Wednesday, October 26, 2016

কৃষি বিপন্ন হলে গোটা দেশের বিপদ

  • Share The Gag
  • কৃষি মূলগত ভাবে পাল্টে যাচ্ছে। আগে কৃষিতে যে শক্তির প্রয়োগ হত তার গোটাটাই প্রায় ছিল ভারবাহী পশুশক্তি এবং মানুষের পেশিশক্তি। এখন দেশে কৃষিতে যে শক্তির ব্যবহার হয় তার বড়জোর পাঁচ শতাংশ পশুশক্তি, আরও পাঁচ শতাংশ মানুষের পেশিশক্তি, বাকিটা যন্ত্রশক্তি।

    যখন লাঙ্গল করা, গাড়ি টানা, ঘানি এবং পারসিক জলচক্র ইত্যাদির সাহায্যে সেচের কাজে পশুশক্তির বহুল ব্যবহার চালু হয়, তখন বিশুদ্ধ আর্থনীতিক কারণেই গোমাংস ভক্ষণের উপর কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। আজকের পরিবর্তিত অবস্থায় কৃষি ও পশুপালনের মধ্যেকার সম্পর্ক একটা সংকটের মধ্যে পড়েছে। আগে চাষিদের ঘরে এঁড়ে বাছুরগুলোকে নির্বীজকরণ করে বলদ হিসেবে রেখে দেওয়া হত। যেহেতু কৃষিতে বলদের চাহিদা ছিল বিপুল, এঁড়ে বাছুরেরও মর্যাদা ছিল সমধিক। এখন কৃষিতে পশুশক্তির ব্যবহার খুবই কম, ফলে বলদের সেই চাহিদাও এখন অতীত। এঁড়ে গরুগুলোর কী হবে?

    কাণ্ডজ্ঞান বলে, গোহত্যা বা গোমাংসভক্ষণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা যে আইনগুলো বিভিন্ন রাজ্যে রয়েছে, এখন ভেবে দেখা দরকার যে সেগুলোর আর কোনও প্রয়োজন আছে কি না। কিন্তু হচ্ছে তার উল্টোটা— গোরক্ষার নামে যে তান্ডব চলছে তা সামাজিক ক্ষেত্র ছাড়াও কৃষিক্ষেত্রেও গভীর সংকট ডেকে আনছে।

    ষাটের দশকে আমরা অনেকেই মনে করতাম যে, কৃষকের হাতে জমি দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। ১৯৭৭-৭৮ সালে যখন খাসজমি বণ্টন হল, তখন বিলি করার জন্য পাওয়া জমির তুলনায় প্রাপকের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে দেখা গেল অনেক জমিতে লাঙ্গলই ঘোরে না— কোদাল দিয়ে চাষ করতে হয়। যখন অ-কৃষক মালিকদের হাতে জমি ছিল, সেই সময়ের তুলনায় এই ব্যবস্থায় গোটা রাজ্যেই প্রভূত উৎপাদন বাড়ল, কিন্তু সেটা বিঘা-প্রতি উৎপাদনের হিসেবে। শ্রমদিবস পিছু উৎপাদনের হার খুব একটা বাড়ল না। সেই উৎপাদনের হার বৃদ্ধির জন্য কৃষিতে যন্ত্রশক্তির বিপ্লবটি খুবই প্রয়োজন ছিল।

    বর্ণাশ্রম না ভেঙে, ভূমিসংস্কার না করেই ষাটের দশকে ভারতের রাষ্ট্রনায়করা সবুজ বিপ্লবের কথা ভেবেছিলেন। গোড়ায় গলদ। কিন্তু, অস্বীকার করা যাবে না যে তাঁরা কৃষির উন্নয়নে রাষ্ট্রের ভুমিকার কথাটিকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হলেও, রাষ্ট্র কৃষিক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেছিল। কৃষি গবেষণার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছিল। গবেষণার ফসল চাষিদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বহু বীজ-খামার গড়ে তোলা হয়েছিল। ভারতের কৃষি-অর্থনীতির ক্ষেত্রে এই খামারগুলির গুরুত্ব অনেক।

    ১৯৯০ দশকের গোড়ায় কেন্দ্রীয় সরকার উল্টো পথে হাঁটতে শুরু করে। কৃষিক্ষেত্রে বিনিয়োগ বন্ধ হল। কৃষি গবেষণার কাজ নাকি করবে বহুজাতিক সংস্থাগুলো। তারাই সরবরাহ করবে বীজ, সার, কীটনাশক ও যন্ত্রপাতি। এই সংস্কার কর্মসূচির দু’ দশক পরে আমরা দেখতে পাচ্ছি আমাদের কৃষি এখন হাতে গোনা কয়েকটি বিদেশি বহুজাতিকের মুখাপেক্ষী। কিছু দিন আগে দুটি বড় বহুজাতিক সংযুক্ত হয়ে এক দৈত্যাকার একচেটিয়া ব্যবসায়িক সংস্থার জন্ম হল। সেটা দুনিয়ার বীজ ও কীটনাশকের বাজারের বিপুলাংশই নিয়ন্ত্রণ করবে, ভারতে তাদের প্রায় কোনও প্রতিদ্বন্দ্বীই থাকবে না। এই একচেটিয়া ক্ষমতাকে তারা ব্যবহার করবে বীজ-সার-কীটনাশকের দাম যথেচ্ছ বাড়িয়ে কৃষকদের লুন্ঠন করার কাজে। এর নীট ফল দাঁড়াবে আরও কৃষকের আত্মহত্যা, আর খাদ্য উৎপাদনে আমরা যেটুকু স্বয়ম্ভরতা অর্জন করতে পেরেছি, তা-ও হারানো।

    এই আগ্রাসন থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার একমাত্র রাস্তা কৃষিক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা, দেশের চাহিদা ও আবহাওয়ার সঙ্গে সংগতি রেখে বীজ তৈরি করা, বীজ খামারে সে সব বীজের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা, পরীক্ষিত বীজ কৃষকদের সরব্রাহ করা, এবং চাষিদের উৎপন্ন ফসল  ন্যায্যমূল্যে কিনে নেওয়া। এ জন্য যেমন প্রচুর কৃষি-গবেষণাগার লাগবে, তেমনই প্রয়োজন হবে অনেক কৃষি খামারের।

