Wednesday, May 4, 2016

কিভাবে বুঝবেন আমে বিষ !!

  • Share The Gag
  • ফলে মেশানো স্বাস্থের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর কেমিক্যালকে অনেকে ‘বিষ’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। গ্রীষ্মকালীন ফল, বিশেষ করে রাসায়নিকমুক্ত আম পেতে ফলের বোঁটা শুষ্ক কি না, তা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বোঁটা শুষ্ক হলে বুঝতে হবে, এতে রাসায়নিক মিশ্রিত রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বিষাক্ত ফলের কারণে রাজশাহী অঞ্চলে অনেক শিশুর মৃত্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক ম্যাংগো রিসার্চ সেন্টারের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, “যখন আপনি আম অথবা এ ধরনের গ্রীষ্মকালীন ফলের বোঁটা শুষ্ক দেখবেন, নিশ্চিত হবেন এতে রাসায়নিক মেশানো হয়েছে। মারাত্মক ক্ষতিকর ক্যালসিয়াম কার্বাইডের পাশাপাশি ইথাফোন গ্রীষ্মকালীন ফলে ব্যবহার করা হয়ে থাকে ফল রাতারাতি পাকানো ও আকর্ষণীয় রঙের জন্য এবং ফরমালিন ব্যবহার করা হয় ফল সংরক্ষণের জন্য।”

    ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমে মিশ্রিত কার্বাইডের মতো রাসায়নিক মানব স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং এতে মৃত্যু ঝুঁকি রয়েছে। এই রাসায়নিক শরীরে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে।”

    দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আম নগদ অর্থ আয়কারী প্রধান মৌসুমি ফল এবং এই সুস্বাদু ফলের জন্য বিখ্যাত রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অর্থনীতিতে আমের প্রাধান্য রয়েছে।

    ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা বাসস জানায়, মাত্র ১০০ গ্রাম ক্যালসিয়াম কার্বাইড প্রায় ১০০ কেজি আম পাকাতে পারে। এই রাসায়নিক ক্যানসার, কিডনি ও লিভার সমস্যায় মানুষের মৃত্যু ঘটাতে পারে।

    লোভী ব্যবসায়ী ও জড়িত অন্যরা আম ও লিচুতে দুই পর্যায়ে অবাধে বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশাচ্ছে। অসময়ের ফলে সাধারণত রাসায়নিক মিশ্রিত থাকে।

    রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দিন বলেন, ব্যবসায়ীরা তিনটি পর্যায়ে রাসায়নিক মেশাচ্ছে। অতি লাভের জন্য ফল পাকানো ও সংরক্ষণের জন্য রাসায়নিক মেশানো বন্ধ করতে আরো প্রচার কার্যক্রমের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি।

    ড. আলীম উদ্দিন রাসায়নিক ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনগণের পাশাপাশি আম উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের সচেতনতা তৈরির প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

    [paypal_donation_button]

    ভারত থেকে আসছে ‘বিষাক্ত সিঁদুরকৌটা ও রুপালি ভোগ আম

  • Share The Gag
  • যশোরের শার্শা উপজেলার বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারত থেকে আসছে ‘বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানো’ সিঁদুরকৌটা ও রুপালি ভোগ আম।

    শার্শা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে এসব আম বেনাপোলে এসব আম ‘সুন্দরী’ নামে পরিচিত। এখন বেশ পাওয়া যাচ্ছে।বৈধপথে আম আমদানির ব্যবস্থা থাকলেও লাভ কম হয় বলে অবৈধভাবে এগুলো আসছে বলে সংশি¬ষ্টরা জানান।হলুদের আভা এবং বোঁটার দিকে টকটকে লাল এই আম দেখলে মনে হবে হলুদ আলতার মিশ্রণ, যা সহজেই ক্রেতাকে আকৃষ্ট করে।বিক্রেতারা থরে থরে সাজিয়ে রেখেছেন আমগুলো। দিনের পর দিন দোকানে থেকে গা কুঁচকে গেলেও নষ্ট হচ্ছে না।

