Saturday, April 8, 2017

ধানের বাদামী দাগ রোগ দমন

  • Share The Gag
  • ধানের বাদামী দাগ রোগ দমন

    লক্ষণ:

    পাতায় প্রথমে তিলের দানার মতো ছোট ছোট বাদামী দাগ হয়। ক্রমান্বয়ে বেড়ে ওঠা গোলাকৃতি দাগের মাঝখানটা অনেক সময় সাদাটে ও কিনারা বাদামী রঙের হয়। একাধিক দাগ মিলে বড় দাগের সৃষ্টি হয়ে সমস্ত পাতাটিই দাগে পরিপূর্ণ হয়ে যেতে পারে এবং গাছটি মরে যেতে পারে।

    ব্যবস্থাপনা:

    .  বীজতলা বা জমিতে পরিমিত সেচ দেয়া।

    . জমিতে পর্যাপ্ত পরিমানে নাইট্রোজেন ও পটাশ সার ব্যবহার করা।

    . পরিমানমতো ইউরিয়া উপরি প্রয়োগ করলে এ রোগ আর বাড়তে পারেনা।

    .  রোগ বেশি মাত্রায় দেখা দিলে কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন: এমকোজিম ৫০ ডব্লিউপি ১ গ্রাম বা নোইন ৫০ ডব্লিউপি ২ গ্রাম অথবা হেক্সাকোনাজল গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন: কনটাফ ৫ ইসি অথবা সাবাব ৫ ইসি প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করা। অথবা এই গ্রুপের অন্য নামে অনুমোদিত ছত্রাকনাশক অনুমোদিত মাত্রায় স্প্রে করা ।
    পরবর্তীতে যা যা করবেন না:

    ১. আক্রান্ত ক্ষেত থেকে বীজ সংগ্রহ করবেন না

    পরবর্তীতে যা যা করবেন:

    ১. রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার করুন

    ২. বপনের পূর্বে কেজি প্রতি ৩ গ্রাম প্রোভ্যাক্স বা কার্বেন্ডাজিম মিশিয়ে বীজ শোধন করুন।

    ৩. ফসল কাটার পর আক্রান্ত জমি ও তার আসে-পাশের জমির নাড়া পুড়িয়ে দিন।

    পাটের বিছা পোকা দমন

  • Share The Gag
  • পাটের বিছা পোকা দমন

    পাতার উল্টো পিঠের সবুজ অংশ খেয়ে পাতাকে সাদা পাতলা পর্দার মত করে ফেলে।এরা সারা মাঠে ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো পাতা খেয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।

    প্রতিকার:

    ১. প্রাথমিক পাটের পাতায় ডিমের গাদা বা পোকা দেখলে তা তুলে ধ্বংস করা।

    ২. ডিম অথবা আক্রমণের প্রথম অবস্থায় কীড়াগুলো যখন পাতায় দলবদ্ধ অবস্থায় থাকে তখন পোকা সমেত পাতাটি তুলে পায়ে মাড়িয়ে বা গর্তে চাপা দিয়ে মারা।

    ৩.পাট ক্ষেতের আশে পাশে বা অন্য আগাছা থাকলে তা পরিস্কার করা।

    ৪.বিছা পোকা যাতে এক ক্ষেত হতে অন্য ক্ষেতে ছড়াতে না পারে সে জন্য প্রতিবন্ধক নালা তৈরী করা যায়।

    ৫. অধিক আক্রমণের ক্ষেতে কার্বারিল গ্রুপের কীটনাশক যেমন: ভিটাব্রিল বা ক্যালভিন বা র‌্যাভিন প্রতি লিটার পানির সাথে ৩ গ্রাম বা কুবারিল ২ গ্রাম অথবা ক্লোরপাইরিফস গ্রুপের কীটনাশক যেমন: কম্পল বা কিংগোল্ট ১ মিলি/ লি হারে পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা

    পরবর্তীতে যা যা করবেন না:

    ১. ক্ষেতের আশ পাশ অপরিচ্ছন্ন রাখবেন না

    পরবর্তীতে যা যা করবেন:

    ১. নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে আক্রমণের শুরুতেই ব্যবস্থা নিন