    ষাটের দশকে যে সব কৃষি খামার গড়ে তোলা হয়েছিল, তাদের মধ্যে একটি ছিল গোয়ালতোড়ে। সেই খামারে এখনও বীজের জন্য কিছু পরিমাণে চাষ হয়, যদিও  এর অন্তর্গত এক হাজার একর জমিকে যে-ভাবে বীজ উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা সম্ভব ছিল, সেটা করা হয়নি। অথচ, গোয়ালতোড়কে ঘিরে প্রচুর আলুর চাষ হয়, এবং প্রায়ই খারাপ বীজের কারণে উৎপাদন বিপর্যয় ঘটে। এই খামারটিকে ব্যবহার করে আলু বীজের সমস্যাটাকে ভাল ভাবে মোকাবিলা করা যেত।  রাজ্যের আরও অনেক বীজ খামারকে এই রকম নিষ্ফলা ফেলে রাখা হয়েছে, সেগুলিকেও কৃষির উন্নতিতে কাজে লাগানো যেত। বামফ্রন্ট জমানাতেই গোয়ালতোড় কৃষি খামার বন্ধ করে দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা শুরু হয়। ২০১১ তে নতুন সরকার আসার পর এটিকে শিল্প উন্নয়ন নিগমের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, এবং এই জমি ‘ল্যান্ড-ব্যাঙ্কের’ অন্তর্ভুক্ত বলে দাবি করা হচ্ছে।

    ১৯৮০-র দশকে আংশিক ভূমিসংস্কার ছিল বামফ্রন্টের সাফল্য। কিন্তু সেই সাফল্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে কৃষির উন্নয়নে মনোযোগ দিতে হত। ছোট ছোট ভূমিখণ্ডকে একত্র করার জন্য সমবায় গঠন করা যেত, এবং রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপে কৃষির আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নেওয়া যেত। সীমিত ক্ষমতার মধ্যেও যেটুকু করা যেত, বামফ্রন্ট সেটাও করতে বিফল হয়। আবার বাম-রাজত্বের শেষ দিকে কৃষির আধুনিকীকরণের দায়িত্বটা বহুজাতিকদের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ চলে, যদিও সে-প্রস্তাব তখন কার্যকর হয়নি। এখন তৃণমূল সরকার সেই চুক্তি চাষের পথেই এগোবে বলে ঘোষণা করেছে। প্রস্তাবে ঈষৎ নতুনত্ব আছে, কিন্তু অন্তর্বস্তুতে এটা ঔপনিবেশিক যুগের নীলচাষের থেকে আদৌ আলাদা নয়।

    এই পথে, রাজ্যের উন্নয়নের নামে যে ভাবে কৃষি ও শিল্পকে পরস্পর-বিরোধী হিসাবে তুলে ধরা হচ্ছে, শিল্পস্থাপনের অগ্রাধিকার প্রমাণ করার জন্য কৃষিকে যে ভাবে অবহেলা করা হচ্ছে, এবং লুটেরাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে, তার পরিণাম মারাত্মক হতে বাধ্য। শিল্পের প্রয়োজন  অনস্বীকার্য, কিন্তু শিল্পায়নের প্রক্রিয়াতে কৃষিকে বিস্মৃত হওয়া চলে না। ইউরোপের যে উদাহরণ তুলে ধরা হয়, সেখানে কিন্তু শিল্পের পাশাপাশি কৃষিরও আধুনিকীকরণ ঘটেছিল। মুলত কৃষির চাহিদা মেটাতে গড়ে তোলা হয়েছিল রাসায়নিক শিল্প। চিলিতে প্রশান্ত মহাসাগর উপকূল জুড়ে শত শত বছর ধরে জমা হওয়া বাদুড়ের মল থেকে গড়ে উঠেছিল সোডিয়াম নাইট্রেটের পাহাড়, কেমিস্ট্রি বইতে যাকে বলা হয় চিলি সল্টপিটার। নিখরচায় পেয়ে যাওয়া সেই উর্বরকের ব্যবহার করে ইউরোপ কৃষি উৎপাদনে বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলে ।

    ভারতে কৃষি যে সংকটে পড়েছে তা থেকে বেরোতে গেলে রাষ্ট্রকে কৃষিতে বিনিয়োগ করতেই হবে, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে চাষিদের উন্নত বীজ সরবরাহ করতে আরও অনেক নতুন খামার গড়ে তুলতে হবে। সে কাজটা সহজ নয়, কারণ বীজ খামার করতে জমি লাগে। তাই রাজ্যের হাতে যে বীজ খামারগুলি আছে তার জমি অন্য কাজে ব্যবহার করাটা সামাজিক দৃষ্টিতে অত্যন্ত অদূরদর্শিতার কাজ হবে।

    কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে কিছু আশা করা বৃথা। সে সরকার এক দিকে গো-রক্ষার নামে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ ঘটাবে, আর অন্য দিকে গোটা কৃষি-ব্যবস্থাটাকে বহুজাতিক একচেটিয়া পুঁজির হাতে তুলে দেবে।

    রাজ্যের হাতে ক্ষমতা সীমিত, কিন্তু সেই ক্ষমতাটুকুও বিচক্ষণতার সঙ্গে ব্যবহার করে নতুন দিশা দেখানো যায়। কিন্তু প্রবণতাটি যদি হয় শিল্পের দোহাই দিয়ে পুঁজির একাগ্র আরাধনা, তা হলে কৃষকের সঙ্গে সারা দেশের ভাগ্য-বিপর্যয় এড়ানো কঠিন।

    সুত্রঃ আনন্দবাজার

    নারী কৃষি শ্রমিকরা এখনো মজুরি বৈষম্যের শিকার

  • Share The Gag

  • বাংলাদেশ কৃষি নির্ভরশীল দেশ। ১৬ কোটি মানুষের এদেশে অর্ধেক নাগরিক নারী। সামাজের বিভিন্ন পেশার সঙ্গে সঙ্গে কৃষি কাজেও নারীরা এখন ছেলেদের সঙ্গে সমান পা মেলাচ্ছেন। ক্ষেতে ধানের বীজ বপন থেকে শুরু করে সার দেয়া, আগাছা দমন, কীটনাশক ছিটানো, ধান কেটে ঘরে তোলাসহ সব কাজ তারাই করছেন।