    শার্শার বাগআচড়ার ফল ব্যবসায়ী গোলাম আজম বলেন, ভারতের ব্যবসায়ীরা বিষাক্ত রাসায়নিক স্প্রে করে ফলের রং উজ্জ্বল ও পাকানোর ব্যবস্থা করে। এরপর ফরমালিন দিয়ে আমগুলো সজীব রাখে।ভারতের মাদ্রাজ থেকে এ আম আসে বলে জানান তিনি।

    বেনাপোলের ফল ব্যবসায়ী শওকত আলি বলেন, প্রতিবছর মৌসুম শুরর আগেই যশোরের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ‘চোরাই পথে’ আসা ভারতীয় ‘সুন্দরী’ আমে বাজার ভরে যায়। এবারও একই অবস্থা। দামও চড়া। প্রতি কেজি আম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়।আম কিনতে আসেন শার্শার পাপিয়া সুলতানা ও মিনা বেগম।পাপিয়া বলেন, “দেশি আম বাজারে আসেনি, তাই বেশি দাম দিয়ে ভারতীয় আম কিনেছি। অন্যান্য ফলের মতো দোকান থেকে আম কিনলাম, এতে রাসায়নিক বিষ দেওয়া কিনা সেটা তো আমরা বুঝতে পারছি না।”বেনাপোল পৌর স্যানেটারি ইন্সপেক্টর (পরিদর্শক) রাসিদা খাতুন বলেন, ভারত থেকে আসা আমসহ বিভিন্ন ফলের ক্যামিক্যাল পরীক্ষা করার ব্যবস্থা আমাদের নেই। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, স্থানীয়ভাবে ফলে রাসায়নিক ব্যবহারে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা ধাকায় কাজটি বন্ধ রয়েছে।

    বেনাপোল সি এন্ড এফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন বলেন, বৈধভাবে আমদানি করলে লাভ তেমন হয় না। তাই অবৈধপথে এসব আম এখন বাংলাদেশে আসছে।

    [paypal_donation_button]

    Tuesday, May 3, 2016

    কৃষি ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবিতে সিলেটে মানববন্ধন

  • Share The Gag
  • সিলেটের কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবিতে মানববন্ধন পালন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেলা ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ মানববন্ধন পালন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইনস্টিটিউটের শিক্ষা ব্যবস্থায় রয়েছে বিভিন্ন সমস্যা। কোর্স সম্পন্ন করার পর নেই কোনো উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা। তাই এই জর্জরিত শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে মুক্তি চাই। শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে না নিলে কঠোর আন্দোলনে যাবেন বলে বক্তারা উল্লেখ করেন। কৃষি ডিপ্লোমা ছাত্র পরিষদ সিলেটের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেনের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক আমীর হামজার পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখে সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন। বক্তব্য রাখেন সৌরভ, কাশেম, ইয়াহিয়া, এনামুল, আজিজুর, জাহিদুল, মিজান, সাথী, কেয়া, স্বর্ণ লাবণী, পারমিতা, নোমান, আমিনুল আজহারুল, নুরুল আমিন, আশিকুর রহমান প্রমুখ।

    [paypal_donation_button]

    ঝিনাইদহে কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

  • Share The Gag
  • ঝিনাইদহে পাবলিক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এ্যাডমিশন এর সুযোগ, সকল এটিআইয়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদান, সরকার কর্র্তৃক ঘোষিত ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের কাগজ ও কলমে ২য় শ্রেণীর পদমর্যাদা এই ৪দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে র‌্যালি ও মানববন্ধন করেছে কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ছাত্র-ছাত্রীরা।




    আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে এসে এক মানববন্ধনে মিলিত হয়। ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।