    Wednesday, April 5, 2017

    আমের মিলিবাগ

  • Share The Gag
  • আমের মিলিবাগ

    সাদা সাদা অসংখ্য পোকা একসাথে থাকে কখনও কখনও বিচ্ছিন্ন ভাবেও থাকে।এরা রস চুষে খায় এবং এক ধরনের আঠালো মিষ্টি রস নিঃস্বরণ করে যা খাবার জন্য পিপিলিকার আগমন ঘটে। এর আক্রমণ বেশি হলে শুটি মোল্ড ছত্রাকের আক্রমণ ঘটে এবং আক্রান্ত অংশ এমনকি পুরো গাছ মরে যায় । এর প্রতিকার হল ১. প্রাথমিক অবস্থায় হাত দিয়ে পিশে পোকা মেরে ফেলা ২. ব্রাশ দিয়ে ঘসে পোকা মাটিতে ফেলে মেরে ফেলা ।৩. ইমিডাক্লোরোপ্রিড গ্রুপের কীটনাশক যেমন : ইমিটাফ বা ২ মি.লি. / লি. হারে পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা।



     

     

    [caption id="attachment_4512" align="aligncenter" width="415"]আমের মিলিবাগ আমের মিলিবাগ[/caption]

    পরবর্তীতে যা যা করবেন না :

    ১. বাগান অপরিচ্ছন্ন রাখবেন না:

    পরবর্তীতে যা যা করবেন :

    ০. ফেব্রুয়ারি- মার্চ মাসের দিকে গাছের গোড়ায় আঠাযুক্ত ফিতা বা প্লাস্টিকের মসৃণ ফিতা পেচিয়ে বা ফানেল স্থাপন করুন তাতে পোকা গাছ বেয়ে উপরে উঠতে পারবে না।

    ১.ফল সংগ্রহ শেষ হলে গাছের মরা ডালপালা, ফলের বোটা, রোগ বা পোকা আক্রান্ত ডাল পালা ও অতিঘন ডাল পালা ছাটাই করে পরিস্কার করে দিন

    ২. পরিস্কার করার পর একাট ছত্রাক নাশক ও একটি কীটনাশক দ্বারা পুরো গাছ ভালভাবে স্প্রে করুন

    ৩. নিয়মিত বাগান পরিদর্শন করুন।

    ঔষধের জন্য যোগাযোগ করুন কৃষি ষ্টোর- ০১৯৭১৬২৫২৫২।

    আমের ফল ঝড়ে যাওয়া সমস্যা সমাধান

  • Share The Gag
  • আমের ফল ঝড়ে যাওয়া সমস্যা

    রোগ বা পোকার আক্রমণে বা দীর্ঘ খরা হলে বা শুষ্ক ও গরম হাওয়ার ফলে শারীরবৃত্তীয় কারণে অথবা মাটিতে সারের ঘাটতি হলেও ফল ঝড়ে যেতে পারে । এর ব্যবস্থাপনা হল:

    ১. খরা মৌসুমে নিয়মিত সেচ দেওয়া

    ২. গুটি বাধার পরপরই ম্যাগনল ০.৫ মি.লি/ লি. হারে পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা

    ৩. বর্ষার আগে ও পরে বছরে দুইবার গাছের বয়স অনুযায়ী সুষম সার প্রয়োগ করা।

    ৪. প্রতি বছর গাছ প্রতি ৫০ গ্রাম হারে ডলোচুন প্রয়োগ করা ( গাছের বয়স অনুযায়ী পরিমান বাড়াতে হবে)।

    ৫. পর্যাপ্ত জৈব সার প্রয়োগ করা।
    পরবর্তীতে যা যা করবেন না :

    ১. বাগান অপরিচ্ছন্ন রাখবেন না

    পরবর্তীতে যা যা করবেন :

    ১.ফল সংগ্রহ শেষ হলে গাছের মরা ডালপালা, ফলের বোটা, রোগ বা পোকা আক্রান্ত ডাল পালা ও অতিঘন ডাল পালা ছাটাই করে পরিস্কার করে দিন

    ২. পরিস্কার করার পর একটি ছত্রাক নাশক ও একটি কীটনাশক দ্বারা পুরো গাছ ভালভাবে স্প্রে করুন

    ৩. নিয়মিত বাগান পরিদর্শন করুন।

    পেপের সুটি মোল্ড রোগের সমাধান

  • Share The Gag
  • পেপের সুটি মোল্ড রোগ

    এ রোগের আক্রমনে পাতায় , ফলে ও কান্ডে কাল ময়লা জমে। মিলিবাগের আক্রমন এ রোগ ডেকে আনে।

