দেশি জাতের মাছ যেখানে হারিয়ে যেতে বসেছে, সেখানে রাসায়নিক সার ও খাবার ছাড়াই মাছ চাষ শুরু করেছেন সাতক্ষীরার জাকির হোসেন। এরই মধ্যে তিনি শোল মাছ চাষ করে সবার নজর কেড়েছেন। মাত্র পাঁচ কাঠা আয়তনের একটি পুকুরে দেশি জাতের শোল মাছের চাষ শুরু করেন।
কম খরচে অল্প কিছুদিনেই প্রায় পাঁচ মণ মাছ পেয়েছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স করার পর মাস কয়েক আগে ভাসমান অবস্থায় কুড়িয়ে পেয়েছিলেন এক জোড়া শোল মাছ। সযত্নে মাছ দুটিকে ছেড়ে দেন নিজের পুকুরে। গত বছরের ১০ আগস্ট ডিম ছাড়ে মা মাছটি। তারপর পোনা বের হয়। এই পোনাই তাঁর পুকুরে ছড়িয়ে পড়ে। এখন সবচেয়ে ছোট একটি শোল মাছেরও ওজন হয়েছে আটশ’ গ্রাম।
বছর পুরতেই তা এক কেজি ছাড়িয়ে যাবে। পুকুরে কোনো সার দেননি জাকির। চুন কিংবা কোনো রাসায়নিক খাবারও নয়। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে মাছগুলো বেড়ে উঠছে। বাজারের ছোট মাছই মাছগুলোর প্রধান খাদ্য। প্রতিদিন সকাল-বিকাল তাদের খাবার দেন জাকির। শোল মাছকে রাক্ষুসে মাছ হিসেবে সবাই এড়িয়ে চলেন। কারণ এরা অন্য সব ছোট মাছ খেয়ে ফেলে। অথচ জাকির শোল মাছের সঙ্গে চিতল, রুই, কাতলের চাষও করেছেন। তাদের বেড়ে ওঠাও নজর কাড়ার মতো।
মানুষ যে মাছকে পুকুরে মাছের জন্য শত্রু মনে করেন, জাকির তাকে বন্ধু হিসেবে বেছে নিয়েছেন। শোল মাছের পোনা পরিচর্যার পর একটু বড় হলেই পোনা লালনের দায়িত্ব নেয় মা মাছটি। এজন্য বাড়তি কোনো কাজেরও দরকার হয় না। জাকির তাঁর বাড়িতে গড়ে তুলেছেন গুড়পুকুরের রিসার্চ ইনস্টিটিউিট। পুকুরে শোল মাছের চাষ এ প্রতিষ্ঠানেরই অধীনে চলছে। পুরনো জোড়া শোলের ওজন এখন দুই কেজি ছাড়িয়ে গেছে। তিনি পাশেই নতুন আরও একটি পুকুর খনন করেছেন। সেখানে ওই পুরুষ ও মা মাছ দুটো ছেড়ে দেবেন। সেখানে আবারও শুরু হবে নতুন মাছের আবাদান।
জাকিরের পুকুরের পানি ছয় ফুটের বেশি গভীর নয়। চকচকে পানি। কারণ সবই প্রাকৃতিক। তবে এজন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হয়। মাছ চাষের পুকুরে হাঁস নামানো নিষেধ। কিন্তু মানুষের গোসল করা নিষেধ নয়। জাকিরের মতো আরও অনেক শিক্ষিত যুবক এভাবে মাছ চাষে এগিয়ে এলে বাংলাদেশের দেশি জাতের মাছই হতে পারে বিশ্বসেরা মাছ। জাকিরের সাফল্যে অনেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে মাছ চাষে মনোযোগী হচ্ছেন।
দেশি জাতের মাছ যাতে হারিয়ে না যায়, সে উদ্যোগই নিতে হবে আমাদের সবাইকে। এ ব্যাপারে আশাবাদী জাকির নিজেও। কিছুদিন আগে জাকির প্রথম দফায় তাঁর পুকুরের মাছ তুলেছেন। এ সময় জেলা মৎস্য অফিসার ও উপজেলা মৎস্য অফিসারসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা জাকিরকে পুরস্কৃত করার কথা ভাবছেন।
মৎস্য বিভাগও তাঁকে সব ধরনের সহায়তা দিতে ইচ্ছুক। পরিশ্রম করলে, কোনো কাজকেই ছোট মনে না করে, একনিষ্ঠভাবে নিয়ম মেনে চললে, তাতে সাফল্য আসবেই। জাকির হোসেন এটাই আরেকবার প্রমাণ করলেন।
ডা. মুহিদার রহমান সাতক্ষীরা
Friday, March 4, 2016
Thursday, March 3, 2016
বিলুপ্ত চুকুর চাষ ও সম্ভাবনা
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 11:49 AM
ধামরাই উপজেলায় সজাগ (সমাজ ও জাতি গঠন), শৈলান, ধামরাই, ঢাকা কর্তৃক বিগত দুই বছর যাবৎ বিলুপ্ত চুকুর চাষ করে ব্যাপক সম্ভাবনার পথ দেখালো। বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনিষ্টিটিউট থেকে ভিএম-১ (চুকুর) নামে উন্নত জাত ২০১০ সালে অবমুক্ত হয়। পূর্বেও দেশে চুকুর নামে এ ফসলটি অনেকের বাড়ীতেই ছিল।
১৯৮৮ সালের বন্যার পর অনেক স্থান থেকে এ ফসলটি বিলীন হয়ে যায়। বিগত ২০১৩ সালে সজাগ কর্তৃক ১০০ গ্রাম চুকুর বীজ পাট গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহ করে কাওয়ালীপাড়া, ধানতারা, দেওহাটা, সজাগ অফিসে এবং স্থানীয় উৎসাহী ব্যক্তিদের মাধ্যমে চাষ শুরু করা হয়। কাওয়ালীপাড়া, ধানতারা ও দেওহাটা অফিস প্রাঙ্গনে চাষ করে আশানুরূপ ফসল পাওয়া যায় এবং বিভিন্ন পদ্ধতিতে খাওয়ার অভ্যাস করা হয়। খাদ্য হিসেবে চুকুর চাষে অনেকেই উৎসাহ প্রকাশ করেন। বিগত ২০১৪ সালে পুনরায় পাট গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ কেজি চুকুর বীজ সংগ্রহ করা হয় এবং সজাগের প্রত্যেক শাখা ও কৃষকের মাঝে বীজ বিতরণ করা হয়। চুকুর চাষ ধামরাই অঞ্চলে ব্যাপক সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ প্রত্যাশায় বিলুপ্ত ফসল (চুকুর) চাষ প্রত্যেক গ্রামে গ্রামে সম্প্রসারণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আগামি ২-৩ বৎসরের মধ্যেই উন্নত জাতের ভিএম-১ চুকুর চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হবে এবং ব্যবসা ভিত্তিক চাষ সম্প্রসারিত করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধনে প্রচেষ্টা চালানো হবে। কেননা চুকুরের পাতা ও ফলে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, কেরোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ও অন্যান্য খাদ্য উপাদান রয়েছে। চুকুরের বীজ থেকে ২০% খাবার তৈল উৎপাদন হয়।
চুকুর চাষে জমি তৈরি :
ধামরাই উপজেলার যেকোন উঁচু জমি ও বসত ভিটায় চুকুর চাষ করা যায়। জমির প্রকার ভেদে ২-৩টি চাষ মই দিয়ে অথবা কোদাল দিয়ে কুপিয়ে জমি প্রস্তুত করতে হবে। নি¤েœ শতক প্রতি সারের পরিমাণ দেওয়া হলো।
এক শতকে গোবর ৮ কেজি
এক শতকে ইউরিয়া সার ২৫০ কেজি
এক শতকে টিএসপি সার ১০০ কেজি
এক শতকে এমওপি সার ১৫০ কেজি
উক্ত সার মাটির সাথে মিশিয়ে জমি প্রস্তুত করতে হবে।
বীজ বপনের ১ মাস পর শতক প্রতি ২৫০ গ্রাম ইউরিয়া পার্শ্ব প্রয়োগ করতে হবে।