    অনেকে আবার বাড়ির পাশে কিংবা উঠানে অনাবাদি জায়গায় শাক-সবজি, ফল-ফলাদির আবাদ করে সংসারে বড়তি রোজগারের পথ করে নিচ্ছে। এতে পরিবারের খরচ মেটানোর পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও অবদান রাখছে।

    দেশের চা শিল্পের মতো সমৃদ্ধ খাতের পেছনে নারী চা শ্রমিকদের বিশাল অবদান রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলে চিংড়ি চাষ, হাঁস-মুরগি পালন থেকে শুরু করে কৃষির প্রায় সব ক্ষেত্রেই নারীর অবদান রয়েছে। আমাদের দেশে মোট শ্রমশক্তির প্রায় অর্ধেক নারী।

    এছাড়া ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি সবজি চাষ, মসলা উৎপাদন, শুঁটকি ও নোনামাছ প্রক্রিয়াকরণ, মাছ ধরার জাল তৈরি, মাছের পোনা উৎপাদনের কাজও নারীরা করে থাকে। বসতবাড়িতে সামাজিক বনায়ন, গবাদিপশু ও হাঁসমুরগি পালনের কাজও করে নারীরা। কৃষি ও এর উপখাতের মূল চালিকাশক্তি নারী। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক কোনো পরিসংখ্যানে নারীর এ উপস্থিতির হিসাব নাই। এমনকি কৃষিকাজে জড়িত এ বিপুলসংখ্যক নারী শ্রমিকের কোনো মূল্যায়নও হয় না।

    এখন গ্রামীণ সমাজে কৃষি ও চাষের কাজকে নারীর প্রতিদিনের কাজের অংশ বলে বিবেচনা করা হয়। পুরুষ শ্রমিকের সমপরিমাণ কাজ করেও কৃষি খাতে নারী শ্রমিকের বৈধ পরিচিতি নেই। এছাড়া নিয়মহীন নিযুক্তি, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, স্বল্প মজুরি, মজুরি বৈষম্য এবং আরো নানা ধরনের নিপীড়ন তো রয়েছেই। নারী শ্রমিকের ৭২ শতাংশই অবৈতনিক পারিবারিক শ্রমিক। ক্ষুধার বিরুদ্ধে সংগ্রামরত এসব নারীর অবদানের স্বীকৃতি আলোচনার বাইরেই থেকে যায়।

    তবে দেশের কৃষিখাতে নারীর ব্যাপক অবদান থাকলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন নেই। সরকারের নীতি-কৌশলের সঙ্গে নারীর কৃষিশ্রমের যোগসূত্র এখনো স্থাপিত হয়নি। ফলে রাষ্ট্রীয় প্রণোদনার অংশ হিসেবে ২০১৫ সালে প্রদত্ত এক কোটি ৩৯ লাখ কৃষক কার্ড বিতরণ করা হলেও নারী কৃষকদের ভাগ্যে তা জোটেনি।

    এদেশের নারী কৃষি শ্রমিকরা এখনো মজুরি বৈষম্যের শিকার। সারাদিন পুরুষের সঙ্গে সমান পরিমাণ শ্রম দিয়ে নারী শ্রমিক আয় করেন মাত্র ১২০ টাকা। একই কাজ করে যেখানে একজন পুরুষ শ্রমিক মজুরি পান ২০০ টাকা।

    বিশ্বব্যাংক পরিচালিত গবেষণা প্রতিবেদন ২০১২ অনুযায়ী অর্থনীতিতে নারীর অবদান সম্পর্কে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তির উৎকর্ষতা- সব মিলিয়ে এগিয়েছে মানব সভ্যতা। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন হলেও সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে নারী এখনো পিছিয়ে রয়েছে। সামগ্রিক কাজের ৬৬ শতাংশ করে নারী, খাদ্যের ৫০ শতাংশও তারাই উৎপাদন করে অথচ তারা পায় কর্মের মাত্র ১০ শতাংশ।

    এছাড়া, ভূমিতেও নারীর সমঅধিকার নেই। বাজারে প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রেও তাদের রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। অথচ নারীর অবদান ও অংশগ্রহণকে অস্বীকার করে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা কিছুতেই সম্ভব নয়। উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করতে নারীর কাজের অর্থনৈতিক মূল্যায়ন ও মর্যাদা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।






     সূত্র- বিডি লাইভ ২৪

    Monday, October 24, 2016

    ছাদে বাগান করার আগে যা করনীয়

  • Share The Gag
  • বাগান হতে পারে ছাদে, বারান্দায়, সিঁড়ির কিনারায়, জানালার পাশে, টি টেবিলের উপরে অথবা বাথরুমের ভেন্টিলেটরেও।

    শহুরে পরিবেশে বাগান করার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে কিছু তথ্য ও পরামর্শ দিয়েছেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এএফএম জামাল উদ্দিন।

    ছাদে বাগান করার আগে

    ধারণ ক্ষমতা: আমরা মনে করি মাটির আর কত ওজন হবে। তবে আপনি যদি একটা বাগান বা বড় গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করেন তাহলে যে পরিমাণে মাটি লাগবে তার ওজন নেহায়েত কম নয়। নিয়মিত গাছে পানি দেওয়ার ফলে ভেজা মাটির ওজন আরও বেড়ে যায়।

    তাই যখন ছাদে বাগান করার পরিকল্পনা করবেন অবশ্যই জেনে নেবেন ছাদের ধারণ ক্ষমতা কতটুকু। যেন পরে বাড়ির কোনো ক্ষতি না হয়।

    বাড়ির ধারণ ক্ষমতার উপর নির্ধারণ করতে হবে কোন ধরনের গাছ লাগানো সম্ভব। কোনো কারণে যদি ধারণ ক্ষমতা কম হয় তাহলেও চিন্তার কিছু নেই। অল্প মাটিতে ছোট গুল্মজাতীয় গাছের বাগান করাও সম্ভব।

    সূর্যের অবস্থান: যে কোনো গাছের বেঁচে থাকার জন্য সূর্যালোক একটি অপরিহার্য বিষয়। তাই বাগানের নকশা তৈরি করার আগে ছাদের কোন দিক থেকে রোদ আসে এবং ঋতুভেদে রোদ কোনদিকে সরে যায় ইত্যাদি বিষয় দেখে নেওয়া ভালো।

