Wednesday, May 11, 2016

গম চাষ

  • Share The Gag
  • গম চাষ

    ফসলের নাম: গম

    পুষ্টি মূল্যঃ গম হতে যে আটা হয় তার প্রতি ১০০ গ্রাম আটায় আমিষ ১২.১ গ্রাম, শর্করা ৬৯.৪ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৪৮ মিলিগ্রাম, লৌহ ১১.৫ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ২৯ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন বি-১ ০.৪৯ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি-২ ০.২৯ মিলিগ্রাম, আঁশ ১.৯ গ্রাম, খনিজ পদার্থ ২.৭ গ্রাম এবং জলীয় অংশ থাকে ১২.২ গ্রাম।
    ভেষজগুনঃ
    ব্যবহারঃ
    গম সাধারণত মানুষের রুটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া গমের কুঁড়া গো-খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

    উপযুক্ত জমি মাটিঃ উঁচু ও মাঝারি দোআশ মাটি গম চাষের জন্য বেশী উপযোগী। লোনা মাটিতে গমের ফলন কম হয়।
    জাত পরিচিতিঃ বর্তমানে এদেশে অধিক আবাদকৃত গম জাতের মধ্যে কাঞ্চন, আকবর, অঘ্রাণী ও প্রতিভা রয়েছে। তাছাড়া সৌরভ (বারি গম-১৯) ও গৌরব (বারি গম-২০) নামে ২টি উচ্চ ফলনশীল নতুন জাত অনুমোদিত হয়েছে।
    গমের জাত