বীজ বপন : ফাল্গুন থেকে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত বীজ বপন করা যায়। প্রতি শতক জমিতে ৫০ গ্রাম বীজ (২-২.৫০ফুট) দূরত্বে সারি করে বপন করতে হবে । চুকুর পানি সহ্য করতে পারে না। কাজেই বৃষ্টির পানি যাতে না জমতে পারে সেজন্য জমিতে পর্যাপ্ত নালা রাখতে হবে। নাবীতে বীজ বপন করলেও বীজ উৎপাদন করা যাবে। আগাম বীজ বপনে পাতা, বৃতি খাওয়া যাবে ও বীজ উৎপাদন করা যাবে। তবে রোগ পোকা দেখা দিলে দমনের ব্যবস্থা করতে হবে।
ফলন : ১৩০-১৪০ দিনের মধ্যেই ফুল আসা শুরু হবে। কচি অবস্থায় টক হিসেবে কচি পাতা খাওয়া যাবে। পাতা মসৃণ এবং স্বাদেও সুস্বাদু। ফলের উপযোগী বৃতি দিয়ে জ্যাম, জেলি, জুস, তৈরি করা যায়। অনেক দেশে বৃতি দিয়ে কনফেকশনারির খাবার সামগ্রী তৈরি করে থাকে। প্রতি গাছে ৫০-৬০টি ফল ধরে। শতক প্রতি ৫-৭ কেজি ফলন হতে পারে। ফল পাকলে বীজ কেটে ২-৩ দিন রোদে শুকালে বীজ ফেটে যায়। লাঠি দিয়ে হালকাভাবে পিটিয়ে সহজেই বীজ সংগ্রহ করা যায়। পরবর্তী মৌসুমে বপনের জন্য শুকনো বীজ ঠান্ডা করে প্লাষ্টিক অথবা টিনের পাত্রে ভালভাবে রেখে বীজ সংরক্ষন করা যায়। বীজ সংগ্রহের পর শুকনো গাছ জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
চুকুরের নানা সম্ভাবনা :
ক) চুকুরের সবুজ পাতার টক উত্তম খাবার।
খ) পানিতে সিদ্ধ করে লবণ দিয়েই সবুজ চুকুর পাতা খাওয়া যায়।
গ) সবুজ চুকুর পাতা ধুয়ে সিদ্ধ করে লবণ, ঝাল, রসুন দিয়ে বেটে বাটা চুকুর পাতা ভাত দিয়ে খাওয়া যায়।
ঘ) চুকুর পাতার পাপড়ি ধুয়ে সিদ্ধ করে চিনি, তেজপাতা, গরম মশলা দিয়ে জ্বাল দিলেই লাল রংয়ের জেলি তৈরি করা যায়।
ঙ) চুকুর গুটার জেলি দেখতে সুন্দর ও সুস্বাদু।
চ) ব্যাপক চুকুর চাষ করে জেলি উৎপাদন কর্মসূচি গ্রহণ করা যেতে পারে।
ছ) ক্ষুদ্র শিল্পকারখানা গড়ে তোলা যাবে।
জ) পারিবারিকভাবে জেলী তৈরী করেও আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব।
ঝ) চুকুর গাছ পানিতে পঁচিয়ে আশ তৈরি করা যায়। যা দিয়ে রশি, ছিকা গৃহে ব্যবহার্য বিভিন্ন উপকরণ তৈরি করা সম্ভব।
চুকুরের চাষের প্রেক্ষাপট :
ক) ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পর স্থানীয় জাতের চুকুর চাষ সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়ে যায়।
খ) ২০১৩ সালে প্রথমে পাট গবেষণা প্রতিষ্ঠান ঢাকা থেকে ১০০ গ্রাম বীজ সংগ্রহ করে সজাগের শাখা অফিস ধানতারা ও কাওয়ালীপাড়া এবং নির্বাচিত ২-৩ জন কৃষকের মাধ্যমে প্রথম চাষ শুরু করা হয়।
গ) উভয় শাখায় আশাব্যঞ্জক ফসল পাওয়া যায় এবং বীজ উৎপাদন করা যায়।
ঘ) অত:পর ২০১৪ সালে দ্বিতীয় বার পাট গবেষণা প্রতিষ্ঠান ঢাকা থেকে ৫ কেজি বীজ সংগ্রহ করা হয়।
ঙ) সজাগ কর্তৃক উৎপাদিত ১ কেজি বীজ তৈরি করা হয়।
চ) ২০১৪ সালে সজাগের প্রত্যেক অফিস এবং সজাগভূক্ত নির্বাচিত কৃষক ও অন্যান্য আগ্রহী কৃষকের মাধ্যমে ধামরাই উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামে চুকুর বীজ বিতরণ করা হয়।
ছ) সজাগভূক্ত অফিসসমূহে চুকুর উৎসাহজনকভাবে চাষ করা হয় এবং বহুবিধভাবে খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
জ) চুকুর বীজ প্রাপ্ত কৃষকগণও তাদের আঙ্গিনায় চুকুর চাষ ও নানাবিধ খাবার তৈরি করে উৎসাহবোধ করেন এবং প্রায় সকলেই বীজ উৎপাদন করেছেন।
ঝ) সজাগ থেকে চলতি ২০১৫ সালে ১০ কেজি উৎপাদিত বীজ কৃষকদের মাধ্যমে বিতরণ করার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
ঞ) এছাড়াও পাট গবেষণা থেকে চলতি বৎসর ২০১৫ সালে আরও ১০ কেজি বীজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হবে।
ট) চলতি ২০১৫ সালে ধামরাই উপজেলার অধিকাংশ গ্রামে ও সজাগভূক্ত সংযোগ কৃষকদের মাধ্যমে চুকুর চাষ সম্প্রসারণে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
ঠ) সম্পূর্ণ বিলুপ্ত প্রাপ্ত চুকুর চাষে ধামরাই উপজেলায় কৃষকদের মনে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ সৃষ্টি করেছে।
ঢ) চুকুর চাষে কুটির শিল্প তৈরি অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহ বেকার সমস্যা দূরীকরণ ও কৃষিকাজে নারীদের সম্পৃক্ত করতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
১৯৮৮ সালের বন্যার পর অনেক স্থান থেকে এ ফসলটি বিলীন হয়ে যায়। বিগত ২০১৩ সালে সজাগ কর্তৃক ১০০ গ্রাম চুকুর বীজ পাট গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহ করে কাওয়ালীপাড়া, ধানতারা, দেওহাটা, সজাগ অফিসে এবং স্থানীয় উৎসাহী ব্যক্তিদের মাধ্যমে চাষ শুরু করা হয়। কাওয়ালীপাড়া, ধানতারা ও দেওহাটা অফিস প্রাঙ্গনে চাষ করে আশানুরূপ ফসল পাওয়া যায় এবং বিভিন্ন পদ্ধতিতে খাওয়ার অভ্যাস করা হয়। খাদ্য হিসেবে চুকুর চাষে অনেকেই উৎসাহ প্রকাশ করেন। বিগত ২০১৪ সালে পুনরায় পাট গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ কেজি চুকুর বীজ সংগ্রহ করা হয় এবং সজাগের প্রত্যেক শাখা ও কৃষকের মাঝে বীজ বিতরণ করা হয়। চুকুর চাষ ধামরাই অঞ্চলে ব্যাপক সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ প্রত্যাশায় বিলুপ্ত ফসল (চুকুর) চাষ প্রত্যেক গ্রামে গ্রামে সম্প্রসারণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আগামি ২-৩ বৎসরের মধ্যেই উন্নত জাতের ভিএম-১ চুকুর চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হবে এবং ব্যবসা ভিত্তিক চাষ সম্প্রসারিত করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধনে প্রচেষ্টা চালানো হবে। কেননা চুকুরের পাতা ও ফলে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, কেরোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ও অন্যান্য খাদ্য উপাদান রয়েছে। চুকুরের বীজ থেকে ২০% খাবার তৈল উৎপাদন হয়।
চুকুর চাষে জমি তৈরি :
ধামরাই উপজেলার যেকোন উঁচু জমি ও বসত ভিটায় চুকুর চাষ করা যায়। জমির প্রকার ভেদে ২-৩টি চাষ মই দিয়ে অথবা কোদাল দিয়ে কুপিয়ে জমি প্রস্তুত করতে হবে। নি¤েœ শতক প্রতি সারের পরিমাণ দেওয়া হলো।
