Saturday, April 22, 2017

ঢেঁড়শের ছাতরা পোকা দমন

  • Share The Gag
  • ঢেঁড়শের ছাতরা পোকা

    লক্ষণ:

    পূর্ণ বয়স্ক ও বাচ্চা উভয়ই পাতা কান্ড ও ডগার রস চুষে খায়্ । আক্রান্ত স্থান কালো ঝুলের মত দেখায় আক্রান্ত পাতা ঝরে পড়ে ।

    প্রতিকার :

    আক্রান্ত ডগা, পাতা ও ডাল দেখা মাত্রা তা সংগ্রহ করে ধ্বংস করা ।
    আক্রমণ বেশি হলে প্রতি লিটার পানিতে ম্যালাথিয়ন বা সুমিথিয়ন ২ মিঃলি মারসাল ২০ ইসি ১মিঃলিঃ ডায়ামেথয়েট ৪০ ইসি ২মিঃলিঃ মিশিয়ে স্প্রে করা ।

    পরবর্তীতে যা যা করবেন না:

    ১. স্প্রে করার পর ১৫ দিনের মধ্যে সেই সবজি খাবেন না বা বিক্রি করবেন না

    পরবর্তীতে যা যা করবেন:

    ১. আগাম বীজ বপন করা
    ২. সুষম সার ব্যবহার করা

    ক্যাপসিকাম মিস্টি মরিচের জাব পোকা দমন

  • Share The Gag
  • মিস্টি মরিচের জাব পোকা

    লক্ষণ :

    পোকা গাছের কচি পাতা ও ডগার রস শুষে খেয়ে গাছকে দুর্বল করে ফেলে ।

    প্রতিকার:

    গাছের আক্রান্ত অংশ অপসারণ করা
    প্রাথমিক অবস্থায় শুকনো ছাই প্রয়োগ করা
    পরিস্কার পানি জোরে স্প্রে করা
    ক্ষেত পরিস্কার/পরিচ্ছন্ন রাখা ।
    হলুদ রঙের ফাঁদ ব্যবহার করা ।

    তামাকের গুড়া (১০গ্রাম), সাবানের গুড়া (৫গ্রাম) ও নিমের পাতার নির্যাস প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ব্যবহার করা ।
    প্রতি গাছে ৫০ টির বেশি পোকা দেখা দিলে এডমেয়ার ২০ এসএল ০.৫ মিলি./লি হারে পানিতে শিশিয়ে স্প্রে করা।

    কৃষকের আচরণগত পরিবর্তন যোগাযোগ (এফবিসিসি)

    পরবর্তীতে যা যা করবেন না:

    ১. স্প্রে করার পর ১৫ দিনের মধ্যে সেই সবজি খাবেন না বা বিক্রি করবেন না

    পরবর্তীতে যা যা করবেন:

    ১. আগাম বীজ বপন করা
    ২. সুষম সার ব্যবহার করা

    Thursday, April 20, 2017

    ছাঁদ কৃষি এবং কৃষি কাজে কোকো পিটের ব্যবহার

  • Share The Gag
  • ছাঁদ কৃষি এবং কৃষি কাজে কোকো পিটের ব্যবহার

    কোকো পিট কি?



    কোকো পিট একটি জৈব উপাদান যা নারিকেলের আঁশ এর থেকে বাছাই করা এক প্রকার গুঁড়ো উপাদান। এই জৈব উপাদান সম্পূর্ন স্বয়ংক্রিয় আধুনিক মেশিনের মাধ্যমে ইলেকট্রিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে এই কোকো পিটের ব্লক তৈরি করা হয়, যা আধুনিক কৃষি খামারীরা তাদের কৃষিজ খামারে ব্যবহার করে থাকেন।

     

    কোকো পিট এর ব্যবহারঃ  

     

    কোকো পিট উন্নত বিশ্বে বীজ তলা তৈরি, হাইড্রপোনিক্স চাষাবাদ, বাড়ীর ছাদে বাগান করার পাশাপাশি অনেক দেশে মাটির বিকল্প মাটিতে তৈরিতে অন্যান্য জৈব উপাদানের সাথে সাথে এই কোকো পিট জৈব উপাদান মিশ্রণ করে থাকে। বাসা বাড়ীর ছাঁদে বাগান করার জন্য মাটি অনেক ওজন ধারণ করে থাকে এবং আমাদের দেশের শহরে বাগান করার জন্য  ভালো মানের মাটি সংগ্রহ করা একটি দূর্লভ কাজের মধ্যেই পরে। তাই আমাদের দেশেও খুব ধীর গতিতে হলেও এখন কোকো পিটের ব্যবহার শুরু হয়েছে।

    কেন কোকো পিট ব্যবহার করবেন?

