Tuesday, May 2, 2017

ভুট্টার ফ্লি বিটল পোকা

  • Share The Gag
  • ভুট্টার ফ্লি বিটল পোকা

    পূর্ণ বয়স্ক ও বাচ্চা উভয়ই ক্ষতি করে । পূর্ণ বয়স্করা চারা গাছের বেশি ক্ষতি করে । এরা পাতা ছোট ছোট ছিদ্র করে খায় । আক্রান্ত পাতায় অসংখ্য ছিদ্র হয় ।

    আক্রমণের পূর্বে করণীয়ঃ 

    • পরিস্কার পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ ।

    • আগাম ভুট্টা বপন করুন

    • উন্নত জাতের ভুট্টা বপন করুন ।

    • চারা গাছ জাল দিয়ে ঢেকে দেওয়া ।


    আক্রমণের পর করণীয়ঃ

    • হাত জাল দ্বারা পোকা সংগ্রহ;

    • আক্রান্ত গাছে ছাই ছিটানো;

    • ০.৫% ঘনত্বের সাবান পানি অথবা ৫ মিলি তরল সাবান প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা;

    • ৫০০ গ্রাম নিম বীজের শাঁস পিষে ১০ লিটার পানিতে ১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে তা ছেঁকে আক্রান্ত ক্ষেতে স্প্রে করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে ।

    • এ পোকার জন্য অনুমোদিত কোন কীটনাশক নেই। তবে কলার বিটলের জন্য অনুমোদিত কীটনাশক হলো ঃ

























    গ্রুপের নামবানিজ্যিক নামসুপারিশকৃত ফসল
    প্রফেনফস (৪০%) + সাইপারমেথ্রিন (২.৫%)সবিক্রণ ৪২৫ ইসি (এপি-৩২২) প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি হারেকলা
    থিয়ামিথোক্সামএকতারা ২৫ wg (এপি-৪২৮) প্রতি লিটার পানিতে ০.২ গ্রাম হারেকলা
    আইসোপ্রোকার্ব (এমআইপিসি)মিপসিন ৭৫ ডব্লিউ পি (এপি-৫৩৯) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারেকলা

    .

    ফল গাছের জোড় কলম পদ্ধতি

  • Share The Gag
  • ফল গাছের জোড় কলম পদ্ধতি

    সাধারণ ভাবে একটি গাছ থেকে আরেকটি গাছের জন্ম হওয়ার পদ্ধতিকে গাছের বংশ বিস্তার বলে। অন্য কথায়, যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গাছ যৌন কোষ বা তার অংগজ কোষ থেকে নুতন স্বতন্ত্র গাছ সৃষ্টি করে তাকে বংশ বিস্তার বলে। বংশ বিস্তার দুই প্রকার যথাঃ ১। যৌন বংশ বিস্তার ও ২। অযৌন বংশ বিস্তার। ফল গাছ রোপনের মূল উদ্দেশ্য হলো ভাল, উন্নতমান ও মাতৃগুন সম্পন্ন ফল পাওয়া। এ কারণে, ফল গাছ রোপনের ক্ষেত্রে যৌন পদ্ধতির তুলনায় অযৌন পদ্ধতির চারা/ কলম গুরুত্বপূর্ন। কারন এ পদ্ধতিতে উৎপাদিত চারা/কলম রোপন করলে মাতৃগুনাগুন সম্পন্ন ফল পাওয়া যায়, গাছে তাড়াতাড়ি ফল ধরে এবং গাছ ছোট হয় বিধায় অল্প পরিসরে অনেক গাছ রোপন করা যায়। অযৌন বংশ বিস্তার পদ্ধতি গুলোর মধ্যে ক্লেফ্ট গ্রাফটিং বা ফাটল জোড় কলম একটি অন্যতম পদ্ধতি।এ পদ্ধতিতে একাধিক ফল গাছে কলম করা যায়। অন্যান্য জোড় কলম গুলোর তুলনায় ফাটল জোড় কলম একটি অন্যতম পদ্ধতি কারন এ পদ্ধতিতে কর্তিত স্থানের দুই পাশ দিয়ে জোড়া লাগে বিধায় জোড়াটি সবল হয় এবং সহজে জোড়া স্থানটি ভাংগার সম্বাবনা থাকে না। তুলনামুলক ভাবে এ পদ্ধতি অন্যান্য জোড় কলম পদ্ধতি গুলোর তুলনায় সহজ, সফলতার হার বেশী এবং খরচও কম পড়ে।

    উপকরনঃ

    এ কলম করতে গ্রাফটিং চাকু, ব্লেড, সিকেচার, পলিথিন ক্যাপ, পলিথিন ফিতা, সুতলী, পরিবেশ সহনশীল একটি ষ্টক গাছের চারা, কাংখিত গাছের ডগা বা সায়ন এবং দক্ষ মালি ইত্যাদি।

    কলম করার উপযুক্ত সময়ঃ

    মে থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত কলম করার উপযুক্ত সময়। কারন এ সময় বাতাসে আদ্রতা ও গাছের কোষের কার্যকারিতা বেশী থাকে। ফলে তাড়াতাড়ি জোড়া লাগে এবং সফলতার হারও বেশী পাওয়া যায়।

    স্টক তৈরীঃ

    অনাকাংখিত কিন্তু পরিবেশ উপযোগী গাছের বা স্থানীয় জাতের বীজ হতে চারা তৈরী করতে হবে যাতে কাংখিত জোড়া লাগানো সম্ভব হয়।

    স্টক চারা তৈরীর ধাপ সমুহঃ

    ১) পরিনত গাছ হতে সুস্থ ও সবল বীজ সংগ্রহ করা।
    ২) স্টক চারাটি সরাসরি মাটি বা পলিব্যাগে তৈরী করা।
    ৩) যদি চারাটি মাটিতে তৈরী করা হয় তবে মাটি ভাল ভাবে কুপিয়ে ঝুরঝুরা করে আগাছা পরিস্কার করে প্রয়োজনীয় জৈব সার মিশিয়ে বেড আকারে করতে হবে। বেডটির প্রস্থ্য যেন ১ মিটার এর বেশী না হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এর পর বেডে ২৫ সেমিঃ পর পর লাইন করে প্রতি লাইনে ২০ সেমিঃ পর পর চারা/ বীজ রোপন করতে হবে এবং কলম করার পূর্ব পর্যন্ত স্টক চারা গুলোর সকল প্রকার পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে।
    ৪) চারা পলিব্যাগে তৈরী করলে ২০ সেমিঃ x ১২ সেমিঃ পলিব্যাগ নিতে হবে। দোঁয়াশ মাটির সাথে অর্ধেক পচা গোবর ও কম্পোস্ট মিশিয়ে পলিব্যাগ ভরতে হবে।
    ৫) প্রতি ব্যাগে একটি করে বীজ বা চারা রোপন করতে হবে। চারা গজানোর পর পলিব্যাগ গুলো যেন কাত হয়ে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে অন্যথায় চারার গোড়া বাঁকা হয়ে যাবে।
    ৬) এবার ব্যাগটি বেডে ২৫ x ২০ সেমিঃ দুরত্বে রোপন করতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে পলিব্যাগটি যেন মাটির সমান্তরালে থাকে। এতে খরা মৌসুমে পানি সেচ কম লাগে এবং চারাটি সুস্থ ও সবল হয়।
    ৭) সুস্থ, সবল এবং নিরোগ চারা পাওয়ার জন্য আগাছা, রোগ ও পোকা-মারড় দমন করতে হবে। প্রয়োজনে গাছে সার ও সেচ দিতে হবে।