    বাগানের গাছ বাছাই করতে হবে রোদের অবস্থানের উপর নির্ভর করে। সাধারণত ছাদে সরাসরি সূর্যের আলো অনেক সময় ধরে পাওয়া যায়। তাই সবজির চাষ করা বেশ সুবিধাজনক। তবে রেলিংযের অবস্থান বা পাশের বাড়ির উচ্চতার কারণে বাগানে ছায়া পড়তে পারে। এক্ষেত্রে সারাদিনে কতক্ষণ এবং কোনদিকে বেশি রোদ পাওয়া যাবে এসব বিবেচনা করে তারপর বাগানের নকশা করতে হবে।

    বাতাসের দিক: সাধারণ বাগানের থেকে ছাদের বাগানে বাতাসের চলাচল একটু বেশিই হয়ে থাকে। এমনিতে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল সব ধরনের গাছের জন্যই ভালো। তবে অতিরিক্ত বাতাস গাছের আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। এছাড়াও ঝড়ো বাতাসে গাছ নুয়ে পড়তে পারে। তাই ছাদে বাগানের নকশায় রোদের অবস্থানের সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের দিকও বিবেচনায় রাখা দরকার।

    ছাদ যদি খুব উঁচুতে হয় এবং আশপাশে আর কোনো উঁচু দালান না থাকে তবে বাতাসের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য বেড়া দিতে হবে। বাতাস যেন মাটির আর্দ্রতাও কেড়ে না নেয় তা নিশ্চিত করতে মাটির উপর খড়ের বা প্লাস্টিক চাদরের আবরণও দিতে পারেন।

    পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা: বাগানের মাটি থেকে বের হওয়া অতিরিক্ত পানি ছাদের কংক্রিটের ক্ষতি করতে পারে। এছাড়াও ছাদে আগাছা জন্মে ছাদের মেঝেকে পিচ্ছিল ও ক্ষয় করে ফেলে তাই যে গাছই বোনা হোক না কেনো এবং যে পদ্ধতিতেই বোনা হোক না কেনো পানি নিষ্কাশনের জন্য সঠিক পরিকল্পনা থাকতে হবে।

    যদি টবে গাছ বোনা হয় তাহলে এর নিচে আরও একটি মাটির ট্রে রাখা হয়। এটি অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত নয়। উপরন্তু মাটির ট্রে পানি শোষণ করে সেটিকে ছাদের মেঝেতেই পৌঁছে দেয়। সবচেয়ে ভালো হয় যদি ছাদের মেঝেতে পানি নিরোধক কোনো রং, টাইলস বা আলকাতরার একটা স্তর তৈরি করে তার উপরে যথাযথ একটা নিষ্কাশন নালার ব্যবস্থা করা যায়। নালার উপরে একটা ছাঁকনি রাখা যেতে পারে। এতে পানির সঙ্গে ধুয়ে যাওয়া মাটি নিষ্কাশন নালা বা ছাদে না পড়ে ছাঁকনিতে আটকে থাকবে। এভাবে মাটি এবং ছাদ উভয়ের ক্ষয় রোধ করা যাবে।

    অনেকেই পানি নিষ্কাশনের জন্য ছাদের এক কিনারা সামান্য ঢালু রাখেন এটিও বেশ ভালো উপায়। তবে কিছুতেই ছাদের কোনো কিনারা ভেঙে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা যাবে না। এতে স্থাপনার বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

    বাগান করা

    মাটি দেওয়া: ছাদের বাগানে দুভাবে মাটি স্থাপন করা যায়। কোনো পাত্র বা টবের মধ্যে অথবা ছাদকে পানিরোধী করে সরাসরি মাটি ফেলে।

    দ্বিতীয় ক্ষেত্রে পানি নিষ্কাশন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। প্রথম ক্ষেত্রে ছোট ছোট টব বাছাই না করে বড় ট্রে বা প্লাস্টিকের বাক্স নেওয়া যেতে পারে। অনেকেই সিমেন্টে ঢালাই করা বড় টব বানিয়ে নেন। তবে এ ধরণের টবের ওজন অনেক বেশি হয় ফলে ছাদের ধারণ ক্ষমতার বড় অংশই কংক্রিটের টব দখল করে ফেলে।

    টব বা সরাসরি মেঝে যেভাবেই মাটি ফেলা হোক না কেন, মাটির ধরণ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে। ছাদের বাগানের মাটি এমন হতে হবে যেন তা হালকাও হয় এবং পানিও ধরে রাখতে পারে।

    বেলে মাটির সঙ্গে সবুজ সার মিলিয়ে তৈরি করা মাটিই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হয়।

    গাছ বাছাই: সব কিছু সঠিকভাবে করার পর এখন গাছ বাছাইয়ের পালা। যেহেতু বাগানটা ছাদে হবে তাই অন্য সব কিছুর মতো গাছ বাছতে হবে ভেবে চিনতে। ছাদের বাগানে ফুল, ফল বা সবজি যে ধরণের গাছই লাগান না কেনো গাছের আকার যতটা সম্ভব ছোট রাখবেন। যদি ফল গাছ বোনার পরিকল্পনা থাকে তবে গাছের উচ্চতা কম রেখে, বেশি ডালপালার ঝাড় রাখুন।

    লম্বা কাণ্ডের কম ডালপালার গাছের অসুবিধা হচ্ছে এই ধরনের গাছ অল্প বাতাসেই নুয়ে যাওয়ার বা কাণ্ড ভেঙে যেতে পারে। ছাদে বোনার জন্য লতানো এবং কম উচ্চতার গাছ নেওয়া সবদিক দিয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

    যেসব গাছের শিকড় বেশি গভীরে প্রবেশ করে সেসব গাছও ছাদের বাগানে লাগাবেন না। শিকড় পাশের দিকে বেশি ছড়ায় এমন গাছই ছাদের বাগানের জন্য উৎকৃষ্ট।

    ছাদের বাগানে লাগানোর মতো কিছু গাছ

    ফল: পেয়ারা, পেঁপে, কলা ইত্যাদি হালকা ওজনের গাছ লাগানো যেতে পারে। বড় গাছ যেমন আম বা লিচু লাগালে গাছের আকার যতটা সম্ভব ছোট হতে হবে। এছাড়াও আঙুরের মতো লতানো বা স্ট্রবেরির মতো একদম মাটিতেই জন্মানো গাছ বেছে নেওয়া যেতে পারে।