     



    বাসা বাড়ীর ছাঁদে বাগান করার জন্য এই কোকো পিটের ব্যবহার উন্নত বিশ্বে তেমন বেশী প্রচার করতে হয় না কিন্তু আমাদের দেশে এই কোকো পিটের ব্যবহারে এখনো মানুষের সচেতনা তেমন তৈরি হয়নি বিধায় মানুষ এখনো ছাঁদ বাগান করার জন্য এই কোকো পিট ব্যবহার শুরু করতে পারে নাই।


    • ছাঁদ বাগান করার জন্য এটি একটি খুবই ওজন কম এবং বেশী পরিমাণ জলীয় অংশ ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ১০০% জৈব উপাদান।

    • কোকো পিটে প্রাকৃতিকভাবে অপকারী ব্যাকটেরিয়া এবং ফাঙ্গাস প্রতিরোধী উপাদান বিদ্যমান থাকে।

    • কোকো পিট হালকা এবং ঝুরঝুরে হবার কারনে এর ভিতরে খুব সহজে মাটিতে উদ্ভিদের জন্য খাদ্য তৈরিতে অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে।

    • কোকো পিটে প্রাকৃতিক মিনারেল থাকে যা উদ্ভিদের খাদ্য তৈরি এবং উপকারী অণুজীব সক্রিয় করার জন্য বিশেষ ভূমিকা রাখে।

    • কোকো পিটের পি এইচ এর মাত্রা থাকে ৪.২ থেকে ৬.২ এবং এর ভেতরে ক্ষারত্ব সহনশীল পর্যায় থাকে বলে উন্নত বিশ্বে এই কোকো পিটের ব্যবহার সব চাইতে বেশী।

    • কর্পোরেট ফার্ম গুলো বীজ জার্মিনেশন থেকে শুরু করে মাটি ছাড়া চাষাবাদ করার জন্য এই কোকো পিট বহুল আলোচিত।

    • ওজনে হালকা হওয়াতে পরিবহণে সহজ তাই এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পরিবহণ এবং ছাঁদে বগান করার জন্য এই কোকো পিট অধিক ব্যবহার হয়।





    বানিজ্যিকভাবে বাংলাদেশে এখনো সেইভাবে কোকো পিট ব্যবহার শুরু হইনি তবে প্রাপ্তী এবং এর ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা অনেক বেশী প্রয়োজন তবেই এর ব্যবহার দিন কে দিন বাড়বে। বাংলাদেশে খুব বেশী কোম্পানি এই কোকো পিট আমদানী করে না আর যারা করছে তারাও খুব বেশী মার্কেট না থাকার কারনে খুব বেশী পরিমাণ আমদানী করতে সাহস পায় না। আমাদের দেশে এর যপোযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত হলেই আমাদের দেশে এর ব্যপক সম্ভাবনা রয়েছে এবং দাম ও তখন অনেক কমে যাবে।

    বর্তমানে নার্সারী গুলো ৫০ কেজি থেকে শুরু করে ৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করে থাকে যা সম্পূর্ন পি এইচ নিয়ন্ত্রন করা থাকে না এবং এর ভেতরে অনেক জলীয় অংশ থাকে বিধায় পরিমানে বেশী ক্রয় করেও শুঁকানোর পরে তা পরিমানে কমে যায় বিধায় ক্রেতা সাধারণত খুশী হতে পাড়ে না। আমাদের ক্ষুদ্র প্রয়াস এই প্রচারণায় যে এর ব্যবহার শুরু হলেই এর বাণিজ্যিক আরো প্রসার ঘটবে এবং দাম ও কমে যাবে।