    ঝিনাইদহে কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন


    মানববন্ধনে বাংলাদেশ কৃষি ডিপ্লোমা ছাত্র পরিষদ এর ঝিনাইদহ জেলা শাখার সভাপতি মাহমুদুর রহমান পাপন ও সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েসসহ অন্যান্যেরা বক্তব্য রাখেন।




    এ সময় বক্তারা বলেন, আমরা সুবিধাগুলো থেকে বঞ্চিত হয়ে আছি। আমাদের যে ৪টি দাবি এগুলো মেনে নিতে হবে।


    দ্রত এই দাবি মেনে না হলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচী এমনকি সারা বাংলাদেশে যে কৃষি প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট আছে সবগুলো অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ রাখতে বাধ্য হব।


     [paypal_donation_button]

    Monday, May 2, 2016

    ছাদে ’মাছ ও সবজির সমন্বিত চাষ’

  • Share The Gag
  • বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপকে লাগবের লক্ষ্যে ভার্টিক্যাল (লম্বালম্বি) চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। বাংলাদেশও এখন আর পিছিয়ে নেই। তাই দেশের প্রচলিত হরাইজন্টাল (সমান্তরাল) চাষাবাদের পাশাপাশি নতুন ওই চাষাবাদের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা।

    এ ক্ষেত্রে বাড়ির ছাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান কৃষি বিজ্ঞানীরা। কারণ হিসেবে উঠে এসেছে উলম্ব পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে খুবই স্বল্প পরিমাণ জমির প্রয়োজন হয় কিন্তু ফলন পাওয়া যায় অনেক বেশি।

    বর্তমানে বাজারে প্রাপ্ত অধিকাংশ শাক-সবজিতে উচ্চ মাত্রার যেসব কীটনাশক ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা হয় তার মূল্যও অনেক বেশি। আর তাই কৃষকরা যেমন একদিকে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে তেমনি ঘটছে স্বাস্থ্যহানী।

    এসব দিককে কেন্দ্র করে সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে একই সাথে মাছ ও সব্জির চাষ করার পদ্ধতি আবিষ্কার করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করে আসছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের একোয়াকালচার বিভাগের প্রফেসর ড. এম এ সালাম।

    গবেষক ড. সালাম জানান, বাড়ির ছাদে কিংবা আঙিনায় সমন্বিত এই পদ্ধতিতে মাছ ও সবজি চাষ করতে কোন প্রকার রাসায়নিক সার বা কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। ফলে উৎপাদিত মাছ ও সবজি খুবই স্বাস্থ্যসম্মত। এছাড়া এই পদ্ধতিতে মাটি ছাড়াই সম্ভব হবে সবজি চাষ। সমন্বিত মাছ ও সবজি চাষের এই পদ্ধতিকে বলা হয় একোয়াপনিক্স (Aquaponics)।

    তার গবেষণালব্ধ ফল হিসেবে পাওয়া সমন্বিত এই পদ্ধতি সমন্ধে ড. সালাম বলেন, বাড়ীর আঙিনায় বা বাসার ছাদের আয়তনের উপর নির্ভর করে যেকোন আকারের প্লাস্টিক ট্যাঙ্ক অথবা ড্রামের মধ্যে পানি দিয়ে সেখানে তেলাপিয়া, মাগুর, কই, পাঙ্গাসসহ বিভিন্ন দেশীয় জাতের মাছ চাষ করেন।

    আর সবজি চাষের জন্য একটি কাঠের আলনা তৈরী করে তাতে তিন সারিতে উল্টো করে একটির নিচে আরেকটি দুইপাশে কাটা প্লাস্টিকের বোতল বসিয়ে তাতে নুড়ি পাথর দিয়ে সবজির চারা লাগাতে হবে। এবার মাছের ট্যাঙ্কের পানি বালতি করে উপরে তুলে সেখান থেকে সাইফোন প্রক্রিয়ায় ফোটাফোটা করে উপরের ওই চারা লাগানো বোতলে সরবরাহ করতে হবে। এই পানি পর্যায়ক্রমে উপর থেকে নিচে আরও দুটি বোতলের মধ্য দিয়ে গড়িয়ে একটি পাত্রে এসে জমা হয় যা পুণরায় মাছের ট্যাঙ্কে ব্যবহার করা হয়।

