Sunday, March 27, 2016

বানিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে বেদানা বা আনার চাষ

  • Share The Gag
  • বেনাপোল সীমান্তের নাভারন কুলপালা গ্রামে এই প্রথম বানিজ্যিক ভাবে শুরু হয়েছে বেদানা চাষ। দেশীয় বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকার কারনে সৌখিন এক চাষী জাহাঙ্গীর এই ফল আবাদে বানিজ্যিক চাষ শুরু করেছেন। নিজে সফলতা অর্জনের পর বেদানা চাষের প্রসার বৃদ্ধি করতে গাছের চারা ও কলম বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন বাংলাদেশের আবহাওয়াতেও বেদানা চাষ সম্ভব। বীজ ও কলম থেকেই জন্ম নেয় বেদানা গাছ ।

    দিনাজপুর থেকে চারা সংগ্রহ নাভারন কুলপালা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ২০১৩ সালে বেদানার চাষ ২ বিঘা জমিতে ২শ ৭৭টি চারা রোপন করেন। প্রতিটি চারা ১২০ টাকা দরে ক্রয় করে চাষ করেছেন তিনি। ২ বিঘা জমিতে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে তার। এখন বিশাল আকৃত্তির ঝাড়ে রুপান্তরিত হয়েছে বেদানা গাছের। ফুল ও ফল ধরেছে প্রচুর । দেখলে চোখ ফেরানো ভার। বর্ষা মৌসুমের শুরুতে এ গাছের চারা রোপন করতে হয়। চারা রোপনের দেড় থেকে দু’ বছর পর বেদানার ফলন আসতে শুরু হয়।

    বেদানা গাছ দেখতে সবুজ অনেকটা পাতা বাহার ফুল গাছের মত। তবে একটি গাছ ৬/৭ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। চলতি মৌসুমে প্রতিটি গাছের কান্ড থেকে বিপুল পরিমান বেদানার ফুলও ফল ধরেছে। দু’ধরনের জাতের বেদানা উৎপাদন হয়েছে এই জমিতে। এক ধরনের জাত সাদা আর এক ধরনের জাতের ফলন হচ্ছে গাঢ় লাল। এর মধ্যে বিশ্বের সর্বত্র লাল রঙের বেদানার কদর বেশি।

    গাছ থেকে বেদানা সংগ্রহ করে এখন বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২শ’ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে। বাজারে বেদানার কদর বেশী। বেদানা চাষের প্রসার বৃদ্ধি করতে এ বছর বেদানা গাছের দেড় হাজার গুটি কলম ২ লাখ টাকায় বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

    শার্শা উপজেলা কৃষি অফিসার হিরক কুমার সরকার জানান, বাংলাদেশের আবহাওয়াতেও বেদানা চাষ সম্ভব। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বানিজ্যকভাবে এই চাষ বৃদ্ধি করে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব।

    Saturday, March 26, 2016

    দেশেই ফলবে বেঁটে প্রজাতির ‘ম্যাজিক নারিকেল’

  • Share The Gag


  • চারা লাগানোর দুই বছর পরই নারিকেল ধরা শুরু হবে। নারিকেল ঝুলবে মাটিতে। গাছে না উঠেই হাত দিয়ে শিশুরাও নারিকেল পাড়তে পারবে। এমনকি দেশি জাতের চেয়ে এই নারিকেলের ফলন হবে চার গুণ বেশি। সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয় ভিয়েতনাম থেকে এই ‘ম্যাজিক নারিকেল’-এর ২০ হাজার চারা আমদানি করেছে। চলতি বছর আরো ৭৫ হাজার চারা আমদানি করা হবে। এই চারা দক্ষিণাঞ্চলের ১৮টি জেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে রোপণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের জন্য ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প’ নামে নতুন একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে মন্ত্রণালয়। এই প্রকল্পের অধীন প্রথম ধাপে ভিয়েতনাম থেকে ২০ হাজার নারিকেলের চারা আনা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে আরো সাত লাখ ৫০ হাজার চারা আনা হবে।

    প্রকল্প পরিচালক মেহেদী মাসুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বছরে দেশি একটি গাছে ৫০ থেকে ৬০টি নারিকেল ধরলেও আমদানিকৃত এই গাছে গড়ে ২০০টি নারিকেল ধরবে। বেঁটে প্রজাতি হওয়ার কারণে ঝড়ে এই গাছ ভাঙার কোনো ভয় নেই। শুধু নারিকেল উত্পাদনই নয়, এই জাতটি নারিকেলজাত শিল্পেরও সম্প্রসারণ ঘটাবে বলে জানান তিনি।

    সূত্র আরো জানায় এ দেশে থাই পেয়ারার প্রবক্তা কৃষিবিদ মো. কামরুজ্জামান ভিয়েতনামে গিয়ে সিয়াম গ্রিন কোকোনাট ও সিয়াম গ্লু কোকোনাট নামে উচ্চ ফলনশীল নারিকেলের দুটি জাত শনাক্ত করেন। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর নির্দেশে ভিয়েতনামের মাঠ-ঘাট চষে নিবিড় অনুসন্ধানের পর ওই দুটি উচ্চ ফলনশীল নারিকেলের জাত শনাক্ত করেন তিনি।  এর বৈশিষ্ট্য হলো—নারিকেল থেকেই চারা হবে। দুই থেকে আড়াই বছরে গাছে নারিকেল ফলবে। প্রতিটি ডাব থেকে ৩০০ মিলিলিটার পানি পাওয়া যাবে। এবং পানি খুবই মিষ্টি এবং সুগন্ধিযুক্ত। বেঁটে প্রজাতির হওয়ার কারণে গাছ থেকে নারিকেল পাড়াও সহজ হবে।