    বর্তমানে এই কোকো পিট বিভিন্ন নার্সারী এবং মগবাজার কৃষি ষ্টোর এর আউটলেটে পাওয়া যায়।

    ক্রয় করতে আগ্রহীরা যোগাযোগ করতে পারেন- ০১৯৭১৬২৫২৫২।

     

     

    Wednesday, April 19, 2017

    গ্রীষ্মকালীন বারি মরিচ ২ এর চাষাবাদ

  • Share The Gag
  • গ্রীষ্মকালীন বারি মরিচ ২ এর চাষাবাদ

    মরিচ বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী মসলা ফসল। কাঁচা ও পাকা উভয় অবস্থাতেই এ ফসলে প্রচুর চাহিদা রয়েছে। রান্নার রং, রুচি ও স্বাদে ভিন্নতা আনার জন্য মরিচ একটি অপরিহার্য উপাদান। পুষ্টির পাশাপাশি মরিচের ভেষজ গুণ রয়েছে। কাঁচা মরিচ ভিটামিন-এ ও সি সমৃদ্ধ। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা মরিচে ২-৩ গ্রাম আমিষ, ৬ গ্রাম শ্বেতসার, ০.৬ গ্রাম তেল, ৭ গ্রাম আঁশ, ১০০-থেকে ২০০০ আই.ইউ ভিটামিন-সি এবং ২০ থেকে ২৮ গ্রাম অন্যান্য ভিটামিন ও পানি রয়েছে। এটি ক্ষুধা বর্ধক, বায়ু নাশক ইত্যাদি গুণাবলি সম্পন্ন। বাংলাদেশে প্রায় ১৬ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে ৩৭ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ উৎপাদিত হয়। বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কাঁচা মরিচ রপ্তানি হয়। রবিও খরিপ-১ মৌসুমে মরিচ সহজলভ্য হলেও খরিপ-২ মৌসুমে বাজারে স্বল্পতা দেখা দেয়। তাই বর্ষ ও শীত মৌসুমের পূর্বে মরিচের উৎপাদন অব্যাহত রাখার প্রয়াসে মসলা গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীগণের নিরলস প্রচেষ্টায় বারি মরিচ -২ নামে একটি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করা হয় এবং জাতীয় বীজবোর্ড কর্তৃক ২০১৩ সালে মুক্তায়িত করা হয়। জাতটি দেশে কাঁচা মরিচের মোট উৎপাদন বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।

    জাতের বৈশিষ্ট্য: এটি একটি গ্রীষ্মকালীন মরিচের জাত। গাছ বেশ লম্বা ও ঝোপালো। গাছের পাতার রং হালকা সবুজ। প্রতি গাছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টি মরিচ ধরে। এই জাতের মরিচের ত্বক পুরু। কাঁচা অবস্থায় মরিচের রং হালকা সবুজ এবং পাকা অবস্থায় লাল। এ জাতের মরিচের জীবন কাল প্রায় ২৪০ দিন।

    মাটি: উঁচু এবং মাঝারি উঁচু জমিতে এ জাতটি চাষ করা যায়। সুনিষ্কশিত , উর্বরতা সমৃদ্ধ বেলে দোঁআশ এবং পলি দোঁআশ মাটি এ জাতের মরিচ চাষের জন্য উত্তম। বাংলাদেশের বগুড়া, পাবনা, লালমরিহাট, ময়মনসিংহ ও সমগ্র খুলনা অঞ্চল, মানিকগঞ্জ ঢাকা প্রভৃতি এলকায় জাতটি চাষ করা যায়।

    রোপণমৌসুম: এটি একটি গ্রীষ্মকালীন জাতের মরিচ। এপ্রিল মাসে জমিতে এ মরিচের চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত এ জাতের মরিচের চারা জমিতে রোপণ করা যায়।