    স্টক চারার বয়স ও সায়ন নির্বাচনঃ

    ১) আমঃ

    ক) স্টক চারাটির বয়স ৯-১২ মাস হবে।
    খ) উৎকৃষ্ট ও কাংখিত মাতৃগাছ থেকে সুস্থ ও সবল সায়ন নিতে হবে।
    গ) সায়নটি লম্বায় ১৫-১৮ সেমিঃ হবে।
    ঘ) সায়নটির ডগায় একটি সুপ্ত কুড়ি থাকতে হবে।
    ঙ) সায়নটির রং গাঢ় সবুজ থেকে কালচে সবুজ হবে এবং
    চ) সায়নটি সংগ্রহের পর পরই সমস্ত পাতা অপসারন করে ভিজা ন্যাকড়া ও পলিথিন দিয়ে পেচিয়ে রাখলে সায়নটির সতেজতা অক্ষুন্ন থাকে।
    ছ) আমের সায়ন মাতৃগাছে সংযুক্ত থাকা অবস্থায় পাতা কেটে ফেলাকে ডিফলিয়েশন বলে। ১০ দিন পূর্বের ডিফলিয়েশন করা সায়ন দিয়ে কলম করলে তাড়াতাড়ি জোড়া লাগে এবং সফলতার হারও বেশী হয়।

    ২) কাঠালঃ

    ক) স্টক চারাটির বয়স ২-৩ সপ্তাহ হতে হবে।
    খ) সমব্যাস সম্পন্ন ১-২ মাস বয়সের কাংখিত গাছের ডগা সায়ন হিসেবে নিতে হবে।
    গ) সায়নটির শীর্ষ কুঁড়ি কয়েক দিনের মধ্যে বিকশিত হবে এমনটি হতে হবে। যার রং গাঢ় সবুজ কিন্ত টিপ দিলে শক্ত মনে হবে।
    ঘ) সায়নটি সংগ্রহের পর পরই সমস্ত পাতা অপসারন করে ভিজা ন্যাকড়া ও পলিথিন দিয়ে পেচিয়ে রাখলে সায়নটির সতেজতা অক্ষুন্ন থাকে।
    ঙ) সায়নটি দৈঘ্যে প্রায় ১০ সেমিঃ হবে।

    ৩) জলপাইঃ

    ক) স্টক চারাটির বয়স ৬-৮ মাস হতে হবে।
    খ) পরিপূর্ন ও বিকশিত এবং কাংখিত গাছের ডগার শীর্ষ থেকে কচি ১০-১৫ সেমিঃ অংশ কেটে ফেলে দিয়ে নিচের ১৫-১৮ সেমিঃ ডগাটি সায়ন হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।
    গ) সায়নটি সংগ্রহের পর পরই সমস্ত পাতা অপসারন করে ভিজা ন্যাকড়া ও পলিথিন দিয়ে পেচিয়ে রাখলে সায়নটির সতেজতা অক্ষুন্ন থাকে।

    ৪) পেয়ারাঃ

    ক) স্টক চারাটির বয়স ৯-১২ মাস হতে হবে। স্টক হিসেবে পলি পেয়ারার চারা ব্যবহার করলে উইল্ট প্রতিরোধী গাছ তৈরী করা সম্ভব।
    খ) পেয়ারা ডালের ডগার কচি অংশে ৪টি ধার/খাজ থাকে। এই ধার বা খাজের ঠিক নিচের গোলাকার অংশটিকে সায়ন হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।
    গ) সায়নটি লম্বায় ১৫-১৮ সেমিঃ হওয়া ভাল।
    ঘ) সায়নটি সংগ্রহের পর পরই সমস্ত পাতা অপসারন করে ভিজা ন্যাকড়া ও পলিথিন দিয়ে পেচিয়ে রাখলে সায়নটির সতেজতা অক্ষুন্ন থাকে।

    ৫) কামরাংগাঃ

    ক) স্টক চারাটির বয়স ৬-৮ মাস হতে হবে।
    খ) সায়নের ব্যাস স্টক চারার সম আকারের হলে ভাল হবে।
    গ) পরিপূর্ন ও বিকশিত এবং কাংখিত গাছের ডগার শীর্ষ থেকে ১০-১৫ সেমিঃ কচি অংশ কেটে ফেলে দিয়ে নিচের ১৫-১৮ সেমিঃ ডগাটি সায়ন হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।
    ঘ) একটি ডগা হতে একাধিক সায়ন সংগ্রহ করা যেতে পারে।
    ঙ) সায়নটি সংগ্রহের পর পরই সমস্ত পাতা অপসারন করে ভিজা ন্যাকড়া ও পলিথিন দিয়ে পেচিয়ে রাখলে সায়নটির সতেজতা অক্ষুন্ন থাকে।

    ৬) আমলকিঃ

    ক) স্টক চারাটির বয়স ৬-৮ মাস হতে হবে।
    খ) সায়নের ব্যাস স্টক চারার সম আকারের হলে ভাল হবে ।
    গ) পরিপূর্ন ও বিকশিত এবং কাংখিত গাছের ডগার শীর্ষ থেকে ১০-১৫ সেমিঃ কচি অংশ কেটে ফেলে দিয়ে নিচের ১৫-১৮ সেমিঃ ডগাটি সায়ন হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।
    ঘ) একটি ডগা হতে একাধিক সায়ন সংগ্রহ করা যেতে পারে।
    ঙ) সায়নটি সংগ্রহের পর পরই সমস্ত পাতা অপসারন করে ভিজা ন্যাকড়া ও পলিথিন দিয়ে পেচিয়ে রাখলে সায়নটির সতেজতা অক্ষুন্ন থাকে।

    ৭) লেবুঃ

    ক) স্টক চারার বয়স ৬-৮ মাস হতে হবে।
    খ) সায়নের ব্যাসার্ধ্য স্টক চারার সম আকারের হলে ভাল হবে।
    গ) লেবু ডালের ডগার কচি অংশে ৪টি ধার/খাজ থাকে। এই ধার বা খাজের ঠিক নিচের গোলাকার অংশটিকে সায়ন হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
    ঘ) সায়নটি লম্বায় ১৫-১৮ সেমিঃ হওয়া ভাল।
    ঙ) সায়নটি সংগ্রহের পর পরই সমস্ত পাতা অপসারন করে ভিজা ন্যাকড়া ও পলিথিন দিয়ে পেচিয়ে রাখলে সায়নটির সতেজতা অক্ষুন্ন থাকে।