    কাঞ্চনঃ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট কর্তৃক ইউপি-৩০১ এবং সি-৩০৬ এর মধ্যে সংকরায়ণ করে কাঞ্চন জাত উদ্ভাবন করা হয়। এ জাত ১৯৮৩ সালে অনুমোদিত হয়। গাছের উচ্চতা ৯০-১০০ সেমি। কুশির সংখ্যা ৬-৭টি। গাছের নিশান পাতা খাড়া। শীষ বের হতে ৬০-৬৮ দিন সময় লাগে। প্রতি শীষে ৩৫-৪০টি দানা থাকে। দানা সাদা এবং হাজার দানার ওজন ৪৮-৫২ গ্রাম। অন্যান্য জাতের তুলনায় দানা আকারে বড়। চারা আবস্থায় প্রাথমিক কুঁশি মাটির উপরে অবস্থান করে। বোনা থেকে পাকা পর্যন্ত ১০৬-১১২ দিন সময় লাগে। এ জাতটি দীর্ঘ সময় ধরে চাষাবাদ হচ্ছে। বর্তমানে পাতার মরিচা দাগ রোগে আক্রান্ত হওয়ায় জাতটির ফলন কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। উন্নত পদ্ধতিতে চাষ করলে হেক্টর প্রতি ৩.৫-৪.৬ টন ফলন হয়। জাতটি দেশের সকল অঞ্চলে চাষের জন্য উপযোগী। বর্তমানে সারা দেশে কাঞ্চন গম খুবই জনপ্রিয়। বাংলাদেশে প্রায় ৮০ ভাগ এলাকায় কাঞ্চন গমের আবাদ হচ্ছে।
    আকবরঃ আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্র (ঈওগগণঞ) মেক্সিকোতে ও টোবারী নামাক ২টি জাতের মধ্যে সংকরায়ণের পর একটি কৌলিক সারি ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশে আনা হয়। পরবর্তীতে বাছায় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভাবিত জাতটি আকবর নামে ১৯৮৩ সালে অসুমোদিত হয়। এ জাতের গাছের উচ্চতা ৮৫-৯০ সেমি। কুশির সংখ্যা ৬-৭টি। পাতা কিছুটা হেলানো। নিশান পাতা খুবই চওড়া ও লম্বা। শীষ বের হতে ৫০-৫৫ দিন সময় লাগে। প্রতি শীষে ৫০-৫৫টি দানা থাকে। দানা সাদা, আকারে মাঝারি এবং হাজার দানার ওজন ৩৭-৪২ গ্রাম। পাতার গোড়ায় সাদা অরিকল থাকে। ফসল বোনা থেকে কাটা পর্যন্ত ১০৩-১০৮ দিন সময় লাগে। উন্নত পদ্ধতিতে চাষ করে ফলন হেক্টরপ্রতি ৩.৫-৪.৫ টন হয়। জাতটি পাতার দাগ রোগ সহনশীল। বৃহত্তর ময়মনসিংহ, যশোর, কুষ্টিয়া ও খুলনা জেলায় এ জাতের ফলন বেশী হয়। তবে আকবর জাতের গম দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও চাষের জন্য উপযোগী।
    অঘ্রাণীঃ আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্র, মেক্সিকো হতে সনোরা/পি ৪১৬০ ই/ইনিয়া কৌলিক সারিটি ১৯৮২ সালে বাছাইকরণ নার্সারীর মাধ্যমে বাংলাদেশে আনা হয় এবং ১৯৮৭ সালে অঘ্রাণী নামে তা অনুমোদন লাভ করে। এ জাতের গাছের উচ্চতা ৮৫-৯০ সেমি, কুশির সংখ্যা ৫-৬টি। পাতা কিছুটা হেলানো, নিশান পাতা বড়। গাছের পাতা ও কান্ডে পাতলা মোমের আবরণের মতো বস্তু লক্ষ্য করা যায়। শীষ বের হতে ৫৫-৬০ দিন সময় লাগে। প্রতি শীষে ৫০-৫৫টি দানা থাকে। দানার রং সাদা, আকারে মাঝারি এবং হাজার দানার ওজন ৩৮-৪২ গ্রাম। পাতার গোড়ায় বেগুনি অরিকল থাকে। বোনা থেকে পাকা পর্যন্ত ১০৩-১১০ দিন সময় লাগে। উন্নত পদ্ধতিতে চাষ করলে ফলন হেক্টরপ্রতি ৩.৫-৪.০ টন হয়। জাতটি পাতার দাগ (ব্লাইট রোগ সহনশীল)। দেরীতে বপনের জন্য অঘ্রাণী জাতের গম বিশেষভাবে উপযোগী।
    প্রতিভাঃ থাইল্যান্ড হতে ১৯৮২ সালে প্রেরিত বাছাইকরণ নার্সারীতে কে-ইউ ১২ নামক একটি কৌলিক সারি বাংলাদেশে বাছায় করা হয় এবং ১৯৮৩ সালে তা প্রতিভা নামে অনুমোদিত হয়। গাছের উচ্চতা ৮৫-৯৫ সেমি। কুশির সংখ্যা ৬-৭টি। গাছের নিশান পাতা খাড়া। শীষ বের হতে ৬০-৭০ দিন সময় লাগে। শীষ লম্বা ও প্রতি শীষে ৩৫-৪৫ টি দানা থাকে। দানা সাদা, আকারে বড় ও হাজার দানার ওজন ৪২-৪৮ গ্রাম। ফসল বোনা থেকে পাকা পর্যন্ত ১০৫-১১০ দিন সময় লাগে। উন্নত পদ্ধতিতে চাষ করলে হেক্টরপ্রতি ৩.৮-৪.৫ টন ফলন পাওয়া যায়। গমের প্রতিভা জাত পাতার মরিচা ও পাতার দাগ রোগ সহনশীল।প্রতিভা জাতের গম দেশের সকল অঞ্চলে চাষ করা যায়।
    সৌরভঃ আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্রে নেকোজারী ও ভেরী জাতের মধ্যে সংকরায়ণকৃত একটি কৌলিক সারি ১৯৮৯ সালে এদেশে এনে বাছাই করা হয় যা ১৯৯৮ সালে সৌরভ (বারি গম-১৯) নামে চাষাবাদের জন্য অনুমোদিত হয়। গাছের উচ্চতা ৯০-১০০ সেমি। কুশির সংখ্যা ৫-৬টি। পাতা চওড়া, হেলানো ও গাঢ় সবুজ। নিশান পাতা চওড়া ও হেলানো। নিশান পাতার নীচের তলে মোমের মতো পাতলা আবরন থাকে। কান্ড মোটা ও শক্ত, ঝড় বৃষ্টিতে হেলে পড়ে না। নীচের গ্লুমের ঠোঁট বড়, প্রায় ৫ মিমি। শীষ বের হতে ৬০-৭০ দিন সময় লাগে। শীষ লম্বা, প্রতিটি শীষে দানার সংখ্যা ৪২-৪৮টি, দানার রং সাদা এবং হাজার দানার ওজন ৪০-৪৫ গ্রাম। বোনা থেকে পাকা পর্যন্ত ১০২-১১০ দিন সময় লাগে। উন্নত পদ্ধতিতে আবাদ করলে হেক্টরপ্রতি ফলন ৩.৫-৪.৫ টন পাওয়া যায়। জাতটি পাতার দাগ রোগ সহনশীল এবং পাতার মরিচা রোগ প্রতিরোধী। সৌরভ গম দেশের প্রায় সকল অঞ্চলে চাষের জন্য উপযোগী।
    গৌরভঃ আন্তর্জতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্রে টুরাকো ও চিলেরো জাতের মধ্যে সংকরায়ণকৃত একটি কৌলিক সারি ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে আনা হয়। খুব উৎপাদনশীল জাত হিসেবে সারিটি বাছায় করা হয় যা ১৯৯৮ সালে গৌরব (বারি গম-২০) নামে সারা দেশে চাষাবাদের জন্য অনুমোদন লাভ করে। গাছের উচ্চতা ৯০-১০২ সেমি। কুশি ৫-৬টি। পাতা গাঢ় সবুজ। নিশান পাতা খাড়া, সরু ও ইষৎ মোড়ানো। নীচের গ্লুমের ঠোঁট ছোট প্রায় ২ মিমি। শীষ বের হতে ৬০-৬৫ দিন সময় লাগে। শীষ লম্বা, অগ্রভাগ সরু। প্রতি শীষে ৪৫-৫০টি দানা থাকে। দানার রং সাদা এবং হাজার দানার ওজন ৪০-৪৮ গ্রাম। জীবনকাল ১০০-১০৮ দিন। উন্নত পদ্ধতিতে চাষ করলে হেক্টরপ্রতি ৩.৬-৪.৮ টন ফলন পাওয়া যায়। জাতটি পাতার মরিচা রোগ প্রতিরোধী এবং পাতার দাগ রোগ সহনশীল। এ জাতটি তাপ সহিষ তাই দেরীতে বপন করলে ভাল ফলন দেয়। বর্তমানে গম জাতসমূহের তুলনায় এ জাত ১০-১২ ভাগ বেশী ফলন দেয়।
    বপনের সময়ঃ গমের উচ্চ ফলনশীল জাতসমূহের বপনের উপযুক্ত সময় হল কার্তিক মাসের শেষ থেকে অগ্রহায়ণর তৃতীয় সপ্তাহ (নভেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ হতে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত)। যে সব এলাকায় ধান কাটতে ও জমি তৈরী করতে বিলম্ব হয় সে ক্ষেত্রে কাঞ্চন,আকবর, অঘ্রাণী, প্রতিভা ও গৌরব বপন করলে ভাল ফলন পাওয়া যায়।
    বপনের পদ্ধতিঃ সারিতে বা ছিটিয়ে গম বীজ বপন করা যায়। সারিতে বপনের জন্য জমি তৈরীর পর লাঙ্গল দিয়ে সরু নালা তৈরী করে ২০ সেমি দূরত্বের সারিতে ৪-৫ সেমি গভীরে বীজ বুনতে হয়। সার ব্যবস্থাপনাঃ সেচসহ চাষের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ইউরিয়া সারের দুই তৃতীয়াংশ এবং সম্পূর্ণ টিএসপি, এমওপি ও জিপসাম শেষ চাষের পূর্বে প্রয়োগ করে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। বাকী এক তৃতীয়াংশ ইউরিয়া প্রথম সেচের সময় উপরি প্রয়োগ করতে হবে। সেচছাড়া চাষের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সার অর্থাৎ ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি ও জিপসাম শেষ চাষের সময় জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। গম চাষে নীচে উল্লেখিত হারে সার ব্যবহার করা প্রয়োজন।
    সারের নাম সারের পরিমান/শতকে সেচসহ সেচছাড়া সারের পরিমান/হেক্টর সেচসহ সেচছাড়া ইউরিয়া ৭২৯-৮৯১ গ্রাম ৫৬৭-৭২৯ গ্রাম ১৮০-২২০ কেজি ১৪০-১৮০ কেজি টিএসপি ৫৬৭-৭২৯ গ্রাম ৫৬৭-৭২৯ গ্রাম ১৪০-১৮০ কেজি ১৪০-১৮০ কেজি এমপি ১৬২-২০২ গ্রাম ১২১-১৬২ গ্রাম ৪০-৫০ কেজি ৩০-৪০ কেজি জিপসাম ৪৪৫-৪৮৬ গ্রাম ২৮৩-৩৬৪ গ্রাম ১১০-১২০ কেজি ৭০-৯০ কেজি গোবর/কম্পোষ্ট ২৮-৪০ কেজি ২৮-৪০ কেজি ৭-১০ টন ৭-১০ টন
    সেচআগাছা ব্যবস্থাপনাঃ মাটির প্রকার ভেদে সাধারণত ২-৩টি সেচের প্রয়োজন হয়। প্রথম সেচ চারার তিন পাতার সময় (বপনের ১৭-২১ দিন পরে), দ্বিতীয় সেচ গমের শীষ বের হওয়ার সময়। (বপনের ৫৫-৬০ দিন পর) এবং তৃতীয় সেচ দানা গঠনের সময় (বপনের ৭৫-৮০ দিন পর) দিতে হবে। জমিতে আগাছা দেখা দিলে সাথে সাথে আগাছা দমনের ব্যবস্থা নিতে হবে।
    পোকামাকড়ব্যবস্থাপনাঃ