    চারা উৎপাদন: অপেক্ষাকৃত উঁচু যেখানে বৃষ্টির পানি দাঁড়ায় না, যতেষ্ট আলো-বাতাস পায়, পানি সেচের উৎস আছে এরূপ জমি বীজতলার জন্য নির্বাচন করতে হবে।গ্রীষ্মকালীন মরিচের জন্য মার্চ মাসে বীজতলায় বীজ বপন করতে হবে। প্রতিটি বীজতলার আকৃতি ৩ মি.ঢ ১ মিটার হওয়া উচিত। এ ধরনের প্রতিটি বীজতলায় ১৫ গ্রাম হারে বীজ সারিতে বপন করতে হবে। ভাল চারার জন্য প্রথমে বীজতলার মাটিতে প্রয়োজনীয় কম্পোষ্ট সার এবং কাঠের ছাই মিশিয়ে ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। বীজ বপনের ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা আগে প্রতিকেজি বীজে ২ গ্রাম হারে প্রোভেক্স বা ব্যাভিষ্টিন মিশিয়ে শোধন করে নিতে হবে। শোধিত বীজ বীজতলায় ৪ থেকে ৫ সে.মি. দূরে দূরে সারি করে ১ সে.মি. গভীরে সরু দাগ টেনে ঘন করে বপন করতে হবে। বীজ বপনের পর বীজতলায় যাতে পোকামাকড় দ্বারা চারা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্য প্রতিলিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে সেভিন পাউডার মিশিয়ে মাটিতে স্প্রে করতে হবে। অতিবৃষ্টি বা খরা থেকে চারা রক্ষার জন্য বাঁশের চাটাই, পলিথিন বা নেট দিয়ে বীজতলা ঢেকে দিতে হবে। বাঁশের চাটাই বা পলিথিন সকাল বিকাল বা রাতে সরিয়ে নিতে হবে। নেট ব্যবহারে বিভিন্ন শোষক পোকা চারাকে আক্রমণ করতে পারে না এবং নেটের উপর দিয়ে হালকা সেচ দিলে চারা ভাল থাকে। ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে বীজ গজায়। চরা ৩ থেকে ৪ সে.মি. হলে নির্দিষ্ট দূরত্বে চারা পাতলা করা হয়। খাট, মোটা কান্ড ও ৪ থেকে ৫ পাতা বিশিষ্ট ৩০ থেকে ৩৫ দিন বয়সের উৎকৃষ্ট চারা মূল জমিতে রোপণ করারর উপযুক্ত বলে বিবেচনা করা হয়।
    জমি প্রস্তুত ও বেড তৈরী: গ্রীষ্মকালীন মরিচ চাষের জন্য ৪ থেকে ৫টি আড়আড়িভাবে চাষও মই দিয়ে গভীরভাবে চাষ করে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। জমি থেকে আগাছা ও পূর্ববর্তী ফসলের আবর্জনা ইত্যাদি সরিয়ে ফেলতে হবে। চারা রোপণের জন্য ১.২ মি. প্রস্থ বিশিষ্ট প্রয়োজন মতো লম্বা ৩০ সে.মি. উচ্চতার বেড তৈরী করতে হবে। পানি সেচ ও নিষ্কাশনের জন্য দুই বেডের মাঝখানে ৪০ থেকে ৫০ সে.মি. প্রশস্ত নালা রাখতে হবে।
    বীজের পরিমাণ ও রোপণ দূরত্ব: বারি মরিচ-২ এর চারা তৈরী করার জন্য একর প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়। সারি থেকে সারির দূরত্ব দিতে হবে ৬০ সে.মি. এবং গাছ থেকে গাছের দূরত্ব দিতে হবে ৫০ সে.মি.। এ ভাবে রোপণ করলে একর প্রতি ১৩ ,৩৩৩ টি গাছ পাওয়া যায়।
    সারের পরিমাণ ও প্রয়োগ পদ্ধতি। মাটির প্রকৃতি, উর্বরতা ইত্যাদির উপর নির্ভর করে সারের মাত্রা ভিন্ন হতে পারে। বারি মরিচ-২ এর জন্য একর প্রতি ২ টন কম্পোষ্ট, ৮৪ কেজি ইউরিয়া,১৩২ কেজি টিএসপি, ৮০ কেজি এমওপি ৪৪ কেজি জিপসাম ৬০০ গ্রাম বোরন সারের প্রয়োজন হয়। শেষ চাষের সময় কম্পোষ্ট, টিএসপি, জিপসাম, বোরন ও ১/৪ অংশ এমপি সার মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। তারপর চারা রোপণের ২৫, ৫০ ও ৭০ দিন পর পর্যাক্রমে ১ম ২য় ও ৩য় কিস্তিতে প্রতিবার ৭০ কেজি ইউরিয়া ও ৫০ কেজি এমওপি সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে।
    সেচ প্রয়োগ: চারা রোপণ করার পর অবস্থা বুঝে হালকা সেচ প্রয়োগ করতে হবে, যাতে চারা সতেজ থাকে এবং মাটিতে সহজে খাপ খাওয়াতে পারে। যেহেতু বারি-২ মরিচ খরিপ-২ মৌসুমে চাষ করা হয়, তাই অন্যান্য মরিচের মতো বেশি সেচ প্রয়োজন হয় না। তবে অবস্থা ভেদে ৩ থেকে ৪ টি সেচ প্রয়োজন হতে পারে।