এক শতকে গোবর ৮ কেজি
এক শতকে ইউরিয়া সার ২৫০ কেজি
এক শতকে টিএসপি সার ১০০ কেজি
এক শতকে এমওপি সার ১৫০ কেজি
উক্ত সার মাটির সাথে মিশিয়ে জমি প্রস্তুত করতে হবে।
বীজ বপনের ১ মাস পর শতক প্রতি ২৫০ গ্রাম ইউরিয়া পার্শ্ব প্রয়োগ করতে হবে।
বীজ বপন : ফাল্গুন থেকে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত বীজ বপন করা যায়। প্রতি শতক জমিতে ৫০ গ্রাম বীজ (২-২.৫০ফুট) দূরত্বে সারি করে বপন করতে হবে । চুকুর পানি সহ্য করতে পারে না। কাজেই বৃষ্টির পানি যাতে না জমতে পারে সেজন্য জমিতে পর্যাপ্ত নালা রাখতে হবে। নাবীতে বীজ বপন করলেও বীজ উৎপাদন করা যাবে। আগাম বীজ বপনে পাতা, বৃতি খাওয়া যাবে ও বীজ উৎপাদন করা যাবে। তবে রোগ পোকা দেখা দিলে দমনের ব্যবস্থা করতে হবে।
ফলন : ১৩০-১৪০ দিনের মধ্যেই ফুল আসা শুরু হবে। কচি অবস্থায় টক হিসেবে কচি পাতা খাওয়া যাবে। পাতা মসৃণ এবং স্বাদেও সুস্বাদু। ফলের উপযোগী বৃতি দিয়ে জ্যাম, জেলি, জুস, তৈরি করা যায়। অনেক দেশে বৃতি দিয়ে কনফেকশনারির খাবার সামগ্রী তৈরি করে থাকে। প্রতি গাছে ৫০-৬০টি ফল ধরে। শতক প্রতি ৫-৭ কেজি ফলন হতে পারে। ফল পাকলে বীজ কেটে ২-৩ দিন রোদে শুকালে বীজ ফেটে যায়। লাঠি দিয়ে হালকাভাবে পিটিয়ে সহজেই বীজ সংগ্রহ করা যায়। পরবর্তী মৌসুমে বপনের জন্য শুকনো বীজ ঠান্ডা করে প্লাষ্টিক অথবা টিনের পাত্রে ভালভাবে রেখে বীজ সংরক্ষন করা যায়। বীজ সংগ্রহের পর শুকনো গাছ জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
চুকুরের নানা সম্ভাবনা :
ক) চুকুরের সবুজ পাতার টক উত্তম খাবার।
খ) পানিতে সিদ্ধ করে লবণ দিয়েই সবুজ চুকুর পাতা খাওয়া যায়।
গ) সবুজ চুকুর পাতা ধুয়ে সিদ্ধ করে লবণ, ঝাল, রসুন দিয়ে বেটে বাটা চুকুর পাতা ভাত দিয়ে খাওয়া যায়।
ঘ) চুকুর পাতার পাপড়ি ধুয়ে সিদ্ধ করে চিনি, তেজপাতা, গরম মশলা দিয়ে জ্বাল দিলেই লাল রংয়ের জেলি তৈরি করা যায়।
ঙ) চুকুর গুটার জেলি দেখতে সুন্দর ও সুস্বাদু।
চ) ব্যাপক চুকুর চাষ করে জেলি উৎপাদন কর্মসূচি গ্রহণ করা যেতে পারে।
ছ) ক্ষুদ্র শিল্পকারখানা গড়ে তোলা যাবে।
জ) পারিবারিকভাবে জেলী তৈরী করেও আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব।
ঝ) চুকুর গাছ পানিতে পঁচিয়ে আশ তৈরি করা যায়। যা দিয়ে রশি, ছিকা গৃহে ব্যবহার্য বিভিন্ন উপকরণ তৈরি করা সম্ভব।
চুকুরের চাষের প্রেক্ষাপট :
ক) ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পর স্থানীয় জাতের চুকুর চাষ সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়ে যায়।
খ) ২০১৩ সালে প্রথমে পাট গবেষণা প্রতিষ্ঠান ঢাকা থেকে ১০০ গ্রাম বীজ সংগ্রহ করে সজাগের শাখা অফিস ধানতারা ও কাওয়ালীপাড়া এবং নির্বাচিত ২-৩ জন কৃষকের মাধ্যমে প্রথম চাষ শুরু করা হয়।
গ) উভয় শাখায় আশাব্যঞ্জক ফসল পাওয়া যায় এবং বীজ উৎপাদন করা যায়।
ঘ) অত:পর ২০১৪ সালে দ্বিতীয় বার পাট গবেষণা প্রতিষ্ঠান ঢাকা থেকে ৫ কেজি বীজ সংগ্রহ করা হয়।
ঙ) সজাগ কর্তৃক উৎপাদিত ১ কেজি বীজ তৈরি করা হয়।
চ) ২০১৪ সালে সজাগের প্রত্যেক অফিস এবং সজাগভূক্ত নির্বাচিত কৃষক ও অন্যান্য আগ্রহী কৃষকের মাধ্যমে ধামরাই উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামে চুকুর বীজ বিতরণ করা হয়।
ছ) সজাগভূক্ত অফিসসমূহে চুকুর উৎসাহজনকভাবে চাষ করা হয় এবং বহুবিধভাবে খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
জ) চুকুর বীজ প্রাপ্ত কৃষকগণও তাদের আঙ্গিনায় চুকুর চাষ ও নানাবিধ খাবার তৈরি করে উৎসাহবোধ করেন এবং প্রায় সকলেই বীজ উৎপাদন করেছেন।
ঝ) সজাগ থেকে চলতি ২০১৫ সালে ১০ কেজি উৎপাদিত বীজ কৃষকদের মাধ্যমে বিতরণ করার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
ঞ) এছাড়াও পাট গবেষণা থেকে চলতি বৎসর ২০১৫ সালে আরও ১০ কেজি বীজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হবে।
ট) চলতি ২০১৫ সালে ধামরাই উপজেলার অধিকাংশ গ্রামে ও সজাগভূক্ত সংযোগ কৃষকদের মাধ্যমে চুকুর চাষ সম্প্রসারণে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
ঠ) সম্পূর্ণ বিলুপ্ত প্রাপ্ত চুকুর চাষে ধামরাই উপজেলায় কৃষকদের মনে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ সৃষ্টি করেছে।
ঢ) চুকুর চাষে কুটির শিল্প তৈরি অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহ বেকার সমস্যা দূরীকরণ ও কৃষিকাজে নারীদের সম্পৃক্ত করতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
শেরপুরে এক জমিতে বছরে চার ফসল
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 11:43 AM
শেরপুর শহরের পশ্চিম শেরী এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম। বাড়ির পাশের দেড় একর জমিতে এক বছরে পর্যায়ক্রমে তিনি চারটি ফসলের আবাদ করতে পেরে দারুন খুশি। আউশ মৌসুমে চাষ করেছিলেন বিআর-৪৮ ধান। ১১০ দিনেই সেই ফসল ঘরে তুলেছিলেন একর প্রতি ৪৫ মণ করে। আউশ কেটে আমনে চাষ করেছিলেন বিআর-৬২ ধান। ১০০ দিনেই আমন ফসল কেটে ঘরে তুলেছিলেন। একর প্রতি ফলন মিলেছিল ৫৫ মণ করে। আমন কেটে রবি মৌসুমের শুরুতেই সেই জমিতে রোপণ করেছিলেন বারি-১৪ মরিষা।
মাত্র ৮২ দিনেই সেই সরিষা ঘরে তুলে এবার বোরো রোপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। মাত্র সাড়ে চার হাজার টাকা সরিষা আবাদে খরচ হয়েছে। দেড় একরে সরিষার উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২৫ মণ। বাজারে বর্তমানে এক হাজার ৬০০ টাকা মণ দরে সরিষা বিক্রি হচ্ছে। সরিষার এমন লাভ পেয়ে তিনি দারুণ খুশি। এবার সরিষার লাভের টাকাতেই সেই জমিতে তিনি বিআর-২৮ ধান রোপণ করবেন। আগে থেকেই বীজতলা তৈরি করে রেখেছেন। এখন কেবল সরিষা তোলা জমিতে বোরো রোপণ করবেন। ১৪০-১৪৫ দিনেই বিআর-২৮ ধানের ফলন আসে।