    রোগব্যবস্থাপনাঃ

    গমের পাতার মরিচা রোগ দমনঃ পাক্‌সিনিয়া রিকন্ডিটা নামক ছত্রাকের আক্রমণে এ রোগ হয়ে থাকে। প্রথমে পাতার উপর ছোট গোলাকার হলুদাভ দাগ পড়ে। শেষ পর্যায়ে এই দাগ মরিচার মত বাদামি বা কালচে রংয়ে পরিনত হয়। হাত দিয়ে আক্রান্ত পাতা ঘষা দিলে লালচে মরিচার মত গুড়া হাতে লাগে। এ রোগের লক্ষণ প্রথমে নিচের পাতায়, তারপর সব পাতায় ও কান্ডে দেখা যায়। দেশের উত্তরাঞ্চলে এ রোগ বেশী হয়ে থাকে।
    প্রতিকারঃ ১. রোগ প্রতিরোধী গমের জাত কাঞ্চন, আকবর, অঘ্রাণী, প্রতিভা, সৌরভ ও গৌরবের চাষ করতে হবে। ২. সুষম হারে সার প্রয়োগ করতে হবে। ৩. টিল্ট ২৫০ ইসি ছত্রাক নাশক (০.০৪%) ১ মিলি আড়াই লিটার পানিতে মিশিয়ে ১২-১৫ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে

    গমের পাতার দাগ রোগ দমনঃ বাইপোরারিস সরোকিনিয়ানা নামক ছত্রাক এ রোগ ঘটায়। গাছ মাটির উপর আসলে প্রথমে নীচের পাতাতে ছোট ছোট বাদামি ডিম্বাকার দাগ পড়ে। পরবর্তীতে দাগ সমূহ আকারে বাড়তে থাকে এবং গমের পাতা ঝলস দেয়। রোগের জীবাণু বীজে কিংবা ফসলের পরিত্যক্ত অংশে বেঁচে থাকে। বাতাসের অধিক আদ্রতা এবং উচ্চ তাপমাত্রা (২৫ ডিগ্রী সে.) এ রোগ বিস্তারের জন্য সহায়ক।
    প্রতিকারঃ