    আগাছ দমন: ভাল ফলনের জন্য চারা রোপণের ১৫, ৩০ , ৪৫ও ৬০ দিন পর পর চার বার নিড়ানী দিয়ে আগাছা দমন করতে হবে।

    মাটি তোলা: ভাল ফসলের জন্য ৩ থেকে৪ বার দুই সারির মাঝের মাটি তুলে দিতে হবে। এতে গাছের গোড়া শক্ত হয় এবং পানি নিষ্কাশনের সুবিধা হয়।

    খুঁটি প্রদান: অধিক উচ্চতা, ফলনের ভার , ঝড়-বাতাস বা অতিবৃষ্টির কারণে গাছ হেলে পড়ে। ফলে মরিচের গুণাগুণ হ্রাস পায়। তাই হেলে পড়া থেকে রক্ষার জন্য খুঁটির সাথে মরিচ গাছ বেঁধে দিতে হবে।

    ফসল ও বীজ সংগ্রহ: চারা রোপণের ৭০ থেকে ৮০ দিন পর মরিচ ফল উত্তোলন করা হয়। বারি মরিচ-২ এর জীবনকাল দীর্ঘ হওয়াতে প্রায় ৮ থেকে ১০ বার ফসল উত্তোলন করা যায়। উত্তম বীজের জন্য বড়, পুষ্ট ও সম্পূর্ণ পাকা মরিচ নির্বাচন করতে হবে। বর্ষাকালে মরিচ শুকানো বেশ কষ্টকর। এজন্য পাকা মরিচ দুই ফালি করে কেটে বীজ বের করে নিয়ে শুকাতে হবে।

    বীজ সংরক্ষণ: মরিচের বীজ বিভিন্ন ধরনের বায়ুরোধী পাত্র, পলিথিন বা অ্যালুমনিয়াম ফয়েল প্যাকেটে সংরক্ষণ করা যায়। বীজ শোধনের জন্য অপেক্ষাকৃত ছোট আকৃতির বায়ুরোধী পাত্র বা পলিথিন প্যাকেট ইত্যাদি ব্যবহার করা উচিত।

    রোগ ও পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা: বারি মরিচ-২ জাতে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ নেই বললেই চলে। তবে মাঝে মধ্যে আগা মরা রোগের প্রাদুর্ভাব হতে পারে। এ ছাড়া বীজের জন্য রাখা পাকা মরিচে ফল পচা রোগ দেখা দিতে পারে।

    আগা মরা রোগ: সারা বছর এই রোগ হয়ে তাকে। তবে সাধারণত বৃষ্টি হওয়ার পর তাপমাত্রাও আর্দ্রতা বৃদ্ধি পেলে এ রোগের আক্রমণ বৃদ্ধি পায়।

    রোগের লক্ষণ:

    ১। এই ছত্রাকের আক্রমণে নতুন আগায় ক্ষত দেখা দেয়।ফলে আগা মরতে মরতে পিছনের দিকে অগ্রসর হয়। এজন্যই এই রোগকে আগা মরা রোগ বলা হয়।