    সবজি: প্রায় সব ধরনের সবজিই ছাদের বাগানে বোনা যায়। সব ধরনের শাক, লতানো-সবজি যেমন লাউ, কুমড়া, শিম থেকে শুরু করে মূলা, গাজর, ফুলকপি, ব্রোকলি, ক্যাপসিকাম, মরিচ বেগুন সবই বোনা সম্ভব।

    ফুল: ফুলের বড় গাছ এড়িয়ে যে কোনো ধরনেরর ছোট ফুলের গাছ লাগানো যায়। গোলাপ, গাদা, বেলির মতো ছোট গাছের ফুল অথবা অপরাজিতা, মর্নিং গ্লোরি ইত্যাদি লতানো গাছ বেড়া তুলে দিয়ে চাষ করা সম্ভব।

    ছাদের গাছের যত্ন

    ছাদের গাছের যত্নের মূল বিষয় হচ্ছে পর্যাপ্ত সূর্যলোক এবং পর্যাপ্ত পানি। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় মাটির আর্দ্রতা দেখে পানি দিতে হবে। এছাড়াও ছাদের গাছে পোকা মাকড়ের আক্রমণ কম হলেও পাখি এবং বাদুরের উৎপাত খুব বেশি হয়। পাখির আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য ফল বা সবজির উপর জাল দিয়ে দেওয়া যায়।

    এত পরিশ্রমের পরে নিজের বাগানে যখন ফুল ফল আসে তখন মন খুশিতে ভরে ওঠে। গাছের যত্ন একজন করলেও ফসলের খুশি পৌঁছে যায় সবার কাছে। যান্ত্রিক জীবনে সবুজের আনন্দ ছুঁয়ে যাবে সকলের হৃদয়। ধোঁয়া দূষণের শহরে প্রতিটি বাড়ির ছাদ হবে একটি করে অক্সিজেনের ছোট্ট কারখানা। এভাবেই হয়তো দূষণ থেকে শহরকে রক্ষা করার সামান্য একটি অবদান রাখতে পারি আমরা সবাই।

    শাহী পেঁপে বিস্তারিত ও চাষাবাদ

  • Share The Gag
  • শাহী পেঁপে:::

    বৈশিষ্ট্য : উচ্চ ফলনশীল একলিঙ্গী জাত। গাছের উচচতা ১.৬-২.০ মি., কান্ডের খুব নীচু থেকে ফল ধরা শুরু হয়। ফল ডিম্বাকৃতির, ফলের ওজন ৮০০-১০০০ গ্রাম, ফলপ্রতি বীজের সংখ্যা ৫০০-৫৫০ টি। শাসের পুরুত্ব ২ সে.মি., রং গাঢ় কমলা থেকে লাল। ফল মিষ্টি (ব্রিক্সমান ১২%) ও সুস্বাদু।

    উপযোগী এলাকা : দেশের সর্বত্র চাষ উপযোগী।
    বপনের সময় : আশ্বিন(সেপ্টেম্বর-অক্টোবর) এবং পৌষ (ডিসেম্বর-জানুয়ারি) মাস পেঁপের বীজ বপনের উত্তম সময়। বপনের ৪০-৫০ দিন পর চারা রোপণের উপযোগী হয়।

    মাড়াইয়ের সময়: সবজি হিসেবে ব্যবহারের জন্য ফলের কষ যখন হালকা হয়ে আসে এবং জলীয়ভাব ধারণ করে তখন পেঁপে সংগ্রহ করা উত্তম। অন্য দিকে ফলের গায়ে যখন হালকা হলুদ রং দেখা দেবে তখন ফল হিসেবে সংগ্রহ করতে হবে।

    শাহী পেঁপের রোগবালাই ও দমন ব্যবস্থা::

    রোগবালাই::
    চারা ঢলে পড়া ও কান্ড পঁচা রোগঃ মাটি স্যাঁতস্যাঁতে থাকলে বীজতলায় চারা ঢলে পড়া এবং বর্ষাকালে কান্ডপচা রোগ দেখা দিতে পারে।

    এ্যানথ্রাকনোজঃ এ রোগের কারণে ফলের গায়ে বাদামী পচন রোগ দেখা দেয়। ফল খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে যায়।

    পেঁপের মোজাইকঃ এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এ রোগ হলে পাতায় হলুদ রং এর ছোপ ছোপ দাগ পড়ে, পাতার বোঁটা বেঁকে যায় এবং গাছের বৃদ্ধি কমে যায়। বিভিন্ন ধরনের জাব পোকা দ্বারা এ রোগ ছড়ায়।

    পাতা কোঁকড়ানো ভাইরাসঃ এ রোগ হলে পাতা কুঁকড়িয়ে এবং মুচড়িয়ে যায় এবং পত্রফলক ছোট হয়ে যায়। আক্রমণ তীব্র হলে গাছের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। জাব পোকার মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়।

    শিকড়গীট রোগঃ এটি কৃমিজনিত রোগ। আক্রান্ত শিকড় ফুলে উঠে এবং গীটের সৃষ্টি করে। গাছ দূর্বল, খাট ও হলুদাভ হয়ে পড়ে। সাধারণত আক্রান্ত চারা, বৃষ্টি বা সেচের পানি ও কৃষি যন্ত্রপাতির সাহায্যে এ রোগ বিস্তার লাভ করে।

    দমন ব্যবস্থা:

    চারা ঢলে পড়া ও কান্ড পঁচা রোগপ্রতিকারঃ এ রোগ প্রতিকারের তেমন সুযোগ থাকে না। তাই প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা উত্তম। আশ্বিন (সেপ্টেমবর-অক্টোবর) মাসে বীজতলা তৈরি করতে হলে বীজ বপনের পূর্বে বীজতলার মাটি ভালভাবে শুকানোর ব্যবস্থা করতে হবে। সিকিউর নামক ছত্রাকনাশক ২-৩ গ্রাম প্রতি কেজি বীজের সাথে মিশিয়ে শোধন করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। জমি তৈরির পর ৬ সে.মি. পুরু করে শুকনো কাঠের গুড়া বা ধানের তুষ বীজতলায় বিছিয়ে পোড়াতে হবে। পরে মাটি কুপিয়ে বীজ বপন করতে হবে। বীজতলায় হেক্টরে ৫ টন হারে আধাপঁচা মুরগীর বিষ্ঠা ব্যবহার করতে হবে। বীজবপনের পূর্বে ১৫-২১ দিন জমিতে বিষ্ঠা পঁচানোর পর বীজ বপন করলে ভাল ফলাফল পাওয়া যায়। প্রতি লিটার পানির সাথে ২ গ্রাম হারে সিকিউর মিশিয়ে ড্রেঞ্চিং করে এ রোগের বিস্তার কমানো যায়। চারা লাগানোর ৩ সপ্তাহ পূর্বে হেক্টর প্রতি ৩ টন আধা পঁচা মুরগীর বিষ্ঠা অথবা ৩০০ কেজি খৈল জমিতে প্রয়োগ করে মাটির সাথে ভালভাবে মিশাতে হবে। এতে কান্ডপঁচা রোগের উপদ্রব কম হবে।