বাংলাদেশ কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (বারি) শেরপুর সরজমিন গবেষণা বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় কৃষক রফিকুল ইসলামের জমিতে এভাবে এক জমিতে পর্যায়ক্রমে চারটি ফসল ফলানো সম্ভব হয়েছে। তাছাড়া সবগুলো ফসল উচ্চ ফলনশীল জাতের হওয়ায় এসব ফসলের ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। এলাকার কৃষকরা একই জমিতে বছরে চার ফসল আবাদ হওয়ায় বিষয়টি দেখে বেশ আশাবাদী হয়ে ওঠেছেন।
কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রথমে বিষয়টি আমার বিশ্বাস হতে চায়নি। কিন্তু নিজের জমিতে বছরে চার ফসল করে এখন মনে হচ্ছে, এটা অসম্ভব কিছু না। এতে উৎপাদন খরচ যেমন কম হয়েছে, তেমনি ফলনও ভালো হয়েছে।” পাশের জমির কৃষক মাহবুব আলী বলেন, “রফিকুলের ক্ষেতের অবস্থা আমি সবসময় দেখেছি। দেখলাম আবাদের অবস্থা খুব ভালো। আগেতো কেবল বোরো আর আমন ধানই করতাম। এবার চিন্তা করছি, চলতি বোরো মৌসুম থেকে আমার দুই একর জমিতেও বছরে চার ফসল কীভাবে করা যায়, সেই ব্যবস্থা নেব।”
আজ শনিবার শহরের পশ্চিম শেরী এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলামের চার ফসলভিত্তিক শস্য আবাদের সরিষা ক্ষেত পরিদর্শনে আসেন বারি গাজীপুরের বিভাগীয় প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহবুবুর রহমান খান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সরেজমিন গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. কামরুল হাসান, উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শহীদুজ্জামান, ড. এম আব্বাস আলী, জামালপুর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. নারায়ণ চন্দ্র বসাক, শেরপুর সরজমিন গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামসুর রহমান প্রমুখ। তাঁরাও এ সরিষা ক্ষেত দেখে ভুয়শী প্রশংসা করেন। এ উপলক্ষে ওই সরিষা ক্ষেতের পাশে আয়োজিত মাঠ দিবসে সদর উপজেলার শতাধিক কৃষক উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বারি গাজীপুরের বিভাগীয় প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহবুবুর রহমান খান বলেন, “ফসল নিবিড়তা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিকরণে চার ফসলভিত্তিক শস্য বিন্যাস উদ্ভাবন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সারা দেশের ১৫টি জেলায় এখন সরজমিন গবেষণা কার্যক্রম চলছে। গবেষণার ফলাফল এখন পর্যন্ত খুব ভালো। আশা করি আগামী বছর থেকে এক জমিতে চার ফসল আবাদের এ কর্মসূচি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।”
বারি শেরপুরের সরজমিন গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামসুর রহমান বলেন, “আমরা শেরপুরে যেভাবে চার ফসলের শস্য বিন্যাস করে আবাদ করেছি তাতে বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে ৩৩৫ দিনেই চারটি ফসল কৃষক ঘরে তুলতে পেরেছে। বিষয়টি খুবই আশা জাগানিয়া। এতে শস্যের নিবিড়তা ও উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে কৃষকদের আয়ও বেড়েছে। এর ফলে উৎপাদন নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব হবে।”
সূত্র: কালের কন্ঠ
মাত্র ৮২ দিনেই সেই সরিষা ঘরে তুলে এবার বোরো রোপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। মাত্র সাড়ে চার হাজার টাকা সরিষা আবাদে খরচ হয়েছে। দেড় একরে সরিষার উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২৫ মণ। বাজারে বর্তমানে এক হাজার ৬০০ টাকা মণ দরে সরিষা বিক্রি হচ্ছে। সরিষার এমন লাভ পেয়ে তিনি দারুণ খুশি। এবার সরিষার লাভের টাকাতেই সেই জমিতে তিনি বিআর-২৮ ধান রোপণ করবেন। আগে থেকেই বীজতলা তৈরি করে রেখেছেন। এখন কেবল সরিষা তোলা জমিতে বোরো রোপণ করবেন। ১৪০-১৪৫ দিনেই বিআর-২৮ ধানের ফলন আসে।
বাংলাদেশ কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (বারি) শেরপুর সরজমিন গবেষণা বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় কৃষক রফিকুল ইসলামের জমিতে এভাবে এক জমিতে পর্যায়ক্রমে চারটি ফসল ফলানো সম্ভব হয়েছে। তাছাড়া সবগুলো ফসল উচ্চ ফলনশীল জাতের হওয়ায় এসব ফসলের ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। এলাকার কৃষকরা একই জমিতে বছরে চার ফসল আবাদ হওয়ায় বিষয়টি দেখে বেশ আশাবাদী হয়ে ওঠেছেন।
কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রথমে বিষয়টি আমার বিশ্বাস হতে চায়নি। কিন্তু নিজের জমিতে বছরে চার ফসল করে এখন মনে হচ্ছে, এটা অসম্ভব কিছু না। এতে উৎপাদন খরচ যেমন কম হয়েছে, তেমনি ফলনও ভালো হয়েছে।” পাশের জমির কৃষক মাহবুব আলী বলেন, “রফিকুলের ক্ষেতের অবস্থা আমি সবসময় দেখেছি। দেখলাম আবাদের অবস্থা খুব ভালো। আগেতো কেবল বোরো আর আমন ধানই করতাম। এবার চিন্তা করছি, চলতি বোরো মৌসুম থেকে আমার দুই একর জমিতেও বছরে চার ফসল কীভাবে করা যায়, সেই ব্যবস্থা নেব।”
আজ শনিবার শহরের পশ্চিম শেরী এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলামের চার ফসলভিত্তিক শস্য আবাদের সরিষা ক্ষেত পরিদর্শনে আসেন বারি গাজীপুরের বিভাগীয় প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহবুবুর রহমান খান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সরেজমিন গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. কামরুল হাসান, উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শহীদুজ্জামান, ড. এম আব্বাস আলী, জামালপুর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. নারায়ণ চন্দ্র বসাক, শেরপুর সরজমিন গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামসুর রহমান প্রমুখ। তাঁরাও এ সরিষা ক্ষেত দেখে ভুয়শী প্রশংসা করেন। এ উপলক্ষে ওই সরিষা ক্ষেতের পাশে আয়োজিত মাঠ দিবসে সদর উপজেলার শতাধিক কৃষক উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বারি গাজীপুরের বিভাগীয় প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহবুবুর রহমান খান বলেন, “ফসল নিবিড়তা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিকরণে চার ফসলভিত্তিক শস্য বিন্যাস উদ্ভাবন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সারা দেশের ১৫টি জেলায় এখন সরজমিন গবেষণা কার্যক্রম চলছে। গবেষণার ফলাফল এখন পর্যন্ত খুব ভালো। আশা করি আগামী বছর থেকে এক জমিতে চার ফসল আবাদের এ কর্মসূচি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।”