    ২। গাছে যখন ফুল ধরা শুরু করে তখনই এই রোগের আক্রমণ দেখা দেয়। আক্রান্ত গাছের ফুল শুকিয়ে যায়।

    ৩। রোগ ফুল থেকে কা-ে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে এটি শাখা-প্রশাখা ও কা-ে ডাইব্যাক রোগের সৃষ্টি করে। শাখা- প্রশাখাগুলি নেতিয়ে শুকিয়ে যায়।

    ৪। মরা আগা পানি ভেজা বাদামি রং এর হয়ে থাকে ও চূরান্ত পর্যায়ে ধূসর সাদা বা খড়ের রং এর মতো ধারণ করে। আক্রান্ত আগা, কা- বা মরিচের ফলে অত্যধিক পরিমাণে কালো রং এর ছোট ছোট ছত্রাকের অণুবীজ বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে, যা খালি চোখে দেখা যায় না।

    দমন ব্যবস্থাপনা:

    ১। রোগ মুক্ত বীজ ব্যবহার করতে হবে।

    ২। বীজ বপনের পূর্বে প্রোভেক্স-২০০ প্রতি কেজি বীজের সাথে ২ গ্রাম বা কার্বেনডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক এক গ্রাম হারে মিশিয়ে শোধন করে কিছুক্ষণ ছায়ায় রাখার পর বপন করতে হবে।

    ৩। রোগের লক্ষণ দেখাদিলে প্রতি লিটার পানির সাথে ৩ গ্রাম হারে কুপ্রাভিট মিশিয়ে ৭ থেকে ১০ দিন পরপর ২ থেকে ৩ বার সমস্ত গাছে স্প্রে করতে হবে।

    ফল পচা রোগ: এটি একটি বীজবাহিত রোগ। এ রোগের কারণে মরিচের ফলন শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে।

    রোগের লক্ষণ:

    ১।এই রোগের জীবাণু সাধারণত পাকা মরিচকে আক্রমণ করে থাকে।

    ২। আক্রান্ত ফলের ত্বকের উপর ছোট ছোট কালো গোলাকার স্পষ্ট দাগ দেখতে পাওয়া যায়।

    ৩। ফলের বিবর্ণ এলাকায় কালো ছত্রাকের অণুবীজ দেখতে পাওয়া যায়।

    ৪। আক্রমণের চূরান্ত পর্যায়ে ছত্রাক দ্বারা বীজ ঢেকে যায়।

    ৫। ফলে আক্রান্ত অংশ কালো হয়ে কুঁচকে যায়। আক্রান্ত ফল শুকিয়ে যায়।

    দমন ব্যবস্থাপনা:

    ১। রোগমুক্ত গাছ হতে বীজ সংগ্রহ করতে হবে।

    ২। রোগাক্রান্ত শুকনা কা- কেটে আগুনে পুড়য়ে ফেলতে হবে।

    ৩। ফসলের ক্ষেত সব সময় আগাছা মুক্ত রাখতে হবে।

    ৪। রোগের লক্ষণ দেখা দিলে প্রতি লিটার পানির সাথে ৩ গ্রাম হারে কুপ্রাভিট মিশিয়ে ৭ থেকে ১০ দিন পর পর ৩ থেকে ৪ বার স্প্রে করতে হবে।

    ফলন: ভালভাবে যত্ন নিলে বারি-২ জাতের মরিচে একর প্রতি ৮ থেকে ১০ টন ফলন পাওয়া যেতে পারে।

    Tuesday, April 18, 2017

    শসার ফলছিদ্রকারি পোকা

  • Share The Gag
  • শসার ফলছিদ্রকারি পোকা

    লক্ষণ :

    পোকার কীড়া কচি ফল ও ডগা ছিদ্র করে ও ভিতরে কুরে কুরে খায় । এরা ফলের কুঁড়িও খায়

    প্রতিকার :