    প্রতিকার :

    মিলিবাগ দমণের জন্য - ১. আকান্ত পাতা ও ডগা ছাটাই করে ধ্বংস করা।

    ২. গাছের গোড়ার মাটি থেকে 15-20 সেমি উপরে স্বচ্ছ পলিথিন দ্বারা মুড়ে দিতে হবে যাতে মিলিমাগ গাছে উঠতে না পারে।

    ৩. সম্ভব হলে হাত দিয়ে ডিম ব বাচ্চার গাদা সংগ্রহ করে ধ্বংস করা।

    ৪. জৈব বালাইনাশক নিমবিসিডিন (0.4%) ব্যবহার করা।

    ৫. আক্রমণ বেশী হলে প্রতিলিটার পানিতে 2 মিলি রগর টাফগর, সানগর বা সুমিথিয়ন 2 মিলি মিপসিন বা সপসিন মিশিয়ে স্প্রে করা। পেপের সুটি মোল্ড রোগের আক্রমণ খুব বেশি হলে # টিল্ট ২৫০ ইসি ১০ লি. পানিতে ৫ মি.লি. মিশিয়ে ১৫ দিন পরপর ২ বার স্প্রে করা যেতে পারে।

    ধানের বাদামী গাছফড়িং এর সমাধান

  • Share The Gag
  • ধানের বাদামী গাছফড়িং

    লক্ষণ:

    এটি কারেন্ট পোকা নামেও পরিচিত। এটি ধানের অতি ক্ষতিকর একটি পোকা।এরা খুব তাড়াতাড়ি বংশ বৃদ্ধি করে, ফলে এ পোকার সংখ্যা এত বেড়ে যায় যে, আক্রান্ত ক্ষেতে বাজ পড়ার মত হপারবার্ণ - এর সৃষ্টি হয়। আক্রান্ত গাছগুলো প্রথমে হলদে হয় এবং পরে শুকিয়ে মারা যায়। লম্বা পাখাবিশিষ্ট পূর্ণবয়স্ক বাদামী ফড়িংগুলো প্রথমে ধান ক্ষেতে আক্রমণ করে। এরা পাতার খোলে এবং পাতার মধ্য শিরায় ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে বাচ্চা (নিমফ) বের হতে ৭-৯ দিন সময় লাগে। বাচ্চাগুলো ৫ বার খোলস বদলায় এবং পূর্ণবয়স্ক ফড়িং এ পরিণত হতে ১৩-১৫ দিন সময় নেয়। প্রথম পর্যায়ের (ইনস্টার) বাচ্চাগুলোর রং সাদা এবং পরের পর্যায়ের বাচ্চাগুলো বাদামী। বাচ্চা থেকে পূর্ণবয়স্ক বাদামী গাছফড়িং ছোট পাখা এবং লম্বা পাখা বিশিষ্ট হতে পারে। ধানে শীষ আসার সময় ছোট পাখা বিশিষ্ট ফড়িং এর সংখ্যাই বেশী থাকে এবং স্ত্রী পোকাগুলো সাধারণত: গাছের গোড়ার দিকে বেশি থাকে। গাছের বয়স বাড়ার সাথে সাথে লম্বা পাখা বিশিষ্ট ফড়িং এর সংখ্যাও বাড়তে থাকে, যারা এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় উড়ে যেতে পারে।

    ব্যবস্থাপনা:

    আক্রান্ত জমিতে বিলি কেটে আলো চলাচলের ব্যবস্থা করা ।



    জমিতে জমে থাকা পানি সরিয়ে ফেলা।



    উর্বর জমিতে ইউরিয়া সারের উপরি প্রয়োগ পরিহার করা ।



    বাদামী গাছফড়িং প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন জাত যেমন: ব্রি ধান-৩৫ চাষ করা।