    বিশেষ করে মাছের ট্যাঙ্কের অ্যামোনিয়া সমৃদ্ধ পানি গাছের শিকড়ে অবস্থিত ডি-নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া ভেঙ্গে গাছের খাদ্য উপযোগী নাইট্রেটে পরিণত করে পানিকে দূষণ মুক্ত করে এবং ওই পানিকে পুণরায় মাছের ট্যাঙ্কে ব্যবহার উপযোগী করে তোলে। এ পদ্ধতিতে বিভিন্ন দেশী-বিদেশী শাকসবজি চাষ করা যায়। তবে টমেটো, শসা, করোল্লা, শিম, ব্রকলি, পুদিনা, বেগুন, দেশী লেটুসসহ আমেরিকান লেটুস ফলন বেশ ভাল হয়।

    মাছকে কি রকমের খাবার দিতে হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে ড. সালাম বলেন, ‘এই পদ্ধতিতে সবজি চাষের জন্য বাড়তি কোন প্রকার সার বা মাটির প্রয়োজন না পড়লেও মাছকে আলাদা খাদ্য বাইরে থেকে সরবরাহ করতে হবে। বাজার থেকে কিনে মাছকে যাতে খাদ্য দিতে না হয়, সেজন্য আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়ানো “কালো সৈনিক” পোকার লার্ভা মাছের প্রিয় খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এটি মাছের খুবই প্রিয় খাবার। এতে প্রচুর প্রোটিন, লিপিড এবং বিভিন্ন প্রকার খনিজ লবন রয়েছে যা মাছের দ্রুত বর্ধনে সাহায্য করে।

    নতুন এই প্রযুক্তি নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে ড. সালাম বলেন, যেহেতু প্রতিনিয়তই আমাদের দেশের চাষাবাদের জন্য জমির পরিমাণ কমছে তাই উলম্ব পদ্ধতিটি অনেকাংশে আমাদের সাহায্য করবে বলে আশা প্রকাশ করছি। কারণ, উলম্ব পদ্ধতিতে একই জায়গায় অনেকগুলো ফসল একসাথে উৎপাদন করা যায়।

    এর ফলে একদিকে যেমন জমির পরিমাণের উপর চিন্তা করতে হচ্ছে না, অন্যদিকে কীটনাশক ও রাসায়নিক ক্ষতিকর পদার্থেও হাত থেকেও রক্ষা পাওয়া যাবে। তাছাড়া খরচ ও জায়গা কম লাগায় এই পদ্ধতির মাধ্যমে আর্থিকভাবেও লাভবান হওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

    [paypal_donation_button]

    থাই লজ্জাবতী থেকে জৈব সার

  • Share The Gag
  • বেশির ভাগ মানুষের কাছে লজ্জাবতীগাছ কাঁটাওয়ালা আগাছা হিসেবে পরিচিত। কবিরাজ ছাড়া আর কারো কাছে তার কোনো দাম নেই। অথচ এই লজ্জাবতী গাছকেই কাজে লাগিয়ে এখন জৈব সার তৈরি করা হচ্ছে।

    এই জৈব সার ফসলের জমিতে ব্যবহার করে ভালো ফসলও পাওয়া যাচ্ছে। বিদেশে ভুট্টা ও বাজরার জমিতে এই জৈব সার ব্যবহার করে ভালো ফলন পাওয়া গেছে অনেক আগেই।

    সম্প্রতি আমাদের দেশেও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর লজ্জাবতীর জৈব সার তৈরি ও ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে তা চাষীদের মধ্যে সম্প্রসারণের চেষ্টা চালাচ্ছে।