বারি শেরপুরের সরজমিন গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামসুর রহমান বলেন, “আমরা শেরপুরে যেভাবে চার ফসলের শস্য বিন্যাস করে আবাদ করেছি তাতে বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে ৩৩৫ দিনেই চারটি ফসল কৃষক ঘরে তুলতে পেরেছে। বিষয়টি খুবই আশা জাগানিয়া। এতে শস্যের নিবিড়তা ও উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে কৃষকদের আয়ও বেড়েছে। এর ফলে উৎপাদন নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব হবে।”
সূত্র: কালের কন্ঠ
পরিবেশবান্ধব ফসল উৎপাদনে ঝুঁকছে কৃষক
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 11:41 AM
রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের বদলে পরিবেশবান্ধব জৈব পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন করে মানুষের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মাটির স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনতে কাজ করছেন ঝিনাইদহের কৃষকরা।
মঙ্গলবার সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বিত্তিপাড়া গ্রামের আদর্শ জৈবচাষি উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় মতবিনিময় অনুষ্ঠানে কৃষকরা এমন মন্তব্য করেন।
কৃষকরা রাসায়নিক সার ব্যবহারের পরিমাণ কমিয়ে ক্রমশ ঝুঁকে পড়েছেন জৈব সার ও কীটনাশক তৈরির দিকে। স্থানীয় ভাবে নিজেদের প্রস্তুতকৃত জৈব সার, কেঁচো সার, তরল কীটনাশক ও বালাইনাশক ইত্যাদি দেখান এবং ফসলের ক্ষেতে প্রয়োগ করে তারা লাভবান হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের কৃষি ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কোরিয়া এবং বাংলাদেশ যৌথভাবে কাজ করে যাবে বলে জানান, আরডিএর অরগানিক এগ্রিকালচার ডিভিশন এর উর্ধ্বতন বিজ্ঞানী জিহুন শিন।
কোরিয়ার ন্যাশনাল একাডেমি অব এগ্রিকালচার সাইন্স আরডিএর অরগানিক এগ্রিকালচার ডিভিশন এর উর্ধ্বতন বিজ্ঞানী জিহুন শিন ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটএর হর্টিকালচার রিসার্চ সেন্টারের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এম নাজিম উদ্দিন, সোয়ালোজ সুইডেনের ইন্টার্ণ আলবিন গুষ্টাফসন, পন্টাস উইলিয়াম ও উন্নয়নধারা নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলাম অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, কোরিয়ার ন্যাশনাল একাডেমি অব এগ্রিকালচার সায়েন্স, আরডিএর অরগানিক এগ্রিকালচার ডিভিশন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট লাগসই ও টেকসই কৃষি উন্নয়নে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বিত্তিপাড়া গ্রামের আদর্শ জৈবচাষি উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় মতবিনিময় অনুষ্ঠানে কৃষকরা এমন মন্তব্য করেন।
কৃষকরা রাসায়নিক সার ব্যবহারের পরিমাণ কমিয়ে ক্রমশ ঝুঁকে পড়েছেন জৈব সার ও কীটনাশক তৈরির দিকে। স্থানীয় ভাবে নিজেদের প্রস্তুতকৃত জৈব সার, কেঁচো সার, তরল কীটনাশক ও বালাইনাশক ইত্যাদি দেখান এবং ফসলের ক্ষেতে প্রয়োগ করে তারা লাভবান হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের কৃষি ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কোরিয়া এবং বাংলাদেশ যৌথভাবে কাজ করে যাবে বলে জানান, আরডিএর অরগানিক এগ্রিকালচার ডিভিশন এর উর্ধ্বতন বিজ্ঞানী জিহুন শিন।
কোরিয়ার ন্যাশনাল একাডেমি অব এগ্রিকালচার সাইন্স আরডিএর অরগানিক এগ্রিকালচার ডিভিশন এর উর্ধ্বতন বিজ্ঞানী জিহুন শিন ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটএর হর্টিকালচার রিসার্চ সেন্টারের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এম নাজিম উদ্দিন, সোয়ালোজ সুইডেনের ইন্টার্ণ আলবিন গুষ্টাফসন, পন্টাস উইলিয়াম ও উন্নয়নধারা নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলাম অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, কোরিয়ার ন্যাশনাল একাডেমি অব এগ্রিকালচার সায়েন্স, আরডিএর অরগানিক এগ্রিকালচার ডিভিশন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট লাগসই ও টেকসই কৃষি উন্নয়নে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করে যাচ্ছে।
যত্রতত্র পোলট্রি করা চলবে না
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 11:35 AM
যত্রতত্র পোলট্রি নয়। যত্রতত্র পোলট্রি খামার করা ঠিক হচ্ছে না। এটাকে শিল্প হিসেবে চিন্তা করা উচিত। কারণ এ শিল্পের সম্ভাবনা অনেক বেশি।