    ১. রোগমুক্ত জমি হতে বীজ সংগ্রহ করতে হবে। ২. গাছের পরিত্যক্ত অংশ সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। ৩. প্রতি কেজি গম বীজে ২.৫-৩.০ গ্রাম ভিটাভেক্স-২০০ মিশিয়ে বীজ শোধন করতে হবে। ৪. টিল্ট-২৫০ ইসি (০.০৪%) এক মিলি প্রতি আড়াই লিটার পানিতে মিশিয়ে ১২ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
    গমের গোড়া পচা রোগ দমনঃ স্কেলেরোশিয়াম রলফসি নামক ছত্রাক দ্বারা গমের এ রোগ হয়। এই রোগের ফলে মাটির সমতলে গাছের গোড়ায় হলদে দাগ দেখা যায়। পরে তা গাঢ় বাদামি বর্ণ ধারণ করে এবং আক্রান্তস্থানের চারিদিক ঘিরে ফেলে। পরবর্তীতে পাতা শুকিয়ে গাছ মারা যায়। রোগের জীবাণু মাটিতে কিংবা ফসলের পরিত্যক্ত অংশে দীর্ঘ দিন বেঁচে থাকে। সাধারণত বৃষ্টির পানি, সেচের পানি দ্বারা এক জমি হতে অন্য জমিতে বিস্তার লাভ করে।
    প্রতিকারঃ

    ১. রোগ প্রতিরোধী কাঞ্চন, আকবর, অঘ্রাণী, প্রতিভা, সৌরভ ও গৌরব জাতের চাষ করতে হবে। ২. মাটিতে সব সময় পরিমিত আর্দ্রতা থাকা প্রয়োজন। ৩. ভিটাভেক্স-২০০ নামক ঔষধ প্রতি কেজি বীজে ২.৫-৩.০ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধন করতে হবে।

    গমের আলগা ঝুল রোগ দমনঃ আসটিলেগো ট্রিটিসি নামক ছত্রাকের আক্রমণে এ রোগ হয়। গমের শীষ বের হওয়ার সময় এ রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। উক্ত ছত্রাকের আক্রমণের ফলে গমের শীষ প্রথম দিকে পাতলা পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে। পরে তা ফেটে যায় এবং দেখতে কালো ঝুলের মত দেখায়। ছত্রাকের বীজকণা সহজেয় বাতাসের মাধ্যমে অন্যান্য গাছে এবং অন্য জমির গম গাছে সংক্রমিত হয়। রোগের জীবাণু বীজের ভ্রুণে জীবিত থাকে। পরবর্তী বছর আক্রান্ত বীজ জমিতে বুনলে বীজের অংকুরোদগমের সময় জীবাণুও সক্রিয় হয়ে উঠে।
    প্রতিকারঃ

    ১. রোগ প্রতিরোধী কাঞ্চন, আকবর, অঘ্রাণী, প্রতিভা, সৌরভ ও গৌরব জাতের চাষ করতে হবে। ২. রোগমুক্ত জমি হতে বীজ সংগ্রহ করতে হবে। ৩. ভিটাভেক্স-২০০ ঔষধ প্রতি কেজি বীজে ২.৫-৩.০ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধন করতে হবে।

    গম বীজের কালো দাগ রোগ দমনঃ ডেক্সলেরা প্রজাতির ও অলটারনারিয়া প্রজাতির ছত্রাক দ্বারা গমের এ রোগ হয়। এ রোগের ফলে গমের খোসায় বিভিন্ন আকারের বাদামি অথবা কালো দাগ পড়ে। বীজের ভ্রুণে দাগ পড়ে এবং পরবর্তীতে দাগ সম্পূর্ণ বীজে ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগের জীবাণু বীজের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়ে থাকে।
    প্রতিকারঃ

    ১. সুস্থ্য বীজ সংগ্রহ করে বপন করতে হবে। ২. ভিটাভেক্স-২০০ নামক ঔষধ প্রতি কেজি বীজে ২.৫-৩.০ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধন করতে হবে।
    ফসল সংগ্রহঃ চৈত্র মাসের প্রথম থেকে মধ্য-চৈত্র (মার্চের শেষ থেকে এপ্রিলের প্রথম) পর্যন্ত কেটে গম সংগ্রহ করতে হয়।

    তিসি চাষ

  • Share The Gag
  • তিসি চাষ

    ফসলের নাম-তিসি (Linseed)

    উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম: Linum Utitatissimum Linn.

    পরিবার: Linaceae.
    ১.  পুষ্টিমূল্য/উপাদান : প্রোটিন, তেল, কার্বোহাইড্রেট, ছাই, আঁশ বিদ্যমান।
    ৩.  ব্যবহার : যন্ত্রপাতির জন্য গ্রিজ ও সাবান তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
    ৪.  উপযুক্ত জমি মাটি : এঁটেল মাটি তিসি চাষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী। পলি দো-আঁশ ও এঁটেল দো-আঁশ মাটিতেও এর চাষ করা যায়।
    ৫.  জাত পরিচিতি : নীলা (লিন-১)

    জাতটি বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়েছে এবং ১৯৮৮ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত হয়। জাতটির বৈশিষ্ট্য হলো-বীজ ছোট ও চেপ্টা। ফল ১০০০ বীজের ওজন ৩.০-৩.৫ গ্রাম। ফুলের রং নীল। বীজ হাতে ধরলে পিচ্ছিল অনুভূত হয়। বীজে তেলের রিমাণ শতকরা ৩৮ ভাগ। হেক্টর প্রতি ফলন ৮৫০-৯৫০ কেজি।
    ৬. বীজ বপন : কার্তিক মাস (মধ্য অক্টোবর হতে বীজ ছিটিয়ে বপন করতে হয়। তবে সারিতে বপন করলে সারি থেকে সারির দূরত্ব হবে ৩০ সে.মি.।
    ৭. বীজের হার :     ৭-৮ কেজি/হেক্টর।
    ৮. সারব্যবস্থাপনা : সাধারণত তিসি বিনা সারে চাষ করা হয়। তবে ভালো ফলন পেতে হলে নিম্নরূপ হারে সার প্রয়োগ করতে হবে।
    সার               হেক্টর প্রতি সারের পরিমাণ (কেজি)
    ইউরিয়া          ৭০-৮০
    টিএসপি           ১১০-১৩০
    এমওপি           ৪০-৫০
    ইউরিয়া সার অর্ধেক ও বাকি অন্যসব সার শেষ চাষের সময় জমিতে মিশিয়ে দিতে হবে। বাকি অর্ধেক ইউরিয়া বীজ বপনের ২৫-৩০ দিন পর প্রয়োগ করতে হবে।
    ৯.  সেচ আগাছা ব্যবস্থাপনা : প্রয়োজনে ১-২ বার সেচ দিতে হবে। আর জমিতে আগাছা থাকলে সময়মতো আগাছা দমন করতে হবে।