    ৮) কুল বা বরইঃ

    ক) স্টক চারাটির বয়স ১.৫-২.০ মাস হতে হবে।
    খ) সায়নের ব্যাস স্টক চারার সম আকারের হলে ভাল হবে ।
    গ) সায়নের রং সবুজ বা সবুজাব হবে। ডগাটির আগাথেকে ১০-১৫ সেমিঃ কচি অংশ বাদ দিয়ে নিচের ১৫-১৮ সেমিঃ অংশ সায়ন হিসেবে নিতে হবে।
    ঘ) সায়নটি সংগ্রহের পর পরই সমস্ত পাতা অপসারন করে ভিজা ন্যাকড়া ও পলিথিন দিয়ে পেচিয়ে রাখলে সায়নটির সতেজতা অক্ষুন্ন থাকে।
    পদ্ধতি

    ক) সাধারনত স্টক গাছের গোড়া হতে ১৫-২০ সেমিঃ উপরে গ্রাফ্টিং করা হয়।
    খ) খেয়াল রাখতে হবে যেন জোড়া স্থানটির নিচে অবশ্যই যেন কিচু পাতা থাকে।
    গ) এবার সিকেচার দিয়ে নিদ্দিষ্ট উচ্চতায় স্টক গাছের মাথাটি সমভাবে কেটে অপসারন করতে হবে।
    ঘ) এবার চাকু দিয়ে স্টক গাছের মাথাটি ২-৩ সেমিঃ লম্বালম্বি ভাবে চিরে দিতে হবে এবং সায়নের গোড়ার উভয় পাশ একই ভাবে ২-৩ সেমিঃ তেরছা কাট দিতে যেন গোঁজ বা তিলকের মত হয়।
    ঙ) এবার স্টক গাছের কর্তিত অংশে সায়নের কর্তিত অংশ সমান ভাবে প্রবিস্ট করাতে হবে।
    চ) অতপর জোড়া লাগানোর যায়গাটি পলিথিন ফিতা দিয়ে পেচিয়ে শক্ত ভাবে বেধে দিতে হবে।
    ছ) এবার একটি পলিথিন ক্যাপ বা টুপি দিয়ে সায়নের মাথা হতে জোড়ার নিচ পর্যন্ত ঢেকে বেধে দিতে হবে।

    ব্যতিক্রমঃ যেহেতু কাঠলের ২-৩ সপ্তাহের স্টক চারায় গ্রাফটিং করা হয় তাই স্টক চারায় কোন পাতা থাকেনা এবং কলমটি চাকুর পরিবর্তে ব্লেড দিয়ে করতে হয়।

    পরবর্তী পরিচর্যাঃ

    ক) কলম করার সময় অতিরিক্ত রোদ থাকলে উপরে হালকা ছায়ার ব্যবস্থা করলে সফলতার হার বেড়ে যায়।
    খ) স্টক গাছে অনাকাংথিত কুশি বের হওয়ার পর পরই ভেংগে দিতে হবে।
    গ) কলমের বেড/ব্যাগে প্রয়োজনীয় রসের ব্যাবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
    ঘ) সায়নের মাথায় কুঁড়ি গজানোর সাথে সাথেই পলিথিনের ক্যাপটি খুলে দিতে হবে।
    ঙ) জোড়াটি স্থায়ী হয়ে গেলে অথাৎ কলম করার প্রায় তিন মাস পর পলিথিনের ফিতাটি খুলে দিতে হবে।
    চ) বেডের/ ব্যাগের আগাছা, রোগ ও পোকা-মাকড় দমনের ব্যবস্থা নিতে হবে।
    ছ) চারার বাড়-বাড়তি কম হলে উপরি সার প্রয়োগ করতে হবে অথবা ফলিয়ার স্প্রে করতে হবে। প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে ইউরিয়া মিশিয়ে পাতায় স্প্রে করতে হবে।

    Saturday, April 29, 2017

    লিচুর ফল ছিদ্রকারী পোকা দমন

  • Share The Gag
  • লিচুর ফল ছিদ্রকারী পোকা

    লক্ষণ:

    এ পোকা ফলের বোঁটার কাছে ছিদ্র করে ভিতরে ঢোকে এবং বীজকে আক্রমণ করে । পরে ছিদ্রের মুখে বাদামী রংয়ের এক প্রকার করাতের গুড়ার মত মিহি গুড়া উৎপন্ন করে । এতে ফল নষ্ট এবং বাজার মূল্যে কমে যায় ।

    প্রতিকার:

    • লিচু বাগান নিয়মিত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা ।


    • আক্রান্ত ফল সংগ্রহ করে মাটিতে পুঁতে ফেলা ।


    • লিচু গাছ তলায় শুকানো খড়ে আগুন দিয়ে তাতে ধুপ দিয়ে ধোঁয়া দিতে হবে । এতে এ পোকা মথ বা কীড়া বিতড়িত হবে । ফলে লিচুর মধ্যে ডিম পারবে না ।


    • বোম্বাই জাতে এ পোকার আক্রমণ বেশি হয় তাই আক্রমণ প্রবণ এলাকায় চায়না ৩ জাত রোপন করা ।


    • আক্রমণ বেশি হলে ২ মিলি লেবাসিড বা সুমিথিয়ন বা ডায়াজিনন ৬০ইসি সবিক্রন বা কট ১০ ইসি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা ।


    আমড়ার আঠা ঝড়া রোগ

  • Share The Gag
  • আমড়ার আঠা ঝড়া রোগ

    আমের কান্ড বা মোটা ডালের কিছু যায়গা থেকে প্রথমে হালকা বাদামী বা গাঢ় বাদামী আঠা বা রস বের হতে দেখা যায় । বেশি আক্রান্ত হলে পুরো ডালটি এমনকি পুরো গাছটি মারা যায়।
    এর প্রতিকার হল:

    ১. আক্রান্ত গাছে সুষম মাত্রায় জৈব সার ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা এবং নিয়মিত সেচ প্রদান করা।
    ২. আঠা ঝড়া দেখামাত্র কিছুটা সুস্থ অংশসহ বাকল / ছাল তুলে ফেলা এবং কর্তিত অংশে বোর্দো মিশ্রণ বা কপার অক্সিক্লোরাইট জাতীয় ছত্রাক নাশক যেমন- কুপ্রাভিট ৭ গ্রাম / লি. হারে পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা।
    ৩. নতুন পাতা বের হলে ব্যাভিস্টিন ১ গ্রাম / লিটার হারে পানিতে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর ৩ বার স্প্রে করা ।

    পরবর্তীতে যা যা করবেন না :

    ১. বাগান অপরিচ্ছন্ন রাখবেন না:

    পরবর্তীতে যা যা করবেন:

    ১.ফল সংগ্রহ শেষ হলে গাছের মরা ডালপালা, ফলের বোটা, রোগ বা পোকা আক্রান্ত ডাল পালা ও অতিঘন ডাল পালা ছাটাই করে পরিস্কার করে দিন
    ২. পরিস্কার করার পর একটি ছত্রাক নাশক ও একটি কীটনাশক দ্বারা পুরো গাছ ভালভাবে স্প্রে করুন
    ৩. নিয়মিত বাগান পরিদর্শন করুন।