    এ্যানথ্রাকনোজ প্রতিকারঃ নোইন/ব্যাভিস্টিন/কেডাজিম প্রতি লিটার পানির সাথে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ১০-১৫ দিন অন্তর ২/৩ বার ফলের গায়ে স্প্রে করলে উপকার পাওয়া যায়।

    পেঁপের মোজাইক,পাতা কোঁকড়ানো ভাইরাস রোগ নিয়ন্ত্রণঃ আক্রান্ত গাছ তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। রোগ বিস্তারকারী পোকা দমনের মাধ্যমে এ রোগের বিস্তার রোধ করা যায়।

    শিকড়গীট রোগঃ

    প্রতিকারঃ শুষ্ক মৌসুমে জমি পতিত রেখে ২/৩ বার চাষ দিয়ে মাটি ওলট-পালট করে দেওয়া। রোপণের সময় গর্ত প্রতি ২৫ গ্রাম ফুরাডান ৫ জি প্রয়োগ করা। আধা পঁচা মুরগীর বিষ্ঠা ৩ টন/হেক্টর বা সরিষার খৈল ৩০০ কেজি/হেক্টর চারা লাগানোর ৩ সপ্তাহ পূর্বে জমিতে প্রয়োগ করে মাটির সাথে ভালভাবে মিশাতে হবে

    পোকামাকড় ও দমন ব্যবস্থা

    পোকামাকড়::

    মিলি বাগঃ সাম্প্রতিক সময়ে মিলি বাগ পেঁপের একটি মারাত্বক পোকা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আক্রান্ত পাতা ও ফলে সাদা পাউডারের মত আবরণ দেখা যায়। আক্রান্ত গাছের পাতা ও ফলে শুটি মোল্ড রোগের সৃষ্টি হয়। আক্রমণের মাত্রা বেশী হলে গাছ মারা যেতে পারে।

    দমন ব্যবস্থা::

    মিলি বাগ প্রতিকারঃ আক্রমনের প্রথম দিকে পোকাসহ আক্রান্ত পাতা/কান্ড সংগ্রহ করে ধ্বংস করে ফেলতে হবে অথবা পুরাতন টুথব্রাশ দিয়ে আঁচড়িয়ে পোকা মাটিতে ফেলে মেরে ফেলতে হবে।আক্রমণ বেশী হলে প্রতি লিটার পানিতে ৫ গ্রাম সাবান পানি অথবা এডমায়ার ২০০এসএল ০.২৫ মি.লি. হারে মিশিয়ে ১৫ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

    সার ব্যবস্থাপনা:::

    ভাল ফলন পেতে হলে পেঁপেতে সময়মত সার প্রয়োগ করতে হবে। উপরি হিসেবে গাছ প্রতি ৪৫০-৫০০ গ্রাম ইউরিয়া এবং ৪৫০-৫০০ গ্রাম এমওপি সার প্রয়োগ করতে হবে। চারা রোপণের এক মাস পর হতে প্রতি মাসে গাছ প্রতি ৫০ গ্রাম ইউরিয়া ও ৫০ গ্রাম এমওপি সার প্রয়োগ করতে হবে। গাছে ফুল আসার পর এই মাত্রা দ্বিগুণ করতে হবে। মাটিতে রস না থাকলে পানি সেচের ব্যবস্থা করা আবশ্যক।

    তথ্য সহযোগিতায়: বারি, জয়দেবপুর, গাজিপুর।

    শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকরা

  • Share The Gag
  • ঋতু বৈচিত্র্যের ধারায় এসেছে হেমন্ত। সঙ্গে কড়া নাড়ছে শীত। ভোরের বাতাস কুয়াশাসিক্ত। সবুজে সবুজে ভরে উঠেছে মাঠ। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে শোভা পাচ্ছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, শিম, বেগুন, ম‍ুলা, করলা, পটল, পালং ও লাল শাকসহ রকমারি শীতকালীন সবজি।

    ক্ষেতের এসব ফসল পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকেরা। কাকডাকা ভোরে কোদাল, পাচুন, মাথাইল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন তারা। ক্ষেতে নেমে পড়েন সবজি পরিচর্যায়। রোদের তীব্রতা বাড়তেই মাথায় পরে নেন মাথাইল।

    তাদের কেউ দাঁড়িয়ে কোদাল চালাচ্ছেন, অনেকেই গাছের গোঁড়ালির পাশ দিয়ে ঘোরাচ্ছেন পাচুন, কেউবা খালি হাতেই গাছগুলো ঠিক করছেন। এভাবে শীতকালীন সবজি নিয়ে চলছে কৃষকের কর্মযজ্ঞ।

    রোববার (২৩ অক্টোবর) বগুড়া জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে শীতকালীন সবজি নিয়ে কৃষকের কর্মযজ্ঞের এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।

    বেড়েই চলছে মানুষের কাজের চাপ। গড়ে তোলা হচ্ছে স্থায়ী-অস্থায়ী অসংখ্যা স্থাপনা। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষি জমিতে। কমে যাচ্ছে আবাদি জমি। ধান চাষেও তেমন একটা সুবিধা করতে পারছেন না কৃষক। কোনোভাবেই লোকসান ঠেকাতে পারছেন না তারা। তাই রকমারি সবজি চাষে ঝুঁকে পড়েছেন কৃষকরা।