    মাগুরা হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে এখনো বেঁটে প্রজাতির নারিকলের কোনো জাত নেই। এই ম্যাজিক নারিকেল জাতটির খবর পেয়ে অনেকেই আমাদের কাছে চারা কেনার জন্য আসছেন। আমরা কৃষক পর‌্যায়ে আগে এলে আগে পাবেন ভিত্তিতে চারা বিক্রি করছি। নিজেরাও চারা লাগিয়ে পরবর্তী সময়ে চারা তৈরি করব।’

    মৌমাছি পালন ও মধু চাষ

  • Share The Gag
  • ভূমিকা
    আদিকাল থেকে মৌমাছি মানুষের নিকট অতি পরিচিত এক প্রকার ক্ষুদ্র, পরিশ্রমী ও উপকারী পতঙ্গ। সাধারণত দলবদ্ধভাবে বাস করে বলে এদেরকে সামাজিক পতঙ্গ বলা হয়। মৌমাছি থেকে আমরা মধু ও মোম পাই। মৌমাছিরা ফুলের পরাগায়ন ঘটিয়ে বনজ, ফলদ ও কৃষিজ ফসলের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। কোন কোন প্রকার মৌমাছি বাক্সবন্দী করে লালন-পালন বা চাষ করা যায়। এবং অধিকতর লাভবান হওয়া যায়।


    মৌমাছির প্রজাতি
    আমাদের দেশে সাধারণত তিন প্রজাতির মৌমাছি পাওয়া যায়, যথা:




    • পাহাড়ী মৌমাছি,

    • ভারতীয় মৌমাছি ও

    • ক্ষুদে মৌমাছি।


    পাহাড়ী মৌমাছি : এরা আকারে সবচেয়ে বড়। বড় বড় গাছের ডালে, পাহাড়ের গায়ে এরা চাক বাঁধে। চাক প্রতি মধুর উৎপাদন প্রতিবারে গড়ে প্রায় ১০ কেজি। এরা পোষ মানে না তাই বাক্সে লালন-পালন করা যায় না।


    ভারতীয় মৌমাছি : এরা আকারে মাঝারি ধরনের। অন্ধকার বা আড়াল করা স্থান গাছের ফোকর, দেওয়ালের ফাটল,আলমারি, ইটের স্তুপ ইত্যাদি স্থানে এরা চাক বাঁধে। চাক প্রতি মধুর উৎপাদন প্রতিবারে গড়ে প্রায় ৪ কেজি। এরা শান্ত প্রকৃতির। তাই বাক্সে লালন-পালন করা যায়।


    ক্ষুদে মৌমাছি : এরা আকারে সবচেয়ে ছোট। এরা ঝোপ জাতীয় গাছের ডালে, পাতায় ও শুকনো কাঠি প্রভৃতিতে চাক বাঁধে। চাকার আকার খুব ছোট। বাঁধে। চাক প্রতি মধুর উৎপাদন প্রতিবারে গড়ে প্রায় ২০০ গ্রাম । এরা শান্ত প্রকৃতির। তবে এক স্থানে বেশিদিন থাকে ন।


    মধু ও মোম


    মধু একান্তভাবে মৌমাছির তৈরী এক প্রকার উপাদেয় খাদ্য। শ্রমিক মৌমাছিরা ফুলের মিষ্টি রস শুষে নেয় এবং তা জমা করে পাকস্থলীর উপরে এক বিশেষ অঙ্গে যাকে মধুথলি বলে। ফুলের মিষ্টি রস মধুথলিতে জমা করার সময় এর সঙ্গে লালা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত বিভিন্ন উৎসেচক মেশায়। এর ফলে মিষ্টি রস পরিবর্তিত হয়ে আংশিক মধু তৈরী হয়, যা চাকে এনে ঢেলে দেয় মধু রাখার খোপগুলোতে। তরুণ শ্রমিক মৌমাছিরা এ সময় ছুটে এসে ঐ মধু আবার মুখে ভরে এবং তাদের লালার সংগে মিশিয়ে তৈরী করে আসল মধু এবং তা জমা করে খোপে। শ্রমিক মৌমাছিরা জোরে ডানা নেড়ে খোপে রক্ষিত মধু থেকে বাড়তি পানি সরিয়ে দেয়। ফলে এক সময় ফুলের মিষ্টি রস হয়ে যায় ঘন মধু, যা জমা রাখে নিজেদের ও বাচ্চাদের খাবার হিসাবে। মধু জমা রাখার পর খোপগুলোর মুখ মোম দিয়ে বন্ধ করে দেয়। শ্রমিক মৌমাছির পেটের তলায় পকেটের মত ভাজ থাকে মোমগ্রন্থি। সেখানে তৈরী হয় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাতের মত মোম কণা। এ মোম দিয়ে শ্রমিকেরা বানায় বাসা।