    তবে বলে রাখি, যে লজ্জাবতীগাছ থেকে জৈবসার তৈরি করা হয় সেটি কিন্তু মোটেই আমাদের দেশীয় লজ্জাবতীর গাছ নয়, থাই লজ্জাবতী। দেশীয় লজ্জাবতীগাছ কাঁটাওয়ালা, ছোট, কাণ্ড তুলনামূলকভাবে শক্ত, বৃদ্ধি কম। তাই এই গাছ দিয়ে জৈব সার তৈরি করা বেশ ঝামেলার এবং বায়োমাস কম বলে কম জৈব পদার্থ পাওয়া যায়। পক্ষান্তরে বিদেশী তথা থাই লজ্জাবতী গাছে কোনো কাঁটা নেই বলে নাড়াচাড়া করতে খুব সুবিধে। এসব গাছ তাই আমাদের দেশে কাঁটাবিহীন লজ্জাবতী নামে পরিচিত।

    এই লজ্জাবতীগাছ দ্রুত বাড়ে, গাছ প্রায় ৩ থেকে ১০ ফুট লম্বা হয়। এ জন্য প্রচুর বায়োমাস পাওয়া যায়। গাছ নরম ও রসালো বলে দ্রুত পচে যায়। এ কারণে লজ্জাবতীগাছ থেকে অল্প সময়ের মধ্যেই বেশি জৈব সার পাওয়া যায়।

    এই জৈবসারে গাছের পুষ্টিও কম থাকে না।
    ২.০৩-২.৬ ভাগ নাইট্রোজেন,
    ০.১৭৫-০.২৩ ভাগ ফসফরাস এবং
    ১‘.২৩৭-১.৭৪১ ভাগ পটাশিয়াম আছে।
    তাই অন্যান্য শিমজাতীয় গাছের মতো লজ্জাবতীগাছ থেকেও পুষ্টি পাওয়া যায়।

    এ জন্য এটা হতে পারে আগামী দিনে জৈব সারের একটি উত্তম উৎস। বিশেষ করে যেসব জমিতে সবুজ সার হিসেবে ধৈঞ্চা ব্যবহৃত হয় সেখানে ধৈঞ্চার বদলে লজ্জাবতীগাছও সবুজ সার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। তা ছাড়া বাণিজ্যিক আমবাগানে চাষ দিয়ে লজ্জাবতীর বীজ বুনে দিলে সেসব বাগানের জমিকে লজ্জাবতীগাছ ঢেকে ফেলতে পারে।

    ফলে আম বাগানে আর আগাছা জন্মাতে পারে না এবং লজ্জাবতী গাছের শিকড়ে জন্মানো লালচে রঙের নডিউল বা গুটি বাতাস থেকে নাইট্রোজেন সঞ্চয় করে আমবাগানের মাটিতে সরবরাহ করে উর্বরতা বৃদ্ধি করে।

    থাইল্যান্ডে ভুট্টার জমিতে এভাবে লজ্জাবতীগাছ ব্যবহার করে ভুট্টার জমির আগাছা নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং মাটির উর্বরতা ঠিক রাখা হয়। দিন দিন যেভাবে সারের দাম বাড়ছে তাতে চাষী ভাইয়েরা এখন অনেকেই আগের মতো জমিতে সার ব্যবহার করতে আগ্রহী হচ্ছেন না। ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে জমিতে সারের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। সেজন্য এ ধরনের জৈব সার তাদের উপকার করতে পারে। লজ্জাবতী গাছের একটা বড় সুবিধা হলো যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশেও সে জন্মাতে পারে। তাছাড়া কোনো রোগপোকাও ধরে না বা কোনো বালাইয়ের বিকল্প পোষক হিসেবে কাজ করে না।