    Friday, April 28, 2017

    সুগারবিটের চাষাবাদ পদ্ধতি জেনে নিন

  • Share The Gag
  • সুগারবিটের জাত পরিচিতি





    সুগারবিট (Beta valgaris L.) একটি শীত প্রধান দেশের ফসল। বর্তমানে উদ্ভাবিত জাত দ্বারা : Tropical এবং Sub-tropical অঞ্চলেও সুগারবিট চাষ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএসআরআই) এর কৃষিতত্ব ও ফার্মিং সিস্টেম বিভাগ, সিনজেন্টা বাংলাদেশ লি. এর মাধ্যমে সুগারবিটের সীমিত সংখ্যক জাত নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করছে। একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় বিএসআরআই কর্তৃক ২০১১-২০১২ শস্য মৌসুমে বাংলাদেশের ১৬টি চিনিকল এলাকায় ট্রপিক্যাল সুগারবিটের উপর বিভিন্ন গবেষণা পরিচালিত হয়েছে যার অর্জিত ফলাফলের সারসংক্ষেপ নিম্নে দেয়া হলো :

















































    জাতরোপণ মৌসুম (নভেম্বর-এপ্রিল)রোপণ মৌসুম (ডিসেম্বর-মে)
    ফলন ( টন/একর)পোল (%)ফলন (টন/একর)পোল (%)
    শুভ্রা৫৪১৩.১৯৩২১২.২০
    কাভেরী৫১১৪.২১৪০১২.২০
    ইবি-০৬১৮৪৫১৪.২৮৩০১১.৯৬
    ইবি-০৬১৬৩৬১৪.০৩২৯১২.৩৭
    ইবি-০৮০৯৪০১৩.৯৯৩৪১১.৫৬

    তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএসআরআই), ঈশ্বরদী, পাবনা

    সুগারবিটের বপন/রোপণ প্রযুক্তি


    বীজ বপনের সময়ঃসুগারবিট শীতকালীন ফসল। বাংলাদেশে এর বীজ বপনের উত্তম সময় ১৫ অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বর (কার্তিক মাস)।





    বীজ হারঃএক বিঘা জমির জন্য ৪৭০-৫৩০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন অথবা ১৩৩৩০ থেকে ১৬০০০ গাছ থাকবে।






    বীজ বপন পদ্ধতিঃ প্রায় ২০ ইঞ্চি দূরে দূরে তৈরীকৃত রিজ/আইলের উপর ২০ সেমি. দূরে দূরে বীজ ২-৩ সেমি. নীচে বপন করতে হবে। কাঙ্খিত গাছের সংখ্যা পাওয়ার জন্য পাশাপাশি দুটি গর্ত করে প্রতিটি গর্তে ১টি করে বীজ বপন করতে হবে এবং পরবর্তী ২০-২৫ দিন পর প্রতি ২০ সেমি. দূরে একটি করে গাছ রেখে বাকী গাছ তুলে ফেলতে হবে।

    সুগারবিট চাষে সার ব্যবস্থাপনা






    সুগারবিট উৎপাদন সফলভাবে করার জন্য নিম্নরুপে সার প্রয়োগ করতে হবে-





































    সারের নামসারের পরিমাণ শতকের জন্যমন্তব্য
    পচা গোবর৬০.৬ কেজিগ্রাম বা কেজি যেকোন একটি দেখুন। এলাকা ও মৃত্তিকাভেদে সারের পরিমাণ কম-বেশী হতে পারে।
    ইউরিয়া১.০৫ কেজি
    টিএসপি০.৪৮ কেজি
    পটাশ০.৯১ কেজি
    জিপসাম০.৪০ কেজি
    দস্তা০.০৪ কেজি
    বোরণ০.০৮ কেজি

    – টেবিলে প্রদত্ত সারের মাত্রা এলাকা ও মৃত্তিকার ভিন্নতার কারণে পরিবর্তন হতে পারে।অধিকতর তথ্য জানতে এখানে ক্লিক করুন।



    সার প্রয়োগ পদ্ধতিঃজমি চাষ করার পূর্বে সম্পূর্ণ জৈব সার (পচা গোবর) সমানভাবে জমিতে ছিটিয়ে দিতে হবে। রিজ করার পূর্বে সারিতে সম্পূর্ণ টিএসপি, জিপসাম, দস্তা ও বোরণ এবং এক তৃতীয়াংশ ইউরিয়া ও পটাশ সার প্রয়োগ করতে হবে। পরবর্তীতে বীজ বপনের ৩০ ও ৬০ দিন পর বাকি ইউরিয়া ও পটাশ সার সারিতে উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

    সুগারবিট চাষে অন্যান্য প্রযুক্তি





    সেচ প্রয়োগঃ সুগারবিট উৎপাদনের জন্য মাটির আদ্রতা অবশ্যই ৬৫% এর উপরে রাখতে হবে।সুগারবিটের সক্রিয় মূল প্রায় ২০০-২৫০ সেমি পর্যন্ত মাটির গভীরে প্রবেশ করতে পারে তাই মাটির ৬০ সেমি গভীর থেকে সে প্রায় ৭০% পানি গ্রহণ করে। প্রতি ১০০ কেজি মূল উৎপাদনের জন্য সুগারবিট মাটি থেকে প্রায় ৪০-৪৫ কেজি পানি গ্রহণ করে। সুগারবিটের জীবনকাল মাটির আদ্রতাভেদে ৫-৬ টি সেচ প্রয়োজন হয়। অঙ্কুরোদগম ভালভাবে হওয়ার জন্য বীজ বপনের পরপরই এমনভাবে একটি সেচ দিতে হবে যাতে রিজ/আইল সম্পূর্ণভাবে ভিজে যায়। পরবর্তীতে ১৫/২০ দিন পরপর সেচ দিতে হবে। বিট উত্তোলের ১৫-২০ দিন পূর্বে সেচ প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে। তবে উত্তোলনের সময় মাটি খুব শুকনা ও শক্ত থাকলে সহজভাবে বিট উত্তোলনের জন্য হালকা সেচ প্রয়োগ করা যেতে পারে।



    গ্যাপ ফিলিংঃ বিটের কাঙ্খিত ফলন পাওয়ার জন্য গ্যাপ ফিলিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বীজ বপনের ১০ দিনের মধ্যে বীজ থেকে চারা না গজালে বীজ দ্বারা এবং ২০ দিনের মধ্যে বীজ থেকে চারা না হলে/রোগাক্রান্ত হলে আলাদাভাবে পলিব্যাগে তৈরীকৃত চারা দ্বারা গ্যাপ ফিলিং করতে হবে। উল্লেখ্য যে, সারি থেকে উত্তোলিত চারা দ্বারাও গ্যাপ ফিলিং করা যাবে।আগাছা দমনঃসুগারবিটের ভাল ফলন পাওয়ার জন্য সময়মত আগাছাদমনের প্রয়োজনীয়তা অত্যাধিক। বীজ বপনের পর থেকে ৯০-১০০ দিন পর্যন্ত জমি অবশ্যই আগাছামুক্ত রাখতে হবে। তিন পর্যায়ে আগাছা দমন করতে  হবে; প্রথম ২৫-৩০ দিন পর, দ্বিতীয় ৪৫-৫০ দিন পর এবং তৃতীয় ৭০-৮০ দিন পর। তবে জমিতে আগাছার পরিমাণ বেশি হলে প্রয়োজনে আরও আগাছা দমন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।গোড়ায় মাটি