    ১০. পোকা মাকড় ব্যবস্থাপনা : পোকামাকড়ের আক্রমণ উল্লেখযোগ্য নহে।

    ১১. রোগ ব্যবস্থাপনা:
    রোগের নাম: পাতা ঝলসানো রোগ

    ভূমিকা: অলটারনেরিয়া লিনি নামক একপ্রকার ছত্রাকের সাহায্যে এ রোগ ছড়ায়। এটি একটি বীজবাহিত রোগ।

    ক্ষতির নমুনা : প্রথমে পাতার উপর ঘন বাদামী বর্ণের অসম আকৃতির দাগ পড়ে। রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেলে পাতা শুকিয়ে যায়।

    অনুকূল পরিবেশ :আর্দ্র আবহাওয়া

    বিস্তার: বাতাসের সাহায্যে এ রোগ বিস্তার লাভ করে।

    ব্যবস্থাপনা:

    ক) বীজ শোধন : বীজ বপনের পূর্বে প্রতি কেজি বীজে ২.৫ গ্রাম ভিটাভেক্স-২০০ দিয়ে বীজ শোধন করতে হবে।
    খ) আগাছা দমনসহ ফসলের পরিচর্যার মাধ্যমে রোগের প্রাদুর্ভাব কমানো যায়।
    গ) গাছে এ রোগের লক্ষণ দেখা দেয়া মাত্র প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম রোভরাল-৫০ ডব্লিউপি মিশিয়ে ১০ দিন পরপর ৩ বার স্প্রে করতে হবে।
    ১২.  ফসল তোলা : তিসি ফাল্গুন-চৈত্র মাসে পাকে। পাকলে গাছ এবং ফল সোনালী বা কিছুটা তামাটে রং ধারণ করে। ফল ভালভাবে পাকার পরই গাছ কাটা বা উপড়ানো উচিৎ। ফসল কেটে বা উপড়িয়ে নেয়ার পর গাছগুলো ছোট ছোট আঁটি বেঁধে বাড়ির আঙ্গিনায় স্তুপ করে রাখা যায়। জীবনকাল ১০০-১১৫ দিন।

    [paypal_donation_button]

    সূর্যমুখী চাষ বিস্তারিত

  • Share The Gag




  • পুষ্টিমূল্য ও ভেষজগুণঃ সূর্যমুখীর বীজে ৪০-৪৫% লিনোলিক এসিড রয়েছে, তাছাড়া এতেলে ক্ষতিকারক ইরোসিক এসিড নেই। হৃদরোগীদের জন্য সূর্যমুখীর তেল খুবই উপকারী।




    ব্যবহারঃ সূর্যমুখীর খৈল গরু ও মহিষের উৎকৃষ্টমানের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বীজ ছাড়ানোর পর মাথাগুলো গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। গাছ ও পুষ্পস্তবক জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হয়।




    উপযুক্ত জমি ও মাটিঃ সূর্যমুখী সাধারণত সব মাটিতেই জন্মে। তবে দো-আঁশ মাটি সবচেয়ে বেশী উপযোগী।




    জাত পরিচিতিঃ এ পর্যন্ত বারি কর্তৃক ২টি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। যথা (১) কিরণী (ডিএস-১) এবং বারি সুর্যমুখী-২।




    কিরণীঃ ১৯৯২ সালে জাতটির অনুমোদন দেয়া হয়। বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতটি উদ্ভাবন করা হয়। জাতটির কান্ডের ব্যাস ১.৫-২.০ সে.মি.। পরিপক্ক পুষ্পমঞ্জুরী বা শাখার ব্যাস ১২-১৫ সে.মি.। প্রতি মাথায় বীজের সংখ্যা ৪০০-৬০০। বীজের রং কালো। ১০০০ বীজের ওজন ৬৮-৭২ গ্রাম। বীজে তেলের পরিমাণ শতকরা ৪২-৪৪ ভাগ। জাতটি মোটামুটি অলটারনারিয়া রোগ সহনশীল। জীবনকাল ৯০-১১০ দিন। হেক্টর প্রতি ফলন ১.৬ হতে ১.৮ টন।




    বারি সূর্যমুখী-২: গাছের কান্ডের ব্যাস ২.০-২.৪ সে.মি.। পরিপক্ক পুষ্পমঞ্জুরী বা শাখার ব্যাস ১৫-১৮ সে.মি.। বীজের রং কালো। ১০০০ বীজের ওজন ৬৫-৭০ গ্রাম। প্রতি মাথায় বীজের সংখ্যা ৪৫০-৬৫০। তেলের পরিমাণ শতকরা ৪২-৪৪ ভাগ। জীবনকাল রবি মৌসুমে ৯৫-১০০ দিন এবং খরিফ মৌসুমে ৯০-৯৫ দিন। হেক্টর প্রতি ফলন রবি মৌসুমে ২.০ হতে ২.৩ টন এবং খরিপ মৌসুমে ১.৫ হতে ১.৮ টন।