    বাংলানিউজকে এমনটা জানালেন হায়দার আলী, আমজাদ হোসেন, বুলু মিয়াসহ একাধিক কৃষক। তারা বলেন, সবজি চাষের জন্য খুব বেশি জমির প্রয়োজন হয় না। তুলনামূলক মূলধনও কম লাগে। পরিশ্রমও তুলনামূলক কম। তবে সেবা যত্নে ক্রটি করা যাবে না। কিন্তু রোগবালাই দমনে সবজি ক্ষেতে কীটনাশক বেশি প্রয়োগ করতে হয়।

    তারা বলেন, স্বল্প সময়েই সবজি বিক্রি উপযোগী হয়ে ওঠে। প্রায় দিনই বাজারে সবজি বিক্রি করা যায়। পরিবারের চাহিদাও মেটানো যায়। ক্ষেতে সবজি থাকা পর্যন্ত প্রত্যেক কৃষকের হাতে কমবেশি টাকা থাকে। যা অন্য ফসলের বেলায় সম্ভব না। এছাড়া চলতি মৌসুমে সবজির দামও বেশ ভালো। সবমিলিয়ে সবজি চাষকেই এসব কৃষকরা লাভজনক মনে করছেন।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে এ জেলার ১২টি উপজেলায় ১২ হাজার ৪শ’ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার (২৩ অক্টোবর) পর্যন্ত ৭ হাজার ৩শ’ ৭০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজি লাগানো হয়েছে।

    এরমধ্যে সদর উপজেলায় ১ হাজার ৫শ’ হেক্টর, শেরপুরে ১ হাজার ৩শ’ ৫০ হেক্টর, ধুনটে ১ হাজার ১শ’ হেক্টর, সারিয়াকিন্দতে ১শ’ ৫০হেক্টর, সোনাতলায় ৩শ’ ১০ হেক্টর, শিবগঞ্জে ৭শ’ ৫০ হেক্টর, নন্দীগ্রামে ৮০ হেক্টর, কাহালুতে ২শ’ ৫০ হেক্টর, আদমদীঘিতে ২শ’ ৮০ হেক্টর, দুপচাঁচিয়ায় ২শ’ হেক্টর, শাজাহানপুরে ৩শ’ হেক্টর ও গাবতলী উপজেলায় ১ হাজার ১শ’ হেক্টর জমিতে লাগানো হয়েছে রকমারি শীতকালীন সবজি।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আব্দুর রহিম বাংলানিউজকে বলেন, সবজিখ্যাত গ্রামগুলোয় নিয়মিত স্ব-স্ব উপজেলার কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা পরিদর্শনে যান। রোগবালাই সম্পর্কে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। তিনিসহ কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রায়ই মাঠে যান বলেও জানান তিনি।

    সবজি চাষে যুক্ত জেলার কৃষকরা এবার বেশ উৎফল্ল। কারণ তারা উৎপাদিত ফসলের দাম বেশ ভালো পাচ্ছেন বলেও জানান কৃষি বিভাগের উর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা।

    সূত্র ঃ বাংলা নিউজ ২৪

    Sunday, October 23, 2016

    পিরোজপুরে মালটা চাষে বিপ্লব

  • Share The Gag
  • পিরোজপুরে মালটা চাষে বিপ্লব

    পিরোজপুরের মাটি আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এখানকার কৃষকরা চাষাবাদে যেমন এনেছেন বৈচিত্র, তেমনি এগিয়ে যাচ্ছেন নতুন নতুন প্রযুক্তি নির্ভর কৃষি বিপ্লবে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মালটার বিপ্লব। আর এই বিপ্লবকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিতে বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়েছেন শেখ হুমায়ুন কবির নামে সদর উপজেলার বড় খলিশাখালী গ্রামের এক ব্যবসায়ী।

    মালটা চাষি শেখ হুমায়ুন কবির (৪৫) জানান, ২০১৫ সালে নিজ গ্রামে ৭৫ বিঘা জমির উপর গড়ে তোলেন তার মাল্টা বাগান। এটাই দেশের সবচেয়ে বৃহত্তম মালটার বাগান বলে তার দাবি। তার বাগানে ২১ হাজার মালটা গাছের সঙ্গী ফসল হিসেবে রয়েছে আমসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় ফলের গাছ।

    পিরোজপুরের মাটি আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এখানকার কৃষকরা চাষাবাদে যেমন এনেছেন বৈচিত্র, তেমনি এগিয়ে যাচ্ছেন নতুন নতুন প্রযুক্তি নির্ভর কৃষি বিপ্লবে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মালটার বিপ্লব। আর এই বিপ্লবকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিতে বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়েছেন শেখ হুমায়ুন কবির নামে সদর উপজেলার বড় খলিশাখালী গ্রামের এক ব্যবসায়ী।

    মালটা চাষি শেখ হুমায়ুন কবির (৪৫) জানান, ২০১৫ সালে নিজ গ্রামে ৭৫ বিঘা জমির উপর গড়ে তোলেন তার মাল্টা বাগান। এটাই দেশের সবচেয়ে বৃহত্তম মালটার বাগান বলে তার দাবি। তার বাগানে ২১ হাজার মালটা গাছের সঙ্গী ফসল হিসেবে রয়েছে আমসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় ফলের গাছ।

    কৃষিতে হুমায়ুনের এই উদ্যোগ নেয়ার পেছনে তার স্ত্রী শামসুন্নাহারের রয়েছে বিশেষ অবদান। স্ত্রীর প্রেরণায়ই তিনি ফলের চাষের প্রতি আরও আগ্রহী হয়ে ওঠেন বলে জানান হুমায়ুন।

    স্ত্রী শামসুন্নাহার জানান, বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার সময় তার স্বামী সেখানকার বিষমুক্ত ফল খেয়ে অধিক সুস্থ হয়ে ওঠেন। তাই তিনিও স্বামীর সিদ্ধান্তে একমত হন ফল চাষের জন্য। সরকারি চাকরির পাশাপাশি তিনিও ফলের বাগান দেখভাল করার জন্য সময় দেন।

    এ অঞ্চলে মালটা চাষকে আরও ছড়িয়ে দেয়ার জন্য এ বছরই টিস্যু কালচারের মাধ্যমে এক লাখ মালটা চারা উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে তার। বর্তমানে তার বাগানে তিনি ৩২ জনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করেছেন।