    দেয়াঃ সুগারবিট একটি মূলজাতীয় ফসল, তাই গোড়ায় মাটি দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। দ্বিতীয় বার সার উপরি প্রয়োগ করার পর গাছের গোড়ায় মাটি দিতে হবে। মাটি এমনভাবে দিতে হবে যাতে গাছের মাথায় (Crown) মাটি না পড়ে।

    সুগারবিট সংগ্রহ ও পরবর্তী ব্যবস্থাপনা


    বিট উত্তোলন ও ফলনঃ




    সুগারবিট ফসলটি ৫ থেকে ৫.৫ মাসে উত্তোলনের উপযুক্ত হয়।এজন্য বিটের বয়স ৪ মাস হওয়ার পর প্রতি ১০ দিন পর পর ব্রিক্সের পরিমাণ নির্ণয় করতে হবে। গাছের পাতাগুলো হলুদ হতে শুরু করলে এবং মূলে ব্রিক্সের পরিমাণ ১৮-২২% হলে বিট সংগ্রহ করতে হবে। মাঠ থেকে সাধারণতঃ হাত দিয়ে বিট উত্তোলন করা হয়। সুগারবিটের বিঘা প্রতি ফলন ১০.৬৭-১৩.৩৩ টন হয়।


    প্রক্রিয়াকরণঃ




    উৎপাদিত বিট ভালভাবে পরিস্কার করে পাতলা স্লাইস করতে হবে। স্লাইসকৃত বিট ডিফিউজারে ৭০ ডিগ্রি সে. তাপমাত্রায় স্লাইসের দ্বিগুন পরিমাণ পানিতে ১ ঘন্টা সিদ্ধ করতে হবে। ডিফিউজার থেকে রস সংগ্রহ করে জ্বাল দিয়ে রস ঘনীভূত করতে হবে। ঘনীভূত রসে প্রয়োজনমত পাউডার চিনি মিশিয়ে দানাদার গুড় উৎপাদন করা যায়। পরবর্তীতে উৎপাদিত গুড় রোদে শুকিয়ে প্যাকেটজাত করতে হবে।


     

    পানি কচু চাষ পদ্ধতি

  • Share The Gag
  • পানি কচুর জাত পরিচিতি

























































    জাতের নামক্লিক করুনজীবনকাল ও বপন সময়বিঘা প্রতি ফলন (মণে)
    বারি পানি কচু-১ (লতিরাজ)bari 1১৮০-২৭০ চৈত্র-ভাদ্র

    (লাগানোর ২ মাস পর থেকে ৭ মাস পর্যন্ত লতি হয়ে থাকে)
    কান্ডঃ ৫৫-৭০,

    লতিঃ ৯০-১০৫
    এ জাতে কান্ড অপেক্ষা লতির প্রাধান্য বেশি। গাছ মাঝারী, পাতা সবুজ, পাতা ও বোঁটার সংযোগস্থলের উপরিভাগ লাল রং বিশিষ্ট যা জাতটির সনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য। লতি লম্বায় ৩ ফুট থেকে ৩ ফুট ৪ ইঞ্চি, সামান্য চ্যাপ্টা, হাল্কা পিংক রং বিশিষ্ট। লতি সমানভাবে সিদ্ধ হয়, গলা চুলকানীমুক্ত (ক্যালসিয়াম অক্সালেট কম)। দেশের সব অঞ্চলে চাষ করা যায়।
    বারি পানি কচু-২bari 2– কান্ডঃ ৬৫-৮০

    লতিঃ ৯০-১০৫
    এ জাতে কান্ড অপেক্ষা লতির প্রাধান্য বেশি। এ জাতটি প্রচুর উৎকৃষ্ট মানের লতি উৎপাদন করে যার লতি লম্বায় সোয়া ৩ ফুট, লতি গোলাকার, অপেক্ষাকৃত মোটা ও গাঢ় সবুজ বর্ণের হয়। লতি সমানভাবে সিদ্ধ হয়, গলা চুলকানীমুক্ত (ক্যালসিয়াম অক্সালেট কম)। দেশের সব অঞ্চলে চাষ করা যায়।
    বারি পানি কচু-৩bari 3–কান্ডঃ ৯০-১০৫

    লতিঃ ৩৫-৪২
    এ জাতে কান্ড হলো প্রধান ভক্ষণযোগ্য অংশ। কান্ড গোলাকার, মোটা ও হালকা সবুজ বর্ণের হয়। কান্ডের দৈর্ঘ্য সোয়া ৩ ফুট, সমানভাবে সিদ্ধ হয়, গলা চুলকানীমুক্ত (ক্যালসিয়াম অক্সালেট কম)। দেশের সব অঞ্চলে চাষ করা যায়।
    বারি পানি কচু-৪bari 4–কান্ডঃ ২৫-১৬০

    লতিঃ ২০-৩০
    এ জাতের গাছ খাড়া, কান্ড থামাকার এব সবুজ বর্ণের। পাতা সবুজ ও peltate আকৃতির। কান্ড মোটা ও গোলাপী বর্ণের হয়। পত্রফলকের মধ্য ও অন্যান্য শিরা নিম্নপৃষ্টে গাঢ় গোলাপী রঙের এবং উপরের পৃ্ষ্ঠে গোলাপী রঙের। বোঁটা এবং পত্র ফলকের সংযোগস্থল গোলাপী রঙের। রাইজোম গোলাপী রঙের এবং ফ্লেস হালকা গোলাপী যা অন্য জাত থেকে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। এটি মূলত রাইজোম উৎপাদিত তবে অল্প পরিসরে লতিও উৎপন্ন করে। কান্ড সমানভাবে সিদ্ধ হয়, গলা চুলকানীমুক্ত (ক্যালসিয়াম অক্সালেট কম)। দেশের সব অঞ্চলে চাষ করা যায়।
    বারি পানি কচু-৫bari 5–কান্ডঃ ২৫-১৫০

    লতিঃ ২০-৩০
    এ জাতের গাছ খাড়া, কান্ড থামাকার এব সবুজ বর্ণের। পাতা সবুজ ও peltate আকৃতির। কান্ড মোটা ও সবুজ বর্ণের হয়। পত্রফলকের মধ্য ও অন্যান্য শিরা সবুজ রঙের এবং উপরের পৃ্ষ্ঠে গোলাপী রঙের। বোঁটা এবং পত্র ফলকের সংযোগস্থল সবুজ রঙের। রাইজোম হালকা সবুজ রঙের এবং ফ্লেস সাদাটে যা অন্য জাত থেকে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। এটি মূলত রাইজোম উৎপাদিত তবে অল্প পরিসরে লতিও উৎপন্ন করে। কান্ড সমানভাবে সিদ্ধ হয়, গলা চুলকানীমুক্ত (ক্যালসিয়াম অক্সালেট কম)। দেশের সব অঞ্চলে চাষ করা যায়।