    বোনার সময়ঃ সূর্যমুখী সারা বছর চাষ করা যায়। তবে অগ্রহায়ন মাসে চাষ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। দেশের উত্তর ও পশ্চিম অঞ্চলে তাপমাত্রা ১৫ সেন্টিগ্রেড এর নিচে হলে ১০-১২ দিন পরে বীজ বপন করা উচিত। খরিফ-১ মৌসুমে জৈষ্ঠ্য (মধ্য এপ্রিল থেকে মধ্য মে) মাসেও এর চাষ করা যায়।




    বপন পদ্ধতি ও বীজের হারঃ  সূর্যমুখী বীজ সারিতে বুনতে হয়। সারি থেকে সারির দূরত্ব ৫০ সেন্টিমিটার এবং গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ২৫ সেন্টিমিটার। এভাবে বুনলে প্রতি হেক্টরে (২৪৭ শতকে) ৮-১০ কেজি বীজ লাগে। বারি সূর্যমূখী-২ এর জন্য হেক্টর প্রতি ১২-১৫ কেজি বীজের দরকার হয়।




    সার ব্যবস্থাপনাঃ ভালো ফলনের জন্য সূর্যমুখীতে নিম্নরূপ সার ব্যবহার করতে হবে।






































    সারের নাম

    সারের পরিমাণ/হেক্টর

    ইউরিয়া

    ১৮০-২০০ কেজি

    টিএসপি

    ১৫০-২০০ কেজি

    এমওপি

    ১২০-১৫০ কেজি

    জিপসাম

    ১২০-১৭০ কেজি

    জিংক সালফেট

    ৮-১০ কেজি

    বরিক এসিড

    ১০-১২ কেজি

    ম্যাগনেসিয়াম সালফেট

    ৮০-১০০ কেজি




    * রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নওগাঁ ও রাজশাহী এলাকার জন্য প্রযোজ্য




    সার প্রয়োগ পদ্ধতিঃ অর্ধেক ইউরিয়া এবং বাকি সব সার শেষ চাষের সময় জমিতে ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। বাকি অর্ধেক ইউরিয়া ২ ভাগ করে প্রথম ভাগ চারা গজানোর ২০-২৫ দিন এবং দ্বিতীয় ভাগ ৪০-৪৫ দিন পর (ফুল ফোটার পূর্বে) প্রয়োগ করতে হবে।




    পোকামাকড় ব্যবস্থাপনাঃ




    পোকার নামঃ বিছা পোকা ছোট অবস্থায় এরা দলবদ্ধভাবে থাকে। কীড়া বা বিছা হলুদ রংয়ের এবং গায়ে কাঁটা থাকে। এরা সাধারণত গাছের পাতায় আক্রমণ করে। এ পোকার কীড়া দলবদ্ধভাবে থেকে পাতার সবুজ অংশ খেয়ে পাতাকে পাতলা সাদা পর্দার মতো করে ফেলে।




    ব্যবস্থাপনাঃ সহ পোকা দেখার সংগে সংগে গাছ থেকে পোকাসহ পাতা সংগ্রহ করে পোকা মেরে ফেলতে হবে। সেচ নালায় কেরোসিন মিশ্রিত পানি থাকলে কীড়া পানিতে পড়ে মারা যায়। আক্রমণ বেশি হলে নাইট্রো (সাইপরমেথ্রিন+ ক্লোরোপাইরিপস) ২০ ইসি ২ মিলিলিটার প্রতি লিটার পানিতে আক্রান্ত ক্ষতে ১০ দিন পর পর ২ বার ছিটিয়ে পোকা দমন করা যায়।




    রোগের নামঃ পাতা ঝলসানো রোগ




    ক্ষতির নমুনাঃ অলটারনেরিয়াহেলিয়ানথী নামক ছত্রাকের সাহায্যে এ রোগ ছড়ায়। আক্রমণের শুরুতে পাতায় ধুসর বা গাঢ় বাদামী বর্ণের অসম আকৃতির দাগ পড়ে। এ দাগগুলো একত্রে মিলিত হয়ে বড় দাগের সৃষ্টি করে এবং অবশেষে পুরো পাতা ঝলসে যায়। বীজ এবং বায়ুর সাহায্যে বিসত্মার লাভ করে।




    ব্যবস্থাপনাঃ রোগসহনশীল জাতের আবাদ করা (যেমন-কিরণী)। প্রতি লিটার পানির সাথে ২ গ্রাম রোভরাল-৫০ ডব্লিউ পি মিশিয়ে ১০ দিন পর পর ৩ বার সেপ্র করা বা ফসল কাটার পর পরিত্যক্ত কান্ড, মূল ও পাতা পুড়িয়ে ফেলা।




    অন্যান্য করণীয়ঃ




    বীজ শোধনঃ মাটি ও বীজ থেকে সুষ্ট বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের জন্য বীজ শোধন খুব দরকারি। ভিটাভেক্স-২০০ ছত্রাকনাশক দিয়ে বীজ শোধন করা যায়। প্রতি কেজি সূর্যমুখী বীজের জন্য মাত্র ৩ (তিন) গ্রাম ভিটাভেক্স-২০০ প্রয়োজন। এটি বড় প্লাস্টিকের ঢাকনা দেয়া পাত্রে সূর্যমুখীর বীজ নিয়ে পরিমাণমতো ঔষধ মিশিয়ে পাত্রের মুখ বন্ধ করে ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে ১ দিন রেখে দেয়ার পর বীজ জমিতে বপন করতে হবে।




    গাছ পাতলাকরণঃ অতিরিক্ত গাছ থাকলে চারা গজানোর ১৫-২০ দিন পর প্রতি হিলে/গোছায় ১টি করে সুস্থ সবল গাছ রেখে বাকি গাছহুলো উঠয়ে ফেলতে হবে।




    সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনাঃ সূর্যমুখী ফসলের ফলন বেশী পেতে হলে কয়েকবার সেচ দেয়া প্রয়োজন। প্রথম সেচ বীজ বপনের ৩০ দিন পর (গাছে ফুল আসার আগে), দ্বিতীয় সেচ বীজ বপনের ৫০ দিন পর (পুষ্পস্তবক তৈরির সময়) এবং তৃতীয় সেচ বীজ বপনের ৭০ দিন পর (বীজ পুষ্ট হবার আগে) সেচ দেয়া দরকার।সূর্যমুখীর জমি সর্বদা আগাছামুক্ত রাখতে হবে। জমিতে আগাছা দেখা দিলে সেটি তুলে ফেলতে হবে।




    ফসল তোলাঃ ৯০-১১০ দিনের মধ্যে ফসল তোলা যায়।




    বীজ সংরক্ষণঃ সূর্যমুখীর বীজ পরের মৌসুমে লাগানোর জন্য বীজ সংরক্ষণ করতে হয়। বীজ সংরক্ষণের আগে অপরিপক্ক ও ভাঙ্গা বীজ বেছে ফেলতে হবে। মোটা পলিথিন ব্যাগে বা কেরোসিন টিন বা টিনের ড্রামে বীজ সংরক্ষণ করা ভালো। ভেতরে পলিথিন দিয়ে চটের বসত্মায় ভালোভাবে শুকানো বীজ প্রতি ৩০ কেজির জন্য ২৫০ গ্রাম ক্যালসিয়াম ক্লোরাইডসহ সংরক্ষণ করলে ৭-৮ মাস পরেও বীজের শতকরা ৮০ ভাগ অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা বজায় থাকে। বর্ষাকালে এক থেকে দু’বার বীজ পুনরায় রোদে শুকিয়ে নেয়া ভালো।




    কৃষি শ্রমিকদের সংগঠন কৃষি শ্রমিক অধিকার ফোরামের যাত্রা শুরু

  • Share The Gag
  • দেশের কৃষি শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণে জাতীয় ও সামাজিক পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচি নিয়ে কৃষি শ্রমিক অধিকার ফোরামের (কেএসএফ) যাত্রা শুরু হয়েছে।

    বুধবার (১১ মে) সকাল ১২টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ লেবার ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (বিএলএফ) এবং বাংলাদেশ অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (ওশি) যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    কৃষির সব শ্রমিকদের এক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মিকাইল শিপার বলেন, কৃষি শ্রমিকরা সংগঠিত নয়। তারা সংগঠিত না হলে অধিকার আদায় করা সম্ভব নয়।

    এ সময় সচিব দেশের সব ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠনগুলোকে সংগঠিত হয়ে এক প্লাটফর্মে কাজ করার অনুরোধ জানান।

    তিনি বলেন, দেশের শ্রমিকদের যান্ত্রিক জ্ঞান নেই। এ কারণে যদি তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলা যায় তবে তারা ভালো করতে পারবে।

    সংগঠনটি সম্পর্কে প্রস্তাবনা তুলে ধরেন ওশির নির্বাহী পরিচালক এ আর চৌধুরী রিপন এবং এর আগে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেশের কৃষি শ্রমিকদের দুর্দশা, তাদের সমস্যা নিয়ে একটি ভিডিও তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

    বাংলাদেশ লেবার ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবদুস সালামের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন ওশি ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন সাকী রিজওয়ানা, বিএলএফের মহাসচিব জেড এম কামরুল আনাম, ড. ওয়াজেদুল ইসলাম, কামরুল হাসান, আবদুল মুকিত খান, অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন ও হেদায়াতুল ইসলাম প্রমুখ।

     

    পঞ্চগড়ে হাইব্রিড জাতের বেগুন চাষ বেড়েছে

  • Share The Gag
  • হাইব্রিড জাতের বেগুন চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে এই অঞ্চলের কৃষকরা। তুলনামুলক কম সময়ে অধিক ফলন হওয়ায় তারা ব্যাপক হারে এ জাতের বেগুন চাষ করছে।

    জানা গেছে, উপজেলায় ছয় থেকে সাত ধরনের হাইব্রিড জাতের বেগুন চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে লুনা, তারাপুরী বারি-২, কাজলা বারি-৪, নয়ন তারা ও বারি-৫ ও বিজয়। সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে হাইব্রিড লুনা ও কাজলা জাতের বেগুন।
    কৃষকরা জানান, এই দুই জাতের বেগুন সারাবছর উৎপাদন করা যায়। এ ছাড়া গাছের সব শাখা প্রশাখায় বেগুন ধরে। চারা রোপণের দুই মাসের মধ্যে বেগুন উত্তোলন করা যায় এবং প্রচুর পরিমাণ ফলন দেয়।

    ঝলই শালশিড়ি ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে তিনি চার বিঘায় হাইব্রিড লুনা ও কাজলা বারি জাতের বেগুন চাষ করেছেন। তিনি বলেন, হাইব্রিড জাতের বেগুন চাষ খুব লাভজনক। এটি দ্রুত বেড়ে ওঠে ও অধিক ফলন হয়। তবে বেগুনটি চাষে খরচ একটু বেশি হয় বলেও তিনি জানান।