    সম্প্রতি হুমায়ুনের মালটা বাগানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখা হয় সদর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহমান এর সঙ্গে। তিনি জানান, অন্যান্য ফসল সর্বোচ্চ ডিএস ৪ মাত্রার লবণ সহ্য করতে পারে। কিন্তু মালটা গাছ সর্বোচ্চ ১২ ডিএস মাত্রার লবণ সহ্য করতে পারার কারণে লবণাক্ততার ঝুঁকিতে থাকা অন্যতম উপকূলীয় জেলা পিরোজপুরে নিশ্চিন্তে মালটা চাষ করা সম্ভব।

    পিরোজপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক এমডি আবুল হোসেন তালুকদার জানান, বিগত কয়েক বছরে মালটার বিপ্লব ঘটায় জেলায় বর্তমানে ৪৫ হেক্টর জমিতে ৩১৯টি মালটার বাগান তৈরি হয়েছে। আর এই বিপ্লবের সঙ্গে যোগ হয়েছে হুমায়ুনের করা দেশের সবচেয়ে বড় মালটা বাগান।

    কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মালটার কলম করা হয় বাতাবি লেবু গাছের সঙ্গে। আর বাতাবি লেবু দেশের সর্বত্র হওয়ায়, মালটার চাষও পিরোজপুরসহ সারা দেশে করা সম্ভব। এছাড়া নিচু ও পতিত জমি পাইপের মাধ্যমে খুব সহজেই লোকাল বালু দিয়ে ভরাট করার পর সেখানে খুব সহজে অন্যান্য গাছ না জন্মালেও, মালটা গাছ অতি সহজেই জন্মানো সম্ভব। তবে বালুর উপর কিছুটা মাটির আবরণ রাখতে হয়।

    বর্তমানে হুমায়ুনের মালটা বাগানের খবর ঢাকা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরেও পৌঁছে গেছে। সম্প্রতি ওই দফতরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. হামিদুর রহমান হুমায়ুনের মালটা বাগান পরিদর্শন করেছেন।

    তিনি মোবাইল ফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, পিরোজপুরে হুমায়ুনের মালটা বাগান সারা দেশের ফল চাষিদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত এবং এটি এই মুহূর্তে বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় মালটা বাগান।

    তিনি আরও জানান, পিরোজপুরে যেভাবে মালটার বিপ্লব ঘটছে, তা সারাদেশে সম্প্রসারিত হলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে আমরা বিদেশেও মালটা রফতানি করতে পারবো। এছাড়া দেশীয় মালটায় সহনীয় মাত্রায় সুগার থাকায় তা ডায়াবেটিক আক্রান্ত রোগীরাও খেতে পারেন।

    সুত্র- জাগোনিউজ ২৪

    নোয়াখালীতে কৃষক-ক্ষেতমজুর সমাবেশ

  • Share The Gag
  • নোয়াখালীতে কৃষক-ক্ষেতমজুর সমাবেশ



    প্রকৃত ভূমিহীন-বর্গাচাষি-ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে কৃষিকার্ডের মাধ্যমে কৃষিঋণ, টিআর, কাবিখা, স্বল্পমূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহসহ নানা দাবিতে নোয়াখালীতে কৃষক-ক্ষেতমজুর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্ট জেলা শাখার উদ্যোগে আজ রবিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    পরে জেলা প্রশাসকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এর আগে একই দাবিতে শহরে ব্যানার, ফেস্টুন ও লাল পতাকা সজ্জিত একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। সংগঠনের জেলা আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা তারকেশ্বর দেবনাথ নান্টুর সভাপতিত্ব সমাবেশে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মনজুর আলম মিঠু, বাসদ (মার্কসবাদী) জেলা কমিটির আহ্বায়ক দলিলের রহমান দুলাল, নবগ্রাম অঞ্চলের কৃষক প্রতিনিধি মো. ইব্রাহিম, চরকলমীর কৃষক প্রতিনিধি আরশাদ আলী প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন কৃষক ফ্রন্টের জেলা সংগঠক বিটুল তালুকদার।

    বক্তারা দেশব্যাপী সকল বিভাগে অনিয়ম, ঘুষ-দুর্নীতি; মাদক-জুয়া ও চাঁদাবাজি বন্ধ; প্রকৃত ভূমিহীন-বর্গাচাষি-ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে কৃষিকার্ডের মাধ্যমে কৃষিঋণ প্রদান; টিআর, কাবিখা, স্বল্পমূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহ; খাস জমি প্রকৃত ভূমিহীনদের বরাদ্দ দেওয়া; ইউনিয়নভিত্তিক সরকারি ক্রয়কেন্দ্র স্থাপন; আর্মি রেটে রেশনিং প্রদান; উপকূলীয় অঞ্চলে পর্যাপ্ত আশ্রয়ন প্রকল্প স্থাপন এবং নদী ভাঙনরোধসহ ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

    বক্তারা বলেন, দেশের প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ কৃষির সঙ্গে যুক্ত। দেশের মানুষের খাদ্য এবং শিল্পের কাঁচামালের উৎস এ কৃষি। অথচ সরকারের নানামুখী গণবিরোধী সিদ্ধান্তের কারণে কৃষক-ক্ষেতমজুরদের জীবন আজ সর্বশান্ত। সরকারি মহলের বাক-চাতুর্য্যের আড়ালে চলছে কৃষি ব্যবস্থা ধ্বংসের আয়োজন। প্রতিবছর বাজেটে কৃষিখাতে বরাদ্দ কমছে। বন্যা-খরায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে নিঃস্ব হচ্ছে। খাস জমি প্রকৃত ভূমিহীনদের বঞ্চিত করে মৎস্য প্রজেক্টের নামে প্রভাবশালীরা আত্মসাত করছে, ভূমিহীনদের খাস জমি বরাদ্দের নামে চলছে ব্যাপক হয়রানি ও ঘুষ-দুর্নীতি। কৃষিঋণ, টিআর, কাবিখা, খাদ্যবান্ধব কমসূচির নানা অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। যে কৃষকরা ফসল উৎপাদন করে অথচ তারা অনাহারে অর্ধাহারে জীবন কাটাচ্ছে, তাঁদের জন্য রেশনিং, অবসর ভাতা নেই।

    সমাবেশ থেকে কৃষি-কৃষক তথা ১৬ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার্থে জেলা কৃষক ফ্রন্ট উত্থাপিত দাবি আদায়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

    সূত্রঃ কালেরকন্ঠ