    এ দেশে বোরো ধান কাটার পর মার্চ-এপ্রিল মাসে প্রথম পশলা বৃষ্টির পর ধানের জমিতে একটা চাষ দিয়ে লজ্জাবতীর বীজ ছিটিয়ে বুনে দেয়া যায়। বীজ গজানোর পর বৃষ্টি পেয়ে গাছ দ্রুত বাড়তে থাকে এবং জমিকে ঢেকে ফেলে। ফুল বা কুঁড়ি আসার আগ পর্যন্ত যেকোনো সময় এসব নরম সবুজ গাছ কুচি কুচি করে কেটে জমিতে চাষ দিয়ে মিশিয়ে দেয়া যায়। বোরো ধান কাটার পর যেসব জমি কিছু দিন খালি পড়ে থাকে সেসব জমিতে এভাবে লজ্জাবতীর সবুজ সার তৈরি করা যায়।

    রোপা আমনের চারা রোপণের ১০ থেকে ১৫ দিন আগে অর্থাৎ জুন-জুলাই মাসে জমির সাথে চাষ দিয়ে এভাবে মিশিয়ে দেয়া যেতে পারে। তবে আগের মৌসুমে চাষের জন্য বীজ দরকার। সে বীজের জন্য আলাদা একটা জায়গায় বর্ষাকাল শেষ হওয়ার পরপরই বীজ বুনে দিতে হবে। সেসব গাছে অক্টোবরে ফুল আসবে এবং ধীরে ধীরে সেসব ফুল থেকে ফল ও বীজ হবে। জানুয়ারিতে গিয়ে সেই বীজ সংগ্রহ করে রেখে পরের মৌসুমে বুনতে হবে।

    লজ্জাবতী গাছের বীজ সংগ্রহ করে সাথে সাথে বুনলে খুব কম গজায়। কেননা বীজের সুপ্তাবস্খা আছে। সুপ্তকাল ভাঙার জন্য বীজ বোনার আগে হালকা গরম পানিতে বীজ ভিজিয়ে নিলে ভালো গজায়। সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে বীজ বুনলে ভালো গজায়। তাই বর্ষাকালের আগে লজ্জাবতীর চাষ করতে হবে সবুজ সারের জন্য এবং বর্ষার পরে চাষ করতে হবে বীজের জন্য।

    গাজীপুরের সার্ডিতে কাঁটাবিহীন লজ্জাবতীকে এ পদ্ধতিতে চাষ করে সফলতা পাওয়া গেছে এবং বীজ উৎপাদন করে তা বিভিন্ন জেলায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক রবীন্দ্র কুমার মজুমদার জানান। এমনকি তিনি বর্ধনশীল লজ্জাবতীর গাছ কেটে কচুরিপানার মতো স্তূপ করে পচিয়ে জৈবসার তৈরি করতেও সক্ষম হন। এই সার অন্যান্য জৈব সারের মতো সবজি ক্ষেতেও ব্যবহার করা যায়।

    থাইল্যান্ডে এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতি হেক্টর জমি থেকে লজ্জাবতী গাছ প্রায় ৩.০ থেকে ৩.৫ মেট্রিক টন শুষ্ক জৈব পদার্থ উৎপাদন করে। এ পরিমাণ বায়োমাস শুষ্ক জৈব পদার্থ থেকে ৬১ থেকে ৭২ কেজি নাইট্রোজেন/হে, ৫ থেকে ৬ কেজি ফসফরাস/হে এবং ৩৭ থেকে ৪৪ কেজি পটাশিয়াম/হে পুষ্টি উপাদান পাওয়া সম্ভব যা আমাদের রাসায়নিক সারের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করতে পারে।

    Sunday, May 1, 2016

    রক মেলন ফল চাষ পদ্ধতি

  • Share The Gag
  • ভুমিকাঃ

    Cantaloupe (ফুটি) যার আরো কিছু নাম রক মেলন, সুইট মেলন, মাস্ক মেলন, হানী ডিউ এবং আরবিতে অনেক দেশে সাম্মাম ও বলে থাকে। এই ফল ২ ধরণের হয়ে থাকে - ১। হলুদ মসৃণ আবৃত চামড়ার ভেতরের অংশ একদম আমাদের দেশের বাঙ্গী এর মত অন্যটি ২। চামড়ার অংশ খশখশে এবং চামড়ার ভেতরে অংশে হালকা হলুদ এবং বাদামি বর্নের।