    ক্ষেতে শতকরা ৫০ ভাগ গাছে অন্ততঃ একটি মাকড়সা থাকলে কীটনাশক প্রয়োগ না করা।



    শতকরা ৫০ ভাগ ধান গাছে ২-৪টি ডিমওয়ালা স্ত্রী পোকা অথবা ১০টি বাচ্চা পোকা প্রতি গোছায় পাওয়া গেলে অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করা। যেমন: আইসোপ্রোকার্ব গ্রুপের কীটনাশক যেমন: মিপসিন বা সপসিন ২.৬ গ্রাম / লি. হারে পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা । ( ১০ লিটার পানিতে ২৬ গ্রাম মিপসিন বা সপসিন মেশালে ৫ শতাংশ জমি স্প্রে করা যাবে।) অথবা ইমিডাক্লোপ্রিড গ্রুপের কীটনাশক যেমন: ইমিটাফ ১২৫ মিলি/ হেক্টর (০.২৫ মিলি/ লি) হারে বা ইমপেল (০.৫ মিলি/ লি) হারে অথবা ক্লোরপাইরিফস গ্রুপের কীটনাশক যেমন: ক্লাসিক ২ মিলি/ লি. হারে পানিতে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় স্প্রে করা



    অবশ্যই ক্ষেতে বিলি কেটে গাছের গোড়ায় স্প্রে করতে হবে।



    পরবর্তীতে যা যা করবেন না:

    ১. বিলম্বে চারা রোপন করবেন না:

    পরবর্তীতে যা যা করবেন:

    ১. যে সব এলাকায় সব সময় বাদামী গাছফড়িং এর উপদ্রব হয় সে সব এলাকায় তাড়াতাড়ি পাকে ( যেমন: বিনা ধান-৭ বা ব্রি ধান৩৩ ) এমন জাতের ধান চাষ করুন ।
    ২. চারা থেকে চারা ৩০ সে.মি ও লাইন থেকে লাইন ৪০ সেন্টিমিটার দূরে দূরে লাগান।
    ৩. জমিতে সুষম পরিমানে ইউরিয়া, টিএসপি এবং পটাশ সার ব্যবহারের জন্য এনপিকে গুটি প্রয়োগ করুন ।
    ৪. ফসল কাটার পর আক্রান্ত জমি ও তার আসে-পাশের জমির নাড়া পুড়িয়ে দিন।

    Tuesday, April 4, 2017

    হালদা রক্ষায় রাবার ড্যামের বিকল্প খুঁজছে কৃষি মন্ত্রণালয়

  • Share The Gag
  • হালদা রক্ষায় রাবার ড্যামের বিকল্প খুঁজছে কৃষি মন্ত্রণালয়



    কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১১ সালে হালদা নদীর ফটিকছড়ির ভুজপুরে এবং নদীটির শাখা হারুয়ালছড়ি খালে দুটি রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হয়। এসব ড্যামের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে নদীর উজান থেকে সরিয়ে নেয়া হয় পানি। এতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় হুমকির মুখে পড়ে স্বাদু পানির মাছের সবচেয়ে বড় প্রজননক্ষেত্র হালদা। এ অবস্থায় হালদা রক্ষায় রাবার ড্যামের ব্যবহার থেকে বেরিয়ে আসার চিন্তা করছে সরকার। কৃষিতে পানি ব্যবহারের একটি বিকল্প প্রকল্পও হাতে নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। শিগগিরই এটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

    কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষকদের ক্ষতি না করে হালদায় রাবার ড্যামের বিকল্প ব্যবস্থা নিতে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি উপজেলার কৃষকদের হালদার পানি ব্যবহার থেকে সরিয়ে নেয়া হবে। পাশাপাশি ধীরে ধীরে রাবার ড্যামগুলো সরিয়ে নেয়ার মাধ্যমে উত্স থেকে নদীতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্ বণিক বার্তাকে বলেন, হালদাকে রক্ষার জন্য কাজ করছে সরকার। এজন্য বিভিন্ন দপ্তরকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করতে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, রাউজান এলাকার মানুষের কৃষিতে পানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে রাবার ড্যাম স্থাপন করা হয়েছিল। তবে এরই মধ্যে রাবার ড্যামের নির্ভরতা কমাতে একটি প্রকল্পও প্রস্তুত করেছি আমরা। শিগগিরই এটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে। এটি বাস্তবায়ন হলে হালদার পানির ব্যবহার কমিয়ে ভিন্নভাবে ওইসব এলাকায় কৃষিতে পানির ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

    হালদা নদীর উজানে ছয় বছর আগে কৃষি মন্ত্রণালয় নির্মিত এ দুটি রাবার ড্যামে সে সময় প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। তবে  দেরিতে হলেও রাবার ড্যাম স্থাপনের বিষয়টি ভুল ছিল বলে স্বীকার করেছেন এলজিইডির কর্মকর্তারা।