    উৎসঃ বারি কৃষি প্রযুক্তি হাত বই (৬ষ্ঠ সংস্করণ), বারি, গাজীপুর

    পানি কচুর বপন/রোপণ প্রযুক্তি





    রোপনের সময়ঃ

    আগাম ফসলের জন্য কার্তিক (মধ্য  অক্টোবর থেকে মধ্য নভেম্বর), নাবী ফসলের জন্য মধ্য ফাল্গুন থেকে মধ্য বৈশাখ (মার্চ-এপ্রিল)। তবে বানিজ্যিকভাবে চাষ করার জন্য অগ্রহায়ন-পৌষ (ডিসেম্বর থেকে মধ্য জানুয়ারী) মাসে চারা লাগানো হয়।

    বীজ হারঃ বিঘা প্রতি ৫০০০ টি চারার প্রয়োজন হয়।

    স্পেসিং/দূরত্বঃ সারি – সারির দূরত্ব হবে = ২ ফুট, গাছ – গাছের দূরত্ব হবে= ১.৫ ফুট।

    উৎসঃ বারি কৃষি প্রযুক্তি হাত বই (৬ষ্ঠ সংস্করণ), বারি, গাজীপুর

    পানি কচু চাষে সার ব্যবস্থাপনা





    পানি কচুর ভাল ফলন পাওয়ার জন্য প্রতি শতাংশ (ডেসিমাল) মাঝারি উর্বর জমির জন্য নিম্নোক্ত হারে সার প্রয়োগ করতে হবেঃ

    সমুদয় গোবর, টিএসপি, জিপসাম, জিংক সালফেট (দস্তা), বোরণ ও অর্ধেক পটাশ সার জমি তৈরির আগে শেষ চাষের সময় মাটিতে প্রয়োগ করতে হবে। চারা রোপণের ১.৫-২ মাস পর অবশিষ্ট পটাশ ও ইউরিয়া সারের ছয় ভাগের এক ভাগ ছিটিয়ে দিতে হবে। বাকি পাঁচ ভাগ ইউরিয়া সার সমান কিস্তিতে ১৫ দিন পর পর জমিতে সারির পার্শ্বে প্রয়োগ করতে হবে।​





































    সারের নামসারের পরিমাণ

    শতকের জন্য


    মন্তব্য
    পচা গোবর/কম্পোস্ট৪০.০০-৬০.০০ কেজিএলাকা বা মৃত্তিকাভেদে সারের পরিমাণে কম-বেশী হতে পারে। অধিকতর তথ্য জানতে এখানে ক্লিক করুন।
    ইউরিয়া১.২০-১.৪০ কেজি
    টিএসপি০.৬১-০.৮১ কেজি
    এমওপি/পটাশ১.২০-১.৪০ কেজি
    জিপসাম০.৪০-০.৫৩ কেজি
    দস্তা০.০৪-০.০৬ কেজি
    বোরণ০.০৪-০.০৫ কেজি


    প্রয়োগ পদ্ধতিঃ 

    সমুদয় গোবর, টিএসপি, জিপসাম, জিংক সালফেট (দস্তা), বোরণ ও অর্ধেক পটাশ সার জমি তৈরির আগে শেষ চাষের সময় মাটিতে প্রয়োগ করতে হবে। চারা রোপণের ১.৫-২ মাস পর অবশিষ্ট পটাশ ও ইউরিয়া সারের ছয় ভাগের এক ভাগ ছিটিয়ে দিতে হবে। বাকি পাঁচ ভাগ ইউরিয়া সার সমান কিস্তিতে ১৫ দিন পর পর জমিতে সারির পার্শ্বে প্রয়োগ করতে হবে।

    উৎসঃ বারি কৃষি প্রযুক্তি হাত বই (৬ষ্ঠ সংস্করণ), বারি, গাজীপুর

     


    Wednesday, April 26, 2017

    ডেইরী খামারীরা তৈরি করুন বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট

  • Share The Gag
  • বায়ো গ্যাস প্রকল্প প্রস্তুত প্রনালী

    বায়োগ্যাস প্রকল্প

    যুগ-যুগ ধরে বাংলাদেশের গ্রামঞ্চলে রান্নাবান্নার কাজে কাঠ, খড়-কুটা, নাড়া, শুকনা গোবর এগুলোই জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। বর্তমানে প্রতিবছর দেশে ৩ কোটি ৯০ লাখ মেট্রিক টন এ জাতীয় জ্বালানির প্রয়োজন। জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের ফলে গাছপালা উজাড় হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে আমরা শুধু বনজ সম্পদই হারাচ্ছি না, আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশকে ঠেলে দিচ্ছি এক ভয়াবহ অবস্থার দিকে। অন্যদিকে গোবর, নাড়া এবং অন্যান্য পচনশীল পদার্থগুলো পুড়িয়ে ফেলার ফলে আবাদি জমি জৈব সার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে জ্বালানি সঙ্কট তীব্রতর হচ্ছে। এই জ্বালানি সঙ্কট মোকাবেলায় বিকল্প জ্বালানি হিসেবে বায়োগ্যাসই একমাত্র এই সমস্যার সমাধান দিতে পারে এবং নিশ্চিত করতে পারে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ উন্নতমানের জৈব সার, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও উন্নত জীবনযাত্রা।

    বায়োগ্যাস কী?

    গোবর ও অন্যান্য পচনশীল পর্দাথ বাতাসের অনুপস্থিতিতে পচানোর ফলে যে বড়বিহীন জ্বালানি গ্যাস তৈরী হয় তাই হচ্ছে বায়োগ্যাস। এতে ৬০/৭০ ভাগ জ্বালানি গ্যাস তৈরী হয়ে অবশিষ্ট অংশ উন্নতমানের জৈবসার হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে। জ্বলানি গবেষকরা, বলছেন, মানব বিষ্ঠা, মোরগ-মুরগীর বিষ্ঠা, জৈব আবর্জনা এবং গোবর থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন সম্ভব। পৃথিবীর অনেক দেশেই এ জাতীয় পর্দাথ থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন করে কলকারখানা এবং গৃহস্থালী কাজে ব্যবহার হচ্ছে। বায়োগ্যাস ব্যবহার এবং উৎপাদনে গণচীন সবচেয়ে এগিয়ে আছ। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও বায়োগ্যাসের প্রচলন রয়েছে। গৃহস্থালী রান্নাবান্না এবং ম্যান্ডেলবাতি জ্বালানো ছাড়াও বায়োগ্যাস দিয়ে জেনারেটরের সাহায্যে বিদু্যৎ উৎপাদন করে বাতি, ফ্যান, ফ্রিজ, টিভিসহ অন্যান্য বৈদুত্যিক সরঞ্জামাদি চালানো সম্ভব। গবেষকরা বলছেন, ৭-৮ সদস্য বিশিষ্ট পরিবারের জন্য ৫-৬ টি মাঝারি আকারের গরুর দৈনন্দিন গোবর থেকে ১০৫ ঘনফুট গ্রাস উৎপাদন সম্ভব যা দিয়ে তিন বেলার রান্না-বান্না সহ একটি ম্যান্টেল বাতি জ্বালানো যাবে।