বাংলাদেশে দারিদ্র বিমোচন ও প্রাণি সম্পদের উন্নয়ন শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব কথা বলেন। রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ গোলটেবিল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. কাজী আবদুস সাত্তার, বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রি কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের সভাপতি মসিউর রহমান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক একে এম ফজলুল হক ভূঁইয়া।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘এ খাতের উন্নয়ন করতে হলে যত্রতত্র পোল্ট্রি খামার করা যাবে না। পোল্ট্রি ব্যবসায়িরা একত্রে আসুন প্রয়োজনে আপনাদের জন্য স্পেশাল জোন করে দেয়া হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘পোল্ট্রি শিল্পের সম্ভাবনা অনেক বেশি। কিন্তু এ শিল্প কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছনোর পথে কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তার প্রধান সমস্যা হলো এ খাতের সবাই একসঙ্গে কাজ করতে পারছে না। এ খাতে একেক সময় একেক গ্রুপ সৃষ্টি হয়। বড় এবং ছোট কোনো খামারী না বলে সবাই যখন এক হয়ে আসতে পারবে তখন এ খাত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে।’
মুস্তফা কামাল বলেন, ‘দেশের উন্নয়নে সরকার যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। আমাদের কাছে পাইভেট পাবলিক পাটনারশিপ ভিত্তিতে প্রকল্পের প্রস্তাব দিন। আমরা তা অনুমোদন করে দেবো।’
তিনি বলেন, ‘পিপির আওতায় এ খাত উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে বিদেশে রপ্তানি বৃদ্ধি করতে পারবে। একই সঙ্গে দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবে পোল্ট্রি শিল্প।’
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘২০৩০ সালে দেশকে আমরা দারিদ্রমুক্ত করবো। আর তাই লাইভস্টক সেক্টরকে আমাদের মূল্যায়ন করতে হবে। আসলে আমরা মূল্যায়ন করতে পারিনি। অথচ এ খাতের সঙ্গে ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে। এ শিল্পের মাধ্যমে দারিদ্র নিরসন সম্ভব হবে। যা টেকসই উন্নয়ন অংশীদার হতে পারে।’
ড. কাজী আবদুস সাত্তার বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ খাতে জনবলের ব্যাপক সঙ্কট রয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অ্যানিমেল হেলথ খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।’
মসিউর রহমান খান বলেন, ‘পোল্ট্রি শিল্পে বর্তমানে ২৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। আগামী ২০২০ সালে এই শিল্প ৫০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে। এ জন্য খাতের উন্নয়নে পিপি প্রকল্পের বিকল্প নেই।’
বাংলাদেশে দারিদ্র বিমোচন ও প্রাণি সম্পদের উন্নয়ন শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব কথা বলেন। রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ গোলটেবিল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. কাজী আবদুস সাত্তার, বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রি কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের সভাপতি মসিউর রহমান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক একে এম ফজলুল হক ভূঁইয়া।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘এ খাতের উন্নয়ন করতে হলে যত্রতত্র পোল্ট্রি খামার করা যাবে না। পোল্ট্রি ব্যবসায়িরা একত্রে আসুন প্রয়োজনে আপনাদের জন্য স্পেশাল জোন করে দেয়া হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘পোল্ট্রি শিল্পের সম্ভাবনা অনেক বেশি। কিন্তু এ শিল্প কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছনোর পথে কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তার প্রধান সমস্যা হলো এ খাতের সবাই একসঙ্গে কাজ করতে পারছে না। এ খাতে একেক সময় একেক গ্রুপ সৃষ্টি হয়। বড় এবং ছোট কোনো খামারী না বলে সবাই যখন এক হয়ে আসতে পারবে তখন এ খাত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে।’
মুস্তফা কামাল বলেন, ‘দেশের উন্নয়নে সরকার যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। আমাদের কাছে পাইভেট পাবলিক পাটনারশিপ ভিত্তিতে প্রকল্পের প্রস্তাব দিন। আমরা তা অনুমোদন করে দেবো।’
তিনি বলেন, ‘পিপির আওতায় এ খাত উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে বিদেশে রপ্তানি বৃদ্ধি করতে পারবে। একই সঙ্গে দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবে পোল্ট্রি শিল্প।’
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘২০৩০ সালে দেশকে আমরা দারিদ্রমুক্ত করবো। আর তাই লাইভস্টক সেক্টরকে আমাদের মূল্যায়ন করতে হবে। আসলে আমরা মূল্যায়ন করতে পারিনি। অথচ এ খাতের সঙ্গে ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে। এ শিল্পের মাধ্যমে দারিদ্র নিরসন সম্ভব হবে। যা টেকসই উন্নয়ন অংশীদার হতে পারে।’
ড. কাজী আবদুস সাত্তার বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ খাতে জনবলের ব্যাপক সঙ্কট রয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অ্যানিমেল হেলথ খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।’
মসিউর রহমান খান বলেন, ‘পোল্ট্রি শিল্পে বর্তমানে ২৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। আগামী ২০২০ সালে এই শিল্প ৫০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে। এ জন্য খাতের উন্নয়নে পিপি প্রকল্পের বিকল্প নেই।’
খাদ্যাভাসে দেহের বিষাক্ত পদার্থ দূর
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 11:32 AM
দূষিত পদার্থ মিশ্রিত বাতাস গ্রহণ, নিজে বা পাশের কেউ ধুমপান কারী, বাজে খাদ্যাভ্যাস, অনিয়মিত ঘুম এবং দেহের সঠিক পরিচর্যা না করার কারণে আমাদের দেহে প্রবেশ করে বিষাক্ত পদার্থ। এগুলো ধীরে ধীরে আমাদের কিডনি, লিভার ও হার্ট নষ্ট করে দেয়। একসময় আমাদের মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনে। অথচ উত্তম খাদ্যাভ্যাসে দেহ থেকে এই ক্ষতিকারক পদার্থ দূর করা সম্ভব। আজ জেনে নেয়া যাক আমাদের দেহের ক্ষতিকারক পদার্থ দূরকারী কিছু খাবার সম্পর্কে।
বাঁধাকপি