    সম্প্রতি রাবার ড্যাম এলাকা পরিদর্শন করেন এলজিইডির পার্টিসিপেটরি স্মল স্কেল ওয়াটার রিসোর্সেস সেক্টর প্রকল্পের পরিচালক শেখ মো. নুুরুল ইসলাম। এ সময় হালদার মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ নদীতে রাবার ড্যাম নির্মাণের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এলজিইডি রাবার ড্যাম নির্মাণে কারিগরি সহযোগিতা দিলেও হালদায় রাবার ড্যামের নেতিবাচক ফলাফল নিয়ে অবগত ছিল না। মত্স্য বিভাগের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা না থাকায় এলজিইডি রাবার ড্যাম নির্মাণে কাজ করে। দেশের স্বার্থে হালদা নদীকে রক্ষায় রাবার ড্যামমুক্ত করতে এলজিইডি কাজ করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    এদিকে গত ২৮ মার্চ নদী কমিশনের চেয়ারম্যান আতাহারুল ইসলাম ও সদস্য মো. আলাউদ্দিন মানিকছড়ি থেকে ভুজপুর পর্যন্ত হালদা নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। ওই সময় স্থানীয় কৃষকদের তামাক চাষে নিরুত্সাহিত করার পাশাপাশি হালদার পানির ব্যবহার কমানোর বিষয়ে অবহিত করেন তিনি।

    হালদা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘পরিবেশবাদীরা বিভিন্ন সময় হালদায় রাবার ড্যাম নির্মাণের বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু মত্স্য বিভাগের উদাসীনতায় এলজিইডি ও কৃষি মন্ত্রণালয় দুটি রাবার ড্যাম নির্মাণ করে। কয়েক বছরের মধ্যে এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে হালদায়। প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণার প্রাক্কালে সব সরকারি সংস্থা এখন হালদা রক্ষায় এগিয়ে আসছে। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে কাজ না করলে এসব উদ্যোগও সুফল বয়ে আনবে না।’

    চট্টগ্রামের হালদা নদীকে ইসিএ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় অনেক আগেই। কয়েক দফা সরেজমিন পরিদর্শন শেষে ইসিএ ঘোষণার বিষয়টি এখন বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে এরই মধ্যে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। শিগগিরই এটি রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের জন্য পাঠানো হবে।

    ছয় বছর আগে দুটি রাবার ড্যাম নির্মাণ ছাড়াও পাকিস্তান আমলে ফটিকছড়ি সদর এলাকায় হালদার আরেক শাখা ধুুরুং খালে কংক্রিট বাঁধ নির্মাণ করা হয়। দুটি রাবার ড্যাম ও একটি কংক্রিট বাঁধের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে উজানে পানি ধরে রাখার কারণে হুমকির মুখে পড়ে হালদা। পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় প্রজনন ছাড়াও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। প্রতি বছর মে-জুনে হালদা নদীতে এক বা একাধিকবার মা-মাছ প্রাকৃতিকভাবে ডিম ছাড়লেও ২০১৬ সালে কোনো ডিম ছাড়েনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডিম সংগ্রহকারী ও পরিবেশ সংগঠকদের দাবির মুখে হালদা নিয়ে একটি গবেষণা কার্যক্রম হাতে নেয় সরকার।

    পানি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আইনুন নিশাতের তত্ত্বাবধানে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। মত্স্য ও পাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউট। এক বছর ধরে গবেষণা কার্যক্রমের পর সরকার হালদার ওপর নির্মিত রাবার ড্যামের বিষয়ে একটি স্থায়ী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।

    বিশ্বের একমাত্র জোয়ার-ভাটাসমৃদ্ধ নদী হালদা স্বাদু পানির মাছের প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র। রুইজাতীয় মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয় এ নদী থেকে। প্রতি বছর হালদা থেকে পাওয়া রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশ মাছের পোনা সারা দেশের মত্স্যচাষীরা প্রতি কেজি ৫০-৬০ হাজার টাকায় কিনে নেন। হালদার ডিম ও পোনা থেকে ভালো মানের মাছ চাষে লাভবান হন কৃষক। গবেষকদের মতে, হালদার একটি মা-মাছ প্রতি বছর প্রায় চার কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা দেয় দেশকে। এ অবস্থায় ইসিএ ঘোষণার মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হলে হালদার মাধ্যমে মত্স্য খাতে দেশের অগ্রগতি বেগবান হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    সোর্স- বনিকবার্তা