    জ্বালানি সংকট সমাধানে এই মাধ্যমটিতে এত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এর প্রসার ঘটেনি এ দেশের এতটুকুও। বাংলাদশে বিজ্ঞান ও গবেষণা পরিষদের জ্বালানি গবেষণা ও গোড়ার ইনস্টিটিউট এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে অনেক বছর ধরে।

    কিভাবে বায়োগ্যাম প্লান্ট তৈরী করবো, এর কারিগরী তথ্য কোথায় পাব, এর নির্মাণ ব্যয় কত হবে ইত্যাদি।

    ৭/৮ সদস্যবিশিষ্ট পরিবারের জন্য ১০৫ (৩ ঘনমিটার) ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনক্ষম স্থিরডোম বায়েঅগ্যাস প্লান্ট নির্মাণ পদ্ধতি

    ডাইজেস্টার তৈরি পদ্বতি

    ২৫০ সে. মি. ব্যাস এবং ২২০ সে. মি. গভীর একটি গোলাকার কুয়া খননকরতে হবে। কুয়ার তলদেশ চাড়ির তলার আকৃতিতে খনন হবে যাতে হেব যাতে বাড়ির তলার মধ্যবিন্দু থেকে আর্চের উচ্চতা ৩০ সে. মি. (১ ফুট) হয় এর পর তলদেশে ভালো করে দুরমুজ করে নিতে হবে।

    তলদেশে ৭.৫ সে. মি. পুরু ইট বিছিয়ে দিতে হবে। এই সোলিং-এর ওপর ১:৩:৬ (সিমেন্টঃ বালুঃ খোয়া) অনুপাতে ৫ সে. মি. পরু ঢালাই দিতে হবে। ঢালাই এর ওপর ২১০ সে. মি. ব্যাস (ভিতরে রেখে গোলাকৃতি ১২.৫ সে. মি. ইটের দেয়ালের গাঁথুনি করতে হবে। দেয়ালের উচ্চতা যখন ২৫ সে. মি. হবে

    মনে করি,

    প্রস্তাবিত ডাইজেস্টারের কেন্দ্র হতে ইনলেট চেম্বারের কেন্দ্র পর্যন্ত দূরত্ব- x

    এবং হাইড্রোলিক চেম্বারের কেন্দ্র পর্যন্ত দূরত্ব- y

    ডাইজেস্টারে ব্যাস- D

    হাইড্রোলিক চেম্বারের ব্যাস- D2

    ভূতল হতে ডাইজেস্টারের টপ ডোমের গভীরতা- ০.৩০ m

    ডাইজেস্টারের উপরের ডোমের উচ্চতা- f1

    ডাইজেস্টারের দেয়ালের উচ্চতা- H

    ডাইজেস্টারের নীচের ডোমের উচ্চতা- f2

    ডাইজেস্টারের দেয়ালের পুরুত্ব- T

    উপরের ডোমের পুরুত্ব- T1

    তলার ডোমের পুরুত্ব- T2

    ইনলেট চেম্বারের দেয়ালের পুরুত্ব- T4

    হাইড্রোলিক চেম্বারের দেয়ালের পুরুত্ব- T3

    ইনলেট চেম্বারের কেন্দ্র- C2

    ডাইজেস্টারের কেন্দ্র- C

    হাইড্রোলিক চেম্বারের কেন্দ্র- C1

    ওপরের ডোমের বক্রাকার বাঁকের ব্যাসার্ধ- R1

    নীচের ডোমের বক্রাকার বাঁকের ব্যাসার্ধ- R2

    তখন কুয়ার একদিকে হাইড্রলিক চেম্বারের মুখের জন্য ১৫০ সে. মি.× ৭৫ সে. মি. এবং অন্যদিকে ইনলেট পাইপ বসানোর জন্য ২০×২৫ সে. মি. গাঁথুনি খোলা রাখতে হবে। ১৫ সে. মি. ব্যাসবিশিষ্ট একটি আরসিসি পাইপ (ইনলেট পাইপ) দেয়ালের সঙ্গে আনুমানিক ৩০ ডিগ্রি কোণ রেখে বসিয়ে নিতে হবে।

    দেয়ালের কাজ মোট ১০০ সে. মি. হলে হাইড্রলিক চেম্বারের দরজার কাজ শেষ হবে। দেয়ালেরকাজ পুনরায় শুরু করে হাইড্রলিক চেম্বারের মুখের উপরিভাগ থেকে ৪০ সে. মি. পর্যন্ত গেঁথে নিতে হবে। এখন দেয়ালের উপরিভাগে ১:২:৪ অনুপাতে ৭.৫ সে. মি.পুরু ঢালাই দিতে হবে। এই ঢালাই-এর ওপর ৭.৫ সে. মি. পুরু ইটের গাঁথুনি দিয়ে ৬০ সে. মি. আর্চ উচ্চতাবিশিষ্ট গম্বুজ আকৃতির ডোম তৈরী করতে হবে।

    ডেমের উপরের অংশে গ্যাস নির্গমনের জন্য একটি ১.২৭ সে. মি. ব্যাসবিশিষ্ট ২৫ সে. মি. লম্বা জিআই পাইপ খাড়াভাবে স্থাপন করতে হবে। জিআই পাইপের উপরি অংশে একটি গ্যাস ভাল সংযুক্ত করতে হবে। এখন দেয়ালের ভিতরের অংশে নিচ থেকে হাইড্রলিক চেম্বারের মুখের উপরিভাগ পর্যন্ত ১:৪ অনুপাত ১.২৭ সে. মি. পুরু প্লাস্টার করতে হবে। হাইড্রলিক চেম্বারের মুখের উপরি ভাগ তেকে ডোমের ভেতরের সম্পূর্ণ অংশ ১:৩, ১:২, ১:১ অনুপাতে তিনবার প্লাস্টার করতে হবে।

    প্রতিবার প্লাস্টারিং-এর পূর্বে সিমেন্ট পেস্ট করে ব্রাশ করে নিতে হবে। ৫/৬ কিউরিং করার পর ভেতরের ডোমসহ আউটলেটের মুখ পর্যন্ত দেয়ালের শুকনা অবস্থায় ১ মি. মি. পুরু মোম/সিলিকেট প্রলেপ দিতে হবে। ডোমের ওপরের সম্পূর্ণ অংশ প্লাস্টার করে নিতে হবে।