    বেংহারি ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামের চাষি বাবুল হোসেন জানান, তিনি তিন বিঘা জমিতে হাইব্রিড জাতের বেগুন চাষ করেছেন। উৎপাদন খরচ বাদে ৮০ হাজার টাকার বেগুন তিনি বিক্রি করেছেন। তিনি আরও ৪০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রির আশা করছেন।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ২১০ হেক্টর জমিতে বেগুন চাষ করা হয়েছে।
    উপজেলা কৃষি অফিসার এনামুল হক জানান, এ জাতের বেগুন বছরের সবসময় কম বেশি চাষ হয়ে থাকে। হাইব্রিড জাতের চারা রোপনের সঙ্গে সঙ্গে সেচ,সার ও কীটনাশক অতি জরুরি। তিনি বলেন বেগুনের শশ্রু ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা। এসব দমন না করতে পারলে চাষির ব্যাপক ক্ষতি হয়ে যায়। ফলে ব্যাপক পরিচর্যা করার জন্য খরচ একটু বেশি হয়ে থাকে।

    ঘিওরে মিষ্টি কুমড়ায় কৃষকের মুখে মিষ্টি হাসি

  • Share The Gag
  • মিষ্টি কুমড়া চাষ করে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। ফলে এখানে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে মিষ্টি কুমড়ার চাষ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক চাষি অন্যান্য ফসলের (সাথি ফসল) সাথে মিষ্টি কুমড়া চাষ করে সংসারে এনেছেন স্বচ্ছলতা। অল্প সময়, স্বল্প খরচ আর ভালো ফলনে ওই অঞ্চলের কৃষকরা সত্যিই অনেক খুশি। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঘিওরে প্রায় সাড়ে চার শ' হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে। কৃষকরা কার্তিক-অগ্রাহায়ন মাসে ফুলকপির চাষ করে। একই জমিতেই মাসের মাঝামাঝি সময়ে মিষ্টি কুমড়ার বীজ বপন করে। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত মিষ্টি কুমড়ার ফলন পাওয়া যায়।

    অন্যান্য ফসলের সাথে কুমড়া আবাদ করায় এতে কৃষকদের আলাদা কোনো খরচ করতে হয় না। সরোজমিনে দেখা গেছে, জেলার প্রতিটি উপজেলাতেই কমবেশি মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়ে থাকে। তবে ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া, চঙ্গশিমুলিয়া, মাইলাগি, বড়বিলা, নীলা, বাঙ্গালা, বালিয়াখোড়া, বরুরিয়া, পয়লা, কুইষ্টা গ্রামে উল্লেখযোগ্য হারে কুমড়ার আবাদ হয়।

    এখানকার উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়া মানিকগঞ্জ কাঁচা বাজার আড়ত, আশুলিয়ার বাইপাইল সবজী আড়ত ও রাজধানীর কাওরান বাজারে পাইকারী দরে বিক্রি করছেন কৃষকরা। চলতি বছর ৯০ শতাংশ জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করেছেন উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের পুরাণ গ্রামের কৃষক মইজুদ্দিন মিয়া। তিনি জানান, কুমড়া চাষে জমিতে বিঘাপ্রতি খরচ প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। আর প্রতি বিঘাতে কুমড়া বিক্রি করে লাভ হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা।

    পয়লা গ্রামের কৃষক হেলাল উদ্দিন জানান, এক বিঘা জমি থেকে সবোর্চ্চ ১১শ’ থেকে ১২শ’ কুমড়া পাওয়া যায়। প্রতিটি কুমড়ার দাম আকার ভেদে ১০ টাকা থেকে ৪০ টাকা দরে ক্ষেত থেকেই পাইকারী ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যায়। তাই আমাদের বাড়তি কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না। পাইকারী ক্রেতা মজনু বিশ্বাস জানান, অন্যান্য এলাকার চেয়ে এখানকার উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়া সুস্বাদু ও আকৃতিতে বড় হয় বলে চাহিদা বেশি। এবছর তিনি তিন লাখ টাকার মিষ্টি কুমড়া পাইকারী কিনেছেন। লক্ষাধিক টাকার ওপরে লাভের আশা করছেন তিনি। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবীদ আশরাফ উজ্জামান জানান, কৃষকরা ফুলকপি, আলু, আখ চাষের সাথে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করছে।

    কম খরচে ভালো লাভ পাচ্ছেন। তাই দিন দিন এখানকার কৃষকরা মিষ্টি কুমড়া আবাদে ঝুঁকে পরছে। এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে।

    [paypal_donation_button]

    Tuesday, May 10, 2016

    ধানসহ কৃষি পণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের দাবি

  • Share The Gag
  • ধানসহ কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণের দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্ট।শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে তারা এ দাবি জানান।

    এ সময় প্রতি ইউনিয়নে সরকারি ক্রয় কেন্দ্র খুলে প্রকৃত কৃষকের কাছে থেকে সরাসরি ধান ক্রয়ের দাবিও জানান সংগঠনের নেতারা।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কৃষকদের ফসল উঠতে শুরু করেছে।কৃষকদের কাছে এই মাস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।ফসল বিক্রর টাকা দিয়ে কৃষক পরিবার সারা বছর সংসার পরিচালনা করে।

    ধান উৎপাদনে খরচ যা হয়, তার চেয়ে অনেক কম দাম পাচ্ছে কৃষকরা। ফলে তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন বক্তারা।

    সরকার নির্ধারিত মূল্য কৃষকের জন্য মোটেও যথাযথ নয় উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে ক্রয়কেন্দ্র খুলে ন্যায্য মূল্যে ধান কিনতে হবে।

    সংগঠনের সভাপতি বজলুল রশিদ ফিরোজের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন শামছুন আরা জোসনা, বাসদ নেতা জুলফিকার আলী সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের নেতা কর্মীরা।