    •ক্ষেত পরিস্কার পরচ্ছন্ন রাখা ।
    • আক্রান্ত ডগা ও ফল সংগ্রহ করে নষ্ট করা
    • চারা রোপনের ১৫ দিন পর থেকে ক্ষেত ঘন ঘন পর্যাবেক্ষন করা ।
    • জৈব বালাইনাশক ব্যবহার যেমন নিমবিসিডিন ৩ মিঃলিঃ / লি. হারে পানিতে মিশিয়ে স্পে করা ।
    • শতকরা ১০ ভাগের বেশি ক্ষতি হলে যে কোন একটি বালাইনাশক ব্যবহার করা । যেমন রিপকর্ড ১ মিঃলিঃ বা ডেসিস ০.৫মিলি বা ফাসটেক ০.৫ মিঃলিঃ বা সাবক্রণ -২ মিঃলিঃ বা সুমিথিয়ন-২ মিঃলিঃ বা ডায়াজিনন ২ মিঃলিঃ /লিটার হারে পানিতে মিশিয়ে স্পে করা ।

    পরবর্তীতে যা যা করবেন না:

    ১. স্প্রে করার পর ১৫ দিনের মধ্যে সেই সবজি খাবেন না বা বিক্রি করবেন না

    পরবর্তীতে যা যা করবেন:

    ১. আগাম বীজ বপন করা
    ২. সুষম সার ব্যবহার করা

    লাউয়ের গামি স্টেম ব্লাইট রোগ

  • Share The Gag
  • লাউয়ের গামি স্টেম ব্লাইট রোগ

    এ রোগ হলে পাতায় পানি ভেজা দাগ দেখা যায়। ব্যাপক আক্রমনে পাতা পচে যায়। কান্ড ফেটে লালচে আঠা বের হয়।
    এর প্রতিকার হল:

    ১. ক্ষেত থেকে আক্রান্ত গাছ তুলে ফেলা
    ২. রোগমুক্ত বীজ বা চারা ব্যবহার করা
    ৩. ম্যানকোজেব অথবা ম্যানকোজেব + মেটালক্সিল যেমন: রিডোমিল গোল্ড ২ গ্রাম / লি. হারে পানিতে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পরপর ৩ বার স্প্রে করা।

    বেগুনের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা

  • Share The Gag
  • বেগুনের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা

    লক্ষণ:

    সাধারণত চারা রোপনের ৪/৫ সপ্তাহের মধ্যেই এ পোকারা আক্রমণ শুরু হতে দেখা যায় । তবে বেগুন গাছে ফুল আসা শুরু হওয়ার পর আক্রমণের মাত্রা বাড়তে থাকে । এই পোকার আক্রমণ শুরু হওয়ার পর প্রাথমিক লক্ষণ হিসাবে জমিতে সদ্য নেতিয়ে ডগা চোখে পড়ে । ফল আসার পূর্বে এ পোকার কীড়া কচি ডগায় আক্রমণ করে এবং এর ভিতরে খেতে থাকে । পরবর্তীতে ফল আসার পর অধিকাংশ কীড়াই কচি ফলে আক্রমণ করে । কীড়া কোন কোন সময় ফুলও খেয়ে থাকে । পূর্ণতা প্রাপ্ত হওয়ার পর কীড়া পুত্তলিতে পরিণত হওয়ার জন্য ফল থেকে সুড়ঙ্গ তৈরী করে মাটিতে নেমে আসে । কীড়া বের হওয়ার ছিদ্র ফলে স্পষ্ট দেখা যায় তবে ডগায় এই ছিদ্র পরিলক্ষিত নাও দেখা যেতে পারে । এ পোকা আক্রমণ শুরু হবার পর থেকে শেষ বার বেগুন সংগ্রহ পর্যন্ত চলতে থাকে ।

    প্রতিকার:

    ঋতুভেদে বেগুনের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণের মাত্রায় ভিন্নতা দেখা যায় । উঞ এবং আর্দ্র আবহাওয়া এ পোকার বংশবৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে বলে গ্রীষ্মকালে এ পোকার ব্যাপকা আক্রমণ পরিলক্ষিত হয় । অন্যদিকে শীতকালে এ পোকার আক্রমণের হার কম থাকে । সেহেতু এ পোকা দমনের ব্যবস্থাপনাও ঋতুভেদে ভিন্নতর হওয়া বাঞ্চনীয় ।

    গ্রীষ্মকালীন ব্যবস্থাপনা:

    ১. সপ্তাহে অন্ততঃ একবার পোকা আক্রান্ত ডগা ও ফল বাছাই করে বিনষ্ট করতে হবে ।

    ২. ফেরোমন ফাঁদের ব্যবহারঃ চারা রোপনের ২/৩ সপ্তাহের মধ্যেই জমিতে ফেরোমন ফাঁদ পাততে হবে । (প্রতি শতাংশে ১টি)

    ৩. আক্রমণের মাত্রা বেশী হলে জৈব বালাইনাশক, স্পেনোসেড ( ট্রেসার ৪ মিলি./ ১০ লি. পানি হারে ) স্প্রে করতে হবে । গাছের ফুল আসার সময় হতে প্রতি ২ সপ্তাহ অন্তর ৩-৪ বার স্প্রে করতে হবে ।

    ৪. প্রতি ১৫ দিন পর পর উপকারী পোকা, ট্রাইকোগ্রামা কাইলোনিজ ও ব্রাকন হেবিটর পর্যায়ক্রমিকভাবে মুক্তায়িত করতে হবে ।

    ৫. আক্রমণের মাত্রা বেশী হলে ভলিয়াম ফ্লাক্সি ৩০০ এসসি প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিঃলিঃ হারে বা কারটাপ গ্রুপের কীটনাশক যেমন: সানটাপ ২.৪ গ্রাম/ লি. হারে বা সাইপামেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক যেমন: রিপকর্ড বা ফেনকর্ড বা ম্যাজিক বা কট ০.৫ মিলি./ লি হারে বা ডেল্টামেথ্রিন গ্রুপের কীটমাশক যেমন: ডেসিস বা ক্র্যাকডাউন ১ মিলি./ লি হরে বা এ পোকার জন্য অন্যান্য অনুমোদিত রাসায়নিক কীটনাশক ১০-১২ দিন পর পর ৪-৫ বার স্প্রে করতে হবে ।

    শীতকালীন ব্যবস্থাপনা:

    ১. সপ্তাহে অন্ততঃ একবার পোকা আক্রান্ত ডগা ও ফল বাছাই করে বিনষ্ট করতে হবে ।

    ২. ফেরোমন ফাঁদের ব্যবহারঃ চারা লাগানোর ২/৩ সপ্তাহের সধ্যেই জমিতে ফেরোমন ফাঁদ পাততে হবে ।

    ৩. প্রতি সপ্তাহে একবার করে উপকারী পোকা, ট্রাইকোগ্রামা কাইলোনিজ ও ব্রাকন হেবিটর পর্যায়ক্রমিকভাবে মুক্তায়িত করতে হবে ।

    ৪. আইপিএম প্রদ্ধতির এলাকাভিত্তিক প্রয়োগ করতে হবে ।

    ৫. আক্রমণের মাত্রা বেশী হলে জৈব বালাইনাশক, স্পেনোসেড ( ট্রেসার ৪ মিলি./ ১০ লি. পানি হারে ) স্প্রে করতে হবে বা ভলিয়াম ফ্লাক্সি ৩০০ এসসি প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিঃলিঃ হারে বা কারটাপ গ্রুপের কীটনাশক যেমন: সানটাপ ২.৪ গ্রাম/ লি. হারে বা সাইপামেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক যেমন: রিপকর্ড বা ফেনকর্ড বা ম্যাজিক বা কট ০.৫ মিলি./ লি হারে বা ডেল্টামেথ্রিন গ্রুপের কীটমাশক যেমন: ডেসিস বা ক্র্যাকডাউন ১ মিলি./ লি হরে বা এ পোকার জন্য অন্যান্য অনুমোদিত রাসায়নিক কীটনাশক ১০-১২ দিন পর পর ৪-৫ বার স্প্রে করতে হবে ।

    পরবর্তীতে যা যা করবেন না:

    ১. স্প্রে করার পর ১৫ দিনের মধ্যে সেই সবজি খাবেন না বা বিক্রি করবেন না

    পরবর্তীতে যা যা করবেন:

    ১. আগাম বীজ বপন করা
    ২. সুষম সার ব্যবহার করা
    ৩. সঠিক দুরত্বে চারা রোপন করা