    বপনের সময়ঃ এই বীজ বপনের সঠিক সময় গরমের সময় ১। শীত আসার পূর্বে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর ২। মার্চ থেকে জুন (বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে- বীজ থেকে চারা হবার পরে যাতে অতিবৃষ্টির পানির মধ্যে এই গাছ না পড়ে)

    মাটিঃ যে কোন ভালো মানের মাটি যেমন -বেলে মাটি, বেলে-দোয়াশ মাটি, দোয়াশ মাটি, লক্ষ্যনীয় বিষয় মাটি অবশ্যই ঝুরঝুরে হতে হবে যাতে তলদেশ পর্যন্ত সেঁচের ব্যবস্থা হয়, মাটির উপরের অংশে কোনভাবেই পানি জমতে দেয়া যাবে না।

    বীজ বপনঃ ছাঁদে বাগান করার ক্ষেত্রে- ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি টবে বা এমন মাপের যে কোন পাত্রে ২ টি অর্ধ ইঞ্চি মাটির নিচে এই বীজ বপন করতে হবে। মাটি পরিমানে কম হলেও এর মধ্যে যথেষ্ট পরিমান জৈবসার এবং জৈব উপাদান বিদ্যমান থাকতে হবে। পাত্রের মাটি সব সময় ঝুরঝুরে রাখতে হবে এবং ভালো হবে টব বা পাত্রের মাটির উপরের অংশ কোণ প্লাটিক কাগজ বা ভালো গেঞ্জির কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখলে। বানিজ্যিকভাবে জমিতে করলে মাটিকে উঁচু করে বীজ বপন করতে হবে এবং সেঁচের জন্য ড্রেইন ব্যবস্থা রাখা যাতে গাছের গোঁড়ায় অতিরিক্ত পানি না জমতে পাড়ে এবং এক একটি চারার দূরত্ব হবে দেড় থেকে ২ (দুই) ফিট এবং এক একটি মাদাতে - ২-৩ টি বীজ বপন করতে হবে। বীজ অথবা চারা রোপণ শেষে হালকা সেচ দিতে হবে।  

    জমিতে লক্ষণীয় বিষয়ঃ জমিতে চারা অবশ্যই উঁচুতে থাকতে হবে এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকতে হবে যাতে অতিরিক্ত পানি না জমে। মাটির উপরের অংশ অবশ্যই মালচিং করতে হবে। প্ল্যাস্টিক কাগজ বা মোটা কাগজ অথবা ভালো গেঞ্জির কাপড় দিয়ে এই মালচিং করতে পাড়েন।

    বীজ অঙ্কুরোদগম ঃ ৫-১০ দিনের মধ্যে অনেক সময় তাপমাত্রা কম হলে ১২-১৫ দিন সময় ও লাগে।

    ফুল এবং ফলঃ বীজ অংকুরোদ্গমন হবার পর থেকে ১৫-২০ দিনের মধ্যে ফুল আসে এবং ৩০-৪০ দিনের মধ্যে পরিপূর্ন ফল পাওয়া যায়।

    সার সুপারিসঃ মাটি তৈরি করার সময় জৈবসার এবং জৈব উপাদান ভালো ভাবে মিশ্রিত করতে হবে এবং লক্ষ্য রাখতে হবে আপনার মাটিতে পর্যাপ্ত পরিমানে নাট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম এবং সালফার এর উপস্থিতি আছে কিনা প্রয়োজনে সার প্রয়োগের পূর্বে মাটি পরীক্ষা করে নিতে পাড়েন বাণিজ্যিকভাবে করার আগে আর যারা ছাঁদে চাষ করবেন তারা ভার্মি কম্পোষ্ট প্রয়োগ করতে পাড়েন এবং ফসফেট, ফসফরাস ও সালফার আছে এমন মিশ্র সার প্রয়োগ করতে পাড়েন।

