাকৃতিক পরাগায়ন কম হয়। অর্থাৎ এসব গাছে পুরুষ ও স্ত্রী ফুল পৃথক পৃথক হয়। পুরুষ ও স্ত্রী গাছও পৃথক হয়। ফলে পুরুষ ও স্ত্রী ফুল যদি দূরে থাকে তবে কীট-পতঙ্গ, পোকা-মাকড় অথবা অন্য যে কোনো পরাগায়নের মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরাগায়ন সম্ভব হয় না। এ জন্য লাউ ধরে না। পুরুষ গাছ বা পুরুষ ফুল থেকে ফল হয় না। লাউয়ের পুরুষ গাছ ও স্ত্রী গাছ পৃথক হওয়ায় কৃত্রিমভাবে পুরুষ ফুল এনে স্ত্রী ফুলের সঙ্গে মিলন ঘটাতে হয়।
কৌশল : প্রতিদিন ভোর বেলায় সদ্যফোটা পুরুষ ফুল ছিঁড়ে পুংরেণু সমৃদ্ধ পুংকেশর রেখে পাপড়িগুলো ছিঁড়ে ফেলতে হয়। এরপর পুংরেণু স্ত্রী ফুলের গর্ভমুণ্ডে হালকাভাবে সামান্য একটু ঘষে দিতে হয়। এতে স্ত্রী ফুল নিষিক্ত হয়ে ফল ধরে। একটি পুরুষ ফুলের পুংকেশর দিয়ে ৬ থেকে ৭টি স্ত্রী ফুলের গর্ভমুণ্ডে পরাগায়ন করা যায়। এ জন্য একটা লাউয়ের মাচায় শতকরা ১০টা পুরুষ ফুল রাখতে হয়। এতে শতকরা ৯৫টি স্ত্রী ফুলে ফল ধরবে। এ জন্য পুরুষ ও স্ত্রী ফুল চেনা প্রয়োজন।
ফুল চেনার উপায় :
পুরুষ ফুল : ফুলের বোঁটার অগ্রভাগে ফুটে। পাপড়ির গোড়ায় গর্ভাশয় থাকে না। পাপড়ির মাঝখান দিয়ে বেড়ে যাওয়া পুংদণ্ডে পাউডারের গুঁড়ার মত পুংরেণু থাকবে। পুংদণ্ডের শীর্ষভাগে গর্ভমুণ্ড থাকবে না। শুধু বোঁটার অগ্রভাগে ফুটে থাকা ফুলগুলো পুরুষ ফুল।
স্ত্রী ফুল : ক্ষুদ্রাকৃতি লাউয়ের মত গর্ভাশয়ধারী ফুলগুলো স্ত্রী ফুল। গর্ভাশয়ের ওপর থেকে পাপড়ি থাকবে। পুংদণ্ড থাকবে না। গর্ভদণ্ড ছোট ও মোটা। গর্ভদণ্ডে আঠালো পদার্থ থাকবে। পুংরেণু এখানে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আঠায় আটকে যায়। অনেকেরই ধারণা, শুধু স্ত্রী ফুলের এই গর্ভাশয় থাকলেই লাউ ধরবে। গর্ভমুণ্ডে পুরুষ ফুলের পুংরেণু না লাগা পর্যন্ত লাউ ধরবে না।
অন্যান্য কৌশল :
১. গর্ভাশয় ঝরে পড়াকে অনেকেই মনে করে কচি লাউ ঝরে পড়ে। সত্যিকারে তা নয়। যেসব স্ত্রী ফুল পুংরেণু দ্বারা নিষিক্ত হয় না অর্থাৎ পরাগায়ন হয় না সেগুলো ঝরে পড়ে। এ জন্য উপরোক্ত নিয়মে কৃত্রিম পরাগায়ন করতে হবে। এর পরেও ঝরে পড়লে গাছের গোড়ায় নিয়মিত পানি দিতে হবে। গাছপ্রতি ৫০ গ্রাম করে টিএসপি ও এমপি সার গাছের গোড়া থেকে ৬ ইঞ্চি দূর দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে।
২. কচি লাউ পচে যাওয়ার কারণ হচ্ছে ফ্রুট ফ্লাই পোকা কচি লাউয়ে ক্ষত সৃষ্টি করে। এ ক্ষতে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে লাউ পচিয়ে ফেলে। এ পোকা হাত দ্বারা মারা যায়। ছাই দেয়া যেতে পারে। অথবা ডায়াজিনন/ ডাইমেক্রন/ নগস ছিটাতে পারেন।
৩. লাউ গাছ খুব বড় হয় কিন্তু ফুল কম ধরে। এ জন্য জৈব সার কম দিতে হবে। টিএসপি ও এমপি সার সম্পূর্ণ মাত্রায় দিতে হবে। এছাড়াও গ্রোথ হরমোন স্প্রে করতে পারেন।
৪. ফুলের মধ্যে পিঁপড়া আক্রমণ করলে ছাই অথবা সেভিন ছিটাতে পারেন।
৫. ইঁদুরের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য বিষটোপ অথবা ফাঁদ দিতে পারেন। যা হোক লাউ চাষে ওই সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারলে লাউয়ের ফলন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়
লেখক : ফরহাদ আহাম্মেদ, কৃষিবিদ, ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল।
হাওর এলাকায় স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ বিতরণ করা হবে
কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, সম্প্রতি পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর এলাকার মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠার লক্ষ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কৃষি ঋণ মওকুফ এবং কৃষি ঋণ আদায় স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়াও স্বল্প সুদে কৃষকদের মধ্যে কৃষি ঋণ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এতথ্য জানান।
সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক ও শফিকুল ইসলাম শিমুলের পৃথক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো জানান, ক্ষতিগ্রস্ত হাওর অঞ্চরের মানুষের পাশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মায়ের মমতা নিয়ে পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। হাওর অঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যা যা প্রয়োজন তার সবই করা হবে।
জাসদের সংসদ সদস্য লুৎফা তাহেরের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী জানান, হাওর অঞ্চলের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে তুলতে সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ওই এলাকায় ব্রি ধান-৪৮ জাতের (আউশ) বীজ বিনামূল্যে বিতরণসহ নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ইউনিয়নভিত্তিক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। হাওর এলাকায় দ্রুততার সঙ্গে আউশ ধান বপনের কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। সবজি উদপাদনের জন্য ভাসমান বেড পদ্ধতিতে হাওর এলাকায় চালু করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
আলু উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশ ৭মঃ সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে কৃষি মন্ত্রী জানান, আলু উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আলু উৎপাদন হয় ৯৪ লাখ ৭৪ হাজার মেট্রিক টন। চলতি অর্থবছরে এর উৎপাদন ১ কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে।
সারা দেশে ভুমির ডিজিটাল জরিপঃ ভূমির অপব্যবহার রোধ ও ভূমি ব্যবস্থাপনা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দ্রুতই সারাদেশে ডিজিটাল জরিপ চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন ভূমি মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ। জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি জানান, আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত এটা সারাদেশে চালু করতে। ইতোমধ্যে তিনটি জেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
মন্ত্রী আরো জানান, ডিজিটাল জরিপের বিষয়টি আমাদের আগে থেকে অভিজ্ঞতা ছিলো না। যে কারণে উন্নত দেশগুলোর অভিজ্ঞতা অর্জন করে কাজ করতে সময় লেগেছে। আমরা চেষ্টা করছি সারাদেশে ডিজিটাল জরিপ চালু করতে। ইতোমধ্যে জামালপুর জেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সরকারি দলের আরেক সদস্য নবী নেওয়াজের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, প্রত্যেক এলাকায় ভূমি ব্যবস্থাপনা কমিটির উপদেষ্টা সংসদ সদস্যরা। কাজেই প্রত্যেক সংসদ সদস্যের এলাকায় ভূমির সঠিক ব্যবহার ও খাস জমি বন্দোবস্তে তাদের মতামত দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
রংপুরে মহামারি আকারে ধানে ব্লাস্ট, কৃষি কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল
শষ্য ভান্ডার খ্যাত রংপুরে বোরো ধান ক্ষেতে নেক ব্লাস্ট রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। মাঠের পর মাঠ ধান ক্ষেতের পাতা পুড়ে যাচ্ছে। ধান গাছের গোড়ায় পচন ধরে শীষ মরে যাচ্ছে। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী কীটনাশক দিয়েও কাজ হচ্ছে না। ফলে চলতি মৌসুমে ধানের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। এ অবস্থায় কৃষি বিভাগ রংপুরের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করেছে।
কৃষি বিভাগের মতে, এবার জেলায় ১ লাখ ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করেন কৃষকরা। প্রয়োজনীয় সার কীটনাশক ব্যবহারের পর ফলনও ভালোই হওয়ার আশা করছিলেন কৃষকরা। কিন্তু গত ১৫ দিন ধরে হঠাৎ করে বোরো ধান ক্ষেতে কার্ন্টে পোকা , ন্যাদা পোকার আক্রমণ শুরু হয়। এরপর হঠাৎ করেই ধানের পাতা পুড়ে যাচ্ছে। ফলে ধানের শীষ গজানোর পরেও গাছের নিচে পচন ধরায় গাছ মরে যাচ্ছে। শীষ মরে যাচ্ছে। ফলে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। রংপুর সদর উপজেলাসহ কাউনিয়া মিঠাপুকুর, পীরগজ্ঞ, বদরগজ্ঞ ও গঙ্গাচড়া উপজেলার শতকরা ৩০ থেকে ৪০ ভাগ ধানক্ষেত নেক ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। কৃষকরা বলছেন, এক জমিতে নেক ব্লাস্ট রোগ থাকলেও রাতারাতি পাশের ক্ষেতটিও আক্রান্ত হয়ে পড়ছে।
সরেজমিন মঙ্গলবার রংপুর নগরীর বড়বাড়ি, দেওডোবাসহ আশপাশের এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ধান না পাকলেও আগাম ধান কেটে ফেলছেন কৃষকরা। অনেকে আবার ধান গাছ কেটে রাস্তায় ফেলে রাখছেন। কৃষক আবেদ আলী ও সালাম মিয়া জানান, তারা দুজনে মিলে চার বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। প্রয়োজনীয় সার কীটনাশক দিয়েছেন জমিতে। কিন্তু গত ১৫ দিন ধরে হঠাৎ করে ধান গাছের পাতা পুড়ে যাচ্ছে। গাছের গোড়ায় পচন ধরছে। বেশির ভাগ শীষে ধান নেই। ফলে উপায় না দেখে কাঁচা ধান কেটে ফেলছেন।
তারা জানান, যেখানে এক বিঘা জমিতে ৪০ থেকে ৫০ মন ধান পাবার কথা সেখানে ১০ মন ধান পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ আছে।
বড়বাড়ি এলাকার কৃষক সালেহা বেগম জানান, তার ক্ষেতের ধান পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে। চড়া সুদে ঋণ নিয়েছেন। এখন সেই ঋণ কিভাবে শোধ করবেন আর সন্তানদের লেখাপড়ার খরচই বা কিভাবে জোগাড় করবেন?
দেওডোবা এলাকার ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ধান ক্ষেতের পাতা জ্বলে গেছে। গোড়ায় পচন ধরেছে। শীষ আছে কিন্তু ধানের পরিমাণ খুবই কম। ওই গ্রামের বৃদ্ধা মনোয়ারা বেগম জানান, চার বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। কিন্তু সব জমির ধান কাটলেও পাঁচ মন ধান পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না।
বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ধান ক্ষেতে প্রথমে কারেন্ট পোকা এরপর লেদা পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। এরপর ধান গাছ আপনাআপনি পুড়ে যাচ্ছে। এর কারণ কী তা বুঝতে পারছেন না।
তারা অভিযোগ করেন, কৃষি বিভাগের লোকজন সময় মতো ব্যবস্থাপত্র দিলে তারা হয়তো ধানক্ষেত রক্ষা করতে পারতেন।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক স ম আশরাফ আলী জানান, এপ্রিল মাসের শেষের দিকে টানা ৯ দিন বৃষ্টি হওয়ায় ধান গাছে দেওয়া কীটনাশক পানিতে ধুয়ে যাওয়ায় ক্ষেতগুলোতে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ধানক্ষেত রক্ষায় প্রয়োজনীয় কীটনাশকসহ পরামর্শদানের জন্য গ্রামে গ্রামে প্রচারপত্র বিলি ও মাইকিং করা হচ্ছে।
সোর্স- বাংলা ট্রিবিউন।