    মৌমাছি সংগ্রহ ও কৃত্রিম খাবার


    প্রকৃত থেকে ভারতীয় মৌমাছি (রাণী ও কিছু শ্রমিক) সংগ্রহ করে অথবা প্রতিষ্টিত মৌচাষীর নিকট থেকে ক্রয় করে মৌচাষ কার্যক্রম আরম্ভ করা হয়। বাক্সবন্দীর প্রথম ৩/৪ দিন কৃত্রিম খাবার যথা চিনির ঘন সরবত বা সিরাপ দেবার প্রয়োজন হয়। এরপর মৌমাছিরা নিজেদের খাবার নিজেরা সংগ্রহ করে থাকে। কখনো কখনো পরিবেশে খাবার ঘাটতি পড়লে ও কৃত্রিম খাবার দেওয়ার প্রয়োজন হয়।


    মধু সংগ্রহ


    মধু সংগ্রহ করার সময় আস্ত চাক হাত দিয়ে চিপে মধু বের করা হয়। এ মধুতে মৌমাছির দেহাংশ ও বজ্য পদার্থ বিদ্যমান থাকে। এছাড়া এ ধরনের মধু অশ্প দিনের মধ্যে পচে নষ্ট হয়ে যায়। অপর দিকে বাক্সে লালন-পালন করা মৌমাছির চাক থেকে মধু নিষ্কাশন যন্ত্রের সাহায্য মধু বের করা যায়। এতে চাক থেকে শুধু মধু বের হয়ে আসে, অথচ চাক নষ্ট হয় না এবং তা আবার ব্যবহার করা যায়।


    বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক মৌমাছি পালন কর্মসূচী


    চট্রগ্রামস্থ বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের বন রক্ষণ বিভাগ ২০০০-২০০১ অর্থ বছরে “কৃষি গবেষণা ব্যবস্থাপনা প্রকল্প” এর আর্থিক সহায়তা অত্র প্রতিষ্ঠানের “খামার পদ্ধতি গবেষণা ও উন্নয়ন” কর্মসূচীর আওতায় মৌমাছি পালন কার্যক্রম গ্রহণ করে। এ কর্মসূচীর মাধ্যমে বান্ধরবান পার্বত্য জেলার মার্মা, মুরং, তংচইংগা, হিন্দু ও মুসলমান ও ফাইতং নামক তিনটি স্থানে মৌমাছি পালনকে একটি সম্ভাবনাময় ও লাভজনক কর্মকান্ড হিসাবে তুলে ধরার এক প্রয়াস নেওয়া হয়।

    মৌমাছি পালনের উপকারী দিকসমূহ


        দেশে খাটি মধুর চাহিদা পূরণ করে পুষ্ঠিহীনতা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ মধু শর্করা জাতীয় খাদ্য। যা বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন, এনজাইম ও খনিজ পদার্থ থাকে।

        মধু রোগ (যথা: সর্দি, কাশি, বাত, ব্যাথা ইত্যাদি) জীবানুনাশক হিসাবে ব্যবহার করে।


        মোম, মোমবাতি, প্রসাধন (কোল্ড ক্রীম, সেভিং ক্রীম, স্নো ইত্যাদি) ঔষধ বিভিন্ন মলম তৈরী ব্যবহার হযে থাকে।


        মধু ও মোম বিক্রয় করে বাড়তি আয়ের সংস্থানের মাধমে পারিবারিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি করে যা সার্বিকভাবে গ্রামীণ জনগোষ্ঠির দারিদ্র্য দূরীকরনের সাহায্য করে।


        ফুলের পরাগায়নের মাধ্যমে কৃষিজ, ফলদ ও বনজ গাছ-পালার ফলন ও গুণগতমান বৃদ্ধি করে ও জীব বৈচিত্রে সংরক্ষনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


    মৌমাছি পালনের আয়-ব্যয়


    উপযুক্ত প্রশিক্ষণ নিয়ে মৌমাছি পালন করলে এবং এলাকায় পর্যাপ্ত সহায়ক গাছ-পালা থাকলে একটি বাক্স থেকে মধূ (শীতকালে) ৭/৮ কেজি এবং বছরে ১৮/২০ কেজি খাটি মধু সংগ্রহ করা যায়।


    আয় :


    উৎপাদিত মধু        = ১৫ কজি


    কেজি প্রতি টাকা ৩০০.০০ হিসেবে


    মোট (১৫x৩০০.০০) = ৪,৫০০.০০


    ব্যয়:


    মৌমাছির বাক্সের দাম =     টাকা  ৭০০.০০


    মৌমাছির দাম =          টাকা  ৭০০.০০


    কৃত্রিম খাদ্য =            টাকা   ৫০.০০


    অন্যান্য =         টাকা   ৫০.০০


    মোট  =               টাকা   ১,৫০.০০


    লাভ:


    = আয়-ব্যয়


    = টাকা ৪,৫০০.০০


    = টাকা ৩,০০০.০০


    কেস স্টাডি:


    মধুর ব্যবসায় ভাগ্য ফেরান ফাতেমা



    জীবনের বাঁকে বাঁকে বহুমুখী প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে অবশেষে মধুর ব্যবসায় ভাগ্য ফেরানোর যুদ্ধে জয়ী কানিজ ফাতেমা। সংসার চালানো থেকে শুরু করে ছেলের লেখাপড়া পর্যন্ত সবকিছুই চলে মধুর ব্যবসায়। জীবনে সমস্যা অনেক থাকবে। তার পরও প্রশিক্ষণ নিয়ে এ পেশায় এসে যে কেউ সফলতার মুখ দেখতে পারেন বলে অভিমত ফাতেমার।
    নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমে সফল নারী উদ্যোক্তা মধু ব্যবসায়ী কানিজ ফাতেমা গাজীপুর জয়দেবপুরে গড়ে তুলেছেন ‘মৌ মধুবন’ নামে মধু উৎপাদনের খামার। একক প্রচেষ্টায় যেমন ফিরিয়েছেন নিজের ভাগ্য, তেমনি তার প্রতিষ্ঠানে এখন কাজ করছেন অনেক মানুষ। খামারে কাজ করে ওই মানুষগুলোও পেয়েছেন বেঁচে থাকার পথ। কানিজ ফাতেমার জীবনের বাঁকে বাঁকে রয়েছে সংগ্রামের ইতিহাস। অনেক কষ্ট করেও জীবনে যে সফলতার মুখ দেখা যায়, তার দৃষ্টান্ত হয়েছেন তিনি। শিক্ষা জীবনেই কিছু একটা করার মানসিকতা ছিল তার। সে কারণে ১৯৮২ সালে জয়দেবপুর সরকারি গার্লস স্কুলে দশম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালেই বাবামাকে না জানিয়ে বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে বিসিকের সহায়তায় মধু তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। এই প্রশিক্ষণই দুর্দিনে তাকে মধু উৎপাদনের খামার প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দিয়েছে।



    ফাতেমা এসএসসি পাস করে ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হন জয়দেবপুর কাজী আজিম উদ্দিন কলেজে। সাফল্যের সঙ্গে ইন্টারমিডিয়েটও পাস করেন। ১৯৮৭ সালে খুলনার সিভিল ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। বিয়ের পর ঢাকার মিরপুরে বাসা নিয়ে ফাতেমার নতুন জীবন শুরু হয়। ভালো চলছিল সংসার। ফাতেমার কোল জুড়ে আসে পুত্র সন্তান। নাম রাখা হয় শাহরিয়ার ফয়সাল। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেয়া এই ছেলের মাত্র চার বছর বয়সেই মোশারফ হোসেনের মৃত্যু ঘটে। এর মধ্য দিয়ে ফাতেমার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। একদিকে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছেলে, অন্যদিকে সংসারের অভাব-অনটন। উভয় সঙ্কটে চোখে অন্ধকার দেখছিলেন ফাতেমা। নিরুপায় হয়ে ছেলেকে দেন এতিমখানায়। আর নিজে বেছে নেন আরেক সংগ্রামের পথ। একমাত্র ছেলেকে নিয়ে জীবন বাঁচানোর তাগিদে প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি খুঁজতে শুরু করেন ফাতেমা। এক এক করে একাধিক স্থানে কাজ করেন। কিন্তু কোনো স্থানেই বেশিদিন কাজ করা সম্ভব হয়নি। নিজেই একটা কিছু করার মানসিকতা থেকে ফাতেমা মাসিক রোজগার থেকে জমিয়ে ফেলেন ২০ হাজার টাকা। এই টাকা দিয়েই নিজের জন্মস্থান জয়দেবপুরে মধু উৎপাদনের খামার করেন। এই খামার স্থাপনে কাজে লাগে তার সেই মধু তৈরির প্রশিক্ষণ। ২০ হাজার টাকায় ৪টি মধুর বাক্স ক্রয়ের মধ্য দিয়ে ফাতেমার জীবনে আরেক অধ্যায় শুরু। একটি দোকান ভাড়া নেন পাঁচ হাজার টাকায়। ফুলের মৌসুমে বাক্সগুলো বাগানের পাশে রেখে দিতেন। তাঁবু টাঙিয়ে সেগুলো পাহারা দেয়ার জন্য লোকও রাখেন। এভাবেই তার মধু উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। শুরুর দিকে নিজের হাতেই বাসায় মধু তৈরি করেন তিনি। এজন্য সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পাননি। এভাবে পর্যায়ক্রমে ফাতেমার মধু উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারিত হতে থাকে।



    মৌচাষে ভাগ্য বদলাচ্ছে আদিবাসী নারীরা



    ক্রমেই উজাড় হচ্ছে শেরপুর ও জামালপুর জেলার গারো পাহাড়ের বনজঙ্গল। ফসলি জমিতে ব্যবহার করা হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক। এতে মৌমাছির খাদ্য আর বাসস্থানের চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফলে হারিয়ে গেছে পরিশ্রমী বন্য মৌমাছি। মাত্র দু’যুগ আগেও আদিবাসী অধ্যুষিত এ গারো পাহাড় ছিল মৌমাছির অভয়ারণ্য। প্রায় ঘরেই দেখা যেত মধু, কিন্তু এখন তা বিলুপ্তির পথে।



    মাত্র পাঁচ-ছয় বছর আগেও গারো পাহাড়ের মালাকোচা ডুমুরগাছ ও বালিজুরি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে দেখা যেত শত শত মৌচাক। বছরে চার-পাঁচ মাস চলত মধু আহরণ। সে সময় মৌয়ালিদের ছিল পোয়াবারো। আজগর আলী, নিতেন মারাক, লবকোশ মারাকসহ ক’জন মৌয়ালির হিসাবমতে, গারো পাহাড় থেকে বছরে অন্তত এক হাজার লিটার মধু আহরণ করা হতো। এসব মধু স্থানীয়ভাবে চাহিদা মিটিয়েও দেশের বিভিন্ন স্থানে রফতানি হতো। সে সময় ছিল ফুল আর পরিবেশবান্ধব বৃক্ষ। এজন্য গারো পাহাড়ের গ্রামগুলোতে দেখা যেত অসংখ্য মৌচাক। এখনও গৃহবধূরা বিশ্বাস করেন, যদি বাড়ির ওপর দিয়ে মৌমাছির দল উড়ে যায়, তাহলে ঢেঁকিতে পাড় দিতে হয়। ঢেঁকির শব্দে ওই বাড়িতে মৌচাক করে মৌমাছিরা। এমনকি ভালোমন্দ বা সুখ-দুঃখ বুঝেও মৌমাছি চাক করে বলে তাদের ধারণা। মৌমাছি আর মৌচাক এখন নতুন প্রজন্মের কাছে কবির কবিতার মতোই, যা এখন বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ। ভবিষ্যত্ প্রজন্ম শুধু দেখবে চাষাবাদের মৌমাছি।



    এমনই এক সঙ্কটময় সময়ে মৌমাছির চাষাবাদে ঝুঁকে পড়ছেন আদিবাসী নারীরা। দিনবদলের প্রচেষ্টায় এটি যেন নতুন হাতিয়ার। তাদের এ প্রচেষ্টাকে সফল করতে সহযোগিতা করছেন কারিতাসের প্রমোশনাল অব লাইভলি হোড অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স (পিএলএইচআর) প্রকল্প। আদিবাসীদের জীবনমান আর মানবসম্পদের উন্নয়নের লক্ষ্যে শুরু হয়েছে সমন্বিত ফসলের চাষাবাদ। এর মধ্যে অল্প পুঁজি আর কম পরিশ্রমে বেশি আয় হচ্ছে মৌমাছির চাষাবাদে। এ মৌমাছির চাষাবাদ যেন ফিরিয়ে আনছে গারো পাহাড়ে মৌমাছির বসবাসের আগের সেই ঐতিহ্য। ধর্মীয় উৎসবসহ যে কোনো উৎসব আর অতিথি আপ্যায়নে চা-বিস্কুটের আগে পরিবেশনে স্থান পাচ্ছে মধু। এ ছাড়া দুর্বলতাসহ নানা রোগেও ওষুধ হিসেবে অনেকে সেবন করছেন মধু। উৎপাদিত মধু বিক্রি করে নিজেদের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে যেন স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন তারা। এরই মধ্যে শুধু মৌমাছির চাষাবাদ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন আদিবাসী নারী আইরস দালবত্সহ অনেকে। সম্প্রতি গারো পাহাড়ের মৌয়ালি, আদিবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণীর লোকের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।



    শেরপুর জেলার শ্রীবরদী, নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তে গারো পাহাড়। এখানে প্রায় অর্ধশত গ্রাম রয়েছে। ভারতের মেঘালয় রাজ্যঘেঁষা এ পাহাড়ে আদিকাল থেকে আদিবাসীদের বসবাস। গভীর অরণ্যের এ গ্রামগুলোতে আগে মৌচাক ছিল আনাচেকানাচে। মাঘফাল্গুন থেকে শুরু হতো মধু আহরণ, চলত আষাঢ়শ্রাবণ পর্যন্ত। বন্য প্রাণীর হামলা উপেক্ষা করে মধু আহরণ করতেন মৌয়ালিরা। যিনি বেশি বড় বৃক্ষে বা ঝোপজঙ্গলের গাছে উঠে মধু আহরণ করতে পারতেন, তার সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ত চারদিকে। গারো পাহাড়ের মাইনদ্দিন, বিল্লাল মিয়া, কছিম উদ্দিন, সাইদুর ও সনু সাংমাসহ অনেক মৌয়ালি জানান, এ সীমান্তে গারো পাহাড়ের দৈর্ঘ্য প্রায় ২২ কিলোমিটার। এর মধ্যে মৌয়ালি ছিলেন ১০-১২ জন। তারা একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত পর্যন্ত চষে বেড়াতেন। যে বাড়িতে মৌচাক ছিল, সে বাড়ির মালিকরাই বেশি মধু পেয়েছেন। এখন আর পাহাড়ে মৌচাক নেই। তবে আগের সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চলছে নীরব প্রচেষ্টা। গারো পাহাড়ের আদিবাসী নারীরা ফলমূল আর পরিবেশবান্ধব বৃক্ষ রোপণ করছেন। এর পাশাপাশি শুরু করছেন মৌমাছির চাষাবাদ। এরই মধ্যে আইরস দালবত্সহ অনেক আদিবাসী নারী মৌমাছির চাষ করে দেখছেন সোনালি স্বপ্ন। শ্রীবরদীর গারো পাহাড়ের আদিবাসী গ্রাম বাবেলাকোনা। এখানে মৌমাছির চাষ করে সংসারে সচ্ছলতা আনছেন সার্টিন মারাকের স্ত্রী আইরস দালবত্। তার সাফল্যের সংবাদ এখন গারো পাহাড়ের টক অব দ্য ভিলেজ। তিনি জানান, তার সাফল্যের নেপথ্যের নানা কথা। তার এক ছেলে তিন মেয়ে। তার পরিবারে সদস্যসংখ্যা ছয়। ক’বছর আগে চরম দুর্দিনে ঢাকা ছিল পরিবারটি। সেই দুর্দিনের ভয়াবহ চিত্র মনে হলে এখনও চোখে জল আসে তার। তিনি জানান, তাদের আট-নয় একর জমি ছিল। তারা পাহাড়ি এ জমিতে জুম চাষ করত। একই জমিতে ধান আর শাকসবজিসহ সমন্বিত ফসলের চাষে উৎপাদিত ফসলে চলত সারা বছর। কিন্তু বন বিভাগ পাহাড়ের ঝোপজঙ্গল পরিষ্কার করে গড়ে তোলেন একাশি ও আকাশমণিসহ পরিবেশ বিপর্যয়ের নানা বৃক্ষ। অন্যদিকে ভারতের সীমান্ত থেকে আসতে থাকে বন্য হাতি। প্রাকৃতিক বিপর্যয় আর বন্য হাতির অব্যাহত হামলায় ক্রমাগত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চরম দুর্ভিক্ষে দিন কাটান তারা।



    আইরস দালবত্ বলেন, যখন দুঃসময়ে কোনো উপায় ছিল না, তখন কারিতাসের পিএলএইচআর প্রকল্প থেকে ২৫ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছি। তাছাড়া তারা প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এমনকি তাদের সার্বিক সহযোগিতায় শুরু করি সমন্বিত ফসলের চাষাবাদ। পুকুরে মাছ চাষ, হাঁসমুরগির খামার, মৌমাছির চাষ ও শাকসবজির চাষাবাদ করে আসছি। এর মধ্যে মৌমাছির চাষে বেশি লাভ হচ্ছে। তার স্বামী সার্টিন মারাক জানান, ২০১২ সালের মে মাসে তাদের এ প্রকল্প শুরু হয়। শুরুতে মৌমাছির বাক্স ছিল একটি। এখন তার খামারে পাঁচটি মৌমাছির বাক্স রয়েছে, যার মূল্য প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। তাদের এ থেকে দুই মাস পরপর আয় হচ্ছে চার-পাঁচ হাজার টাকা। তিনি বলেন, মৌমাছি চাষাবাদে তেমন পরিশ্রম নেই। অন্যান্য কাজের ফাঁকেও এটি করা যায়। তবে আয় বেশি বলে মৌচাষের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আশপাশে ফুল আর ফলের গাছ বাড়ছে। এতে মধুর উৎপাদন বাড়বে। আইরস দালবতের মৌচাষের সাফল্য দেখে রিনি ম্রং, আঞ্জেলা মৃসহ এলাকার অনেকে মৌচাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কারিতাসের আইসিডিপির পিএলএইচআর প্রকল্পের পরিধি বাড়ানো হলে গারো পাহাড় হবে দেশের অন্যতম মৌচাষ এলাকা। এখানকার আদিবাসী নারীসহ শত শত মানুষ মৌচাষ করে খুঁজে পাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও রফতানি করতে পারবে এখানকার মধু। এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। কারিতাসের আইসিডিপির প্রজেক্ট সুপারভাইজার হিলারি ম্রং বলেন, সমন্বিত ফসলের চাষাবাদের মধ্যে মৌচাষে তারা বেশি লাভ পাচ্ছেন। তাই অনেকে মৌচাষে আগ্রহী।


    Friday, March 4, 2016

    বিপণন ব্যবস্থা না থাকায় পাম গাছ এখন গলার কাঁটা

  • Share The Gag
  • যশোরের কেশবপুর উপজেলার শত শত যুবক ভাগ্য বদলাতে পাম চাষ করে। সেই পাম গাছ এখন তাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    এসব পাম গাছে ফল এসেছে। কিন্তু বিপণন ব্যবস্থা ও তেল উত্পাদনের মেশিন না থাকায় গাছ থেকে পাম ফল পাড়ছেন না কৃষকরা।

    গাছেই নষ্ট হচ্ছে ফল। আবার অনেক কৃষক হতাশ হয়ে লোকসান এড়াতে গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    ইতিমধ্যে গাছের পরিচর্যা ছেড়ে দিয়ে অনেক কৃষক পাম গাছ কেটেও ফেলেছেন। কেউ কেউ সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন পাম গাছগুলো কেটে ফেলবেন না রেখে দেবেন। এদিকে, উপজেলা কৃষি অফিসও পাম চাষীর সঠিক কোন তথ্য এখনও দিতে পারেনি।


    জানা গেছে, গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কৃষি বিভাগের পরামর্শে এ উপজেলার শত শত কৃষক ও যুবক ভাগ্য বদলাতে ১৫০ থেকে ৩২০ টাকা মূল্যের চারা কিনে ঘরের আঙ্গিনায় পাম গাছ রোপণ করে পরিচর্যা শুরু করে।

    আবার অনেক কৃষক বাণিজ্যিকভাবে পাম চাষাবাদ শুরু  করে। এর মধ্যে ভালুকঘর, বাঁশবাড়িয়া, তেঘরী, ভাণ্ডারখোলা, ফতেপুর, খোপদই, টিটাবাজিতপুর, সুফলাকাটি, পাঁজিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করে।

    চারা রোপণের পর সঠিক পরিচর্যা করায় চার বছর যেতে না যেতেই ফল আসা শুরু করে। কিন্তু  দেশে পাম ফলের বিপণন ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় এবং ফল থেকে তেল বের করার মেশিন না থাকায় কৃষক পাম ফল নিয়ে বিপাকে পড়েন।

    ফলে চাষীরা লাভের আশা ছেড়ে দিয়ে পাম গাছের পরিচর্যাও বন্ধ করে দেয়। এমতাবস্থায় গাছ থেকে ফল সংগ্রহ না করায় তা গাছেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।


    ভালুকঘর গ্রামের টুকুল জানান, একটি পাম গাছ থেকে একটি পরিবারের সারা বছরের তেল উত্পাদন করা সম্ভব। পাম গাছের চারা বিক্রি করতে আসা ব্যক্তিদের এমন আশার বাণী শুনে তিনি ২০০৮ সালে ১৮ শতক জমিতে ২৪টি পাম গাছ রোপণ করেন।

    এ পর্যন্ত অর্ধ লাখ টাকা ব্যয় করে চারাগুলোর পরিচর্যা, সার, কীটনাশক ও পানি দিয়ে বড় করেছেন। ফল আসা শুরু করলে এগ্রো লিমিটেড নামের একটি এনজিও ভালো মূল্যে তার কাছ থেকে ফল ক্রয় করবেন বলে জানান।

    কিন্তু ওই কোম্পানিও এখন লাপাত্তা। ফল বিক্রি করতে না পারায় গত ৪ বছর ধরে তার জমির গাছের ফল কাদিতেই নষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কয়েক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে তারা পাম গাছ কেটে ফেলতে বলেছেন।


    টুকুল কারো কাছ থেকে ভালো কোন পরামর্শ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন। ফলে তিনি গাছ কেটে ফেলবেন কি না তা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। শুধু টুকুল নয় তার গ্রামের হাফেজ শহিদুল ইসলাম, এরশাদ আলী, মনিরুজ্জামান, বাঁশবাড়িয়া গ্রামের শফিকুল ইসলামও পাম গাছের চাষ করে বিপাকে পড়েছেন।

    এগ্রো লিমিটেডের পরিচালক হাবিবুর রহমান তাদের বুঝিয়ে ছিল মালয়েশিয়ায় পাম চাষ করে মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটেছে। এখানে পাম চাষ করেও ভাগ্যের উন্নয়ন সম্ভব। গতকাল রবিবার লিটনের পাম বাগান পরিদর্শন কালে দেখা গেছে, প্রতিটি গাছে ফল ধরেছে। কিন্তু ফল সংগ্রহ না করায় তা গাছেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।


    এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার দাস গাছগুলো না কাটার পরামর্শ দিয়ে বলেন, পাম চাষ আমাদের দেশে নতুন হওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। তবে কৃষি বিভাগ পাম চাষের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

    সূত্রঃইত্তেফাক

    সুপারিতে আয় ৩০০ কোটি টাকা

  • Share The Gag
  • আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন করে লক্ষ্মীপুরের কৃষক সুপারি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। চলতি মৌসুমে সুপারির বাম্পার ফলন হওয়ায় বেজায় খুশি এ জেলার চাষিরা। স্বল্প খরচে অধিক লাভ পাওয়ায় এ জেলায় দিন দিন বাড়ছে সুপারি চাষের জনপ্রিয়তা। এখানকার উৎপাদিত সুপারি জেলাবাসীর চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও শ্রীমঙ্গলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। শুধু দেশে নয়, বিদেশেও এ জেলার সুপারির কদর বাড়ছে। এখানকার সুপারি রফতানি হচ্ছে সিঙ্গাপুর, মালোয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, হাঙ্গেরিসহ বিভিন্ন দেশে। কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ বছর জেলায় সুপারি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন, যা থেকে আয় হবে ৩০০ কোটি টাকারও বেশি।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর জেলার পাঁচটি উপজেলার অধিকাংশ লোকজন নিজেদের বসতভিটায় সুপারি বাগান করে জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। চলতি মৌসুমে সুপারির বাম্পার ফলন হওয়ায় এখানকার চাষি বেজায় খুশি। বর্তমানে জেলার দালালবাজার, মোল্লারহাট, রাখালিয়া বাজার, জকসিন বাজার, চন্দ্রগঞ্জ বাজার ও ভবানীগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে সুপারি কেনা-বেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। এখানকার উৎপাদিত সুপারি জেলাবাসীর চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও শ্রীমঙ্গলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। শুধু দেশে নয়, এ জেলার সুপারির বিদেশেও ব্যাপক কদর রয়েছে। এখানকার সুপারি রফতানি হচ্ছে সিঙ্গাপুর, মালোয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, হাঙ্গেরিসহ বিভিন্ন দেশে। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কাওন (১৬ পোন) সুপারি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়, যার পাইকারি বাজার মূল্য ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, চলতি বছর জেলার পাঁচটি উপজেলায় ৬ হাজার ২৬৫ হেক্টর জমিতে সুপারির আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রায়পুর উপজেলায় ৩ হাজার ১৫০ হেক্টর, সদর উপজেলায় ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর, রামগঞ্জে ৮৭৫ হেক্টর, কমলনগরে ৩৫০ ও রামগতি উপজেলায় ৪০ হেক্টর জমি। এ বছর জেলায় সুপারি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন, যার বাজার মূল্য ৩০০ কোটি টাকারও বেশি। তবে গেল বছরের তুলনায় সুপারির বাজারদর কম হওয়ায় স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা কিছুটা হতাশ। তাদের অভিযোগ, একটি চক্র সিন্ডিকেট করে সুপারির দাম কমিয়েছে।

    লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক গোলাম মোস্তফা জানান, জেলায় উৎপাদিত সুপারি থেকে এ বছর ৩০০ কোটি টাকারও বেশি আয় হবে। এখানে প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র থাকলে সুপারি বিদেশে রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হতো। সরকার এ অঞ্চলে সুপারির প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র গড়ে তোলে সুপারি ব্যাবসাকে আরও সম্প্রসারণ ও গতিশীল করে তুলবেন- এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

    রাতে অক্সিজেন দেয় যে গাছ

  • Share The Gag
  • আমরা সবাই জানি গাছ দিনে অক্সিজেন দেয়, আর রাতে কার্বন ডাই-অক্সাইড। কিন্তু এমন একটি গাছ আছে যা রাতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিবর্তে অক্সিজেন দেয়। এই গাছ কিন্তু আমাদের চারপাশেই দেখতে পাই। অথচ এর এই গুণ সম্পর্কে আমরা মোটেও ওয়াকিবহাল নই। শুধু তাই নয়, গাছটি আবার রোগ নিরাময়ের কাজেও লাগে।

    এখন জানতেই হয় কী সেই গাছ যার এত গুণ? বিশেষ করে রাতে অক্সিজেন দেয়?

    এর নাম স্নেক প্ল্যান্ট। আবার অনেকে ‘শাশুড়ির জিভ’ও বলেন। পাতার আকৃতির জন্যই এ ধরনের নাম গাছটির। এক ধরনের বাহারি গাছ। ঘর সাজানোর কাজে আমরা হামেশাই ব্যবহার করে থাকি। সৌন্দর্য বাড়াতে বেডরুমেও অনেকে এদের রাখেন। খুব অল্প আলোতেও এবং কম পানিতেও এরা জীবিত থাকে। এই গাছ যদি ঘরে রাখা যায়, তা হলে ঘরে অক্সিজেনের ঘাটতি হবে না। নাসার বিজ্ঞানীরা একটি সমীক্ষা করে দেখেছেন যে ঘরের ভিতর এই গাছ রাখা হয় নাইট্রোডেন ডাই অক্সাই এবং ফর্ম্যালডিহাইডের মতো ক্ষতিকারক গ্যাসকে শোষণ করে ঘরকে দূষণমুক্ত রাখে।

    পাটের তৈরি পণ্য রপ্তানিতে ভাটা

  • Share The Gag
  • ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি মেয়াদে কাঁচা পাট রপ্তানি বেড়েছে। তবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে পাটজাত পণ্যের রপ্তানি। এই সময়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩২ দশমিক ০৭ শতাংশ বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে কাঁচা পাট রপ্তানিতে। অন্যদিকে পাটের তৈরি সুতা-কুণ্ডলী এবং বস্তা ও ব্যাগের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।

    বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ৮৬ কোটি ৮৫ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ওই অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে আয় হয়েছিল ৪৯ কোটি ৯৭ লাখ মার্কিন ডলার। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৪ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে প্রথম ৭ মাসের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৩ কোটি ৪১ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। এই সময়ের মধ্যে আয় হয়েছে ৪৯ কোটি ৪৫ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ দশমিক ৪১ শতাংশ কম। একইসঙ্গে গত অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসের তুলনায় পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানি আয় ১ দশমিক ০৪ শতাংশ কমেছে।

    ২০১৪-১৫ অর্থবছরে কাঁচা পাট রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ১১ কোটি ১৫ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার; পাটের সুতা ও কুণ্ডলী রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ৫৫ কোটি ২৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার এবং পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ১৩ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।

    চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কাঁচা পাট রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার; পাটের সুতা ও কুণ্ডলী রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৯ কোটি মার্কিন ডলার এবং পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ কোটি মার্কিন ডলার।

    ২০১৪-১৫ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ৮৬ কোটি ৮৫ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ওই অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে আয় হয়েছিল ৪৯ কোটি ৯৭ লাখ মার্কিন ডলার। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৪ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে প্রথম ৭ মাসের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৩ কোটি ৪১ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। এই সময়ের মধ্যে আয় হয়েছে ৪৯ কোটি ৪৫ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ দশমিক ৪১ শতাংশ কম। একইসঙ্গে গত অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসের তুলনায় পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানি আয় ১ দশমিক ০৪ শতাংশ কমেছে।

    সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি মেয়াদে কাঁচা পাট রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬ কোটি ৩১ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার। এই সময়ের মধ্যে কাঁচা পাট রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩২ দশমিক ০৭ শতাংশ বেশি। একইসঙ্গে গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে এই খাতে।

    ইপিবির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে পাটের সুতো ও কুণ্ডলী রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৩০ কোটি ১৩ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম। একইসঙ্গে গত অর্থবছরের তুলনায় এই খাতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় শূন্য দশমিক ৯৬ শতাংশ কমেছে।

    আলোচ্য সময়ে পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৭ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৪ দশমিক ২২ শতাংশ কম। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই খাতে আয় হয়েছিল ৯ কোটি ৯০ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার।

    চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি মেয়াদে পাটের অন্যান্য দ্রব্য রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৩ কোটি ৭০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ দশমিক ৪১ শতাংশ কম। তবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই খাতের আয় ১ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়েছে।