    সেচঃ চারা অংকুরোদ্গমন হবার পর থেকে ২-৩ দিন পর পর হালকা সেচ দিতে হবে এবং কোন অবস্থাতেই সেচ এমন দেয়া যাবে না যে পাত্রে অথবা চারা নিচে অনেক পানি জমে থাকে। ফুল আসার সাথে সাথে সেচ ব্যবস্থা প্রতি একদিন পর পর দিতে পাড়লে ভালো ২ দিন -৩ দিনের দিন দিলেও হবে।

    অতিরিক্ত পরিচর্যাঃ যেহতু এটি একটি লতা জাতীয় গাছ এবং এর লতা খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায় তাই এর লতা ধারণের জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। ২ (দুই) ভাবে এই ব্যবস্থা নেয়া যেতে পাড়ে ১। মাচা পদ্ধতি ২। মাটিতে খড়কুটো বিছিয়ে দিয়ে।

    hqdefault

    পোকামাকড় ও রোগবালাইঃ এই ফলে হলুদ মাছি পোকা এসে গাছের পাতা ফুটো করে দেয় কান্ড এবং পাতার রস চুষে রস টেনে গাছের ক্ষতি করে এবং ফল আসার পরে ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ হয় তাতে গাছের ফল পচা রোগের সৃষ্টি হয় এবং ফল পচে যায়, সমাধান হলো মাটি এবং গাছ প্রতিনিত লক্ষ্য রাখতে হবে, মাছি যাতে না আসে তার জন্য প্রায়শ জৈব বালাইনাশক নিতে হবে না পেলে নিকটস্থ কৃষি কর্মকর্তাকে দেখিয়ে পোকার জন্য ঔষধ নিতে পাড়েন আর ফল যাতে ছিদ্র না করতে পাড়ে তার জন্য ফল আসার সাথে সাথেই আপনার গাছের ফলটি ঢেকে দেয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে।

     

    Canteloupe-in-the-field

    ফলনঃ এই ফল গাছের সঠিকভাবে চাষাবাদ এবং নিয়মিত ফুলের পরাগায়ন ভালো মত হলে এক একটি গাছ থেকে ৮ থেকে ১২ টি পর্যন্ত ফল পেতে পাড়েন। পরাগায়ন এর ক্ষেত্রে প্রয়োজনে হাত পরাগায়ন করাতে পাড়েন। ফলের আকৃতিগত ভাবে গোলাকার হবে এবং এক একটি ফল ওজনে ৫০০ থেকে ৮০০ গ্রাম অনেক ক্ষেত্রে এর চেয়ে ও বেশী ওজন হতে পাড়ে। পরিপক্কভাবে ফল পাকার ২-৩দিন আগেই ফলটি গাছ থেকে কেটে সংরক্ষণ করতে পাড়েন তারপরে বাজারজাত করতে পাড়েন। বর্তমানে আমাদের দেশে এই ফল একদমই নতুন তারপরেও যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে - আমাদের দেশের শহুরে সুপারসপ গুলোতে যেমন- এগোরা, মিনাবাজার, স্বপ্ন, ডেইলিশপিং এমন আরও অনেক সুপারসপে পাবেন আর মূল্য ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে কোন কোন শপে এর চেয়ে ও বেশী বিক্রি হচ্ছে। যারা বাড়ীর ছাঁদে চাষ করছেন তারা ফ্রিজে রেখে ফলটি খেলে অনেক বেশী মিষ্টি স্বাদ পাবেন।

    বীজের জন্য যোগাযোগ করুন - 01971625252 নাম্বারে অথবা যারা বাণিজ্যিকভাবে চাষ করতে চান তারা ও যোগাযোগ করুন।