নিয়মিত বাঁধাকপি খেলে লিভারের ক্ষতিকারক পদার্থ দূর হয়। বাঁধাকপির গুণ লিভারকে সুস্থ-স্বাভাবিক ও কলেস্টোরলমুক্ত রেখে হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখে। এছাড়াও বাঁধাকপি আমাদের হজমের ক্রিয়া উন্নত করে। ফলে আমাদের দেহের বর্জ্য পদার্থের সঙ্গে ক্ষতিকরক পদার্থ বের করে দেয়।
কাঁচা রসুন
খাবারের সঙ্গে অনেকে কাঁচা রসুন খেতে অভ্যস্ত, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর গন্ধের জন্য কাঁচা কেউ খেতে চান না। তবে প্রতিদিন অন্তত দুই কোয়া করে কাঁচা রসুন খেলে দেহের নানা রকম ব্যথাসহ ক্ষতিকারক উপাদান বের করে দিতে সহায়তা করে থাকে।
আদা
আদাকে ওষুধ হিসেবে অনেক প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহার করে আসছেন চীনের মানুষজন। এখনো তারা সুস্বাস্থ্যের কামনায় নিয়মিত আদা চা পান করে থাকেন। আদা চায়ের পাশাপাশি কাঁচা আদা খেলে আমাদের লিভার থেকে ক্ষতিকর টক্সিন দূর হয় এবং লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়ে।
লেবু
লেবুর রস আমাদের দেহের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান। সকালে মাত্র ১ গ্লাস কুসুম গরম পানিতে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে প্রতিদিন পান করলে আমাদের লিভারের কর্মক্ষমতা দ্বিগুণ বেড়ে যায়। আমাদের লিভার ও কিডনি পরিষ্কার করে হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে।
কাঁচা হলুদ
কাঁচা হলুদের রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান। কাঁচা হলুদে থাকা উপাদান আমাদের দেহের নানা সমস্যা থেকে রক্ষা করে। কাঁচা হলুদ ভালো করে ব্লেন্ড করে দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে আমাদের লিভারের টক্সিন দূর করা সম্ভব। তাই হলুদকে খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন।
ব্রোকলি
পুষ্টিগুণ অন্যান্য যেকোনো সবজি থেকে ব্রোকলি অনেক বেশি সমৃদ্ধ। ব্রোকলির সবচেয়ে বড় গুণ হচ্ছে এটি আমাদের লিভারের ভেতর থেকে ক্ষতিকারক পদার্থ দূর করতে সহায়তা করে। তাই খাদ্য তালিকায় ব্রোকলি রাখা অত্যন্ত জরুরি।
গ্রিন টি
চা কফির মধ্যে গ্রিন টি সবচেয়ে কার্যকরী পানীয়। গ্রিন টির উচ্চতর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান আমাদের লিভার ও কিডনিকে পরিষ্কার রাখে। তাই চা বা কফি পানের অভ্যাসটাকে বদলে গ্রিন টি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিৎ।
পানি
আমাদের লিভার ও কিডনির সুরক্ষায় সবচেয়ে কার্যকরী উপাদান হচ্ছে পানি। একমাত্র পানিই আমাদের দেহের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গে পৌঁছে দেহের ক্ষতিকারক উপাদান বয়ে এনে মুত্র থলিতে জমা করে। তাই প্রতিদিন একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষকে অন্তত ৬ থেকে ৮ গ্লাস পানি পান করে উচিৎ।
বাঁধাকপি
নিয়মিত বাঁধাকপি খেলে লিভারের ক্ষতিকারক পদার্থ দূর হয়। বাঁধাকপির গুণ লিভারকে সুস্থ-স্বাভাবিক ও কলেস্টোরলমুক্ত রেখে হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখে। এছাড়াও বাঁধাকপি আমাদের হজমের ক্রিয়া উন্নত করে। ফলে আমাদের দেহের বর্জ্য পদার্থের সঙ্গে ক্ষতিকরক পদার্থ বের করে দেয়।
কাঁচা রসুন
খাবারের সঙ্গে অনেকে কাঁচা রসুন খেতে অভ্যস্ত, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর গন্ধের জন্য কাঁচা কেউ খেতে চান না। তবে প্রতিদিন অন্তত দুই কোয়া করে কাঁচা রসুন খেলে দেহের নানা রকম ব্যথাসহ ক্ষতিকারক উপাদান বের করে দিতে সহায়তা করে থাকে।
আদা
আদাকে ওষুধ হিসেবে অনেক প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহার করে আসছেন চীনের মানুষজন। এখনো তারা সুস্বাস্থ্যের কামনায় নিয়মিত আদা চা পান করে থাকেন। আদা চায়ের পাশাপাশি কাঁচা আদা খেলে আমাদের লিভার থেকে ক্ষতিকর টক্সিন দূর হয় এবং লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়ে।
লেবু
লেবুর রস আমাদের দেহের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান। সকালে মাত্র ১ গ্লাস কুসুম গরম পানিতে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে প্রতিদিন পান করলে আমাদের লিভারের কর্মক্ষমতা দ্বিগুণ বেড়ে যায়। আমাদের লিভার ও কিডনি পরিষ্কার করে হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে।
কাঁচা হলুদ
কাঁচা হলুদের রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান। কাঁচা হলুদে থাকা উপাদান আমাদের দেহের নানা সমস্যা থেকে রক্ষা করে। কাঁচা হলুদ ভালো করে ব্লেন্ড করে দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে আমাদের লিভারের টক্সিন দূর করা সম্ভব। তাই হলুদকে খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন।
ব্রোকলি
পুষ্টিগুণ অন্যান্য যেকোনো সবজি থেকে ব্রোকলি অনেক বেশি সমৃদ্ধ। ব্রোকলির সবচেয়ে বড় গুণ হচ্ছে এটি আমাদের লিভারের ভেতর থেকে ক্ষতিকারক পদার্থ দূর করতে সহায়তা করে। তাই খাদ্য তালিকায় ব্রোকলি রাখা অত্যন্ত জরুরি।
গ্রিন টি
চা কফির মধ্যে গ্রিন টি সবচেয়ে কার্যকরী পানীয়। গ্রিন টির উচ্চতর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান আমাদের লিভার ও কিডনিকে পরিষ্কার রাখে। তাই চা বা কফি পানের অভ্যাসটাকে বদলে গ্রিন টি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিৎ।
পানি
আমাদের লিভার ও কিডনির সুরক্ষায় সবচেয়ে কার্যকরী উপাদান হচ্ছে পানি। একমাত্র পানিই আমাদের দেহের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গে পৌঁছে দেহের ক্ষতিকারক উপাদান বয়ে এনে মুত্র থলিতে জমা করে। তাই প্রতিদিন একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষকে অন্তত ৬ থেকে ৮ গ্লাস পানি পান করে উচিৎ।
Wednesday, March 2, 2016
চা উৎপাদন বৃদ্ধিতে স্বল্প সুদে ঋণ দেবে সরকার
By:
এক ঘরে সব কিছু
On: 9:20 AM
চা উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সরকার স্বল্প সুদে লোন প্রদান এবং নিম্নমানের চা আমদানীর বিষয়ে নিরুৎসাহিত করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। চা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পন্নতা অর্জনের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সবধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার বাণিজ্যমন্ত্রী সচিবালয়ে তাঁর কার্যালয়ে বাংলাদেশীয় চা সংসদের চেয়ারম্যান আর্দাশির কবীর এর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এ সব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত চা বিশ্বমানের। সরকার চায়ের চাহিদা পূরণ করতে আমদানির বদলে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি করতে আন্তরিক। তিনি বলেন, হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার চাঁদপুরে স্পেশাল ইকনমিক জোনের কারনে যাতে চা বাগানের কোন ক্ষতি না হয় সে বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ নিবে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের চায়ের গৌরব উজ্জল অতীত রয়েছে। এ মুহূর্তে প্রায় এক লাখ শ্রমিক চা বাগানে সরাসরি কাজ করছে। এ চা শিল্পের সাথে দেশের প্রায় দশ লাখ মানুষ জড়িত। বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলের মাটি উন্নত চা চাষের জন্য খুবই উপযোগি। এখানে উন্নত মানের চা উৎপাদিত ও বিদেশে রপ্তানি হয়। আমাদের ঐতিহ্যবাহী চা শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে। চা সংসদের পক্ষ থেকে বিদেশ থেকে নিম্নমানের চা আমদানি বন্ধ বা উচ্চ শুল্কহার আরোপ, চা উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা প্রদানের জন্য স্বল্প সুদে লোন প্রদান এবং চুনারুঘাট উপজেলায় চা বাগান নষ্ট করে স্পেশাল ইকনমিক জোন তৈরি বন্ধের আহবান জানালে মন্ত্রী বিষয়গুলো সহানুভূতির সাথে বিবেচনার জন্য আশ্বাস দেন। চা বাগানের নামে ইজারা প্রদত্ত জমি স্পেশাল ইকনমিক জোন নির্মাণে যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সে বিষয় গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, চা শিল্প রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সবার। চা শিল্প বিকাশে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের যা যা করনীয় আছে সবকিছুই করা হবে। চা বাগান সষ্ট করে কিছু করার উদ্দেশ্য সরকারের নেই। বিষয় গুলো পরিক্ষা- নীরিক্ষা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। চা শিল্পের যাতে কোন ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে সরকার স্বজাগ রয়েছে।
বৈঠকে সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশী চা সংসদের সিনিয়ন ভাইস চেয়ারম্যান এম শাহ আলম, ভাইস চেয়ারম্যান কামরান টি রহমান, কমিটি মেম্বার ওয়াহিদুল হক, মো. সাপওয়ান চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান এ কিউ আই চৌধুরী, সিলেট প্ল্যানটার্স লি. -এর এমডি এ কে আজাদ, সাবাজপুর টি কোম্পানী লি. -এর পরিচালক তপন চৌধুরী, ফিনলে টি-এর চেয়ারম্যান আজম জে. চৌধুরী এবং হালদা ভেলি টি কোং লি. -এর এমডি নাদের খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত চা বিশ্বমানের। সরকার চায়ের চাহিদা পূরণ করতে আমদানির বদলে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি করতে আন্তরিক। তিনি বলেন, হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার চাঁদপুরে স্পেশাল ইকনমিক জোনের কারনে যাতে চা বাগানের কোন ক্ষতি না হয় সে বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ নিবে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের চায়ের গৌরব উজ্জল অতীত রয়েছে। এ মুহূর্তে প্রায় এক লাখ শ্রমিক চা বাগানে সরাসরি কাজ করছে। এ চা শিল্পের সাথে দেশের প্রায় দশ লাখ মানুষ জড়িত। বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলের মাটি উন্নত চা চাষের জন্য খুবই উপযোগি। এখানে উন্নত মানের চা উৎপাদিত ও বিদেশে রপ্তানি হয়। আমাদের ঐতিহ্যবাহী চা শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে। চা সংসদের পক্ষ থেকে বিদেশ থেকে নিম্নমানের চা আমদানি বন্ধ বা উচ্চ শুল্কহার আরোপ, চা উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা প্রদানের জন্য স্বল্প সুদে লোন প্রদান এবং চুনারুঘাট উপজেলায় চা বাগান নষ্ট করে স্পেশাল ইকনমিক জোন তৈরি বন্ধের আহবান জানালে মন্ত্রী বিষয়গুলো সহানুভূতির সাথে বিবেচনার জন্য আশ্বাস দেন। চা বাগানের নামে ইজারা প্রদত্ত জমি স্পেশাল ইকনমিক জোন নির্মাণে যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সে বিষয় গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, চা শিল্প রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সবার। চা শিল্প বিকাশে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের যা যা করনীয় আছে সবকিছুই করা হবে। চা বাগান সষ্ট করে কিছু করার উদ্দেশ্য সরকারের নেই। বিষয় গুলো পরিক্ষা- নীরিক্ষা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। চা শিল্পের যাতে কোন ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে সরকার স্বজাগ রয়েছে।
বৈঠকে সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশী চা সংসদের সিনিয়ন ভাইস চেয়ারম্যান এম শাহ আলম, ভাইস চেয়ারম্যান কামরান টি রহমান, কমিটি মেম্বার ওয়াহিদুল হক, মো. সাপওয়ান চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান এ কিউ আই চৌধুরী, সিলেট প্ল্যানটার্স লি. -এর এমডি এ কে আজাদ, সাবাজপুর টি কোম্পানী লি. -এর পরিচালক তপন চৌধুরী, ফিনলে টি-এর চেয়ারম্যান আজম জে. চৌধুরী এবং হালদা ভেলি টি কোং লি. -এর এমডি নাদের খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
Subscribe to:
Posts (Atom)