    হাইড্রোলিক চেম্বার

    ৭.৫ সে. মি. ইটের গাঁথুনি দিয়ে ২ স্তরবিশিষ্ট একটি আয়তাকার হাইড্রলিক চেম্বার তৈরী করতে হবে। নিচু ও ওপর চেম্বারের মাপ হবে যথাক্রমে ১০০ সে. মি. দৈর্ঘ্য × ১৫০ সে. মি. প্রস্থ × ১১৫ সে. মি. উচ্চতা এবং ১৬০ সে. মি. দৈর্ঘ্য × ১৫০ সে. মি. প্রস্থ × ৬০ সে. মি. উচ্চতা। ৬০ সে. মি. দেয়ালের শেষ হলে স্পেন্ট স্লারি নির্গমনের জন্য একটা খোলা পথ/দরজা রাখতে হবে হাড্রলিক চেম্বারের ভিতরে দিক ১:৪ অনুপাতে প্লাস্টার কাজ শেষ করে নিতে হবে। স্পেন্ট স্লারী নির্গমনের পথের ওপরে আরও ৭.৫ সে. মি. গেঁথে নিতে হবে। হাইড্রলিক চেম্বারের ওপরের অংশ ঢেকে রাখার জন্য প্রয়োজনবোধে স্লাব ব্যবহার করতে হবে।

    ইনলেট ট্যাঙ্ক

    ইনলেট পাইপের মুখে ৬০ সে. মি. × ৬০ সে. মি. মাপে একটি ১২.৫ পুরু ইটের ট্যাঙ্ক তৈরী করতে হবে। এই ট্যাঙ্ক ভেতরের অংশ ভালোভাবে প্লাস্টার করতে হবে। ডাইজেস্টার হাইড্রলিক চেম্বার এবং ইনলেট ট্যাঙ্ক তৈরীর পর প্লান্টের চারপাশে বালি ও মাটি দিয়ে এমনভাবে ভরাট করতে হবে যেন ডোমের উপরিভাগ পর্যন্ত মাটির নিচে থাকে।

    প্লান্ট চালু করার নিয়মাবলী

    প্লান্ট চালু করার সময় ১.৫/২ টন কাঁচামাল যথা গোবর, হাঁস-মুরগির মল, মানুষের মল জাতীয় পচনশীল পদার্থের প্রয়োজন। প্লান্ট তৈরির শুরু থেকে এগুলেপা জমা করে রাখলে প্লান্ট চালুর সময় এগুলো ব্যবহার করা যাবে। অবশ্য কেউ যদি ২/১ দিনেই উক্ত পরিমান কাঁচামাল যোগাড় করতে পারেন, তবে আগে থেকে জমা করে রাখার প্রয়োজন নেই। জমাকৃত কাঁচামাল এবং পরিষ্কার পানি গোবরের ক্ষেত্রে ১:১ হাঁস-মুরগির মলের ক্ষেত্রে ১:৩ অনুপাতে মিশিয়ে ইনলেট পাইপ দিয়ে আস্তে আস্তে কুয়ায় ঢালতে হবে। চার্জিং-এর সময় খেয়াল রাখতে হবে মাটির চাকা, পাথর, বালি, বড় সাইজের খড়কুটা ইত্যাদি যেন কুয়ার ভিতর প্রবেশ না করে। যদি প্লান্ট সম্পূর্ণ ভর্তি না হয়, বাকি অংশ পানি দিয়ে ভরে নিতে হেব।

    প্লান্ট এবং গ্যাস বাল্বের ছিদ্র পরীক্ষা

    গ্যাস বাল্বের ছিদ্র পরীক্ষার জন্য পলিথিন পাইপের গ্যাস বাল্বের মাথা পানির মধ্যে সামান্য ডুবিয়ে দিতে হবে। যদি বাল্ব বন্ধ অবস্থায় পানিতে বুদবুদ তৈরী হয়, তবে বুঝতে হবে বাল্বের ভিতর ছিদ্র আছে। বাল্বের গোড়ায় সাবানের ফেনা লাগিয়ে যদি বুদবুদ দেখা তবে ধরে নিতে হবে বাল্বের গোড়ায় গ্যাস লিক রয়েছে। এমতাবস্থায় গ্রিজ ও পাট জাতীয় কিছু দিয়ে ছিদ্র বন্ধ করতে হবে।

    গ্যাস সরবরাহের নিয়ম

    ১.২৭/২.৫৪ সে. মি. চওড়া পিভিসি / জিআই পাইপ লাইন প্লান্ট থেকে চুলা, হ্যাজাক লাইট, জোনারেটর পর্যন্সংযোগ করতে হবে। যেহেতু বায়োগ্যাসে পানি মিশ্রিত থাকে, সেহেতু পানি জমে থাকার সম্ভবনা থাকবে না। পাইপের এক মাথা একটি প্লাস্টিক পাইপের সাহায্যে প্লান্টের সরবরাহ লাইনে এবং অন্য মাথাটি চুলা, হ্যাজাক, লাইট, জেনারেটর ইত্যাদির সাথে টি-এর সাহায্যে যুক্ত করে নিতে হবে।

    ৩ মিটার (১০৫) ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনক্ষম স্থিরডোম বায়োগ্যাস প্লান্ট নির্মাণের উপকরণ সমূহের পরিমাণ এবং মূল্য ১৯৯৪ সালের বাজর অনুসারে দেয়া হল। ১ হাজার ইট ২,৭০০ টাকা, ১২ বস্তা সিমেন্ট, ২,৭০০ টাকা, ১২০ ঘনফুট বালু ৫০০ টাকাক, আরসিসি পাইপ ১২ ফুট ১৫০ টাকা, রাজমিস্ত্রি ৮ জন ৮০০ টাকা, হেলপার ১২ জন ৬০০ টাকা, গ্রঅস বাল্ব (শর্ট পিসসহ) ১টি ১০০ টাকা, মোম ২ কেজি ১০০ টাকাক, বার্নার ১টি ৫০০ টাকাক, হ্যাজাক ১টি ৫০০ টাকা, পাইপ ২০০ টাকা, কুয়া খনন ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য খরচ ২০০ টাকা মিলে মোট ৯,৫৫ টাকা আনুমানিক খরচ হবে। এ জাতীয় একটি গ্যাস প্লান্টের স্থায়িত্ব হবে অন্তত ৩০ বছর।

    বর্তমানে বাংলাদেশে গরু-মহিষের সংখ্যা আনুমানিক ২ কোটি ২০ লাখ। এই গরু-মহিষ থেকে দৈনিক প্রাপ্ত গোবরের পরিমাণ ২২০ মিলিয়ন কেজি। প্রতি কেজি গোবর থেকে ১.৩ ঘনফুটগ্যাস হিসাবে বছরে ১০৯ ঘনমিটার গ্যঅস পাওয়া সম্ভব যা ১০৬ টন কেরোসিন বা কয়লার সমান। এ ছাড়াও হাঁস-মুরগি, ছাগল-ভেড়া ইত্যাদির মলমূত্র থেকে এবং আবর্জনা, কচুরপানা বা জলজ উদ্ভিদ থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বায়োগ্যাস পাওয়া সম্ভব। শুধু তাই নয়, গ্যাসহিসাবে ব্যবহারের পর ঐ গোবর জমির জন্য উৎকৃষ্ট মানের জৈব সার হিসাবে ব্যবহার করা সম্ভব। তাই প্রতিটি পরিবারকে বায়োগ্যাস প্লান্টের সাথে যুক্ত করতে পারলে জ্বালানি সঙ্কট দূর করে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং উন্নত গ্রামীণ জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব।